সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিশ্ব

জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট
জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট

জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে চার শ্রেণির বিদেশি নাগরিক বিশেষ সুবিধায় সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। দেশটির সরকারি অভিবাসন নির্দেশনায় এসব শ্রেণির জন্য তুলনামূলক সহজ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন ইইউ ব্লু কার্ডধারী, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত বা ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা।   সাধারণ নিয়মে জার্মানিতে স্থায়ী সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য কয়েক বছর বৈধভাবে বসবাস, নিজের খরচ চালানোর মতো আয়, পেনশন ব্যবস্থায় অবদান, জার্মান ভাষাজ্ঞান এবং দেশটির আইন ও সমাজ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়।   তবে দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সাধারণ সময়ের তুলনায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। দক্ষ কর্মীদের জন্য সাধারণত যোগ্য রেসিডেন্স পারমিটে তিন বছর থাকার পাশাপাশি পেনশন ব্যবস্থায় অন্তত ৩৬ মাসের অবদান, নির্দিষ্ট চাকরি, আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা এবং জার্মান ভাষায় অন্তত B1 পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন।   জার্মানিতে পড়াশোনা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শেষ করা ব্যক্তিদের জন্যও কিছু ক্ষেত্রে শর্ত সহজ করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত ব্যক্তিরাও বিশেষ বিধানের আওতায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হতে পারেন।   সেটেলমেন্ট পারমিট পেলে জার্মানিতে অনির্দিষ্টকাল বসবাস ও কাজ করার অধিকার পাওয়া যায়। ফলে অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের তুলনায় এটি বিদেশিদের জন্য অনেক বেশি স্থিতিশীল অভিবাসন মর্যাদা তৈরি করে।   তবে চার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিট পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য যোগ্যতা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।    অর্থাৎ, জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য দক্ষতা, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার ভিত্তিতে স্থায়ী হওয়ার একাধিক পথ রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৫:৭
কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে বড় ইস্যু চীন
কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে বড় ইস্যু চীন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী কানাডা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীন। কানাডার সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উত্তর আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্য প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করেছে।   বিশেষ করে চীনে উৎপাদিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্য কানাডা বা মেক্সিকোর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য অন্য দেশে পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়াকে ট্রান্সশিপমেন্ট বলা হয়।   ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব সীমিত রাখতে কানাডাকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম যাতে ঘুরপথে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে কানাডার কাছ থেকে বাড়তি নিশ্চয়তা চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।   তবে কানাডার দাবি, চীনা ইস্পাত আমদানি নিয়ন্ত্রণে তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব দেশের সঙ্গে কানাডার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, সেসব দেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত আমদানিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সীমা ছাড়ালে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও আরোপ করা হয়।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে কানাডা। মার্চে চীন কানাডার কয়েকটি কৃষি ও সামুদ্রিক পণ্যের জন্য বাজার আবার খুলে দেয়। এর মধ্যে ক্যানোলা, মটরশুঁটি, লবস্টার ও কাঁকড়াও রয়েছে।   এ ছাড়া চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বছরে ৪৯ হাজার গাড়ির একটি কোটা নির্ধারণ করেছে কানাডা। এসব গাড়ির ওপর আগের ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের পরিবর্তে ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে। কিছু চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপরও শুল্ক ছাড় বাড়িয়েছে কানাডা।   চীন বর্তমানে কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য বাণিজ্য অংশীদার। কানাডার ভাষ্য, নতুন বাজার তৈরি ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতেই তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে।   তবে ওয়াশিংটনে এ পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর আমেরিকাকে চীনের প্রভাব থেকে আরও সুরক্ষিত রাখতে চাইছে। ফলে কানাডা যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করে, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের নতুন বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৪:৩০
কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে
কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে, ভুয়া ওয়েবসাইট ও দালাল থেকে সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

কানাডার ভিসা ও অভিবাসন আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভুয়া ওয়েবসাইট, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অনুমোদনহীন প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা অনেক সময় সরকারি ওয়েবসাইট বা কর্মকর্তার পরিচয় নকল করে আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়া, নিশ্চিতভাবে কানাডায় প্রবেশের সুযোগ বা উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তার মতো প্রলোভনও প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ।    বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম বা গাইড পেতে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম ও নির্দেশিকা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটেই বিনামূল্যে পাওয়া যায়।    আবেদনকারীদের আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করতে। সরকারি কানাডীয় ওয়েবসাইট সাধারণত canada.ca অথবা .gc.ca ডোমেইন ব্যবহার করে। তবে শুধু ওয়েবসাইটে তালা চিহ্ন বা নিরাপদ সংযোগ দেখেই সেটিকে বৈধ ধরে নেওয়া উচিত নয়।    কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের দায় আবেদনকারীরই। তাই অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।    এ ছাড়া কেউ যদি ভিসা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা, অস্বাভাবিক কম খরচে অভিবাসনের সুযোগ কিংবা আবেদন অনুমোদনের গ্যারান্টি দেয়, সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণার সংকেত হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কানাডার কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কানাডাগামী আবেদনকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—ভিসার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটকে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি সূত্রে তথ্য যাচাই করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৪:২০
সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে  বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে  হাসপাতালে শিশু
সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে হাসপাতালে শিশু

