- প্রচ্ছদ
- বিনোদন
বিনোদন
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে শূন্য ব্যালান্স নিয়ে কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পর অভিনয় ও টেলিভিশনের কাজে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন তিনি। গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলিউডের এই অভিনেতার আর্থিক বিপর্যয় ও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। অমিতাভ ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেড, সংক্ষেপে এবিসিএল। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিনোদনসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবসায় যুক্ত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোম্পানির আর্থিক সমস্যার প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ তিনি শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরোনো সাক্ষাৎকারে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, পাওনাদারেরা নিয়মিত বাড়িতে আসতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন চুক্তিতে ব্যক্তিগত জামিনদার হওয়ায় ঋণ পরিশোধের দায়ও তাঁর ওপর আসে। ব্যাংকে অর্থ না থাকা এবং কাজের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। সংকট কাটাতে তিনি আবার নিজের মূল পেশা অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন। কাজ চাইতে যান চলচ্চিত্র নির্মাতা যশ চোপড়ার কাছে। এরপর ‘মোহাব্বতে’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। পুরোনো অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, এই ছবির কাজ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে টেলিভিশন। ২০০০ সালে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সঞ্চালনা শুরু করেন অমিতাভ। একই বছরে মুক্তি পায় ‘মোহাব্বতে’। এই দুই কাজের পর তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন গতি আসে। পরবর্তী সময়ে অভিনয়, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও বিজ্ঞাপনের কাজের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান পুনর্গঠন করেন তিনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এ বচ্চন পরিবারের সম্পদের আনুমানিক মূল্য চার হাজার কোটি রুপি উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঙ্ক সম্পদের মূল্যায়ন, ব্যাংকে থাকা নগদ অর্থের হিসাব নয়। প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণের পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান আনুমানিক সম্পদের হিসাব মিলিয়ে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিবেদনটি।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোরওয়া এলাকার বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসকেরা ৩০ বছর বয়সী নিধিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকে নিধির প্রায় ৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লাখ অনুসারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে নিধি অন্য রাজ্যে বসবাসকারী এক তরুণের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সিংরৌলির পুলিশ সুপার শিয়াজ কে এম জানিয়েছেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ওই কথোপকথনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ খেতাব জয়ের পর শৈশবের শহর আবুধাবিতে ফিরেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। ভারতের জয়পুরে গত ২৩ আগস্ট মুকুট জেতার পর বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে দেওয়া কথা রেখেই তাঁর এই সফর। ১৯ বছর বয়সী কাজিয়াহ আবুধাবিতেই বড় হয়েছেন। মুকুট জয়ের পর গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বন্ধু, স্কুল ও শিক্ষকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুকুট নিয়ে সেখানে ফিরবেন। ফেরার পর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহনশীলতা ও সহাবস্থানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন এই আইন শিক্ষার্থী। সাক্ষাতের ভিডিওতে তাঁকে মুকুট ও প্রতিযোগিতার পরিচয়ফিতা পরা অবস্থায় দেখা যায়। ভারতের কেরালার সঙ্গে পারিবারিক শিকড় থাকা কাজিয়াহ বলেছেন, আবুধাবিতে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কও ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া খেতাব জয়ের সুবাদে এবার আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়াহ। তাঁর আবুধাবি সফরটি তাই নতুন প্রতিযোগিতায় নামার আগে বেড়ে ওঠার শহরে ফিরে যাওয়ারও একটি মুহূর্ত।
ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু রের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেন। সাদিয়া তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, তা সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং মানা যায় না!’ তিনি আরও লেখেন, ‘এত অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে যে ওরা ভালো কিছু জীবনে দেখেনি আর দেখলেও সেটা হজম করতে পারে না।’ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু র হয় বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টুডিওর ভা ঙ চু রের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। স্টুডিওতে থাকা একজনের অভিযোগ, হা ম লা কা রীরা ভেতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে যায় এবং যা নিতে পারেনি, তা ভে ঙে ফেলে। ঘটনার সময় তাঁরা দুজন সেখানে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হা ম লা কা রীদের লক্ষ্য সালমানের স্টুডিও ছিল না। জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে হা ম লা টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে হা ম লার কারণ সম্পর্কে সাদিয়ার মন্তব্যকে তদন্তে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: চ্যানেল ২৪
মুখজুড়ে লিপস্টিকের চু মু র দাগ নিয়ে রিচার্ড র্যামসির একটি পুরোনো ছবি আজও নজর কাড়ে। ১৯৬০ সালে তোলা ছবিটির মানুষটি একটি কসমেটিকস কোম্পানির কর্মী ছিলেন। তবে তাঁর মুখে দাগ ফেলার উদ্দেশ্য লিপস্টিক কতক্ষণ টিকে থাকে, তা দেখা ছিল না। ছবিটির সংরক্ষিত বিবরণ অনুযায়ী, পরীক্ষাটি ছিল লিপস্টিকে ব্যবহৃত রঙের উপাদান ক্ষ তি কর কি না, তা দেখানোর জন্য। ছবিটি তুলেছিলেন লাইফ সাময়িকীর আলোকচিত্রী ইয়েল জোয়েল। লাইফের সংগ্রহে র্যামসিকে কসমেটিকস কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। একই বিবরণে বলা হয়েছে, লিপস্টিকের রঙের উপাদান নি রা প দ কি না, সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবেই তাঁর মুখে চু মু র দাগ পড়েছিল। ছবিটি ঘিরে প্রচলিত বর্ণনায় র্যামসিকে কখনো ‘পেশাদার লিপস্টিক পরীক্ষক’ বলা হয়, আবার কখনো দাবি করা হয়, তাঁর মুখে দাগ দেখে লিপস্টিকের স্থায়িত্ব মাপা হতো। লাইফের ছবির বিবরণে এসব দাবির সমর্থন নেই। তাঁর নিয়মিত কাজই ছিল এভাবে লিপস্টিক পরীক্ষা করা, এমন তথ্যও সেখানে দেওয়া হয়নি। দেখতে মজার এই ছবিটির সঙ্গে তাই একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি: ছবিটি একটি কসমেটিকস পরীক্ষার দৃশ্য তুলে ধরে, কিন্তু চু মু র দাগ কতক্ষণ থাকে, সে পরীক্ষা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করে না।
বাংলাদেশের গল্প ও চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ নিয়ে পোস্ট করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। শুক্রবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির সিডনি ও মেলবোর্নের দুই গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের কথা তুলে ধরে হাইকমিশন লিখেছে—“Bangladeshi voices. Australian screens”, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’। পোস্টে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানায়, সুমিতের ‘মাস্টার’ সম্প্রতি সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছে—চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বাংলাদেশের কোন বিষয়টি জানুক, সেটি তারা দেখতে চান? অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ‘মাস্টার’-এর প্রদর্শনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২৬ মিনিটের বাংলা ভাষার ছবিটি ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করে। উৎসব কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে বাংলাদেশের ছোট একটি শহরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সংঘাত নিয়ে নির্মিত রাজনৈতিক ড্রামা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। সিডনির পর আগস্টে ছবিটি জায়গা করে নেয় মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং এটি ছিল ছবিটির ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার। মেলবোর্ন উৎসবের বর্ণনায় ‘মাস্টার’-কে একজন আদর্শবাদী গ্রামীণ শিক্ষক রাজনীতিতে প্রবেশের পর ক্ষমতা, প্রভাব ও দুর্নীতির চাপে কীভাবে বদলে যান—সেই গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহির। তিনি একজন শিক্ষক, যিনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হন। কিন্তু রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হতে থাকেন। জাহির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবুসহ অন্যরা। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘মাস্টার’। চলতি বছরের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জেতে ছবিটি। রটারডাম উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে ‘মাস্টার’-এর নাম রয়েছে। সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির নির্বাচনের সময় সুমিত বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির গভীরে থাকা একটি ছোট গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকা হোক কিংবা বড় আন্তর্জাতিক শহর—ক্ষমতার প্রভাব, নৈতিকতা ধরে রাখার সংগ্রাম এবং এর মানবিক মূল্য সর্বজনীন বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস বাংলাও সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় সুমিত ও ‘মাস্টার’ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতা, প্রভাব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো ছবিটিতে উঠে আসার কথা বলা হয়। এবার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে হাইকমিশনের ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’ বার্তাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর দিকটিও সামনে এনেছে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ; সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম; এসবিএস অস্ট্রেলিয়া
মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে অংশ নিয়ে ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি স্বামী মাইকেল বুলোসের সঙ্গে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের জন্য টিফানি পরেছিলেন প্যাস্টেল পিস্তাচিও-সবুজ রঙের লেহেঙ্গা, সঙ্গে ছিল গোলাপি ওড়না ও ঐতিহ্যবাহী গয়না। টিফানির লেহেঙ্গাটি ডিজাইন করেছেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। পোশাকের স্কার্টে ছিল সাদা ও রুপালি ফুলের কারুকাজ, মুক্তার কাজ এবং সূক্ষ্ম নকশা। এর সঙ্গে থাকা ছোট ব্লাউজেও ছিল মুক্তা, ক্রিস্টাল ও সূচিকর্মের অলংকরণ। গোলাপি ওড়নাটি সবুজ পোশাকের সঙ্গে আলাদা রঙের সমন্বয় তৈরি করে। পোশাকের সঙ্গে টিফানি বেছে নেন ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়না। তার পরনে ছিল ভারী নেকলেস, ঝাড়বাতির মতো দুল ও মাঙ্গটিকা। হাতে ছিল অলংকৃত চুড়ি এবং সাজের সঙ্গে মানানসই ছোট ধাতব ব্যাগ। পুরো সাজে ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয় দেখা যায়। অনুষ্ঠানে টিফানির সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী মাইকেল বুলোস। তিনিও ভারতীয় পোশাকে হাজির হন। মাইকেলের পরনে ছিল কমলা-সাফরন রঙের নকশা করা শেরওয়ানি, যা টিফানির উৎসবের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। টিফানি পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারত সফরের ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যারোসেলের সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘India, with