- প্রচ্ছদ
- বিশ্ব
বিশ্ব
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি। সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি। প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড। চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি। ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।
এক মাসের বেশি সময় আইসিই হেফাজতে থাকার পর ব্রাজিলে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানে তোলা হয়েছিল মার্কিন সেনার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসারকে। কিন্তু মাঝআকাশে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। আইসিই কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্রাজিলে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। মাইসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে এনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী মাইসা ব্রাজিলের নাগরিক। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলোর স্ত্রী। ২০১৯ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মাইসা এবং পরে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন। এরপর ৮ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে আটক করা হয়। এক মাসের বেশি সময় তিনি ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। গত বুধবার তাকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিমান চলার সময়ই আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে তাকে নিয়ে একটি ফোন আসে। মাইসার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানতে চান, তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বিমানটি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর অন্য আটক ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাইসাকে বিমানে রাখা হয়। পরে একই বিমানে তাকে আবার লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে আনা হয়। কে সেই ফোন করেছিলেন কিংবা কেন শেষ মুহূর্তে তার ডিপোর্টেশন থামানো হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তার স্বামী অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, কে ফোন করেছিলেন তারা জানেন না। তবে কেউ একজন ফোন করার পরই তার স্ত্রীকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাইসা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, তিনি এখন ‘বিখ্যাত’, কারণ তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যালেক্সিস জারামিলো একজন মার্কিন নাগরিক এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি বর্তমানে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকে সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর মাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল। মাইসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অভিবাসী স্ত্রী, স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের আটক এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পরিবারের জন্য আগের কিছু সুরক্ষা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন সেনাদের কয়েক ডজন স্বামী, স্ত্রী কিংবা বাবা-মা আইসিই হেফাজতের মুখোমুখি হয়েছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ডিপোর্টেশন নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মার্ক কেলিও মাইসার ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলি মাইসাকে আটক রাখা আইসিই ফিল্ড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কেলি সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক করার নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান প্রয়োজন এবং সেনা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা সেই সমস্যার সমাধান নয়। মাইসার পরিবারকে সহায়তা করেছে ‘রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটির প্রধান ডানিটজা জেমস বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সামরিক পরিবারকে সহায়তা করলে কী সম্ভব, এই পরিবারের পুনর্মিলন তারই উদাহরণ। মাইসা ও অ্যালেক্সিস ২০২৪ সালে বিয়ে করেন। এখন মাইসা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছেন এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে চান। তার আরেকটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৭ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জানানো হয়েছে মামলাটি নিয়ে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও আবার আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন। এক মাসের বেশি সময় আটক থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন মাইসা। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং আবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় কাজ করছে তার মধ্যে। মাইসার ডিপোর্টেশন শেষ মুহূর্তে থামানোর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্রাজিলগামী বিমানের মাঝআকাশে আসা সেই ফোনকলটি কে করেছিলেন এবং কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, সেটিই এখন ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের খ্যাতিমান শিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার চারটি অত্যন্ত মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে মেসিনার আঞ্চলিক জাদুঘরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর তিনটি প্যানেল এবং দুই পাশে আঁকা একটি ছোট প্যানেল। ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ঘটনাটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরেরা কীভাবে জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। আন্তোনেলো দা মেসিনা পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার টিকে থাকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ কারণে তার প্রতিটি শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক ও আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর টিকে থাকা পাঁচটি প্যানেলই সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পালানোর সময় দুটি প্যানেল ফেলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পকর্মের তিনটি প্যানেল নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। এর পাশাপাশি চুরি হয়েছে ছোট একটি দুই-পিঠে আঁকা কাঠের প্যানেল। এর এক পাশে শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর চিত্র এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ আঁকা রয়েছে। প্যানেলটি একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্সে রাখা ছিল। জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মী এবং সচল অ্যালার্ম ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চোরেরা কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাবে চারটি শিল্পকর্মের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শুধু বাজারমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’ আন্তোনেলো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ১৪৭৩ সালে তৈরি এই শিল্পকর্মটি মেসিনার একটি মঠের জন্য নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ওই মঠ ধ্বংস হলেও শিল্পকর্মটি রক্ষা পায়। শত শত বছর ধরে এটি মেসিনাতেই সংরক্ষিত ছিল। চুরির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। শিল্পকর্মগুলো বিশ্বজুড়ে এত পরিচিত যে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রাহকের ফরমায়েশে চুরি হয়েছে কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তোনেলো দা মেসিনার আরেকটি বিরল চিত্রকর্ম ‘এক্সে হোমো’ প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কিনেছিল ইতালি সরকার। শিল্পীর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির মধ্যেই তার জন্মশহরের জাদুঘর থেকে এই চারটি শিল্পকর্ম চুরি হলো। মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে এ ঘটনাকে শহরের জন্য গভীর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুরির পর তদন্তের স্বার্থে জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়। এখন ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অমূল্য শিল্পকর্মগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা।
মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাচ্ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী ডরোথি ফ্লেচার। মাঝআকাশে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয় তার। জীবন যখন সংকটে, তখনই ঘটে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। কেবিন ক্রুর চিকিৎসক চেয়ে ঘোষণার পর একে একে উঠে দাঁড়ান ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাদের দ্রুত চিকিৎসাতেই বেঁচে যান লিভারপুলের এই নারী। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর। ডরোথি ফ্লেচার যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে। ফ্লোরিডায় মেয়ের বিয়েতে যোগ দেওয়াই ছিল এই যাত্রার উদ্দেশ্য। উড়োজাহাজে থাকাকালে হঠাৎ তার তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেবিন ক্রুরা জানতে চান, উড়োজাহাজে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না। সেই ঘোষণার পর যে দৃশ্য দেখা যায়, তা ছিল অত্যন্ত বিরল। একসঙ্গে ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন। তারা সবাই একই উড়োজাহাজে করে অরল্যান্ডোতে একটি হৃদরোগবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। চিকিৎসকেরা ডরোথির কাছে গিয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। উড়োজাহাজে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করে তার হাতে স্যালাইন দেওয়া হয় এবং জীবনসংকটাপন্ন অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ডরোথির অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়। তার শারীরিক অবস্থার কারণে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। জরুরি অবতরণের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডরোথি পরে জানান, মুহূর্তটির ভয়াবহতা তিনি তখনো ভুলতে পারেননি। চিকিৎসকেরা একসঙ্গে তার দিকে ছুটে আসার দৃশ্য তাকে বিস্মিত করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিকিৎসকেরাই তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জীবন বাঁচানো সেই চিকিৎসকদের কারও নামই পরে জানতে পারেননি ডরোথি। তিনি শুধু জানতেন, তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে একটি হৃদরোগ সম্মেলনে যোগ দিতে অরল্যান্ডো যাচ্ছিলেন। হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ডরোথি শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়েতেও যোগ দিতে পেরেছিলেন। ঘটনাটির এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার কিসিমির লেক বার্কলেতে অনুষ্ঠিত মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হন তিনি। ঘটনাটি দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস ঘটনাটিকে সত্য বলে নিশ্চিত করে। তাদের যাচাই অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর ফ্লোরিডাগামী উড়োজাহাজে ডরোথি ফ্লেচারের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল এবং সেখানে থাকা ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তার চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছিলেন। একই সময়ে অরল্যান্ডোতে বড় একটি হৃদরোগবিষয়ক সম্মেলন থাকায় এতজন বিশেষজ্ঞ একই উড়োজাহাজে থাকার বিষয়টিরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ফলে ডরোথির জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটি একই সঙ্গে পরিণত হয়েছিল অসাধারণ এক সৌভাগ্যের ঘটনায়। মাঝআকাশে হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে একজন চিকিৎসক পাওয়া যেখানে ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে একই উড়োজাহাজে ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি ডরোথি ফ্লেচারের জন্য কার্যত জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করেছিল।
বছরের পর বছর পাশাপাশি থাকতে থাকতে প্রতিবেশীর সম্পর্ক কখন যে পরিবারের মতো হয়ে ওঠে, অনেক সময় তা বোঝাই যায় না। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে যাচ্ছিলেন এক ভারতীয় দম্পতি। বিদায়ের মুহূর্তে তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্কিন এক নারী। সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় দম্পতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিদায় নিতে গেলে ঘটে আবেগঘন ঘটনাটি। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় দম্পতিকে বিদায় জানাতে এসে নিজেকে সামলাতে পারছেন না তাদের মার্কিন প্রতিবেশী। একপর্যায়ে তিনি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষগুলো আর পাশের বাড়িতে থাকবেন না, সেই বাস্তবতা বিদায়ের মুহূর্তটিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে। দম্পতি তখন জানতেন না যে তাদের বিদায়ের মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। তাদের এক বন্ধু দূর থেকে পুরো দৃশ্যটি রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও দম্পতির কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ প্রতিবেশীদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকের কাছে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দুই ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আন্তরিক সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে লিখেছেন, জাতীয়তা, ভাষা কিংবা সংস্কৃতি আলাদা হলেও দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারিবারিক বন্ধনের মতো সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ নিজেদের অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাসের সময় প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে তৈরি সম্পর্ক অনেক অভিবাসীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে একটি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শুধু একটি বাড়ি বা শহর নয়, পেছনে ফেলে যেতে হয় দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ ও অসংখ্য স্মৃতিও। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে কিংবা দম্পতি কত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভিডিওটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিদায়ের সেই কয়েকটি মুহূর্ত। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে সাধারণ একটি বিদায় শেষ পর্যন্ত এমন আবেগঘন হয়ে ওঠে যে সেটিই এখন হাজারো মানুষের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনায় অনেকেই এটিকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষায়, একটি ভালো প্রতিবেশী সম্পর্ক অনেক সময় দেশ, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সীমারেখাও ছাড়িয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যেই কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৭ দিন ধরে কলোনির প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন এই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে কলোনিতে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও অনেক ল্যাম্পপোস্টে এখনো বিদ্যুৎ নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে রাতের বেলায় চলাচলসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার ৫০ থেকে ৬০ বছর, আবার কেউ কেউ প্রায় ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার এখন কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে নদীতে বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি মেশার কারণে এই পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। কলোনিতে পাঁচটি পানির কল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব কলের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে তাদের ওপর ক্ষোভ থেকে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা। কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের ভোট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই বক্তব্যের পর তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে যে ভোটের কারণে তাদের এলাকার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে বিধায়কের ওই বক্তব্য বা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কলোনি উচ্ছেদের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিনমজুর পরিবারগুলো। দ্রুত পানি সরবরাহ পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা। নাগরিক সুবিধা বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে। স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে। হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে। হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক। হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল। উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল। বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির তত্ত্বাবধানে বিধ্বস্ত ইউএফও থেকে উদ্ধার করা জীবন্ত ‘এলিয়েন’ আটকে রাখার একটি ঘটনা পরিচালিত হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন ইউএফও-বিষয়ক হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রুশ। বৃহস্পতিবার ‘দ্য ড. ফিল পডকাস্টে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রুশ দাবি করেন, তিনি এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে চেনেন, যারা কথিত এলিয়েনদের আটকে রাখার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গ্রুশ বলেন, তিনি সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি একজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করতেন। ওই ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিচয় বোঝাতে তিনি ‘ডার্থ ভেডার’ নামটি ব্যবহার করেন। ডিক চেনি জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর সমালোচকেরা প্রায়ই এই নামে অভিহিত করতেন। গ্রুশের দাবি, কথিত এলিয়েন ও মানুষের মধ্যে একধরনের চেতনা-নির্ভর যোগাযোগ হয়েছিল। প্রচলিত ভাষায় যাকে টেলিপ্যাথি বলা হয়, সেই ধরনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে কীভাবে এই যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন বলে জানান। এর আগে ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে গ্রুশ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউএফও থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে গোপন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সাক্ষাৎকারে গ্রুশ আরও দাবি করেন, মার্কিন সরকারের কাছে ২৫ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ইউএফও থাকতে পারে। এসব ইউএফও থেকে ‘পাইলট’ উদ্ধারের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। তবে জীবন্ত এলিয়েন উদ্ধার, তাদের আটকে রাখা কিংবা মানুষের সঙ্গে কথিত টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রুশের বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, তাঁর করা দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডিক চেনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান। গ্রুশের নতুন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন ইউএফও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সরকারি নথি প্রকাশের বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানের প্রাণবন্ত প্রাণকেন্দ্র টোকিওর পথঘাট, ঐতিহাসিক মন্দির থেকে শুরু করে ফুকুওকার লালচে দার্জিলিং-এর মতো সুপ্রসিদ্ধ দাজাইফু টেনমাঙ্গু মন্দির—সব জায়গায় এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের পদচারণা যেমন আগের মতোই চোখে পড়ার মতো, তেমনি বদলে গেছে তাদের জাতিগত পরিচয়। চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ। কিন্তু সেই শূন্যস্থান কি পূরণ হচ্ছে? জাপানের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, হ্যাঁ—যদিও পথটা সহজ ছিল না। গত বছর সংসদে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানে তাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই চীনা পর্যটকদের আগমন থমকে যায়। পিকিং-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ বাস্তবে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানের পর্যটন খাত যেন হার মানেনি। বরং, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা পর্যটকেরা চীনের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার, যা গত বছরের রেকর্ড-সংলগ্ন সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পর্যটকের সংখ্যা কমলেও তাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে। আবাসন ও কেনাকাটায় মোট খরচ হয়েছে ৪.