গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও সংকটজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের শান্তি দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে তিনি সতর্ক করে বলেন যে গাজায় প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো তাদের সক্ষমতার মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানকার অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ম্লাদেনভ জোর দিয়ে বলেন যে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং অবশ্যই উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। মানবিক সহায়তার বর্তমান প্রবাহ গাজার বিশাল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কিছু পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তবে সামগ্রিক অবস্থা এখনো চরম উদ্বেগজনক। ম্লাদেনভ বলেন যে ২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বর্তমানে অমানবিক পরিস্থিতিতে বাস করছে যা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া যায় না। তিনি গাজায় সাহায্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা অবিলম্বে বাড়ানোর এবং অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা দ্রুততর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজও একই অধিবেশনে স্বীকার করেছেন যে গাজায় মানবিক প্রচেষ্টা এখনো যথেষ্ঠ নয় এবং এক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। ওয়াশিংটন গাজার ভেতরে মানবিক প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই একমাত্র পথ যা গাজার পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর তেলবাহী ট্যাংকার পাহারার বিষয়ে একটি ভুল সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। সম্প্রতি নিজের 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত সেই বিভ্রান্তিকর তথ্যের জন্য বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ত্রুটিকে দায়ী করেছেন তিনি। গত সপ্তাহের শুরুতে রাইটের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। তবে পোস্টটি দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলা হয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, "এটি আমাদের বিভাগের একটি অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বিভাগের প্রধান হিসেবে আমি এর পূর্ণ দায়ভার নিচ্ছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আমি কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।" হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত মঙ্গলবারই নিশ্চিত করেছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ওই সময়ে কোনো জাহাজ পাহারা দেয়নি। এছাড়া আজ অন্য এক সাক্ষাৎকারে রাইট পরিষ্কার করেছেন যে, কৌশলগত এই জলপথে এখনই ট্যাংকার পাহারার দেওয়ার মতো প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নেই। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভবিষ্যৎ পোস্টগুলো এখন থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সহিংসতা বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। পরিস্থিতি শান্ত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মহাসচিব। সূত্র: আল জাজিরা।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বার্তায় এই অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তায় সকল রাজনৈতিক অংশীজনকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের এই ইতিবাচক গতি ধরে রেখে জাতীয় সংহতি আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতিসংঘের এই বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সকল রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, জাতিসংঘ বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে। বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জাতিসংঘের এমন সমর্থন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা নৃশংস আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গাজার মোট স্কুল ভবনের ৯০ শতাংশই হয় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, গাজার যে কয়টি স্কুল ভবন এখনো টিকে আছে, সেগুলোতে বর্তমানে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাজার শিশুরা অস্থায়ী তাবু কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে যৎসামান্য শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও তারা গাজার শিশুদের জন্য শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার কারণে এই কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাতের দুই বছরে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ (১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলের এই পদ্ধতিগত হামলাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই বার্তায় নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের সব অংশীজনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের এই বার্তায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, নির্বাচনে নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে নারী, মেয়ে, প্রতিবন্ধী নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি সফল গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী এবং ভোটারদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে— রাজনৈতিক নেত্রী, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং, ডিপফেক, ছবি বিকৃতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির মতো ঘটনাগুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল, নেতা ও তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। নারী ভোটাররা যেন কোনো প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, তারা নারীদের নির্বাচনি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশের নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্বশান্তি রক্ষা ও সংঘাত-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনে আবারও নেতৃত্বের সারিতে উঠে এলো বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের অত্যন্ত প্রভাবশালী সংস্থা ‘শান্তি বিনির্মাণ কমিশন’ বা পিসবিল্ডিং কমিশন (পিবিসি)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে লাল-সবুজের এই দেশ। নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশ্ববাসীর এই আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী ‘ব্যুরো’ গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে মরক্কো এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা দেশগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘকে সরাসরি পরামর্শ দেওয়াই এই কমিশনের প্রধান কাজ। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এই কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এর অন্যতম একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ এই কমিশনের ‘সভাপতি’ হিসেবে সফলভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ‘সহ-সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেছে। ৩১টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিশনে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের শীর্ষ সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে কাজ করেন। সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বরাবরই বিশ্বশান্তি ও মানবিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পিবিসির এই নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংঘাতময় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই বিজয় প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়েছে। এটি কেবল একটি পদ নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অসামান্য ত্যাগের এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি না হলেও, এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকারিতা ও কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল একাডেমি অব ন্যাশনাল ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগী অধ্যাপক নিকোলাই গাপোনেনকো। রুশ সংবাদমাধ্যম তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাপোনেনকো সতর্ক করেছেন যে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে জাতিসংঘের একচেটিয়া ফোরাম হিসেবে ভূমিকা সীমিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী জোট গঠনের সম্ভাবনা, তাত্ক্ষণিক চুক্তির বিস্তার ও আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বল হওয়া ঘটতে পারে। সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশকে বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে বোর্ডটি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মিসর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি হয়। গাপোনেনকো বোর্ড গঠনের তিনটি উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন: ট্রাম্পকে একজন দৃঢ় ও উদ্ভাবনী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা। জাতিসংঘকে সংস্কার বা নীতিগত পরিবর্তনে চাপ দেওয়া। সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে অনাকাঙ্ক্ষিত পক্ষগুলোকে বাদ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং মস্কো বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, যদিও বোর্ড অব পিস জাতিসংঘকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, তবুও এর আবির্ভাব বিশ্ব রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews