বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতার পথে উপসাগরীয় দেশগুলো! বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের নতুন কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যেই একাধিক গোপন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তার সমান্তরালে সম্পূর্ণ আলাদা একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ওমান, কাতার, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছে। সূত্রগুলোর দাবি, প্রথমে ইরান ও ওমান, এরপর ওমান ও কাতার, পরে ইরান ও সৌদি আরব এবং সর্বশেষ কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার মূল বিষয় ছিল, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে কী ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বৈঠক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সমঝোতার আলোচনা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এ অর্থকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাইন অপসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা কিংবা বিমাসংক্রান্ত সেবার খরচ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এই অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, কোন প্রতিষ্ঠান তা পরিচালনা করবে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   ইরানের নতুন পদক্ষেপ ইরান ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির নবগঠিত গালফ স্ট্রেইট অথরিটি ঘোষণা দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর হরমুজ অতিক্রমকারী সব জাহাজের জন্য ইরানি বিমা বাধ্যতামূলক করা হবে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক গোনুল তোলের ভাষায়, ইরান এখন উপলব্ধি করেছে যে, তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগত সম্পদ শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ। তাই ভবিষ্যতেও এই প্রভাব বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক বৈঠকের যৌথ ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও মুক্ত নৌ-চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল, ফি বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিরোধিতা করা হয়। চ্যাটাম হাউসের গবেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তাও তারা অস্বীকার করছে না।   উত্তেজনা আরও বেড়েছে গত সপ্তাহে জাতিসংঘ, ইরান ও ওমান আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুটি নির্দিষ্ট নৌপথে সম্মত হওয়ার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওই রুটের বাইরে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করে। এর পরদিন একটি তাইওয়ানভিত্তিক শিপিং কোম্পানি অভিযোগ করে, তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি ইরানের ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও পরবর্তীতে উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সুফান সেন্টার বলছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে সাম্প্রতিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে ওমানকে, একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সক্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা কমে যাওয়া। গোনুল তোল বলেন, ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক বছর ধরেই কমছে। ফলে অনেক উপসাগরীয় রাষ্ট্র মনে করছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শেষ পর্যন্ত তাদেরই ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক ইয়াসমিন ফারুকও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এমন এক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে অতীতের নিরাপত্তা কাঠামো আর আগের মতো থাকবে না। তাই তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতেই গড়ে নিতে চাইছে। অর্থনীতি হতে পারে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা তাদের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে তারা ইরানের কাছ থেকে কিছু নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আদায় করতে চাইবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সামরিক সহায়তা কমানোর মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।   বিকল্প নিরাপত্তা জোটের দিকেও নজর একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতেও বহুমুখী নীতি গ্রহণ করছে। মে মাসে কুয়েত ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ড্রোন রপ্তানির জন্য ইউক্রেনও নতুন চুক্তি করেছে। এ ছাড়া সৌদি আরব মিশর, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গড়ে ওঠা একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটের বৈঠকেও অংশ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় না। বরং একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে আগ্রহী।   তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার চায়। বরং তারা এমন একটি কৌশল তৈরি করছে, যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তিত হলেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৬:১৮
বারবার একই রোগ ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে বিরল ক্যানসার। ছবি: সংগৃহীত
মূত্রনালির সংক্রমণ ভেবে সাত মাস চিকিৎসা, পরে ধরা পড়ে বিরল হাড়ের ক্যানসার, ১৭ বছরেই মৃত্যু ব্রিটিশ কিশোরীর

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের সুইন্ডনের বাসিন্দা ক্লোয়ে ভেন্টনের বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। মাঝরাতে তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ঘুম ভেঙে যেত তার। অতিরিক্ত ঘাম, বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান কোমরের ব্যথায় স্বাভাবিক জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সাত মাস ধরে তার সমস্যাকে কেবল মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) বলে ধরে নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালিয়ে যান।   যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ক্লোয়ের মেরুদণ্ডে একটি টিউমার ধরা পড়ে। এরপর জানা যায়, তিনি বিরল ও আক্রমণাত্মক হাড়ের ক্যানসার ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়বার ক্যানসার ধরা পড়ে এবং ২০২০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ক্লোয়ের মা জোয়ান ভেন্টন বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, মেয়ের সমস্যাটি সাধারণ ইউটিআই নয়। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। বরং কোমরের ব্যথা ধীরে ধীরে নিতম্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। শরীরের নিচের অংশে অবশভাব দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তিনি মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণও হারাতে শুরু করেন।   