শিক্ষা

এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন

এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান, কিন্তু এখনো আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর নেই? সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা কোর্স এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। তবে এর অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট ইংরেজি কোর্স, নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে পরে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পাঁচটি সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।   কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেই শর্ত পূরণের পথ নিতে পারেন।   বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কার্যক্রমে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ এবং আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্ধারিত উচ্চতর ইংরেজি স্তর সফলভাবে শেষ করার পর শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পূর্ণাঙ্গ ভর্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়।   অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাস শুরু করার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগোনোর সুযোগ রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা   ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে আবেদন করতে পারেন।   এখানে শিক্ষার্থীর ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা নির্ধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের অষ্টম স্তর সফলভাবে শেষ করার পর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো স্কোরের প্রয়োজন থাকে না।   ফলে এইচএসসি বা সমমানের স্কুল শিক্ষা শেষ করা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রস্তুত না থাকলেও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস টেক্সাসের ডেন্টনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ইংরেজি প্রস্তুতির সুযোগ দেয়।   এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় শ্রবণ, পড়া, ব্যাকরণ ও লিখিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত স্তরে রাখা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ স্তর সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ইংরেজি কোর্সের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্সেও পড়তে পারেন।   অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন ও নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।   টেম্পল ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা এবং শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য কোনো শিক্ষার্থী যদি টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোর জমা না দেন, তাহলে তাকে অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির মাধ্যমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি হয়।   টেম্পলের আমেরিকান ভাষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের বিশেষ ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমও এমন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ, যাদের ইংরেজির স্কোর সরাসরি ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ইংরেজি ক্লাস, একাডেমিক সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারেন।   তবে টেম্পল ইউনিভার্সিটির সরাসরি স্নাতক ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার স্কোর রয়েছে। তাই “আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি” বলতে এখানে সরাসরি ডিগ্রি ক্লাসে ঢুকে যাওয়া নয়; বরং অস্থায়ী বা শর্তসাপেক্ষ ভর্তি এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগকে বোঝায়।   ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, আলাবামা আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ভর্তির ব্যবস্থা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী একাডেমিক ভর্তির শর্ত পূরণ করেন কিন্তু ইংরেজি ভাষা দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, তারা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।   এই ব্যবস্থায় আবেদনের সময় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের পর তারা ডিগ্রি প্রোগ্রামে যেতে পারেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউটের ছয়টি স্তর রয়েছে। শিক্ষার্থীর শুরুতে থাকা ইংরেজি দক্ষতা এবং শেখার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রোগ্রাম শেষ করতে কত সময় লাগবে তা নির্ধারিত হয়। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ স্তর সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করাও ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণের একটি স্বীকৃত পথ।   তবে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পেতে শুধু ইংরেজি ভাষার শর্ত পূরণ করলেই হবে না। একাডেমিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।   আইইএলটিএস বা টোফেল একেবারেই লাগবে না? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে হবে। “আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই” কথাটির অর্থ ইংরেজি দক্ষতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব ভাষা যাচাই পরীক্ষা, দক্ষতা পরীক্ষা বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবহার করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষ ভর্তি নিয়ে প্রথমে নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হয়।   অর্থাৎ আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও বিকল্প পথে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার সুযোগ থাকতে পারে।   এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভর্তি বা ভাষার স্তর নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয় বলে আইইএলটিএস বা টোফেল সব পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   এফ-১ ভিসা ও আই-২০-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত নয়। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস প্রক্রিয়া, ভিসা আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে।   কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। তবে আই-২০ পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তাই আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও ইংরেজিতে নিজের পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   খরচ ও একাডেমিক যোগ্যতাও দেখতে হবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকার কারণে শুধু ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে একাডেমিক যোগ্যতা, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, আর্থিক সক্ষমতা, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে।   এ ছাড়া নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আলাদা শিক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। শর্তসাপেক্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার আগে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ইংরেজি শেখার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অষ্টম স্তর, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ষষ্ঠ স্তর, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট এবং কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির নিবিড় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শর্ত এক নয়। টেম্পল ইউনিভার্সিটিতেও অস্থায়ী ভর্তি ও ইংরেজি প্রস্তুতি কার্যক্রমের আলাদা নিয়ম রয়েছে।   তাই এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম ও শর্তসাপেক্ষ ভর্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে। তবে এগুলোকে আইইএলটিএস বা টোফেলের “বিকল্প পরীক্ষা” হিসেবে নয়, বরং ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিকল্প ভর্তি-পথ হিসেবে দেখা উচিত।   আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ভর্তি নীতি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার ফি, আর্থিক যোগ্যতা এবং এফ-১ ভিসাসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ভর্তি ও ইংরেজি ভাষার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ০:১৮
সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি

সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ অর্থবোধক একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের পাঠ্য ক্রম পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। জেরুজালেম, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে সৌদি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে।   মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করে ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটি সৌদি পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জেরুজালেম সম্পর্কিত ওই বাক্যটি। এর আগে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের আরবি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের লেখার অনুশীলনে ছিল, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না।’ ইমপ্যাক্ট-এসইর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনাতেও বাক্যটির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।   সংস্থাটির ব্যাখ্যায়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি বা নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠী, বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও এটি উপস্থাপন করতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি।   ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ সালের পাঠ্যক্রমে শান্তি, সহাবস্থান ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর জোর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী এবং অন্যান্য সম্প্রদায় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়েও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে।   এই পরিবর্তন অবশ্য হঠাৎ শুরু হয়নি। গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল, ইহুদি, খ্রিস্টান, জিহাদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী সম্পর্কিত বক্তব্যে ধারাবাহিক পরিবর্তনের তথ্য দিয়ে আসছে ইমপ্যাক্ট-এসই।   সংস্থাটির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পর্যালোচনায় ৩৭১টি সৌদি পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আগের কিছু বইয়ে জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদী’ ইউরোপীয় আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের লক্ষ্য থাকার মতো যেসব বক্তব্য ছিল, সেগুলোর কিছু পরবর্তী সংস্করণে আর রাখা হয়নি।সহিংস জিহাদ ও শাহাদাতকে উৎসাহিত করে বলে সংস্থাটি যেসব উদাহরণ চিহ্নিত করেছিল, সেগুলোরও অনেকগুলো বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সৌদি পাঠ্যক্রম থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের উল্লেখ পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের পর্যালোচনায় ইমপ্যাক্ট-এসই নিজেই জানিয়েছিল, সৌদি পাঠ্যক্রমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর গুরুত্ব এখনও রয়েছে। কিছু পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েলকে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ বা ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখও বহাল ছিল।   সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। একই সঙ্গে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। ফলে পাঠ্যবইয়ের এসব পরিবর্তনকে সরাসরি সৌদি আরবের ইসরায়েল নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না’ বাক্যটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বাক্যটির পরিবর্তন নিয়ে যে মূল্যায়ন সামনে এসেছে, সেটি মূলত ইমপ্যাক্ট-এসইর নিজস্ব পাঠ্যক্রম বিশ্লেষণ।   ফলে সৌদি পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনটি নিশ্চিত হলেও এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট, ধর্মীয় শিক্ষা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং অন্য ধর্ম ও জনগোষ্ঠীকে নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চালিয়ে যাচ্ছে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৭:৪৫
ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক ভবন। ছবি:সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডিং নিয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ওয়েভার, নিয়মিত স্টাইপেন্ড এবং শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স পেতে পারেন। তবে সব বিভাগে একই ধরনের ফান্ডিং নিশ্চিত নয় এবং পরিবারকে সঙ্গে নিলে তাদের সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এমন দাবিও সঠিক নয়।   ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ৫০ শতাংশ এফটিই গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বছরে ২৩ হাজার ৯৩৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিভাগ ও ফান্ডিং প্যাকেজ অনুযায়ী প্রকৃত স্টাইপেন্ডের পরিমাণ এর চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।   ফুল ফান্ডিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি হলো টিউশন ওয়েভার। যোগ্য গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টরা ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত টিউশন মওকুফের সুবিধা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি, আবাসন, খাবার, বই, যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত খরচ সব ক্ষেত্রে এই ফান্ডিংয়ের আওতায় পড়ে না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ফান্ডিংয়ের ধরনও আলাদা। যেমন, ফিলোসফি বিভাগের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে সাধারণত গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। সেখানে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক স্টাইপেন্ড ২১ হাজার ২১৮ ডলার। অন্যদিকে পলিটিক্যাল সায়েন্সসহ কিছু প্রোগ্রামে আলাদা ফান্ডিং প্যাকেজ এবং বহু বছরের আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে।   ইকোনমিকস বিভাগে নিয়মিত ফাইন্যান্সিয়াল এইড প্যাকেজ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেতে পারেন। এতে স্টাইপেন্ড, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ ৯০ ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত টিউশন ওয়েভারের ব্যবস্থা রয়েছে।সমাজবিজ্ঞান বিভাগও অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফান্ডিং দেওয়ার লক্ষ্য রাখে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ফাইন্যান্সিয়াল এইডের যোগ্য না হলেও সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেতে পারেন। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও যোগ্যতা ও বিভাগের শর্ত পূরণ করলে এসব ফান্ডেড পিএইচডি পজিশনের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।   পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তার স্ত্রী বা স্বামী এবং যোগ্য সন্তানদের ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে সঙ্গে নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদন ও ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টেশনের অংশ হিসেবে পাসপোর্ট, বিয়ের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিজের ও ডিপেন্ডেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে।   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টের নিজের স্টুডেন্ট হেলথ প্ল্যানের প্রিমিয়াম বহন করে। স্ত্রী, স্বামী বা সন্তানকে একই হেলথ প্ল্যানে যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম শিক্ষার্থীকেই দিতে হয়। অর্থাৎ ‘আবেদনকারীসহ পুরো পরিবারের জন্য ফুল ফান্ডিং’ বললে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে।   আবেদনের নিয়মও বিভাগভেদে আলাদা। সাধারণভাবে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি সার্টিফিকেট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাওয়া অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। বিভাগ অনুযায়ী স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, রাইটিং স্যাম্পল কিংবা জিআরই স্কোরও প্রয়োজন হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডিং পাবেন না। কোন বিভাগে কত বছরের ফান্ডিং, কত স্টাইপেন্ড, টিউশনের কত অংশ মওকুফ এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের শর্ত কী, তা প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের পছন্দের পিএইচডি প্রোগ্রামের বর্তমান ফান্ডিং প্যাকেজ, ডেডলাইন এবং অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৭:১৩
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি সংগৃহীত।
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বৈধভাবে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতে নিয়েছে উচ্চশিক্ষা, শ্রমিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর একটি জোট।   আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম আটকে দিতে মঙ্গলবার ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতে মামলা এবং প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে।   মামলাটি করেছে মোট আটটি সংগঠন। এগুলো হলো - নাফসা: অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস, প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ ইন ম্যাসাচুসেটস, আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স, গ্র্যাজুয়েট লেবার অর্গানাইজেশন এএফটি লোকাল ৬৫১৬, ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স, ইউএডব্লিউ লোকাল ২৩২২ এবং সাংবাদিকদের সংগঠন দ্য নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএ।   ⁠মামলাটি হচ্ছে ‘প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বনাম ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’। ১৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ৮১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই সেটি সাময়িকভাবে আটকে দিতে আদালতের কাছে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে বাদীপক্ষ।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা নিয়ে। বর্তমানে অধিকাংশ এফ-১ শিক্ষার্থী ও জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থায় থাকেন। অর্থাৎ নির্ধারিত শিক্ষাগত বা বিনিময় কর্মসূচির শর্ত ঠিকভাবে মেনে চললে তাদের আই-৯৪ রেকর্ডে আলাদা নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না রেখেই বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ থাকে।   ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে এই দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে। এফ-১ শিক্ষার্থী ও জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের তাদের কর্মসূচির মেয়াদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে একবারে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ চার বছরের কম সময়ের প্রোগ্রাম হলে সেই প্রোগ্রামের নির্ধারিত সময়ই প্রযোজ্য হতে পারে, আর চার বছরের বেশি হলে প্রাথমিক অনুমোদন চার বছরের বেশি হবে না।   কোনো শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বা গবেষণা শেষ করতে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হলে তাকে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। মামলার নথি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত আবেদন, ফি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্য বা সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে। বাদীপক্ষের আশঙ্কা, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডি ও গবেষণা কর্মসূচিতে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীরা এতে বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।   মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পিএইচডি প্রোগ্রাম শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় লাগে - কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে সাত বছরও প্রয়োজন হয়। চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রিও অনেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় নিতে পারে। ফলে বাদীপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থী বৈধভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও নতুন ব্যবস্থায় তাকে আলাদাভাবে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হবে।   এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ - নতুন নিয়মটি শুধু পাসপোর্টে থাকা ‘ভিসা স্ট্যাম্পের মেয়াদ’ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার বিষয় নয়। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন এফ, জে বা আই স্ট্যাটাসধারী কতদিন বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি পাবেন - সেই ‘পিরিয়ড অব অ্যাডমিশন’ বা অনুমোদিত অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে। ফলে ভিসার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অবস্থানের সময়কে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আই স্ট্যাটাসে সাধারণভাবে একটি অ্যাসাইনমেন্টের মেয়াদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৪০ দিনের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে তাদেরও মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।চীনা পাসপোর্টধারী নির্দিষ্ট সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন রাখা হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু সময়সীমাই পরিবর্তন হচ্ছে না। নতুন নিয়মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, শিক্ষার লক্ষ্য পরিবর্তন এবং পরবর্তী শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ রয়েছে। বাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক সিদ্ধান্তের ওপর অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ বাড়বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক চাপও বৃদ্ধি পাবে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত বছরের আগস্টে প্রথম এই পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়। প্রায় ২২ হাজার জনমত পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৭ জুলাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অনুমোদন চালুর পক্ষে প্রশাসনের যুক্তি হলো - এর মাধ্যমে বিদেশিদের অবস্থান ও অভিবাসন আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ বাড়বে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মামলার বিরোধিতা করে জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা ভিসা জালিয়াতি ঠেকানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় তদারকি জোরদারের জন্য প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের দাবি, সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে এই নিয়ম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিকদের ওপর নতুন প্রশাসনিক বোঝা তৈরি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।   সাংবাদিকদের সংগঠন দ্য নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএও বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। সংগঠনটি বলছে, বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সক্ষমতা যদি বারবার সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই কারণেই উচ্চশিক্ষা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সংগঠনটিও মামলার বাদী হয়েছে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এই মামলার ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়ম কোনো একটি দেশের জন্য নয় - এফ-১ স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর সাধারণভাবে প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং ইতোমধ্যে সেখানে থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাও নিয়মটির আওতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডি, গবেষণা বা একাধিক পর্যায়ের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে পরিবর্তনটির প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে এখনই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বর্তমান বৈধ অবস্থান বাতিল হচ্ছে না। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর। তার আগেই মামলাকারীরা আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। ফলে আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিষেধাজ্ঞা এলে নতুন ব্যবস্থা অন্তত সাময়িকভাবে আটকে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে মামলাটি এখন শুধু একটি অভিবাসন বিধির আইনি লড়াই নয় - যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি জড়িয়ে গেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে নির্দিষ্ট সময়সীমা অভিবাসন ব্যবস্থায় নজরদারি শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আট সংগঠন বলছে এতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মেধা আকর্ষণের সক্ষমতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখন চূড়ান্ত নজর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতের দিকে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৬:৫৮
শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান
তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, সাড়ে তিন বছরেও স্কুলে ফেরেননি প্রধান শিক্ষক

মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাড়ে তিন বছরেও কর্মস্থলে ফেরেননি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট থেকে তিন দিনের ছুটি নেন জিল্লুর রহমান। পরদিন ২৩ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার পদটি এখনো শূন্য ঘোষণা করা হয়নি।   এর আগেও ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। সে সময় বিদ্যালয় থেকে দুই মাসের ছুটি নিলেও প্রায় পাঁচ মাস চার দিন পর দেশে ফেরেন বলে বিদ্যালয় সূত্রের দাবি। ওই সফরের ক্ষেত্রেও বিদেশ যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে ফেরার পর তিনি সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন বলেও বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।   প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়ে।   ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী জানিয়েছেন, জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি কবে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিষয়টি নতুন নয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।   বর্তমান রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। জিল্লুর রহমান সেই অনুমতি নেননি বলে তাদের কাছে থাকা তথ্যে জানা গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।   জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্রও জানিয়েছেন, চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া এভাবে বিদেশে অবস্থানের সুযোগ নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।   তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।   রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর আগের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক পদে শূন্যতা এবং প্রশাসনিক সংকটের কথাও উঠে এসেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৮:১৮
২৬ আগস্ট কানাডায় ২ হাজার ৯৭০ স্টাডি পারমিটের নতুন কোটা
২৬ আগস্ট কানাডায় ২ হাজার ৯৭০ স্টাডি পারমিটের নতুন কোটা, সুযোগ ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষীদের

কানাডায় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন ফ্রেঞ্চভাষী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে ২ হাজার ৯৭০টি স্টাডি পারমিট আবেদন গ্রহণের কোটা শুরু হচ্ছে আগামী ২৬ আগস্ট। কানাডার ফ্রাঙ্কোফোন মাইনরিটি কমিউনিটিজ স্টুডেন্ট পাইলট বা এফএমসিএসপির আওতায় এই কোটা কার্যকর থাকবে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসির সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা যাচাই করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।    আইআরসিসির ২৫ জুন স্বাক্ষরিত এবং ২১ জুলাই প্রকাশিত হালনাগাদ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০টি নতুন স্টাডি পারমিট আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সীমা পূরণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত আবেদন গ্রহণ না করে আবেদনকারীর কাছে ফেরত দেওয়া হবে। আগের ২০২৫-২৬ মেয়াদেও কোটা ছিল ২ হাজার ৯৭০।    সুযোগ ৩৩ দেশের নাগরিকদের এই বিশেষ কর্মসূচি বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা অঞ্চলের নির্ধারিত ৩৩টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন।   আফ্রিকার ২৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে বেনিন, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, কোমোরোস, আইভরি কোস্ট, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, গিনি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মরক্কো, নাইজার, রুয়ান্ডা, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সেশেলস, টোগো ও তিউনিসিয়া। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মিসর ও লেবানন এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে হাইতি, ডমিনিকা ও সেন্ট লুসিয়ার নাগরিকরা সুযোগটি পাবেন।    তবে শুধু এসব দেশের নাগরিক হলেই আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারীকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলা, শোনা, পড়া ও লেখার প্রতিটি দক্ষতায় কানাডিয়ান ভাষা মানদণ্ড এনসিএলসি-তে কমপক্ষে লেভেল ৫ অর্জন করতে হবে। অনুমোদিত ভাষা পরীক্ষার ফলও আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।    কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নয় নতুন আবেদন এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। নতুন আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির আওতায় স্টাডি পারমিটের আবেদন কানাডায় প্রবেশের আগেই করতে হবে। অর্থাৎ ইতোমধ্যে কানাডায় অবস্থানকারী কেউ সাধারণভাবে এই পাইলটের নতুন মূল আবেদনকারী হিসেবে ভেতর থেকে আবেদন করতে পারবেন না। তবে আগে থেকেই এফএমসিএসপির স্টাডি পারমিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডার ভেতর থেকে সেই পারমিট নবায়নের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।    ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আইআরসিসির বর্তমান তালিকায় কুইবেকের বাইরে ১৭টি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এফএমসিএসপিতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লেনডন ক্যাম্পাস, ইউনিভার্সিটি দ্য মঙ্কটন, কলেজ লা সিতে এবং কলেজ বোরিয়ালের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইআরসিসি।    আবেদনকারীর কাছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রহণপত্র থাকতে হবে এবং সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে শিক্ষার্থী এফএমসিএসপির অধীনে আবেদন করছেন।   শিক্ষা কার্যক্রমটি অবশ্যই পোস্ট-সেকেন্ডারি পর্যায়ের, পূর্ণকালীন এবং কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। কোর্স শেষ করলে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোর্সের ৫০ শতাংশের বেশি ক্লাস ফ্রেঞ্চ ভাষায় পরিচালিত হতে হবে।    সাধারণ স্টাডি পারমিটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা এফএমসিএসপির একটি বড় সুবিধা হলো, এই কর্মসূচির আবেদনকারীদের প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় কানাডায় সেটেলমেন্ট সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগও পান।    আর্থিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথম বছরের টিউশন ফি ও যাতায়াত খরচ বহনের সামর্থ্য দেখানোর পাশাপাশি যে শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত, সেই এলাকার জন্য নির্ধারিত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ শহরের জনসংখ্যা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।    উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পরের আবেদনের বর্তমান হিসাবে পাঁচ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার শহরে একক শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার জন্য বছরে ২২ হাজার ৮৯৫ কানাডিয়ান ডলার দেখাতে হয়। গ্রামীণ এলাকায় একই হিসাব ১৫ হাজার ৭৬১ কানাডিয়ান ডলার। এর বাইরে প্রথম বছরের টিউশন ও যাতায়াতের অর্থ থাকতে হবে।    স্টাডি পারমিট আবেদনের সরকারি ফি বর্তমানে ১৫০ কানাডিয়ান ডলার।  পরিবারও যেতে পারবে যোগ্য শিক্ষার্থী তার স্বামী বা স্ত্রী, কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিজিটর ভিসা, স্টাডি পারমিট কিংবা ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাদের আবেদনে মূল শিক্ষার্থী যে এফএমসিএসপির আওতায় আবেদন করছেন বা অনুমোদন পেয়েছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে।    পড়াশোনা শেষেই খুলতে পারে স্থায়ী বসবাসের পথ এই পাইলটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু স্টাডি পারমিট নয়। সফলভাবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় স্থায়ী বসবাসের বিশেষ পথও রাখা হয়েছে।   আইআরসিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এফএমসিএসপির স্থায়ী বসবাসের আবেদন ব্যবস্থা ২০২৭ সালের শীতকালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। এটিকে সরাসরি ‘পড়াশোনা করলেই পিআর নিশ্চিত’ বলা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির অধীনে স্টাডি পারমিট পেতে হবে, নির্ধারিত কমপক্ষে দুই বছরের কোর্স সফলভাবে শেষ করতে হবে, আবেদন করার সময় কুইবেকের বাইরে কানাডায় বসবাস করতে হবে এবং বৈধ অস্থায়ী স্ট্যাটাসসহ অন্যান্য গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।    তবে প্রচলিত অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মতো আলাদা কোনো চাকরির প্রস্তাব বা এক্সপ্রেস এন্ট্রির সিআরএস স্কোরকে এই বিশেষ নীতিতে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি। মূল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগ্য পরিবারের সদস্যদেরও স্থায়ী বসবাসের আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।    স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট সর্বোচ্চ তিন বছরের ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্যও ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো - বাংলাদেশ এই ৩৩ দেশের তালিকায় নেই।   ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ২৬ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এফএমসিএসপির ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটায় আবেদন করতে পারবেন না। ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষ হলেও নাগরিকত্বের শর্ত পূরণ না হলে এই বিশেষ পাইলটের সুবিধা পাওয়া যাবে না।    তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশিদের জন্য কানাডার স্টাডি পারমিট বন্ধ। এফএমসিএসপি সাধারণ স্টাডি পারমিট ব্যবস্থা থেকে আলাদা একটি বিশেষ পাইলট। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা পূরণ করলে কানাডার প্রচলিত স্টাডি পারমিট ব্যবস্থায় আবেদন করতে পারবেন।    সব মিলিয়ে ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটা মূলত নির্দিষ্ট ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় পড়াশোনা থেকে স্থায়ী বসবাস পর্যন্ত একটি বিশেষ পথ। তবে সীমিত কোটা, নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ফ্রেঞ্চ ভাষায় এনসিএলসি ৫, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং আর্থিক সক্ষমতাসহ প্রতিটি শর্ত পূরণ করেই আবেদন করতে হবে।   আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বার্তা - এই ২ হাজার ৯৭০টি সুযোগ বাংলাদেশের জন্য নয়; কানাডায় পড়তে চাইলে তাদের নিয়মিত স্টাডি পারমিটের পথেই আবেদন করতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৩:২
কাজের অনুমতির দাবিতে ক্যালগেরিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তিন সপ্তাহের প্রতিবাদ কর্মসূচি। ছবি:সংগৃহীত
কাজের অনুমতি দাবিতে ক্যালগেরিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ১২ জনকে নিয়ে নতুন অভিবাসন শঙ্কা