love’। এসব ছবিতে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। তার মা মারলা ম্যাপলসও এই ভারত সফরে ছিলেন। আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের এই আয়োজনে বলিউডের একাধিক তারকাও উপস্থিত ছিলেন। টিফানির সঙ্গে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের ছবিও প্রকাশ্যে আসে। মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে সালমান খান, রণবীর সিং, ক্যাটরিনা কাইফ, ভিকি কৌশল, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খানসহ আরও অনেক তারকা অংশ নেন। এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসেও স্বামী মাইকেল বুলোসকে সঙ্গে নিয়ে ভারত সফর করেছিলেন টিফানি। সেই সফরে তারা দিল্লির অক্ষরধাম, আগ্রার তাজমহল ও রাজস্থানের জয়সালমের ঘুরে দেখেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভারত সফরে এসে এবার তিনি আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবে অংশ নিলেন। টিফানির এবারের ভারতীয় সাজ প্রকাশের পর তা নিয়ে ফ্যাশন ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা, গোলাপি ওড়না এবং ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়নার সমন্বয়টি তার এবারের উপস্থিতির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।
হলিউড অভিনেতা ও সাবেক ‘জেমস বন্ড’ তারকা পিয়ার্স ব্রসনান ২৬ বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুতে থাকা তার বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সমুদ্রতীরবর্তী সম্পত্তি থেকে সরে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দাবানল ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি। পাশাপাশি বিশাল বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চ ব্যয়ও ব্রসনানের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ৭৩ বছর বয়সী ব্রসনান ও তার স্ত্রী কিলি শেই স্মিথ ২০০০ সালে মালিবুর ব্রড বিচ এলাকায় দুটি পাশের সম্পত্তি কিনেছিলেন। পরে সেখানে তারা বিশাল আবাসিক কম্পাউন্ড তৈরি করেন। প্রায় ২৬ বছর ধরে এই বাড়িই ছিল তাদের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় বসবাসের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেড়েছে। ব্রসনান জানিয়েছেন, তাদের বাড়িটি অতীতে কয়েকবার দাবানলের কাছাকাছি পড়লেও আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার ভাষায়, কয়েকবার আগুন থেকে বেঁচে যাওয়ার পর এখন মনে হচ্ছে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রের কাছে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাস করাও তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় তৈরি করে। দাবানলের আশঙ্কা ব্রসনানের জন্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে তার মালিবুর বাড়ির গ্যারেজে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আগুন গ্যারেজের পাশাপাশি ওপরের একটি শোবার ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ঘটনায় ব্রসনান ও তার পরিবারের কেউ আহত হননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালিবু ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে ব্রসনানের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার বর্তমান সিদ্ধান্তে দাবানলের পাশাপাশি ভূমিকম্পের আশঙ্কাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বাড়িটি ধরে রাখার খরচও ব্রসনানের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠেছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, মালিবুর বিশাল বাড়িটির মর্টগেজ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ক্যারিয়ারের কিছু সময়ে তাকে এমন কাজও নিতে হয়েছে, যেগুলোর প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। অর্থের প্রয়োজন মেটাতে পছন্দের বাইরে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। ব্রসনানের মালিবুর সম্পত্তিটির নাম ‘অর্কিড হাউস’। বাড়িটির নকশায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাব রয়েছে এবং এটি নির্মাণে এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল। প্রায় ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের মূল বাড়িতে সিনেমা দেখার কক্ষ, জিম, শিল্পচর্চার জায়গা, সংগীতের জন্য কক্ষ, স্পা ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ওয়াইন সেলারসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। ব্রসনান দম্পতি এর আগেও এই সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িটি একসময় মাসে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে ভাড়ার জন্যও দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার তারা মালিবুর বাড়ি ছেড়ে হাওয়াইয়ের কাউয়াই দ্বীপে থাকা তাদের অন্য বাড়িতে আরও বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। মালিবুর প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও ব্রসনান এখন মনে করছেন, আগুন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বাড়িটির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ফলে ২৬ বছর পর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিলাসবহুল বাড়ি থেকে তার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট
দীর্ঘদিনের মা হওয়ার স্বপ্ন এবার পূরণ হলো মার্কিন পপ তারকা লেডি গাগার। ৪০ বছর বয়সী এই গায়িকা ও তার বাগদত্তা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল পোলানস্কি তাদের প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। তবে সন্তানের নাম, লিঙ্গ বা জন্মের সঠিক তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় পোলানস্কির সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় গাগাকে। এ সময় তার বুকে নবজাতককে জড়িয়ে রাখতে দেখা যায়। এটিই মা হওয়ার পর গাগার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি বলে জানিয়েছে পেজ সিক্স। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার কথা গাগা বহু বছর ধরেই প্রকাশ্যে বলে আসছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিফেন কোলবার্টের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়াই তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা এবং মাতৃত্বকে তিনি নিজের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখতে চান। ২০২৫ সালের মার্চে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও গাগা জানিয়েছিলেন, মা হওয়ার বিষয়ে তিনি খুবই আগ্রহী। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সন্তানদের নিজেদের পরিচয় ও পছন্দ নিজেরাই আবিষ্কার করার সুযোগ দিতে চান বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। গাগা ও পোলানস্কির সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। ২০২৪ সালের মার্চে তাদের বাগদান হয়, যদিও বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই আড়ালে রাখা এই দম্পতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কম জনসমক্ষে এসেছেন। এবার সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তব হলো। সংগীত ও অভিনয়ের ব্যস্ত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন লেডি গাগা, এবার একজন মা হিসেবে।
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। পরিচালক রাজকুমার হিরানি জানিয়েছেন, সিনেমাটির গল্প ও স্ক্রিপ্ট এখনো লেখা হচ্ছে এবং এটি মূল ছবির প্রায় ২০ বছর পরের সময়কে কেন্দ্র করে তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মূল তিন চরিত্র র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর চরিত্রে আমির খান, আর মাধবন ও শারমান যোশীকে নিয়েই গল্প এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ পরিচালনা করেছিলেন রাজকুমার হিরানি। আমির খান, আর মাধবন ও শারমান যোশীর অভিনীত র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজু চরিত্র তিনটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমাটিতে শিক্ষাব্যবস্থা, ক্যারিয়ার, বন্ধুত্ব ও নিজের পছন্দের পথে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় উঠে এসেছিল। সিক্যুয়েল প্রসঙ্গে হিরানি জানিয়েছেন, নতুন সিনেমাটি কলেজজীবনের গল্প নিয়ে নয়। বরং দুই দশক পর চরিত্রগুলোর জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটিই হবে গল্পের মূল বিষয়। অর্থাৎ র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুকে এবার দেখা যাবে তাদের পেশাগত ও পারিবারিক জীবনের নতুন বাস্তবতায়। পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, গল্পটি শুরু থেকেই ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে লেখা হচ্ছিল না। অন্য একটি গল্প নিয়ে কাজ করার সময় হিরানি ও তাঁর লেখক সহযোগী অভিজাত জোশির মনে হয়, সেই গল্পটি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চরিত্রগুলোর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে। সেখান থেকেই সিক্যুয়েলের ধারণাটি তৈরি হয়। তবে সিনেমাটির কাজ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। হিরানি জানিয়েছেন, স্ক্রিপ্ট পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটি নিয়ে এগোতে চান না। গল্পটি যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেই সিক্যুয়েলটি নির্মাণের দিকে যাওয়া হবে। এর আগে আমির খানও জানিয়েছিলেন, তিনি সিক্যুয়েলের প্রাথমিক গল্প শুনেছেন এবং সেটি তাঁর পছন্দ হয়েছে। তবে স্ক্রিপ্টে আরও কাজ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। হিরানি আরও জানিয়েছেন, ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এ নতুন কোনো ‘চতুর্থ ইডিয়ট’ যোগ করার পরিকল্পনা নেই। মূল তিন বন্ধুকেই কেন্দ্র করে গল্প এগোবে। ফলে দুই দশক পর র্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিই এখন সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহের মূল বিষয়।
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনা রদ্রিগেজের হাতে দেখা গেছে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের বিরল একটি বার্কিন ব্যাগ। ৩ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে যাওয়ার সময় তার হাতে ছিল হার্মেসের কুমিরের চামড়ায় তৈরি হিমালয়া বার্কিন ২৫। বিরল এই ব্যাগটি ঘিরে তার সাজসজ্জার পাশাপাশি এর বিপুল মূল্যও আলোচনায় এসেছে। ৩২ বছর বয়সী জর্জিনা এদিন বাদামি রঙের সাটিনের শার্ট ও সাদা ঢিলেঢালা জিনস পরেছিলেন। শার্টের কয়েকটি বোতাম খোলা ছিল, যার মধ্য দিয়ে তার পরনের লেসের অন্তর্বাসও দেখা যাচ্ছিল। পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন হালকা রঙের উঁচু হিলের জুতা ও কালো রোদচশমা। সাজ সম্পূর্ণ করতে ছিল তারকা আকৃতির গয়না, বড় গোলাপি সোনার ঘড়ি এবং হাতে সেই বিরল বার্কিন ব্যাগ। হার্মেসের হিমালয়া সিরিজের ব্যাগগুলো প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বিরল ও আকাঙ্ক্ষিত নকশার মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। কুমিরের চামড়া ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা হয় এবং ব্যাগের স্বতন্ত্র ধূসর-সাদা রঙের ধাপ তৈরি করতে হাতে রং করা হয়। জর্জিনার হাতে থাকা হিমালয়া বার্কিন ২৫-এর পুনর্বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই একই ধরনের ব্যাগের মালিক তারকা কিম কার্দাশিয়ানও। তার ব্যাগটিতে হীরাখচিত সোনার ধাতব অংশ রয়েছে, যার কারণে সেটির মূল্য আরও বেশি। কাইলি জেনারও একই ধরনের হিমালয়া কেলি ব্যাগ ব্যবহার করেন, যেটিতেও একই ধরনের বিশেষ অলংকরণ রয়েছে। হীরাখচিত হিমালয়া ব্যাগের মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জর্জিনার ভেনিস সফরের এই উপস্থিতি আসে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোনালদোর সঙ্গে বিয়ের পরপরই। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্জিনা ২৫০ ক্যারেটের চোপার্ড হীরা পরেছিলেন। তার বিয়ের গয়নার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের গয়নার মধ্যে ছিল গার্ডেন অব কালাহারি নেকলেস। এই নেকলেসে ছিল ৫০ ক্যারেটের একটি উজ্জ্বল হীরা এবং আরও ১৪৬ ক্যারেটের ছোট ছোট পাথর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত মেট গালায় একই নেকলেস পরেছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বিয়ন্সে। ওই অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্জিনাও। এ ছাড়া বিয়ের সাজে জর্জিনা ২৫ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির একটি হীরা এবং ২৬ ক্যারেটের হৃদয় আকৃতির একটি পাথর কানের দুল হিসেবে পরেছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর রোনালদো ও জর্জিনা পর্তুগালে একটি বেসামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্তও জর্জিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাদের দুজনের হাত পাশাপাশি রাখা অবস্থায় দেখা যায় এবং হাতে ছিল সোনার বিয়ের আংটি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের পরপরই ভেনিসে জর্জিনার এই উপস্থিতিতে আবারও তার পোশাক, গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রী আলোচনায় এসেছে।
‘সারভাইভার গ্রিস’ রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী স্তাভরোস ফ্লোরোস শুটিংয়ের বিরতিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানোর পর অনুষ্ঠানটির প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সাওনা দ্বীপের কাছে সমুদ্রে মাছ শিকার করার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা তার শরীরে আঘাত করে। এতে তার বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে মামলায় দাবি করেছেন তিনি। দুর্ঘটনাটি ঘটে শুটিংয়ের বিরতির সময়। ফ্লোরোস তখন সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলেন। তার দাবি, প্রতিযোগীদের মাছ শিকারে অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছিল এবং যে এলাকায় তারা মাছ শিকার করতেন, সেখানে পর্যটকবাহী নৌকার চলাচল ছিল বেশি। তার অভিযোগ, এই ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজকেরা জানতেন। এরপরও প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ফ্লোরোসের অভিযোগ, মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ওই সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নৌকা, সুরক্ষিত এলাকা কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্নের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি আরও দাবি করেছেন, ওই জলসীমায় এর আগেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। এসব বিষয় জানা থাকা সত্ত্বেও প্রযোজকেরা প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় একটি পর্যটকবাহী নৌকার পাখা ফ্লোরোসের শরীরে আঘাত করে। তার মামলার নথি অনুযায়ী, এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমুদ্রে পড়ে যাওয়া পাটি পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। দুর্ঘটনার পর একটি পর্যটকবাহী নৌকায় থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেন। ফ্লোরোসের দাবি, ওই ব্যক্তি টুর্নিকেট প্রয়োগ না করলে তিনি বেঁচে থাকতে নাও পারতেন। দুর্ঘটনার পর ফ্লোরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মিয়ামির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। দুর্ঘটনার পর মোট ৬১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ফ্লোরোসের মামলায় আরও বলা হয়েছে, মাছ শিকারকে অনুষ্ঠানটির প্রতিযোগীদের জীবনের একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। সে কারণে প্রতিযোগীদের এমন উন্মুক্ত জলসীমায় যেতে হতো, যেখানে পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল ছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগীদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল নির্ধারণ, নিরাপত্তা নৌকা রাখা কিংবা নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফ্লোরোসের দাবি, দুর্ঘটনার আগে ওই জলসীমায় নৌযানের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। তারপরও তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। মামলায় তিনি এই নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং এর জন্য প্রযোজকদের দায়ী করেছেন। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আকুনমেদিয়া দুর্ঘটনার পর ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নয়, বরং প্রতিযোগিতার বাইরে মাছ শিকার করার সময় ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পর্যটকবাহী নৌকা মাছ শিকাররত অবস্থায় ফ্লোরোসকে আঘাত করে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই আহত প্রতিযোগীকে সহায়তা করা এবং নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর অনুষ্ঠানটির চলতি মৌসুমের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরোস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন। গ্রিসে ফিরে আসার পরও তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন আপডেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাকে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দেখা গেছে। ফ্লোরোস এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মামলায় তিনি দুর্ঘটনার কারণে নিজের পা হারানো, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও করেছেন। তবে ফ্লোরোসের করা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে। ফলে মামলাটিতে প্রযোজকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার দায় নিয়ে ফ্লোরোসের অভিযোগগুলো এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই হবে।