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার), যা প্রথমার্ধের হিসেবে নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ, কম পর্যটক এসেছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের গড় খরচ বেড়েছে—এ যেন খাদ্যতালিকায় কম কিন্তু মানসম্পন্ন আহারের দর্শন। রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিও নিশিকাওয়া মনে করছেন, এটি 'পর্যটকের বৈচিত্র্যায়ন'-এর স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর কথায়, "আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে চীন ছাড়াই পর্যটন তার গতি ধরে রাখতে পারছে।" এমনকি মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু বাতিল আসলেও তা সামগ্রিক সংখ্যার তুলনায় নগণ্য। ফুকুওকার দাজাইফু মন্দিরের পুরোহিত কেইয়া ইয়ামাগুচি জানালেন, এখানে আসা বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে। "আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না," তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস। তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের উল্টোপিঠে আছে জাপানি নিজেদের বিদেশ ভ্রমণের চিত্র। মহামারীর আগে ২০১৯ সালে যেখানে বছরে ২ কোটি জাপানি বিদেশ গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজারে। চলতি বছর প্রথমার্ধে মাত্র ৬৯ লাখ ৪০ হাজার জাপানি বিদেশ সফর করেছেন। মূল কারণ—মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ইয়েন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি। ভ্রমণ সংস্থা জেটিবি-র সমীক্ষা বলছে, এই গ্রীষ্মের ছুটিতে জাপানি পর্যটক বিদেশগামীর সংখ্যা ৮.৮ শতাংশ কমতে পারে—যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার। জাপান সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ফি কমানোর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণে উৎসাহ দিতে চাইছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ নিশিকাওয়া সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় পর্যটকদের কমে যাওয়া আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকি। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকেই এখন নিজেদের মানুষের ভ্রমণ আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে হবে। সব মিলিয়ে, জাপানের পর্যটন শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চীন-নির্ভরতার পুরোনো দিন শেষ, নতুন বাজার ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই রোদে দাঁড়িয়ে টোকিওর কোনো ক্যাফেতে যদি বসেন, দেখবেন ইংরেজি, কোরিয়ান, থাই, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার মিশ্রণ—যেন এক বিশ্বমেলার আয়োজন। আর এই বৈচিত্র্যই এখন জাপানের পর্যটনের নতুন প্রাণশক্তি।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট; হামলা হলে সদস্যদের যৌথ প্রতিক্রিয়ার নীতি, বাড়ছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আল জাজিরা আরবির ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, কোনো সদস্য দেশ বাইরের কোনো পক্ষের সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি চুক্তিতে রাখা হয়েছে। মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে তিনি চুক্তি সম্প্রসারণের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। সামরিক মহড়ায় স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান দুদেশই জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে আঙ্কারা। ইরানও চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নিয়ে তেহরানের ভয়ের কোনো কারণ দেখছে না। তবে তিনি চুক্তিটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা ও প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় নেয়, সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন। মিসরের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবশ্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কায়রো নতুন কোনো প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারে কতটা আগ্রহী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে এরদোয়ান সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালু করা তুরস্কের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে দেবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাজায় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এফ-৩৫ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। তবে তুরস্কের রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে দেশটির এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের কাছে মক্কা চুক্তির গুরুত্ব শুধু তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মিসরসহ আরও দেশ এতে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে ওমানের সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা করছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সাথে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের কারণে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার কথায়, "এখনকার পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তবসম্মত নয়।" এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে এবং খুব শিগগিরই তিনি এই প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ওই মন্তব্য 'মজা করেই' করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, "হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। এই জলপথ কখন খোলা বা বন্ধ হবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার তেহরানের।" বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এই ৩৩ কিলোমিটার চওড়া প্রণালী দিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সাথে এই সমঝোতার উদ্যোগকে ইরানের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে—যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার একটি বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে কতটা সহ্য করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা শ্রীধর চিল্লাল এক হাতে সবচেয়ে লম্বা নখ রাখার বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। তার বাঁ হাতের পাঁচটি নখের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ছিল ৯০৯ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার বা ২৯ ফুট ১০ ইঞ্চি, যা প্রায় তিনতলা ভবনের উচ্চতার সমান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এই রেকর্ড ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাপা হয়। তবে শ্রীধরের এই নখ এখন আর তাঁর হাতে নেই। দীর্ঘ ৬৬ বছর নখ না কাটার পর ২০১৮ সালে তিনি সেগুলো কেটে ফেলেন। পরে কাটা নখগুলো নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে রিপলিজ বিলিভ ইট অর নট! জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। শ্রীধরের নখের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ছিল বুড়ো আঙুলের নখ। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৯৭ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার বা প্রায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। তর্জনীর নখ ছিল ১৬৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, মধ্যমার ১৮৬ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার, অনামিকার ১৮১ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার এবং কনিষ্ঠার নখের দৈর্ঘ্য ছিল ১৭৯ দশমিক ১ সেন্টিমিটার। শ্রীধরের নখ বড় করার শুরুটা হয়েছিল স্কুলজীবনের একটি ঘটনা থেকে। ১৯৫২ সালে, তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। এক সহপাঠীর কারণে একজন শিক্ষকের লম্বা নখ ভেঙে যায়। শিক্ষক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝান, দীর্ঘ নখ ঠিকভাবে যত্ন নেওয়া কত কঠিন। সেই কথাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন শ্রীধর এবং বাঁ হাতের নখ কাটা বন্ধ করে দেন। বছরের পর বছর নখ বড় হতে থাকায় তার দৈনন্দিন জীবনও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমানোর সময় পর্যন্ত তাকে খুব সতর্ক থাকতে হতো। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শ্রীধর জানিয়েছিলেন, নখ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঘুমের মধ্যেও খুব বেশি নড়াচড়া করতে পারতেন না। প্রায় আধা ঘণ্টা পরপর হাতের অবস্থান বদলাতে হতো। পেশায় আলোকচিত্রী ছিলেন শ্রীধর। দীর্ঘ নখের কারণে ক্যামেরা পরিচালনাও তার জন্য সহজ ছিল না। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ধরনের হাতল ব্যবহার করে ক্যামেরা চালাতেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর পুনেতে তার বাঁ হাতের নখের মোট দৈর্ঘ্য ৯০৯ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার মাপা হয়। পরে ২০১৮ সালে ৬৬ বছর পর তিনি নখগুলো কেটে ফেলেন।
ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার ইউরোপ সফর যেন শেষই হচ্ছে না। গত ৭ জুন ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ৯৩ বছর বয়সী এই নেতা। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটিতে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, পল বিয়া সুস্থ আছেন এবং বিদেশে থেকেও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ৭ জুন জানিয়েছিল, পল বিয়া তার স্ত্রী শঁতাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ যাচ্ছেন। পরে সরকার নিশ্চিত করে, তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আগস্টের শুরুতে তার বিদেশে অবস্থানের সময় প্রায় দুই মাসে পৌঁছে যায়, যা তার দীর্ঘদিনের বিদেশ সফরগুলোর মধ্যেও অন্যতম দীর্ঘ। পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তার বয়স এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসার পর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যামেরুন শাসন করছেন তিনি। ২০২৫ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন পল বিয়া। তার স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তার নিয়মিত দীর্ঘ অবস্থান এসব জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে ক্যামেরুন সরকার বারবার এসব প্রশ্ন খারিজ করেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী রেনে ইমানুয়েল সাদি পল বিয়া জেনেভার কোনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন খবর অস্বীকার করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সিভিল ক্যাবিনেটের পরিচালক স্যামুয়েল মভোন্দো আয়োলোও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন এবং জেনেভায় হোটেল থেকেই নিয়মিত কাজ করছেন। তবে সরকারের বক্তব্যের পরও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পল বিয়াকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে চলছে তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ধরনের ‘স্বয়ংক্রিয়’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এদিকে পল বিয়ার অনুপস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) শীর্ষ নেতারা জুলাইয়ে একটি বিরল বৈঠকে বসেন। দলটির মহাসচিব জ্যঁ নকুতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসভা হিসেবে উল্লেখ করলেও বৈঠকটি প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি। পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি। এ বছরের এপ্রিলে আইনপ্রণেতারা ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহালের ব্যবস্থা অনুমোদন করলেও এখনো সেই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে পল বিয়ার অনুপস্থিতির ৫৮তম দিনে ক্যামেরুনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়। ৪ আগস্ট জারি করা তিনটি প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধানকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি যৌথ সামরিক অঞ্চলের মধ্যে চারটির কমান্ডার পরিবর্তন করা হয়। এসব পরিবর্তনের কোনো সরকারি কারণ জানানো হয়নি। এই সামরিক রদবদলও পল বিয়ার অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ পরিবর্তনকে তার অনুপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকার বরাবরই বলে আসছে, বিদেশে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা পল বিয়ার রয়েছে। ক্যামেরুনে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও পল বিয়া প্রায় ৪২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তখনও তার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন। ওই ঘটনার পর ক্যামেরুন সরকার প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা নিষিদ্ধ করেছিল এবং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পল বিয়ার রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতার প্রতীক। ক্যামেরুনের প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিদজোর পদত্যাগের পর ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অষ্টমবারের মতো জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পান পল বিয়া। তার দীর্ঘ শাসনামলে দেশটি নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের হামলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতাও তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ ক্যামেরুনে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ তাদের জীবনের বড় অংশজুড়েই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারা দেখে আসছেন একই ব্যক্তিকে। ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও বিতর্কমুক্ত ছিল না। পল বিয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদ নিশ্চিত করলেও বিরোধীরা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে। নির্বাচনের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। ফলে দীর্ঘদিনের এই শাসকের বিদেশে অবস্থান এখন শুধু তার স্বাস্থ্য নয়, ক্যামেরুনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত পল বিয়ার মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য খবর বা তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। সরকার বলছে, তিনি সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। ফলে ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফর’ হিসেবে শুরু হওয়া এই ইউরোপ যাত্রা কবে শেষ হবে, সেটিই এখন ক্যামেরুনের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।