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরিতে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হয়েছে নতুন উদ্বেগের মধ্য দিয়ে। ১৪ আগস্ট আন্দোলনস্থলে কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণকারীদের অভিবাসন অবস্থা যাচাই করেন। প্রথমে চারজনের তথ্য পরীক্ষা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করা হয়।   তাদের মধ্যে ১২ জনকে কানাডায় থাকার ক্ষেত্রে ‘সম্ভাব্য অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের বেশির ভাগই ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা, পাশাপাশি হরিয়ানা থেকেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কানাডায় পড়াশোনার জন্য তারা পারিবারিক সঞ্চয়, ঋণ এমনকি জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশায় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তারা সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।   ক্যালগেরির আন্দোলনের সঙ্গে আলবার্টার সরকারি পোর্টেজ কলেজের মাধ্যমে পরিচালিত কিছু শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীরা যুক্ত ছিলেন। এসব শিক্ষাক্রম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা যখন এসব শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। পরে একই ধরনের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কারও আবেদন অনুমোদিত এবং কারও আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।   বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কানাডার পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির যোগ্যতা নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা। চলতি বছরের জুনে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দিষ্ট অ-সনদভিত্তিক শিক্ষাক্রম সাধারণভাবে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি নতুন নিয়ম নয়; বরং আগে থেকে থাকা যোগ্যতার শর্তকে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তারা ভর্তি হওয়ার সময় এই ব্যাখ্যা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেননি।   এই বিষয়টি নিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী আলবার্টার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ করেছেন। ক্যালগেরির আন্দোলনকারীরা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের দাবি স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের সুযোগ নয়; তারা পড়াশোনা শেষে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ চান। আন্দোলনের কয়েকজন শিক্ষার্থী এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগও নিয়েছেন।   ১৪ আগস্ট আন্দোলনের শেষ দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিবাসন নথি পরীক্ষা করেন। প্রথমে চারজনকে যাচাই করার জন্য কর্মকর্তাদের ডাকা হলেও পরে আরও শিক্ষার্থীর তথ্য পরীক্ষা করা হয়। মোট ২০ জনের তথ্য যাচাইয়ের পর ১২ জনকে সম্ভাব্যভাবে অভিবাসন আইনের আওতায় অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাদের পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য সীমান্ত সেবা সংস্থার কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ১২ জনকে ‘সম্ভাব্য অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ এই নয় যে তাদের ইতোমধ্যে কানাডা থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তাদের অভিবাসন অবস্থা, অনুমতির মেয়াদ এবং কানাডায় থাকার বৈধতা নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই হতে পারে। সীমান্ত সেবা সংস্থা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিচয় বা তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।   এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা নিয়ম মেনেই পড়াশোনা করতে কানাডায় এসেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়ার সময় কাজের অনুমতির সুযোগ সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছিলেন, তার ভিত্তিতেই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এখন আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ায় অনেকেই ঋণ, পরিবারের আর্থিক চাপ এবং কানাডায় থাকার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অন্যদিকে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, পড়াশোনা শেষ করার পর কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের নির্ধারিত শিক্ষাক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।   প্রায় তিন সপ্তাহের আন্দোলন শেষ হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে সীমান্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা এবং ১২ শিক্ষার্থীর অভিবাসন অবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কানাডায় পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ প্রত্যাশী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনা শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়ার আগে কাজের অনুমতির যোগ্যতা সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:১২
ইয়েলসহ কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয় ছবি:সংগৃহীত।
ফেডারেল সংস্কার প্রস্তাবে চাপে ইয়েলসহ কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগকে ঘিরে কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন গত ৩ আগস্ট দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট এবং কানেকটিকাটের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে।   ফেডারেল সরকারের আহ্বানে মেধাভিত্তিক ভর্তি, মতাদর্শগত বৈচিত্র্য, শিক্ষার ব্যয় কমানো এবং ক্যাম্পাসে বাধাদানকারী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কানেকটিকাটের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেয়নি।   ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে। ফলে নতুন ফেডারেল আহ্বানটি ইয়েলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে কানেকটিকাটের কিছু আইনপ্রণেতা ও শিক্ষক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ফেডারেল অর্থায়নের সঙ্গে এসব নীতির বাস্তবায়নকে যুক্ত করা হতে পারে। যদিও ৩ আগস্টের চিঠিতে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়নি।   এর আগে ইয়েলের শিক্ষক সমাজের একটি জরিপেও ফেডারেল নীতির প্রভাবে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত ওই জরিপে প্রায় ৬৮ শতাংশ ইয়েল শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা কমেছে বলে তারা মনে করেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উচ্চশিক্ষা নীতির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যয়, ক্যাম্পাসের মতপ্রকাশের পরিবেশ এবং একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৮:১০
শর্টস পরার অনুমতি না পেয়ে ইসকা একাডেমির শিক্ষার্থীরা স্কার্ট পরে প্রতিবাদে অংশ নেয়। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরমে হাফপ্যান্ট পরা নিষেধ, অভিনব প্রতিবাদে স্কার্ট পরেই স্কুলে গেল ছাত্ররা

যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্মের একটি অদ্ভুত নিয়মের অভিনব প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে একদল কিশোর। তীব্র গরমে হাফপ্যান্ট পরার অনুমতি না পেয়ে তারা বেছে নিয়েছে অভিনব এক পথ, স্কার্ট পরে স্কুলে হাজির হয়েছে তারা। গত ১৬ আগস্ট পাবলো রোমানের লেখা এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিদীপ্ত এই প্রতিবাদের খবরটি উঠে আসে।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রা যখন প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে, তখন ডেভন শহরের ইসকা একাডেমির শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের নির্ধারিত উলের লম্বা ট্রাউজার পরা রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। প্রচণ্ড গরমে শারীরিক স্বস্তি পেতে ছাত্ররা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হাফপ্যান্ট বা শর্টস পরে ক্লাসে আসার অনুমতি চায়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, ইউনিফর্মের কড়া নিয়মে শর্টস পরার কোনো সুযোগ নেই। গরমে কষ্ট হলেও ছেলেদের লম্বা প্যান্টই পরতে হবে।   কর্তৃপক্ষের এমন অনড় অবস্থানের পর ছাত্ররা স্কুলের নিয়মকানুনের নির্দেশিকাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করে। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত ফাঁকফোকর। তারা দেখতে পায়, স্কুলের নিয়মে ছেলেদের শর্টস পরা নিষিদ্ধ হলেও, ইউনিফর্ম হিসেবে স্কার্ট পরার ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার কথা বলা নেই। মূলত ছাত্রীদের জন্য স্কার্ট নির্ধারিত থাকলেও, নির্দেশিকার ভাষাগত এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগায় ছাত্ররা।   যেমন ভাবা, তেমন কাজ। গরম থেকে বাঁচতে এবং অদ্ভুত এই নিয়মের প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ডজনখানেক ছাত্র দিব্যি স্কার্ট পরে ক্লাসে হাজির হয়। তাদের এই অভিনব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের দৃশ্য মুহূর্তেই নজর কাড়ে সবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কার্ট পরা ছাত্রদের ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা ছাত্রদের এই উপস্থিত বুদ্ধির দারুণ প্রশংসা করতে শুরু করেন।   শিক্ষার্থীদের এই পদক্ষেপ নিছকই গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা ছিল না, বরং এটি ছিল অযৌক্তিক নিয়মের বিরুদ্ধে এক বুদ্ধিদীপ্ত বার্তা। তরুণ শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে, কোনো নিয়ম যদি অর্থহীন মনে হয়, তবে বিশৃঙ্খলা না করে সেটি মনোযোগ দিয়ে পড়লেই তার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। নিয়ম অনুযায়ী যদি স্কার্ট পরার অনুমতি থাকে, তবে হাফপ্যান্ট কেন পরা যাবে না, এমন যৌক্তিক প্রশ্নই তুলে ধরেছে তারা। কোনো ধরনের উগ্রতা ছাড়াই স্কুলের নিজস্ব নিয়মের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা কর্তৃপক্ষকে এক মোক্ষম জবাব দিয়েছে, যা এখন অনেকের জন্যই এক দারুণ শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২৩:৩৮
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতেই হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার

কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। স্টাডি পারমিট বা অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হলে এবং কানাডায় থাকার নতুন কোনো বৈধ পথ না থাকলে দেশে ফিরে যেতে হবে। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এমন বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়া পোর্টেজ কলেজের একদল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   গত ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন স্মিথ। সেখানে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এলে এবং তার ভিসা বা বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি না পেলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। তবে স্মিথ একই সঙ্গে বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এমন দক্ষতা থাকলে যা আলবার্টার শ্রমবাজারে প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির বৈধ পথ তৈরির সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, স্টাডি পারমিট নিজে থেকে স্থায়ীভাবে কানাডায় থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। কানাডার সরকারি ইমিগ্রেশন নীতিতেও একই মূলনীতি রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, স্টাডি পারমিটধারীদের তাদের পারমিটের শর্ত মেনে চলতে হয় এবং বৈধভাবে থাকার মেয়াদ শেষ হলে দেশ ছাড়তে হয়, যদি এর মধ্যে তারা অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস না পান।   সাধারণভাবে একজন শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তার শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে। এই সময় শিক্ষার্থী কানাডা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে অথবা বৈধভাবে অবস্থান বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবার যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে কানাডায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় না। বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আলবার্টার পোর্টেজ কলেজের কিছু গ্র্যাজুয়েট। কলেজটির নির্দিষ্ট কয়েকটি নন ক্রেডিট প্রোগ্রাম শেষ করা শিক্ষার্থীদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী। প্রত্যাখ্যানের পর ক্যালগারি ও এডমন্টনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা যখন সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তখন তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবেন। পরে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এই যুক্তিতে যে তারা যে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন সেটি নন ক্রেডিট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য নয়।   