Live update news
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা, তুলে ধরলেন নির্বাচনী পরিকল্পনা

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক স্টেটের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে এসেম্বলিম্যান পদপ্রার্থী জাকির চৌধুরী, সিপিএ’র উদ্যোগে এক কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   বুধবার (৪ জুন) ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে ‘জাকির ফর দ্য ব্রঙ্কস’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর বিভিন্ন সমস্যা, কমিউনিটির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।   সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জাকির চৌধুরী বলেন, ব্রঙ্কসের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি শিক্ষা, জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন এবং অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার নিয়ে তার অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, “ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর মানুষ এমন একজন প্রতিনিধিত্ব চান, যিনি কমিউনিটির বাস্তব সমস্যা বোঝেন এবং সেগুলো সমাধানে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।”   অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জাকির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।   সভায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকরা জানান, প্রাইমারী নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কমিউনিটি সভা, গণসংযোগ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।   উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেটের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত। আর মূল প্রাইমারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জুন ২০২৬।

২ ঘন্টা Ago
নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করল ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’। বাংলাদেশের লোকসংগীত সম্রাট আব্দুল আলীমের স্মরণে আয়োজিত এক সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।   গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ অংশ নেন।   আয়োজকরা জানান, আব্দুল আলীম বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তার কালজয়ী গান ও জীবনকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’ গঠন করা হয়েছে।   সংগঠনের সভাপতি বেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী ও শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংগীতশিল্পী রানো নেওয়াজ।   অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আহসান হাবিব। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল আলীমের কন্যা জোহরা আলীম নুপুর। এছাড়া প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ প্রবাসী নাসির খান পল, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম এবং সংগীতশিল্পী বিপ্লব।   অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল লোকসংগীত পরিবেশনা। সংগীতশিল্পী জোহরা আলীম নুপুর ও শিমুল খান তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরিবেশনার ফাঁকে তারা যথাক্রমে আব্দুল আলীম এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের স্মৃতিচারণ করেন।   আব্দুল আলীমের গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশিত হলে মিলনায়তনে উপস্থিত প্রবাসীদের মধ্যে নস্টালজিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ উপস্থিত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

২ ঘন্টা Ago
খামার থেকে হার্ভার্ডে: পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ক্যাথলিন সেলফের জীবনের গল্প এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।   পরিবারের খামারে কাজ করা, বাবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই এবং পড়াশোনার চাপ সব বাধা পেরিয়ে তিনি এবার পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBIR-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী ক্যাথলিন সেলফ সম্প্রতি টেনেসির হকিন্স কাউন্টির একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের খামারে কাজ ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ভুট্টা চাষ, খড় বহন এবং গবাদিপশুর দেখাশোনার মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।   তবে গত বছর তাদের পরিবারের ওপর নেমে আসে কঠিন সময়। ২০২৫ সালের শুরুতে ক্যাথলিনের বাবার শরীরে তৃতীয় ধাপের ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চলাকালে পরিবারের খামারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ক্যাথলিনের কাঁধে। একই সময়ে তাকে সামলাতে হয়েছে স্কুলের শেষ বর্ষের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম।   WBIR কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথলিন বলেন, “বাবার ক্যানসারের খবর আমাদের পুরো পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।”   তাদের পরিবারের ভুট্টা চাষের কাজ সাধারণত শীতের শেষ দিক থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত চলে। বাবার চিকিৎসার কারণে শ্রমিক সমন্বয়, ফসল সংগ্রহ এবং বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তখন ক্যাথলিনকে সামলাতে হয়।   তিনি বলেন, “একদিকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হচ্ছিল, অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি সত্যিই ভীতিকর ছিল।”   