বিনোদন

কানাডার ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গ ভাড়া করে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে র‍্যাপার ড্রেকের বিশেষ ডেট। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকার অনুরোধে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে, তার জন্য পুরো দুর্গ ভাড়া নিলেন ড্রেক

কানাডার টরন্টোতে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে বিশেষ ডেটের আয়োজন করতে ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গের পুরোটা ভাড়া নেওয়ার খবর আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় র‍্যাপার ড্রেককে ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল এই দুর্গে ডেটের সময় ড্রেক ও পিংচু ছাড়া সেখানে ছিলেন শুধু একজন খাবার পরিবেশনকারী, একজন পানীয় পরিবেশনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা।   ঘটনার সূত্রপাত ড্রেকের সাম্প্রতিক ‘২০ বনাম ১’ নামের ডেটিং অনুষ্ঠান থেকে। ৮ আগস্ট কিক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ২০ জন নারীর সঙ্গে ড্রেকের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে বেছে নেন তিনি। সেই তিনজনের একজন ছিলেন টেক্সাসের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্ট্রিমার পিংচু, যার আসল নাম লিন লামার।   অনুষ্ঠানে পিংচু ড্রেককে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে বললে তিনি হাসতে হাসতে সেই অনুরোধ পালন করেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ড্রেক গথ বা বিকল্প ফ্যাশনে আগ্রহী একজন নারীকে নিজের পছন্দের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এরপর পিংচুর সঙ্গে ড্রেকের ডেটের আয়োজনও হয়ে ওঠে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেক টরন্টোর ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেন। সেখানে তারা দুজন নির্জনে সুশি খান।   কাসা লোমা টরন্টোর অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটিতে প্রায় ৯৮টি কক্ষ রয়েছে এবং এর আয়তন প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই স্থাপনাটি বর্তমানে টরন্টোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়।   কাসা লোমার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। স্থাপনাটি মূলত স্যার হেনরি পেলাটের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর গথিক স্থাপত্য, বিশাল কক্ষ এবং দুর্গসদৃশ নকশার কারণে এটি টরন্টোর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।   ড্রেকের ওই ডেটিং অনুষ্ঠানে পিংচু তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রেক এতে সম্মতি জানান। পরে পিংচু জানান, তাকে পছন্দের বাড়ির তালিকা খুঁজে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং ড্রেক সেই বাড়ির মূল্য পরিশোধ করবেন।   তবে ডেটিং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ড্রেক ও পিংচুর সম্পর্ক কোন দিকে এগিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পিংচু জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের পর তাদের মধ্যে ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। কানাডার টরন্টোতে গথ ধারার স্ট্রিমার পিংচুর সঙ্গে বিশেষ ডেটের আয়োজন করতে ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গের পুরোটা ভাড়া নেওয়ার খবর আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় র‍্যাপার ড্রেককে ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল এই দুর্গে ডেটের সময় ড্রেক ও পিংচু ছাড়া সেখানে ছিলেন শুধু একজন খাবার পরিবেশনকারী, একজন পানীয় পরিবেশনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা।   ঘটনার সূত্রপাত ড্রেকের সাম্প্রতিক ‘২০ বনাম ১’ নামের ডেটিং অনুষ্ঠান থেকে। ৮ আগস্ট কিক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে ২০ জন নারীর সঙ্গে ড্রেকের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে বেছে নেন তিনি। সেই তিনজনের একজন ছিলেন টেক্সাসের কনটেন্ট নির্মাতা ও স্ট্রিমার পিংচু, যার আসল নাম লিন লামার।   অনুষ্ঠানে পিংচু ড্রেককে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে বললে তিনি হাসতে হাসতে সেই অনুরোধ পালন করেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ড্রেক গথ বা বিকল্প ফ্যাশনে আগ্রহী একজন নারীকে নিজের পছন্দের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এরপর পিংচুর সঙ্গে ড্রেকের ডেটের আয়োজনও হয়ে ওঠে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রেক টরন্টোর ঐতিহাসিক কাসা লোমা দুর্গটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেন। সেখানে তারা দুজন নির্জনে সুশি খান।   কাসা লোমা টরন্টোর অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুর্গটিতে প্রায় ৯৮টি কক্ষ রয়েছে এবং এর আয়তন প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই স্থাপনাটি বর্তমানে টরন্টোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়।   কাসা লোমার নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং ১৯১৪ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। স্থাপনাটি মূলত স্যার হেনরি পেলাটের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর গথিক স্থাপত্য, বিশাল কক্ষ এবং দুর্গসদৃশ নকশার কারণে এটি টরন্টোর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।   ড্রেকের ওই ডেটিং অনুষ্ঠানে পিংচু তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রেক এতে সম্মতি জানান। পরে পিংচু জানান, তাকে পছন্দের বাড়ির তালিকা খুঁজে পাঠাতে বলা হয়েছে এবং ড্রেক সেই বাড়ির মূল্য পরিশোধ করবেন।   তবে ডেটিং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ড্রেক ও পিংচুর সম্পর্ক কোন দিকে এগিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পিংচু জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের পর তাদের মধ্যে ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ০:১৭
মাত্র ৩৬ বছরেই চলে গেলেন ‘‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ তারকা হেইডেন প্যানেটিয়ার
মাত্র ৩৬ বছরেই চলে গেলেন ‘‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ তারকা হেইডেন প্যানেটিয়ার

মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ার। ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’ টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর রোববার নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধি। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যানেটিয়ারের প্রতিনিধি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে তাকে এমন একজন প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি ব্যক্তিগত জীবন থেকে পর্দা পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।   পিপল ম্যাগাজিনও তার প্রতিনিধির বরাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুর স্থান, সময় বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। রয়টার্সও এবিসি নিউজের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।   ১৯৮৯ সালের ২১ আগস্ট নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া হেইডেন প্যানেটিয়ারের বিনোদনজগতের যাত্রা শুরু হয়েছিল শৈশবেই। মাত্র ১১ মাস বয়সে বিজ্ঞাপনে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ শুরু করেন।   ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অল্প বয়সেই দর্শকের নজর কাড়েন প্যানেটিয়ার। তবে তার ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে ২০০৬ সালে এনবিসির জনপ্রিয় সিরিজ ‘হিরোস’-এ ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এক চিয়ারলিডারের চরিত্র তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়।   পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় তার ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিরিজটিতে একজন কান্ট্রি মিউজিক তারকার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্যানেটিয়ার।   বড় পর্দাতেও তার উপস্থিতি ছিল পরিচিত। ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘আই লাভ ইউ, বেথ কুপার’সহ আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যানিমেশন ও ভিডিও গেমেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।   মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে, চলতি বছরের মে মাসে নিজের স্মৃতিকথা ‘দিস ইজ মি: আ রেকনিং’ প্রকাশ করেন প্যানেটিয়ার। সেখানে শৈশব থেকেই বিনোদনজগতে বেড়ে ওঠা, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।   নিজের জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়েও অতীতে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্যানেটিয়ার। সন্তান জন্মের পর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এবং মাদক ও অ্যালকোহল নির্ভরতার সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তার অতীতের এসব সমস্যার সঙ্গে বর্তমান মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ব্যক্তিগত জীবনে প্যানেটিয়ার এক কন্যাসন্তানের মা। সাবেক বাগদত্তা ও ইউক্রেনের সাবেক বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্লিটসকোর সঙ্গে তার মেয়ে কায়ার জন্ম হয় ২০১৪ সালে।   ২০২৩ সালে প্যানেটিয়ারের ছোট ভাই অভিনেতা জ্যানসেন প্যানেটিয়ার মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান। ভাইয়ের অকালমৃত্যুর পর সেই শোক তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি।   হেইডেন প্যানেটিয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে তার দীর্ঘদিনের দর্শক ও বিনোদনজগতের সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হলেও শিশুশিল্পী থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘হিরোস’, ‘ন্যাশভিল’ ও ‘স্ক্রিম’-এর মতো জনপ্রিয় কাজের মাধ্যমে দর্শকদের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:৩৯
বিয়ের ছবিতে নীল রঙের ‘ইভিল আই’ প্রতীক দিয়ে স্বামীর মুখ ঢেকে রাখায় নেটদুনিয়ায় বিচ্ছেদের ও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অন্য নারীর নজর থেকে স্বামীকে বাঁচাতে বিয়ের ছবিতে মুখ ঢাকলেন ‘ইভিল আই’ স্টিকারে

বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কোনো ছবিতেই স্বামীর মুখ দেখাননি। এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হচ্ছে, অন্য নারীরা স্বামীকে দেখে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন, এই আশঙ্কাতেই নববধূ তার স্বামীর চেহারা গোপন রেখেছেন। তবে ভাইরাল পোস্টটির এই ব্যাখ্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   সম্প্রতি একই ধরনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা ঘটেছে ভারতের ইন্টারনেট তারকা ও গায়িকা ধিনচ্যাক পূজাকে ঘিরে। ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া পূজা বিয়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলেও শুরুতে স্বামীর মুখ দেখাননি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।   পূজা জৈন নামে পরিচিত এই গায়িকা পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, তিনি সত্যিই বিয়ে করেছেন এবং এটি কোনো মিউজিক ভিডিও বা প্রচারণার অংশ নয়। তার স্বামীর নাম ইয়াভান। অনলাইনে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং কিছুদিন সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়া আয়োজনে তারা বিয়ে করেন।   তবে স্বামীর মুখ লুকিয়ে রাখার কারণ হিসেবে অন্য নারীদের আগ্রহ বা ঈর্ষার কথা বলেননি পূজা। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই তারা আপাতত স্বামীর চেহারা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। স্বামী একজন গায়ক বলেও জানিয়েছেন তিনি।   বিয়ের ছবি প্রকাশের পর পূজার অনুসারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার আকস্মিক বিয়ের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ স্বামীর পরিচয় জানতে আগ্রহ দেখান। তার জনপ্রিয় গানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন বিয়ের গান তৈরির অনুরোধও করেন অনেকে।   ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গান ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি আলোচনায় আসেন ধিনচ্যাক পূজা। পরে তিনি সালমান খান সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১১’-তেও অংশ নেন।   এদিকে স্বামীর চেহারা লুকানোর সঙ্গে ‘অন্য নারীদের আগ্রহ’ ঠেকানোর যে ব্যাখ্যাটি বিভিন্ন পোস্টে ছড়ানো হচ্ছে, সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত এই ঘটনায় স্বামীর পরিচয় আড়ালে রাখার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথাই জানিয়েছেন নববধূ।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১১:৩৮
ডেটিং অ্যাপে কথিত প্রোফাইল ঘিরে বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ডেটিং অ্যাপে হৃতিকের প্রোফাইল, আবারও কি সিঙ্গেল হৃতিক রোশন!

বলিউড তারকা হৃতিক রোশনের নামে সেলিব্রিটিদের ডেটিং অ্যাপ ‘রায়া’য় একটি কথিত প্রোফাইল সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী সাবা আজাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে থাকা হৃতিক কেন ডেটিং অ্যাপে, সেই প্রশ্ন থেকেই তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রোফাইলটি সত্যিই হৃতিকের কি না কিংবা সেটি বর্তমানে সক্রিয় কি না, তার কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে একজন ব্যবহারকারী হৃতিকের বলে দাবি করা রায়া প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। এরপরই সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃতিক ও সাবার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।   তবে শুধু একটি স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে হৃতিক এখন রায়া ব্যবহার করছেন বা নতুন সম্পর্কে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত হৃতিক বা সাবা কেউই বিচ্ছেদের কোনো ঘোষণা দেননি। কথিত রায়া প্রোফাইল নিয়েও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।   বিষয়টিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে পুরোনো তথ্য। ২০২৪ সালেও হৃতিকের নামে রায়ায় একটি প্রোফাইল থাকার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে সম্প্রতি সামনে আসা স্ক্রিনশটটি নতুন বা বর্তমানে সক্রিয় কোনো অ্যাকাউন্টের কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।   হৃতিক ও সাবার সম্পর্কের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই বছরের শুরুতে মুম্বাইয়ে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনে একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সম্পর্ক কার্যত প্রকাশ্যেই রাখেন তারা।   এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হৃতিকের ৫২তম জন্মদিনে সাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন। গত জুলাইয়েও হৃতিককে সাবা এবং তার দুই ছেলে হ্রেহান ও হৃদানকে সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটিয়ে ফেরার সময় বিমানবন্দরে দেখা যায়। অর্থাৎ কথিত ডেটিং প্রোফাইল নিয়ে নতুন গুঞ্জনের অল্প সময় আগেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।   রায়া সাধারণ ডেটিং অ্যাপগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও সদস্যপদনির্ভর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। বিনোদনজগতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যাপটি ব্যবহারের নজির রয়েছে। সদস্যদের গোপনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে সেখানে থাকা কোনো ব্যক্তির প্রোফাইল সম্পর্কে বাইরে থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন।   ফলে হৃতিকের নামে ছড়িয়ে পড়া প্রোফাইলটি আসল কি না, সেটি পুরোনো নাকি বর্তমানে সক্রিয় এবং সাবা আজাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা কী, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো নেই। হৃতিক বা সাবার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত তাদের বিচ্ছেদের খবরকে নিশ্চিত তথ্য নয়, গুঞ্জন হিসেবেই দেখতে হচ্ছে।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১১:৫
ইংল্যান্ডে বিয়ের অনুষ্ঠানে জেমস ও নিকি রোডনাইট দম্পতির সঙ্গে হলিউড তারকা কিয়ানু রিভস। ছবি: সংগৃহীত
বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন কিয়ানু রিভসকে, পরক্ষণে সত্যিই হাজির হলেন হলিউড তারকা!