জোয়ানের ভাষায়, এত অল্প বয়সে এমন উপসর্গ মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু চিকিৎসকেরা বারবার একই রোগ নির্ণয় করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকের চেম্বার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং আরও পরীক্ষা করার দাবি করেন। এরপরই তাকে সুইন্ডনের গ্রেট ওয়েস্টার্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে স্ক্যানে মেরুদণ্ডে টিউমার ধরা পড়ে। পরে তাকে জন র‍্যাডক্লিফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।   সেখানে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ক্লোয়ে ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত। এটি মূলত শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগ ধরা পড়ার পর ক্লোয়ের কেমোথেরাপি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ১৫ দফা কেমোথেরাপি এবং প্রোটন থেরাপি গ্রহণ করেন। চিকিৎসার কঠিন সময়েও তিনি অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ক্লোয়ে এর আগে একটি হাসপাতালে কাজ শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছিলেন। ফলে নিজের চিকিৎসা নিয়েও তিনি চিকিৎসকদের নানা প্রশ্ন করতেন।   তবে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। শরীরে অস্বাভাবিক র‍্যাশ দেখা দেয়। পরিবারের দাবি, তখনও চিকিৎসকেরা এটিকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। জোয়ান বলেন, দ্বিতীয়বারও তাকে চিকিৎসকদের বোঝাতে লড়াই করতে হয়েছে যে, বিষয়টি শুধু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। পরে পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই র‍্যাশ আসলে লিউকেমিয়া কিউটিস, অর্থাৎ ত্বকে লিউকেমিয়ার প্রকাশ। একই সঙ্গে ক্লোয়ের অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া এক ধরনের রক্তের ক্যানসার।   সব ধরনের চিকিৎসা সত্ত্বেও ২০২০ সালের জুলাই মাসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্লোয়ের মৃত্যু হয়। করোনা মহামারির বিধিনিষেধের কারণে পরিবারের শেষ বিদায়ও ছিল অত্যন্ত কষ্টের। জোয়ান জানান, সামাজিক দূরত্বের নিয়মের কারণে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে শেষ সময় কাটাতে পারেননি। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রচলিত ব্যবস্থাও ছিল না। নিজের মেয়ের কফিনের পেছনে নিজেকেই গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়েছিল, যা তিনি জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।   মেয়ের মৃত্যুর পর অন্য পরিবারগুলোকে সচেতন করতেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন জোয়ান। তার ভাষায়, সন্তানের শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখলে অভিভাবকদের চিকিৎসকদের কাছে বারবার প্রশ্ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানাতে হবে। কারণ দ্রুত রোগ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।   ক্লোয়ের শেষ দিকের একটি কথাও আজও ভুলতে পারেন না তার মা। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে ক্লোয়ে তাকে বলেছিল, "আমি কখনও আমার ভাইদের বড় হতে, বিয়ে করতে দেখতে পারব না। আমি যে খালা হতে চেয়েছিলাম, সেটাও আর হতে পারব না।" সেই কথাগুলো আজও তাকে ভেঙে দেয়। এদিকে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে)-এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় প্রতি ১৮ জন রোগীর মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে ভুল রোগ নির্ণয়ের শিকার হন। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যানসার, স্ট্রোক ও হৃদরোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে ভুল রোগ নির্ণয় অনেক সময় স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউইং সারকোমা সাধারণত কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের হাড়ের ব্যথা, বিশেষ করে রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, ফোলা, স্পর্শে ব্যথা কিংবা সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে এসব উপসর্গের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসার নয়, অন্য সাধারণ কারণও থাকতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৬:৪
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৪:১
অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা
অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯০০-এর বেশি আটক

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৯০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে তাদের আটক করা হয় বলে বুধবার (১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অন্তত ১২টি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে ওইসব এলাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন নথিপত্রহীন অভিবাসীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   গত কয়েক মাস ধরে দেশটিতে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল। কঠোর আইন প্রয়োগ ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক চাপের মুখে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোই এই অসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।   এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৩:৩৬
দারায় কৃষিজমিতে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণ
দারায় কৃষিজমিতে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণ, আকাশে ড্রোন নজরদারি

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে আবারও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশটির পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ কৃষিজমিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে জামলাহ গ্রামের আশপাশের ফসলি জমিতে একটি কামানের গোলা আঘাত হানে। একই সময় ওই এলাকার আকাশে একটি ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোন ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা’র সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এই গোলাবর্ষণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।   এর আগে গত রোববারও দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের আবদিন গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী একটি আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানের পর গ্রামটির উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ইসরায়েলি সেনারা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার জন্ম দেয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং সামরিক চেকপোস্ট স্থাপনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   সাম্প্রতিক এই গোলাবর্ষণের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   এই প্রতিবেদনটি আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৩:২১
আইভরি কোস্টে বন্যায় নিহত ৫৯, বাড়তে পারে প্রাণহানি
আইভরি কোস্টে বন্যায় নিহত ৫৯, বাড়তে পারে প্রাণহানি; ঘানা-আক্রাতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।   বুধবার (১ জুলাই) রাজধানী আবিদজানে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চলতি বছরে বন্যায় এত মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে সর্বশেষ দফার বন্যায় ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।   এর আগে সোমবার ঘানা ও আইভরি কোস্টের রাজধানী এলাকাগুলোতে কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টির পর হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ২৪ জন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।   ঘানার রাজধানী আক্রায় বন্যার পানিতে বহু সড়ক ও ভবন তলিয়ে যায়, ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী তেমা শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে নিত্যদিনের জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   অন্যদিকে আইভরি কোস্টের অর্থনৈতিক কেন্দ্র আবিদজানেও কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী মাইস বেলমন্দে দোগো জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই আবিদজানের আতেকুবে ও ইয়োপুগন পৌর এলাকার বাসিন্দা।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং যেসব এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার অনেক দেশই এখন ক্রমবর্ধমান চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে আফ্রিকার অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে এই মহাদেশের দেশগুলোই। ফলে প্রতিবছরই বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বাড়ছে।   এই প্রতিবেদনটি এবিসি নিউজের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ২:১৫
খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে কঠোর সামরিক সতর্কতা
খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে কঠোর সামরিক সতর্কতা

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা। বহুজাতিক অংশগ্রহণে আয়োজিত এই দীর্ঘ কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে দেশটির স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সীমান্তজুড়ে সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।   ইরানি সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে ইরানি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁর স্মরণে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।   ছয় দিনব্যাপী এই ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আয়োজন ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের মোট পাঁচটি প্রধান শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।   পরবর্তী ধাপে ৭ জুলাই পবিত্র কোয়ম শহরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কর্মসূচি ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় গড়াবে। সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তাঁর নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন সম্পন্ন করা হবে।   ইরানি প্রশাসনের ধারণা, এই দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতায় দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   সরকারি সূত্র জানায়, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রায় ৯০টি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির সংসদে দেওয়া ভাষণে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমাবেশেও রূপ নিতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ২:৮
আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত
আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত

আফগানিস্তানে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলা। ভূপৃষ্ঠের নিচে মাঝারি গভীরতায় সংঘটিত এই কম্পন আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অনুভূত হয়।   শুধু আফগানিস্তানেই নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও ভূমিকম্পের কম্পন টের পাওয়া গেছে। দেশটির ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার (এনএসএমসি) জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারসহ সোয়াত, শাংলা, বুনের, লোয়ার দির এবং আশপাশের এলাকায় মানুষ কম্পন অনুভব করেন। অনেক জায়গায় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   তবে এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   ভূগোলগত অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে থাকে।   এর আগে গত ২৭ জুন দেশটিতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনাতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।   সবশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে ঘরবাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে অন্তত সাতজন নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ১৫০ জন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল অবকাঠামো ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি এনডিটিভি ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১:৫৬
গান্ধীর মূর্তির মুখ-হাতে কালো কাপড়
গান্ধীর মূর্তির মুখ-হাতে কালো কাপড়, কাটোয়ায় চাঞ্চল্য

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে মহাত্মা গান্ধীর একটি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে স্টেশন বাজার এলাকায় ঘটনাটি প্রথম জনসমক্ষে আসে।   স্থানীয়দের নজরে পড়তেই বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়ে কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূর্তির মুখ ও হাত থেকে কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত কাটোয়া পৌরসভার উদ্যোগে এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্থানীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।   কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূর্তির উপরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে এক গৃহহীন ব্যক্তি মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটিজেনরা এই কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।   এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনাকে দেশবিরোধী কাজ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যদিকে বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল দত্তও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।   উল্লেখ্য, জাতির জনক হিসেবে পরিচিত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি বা স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনা অতীতে বিভিন্ন স্থানে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কাটোয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।   এই প্রতিবেদনটি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১:২৭
রাখাইনে ফের বিমান হামলা, সাগাইংয়ে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানি
রাখাইনে ফের বিমান হামলা, সাগাইংয়ে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানি; কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছাড়ছে

মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুথিডং উপজেলার আশপাশের গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক হামলায় গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।   এদিকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মোনিওয়া শহরে জান্তাবিরোধী দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ)-এর মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় পিএসএফের কয়েকটি ক্যাম্পে পিডিএফের আকস্মিক অভিযানের পর।   বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।   চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের ভয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা এই দেশত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে মিয়ানমারে অন্তত ৩৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে—প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্য ঘাটতিতে ভুগছেন। এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পড়তে শুরু করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়লেও এখনো কার্যকর সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১:১৯
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দোহা বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চালু হচ্ছে সরাসরি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন বিষয় দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সরাসরি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।   আলোচনা শেষে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় দ্রুত জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।   দোহার বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর বিভিন্ন লঙ্ঘনের মধ্যেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার উদ্যোগ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে সমঝোতা স্মারকের ব্যাখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় গত এক সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।   বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে।   তিনি বলেন, দুই পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যাডাম ক্যানক্রিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দোহার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং শিগগিরই পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।   ভ্যান্স বলেন, প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচকেরা ইরানি ও কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং বর্তমানে আলোচনার প্রধান বিষয় পারমাণবিক ইস্যু। তবে পরে ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ সফরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী মাসে সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র আর সামরিক পদক্ষেপ নেবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।   তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না। কারণ শেষ পর্যন্ত ইরান কী করবে, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। তবে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন ছাড়া আবার সেনাবাহিনী পাঠাবেন না। স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকলেই তা করা হবে।’ এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ইসরায়েল নতুন হামলা চালালে ইরান ‘তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মিত্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান।   অর্থনৈতিক বিষয়েও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাজেম গারিবাবাদি জানান, জব্দ অবস্থায় থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার সম্পদের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যবহারের বিষয়টি কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।   তিনি বলেন, ইরানের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হবে এবং সেগুলো দেশটিতে সরবরাহ করা হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ডার বুধবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। একই দিনে আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০ এস সি হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ এক বিমানকর্মীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।   অন্যদিকে বুধবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের অনুমোদিত রুট ব্যবহার না করায় একটি বিদেশি কনটেইনারবাহী জাহাজ আটকে গেছে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) প্রতিবেদনে বলা হয়, কম গভীরতার জলপথ ব্যবহার করায় জাহাজটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে তেহরান।   দিনের শেষ ভাগে দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হাম্মাদ আল সানি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার অগ্রগতিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রথম সফরের প্রস্তুতিকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি, কিন্তু এখন আমরা ভালোভাবে এগোচ্ছি।’ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হওয়া এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে যাওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ০:৫৩
রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ক্ষয়ক্ষতি হয় । ছবি: এএফপি
ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ২

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য ‘বড় ধরনের রুশ হামলার’ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন।   কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, শহরটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আক্রমণের মুখে পড়ে। হামলায় একটি হোটেলের ছাদে আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল শেভচেঙ্কো বুলেভার্ডের ওই ভবনের ওপরের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।   পরে ক্লিচকো জানান, হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। একটি নয়তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে কয়েকজন আটকা পড়েন। আরেকটি বহুতল ভবনের ছাদেও আগুন লাগে।   বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। রুশ হামলার সময় অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে ছুটে যেতে দেখা যায়। অনানুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বহু মানুষ ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।   এএফপির সাংবাদিকরা কিয়েভের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে এক ডজনের বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সতর্ক করে জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরেকটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।   পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তিনি দ্রুত ইউক্রেনে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্কবার্তা মেনে চলতে এবং নিজেদের পরিবার ও শিশুদের নিরাপদ রাখার আহ্বান জানান। জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানালেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তার ভাষায়, পুতিন ইউক্রেনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ও সমগ্র ইউরোপের বিরুদ্ধেও আগ্রাসন চালিয়ে যেতে চান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২২:৫২
