- প্রচ্ছদ
- বিশ্ব
বিশ্ব
ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকা সাহার তাবারকে একসময় অনেকে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ভয়ংকর চেহারার সংস্করণ বলে মনে করতেন। মুখের অস্বাভাবিক গড়ন, চোখের নিচে গভীর ছাপ, সরু নাক ও বড় ঠোঁটের ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে। অনেকে ধারণা করেছিলেন, জোলির মতো দেখতে হতে তিনি ৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। কিন্তু ২০২২ সালের অক্টোবরে ইরানের টেলিভিশনে নিজের স্বাভাবিক চেহারা প্রকাশের পর সামনে আসে ভিন্ন এক গল্প। জানা যায়, ভাইরাল ছবিগুলোর নাটকীয় রূপের বড় অংশই তৈরি হয়েছিল মেকআপ ও ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে। সাহার তাবারের প্রকৃত নাম ফাতেমেহ খিশভান্দ। ২০১৭ সালে ইনস্টাগ্রামে তাঁর সম্পাদিত ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ছবিতে তাঁকে কঙ্কালসার মুখ, অস্বাভাবিকভাবে উঁচু গালের হাড় এবং বিকৃত ঠোঁটের মতো বৈশিষ্ট্যে দেখা যেত। এসব ছবি থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ পরিচিতি। একসময় প্রচারিত হয়েছিল, অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হওয়ার জন্য তিনি প্রায় ৫০টি প্রসাধনমূলক অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে পরে তিনি জানান, নাকের অস্ত্রোপচার, ঠোঁটে ফিলার ও শরীরের চর্বি অপসারণের মতো কিছু প্রসাধনমূলক চিকিৎসা নিলেও ভাইরাল ছবির অস্বাভাবিক চেহারা মূলত মেকআপ ও ফটোশপের ফল। তাবারের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ছোটবেলা থেকেই তাঁর খ্যাতি পাওয়ার ইচ্ছা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে পরিচিতি অর্জনকে তিনি অভিনয়জগতে প্রবেশের তুলনায় সহজ পথ হিসেবে দেখেছিলেন। ২০১৯ সালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তাঁর এই পরিচিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য ও অনলাইন পরিচিতির পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করা এই পরিচিতির পরিণতি শুধু অনলাইন আলোচনা বা সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা, অশালীনতা এবং তরুণদের বিপথে পরিচালিত করার মতো অভিযোগের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাঁর আইনজীবীর বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, তাবারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলার বিষয়টি ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। তাবারের কারাবাসের বিষয়টি মানবাধিকারকর্মীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২০ সালে তাঁর আইনজীবী সাঈদ দেহকান অভিযোগ করেছিলেন, আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই তাঁকে টেলিভিশনে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই বক্তব্যটি আইনজীবীর অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল; স্বাধীনভাবে যাচাই করা সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। ফলে তাঁর টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলা কথাগুলোকে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ হিসেবে ধরে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছরের কারাদণ্ডের খবর প্রকাশের পরও তাবার প্রায় ১৪ মাস কারাভোগ করে মুক্তি পান। ২০২২ সালের অক্টোবরে তাঁর স্বাভাবিক চেহারা প্রকাশ্যে আসার সময় ইরানে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। তবে তাঁর মুক্তির সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। মুক্তির পর টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছা ছিল এবং অনলাইনে ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে সেই পরিচিতি অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন। সাহার তাবারের ঘটনা দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি কীভাবে বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাঁর চেহারা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার বড় অংশই ছিল সম্পাদিত ছবিকে ঘিরে, অথচ তাঁর গ্রেপ্তার, বিচার ও কারাবাস ছিল বাস্তব ঘটনা। তাই ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে পরিচিত এই কাহিনি কেবল ভাইরাল ছবির রহস্য নয়, বরং অনলাইন পরিচিতি, ডিজিটাল সম্পাদনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঘিরে জটিল এক অধ্যায়। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান
আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশে দীর্ঘ খরা, ফসলহানি ও চরম দারিদ্র্যের কারণে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। খাবার কেনা, পুরোনো ঋণ শোধ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের চিকিৎসার খরচ জোগাতে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। এমনকি আট থেকে দশ বছর বয়সী অনেক শিশুর বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ও তীব্র খরা, জীবিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাদগিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাওয়ে বসবাসকারী ১১ বছর বয়সী খাতিরার জীবন সেই সংকটের একটি উদাহরণ। পরিবারের ঋণ শোধ করতে তাকে বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে খাতিরা আগের মতো বাইরে যায় না। তার মা নূর বিবি জানান, মেয়েটি এখন প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকে ও কাঁদে। হবু স্বামী বাড়িতে এলে খাতিরা তার সামনে পড়তে চায় না। মায়ের ভাষ্য, আগে মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্তের পর তার আচরণে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়েছে। বাদগিসের মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। প্রদেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি এবং পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বছরের পর বছর খরায় জমিতে ফসল হচ্ছে না, পশুর জন্য ঘাস ও খাবার মিলছে না। অনেক পরিবার ঋণ করে চাষাবাদ চালানোর পর ফসল না পেয়ে আরও বিপাকে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে হাজারো মানুষ নিজেদের গ্রাম ছেড়ে কালা-ই-নাওয়ের মতো শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে কাজের আশায় এলেও অনেকে নিয়মিত আয় বা পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। এমনই এক পরিবারে দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ের বিয়ের কথাও ঠিক করা হয়েছে। তাদের মা গুল বোবো বলেন, মেয়েরা বিয়ের জন্য অনেক ছোট, তা তিনি জানেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর স্বামী আগে অন্যের জমিতে চাষ করতেন। বীজ কেনা এবং ট্রাক্টর বা গাধা ভাড়া করে জমি চাষের খরচ জোগাতে তাঁকে ধার করতে হতো। খরায় ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুল বোবো আশঙ্কা করেন, মেয়েরা বড় হয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কিন্তু দরিদ্রতার চাপে তাঁদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি। পরিবারের ঋণ পরিশোধে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা বাদগিসের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। ১১ বছর বয়সী গুলালাইয়ের বাবা-মা এক দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণ শোধ করতে মেয়েটির বিয়ে ঠিক করা হয় চল্লিশের কোঠায় থাকা ওই দোকানির সঙ্গে। গুলালাইয়ের বাবা নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মেয়েদের অন্তত ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিতেন না। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের একজনকে এভাবে ত্যাগ করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের পরিবার এখন ঘরে তৈরি রুটি, চা এবং মাঠ থেকে সংগ্রহ করা বুনো শাকপাতা খেয়েই দিন কাটায়। খরার কারণে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশুও হারিয়েছেন বহু পরিবার। বাদগিসের পশুর বাজারে এমন অনেক মানুষকে দেখা যায়, যাঁরা পশুখাদ্য কেনার সামর্থ্য না থাকায় নিজেদের মূল্যবান গরু বিক্রি করছেন। কোনো কোনো গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালে প্রদেশটিতে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে আবারও ধারাবাহিক খরায় ফসল নষ্ট ও গবাদিপশুর খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হেরাত শহরের শারাক-ই-সাবজ বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস হলেও মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট কাটছে না। হেরাতের ওই শিবিরে বসবাসকারী ১৫ বছর বয়সী দারেল্লাহ এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর স্বামী মোল্লার বয়স ৩০ বছর। ২০১৮ সালে খরার কারণে তাঁদের পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে আসে। দারেল্লাহ বলেন, এত অল্প বয়সে বিয়ে করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তিনি নিজেকে এখনো শিশু মনে করেন এবং এই বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভালো বলে মনে করেন না। তাঁর ১১ ও নয় বছর বয়সী দুই বোনকেও বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দুর্দশার মধ্যে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেশী বাবা খাবার ও সংসার চালানোর অর্থ জোগাড় করতে না পেরে নিজের ১০ বছর বয়সী ছেলের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুবধূদের জীবনে বিয়ের পরও সংকট শেষ হয় না। অনেককে অল্প বয়সেই স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রান্না, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্য দায়িত্ব সামলাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এসব কাজ করতে না পারলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়ঃসন্ধির পরপরই সন্তান নেওয়ার চাপও তৈরি হয়, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আফগানিস্তানে মাতৃমৃত্যুর হার বিশ্বের উচ্চতমগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অল্পবয়সী মায়েদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বাদগিসের খোশকিয়ানে এক কৃষকের টানা আট বছরের মধ্যে সাতবার গমের ফলন নষ্ট হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে মাজরির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বা ১৩ বছর বয়সে। এখন তাঁর বয়স ১৬ বা ১৭ বছর; স্বামীর বয়স চল্লিশের কোঠায়। তাঁর দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি আরেকটি সন্তান জন্মেছে। মাজরি বলেন, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে রান্নাও করতে পারতেন না। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। তাঁর ছোট বোনেরা এখনো বাড়িতে থাকলেও তাঁদের বিয়ের জন্য অর্থের ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষা চলছে। চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবারের কাছে মেয়ের বিয়ের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও বিয়ের অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। পুরো অর্থ দেওয়া হলে মেয়েকে স্বামীর পরিবারের কাছে পাঠানোর দাবি জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির শুরুতেই। ১৪ বছর বয়সী ববি সামিয়ার বিয়ের দিনও সেই বাস্তবতা দেখা যায়। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামিয়া বলেন, তিনি খুশি নন, কারণ তিনি এখনো অনেক ছোট। পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে মেয়েটিকে বিয়েতে যেতে হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যে শিশু ও নারীদের সহায়তার জন্য কাজ করা কর্মসূচিগুলোও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনালের আফগানিস্তানবিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক মার্ক ক্যালডার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অথচ তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্লিনিকগুলোও সহায়তা কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১২ বছর বয়সী আয়েশার মতো কিছু মেয়ে এখনো স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবারের ঋণ শোধের জন্য ঠিক করা বিয়ের অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে তাদের স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হবে। তার মা চেষ্টা করছেন, যত দিন সম্ভব মেয়েকে স্কুলে রাখতে এবং বিয়ের বাকি অর্থ চেয়ে তাগাদা না দিতে, যাতে মেয়েকে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে না হয়। দীর্ঘ খরা ও ফসলহানির সঙ্গে দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি মিলিয়ে আফগানিস্তানের বহু পরিবারকে এমন সিদ্ধান্তের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মেয়েদের বিয়েতে রাজি হওয়াকে অনেকে বাধ্যতামূলক ত্যাগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানো এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তন চান অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে সেই পরিবর্তন রাজপথের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রস্তাবিত পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ ও নেপালের ২০২৫ সালের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টানেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উপায়েই ঘটাতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ভারতের সংবিধান, ভোটাধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন এই অভিনেতা। দিল্লিতে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য আসে। পদযাত্রার আগে কক্রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রকাশ রাজের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। তাঁর মতে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে তাঁদের দমনের চেষ্টা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নৈরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। নিজের বক্তব্যে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নামেননি; তাঁদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদের অধিকার। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শের কথাও উল্লেখ করে তিনি জোর দেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ হতে হবে গণতান্ত্রিক। জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন প্রকাশ রাজ। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণেরা জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিতে চান। অথচ সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের আটক করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশি মানুষ রাজপথে নামতে পারেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সৌদি আরবে কিশোর বয়সে বিক্ষোভ ও জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছেন ইউসুফ আল-মানাসিফ নামের এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আল-মানাসিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে শিয়া সম্প্রদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত থাকা। এসব ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রায় বহাল থাকায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি উদ্বেগ জানিয়েছে। আল-মানাসিফকে ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয় এবং পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার বিচার পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে তাঁর বিচার হয়। আদালত ২০২২ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর মামলায় ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত থাকার মতো কর্মকাণ্ডও অভিযোগের অংশ ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব জমায়েতকে কখনো কখনো বিক্ষোভ বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আল-মানাসিফকে নির্যাতন করা হয় এবং জোর করে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এমন একটি স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পাঁচ বছর পর, ২০২২ সালে, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে এসব অভিযোগ গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। আল-মানাসিফের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁদের হয়ে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রিপ্রিভ ও ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার পরামর্শক দুয়া ধাইনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা এখন কার্যত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করতে পারছেন না। প্রকাশ্যে কথা বললে তাঁদের হয়রানি বা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলেও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি সৌদি আরবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। ২০২০ সালে দেশটির রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পরবর্তী সময়েও এমন কয়েকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনার সময় ১৮ বছরের নিচে ছিলেন। ফলে ঘোষিত নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি হবে। জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এর আগে তাঁর মামলাসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরবকে ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, শিশু অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ। এ ধরনের মামলার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আলি আল-সুবাইতির নাম উল্লেখ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁকে তাঁর চাচা মুস্তাফা আল-সুবাইতির সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে মানবাধিকার সংগঠন সানাদ জানিয়েছে। আলি আল-সুবাইতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ডও ছিল, যেগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনা সৌদি আরবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য জানা জরুরি। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বৃদ্ধিও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংস্থাটির তথ্য বলছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ ছিলেন মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, যাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সবগুলোই প্রাণঘাতী অপরাধ ছিল না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি অহিংস অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার দেশটির বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ও মামলার ধরন সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্থার হিসাব পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আগেও আল-মানাসিফের মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৌদি আরব এই সনদের পক্ষভুক্ত দেশ। ফলে দেশটির ঘোষিত নীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব বিচারপ্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রিপ্রিভের দুয়া ধাইনি মনে করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য একজন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, আল-মানাসিফের বয়স ও অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রায় স্থগিত, দণ্ড পরিবর্তন বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আল-মানাসিফের পরিণতি কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সর্বোচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার খবর তাঁর জন্য আইনি প্রতিকারের সুযোগ আরও সীমিত করে দিয়েছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন। তাঁরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করে মামলাটি পুনর্বিবেচনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার ঘোষিত নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের মধ্যে গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন ওয়াশিংটন আবার সরাসরি আলোচনার পথ অনুসরণ করছে। রয়টার্সের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহে জাপানের টোকিওতে গোপন বৈঠক করেছেন। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক সহকারী সচিব মাইকেল ভ্যান্স টোকিওর বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এতে এক ডজনের বেশি মার্কিন কর্মকর্তা অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে মিয়ানমারের পক্ষে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় হওয়ায় সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দুই পক্ষের বৈঠক হয়েছিল। ওই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আটক মার্কিন ব্যবসায়ী অ্যাডাম কাস্তিয়োর মুক্তি নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধে মিয়ানমারের সহযোগিতা আদায় করা। পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্রগুলো এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। এসব চক্রের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন বিনিয়োগে প্রতারণা এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, মিয়ানমারের কিছু সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কোনো কোনো এলাকায় সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। তবে এসব অপরাধ দমনে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রতারণা দমনের পাশাপাশি মিয়ানমারের বিরল খনিজসম্পদও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের একটি বিষয়। দেশটিতে ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উন্নত শিল্পপণ্য তৈরিতে এসব খনিজ ব্যবহৃত হয়। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র এসব সম্পদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই খনিজসম্পদে প্রবেশাধিকার পাওয়া সহজ নয়। মজুতের বড় অংশ এমন এলাকায় অবস্থিত, যেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সংঘাত চলছে। অন্যদিকে চীন এসব খনিজের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। ফলে খনিজসম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্যোগে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও প্রভাব ফেলতে পারে। মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে এই যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্রের আগের নীতির তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর ওয়াশিংটন সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যার স্বীকৃতিও দিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। বাংলাদেশের জন্যও এই কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে টোকিওর সাম্প্রতিক বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য রয়টার্সের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই বৈঠকটিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সর্বশেষ বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বৈঠকের পূর্ণ আলোচ্যসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ভারতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁ চোখের ওপর অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে চোখের কোটরের ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ দাঁতের সন্ধান পেয়েছেন। চোখের পাতার ওপর ও ভ্রুর মাঝামাঝি জায়গায় দাঁতটির দুটি সাদা অংশ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। দাঁতটি কোনো টিউমারের অংশ ছিল না; বরং মুখের স্বাভাবিক অবস্থানের বাইরে তৈরি হওয়া দাঁত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মাদুরাই শহরের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালে কিশোরটিকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাঁ চোখের ওপরের পাতায় প্রায় এক মাস ধরে ব্যথাহীন ফোলা ছিল। পরে চোখের পাতা ও ভ্রুর মাঝের অংশে শক্ত, সাদা রঙের দুটি ছোট উঁচু অংশ দেখা যায়। চিকিৎসকেরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, এটি টেরাটোমা নামের এক ধরনের টিউমার হতে পারে। এ ধরনের টিউমারে চুল, হাড় কিংবা দাঁতের মতো বিভিন্ন ধরনের টিস্যু থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক ধারণা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল। কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক গঠনটির প্রকৃতি স্পষ্ট হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চোখের কোটরের ওপরের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানাইন দাঁত, যার মুকুট ও শিকড় দুটিই তৈরি হয়েছে। দাঁতটির দুটি অংশ ত্বকের বাইরে উঁচু হয়ে থাকায় সেগুলো আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণের পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এর মধ্যে টেরাটোমা-সংশ্লিষ্ট কোনো উপাদান নেই। ফলে এটিকে ‘একটোপিক দাঁত’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়, অর্থাৎ মুখের স্বাভাবিক দাঁতের সারির বাইরে অন্য স্থানে তৈরি হওয়া দাঁত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নাকের ভেতর, তালু, চোয়াল কিংবা চোখের কোটরের নিচের অংশে অস্বাভাবিকভাবে দাঁত তৈরি হওয়ার ঘটনা আগে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে চোখের কোটরের ওপরের অংশে পূর্ণাঙ্গ দাঁত পাওয়ার ঘটনা আগে প্রকাশিত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এ কারণেই ঘটনাটিকে বিশেষভাবে বিরল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দাঁতটি কী কারণে ওই স্থানে তৈরি হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনটিতে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে বিরল শারীরিক বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিশোরটির এই চিকিৎসা-ঘটনা নিয়ে মেঘনা তানওয়ার, বেদান্ত শর্মা ও উষা কিমের লেখা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চক্ষুবিষয়ক সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’তে। গবেষণাটি অনলাইনে ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং সাময়িকীটির জুন সংখ্যায় স্থান পায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঁতটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়েছে। চোখের কোটরের ওপরের অংশে এ ধরনের দাঁত পাওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসা সাহিত্যে প্রথম বলে লেখকেরা উল্লেখ করেছেন। সূত্র: সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’ এবং আমেরিকান একাডেমি অব অফথ্যালমোলজি।
পবিত্র কোরআনের বাণীকে শৈল্পিক রূপ দিতে যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম ক্যালিগ্রাফাররা নানা মাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন। এবার সেই ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আজারবাইজানের প্রখ্যাত শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। তিনি স্বচ্ছ কালো রঙের রেশমি বা সিল্ক কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখেছেন। তার এই অসাধারণ শৈল্পিক কাজ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিখুঁত নিষ্ঠার অপূর্ব এক নিদর্শন হয়ে উঠেছে তার এই সৃষ্টি। এই অসামান্য প্রকল্পটি শেষ করতে শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদেকে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য তার প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত মানের কালো রেশমি কাপড়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি অক্ষর ও আয়াত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও ধৈর্য কাজে লাগিয়েছেন। লেখার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোরআনের একটি সংস্করণকে মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে পবিত্র গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। রেশমি কাপড়ের ওপর কোরআন লেখার এই অভিনব ধারণার পেছনে রয়েছে শিল্পীর দীর্ঘদিনের গভীর গবেষণা। কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে আগে চামড়া বা কাগজের ওপর কোরআন লেখা হলেও সম্পূর্ণ কোরআন রেশমি কাপড়ের ওপর লেখার কোনো পূর্বনজির সেভাবে নেই। সিল্ক বা রেশম কাপড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এর আভিজাত্য তাকে এই বিশেষ উপাদানটি বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। মেমেদজাদের এই কঠোর পরিশ্রম ও শৈল্পিক একাগ্রতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার তৈরি রেশমি কাপড়ের এই কোরআনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টের আর্থার এম. স্যাকলার গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী এবং শিল্প সমালোচকরা এই অসাধারণ শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই কাজটি কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থের অনুলিপি নয় বরং এটি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ঐতিহ্য, শিল্পীর অসীম ধৈর্য এবং পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্যের প্রতি গভীর উপলব্ধির এক অনন্য মেলবন্ধন। ইসলামী শিল্পকলায় ক্যালিগ্রাফি বা চারুলিপির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন। যুগে যুগে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই ধারাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন এবং নতুনত্ব এনেছেন। আজারবাইজানের এই শিল্পীর কাজটি সেই ঐতিহাসিক পরম্পরারই একটি আধুনিক ও সৃজনশীল রূপ। সোনা ও রুপার কালিতে কালো সিল্কের ওপর ফুটে ওঠা প্রতিটি আয়াত যেন এক একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এমন একটি মাস্টারপিস তৈরি করার মাধ্যমে তুনজালে মেমেদজাদে ইসলামী শিল্পকলার ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে নিলেন। সংবাদ সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট এবং প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে ‘জোরপূর্বক বসতি প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলকে এ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানও তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা। পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনিদের ভূমি, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতির আইনি পরিণতি নিয়ে মতামত দিয়েছে। এসব কারণে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আজারবাইজানে ওয়াং ই ও হারজগের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। হারজগ ইসরায়েলের সামনে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ ব্যবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে। বেইজিংয়ের মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওয়াং ইয়ের আহ্বানের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে পৃথক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা চীনের বিবৃতি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে চীনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরে পাঠদান করতে চাওয়ায় বেলজিয়ামের এক শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। হাদিজা আমাজুদ নামের ওই শিক্ষিকা ২০২২ সাল থেকে প্রদেশটির আসেনেদে এলাকার বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পান। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বরখাস্তের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ করে বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম দ্য ব্রাসেলস টাইমস। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ২৭ জুন কর্মীদের আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে ধর্ম বা দর্শনবিষয়ক নির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। হাদিজা যখন বিদ্যালয়ে যোগ দেন, তখন তিনি হিজাব পরতেন এবং সে সময় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না। নতুন নিয়ম চালুর পরও হিজাব পরেই পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হাদিজা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, বিষয়টি শুধু তাঁর চাকরি বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্য, হিজাব পরা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ এবং এটি তাঁর পেশাগত দক্ষতার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তিনি হিজাব পরতেন এবং তাঁর কাজের মূল্যায়নও নেতিবাচক ছিল না। বরখাস্তের ফলে তিনি শুধু চাকরিই নয়, আয় ও দীর্ঘদিনের পেশাগত নিরাপত্তাও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে হাদিজার পাশে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়ামের সরকারি খাতের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন এসিডিওডি (ACOD)। ইউনিয়নটি জানিয়েছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতিকে তারা সমর্থন করে। তবে হাদিজার ক্ষেত্রে সরাসরি বরখাস্তের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। ইউনিয়নের মতে, নতুন নিয়ম চালুর আগে থেকেই হাদিজা ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন এবং তাঁর পোশাক নিয়ে কর্মদক্ষতার কোনো নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প সমাধান বা পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত ছিল। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাদিজার আপিলে সহায়তা করছে এসিডিওডি। ইউনিয়নটির যুক্তি, চাকরিচ্যুতি ছিল অতিরিক্ত কঠোর ও পরিস্থিতির তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক পরার নিয়ম মানতে না চাওয়ার কারণে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিবর্তে সমঝোতা বা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেত। ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, হাদিজা হিজাবের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরপেক্ষ মাথা ঢাকার পোশাক পরার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সমাধান হয়নি। অন্যদিকে, পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখতে কর্মীদের আচরণবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রদেশটির শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কার্ট মুনসের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সেই বিধি অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের যুক্তি, বিদ্যালয়ে এমন পরিবেশ থাকা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক চাপের মুখে পড়ে না। ফলে বিতর্কটি একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশের অধিকার, অন্যদিকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতির মধ্যে সংঘাত তৈরি করেছে। হাদিজার ঘটনাটি বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব পরার কারণে স্পষ্টভাবে বরখাস্ত হওয়া ফ্ল্যান্ডার্সের প্রথম শিক্ষিকা হতে পারেন তিনি। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং তা প্রয়োগের সীমা নিয়ে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। হাদিজা ও তাঁর ইউনিয়ন এখন বরখাস্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিলের পথে এগোচ্ছেন। আপিলের শুনানিতে তাঁর চাকরির পরিস্থিতি, নতুন বিধির প্রয়োগ এবং শাস্তির মাত্রা বিবেচনায় আসতে পারে। সূত্র: দ্য ব্রাসেলস টাইমস, বেলজিয়ান সংবাদ সংস্থা বেলগা।