সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শিক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে ঢাবিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নেওয়ার আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।   রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়, এটি দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।    সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনও জানান।    উপাচার্য আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।    সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন এবং প্রেস সচিব সরওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।    এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের প্রভাবভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী ৮০১ থেকে ১০০০তম অবস্থানের বন্ধনীতে ছিল। আগের বছরের তুলনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়।    বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মান আরও উন্নত করার জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণ, মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন এবং গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।    রাষ্ট্রপতির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৩:৮
কম সিজিপিএ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, জেনে নিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু সিজিপিএ তুলনামূলক কম? সিজিপিএ কম হলেও দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি বা সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পছন্দের বিভাগ, ডিগ্রির ধরন এবং অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুল হাকিম তিস্তির নামে সরবরাহ করা ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০। আবার একই তালিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ প্রয়োজন।   ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্নাতক ডিগ্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ অথবা সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্কে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আলাদা শর্ত দিলে সেটিই প্রযোজ্য হবে।   ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে কোনো বিভাগ অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে আবেদনকারীকে তা পূরণ করতে হবে।   ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য স্নাতক পর্যায়ে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৩ দশমিক ০০। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএধারী আবেদনকারীর আবেদনও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে সাধারণভাবে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ চাইলে ওই অংশে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকা আবেদনকারীকে সাময়িক ভর্তির জন্য বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট সিজিপিএ নয়, শেষ কয়েক বছরের একাডেমিক ফলও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইলের ক্ষেত্রেও প্রোগ্রামভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাস্টার অব আর্টস ইন অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন বিজনেস প্রোগ্রামে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তাই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কথায় ‘কম সিজিপিএতে ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা ঠিক হবে না।   সরবরাহ করা তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস, আলাবামার আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আরকানসাসের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়ার ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়ার ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, আরকানসাসের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটসের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ।   পরের ১০টি হলো—মেইনের ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইল, ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, আইডাহোর ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ট্রয় ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মিজৌরির ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি এবং মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি।   ২১ থেকে ৩০ নম্বরে রয়েছে—মিশিগানের ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, উইসকনসিনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ও টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি।   তালিকার শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—ওহাইওর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেনটাকির ইস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি ও মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসির টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা এবং টেক্সাসের লামার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন।   তবে এই ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে কম সিজিপিএ গ্রহণ করা হবে বা সব আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ অর্থায়ন দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনো একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের যোগ্যতা দেখে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।   ভর্তি যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। বিভাগভেদে টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগও থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ন্যূনতম ভর্তি যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।   আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি শর্তের পাশাপাশি পছন্দের বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনাও ভালোভাবে পড়তে হবে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট, নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ, সুপারিশপত্র এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মতো অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিপিএর সমমান নির্ধারণ। ডেনভারের আন্তর্জাতিক ভর্তি নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের জিপিএর কথা বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ট্রান্সক্রিপ্টে থাকা সিজিপিএ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত নয়। যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, সেই বিভাগের ভর্তি দপ্তরের কাছ থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অর্থায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:২৩
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ভাতা ও টিউশন সহায়তার সুযোগ
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স-পিএইচডিতে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ভাতা ও টিউশন সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা, শিক্ষকতা কিংবা পেশাগত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ভাতা, টিউশন সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকিও পাওয়া যেতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের ন্যূনতম ভাতা ২৪ হাজার ৭২০ ডলার। ডক্টরাল পর্যায়ে এই ন্যূনতম ভাতা ২৭ হাজার ১৯২ ডলার।   নয় মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট পর্যায়ের ন্যূনতম ভাতা ১৮ হাজার ৫৪০ ডলার এবং ডক্টরাল পর্যায়ে ২০ হাজার ৩৯২ ডলার। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ন্যূনতম ভাতার পরিমাণ। কোনো কোনো একাডেমিক প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর পর্যায় ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি ভাতা দিতে পারে।   অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ মূলত পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার একটি ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, গ্র্যাজুয়েট ইনস্ট্রাক্টর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ।   অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ একাডেমিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে এসব পদে সুযোগ পান। কখনো ভর্তির প্রস্তাবের সঙ্গেই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। আবার কখনো শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই সবার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা অর্থায়ন নিশ্চিত—এমন নয়।   সাধারণভাবে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কাজের ধরন ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভাতার পরিমাণ এবং অন্যান্য সুবিধাও নির্ধারিত হয়।   