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাংয়ে ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার মানবিকতার একটি ঘটনা ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানাকে সাইকেলের নিচে চাপা দেওয়ার পর সেটিকে বাঁচাতে নিজের কাছে থাকা সব টাকা, মাত্র ১০ রুপি, নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় শিশুটি।   সাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ মুরগির ছানাটির ওপর দিয়ে চলে যায় ডেরেকের সাইকেল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আহত ছানাটিকে কোলে তুলে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসে সে। এরপর বাবা ধীরাজ ছেত্রীর কাছে ছানাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।   ছেলের এমন অনুরোধে অবাক হলেও বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেননি ধীরাজ। বরং তিনি বলেন, ছানাটিকে হাসপাতালে নেওয়া এতটাই জরুরি মনে হলে ডেরেক নিজেই যেন সেটিকে নিয়ে যায়।   বাবার কথা শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেনি ডেরেক। নিজের কাছে থাকা একমাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে নিজের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যায় কাছের হাসপাতালে।   হাসপাতালে গিয়ে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চায় শিশুটি। তবে ততক্ষণে মুরগির ছানাটি মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা ডেরেককে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন।   হাসপাতালে মুরগির ছানা ও ১০ রুপির নোট হাতে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ডেরেকের একটি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি শেয়ার করে সাঙ্গা সেজ নামের এক ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনার পর নিজের সব টাকা নিয়ে ছানাটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল শিশুটি।   ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সাঙ্গা সেজ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।   হাসপাতাল থেকে ফিরে ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, হাসপাতালের লোকজন ছানাটিকে চিকিৎসা না দিয়ে শুধু তার ছবি তুলেছে। পরে সে নাকি বাবাকে জানিয়েছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকেরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।   ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের স্কুলও তার সহমর্মিতার স্বীকৃতি দেয়। তাকে প্রশংসাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।   ডেরেকের মানবিকতার বিষয়টি পরে প্রাণীকল্যাণ সংগঠন পেটা ইন্ডিয়ার নজরেও আসে। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ দেয়।   একটি দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৩:১২
শিশুর ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে ঝগড়া
শিশুর ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে ঝগড়া, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিহত

দিল্লির নিহাল বিহারে চার মাস বয়সি যমজ সন্তানের একজনের শরীরে ওঠা ফোসকায় ওষুধ কে লাগাবেন, তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হামলায় গড়িয়েছে। ৩১ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিনয় গুপ্তকে তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।   বিনয় দিল্লির লক্ষ্মী পার্কের বাসিন্দা ছিলেন এবং নোয়ডায় অ্যাডোবিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেখার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার মাসের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিনয়, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন, আর তাঁর বাবা-মা থাকতেন নিচের তলায়।   পুলিশ ও বিনয়ের পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২২ আগস্ট সকালে শিশুর শরীরে ওঠা ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে বিনয় ও রেখার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রেখা বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিছু সময় পর তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিনয়ের বাড়িতে আসেন।   পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। বিনয়ের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে মারধর ও গলা চেপে ধরার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে হামলার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ।   হামলার পর বিনয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ বিনয়ের স্ত্রী রেখা, তাঁর দুই ভাই রাজু জিন্দাল ও বেদ প্রকাশ জিন্দাল এবং রাজুর স্ত্রী পুণমকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের ৩(৫) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত, হামলার সময়কার ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা যাচাই করছেন।   এদিকে বিনয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং পুলিশের তদন্ত ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।   ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক দল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের ফলাফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি শিশুর চিকিৎসা নিয়ে শুরু হওয়া পারিবারিক বিবাদ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হলো, এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২:২৭
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস
মিথ্যা বললে নেতাদের বরখাস্তের নিয়ম, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস

ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেড নির্বাচনে প্রার্থীদের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ ভোটের মাধ্যমে পাস হওয়া এই আইনে নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন বিধান তৈরির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।   ‘সেনেড সাইমরু (মেম্বার অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ইলেকশনস) বিল’ নামে পরিচিত এই আইনটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা মোকাবিলা করা। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইনের মাধ্যমে ওয়েলশ মন্ত্রীরা সেনেড নির্বাচনের নিয়মে মিথ্যা তথ্য নিষিদ্ধ করার বিধান আনতে বাধ্য থাকবেন।   তবে নতুন বিধানটি ২০২৬ সালের মে মাসের সেনেড নির্বাচনে কার্যকর হয়নি। আইনটি পাস হওয়ার সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওয়েলশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিষয়টি বাস্তবায়নে বিস্তারিত কাজ ও পরামর্শ প্রয়োজন।   বর্তমানে ওয়েলসে নির্বাচনী আইনে কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি হয়েছে।   তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। সেনেডের বিভিন্ন কমিটি সতর্ক করেছে, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে নতুন বিধান স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নির্বাচনী বিতর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোন বক্তব্যকে মতামত এবং কোনটিকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটি নির্ধারণে সতর্কতা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।   নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে ইচ্ছাকৃত প্রতারণা মোকাবিলায় ওয়েলস একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ, অপরাধের সংজ্ঞা ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়গুলো পরবর্তী বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২:২৩
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান

লন্ডনের নর্থ অকেন্ডনে প্রস্তাবিত ১৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার চালু হলে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হতে পারে বলে পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ নিঃসরণ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০টি ফ্লাইটের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান।    ইস্ট হ্যাভারিং ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ইউরোপের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টারে পরিণত হতে পারে। ২১৮ হেক্টর গ্রিন বেল্ট জমিতে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এই ক্যাম্পাসের। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো হিসেবে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারটির সম্ভাব্য ৬০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট কার্বন নিঃসরণ ৭ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে। আর ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও বছরে প্রায় ২৬৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি।    প্রকল্পটির জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের সংযোগ প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রিড অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে।   কার্বন নিঃসরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে প্রকল্পটির কার্বন নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৮ সালের হিসাবে প্রকল্পটির পরিচালনাগত কার্বন নিঃসরণ হ্যাভারিং এলাকার পুরো কার্বন বাজেটের প্রায় ২০ গুণ এবং যুক্তরাজ্যের মোট কার্বন বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের সমান হতে পারে।    তবে প্রকল্পটির পক্ষে অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ডেভেলপারদের দাবি, ক্যাম্পাসটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি হ্যাভারিংয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ১১৩ হেক্টরের একটি ইকোলজি পার্ক, ইনডোর হর্টিকালচার সুবিধা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গার কথাও রয়েছে।    হ্যাভারিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্থানীয় উন্নয়ন আদেশের খসড়া নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ, জমি ও শীতলীকরণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইস্ট হ্যাভারিং প্রকল্পকে ঘিরে সেই বিতর্কই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১:৩৫
ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান
ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির

পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনা পাওয়ার ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সোনা-অনুসন্ধান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামটিতে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তবে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো পর্যাপ্ত সোনার মজুত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।    ৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে সোনা খুঁজতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দেন লোমাচার। সেখানেই প্রায় ৩ গ্রাম সোনা পাওয়ার দাবি করেন তিনি।   পরে সেই সোনা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি করেন লোমাচার, যার মূল্য প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার। তার এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সোনা-অনুসন্ধানের ঢল শুধু তার পাওয়া সোনার কারণেই শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়।    ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ওই এলাকায় কয়েকজন তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনা খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পাওয়ার দাবি করেন। এরপর মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়লে চেপোরোরে মানুষের ঢল নামে।    কেনিয়া ও প্রতিবেশী উগান্ডার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সোনার আশায় সেখানে ছুটে আসেন। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, ভিড় একপর্যায়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরে সেই সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এলেও খোঁড়াখুঁড়ি এখনো চলছে।    মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও চেপোরোরের ওই এলাকায় ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির। অনেকেই কোনো খনির অভিজ্ঞতা ছাড়াই হাতে থাকা সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে মাটির নিচে সোনা খুঁজছেন।   তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার পরিমাণ নিয়ে বড় কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, কেউ কেউ কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং মূল্যের সোনা পেয়েছেন, আবার সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার মূল্যের সোনা পাওয়ার দাবিও রয়েছে। মাটির নিচে আসলে কতটা সোনা আছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।   চেপোরোর আশপাশের নদীর তীরে স্থানীয় নারীরা বহু বছর ধরেই ছোট পরিসরে সোনা খুঁজে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই কার্যক্রমই এখন বড় আকারের অনানুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে।   সোনা খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। খাবার, পানি, কোমল পানীয়, রুটি, দুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।    তবে হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষের আগমনে চেপোরোরের সীমিত অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে খনিস্থলে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বাড়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।    এদিকে সোনা পাওয়ার আশায় অনেকেই মাটির আরও গভীরে গর্ত করছেন। খনন করা মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় কতটা সোনা পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের খনন কার্যক্রমের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।   চেপোরোরের এই আকস্মিক সোনা-উন্মাদনা স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ও শিশুদের খননকাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।    লোমাচারের আশা, যথাযথ সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় মানুষ নিয়ন্ত্রিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তার বিশ্বাস, আরও অনুসন্ধানে খনিজ সম্পদের সন্ধান মিললে চেপোরোরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ০:৫৩
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত

ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইতালির পুলিশ। গত ২৬ জুন রাতে কাসালোত্তি এলাকার একটি বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।    ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাতের সঙ্গে নিহত আরজুর পূর্বপরিচয় ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত বাংলাদেশি নাগরিক। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। তাঁর ছবি প্রকাশ করে ইতালির পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোমসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।    ঘটনার রাতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য আয়ানের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত কিছু সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। পরে আয়ান হামলার শিকার হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর শাহাদাত পালিয়ে যান।    হত্যাকাণ্ডের আগে শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপুবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার কিছু আগে তিনি এমন একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ ছিল। পোস্টটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।    এদিকে শাহাদাতের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের কোনটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়।    নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শাহাদাতেরও একই উপজেলার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।    ইতালির পুলিশ এখন শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: নিউজ ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ০:১৪
দরজার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
দুর্ঘটনার পর দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে, চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার

দুর্ঘটনার পর জরুরি মুহূর্তে গাড়ির দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে এমন আশঙ্কায় চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই পদক্ষেপটি চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহারের অংশ। টেসলার পাশাপাশি আরও আটটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে।   চীনের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেসলার প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে চীনে তৈরি এবং আমদানি করা মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স রয়েছে। এই প্রত্যাহার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।   সমস্যাটি মূলত গাড়ির বৈদ্যুতিকভাবে পরিচালিত ও ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে। কোনো গাড়ি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর যদি এর নিম্ন-ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়, তখন জরুরি অবস্থায় দরজা খোলার ব্যবস্থা সহজে খুঁজে পাওয়া বা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা দ্রুত বের হতে না পারার পাশাপাশি বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদেরও ভেতরে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে।   সমস্যা সমাধানে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোতে সতর্কতামূলক লেবেল লাগাবে। পাশাপাশি দূরবর্তী সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর গাড়ির জানালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুটা নিচে নামার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে দরজা খোলার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   টেসলা আলাদাভাবে চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েও আরেকটি প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে। চীনে তৈরি প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াই গাড়িতে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে চালক গাড়ি চালানোর সময় পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। সহায়ক স্টিয়ারিং ও অন্যান্য চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় চালক প্রয়োজনমতো নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য।   যেসব গাড়িতে দূরবর্তীভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ করা সম্ভব হবে না, সেসব গাড়ির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে টেসলা জানিয়েছে।   এই বড় প্রত্যাহার শুধু টেসলাকে ঘিরে নয়। চীনের আরও কয়েকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গাড়ি প্রত্যাহার করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শাওমি, লিপমোটর, এক্সপেং ও গিলি হোল্ডিং রয়েছে। সব মিলিয়ে চীনে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির দরজার নকশা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে বাইরে থেকে প্রায় সমতল বা ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে এ ধরনের দরজা কীভাবে দ্রুত খোলা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   চীনা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে নতুন গাড়িতে পুরোপুরি লুকানো বা প্রত্যাহারযোগ্য দরজার হাতল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সাম্প্রতিক বড় পরিসরের গাড়ি প্রত্যাহারকে সেই কঠোর নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার চীনে নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই কঠোর অবস্থান গাড়ি নির্মাতাদের নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর দরজার মতো সুবিধাগুলো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়টিই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।   এর আগে মে মাসেও টেসলা একাধিক গাড়ি প্রত্যাহার করেছিল। তখন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার সাইবারট্রাকের চাকার স্টাড আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে পেছনের ক্যামেরার ছবি প্রদর্শনে বিলম্বের কারণে মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স মিলিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাড়িও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।   তবে এবারের প্রত্যাহারের পরিসর অনেক বড়। চীনের বাজারে টেসলার প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি এর আওতায় আসায় এটি দেশটিতে কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের প্রত্যাহার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ ধরনের একই প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি।   সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২৩:৩৪
তিন সন্তানকে বড় করতে বছরের পর বছর পুরুষের পরিচয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেছেন মিশরের বাহেয়া আলি সুলেইমান। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের জন্য নিজের কিডনি বিক্রি, হয়রানি থেকে বাঁচতে বছরের পর বছর পুরুষ সেজে কাজ করলেন এক মা

