ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘানার একটি গ্রামের দরিদ্র যুবক আল-হাসান আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভাইরাল হওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তুরস্কের একটি চলচ্চিত্র দলের ড্রোন একদিন তার গ্রামের কাছে পড়ে যায়। সেটি খুঁজতে গিয়ে দলটি আল-হাসানকে ড্রোনটি হাতে দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিবরণে বলা হয়, ওই সময় তিনি মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “এর চেয়ে বড় কোনো ড্রোন আছে কি, যা আমাকে মক্কায় নিয়ে যেতে পারে?” এরপর তার এই মন্তব্য এবং মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আল-হাসানকে হজ পালনের জন্য স্পনসর করা হয় এবং তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গল্পটির শেষ অংশে বলা হয়, মানুষের জীবন কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সুযোগ আসে এমন জায়গা থেকে, যা আগে কল্পনাও করা যায় না।
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে ঘটে গেল এক অদ্ভুত ও আতঙ্কিত করার মতো ঘটনা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনন্দ দিতে আনা একটি হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবট হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রোবটটি নির্ধারিত নাচের তাল বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই এলোপাথাড়ি 'কুং-ফু কিক' মারতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি প্রথমে সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছিল। কিন্তু হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং চারপাশের পারফর্মারদের লক্ষ্য করে লাথি চালাতে থাকে। এসময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত টেকনিশিয়ান এবং আয়োজকরা এগিয়ে আসেন। তারা রোবটটিকে জাপটে ধরে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা দর্শক আহত হননি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রোবটটির সেন্সর সিস্টেমে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা সফটওয়্যারে গোলযোগের কারণে এটি নির্ধারিত প্রোগ্রাম থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ হাসাহাসি চললেও, জননিরাপত্তায় রোবট ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তিন দশক ধরে যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিশ্বজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন দ্রোহ, প্রতিবাদ আর বিদ্রূপের ভাষা, সেই রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘ব্যাঙ্কসি’র পরিচয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম এই প্রভাবশালী শিল্পীর আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালে নিউইয়র্কে একটি বিলবোর্ড বিকৃত করার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন এই শিল্পী। সেই সময়কার পুরনো আইনি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যাঙ্কসির আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের নাম বদলে ‘ডেভিড জোন্স’ রাখেন। যদিও এখন তিনি কোন ছদ্মনামে আছেন, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে রয়টার্সের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ব্যাঙ্কসির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠজনরা। শিল্পীর সাবেক ম্যানেজার স্টিভ লাজারাইডেস কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, সংবাদ সংস্থাটি একটি ‘ভুতুড়ে’ তথ্যের পেছনে ছুটছে। তার দাবি, শিল্পী বহু আগেই আইনগতভাবে নিজের পুরনো পরিচয় মুছে ফেলেছেন। তিনি বলেন, “রবিন গানিংহ্যাম বলে এখন আর কেউ নেই। সেই নামটি আমি বহু বছর আগেই মেরে ফেলেছি।” ১৯৭০-এর দশকে ব্রিস্টলে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী নব্বইয়ের দশক থেকে তার স্টেন্সিল শিল্পের মাধ্যমে পরিচিতি পান। যুদ্ধ, অভিবাসন, পুঁজিবাদ এবং মানবাধিকার নিয়ে তার আঁকা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ডলারে বিক্রি হলেও তিনি সবসময়ই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। ২০১৬ সালে লণ্ডনের সেন্ট জেমস এলাকায় একটি বড় ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। শিল্প বোদ্ধাদের মতে, পরিচয় গোপন রাখাই ছিল ব্যাঙ্কসির সবচেয়ে বড় মার্কেটিং কৌশল। তবে এখন তার পরিচয় ফাঁস হোক বা না হোক, ‘ব্র্যান্ড ব্যাঙ্কসি’র জনপ্রিয়তা আর কমবে না। তিনি এখন আর কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে। এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, নতুন সরকারে অংশীদার হিসেবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাইতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। টিভিকে ডিএমকেকে পেছনে ফেলে এবং এআইএডিএমকেকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে। চেন্নাইয়ে দলীয় বৈঠকের পর জানা গেছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন। এদিকে বামপন্থী দলসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন পেলে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর ও মিজোরামে বসবাসরত ‘ব্নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই সম্প্রদায়টি বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের ‘দশটি হারিয়ে যাওয়া গোত্র’ বা ‘লস্ট ট্রাইবস’-এর বংশধর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ওফির সোফার সম্প্রতি এই আবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’ (Operation Wings of Dawn) বা 'কানফেই সাহার' নামক এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫,৮০০ জন ভারতীয় ইহুদিকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,২০০ জন ব্নেই মেনাশে সদস্যকে ইসরায়েলে আনা হবে। অবশিষ্ট ৪,৬০০ জনকে পরবর্তী ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ইসরায়েল সরকার প্রায় ৯০ মিলিয়ন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) বরাদ্দ করেছে। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের লোকেরা কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। মণিপুরে সাম্প্রতিক জাতিগত সংঘাতের ফলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাইকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিলি (Galilee) ও নোফ হাগালিল এলাকায় পুনর্বাসিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোকে একত্রিত করা হবে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ইহুদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশলও নিয়েছে তেল আবিব। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের দাবি, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ সালে আসিরীয়দের আক্রমণের পর তারা ইসরায়েল থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। মধ্য এশিয়া ও চীন হয়ে একসময় তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থিতু হন। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের প্রধান রাবাই (ধর্মগুরু) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রদায়কে ‘ইসরায়েলের বংশধর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। গত দুই দশকে প্রায় ৪,০০০ ব্নেই মেনাশে সদস্য ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ নিয়ে আসছে দেশটির সরকার। ‘নিয়মিতকরণ প্রকল্প ২০২৬’-এর আওতায় যোগ্য অভিবাসীদের আইনিভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভেতরে থাকা অনিয়মিত জনশক্তিকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা। প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অভিবাসীরা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসীরা বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসবে। বৈধতা পাওয়ার পর অভিবাসীরা ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম-এর আওতায় সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন, যা সাধারণ নাগরিকদের মতোই কার্যকর হবে। এ ছাড়া বৈধতার পর শেঙেন এলাকাভুক্ত দেশগুলোতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ মিলবে। তবে এই অনুমতি কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থাকবে। এটি মূলত একটি জাতীয় পারমিট, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করা যাবে না। অন্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে তার ব্যয় স্পেন বহন করবে না। একইভাবে অন্য কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন অনুযায়ী আলাদা আবেদন করতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ অ-ইউরোপীয় নাগরিককে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জার্মানি দক্ষ কর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সৌরজগতের প্রান্তসীমায় অবস্থিত কুইপার বেল্টের একটি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তুকে ঘিরে বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এতদিন ধারণা করা হতো, এই অঞ্চলের ছোট বস্তুগুলোর অভিকর্ষ বল এতই কম যে সেখানে বায়ুমণ্ডল থাকা অসম্ভব। তবে জাপানের একদল গবেষকের এই সাম্প্রতিক আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সেই পুরনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। আবিষ্কারের নেপথ্যে: জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির সহযোগী অধ্যাপক ড. কো আরিমাতসুর নেতৃত্বে একদল গবেষক '২০০২ এক্সভি৯৩' (2002 XV93) নামক একটি ট্রান্স-নেপচুনিয়ান অবজেক্ট (TNO) পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ৩১০ মাইল (৫০০ কিলোমিটার) চওড়া এই হিমশীতল পাথরটি সূর্য থেকে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা যখন এটি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় 'স্টেলার অকুলেশন' পদ্ধতি ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তখন দেখা যায় নক্ষত্রটির আলো হঠাৎ নিভে না গিয়ে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। প্রায় ১.৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই আলোর বিচ্ছুরণই প্রমাণ করে যে, বস্তুটিকে ঘিরে একটি পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? কুইপার বেল্টে প্লুটোর পর এটিই দ্বিতীয় কোনো বস্তু যেখানে বায়ুমণ্ডলের দেখা মিলল। সাধারণত বিশাল আকৃতির গ্রহ বা উপগ্রহের (যেমন শনির টাইটান) বায়ুমণ্ডল থাকে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা যায় যে কুইপার বেল্টের অন্যান্য ছোট বস্তুগুলোতেও হয়তো বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এই বায়ুমণ্ডল সম্ভবত বরফ আগ্নেয়গিরি (Ice volcanoes) থেকে নির্গত গ্যাস অথবা অন্য কোনো হিমশীতল বস্তুর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। মিথেন বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলে সৌরজগতের সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পরিবার ও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তেহরানে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ভাই হামিদরেজা মোহাম্মদি জানান, হৃদরোগজনিত জটিলতায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, মার্চের শেষ দিক থেকে অসুস্থতা শুরু হলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত ১ মে তাকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি তীব্র মাথাব্যথা, বমিভাব ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন। তার ভাই বলেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তার হৃদ্যন্ত্র নিয়ে।” তিনি অভিযোগ করেন, যে প্রাদেশিক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের দাবি, তার পূর্বের চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকায় তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে পরিবার এবং নোবেল কমিটি তাকে তেহরান-এ স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দাবিতে আন্দোলনের জন্য ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান নার্গিস মোহাম্মদি। তবে মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বহুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি জীবনে ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা পেয়েছেন। ২০২১ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন তিনি, যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
