যুক্তরাষ্ট্রে আজ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ফেডারেল শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় স্নাতকোত্তর ও পেশাগত ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং পুরো শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিতে পারবেন। অন্যদিকে চিকিৎসা, আইন, ডেন্টাল, ভেটেরিনারি ও অন্যান্য স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং মোট ২ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে এই বিশেষ ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে নিতে পারতেন। তবে ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে যারা একই শিক্ষা কর্মসূচিতে এই সুবিধা নিয়েছেন, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আগের নিয়ম অনুযায়ী কিছু সুবিধা বজায় রাখতে পারবেন। ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য মূলত দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত শিক্ষাঋণ নির্ভরতা কমানো, সরকারি ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে উৎসাহিত করা। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নতুন ঋণসীমার কারণে উচ্চ ব্যয়ের স্নাতকোত্তর ও পেশাগত ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে পারেন, যেখানে সুদের হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সরাসরি গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) সম্প্রতি প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এতদিন যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক অস্থায়ী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতেন, সেটি এখন আর সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন, অর্থাৎ কনস্যুলার প্রসেসিং (Consular Processing) হবে মূল প্রক্রিয়া। কী পরিবর্তন হলো? এর আগে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ভিসার ধরন পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। এতে আবেদনকারীরা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা কার্যত সীমিত হয়ে গেছে। এখন অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে। USCIS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন এখন আর স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং এটি হবে ব্যতিক্রমধর্মী একটি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বেশি এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এফ-১ (F-1) শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় যাওয়া শিক্ষার্থীদের মূল উদ্দেশ্য থাকে পড়াশোনা শেষ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অভিবাসন আইন তাদের অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) কর্মসূচির আওতায় কাজ করার এবং পরে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দিত। নতুন নীতিতে সেই পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে। কারণ এখন আবেদনকারীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজ দেশে ফিরে কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের বাড়তি ক্ষমতা USCIS-এর নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন কেসভিত্তিক এবং বিবেচনাধিকার অনুযায়ী মূল্যায়ন করবেন। অর্থাৎ, আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা থাকবে। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে অনেক আবেদনকারীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের পথ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত চাকরি পাওয়ার পর নিয়োগকর্তার সহায়তায় কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। এর প্রধান তিনটি বিভাগ হলো: ইবি-১ (EB-1): বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা ক্রীড়ায় অসাধারণ দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য, পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধ্যাপক, গবেষক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্বাহীর জন্য। ইবি-২ (EB-2): উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী, বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা জাতীয় স্বার্থে কাজ করছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য। ইবি-৩ (EB-3): দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়োগকর্তাকে প্রথমে অভিবাসন আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ? মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা। একই সঙ্গে USCIS জানিয়েছে, এতে সংস্থাটি অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও বেশি সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে। তবে অভিবাসন আইনজীবী এবং অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, নতুন নিয়ম অনেক বৈধ অভিবাসীর কর্মজীবন, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিনের স্থায়ী বসবাসের লক্ষ্যকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। এছাড়া এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলে USCIS-এর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য কনস্যুলার প্রসেসিংই এখন মূল পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়াশোনা করতে যান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এফ-১ ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসাধারীরা সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ছুটির সময় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন এফ-১ ভিসার জন্য আবেদনকারীর অবশ্যই এসইভিপি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত থাকতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ফরম আই-২০ প্রদান করা হয়, যা ভিসা আবেদনের অন্যতম প্রধান নথি। এ ছাড়া আবেদনকারীকে টিউশন ফি, আবাসন এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্কলারশিপের কাগজপত্র অথবা স্পনসরের আর্থিক নথি সাধারণত এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস, টোয়েফল অথবা সমমানের পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়। পাশাপাশি আবেদনকারীকে বোঝাতে হয় যে পড়াশোনা শেষ হলে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। যেভাবে আবেদন করবেন ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আই-২০ ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এরপর