- প্রচ্ছদ
- অপরাধ
অপরাধ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের কর্মী এবং দালালদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে। সিআইডির তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র চুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা কৌশল। কোথাও ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে, আবার কোথাও কর্মকর্তার কক্ষের ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রশ্নের কপি করা হয়েছে। বিজি প্রেস থেকেও প্রশ্নপত্র বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি এসেছে পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলামকে ঘিরে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে তিনি পিএসসির এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাবি সংগ্রহ করে ওই কক্ষে ঢোকেন সাজেদুল। এরপর হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে একটি ট্রাংকের তালা কেটে ফাইনাল মডারেশনের চার সেট হাতে লেখা প্রশ্নপত্র বের করেন।প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ওই কর্মকর্তার কক্ষেই থাকা অফিসিয়াল ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে চার সেট প্রশ্নের কপি করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মূল প্রশ্নপত্রগুলো আবার ট্রাংকে রেখে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ওই চার সেট প্রশ্নপত্রে মোট ৮০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ছিল। পরে প্রশ্নগুলো এক জায়গায় না লিখে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কম্পিউটারের দোকানে অল্প অল্প করে কম্পোজ করানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের বিনিময়ে সাজেদুল ইসলাম ৭৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের নাম। সেখানে কর্মরত কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিজি প্রেসের কর্মী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মজনু মিয়া প্রশ্নপত্রের ছবি তোলা কিংবা কাগজ বাইরে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র শরীরে লুকিয়ে বাইরে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে পিএসসির সাবেক কর্মী মো. খলিলুর রহমানের নাম। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাকরি হারিয়েছিলেন। পরে পুনর্বহাল হওয়ার পর আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিআইডির তদন্তে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নামও গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে এসেছে। এ ঘটনায় সিআইডি মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিজি প্রেসের কর্মী এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের হিসাব, প্রার্থীদের তথ্য এবং যোগাযোগের নথি উদ্ধারের কথাও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য সিআইডির তদন্ত ও অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ। আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত। এই তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। একটি প্রশ্নপত্র কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাজারে পৌঁছাল, কারা কোথায় সহায়তা করেছে এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে এই নেটওয়ার্ক কীভাবে চলেছে—এসব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। জাপানের টোকিওতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি চার ব্যাংককর্মীকে থামিয়ে এমন এক নাটক সাজিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে প্রায় ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সেই অর্থ উদ্ধার হয়নি, ধরা পড়েনি ঘটনার মূল হোতাও। সেদিন চার ব্যাংককর্মী একটি গাড়িতে করে টশিবার ফুচু কারখানার কর্মীদের বোনাসের টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ছিল ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ইয়েন। ১৯৬৮ সালের বিনিময় হারে যার মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে এক ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামান। পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের বাড়িতে বি স্ফো রণ ঘটেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, তাদের গাড়িতেও বো ম থাকতে পারে। ভয় পেয়ে চার ব্যাংককর্মী গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি গাড়ির নিচে ঢুকে পরীক্ষা করার ভান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকার করে জানান, গাড়ির নিচে ডা য় না মাই ট পাওয়া গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে গাড়িটি বি স্ফো রিত হতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গাড়ির নিচে ধোঁয়া ও আগুনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে জানা যায়, ওই ধোঁয়া ও আগুন আসলে একটি ফ্লেয়ার থেকে তৈরি করা হয়েছিল। আতঙ্কিত ব্যাংককর্মীরা গাড়ি থেকে দূরে সরে গেলে ভুয়া পুলিশ সদস্যটি গাড়িতে উঠে সেটি চালিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি জাপানে ‘৩০ কোটি ইয়েন ডাকাতি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তদন্তে যুক্ত হন এবং অসংখ্য সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০টি আলামতও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এর কিছু ছিল তদন্তকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো। তদন্তে একজন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম সামনে এসেছিল। তবে তাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। চুরি যাওয়া অর্থও আর কখনো উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ১৯৬৮ সালের সেই ঘটনার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাপানের আলোচিত এই ডাকাতির রহস্য এখনো অমীমাংসিত। পুলিশের পোশাক, সাজানো বি স্ফো রণের ভয় এবং কয়েক মিনিটের অভিনয় ব্যবহার করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আজও জাপানের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সাহস ও সংযমের প্রশংসা করেছেন সাংবাদিক শহিদুল আলম। দেশে থাকলে সালমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাকে জড়িয়ে ধরতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শহিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশে থাকলে তিনি সরাসরি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে চলে যেতেন এবং তার সাহস ও সংযমের জন্য তাকে জড়িয়ে ধরতেন। একই সঙ্গে সালমানকে শক্ত থাকার বার্তাও দেন তিনি। শহিদুল আলমের এই প্রতিক্রিয়া আসে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও বার্তার পর। হামলার পর স্টুডিওতে গিয়ে সালমান ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। বিভিন্ন আসবাব, টেলিভিশন, স্টুডিও সরঞ্জামসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র ভিডিওতে দেখা যায়। স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকেও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও সালমান মুক্তাদির তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তার কথা জানান। তিনি বলেন, স্টুডিও ধ্বংস হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার চেষ্টা করবেন। তার এই অবস্থানই শহিদুল আলমের প্রশংসা পেয়েছে। শহিদুল আলম শুধু সালমানের সাহসের প্রশংসা করেই থামেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দাঁড়ান তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। এদিকে হামলার কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির চাঁদাবাজির অভিযোগের কথা বলেন। অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানানো হয়েছে। এর আগে সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই স্পষ্ট হবে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামিদের জামিন বা খালাসে আপত্তি না থাকার কথাও জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন আইনের এ ধরনের মামলা আপসযোগ্য নয় এবং দুই পক্ষের সমঝোতা আদালত গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে। মেহেদী ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসন থেকে বের হওয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ। মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার পর গাড়ির ড্রাইভিং সিটের দরজা দিয়ে ওই কিশোরকে বের হতে দেখা গেছে এবং তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কিশোরকে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এ হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির জামিন না দিয়ে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোট ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ এবং মেহেদীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় মামলাটি প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং কিশোর ও মামলায় নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিনের বিষয়ে বাদীপক্ষের অনাপত্তির কথা রয়েছে। নিহত মেহেদীর ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলামও আপস হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, যদিও টাকার পরিমাণ সম্পর্কে তিনি তার মামার কাছে জানতে বলেন। তবে এই আপসের পরও মামলার তদন্ত থেমে যাচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফিন ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সমঝোতা তদন্তে প্রভাব ফেলবে না এবং পুলিশ তাদের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা এ মামলা আপসযোগ্য নয়। ফলে বাদী ও আসামিপক্ষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছালেও আদালত সেই সমঝোতা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। মামলার তদন্ত শেষে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী (৫৪) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবিকার জন্য লিবিয়ার ত্রিপোলিতে থাকতেন। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ত্রিপোলির আনজারা এলাকায় বাসার সামনে থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত একটি ভবনে আটকে রাখা হয় এবং তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পিবিআই জানায়, অপহরণের দুই দিন পর ইদ্রিসকে মারধর করে সেই দৃশ্য ইমো ভিডিও কলের মাধ্যমে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে দেখানো হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথমে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই অর্থ পাঠান ফাতেমা। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার পরও ইদ্রিসকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পিবিআই বলছে, এ সময় লোহার রড দিয়ে মারধরে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। বন্দি অবস্থায় তাকে দিনে মাত্র একটি রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিবার পরে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আরও অর্থ পাঠায়। পিবিআইয়ের হিসাবে, সব মিলিয়ে পরিবারটির কাছ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। প্রায় এক মাস ১৪ দিন আটকে রাখার পর ইদ্রিসকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তিনি ২০২৫ সালের ২২ জুলাই দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ইদ্রিস। তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মর্জিনা বেগম (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পিবিআই জানিয়েছে, মর্জিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের ভাষ্য, তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যারা লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান চলছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের শৌচাগার থেকে ৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করে। গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল, উড়োজাহাজটিতে শতাধিক স্বর্ণের বার পাচার করা হতে পারে। ফ্লাইট অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন কর্মকর্তারা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশির একপর্যায়ে শৌচাগারের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৫০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১০ তোলা; সব মিলিয়ে ৫০০ তোলা বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগ বা লাগেজ থেকে উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উড়োজাহাজের শৌচাগারের ভেতরে লুকানো ছিল। ফলে কে বা কারা সেখানে স্বর্ণ রেখেছিল এবং বিমানবন্দর থেকে সেগুলো কীভাবে বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে পাচারকারী হিসেবে শনাক্ত করেনি। শুল্ক গোয়েন্দারা সংগঠিত কোনো স্বর্ণ চোরাচালান চক্র এর সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখবেন।
পটুয়াখালীর বাউফলে মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিকের প্রতিবেদনে চারজন গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে একই পরিবারের মোট ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও তাঁদের মা মনোয়ারা বেগম। পরবর্তী প্রতিবেদনে হোসনেয়ারা বেগম ও পূর্ণি বেগম নামে আরও দুই পরিবারের সদস্য আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ৬০০ টাকা মজুরি নিয়ে। আহত জহিরুলের অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল মৃধার জমিতে কাজ করার পর তাঁর ৬০০ টাকা মজুরি পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারও পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং রাসেলও আহত হন। পরদিন সোমবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহিরুল বৈঠক ছেড়ে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এরপর রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে জহিরুলের পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় প্রথমে জহিরুলকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে মা মনোয়ারা বেগম এবং দুই ভাই রেজাউল ও খাইরুল এগিয়ে এলে তাঁরাও হামলার শিকার হন। পরবর্তী প্রতিবেদনে পরিবারের আরও দুই নারী সদস্য আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আনা আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ও পরবর্তী হামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত ও লিখিত অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