বিচ্ছেদের পর তিন দিন ধরে কেঁদেছিলেন চীনের শানডং প্রদেশের এক তরুণী। এদিকে সাবেক প্রেমিককে দেখে তার মনে হচ্ছিল, বিচ্ছেদের কোনো প্রভাবই যেন পড়েনি তার ওপর। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অভিনব এক কাণ্ড ঘটান ওই তরুণী। সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে তিনি পাঠিয়ে দেন এক টন পেঁয়াজ। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটি চিরকুট, ‘আমি তিন দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা।’ ঘটনাটি ঘটে চীনের শানডং প্রদেশের জিবো শহরে। তবে ঘটনাটি নতুন নয়, ২০২০ সালের মে মাসে এটি চীনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন প্রতিবেদনগুলোতে চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শানডং নেট এবং দাজং ডটকমের বরাত দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণীর পদবি ছিল ঝাও। সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে তার প্রায় এক বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ঝাওয়ের দাবি, বিচ্ছেদের পর তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন এবং টানা তিন দিন কেঁদেছিলেন। কিন্তু তার সাবেক প্রেমিককে দেখে তার মনে হয়, তিনি যেন বেশ স্বাভাবিকভাবেই জীবন কাটাচ্ছেন। সাবেক প্রেমিকের এমন আচরণেই ক্ষুব্ধ হন ঝাও। তার মনে হয়, শুধু তিনিই বিচ্ছেদের কষ্টে কাঁদবেন, আর সাবেক প্রেমিক কোনোভাবেই আবেগ প্রকাশ করবেন না, তা হতে পারে না। তাই তাকে কাঁদানোর জন্য এমন কিছু পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, যার কারণে চোখে পানি আসবেই। এরপর অনলাইনে অর্ডার করেন এক টন পেঁয়াজ। মোট ২০০টি প্যাকেটে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ কেনা হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়। সরবরাহকারীকে ঝাও বিশেষভাবে বলে দেন, পেঁয়াজগুলো যেন সাবেক প্রেমিকের বাড়ির দরজার সামনে রেখে আসা হয় এবং তাকে আগে থেকে ফোন করে জানানো না হয়। শুধু পেঁয়াজ পাঠিয়েই থামেননি তিনি। প্যাকেটের সঙ্গে একটি চিরকুটও দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘বিচ্ছেদের পর আমি তিন দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা।’ পেঁয়াজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, ঝাওয়ের অনুরোধ অনুযায়ী তাদের গ্রাহকসেবা বিভাগ থেকেই ওই চিরকুটটি লিখে দেওয়া হয়েছিল। পেঁয়াজের বিশাল চালান যখন সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে পৌঁছায়, তখন বিষয়টি নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে ঝাও যে ফলাফল চেয়েছিলেন, তা অবশ্য হয়নি। তার সাবেক প্রেমিক কাঁদেননি। বরং ঘটনাটিকে অন্যভাবে সামলে নেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি পেঁয়াজগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে এক হাজার ইউয়ানের বেশি পেয়েছেন। অর্থাৎ সাবেক প্রেমিককে কাঁদানোর পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তার জন্য উল্টো আর্থিক লাভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাবেক প্রেমিকের বক্তব্যও ছিল বেশ সরাসরি। তিনি ঝাওয়ের এই কাণ্ডকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলাদা হয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঝাও তার ফোনে অন্য নারীদের সঙ্গে কথোপকথন দেখে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে ওঠেন ভবনের অন্য বাসিন্দারা। এক টন পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় চারপাশে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রেমিক কাঁদছেন কি না তিনি জানেন না, তবে পেঁয়াজের গন্ধে তার নিজেরই দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। পুরো আবাসিক এলাকায় পচা পেঁয়াজের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পেঁয়াজগুলো সেখানে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও সহজ ছিল না। তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, সরবরাহকারীকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বহুবার যাতায়াত করে পেঁয়াজগুলো ভবনের সামনে পৌঁছে দিতে হয়েছিল। ফলে সাবেক প্রেমিককে কাঁদাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সরবরাহকারীকেও বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। ঘটনার পর বিষয়টি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকে ঘটনাটিকে বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নেওয়ার অদ্ভুত ও হাস্যকর উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যার কারণে কেন পুরো আবাসিক এলাকার মানুষকে দুর্গন্ধের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তবে ঝাওয়ের পরিকল্পনার শেষ ফলাফল ছিল তার প্রত্যাশার পুরো বিপরীত। তিনি চেয়েছিলেন সাবেক প্রেমিকের চোখে পানি আনতে। কিন্তু সাবেক প্রেমিক কাঁদলেন না, বরং পেঁয়াজ বিক্রি করে অর্থও পেলেন। আর সেই পেঁয়াজের গন্ধে কষ্ট পেলেন আশপাশের বাসিন্দারা। ফলে বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিককে ‘কাঁদানোর’ এই অভিনব পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত চীনের অন্যতম আলোচিত বিচ্ছেদ-পরবর্তী ঘটনার তালিকায় জায়গা করে নেয়।
বেলজিয়ামে নর্দমার নতুন পাইপ বসানোর কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। দেশটির সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডে এলাকায় একটি পুরোনো ব্রুয়ারির ভবনের নিচে কাজ করার সময় এই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়। সম্প্রতি ঘটা এই ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনা পাওয়ার পর শ্রমিকরা সেটি নিজেদের কাছে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সোনাগুলো তালিকাভুক্ত করে নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নিয়ে যায়। বিষয়টির উৎস ও প্রকৃত মালিকানা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রাসেলসের কাছের ফ্লেমিশ অঞ্চল সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডেতে। সেখানে একটি পুরোনো ব্রুয়ারির মালিকের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংস্কারের কাজ চলছিল। ভবনটি বর্তমানে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের অধীনে রয়েছে। সংগঠনটি সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সংস্কারকাজ চালাচ্ছে। নর্দমার পাইপ বসানোর জন্য মাটির নিচে খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা পুরোনো ভবনের একটি অংশের ভিতের কাছে পৌঁছান। সেখানেই তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক কোবে ভিআরটি নিউজকে জানান, প্রথমে তিনি সেগুলোকে এক ইউরোর কয়েন ভেবেছিলেন। পরে আরও খনন করার পর বোঝা যায়, সেখানে আসলে বিপুল পরিমাণ সোনা লুকিয়ে রাখা ছিল। সাইটের প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, শ্রমিকরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একের পর এক সোনার কয়েন ও বার বেরিয়ে আসার পর তারা বিস্মিত হয়ে যান। এরপর তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া সোনার তালিকা তৈরি করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ৪৯টি সোনার বারসহ বিপুলসংখ্যক সোনার কয়েন পাওয়া গেছে। সেগুলোর মোট মূল্য আনুমানিক ৯ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১০.