টিউশন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট টিউশন সাপোর্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী, পূর্ণ টিউশন সহায়তার জন্য সাধারণভাবে অর্ধকালীন একটি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, দুটি এক-চতুর্থাংশ সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অথবা একটি এক-চতুর্থাংশ সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় ফেলোশিপ থাকতে হয়।   এ জন্য শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি থাকতে হবে এবং সন্তোষজনক একাডেমিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ধরন, কাজের সময় ও ভাতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে।   টিউশন সহায়তার আওতায় ডিগ্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য কোর্সের টিউশন নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট হারে পরিশোধ করা হয়। তবে সব ধরনের বাধ্যতামূলক ফি এর আওতায় পড়ে না। স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি, স্বাস্থ্যসেবা বা রিক্রিয়েশন সেন্টারের মতো বিভিন্ন ফি শিক্ষার্থীকে নিজেকেই দিতে হতে পারে, যদি বিভাগ থেকে আলাদা ব্যবস্থা না থাকে।   এ ছাড়া কোনো কোর্সের টিউশন নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট হারের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থী বা তাঁর বিভাগকে বহন করতে হতে পারে। তাই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রস্তাব পাওয়ার পর কোন খরচগুলো সহায়তার আওতায় রয়েছে, তা ভালোভাবে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এসব সুযোগের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়, যদি আবেদনকারী নির্ধারিত কোনো অব্যাহতির আওতায় না থাকেন। গ্রহণযোগ্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে টোফেল, একাডেমিক আইইএলটিএস এবং পিটিই একাডেমিক।   তবে প্রয়োজনীয় স্কোর ও অন্যান্য ভর্তি শর্ত প্রোগ্রামভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যে বিষয়ে আবেদন করা হবে, সেই বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।   টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা গ্র্যাজুয়েট ইনস্ট্রাক্টর পদে অতিরিক্ত ভাষাগত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। যাঁদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় এবং যাঁরা শ্রেণিকক্ষ বা ল্যাবে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের ইংরেজিতে কার্যকরভাবে যোগাযোগের সক্ষমতা থাকতে হবে।   এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্ট্রাকশনাল অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট কর্মসূচির মূল্যায়নে অংশ নিতে হতে পারে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা এবং পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়।   আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের পছন্দের বিষয় অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর ওই প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা দেখে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের খালি পদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।   বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা ও অতিরিক্ত নথির প্রয়োজনীয়তা একাডেমিক প্রোগ্রামভেদে নির্ধারিত হয়। একইভাবে জিআরই প্রয়োজন কি না, সেটিও প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ফলে সব বিভাগের জন্য একই সময়সীমা বা অভিন্ন পরীক্ষার শর্ত ধরে আবেদন করা ঠিক হবে না।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নথি দেওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শিক্ষাবর্ষের ব্যয় বহনের মতো অর্থায়নের প্রমাণ দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তার ঘোষণা কিংবা অর্থায়নের চিঠি ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে প্রাথমিক ভর্তি আবেদন পর্যালোচনার সময় এই আর্থিক নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:১৩
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি.ফিল প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের গ্রাম থেকে অক্সফোর্ডের গবেষণাগারে: নতুন অধ্যায়ে বিজ্ঞানী উজ্জ্বল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম ও ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন। মানিকগঞ্জের বেংরোয়া গ্রামের এই গবেষক যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিষয়ে ডি.ফিল প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন। আরটিভির ১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর থেকে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।    উজ্জ্বলের গবেষণায় গুরুত্ব পাবে জীবাণুর জিনোমিক্স, ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তন এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিংয়ের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি।    অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকেও গবেষণার প্রস্তাব পেয়েছিলেন উজ্জ্বল। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র‍্যাটক্লিফের গবেষণাগার থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জীববিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে নিজের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহকে অগ্রাধিকার দিয়ে অক্সফোর্ডের এই গবেষণা বেছে নেন।     তাঁর গবেষণাটি প্রায় ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের একটি বৃহৎ প্রকল্পের অংশ। এতে তিনটি মহাদেশের গবেষকদের সহযোগিতায় কাজ হওয়ার কথা রয়েছে।    উজ্জ্বল বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে আরটিভি। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এর আগেও অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন তিনি।    দেশের গবেষণার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার নজির রয়েছে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক কাজেও। বাংলাদেশে শনাক্ত করোনাভাইরাসের জিনোম ও জিনগত পরিবর্তন নিয়ে একটি গবেষণাপত্রে তাঁর নাম রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির প্রকাশনায় সেই গবেষণায় তাঁর প্রতিষ্ঠান হিসেবে অক্সফোর্ডের ফার্মাকোলজি বিভাগের উল্লেখ পাওয়া যায়।    উচ্চতর গবেষণা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় পর্যায়ে জিনোমিক তথ্যের অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি দেশের গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।  সূত্র: আর টিভি

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:৩৫
আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর
আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর

আইইএলটিএসের প্রস্তুতি শুধু বইয়ের অনুশীলনী শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। এর সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, সময় ব্যবস্থাপনা ও উত্তর দেওয়ার নিয়ম বুঝে অনুশীলন করলে প্রস্তুতি আরও গোছানো হয়।   প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় ভাষা শেখার জন্য ইংরেজির চর্চায় ডুবে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, সিরিজ ও সিনেমা দেখা, সংবাদপত্র পড়া এবং নিজের দক্ষতার উপযোগী বই পড়াকে এই চর্চার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কৌশল আর পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নিয়মের পার্থক্য বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।   লিসেনিংয়ে প্রথম কাজ হলো কথার অর্থ বোঝা। উচ্চারণ অপরিচিত মনে হলেও বক্তা কী তথ্য দিচ্ছেন, সেদিকে মনোযোগ রাখতে হবে। রেকর্ডিং শুরুর আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, উত্তরে নাম, সংখ্যা, সময়, স্থান নাকি অন্য কোনো তথ্য চাওয়া হচ্ছে।   প্রশ্নের মূল শব্দ চিহ্নিত করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। তবে রেকর্ডিংয়ে প্রশ্নের হুবহু শব্দ শোনার অপেক্ষায় থাকলে তথ্য বাদ পড়তে পারে। বক্তব্যের অর্থ বুঝে উত্তর ধরার অনুশীলন করুন। আইইএলটিএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রেকর্ডিং একবারই শোনানো হয়। নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি লিখলেও নম্বর হারাতে হয়।    ম্যাপের প্রশ্নে শুরু করার জায়গা, দিকনির্দেশ এবং পরিচিত স্থাপনা আগে দেখে নেওয়া সহায়ক। ডান ও বাঁয়ের নির্দেশ বোঝার সময় বক্তার চলার দিকের সঙ্গে মানচিত্র মিলিয়ে নিন। মানচিত্র ঘুরিয়ে নেওয়াকে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য কৌশল ধরে নেওয়ার বদলে অনুশীলনে নিজের সুবিধাজনক পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া ভালো।   রিডিংয়ে আগে প্রশ্ন পড়বেন, নাকি প্যাসেজে চোখ বুলিয়ে নেবেন, তা অনুশীলনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়। প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ধরে প্যাসেজে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজুন। একই তথ্য সমার্থক শব্দ বা ভিন্ন বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।   