আটলান্টিক মহাসাগরে যাত্রারত ডাচ ক্রুজ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, প্রথম মৃত ব্যক্তির শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে এবং আরও পাঁচটি সন্দেহজনক নমুনা পরীক্ষাধীন রয়েছে। জানা গেছে, প্রথম মৃত ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী এক পুরুষ, যিনি জাহাজেই রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রী জোহানেসবার্গ-এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনাও জাহাজের ভেতরেই ঘটে। এদিকে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ যাত্রী বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। নেদারল্যান্ডসের ট্যুর কোম্পানি ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এমভি হন্ডিয়াস গত ২০ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটি ৪ মে কেপ ভার্দে পৌঁছানোর কথা ছিল। ৩৫৩ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজে ৮০টি কেবিন রয়েছে এবং প্রায় ১৭০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা আছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, অসুস্থ যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জাহাজে থাকা অন্যদের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন চালানো হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ দুই যাত্রীকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ যাওয়ার আগে কেপ ভার্দের একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র, মল বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। বিরল ক্ষেত্রে এটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নেই, তবে দ্রুত চিকিৎসা নিলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র-এর তথ্য অনুযায়ী, হান্টাভাইরাসের মৃত্যুহার প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা একে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগ হিসেবে বিবেচিত করে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে জিন হ্যাকম্যান-এর স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া ইঁদুরে আক্রান্ত বাসায় এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যান বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তেল রপ্তানি থেকে উল্লেখযোগ্য আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ইরান এর। এপ্রিল ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশটির দৈনিক তেল আয় ও সামগ্রিক রাজস্বে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এ ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা ফেব্রুয়ারির ১১৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এ প্রবৃদ্ধি এক মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধিই এই আয়ের প্রধান কারণ। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরান তুলনামূলক উচ্চ মূল্যে তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ইউএস-ইসরায়েল এর সঙ্গে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে যেসব ক্ষেত্রে বড় ছাড়ে তেল বিক্রি করতে হতো, বর্তমানে বাজার পরিস্থিতির কারণে সেই ছাড় অনেক কমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক দামের কাছাকাছি মূল্যে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে তেহরান। রপ্তানির ক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের পাশাপাশি বিকল্প শিপিং নেটওয়ার্ক বা ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে তেল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ইরান। বিশেষ করে চীনের শোধনাগারগুলো ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করছে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-চাপ সত্ত্বেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি অব্যাহত থাকায় দেশের জ্বালানি খাতের আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং গোপনীয়তার সঙ্গে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের সময় ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা নিজেই বিষয়টি সামনে আনেন। এর মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটেছে। সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যদিও তখন বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ায় সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সব পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রোস্টেটের সমস্যাটি ছিল সামান্য এবং তা পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টটি দুই মাস আগেই প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত করা হয়। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার অসুস্থতার খবর শত্রু রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে ইরান প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তথ্য প্রকাশে দেরি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পূর্ণ কর্মক্ষম রয়েছেন বলে জানানো হলেও, তার এই গোপনীয়তা রক্ষা করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আফ্রিকার আকাশপথের রাজা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবার অদূরে বিশোফতুতে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মহাদেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দর। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই বিমানবন্দরটি বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে ব্যস্ত 'বোলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট'-এর ওপর চাপ কমাতে তৈরি করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৬ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। পুরো প্রকল্প শেষ হলে এর সক্ষমতা দাঁড়াবে বছরে ১১ কোটি যাত্রীতে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর আটলান্টার সক্ষমতার কাছাকাছি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সিইও মেসফিন তাসিউ জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরে একই সাথে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। বিশাল এই প্রকল্পে থাকবে চারটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মূলত ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বিশ্বমানের হাব তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য যে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমানে আফ্রিকার বৃহত্তম বিমান সংস্থা এবং সম্প্রতি তারা ঢাকা থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হলে তা বিশ্ববাণিজ্য ও পর্যটনে আফ্রিকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উগান্ডার ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক ‘কাসুবি সমাধি’ (Kasubi Tombs) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর তার হারানো গৌরব ফিরে পেয়েছে। ২০১০ সালের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন আগের রূপে ফিরেছে। এর ফলে ইউনেস্কো তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকা থেকে এই স্থানটিকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অবস্থিত এই কাসুবি সমাধি বুগান্ডা রাজ্যের রাজাদের শেষ শয়ানের স্থান। এটি কেবল একটি সমাধিস্থল নয়, বরং বুগান্ডা জনগোষ্ঠীর কাছে এক পবিত্র আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ১৮৮২ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি মূলত ছিল বুগান্ডা রাজাদের প্রাসাদ, যা ১৮৮৪ সালে রাজকীয় সমাধিসৌধে রূপান্তরিত হয়। ২০১০ সালের সেই রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডে সমাধিটির প্রধান কাঠামোর অধিকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী কাঠ, খড় এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় পুরো উগান্ডায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি ইউনেস্কো এবং জাপান সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা ছিল। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং জৈব উপাদানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় কাসুবি সমাধিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, সফল সংস্কার এবং আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে সাইটটি এখন সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উগান্ডার পর্যটন ও ঐতিহ্য প্রেমীদের জন্য এটি একটি বড় বিজয়। কাসুবি সমাধি এখন আবার পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত, যা পূর্ব আফ্রিকার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক মহাসন্ধিক্ষণ। শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধ। এবারের নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন এটি 'অস্তিত্ব রক্ষার' লড়াই, তেমনই বিরোধী দল বিজেপির জন্য এটি রাজ্যপাট 'দখলের' চূড়ান্ত পরীক্ষা। তৃণমূলের লক্ষ্য চতুর্থ জয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসনে জিতে বিপুল জনমত নিয়ে তারা প্রত্যাবর্তন করেছিল। ২০২৬-এ এসে ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য টানা চতুর্থবারের মতো নবান্ন দখল করা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা। বিজেপির মরণপণ লড়াই : অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এবার ক্ষমতা হস্তান্তরে মরিয়া। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। যদিও পরবর্তীতে উপনির্বাচন ও দলবদলের কারণে সেই সংখ্যা ৭৫-এ নেমে আসে। এবার গেরুয়া শিবির সেই ক্ষতি পুষিয়ে রাজদণ্ড নিজেদের হাতে নিতে সবটুকু শক্তি নিয়োগ করেছে। অস্তিত্ব সংকটে বাম-কংগ্রেস : বিগত নির্বাচনে বিধানসভায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া বাম দল এবং কংগ্রেসের জন্য এবারের লড়াই মূলত শূন্যস্থান পূরণের। বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলবদলের রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের মাঝে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি পদ্ম শিবির।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামরিক শক্তিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে এবার ‘সুপার পাউডার’ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখালো চীন। সম্প্রতি চীনের গুয়াংডং প্রদেশে বিশ্বের বৃহত্তম 'প্লাজমা মিল' (Plasma Mill) সুবিধা উন্মোচন করা হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, যেমন— রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইল তৈরির মূল ভিত্তি হলো মাইক্রন-স্কেলের এই বিশেষ সুপার পাউডার। এতদিন এই পাউডার উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও চীনের নতুন এই প্লাজমা মিলটি আগের পদ্ধতির চেয়ে ১০ গুণ বেশি দক্ষ। দেখতে সাধারণ ড্রামের মতো মনে হলেও এই প্লাজমা মিলগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধাতব অংশকে আণুবীক্ষণিক কণায় রূপান্তর করে। যেমন— স্টিলথ বিমানের গায়ে যে বিশেষ আবরণ (Radar-absorbing coating) থাকে, তা তৈরি হয় ম্যাগনেটিক আয়রন ফ্লেক বা লোহার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা থেকে। এছাড়া জেট ইঞ্জিনের টারবাইন ব্লেড তৈরির জন্য এই উন্নত পাউডার অপরিহার্য, যা উচ্চ তাপে সংকুচিত করে নিখুঁত আকার দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের যে আধিপত্য ছিল, চীনের এই নতুন শিল্প-বিপ্লব তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে। এখন থেকে চীন অনেক বড় পরিসরে এবং অনেক দ্রুত এই জটিল উপকরণগুলো উৎপাদন করতে পারবে। চীনের এই নতুন উদ্ভাবন শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং মহাকাশ গবেষণা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স খাতেও দেশটিকে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি বা জিপিও-এর (GOP) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য মুসলিম থ্রেট’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন রিপাবলিকান নেতা এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১,১১১টিরও বেশি বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল মার্কিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনমনে ভয় এবং বিভাজন তৈরি করা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনের শুরু হয়েছিল টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের একটি পোস্টের মাধ্যমে, যেখানে তিনি একটি মুসলিম আবাসন প্রকল্পকে ‘শরিয়া সিটি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী ১৩ মাসে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির ৪৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি সরাসরি এই মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় শামিল হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে এই ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি আইনিভাবেও মুসলিমদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কংগ্রেসে ‘শরিয়া’ সংক্রান্ত আটটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে এবং ‘শরিয়া মুক্ত আমেরিকা’ ককাসে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রিপাবলিকানদের এই ধরণের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করছে। ‘ডেঞ্জারাস স্পিচ প্রজেক্ট’-এর মতে, এই ধরনের ভাষা সরাসরি সহিংসতার উস্কানি হিসেবে কাজ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।