রংপুরের পীরগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. নুরুল ইসলাম (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের গুজিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটির মা স্থানীয় বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ইউক্যালিপটাস বাগানের কাছে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে দেখতে পান তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষের দরজা বন্ধ অবস্থায় শিশুটিকে কান্নারত দেখতে পান। তাকে বাইরে আনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তার কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে জানিয়েছে—নুরুল ইসলাম তাকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিশুটির মা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৩৩। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় এলো। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও শাহজাহান। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক। এ ছাড়া মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী ওই অভিযোগপত্রে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত করে। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আটজনের বিরুদ্ধেই পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল মিয়ার বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে শিশুটিকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যান হামিদুল। এর আগে শিশুটির মা রুমানা আক্তারের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর হামিদুলের হাতে ৩১ হাজার টাকা পৌঁছায়। রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আটকের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে। আজকের পত্রিকা ও যুগান্তর তিনজন আটকের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ইত্তেফাক ও দীপ্ত নিউজ বাবা হামিদুলসহ চারজন আটকের কথা বলেছে। তাই তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তথ্য না আসা পর্যন্ত সংখ্যাটি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। শিশুটিকে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে বিক্রি করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার একটি ভিডিওতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পাশে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড স্টেশন কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, রাত প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ৩০ নম্বর পিলারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বিস্ফোরণের আগে ও পরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক টহল ও অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। কমলাপুরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন একই সন্ধ্যায় রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর আসে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুর ও বাড্ডায় তিনটি স্টাফ বাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মিরপুরে দুটি ও বাড্ডায় একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনেও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। কালবেলার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মো. বিল্লাল নামের ৩২ বছর বয়সী এক রিকশাচালক আহত হন। কমলাপুর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে প্ল্যাটফর্মে বিস্ফোরণের ঘটনাটি যাত্রীনিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ঘটনার পর পুলিশ স্টেশন ও আশপাশে নজরদারি এবং টহল বাড়িয়েছে। তবে কমলাপুরের বিস্ফোরণের দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর নিশ্চিতভাবে আরোপ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের পর দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট প্রতিটি ঘটনার দায় তদন্ত ও আদালতের প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সরকার মনে করছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সরকার শঙ্কিত নয় বলেও জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার ও মগবাজারসহ ছয়টি স্থানে মোট ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সব ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত চলছিল। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রাতে চালক ও সহকারী ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করে রাখা কয়েকটি বাসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মিলিয়ে রাজধানীতে তিন শতাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের পাশাপাশি বিভিন্ন উড়ালসড়কের ওঠানামার স্থানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর কয়েক দিন আগেও সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল ঘিরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাজা ককটেল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের বিচার রামিসা হত্যার মতোই দ্রুততম সময়ে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশ আইনানুগ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করবে এবং বিচার বিভাগ মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার শেষ করার উদ্যোগ নেবে। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আরও একজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি। তবে আদালতে চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র ছিল অপ্রতিমের মায়ের আইফোন। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয় এবং একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন উদ্ধার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে বয়স নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে এবং কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। এ ঘটনায় কিশোর অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি আসামিদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি দেখছে। একই সঙ্গে ফরেনসিকসহ তদন্তের অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নামেন। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রসঙ্গে রামিসা হত্যার মামলার উদাহরণ দেন। চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলাটি মাত্র ছয় কার্যদিবসে বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়ায় যায়। রোববারের বক্তব্যে অপ্রতিম হত্যার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিচার করবে আদালত; সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সহযোগিতা করবে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার বিভাগ মামলাটিকে গুরুত্ব দিলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক কারণ থাকতে পারে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমসহ সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করা হয়। নিহত অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। ফুটেজের সূত্র ধরে প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে আনাস ও ফাহিমকেও আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক তিনজনের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় শিকড় পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে শিকড় পরিবহনের বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন লাগার পর বাসটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বাসটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও জানা যাবে।
ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গালাগাল ও কটূক্তির অভিযোগে সঞ্জয় কুমার দাস নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মেহেরপুর শহরের গড়পুকুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সঞ্জয় মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের হিরন কুমার দাসের ছেলে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে গালাগাল ও কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে। অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে শুধু গালাগাল নয়, প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে পুলিশ। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে গড়পুকুর এলাকা থেকে সঞ্জয়কে আটক করে সদর থানা-পুলিশ। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার অভিযোগে সঞ্জয়কে আটক করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলা ছিল এবং সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ওসির বক্তব্যে বলা হয়েছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আজকের পত্রিকাও জানিয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন থাকার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থার বর্ণনায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আটকের পর সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত মূলত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ভিডিও থেকে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সঞ্জয় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। তবে ভিডিওতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আর শুধু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষে সীমাবদ্ধ থাকেনি; পুলিশি পদক্ষেপের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে সঞ্জয়ের নিজের বক্তব্য বা তাঁর পরিবারের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তিনি যে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছেন, সেই মামলাটি কী অভিযোগে, কবে দায়ের হয়েছিল এবং সেখানে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী—প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে এ অংশে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত কিছু যোগ করা ঠিক হবে না। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলেও সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পুলিশের ভাষ্য। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে বর্ণনা না করে ‘অভিযোগে আটক’ বা ‘গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে’—এভাবে উল্লেখ করাই যথাযথ।
রাজধানীর মালিবাগে ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনায় ব্যস্ত এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান করছে। প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে মালিবাগ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। অন্যদিকে ঢাকা টাইমস পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টার দিকে মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুটি ককটেল নিচের সড়কে নিক্ষেপ করে। তবে এসব বর্ণনা একই ঘটনার ভিন্ন বিবরণ কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনবহুল এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।কারা ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিবাগের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। জগন্নাথ হলের সামনের বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেলেও তদন্তের আগে কোনো একটি বর্ণনাকে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। টিএসসি এলাকার বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এর আগে একই দিন, ১৫ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের কাছেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে সমসাময়িক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণার পর। তবে রায়ের সঙ্গে বিস্ফোরণের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ; শুধু সময়ের নৈকট্য থেকে কোনো উদ্দেশ্য বা দায় নির্ধারণ করা যায় না। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালিবাগের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সাংগঠনিক বা অন্য ধরনের যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। মালিবাগের সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকেই ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালিবাগের বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর নেই। কারা ককটেল নিক্ষেপ করেছে এবং কেন করেছে—এখন তদন্তের প্রধান প্রশ্ন সেটিই।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে শাস্তি পাওয়া প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল এবার খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হয়েছেন। ২ সেপ্টেম্বর তাকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের পর ভবনে হাঁটাচলার সময় কম্পন অনুভূত হওয়ায় ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে নির্মাণকাজে অনিয়মের তথ্য পায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নকশা অনুযায়ী ছাদের কংক্রিটের পুরুত্ব সাড়ে ৫ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও কোথাও তা ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি পাওয়া যায়। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তদন্তের পর সাতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি দেওয়া হয় এবং চার বছরের জন্য তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাণকাজের একটি পর্যায়ে জুয়েল বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে অনুপস্থিত সময়ের নির্মাণকাজের মেজারমেন্ট বুক যাচাই না করেই তাতে স্বাক্ষর করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধে সহযোগিতা করার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুয়েল। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ওই সময় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগের শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে পদোন্নতি দেয়। ২০২৫ সালে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে ২৮ জুন তাকে প্রেষণে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি। খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বা ফেজ-২ গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। এর আওতায় নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন পাইপলাইন ও পানির সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নিয়ে এর আগে খুলনা ওয়াসায় একাধিক দফায় পরিবর্তন ও আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটির রুটিন দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে এ বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২ সেপ্টেম্বর আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জুয়েলের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়ম, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের বদলি ও পদায়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জুয়েল। এদিকে এত বড় একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্ব এমন একজন কর্মকর্তাকে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, নগরীর সুপেয় পানি সরবরাহ, বিলের ভোগান্তি ও সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ নানা সমস্যায় ওয়াসা সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করা প্রয়োজন। তবে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং তাকে নতুন করে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সৈয়দ ইমাম নামে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৪ মার্চ ভোরে ক্যানারি ওয়ার্ফ ট্রেন স্টেশনের কাছে একটি আন্ডারপাসে ওই নারীকে যৌন হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক করেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম পূর্ব লন্ডনের বেডিংটনের ক্রয়ডন রোডের বাসিন্দা। ঘটনার আগে ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা তার আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করেন। পরে তারা তাকে ওই নারীর ওপর হামলা চালাতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা থামান এবং তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে গ্রেপ্তার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশের প্রকাশ করা বডি-ক্যামেরার ফুটেজেও গ্রেপ্তারের সময় ইমামের কথোপকথন উঠে আসে। পুলিশ তাকে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অপরাধ করতে দেখেছেন। তবে ইমাম দাবি করেন, তাকে কেউ দেখেনি এবং তার গ্রেপ্তারের কারণকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেন। মামলায় ভুক্তভোগী নারীর স্মৃতির সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর ওই নারী কী ঘটেছিল তার কোনো স্মৃতি মনে করতে পারছিলেন না। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং তদন্তে সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া হয়। ২ জুলাই স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চার দিনব্যাপী বিচার শেষে ইমাম ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তদন্তে যুক্ত গোয়েন্দা কনস্টেবল ম্যাডেলিন পাওয়েল বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। সন্দেহজনক বা উদ্বেগজনক কোনো আচরণ চোখে পড়লে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ। মামলার পুরো প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী নারীকে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা সহায়তা করেছেন। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি ঘটনার কারণে সৃষ্ট মানসিক আঘাত মোকাবিলাতেও তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। সূত্র: tv3bangla
একসময় যে মুখে ছিল স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন, স্বামীর অ্যাসিড হামলার পর সেই মুখই এখন বয়ে বেড়াচ্ছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। চিকিৎসা চলছে, কিন্তু এখনো শেষ হয়নি লড়াই। প্রয়োজন মুখের জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার। অথচ শারীরিক ও আর্থিক সংকটে সেই চিকিৎসার পথও হয়ে উঠেছে কঠিন। স্বামীর অ্যাসিড হামলায় গুরুতরভাবে মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন ওই নারী। হামলার ক্ষত শুধু তাঁর মুখের স্বাভাবিক গঠনই বদলে দেয়নি, থমকে দিয়েছে তাঁর স্বাভাবিক জীবনও। চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত মুখের গঠন ও কার্যকারিতা যতটা সম্ভব ফিরিয়ে আনতে তাঁর বিশেষায়িত ফেসিয়াল রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে আয়-রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। শারীরিক অবস্থার কারণে কাজে ফিরতে পারছেন না তিনি। একদিকে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে সংসার ও দৈনন্দিন জীবনের খরচ—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। অ্যাসিড হামলার ক্ষত অনেক সময় শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; মুখের গঠন, চোখ, নাক, ঠোঁটসহ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতাতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে একাধিক ধাপে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে। এই নারীও এখন সেই দীর্ঘ পথের যাত্রী। প্রতিদিন আয়নার সামনে নিজের বদলে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁকে মনে করতে হয় সেই ভয়াবহ দিনের কথা। শারীরিক যন্ত্রণা, মানুষের দৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, জীবনের প্রতি তাঁর গভীর হতাশা ও মৃত্যুর আকুতির কথাও সামনে এসেছে। তবে তাঁর প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি নিরাপদ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার এবং আর্থিক ও মানসিক সহায়তা। একটি অ্যাসিড হামলা একজন মানুষের মুখের চেহারা বদলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কর্মজীবন, সামাজিক জীবন ও মানসিক সুস্থতার ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজ তাঁর একটাই প্রত্যাশা—একদিন যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। মুখের ক্ষত হয়তো পুরোপুরি মুছে যাবে না, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ হয়তো এখনো আছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের অধিকাংশকে মেগিদ্দো ও ওফার কারাগারে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মধ্যে এসব শিশুও রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শিশুদের আটক এখন নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ২৭৬ ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আটক রাখা যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বন্দিদের মারধর, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার বিষয় রয়েছে। তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। আটক শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।