ক্যাথলিনের ভাষায়, জীবনে সফল হতে হলে আগে পরিবারের দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “আমি যদি ভবিষ্যতে পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনে সফল হতে চাই, তাহলে আগে আমাকে নিজের পরিবারকে দেখাশোনা করতে হবে,” বলেন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চাতেও সক্রিয় ছিলেন ক্যাথলিন। স্কুলের মার্চিং ব্যান্ড, কনসার্ট ব্যান্ড ও কয়ার দলে অংশ নিতেন তিনি। শুরুতে বাড়ির কাছাকাছি কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে ‘SARRS Vanderbilt’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি হার্ভার্ডে আবেদন করার অনুপ্রেরণা পান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেনেসির গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।   হার্ভার্ডে ভর্তির ফল প্রকাশের দিন ক্যাথলিন পূর্ব টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সংগীতের অডিশনে গিয়েছিলেন। সেদিনই প্রথমে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিকে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মোবাইলে হার্ভার্ডের ফল দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান।   তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে খবরটি জানানো হয়।”   পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগঘন। ক্যাথলিন জানান, সবাই তাকে বলেছিলেন তারা আগেই বিশ্বাস করতেন তিনি সফল হবেন।   দীর্ঘ কঠিন সময়ের পর বর্তমানে তার বাবা ক্যানসারমুক্ত এবং সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। আর এ সুখবর যেন পুরো পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।   আগামী শরতে হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করবেন ক্যাথলিন। তিনি হার্ভার্ড ও বার্কলি কলেজ অব মিউজিকের যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সংগীত নিয়ে পড়ার আগ্রহ থাকলেও আইন ও শিক্ষা বিষয়েও পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে তার।   গ্রামীণ টেনেসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটিতে যাওয়ার বিষয়টি যে বড় পরিবর্তন, সেটিও স্বীকার করেন ক্যাথলিন। তবে সম্প্রতি হার্ভার্ড ক্যাম্পাস ঘুরে এসে তার অনেক উদ্বেগ কেটে গেছে।   তিনি বলেন, “ওখানে সবাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। সবারই কিছু না কিছু মানিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে। তাই আমি যতটা আলাদা ভাবছিলাম, বাস্তবে ততটা নয়।”   নিজের অভিজ্ঞতা অন্য শিক্ষার্থীদেরও স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন ক্যাথলিন। বিশেষ করে ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পূর্ব টেনেসি সাধারণত আইভি লিগ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচিত নয়। কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই চেষ্টা করলে যে কারও পক্ষেই সম্ভব। যদি সত্যিই মন থেকে কিছু চাওয়া যায়, তাহলে সেটি অর্জন করা সম্ভব।”   ক্যাথলিন সেলফের এই গল্প এখন শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের কাহিনি নয়; বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

২ ঘন্টা Ago
সম্পর্কের নাম বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নেই মাথাব্যথা, জেন-জিদের নতুন ডেটিং ট্রেন্ড ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’

সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নামহীন সম্পর্ক বা 'সিচুয়েশনশিপ' কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস বদলানোর দিন হয়তো এবার ফুরোতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বা জেনারেশন জেড (জেন-জি)-এর মধ্যে ডেটিং বা প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রবণতা বা ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই নতুন ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—সম্পর্কের প্রচলিত সব নিয়মকানুন ছুড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো একটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নতুন এই শব্দটিকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ (Wildflowering)।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই নতুন ট্রেন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ অনেকটা বুনো ফুলের মতো ফুটে ওঠা। এই ট্রেন্ডটি মূলত সিঙ্গেল বা অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে, যেন তারা রোমান্টিক সম্পর্ককে কোনো চাপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে দেন। এখানে সম্পর্কের কোনো তকমা বা নাম (লেবেল) থাকে না, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকে না এবং সম্পর্কটি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে বা এর ভবিষ্যৎ কী, তা নির্ধারণ করার কোনো চাপও থাকে না। সোজা কথায়, আগামী পাঁচ বছর পর সম্পর্কটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে, "দেখা যাক না, সম্পর্কটা কোন দিকে যায়"—এমন নির্ভার চিন্তাধারাই হলো ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং।   