অনলাইনে SEVIS I-901 ফি পরিশোধ করতে হবে এবং রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে অনলাইনে DS-160 ভিসা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করতে হয়। ফরম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করা জরুরি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করতে হয়। সাক্ষাৎকারে যেসব কাগজপত্র লাগবে সাক্ষাৎকারের সময় বৈধ পাসপোর্ট, আই-২০ ফরম, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, সেভিস ফি পরিশোধের রসিদ, ভিসা ফি রসিদ, পাসপোর্ট আকারের ছবি, শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনে স্কলারশিপ বা স্পনসরশিপের কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সাক্ষাৎকারে কী ধরনের প্রশ্ন করা হয় কনস্যুলার কর্মকর্তা সাধারণত কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন করেছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন, পড়াশোনা শেষে কী পরিকল্পনা রয়েছে এবং নিজ দেশে ফেরার কারণ কী, এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভিসা অনুমোদনের পর করণীয় ভিসা অনুমোদনের পর কোর্স শুরুর ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা যায় না। তাই ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা উচিত। একই সঙ্গে আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়কে আগমনের সম্ভাব্য সময় জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর দেশটিতে পৌঁছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এছাড়া পড়াশোনার অংশ হিসেবে কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (সিপিটি) এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। সাধারণত ওপিটির মেয়াদ ১২ মাস এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত ২৪ মাসের বর্ধিত সুবিধা পেতে পারেন। নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা জানা দরকার সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা সংক্রান্ত কিছু সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার এফ-১ ভিসার মৌলিক নিয়মে কোনো চূড়ান্ত পরিবর্তন কার্যকর করেনি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত আবেদন প্রক্রিয়া, Duration of Status (D/S) ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্যমান নিয়মই বহাল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এফ-১ ভিসার আবেদন আগেভাগে শুরু করা, সব তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করা, পর্যাপ্ত আর্থিক নথি প্রস্তুত রাখা এবং সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
কানাডায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ইউসিএমএএসে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কুশল সাহা। কানাডার ছয়টি প্রদেশের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে এই সাফল্য পেয়েছে সে। কুশল সাহার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের পাশাপাশি তার স্বজনদের মধ্যেও আনন্দের জোয়ার বইছে। ক্ষুদে এই মেধাবীর শিকড় বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তিনি সাংবাদিক সুভাষ সাহার দৌহিত্র এবং সুস্মিতা সাহা ও কমল কৃষ্ণ সাহা দম্পতির একমাত্র সন্তান। জানা গেছে, সম্প্রতি কানাডায় অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল অ্যারিথমেটিক সিস্টেম (ইউসিএমএএস) প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিশুদের মানসিক গণনার দক্ষতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ২০০টি গণিতভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। দ্রুততা ও নির্ভুলতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় কুশল সাহা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব জিতে নেয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছর এই সম্মান অর্জন করেছিল একজন চীনা শিক্ষার্থী। এবার সেই জায়গায় বাংলাদেশের সন্তান কুশল সাহার নাম যুক্ত হওয়ায় গর্বিত তার পরিবার এবং পরিচিতজনরা। কুশলের বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা উচ্চশিক্ষিত একজন পেশাজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) এবং চার্টার্ড মার্কেট টেকনিশিয়ান (সিএমটি) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত আছেন। কুশলের দাদা সাংবাদিক সুভাষ সাহা জানান, ইউসিএমএএস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপদ্ধতি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুদের দ্রুত হিসাব করার দক্ষতা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “কানাডার ছয়টি প্রদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কুশল সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। এটি শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয়।” কুশলের এই সাফল্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। শিশু বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে কুশল সাহা প্রমাণ করেছে, সঠিক সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশি শিশুরা বিশ্বের যেকোনো মঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। পরিবারের পক্ষ থেকে কুশলের জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান থেকে এসেছে আকর্ষণীয় এক সুযোগ। দেশটির কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (কেইউটি) ২০২৭ সালের স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি কর্মসূচি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, নিবন্ধন ফি এবং সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য মাসিক ভাতা, গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা এবং যাতায়াত ব্যয়ের সুবিধাও দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হবে না। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে এই বিশেষ বৃত্তি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তিন বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা এপ্রিল অথবা অক্টোবর সেশনে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি জাপানের অন্যতম স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত। এই বৃত্তির আওতায় ইন্টেলিজেন্ট মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফোটোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স, ইনফরমেটিকস, ডেটা অ্যান্ড ইনোভেশন এবং ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রথমে নির্ধারিত গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার বা প্রকল্প পরিচালকের কাছে প্রি-অ্যাপ্লিকেশন রিকোয়েস্ট ফরম পাঠাতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে অনলাইন আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্টের কপি, জীবনবৃত্তান্ত, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ, গবেষণা প্রস্তাবনা, কভার লেটার এবং ব্যক্তিগত বিবৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের তিন বছর অধ্যয়ন, নির্ধারিত ক্রেডিট অর্জন, চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিরক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং অন্তত একটি স্বনামধন্য পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে। বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী জাপানে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পথ। ২০২৭ সালের এই স্পেশাল স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬। সূত্র: কোচি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাপান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহু স্কুলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কমছে নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তি, কোথাও ছোট হয়ে আসছে স্নাতক ব্যাচ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে পুরো স্কুল। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, যার প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। গত এক দশকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মহার হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোর অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব। একসময় যেসব অঞ্চল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিল, সেখানেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও অধ্যাপক মাইকেল কার্স্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার খুব কম স্কুল জেলা আছে যেখানে এই সংকট দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, এটি এখন প্রায় পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জন্মহার হ্রাস। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৬ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে জন্মহার। গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কয়েক বছর পর দৃশ্যমান হয়। কারণ আজ যারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের জন্ম হয়েছে পাঁচ বা ছয় বছর আগে। ফলে কম জন্মহার এখন সরাসরি স্কুলের ভর্তি সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা ঘরে শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ায় ভর্তি কমেছে। কিন্তু পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল কারণ জনমিতিক পরিবর্তনই। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, সান হোসে এবং উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী কমার হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার (পিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে বে এরিয়া অঞ্চলে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের মতো শহরে বসবাসের খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেক তরুণ পরিবার সেখান থেকে স্যাক্রামেন্টো বা সেন্ট্রাল ভ্যালির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে বড় শহরগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।y তবে বর্তমানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আগামী এক দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো অঞ্চলেই ধারাবাহিক শিক্ষার্থী বৃদ্ধি বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ভাষাভাষী ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার্থী হ্রাসের হার তুলনামূলক বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অভিবাসী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের অর্থায়নের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী কমলে কমে যায় বাজেটও। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান হোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পাঁচটি স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ওপরও পড়ছে। ভর্তি কমে যাওয়ার কারণে অনেক জেলায় নিয়োগ স্থগিত, কর্মী ছাঁটাই এবং শিক্ষক সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি শিক্ষা খাতে অর্থায়ন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বেশি সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব হবে। ছোট শ্রেণিকক্ষ, ব্যক্তিগত সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে। এদিকে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা শুধু স্কুল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে aপারে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং বাজেট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যয় কমানো যথেষ্ট হবে না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন, সাশ্রয়ী আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। তাদের ভাষায়, এটি কেবল স্কুলের ভর্তি কমার গল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ বা অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত গ্রাহকদের জন্য সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড় পাবেন। মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পর নেওয়া যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের গ্রাহকেরাই অতিরিক্ত সুদ-ছাড়ের আওতায় আসবেন। অটো-পে হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ অটো-পে ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। তবে মহামারির পর সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এই হার পুনরায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অটো-পে ব্যবস্থায় বেশি মানুষকে যুক্ত করা গেলে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা ইতোমধ্যে অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সুদ-ছাড়ের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যারা এখনও অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত নন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় নাম নিবন্ধন করে ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই সুদ-ছাড় কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নীতির ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণা
চাঁদপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের এক শিক্ষার্থীর অসাধারণ সাফল্যের গল্প এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের মেয়ে সানজিদা আক্তার তুলি যুক্তরাষ্ট্রের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন প্রায় ছয় কোটি টাকা সমমূল্যের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি। ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত টুলেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টার থেকে যোগ দেবেন সানজিদা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পিএইচডি অধ্যয়নের পুরো সময়জুড়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনি স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন গবেষণা সহায়তা বাবদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। এর পাশাপাশি তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে, যার বার্ষিক মূল্য ৬৫ হাজার ৪ মার্কিন ডলার। এছাড়া শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। আরও পড়ুন... আমেরিকার এক রেস্তোরাঁয় ড্রয়ারে পাওয়া ১২ হাজার ডলার মালিককে ফিরিয়ে দিলেন ব্যবসায়ী পাঁচ বছর মেয়াদি পিএইচডি কর্মসূচিতে স্টাইপেন্ড, গবেষণা সহায়তা, টিউশন ফি মওকুফ এবং স্বাস্থ্যবিমাসহ মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকার সমান। ফলে এটি একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক একাডেমিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সানজিদার শিক্ষাজীবনের শুরু নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি থেকে মাধ্যমিক এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে বিদেশে আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করেন। দীর্ঘদিনের সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ পেলেন।. সানজিদা আক্তার তুলি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের মেয়ে। নিজের এই অর্জন সম্পর্কে সানজিদা বলেন, প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্নপূরণ। তিনি মনে করেন, পরিবারের সমর্থন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। ▶️ ভিডিও দেখুন... আমেরিকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা পাঁচটি পার্ট-টাইম চাকরি তিনি আরও বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীরা যেন কখনও নিজেদের সীমাবদ্ধ মনে না করে। বিশেষ করে মেয়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জন্মস্থান বা পারিপার্শ্বিকতা নয়, বরং স্বপ্ন, যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ই একজন মানুষের গন্তব্য নির্ধারণ করে। সানজিদার এই সাফল্যের খবরে তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ। শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি অর্জন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। সানজিদার সাফল্য প্রমাণ করেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও সুযোগ ও প্রস্তুতি পেলে বিশ্বমানের শিক্ষাঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে জার্মানি। তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকেও এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ভিসাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘জার্মানি ভিসা’-এর তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক। জানা গেছে, জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন এবং সাধারণত এটি দুই বছরের জন্য বৈধ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ ভিসার আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৭৫ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টাকার মতো। স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমেই জার্মানির স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ব্লকড অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো জমা থাকার প্রমাণ দিতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে বৈধ স্কলারশিপ থাকলে তা-ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া ভর্তিকৃত কোর্সের ধরন অনুযায়ী জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হতে পারে। তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরাইল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশের আগে স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরে আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, ভিসামুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যদি ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের কোনো কোর্সে ভর্তি হন, তাহলে তাদেরও আবাসিক অনুমোদন নিতে হয়। তবে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে শেনজেন ভিসা প্রযোজ্য হতে পারে। পড়াশোনার ধরন অনুযায়ী জার্মানিতে বিভিন্ন ধরনের স্টাডি ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন একাডেমিক অধ্যয়ন, জার্মান ভাষা কোর্স, স্টুডিয়েনকলেগ, প্রস্তুতিমূলক কোর্স এবং বাধ্যতামূলক প্রাক-ইন্টার্নশিপের জন্য পৃথক ভিসা দেওয়া হয়। আবেদন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করা যায়। অনেক দেশে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধাও রয়েছে, বাংলাদেশ থেকেও এই সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব। ভিসা আবেদনের সময় সাধারণত পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রমাণ, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, ভাষাগত দক্ষতার সনদ, ভ্রমণবীমা, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), মোটিভেশন লেটার এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আর্থিক প্রমাণ হিসেবে স্কলারশিপের কাগজপত্র, জার্মানিতে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির স্পনসরশিপ ঘোষণা, ব্লকড অ্যাকাউন্টের তথ্য বা অভিভাবকের আর্থিক বিবরণী গ্রহণযোগ্য হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে জার্মান দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমসটেক ও ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সোমবার (১৮ মে) ইউজিসিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইউজিসি সদস্য ও চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান, মালয়েশিয়ার হায়ার এডুকেশন লিডারশিপ একাডেমির পরিচালক ড. হারশিতা আইনি হারুন, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলামসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, উচ্চশিক্ষা–সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্ব র্যাংকিং, শিক্ষার্থীদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষা এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। এই নেটওয়ার্কিং ইভেন্টটি দুই দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রায় ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, যা উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিকীকরণের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন শিক্ষা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয় এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৪০১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যার বিচারে তৃতীয়। এদের অধিকাংশেরই পছন্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (ইএমজিএস)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নভি তাজউদ্দীন সভায় একটি ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত বছরের তুলনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুণগত শিক্ষা ও আধুনিক একাডেমিক পরিবেশের কারণেই মূলত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উক্ত দ্বিপাক্ষিক সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি), কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার), রেজিস্ট্রার এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা এখন অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক চাকরির সুযোগের কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের পক্ষে সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের কিছু দেশে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। জার্মানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি। দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক স্টেম প্রোগ্রামে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সহজে ভিসা পেয়ে থাকেন। পড়াশোনা শেষে দেশটি ১৮ মাসের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা দেয়, যা শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজতে সহায়তা করে। তুরস্কও কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ হওয়ায় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বীকৃত। সেখানে বছরে ১০০ থেকে চার হাজার ইউরোর মধ্যে পড়াশোনা করা সম্ভব। পাশাপাশি মাসিক ৪০০ থেকে ৬৫০ ইউরোর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো যায়। ফ্রান্সে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত এবং ডকুমেন্টেশনও সহজ। ব্যবসা, আতিথেয়তা ও ফ্যাশন শিক্ষার জন্য দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। একইভাবে অস্ট্রিয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম টিউশন ফি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ভিয়েনা, গ্রাজ ও ইনসব্রুকের মতো শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাসে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ইউরোর মধ্যে থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ পরিচালনা করতে পারেন। পোল্যান্ড সাশ্রয়ী শিক্ষা ব্যয়, নিরাপদ পরিবেশ এবং সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত। দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনা করতে পারেন। তবে বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মাসিক খরচ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটি সাধারণত ৩০ দিনের কম সময়ের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধাও দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক অবকাঠামোর কারণে দেশটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। ফিলিপাইন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত শিক্ষা প্রোগ্রামের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দেশটির ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং টিউশন ফি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ফলে কম খরচে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে ফিলিপাইন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
রাবি প্রতিনিধি: গবেষণা, শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিজ বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৩৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে, ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সোমনাথ ভট্টাচার্য বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির আলোচনায় সভায় প্রস্তাব করেছিলেন। এসময় সভায় প্লানিং কমিটির ৭জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় প্লানিং কমিটির আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য সুপারিশ করে উপাচার্যের কাছে প্রেরণ করেন বিভাগীয় প্লানিং কমিটি। তবে আওয়ামী প্রশাসন সেই সময় বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সকল সদস্যের মতামতকে উপেক্ষা করে ড. আজহারুলের বিষয়টি আমলে নেয়নি। এদিকে ৫ই আগস্টের পর নতুন করে বিভাগের আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সবার সামনে আসে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাকে এ পদে মনোনীত করা হয়। বিশ্বমানের এই পদার্থবিজ্ঞানীর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু একজন গবেষকের সম্মানই নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধিরও কারণ। তবে এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক মনে করছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব তাঁর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম হলেন উপাচার্য নকীবের আপন শ্বশুর। তবে কি তিনি শ্বশুর কোটায় প্রফেসর ইমেরিটাস হয়েছেন, নাকি নিজ যোগ্যতায়? চলুন বিষয়টি দেখে নেওয়া যাক। প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা: প্রফেসর ইমেরিটাস হতে হলে অবসরপ্রাপ্ত স্বনামধন্য অধ্যাপক হতে হয়, যিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা হিসেবে এই উপাধি লাভ করেন। এটি সাধারণত অবসরের পর দেওয়া একটি সম্মানসূচক উপাধি। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই যোগ্যতা কি প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের রয়েছে? শিক্ষা ও গবেষণায় ড. আজহারুলের অসাধারণ সাফল্য: ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৯ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি এবং ১৯৭২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র প্রাথমিক কণা পদার্থবিদ্যা, অতিপরিবাহিতা, পদার্থের বৈদ্যুতিক কাঠামো এবং ম্যাক্স ফেজ-সংক্রান্ত বিষয়। জাপানি পদার্থবিজ্ঞানীদের সঙ্গে পেরোভস্কাইট-টাইপ অক্সাইড সুপারকন্ডাক্টরের সহ-আবিষ্কার তাঁর গবেষণা জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বিজ্ঞানী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের অধ্যাপনা: অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৪৪ বছর অধ্যাপনা করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার: অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম আইএসইএসসিও (ISESCO) লরিয়েট হোন ২০০১ সালে। ছাত্রজীবনে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এমএসসি পর্যায়ে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের জাতীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ১৯৭২ সালে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করেছেন এবং রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইতালিতে ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে গবেষণা করেছেন। তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের নির্বাচিত ফেলো। প্রকাশনা ও গবেষণা তত্ত্বাবধান: অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৫ শতাধিক। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে ৩১৫টি গবেষণা নিবন্ধ এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রায় ১৮০টি সাধারণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেশে-বিদেশে প্রকাশিত ২৩টি গ্রন্থের রচয়িতা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মশালার প্রসিডিংস সম্পাদনা করেছেন। এছাড়া তিনি ১৪১ জন গবেষকের এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালের প্রধান সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৩০টি দেশে একাডেমিক সফর এবং ৫৪টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁর বৈশ্বিক একাডেমিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে। প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটি গঠন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দীন খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম. শমশের আলী ও রাবির বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. নাসিমা আক্তার। এছাড়াও দুইজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন জাপান এডভান্স ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (JAIST) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রিও মিজোনো এবং মালয়েশিয়া পার্লিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ চিক। নিজের আপন শ্বশুর হওয়ায় সেই কমিটিতে থাকেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের দিকে প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার জন্য ড. এ.কে.এম. আজহারুল স্যারের পক্ষে তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অ্যাকাডেমিক কমিটিতে প্রস্তাব করেছিলেন। তখন তাঁর গবেষণা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং একাডেমিক অবদান পর্যালোচনা করে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে প্রফেসর ইমেরিটাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয়করণের কারণে তাঁর সেই ফাইল আর এগোতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্রজনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তন আসে। তখন তাঁর ফাইলটি পুনরুদ্ধার করে বিধি অনুযায়ী তাঁকে যথাযথ প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত বছর তাঁকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ড. আজহারুল ইসলামের গবেষণা, প্রকাশনা ও সাইটেশনের সংখ্যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর সমান সাইটেশন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষকের আছে কি না, আমার জানা নেই। ইমেরিটাস অধ্যাপক নির্বাচনের বোর্ডে থাকা দুইজন বিদেশি বিশেষজ্ঞও তাঁর কাজের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান ইমেরিটাস অধ্যাপকদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, তাঁর আশেপাশেও কেউ নেই। তাঁর এই নিয়োগ কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিমণ্ডলের জন্যও এক গর্বের। ড. আজহারুল ইসলাম প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা জানতে চাইলে একই বিভাগের স্বনামধন্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, ড. আজহারুল ইসলামকে আমি আমার ছাত্র হিসেবে পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তাকে ছাত্র জীবন থেকেই দেখছি তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আরও অনেক আগেই তার প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়া উচিত ছিল কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি হননি। ইমেরিটাস প্রফেসর হওয়ার জন্য ড. আজহারুল শুধু যোগ্যই নন–যথেষ্ট যোগ্য বলে আমি মনে করি। তাকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ দেওয়ায় আমি অত্যান্ত আনন্দিত এবং খুশি হয়েছি। এতে কেউ যদি সমালোচনা করে, সেটি তাদের ব্যাপার। জানতে চাইলে ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমি মাত্র ২১ বছর ২ মাস বয়সে লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা জীবনে প্রবেশ করি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা। আমার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত আছে এবং দেশের কল্যাণে কাজও করে যাচ্ছে। আমাদের বিভাগের গবেষণায় সফলতার কারণে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকেও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। আমি সবসময় আমার ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা ও দেশপ্রেমের প্রতি অনুপ্রাণিত করি।
সারাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিতির এক বিশাল পরিসংখ্যান সামনে এনেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে দেশের ৩ হাজার ৮৭৫টি কেন্দ্রে মোট ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থীকে। কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত নথিতে জানানো হয়, এবার ১৫ লাখ ৯ হাজার ৬ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিল ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৮ জন। সাধারণ ৯টি বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯০ জন হলেও মাদ্রাসা বোর্ডে এই হার উদ্বেগজনক; সেখানে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ২১১ জন শিক্ষার্থী। কারিগরি বোর্ডেও ২ হাজার ৩০৭ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল এবং সেখানে একজন কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব অবহেলার কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। বড় অংকের এই অনুপস্থিতির নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিনের এই চিত্র কি সামনের পরীক্ষাগুলোতেও বজায় থাকবে?
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও কেন্দ্রের আশপাশে যানজট কমাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা। পরীক্ষার্থীরা এখন থেকে সকাল সাড়ে আটটা থেকেই কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের আশপাশে জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের জন্য সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিবদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ ও অন্যান্য নির্দেশনাবলী আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সহযোগিতার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফোন ও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করেছে। বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর হলো ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়াও ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ এবং ০১৭৫৬১০৩১৫২ মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে। ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্যের জন্য controller@dhakaeducationboard.gov.bd ঠিকানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মহাবিশ্ব কত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সবচেয়ে নির্ভুল উত্তর বের করার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানী। প্রায় ৪০ জন গবেষকের সমন্বয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় মহাবিশ্বের প্রসারণ হার বা হাবল ধ্রুবক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি সেকেন্ডে প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩.৫ কিলোমিটার, যার অনিশ্চয়তা এক শতাংশেরও কম। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। তিনি ‘এইচ নট ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ (এইচওডিএন) কোলাবোরেশনের সদস্য হিসেবে গবেষণাপত্রটির অন্যতম রচয়িতা। গবেষণাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নিয়ে একমত হতে পারেননি। বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিমাপ করে পাওয়া ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এই মতভেদকে ‘হাবল টেনশন’ বলা হয়। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ, সেফিড নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা, সুপারনোভা পর্যবেক্ষণসহ নানা পদ্ধতিতে এই হার নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে। নতুন গবেষণায় এসব পৃথক পদ্ধতিকে একত্রে বিশ্লেষণের জন্য ‘ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ নামে একটি কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল আসলে একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে ‘হাবল টেনশন’ কেবল গণনার ত্রুটি নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের আরও গভীর কোনো অজানা বিষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি যে ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেও একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। তাই এই অমিলকে শুধু পদ্ধতিগত ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কমে গেছে।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন কাঠামো ভবিষ্যতে আরও উন্নত টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে সহায়ক হবে এবং মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে আরও নিখুঁত ধারণা দিতে পারবে। আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস (কাসা)-এর পরিচালক ড. খান মোহাম্মদ বিন আসাদ বলেন, বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কাসা দেশের প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি ট্রান্সিয়েন্ট অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ স্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। শিক্ষা কার্যক্রমে সশরীর, অনলাইন বা মিশ্র পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে কি না—তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সংবাদ সম্মেলন করবে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কিছু বলা হবে না।” সাধারণত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার, তাই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক প্রস্তাবে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীর ক্লাস হবে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস অবশ্যই সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস কার্যকর করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ঢাকার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, “শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইনে আনা অসম্ভব। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা অনলাইন ক্লাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।” প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করানো কঠিন। এ জন্য বিকল্প সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে আসবে। উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৪০ দিনের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ খুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের প্রভাব এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।