ইংল্যান্ডে নিজেদের বিয়ের দিন এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নবদম্পতি নিকি ও জেমস রোডনাইট। যে হলিউড তারকাকে হোটেলের বারে দেখে নিছক সৌজন্যবশত বিয়ের অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বর, কিছুক্ষণ পর সত্যিই সেই অনুষ্ঠানে হাজির হন ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ও ‘জন উইক’ খ্যাত অভিনেতা কিয়ানু রিভস।   ঘটনাটি ২০২২ সালের আগস্টের। নর্থ্যাম্পটনশায়ারের ফসলি হল হোটেল অ্যান্ড স্পায় বিয়ে করেন নিকি ও জেমস। একই হোটেলে তখন অবস্থান করছিলেন কিয়ানু রিভস। বিয়ের পর হোটেলের বারের কাছে তাকে দেখতে পান জেমস।    আইটিভিকে জেমস জানান, তিনি রিভসের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং বলেন, সেদিনই তার বিয়ে হয়েছে। এরপর অভিনেতাকে তাদের উদযাপনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। রিভস তখন জানান, তিনি ও তার বন্ধু ডিনার করতে যাচ্ছেন, তবে পরে সময় হলে আসবেন।    নবদম্পতি অবশ্য নিশ্চিত ছিলেন না, এত বড় একজন তারকা সত্যিই তাদের অনুষ্ঠানে ফিরে আসবেন কি না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হোটেলের এক কর্মী নিকিকে জানান, বাইরে একজন ‘বিশেষ অতিথি’ তার সঙ্গে দেখা করতে চান।   বাইরে গিয়ে নিকি দেখেন, সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন কিয়ানু রিভস। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অভিনেতাকে দেখে তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে কী বলবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।    রিভসকে পানীয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা নেননি। দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে ক্লান্ত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দ্রুত চলে না গিয়ে নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানান, অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। বিয়ের ফটোগ্রাফারও রিভসের সঙ্গে নবদম্পতির কয়েকটি ছবি ধারণ করেন।    নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, রিভস ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও আন্তরিক। তিনি শুধু নবদম্পতির সঙ্গেই নয়, অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকজন অতিথির সঙ্গেও কথা বলেন এবং ছবি তুলতে সময় দেন।    ঘটনার ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিকি নিজেই সেই সময় বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে কিয়ানু রিভসকে নবদম্পতি ও অতিথিদের সঙ্গে দেখা যায়। ঘটনাটি দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে।    রিভস তখন নর্থ্যাম্পটনশায়ারে একটি ডকুমেন্টারি প্রকল্পের কাজে ছিলেন। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ব্রন জিপি ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারির কাজের কারণেই তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।    ঘটনাটি নতুন নয়, তবে সম্প্রতি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই সেটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে শেয়ার করছেন। বাস্তবে নিকি ও জেমসের বিয়েতে কিয়ানু রিভসের এই আকস্মিক উপস্থিতি ঘটেছিল ২০২২ সালের আগস্টে।   নবদম্পতির জন্য সেটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যা তারা আগে থেকে পরিকল্পনাও করেননি। একটি সাধারণ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত চলচ্চিত্র তারকার বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া এবং অতিথিদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর সেই ঘটনাই চার বছর পরও নতুন করে মানুষের আগ্রহ কাড়ছে।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১০:৩৬
ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ
এক দশকের প্রেমের পর জর্জিনাকে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট পর্তুগালের উপকূলীয় শহর কাসকাইসে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করেন রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দুজনের হাতের বিয়ের আংটি দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন শুধু, ‘C❤️G’। পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   বিয়ের অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী লিসবনের কাছের কাসকাইসে ছোট পরিসরে সিভিল সেরিমনির মাধ্যমে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সেখানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। অন্যদিকে রোনালদো তখন রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম বড় তারকা। পরের বছর তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হন তারা। এরপর থেকে রোনালদোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে ওঠেন জর্জিনা। একই বছর তাদের পরিবারও বড় হয়। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেসির মাধ্যমে রোনালদোর যমজ সন্তান এভা মারিয়া ও মাতেওর জন্ম হয়। ওই বছরের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়।   ২০২২ সালে আরও একবার যমজ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। তবে সন্তান জন্মের সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়। বেঁচে যায় যমজ কন্যা বেলা এসমেরাল্ডা। সে সময় সন্তান হারানোর খবর নিজেরাই প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে ঘিরে তাদের পরিবার। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ এভা ও মাতেও, এবং রোনালদো ও জর্জিনার দুই মেয়ে আলানা ও বেলা তাদের সঙ্গে রয়েছে। বিয়ের ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। জর্জিনা তখন ইনস্টাগ্রামে বাগদানের আংটির ছবি দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনেও এবং আমার সব জীবনেই।’ ঠিক এক বছর পর ১১ আগস্টই বিয়ে করলেন তারা। ফুটবল ক্যারিয়ারে রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের আল নাসরের হয়ে খেলছেন।     পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড গড়ে চলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একসঙ্গে পরিবার গড়ে তোলা এবং বাগদানের এক বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বড় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বদলে একটি ছবি, দুটি বিয়ের আংটি আর ‘C❤️G’ দিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানিয়েছেন রোনালদো।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২২:৪২
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি

হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, জীবনের এক কঠিন সময়ে পারিবারিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যাকে তিনি সাময়িকভাবে ‘স্বস্তির পথ’ হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না।    সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পিট জানান, ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। তবে তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং আশাবাদী মানসিকতা তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।  পিটের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জোলির সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৬ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে।  সন্তানদের সঙ্গে পিটের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের কয়েকজন সন্তান ইতোমধ্যে পিটের পদবি ব্যবহার করা বন্ধ করেছেন। শিলোর পদবি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং জাহারা ও ম্যাডক্সের ক্ষেত্রেও এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  সাক্ষাৎকারে পিট তাঁর মায়ের মৃত্যুর প্রভাবের কথাও বলেন। তাঁর মা জেন পিট ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যান। পারিবারিক দূরত্ব, মায়ের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলো তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।      পিট আরও জানান, সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর তিনি আবার পান করা শুরু করেছেন। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন। অতীতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসের সহায়তা এবং অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।  অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কথা বলেছেন। জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানরা তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার হতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ভূমিকা রেখেছে।    তবে পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এমন দাবি করেননি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আত্মহত্যাকে কেন কেউ স্বস্তির পথ মনে করতে পারে, সেই অনুভূতির কথা বলেছেন।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৮:১৮
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা

ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকর কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমকে বিয়ে করার কারণেই তিনি ধর্মান্তরিত হন। তবে এই ধারণাকে নাকচ করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সহশিল্পী জয়তী ভাটিয়া।   ভারতীয় টেলিভিশন উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়তী ভাটিয়া বলেন, ‘সসুরাল সিমর কা’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করার সময় দীপিকা ও শোয়েবের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার ভাষায়, দীপিকা যে কাজই করেন, মনপ্রাণ দিয়ে করেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি একই আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন।   জয়তী জানান, একসময় তিনি নিজেই দীপিকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, শোয়েবকে বিয়ে করার জন্যই কি তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। উত্তরে দীপিকা তাকে জানান, বিষয়টি মোটেও তা নয়।   জয়তীর বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনের এক কঠিন সময়ে দীপিকা আজমীর শরীফ দরগাহে গিয়েছিলেন। সেই সফরের সময় তিনি মানসিক শান্তি ও ভেতরের শক্তি অনুভব করেন। এরপরই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। দীপিকার ভাষায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের অনুভূতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।   জয়তী আরও বলেন, যদি কোনো ধর্মের প্রার্থনা একজন মানুষকে মানসিক শক্তি দেয় এবং সেই বিশ্বাস থেকে তিনি নতুন জীবনদর্শন বেছে নেন, তবে সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।   দীপিকা স্বামীর ধর্মের কাছে নতিস্বীকার করেছেন— এমন সমালোচনারও জবাব দেন জয়তী। তিনি বলেন, দীপিকা ও শোয়েব সবসময় একে অপরকে সমানভাবে সমর্থন করেছেন। দীপিকা অসুস্থ হলে শোয়েব তার পাশে ছিলেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে শোয়েবের পরিবারকেও সমর্থন দিয়ে আসছেন দীপিকা।   ২০২৫ সালে দীপিকা কাকরের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি ও শোয়েব তাদের ভিডিও ব্লগের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং সুস্থতার বিভিন্ন আপডেট ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।   জয়তী আরও উল্লেখ করেন, তাদের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘দীপিকা কি দুনিয়া’। তার মতে, এটি দেখায় যে দীপিকার নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও দর্শকদের কাছে তিনি এখনো ‘সিমর’ চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।   উল্লেখ্য, দীপিকা কাকর ও শোয়েব ইব্রাহিম ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের রুহান নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। দীপিকার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে জয়তী ভাটিয়ার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২:১৫
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত

রিয়েলিটি টিভি তারকা ও উদ্যোক্তা কিম কার্দাশিয়ান বলেছেন, সাবেক স্বামী কানিয়ে ওয়েস্টের অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত আচরণই ছিল তাদের দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিক। সম্প্রতি ‘কল হার ড্যাডি’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকটময় সময়ে কানিয়ে কখনো কখনো তাদের পাঁচটি ল্যাম্বরগিনি বন্ধুদের দিয়ে দিতেন, আবার পরে নতুন গাড়ি কিনতেন, এভাবে একই ঘটনা বারবার ঘটত।    কিম জানান, এমন পরিস্থিতিতে তিনি কখনোই বুঝতে পারতেন না পরদিন কী ঘটতে যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা তাকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলেছিল এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তার ভাষায়, তিনি শারীরিক নয়, বরং মানসিক ও আর্থিকভাবে নিজেকে নিরাপদ মনে করতেন না।   সাক্ষাৎকারে কিম আরও বলেন, সম্পর্কের শুরুতে তিনি কানিয়ের পাশে থাকার এবং তাকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়তে থাকায় তিনি উপলব্ধি করেন, নিজের মানসিক সুস্থতা ও সন্তানদের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।    কিম কার্দাশিয়ান ও কানিয়ে ওয়েস্ট ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। তাদের চার সন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে কিম বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং ২০২২ সালে তাদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘ সেই সম্পর্ককে তিনি ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না, কারণ সেই সম্পর্ক থেকেই তাদের চার সন্তানের জন্ম হয়েছে।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৯:৪৯
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না

বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের জীবনের শুরুটা আজকের সাফল্যের মতো মোটেও সহজ ছিল না। অভিনয়জীবনের এক পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে এমন কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন যে, বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও তার হাতে ছিল না। সেই সংগ্রামের গল্পই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তিনি।   সঞ্জয় দত্ত জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থানকালে অর্থসংকট এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেক সময় নিয়মিত বাসাভাড়াও পরিশোধ করতে পারতেন না। কঠিন সেই সময় তাকে মানসিকভাবেও ভীষণ চাপে ফেলেছিল।    অভিনেতার ভাষ্য, জীবনের সেই কঠিন দিনগুলোই তাকে আরও দৃঢ় হতে শিখিয়েছে। পরবর্তীতে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হয়েছেন।   বর্তমানে শুধু বলিউডেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সঞ্জয় দত্তের পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযোজনা এবং বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গেও কাজ ও মেলামেশা করছেন তিনি। অথচ এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে মাথা গোঁজার ঠাঁই ধরে রাখতে বাসাভাড়ার টাকাই জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে।   সঞ্জয় দত্তের এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের পেছনে অনেক তারকার জীবনেই থাকে দীর্ঘ সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও কঠিন বাস্তবতার গল্প।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২:৫০
দক্ষিণ ফ্রান্সে নৌভ্রমণের সময় ক্যাটি পেরি ও জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: সংগৃহীত
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পপ তারকা ক্যাটি পেরি এবং কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দক্ষিণ ফ্রান্সে একসঙ্গে অবকাশযাপনের নতুন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নৌভ্রমণের সময় দুজনের আন্তরিক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর সেসব ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   ডেইলি এক্সপ্রেস ইউএসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধুদের সঙ্গে নৌভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এই তারকা জুটি। সে সময় ক্যাটি পেরিকে রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে তার শরীরে সানস্ক্রিন মাখিয়ে দিতে দেখা যায় জাস্টিন ট্রুডোকে। নৌকায় বসে দুজনকে স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সময় কাটাতে, একসঙ্গে ছবি তুলতে এবং আলাপচারিতায় মগ্ন থাকতে দেখা গেছে।   সেদিন ক্যাটি পেরির পরনে ছিল হালকা নীলাভ-সবুজ রঙের পোশাক। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন ক্যাট-আই সানগ্লাস, সোনালি কানের দুল ও স্যান্ডেল। অন্যদিকে ট্রুডোকে দেখা যায় জলপাই রঙের শার্ট, খয়েরি প্যান্ট ও আরামদায়ক জুতা পরিহিত অবস্থায়।   এই অবকাশযাপনকে অনেকেই তাদের সম্পর্কের এক বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কানাডার মন্ট্রিয়ালে প্রথমবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে জাপানের টোকিও সফরের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ক্যাটি পেরি। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে একাধিকবার একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন তারা।   গত মাসে নিউইয়র্কের ট্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে ক্যাটি পেরির কনসার্টভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ক্যাটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর, লাইভ ফ্রম প্যারিস’-এর প্রিমিয়ারেও একসঙ্গে অংশ নেন তারা। সেই অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রুডোকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ বলে উল্লেখ করেন পেরি। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিন নতুন কিছু শেখার সুযোগ এনে দেয় এবং এই সম্পর্ক তাকে আরও স্থির ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।   পেরি আরও জানান, ২০২৫ সালে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তার ‘লাইফটাইমস ট্যুর’ শেষ করার পর তিনি নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ অনুভব করছেন। তার ভাষায়, জীবনের বিশেষ একজন মানুষের উপস্থিতি তাকে মানসিকভাবে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে এবং সেটি তার ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   অন্যদিকে, ট্রুডো বর্তমানে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই। দায়িত্ব ছাড়ার পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। ক্যাটি পেরির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে দুজনই খুব সীমিত মন্তব্য করেছেন।   দক্ষিণ ফ্রান্সে তাদের সাম্প্রতিক নৌভ্রমণের ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের একাংশ তাদের নতুন ছবিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও, অনেকেই তারকা এই জুটির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২০:৫৫
নাম থেকে বাবার পদবি বাদ দেওয়ায় টম ক্রুজের সঙ্গে মেয়ে সুরির দীর্ঘদিনের দূরত্ব নিয়ে ফের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে

হলিউড তারকা টম ক্রুজের একমাত্র জৈবিক সন্তান সুরি ক্রুজ আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম থেকে বাবার পদবি “ক্রুজ” বাদ দিয়ে “সুরি নোয়েল” নাম ব্যবহার শুরু করেছেন। এর পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাবা-মেয়ের দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবং এর পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো।   ২০২৪ সালে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনের সময় প্রথমবারের মতো “সুরি নোয়েল” নামটি প্রকাশ্যে আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, কলেজ জীবনেও তিনি একই নাম ব্যবহার করছেন। “নোয়েল” হচ্ছে তার মা অভিনেত্রী কেটি হোমসের মধ্যনাম।   তবে সুরি কেন বাবার পদবি বাদ দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি নিজে বা টম ক্রুজ কেউই প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ফলে এ সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।   টম ক্রুজ ও কেটি হোমসের বিয়ে হয় ২০০৬ সালে। একই বছর জন্ম হয় সুরির। ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০১২ সালে বিবাহবিচ্ছেদ করেন এই দম্পতি। বিচ্ছেদের পর সুরির প্রধান অভিভাবকত্ব পান কেটি হোমস এবং তখন থেকেই মূলত মায়ের সঙ্গেই বেড়ে ওঠেন তিনি।   গত এক দশকেরও বেশি সময়ে টম ক্রুজ ও সুরিকে একসঙ্গে খুব কমই প্রকাশ্যে দেখা গেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সম্পর্ককে দূরত্বপূর্ণ বা বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে আসছে।   এই দূরত্বের পেছনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো সায়েন্টোলজি। টম ক্রুজ বহু বছর ধরে সায়েন্টোলজি ধর্মীয় আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত অনুসারী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কেটি হোমস চেয়েছিলেন তার মেয়ে সুরি সায়েন্টোলজির প্রভাবের বাইরে বড় হোক। এ কারণেই তিনি দ্রুত বিবাহবিচ্ছেদের উদ্যোগ নেন এবং সুরির অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করেন বলে বহু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেটি হোমস কখনও প্রকাশ্যে বলেননি যে শুধুমাত্র সায়েন্টোলজির কারণেই তিনি টম ক্রুজকে ছেড়েছেন। একইভাবে টম ক্রুজও বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা বিশ্লেষণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই।   সায়েন্টোলজি ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন লেখক এল. রন হাবার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি ধর্মীয় আন্দোলন, যার অনুসারীরা বিশেষ আধ্যাত্মিক চর্চার মাধ্যমে মানুষের মানসিক ও আত্মিক উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তবে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রেও রয়েছে। সাবেক সদস্য ও সমালোচকদের অভিযোগ, সংগঠনটি সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে এবং সমালোচকদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে উৎসাহিত করে। যদিও সায়েন্টোলজি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং নিজেদের একটি বৈধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করে।   সাম্প্রতিক সময়ে সুরির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই তার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত দূরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তবে এ বিষয়ে সুরি নিজে কোনো বক্তব্য দেননি। ফলে তিনি কেন বাবার পদবি বাদ দিয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।   যা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে, তা হলো—বাবার পদবি ব্যবহার না করলেও সুরি বর্তমানে নিজের নতুন পরিচয় “সুরি নোয়েল” নামেই এগিয়ে যেতে বেছে নিয়েছেন। আর সেই সিদ্ধান্তের পরই টম ক্রুজ ও তার মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাটি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১২:৪৭
বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে
বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে, নথিতে এখন নতুন পরিচয়

