এক সময়ের শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা-র বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করায় এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমকে জানান, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হলে কাজি আইনত সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন, বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশের আইনে বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলেন। এসব তথ্য বিবেচনায় তার বয়স আইনি সীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। সে হিসেবে, লুবাবার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ককে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই মেয়াদে কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী-মডেল সিমরিন লুবাবা-এর বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক-এ একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পোস্টটি তাঁর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে, লুবাবার বিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মা জাহিদা ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া পরিবারের সূত্র থেকেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লুবাবার পোস্টে থাকা ছবিতে বর ও কনের চেহারা পরিষ্কার নয়। পাত্রের পরিচয়ও তিনি প্রকাশ করেননি। ফলে কে তাঁর জীবনসঙ্গী তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবী করলেও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত বছরের শেষদিকে হঠাৎ করেই বিনোদন জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন লুবাবা। তখন তিনি জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে মনোনিবেশ এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিমরিন লুবাবার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেও বিয়ে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বলিউডের তরুণ দর্শকপ্রিয় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান নতুন সিনেমার প্রস্তুতিতে বাস্তবিকভাবেই পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অভিনয় থেকে বিরতি নয়, বরং আসন্ন চলচ্চিত্রের চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি এই দক্ষতা অর্জন করছেন। তার অভিনীত এরিয়াল অ্যাকশনধর্মী ছবি ক্যাপ্টেন ইন্ডিয়া-এর জন্যই এই বিশেষ প্রস্তুতি। ছবিটিতে একজন কমার্শিয়াল পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে, যে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বহু যাত্রীকে উদ্ধার করে। সিনেমাটির পরিচালক শিমিত আমিন, যিনি চাক দে! ইন্ডিয়া পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি, এবং এটি হবে ২০০৯ সালের পর তার প্রথম বড় ফিচার ফিল্ম। জানা গেছে, পরিচালক চান না পর্দায় কৃত্রিমভাবে বিমান চালানোর অভিনয় হোক। তাই কার্তিক বর্তমানে পেশাদার পাইলটদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যাতে শুটিংয়ের আগেই পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেন। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির শুটিং আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি মরক্কোর বিভিন্ন লোকেশনেও দৃশ্যধারণ করা হবে।
অভিনয় দিয়ে দুই বাংলা জয় করা জয়া আহসান এবার নজর কাড়লেন এক ভিন্ন রূপে। বড় পর্দার ঝলমলে আভিজাত্য দূরে সরিয়ে তিনি ধরা দিলেন প্রকৃতির একদম কাছাকাছি। নিজের শখের বাগানে বিষমুক্ত ও সতেজ সবজির বাম্পার ফলন ফলিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই গুণী অভিনেত্রী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জয়াকে দেখা যায় তার বাগানের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে। মাথায় হ্যাট আর সাধারণ পোশাকে তাকে দেখাচ্ছিল সতেজ এক কৃষাণির মতো। পরম মমতায় কখনও তিনি গাছ থেকে রসালো শসা কাটছেন, আবার কখনও বড় থোকার কলা হাতে নিয়ে মেতে উঠছেন অনাবিল উল্লাসে। তার বাগানে ডালপালা বেয়ে নামা করলা আর সবুজ পাতার ফাঁকে লাল শাকের সমারোহ দেখে মুগ্ধ অনুরাগীরাও। ভিডিওর ক্যাপশনে নিজের হাতে ফলানো ফসলের তৃপ্তির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন জয়া। ব্যস্ত শিডিউল আর শুটিংয়ের ক্লান্তির মাঝেও তিনি যেভাবে বাগান করে নিজেকে সতেজ রাখছেন, তা সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। ভক্তরা তার এই সাধারণ যাপন আর সবুজের প্রতি মমত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। জয়া আহসান প্রায়ই তার ছাদবাগান বা বারান্দার সবুজের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের বাগান করায় উৎসাহিত করে থাকেন।
শোবিজ অঙ্গনে ফের ভাঙনের সুর। দীর্ঘদিনের প্রেম আর ঢাকঢোল পিটিয়ে করা বিয়ের আখ্যান এবার রূপ নিল বিচ্ছেদের করুণ পরিণতিতে। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও লেখক আবু সাইয়িদ রানার দুই বছরের সাজানো সংসার এখন ভাঙনের মুখে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্বামী রানার পরকীয়ার দিকে। ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি জমকালো আয়োজনে ঘর বেঁধেছিলেন এই তারকা দম্পতি। কিন্তু বিয়ের বছর দুয়েক পার হতেই সম্পর্কে ধরেছে ফাটল। জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই তারা আলাদা থাকছেন। শোবিজের অন্দরে জোর গুঞ্জন, নুসরাত তুবা নামে এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতাই এই টানাপোড়েনের মূল কারণ। রানা এবং তুবা একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে একসাথে কাজ করার সুবাদেই নাকি তাদের এই কথিত প্রেমের সূত্রপাত। মৌসুমী হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, যা রটেছে তা সত্যি। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় বর্তমানে বিস্তারিত কথা বলার অবস্থায় তিনি নেই। অন্যদিকে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে রানা নিজেই বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, নিজের দোষ ঢাকতেই রানা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি ফেসবুক ইনকাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ফুটপাতে ‘ব্যাংক’ খোলার রসিকতা করেছেন। তার এই হাস্যরসাত্মক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে নতুন টাকার নোট বিক্রি করছেন কুদ্দুস বয়াতি। তার পেছনে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান বেস্ট গায়ক কুদ্দুস বয়াতি, নতুন টাকার নোট বিক্রেতা। ছবির ক্যাপশনে রসিকতা করে তিনি লেখেন, ‘ফেসবুক ইনকামে লাল বাত্তি, তাই ফুটপাত ব্যাংক খুলে বসলাম (কুদ্দুস ভাইয়ের কচ কচা টাকার ব্যাংক। হেড অফিস- গুলিস্তান ফুটপাত। (বি. দ্র : আমার আর কোনো শাখা নাই)। আগে আসলে কমে পাবেন, পরে আসলে হারাবেন।’ এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। কেউ তার এই উদ্যোগকে মজার বলে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন। প্রসঙ্গত, শৈশব থেকেই গান-বাজনার প্রতি আগ্রহী কুদ্দুস বয়াতি মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ান বাদশা, কাঞ্চন বাদশা ও হাতেমতাইয়ের মতো পালাগানের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ১৯৯২ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘এই দিন দিন না, আরও দিন আছে’ গান গাওয়ার পর তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং লোকসংগীতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতি–কে ঘিরে পরকীয়ার বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণাণ–এর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জোর গুঞ্জনের মধ্যেই এবার পারিবারিক অঙ্গনেও দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন তার স্ত্রী সংগীতা সোর্নালিঙ্গম। এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে আনফলো করেছেন তাদের ছেলে জ্যাসন সঞ্জয়। শুধু তাই নয়, নিজের নামের পাশ থেকেও বাবার নামের আদ্যাক্ষর সরিয়ে ফেলেছেন সঞ্জয়। এতদিন তিনি নিজের নাম লিখতেন ‘ভি জ্যাসন সঞ্জয়’ হিসেবে। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই ‘ভি’ আর ব্যবহার করছেন না। বিষয়টি নেটিজেনদের নজরে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারকা সন্তানদের নামের আগে বাবার নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহারের একটি প্রচলন রয়েছে। দীর্ঘদিন সেই নিয়ম মেনেই নিজের নাম ব্যবহার করতেন জ্যাসন সঞ্জয়। কিন্তু হঠাৎ করে সেই আদ্যাক্ষর বাদ দেওয়ায় অনেকেই পারিবারিক দূরত্বের ইঙ্গিত দেখছেন। এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, বাবার নামের আদ্যাক্ষর বাদ দেওয়ার পর এবার নিজের নামের আগে মায়ের নামের আদ্যাক্ষর যুক্ত করতে পারেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি সঞ্জয় বা সংগীতা। গত কয়েকদিন ধরেই বিজয় ও সংগীতার বিচ্ছেদ নিয়ে তামিল বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। আদালত ইতোমধ্যে বিজয়কে আগামী ২০ এপ্রিল সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সেদিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সংগীতা সোর্নালিঙ্গমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত বিজয়। তার দাবি, ২০২১ সালেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর একাধিকবার সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেননি অভিনেতা। অন্যদিকে এই বিতর্কে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তৃষা কৃষ্ণাণ। তবে সম্প্রতি নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে বিজয় বলেন, “অযথা মাথা ঘামাবেন না, যা রটছে রটতে দিন।” তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
রণবীর সিং অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশের পরপরই এটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ট্রেলারে প্রথম পর্বের তুলনায় আরও বেশি অ্যাকশন ও রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায়, আগের পর্বের ধারাবাহিকতায় এবার আরও ভয়ঙ্কর রূপে পর্দায় হাজির হয়েছেন রণবীর সিং। সিনেমায় তার চরিত্র ‘জসকিরত সিং রঙ্গি’ কীভাবে দুর্ধর্ষ ‘হামজা’ হয়ে ওঠে, সেই পরিবর্তনের গল্পই দ্বিতীয় কিস্তির মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ছবিতে অক্ষয় খন্না অভিনীত রহমান বালোচকে হত্যার ঘটনার পর দ্বিতীয় পর্বে ‘শের-এ-বালোচ’ হিসেবে আবির্ভূত হবে হামজা চরিত্রে অভিনয় করা রণবীর সিং। লিয়ারি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পথে তাকে আরও হিংস্র রূপে দেখা যাবে। ট্রেলারজুড়ে তার সেই রূপের কিছু ঝলক দেখানো হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। ট্রেলার প্রকাশের পর রণবীর সিং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বলেছিলাম না, এবার বিষয়টা ব্যক্তিগত।’ তার এই মন্তব্য থেকেই সিনেমার কাহিনিতে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ছবিটিতে রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন ও রাকেশ বেদী। প্রথম পর্বের মতো এবারও পরিচালনায় আছেন আদিত্য ধর। আগামী ১৯ মার্চ ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সুরকার কুমার বিশ্বজিৎ বন্ধু ও সহকর্মী হানিফ সংকেত-এর অনন্য অর্জন উদযাপন করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে কুমার বিশ্বজিৎ হানিফকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “বন্ধু, তোর স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তিতে আমি অত্যন্ত খুশি। রইল অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা।” হানিফ সংকেত বহু বছর ধরে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র মাধ্যমে সমাজ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান উপস্থাপন ও বিনোদনমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমৃদ্ধ করে চলেছেন। তার এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবার তিনি ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ বা স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত হচ্ছেন। বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ দর্শক সামাজিক মাধ্যমে তার এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করছেন। ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন এবং দেশের সংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় ধরে অবদান রাখছেন। চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষিত তালিকায় মোট ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন। সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য এই তালিকায় হানিফ সংকেতের নাম থাকায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেছে। এ বিষয়ে হানিফ নিজেও সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “সুহৃদ, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করেছে। এটি আমার একার অর্জন নয়; যারা ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তাদেরও অবদান রয়েছে।”
দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা Shabnom Bubly—এমন গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও অভিনেত্রী নিজে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি, তবে তার চলাফেরা ও উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। দেশের একটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বুবলী। বর্তমানে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে দেশটির অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন এই অভিনেত্রী। ঘাগরা পরিহিত অবস্থায় ভক্তদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন তিনি। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ধারণা করেন, বুবলী অন্তঃসত্ত্বা হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। ‘বসগিরি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করা বুবলী প্রায় দুই ডজনের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই চিত্রনায়ক Shakib Khan–এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ২০২০ সালে প্রথম সন্তানের মা হন এই অভিনেত্রী। তবে ছেলের জন্মের খবর প্রকাশ্যে আনেন প্রায় দুই বছর পর। পরে তিনি জানান, ধর্মীয় আচার মেনে শাকিব খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের সন্তান Shehzad Khan Bir যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে বুবলীর দ্বিতীয় সন্তান জন্মের গুঞ্জন নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা চললেও তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় চলমান আলোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলভী, তার মা ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইকরার পরিবার। মামলায় তিথির নামও এসেছে। ঘটনার সময় আলভী ও তিথি নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলেন বলে জানা যায়। তিথি বলেন, ঘটনার দিনই তারা দ্রুত দেশে ফেরার চেষ্টা করেন, তবে টিকিট জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, আলভীর দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও সেদিন ফ্লাইটে সিট পাওয়া যায়নি। পরদিন টিকিট নিশ্চিত হলে পুরো টিম দেশে ফিরে আসে। আলভীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিথি জানান, নেপাল থেকে বিদায়ের পর আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। এয়ারপোর্টে শেষবার কথা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিথি বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আলভীকে বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেন। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব তথ্য সঠিক নয়। তিথি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চলমান পরিস্থিতি তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, কেউ কেউ দূর থেকে সহানুভূতি জানালেও অনেকেই প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন না, আবার কাজের ক্ষেত্রেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সেন্সর বোর্ডের নানা জটিলতার পর দেশের প্রেক্ষাগৃহে কেন মুক্তি পেল না ‘শনিবার বিকেল’? বিশেষ করে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যখন নিজেই সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন, তখন কেন এই সিনেমা আলোর মুখ দেখল না—এমন প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন নির্মাতা। ফারুকী জানান, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো ভয় বা উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলার অনীহা নেই, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে নিছক ব্যবসায়িক বাস্তবতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সিনেমাটি যখন ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সনি লিভ’-এ মুক্তি পায়, এরপর ইন্টারনেটে এর হাজার হাজার পাইরেটেড লিংক ছড়িয়ে পড়ে। যারা সিনেমাটি দেখতে চেয়েছেন, তাদের বড় অংশই ইতিমধ্যে তা দেখে ফেলেছেন। যারা সিনেমাটি হলে আনার দাবি তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে ফারুকী বলেন, অনলাইনে সহজলভ্য একটি ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া ব্যবসায়িকভাবে আত্মঘাতী। বাংলাদেশের বাজারে একটি সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিয়ে কতটুকু মুনাফা করে, তা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষ ভালো করেই জানেন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেউ যেমন এখন ‘ব্যাচেলর’ সিনেমাটি নতুন করে হলে মুক্তি দিতে বলবেন না, ঠিক তেমনি ‘শনিবার বিকেল’ নিয়েও ব্যবসায়িক কোনো সম্ভাবনা বাকি নেই। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও শৈল্পিক সত্তা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে তিনি কখনোই পিছপা হননি এবং হবেনও না। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য যেমন ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলা জরুরি, তেমনি চেতনার নামে মানুষ গুম বা খুনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সহশিল্পী সামিয়া অথৈ মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। সামিয়ার দাবি, তিশা তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করেছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন তানজিন তিশা। তিনি জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না; যা ঘটেছে, তা চরিত্রের প্রয়োজনে এবং গল্পের চাহিদা অনুযায়ী হয়েছে। তিশা সামিয়ার অভিযোগকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং ‘অপেশাদার আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিশা বলেন, চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে আক্রমণাত্মক হতে হয়েছিল। তিনি চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে কমানো বা পানিতে চুবিয়ে ধরার মতো দৃশ্যও করেছেন। তিশা আশা প্রকাশ করেন, ১৫–২০ দিনের মধ্যে দর্শকরা কাজটি দেখবেন এবং বুঝবেন, যা হয়েছে তা চরিত্রের প্রয়োজনে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি চরিত্রের বাইরে কোনো কিছুই করিনি। যা করেছি, তা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী করেছি। সামিয়া এটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নিয়েছে, যা ভুল বোঝাবুঝি।’
ছোটপর্দার নিয়মিত মুখ অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ইকরার পরিবার ও তার বান্ধবীরা দাবি করেছেন, অভিনেতার সহশিল্পী ইফফাত আর তিথির সঙ্গে আলভীর সম্পর্কই ইকরার মৃত্যুর পেছনে প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন ইফফাত ও তিথি, যাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে। তিথি এই গুঞ্জন সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুই দীর্ঘদিনের পেশাদার বন্ধুত্ব। তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে আলভী আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমরা চার-পাঁচ বছর একসঙ্গে কাজ করেছি, তাই বন্ধুত্ব স্বাভাবিক।” দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, যে অভিযোগগুলো প্রচারিত হচ্ছে—‘আলভী তার স্ত্রীকে শেষ দেখা দেখতে আসেননি, তার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে নেপালে ছিলেন’—সেগুলো সঠিক নয়। তিনি জানান, টিমের সঙ্গে ২ মার্চ দেশে ফিরেছেন এবং ইকরা যেদিন মারা যান, সেদিনের জন্য টিকিটের সমস্যা ছিল। উল্লেখ্য, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাহের আলভী ও ইক্রা ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান, রিজিক।
মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন আরেক অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাফাত মজমুদার রিংকু পরিচালিত একটি নাটকের সেটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সামিয়া। ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথৈ দাবি করেন, শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকেই তানজিন তিশার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের শুটিংয়ে একটি দৃশ্য ধারণের সময় তিশা তাঁকে জোরে আঘাত করেন, এতে তাঁর হাত রক্তাক্ত হয়। বিষয়টি দেখে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য কারণ জানতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সামিয়ার দাবি, অতীতে অভিনেতা মুশফিক ফারহানের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে তানজিন তিশা তাঁকে ফোন করে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই পুরোনো ঘটনার জের ধরে বিরূপ আচরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তিনি আরও বলেন, শেষ দিনের শুটিংয়ে একটি চড় দেওয়ার দৃশ্য ছিল। দৃশ্যের প্রয়োজনে তিনি আস্তে করে তিশার গালে হাত রাখেন, তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিশা তাঁকে জোরে আঘাত করেন। এতে তাঁর চোখে আঘাত লাগে এবং কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করেন সামিয়া। এ বিষয়ে জানতে তানজিন তিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে সামিয়া জানান, বিষয়টি অভিনয়শিল্পী সংঘকে জানাবেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা ইউনিটের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি। ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।
দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা করা অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকার রানদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এর আগেই ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলে জাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই এ অভিনেতার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে জানা যায়, ইকরার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত আইডিটি সচল থাকলেও হঠাৎ দেড়টার দিকে তার বান্ধবী সামিয়া আলম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সামিয়া দাবি করেন, জাহের আলভীই ইকরার ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছেন। সামিয়া আলম জানান, তাদের তিন বান্ধবীর একটি চ্যাট গ্রুপ ছিল, যেখানে হঠাৎ করে ইকরার সব কথোপকথন মুছে যেতে দেখা যায়। অন্য বান্ধবীর সঙ্গে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ধারণা করেন, এটি জাহের আলভীর কাজ। তার মতে, গ্রুপটিতে ইকরা পারিবারিক সংকট ও আলভীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শেয়ার করতেন, যা মুছে দিয়ে আলভী হয়তো নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি আরও জানান, ইকরার মৃত্যুর পর থেকেই তার ব্যবহৃত মুঠোফোন পল্লবী থানার পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। এদিকে, মামলার পর থেকে জাহের আলভীর কোনো হদিস মিলছে না। রোববার রাতে তিনি দেশে ফিরেছেন বলে শোনা গেলেও তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
জনপ্রিয় দক্ষিণী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ভবিষ্যতে একাধিক সন্তানের মা হতে চান বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিবাহিত জীবনের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে সন্তানের গুরুত্ব অপরিসীম। অভিনেত্রী আরও বলেন, সংসার জীবনে সন্তানই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণ হলে সন্তানের নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। প্রয়োজনে নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারও ছাড়তে প্রস্তুত আছেন বলে জানান এই তারকা। রাশমিকা বিয়ে করেছেন দক্ষিণী সিনেমার আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা–কে। বিয়ের পর তিনি ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুই রীতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। প্রথমে সকাল ১০টায় তেলুগু রীতিতে মূল বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। ধর্মীয় আচার, পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ এবং পবিত্র অগ্নিকে সাক্ষী রেখে তারা সাত পাকে বাঁধা পড়েন। এরপর বিকেলে কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুসরণ করে কোডাভা রীতিতে আরেকটি বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী ৪ মার্চ হায়দরাবাদ–এ শোবিজের বন্ধুদের জন্য বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নরেন্দ্র মোদি–কে।
আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা। দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অভিনেতার শ্বশুরবাড়ি পরিবার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিনেতা বর্তমানে নেপালে আছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন ইকরা। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে প্রিয়মায়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত থালাপতি বিজয় এবং তার স্ত্রী সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গমের দাম্পত্য জীবনে বড় ধাক্কা লেগেছে। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে গুণিতকের মতো এই জুটির বিচ্ছেদ চাইলেন সঙ্গীতা। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঙ্গীতা জেলা আদালতে দায়ের করা আবেদনপত্রে অভিযোগ করেছেন, বিজয় একজন সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। ২০২১ সালে প্রথমবার তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার পর থেকে একাধিকবার আশ্বাস পেলেও সম্পর্কটি অবসান হয়নি। বিবাহবিচ্ছেদ আবেদনে বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪-এর ২৭(১)(ক) ও ২৭(১)(ঘ) ধারার আওতায় ব্যভিচার ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজয় ও সঙ্গীতা ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিয়ে করেছিলেন। দম্পতির দুই সন্তান আছে—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশা। সঙ্গীতা একজন তামিল শিল্পপতির কন্যা এবং বিয়ের আগে তিনি দীর্ঘদিন বিজয়ের ভক্ত ছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র অঙ্গন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী পপ তারকা Katy Perry ও কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী Justin Trudeau–এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে সন্তান আসার গুঞ্জন ভাইরাল হয়েছে। তবে দম্পতির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তারা সন্তানের অপেক্ষায় নেই। ভাইরাল তথ্যের উৎস একটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট, যা ২০১৪ সালের পুরনো সোনোগ্রাম রিপোর্ট ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এর ‘কমিউনিটি নোট’ ফিচারের মাধ্যমে বিষয়টি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্র আরও জানিয়েছে, তারা একে অপরের সান্নিধ্য এবং আগের সম্পর্কের সন্তানদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। এখনো কেটি পেরি বা জাস্টিন ট্রুডোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংবাদ সংস্থা ও সংশ্লিষ্টরা এই খবরকে শুধুমাত্র গুঞ্জন হিসেবে দেখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।