দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার নয়াপল্টনে পা রাখছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এটিই হবে দলীয় কার্যালয়ে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। আজ ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় তার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে নিজেই এই ঘোষণা দেন তারেক রহমান। সভা শেষে তিনি যখন মঞ্চ ত্যাগ করছিলেন, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙ্গা স্লোগান ও উচ্ছ্বাসের জবাবে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি বলেন, "আগামীকাল নয়াপল্টন অফিসে যাব। সেখানে তোমাদের দেখতে চাই।" প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নয়াপল্টন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি নিছক সফর নয়; বরং কার্যালয়ে বসে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়ভাবে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমালোচনা থাকবেই এবং রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ীই নিয়োগ দেবে। তিনি বলেন, “এটা এমন নয় যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।” বুধবার রাতে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাদেরকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দলীয় সরকার হলে কিছুটা দলীয় লোক থাকবেই—এটা স্বাভাবিক বিষয়। সমালোচনা হতে পারে, তবে এ নিয়ে তারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তাদের অতীত রেকর্ড খারাপ নয়, বরং ভালো। নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই যোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না বলেও জানান। এদিকে, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনো ঠিক হয়নি, তবে তার মতে, খুব শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের কার্যক্রম এক হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যদিও ধীরগতিতে। সরকার গঠনে সময় লাগায় দলের অনেক নেতা এখন সরকারে ব্যস্ত, ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার ও দল—দুটিই আলাদা সত্তা হিসেবে নিজ নিজ কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করল বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের দুই পাশের বড় ডিজিটাল পর্দায় ভেসে ওঠে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতীকী ছবি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে পৌঁছে যায় নির্ধারিত ভাতার অর্থ। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়তে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরে মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। এতে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন কার্ডপ্রাপ্ত নারী মঞ্চে উঠে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জরিনা বেগম নামে একজন নারী বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি এমন একটি কার্ড হাতে পাবেন। এই অর্থ তার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হওয়াকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রথম ধাপে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ইতোমধ্যে ভাতার অর্থ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ইতোমধ্যে সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও নৈতিকতার সংকট চলছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সময়টি অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যার মতো ঘটনাগুলো বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) মিলনায়তনে অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা, একটি রাষ্ট্রের প্রধান বা মতাদর্শিক নেতাকে হত্যা করা এবং প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বিশ্ব আজ কতটা নৈতিকতাহীন হয়ে পড়েছে। আমরা যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিকতায় বিশ্বাসী, তারা এখন চরম কষ্টে আছি। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তি সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, সুশাসন ও আইনের শাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মৃত অধ্যাপক শাহিদা রফিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় টেনে তোলা এবং রাষ্ট্রকে সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শাহিদা রফিকের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি, বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খুলতে উদ্যোগ, একাধিক সাবেক সংসদ সদস্যের জামিন এবং বিদেশে অবস্থানরত কিছু নেতার দেশে ফেরার খবরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্যালয় খুলতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পর আওয়ামী লীগের এই নড়াচড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নীরব সমর্থন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনপূর্ব ‘বোঝাপড়ার’ অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিকে জামায়াতে ইসলামী সরকারের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনো নিষিদ্ধ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। তার সঙ্গে মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ দেশ ছাড়েন। কেউ গ্রেপ্তার হন, বাকিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে ছাত্র-জনতার দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময় সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও আওয়ামী লীগের যেকোনো পুনরুত্থান চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। এরপর দেশের অর্ধশতাধিক স্থানে কার্যালয় খুলে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো, মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার খবর পাওয়া যায়। এমনকি শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেখ হাসিনার নামে শ্রদ্ধা নিবেদনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, কিছু স্থানে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যেই একের পর এক সাবেক এমপি ও জেলা-উপজেলার নেতাদের জামিন পাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। গত সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভী রহমান এবং কক্সবাজারের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা জামিন পেয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোট প্রত্যাশায় বিভিন্ন প্রার্থী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন অনেক জায়গায় বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে ভোট চাইতেও দেখা যায়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে-পরে দুই দলের মধ্যে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের বিজয়ও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রমে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। সরকারকে দ্রুত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন অনুযায়ীই সবকিছু বিবেচিত হবে এবং আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ অবস্থান বহাল থাকবে। তবে দলের ভেতর থেকেও বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমঝোতা থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা সামনের দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। হামলার সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান মেইন রোডে, বিট অফিসের বিপরীতে অবস্থিত ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ঢাকা উদ্যান দক্ষিণ ইউনিট বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ইউনিট সভাপতি ইউসুফ আলী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এতে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বসির উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল হক টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজসহ ছাত্রদল কর্মী আরিফ, নয়ন ও মিরাজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা অতর্কিতভাবে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয় এবং দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছবি নষ্ট করা হয়। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভাঙচুরের পর অভিযুক্তরা আরও লোকজন নিয়ে বিজয় মিছিল করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিকেলে হঠাৎ ৫০–৬০ জনের একটি দল এসে কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং পরে মিছিল বের করে। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বসির উল্লাহ বলেন, ঘটনার সময় তিনি তেজগাঁও এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলে ছিলেন। তাঁর নাম ব্যবহার করে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলেও জানান। এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা একটি এজাহার পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘৫২, ৭১, ৯০ ও ২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে আমরা জাতি গঠনের পথে এগিয়ে যাবো। দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে আমরা একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছি।’ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে বেসরকারি সংস্থা ইএসডিও আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের বয়স মাত্র ১৫ দিন হলেও ইতোমধ্যে লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার আলোকে ঠাকুরগাঁও মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়নে একটি টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ইপিজেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়নের পথে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে। গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা কখনো হার মানিনি, মানবো না। মহান আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন, যেন আমরা দেশকে হিংসামুক্ত ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারি।’ ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পিলখানা ট্র্যাজেডিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নিহত ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, "এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়। বাতাসের প্রতিটি কম্পনে আজও ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ।" তারেক রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "গত ১৭ বছর ধরে আপনারা ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। আমি আপনাদের সেই নিদারুণ যন্ত্রণা উপলব্ধি করি। পিলখানার এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আমরা যদি এই দিনটিকে ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদা না দিই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই স্মৃতিকে চিরকাল অম্লান করে রাখতে কাজ করবে।" সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, তখন এই বাহিনীর সদস্যরা (তদানীন্তন ইপিআর) তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানই এই বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সীমান্ত বাহিনীকে আরও সুসংহত, আধুনিক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপান্তর করবে যাতে বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায়। শহীদ পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান জানান, তাদের সন্তানদের শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। তিনি পবিত্র মাহে রমজানের এই সময়ে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ছাড়াও সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উপস্থিত শহীদ স্বজনদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গয়েশ্বর জানান, মন্ত্রী পদ না থাকার বিষয়টি জানেই তিনি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে রাগ করে চলে আসার বিষয়টি তিনি মিথ্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে লড়াই করা, নিয়ম প্রতিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের মধ্যেই তাঁর প্রধান কাজ নিহিত। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ অনুষ্ঠানে ভাইরাল হওয়া বাগবিতণ্ডার ভিডিও সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় ডাক পেলে আগেই জানতেন এবং একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে সামনের সারিতে বসার আসনও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে একজন কর্মকর্তা বিষয়টি না জেনে মন্ত্রী ছাড়া অন্য সবাইকে আসন ছাড়তে বলেন, যা না করলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ডাকার হুমকিও দেন। এই পরিস্থিতির কারণে তিনি অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগের সঞ্চালনায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী ও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর কুমিল্লার বরুড়ায় এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে নিজের দলেরই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নবনিযুক্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। গত শনিবার সন্ধ্যায় বরুড়ায় নিজ বাসভবনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও জনরোষে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে সমালোচনার ঝড়। জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার এমন ‘আপোষকামী’ আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। শুভেচ্ছা জানানো সেই ‘নিষিদ্ধ’ মুখগুলো: মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো এসব ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রায় সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী। তালিকায় রয়েছেন— উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামান মাসুদসহ অন্তত ১৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান। তাঁরা সবাই বরুড়ার সাবেক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শফিউদ্দিন শামীমের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের ক্ষোভের আগুন: বিএনপির সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, এই আওয়ামী নেতাদের নেতৃত্বেই গত ১৭ বছর বরুড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া ছিলেন। অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হামলা আর নির্যাতনের শিকার হওয়া ত্যাগী কর্মীরা এখন দিশেহারা। আব্দুল হাকিম নামে এক বিএনপি কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, “এই নেতারাই আমাদের পিটিয়েছে, এখন ওরাই আবার মন্ত্রীর পাশে বসে ফুল দিচ্ছে। হালুয়া-রুটির ভাগ সবাই মিলেমিশে খাচ্ছে, আর আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের কপালে এখনো সেই গাছতলা আর ধানক্ষেত!” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকে লিখছেন— “যাদের কারণে শত শত কর্মী পঙ্গু হয়েছে, তাদের হাত থেকে ফুল নেওয়া শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” জুলাই বিপ্লবের পর যেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারের আওতায় আনার কথা, সেখানে বিএনপির নেতারাই তাঁদের ‘শেল্টার’ দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের শুরুতে এমন ঘটনা জনমনে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজার এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় (বিএনপি ক্লাব) লক্ষ্য করে হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই অতর্কিত হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত দ্রুতগতির সাথে ক্লাবের সামনে পৌঁছায় এবং লক্ষ্যবস্তু করে বেশ কয়েকটি হাতবোমা ছুড়ে মারে। বিকট শব্দে বোমাগুলো বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পাওয়ার পরপরই নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করা হয়, যা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই হামলাকে ‘সুপরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে ভূমখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল পেদা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। উদ্ধারকৃত অবিস্ফোরিত বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার নেতৃত্বে বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আহতরা বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতরা হলেন— পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (৩৮), এবং স্থানীয় কর্মী নাছির উদ্দীন ফকির (৫০), নাইম হোসেন (২৮) ও মো. নাহিদ হোসেন (১৮)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকু, তাঁর ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী রায়হান এবং টুকুর ভাই যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহত জাহিদ হোসেন ও নাসির ফকির বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশোধ নিতেই নিষিদ্ধ দলের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমাদের একমাত্র অপরাধ আমরা বিএনপি করি।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ পত্তাশী বাজার এলাকায় আর্তচিৎকার শুনে তাঁরা এগিয়ে যান। সেখানে পাঁচজনকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের রাতেই পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু দাবি করেছেন, তিনি কোনো হামলায় জড়িত নন। বরং মারামারি থামাতে গিয়ে তিনি নিজেই আহত হয়েছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং উল্টো বেকারত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষা বেকার তৈরির জন্য নয়; বরং দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের প্রধান মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে এখনই পুনর্গঠন করা জরুরি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “যে শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারে না, তা অর্থহীন। আমাদের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। নতুন কলেজ বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বাজারের চাহিদা ও বাস্তব কর্মসংস্থানের ওপর। কেবল আবেগ দিয়ে নয়, প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঠ্যসূচি অনুমোদিত হবে।” শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিকতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ড. মিলন বলেন, “কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, নৈতিক অবক্ষয়ও আমাদের বড় শত্রু। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারের কোষাগার থেকে অর্থ নেবে, অথচ শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবে না—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ট্যাক্সের পয়সার প্রতিটি হিসাব আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।” ভাষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলা আমাদের আবেগ ও অস্তিত্বের প্রধান বাহন। একুশের চেতনাকে রাষ্ট্রীয় ও কর্মজীবনের প্রতিটি স্তরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে একই সাথে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনকে তিনি অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষা ও বিকাশেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। আলোচকরা একটি দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়তে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত পাট, বস্ত্র, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, “ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টর অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকে ভারতের এক ধরণের প্রাধান্য থাকবেই। তবে আমরা চাই আমাদের রপ্তানি যেন আরও বৃদ্ধি পায় এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যেন একটি ন্যায্য ভারসাম্য বজায় থাকে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারত এখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির একটি বড় হাব। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে তারা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। আমরা চাই বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারত যেন আমাদের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। গুগলের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সেখানে কাজ করছে, সেই প্রযুক্তিগত সুবিধা আমাদের দেশেও নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।” খন্দকার আবদুল মুক্তাদির মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল শক্তিশালীই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এর আগে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু নেতাদের কাছ থেকে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি শহীদদের প্রতি এই পরম শ্রদ্ধা জানান। তবে এবারের আয়োজনে দেশবাসী এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে কেবলামুখি হয়ে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান জাতীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি মহান আল্লাহর কাছে শহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করলেন। শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রধানমন্ত্রীর এই বিনম্র প্রার্থনা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অবস্থান উপস্থিত সবার মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের ত্যাগ ও বীরত্বগাথা স্মরণ করেন। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন এবং দেশীয় সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের এক চমৎকার সমন্বয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করেছে বায়ান্নর সেই অকুতোভয় সন্তানদের, যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমসহ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ। একই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দলীয়ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সর্বস্তরের ভিভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের করুণ সুরে খালি পায়ে এবং হাতে ফুল নিয়ে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানান। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একুশের এই আয়োজন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান-এর কন্যা জাইমা রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার প্রতি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি বাবার দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে পোস্টটি শেয়ার করেন। জাইমা রহমান লিখেছেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা সন্তানদের কাছে আদর্শ হিসেবে থাকেন। তিনি তার বাবার পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান চরিত্রের প্রশংসা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে বাবার ওপর তিনি পূর্ণভাবে ভরসা রাখতে পারেন। পোস্টে তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দেশের প্রতি মমত্ববোধের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তাকে আজকের অবস্থানে এনেছে। জাইমা আরও আশা প্রকাশ করেছেন, এই গুণাবলি ও নিষ্ঠাই তাকে একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এই পোস্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নেটিজেনরা ব্যাপক সমাদর জানিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ শুভকামনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকারের মূলমন্ত্র হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থই আমাদের ‘রেডলাইন’ খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার একটি কথা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে দেশের সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তবে মনে রাখবেন, জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ আমাদের জন্য ‘রেডলাইন’। আমরা আমাদের প্রতিটি পাওনা পই পই করে বুঝে নেব।” জিয়াউর রহমানের নীতিতে প্রত্যাবর্তন শহীদ রাষ্ট্রপতির আমলের কূটনৈতিক সাফল্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সদস্যপদ পাওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় আমরা জাপানের মতো শক্তিশালী দেশকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়েছিলাম। এছাড়া সার্ক গঠন এবং আল-কুদস কমিটিতে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। বাংলাদেশ তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখতে পারেনি এতদিন, আমরা সেই গৌরবময় অবস্থানেই দেশকে ফিরিয়ে নিতে চাই।” রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক রাজনীতি রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর তাঁর যে বিশেষ নজর ছিল, তা এখন আরও বাড়বে। তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এই সমস্যার একটি টেকসই ও দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।” ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমালোচনার জবাব নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সমালোচনা এবং তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন খলিলুর রহমান। নির্বাচনে ‘রেফারি’র ভূমিকা পালন করে এখন সরকারের অংশ হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, “অনেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছেন। তার মানে তো গণনা নিয়ে প্রশ্ন! আমার উত্তর খুব সহজ—সন্দেহ থাকলে গুনে নিন আরেকবার। গুনতে তো কোনো বাধা নেই।” নির্বাচনে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভুল তথ্য আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। আপনারা গুজবের কারখানা না হয়ে সত্যের বাহক হোন। আমাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে, আর সেই বার্তার যোগসূত্র হলেন আপনারা।”
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকারের অধীনে কোনো দলীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি বা জোর-জবরদস্তির স্থান হবে না; বরং আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত ভিত্তি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে তিনি এক বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং জুলাই বিপ্লবসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা শেষে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই।” জাতীয় ঐক্যের ডাক: দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—পাহাড় কিংবা সমতলে যেখানেই আমাদের অবস্থান হোক না কেন, এই দেশ আমাদের সবার। আমরা প্রতিটি নাগরিকের জন্য এই জমিনকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন: বিগত শাসনের ক্ষত তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে জনমনে শান্তি ফিরিয়ে আনা।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ। তাই এসব সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার: প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখন থেকে কোনো ব্যক্তির ইশারায় নয়, বরং নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়মে পরিচালিত হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইনের শাসন সবার জন্য সমান হবে এবং এটিই হবে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।” তারেক রহমানের এই ভাষণ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা নতুন সরকারের প্রতি জনআস্থা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। তিনি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমানে ৫০ সদস্যের একটি বিশালাকার মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তারেক রহমান সরকারের জন্য এক বিশাল সাফল্য। এটি দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন এক ঘোষণা দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ঈশ্বরগঞ্জের কোনো বাজারে নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’র মামলা করা হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে। এমপি মাজেদ বাবু তাঁর নির্দেশনায় উল্লেখ করেন, ঈশ্বরগঞ্জের প্রতিটি বাজারে সরকারিভাবে নির্ধারিত খাজনার ‘রেট চার্ট’ দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে। চার্ট না দেখা পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ যেন খাজনা না দেন, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপের বোঝা কমাতে তিনি খাজনার হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। বাজার ইজারাদারদের সতর্ক করে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “জনগণের পকেট কাটার দিন ফুরিয়ে আসছে। যারা বাজার ইজারা নিয়েছেন, তারা যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে পেশীবল ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন, তবে প্রমাণ পাওয়ামাত্রই তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।” এই ঘোষণার পর ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ‘নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর ফেসবুক পোস্টে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সাত শতাধিক ইতিবাচক মন্তব্য পড়েছে। অনেকেই স্ক্রিনশট শেয়ার করে এই সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, জনপ্রতিনিধিরা যদি শুরু থেকেই এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন, তবে সমাজ থেকে খুব দ্রুতই অপরাধ ও অনিয়ম দূর হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।