ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও বিতর্কিত সুপারন্যাচারাল ফিকশন ‘নাগিন’ এবার বড়পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায়। বলিউড পাড়ায় জোরালো গুঞ্জন, একতা কাপুর তাঁর এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটিকে বড় বাজেটের সিনেমার রূপ দিতে চলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন বা প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
ভারতীয় টেলিভিশনের টিআরপি তালিকায় ‘নাগিন’ বছরের পর বছর শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। মৌনী রায়, আদা খান, সুরভি জ্যোতি, নিয়া শর্মা এবং সর্বশেষ তেজস্বী প্রকাশের মতো অভিনেত্রীরা এই সিরিজে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। দর্শকদের এই বিপুল উন্মাদনাকেই এবার বাণিজ্যিক সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করতে চান একতা।
সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এখন এর কাস্টিং নিয়ে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে:
পুরোনো মুখ: মৌনী রায় বা তেজস্বী প্রকাশের মতো জনপ্রিয় কোনো নাগিনকে কি বড়পর্দায় ফেরানো হবে?
নতুন চমক: নাকি বলিউডের কোনো প্রথম সারির নায়িকাকে এই অতিপ্রাকৃত চরিত্রে দেখা যাবে? যদিও প্রযোজনা সংস্থা থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি।
বড়পর্দার জন্য ‘নাগিন’-কে আরও আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অত্যাধুনিক ভিএফএক্স (VFX) এবং গ্রাফিক্সের কাজ করা হবে বলে জানা গেছে। টেলিভিশন নাটকের তুলনায় সিনেমার গল্প এবং নির্মাণশৈলী অনেক বেশি জমকালো ও রোমহর্ষক করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল ভক্ত তাঁদের প্রিয় চরিত্রকে বড়পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন, আবার অনেকের মতে টিভির গল্পের সিনেমা সংস্করণ কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মুখ মেঘনা আলম বলেছেন, বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখা সম্ভব নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। মেঘনা আলম জানান, ঢাকায় বেড়ে ওঠা তাঁর পরিবার ছিল সামাজিক ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক। ছোটবেলা থেকেই তিনি নারী অধিকার, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক নানা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে তিনি রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘মিস আর্থ’-এ অংশ নিয়ে পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করছেন। অভিনয়ে আসা প্রসঙ্গে মেঘনা বলেন, বৈশাখী টিভির ‘মহল্লা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রথমবার অভিনয়ে যুক্ত হন। নিজের ভাষায়, এটি ছিল নতুন এক অভিজ্ঞতা, যা তিনি উপভোগ করেছেন। নারী হিসেবে সমাজে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি নিজেও অনিরাপত্তা অনুভব করি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই চাই, অন্য কোনো নারী যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।” তিনি মনে করেন, মিডিয়ায় কর্মরত নারীরা প্রায়ই সামাজিক পূর্বধারণা ও নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হন। রাজনীতিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে মেঘনা আলম বলেন, অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, কেবল আন্দোলন নয়, ব্যবস্থার পরিবর্তনই স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। সৌন্দর্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সৌন্দর্য দিয়ে আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে ধরে রাখতে পারিনি, তার বিশ্বস্ততাও পাইনি।” তিনি আরও বলেন, সৌন্দর্য অনেক সময় ভুল ধারণা ও অপপ্রচারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জীবনসঙ্গী প্রসঙ্গে মেঘনা আলম জানান, তিনি এমন একজন মানুষ চান, যার কাছে নিজেকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে হবে- যার কাছে নিজের দুর্বলতাও নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যাবে।
বলিউডের তরুণ দর্শকপ্রিয় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান নতুন সিনেমার প্রস্তুতিতে বাস্তবিকভাবেই পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অভিনয় থেকে বিরতি নয়, বরং আসন্ন চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি এই দক্ষতা অর্জন করছেন। তার অভিনীত এরিয়াল অ্যাকশনধর্মী ছবি ক্যাপ্টেন ইন্ডিয়া-এর জন্যই এই বিশেষ প্রস্তুতি। ছবিটিতে একজন কমার্শিয়াল পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে, যে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বহু যাত্রীকে উদ্ধার করে। সিনেমাটির পরিচালক শিমিত আমিন, যিনি চাক দে! ইন্ডিয়া পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি, এবং এটি হবে ২০০৯ সালের পর তার প্রথম বড় ফিচার ফিল্ম। জানা গেছে, পরিচালক চান না পর্দায় কৃত্রিমভাবে বিমান চালানোর অভিনয় হোক। তাই কার্তিক বর্তমানে পেশাদার পাইলটদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যাতে শুটিংয়ের আগেই পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেন। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির শুটিং আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি মরক্কোর বিভিন্ন লোকেশনেও দৃশ্যধারণ করা হবে।
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতি–কে ঘিরে পরকীয়ার বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণাণ–এর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জোর গুঞ্জনের মধ্যেই এবার পারিবারিক অঙ্গনেও দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন তার স্ত্রী সংগীতা সোর্নালিঙ্গম। এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে আনফলো করেছেন তাদের ছেলে জ্যাসন সঞ্জয়। শুধু তাই নয়, নিজের নামের পাশ থেকেও বাবার নামের আদ্যাক্ষর সরিয়ে ফেলেছেন সঞ্জয়। এতদিন তিনি নিজের নাম লিখতেন ‘ভি জ্যাসন সঞ্জয়’ হিসেবে। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই ‘ভি’ আর ব্যবহার করছেন না। বিষয়টি নেটিজেনদের নজরে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারকা সন্তানদের নামের আগে বাবার নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহারের একটি প্রচলন রয়েছে। দীর্ঘদিন সেই নিয়ম মেনেই নিজের নাম ব্যবহার করতেন জ্যাসন সঞ্জয়। কিন্তু হঠাৎ করে সেই আদ্যাক্ষর বাদ দেওয়ায় অনেকেই পারিবারিক দূরত্বের ইঙ্গিত দেখছেন। এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, বাবার নামের আদ্যাক্ষর বাদ দেওয়ার পর এবার নিজের নামের আগে মায়ের নামের আদ্যাক্ষর যুক্ত করতে পারেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি সঞ্জয় বা সংগীতা। গত কয়েকদিন ধরেই বিজয় ও সংগীতার বিচ্ছেদ নিয়ে তামিল বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। আদালত ইতোমধ্যে বিজয়কে আগামী ২০ এপ্রিল সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সেদিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সংগীতা সোর্নালিঙ্গমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত বিজয়। তার দাবি, ২০২১ সালেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর একাধিকবার সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেননি অভিনেতা। অন্যদিকে এই বিতর্কে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তৃষা কৃষ্ণাণ। তবে সম্প্রতি নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে বিজয় বলেন, “অযথা মাথা ঘামাবেন না, যা রটছে রটতে দিন।” তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।