সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ঢাকা

শুক্রবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। নিহত ৫০ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। পরিবারের দাবি, তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মুখে টেপ লাগানো ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি। পরে আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ইসমাইল জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে থাকতেন। এর আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস আগে ইসমাইল জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানে তার মা ও বড় বোন থাকেন। মেয়ের বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। ইসমাইলের ছেলে হাসান জানান, বিয়ের খরচের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন তার বাবা। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ এবং গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর তৈরিতে কিছু টাকা খরচ করার পর প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন। পরিবারের পরিকল্পনা ছিল, গাজীপুরে ফিরে মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করবেন ইসমাইল। সকালে তার জিরানীতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেখানে অপেক্ষা করতে গিয়ে ছেলে রাসেল তার ফোন বন্ধ পান। পরে বনানী থানা থেকে পরিবারকে জানানো হলে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইসমাইলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কোনো গাড়িতে করে মরদেহটি এক্সপ্রেসওয়েতে এনে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে মরদেহটি সেখানে নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা ক্যামেরা থাকায় সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সূত্রঃ বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৭:৫২
বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড পুনর্বিবেচনার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত আরও সহজ করতে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।   বুধবার সকালে বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি এসব বিষয়ে কথা বলেন। বৈঠকের তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির মতে, চুক্তিটি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে কৃষি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে কৃষিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তিনি। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।   দেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতে আরও মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য খাতেও শুধু বিনিয়োগ নয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। পরে রাষ্ট্রপতি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থকে ভিত্তি করে আগামী দিনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার আগ্রহের কথা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৭:২৭
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি নয়, ঢাকায় এআই ক্যামেরা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির কৃতিত্ব কার—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে বিএনপির সফলতা হিসেবে প্রচার করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল উদ্যোগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়াটি ছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।   সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। একসময় যেখানে এক লেনের যানবাহন আটকে অন্য লেন ছাড়তে ট্রাফিক পুলিশকে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হতো, সেখানে এখন আর কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই। সিগন্যালে লাল-সবুজ বাতি জ্বলার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাচ্ছে ও চলতে শুরু করছে সব ধরনের যানবাহন। চালকদের মধ্যেও ট্রাফিক আইন মানার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, যা রাজধানীর চিরচেনা যানজটের চিত্রে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফলতার প্রশংসা করে অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক দল বিএনপির অবদান হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই প্রথম ঢাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপনের এই দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিল।   প্রকল্পের শুরুতেই গুলশান-২ গোলচত্বর এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরা বসানো হয়। সেখানে দেখা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যেকোনো যানবাহনকে মুহূর্তে শনাক্ত করছে এই এআই ক্যামেরা এবং সেই স্বয়ংক্রিয় তথ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে। গুলশানের এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিজয় সরণিসহ রাজধানীর আরও vanished ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল।   প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ নগরবাসী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম উল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, লাল বাতি জ্বলছে আর সমস্ত গাড়ি নিজ থেকেই থেমে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা। আশা করি এর মাধ্যমে ঢাকার সড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও দূর হবে।   তবে এই প্রযুক্তির কারণে অসাবধানী চালকদের গুনতে হচ্ছে জরিমানা। নতুন এই ব্যবস্থার মুখে পড়া মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা জানান, প্রথম দিন বিষয়টা বুঝতে পারিনি। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে হঠাৎ মোবাইলে ২০০০ টাকা মামলার মেসেজ পাই। এরপর থেকে রাস্তায় চলাচল করার সময় খুব সতর্ক থাকি।   এদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্বাগত জানালেও চালকদের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সিগন্যালগুলোকে পুরোপুরি আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের আইন মানার প্রবণতা বা কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত জরুরি। চালকরা যদি সচেতন না হন, তবে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে না।   বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, "বর্তমানে সড়কে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার যে প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে, তাতে বেশ কিছু সমস্যা হয়। একটি গাড়ি থামালে পেছনের সবগুলো গাড়ি আটকে গিয়ে কৃত্রিম যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় চালক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় সময় নষ্ট হয়। এছাড়া ভিআইপি যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে অনেক সময় পুলিশ দ্বিধায় পড়ে। এই বাস্তবতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।"   উদ্যোগটি যার আমলেই নেওয়া হোক না কেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং চালকদের আইন মানার মানসিকতা বজায় থাকলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: দ্য ডেল্টা লেন্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ১৫:৫১
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০