হলিউড তারকা টম ক্রুজ ও অভিনেত্রী কেটি হোমসের একমাত্র মেয়ে সুরি ক্রুজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাবার পদবি বাদ দিয়ে নিজের আইনি নাম পরিবর্তন করেছেন। এখন থেকে তার নাম সুরি নোয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভোটার নিবন্ধনের নথিতে এই নতুন নামই ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।    বর্তমানে ২০ বছর বয়সী সুরি পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে মিউজিক্যাল থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ভোটার নিবন্ধনের সময় তিনি ‘সুরি নোয়েল’ নামে নিবন্ধন করেন। পেনসিলভানিয়ার নিয়ম অনুযায়ী ভোটার নিবন্ধনে অবশ্যই ব্যক্তির আইনগত নাম ব্যবহার করতে হয়। তবে পেনসিলভানিয়ায় তার নামে কোনো নাম পরিবর্তনের আবেদন জমা পড়েনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কলেজে যাওয়ার আগে নিউইয়র্কেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় নাম পরিবর্তন সম্পন্ন করেন।    ‘নোয়েল’ নামটি তার মা কেটি হোমসের মধ্য নাম। সুরি ২০২৪ সালে হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও ‘সুরি নোয়েল’ নাম ব্যবহার করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও একই নাম ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে। সর্বশেষ সরকারি নথিতে সেই নামই আইনগত পরিচয় হিসেবে উঠে এসেছে।    টম ক্রুজ ও কেটি হোমস ২০০৬ সালে বিয়ে করেন এবং একই বছর সুরির জন্ম হয়। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর সুরি মায়ের সঙ্গেই নিউইয়র্কে বড় হন। দীর্ঘদিন ধরেই টম ক্রুজ ও সুরির মধ্যে দূরত্বের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত টম ক্রুজ বা কেটি হোমস কেউই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১:৪৭
এক্সে অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় ‘দ্য ওডিসি’র পাইরেটেড কপি। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ফাঁস, তিন ঘণ্টার কম সময়েই লাখ লাখ ভিউ

চলচ্চিত্র দুনিয়ায় সাড়া জাগানো নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ ঘিরে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার জন্য যখন টিকিট পাওয়ার হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) ফাঁস হয়ে গেল সিনেমাটির একটি উচ্চমানের পাইরেটেড বা অবৈধ কপি। প্রকাশের মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে এটি ২১ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। পরবর্তীতে কপিরাইট লঙ্ঘনের দায়ে এক্স কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি সরিয়ে নেয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে। বিনোদনবিষয়ক বিশ্বখ্যাত মাধ্যম ভ্যারাইটি ও দ্য হলিউড রিপোর্টার এ খবর নিশ্চিত করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পরপরই এই বুটলেগ বা পাইরেটেড সংস্করণটি নেটিজেনদের নজরে আসে। এক ব্যবহারকারী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, "কেউ একজন এক্স-এ পুরো 'দ্য ওডিসি' সিনেমাটি আপলোড করে দিয়েছে, বিশ্বাস করা যায়?" তার এই পোস্টটি নিজেই অন্তত ৩০ লাখ ভিউ পায়, যা মূলত ফাঁসের খবরটিকে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।   ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। পরদিন রবিবার এক্স-এ অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের আরেকটি কপি আপলোড করা হয়, যা সরিয়ে নেওয়ার আগে প্রায় ৫০ হাজার ভিউ পায়। এমনকি সোমবার অনেক ব্যবহারকারী ফুল মুভি দাবি করে কিছু লিংক শেয়ার করেন, কিন্তু সেগুলো ছিল ইন্টারনেটভিত্তিক ট্রোল বা 'রিকরোলিং' ট্রিক—যেখানে ক্লিক করলে চলচ্চিত্র না এসে ১৯৮৭ সালের বিখ্যাত গান 'নেভার গনা গিভ ইউ আপ'-এর ভিডিও প্লে হতে থাকে।   ছবিটির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল পিকচার্সের এক মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই তারা দ্রুত টেকডাউন প্রোটোকল বা ভিডিও অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, "আমরা মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট লঙ্ঘন গুরুত্বের সাথে দেখি এবং আমাদের কনটেন্ট সুরক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"   অবশ্য এই অনলাইন পাইরেসির ঘটনা সত্ত্বেও সিনেমাটির ব্যবসায়িক সাফল্যে কোনো ভাটা পড়েনি। বক্স অফিসে চালকের আসনে রয়েছে প্রায় তিন ঘণ্টার এই সিনেমাটি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ১২ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার আয়ের পর দ্বিতীয় সপ্তাহেও বিশ্বজুড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যবসা করেছে ছবিটি। পূর্ণাঙ্গ বয়স্ক বা 'আর' রেটিং পাওয়া সিনেমার জন্য এই ধরনের আয় অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড।   সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে এই অভূতপূর্ব উন্মাদনার প্রধান কারণ হলো নোলানের নির্মাণশৈলী। ইতিহাসজুড়ে এই প্রথম কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরোপুরি ভারী ও জটিল 'আইম্যাক্স ৭০ মিমি' ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। নোলানের এই কারিগরি জাদু বড় পর্দায় উপভোগ করতে সিনেমা প্রেমীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে সমস্যা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে মাত্র ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে ৭০ মিমি আইম্যাক্স প্রজেক্টরে চলচ্চিত্র দেখানোর সুবিধা রয়েছে।   চাহিদা এতটাই তুঙ্গে যে নিউ ইয়র্ক শহরের একমাত্র ৭০ মিমি আইম্যাক্স হল 'এএমসি লিঙ্কন স্কয়ার ১৩'-এর আগামী আগস্ট পর্যন্ত সব শোর টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি অনলাইন কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ইবে-তে (eBay) টিকিট কালোবাজারি বা চড়া দামে বিক্রির মতো ঘটনাও ঘটছে।   অন্যদিকে, সিনেমাটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্কও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক ক্রিস্টোফার নোলানের এই সিনেমার কাস্টিং বা অভিনয়শিল্পী নির্বাচ-নের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মাস্কের দাবি, অস্কার পুরস্কার জেতার সুবিধা পেতে নোলান সিনেমাটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বৈচিত্র্যময় কাস্টিং (DEI policy) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিশেষ করে হেলেন অব ট্রয় চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিতা নিওঙ্গো এবং গ্রীক যোদ্ধার চরিত্রে রূপান্তরিত লিঙ্গের অভিনেতা এলিয়ট পেজকে নেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্ক।   মাস্ক আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে তার নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্ম 'গ্রোক ইমেজ'-এর মাধ্যমে 'দ্য ওডিসি'-র একটি ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল সংস্করণ প্রকাশ করা হবে।   সব বিতর্ক ও পাইরেসির বাধা পেরিয়ে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে, আর সাধারণ দর্শকরা এখনও টিকিটের আশায় লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২২:০
ইলন মাস্ক ও সঙ্গী শিভন জিলিস
'আমার সঙ্গী ভারতীয়' ছেলের নাম শেখর, রেসিজম ও মুসলিমবিদ্বেষীর অভিযোগে জবাব দিলেন ইলন মাস্ক

