থাইল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল অবস্থানের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি দেশটিতে থাকতে হলে পর্যটকদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, আগে কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি চাঙা করতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৯৩টি দেশের পর্যটকদের ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভা সেই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
নতুন নীতিমালায় বিদেশি পর্যটকদের অবস্থানের সময়সীমা দেশভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়েছে।
৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি ও স্পেন ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকদেরও ৩০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য ভিসা নিতে হবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে।
সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক ভিসা সুবিধা থাকায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত থাইল্যান্ডে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ নীতিগত এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরান এখন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র। ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং ৯০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর আগে রাজধানী তেহরান ও পবিত্র শহর কুমে একাধিক ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উপস্থিতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। তার সঙ্গে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও তেহরানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেই এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে। মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমানও জানাজায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলিও অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। দুই দেশই ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পরিচিত। ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে না পাঠিয়ে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইনকে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া ওমান, কাতার, বেলারুশ, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, মিসর, ঘানা, কিউবা, সার্বিয়া, নিকারাগুয়া, কঙ্গোসহ আরও অনেক দেশ প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিচ্ছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় বা জাতীয় শোকানুষ্ঠান নয়; বরং এটি ইরানের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরানের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ন্যাডমো) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া মৃতদের মধ্যে রাজধানী আক্রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। সংস্থাটির পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক রিচার্ড অ্যামো ইয়ার্টে বলেন, নিখোঁজদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নতুন করে মরদেহ পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় টেলিভিশন টিভি৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ন্যাডমোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশের সাতটি অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট ৮৯ হাজার ৭৩৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রেটার আক্রা অঞ্চল, যেখানে ৫৪ হাজার ৭১২ জন মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এর পরেই রয়েছে সেন্ট্রাল অঞ্চল, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৮২ জন। এ ছাড়া ভোল্টা, ওয়েস্টার্ন, আশান্তি, ওয়েস্টার্ন নর্থ এবং ইস্টার্ন অঞ্চলেও হাজারো মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। তবে ইস্টার্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বন্যার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর আগামী ৯ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ এবং দাফনে বিলম্ব—এই দুই বিষয়কে ঘিরে দেশটির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তার মরদেহ জনসমক্ষে আনা হয়নি। অবশেষে চার মাস পর তার কফিন জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছে। সাত দিনব্যাপী জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যা ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল—এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেই প্রায় নিশ্চিত। বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই তা সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামে সাধারণত রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া শরিয়াহ অনুযায়ী দাফনে বিলম্ব এবং হিমঘরে সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। তার মতে, যদি মরদেহ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় থাকত, তাহলে দাফনের সময় নিয়ে এত অনিশ্চয়তা, স্থান পরিবর্তনের আলোচনা বা দীর্ঘ বিলম্বের প্রয়োজন হতো না। এতে বোঝা যায়, মরদেহ সংরক্ষণ সম্ভব হলেও তা দীর্ঘদিন প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় রাখা কঠিন ছিল। ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়। সেই বিবেচনায় খামেনির দাফনে চার মাসের বিলম্ব অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশ্য দাফন অনুষ্ঠান আয়োজন বিলম্বিত করতে বাধ্য হয়েছে ইরান সরকার। এই সময়ের মধ্যে মরদেহ সাময়িকভাবে কোথাও দাফন করা হয়েছিল—এমন গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে ইরানি কর্মকর্তারা তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পুরো সময়জুড়ে ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনেই মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এদিকে জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, শোকানুষ্ঠানের সময় ইসরায়েল যেন কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ না করে। জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা মুজতবা খামেনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। সবশেষে জানা গেছে, খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে। এই স্থানটি শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। চার মাস ধরে হিমঘরে সংরক্ষিত থাকার পর অবশেষে খামেনির মরদেহের চূড়ান্ত ঠিকানা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে—এমন এক প্রেক্ষাপটে পুরো আয়োজন ঘিরে ইরানে শোক, রাজনীতি ও নিরাপত্তা—তিনটি বাস্তবতাই সমানভাবে প্রভাব ফেলছে।