দ্রুত চোখ বুলিয়ে লেখার মূল বক্তব্য বোঝা এবং নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা আলাদাভাবে চর্চা করা দরকার। শুধু পরিচিত একটি শব্দ পেলেই উত্তর ঠিক করে ফেলবেন না। আশপাশের বাক্য পড়ে নিশ্চিত হোন, প্রশ্নে যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তথ্যটি তার সঙ্গে মিলে কি না।   ম্যাচিং প্রশ্নেও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপশন ব্যবহার হয়েছে মানেই সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না, এমন নিয়ম সব প্রশ্নে নেই। আইইএলটিএসের রিডিং নির্দেশনায় কিছু প্রশ্নে একই অনুচ্ছেদ বা অপশন একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই উত্তর দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের নিয়ম পড়তে হবে।    রাইটিংয়ের প্রস্তুতিতে নিয়মিত ছোট লেখা দিয়ে শুরু করা যায়। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে লিখে পরে ব্যাকরণ, বানান ও বাক্যের গঠন সংশোধন করুন। নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা এবং যুক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানোর অভ্যাসও গড়ে তুলুন।   রাইটিং পরীক্ষায় মোট সময় ৬০ মিনিট। আনুষ্ঠানিক পরামর্শ হলো টাস্ক ওয়ানে প্রায় ২০ মিনিট এবং টাস্ক টুতে প্রায় ৪০ মিনিট ব্যয় করা। টাস্ক ওয়ানে অন্তত ১৫০ এবং টাস্ক টুতে অন্তত ২৫০ শব্দ লিখতে হয়। টাস্ক টুর মূল্যায়নের ওজনও বেশি। প্রস্তুতির সময় দ্রুত লেখার অনুশীলন করা যায়, তবে পরিকল্পনা ও ভুল সংশোধনের জন্যও সময় রাখতে হবে।    টাস্ক টুর লেখায় প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী বক্তব্য সাজান। ভূমিকার পর যুক্তি ব্যাখ্যা করুন এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিন। শেষে উপসংহারে মূল অবস্থান স্পষ্ট করুন। সব প্রশ্নে একই কাঠামো বা সর্বোচ্চ চারটি অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ধরে লেখার বদলে বিষয় অনুযায়ী অনুচ্ছেদ সাজানো বেশি কার্যকর।   টাস্ক ওয়ানের ধরনও পরীক্ষাভেদে আলাদা। একাডেমিক পরীক্ষায় গ্রাফ, চার্ট, টেবিল বা ডায়াগ্রামের তথ্য বর্ণনা করতে হতে পারে। সেখানে প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তুলনা তুলে ধরতে হয়। জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষায় টাস্ক ওয়ানে একটি পরিস্থিতির ভিত্তিতে চিঠি লিখতে হয়। তাই নিজের পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।   স্পিকিংয়ের জড়তা কাটাতে নিয়মিত কথোপকথন ও মক টেস্ট সহায়ক হতে পারে। আয়নার সামনে বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। মক পরীক্ষকের পরামর্শ নিয়ে দেখুন, কোথায় বক্তব্য আটকে যাচ্ছে বা একই শব্দ বারবার ব্যবহার হচ্ছে।   স্পিকিংয়ের দ্বিতীয় অংশে প্রস্তুতির জন্য এক মিনিট পাওয়া যায়। এরপর নির্ধারিত বিষয়ে এক থেকে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। প্রস্তুতির সময় পুরো বক্তব্য লেখার চেষ্টা না করে মূল বিষয়, একটি উদাহরণ এবং বলার ক্রম সংক্ষেপে নোট করা যায়।    কথা বলার সময় ভুল হলে শান্তভাবে সংশোধন করে এগিয়ে যান। পরীক্ষককে হাসানো বা কৌতুক করা নম্বর বাড়ানোর কৌশল নয়। স্পিকিংয়ে মূল্যায়ন করা হয় সাবলীলতা ও বক্তব্যের সংযোগ, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণের বৈচিত্র্য ও শুদ্ধতা এবং উচ্চারণ।    প্রস্তুতির অগ্রগতি বুঝতে সময় ধরে অনুশীলন করুন এবং ভুলগুলো লিখে রাখুন। কোন অংশে বারবার সমস্যা হচ্ছে, পরের অনুশীলনে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। ইংরেজির নিয়মিত ব্যবহার এবং পরীক্ষার নির্দেশনা মেনে চর্চা, দুটিকে একসঙ্গে রাখলেই প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা সহজ হবে।   সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:১
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য, শীর্ষে ভার্মন্ট
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি।   ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার।   তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে।   অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার।   ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না।   দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।   ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল।   ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।   রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৫:৫৫
আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। ছবি: সংগৃহীত
১১৯ দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা ছয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ সাফল্য অর্জন করেছে দলটি।    ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ দলের আট সদস্যের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা হলেন মুর্শিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, আরকানুল ইসলাম আকিক, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন এবং কুর্চি রহমান লুবা। দলের অন্য দুই সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানি তাকবিম এশা।    প্রতিযোগিতার শুরুতে ১১৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে দলটি শীর্ষ ৩০-এ জায়গা করে নেয়। এরপর প্রস্তাবিত সমাধান বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের জন্য দলটি ১ হাজার ইউরোর বীজ অনুদান পায়। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে মাঠপর্যায়ের কাজ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়।    ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর প্রকল্পটি মূলত পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই মাছ চাষব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রকল্পটির লক্ষ্য পুকুরের পাড়ের ভাঙন কমানো, পানির মান উন্নত করা এবং পাটের বর্জ্য ও উপজাতকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্রাকার ও পরিবেশবান্ধব জলজ খাদ্যব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে পাটজাত উপকরণ, জৈব কয়লা এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ চাষকে আরও টেকসই করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে।    আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জটি নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ যৌথভাবে আয়োজন করে। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১৭টি অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০টি দল নির্বাচিত হয়েছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেনে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।    প্রকল্পটির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ দলটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে তার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা তাদের কাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমানও প্রকল্পের উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন।    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ছয়ে পৌঁছানোকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি ও জলজ খাদ্যব্যবস্থার সমস্যা থেকে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৪৭
অটো পেমেন্টে যুক্ত হলে স্টুডেন্ট লোনের সুদ ১ শতাংশ কমানোর সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা দপ্তর
স্টুডেন্ট লোনে সুদ কমানোর সুযোগ বাড়ল, বাড়ানো হলো আবেদনের সময়সীমা

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার কমানোর বিশেষ সুযোগের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। যারা অটো পেমেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় পরিশোধ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে ঋণের সুদ ১ শতাংশ কমানোর সুবিধা নিতে চান, তারা এখন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা দপ্তর আগে এই সুবিধা নিতে মঙ্গলবারের মধ্যে অটো পেমেন্টে যুক্ত হওয়ার সময়সীমা দিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত করা হয়েছে।   সাধারণভাবে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে অটো পেমেন্ট চালু করলে যে সুদের ছাড় পাওয়া যায়, নতুন এই সুবিধা তার তুলনায় চার গুণ বেশি। অর্থাৎ যোগ্য ঋণগ্রহীতারা অটো পেমেন্ট চালু করলে অতিরিক্ত ১ শতাংশ সুদ কমানোর সুবিধা পাবেন।   শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এই উদ্যোগ চালুর পর ইতোমধ্যে প্রায় ২০ লাখ ঋণগ্রহীতা অটো পেমেন্টে যুক্ত হয়েছেন। দপ্তরের দাবি, এর ফলে ঋণ পরিশোধের হার বাড়ছে এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতিও উন্নত হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণও অনেক বড়। নিউইয়র্ক ফেডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে স্টুডেন্ট লোনের বকেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।   এদিকে মহামারির সময় চালু হওয়া স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ স্থগিত রাখার ব্যবস্থা শেষ করে ঋণগ্রহীতাদের আবার নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে নতুন কিছু পরিশোধ পরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে।   শিক্ষা দপ্তর বলছে, অটো পেমেন্ট চালু করলে নির্ধারিত তারিখে কিস্তি দিতে ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। নতুন রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান বা আরএপি ব্যবস্থার সুবিধা পেতেও সময়মতো কিস্তি পরিশোধ গুরুত্বপূর্ণ।   এই ১ শতাংশ সুদ কমানোর সুবিধা ১ জুলাই ২০১২-এর পর ইস্যু করা যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সুবিধাটি ২০২৮ সালের জুনের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।   শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিপুলসংখ্যক ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে এই সুবিধায় যুক্ত হওয়ায় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন বলেছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত আরও বেশি ঋণগ্রহীতাকে অটো পেমেন্টে যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য।   যারা বর্তমানে অটো পেমেন্টে নেই, তারা নিজেদের স্টুডেন্ট লোন সার্ভিসারের অ্যাকাউন্টে লগইন করে অটো পেমেন্টের অপশন নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে পেমেন্টের বিস্তারিত নিশ্চিত করতে হবে।   তবে ঋণগ্রহীতা যদি ডিফল্ট অবস্থায় থাকেন, তাহলে সরাসরি অটো পেমেন্টে যুক্ত হওয়া যাবে না। তাদের প্রথমে StudentAid.gov-এ লগইন করে যোগ্য ঋণগুলো একত্র করতে এবং নতুন রিপেমেন্ট প্ল্যানে আবেদন করতে হবে। এরপর অটো পেমেন্ট চালু করার সুযোগ পাবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২:২২
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা অক্সফোর্ডে মাস্টার্সের  সুযোগ পেলেন ফারিহা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা অক্সফোর্ডে মাস্টার্সের সুযোগ পেলেন ফারিহা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের স্নাতক ফারিহা ইকবাল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ‘ডব্লিউসিএন রাইজিং ওয়াইল্ডলাইফ লিডার্স’ স্কলারশিপে তাঁর এই সুযোগের কথা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ‘আরইউ ইনসাইডার্স’-এর এক পোস্টে জানানো হয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শুরু হতে যাওয়া শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে মঙ্গলবার রাতে অক্সফোর্ডের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর আইইএলটিএস স্কোর ৮.০।    ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের এই স্কলারশিপে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়, যা টিউশন ফি, আবাসন, জীবনযাত্রার খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যায়।     ফারিহা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মাস্টার্সের সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নে ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন। তবে তিনি অক্সফোর্ডকে বেছে নেন।   টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ড প্রথম, উইসকনসিন-ম্যাডিসন যৌথভাবে ৫৩তম এবং মেলবোর্ন ৩৭তম স্থানে ছিল। কিউএসের ২০২৬ সালের বিষয়ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা স্কুল ভূগোল বিষয়ে টানা ১৬তম বছরের মতো বিশ্বে প্রথম স্থান পায়।  সূত্র : Ru insiders

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১:৫৬
আইসিইউতে নুরনবী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপের কামড়, আইসিইউতে নুরনবী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে বিষধর কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে তিনি চিকিৎসাধীন এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে।    নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভোরে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপটি তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার করলে রুমমেটরা ঘুম থেকে উঠে কক্ষে সাপটি দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।    রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাপটিকে ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। নুরনবীকে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছেন।    ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্য প্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সদস্যরা ওই কক্ষে গিয়ে প্রায় তিন ফুট লম্বা কালাচ সাপটি উদ্ধার করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো পরিবেশে সাপের উপস্থিতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। কালাচ উষ্ণতার সন্ধানে মানুষের বিছানায় উঠে আসতে পারে বলেও তারা জানিয়েছে।    ঘটনাটি সামনে আসার পর হলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নুরনবীর রুমমেটদের একজনের দাবি, এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার, স্নেক নেট স্থাপনসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি ও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।   শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার জানিয়েছেন, এর আগেও হলে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা, সাপ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় কীভাবে সেটি কক্ষে প্রবেশ করেছে, তা নিশ্চিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।    এদিকে দুপুরের দিকে নুরনবীর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহীদ শামসুজ্জোহা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৭:১২
প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি

শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পরিবেশ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।    তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত বার্তায় কমিটিতে কারা থাকবেন, কমিটির সদস্যসংখ্যা কত হবে, ঠিক কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে কিংবা কমিটির বিস্তারিত দায়িত্ব কী হবে—এসব জানানো হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়ন কাঠামোর বিস্তারিত আসতে পারে।    শিক্ষাঙ্গনে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের আলোচনায় রয়েছে। মাত্র চার দিন আগে, ২০ সেপ্টেম্বর, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজসেবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন।   এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী তথ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং সামাজিক প্রতিরোধ শক্তিশালী করা।    শিক্ষাঙ্গনে মাদক নিয়ে উদ্বেগের একটি সাম্প্রতিক ঘটনাও সামনে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাদক সেবনের অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করে হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতেও পাঠানো হয়েছে।   এদিকে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে বিভাগীয় পরীক্ষাগার এবং মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসংক্রান্ত প্রকল্পও সরকারের কার্যক্রমে রয়েছে।   সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে স্কুল, কলেজসহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির পথ তৈরি হলো। তবে কমিটির গঠন, দায়িত্ব, নজরদারি পদ্ধতি এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ হলে উদ্যোগটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৪২
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না।   অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে।    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে।    আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।    স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন।    ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে।    ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন।   আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়।    অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে।    সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে।    তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৩৬