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প তেল আবিবের ‘পোষ্যদের’ সামলাতে না পারলে শিক্ষা দেবে ইরান: আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখা। অন্যথায় ইরানই ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   বুধবার (২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের বক্তব্যের জবাবেই তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। আরাগচি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। ওই সমঝোতার আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।’   এর আগে সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যদিও কোনো চুক্তির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জিত হলে সেটিই ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় সংঘাত এড়িয়ে চলার কথা উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির পক্ষ নয়। ইসরায়েলের অবস্থান হলো, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   অন্যদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনার আগে ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের অধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তেহরান অনড় অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের পথেও হাঁটতে প্রস্তুত তারা।   সূত্রগুলোর দাবি, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে কোন জাহাজ চলবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, সেই নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে বলে তারা মনে করে।   ইরানি সূত্রগুলোর ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও এই নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। এ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অন্য কোনো বিষয়ে অগ্রসর হবে না ইরানি আলোচকরা।   তারা আরও জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় শুরু করতে পারে ইরান। তবে কী পরিমাণ ফি নেওয়া হবে বা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২০:৪২
ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং ইরানের পরমাণু ইস্যুতেও অগ্রগতি হচ্ছে।   ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। ইরান অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কাতারে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোও খুব ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। এখন সামনে কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’   এদিকে বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি সূত্র এবং এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার পথ খুঁজে বের করা।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকের আগে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে কুশনার ও উইটকফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অংশ নেননি। তারা মূলত আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২০:১৯
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫ সহায়তাকর্মী

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে স্পষ্ট মানবিক সহায়তার চিহ্নযুক্ত একটি ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ এই হামলার পর দেশটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিল।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   হামলার শিকার বহরের পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। পথে বহরটির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এদিকে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ সুদান ধারাবাহিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১২:১৪
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তান সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন বেলুচিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চারটি সাধারণ ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।   বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে। এতে সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   এ ঘটনায় আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা এবং এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলারও কথা বলা হয়েছে।   পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে Russia। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংযম প্রদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।   রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান তালেবান—উভয় পক্ষই নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।   মস্কো বলছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৮:৩৬
প্রেমের টানে ধর্ম ও নাম বদল, তিন বছর পর আগের পরিচয়ে ফিরলেন যুবক
প্রেমের টানে ধর্ম ও নাম বদল, তিন বছর পর আগের পরিচয়ে ফিরলেন যুবক

প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন এক যুবক। এমনকি বদলে ফেলেছিলেন নিজের নাম ও জীবনযাপনও। তবে কয়েক বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে আবার আগের ধর্মে ফিরে এসে প্রেমিকা ও তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ভারতের Uttar Pradesh রাজ্যের শামলি জেলায়।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়ুষ মালিক নামে ওই যুবক প্রায় তিন বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ ঘটনায় দেশটির ধর্মান্তর বিরোধী আইনে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিকা চাঁদনি কুরেশি এবং তার বাবাকে।   তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালে পায়ে আঘাত পেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে চাঁদনি কুরেশি নামে এক ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে পরিচয় হয় আয়ুষের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একসময় প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা।   পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, চাঁদনির পরিবারের পক্ষ থেকে আয়ুষের ওপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখতে এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণে সম্মত হন। তবে এই সিদ্ধান্তে তার পরিবার সমর্থন দেয়নি বলে জানা গেছে।   ২০২৩ সালে চাঁদনির পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন আয়ুষ। তখন তার নাম পরিবর্তন করে ‘মহম্মদ আলি’ রাখা হয়। নতুন পরিচয়ে তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপন শুরু করেন—দাড়ি রাখা, পোশাকে পরিবর্তন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।   তবে প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি তিনি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আয়ুষের দাবি, পরিবারের কষ্ট ও মানসিক চাপ দেখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগের ধর্মে ফিরে যান তিনি।   আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে ধর্মান্তরিত করে পরিবারের বিপুল সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।   উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ধর্মান্তর সংক্রান্ত আইনের আওতায় অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনি কাঠামোর জটিলতার কারণে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৭:৪১
জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু
জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও কয়েকজন

জার্মানিতে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন জলাশয়ে সাঁতার বা গোসল করতে গিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ, পাশাপাশি কয়েকজন কিশোরও রয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   জার্মানির লাইফ সেভিং অ্যাসোসিয়েশন DLRG (ডিএলআরজি) জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববার—মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে—সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও পৃথক সাতটি প্রাণঘাতী ঘটনার খবর পাওয়া যায়।   তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগেই সংস্থাটি জনগণকে সতর্ক করে বলেছিল, অতিরিক্ত গরমের সময় নদী বা হ্রদে সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তবুও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অনেকেই ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছে তারা।   রোববার নিডারজ্যাক্সেন রাজ্যের পাইনে শহরের আইক্সার হ্রদ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের এখৎস হ্রদ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের লাশ, যিনি শুক্রবার নৌকা থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।   ডিএলআরজি জানিয়েছে, তাদের পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে এলবে নদীতে এক সাঁতারু, স্যাক্সনির পোহল জলাধারে এক ব্যক্তি এবং বাডেন-ভুর্টেমবার্গের একটি খনির হ্রদে ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের খোঁজ চলছে।   পুলিশের তথ্যমতে, ওই যুবক রোববার কয়েকবার পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর হঠাৎ তলিয়ে যান। তার এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরাও তাকে খুঁজে পাননি। দুর্ঘটনাস্থলের পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার।   এছাড়া নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার নেফেল হ্রদে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, কোলনের ফ্যুলিঙ্গার হ্রদে ২১ বছর বয়সী এক সাঁতারু, ভেসেল জেলায় ডুবে যাওয়া একটি রাবার বোটের আরোহী এবং বাল্টিক সাগরের শারবয়ৎস উপকূলে এক দূরপাল্লার সাঁতারুও নিখোঁজ রয়েছেন।   ডিএলআরজির সভাপতি উটে ফগ্ট বলেন, “আমরা বারবার দেখছি, বিশেষ করে পুরুষেরা নিজেদের সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করেন এবং এমন ঝুঁকি নেন, যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।”   এদিকে জার্মানির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের প্রভাবও ক্রমেই বাড়ছে। স্পেনের বার্সেলোনা শহরে ৫০০টির বেশি স্থানে ‘জলবায়ু-সুরক্ষা কেন্দ্র’ চালু করা হয়েছে, যেখানে মানুষ গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারে। অন্যদিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ টেলিফোন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং তাপপ্রবাহের সময় মদ বিক্রিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization (ডব্লিউএইচও)-এর ইউরোপীয় আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত মাত্র। তার ভাষায়, “তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি বারবার ফিরে আসা একটি সংকটে পরিণত হয়েছে।”   ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই এক হাজার ৩০০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই দেশটিতে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। অথচ এখনো অনেক দেশ এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। আগাম সতর্কবার্তা, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৭:২৯
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু, কারিগরি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ সংলাপ
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু, কারিগরি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ সংলাপ

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   বুধবার (১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানায়, আলোচনা বর্তমানে কেবল প্রযুক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দোহায় অন্তত তিনটি আলাদা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এসব গ্রুপ পারমাণবিক কর্মসূচি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আর্থিক বিষয়—বিশেষ করে জব্দ করা তহবিল ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর এই বিষয়গুলোতেই অগ্রগতি আনার চেষ্টা চলছে।   আলোচনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তারা আলোচনার একটি প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা নিজেরা সরাসরি এই কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।   এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক গৃহীত হয়। সেই সমঝোতার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেন এবং আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়।   তবে পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমঝোতা অনুযায়ী মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না, বরং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই সব ধরনের যোগাযোগ চালিয়ে যাবে।   কাতার সরকারও নিশ্চিত করেছে, আপাতত কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ফলে আলোচনার বর্তমান ধাপ পুরোপুরি পরোক্ষ ও কারিগরি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এই আলোচনা প্রক্রিয়া চালু থাকা ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। কয়েক দিন আগেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও, সমঝোতা স্মারকের কাঠামোর মধ্যেই এখন তারা আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে অন্তত যোগাযোগের একটি চ্যানেল খোলা থাকছে, যা ভবিষ্যতে বৃহত্তর সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৭:২১
কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাস । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, পাসপোর্টও আটকে গেল; ‘এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না’