বর্তমান যুগে ডেটিং বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেসেজের অর্থ বিশ্লেষণ করা, ডেটিং অ্যাপে কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে তার কৌশল নিয়ে মাথা ঘামানো এবং ঠিক কোন মুহূর্তে গিয়ে সম্পর্কটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে অবিরাম বিতর্ক চলতেই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের এই ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার নিখুঁত প্রতিষেধক হিসেবেই উঠে এসেছে ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং। এই ধারণার মূল ভিত্তি খুব সহজ: একটি সম্পর্ককে জোর করে কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে ফেলার চেষ্টা বন্ধ করা এবং সেটিকে তার নিজস্ব গতিতে উন্মোচিত হতে দেওয়া। আধুনিক শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা অনেক সিঙ্গেল মানুষের কাছেই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে।   'আনসিঙ্গেল: হাউ টু ডেট স্মার্টার অ্যান্ড ক্রিয়েট লাভ দ্যাট লাস্টস' বইয়ের লেখিকা এবং প্রখ্যাত ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যান এই বিষয়ে তার বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যারা প্রতিটি ফার্স্ট ডেট বা প্রথম দেখাকে অনেকটা বিয়ের ইন্টারভিউ বা চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো মনে করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষ উপকারী হতে পারে।   অ্যামি চ্যান বলেন, "আপনি যদি এমন কেউ হন, যিনি প্রথম বা দ্বিতীয় ডেটেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে ফেলেন; ভাবতে শুরু করেন যে সামনের মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী হতে পারবে কি না বা আপনাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের বাবা/মা হওয়ার যোগ্য কি না, তাহলে আপনার কিছুটা থামা প্রয়োজন। অনেকেই মনের ভেতরে থাকা একটি অদৃশ্য চেকলিস্ট মেলানোর জন্য ইন্টারভিউ স্টাইলে প্রশ্ন করতে থাকেন। এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিষয়ে আরও বেশি শিথিল ও স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাটা উপকারী হতে পারে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফিনিশিং লাইনের দিকে দৌড়ানোর চেয়ে বরং কৌতূহলী থাকা, নিজেকে জানা এবং জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে আপনি আসলে কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করা বেশি জরুরি।   তবে, যারা খুব বেশি রোমান্টিক এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের মানদণ্ডগুলোকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এই ট্রেন্ডের একটি অন্ধকার দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।.   আরেক প্রখ্যাত ডেটিং কোচ ড্যামোনা হফম্যান মনে করেন, আধুনিক ডেটিংয়ের ‘গ্যামিফিকেশন’ বা সব কিছুকে খেলা হিসেবে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং ট্রেন্ডের জন্ম। বর্তমানে ডেটিং অ্যাপগুলোতে অবিরাম সোয়াইপ করা, ম্যাচ করা এবং একই সাথে একাধিক মানুষের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার কারণে রোমান্স বা প্রেমকে সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের চেয়ে একটি গেম বা খেলা বলে বেশি মনে হয়। ড্যামোনা হফম্যান সতর্ক করে বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রত্যাশা যদি একেবারেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত অনেকেই হতাশ হতে পারেন, বিশেষ করে তারা যদি নিজেরা পরিষ্কার না থাকেন যে তারা দিন শেষে আসলে কী চান। সব কিছু সময়ের ওপর ছেড়ে দিলে অনেক সময় মানুষ লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে।   তাহলে এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং কাদের জন্য কার্যকর? ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যানের মতে, এটি নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব ডেটিংয়ের ধরনের ওপর। যারা হুট করেই দ্রুত কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাদের জন্য একটু ধীরগতিতে চলা এবং সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়াটা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে, যারা এক সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে দ্রুত লাফিয়ে বেড়ান এবং কখনোই কোনো গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি করেন না, তাদের ক্ষেত্রে বরং এই অবাধ স্বাধীনতার চেয়ে কিছুটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি নিখুঁত বা আদর্শ সম্পর্ক আসলে এক্সেল শিটে করা নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল রোমান্সের ঠিক মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায় অবস্থান করে। কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ততা ডেটিংকে আনন্দদায়ক রাখতে পারে, আবার কিছু নিজস্ব মানদণ্ড বা প্রত্যাশা সম্পর্কটিকে একটি অন্তহীন ও অর্থহীন ‘সিচুয়েশনশিপ’-এ পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ বুনো ফুল কোনো মালির যত্ন ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও, একটি সম্পর্ককে সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হতে হলে তাতে অন্তত সামান্যতম দিকনির্দেশনা ও যত্নের প্রয়োজন হয়।   ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের এই ধারণাটি মূলত তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রেমে পড়ার জন্য আদৌ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা রুলবুকের প্রয়োজন আছে কি না। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রেমের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘রিলেশনশিপ অ্যানার্কি’ (Relationship Anarchy) বা সম্পর্কের নৈরাজ্যবাদ অন্যতম। ২০০৬ সালে সুইডিশ লেখিকা অ্যান্ডি নর্ডগ্রেন এই দর্শনের প্রবর্তন করেন। এই দর্শন অনুযায়ী, একজন মানুষের জীবনে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে—সমাজের এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর বদলে তারা বন্ধুত্ব, সৃজনশীল অংশীদারত্ব এবং অন্যান্য মানবিক সম্পর্কগুলোকেও রোমান্টিক সম্পর্কের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।   সেক্স-পজিটিভ ডেটিং অ্যাপ 'ফিল্ড' (Feeld) এবং শিক্ষাবিদ রুবি রেয়ারের ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজন হয়তো নিজের অজান্তেই কোনো না কোনোভাবে এই 'রিলেশনশিপ অ্যানার্কি' বা প্রথাগত নিয়মের বাইরের সম্পর্ক চর্চা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের জীবনযাপনের কারণে তারা আগের চেয়ে কম একাকীত্ব অনুভব করেন এবং মানসিকভাবে বেশি সমর্থন পান। তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথাগত সম্পর্কের কোনো মাইলফলক না থাকায়, সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ করা এবং প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।   ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের মতো এই দর্শনগুলো মূলত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, সামাজিক চাপ এবং সমাজ নির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। এই দুটি ট্রেন্ডই প্রমাণ করে যে, আধুনিক তরুণ ডেটাররা এখন ঐতিহ্যের চেয়ে স্বকীয়তা এবং চেকলিস্ট মেলানোর চেয়ে প্রকৃত মানসিক সংযোগকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।   অবশ্য, কোনো পদ্ধতিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা যেমন সতর্ক করেছেন যে, ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং অনেক সময় মানুষকে কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি রিলেশনশিপ অ্যানার্কির ক্ষেত্রেও ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক আঘাত এড়াতে প্রচুর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আত্মসচেতনতার প্রয়োজন হয়।   তারপরেও, যে প্রজন্ম ডেটিং অ্যাপের যান্ত্রিকতা, নামহীন সম্পর্ক এবং অন্তহীন নিয়মের বেড়াজালে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে এই স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন বোঝা খুব কঠিন কিছু নয়। সম্পর্ককে প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হোক কিংবা সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজানো হোক—জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মূলত একটি জিনিসই খুঁজছেন, আর তা হলো: আধুনিক যুগের যান্ত্রিক প্রেমকে কিছুটা হলেও স্ক্রিপ্ট বা পূর্বপরিকল্পনার বাইরে নিয়ে আসার একটি উপায়।

১৬ ঘন্টা Ago
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড: কী, কেন এবং কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে কমানো। নতুন এই নীতির ফলে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হতে পারে।   কী এই ভিসা বন্ড? ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।   প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা অন্যতম। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।   তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশটির অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন।   নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারী বিশ্বের যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন, এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।   ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।   বন্ড জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরমও পূরণ করতে হবে।   ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।   নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।   কেন চালু করা হচ্ছে এই নীতি? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভিসা বন্ড চালু হলে ওভারস্টের হার কমবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   কোন দেশগুলো প্রভাবিত হবে? সাম্প্রতিক ঘোষণায় মোট ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল। এছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে।   তবে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন।   ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড মওকুফ করা হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি কাজে ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। তবে সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এ ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।   আগে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? ভিসা বন্ডের ধারণা নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, যদিও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু উচ্চ ঝুঁকির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর পরিকল্পনা করেছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।   বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এটি অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।   তবে এই অর্থ ফেরতযোগ্য হওয়ায় যারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবে নয়, অস্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৩, ২০২৬ ২২:৩০
পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে
খামার থেকে হার্ভার্ডে: পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ক্যাথলিন সেলফের জীবনের গল্প এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।   পরিবারের খামারে কাজ করা, বাবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই এবং পড়াশোনার চাপ সব বাধা পেরিয়ে তিনি এবার পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBIR-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী ক্যাথলিন সেলফ সম্প্রতি টেনেসির হকিন্স কাউন্টির একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের খামারে কাজ ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ভুট্টা চাষ, খড় বহন এবং গবাদিপশুর দেখাশোনার মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।   তবে গত বছর তাদের পরিবারের ওপর নেমে আসে কঠিন সময়। ২০২৫ সালের শুরুতে ক্যাথলিনের বাবার শরীরে তৃতীয় ধাপের ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চলাকালে পরিবারের খামারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ক্যাথলিনের কাঁধে। একই সময়ে তাকে সামলাতে হয়েছে স্কুলের শেষ বর্ষের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম।   WBIR কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথলিন বলেন, “বাবার ক্যানসারের খবর আমাদের পুরো পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।”   তাদের পরিবারের ভুট্টা চাষের কাজ সাধারণত শীতের শেষ দিক থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত চলে। বাবার চিকিৎসার কারণে শ্রমিক সমন্বয়, ফসল সংগ্রহ এবং বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তখন ক্যাথলিনকে সামলাতে হয়।   তিনি বলেন, “একদিকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হচ্ছিল, অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি সত্যিই ভীতিকর ছিল।”   ক্যাথলিনের ভাষায়, জীবনে সফল হতে হলে আগে পরিবারের দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “আমি যদি ভবিষ্যতে পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনে সফল হতে চাই, তাহলে আগে আমাকে নিজের পরিবারকে দেখাশোনা করতে হবে,” বলেন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চাতেও সক্রিয় ছিলেন ক্যাথলিন। স্কুলের মার্চিং ব্যান্ড, কনসার্ট ব্যান্ড ও কয়ার দলে অংশ নিতেন তিনি। শুরুতে বাড়ির কাছাকাছি কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে ‘SARRS Vanderbilt’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি হার্ভার্ডে আবেদন করার অনুপ্রেরণা পান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেনেসির গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।   হার্ভার্ডে ভর্তির ফল প্রকাশের দিন ক্যাথলিন পূর্ব টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সংগীতের অডিশনে গিয়েছিলেন। সেদিনই প্রথমে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিকে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মোবাইলে হার্ভার্ডের ফল দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান।   তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে খবরটি জানানো হয়।”   পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগঘন। ক্যাথলিন জানান, সবাই তাকে বলেছিলেন তারা আগেই বিশ্বাস করতেন তিনি সফল হবেন।   দীর্ঘ কঠিন সময়ের পর বর্তমানে তার বাবা ক্যানসারমুক্ত এবং সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। আর এ সুখবর যেন পুরো পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।   আগামী শরতে হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করবেন ক্যাথলিন। তিনি হার্ভার্ড ও বার্কলি কলেজ অব মিউজিকের যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সংগীত নিয়ে পড়ার আগ্রহ থাকলেও আইন ও শিক্ষা বিষয়েও পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে তার।   গ্রামীণ টেনেসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটিতে যাওয়ার বিষয়টি যে বড় পরিবর্তন, সেটিও স্বীকার করেন ক্যাথলিন। তবে সম্প্রতি হার্ভার্ড ক্যাম্পাস ঘুরে এসে তার অনেক উদ্বেগ কেটে গেছে।   তিনি বলেন, “ওখানে সবাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। সবারই কিছু না কিছু মানিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে। তাই আমি যতটা আলাদা ভাবছিলাম, বাস্তবে ততটা নয়।”   নিজের অভিজ্ঞতা অন্য শিক্ষার্থীদেরও স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন ক্যাথলিন। বিশেষ করে ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পূর্ব টেনেসি সাধারণত আইভি লিগ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচিত নয়। কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই চেষ্টা করলে যে কারও পক্ষেই সম্ভব। যদি সত্যিই মন থেকে কিছু চাওয়া যায়, তাহলে সেটি অর্জন করা সম্ভব।”   ক্যাথলিন সেলফের এই গল্প এখন শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের কাহিনি নয়; বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করল ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’
নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করল ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’। বাংলাদেশের লোকসংগীত সম্রাট আব্দুল আলীমের স্মরণে আয়োজিত এক সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।   গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ অংশ নেন।   আয়োজকরা জানান, আব্দুল আলীম বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তার কালজয়ী গান ও জীবনকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’ গঠন করা হয়েছে।   সংগঠনের সভাপতি বেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী ও শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংগীতশিল্পী রানো নেওয়াজ।   অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আহসান হাবিব। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল আলীমের কন্যা জোহরা আলীম নুপুর। এছাড়া প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ প্রবাসী নাসির খান পল, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম এবং সংগীতশিল্পী বিপ্লব।   অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল লোকসংগীত পরিবেশনা। সংগীতশিল্পী জোহরা আলীম নুপুর ও শিমুল খান তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরিবেশনার ফাঁকে তারা যথাক্রমে আব্দুল আলীম এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের স্মৃতিচারণ করেন।   আব্দুল আলীমের গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশিত হলে মিলনায়তনে উপস্থিত প্রবাসীদের মধ্যে নস্টালজিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ উপস্থিত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা, তুলে ধরলেন নির্বাচনী পরিকল্পনা

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক স্টেটের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে এসেম্বলিম্যান পদপ্রার্থী জাকির চৌধুরী, সিপিএ’র উদ্যোগে এক কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   বুধবার (৪ জুন) ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে ‘জাকির ফর দ্য ব্রঙ্কস’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর বিভিন্ন সমস্যা, কমিউনিটির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।   সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জাকির চৌধুরী বলেন, ব্রঙ্কসের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি শিক্ষা, জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন এবং অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার নিয়ে তার অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, “ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর মানুষ এমন একজন প্রতিনিধিত্ব চান, যিনি কমিউনিটির বাস্তব সমস্যা বোঝেন এবং সেগুলো সমাধানে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।”   অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জাকির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।   সভায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকরা জানান, প্রাইমারী নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কমিউনিটি সভা, গণসংযোগ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।   উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেটের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত। আর মূল প্রাইমারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জুন ২০২৬।

ছবিঃ সংগৃহীত
সম্পর্কের নাম বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নেই মাথাব্যথা, জেন-জিদের নতুন ডেটিং ট্রেন্ড ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’

সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নামহীন সম্পর্ক বা 'সিচুয়েশনশিপ' কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস বদলানোর দিন হয়তো এবার ফুরোতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বা জেনারেশন জেড (জেন-জি)-এর মধ্যে ডেটিং বা প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রবণতা বা ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই নতুন ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—সম্পর্কের প্রচলিত সব নিয়মকানুন ছুড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো একটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নতুন এই শব্দটিকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ (Wildflowering)।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই নতুন ট্রেন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ অনেকটা বুনো ফুলের মতো ফুটে ওঠা। এই ট্রেন্ডটি মূলত সিঙ্গেল বা অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে, যেন তারা রোমান্টিক সম্পর্ককে কোনো চাপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে দেন। এখানে সম্পর্কের কোনো তকমা বা নাম (লেবেল) থাকে না, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকে না এবং সম্পর্কটি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে বা এর ভবিষ্যৎ কী, তা নির্ধারণ করার কোনো চাপও থাকে না। সোজা কথায়, আগামী পাঁচ বছর পর সম্পর্কটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে, "দেখা যাক না, সম্পর্কটা কোন দিকে যায়"—এমন নির্ভার চিন্তাধারাই হলো ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং।   