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরের এক দম্পতি আবারও বড় অঙ্কের লটারি জিতে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা ও এডওয়ার্ড লাডো নামের এই দম্পতি এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার কানাডীয় ডলারের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন লটারির টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের লটারি জিতলেন এই দম্পতি। এবার তাঁরা পুরস্কারটি পেয়েছেন আটলান্টিক লটারির চার ডলারের ‘সেট ফর লাইফ’ স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন গেমে। লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। তাঁরা চাইলে আগামী ২৫ বছর প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ডলার করে নিতে পারতেন। অথবা এককালীন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দম্পতি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের পরিমাণ মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। পুরস্কার জেতার খবর প্রথমে শুনে এডওয়ার্ড লাডো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। লটারির কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানান, স্ত্রী তাঁকে জয়ের কথা বলার পরও তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মজা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা। তাই তিনি স্ত্রীকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বাড়ি ফিরে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান। এডওয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস। পরে যখন নিশ্চিত হন যে সত্যিই তাঁরা পুরস্কার জিতেছেন, তখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগে। বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। এর আগে ২০১৮ সালে স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন লাডো দম্পতি। সেই তুলনায় এবারের ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কার কিছুটা কম হলেও, একই ধরনের লটারিতে দ্বিতীয়বার এমন সাফল্য তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা। এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সীমিত পরিমাণেই লটারি খেলেন। আগের জয়ের পরও তাঁদের খেলার ধরন খুব বেশি বদলায়নি। তিনি বলেন, তাঁরা পরিমিতভাবেই লটারি খেলেন, বিশেষ করে এখন। তবে তাঁর মতে, কেউ অংশ না নিলে জেতার সুযোগও থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বড় পুরস্কার জিতলেও তাঁরা নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করে লটারি খেলেন না। দম্পতির পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাঁরা জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনা করা সন্তানদের শিক্ষার খরচে সহায়তা করতে চান। পাশাপাশি সন্তানদের জীবনের শুরুটা আরও সহজ করতে এই অর্থ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিবারের জন্য সহায়তার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি তাঁরা। এডওয়ার্ড জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য বিষয় নিয়েও তাঁরা ভাববেন। আপাতত এই মুহূর্তের আনন্দ ও বিস্ময়কে অনুভব করতে চান তাঁরা। বড় অঙ্কের অর্থ হাতে আসার পরও তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সময় নিয়ে ভাবতে চাইছেন। এদিকে, ‘সেট ফর লাইফ’ লটারি গেমে এখনো পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ এখনো বাকি রয়েছে। তবে ওই পুরস্কারগুলো কে বা কারা জিতবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আট বছর আগে ২৫ লাখ ডলার এবং এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জয়ের অভিজ্ঞতা লাডো দম্পতিকে বিরল এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁরা এবার পাওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় করতে চান। আপাতত সেই পরিকল্পনাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের এক পাশ ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলেছিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বিশাল এক টিউমার। ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই টিউমারের কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো, খাবার খাওয়াও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একসময় তাঁর চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লিসবনের রাস্তায় এক অচেনা ব্রিটিশ পর্যটকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়। ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মেস্ত্রের মুখে জন্মগত রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ছিল। কৈশোরে, প্রায় ১৪ বছর বয়স থেকে, সেটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন বা রক্তনালির গঠনগত ত্রুটি বলা হয়। তাঁর মুখের টিউমারটি সময়ের সঙ্গে এত বড় হয়ে ওঠে যে ঠোঁট, মুখ ও জিহ্বার স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, রক্তপাত ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেস্ত্রের চিকিৎসার জন্য পর্তুগালের পাশাপাশি স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে রোগের জটিলতা এবং অস্ত্রোপচারের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছিল। মেস্ত্রে ও তাঁর মা রক্ত সঞ্চালন নিয়ে আপত্তি করতেন। ফলে এমন একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোন এডিথ আব্রেউ তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নতুন করে সাহায্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় ‘পিটার’ নামে পরিচিত এক ব্রিটিশ পর্যটক লিসবনের রাস্তায় মেস্ত্রেকে দেখেন। এর আগে মুখের জটিল টিউমার নিয়ে অস্ত্রোপচারের একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিননের কথা মনে পড়ে তাঁর। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে মেস্ত্রের চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ওই পর্যটক। মেস্ত্রের পরিবার তাঁকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করত বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে মেস্ত্রে ও তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যান। সেখানে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিনন এবং তাঁর দল কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে শ্বাস নেওয়ার পথ নিরাপদ করা হয় এবং টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তী অস্ত্রোপচারগুলোতে মুখ, নাক ও মুখগহ্বরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের কাজ চলে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে কয়েক মাস শিকাগোয় থাকতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টিউমারটি রক্তনালিতে ভরা থাকায় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল শুধু টিউমার অপসারণ নয়, মেস্ত্রের শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতাও ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসে। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়নি। ক্ষত সারানো, মুখের গঠন পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। মেস্ত্রের জীবনের এই অধ্যায় শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির গল্প নয়, অপরিচিত একজন মানুষের উদ্যোগ কীভাবে অন্যের জীবনে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে, তারও উদাহরণ। যাঁরা আগে তাঁর মুখের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন, তাঁদের আচরণে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়তেন বলে সে সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাইরে বের হতে এবং মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পে তাঁর নামে প্রচারিত ‘আমার মুখ কুৎসিত, কিন্তু মন নয়’ বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্য মূল উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে তাঁর যাচাই করা সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, মেস্ত্রে দীর্ঘদিন একটি জটিল জন্মগত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মুখের বড় টিউমার অপসারণ করা হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসে মেস্ত্রে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জীবন ও চিকিৎসার গল্প আজও মানুষের সহমর্মিতা, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং শারীরিক ভিন্নতার কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি৭ শিকাগো, পর্তুগালের Notícias ao Minuto।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানে নাজমেহ আমিনি নামে ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত নয়, ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আমিনি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়। এর একটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম খোরাসানও তাঁর মামলার খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিতর্কিত পোস্টটির সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের একটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভাকিলাবাদ কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করে নবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কারাগার থেকে পাঠানো বলে পরিচিত একটি অডিও বার্তায় আমিনি নিজের মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আইনজীবী, আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর মামলার নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যেন কারাগারের নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁর হয়ে অন্যরা যেন কথা বলেন। অডিও বার্তাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের রায় অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রায় বাতিলের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ইরানের দণ্ডবিধিতে নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দেশটির আইনে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিষয়ও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আমিনির পক্ষ থেকে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। আমিনির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নির্যাতনমুক্ত আটক নিশ্চিত করা জরুরি। বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত ও আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব এক নয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ আমিনির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ আদালতে তাঁর আপিলের ফল কী হয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হয় কি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস, হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য গার্ডিয়ান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে তাদের সামরিক ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন ৪০ দিনের এক যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়ানো হবে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মোহেব্বি স্পষ্ট জানিয়েছেন যেকোনো আগ্রাসনের আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে তেহরান। তবে নতুন যুক্ত হওয়া অস্ত্রগুলো ঠিক কী ধরনের সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন এই মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলা চালানো তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানায় আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সম্প্রতি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আপাতত তাদের ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন এখন হামলা সুবিধাজনক নয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন তার দল লিকুড পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও উগ্রপন্থি নেতা ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি লিকুড পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সূত্র জানিয়েছে মার্কিনি বা ইসরাইলিদের দিক থেকে হামলার কোনো প্রস্তুতি টের পেলে ইরান আগেই পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ প্রধান কেন ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন ইরানি গুপ্তচররা যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে। গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য ঐ নির্দিষ্ট ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানে হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে দেওয়া বার্ষিক বক্তব্যে এমআইফাইভ মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে চলতি বছরে সামরিক স্থাপনার মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেন ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। যদিও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চলমান তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা, চ্যানেল টুয়েলভ
জার্মানির কোলন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মানবসদৃশ রোবটের মাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে কিশোরীটির কাছে গিয়ে রোবটটি তার নিতম্বে স্পর্শ করে এবং অশালীন ভঙ্গিতে শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী রোবটটির মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে পামস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিং সড়কের সংযোগস্থলে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে ওই কিশোরী তাঁর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় প্রায় চার ফুট উচ্চতার রোবটটি পেছন দিক থেকে তাঁর কাছে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবটটির আচরণকে সম্ভাব্য যৌন হয়রানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ ম্যাগনুসস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিংয়ের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন দুজনকে খুঁজে পায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক সেটিকে একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গায় রেখেছিলেন। সেখান থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রোবটটি এবং সন্দেহভাজনদের দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে। পুলিশের দেওয়া ছবিতে রোবটটিকে লাল ও সোনালি রঙের পোশাকে দেখা যায়। এর সাজসজ্জায় জনপ্রিয় কমিক চরিত্র আয়রন ম্যানের পোশাকের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে রোবটটিকে চীনে তৈরি ইউনিট্রি আর১ এয়ার মডেল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে মডেলটির পরিচয় এবং ঘটনার সময় এটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দূর থেকে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। রোবটটির আচরণ পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি কেউ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে এমন নড়াচড়া করিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্ভাব্য যৌন হয়রানির অভিযোগটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালানোর সময় তাঁরা ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু, সেটি কোথায় প্রচার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। মানবসদৃশ রোবট এখন শিল্পকারখানা, গবেষণাগার, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রোবটের কিছু মডেল পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, আবার কিছু মডেল দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও পরিচালনা করা যায়। ফলে কোনো রোবটের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সফটওয়্যারের নির্দেশনা নাকি মানুষের ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণের ফল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোলনের ঘটনাতেও পুলিশ ঠিক এই বিষয়গুলো যাচাই করছে। এ ঘটনায় রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বা রোবটটি নিজে থেকে এমন আচরণ করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ করতে হলে যন্ত্রটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরও মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী পিপল জার্মান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখা, পিপল ও দ্য টাইমস।
মিশরের এক কৃষক নিজের বাড়ির সামনের জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই এক অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছেন। মাটির নিচ থেকে তিনি বাইবেলে উল্লেখিত বিখ্যাত ফারাও রাজা দ্বিতীয় রামসেসের এক বিশাল মূর্তির সন্ধান পান। সংবাদমাধ্যম ইজিপ্সিয়ান গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী মিশরের ঘারবিয়া প্রদেশের বেহবেইত এল হাগার এলাকার ওই কৃষক প্রথমে একটি খোদাই করা পাথরের খণ্ড দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তাদের খবর দিলে সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিজের একটি দল সেখানে খননকাজ শুরু করে। হেরিটেজ ডেইলি জানিয়েছে খননের পর মাটির নিচ থেকে যা বেরিয়ে আসে তা দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান গবেষকরা। উদ্ধার হওয়া এই গুপ্তধনের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় রামসেসের পাঁচ ফুটেরও বেশি উঁচু একটি বিশাল মাথা। এই মাথাটিতে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের দ্বৈত মুকুট পরিহিত অবস্থায় রাজাকে চিত্রিত করা হয়েছে। মাথার বিশাল আকার দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন যে সম্পূর্ণ মূর্তিটির উচ্চতা ভিত্তিপ্রস্তরসহ প্রায় ত্রিশ ফুটের কাছাকাছি ছিল। এছাড়া গবেষকরা আট ফুটের চেয়ে সামান্য ছোট আরেকটি রাজকীয় মূর্তিও উদ্ধার করেছেন। যদিও এই মূর্তিটির পা এবং নিচের অংশ পাওয়া যায়নি তবে এর মুখাবয়ব বেশ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। দ্বিতীয় মূর্তিটির মাথায় প্রাচীন মিশরীয় ফারাওদের পরিহিত ঐতিহ্যবাহী ডোরাকাটা রাজকীয় শিরোস্ত্রাণ বা নেমেস রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য এবং মুখের আদলের সাথে প্রথম মূর্তিটির মিল থাকায় গবেষকরা ধারণা করছেন এটিও দ্বিতীয় রামসেসের আরেকটি প্রতিরূপ। এর পাশাপাশি সেখান থেকে গোলাপি গ্রানাইট পাথরের তৈরি চার ফুট উঁচু একটি ব্লকও উদ্ধার করা হয়েছে। এই ব্লকটিতে হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপির ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। সেখানে ফারাওকে আপার এবং লোয়ার মিশরের রাজা বা নেসু বেটি এবং সূর্যদেবতা রা এর পুত্র বা সা রা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩ অব্দে জন্মগ্রহণকারী দ্বিতীয় রামসেসকে প্রাচীন মিশরের নিউ কিংডম যুগের অন্যতম প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ফারাও রাজার সাথে বাইবেলের এক্সোডাস বা যাত্রাপুস্তকে বর্ণিত নবী মুসার কাহিনীর গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। যদিও ধর্মীয় গ্রন্থটিতে তার নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ধর্মগ্রন্থের বর্ণনানুসারে এই স্বৈরাচারী ফারাও বনী ইসরাঈলীদের দাস বানিয়েছিলেন এবং নবী মুসাকে অস্বীকার করে ঈশ্বরের ক্রোধের শিকার হয়েছিলেন। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রী শেরিফ ফাথি এই আবিষ্কার নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো নীল নদের ব-দ্বীপ অঞ্চল সম্পর্কে আরও বিশদ ধারণা পেতে সহায়তা করবে। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি মিশরের একটি প্রধান রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কর্মকর্তারা আশা করছেন এই মূর্তিগুলোর ওপর আরও বিস্তারিত গবেষণা চালানো হলে সেই যুগের স্থাপত্যের বিবর্তন এবং এই প্রত্নতাত্ত্বিক ভাণ্ডারটি সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য মানুষের সামনে উঠে আসবে। সূত্র: ইজিপ্সিয়ান গেজেট, হেরিটেজ ডেইলি
