- প্রচ্ছদ
- অপরাধ
অপরাধ
সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তে তার ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, একই তদন্তের অংশ হিসেবে সোয়ালওয়েলের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোয়ালওয়েলের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার পর তার ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনাগুলো গত সপ্তাহের শেষ দিকে ঘটেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চার নারী সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে যৌন নিপীড়ন এবং অনিচ্ছাকৃত যৌন ছবি পাঠানোর দাবিও রয়েছে। সোয়ালওয়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজের কিছু আচরণকে ‘বিচারবোধের ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করলেও অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ সামনে আসার পর সোয়ালওয়েল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ান এবং কংগ্রেসের সদস্যপদও ছেড়ে দেন। তার পদে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এখন এফবিআইয়ের তল্লাশি ও ডিভাইস জব্দের মাধ্যমে তদন্ত আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বা তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন তথ্য নেই। এফবিআই ও বিচার বিভাগও তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানে স্থানীয় পুলিশকে আরও সক্রিয় করতে নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে আইস। সংস্থাটির হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বীমার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। আইসের শুক্রবার প্রকাশিত একটি পরিকল্পনা নথিতে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত উঠে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা পাওয়া স্থানীয় কর্মকর্তারা নিজের নামে বীমা কিনতে পারবেন। সেই বীমায় ব্যক্তিগত দায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত কভার করার কথা রয়েছে। এই বীমা মূলত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সম্ভাব্য আইনি খরচ, ক্ষতিপূরণ বা আদালতের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া ব্যক্তিগত আর্থিক দায় সামলাতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ অভিবাসন অভিযানে অংশ নিয়ে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মামলার মুখে পড়লে তার আর্থিক ঝুঁকির একটি অংশ বীমার আওতায় আসতে পারে। তবে আইস সরাসরি প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ৫ লাখ ডলার দেবে - বিষয়টি এমন নয়। কর্মকর্তারা বীমা কিনবেন এবং আইস বছরে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত বীমার খরচ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, এই পরিমাণ অর্থেই সাধারণত প্রস্তাবিত বীমার বার্ষিক খরচ মেটানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি আইসের বহুল আলোচিত ২৮৭(জি) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালের ফেডারেল অভিবাসন আইনের একটি ধারার নামে এই কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইস নির্দিষ্ট চুক্তির অধীনে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের কিছু ক্ষমতা দিতে পারে। আইসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮৭(জি) কর্মসূচির জন্য যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রচারসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সেই ঠিকাদারই বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং কর্মকর্তাদের বীমার অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে - চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে এমন নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে। কিন্তু স্থানীয় পুলিশকে অভিবাসন অভিযানে যুক্ত করার বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। নতুন বীমা পরিকল্পনার গুরুত্ব এখানেই। কোনো স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আইসের হয়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত মামলার আশঙ্কায় থাকলে সেটি তার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রস্তাবিত বীমা সেই আর্থিক ঝুঁকি কমিয়ে আরও বেশি স্থানীয় কর্মকর্তাকে ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে বীমা থাকার অর্থ কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তিনি আইনি দায়মুক্তি পাবেন - এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাব্য ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলার বীমা ব্যবস্থা। কোনো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না বা কর্মকর্তা দায়ী কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। ফলে আইসের নতুন প্রস্তাবটি শুধু একটি বীমা কর্মসূচির বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশকে আরও বড় পরিসরে যুক্ত করার যে উদ্যোগ চলছে, এই পরিকল্পনাকে তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লেক্সিংটন শহরের চার্লস ইয়ং পার্কে গুলির ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে পার্কে গুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় সেখানে ‘ইস্ট এন্ড ডে’ নামে একটি কমিউনিটি আয়োজন চলছিল। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৬ বছর বয়সী ডি’ঝন রবার্টসনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ফায়েট কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গুলির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আহত চারজনের মধ্যে ৪ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু এবং দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে পরে ১৮ বছর বয়সী জামেট্রিয়াস গ্রিফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বর্তমানে তাঁকে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বন্ডে আটক রাখা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। ঘটনার সময় পার্কে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুরো কমিউনিটির জন্য গভীরভাবে বেদনাদায়ক। লেক্সিংটন পুলিশ প্রধান লরেন্স ওয়েদার্স বলেছেন, এই সহিংসতা শহরের পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে না। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গুলির ঘটনায় যারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় লেক্সিংটনজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতারা নিহত কিশোরের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রেনসেলারে তিন বছর বয়সী জোসেফিনা কানিংহ্যামকে হত্যার ঘটনায় দোষ স্বীকার করে ২০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া রবার্ট ফিশারের কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। সাজা কার্যকর হওয়ার প্রায় এক মাস পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি হেফাজতে মারা যান। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে জোসেফিনা কানিংহ্যামের মৃত্যুর ঘটনায় রবার্ট ফিশারের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করলে আদালত তাকে ২০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাটি সে সময় নিউইয়র্কের রেনসেলার এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং আদালতের রায়ে ফিশারের দোষ প্রমাণিত হয়। তবে কারাদণ্ড কার্যকরের মাত্র এক মাসের মধ্যেই কারাগারে তার মৃত্যু নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়ার সত্যতা বা দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার জোসেফিনা কানিংহ্যামের পরিবার। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার জীবন থেমে যায়। আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিলেও, দণ্ডিতের কারাগারে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী অধ্যায় অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ হয়ে যায়। শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। জোসেফিনা কানিংহ্যামের ঘটনাও সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সংক্রান্ত হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এটি কোম্পানির জন্য অন্যতম বড় সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, এই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হবে, যা দেশটিতে ট্যাল্ক পণ্যসংক্রান্ত অবশিষ্ট মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীকে এতে সম্মতি দিতে হবে। বহু বছর ধরে হাজারো নারী অভিযোগ করে আসছেন, জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে। কোম্পানিটি শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, বৈজ্ঞানিকভাবে ট্যাল্ক ও ক্যানসারের মধ্যে কোনো কারণগত সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। তবুও দীর্ঘমেয়াদি মামলা থেকে বেরিয়ে আসতেই এই সমঝোতার পথে হেঁটেছে প্রতিষ্ঠানটি। জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস এক বিবৃতিতে বলেন, কোম্পানি এখন এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি উন্নয়নের মূল কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চায়। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ট্যাল্ক একটি প্রাকৃতিক খনিজ, যা একসময় প্রসাধনী ও বেবি পাউডারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। তবে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় জনসন অ্যান্ড জনসন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর ক্যানসার গবেষণা সংস্থা আইএআরসি ট্যাল্ককে "সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। তবে এই সমঝোতা যুক্তরাজ্যে চলমান মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে সাত হাজারের বেশি সম্ভাব্য দাবিদারকে নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায়ও অভিযোগ করা হয়েছে, কোম্পানিটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য বাজারজাত করেছে। যদিও সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিছানার নিচে এক যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে এক মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩৬ বছর বয়সী কেন্ড্রা স্কটের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেমফিস পুলিশের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টার আগে স্কটের বাড়ির বাইরে ২০ বছর বয়সী রডেরিয়াস মর্টনকে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং একটি স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন হ্যান্ডগান উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার কিছু সময় আগে স্কটের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মর্টনকে বাড়িতে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। রাত দেড়টার দিকে স্কট বাড়িতে ফিরে দরজায় জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন এবং ঘরে কে আছে জানতে চান। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, মেয়েটি মায়ের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখে ভয় পেয়ে যায়। পরে দরজা খুলে দিলে স্কট মেয়ের বিছানার নিচে মর্টনকে লুকিয়ে থাকতে দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং মর্টনের পেছনে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শোনা যায়। পাশের এক প্রতিবেশী পুলিশকে জানান, গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি স্কটকে মর্টনের দেহের পাশে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় স্কট নিজেই বলেছেন, তিনিই গুলি করেছেন। পরে পুলিশ স্কটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। আদালতে হাজির করার আগ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হয়। স্কটের আইনজীবী ব্লেক ব্যালিন বলেন, একজন ১৩ বছর বয়সী মেয়ের অভিভাবকের জন্য এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতো একটি পরিস্থিতি। তার ভাষ্য, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গতভাবে আচরণ করতে পারতেন কি না। তবে অবসরপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা এবং আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষক বাডি স্মিথ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় টেনেসির ‘ক্যাসেল ডকট্রিন’ প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। ওই আইনে কোনো ব্যক্তি নিজের বাসায় অনুপ্রব
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)। গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুরে চন্দ্রা এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত মদের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার চরশিহারী গ্রামের আশরাফুল আলম (২২) এবং একই থানার পাইকুড়া গ্রামের মো. শামীম মিয়া (২৪)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১০৭ বোতল (৮০.২৫ লিটার) বিদেশি মদ, মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (ঢাকা-মেট্টো-ন-১৯-৯৩১৬) এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর ক্যাম্পের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, নেত্রকোণা থেকে একটি পিকআপে করে বিদেশি মদের বড় একটি চালান গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার দিকে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রা টু ডাইনকিনি রোডের মাথায় শাহা প্লাজার সামনে চেকপোস্ট বসায় র্যাব। দুপুর আনুমানিক ১২.৩০ ঘটিকায় সন্দেহভাজন পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১-এর ভারপ্রাপ্ত মিডিয়া অফিসার ক্যাপ্টেন ইফতেখার আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুল্লাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে আবুল কাসেম নামে এক কৃষক দল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আবুল কাসেম (৪৫) স্থানীয় জাতীয়তাবাদী কৃষক দল-এর ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটির সময় একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখনো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, হত্যাকারীদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের আদালতে হাজির করা হয়েছে। ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে রবিবার তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালত-এ তোলা হয়। আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল সরাসরি দাবি করেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন এবং তাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না—সে বিষয়ে মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানান। এর আগে তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ৮ মার্চ বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেপ্তার করে। ফয়সালের বাড়ি পটুয়াখালী এবং আলমগীরের বাড়ি ঢাকায়। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আত্মগোপনে ছিল এবং সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিল বলে জানানো হয়। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দুইজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।