বর্তমান যুগে ডেটিং বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেসেজের অর্থ বিশ্লেষণ করা, ডেটিং অ্যাপে কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে তার কৌশল নিয়ে মাথা ঘামানো এবং ঠিক কোন মুহূর্তে গিয়ে সম্পর্কটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে অবিরাম বিতর্ক চলতেই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের এই ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার নিখুঁত প্রতিষেধক হিসেবেই উঠে এসেছে ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং। এই ধারণার মূল ভিত্তি খুব সহজ: একটি সম্পর্ককে জোর করে কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে ফেলার চেষ্টা বন্ধ করা এবং সেটিকে তার নিজস্ব গতিতে উন্মোচিত হতে দেওয়া। আধুনিক শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা অনেক সিঙ্গেল মানুষের কাছেই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে।   'আনসিঙ্গেল: হাউ টু ডেট স্মার্টার অ্যান্ড ক্রিয়েট লাভ দ্যাট লাস্টস' বইয়ের লেখিকা এবং প্রখ্যাত ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যান এই বিষয়ে তার বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যারা প্রতিটি ফার্স্ট ডেট বা প্রথম দেখাকে অনেকটা বিয়ের ইন্টারভিউ বা চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো মনে করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষ উপকারী হতে পারে।   অ্যামি চ্যান বলেন, "আপনি যদি এমন কেউ হন, যিনি প্রথম বা দ্বিতীয় ডেটেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে ফেলেন; ভাবতে শুরু করেন যে সামনের মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী হতে পারবে কি না বা আপনাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের বাবা/মা হওয়ার যোগ্য কি না, তাহলে আপনার কিছুটা থামা প্রয়োজন। অনেকেই মনের ভেতরে থাকা একটি অদৃশ্য চেকলিস্ট মেলানোর জন্য ইন্টারভিউ স্টাইলে প্রশ্ন করতে থাকেন। এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিষয়ে আরও বেশি শিথিল ও স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাটা উপকারী হতে পারে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফিনিশিং লাইনের দিকে দৌড়ানোর চেয়ে বরং কৌতূহলী থাকা, নিজেকে জানা এবং জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে আপনি আসলে কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করা বেশি জরুরি।   তবে, যারা খুব বেশি রোমান্টিক এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের মানদণ্ডগুলোকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এই ট্রেন্ডের একটি অন্ধকার দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।.   আরেক প্রখ্যাত ডেটিং কোচ ড্যামোনা হফম্যান মনে করেন, আধুনিক ডেটিংয়ের ‘গ্যামিফিকেশন’ বা সব কিছুকে খেলা হিসেবে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং ট্রেন্ডের জন্ম। বর্তমানে ডেটিং অ্যাপগুলোতে অবিরাম সোয়াইপ করা, ম্যাচ করা এবং একই সাথে একাধিক মানুষের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার কারণে রোমান্স বা প্রেমকে সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের চেয়ে একটি গেম বা খেলা বলে বেশি মনে হয়। ড্যামোনা হফম্যান সতর্ক করে বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রত্যাশা যদি একেবারেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত অনেকেই হতাশ হতে পারেন, বিশেষ করে তারা যদি নিজেরা পরিষ্কার না থাকেন যে তারা দিন শেষে আসলে কী চান। সব কিছু সময়ের ওপর ছেড়ে দিলে অনেক সময় মানুষ লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে।   তাহলে এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং কাদের জন্য কার্যকর? ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যানের মতে, এটি নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব ডেটিংয়ের ধরনের ওপর। যারা হুট করেই দ্রুত কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাদের জন্য একটু ধীরগতিতে চলা এবং সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়াটা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে, যারা এক সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে দ্রুত লাফিয়ে বেড়ান এবং কখনোই কোনো গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি করেন না, তাদের ক্ষেত্রে বরং এই অবাধ স্বাধীনতার চেয়ে কিছুটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি নিখুঁত বা আদর্শ সম্পর্ক আসলে এক্সেল শিটে করা নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল রোমান্সের ঠিক মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায় অবস্থান করে। কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ততা ডেটিংকে আনন্দদায়ক রাখতে পারে, আবার কিছু নিজস্ব মানদণ্ড বা প্রত্যাশা সম্পর্কটিকে একটি অন্তহীন ও অর্থহীন ‘সিচুয়েশনশিপ’-এ পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ বুনো ফুল কোনো মালির যত্ন ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও, একটি সম্পর্ককে সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হতে হলে তাতে অন্তত সামান্যতম দিকনির্দেশনা ও যত্নের প্রয়োজন হয়।   ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের এই ধারণাটি মূলত তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রেমে পড়ার জন্য আদৌ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা রুলবুকের প্রয়োজন আছে কি না। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রেমের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘রিলেশনশিপ অ্যানার্কি’ (Relationship Anarchy) বা সম্পর্কের নৈরাজ্যবাদ অন্যতম। ২০০৬ সালে সুইডিশ লেখিকা অ্যান্ডি নর্ডগ্রেন এই দর্শনের প্রবর্তন করেন। এই দর্শন অনুযায়ী, একজন মানুষের জীবনে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে—সমাজের এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর বদলে তারা বন্ধুত্ব, সৃজনশীল অংশীদারত্ব এবং অন্যান্য মানবিক সম্পর্কগুলোকেও রোমান্টিক সম্পর্কের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।   সেক্স-পজিটিভ ডেটিং অ্যাপ 'ফিল্ড' (Feeld) এবং শিক্ষাবিদ রুবি রেয়ারের ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজন হয়তো নিজের অজান্তেই কোনো না কোনোভাবে এই 'রিলেশনশিপ অ্যানার্কি' বা প্রথাগত নিয়মের বাইরের সম্পর্ক চর্চা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের জীবনযাপনের কারণে তারা আগের চেয়ে কম একাকীত্ব অনুভব করেন এবং মানসিকভাবে বেশি সমর্থন পান। তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথাগত সম্পর্কের কোনো মাইলফলক না থাকায়, সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ করা এবং প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।   ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের মতো এই দর্শনগুলো মূলত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, সামাজিক চাপ এবং সমাজ নির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। এই দুটি ট্রেন্ডই প্রমাণ করে যে, আধুনিক তরুণ ডেটাররা এখন ঐতিহ্যের চেয়ে স্বকীয়তা এবং চেকলিস্ট মেলানোর চেয়ে প্রকৃত মানসিক সংযোগকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।   অবশ্য, কোনো পদ্ধতিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা যেমন সতর্ক করেছেন যে, ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং অনেক সময় মানুষকে কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি রিলেশনশিপ অ্যানার্কির ক্ষেত্রেও ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক আঘাত এড়াতে প্রচুর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আত্মসচেতনতার প্রয়োজন হয়।   তারপরেও, যে প্রজন্ম ডেটিং অ্যাপের যান্ত্রিকতা, নামহীন সম্পর্ক এবং অন্তহীন নিয়মের বেড়াজালে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে এই স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন বোঝা খুব কঠিন কিছু নয়। সম্পর্ককে প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হোক কিংবা সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজানো হোক—জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মূলত একটি জিনিসই খুঁজছেন, আর তা হলো: আধুনিক যুগের যান্ত্রিক প্রেমকে কিছুটা হলেও স্ক্রিপ্ট বা পূর্বপরিকল্পনার বাইরে নিয়ে আসার একটি উপায়।

ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় ঈদ আনন্দে ‘ফিস্ট অব ঈদুল আযহা’ ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক আগ্রহ

জর্জিয়ার আটলান্টায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বড় পরিসরের এক আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ জুন আল নূর ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” নামের বিশেষ ঈদ ফুড ফেস্টিভাল, যা আয়োজন করছে আটলান্টাভিত্তিক সংগঠন এটিএল ফেস্ট অ্যান্ড কোং।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠান নয়; বরং বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত পারিবারিক উৎসব হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে ৬০টিরও বেশি খাবার ও শপিং স্টল থাকছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ উপভোগের সুযোগও থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।   অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা ও আয়োজক আব্দুল্লাহ পিয়াল বলেন, গত মার্চে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত “এটিএল সেহরি নাইট” প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাড়া পেয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে চার হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের দাবি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত অন্যতম বৃহৎ সেহরি আয়োজন হিসেবে সেটি স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনায় আসে।   তিনি বলেন, “ঈদকে ঘিরে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ যেন একসঙ্গে মিলিত হতে পারেন—সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন।”   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ও পার্কিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য থাকবে নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ। আয়োজকরা আশা করছেন, ঈদের এই আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করবে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন বড় পরিসরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঈদ, বৈশাখ ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি বড় উদ্যোগ।   অনুষ্ঠানটি ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও এতে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
435 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
376 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
467 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
320 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়