বলিউডের ব্যস্ত শুটিং জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে এবার কৃষিকাজে মন দিয়েছেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। নিজের কেনা নতুন খেতে নেমে ধান রোপণ ও মাটি খোঁড়ার কাজ করতে দেখা গেছে তাকে। ৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশের পর নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি খামার কেনার খবর জানিয়েছিলেন বরুণ। সেই সময় তিনি জায়গাটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেছিলেন। খামারে বসে চা-বিস্কুট খাওয়ার মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন তিনি। এর কয়েক সপ্তাহ পর এবার খামারে সরাসরি কৃষিকাজে নেমেছেন এই অভিনেতা। প্রকাশিত ছবিতে সাদা পোশাকে হাতে কৃষিকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তাকে ধানখেতে কাজ করতে দেখা যায়। কোথাও মাটিতে নেমে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কোথাও ধান রোপণে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ছবিগুলোর সঙ্গে বরুণ লিখেছেন, ‘খেতি শুরু’, অর্থাৎ চাষাবাদ শুরু। বরুণের এই নতুন ব্যস্ততা তার স্বাভাবিক চলচ্চিত্রজীবনের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও খামারজীবনের প্রতি আগ্রহের এই দিকটি এবারই প্রথম এতটা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। বরুণ ধাওয়ানকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘হাই জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ সিনেমায়। এর আগে ‘বর্ডার ২’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নতুন খামার ও সেখানে কৃষিকাজের ছবি দিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনায় রয়েছেন এই অভিনেতা।
ভারতীয় র্যাপার ও গায়ক বাদশাহ এবং পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিবৃতিতে বাদশাহ ও ইশা বলেন, তারা দুজনেই নিজেদের আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে এই সময় তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানান তারা। সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন দুজন। ২০২১ সালে একটি পার্টিতে পারস্পরিক বন্ধুদের মাধ্যমে বাদশাহ ও ইশার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তাদের। কয়েক বছর সম্পর্কের বিষয়টি আড়ালে রাখার পর চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের খবরও শুরুতে প্রকাশ্যে আনেননি দুজন। পরে ইশার মা পুনম রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কিছু ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ইশা নিজেও ইনস্টাগ্রামের ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে বিয়ের কথা নিশ্চিত করেন। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। জুলাই থেকে দাম্পত্যে টানাপোড়েনের গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। যদিও তখন এ বিষয়ে বাদশাহ বা ইশার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ আগস্ট দুজনের যৌথ বিবৃতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। বাদশাহর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে ২০১২ সালে জেসমিন মাসিহকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ২০২০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে বাদশাহ ও ইশা কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। বরং যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য না করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনুমান বা জল্পনা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন।
চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ৬০ বছর বয়সী এক কৃষক সাপের কামড়ের পর প্রাণ বাঁচাতে নিজের তর্জনী কেটে ফেলেছিলেন। স্থানীয়ভাবে ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ নামে পরিচিত একটি সাপ তাঁকে কামড়েছে মনে করে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকেরা জানান, এতটা চরম পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ঘটনাটি ২০১৯ সালের অক্টোবরের, যা সে সময় চীনা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। ঝেজিয়াংয়ের শাংইউ এলাকায় পাহাড়ি অঞ্চলে কাঠ কাটার সময় ওই কৃষকের আঙুলে সাপটি কামড় দেয়। সাপটিকে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তি মাত্র কয়েক পা হাঁটতেই মারা যেতে পারেন। সেই ভয় থেকেই বিষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তিনি নিজেই ছুরি দিয়ে তর্জনীর একটি অংশ কেটে ফেলেন। এরপর হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে তিনি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের হাংঝোউ হাসপাতালে যান। তবে কেটে ফেলা আঙুলটি ঘটনাস্থলেই ফেলে আসায় সেটি পুনরায় জোড়া লাগানোর সুযোগও নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতালে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তাঁর রক্ত জমাট বাঁধার কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং গুরুতর বিষক্রিয়ার লক্ষণও দেখা যায়নি। চিকিৎসকেরা জানান, স্থানীয়ভাবে ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ নামে পরিচিত সাপটি বিষধর হলেও এর বিষক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত ধারণা বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলেন, সাপের কামড়ের পর নিজের শরীরের কোনো অংশ কেটে ফেলা, পোড়ানো বা শক্ত করে বেঁধে ফেলা নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। চীনের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চিকিৎসা নির্দেশিকাতেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্ত অঙ্গ স্থির রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সাপের কামড়ের পর আতঙ্কে নিজে কোনো অস্ত্রোপচার বা ঘরোয়া চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সাপটি বিষধর কি না নিশ্চিত না হলে সেটি নিজে শনাক্ত করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ব্রিটিশ গায়ক ও সংগীত প্রযোজক হ্যারি ট্যাপ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অনুসারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।” ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর হ্যারি ট্যাপ তার প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও ইতিবাচক বার্তা পাঠানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এতটা সমর্থন পাবেন বলে তিনি আশা করেননি। তবে ইসলাম গ্রহণের পেছনের ব্যক্তিগত কারণ বা তার আধ্যাত্মিক যাত্রার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না এই সংগীতশিল্পী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হয়তো নিজের ইসলাম গ্রহণের গল্প বিস্তারিতভাবে শেয়ার করবেন। আপাতত বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতেই চান তিনি। তার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা আসে। হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের খবরটি পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আলোচনায় আসে। হ্যারি ট্যাপের পরিচিতি মূলত সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক হিসেবে। তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনি নিজেই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের যাত্রা সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য তিনি এখনো প্রকাশ করেননি।