২০২৭ সালের সেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এমআইটি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ-ইউনিভার্সিটি কোনগুলো? প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। এবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে শীর্ষস্থান নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়কে সরিয়ে ১ নম্বরে উঠে এসেছে এমআইটি। প্রিন্সটন এবার দ্বিতীয় এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ন্যাশনাল লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উইলিয়ামস কলেজ। ২০২৭ সালের এই র‌্যাংকিংয়ের ৪২তম সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   র‌্যাংকিং তৈরিতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পড়াশোনা শেষে আয়সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক পর্যায়ে সহকর্মীদের মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য সম্পদও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইউএস নিউজ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্যাটাগরির শীর্ষ ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের পৃথক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অবস্থানের পরিবর্তে র‌্যাংকের একটি পরিসীমা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু র‌্যাংকিং দেখে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে না নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোকে অবস্থান, মোট খরচ, আর্থিক সহায়তা, ক্যাম্পাস জীবন এবং পছন্দের একাডেমিক প্রোগ্রামের মতো বিষয়ও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কলেজের খরচ ও শিক্ষাঋণের চাপ   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পাশাপাশি শিক্ষাঋণও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি শিক্ষাঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি বেড়েছে। মহামারির সময় স্থগিত থাকা ঋণের কিস্তি ২০২৪ সালে আবার চালু হওয়ার পর অনেক ঋণগ্রহীতা আর নিয়মিত পরিশোধ করতে পারেননি।   এদিকে আরও কয়েক লাখ ঋণগ্রহীতা কয়েক মাস ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছেন। সরকারের তুলনামূলক কম খরচের আয়ভিত্তিক ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা ‘সেভ প্ল্যান’ বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকায় অনেকের মাসিক কিস্তিও বাড়তে পারে। ঋণের কিস্তি টানা নয় মাস পরিশোধ না করলে একজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।   খেলাপি শিক্ষাঋণের কারণে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঋণ আদায়ের জন্য তা কালেকশন সংস্থার কাছে পাঠানো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার খেলাপি ঋণগ্রহীতার বেতন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকেও অর্থ কেটে নিতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শুধু র‌্যাংকিং নয়, শিক্ষার মোট খরচ ও ভবিষ্যতের ঋণের বোঝাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:১১
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ভর্তি! বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফায়েজের অনন্য যাত্রা
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ভর্তি! বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফায়েজের অনন্য যাত্রা

বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরুর জন্য। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা পান। সেপ্টেম্বর থেকে তার এমআইটির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল।    তবে ফায়েজের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া ফায়েজ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। চার বছর বয়সে বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে দাবা শেখার মাধ্যমে তার আগ্রহের শুরু। প্রথম শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্কেও যুক্ত হন।    ২০২১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফায়েজের শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় ক্যাম্প এবং জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। একই বছর আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জপদক পান। ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক অর্জনের তথ্য ফায়েজের নিজের প্রকাশিত প্রোফাইল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্যেও রয়েছে।    শুধু প্রতিযোগিতার সাফল্যেই থেমে থাকেননি ফায়েজ। ২০২৫ সালে তিনি OlyPara নামে একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩টি দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত রিসোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজলভ্য করা। সেখানে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কাস্টমাইজড পরীক্ষা এবং সাবেক অলিম্পিয়াড পদকজয়ীদের লেখা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।    গবেষণাতেও তার আগ্রহ ছিল। তিনি GSA Bioinformatics Internship-এ একমাত্র হাইস্কুল ইন্টার্ন হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের BSM International Conference-এ নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি নটর ডেম কলেজে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমই পরে তার এমআইটি অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।    এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন ফায়েজের অনেক দিনের হলেও ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক পাওয়ার পর তিনি এটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে নেন। এরপর কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেই SAT ও Duolingo English Test-এর প্রস্তুতি নেন। SAT-এ ১৫৫০ নম্বর এবং Duolingo English Test-এ ১৪০ নম্বর অর্জন করেন।    ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি এমআইটির অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করা শুরু করেন। নিজের অর্জনগুলো সাজানো, শিক্ষকদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশনের বিভিন্ন অংশ প্রস্তুত করতে সময় দেন। পরে এমআইটির ইন্টারভিউতেও অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউটি ছিল অনেকটা কথোপকথনের মতো, যেখানে তিনি নিজের গবেষণা, অলাভজনক উদ্যোগ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।    এমআইটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, কৌতূহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা হয়। এমআইটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফলাফলভিত্তিক শ্রেণিতে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ২৯ হাজার ২৮১টি আবেদন পড়েছিল এবং ১ হাজার ৩৩৪টি ভর্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।    এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফায়েজের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত সাধারণত শিক্ষার্থীদের হাইস্কুলের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আসে। এমআইটির বর্তমান ভর্তি তথ্যেও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিস্তৃত ও কঠিন একাডেমিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেয়।    ফায়েজের নিজের ভাষায়, তার যাত্রার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নিজের আগ্রহের জায়গাগুলোতে কাজ করা। দাবা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথ তাকে অলিম্পিয়াড, গবেষণা, বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের জন্য অলাভজনক উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত এমআইটির ক্লাসরুমে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের শরতে সেই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরবর্তী পথ তৈরি করছেন।   সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২:৫৯
আইইএলটিএসে ৯ এ ৯ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইসা শাম্মা
আইইএলটিএসে ৯ এ ৯ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইসা শাম্মা, জেনে নিন তার পরামর্শ

আইইএলটিএসে সর্বোচ্চ ৯ ব্যান্ড অর্জন করেছেন রাইসা শাম্মা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামে পড়ছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইইএলটিএস পরীক্ষার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে ছোটবেলা থেকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বই পড়া, ইংরেজি কনটেন্ট দেখা এবং ভাষা শেখার অভ্যাসই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর পেতে সবচেয়ে বেশি কাজে এসেছে।   আইইএলটিএসের চারটি অংশ হলো লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। রাইসার মতে, পরীক্ষার কৌশল জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কেবল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দিয়ে ভাষায় শক্ত ভিত্তি তৈরি করা কঠিন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায়, দীর্ঘদিনের চর্চার ফলে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার দক্ষতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়েছে।   লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি অনুষ্ঠান, খবর, সিনেমা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট শোনার অভ্যাস ছিল রাইসার। শুরুতে সবকিছু বুঝতে না পারলেও নিয়মিত শোনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্যের ধরন বুঝতে শেখেন। বিভিন্ন দেশের মানুষের উচ্চারণ বুঝতে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও প্রথমে সাবটাইটেল ব্যবহার করে এবং পরে সাবটাইটেল ছাড়া কনটেন্ট দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি।   