সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ফ্লাইট ইমিগ্রেশন সাময়িক বন্ধ
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এরাইভাল ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার রুমে রোববার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে আগুন লেগেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রাত ১২টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিমানবন্দর পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ধোঁয়া লক্ষ্য করে কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
সিলেট ফায়ার স্টেশনের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে। অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী
চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম, কমবে পোশাক খাতের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়
৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল, "মা আমাকে নিয়ে যাও"
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ডাকসুর মেয়াদ। এক বছরের দায়িত্ব পালনের পর তাদের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছে মূল্যায়ন। ডাকসু নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে সীমিত অর্থ বরাদ্দ পেলেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় তারা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। তাদের হিসাবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ৩৫ লাখ টাকার তুলনায় এই কাজের পরিমাণ প্রায় ১০০ গুণ বেশি। নির্বাচনের ফলাফল: ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচিতরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন ১৪ সেপ্টেম্বর। আবাসন ও অবকাঠামো: দায়িত্ব নেওয়ার পর আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ার খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় ডাকসু। আবাসিক হলের রিডিংরুমে এসি স্থাপন, কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জিমনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বড় প্রকল্প: ডাকসুর দাবি, পাঁচটি হল নির্মাণে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে সম্মতি আদায় এবং চীনের সহযোগিতায় ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হলে প্রায় ৬ কোটি টাকার এসি স্থাপনের কাজও চলছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয়: কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি এবং মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের উন্নয়নে ৬৫ লাখ এবং হলগুলোর কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবহন: শিক্ষার্থীদের পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি ডাকসুর। নতুন রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা চালুর কথাও জানিয়েছে তারা। মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি এবং তুরস্কের সহযোগিতায় আরও প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী সেবা: ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প, একাধিক মেডিকেল ক্যাম্পে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, হলগুলোতে ছারপোকা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৭০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন: বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানে জব ফেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ: কলাভবনে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, ছাত্রীদের কমনরুমে এসি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সংস্কার, প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছে ডাকসু। শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, হলের সিটের ব্যবস্থা, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন ও ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহনসহ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। সমালোচনাও আছে: ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ই-লাইব্রেরি চালু, লিফট সংস্কার, জব ফেয়ার, বিজনেস কেস কম্পিটিশন, সেমিনার এবং ক্লাসরুম সংকট সমাধানের মতো বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পরিবহন, কমনরুম ও জলাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন: ডাকসুর কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকার কথা বলা হলেও কয়েকজন নেতাকে পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের দলীয় প্রচারে দেখা গেছে। ১৯৭১-সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ভিপির দাবি: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় তারা প্রায় ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে ডাকসু প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছে বলে তাদের হিসাব। দায়িত্ব শেষের হিসাব: ডাকসু নেতারা জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে পুরো বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। সেখানে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, ইশতেহারের বাইরে কী কী কাজ করা হয়েছে এবং পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে। জিএসের বক্তব্য: ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, আগের ডাকসুগুলোর মতো রাজনৈতিক আধিপত্যের কেন্দ্র না বানিয়ে বর্তমান ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন মত ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ডাকসুকে কোনো দলের কার্যালয়ে পরিণত না করার কথাও জানান তিনি।
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মামুন
কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন
দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত ওই কর পরিশোধ করতে হবে। রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এর আগে গত ১১ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করসংক্রান্ত মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ওই নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাত করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, দ্বিতীয় মূল্যায়নের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিউ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে রিভিউ আবেদন করলে আপিল করা হবে না—এমন অঙ্গীকার করতে হয়। গ্রামীণ কল্যাণ এ ক্ষেত্রে আপিল না করে রিভিউ আবেদন করে। পরে সেই রিভিউ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর রিভিউ খারিজের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশ বাতিল করে রায় দেন এবং গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সর্বশেষ হাইকোর্ট এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন। তবে আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
‘ধান নিয়ে গবেষণা না করে কবিতা লিখলে এদেশে বুদ্ধিজীবী হতাম’, আক্ষেপ আবেদ চৌধুরীর
ইরফানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, স্ত্রী এথেনার আচরণ ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই হচ্ছে দাফন