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। পরে পুরো সোনার ভাণ্ডার নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও নির্মাণশ্রমিকদের জন্য সেটি নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বেলজিয়ামের আইনি বিধান অনুযায়ী, সোনার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজতেই থাকবে। মালিকানা নিয়ে দাবি জানানোর জন্য পাঁচ বছর সময়ের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক শনাক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী দাবিদার ও সন্ধানকারীর অধিকার নির্ধারিত হতে পারে। সোনার এই ভাণ্ডারটি কার ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা এর উৎস ও মালিকানা যাচাই করছেন। এটি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, কিংবা পুরোনো ব্রুয়ারির মালিক পরিবারের সম্পদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভবনটির সঙ্গে ভ্যান আসশে পরিবার ও পুরোনো ব্রুয়ারির সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত সোনাগুলোর প্রকৃত মালিক হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এই আবিষ্কারের পর স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনটির কর্মকর্তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবনটি বর্তমানে সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের মালিকানাধীন। সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তায় কাজ করে। সংগঠনটির পরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি আইনগতভাবে এই সম্পদের কোনো অংশ তাদের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে এর আগে মালিকানা ও আইনি বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গুপ্তধন খোঁজার লোকজনের ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পুলিশ। তারা সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কারণ জায়গাটি এখনো নির্মাণকাজ ও ভাঙার কাজ চলা একটি ঘেরাও করা এলাকা এবং সেখানে বেশ কয়েকটি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সোনা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজে থাকা প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, তার বহু বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আর ১৮ বছর বয়সী কোবের আশা, শেষ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তারা এই আবিষ্কারের জন্য কোনো ধরনের পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন। পুলিশও জানিয়েছে, তারা আশা করছে এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত সঠিক মানুষের হাতে যাবে এবং এর ইতিবাচক ফল অনেক মানুষের জীবনে কাজে লাগবে।
ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযানে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ২৬০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকা জাহাজটির দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে এর নাবিকদের পরিবার ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন থাকা রণতরীটি গত বছরের নভেম্বর মাসে সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করে। যুদ্ধের কারণে এর মোতায়েন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়েছে। দীর্ঘ সময় বন্দরে না থামায় নাবিকদের জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জাহাজে কিছু সময় খাবার ও পানির ঘাটতি, সাবান ও টুথপেস্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট, মেইল সরবরাহে বিঘ্ন এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিয়মিত বন্দরে ভিড়তে না পারায় নাবিকদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগও সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জাহাজটির দীর্ঘ মোতায়েনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য। কয়েকজন নাবিকের মানসিক সংকটে পড়া এবং অন্তত একজন নাবিকের জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে পরিবারগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ তারা পায়নি। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষও জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ২৬০ দিনের বেশি সমুদ্রে থাকার পরও রণতরীটির নাবিক ও মেরিনরা দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। তবে দীর্ঘ মোতায়েনের চাপ পুরোপুরি অস্বীকার করছে না সামরিক বাহিনী। জাহাজটির দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা নাবিকদের মানসিক চাপের পাশাপাশি রসদ সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সাধারণত বিমানবাহী রণতরীগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বন্দরে গিয়ে রসদ সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাবিকদের বিশ্রামের সুযোগ পায়। এদিকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন নামে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেটি আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বের অংশবিশেষ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এই প্রতিস্থাপন দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ, নাকি সাম্প্রতিক উদ্বেগের কারণে দ্রুত করা হচ্ছে—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ২৬০ দিনের বেশি সময়ের এই মোতায়েনের মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ১০ হাজারের বেশি বিমান উড্ডয়ন পরিচালনা করেছে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। অর্থাৎ, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু একটি দীর্ঘ সামরিক মোতায়েনের সমাপ্তি নয়। ইরান যুদ্ধের মতো দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, রসদ সরবরাহ, বিশ্রাম এবং যুদ্ধজাহাজের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভূমিকম্পে ফ্লোরেস অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ দুইজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ শনাক্ত হলেও বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। প্রবল কম্পনের সময় আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। নাজেওকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফ্লোরেস ও আশপাশের অঞ্চলও অতীতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। একই সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর পরিবর্তে একটি স্থায়ী ‘শান্তি ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। শনিবার জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেন, দুই কোরিয়ার উচিত মুখোমুখি বসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে আলোচনা করা। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সংঘাত প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কোরীয় যুদ্ধ ১৯৫৩ সালে কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সামরিক সংঘাত থামানো হয়েছিল। ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি এখনো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং মনে করেন, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কাঠামোর পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এমন উদ্যোগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দুই কোরিয়ার পুনর্মিলনের প্রচেষ্টার প্রতি অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সংলাপের আহ্বান দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়া এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধ তহবিলে দেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়ে আলোচনায় এসেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি পরিবার। ১৯১৭ সালের একটি পুরোনো সনদকে ভিত্তি করে ওই অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে সিহোরের রুঠিয়া পরিবার। তাদের আবেদনের পর যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস আরও নথিপত্র চেয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গিল্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো অর্থ পাওনা থাকার দাবি স্বীকার করেনি। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সেঠ জুম্মা লাল রুঠিয়া। পরিবারের কাছে থাকা ১৯১৭ সালের ৪ জুনের সনদে উল্লেখ রয়েছে, ভোপাল স্টেটের ‘সেঠ রামা কিশান জাসকারান রুঠিয়া’ প্রতিষ্ঠানের জুম্মা লাল ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোনে’ ৩৫ হাজার রুপি সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। সনদটিতে তৎকালীন ভোপালের ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট ডব্লিউ এস ডেভিসের স্বাক্ষর রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সরকার বিপুল যুদ্ধব্যয় মেটাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। ব্রিটিশ ভারতেও সেই তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ চালু হয়। রুঠিয়া পরিবারের কাছে থাকা সনদটি সেই কর্মসূচিতে জুম্মা লালের ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে তারা উপস্থাপন করছে। পরিবারটির দাবি, ওই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল এমন কোনো নথি তারা খুঁজে পায়নি। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ১৯১৭ সালের সনদটি অর্থ দেওয়ার তথ্য সমর্থন করলেও সেই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোনোভাবে হিসাব নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। রুঠিয়া পরিবারের সদস্য বিনয় ও বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, পুরোনো পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে সনদটি পাওয়ার পর তারা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস পর ব্রিটিশ পক্ষ থেকে তাদের আবেদনের জবাব আসে। ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের জবাবে পরিবারটিকে বলা হয়েছে, তারা যদি মনে করে কোনো দাবি না করা অর্থ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে, তাহলে গিল্ট রেজিস্ট্রার কম্পিউটারশেয়ার ইনভেস্টর সার্ভিসেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরিবারটির পাঠানো তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানোর কথাও জানিয়েছে ডিএমও। একই সঙ্গে মূল সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট পুরোনো চিঠিপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ সরকারের এই জবাবকে ঋণ স্বীকার বা অর্থ ফেরতের সম্মতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপাতত এটি শতাব্দী পুরোনো দাবিটির নথিপত্র যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক ধাপ। পরিবারটির সদস্য বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তাদের কাছে শুধু অর্থের হিসাব নয়। তারা জানতে চান, তাদের পূর্বপুরুষের দেওয়া অর্থের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল এবং সেই ঋণ কখনো নিষ্পত্তি করা হয়েছিল কি না। পরিবারটির কাছে থাকা নথি অনুযায়ী জুম্মা লাল রুঠিয়া ১৯৩৭ সালে মারা যান। পরিবারটি শেষ পর্যন্ত কত অর্থ দাবি করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য, মূল ৩৫ হাজার রুপির সঙ্গে প্রযোজ্য সুদ এবং শত বছরের বেশি সময়ের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে অঙ্কটি বর্তমান হিসাবে কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটি তাদের নিজস্ব হিসাব এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এমন কোনো অঙ্ক স্বীকার করেনি। পরিবারটির দাবির সঙ্গে ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো সরকারি ঋণ পরিশোধের ইতিহাসও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিল, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ‘ওয়ার লোন’-এর বকেয়া প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড ২০১৫ সালের ৯ মার্চ সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। ওই বন্ডটি ১৯৩২ সালে ইস্যু করা হলেও এর উৎস ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া সরকারি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন। ব্রিটিশ সরকার সে সময় আরও কয়েকটি পুরোনো মেয়াদহীন সরকারি বন্ডও পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। তবে ২০১৫ সালে পরিশোধ করা ওই ব্রিটিশ সরকারি বন্ডগুলোর সঙ্গে জুম্মা লাল রুঠিয়ার ১৯১৭ সালের ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ সাবস্ক্রিপশনের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একই ঋণ হিসেবে ধরে নেওয়া সঠিক হবে না। রুঠিয়া পরিবারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো ১০৯ বছরের পুরোনো আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা। মূল সনদের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সম্পর্কিত নথি এবং ঋণটি পরবর্তীতে পরিশোধ বা রূপান্তরিত হয়েছিল কি না, তার রেকর্ডই দাবিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে পড়ে থাকা একটি সনদ এভাবেই এখন যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। রুঠিয়া পরিবার চাইছে, ১৯১৭ সালের সেই ৩৫ হাজার রুপির হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থেমেছিল, তার আনুষ্ঠানিক উত্তর দিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।