বর্ণবাদ ও মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজের সঙ্গীর ভারতীয় বংশপরিচয় এবং তাঁদের সন্তানদের উদাহরণ সামনে এনেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয় এবং তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। এ কারণেই নিজেকে বর্ণবাদী বলা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।  বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, তাঁদের এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত পদার্থবিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের সম্মানে। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে মাস্ক ও জিলিসের যমজ ছেলেদের একজনের মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘সেখর’। নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রসঙ্গও তুলে ধরে মাস্ক দাবি করেন, তাঁর কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ কাজ করছেন এবং সেখানে বর্ণবাদের কোনো উপস্থিতি তিনি দেখেন না।      টেক্সাসে টেসলার একটি কারখানায় ধারণ করা প্রায় ৯০ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোস। ইউরোপের অভিবাসন, মুসলিম জনগোষ্ঠী ও উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে মাস্কের ধারাবাহিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এসব বক্তব্য বর্ণবাদী বা মুসলিমবিদ্বেষী কি না।  যুক্তরাজ্য নিয়ে আগের সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করে মাস্ক বলেন, পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধী বিশ্বাস ধারণকারী কোনো জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়তে থাকলে একসময় সেখানে বড় ধরনের সংঘাত বা ‘হিসাব-নিকাশের পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। এর আগে তিনি দেশটিতে ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।    সাক্ষাৎকারে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তিনি মুসলিমবিদ্বেষী কি না। জবাবে মাস্ক স্পষ্টভাবে হ্যাঁ বা না বলেননি। তিনি বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার বিরোধিতা করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত আইন ও মূল্যবোধের বিপরীত কোনো বিধান চাপিয়ে দেওয়ারও বিরোধী। ইউরোপের যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে সংবাদমাধ্যম ‘উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে, তাদের তিনি নিরাপদ শহর, সুরক্ষিত সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রিত সরকারি ব্যয়ের দাবি তোলা ‘স্বাভাবিক মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।  মাস্কের বর্ণবাদবিরোধী এই আত্মপক্ষসমর্থন নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারী বিনোদ খোসলা তাঁকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মনোভাব ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করলে মাস্ক একইভাবে শিভন জিলিসের ভারতীয় পরিচয় ও তাঁদের সন্তানের নামের উদাহরণ দিয়েছিলেন। জবাবে খোসলা বলেছিলেন, পরিবারের পরিচয় সামনে না এনে মাস্কের এমন বক্তব্য প্রকাশ করা এড়িয়ে চলা উচিত, যেগুলো মানুষের কাছে বর্ণবাদী বলে মনে হতে পারে।      মাস্ক অতীতে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী বিশ্বে দ্রুত সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে বলে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিবাসন, জাতিগত পরিচয় ও ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাস্ক অবশ্য বরাবরই বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ ও সহিংসতার সমর্থক হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কিছুটা ‘মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন’। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্মিলিত মানববুদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি।

Unknown প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২২:১৯
মেগান ফক্স ও ব্রায়ান অস্টিন গ্রিন তাদের দাম্পত্য জীবনের একটি পুরোনো অনুষ্ঠানে। ছবি: সংগৃহীত
‘শুধু শারীরিক আকর্ষণ দিয়ে সম্পর্ক টেকে না’, মেগান ফক্সের সঙ্গে সংসার ভাঙার আসল কারণ জানালেন ব্রায়ান

হলিউড অভিনেতা ব্রায়ান অস্টিন গ্রিন বহু বছর পর সাবেক স্ত্রী মেগান ফক্সের সঙ্গে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তাদের সম্পর্কের শুরুতে তিনি মূলত শারীরিক আকর্ষণকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, কেবল সেই ভিত্তির ওপর একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।   মার্কিন গণমাধ্যম পেজ সিক্স-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার প্রচারিত "I Do, Part 2" পডকাস্টে অংশ নিয়ে ব্রায়ান অস্টিন গ্রিন বলেন, "আমার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর একসঙ্গে ছিলাম। আমাদের প্রায় ১০ বছরের বৈবাহিক জীবন ছিল। কিন্তু আমি সম্পর্কের শুরুতে শারীরিক আকর্ষণকেই প্রাধান্য দিয়েছিলাম।" ৫২ বছর বয়সী এই অভিনেতা বলেন, অতীতে তিনি সাধারণত প্রথমে কারও প্রতি শারীরিকভাবে আকৃষ্ট হতেন, এরপর সেই আকর্ষণকে কেন্দ্র করেই সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।   ব্রায়ান অস্টিন গ্রিন ও মেগান ফক্স ২০১০ সালে বিয়ে করেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। তবে ২০২০ সালের মে মাসে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এই বিচ্ছেদ তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল বলে জানান গ্রিন। তিনি বলেন, "আমি কখনও ভাবিনি আমার বিবাহবিচ্ছেদ হবে। তখন আমার তিন সন্তান ছিল এবং আমি একক অভিভাবক হিসেবে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হই।"   এই অভিজ্ঞতার পর নিজের জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন গ্রিন। তিনি জানান, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে তিনি থেরাপির সহায়তা নেন। সেখানে তিনি বোঝার চেষ্টা করেন, সম্পর্কের মধ্যে তিনি নিজে এমন কী আচরণ বা মানসিকতা নিয়ে আসতেন, যা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। থেরাপির মাধ্যমে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পান বলে জানান অভিনেতা। তার ভাষায়, প্রেমের সম্পর্ক শুরু করার আগে একজন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা জরুরি।   তিনি বলেন, "যখন একটি সম্পর্ক সত্যিকারের মানসিক সংযোগ থেকে শুরু হয়, তখন অন্য মানুষটি আমাকে সত্যিই পছন্দ করে কি না, সেই অনিশ্চয়তা কমে যায়। ফলে দুজন মানুষ অনেক বেশি স্বচ্ছভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।" গ্রিন আরও বলেন, একটি সম্পর্ক কেবল শারীরিক আকর্ষণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। একসময় সেই আকর্ষণ ফিকে হয়ে গেলে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।   তিনি বলেন, "শুধু শারীরিক সংযোগের ওপর নির্ভর করলে একসময় এমন পর্যায় আসে, যখন মনে হয় ওই মানুষটিকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না। তখন তার প্রতি আকর্ষণও আর আগের মতো থাকে না।" এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই ২০২০ সালের শেষের দিকে নৃত্যশিল্পী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব শার্না বার্গেসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ব্রায়ান গ্রিন। তিনি জানান, সম্পর্কের শুরুতেই তারা নিজেদের ভালো-মন্দ সব দিক খোলাখুলিভাবে আলোচনা করেছিলেন।   গ্রিন বলেন, "আমরা দুজনই নিজেদের সেরা ও সবচেয়ে দুর্বল দিকগুলো শুরুতেই একে অপরের সামনে তুলে ধরেছিলাম।" ২০২২ সালে এই দম্পতির ঘরে ছেলে সন্তান জেনের জন্ম হয়। এরপর ২০২৩ সালে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়।   অন্যদিকে, মেগান ফক্স ও ব্রায়ান অস্টিন গ্রিন বিচ্ছেদের পরও সন্তানের স্বার্থে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহ-অভিভাবকত্ব বজায় রেখেছেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে। বিচ্ছেদের পর মেগান ফক্স সংগীতশিল্পী মেশিন গান কেলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাদের বিচ্ছেদ হলেও, ২০২৫ সালের মার্চে তাদের কন্যাসন্তান সাগার জন্ম হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সন্তানকে নিয়ে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় তাদের সহ-অভিভাবকত্ব নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।   বিনোদন অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রায়ান অস্টিন গ্রিনের এই মন্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতাই নয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও মানসিক সংযোগের গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।   সূত্র: পেজ সিক্স, "I Do, Part 2" পডকাস্ট।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ২২:৩২
জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল।  ছবি: সংগৃহীত
জুরাসিক পার্ক’খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল ৭৮ বছর বয়সে মারা গেলেন, শোক বিশ্ব চলচ্চিত্রে