রাইসার পরামর্শ, যারা ইংরেজি শেখা শুরু করছেন তারা সহজ কনটেন্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। অ্যানিমেটেড সিনেমা, সহজ গল্প, পডকাস্ট বা সংবাদ শোনা যেতে পারে। শুরুতেই প্রতিটি শব্দ বুঝতে না পারলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত শোনার অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে ভাষার সঙ্গে কান পরিচিত হয়ে ওঠে।   তবে আইইএলটিএসের লিসেনিং অংশে শুধু ইংরেজি বুঝতে পারলেই হবে না, পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নির্দিষ্ট তথ্য শোনার ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতায় ভুল হতে পারে। তাই মক টেস্ট দিয়ে প্রশ্নের ধরন ও সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   রিডিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় সহায় ছিল দীর্ঘদিনের বই পড়ার অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার বই পড়েছেন তিনি। সহজ বই দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন বই পড়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ভোকাবুলারি বাড়ানোর জন্য শুধু শব্দের অর্থ মুখস্থ করার চেয়ে বাস্তব বাক্যে শব্দটির ব্যবহার বোঝা বেশি কার্যকর।   একটি শব্দ কোনো বাক্য বা গল্পের মধ্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি বুঝে পড়লে শব্দটি মনে রাখা সহজ হয়। তাই আইইএলটিএসের আগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শব্দ মুখস্থ করার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাইসা।   রিডিং পরীক্ষায় তাঁর কৌশল ছিল প্রথমে পুরো লেখাটির মূল বিষয় বোঝার চেষ্টা করা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, নাম, সংখ্যা ও নির্দিষ্ট তথ্যের দিকে নজর দেওয়া। একই লেখা বারবার পুরোপুরি পড়ার পরিবর্তে প্রথমে সামগ্রিক ধারণা তৈরি করে পরে প্রশ্ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করলে সময় বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।   রাইটিং অংশকে অনেক পরীক্ষার্থী কঠিন মনে করেন। রাইসার মতে, এখানে শুধু ইংরেজি জানা যথেষ্ট নয়, নিজের চিন্তাকে পরিষ্কার ও যুক্তিসংগতভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করার দক্ষতাও প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকে কোনো কিছু পড়ে তার সারাংশ লেখা, নতুন শব্দ লিখে রাখা এবং নিজের চিন্তা লিখে রাখার অভ্যাস তাঁর রাইটিং দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করেছে।   রাইটিং ভালো করার জন্য গ্রামারের ভিত্তি পরিষ্কার থাকা জরুরি বলে মনে করেন রাইসা। বিশেষ করে বাক্যের গঠন, টেন্স এবং কর্তা ও ক্রিয়ার সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কঠিন শব্দ ব্যবহার করলেই ভালো লেখা হয় না। বরং সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় যুক্তিগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   আইইএলটিএস রাইটিংয়ে জটিল বাক্য গঠনের দক্ষতাও প্রয়োজন। একই ভাবকে কয়েকটি ছোট বাক্যে আলাদা করে না লিখে প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে সেগুলোকে সুন্দরভাবে একসঙ্গে প্রকাশ করা যায়, সেটি অনুশীলন করা দরকার। আবার কোনো গ্রাফ বা চার্ট দেওয়া হলে শুধু সংখ্যাগুলো উল্লেখ না করে তথ্যের পরিবর্তন ও প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করে তুলে ধরতে হয়।   স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো ভয় কাটিয়ে নিয়মিত কথা বলা। অনেকেই ইংরেজি বুঝতে ও লিখতে পারলেও কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা কাটাতে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। আশপাশের ভালো ইংরেজি বক্তাদের কথা শুনে তাদের বাক্য গঠন ও উচ্চারণও লক্ষ্য করতেন।   বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা এবং নিজের চিন্তা ইংরেজিতে প্রকাশ করার অভ্যাস স্পিকিং দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন রাইসা। তাঁর মতে, আইইএলটিএস স্পিকিংয়ে মুখস্থ উত্তর দিয়ে ভালো করা কঠিন। কারণ পরীক্ষায় প্রার্থীকে নিজের অভিজ্ঞতা, পছন্দ, মতামত ও চিন্তা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে হয়।   কোথায় থাকেন, কী ধরনের বই পড়েন, কী পছন্দ করেন বা কী ধরনের কনটেন্ট দেখেন, এমন সাধারণ বিষয় পরীক্ষায় আসতে পারে। এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে নিজের জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলার অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   রাইসা শাম্মার মতে, একজন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য শুধু ইংরেজি শেখাই যথেষ্ট নয়। ভালো শ্রোতা হওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনা রাখা এবং নিজের চিন্তা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাসও জরুরি। তাঁর আইইএলটিএস প্রস্তুতির অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, কোনো দক্ষতাই রাতারাতি তৈরি হয় না। ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়মিত চর্চা এবং শেখার আগ্রহ দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল এনে দিতে পারে।   রাইসা শাম্মা বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। আইইএলটিএসে তাঁর ৯ ব্যান্ড অর্জনের অভিজ্ঞতা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি শেখার দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের গুরুত্বও তুলে ধরে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৪:১৫
ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু, সোহাগের উদ্ভাস এখন প্রকৌশল ভর্তি প্রস্তুতির বড় নাম
ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু, সোহাগের উদ্ভাস এখন প্রকৌশল ভর্তি প্রস্তুতির বড় নাম

বাংলাদেশের প্রকৌশল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির সঙ্গে পরিচিত অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে উদ্ভাস এখন একটি পরিচিত নাম। তবে এই বড় শিক্ষা উদ্যোগের শুরুটা ছিল অত্যন্ত ছোট পরিসরে। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বুয়েটে পড়ার সময় মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও তাঁর বন্ধু হামিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে মাত্র ৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি ছোট কক্ষে উদ্ভাসের যাত্রা শুরু করেন। মাসিক ৮০০ টাকা ভাড়ার ওই কক্ষে ছিল তিনটি বেঞ্চ। শুরুতে পর্যাপ্ত অর্থ, অবকাঠামো বা বড় কোনো প্রচারব্যবস্থা—কিছুই ছিল না। উদ্ভাসের পেছনের গল্পটি মূলত সোহাগের নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তাঁর বেড়ে ওঠা। এসএসসি পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করার বদলে তার কারণ ও মূল ধারণা বোঝার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। এ কারণে নিয়মিত প্রশ্ন করতেন। সরিষাবাড়ীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু জ্যোতিষ চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষক প্রয়াত চন্দ্র নাথ তাঁর এই কৌতূহলকে উৎসাহ দিতেন। এমনকি তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষকেরা আলাদা সময় দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন। ঢাকায় কলেজজীবনে এসে অভিজ্ঞতাটি বদলে যায়। সোহাগের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্ন করার বিষয়ে তিনি সবসময় প্রত্যাশিত উৎসাহ পাননি। কখনো প্রশ্ন করার কারণে উপেক্ষা বা তিরস্কারের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এর প্রভাব তাঁর পড়াশোনায় পড়লেও সেই অভিজ্ঞতাই পরে একটি নতুন চিন্তার জন্ম দেয়। তিনি এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ভাবতে শুরু করেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারবে এবং কোনো বিষয় না বুঝলে আবার জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাবে। পরে ঢাকা কলেজে পড়াশোনায় ঘুরে দাঁড়িয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন সোহাগ। এরপর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪১তম হন। ২০০০ সালের নভেম্বরের মধ্যে তাঁর বুয়েটে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। সে সময় বুয়েটে দীর্ঘ সেশনজট চলছিল। হাতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় থাকায় বন্ধু হামিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় উদ্ভাসের পথচলা। শুরুর দিকে মোহাম্মদপুরের ছোট কক্ষটিই ছিল পুরো প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র। তিনটি বেঞ্চ বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হতো। কিছু লিফলেট ছাপিয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে বিতরণ করা হয়। পরে প্রচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাণীও লেখা হতো। শুরুতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য