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পাসপোর্ট নবায়নও আটকে গেছে কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার জেরে এখন তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতজুড়ে গণমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ভোট দিতে না পারা একজন দেশের নাগরিকের কাছে এর চেয়ে বেশি অপমানজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সবচেয়ে পবিত্র অধিকার।"   তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হচ্ছে যেন আমাকে নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে, আমি নাগরিক কি না। নিজেকে একজন হাফ সিটিজেন মনে হচ্ছে।" কেরালায় জন্ম নেওয়া রাজাগোপাল রামদাস গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন। কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়ে। পরে সেই যুক্তি দেখিয়েই তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট নবায়ন আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। যদিও তাঁর আগের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বৈধ ভিসা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড বিবৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর জন্মরাজ্য কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।   বর্তমানে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ জোগাড় করতেই সময় কাটছে বলে জানান রাজাগোপাল রামদাস। এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পর তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। রাজাগোপাল রামদাস জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ভোট দেননি। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করতাম একজন সাংবাদিকের ভোট দেওয়া উচিত না। কারণ তাহলে তারা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সমর্থন করতে বাধ্য।"   তাঁর ভাষায়, "অনেক বছর পর আমি বুঝলাম আমার এটা ভুল হয়েছে। সাংবাদিকদেরও পক্ষ নেওয়া উচিত। ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। দুঃখ পেয়েছিলাম।" সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু জুন মাসে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে।   তিনি জানান, জুন মাসে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাঁর 'সন্দেহজনক' ভোটাধিকারের কারণ দেখিয়ে কলকাতা পুলিশ তাঁর নামে একটি 'অ্যাডভার্স' রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই কারণে আপাতত নতুন পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।   রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করেনি। করেছে কলকাতা পুলিশ। তারা আমার পুলিশি ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে 'নো অবজেকশন' দিতে নারাজ। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, যতক্ষণ আমার নাম ভোটার তালিকায় আবার যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।"   তিনি জানান, কলকাতা পুলিশের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন কোন আইন বা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে উল্লেখ নেই। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করলেও মূল প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর দেয়নি।   পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগামী ১৭ জুলাই আবার উপস্থিত হতে বলেছে। তিনি বলেন, "একশোরও বেশি দিন আগে আমি বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিয়েছি। পাসপোর্ট অফিস সব নথি যাচাই করেছে। পরে পুলিশও অতিরিক্ত নথি চেয়েছিল। আমি সব দেখিয়েছি। এর বাইরে আমার কাছে নতুন কোনো নথি নেই।"   তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলও হয়নি, আবার অনুমোদনও হয়নি। ফলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আমি নিশ্চিত নই।"   রাজাগোপাল রামদাসের জন্ম কেরালায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে 'অ্যাডভার্স রিপোর্ট' দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই রিপোর্টের কারণেই তাঁর পাসপোর্ট নবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। চিঠিতে রাজাগোপাল রামদাসকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাসকারী একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক উল্লেখ করে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।   রাজাগোপাল রামদাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সম্রাট চৌধুরীর পাসপোর্টও সম্প্রতি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও তার কারণ স্পষ্ট নয়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।   তবে যাদের আবেদন বিচারাধীন এবং যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করেছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বানান ভুলসহ ছোটখাটো ত্রুটির কারণে যেভাবে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন, একই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।   এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার দাবিতে ২৩টি বিরোধী দল যৌথভাবে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছে। রাজাগোপাল রামদাসের অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, তাঁর ঠিকানায় বসবাসকারী একাধিক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।   তিনি বলেন, যাচাইয়ের জন্য ভোটার আইডি চাওয়া হতে পারে। তবে এটি পাসপোর্ট তদন্তের একমাত্র বা চূড়ান্ত নথি নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন রিপোর্ট পাঠানো হবে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু করে।   নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া। এসআইআরে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়েন। পরে নির্বাচন সামনে রেখে ২৭ লাখেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। রাজাগোপাল রামদাস তাঁদেরই একজন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। তবে সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন।   এসআইআরের পর অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক বিচারকদের নেতৃত্বে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতেই সময় কাটছে রাজাগোপাল রামদাসের। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের জন্মসনদ খুঁজে পেয়েছেন। তবে সেখানে তাঁর মায়ের পদবিতে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মায়ের নাম আসলে রাধা দেবী। কিন্তু জন্মসনদে লেখা আছে রাধা বাই। এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন আমাকে মায়ের ম্যাট্রিকুলেশনের সনদ খুঁজে বের করতে হচ্ছে।"   তিনি জানান, মায়ের স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বাবার প্রবীণ বন্ধুদের কাছ থেকেও তাঁর বাবার পুরোনো ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "একজন প্রাক্তন সাংবাদিক হিসেবে আমি ভাবতাম, সাধারণ মানুষের সমস্যার মুখোমুখি আমাকে কোনোদিন হতে হবে না। এখন বুঝেছি, সেটা আমার ভুল ধারণা ছিল। ভোট দিতে না পারার চেয়ে বেশি অপমানজনক কিছু হতে পারে না।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৬:২৬