বিশ্বখ্যাত নিউ জিল্যান্ডের অভিনেতা স্যার স্যাম নিল, যিনি জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রে ড. অ্যালান গ্র্যান্ট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান, ৭৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মৃত্যু ছিল “আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত”; তবে স্বস্তির বিষয় ছিল, দীর্ঘদিন রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর মৃত্যুর সময় তিনি ক্যানসারমুক্ত ছিলেন।   ১৯৪৭ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া স্যাম নিল শৈশবে পরিবারের সঙ্গে নিউ জিল্যান্ডে চলে যান। সত্তরের দশকে অভিনয়জীবন শুরু করে তিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে দেড় শতাধিক চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালের Sleeping Dogs তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দেয়, আর ১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত Jurassic Park-এ অভিনয় তাকে বিশ্বখ্যাত তারকায় পরিণত করে।    Jurassic Park ছাড়াও The Piano, Dead Calm, The Hunt for Red October, Event Horizon, The Horse Whisperer, Peaky Blinders এবং The Tudors–এর মতো চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে তার অভিনয় সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি নাইটহুড লাভ করেন এবং কর্মজীবনে একাধিক গোল্ডেন গ্লোব ও এমি মনোনয়ন অর্জন করেন।   ২০২৩ সালে স্যাম নিল প্রকাশ্যে জানান যে তিনি বিরল ধরনের টি-সেল লিম্ফোমায় আক্রান্ত। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পরীক্ষামূলক থেরাপির পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি জানান, তার শরীরে আর ক্যানসারের কোনো চিহ্ন নেই। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময়ও তিনি ক্যানসারমুক্ত ছিলেন।   তার মৃত্যুর খবরে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ, অভিনেত্রী লরা ডার্ন, নিকোল কিডম্যান, সিলিয়ান মারফি, রিচার্ড ই. গ্রান্টসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শিল্পী তাকে অসাধারণ প্রতিভাবান, বিনয়ী এবং মানবিক একজন শিল্পী হিসেবে স্মরণ করেছেন। নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও তাকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে অভিহিত করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।   অভিনয়ের বাইরে স্যাম নিল একজন সফল আঙুরখামারের মালিক, পরিবেশ-সচেতন উদ্যোক্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতির জন্যও পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগৎ হারাল এমন একজন অভিনেতাকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকের মনে তার অভিনয়ের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:৪৪
পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে ব্যস্ত নগরজীবন ছেড়ে শান্ত পরিবেশ বেছে নিয়েছেন আলি লার্টার। ছবি: সংগৃহীত
হলিউডের কোলাহলপূর্ণ জীবন ছেড়ে এখন পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন ‘ল্যান্ডম্যান’ তারকা

হলিউডের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্তকে জীবনের অন্যতম সেরা পরিবর্তন বলে মনে করছেন ‘ল্যান্ডম্যান’ তারকা আলি লার্টার। তার ভাষায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায় আইডাহোতে জীবন অনেক বেশি সহজ, শান্ত এবং পরিবারকেন্দ্রিক।   সম্প্রতি নিউপোর্ট বিচ টিভি ফেস্টিভ্যালে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ২০২০ সালে পরিবারের সঙ্গে আইডাহোর সান ভ্যালিতে চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের গ্রীষ্মকালীন জীবনধারা পুরোপুরি বদলে গেছে।   আলি লার্টার বলেন, এখন সন্তানদের নিয়ে আগের মতো দীর্ঘ পাহাড়ি পথে হাঁটতে যাওয়া সম্ভব না হলেও তারা একসঙ্গে সাইকেল চালান, নদীর ঠান্ডা পানিতে সময় কাটান এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকেন।   তিনি বলেন, "আমরা বাড়িতে বারবিকিউ করি, আমাদের কুকুরগুলোর সঙ্গে খেলি। আমার মেয়ে ভলিবল খেলতে পছন্দ করে। মাঝে মাঝে আমরা স্থানীয় দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে যাই।"   তার ভাষায়, "এখানে জীবন অনেক সহজ। গ্রীষ্মে রাত ১০টা পর্যন্ত সূর্যের আলো থাকে। তাই সন্তানদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাই।" আলি লার্টার ও তার স্বামী অভিনেতা হেইস ম্যাকআর্থার দুই সন্তানের বাবা-মা। তাদের ছেলে টেডির বয়স ১৫ বছর এবং মেয়ে ভিভিয়েনের বয়স ১১ বছর।   অভিনেত্রী জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে মাত্র দুই মাসের জন্য আইডাহোতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ধারণা ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল দ্রুত খুলে যাবে। কিন্তু তা না হওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা অনলাইনে চলতে থাকে। অন্যদিকে আইডাহোর স্কুল খুলে যাওয়ায় তাদের ছোট মেয়েকে সেখানে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাতে সক্ষম হন।   লার্টারের ভাষায়, ওই সময়েই তারা স্থানীয় অনেক পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন। সন্তানদের নিয়ে স্কি করা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং ছোট শহরের পরিবেশ তাদের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।   পরে গ্রীষ্মের ছুটিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে গিয়ে তারা উপলব্ধি করেন, হলিউডে একজন অভিনেতার জীবন শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত অডিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্টি ও দাতব্য আয়োজনে উপস্থিত থাকারও চাপ থাকে।   তিনি বলেন, "আমরা সেই জীবন আর চাইনি। আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আইডাহোতেই থেকে দেখব।" তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতি ভালোবাসার কথা অস্বীকার করেননি আলি লার্টার। তিনি বলেন, শহরটি সবসময়ই তার হৃদয়ের একটি অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু বর্তমান জীবনধারায় তিনি পরিবারের জন্য বেশি সময় দিতে পারছেন, যা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   বর্তমানে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ল্যান্ডম্যান’-এ অ্যাঞ্জেলা চরিত্রে অভিনয় করছেন আলি লার্টার। সিরিজটিতে তিনি অভিনেতা বিলি বব থরন্টনের চরিত্রের সাবেক স্ত্রী হিসেবে অভিনয় করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে বলেন, বাস্তব জীবনেও মাঝে মাঝে অ্যাঞ্জেলা চরিত্রের সাহসী ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে ইচ্ছা হয়।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ২১:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোয় মনের মতো জীবনসঙ্গী না পেয়ে রোবটের সঙ্গে শেষ জীবন কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করা সাবেক অভিনেত্রী জেরেমি রেইন ড্রেফাস | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
প্রেমে বারবার ধোঁকা, শেষ বয়সে ‘রোবট স্বামী’ চান হলিউড অভিনেতার সাবেক স্ত্রী!

হলিউড তারকা রিচার্ড ড্রেফাসের সাবেক স্ত্রী এবং সাবেক অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার জেরেমি রেইন ড্রেফাস বাস্তব জীবনের পুরুষদের ওপর থেকে সম্পূর্ণ ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ডেটিং করার চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো মানুষ খুঁজে না পেয়ে এবার তিনি শেষ জীবনটা কাটাতে চান একটি হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে ‘রোবট’-এর সঙ্গে।   জেরেমির মেয়ে এমিলি ড্রেফাস এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর মায়ের শেষ বয়সের একমাত্র অদ্ভুত ইচ্ছা হলো একটি ‘সেক্স রোবট’ বা ‘লাভ রোবট’ (ভালোবাসার রোবট) কেনা। জেরেমি রেইন অবশ্য ‘সেক্স রোবট’ শব্দটিতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তিনি মূলত এমন একটি ‘লাভ রোবট’ চান, যে ঘরের টুকটাক কাজ করে দেবে, যার ঠোঁট দুটো সুন্দর হবে এবং দিনশেষে বিছানায় তাঁর পাশে শুয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরবে।   ৭৮ বছর বয়সী জেরেমি রেইনের এই অদ্ভুত ইচ্ছার পেছনে রয়েছে তাঁর অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। হলিউডের প্রথম সারির কয়েকজন তারকার সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক ছিল চরম যন্ত্রণাদায়ক। অভিনেতা রিচার্ড ড্রেফাসের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় সংসার করার পাশাপাশি তিনি হলিউডের নামী তারকা জ্যাক নিকোলসন এবং বিখ্যাত গায়ক বব ডিলানের সঙ্গেও প্রেম করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই পুরুষদের ক্যারিয়ারের অহংকার এবং প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। জেরেমি আক্ষেপ করে বলেন, "রোবট কখনো আমার সঙ্গে ঝগড়া করবে না, ধোঁকা দেবে না, কিংবা আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না। সে আমাকে কখনো বুড়ো বা কুৎসিতও ভাববে না, আমার রোবট শুধু আমাকেই ভালোবাসবে।"   বর্তমানে বাজারে অ্যামাজনে প্রায় ১৮ হাজার ডলারে মানুষের মতো দেখতে অ্যাডভান্সড রোবট কিনতে পাওয়া গেলেও সেগুলো এখনো মানুষের মতো ভালোবাসতে শেখেনি। তবে আগস্টে ৭৯ বছরে পা দিতে যাওয়া সাবেক এই অভিনেত্রী তাঁর জীবনের শেষ সময়টা কোনো মানুষের চেয়ে একটি রোবটের সঙ্গেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৯:৬
ছবি: সংগৃহীত
স্পাইডার-ম্যানের নতুন সিনেমার প্রচারে এক মঞ্চে টম হল্যান্ড ও মেসি

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে এবার দেখা গেল বড় পর্দার জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানের প্রচারণায়। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার প্রচারমূলক ভিডিওতে অভিনেতা টম হল্যান্ডের সঙ্গে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় থাকা মেসি এবার সিনেমাপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রোমোশনাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কফিশপে বসে পিটার পার্কার (টম হল্যান্ড) কফি পান করতে করতে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক তখনই স্পাইডার-ম্যানকে খুঁজতে একটি ট্র্যাকার হাতে ক্যাফেতে প্রবেশ করেন লিওনেল মেসি।   মেসিকে সামনে দেখে বিস্মিত হয়ে পিটার পার্কার বলে ওঠেন, ‘তুমি... মেসি?’ তবে ক্যাফের মালিকের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। তিনি শান্তভাবে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, উনি মেসি।’ এরপর পিটার পার্কার মেসিকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে বাইরে যান এবং স্পাইডার-ম্যানের পোশাকে ফিরে আসেন। পরে স্পাইডার-ম্যান মজার ছলে মেসিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘উঁচুতে ভয় লাগে না তো?’   এরপরই দেখা যায়, আকাশচুম্বী ভবনের মাঝ দিয়ে জাল ছুড়ে স্পাইডার-ম্যান মেসিকে নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এটিকে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সিনেমা প্রচারণা হিসেবে মন্তব্য করছেন। এদিকে নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা পুরোপুরি স্ক্রিন-এক্স (ScreenX) প্রযুক্তির জন্য শুটিং করা হয়েছে।   এই প্রযুক্তিতে শুধু সামনের পর্দাই নয়, সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালও প্রদর্শনের অংশ হয়ে যায়। ফলে দর্শক ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারেন। নির্মাতাদের দাবি, এতে স্পাইডার-ম্যান যখন আকাশচুম্বী ভবনের ফাঁক দিয়ে জাল ছুড়ে উড়বে, তখন দর্শকদেরও মনে হবে তারা যেন তার সঙ্গেই উড়ে চলেছেন।   বিশ্বব্যাপী ৩১ জুলাই মুক্তি পাবে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তবে তার আগে ১৭ জুলাই পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত ‘দ্য ওডিসি’ সিনেমায়ও দেখা যাবে টম হল্যান্ডকে। ফলে পরপর দুটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই ব্রিটিশ অভিনেতা।

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২১:৪৭
ফাইল ছবি: ডেভিড ইউলিট
সব জল্পনার অবসান, নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বিয়ে করছেন টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি

কয়েক মাসের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট এবং কানসাস সিটি চিফসের তারকা ফুটবলার ট্র্যাভিস কেলসি। গত মঙ্গলবার সিএনএনের কাছে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   সূত্রগুলোর দাবি, আগামী বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনে বিয়ের প্রস্তুতিমূলক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর শুক্রবার হবে মূল আয়োজন, যা ভোর ৪টা পর্যন্ত চলতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।   বুধবার (১ জুলাই) সকালে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশে কর্মীদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। তারা বেশ কয়েকটি রহস্যময় বাক্স ভেন্যুতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক কর্মী বলেন, ‘আমার মুখ বন্ধ, আমি কিছুই বলতে পারব না।’   এই বহুল আলোচিত বিয়ে এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন নিউইয়র্ক সিটি গ্রীষ্মকালীন নানা আয়োজন ও উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশটির বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিক্স দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার পর এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরে পর্যটকদেরও উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।   শহরে টেইলর সুইফটের ভক্তদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মীও অবস্থান নিয়েছেন। তবে কয়েক দিন আগ পর্যন্ত এই গোপন আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই অনুষ্ঠানস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলেও জানা গেছে।   ট্র্যাভিস কেলসির সতীর্থ এবং ‘টাইট এন্ড ইউনিভার্সিটি’র (টিইউ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ কিটল জানিয়েছেন, তিনি বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পেলেও অনুষ্ঠানটি কোথায় হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। গত সপ্তাহে ‘এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিটল বলেন, ‘আমি গত রাতে ট্র্যাভিসকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু সে শুধু হেসে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’   তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। কিটলের ভাষ্য, টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসি অতিথিদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিয়েতে কোনো ধরনের উপহার না আনতে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২০:১১
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০