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা। তবে সেই সীমাবদ্ধতা ব্রাজিলের ২৪ বছর বয়সী মারিয়া ভিটোরিয়া গোমেস দা সিলভার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। সহায়ক প্রযুক্তির সাহায্যে পড়াশোনা করে প্রথমবারেই আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি থেকে পেশাগত সনদও পেয়েছেন মারিয়া। তার এই অর্জন নতুন করে সামনে এনেছে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ এবং পেশাগত জীবনে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। মারিয়া ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের গোইয়ানেশিয়া শহরের বাসিন্দা। জন্মগত গ্লুকোমার কারণে জন্ম থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি নেই। ছোটবেলায় তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়তে শেখেন। এরপর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি পুলিশ স্টেশন এবং গোইয়াস রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্রাজিলে আইন বিষয়ে স্নাতক হলেই সরাসরি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা যায় না। পেশাগত নিবন্ধন পেতে দেশটির আইনজীবী সমিতি, ওএবির আয়োজিত পরীক্ষা পাস করতে হয়। এই পরীক্ষায় দুটি ধাপ রয়েছে। মারিয়া প্রথমবার অংশ নিয়েই দুই ধাপ অতিক্রম করেন। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি পর্দার লেখা পড়ে শোনায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা কম্পিউটার বা মুঠোফোনে প্রদর্শিত লেখা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শোনায়। এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বই, নথি, অনলাইন পাঠ্যসামগ্রী ও পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ আরও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে মারিয়া ফৌজদারি আইন বেছে নেন। সেখানে তাকে একটি মামলায় আসামিপক্ষের জবাব প্রস্তুত করার মতো ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তিনি। আইনজীবী সমিতির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরেক তরুণী লরা সোয়ারেস ফেরেইরাও প্রথম চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। লরার দৃষ্টিশক্তি কম এবং পরীক্ষায় তিনি পাঠক ও লিখন-সহায়তাকারীর সহযোগিতা নেন। দুই তরুণীই দ্বিতীয় ধাপে ফৌজদারি আইন বেছে নিয়েছিলেন এবং একই ধরনের ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মারিয়া ও লরা আনুষ্ঠানিক শপথ নেন এবং পেশাগত পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তাদের স্বাগত জানান সমিতির সভাপতি রাফায়েল লারা মার্তিন্স। তিনি নতুন আইনজীবীদের পেশাগত বিকাশ এবং অধিকার সুরক্ষায় সমিতির সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই অনুষ্ঠানে পরিচয় হওয়ার আগে দুই তরুণীর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ফৌজদারি আইন বেছে নেওয়ার মতো একাধিক মিল তাদের অভিজ্ঞতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। আইনজীবী হিসেবে এখন মারিয়ার সামনে নতুন অধ্যায়। তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি, দুই ধরনের মামলায় কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তার অর্জন দেখিয়েছে, উপযুক্ত সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য শিক্ষার সুযোগ থাকলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও জটিল পেশাগত পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের সাফল্য নিশ্চিত করতে শুধু ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পরীক্ষায় প্রবেশগম্য উপকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পেশাগত ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হতে পারে। সূত্র: ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি (ওএবি-জিও), মাইস গোইয়াস।
ফিলিপাইনের পাহাড়ি অঞ্চল আপায়াওয়ের দুই বছর বয়সী শিশু জারেন গামোগানের শরীরে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে ঘন লোম। মাথাভর্তি চুলের পাশাপাশি তার মুখ, গলা, পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশেও কালো লোম রয়েছে। সন্তানের এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা আলমা। একপর্যায়ে তিনি ধারণা করেন, গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ার কারণেই হয়তো ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কথায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির এই অবস্থার সঙ্গে মায়ের ওই খাবার খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আলমার ভাষ্য অনুযায়ী, জারেনের জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় তার বন্য বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় এলাকায় এটি একটি পরিচিত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গ্রামের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কালো রঙের একটি বন্য বিড়াল খুঁজতে যান তিনি। পরে সেটি ভেষজ উপাদান দিয়ে রান্না করে খান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম দেখে তিনি নিজের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক খুঁজতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও আলমা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর কারণ হিসেবে হাইপারট্রাইকোসিস নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থায় শরীরের এমন সব অংশে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে, যেখানে সাধারণত এত ঘন লোম থাকে না। এটি জন্মগত হতে পারে, আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা দিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়, তা নির্ভর করে এর ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণের ওপর। জারেনের ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিষ্ট ধরন বা জিনগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে রোগটি অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ‘প্রতি এক শ কোটি মানুষের মধ্যে একজন’ আক্রান্ত হওয়ার হিসাবটির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়। জারেন তিন ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি হাসিখুশি ও খেলাধুলাপ্রিয়। তবে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি হলে অন্য শিশুদের আচরণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। শারীরিক গঠনে পার্থক্যের কারণে জারেনকে যেন কেউ উপহাস বা হয়রানি না করে, সেটিই এখন তার মায়ের বড় চিন্তা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইপারট্রাইকোসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও কারণের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে লোম কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে সব ধরনের ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। জারেনের চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জারেনকে নিয়ে সংবাদটি ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি আবার সামনে এলেও একে সাম্প্রতিক কোনো জন্ম বা নতুন রোগনির্ণয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে হাইপারট্রাইকোসিস হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: LADbible, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৯৩ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী লাইবা এজাজের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) প্রতারণার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা লাইবা এজাজের মরদেহ গত ৯ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি সাপ্তাহিক বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দ্য মিডিয়া লাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইবা ও তাঁর পরিবারকে হার্ভার্ডে ভর্তি, বৃত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুহাম্মদ নওমান নামের এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, নওমান ও তাঁর এক সহযোগী ফাতিমা সরওয়ার মিলে ভুয়া ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠি, বৃত্তির কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের রসিদ সরবরাহ করেন। এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ৯৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ২৯ লাখ রুপি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বাকি অর্থ নগদে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়েছিল। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি গভীর মানসিক চাপে পড়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। লাইবা ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তিনি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা নওমানের সঙ্গে পরিচিত হন। নওমান দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু পরে তাঁর দেওয়া নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেঙে পড়ে। লাইবার পরিবারের আর্থিক ত্যাগের বিষয়টিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তাঁর বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামাবাদের রাস্তায় দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও চার মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। লাইবা ছিলেন সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় বোন চীনে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে লাহোরে একটি বড় চীনা প্রতিষ্ঠানে অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের ভাষ্য, বোনের পথ অনুসরণ করে লাইবাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা পরিবারের জন্য কেনা একটি জমি বিক্রি করেন। লাইবার মা-ও অর্থের ব্যবস্থা করতে নিজের গয়না বন্ধক রাখেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইসলামাবাদ পুলিশের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলা হয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও এফআইএ আলাদাভাবে মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত প্রতারণার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে। এফআইএ ১০ অক্টোবর নওমান ও ফাতিমা সরওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন নওমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছেন বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে, তাই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। এফআইএ মহাপরিচালক উসমান আনোয়ার ঘটনাটিকে প্রচলিত শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার চেয়ে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নওমানের পরিচিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর মাধ্যমে বৃত্তি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার নথি পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নওমানের মোবাইল ফোনে অন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার সম্ভাব্য তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এর আগে কোয়েটায় দুর্নীতিবিরোধী বিভাগে কাজ করার সময়ও নওমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাটি পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির এফআইএ এর আগেও ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি চিঠি, বৃত্তির নথি, ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করেছে। লাহোরভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক বিলাল রাঞ্জার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্রুত বা সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের ফাঁদে পড়েন। তবে তিনি তরুণদের মধ্যে জাল নথি ব্যবহারের যে উচ্চ হার উল্লেখ করেছেন, তার পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি। ইসলামাবাদভিত্তিক তরুণ অধিকারকর্মী নাহিদ খান এ ঘটনাকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং দেশে সীমিত সুযোগের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক তরুণ। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। লাইবার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং এর সঙ্গে কথিত প্রতারণার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। এ ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য মিডিয়া লাইন, ডন, জিও নিউজ
আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার স্কুলের পোশাকবিধিতে এমন পরিবর্তন এনেছে, যেখানে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পোশাকের বিবরণসংক্রান্ত বিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো স্কুলে একটি অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতি বজায় রাখা। নতুন নিয়মে নির্ধারিত স্কুল পোশাকের অভিন্নতা নষ্ট করে কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন পোশাক বা অতিরিক্ত পোশাকের উপকরণ ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে নিয়মে হিজাবের নাম উল্লেখ করে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাস্তবে বিধিটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও হিজাব পরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নতুন বিধির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে। জাহরা হাসানোভা নামের এক শিক্ষিকা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তাঁকে স্কুলে হিজাব পরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে কেউ হিজাব খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে, নতুন পোশাকবিধিতে জাতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জাতীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাক বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত পেডাগজিক্যাল কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পোশাকবিধি মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট পরিষদের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে বিধিটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আজারবাইজানের জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। দেশটির সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। এ কারণে নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কটি কেবল স্কুলের পোশাকের নিয়মে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং শিক্ষার অধিকারও জড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, নিয়মটির প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা তৈরি হতে পারে। নতুন বিধির প্রতিবাদ শুধু স্কুলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের ঘটনাও সামনে এসেছে। কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানভও নতুন নিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দণ্ডিত এই সাংবাদিক দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর স্ত্রীগুলমিরা আসলানভা ফেসবুকে প্রকাশিত একটি বার্তায় জানান, কারাগারে থেকেও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে অনশন করছেন তাঁর স্বামী। আজারবাইজানে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটার খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন তথ্য এখনো নেই। এই বিতর্কের প্রভাব প্রতিবেশী দেশ তুরস্কেও পড়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরা নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি চাকরিতে কর্মরত কিছু নারীকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তুরস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও প্রতিবাদ নিয়ে পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দল নিউ আজারবাইজান পার্টির এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অন্যদের দেশের জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজারবাইজানে নতুন পোশাকবিধি কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এর ফলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্কুলে প্রবেশের সুযোগ ফিরবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অভিন্ন পোশাকবিধি ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে, প্রতিবাদকারীরা বলছেন, পোশাকের নিয়মের কারণে কাউকে শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। এই দুই অবস্থানের টানাপোড়েনে দেশটিতে হিজাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, আজারবাইজান প্রেস এজেন্সি (এপিএ)
ইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।