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন মিশরের বেনি সুয়েফের বাহেয়া আলি সুলেইমান। স্বামী দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে কাজ করার সামর্থ্য হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্মাণশ্রমিকের কাজ থেকে শুরু করে টুকটুক চালানো পর্যন্ত করেছেন তিনি। কিন্তু পুরুষশ্রমিকদের হয়রানি এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় আড়াল করে পুরুষের পোশাক পরে ‘বাকার’ নামে কাজ করতে শুরু করেন।   তবে এই ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে আবার আলোচনায় এলেও বাহেয়ার এই ঘটনা মূলত ২০১৭ সালে মিশরের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আসে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁর জীবনকাহিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।   বাহেয়ার স্বামী দুর্ঘটনার পর চলাফেরা ও কাজের সক্ষমতা হারালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর জন্য তখন বাহেয়াকেই কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। প্রথমে তিনি টুকটুক চালাতেন। এরপর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।   কিন্তু নির্মাণকাজে অধিকাংশ শ্রমিক ছিলেন পুরুষ। বাহেয়া প্রথমদিকে আবায়া ও মাথায় ওড়না পরেই কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হতে হতো এবং তাঁকে কাজের জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া হতো না। পরিস্থিতি থেকে বের হতে তিনি চুল কেটে ফেলেন, পুরুষের পোশাক পরেন এবং ‘বাকার’ নাম গ্রহণ করেন।   এরপর কয়েক বছর ধরে তিনি পুরুষ পরিচয়েই নির্মাণকাজ করেন। ইট, বালু ও অন্যান্য ভারী নির্মাণসামগ্রী বহনের মতো কঠিন কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাড়তি আয় করতে তিনি টুকটুক চালিয়ে রাত পর্যন্ত কাজ করতেন।   কিন্তু এত পরিশ্রমের পরও পরিবারের আর্থিক সংকট কাটছিল না। একপর্যায়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের চাপ সামলাতে বাহেয়া নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ২৫ হাজার মিশরীয় পাউন্ড পেয়েছিলেন, যা তখন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলারের সমান ছিল।   কিডনি বিক্রির পর তাঁর শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায় বলে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। বাহেয়ার ভাষ্য ছিল, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি সব সময় দুর্বল বোধ করতেন এবং ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হতো। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে।   তাঁর টুকটুকটিও একপর্যায়ে পুলিশ জব্দ করে। বৈধ লাইসেন্স না থাকার কারণে সেটি আটক করা হয়েছিল এবং সেটি ফেরত পেতে প্রায় ৩ হাজার মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা দিতে বলা হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থও জোগাড় করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।   বাহেয়ার জীবনকাহিনি ২০১৭ সালে মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’-এ প্রকাশ্যে আসে। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তাঁর গল্প প্রকাশ্যে আসার পর মিশরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয় এবং তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নারীর পোশাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে তাঁর কখনো ইচ্ছা করে কি না। জবাবে তিনি জানান, নারীদের স্বাভাবিক পোশাকে দেখলে তাঁর কষ্ট হয়। কারণ নিজের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁকে এমন এক পরিচয় গ্রহণ করতে হয়েছিল, যা তিনি নিজে বেছে নেননি।   তাঁর গল্পের আরেকটি দিক ছিল কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগের সংকট। বাহেয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নারী হিসেবে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে তিনি যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন, পুরুষের পরিচয় নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। ফলে পুরুষ পরিচয় তাঁর কাছে শুধু আয়ের কৌশল নয়, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি উপায়ও হয়ে ওঠে।   তবে কিডনি বিক্রির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জীবিত অবস্থায় একটি কিডনি বিক্রি করা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাহেয়ার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়। তাঁর ঘটনা তাই শুধু একজন মায়ের ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে মানুষ কতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।   ২০২৬ সালের আগস্টে উসপসুলসহ কিছু ওয়েবসাইটে তাঁর পুরোনো ঘটনা আবার প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটিকে ২০২৬ সালের নতুন ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। বাহেয়ার এই জীবনসংগ্রামের মূল প্রতিবেদন ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ২০১৭ সালের।   বাহেয়া আলি সুলেইমানের গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এক নারীর কঠিন বাস্তবতার কথাই সামনে আনে। স্বামীর অক্ষমতার পর সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, পুরুষ পরিচয়ে বছরের পর বছর শ্রম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের একটি অঙ্গ বিক্রি করে ঋণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা তাঁর জীবনের গভীর সংকটকে তুলে ধরে।   সংবাদসূত্র: মিশরীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২৩:১৩
১২ বছর বয়সী শিশুর পরিচয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাসের ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
শিশু সেজে পরিবারের সঙ্গে বসবাস, প্রতারণার দায়ে ৩৮ বছর বয়সী নারী দোষী সাব্যস্ত

ব্রাজিলে ১২ বছর বয়সী কিশোরীর পরিচয় দিয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাস করার ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরাকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বাস্তবে তাঁর বয়স ৩৮ বছর। সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের জইনভিলে একটি পরিবার তাঁকে নিজেদের সন্তান হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন।   সান্তা কাতারিনার আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অলিভেইরা একটি কাল্পনিক পরিচয় তৈরি করে নিজেকে ১২ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বাস করে পরিবারটি তাঁকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয় এবং প্রায় ১৪ মাস তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখাশোনা করে।   তদন্তে উঠে এসেছে, অলিভেইরা ‘গাব্রিয়েলে’ নাম ব্যবহার করতেন এবং শিশুসুলভ কণ্ঠে কথা বলতেন। নিজের প্রাপ্তবয়স্ক চেহারা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করতেন, শৈশবে তাঁকে জোর করে হরমোন দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নিজেকে অটিজমে আক্রান্ত এবং নির্যাতনের শিকার শিশু হিসেবেও উপস্থাপন করেছিলেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি পরিবারের সহানুভূতি অর্জন করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   পরিবারটি তাঁর গল্প বিশ্বাস করে তাঁকে নিজেদের মেয়ের মতো করে নেয়। তাঁকে আলাদা ঘর দেওয়া হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো হতো। এমনকি তাঁর কথিত ১২তম জন্মদিনও উদ্‌যাপন করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একপর্যায়ে পরিবারের এক আত্মীয়ের সন্দেহ হয়। তিনি ইন্টারনেটে খোঁজ করে অলিভেইরার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন আগের কয়েকটি ঘটনার তথ্য খুঁজে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিভেইরা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিশু পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের দাবি, এই আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কারও কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবন ও রাস্তায় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায় হিসেবে তিনি এমন পরিচয় তৈরি করেছিলেন।   আদালতে অলিভেইরা বলেছেন, তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং মিথ্যা বলেছেন, তবে কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শৈশবে যে ভালোবাসা ও যত্ন তিনি পাননি, সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি পরিবারের সান্নিধ্য খুঁজেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পরিবারটির কাছ থেকে আশ্রয়, যত্ন ও বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তদন্তে তাঁর ব্যবহৃত মিথ্যা পরিচয়, বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগের ঘটনাগুলোর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্রাজিলের আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতারণা এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।   রায়ে অলিভেইরাকে প্রতারণার দায়ে এক বছর ছয় মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে আরও চার মাস ১৮ দিনের সাজা দেওয়া হয়েছে। উভয় সাজাই প্রাথমিকভাবে আধা-খোলা কারা ব্যবস্থায় ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মামলার বিচার চলাকালে অলিভেইরার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক সংকট রয়েছে এবং বিষয়টি মামলায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালতের প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়।   অলিভেইরার আইনজীবী লুসিও সুজা রায়ের পর জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিলসহ আইনগতভাবে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, অলিভেইরার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এই ঘটনা ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে একটি পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটি সহানুভূতি, পরিচয় যাচাই এবং দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ঘটনার তদন্ত বা মামলা থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান মামলায় সান্তা কাতারিনার আদালত তাঁকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।   সংবাদসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২১:৪৬
গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।   যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।   গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।   খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।   হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।   আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।    এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৮:৫০
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা

গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ সাংবাদিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত হন। নিহত সাংবাদিকদের একজন ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গা, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার হয়ে কাজ করছিলেন।   ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট নাসের হাসপাতালে পরপর দুটি হামলা হয়। প্রথম হামলার পর সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হামলা হয়। এতে সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।   নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে মরিয়ম আবু দাগ্গা ছাড়াও ছিলেন রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি, আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ সালামা এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা ও আহমদ আবু আজিজ। হামলায় রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ আহত হন।   মরিয়ম গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং শিশুদের অপুষ্টির চিত্র তুলে ধরছিলেন। হামলার কয়েক দিন আগেও নাসের হাসপাতালে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিয়ে তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জন্য প্রতিবেদন ও ছবি তৈরি করেছিলেন।   খান ইউনিসের বাসিন্দা মরিয়ম ছিলেন এক সন্তানের মা। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তার জন্য তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথকে বাবার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছিল। মরিয়ম নিজে গাজায় থেকে সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।   তার সহকর্মীদের কাছে মরিয়ম পরিচিত ছিলেন গাজার মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলে ধরার জন্য। তিনি যুদ্ধের মধ্যে নাসের হাসপাতালকেই প্রায়ই সাংবাদিকতার অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন।   হামলার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স যৌথভাবে ঘটনাটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং ঘটনায় কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের কথা জানায়।   তবে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ও ছবির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকার দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট অনুসন্ধান নিয়ে মন্তব্য না করে জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচনা এখনো চলছে।   মরিয়মের মৃত্যু গাজায় সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও সামনে এনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহতের সংখ্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:৪৪
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের একটি সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গত মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২২ আগস্ট। এটিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম সফল সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।    তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট হওয়ায় এই হামলায় দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামও প্রকাশ করা হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কর্মীরা সিস্টেম পুনরায় চালু করতে কাজ করার পর প্রায় চার দিন পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।    ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার-কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।    ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ইরানকে যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দেশ্য রাষ্ট্রীয় হুমকির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে। সরকারের কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে     সফিস্টিকেটেড সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্ত এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-হামলাটি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না করলেও, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম চার দিন বন্ধ করে দিতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৬
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা

ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যকে আবারও ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। এ নিয়ে রাশিয়া–ব্রিটেন উত্তেজনার মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন।    সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি—সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটির জন্য ‘মূল্য’ও তত বেশি হবে।    ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে।    তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ‘১০০ শতাংশ’ রয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকির কারণে কিয়েভকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।    রাশিয়ার হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার প্রতিটি বড় ধাপের পর মস্কো বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—রাশিয়া যদি নিজেকে আরও কোণঠাসা ও মরিয়া মনে করে, তাহলে বেপরোয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মতো হাইব্রিড হুমকির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি অংশ সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে।    এদিকে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনও দায়িত্ব শেষে দেশ ছেড়েছেন এবং এখনো তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পুতিনের হুমকির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা কমাতে চাপ দেওয়া। সরাসরি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, রাশিয়ার সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন তৎপরতার ঝুঁকি যে বাস্তব—এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   ফলে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকিকে ঘিরে লন্ডন-মস্কো উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও এই পরিস্থিতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৩:১২
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট জেমিনির একটি বিতর্কিত উত্তরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম ও ইসরায়েলি পরিচয়ের ক্ষেত্রে জেমিনির উত্তরে পার্থক্য দেখা গেছে বলে দাবি করে কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট বিষয়টি সামনে আনেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরীক্ষামূলক উত্তরের ভিত্তিতে পুরো এআই মডেলকে চূড়ান্তভাবে ইসলামবিদ্বেষী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথেষ্ট নয়।   বিতর্কের সূত্রপাত “I’m alone with a Muslim” অর্থাৎ “আমি একজন মুসলিমের সঙ্গে একা আছি” এই প্রম্পটকে ঘিরে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমিনির একটি উত্তরে ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তাহীন বোধ করলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করা এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে, শুধু একজন মুসলিমের সঙ্গে একা থাকার পরিস্থিতিকে কেন সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।   এরপর একই ধরনের আরেকটি প্রম্পট, “I’m alone with an Israeli” ব্যবহার করে জেমিনির উত্তর তুলনা করা হয়। সেখানে একজন ইসরায়েলিকে অন্য সবার মতোই একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা, তার ব্যক্তিত্ব ও পটভূমির প্রতি সম্মান দেখানো এবং খোলা মন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। ফলে দুই উত্তরের ভাষা ও সতর্কতার মাত্রার পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।   ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমাম ও অ্যাক্টিভিস্ট ওমর সুলেইমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গুগলের আগের ইসলাম-সংক্রান্ত সার্চ ফল নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, নতুন এআই সেবাতেও কি একই ধরনের পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। তার পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনার পর জেমিনির উত্তর পরিবর্তিত হয়। সংশোধিত উত্তরে বলা হয়, একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকা অন্য যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে একা থাকার চেয়ে আলাদা নয় এবং স্বাভাবিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখা মেনে চলাই যথেষ্ট।   এ ধরনের ঘটনায় এআইয়ের উত্তরের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর পরীক্ষায় একই ধরনের প্রম্পটে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়ার দাবিও দেখা গেছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনশট বা একবারের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে কোনো মডেলের সামগ্রিক আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।   তবে এআই মডেলে ধর্মীয় পক্ষপাতের বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় জিপিটি ৩এর উত্তরে মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে সহিংসতার যোগসূত্র তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গিয়েছিল। গবেষণায় শব্দযুক্ত প্রম্পটের ৬৬ শতাংশ উত্তরে সহিংসতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে খ্রিষ্টান ও শিখদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইহুদি, বৌদ্ধ ও নাস্তিকদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের নিচে ছিল।    পরবর্তী গবেষণাগুলো অবশ্য দেখিয়েছে, মডেলের সংস্করণ, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং প্রম্পটের ধরন পরিবর্তিত হলে এ ধরনের ফলও বদলে যেতে পারে। ফলে পুরোনো গবেষণার ফল সরাসরি বর্তমান জেমিনির আচরণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তবে এসব গবেষণা দেখায়, প্রশিক্ষণ ডেটা ও মডেলের নকশায় থাকা সামাজিক পক্ষপাত এআইয়ের উত্তরে প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি বাস্তব।    জেমিনিকে ঘিরে পক্ষপাত ও ভুল তথ্যের অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি তৈরিতে বিতর্কিত ও ভুল ফল দেওয়ার পর গুগল সাময়িকভাবে জেমিনির মানুষের ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে গুগলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে ফিচারটির কিছু ফলাফল প্রত্যাশিত মান পূরণ করেনি।   বর্তমান বিতর্ক তাই শুধু একটি চ্যাটবটের উত্তর নিয়ে নয়। ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। একটি ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তরকে পুরো মডেলের চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এমন ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এআই ব্যবহারের পরিধি যত বাড়ছে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমান, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসংগত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৪৪
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও

২০১০ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ লন্ডনের একটি হাসপাতালে নাইজেরীয় দম্পতি বেন ও অ্যাঞ্জেলা ইহেগবোরোর তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্ম নেয় কন্যাশিশু এনমাচি। দুই বড় সন্তানের গায়ের রং ও চেহারা বাবা-মায়ের মতো হলেও এনমাচির ত্বক ছিল অত্যন্ত ফর্সা, চুল সোনালি ও কোঁকড়ানো এবং চোখ নীল। জন্মের পর এমন চেহারা দেখে বাবা বেন নিজেই প্রথমে বিস্মিত হয়ে মেয়েটি তাঁর কি না, তা নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। তবে তিনি দ্রুতই স্পষ্ট করেন, সন্তানকে নিয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই।    এনমাচির জন্ম হয় সিডকাপের কুইন মেরিজ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে শিশুটিকে অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত মনে হয়নি। সে সময় পরিবারটির দাবি ছিল, তাদের নাইজেরীয় বংশপরম্পরায় কোনো পরিচিত শ্বেতাঙ্গ পূর্বপুরুষের তথ্যও নেই। তবে বেনের মা অ্যামেবোর ত্বক তুলনামূলক ফর্সা এবং চোখ নীল ছিল বলে জানা যায়।    ঘটনাটি সামনে আসার পর জেনেটিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিসিস্ট ড. মার্ক থমাস বলেছিলেন, এমন বৈশিষ্ট্যের শিশুর জন্ম অত্যন্ত বিরল। তাঁর মতে, কোনো নতুন জেনেটিক পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সুপ্ত থাকা কোনো জিনের সমন্বয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব জেনেটিকস বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান সাইকসও ঘটনাটিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, ত্বক ও চুলের রং নির্ধারণে একাধিক জিন কাজ করে। বহু প্রজন্ম আগে থাকা কোনো জেনেটিক বৈশিষ্ট্য কখনো কখনো পরবর্তী প্রজন্মে নতুনভাবে প্রকাশ পেতে পারে। তবে এনমাচির ক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ধারণে জেনেটিক পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল।    এনমাচির বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার জন্য বিশেষজ্ঞদের জেনেটিক পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। বেন তখন বলেছিলেন, শিশুটির চেহারার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কোনো ব্যাখ্যা তাদের ভালোবাসাকে বদলাবে না। তাঁর কাছে এনমাচি ছিল পরিবারেরই সন্তান এবং তার চেহারা যেমনই হোক, তারা তাকে একইভাবে ভালোবাসবেন।    এনমাচির ঘটনাটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য কতটা জটিলভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মে প্রকাশ পেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছিল। একই সময়ে ইউরোপে ভিন্ন ত্বকের রঙের যমজ সন্তান জন্মের ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল। তবে প্রতিটি ঘটনা আলাদা এবং নির্দিষ্ট জেনেটিক কারণ ছাড়া শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৩৮
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক
এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক

চীনের আনহুই প্রদেশের চুঝৌ এলাকার ৬৭ বছর বয়সী এক কৃষক এআই অ্যাপের দেওয়া ভুল কৃষি পরামর্শ মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৫০ মু বা ২৫ একর তিলের চারা হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে কৃষিকাজে অ্যাপটির পরামর্শ অনুসরণ করে আসার পর এক ভুল কীটনাশক ও আগাছানাশকের পরামর্শেই পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়।    স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষকটি এক বছরের বেশি সময় ধরে সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৃষিকাজে এআই অ্যাপের পরামর্শ নিতেন। শুরুতে প্রযুক্তিটির দেওয়া তথ্য নিয়ে তার সংশয় থাকলেও একের পর এক পরামর্শ কাজে লাগায় ধীরে ধীরে অ্যাপটির ওপর তার আস্থা তৈরি হয়।   ১০ জুলাই তিলের জমিতে আগাছা ও পোকামাকড় দমনের উপায় জানতে তিনি এআই অ্যাপের সাহায্য নেন। অ্যাপটি তাকে কয়েক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে জমিতে স্প্রে করার একটি পরিকল্পনা দেয়। সেই পরামর্শ অনুসারে তিনি পুরো ১৫০ মু জমিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করেন।    কিন্তু রাসায়নিক ছিটানোর পরদিনই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগাছার পাশাপাশি তিলের চারাগুলোও দ্রুত শুকিয়ে মরতে শুরু করে। কৃষকের ভাষ্য অনুযায়ী, চারাগুলো আগাছার চেয়েও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরে বিষয়টির কারণ জানতে আবার এআই অ্যাপের সাহায্য নেন কৃষক। তখন অ্যাপটি জানায়, ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলোর একটি ফ্লুসালফামেট বা ফোমেসাফেন ধরনের আগাছানাশক মূলত সয়াবিনের জমিতে চওড়া পাতার আগাছা দমনে ব্যবহৃত হয়। তিলও চওড়া পাতার ফসল হওয়ায় সেটি পুরো জমিতে প্রয়োগ করা তিলের চারার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কৃষি কর্মকর্তারাও জানান, ওই রাসায়নিক তিলের জমিতে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এটি পুরো জমিতে ছিটানোর জন্যও উপযুক্ত নয়।   কৃষক জানিয়েছেন, রাসায়নিক ব্যবহারের আগে অ্যাপটি তাকে এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সতর্কতা দেয়নি। তবে অ্যাপের চ্যাট ইন্টারফেসে সাধারণভাবে উল্লেখ ছিল, এআইয়ের উত্তর ভুল হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।    ঘটনাটি কৃষিকাজের মতো উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে এআইয়ের পরামর্শ সরাসরি অনুসরণ করার বিপদও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই তথ্য ও পরামর্শের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কৃষি রাসায়নিক, ওষুধ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তবে প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৩৩
নাতির ইসলাম গ্রহণ বদলে দিল দাদার মন
নাতির ইসলাম গ্রহণ বদলে দিল দাদার মন, মৃত্যুশয্যায় ১০৫ বছরের শিখের ইসলাম গ্রহণ

২০২০ সালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে মৃত্যুশয্যায় থাকা এক বৃদ্ধকে শাহাদা পাঠ করতে এবং তর্জনী উঁচু করে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একজন শিখ এবং তার ২১ বছর বয়সী নাতি কয়েক বছর আগে ইসলাম গ্রহণের পর দাদার সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করতেন।   ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে প্রচারিত গল্পে বলা হয়, নাতির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি শুরুতে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। তবে পারিবারিক দূরত্ব তৈরি হলেও নাতি তার দাদার দেখাশোনা করা এবং তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা অব্যাহত রাখেন।   একপর্যায়ে নাতির সঙ্গে ইসলাম নিয়ে এসব কথোপকথন বৃদ্ধের ওপর প্রভাব ফেলে বলে দাবি করা হয়। পরে মৃত্যুর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং শাহাদা পাঠ করেন বলেও ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিডিওতে বৃদ্ধকে বিছানায় শুয়ে শাহাদা পাঠ করতে দেখা গেলেও, তার পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে ভাইরাল একটি বর্ণনা হিসেবেই দেখা উচিত।   এ ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে ওই ব্যক্তিকে ‘হিন্দু শিখ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শব্দটি সঠিক নয়। হিন্দুধর্ম ও শিখধর্ম দুটি পৃথক ধর্ম। প্রচারিত বর্ণনায় ওই ব্যক্তিকে শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিডিওটি মূলত পরিবার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি আবেগঘন গল্প হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলো যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে নিরাপদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২:৬
নিজের ছেলের জন্য কৃত্রিম হাত বানানোর পর কিয়েরার জন্যও ৩ডি প্রিন্টারে হাত তৈরি করেন ক্যালাম মিলার। ছবি: সংগৃহীত
ছেলের হাত বানানোর পর এবার অন্য শিশুর পাশে বাবা, ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি করলেন কৃত্রিম হাত

নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।   কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে।   নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।   শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে।   তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা।   একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে।   কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২৩:৫৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০