তবে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা জানিয়েছে, নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে নতুন করে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করাসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। পোর্টেজ কলেজও জানিয়েছে, কিছু নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটের ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। তবে কারও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কলেজ নেয় না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কানাডার ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের। কলেজটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   এই পরিস্থিতি কানাডায় পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেই সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রোগ্রাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবে, এমন নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দুটির বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে স্টাডি পারমিট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি তিনটি আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া। কানাডায় পড়াশোনা শেষ করার পর স্থায়ীভাবে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা বৈধ ইমিগ্রেশন পথ অনুসরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করাই ভবিষ্যতে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২২:৫৪
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলির ঘটনায় পাঁচজন আহত, তদন্তে পুলিশ তৎপর। ছবি:সংগৃহীত
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে পাঁচজন আহত, ১৯ বছরের সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলির ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর সাড়ে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছে কোয়াড অ্যানেক্সেস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলির পর ক্যাম্পাসে সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়।   চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, আহত পাঁচজনের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে একজন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাকি আহতদের অবস্থা প্রাণঘাতী নয়।   ঘটনার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ১৯ বছর বয়সী ক্যামরন হ্যারিসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক ভবনের কক্ষের আলমারিতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ বলেছে, হ্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।   হ্যারিসের বিরুদ্ধে আটটি গুরুতর অপরাধের পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতরভাবে আহত করা এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। তবে গুলির ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।   ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই বলে জানায় এবং লকডাউন তুলে নেয়। তদন্তে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সংস্থা এবং হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করছে।   নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক আগে এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সোমবার থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ভার্জিনিয়ার একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৮:০
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি:সংগৃহীত
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডিংয়ে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় আগের মতোই নম্বর ও অক্ষরভিত্তিক গ্রেড পাবে। তবে এসব গ্রেড তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ করা হবে না এবং প্রথম সেমিস্টারের ফল সামগ্রিক গড় ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হবে না। এর পরিবর্তে শিক্ষাগত নথিতে উত্তীর্ণ অথবা কৃতকার্য নয়—এ ধরনের ফলাফল দেখানো হবে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পর প্রথম কয়েক মাস শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পরিবেশ, কঠিন পড়াশোনা এবং ভালো ফল করার চাপ অনেক শিক্ষার্থীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই চাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বিষয় শেখা, বিভিন্ন ধরনের কোর্স নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যায়ন হবে না। শিক্ষকরা আগের মতোই পরীক্ষা, লিখিত কাজ এবং অন্যান্য শিক্ষাকাজের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত ফলাফল ও শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাবে।   তবে প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেডের তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রয়োজনে শিক্ষাগত পরামর্শ, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন একাডেমিক সুযোগের ক্ষেত্রে এসব তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।   প্রথম সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে আবার স্বাভাবিক গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হবে। তখন শিক্ষার্থীদের অক্ষরভিত্তিক গ্রেড শিক্ষাগত নথিতে যুক্ত হবে এবং সামগ্রিক গড় ফলাফলের হিসাবেও তা অন্তর্ভুক্ত হবে।   এই নতুন পদ্ধতি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। এটি মূলত কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং পড়াশোনায় নতুন বিষয় ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আরও আগ্রহী হবে। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, গ্রেডের গুরুত্ব কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ও দায়িত্ববোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৭:২১
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন

ইউরোপের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা এবং মাসিক স্কলারশিপ, সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স অন্যতম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ। তবে কোন প্রোগ্রাম বেছে নেবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, মোটিভেশন লেটার ও সিভি কেমন হবে কিংবা রেকমেন্ডেশন লেটারে কী থাকা প্রয়োজন, এসব নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায়ই নানা প্রশ্ন থাকে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম। একটি প্রোগ্রাম সাধারণত বিভিন্ন দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম পরিচালনা করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী একই ডিগ্রির অংশ হিসেবে একাধিক দেশে এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইইউ অর্থায়িত স্কলারশিপ মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়। স্কলারশিপে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের খরচের পাশাপাশি ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো সাধারণত এক থেকে দুই শিক্ষাবর্ষের হয়ে থাকে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ নতুন নয়। ইরাসমাস মুন্ডাসে বাংলাদেশ অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১৩৯ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ইইউর আরেকটি তথ্যে ২০২১ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে ১৫২ বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা বাংলাদেশকে সে সময় বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বাংলাদেশ গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেয়েছে এমন দাবির পক্ষে সর্বশেষ প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য থেকে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীদের দেশভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে নিজের আবেদন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   আবেদনের প্রথম ধাপ সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের যোগ্যতার শর্তের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরাসমাস মুন্ডাসের প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং আবেদনের সময়সীমা দেওয়া থাকে।   সাধারণভাবে আবেদনকারীকে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হয়। ব্যাচেলরের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন, তবে মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ব্যাচেলর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   আবেদন একটি কেন্দ্রীয় ফর্মের মাধ্যমে করা হয় না। শিক্ষার্থীকে পছন্দের ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি আবেদন করতে হয়। বেশির ভাগ প্রোগ্রামের আবেদন অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়। তবে ডেডলাইন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রোগ্রামভেদে আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোটিভেশন লেটার বা এসওপি। এখানে শুধু বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর আগের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী এবং ডিগ্রি শেষে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে চান, সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।   সিভিতেও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, চাকরির অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে রেকমেন্ডেশন লেটার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারবেন। তবে কতটি রেকমেন্ডেশন প্রয়োজন এবং কার কাছ থেকে নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে।   শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতামূলক এই স্কলারশিপে পুরো অ্যাপ্লিকেশন প্রোফাইলের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রোগ্রামে আবেদন, একই মোটিভেশন লেটার সব প্রোগ্রামে ব্যবহার, ডেডলাইনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ঠিকভাবে না পড়া আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে।   বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ইরাসমাস মুন্ডাস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। বিল্লাল হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ পর্বের একটি গাইডে সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়া, ফাইন্যানশিয়াল সুবিধা, সঠিক প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম নির্বাচন, মোটিভেশন লেটার, নমুনা এসওপি, সিভি, রেকমেন্ডেশন লেটার, ডকুমেন্টেশন, বিভিন্ন বিষয়ের প্রোগ্রাম এবং আবেদনের সাধারণ ভুল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে Billal Beyond Borders-এর মাধ্যমে স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার অ্যাডমিশন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গাইডলাইন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।   ২০২৬ সালে নতুন করে ৩৭টি ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এসব নতুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী আবেদন ২০২৬ সালের শরৎ থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রোগ্রাম খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা এবং নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বাছাই করার উপযুক্ত সময়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১:৬
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাওয়া ঢাবির সহকারী অধ্যাপক নন্দিতা দেব। ছবি: সংগৃহীত
পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল সায়েন্স, অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডে নন্দিতা দেব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নন্দিতা দেব যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে ডিফিল ইন মেডিকেল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া তার ডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি অক্সফোর্ডের এমআরসি আইকেস স্টুডেন্টশিপের আওতায় পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন।   নন্দিতা দেব বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল, বায়োমেডিকেল অ্যাপ্লিকেশন এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা এমআরআই।   অক্সফোর্ডের ২০২৬ সালের এমআরসি আইকেস কর্মসূচি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সায়েন্সেস ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভিন্ন বিভাগের ৩১টি গবেষণা প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র আটটি এমআরসি এন্টারপ্রাইজ আইকেস ডিফিল স্টুডেন্টশিপ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত গবেষকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ ফি, চার বছরের স্টাইপেন্ড, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ট্রাভেল অ্যালাউন্সের ব্যবস্থা রয়েছে।   পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নন্দিতার গবেষণায় বায়োমেডিকেল সায়েন্সের সঙ্গে যোগসূত্র আগে থেকেই ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ম্যাগনেটিক হাইপারথার্মিয়া। ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল তৈরি এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।   তার একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি হেমাটাইট ও কাইটোসানভিত্তিক ন্যানোহাইব্রিডের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেন। একই বছর এআইপি অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বায়োমেডিকেল ব্যবহারের সম্ভাবনাসম্পন্ন ম্যাগনেটাইট ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে কাজ করেন। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায়ও তিনি সহলেখক ছিলেন।   অক্সফোর্ডে তার গবেষণার ক্ষেত্র কার্ডিয়াক এমআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত। অক্সফোর্ডে বর্তমানে কার্ডিওভাসকুলার এমআর নিয়ে একাধিক উন্নত গবেষণা চলছে। এর মধ্যে হৃদযন্ত্রের গঠন, কার্যকারিতা ও টিস্যুর বৈশিষ্ট্য আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ এবং রোগ নির্ণয়ে কার্ডিওভাসকুলার এমআর প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত করার গবেষণাও রয়েছে।   নন্দিতা দেবের উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল ইমেজিংয়ে তার গবেষণার বিস্তার। এমআরআই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই রয়েছে শক্তিশালী পদার্থবিজ্ঞান। ফলে পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে এই আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্রে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেও মেডিকেল ইমেজিংকে নন্দিতার গবেষণার আগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এমআরআইয়ের পাশাপাশি এক্স-রে ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল আল্ট্রাসাউন্ডের প্রতিও তার গবেষণার আগ্রহের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে গবেষণাকে তিনি তার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   নন্দিতা দেবের অক্সফোর্ড যাত্রা বাংলাদেশের একজন পদার্থবিজ্ঞান গবেষকের মেডিকেল সায়েন্সের অত্যাধুনিক গবেষণায় প্রবেশেরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পদার্থবিজ্ঞান, মেডিকেল ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল গবেষণার সমন্বয়ে তার নতুন গবেষণার অধ্যায় শুরু হবে আগামী অক্টোবরে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১১:৪৬
বাংলাদেশি জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ এইচ বাকী। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্সে, ডা. আবদুল্লাহ বাকীর গবেষণায় নতুন জীবন লাখো মা ও শিশুর

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচানোর উপায় খুঁজতে দুই দশকের বেশি আগে শুরু হয়েছিল একটি গবেষণা উদ্যোগ। সেই উদ্যোগই এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বর্তমানে তিনি জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ম্যাটারনাল অ্যান্ড নিউবর্ন হেলথের পরিচালক।   সম্প্রতি জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ ডা. বাকী এবং বাংলাদেশের ‘প্রজন্ম’ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের দীর্ঘ যাত্রা তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, তাদের গবেষণা থেকে পাওয়া প্রমাণ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যনীতি ও কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলেছে।   ‘প্রজন্ম’ এর যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। ডা. বাকী বাংলাদেশি গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে এটি গড়ে তুলেছিলেন। লক্ষ্য ছিল শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ নয়, বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতিতে কম খরচে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি খুঁজে বের করা এবং সেই গবেষণাকে জাতীয় নীতিতে কাজে লাগানো।   এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগুলোর একটি পরিচালিত হয় সিলেটের গ্রামীণ এলাকায়। প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের মাধ্যমে বাড়িতে গিয়ে নবজাতকের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন গবেষকেরা।   ২০০৮ সালে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত সেই গবেষণায় দেখা যায়, বাড়িভিত্তিক সমন্বিত নবজাতক সেবার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নবজাতকের মৃত্যুহার ৩৪ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছিল। গবেষণাটি ওই বছর দ্য ল্যানসেটের উল্লেখযোগ্য গবেষণাগুলোর একটি হিসেবেও স্বীকৃতি পায়।   এই গবেষণার প্রভাব গবেষণাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কৌশল তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফও উচ্চ মৃত্যুহারের দেশগুলোতে নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে প্রসবের পর বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়ার সুপারিশে এই ধরনের গবেষণার প্রমাণ ব্যবহার করে।   প্রজন্মের আরেকটি গবেষণায় নবজাতকের নাভিতে ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহারের সুফল পাওয়া যায়। সেই গবেষণার ফলও পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ এবং এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নবজাতক স্বাস্থ্যনীতিতে প্রভাব ফেলে।   হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয় এমন গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত নবজাতকদের জন্য তুলনামূলক সহজ অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নিয়েও গবেষণা করেছে প্রজন্ম। সেই গবেষণা থেকে পাওয়া প্রমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন পরিবর্তন এবং হাসপাতালের বাইরে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।   দীর্ঘ এই পথচলায় গবেষণা প্রকল্পটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ২০১৭ সালে প্রজন্ম রিসার্চ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশি এনজিও হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এবং জনস হপকিন্স বিভিন্ন গবেষণায় টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।   জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের বাইরে বাংলাদেশের আরও ১১ জেলায় প্রজন্মের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার আওতায় এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন পদ্ধতির বাস্তবায়ন, নীতিমূল্যায়ন এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।   ডা. আবদুল্লাহ বাকী ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে ১৯৮৫ সালে এমপিএইচ এবং ১৯৯০ সালে ডক্টর অব পাবলিক হেলথ ডিগ্রি অর্জন করেন। জনস হপকিন্সে যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রায় ২২ বছর আইসিডিডিআরবিতে বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করেছেন।   তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র নবজাতক, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, পিয়ার রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নালে তার প্রায় ৩০০ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর বেশ কয়েকটি গবেষণা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যনীতি ও কর্মসূচি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. বাকীকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া কিছু গল্পের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘জ্যাকসন হাইটসের বেসমেন্ট থেকে জনস হপকিন্সের গবেষক’, ‘একসময় টিউশনি করে চলতেন’ কিংবা তিনি নোয়াখালীর সন্তান, এমন দাবিগুলো জনস হপকিন্সের প্রকাশিত জীবনী ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে তার গল্পে ‘কাঁদছে আমেরিকা’ ধরনের দাবিরও যাচাইযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি।   এ কারণে তার প্রকৃত অর্জনই গল্পটির সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে পাওয়া গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতিতে জায়গা করে নেওয়া, নবজাতকের মৃত্যুহার কমানোর কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং স্থানীয় গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ডা. আবদুল্লাহ বাকী ও তার সহকর্মীদের দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।   জনস হপকিন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রজন্মের গবেষণা থেকে তৈরি প্রমাণ এখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মা ও নবজাতককে প্রভাবিত করা স্বাস্থ্যনীতি ও কর্মসূচিতে অবদান রাখছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন গবেষণা প্ল্যাটফর্ম দেখিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হওয়া বৈজ্ঞানিক উদ্যোগও একসময় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নীতি বদলে দেওয়ার শক্তি অর্জন করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:৪৯
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। আগামী শরৎ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস-এ ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম সেমিস্টারে প্রচলিত লেটার গ্রেড পাবেন না। তাদের সরকারি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে শুধু কোনো কোর্সের ক্রেডিট অর্জিত হয়েছে কি না তা উল্লেখ থাকবে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, কলেজটির শিক্ষার্থীরাই মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রায় ৮ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর অর্ধেকের কাছাকাছি।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কলেজজীবনের প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের নতুন পরিবেশ ও পড়াশোনার চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রেডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ক্ষতির ভয় ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয় বা তুলনামূলক কঠিন কোনো কোর্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কোনো গ্রেডই থাকবে না। শিক্ষকেরা অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করবেন। এসব তথ্য সম্মাননা, বৃত্তি ও অন্যান্য একাডেমিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।   অন্যদিকে, সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে প্রথম সেমিস্টারের লেটার গ্রেড না থাকায় শিক্ষার্থীদের জিপিএতেও ওই সেমিস্টারের গ্রেডের প্রভাব পড়বে না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী শরৎকালে এর বিস্তারিত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।   কেন এমন পরিবর্তন?   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কলেজের প্রথম বছর বিশেষ করে প্রথম সেমিস্টার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের সময়। নতুন পরিবেশ, পড়াশোনার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে অনেকেই মানসিকভাবে লড়াই করেন। ফলে একটি খারাপ গ্রেড যেন পুরো একাডেমিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব না ফেলে, সেই সুযোগ তৈরি করতেই নতুন পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেডের মান, গ্রেড বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্ক চলছে।   মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও গ্রেড বাড়ার প্রবণতা নিয়ে তথ্য সামনে এসেছে। এমলাইভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ গ্রেড ‘এ’ পর্যায়ে ছিল। এক দশক আগে এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং নিয়ে ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক নমনীয় গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের একটি অংশ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেড নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলের পেছনে না ছুটে শেখার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।   তবে সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রথম সেমিস্টারে সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে গ্রেড না থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ এটিকে উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক মানদণ্ড আরও শিথিল করার প্রবণতা হিসেবেও দেখছেন।   সব মিলিয়ে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেড, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী শরৎ থেকে শুরু হওয়া পাইলট কর্মসূচির ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৪:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কম জিপিএ নিয়ে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