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান । ছবি: আল জাজিরা
গাজা–পশ্চিম তীর দখলে গতি বাড়িয়েছে ইসরায়েল, শিশু হত্যা নিয়ে ‘গণহত্যার ইঙ্গিত’

গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও বসতি সম্প্রসারণ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা যে পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সপ্তাহে তার বাস্তবায়নের বিভিন্ন লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে এবং এটি গণহত্যার উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ সম্প্রতি হেবরন চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো সরকারের পরিকল্পিত ‘নীরব সংযুক্তিকরণ’ কৌশল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সপ্তাহজুড়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।   হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদের খোলা চত্বরে ইস্পাতের বিম বসানোর কাজ শুরু করে। মসজিদের পরিচালক এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির চরিত্রে মৌলিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে সেখানে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে মুসলিমদের আজান বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   গাজায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রকাশ্যে এনেছেন স্মতরিচ। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সেটেলমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গাজার উত্তরাঞ্চলে তিনটি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণসীমা নির্দেশকারী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পাশে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সিমেন্টের সীমাচিহ্ন আরও পশ্চিমে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বিস্তৃত হয়েছে।   নেতানিয়াহু আলাদাভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।   পশ্চিম তীরেও বসতি সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। রামাল্লাহর উত্তরে সিনজিল এলাকার কাছে ৪৬৫ দুনাম বা ০.৪৬৫ বর্গকিলোমিটার জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল গিভাত হারোয়েহ আউটপোস্টকে পশ্চাৎমুখীভাবে বৈধতা দেওয়া এবং রুট-৬০ বরাবর বৃহত্তর বসতি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা। আউটপোস্টটি ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক বসতিতে রূপান্তরিত হয়।   ওয়াফা ও স্থানীয় কর্মী নেটওয়ার্কগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা কোবার ও বেইতিল্লুর কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে এবং আল-মাজরা আশ-শারকিয়া ও কাফর মালেকের মাঝখানে নতুন আউটপোস্ট গড়তে জমি ঘিরে ফেলেছে।   জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২৩ জুন মধ্যরাতে বেইত লাহিয়ার কাছে একটি কোয়াডকপ্টার থেকে দাহ্য গোলাবারুদ ফেলা হয় বলে জানা গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের তিনটি তাঁবুতে আগুন লাগে। ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী আশ্রয়শিবিরের পাশে একটি হলুদ সিমেন্ট ব্লক স্থাপন করে, যা নিয়ন্ত্রণরেখা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এই রেখার আশপাশে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা ‘প্রবেশ-সীমাবদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   ২৩ জুন জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং হত্যা করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশ।   কমিশনের ভাষ্য, শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদিটিকে ‘মানহানিকর প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে।   এর কয়েক দিন পর ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৪১ জন ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি এমন এক নীতির ফল, যা কার্যত কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যাকে সম্ভব করেছে।   ২৯ জুন রামাল্লাহ সংলগ্ন এল-বিরেহ শহরে ১৫ বছর বয়সী আহমদ জাওয়াদ জাবের ইসরায়েলি অভিযানের সময় মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। রামাল্লাহর গভর্নর লাইলা ঘান্নাম ঘটনাটিকে ‘দিবালোকে সংঘটিত স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন।   গাজার চিকিৎসাসূত্র ও ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী আইলিন আল-ফারা স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যায়। দেইর আল-বালাহর কাছে আট বছর বয়সী মালিক আবু শাওয়িশ নিহত হয়। একই দিন আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ২৩ বছর বয়সী ডায়ানা আবু দারাজ এবং তাঁর শিশু কন্যা সুয়ার নিহত হয়। যুদ্ধবিরতির আওতায় ওই এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।   রামাল্লাহ অঞ্চলের দার ফাজা ও পূর্ব তাইবেহ এলাকায় নতুন আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠার পর ১১টি বসতি স্থাপনকারীর হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা স্থানীয়দের একমাত্র পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একই সড়কপথের ১০টি বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ৯টি এলাকা ইতিমধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে।   তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুন দেইর দিবওয়ানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয়জন বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৮ বছর বয়সী। ওই হামলায় যানবাহন ও একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছিল।   এ ছাড়া ২৫ জুন বেইত আনোটের একটি বসতি আউটপোস্টে কয়েকটি ঘর ভেঙে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন বসতি স্থাপনকারী নেতারা। একই সময়ে ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ সময় ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে রেড ক্রসের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করতে আনা একটি বিলও ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হয়নি। অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় আইনপ্রণেতাদের ভোট বর্জনের কারণে বিলটি আটকে যায়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় নয় মাস পর যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ২৫ জুন বেইত লাহিয়ায় একটি হামলায় একজন নিহত হন। ২৬ জুন মাঘাজি শরণার্থীশিবিরের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ২৭ জুন আল-মাওয়াসিতে আরেক হামলায় দুই ভাইবোন নিহত হয়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় গাজার প্রায় অর্ধেক ডায়ালাইসিস মেশিন অচল হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে ইসরায়েলের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ২৫ শতাংশেরও কম পেয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৫:৪৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০