ছিল প্রচলিত কোচিং ব্যবস্থার মতো শুধু নোট, সাজেশন বা পরীক্ষার শর্টকাট দেওয়া নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বিষয় বুঝিয়ে শেখানো। এই অবস্থানটি শুরুতে ব্যবসায়িক দিক থেকে সহজ ছিল না। অভিভাবকেরা এসে যখন জানতে চাইতেন, হ্যান্ডনোট বা সাজেশন দেওয়া হবে কি না, তখন উদ্ভাসের পক্ষ থেকে উত্তর ছিল ‘না’। ফলে অনেক সম্ভাব্য শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিত। তবে একই উত্তর আবার এমন কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছেও উদ্ভাসকে আলাদা করে তুলেছিল, যারা মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির বাইরে যেতে চেয়েছিলেন। প্রথম কয়েক বছর উদ্ভাসকে টিকে থাকতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি, পরে ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা চলে। সীমিত অর্থের কারণে ভাড়া, শিক্ষক, কর্মী ও দৈনন্দিন পরিচালনার খরচ সামলানো কঠিন ছিল। উদ্যোক্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, এমন সময়ও গেছে যখন কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবু শিক্ষকতা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রতিষ্ঠানটিকে চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি ছিল। উদ্ভাসের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে সময়ও লেগেছে দীর্ঘদিন। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় আট বছর পর্যন্ত এটি ব্রেক-ইভেনে পৌঁছাতে পারেনি। সেই সময় উদ্যোক্তা ও দলের সদস্যরা অনেক মাস পূর্ণ পারিশ্রমিকও পাননি। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন এই সময়ের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি দায়বদ্ধতা বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে সোহাগ জানিয়েছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভাসের শিক্ষক দলও বড় হতে থাকে। শিক্ষক নিয়োগে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, ধারণাগত সক্ষমতা ও মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সোহাগ। নতুন শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু পাঠদাতা নন; তাঁদের আচরণ ও মানসিকতাও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে। পরে উদ্ভাসের কার্যক্রম স্কুল ও কলেজের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিতেও বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে প্রকৌশল ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে উদ্ভাসের ৪২টি শাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়েছে। শুধু প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতির মধ্যেই উদ্ভাসকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি উদ্যোক্তারা। নিয়মিত পরীক্ষা, অনুশীলন এবং বিষয় বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত বইভিত্তিক পরীক্ষার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়। বিতর্কসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রকাশনার উদ্যোগও ছিল এর অংশ। উদ্ভাসের বিস্তারের পাশাপাশি সোহাগের উদ্যোক্তা জীবনও শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। বুয়েটে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এসব উদ্যোগ থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তবে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতির অন্যতম প্রধান জায়গা হয়ে থাকে শিক্ষা খাত। উদ্ভাসের পর শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় উন্মেষসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ। অন্যরকম গ্রুপের অধীনে এসব শিক্ষা কার্যক্রমকে সোহাগ প্রচলিত কোচিংয়ের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল বা ছায়া শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর শিক্ষাদর্শের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—শিক্ষার্থী যা শিখবে, তা যেন বুঝে শেখে। দুই দশকের বেশি সময়ের যাত্রায় উদ্ভাসের পরিসর সেই শুরুর ছোট কক্ষের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু এর শুরুর গল্পটি এখনও বাংলাদেশের শিক্ষা উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। মাত্র ৬ হাজার টাকার বিনিয়োগ, ৮০০ টাকা মাসিক ভাড়ার একটি কক্ষ, তিনটি বেঞ্চ এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, সেটিই সময়ের সঙ্গে দেশের ভর্তি প্রস্তুতির পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাহমুদুল হাসান সোহাগের নিজের শিক্ষাজীবনের একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা থেকেই যে ভাবনার জন্ম হয়েছিল, তার মূল কথা ছিল—শিক্ষার্থী যেন প্রশ্ন করতে ভয় না পায়। সেই ধারণাই ধীরে ধীরে উদ্ভাসের শিক্ষা-দর্শনের অংশ হয়ে ওঠে। তাই উদ্ভাসের গল্প শুধু একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের বড় হয়ে ওঠার গল্প নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর কৌতূহল থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা উদ্যোগ তৈরির গল্পও। সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৮:৫০
এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা সান দিয়েগোর শিক্ষার্থীদের
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা

সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সান দিয়েগো শাখা সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসডিএসইউ) ক্রিমিনাল জাস্টিস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনে শুধু মতবিনিময় নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত ও ফেডারেল সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়েগোর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। ব্যুরোতে কী ধরনের কাজ করা হয়, বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এফবিআইয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যুরোর বিভিন্ন পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে এফবিআই বা একই ধরনের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের এভিডেন্স রেসপন্স টিমের কাজ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। অপরাধস্থলে কীভাবে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং একটি অপরাধ তদন্তে এসব প্রমাণ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যুরোর কাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়োর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গঠন, ব্যুরোর কাজের ধরন এবং অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করেন। এফবিআই সান দিয়ো এক পোস্টে জানায়, তরুণ ও আগ্রহী ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল প্রশ্ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কাজ, পেশাগত পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি সুযোগ পেয়েছেন নুদরাত ফারিহা ঐশী। ছবি: সংগৃহীত
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার নুদরাত ফারিহা ঐশী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পাঁচ বছর মেয়াদি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি কুতুবদিয়ার তরুণদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।    নুদরাত ফারিহা ঐশীর শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ রয়েছে।    স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফারিহা। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজপোর্ট থেকে বিজনেস অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যানালিটিক্স স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি থিসিস বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে।    এরপর শুরু হয় পিএইচডিতে ভর্তির প্রস্তুতি। গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরইতেও ভালো ফল করেন তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়া শেষে এবার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন।    ইউম্যাস অ্যামহার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের পিএইচডি কর্মসূচিতে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব, ভোক্তার আচরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।    কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরংয়ের সন্তান ফারিহা ঐশী স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের নাতনী। তার বাবা জাফর একজন ব্যাংকার এবং মা লাভলী গৃহিণী। পরিবারের সদস্যরা তার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।    ফারিহার এই সাফল্যের গল্পের আরেকটি দিক হলো, তার একাডেমিক পথটি একাধিক বিষয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে স্নাতকোত্তর এবং এখন হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করছেন তিনি। ফলে ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যটন গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   পিএইচডি শেষে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশ, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে চান ফারিহা ঐশী। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন অধ্যায় সফলভাবে শেষ করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।    কুতুবদিয়ার মতো একটি দ্বীপ উপজেলা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফারিহা ঐশীর যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তার সামনে এখন দীর্ঘ গবেষণার পথ। এই পথ সফলভাবে পেরিয়ে তিনি কী ধরনের গবেষণা ও অবদান রাখেন, সেটিই হবে তার পরবর্তী অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৯:৫৭
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বৈধ পাসপোর্টধারীদের আলাদা ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নিয়মে এসব দেশের নাগরিকরা ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে ছাড়ের আওতায় রয়েছেন।   ছাড় পাওয়া পাঁচ দেশ হলো - যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।   তবে এই সুবিধা শুধু নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীও ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর জমা দেওয়া থেকে ছাড় পেতে পারেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ফরেন অ্যাফেয়ার্স বা ডিফেন্স স্পনসরড শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।   এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা বা আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময় ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় থাকার সময় গত দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট মাধ্যমিক বা উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন করলেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।   বাংলাদেশ এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার কারণে এই নির্দিষ্ট ছাড় পাবেন না। তবে তারা অন্য কোনো ছাড়ের শর্ত পূরণ করলে ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।   অন্যদিকে ছাড়ের আওতায় না থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে নির্দিষ্ট অনুমোদিত পরীক্ষার ফল গ্রহণ করে। এর মধ্যে আইইএলটিএস, পিটিই, টোফেল, কেমব্রিজ, সেলপিপ, ওইটি, এমইটি এবং ল্যাঙ্গুয়েজসার্ট রয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে এসব পরীক্ষার নিয়ম ও গ্রহণযোগ্য স্কোরে পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এটি শুধু স্টুডেন্ট ভিসার বিষয় নয় - অস্ট্রেলিয়ার কিছু অন্যান্য ভিসাতেও পাঁচ দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেমন কম্পিটেন্ট ইংলিশ ও ফাংশনাল ইংলিশ-এর সরকারি সংজ্ঞাতেও একই পাঁচ দেশের নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:৪৫
বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। আবেদন করা যাবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত।    ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিস্টার অবস্থান করে একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন। একই সময়ে তারা একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।    প্রোগ্রামটির আওতায় শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই নয়, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণ নেতৃত্বের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা।    এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিদেশে পড়াশোনার কর্মসূচি নয়, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির একটি বিনিময় কর্মসূচিও।   শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে মেধার ভিত্তিতে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ইয়েস প্রোগ্রাম ২০০৪ সালে চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।    আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদন করতে হবে।    স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন শিক্ষা পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন।  সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৩৪
১৯৬৪ সালে ইপুয়েটে (বর্তমান বুয়েট) প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজির হন তিন তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা

১৯৬৪ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইপুয়েট), বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছিল মূলত পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য। সেই সময় প্রকৌশল পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দরজায় হাজির হন তিন তরুণী - খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানা। তাঁদের দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত ইপুয়েটে প্রকৌশলের বিভিন্ন বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশের পথ খুলে দেয়।   ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা এবং হলিক্রস কলেজের শিক্ষার্থী মনোয়ারা বেগম ইপুয়েটে প্রকৌশল পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্থাপত্য বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা পড়লেও প্রকৌশলের অন্য বিভাগগুলোতে তাঁদের ভর্তি নেওয়া হতো না। বিশেষ করে পুরকৌশলকে নারীদের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হতো।   এর অন্যতম কারণ ছিল পুরকৌশলের ব্যবহারিক কাজ। শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হতো এবং সাভারে এক মাসের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পেও অংশ নিতে হতো। তৎকালীন রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় মেয়েদের এমন পরিবেশে পাঠানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল।   কিন্তু তিন তরুণী সেই আপত্তি মেনে নেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মেয়েদের প্রকৌশল পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। শেষ পর্যন্ত ইপুয়েট কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়। তিনজনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ইপুয়েটে ভর্তি হন।   তবে পুরকৌশল পড়ার পথ তখনো পুরোপুরি খোলেনি। প্রথম বর্ষের পর বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খালেদা ও শিরীন পুরকৌশল নিতে চাইলে আবার আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের সম্মতি নিয়ে সাভারের আবাসিক সার্ভে ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তাঁদের পুরকৌশলে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মনোয়ারা বেগম কেমিকৌশল বেছে নেন।    তিন নারীকে ঘিরে তখন ইপুয়েট ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল। তাঁদের দেখতে মানুষ ভিড় করত। বহু বছর পর স্মৃতিচারণ করে খালেদা শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে তখন পুরো শহরেই আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, ইপুয়েটে ভর্তি হতে তাঁদের কোনো মামলা করতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মামলা করে ভর্তি হওয়ার দাবি ছড়ালেও তা সঠিক নয়।    ১৯৬৮ সালে খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ওই বছর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ১১৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন এই দুই নারী। সমকালীন সংবাদপত্র মর্নিং নিউজ তাঁদের সাফল্যকে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য নতুন পেশার পথ উন্মোচন হিসেবে তুলে ধরেছিল।    মনোয়ারা বেগম পরে ১৯৭০ সালে কেমিকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এভাবেই তিনজন হয়ে ওঠেন ইপুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের দল।    খালেদা শাহরিয়ার কবিরের পথচলা এরপরও দীর্ঘ হয়েছে। ১৯৬৯ সালে একটি প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৭০ সালে যোগ দেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে, যা পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে রূপ নেয়। সেখানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন এবং ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।    দেশের গুরুত্বপূর্ণ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খালেদা শাহরিয়ার। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নসহ একাধিক পানি উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান।    আজ বুয়েটে নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন প্রকৌশল শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণই ছিল ব্যতিক্রম। খালেদা শাহরিয়ার কবির, মনোয়ারা বেগম ও শিরীন সুলতানার সেই পথচলা শুধু তাঁদের নিজেদের শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল না, পরবর্তী প্রজন্মের নারী প্রকৌশলীদের জন্যও তৈরি করেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।   সূএ: প্রথম আলো

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:১৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০