৩.০০ এর নিচে সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় যেতে ব্যাচেলর পর্যায়ে কম জিপিএ থাকলেই যে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ৪.০০ স্কেলে ২.৫০ থেকে ২.৭৫ জিপিএ নিয়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপার্টমেন্ট ও প্রোগ্রামভেদে অ্যাডমিশনের শর্ত আলাদা হওয়ায় শুধু একটি সাধারণ জিপিএ তালিকার ওপর নির্ভর করে আবেদন করা ঠিক নয়।   বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ জিপিএ অথবা ব্যাচেলর পর্যায়ের শেষ ৬০ ক্রেডিট আওয়ারে ২.৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি জিপিএ চাইতে পারে।    আরকানসাস টেক ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট কলেজে সাধারণ আনকন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য ব্যাচেলর পর্যায়ে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ অথবা শেষ ৩০ ক্রেডিট আওয়ারে ৩.০০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একই সঙ্গে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চাইলে এর চেয়ে বেশি জিপিএ নির্ধারণ করতে পারে। জিপিএর শর্ত পূরণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ থাকতে পারে।    ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় স্প্রিংফিল্ডে পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনের জন্য সাধারণভাবে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে এখানেও প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে এবং কিছু প্রোগ্রামে এর চেয়ে বেশি জিপিএ দরকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএ থাকা আবেদনকারীকেও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।    ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৭৫-এর নিচে জিপিএ থাকলে অতিরিক্ত একাডেমিক যোগ্যতা বা জিআরইসহ অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে।   ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন নীতি বোঝানো ঠিক নয়। বর্তমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন তথ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে ২.৭৫ থেকে ৩.০০ জিপিএর মানদণ্ড দেখা যায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন বিবেচনা করা হয়। যেমন সাইকোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে।    ডিপল ইউনিভার্সিটিতেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ৩.০০ জিপিএকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০। ফলে ডিপল ইউনিভার্সিটিকে সামগ্রিকভাবে ‘২.৫০ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।    নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এনজেআইটির কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে ২.৮০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। যেমন এমএস ইন ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সাধারণত ন্যূনতম ২.৮০ জিপিএ প্রত্যাশা করা হয়। তবে এটিও সব প্রোগ্রামের জন্য একই নিয়ম নয়।    লামার ইউনিভার্সিটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল লার্নিং প্রোগ্রামে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ ২.৫০ হলে জিআরই ছাড়াই আবেদন করা যায়। তবে ২.৫০-এর নিচে গেলে ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে সরাসরি অ্যাডমিশন দেওয়া হয় না।  কম জিপিএ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু জিপিএ দিয়েই অ্যাডমিশনের সিদ্ধান্ত হয় না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ ৬০ ক্রেডিটের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোর্সওয়ার্ক, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, জিআরই বা জিম্যাট স্কোর এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টোফেল, আইইএলটিএস, ডুয়োলিঙ্গো বা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার শর্তও থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার মান পূরণ করা বাধ্যতামূলক।    এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘২.০০ থেকে ২.৯৯ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা’ সরাসরি চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রাম ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করলেও আরেকটি প্রোগ্রামে ৩.০০ বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে। কোথাও আবার কম জিপিএর আবেদনকারীকে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন বা আলাদা একাডেমিক রিভিউয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন না করে প্রথমে নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার স্কোর, ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান, জিআরই বা জিম্যাটের প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৩৩
গবেষণায় অসাধারণ অবদানের কারণে ভবিষ্যতের নোবেলজয়ী হিসেবে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে আলোচনায় রয়েছেন ড. এম. জাহিদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত
নোবেলপ্রত্যাশী বিজ্ঞানীদের আলোচনায় বাংলাদেশের আধ্যাপক ড. জাহিদ হাসান

নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। এমনকি মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্যও ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। তাই কোনো বিজ্ঞানীকে নোবেলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই। তবে গবেষণায় অসাধারণ অবদানের কারণে বিশ্বের যেসব বিজ্ঞানীর নাম ভবিষ্যতের নোবেলজয়ী হিসেবে আলোচনায় আসে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের সন্তান ড. এম. জাহিদ হাসানও রয়েছেন।   বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিন হিগিন্স অধ্যাপক হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান পড়াচ্ছেন ও গবেষণা করছেন। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান এবং টপোলজিক্যাল পদার্থ নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে পরিচিত।   ২০১৫ সালে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষক দল প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ওয়েইল ফার্মিয়নের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। প্রায় ৮৫ বছর আগে তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তাবিত এই কণার বাস্তব অস্তিত্বের প্রমাণ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।   ওয়েইল ফার্মিয়ন এমন একটি মৌলিক কণার ধারণা, যার ভর নেই এবং যা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণ কণার চেয়ে ভিন্নভাবে আচরণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল মূলত তাত্ত্বিক ধারণা। ড. জাহিদ হাসান ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণা সেই ধারণাকে বাস্তব পদার্থে পর্যবেক্ষণের নতুন পথ তৈরি করে।   এই আবিষ্কারের মাধ্যমে টপোলজিক্যাল কোয়ান্টাম পদার্থ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে নতুন ধরনের পদার্থের বৈশিষ্ট্য বোঝা এবং ভবিষ্যতে উন্নত বৈদ্যুতিক ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি তৈরির গবেষণায় এর গুরুত্ব রয়েছে।   ড. জাহিদ হাসানের গবেষণা শুধু ওয়েইল ফার্মিয়ন আবিষ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। টপোলজিক্যাল অন্তরক, ডিরাক ফার্মিয়ন, টপোলজিক্যাল অর্ধপরিবাহী, টপোলজিক্যাল চুম্বক এবং কোয়ান্টাম পদার্থের নানা মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন।   তাঁর গবেষণা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক সাময়িকীগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্স পুরস্কার এবং মুস্তাফা পুরস্কারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন।   বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ড. জাহিদ হাসানের পথচলা দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্যও অনুপ্রেরণার। মৌলিক গবেষণায় তাঁর অবদান আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বাংলাদেশের পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।   তবে তাঁকে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। তিনি শেষ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার পাবেন কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে ওয়েইল ফার্মিয়ন ও টপোলজিক্যাল পদার্থ নিয়ে তাঁর গবেষণা ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অবদান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১০:৪
অভিভাবকদের সাথে শিশুরা সুশৃঙ্খলভাবে স্কুলে যাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
স্কুলে গেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা, নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে গাড়ি চলাচল ও পার্কিংয়ে নতুন বিধিনিষেধ চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই ‘স্কুল সড়ক’ ব্যবস্থার লক্ষ্য স্কুলের আশপাশের সড়ক শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ করা এবং যানজট কমানো।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় মেলকশ্যামের অ্যালোরিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্যালনের ফাইনামোর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়ারমিনস্টারের মিনস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চিপেনহামের কুইন্স ক্রিসেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। স্কুলগুলোর সামনে নির্দিষ্ট সময়ে মোটরযানের প্রবেশ ও চলাচল সীমিত থাকবে।   বিধিনিষেধ কার্যকর থাকা সময়ে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে জরুরি সেবার গাড়ি, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন থাকা ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত নীল ব্যাজধারী, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের যানবাহনের ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে।   উইল্টশায়ার কাউন্সিল জানিয়েছে, স্কুল শুরুর আগে এবং ছুটির পর অল্প সময়ের জন্য এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এর উদ্দেশ্য স্কুলের আশপাশে যানজট কমানোর পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং হাঁটা, সাইকেল ও স্কুটারে স্কুলে যাতায়াতে উৎসাহ দেওয়া।   উইল্টশায়ার কাউন্সিলের সড়ক ও পরিবহনবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মার্টিন স্মিথ বলেন, স্কুলের ব্যস্ত সময়ে শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য আরও নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।   অ্যালোরিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টম মুলিন্সও নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে স্কুলের আশপাশের সড়ক আরও নিরাপদ হবে এবং পরিবারগুলো হাঁটা, সাইকেল বা স্কুটারে করে নিরাপদে স্কুলে যাতায়াতের সুযোগ পাবে।   প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আদেশের আওতায় চালু হচ্ছে। এর কার্যকারিতা নিয়ে জনসাধারণের মতামত জানানোর জন্য ১৮ মাস সময় রাখা হয়েছে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে পরে প্রকল্পটি স্থায়ী করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   প্রাথমিকভাবে স্ট্যাভারটন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এমাউস স্কুলও এই উদ্যোগের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ছিল। তবে পরিচর্যাকারীদের প্রবেশাধিকার এবং পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আপাতত ওই দুটি বিদ্যালয়কে প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়নি। বর্তমানে অংশ নেওয়া চারটি বিদ্যালয়ই স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগে যুক্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৮:৫৭
বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে ফ্রী তে পড়ার সুযোগ
বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে ফ্রী তে পড়ার সুযোগ! আবেদন করতে পারবেন যে কেউ

বোস্টন ইউনিভার্সিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়িয়েছে। যেসব পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের কম এবং সম্পদের পরিমাণও পরিবারের আয়ের তুলনায় স্বাভাবিক পর্যায়ে, তাদের শিক্ষার্থীরা অন্তত পুরো টিউশন ফি এবং আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নতুন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব আর্থিক সহায়তা প্যাকেজে শিক্ষাঋণ রাখা হবে না।   তবে পরিবারের আয় ২ লাখ ডলারের নিচে হলেই সবার জন্য পুরো পড়াশোনা বিনামূল্যে হবে, বিষয়টি এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আয়, সম্পদ ও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।   বোস্টন ইউনিভার্সিটির হিসাবে, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম এবং সম্পদ স্বাভাবিক পর্যায়ে, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তায় পুরো টিউশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আবাসন ও খাবারের খরচও কভার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য নেট খরচ শূন্য হতে পারে।   ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে পুরো টিউশনসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার পর নেট খরচ বছরে ১০ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে। ১ লাখ ১ ডলার থেকে দেড় লাখ ডলার আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে নেট খরচ ১৫ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে।   আর পরিবারের আয় দেড় লাখ ১ ডলার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে পুরো টিউশন কভার করার পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশ সহায়তার আওতায় আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে এ স্তরে নেট খরচ ২০ হাজার ডলার বা তার কম হতে পারে।   ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বোস্টন ইউনিভার্সিটির পূর্ণ টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার, ফি, বই এবং অন্যান্য খরচ যোগ করলে আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট আনুমানিক বার্ষিক খরচ প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলার।   এই বিশাল খরচের তুলনায় নতুন আর্থিক সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিবারের আয় ছাড়াও সম্পদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আয়ের তুলনায় পরিবারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকলে ২ লাখ ডলারের নিচে আয় হলেও নির্দিষ্ট সীমার আর্থিক সহায়তা নাও মিলতে পারে।   ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের শিক্ষার্থীরাও আর্থিক সহায়তার বাইরে থাকবেন না। তাদের জন্য পরিবারের নির্দিষ্ট আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলাদা সহায়তা প্যাকেজ তৈরি করবে বিশ্ববিদ্যালয়।   বোস্টন ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় আবেদন ও কাগজপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে পরিবারের আয় ও সম্পদের তথ্যের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা আবেদনও বিবেচনা করা হবে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও এই নীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ টিউশন ও আবাসন খরচ নিয়ে চিন্তিত, তাদের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বোস্টন ইউনিভার্সিটির সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তবে ‘২ লাখ ডলারের কম আয় মানেই বিনামূল্যে পড়াশোনা’ এমন ধারণা ঠিক নয়। আয়, সম্পদ ও প্রদর্শিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তার শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৩:১৯
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস। ছবি:সংগৃহীত
টিউশনের জমানো টাকায় বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি, এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করবেন উচ্ছাস

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও গবেষণাগারে সময় কাটাতেন। এরপর একের পর এক টিউশন করিয়ে রাতে ফিরতেন বাসায়। সেখানে অপেক্ষা করত ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার সেবার দায়িত্ব। পরিবারের কঠিন সময়ের মধ্যেও থেমে থাকেনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। টিউশনের আয় থেকে নিজের পড়াশোনা, আইইএলটিএস পরীক্ষা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের খরচ চালিয়েছেন চট্টগ্রামের উচ্ছাস সিকদার। সেই অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন তিনি।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী উচ্ছাস শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন। মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের পূর্ণ বৃত্তিতে ‘হিউম্যান গাট মাইক্রোবায়োটা’ নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করবেন তিনি।   মানুষের অন্ত্রে থাকা অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োম নিয়ে তাঁর গবেষণার লক্ষ্য ব্যক্তিভেদে রোগের ঝুঁকি বোঝা এবং ভবিষ্যতে রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান তৈরি করা। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এই গবেষণার সম্ভাব্য গুরুত্ব রয়েছে।   উচ্ছাসের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। তবে বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা এলাকায়। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। দুই পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন।   স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই তাঁর সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৬। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ থেকেই টিউশন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন তিনি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভাগে ক্লাস ও গবেষণাগারে কাজ করার পর টিউশন করাতেন। কখনো টানা দুটি, আবার কখনো চারটি টিউশনও করতে হয়েছে তাঁকে।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির খরচও এসেছে সেই টিউশনের আয় থেকে। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন কোনো মাসে তুলনামূলক কম থাকলে উপার্জনের কিছু অংশ জমিয়ে রাখতেন। সেই সঞ্চয় থেকেই আইইএলটিএস পরীক্ষা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের খরচ মেটান। পিএইচডিতে ভর্তির জন্য পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল তাঁর।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই বিদেশে গবেষণার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান উচ্ছাস। ২০২৩ সালে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ১৫ দিনের ইন্টার্নশিপে জাপানে যান তিনি। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেসে অসুস্থ প্রাণীর ওপর প্রাকৃতিক উপাদান ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার কাজ শেখেন।   তবে স্নাতকোত্তরে ওঠার পর তাঁর জীবনে শুরু হয় সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। ২০২৪ সালের শুরুতে বাবা কানু সিকদারের ক্যানসার শনাক্ত হয়। বড় দুই বোন বিবাহিত হওয়ায় মা কৃষ্ণা সিকদারই মূলত বাসায় বাবার দেখাশোনা করতেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের গবেষণা, থিসিস, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং পরিবারের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হয় উচ্ছাসকে। বাবার চিকিৎসার জন্য একপর্যায়ে প্রায় এক মাস ভারতেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে।   সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে উচ্ছাস বলেন, ছাত্রজীবনে সব সময় চেষ্টা করেছেন নিজের খরচ নিজেই চালাতে, যাতে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে। কিন্তু বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। দিনের বেশির ভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে কাজ করে এরপর ট্রেনে শহরে এসে টিউশন করাতেন। রাত ৯টা বা ১০টার দিকে বাসায় ফিরে বাবার সেবাযত্ন করতেন। তখন তাঁর সামনে বড় প্রশ্ন ছিল ক্যারিয়ার গড়বেন, নাকি পরিবারের পাশে থাকবেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে মারা যান উচ্ছাসের বাবা। সে সময় তাঁর স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে একটি পরীক্ষা স্থগিত করেছিল বিভাগ।   উচ্ছাস বলেন, অনেক মানুষের সহযোগিতায় তিনি এত দূর আসতে পেরেছেন। শিক্ষক, বন্ধু ও জুনিয়ররা সব সময় পাশে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, বাবার ক্যানসারের সময়কার দুই বছরই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। সেই সময় পার করে আসার পর আর কোনো চ্যালেঞ্জকেই অসম্ভব মনে হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও নিজের সঞ্চয় কাজে লাগাচ্ছেন উচ্ছাস। বিমানভাড়া ও সেখানে প্রথম এক মাসের জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এর একটি অংশ নিজের সঞ্চয় থেকে এবং বাকি অর্থ পরিবার থেকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।   মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাঁর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৬৭৪ মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড পাবেন তিনি। পাশাপাশি প্রথম বছরের ২৯ হাজার ৫৬৬ মার্কিন ডলার টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান উচ্ছাস।   বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উচ্ছাসের পরামর্শ, প্রথমেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং নিজের সক্ষমতা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা যাবে না। শুধু সিজিপিএ কম বলে সুযোগ পাওয়া যাবে না এমন ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজে আসলে কী চান, সে বিষয়ে পরিষ্কার থাকা।   উচ্ছাসের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক আদনান মান্নান বলেন, প্রচণ্ড ব্যক্তিগত শোক, হতাশা ও অসহনীয় কাজের চাপের মধ্যেও উচ্ছাস যেভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন এবং প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন, তা অনন্য। তিনি উচ্ছাসকে নিয়ে গর্বিত এবং বলেন, উচ্ছাস কখনো হার মানেননি কিংবা হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।   টিউশনের আয় দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালানো থেকে শুরু করে বাবার দীর্ঘ চিকিৎসাকালীন দায়িত্ব সামলে বিদেশে পিএইচডির প্রস্তুতি নেওয়া, উচ্ছাসের পথটি ছিল একাধিক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। এবার সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হতে যাচ্ছে তাঁর।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ৭:২৮
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০