মিশিগানের মিস ইউএসএ ২০২৬ অ্যাম্বার উহলার মাত্র পাঁচ বছর আগেও প্রায় ৩০০ পাউন্ড ওজনের ছিলেন। তিন সন্তানের মা উহলারকে তখন এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকলে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ১৭০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন তিনি। এখন ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উহলার জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বড় ধরনের সতর্কবার্তা পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে স্থূলতা ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কথা জানান এবং সন্তানদের হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পর সন্তানদের সঙ্গে একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে গিয়ে আরও একটি ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফোমের একটি গর্তে লাফ দেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি নিজে বের হতে পারছিলেন না। তিনজন শক্তিশালী ব্যক্তি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে ডাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। উহলার বলেন, ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জীবনযাপন যেমন কঠিন, তেমনি ওজন কমানোর পথও কঠিন। এরপর তিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করেন - সুস্থ হয়ে একদিন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তবে শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল না ১৭০ পাউন্ড ওজন কমানো। বরং তিনি সুস্থ জীবনযাপন শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামের পর ২০২৪ সালে তিনি মিসেস ফ্লোরিডা ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। পরে ফ্লোরিডার প্রতিনিধিত্ব করে মিসেস ইউনিভার্স ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিসেস ইউনিভার্স খেতাবও অর্জন করেন। তবে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ওপেন কাস্টিং কলের মাধ্যমে তাকে মিস মিশিগান ইউএসএ ২০২৬ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২৭ আগস্ট মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী উহলার এবার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক অংশগ্রহণকারী। শুরুতে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বিশের কোঠায় থাকা তরুণ প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভব করবেন। কিন্তু মিয়ামিতে এসে তার অভিজ্ঞতা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উহলার জানান, অন্য প্রতিযোগীরা তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করছেন। এমনকি তরুণ প্রতিযোগীরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ফলে নিজের বয়সকে এখন তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বয়সের সঙ্গে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ওজন কমানোর যাত্রা তাকে আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মিস ইউএসএ এখন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়; একজন প্রতিযোগী সমাজ ও মানুষের জন্য কী নিয়ে আসতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উহলারের কাছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার স্বপ্ন পূরণ নয়। তার নিজের ভাষায়, এটি তার জীবনের নতুন অধ্যায়। যে নারী কয়েক বছর আগে নিজের স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন দেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে চান।
হলিউডে পরিচিতি পাওয়ার বহু আগের কথা। অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন মার্ক রাফালো। বয়স তখন প্রায় ৩০, অভিনয়ে বড় সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেতা একটি গ্যারেজকে বাসস্থানে রূপান্তর করে সেখানে থাকতেন। স্থায়ী আয় বা আর্থিক নিশ্চয়তা কোনোটিই ছিল না। এমন অবস্থায় তার মনে ভয় ছিল, স্ত্রী হয়তো একদিন তাকে ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছিল ঠিক উল্টো। মার্ক রাফালোর প্রতিভার ওপর আস্থা রেখেছিলেন তার স্ত্রী সানরাইজ কইগনি। ২০০০ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর রাফালোর অভিনয়জীবন যখন ধীরে ধীরে গতি পেতে শুরু করেছে, তখনই তাদের জীবনে আসে আরও বড় এক পরীক্ষা। রাফালো জানতে পারেন, তার মস্তিষ্কে একটি টিউমার রয়েছে। রাফালো ২০২৪ সালে ‘স্মার্টলেস’ পডকাস্টে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, ৩৩ বছর বয়সে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখার পর তিনি চিকিৎসকের কাছে যান। স্বপ্নে তিনি যেন নিশ্চিতভাবেই জানতে পেরেছিলেন, তার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে। বাস্তবে অবশ্য তখন তার বড় কোনো উপসর্গ ছিল না, শুধু কানে সংক্রমণ হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে করা পরীক্ষায় বাম কানের পেছনে গলফ বলের মতো বড় একটি অংশ দেখা যায়। পরে পরীক্ষায় সেটি মস্তিষ্কের একটি নিরীহ টিউমার, অর্থাৎ ভেস্টিবুলার শোয়ানোমা হিসেবে শনাক্ত হয়। তখন রাফালোর স্ত্রী সানরাইজ তাদের প্রথম সন্তানকে জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি প্রায় সাড়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্ত্রীকে বাড়তি দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাননি রাফালো। তাই টিউমারের কথা সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানাননি। সন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পর, চিকিৎসকের সঙ্গে পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে আলোচনার আগের রাতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান তিনি। খবরটি শুনে সানরাইজ প্রথমে ভেবেছিলেন রাফালো হয়তো মজা করছেন। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি কেঁদে ফেলেন। রাফালোর ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, তিনি সবসময়ই ভাবতেন রাফালো হয়তো অল্প বয়সে মারা যাবেন। এরপর শুরু হয় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। টিউমারটি নিরীহ হলেও সেটি অপসারণের জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। রাফালো পরে জানান, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং এক কানের শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি ছিল। অস্ত্রোপচারের পর আশঙ্কার একটি দিক সত্যি হয়। রাফালো বাম কানের শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারান। একই সঙ্গে মুখের বাম পাশে সাময়িক পক্ষাঘাত দেখা দেয়। এমনকি কিছু সময় তিনি চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারতেন না এবং কথা বলার সময় মুখের এক পাশ ঠিকভাবে নড়ত না। মুখের পক্ষাঘাত অবশ্য ধীরে ধীরে সেরে যায়। প্রায় এক বছর পর সেই সমস্যা অনেকটাই কেটে যায়। তবে বাম কানের শ্রবণশক্তি আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘ পুনর্বাসনের কারণে অভিনয় থেকেও বেশ কিছু সময় দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। এই কঠিন সময়েও রাফালোর পাশে ছিলেন সানরাইজ। পরে এক সাক্ষাৎকারে রাফালো জানান, অসুস্থতার সময় তার স্ত্রী ছিলেন অসাধারণ একজন সঙ্গী এবং দুজন মিলে কঠিন সময়টি পার করেছেন। অসুস্থতা কাটিয়ে রাফালো আবার অভিনয়ে ফেরেন। এরপর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় সাফল্য। ‘দ্য কিডস আর অল রাইট’, ‘ফক্সক্যাচার’ ও ‘স্পটলাইট’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিকবার অস্কারের মনোনয়ন পান। মার্ভেলের ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজে ব্রুস ব্যানার বা হাল্ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হলিউড ওয়াক অব ফেমে মার্ক রাফালোকে তারকা দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী সানরাইজ কইগনি এবং সন্তানদেরও দেখা যায়। রাফালো ও সানরাইজের দাম্পত্য জীবনও দীর্ঘ হয়েছে। ২০০০ সালে বিয়ের পর তাদের তিন সন্তান, ছেলে কিন এবং দুই মেয়ে বেলা ও ওডেট। আর্থিক অনিশ্চয়তার সেই শুরুর দিন থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের টিউমারের কঠিন সময়, এরপর আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি, দীর্ঘ এই পথচলায় সানরাইজ ছিলেন রাফালোর পাশে। রাফালোর জীবনের এই অধ্যায় তাই শুধু একজন অভিনেতার অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে আসার গল্প নয়। বরং তার ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার আগের অনিশ্চিত সময় থেকে শুরু করে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে থাকা একজন জীবনসঙ্গীর গল্পও। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
হলিউডের অ্যাকশন তারকা জ্যাকি চ্যান বড় হয়েছেন সাধারণ এক পরিবারে। অন্তত তিনি দীর্ঘদিন তাই বিশ্বাস করতেন। কিন্তু ৪০-এর কোঠায় পৌঁছে বাবার কাছ থেকে জানতে পারেন, তার পরিবারের অতীত মোটেও সাধারণ ছিল না। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাবা চার্লস চ্যান একদিন ছেলেকে জানান, তার নিজের জীবনে রয়েছে এক গোপন অধ্যায়। চীনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন কুওমিনতাং সরকারের হয়ে গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছিলেন। কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় আসার পর তিনি হংকংয়ে পালিয়ে যান। শুধু বাবার অতীতই নয়, মায়ের জীবন নিয়েও বড় ধাক্কা পান জ্যাকি। তার মা লি-লি সাংহাইয়ে আফিম পাচার ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পারিবারিক ইতিহাসে উঠে এসেছে। প্রথম স্বামী জাপানি বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে একাই জীবন চালিয়েছিলেন। পরে চার্লসের সঙ্গে তার পরিচয় হয় সাংহাইয়ে, যখন চার্লস তাকে আফিম পাচারের ঘটনায় আটক করেছিলেন বলে তথ্যচিত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। আরও একটি বিস্ময় অপেক্ষা করছিল জ্যাকির জন্য। তিনি জানতে পারেন, ‘চ্যান’ তাদের প্রকৃত পারিবারিক পদবি নয়। তার বাবার আসল পদবি ছিল ফং। পারিবারিক নথি অনুযায়ী জ্যাকির চীনা নামও ফং শি-লং নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পারিবারিক রহস্য জানার পর জ্যাকি চ্যান বিষয়টি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মেবল চিয়াং পরিচালিত ২০০৩ সালের ‘ট্রেসেস অব আ ড্রাগন: জ্যাকি চ্যান অ্যান্ড হিজ লস্ট ফ্যামিলি’তে তার বাবা-মায়ের অতীত, চীনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবারের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় আরও জানা যায়, জ্যাকির বাবা-মায়ের আগের সংসারে তার আরও দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দেশত্যাগের কারণে পরিবারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু বছর পর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টাও করা হয়। জ্যাকি পরে জানিয়েছেন, বাবার মুখে এসব কথা শোনার পর তিনি ভীষণভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন। যে বাবা-মাকে তিনি সাধারণ মানুষ হিসেবেই চিনতেন, তাদের জীবনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল যুদ্ধ, গোয়েন্দা কার্যক্রম, পাচার, বিচ্ছেদ ও দেশত্যাগের এক জটিল ইতিহাস। জ্যাকি চ্যানের নিজের জীবনের মতোই তার পরিবারের অতীতও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে এক অবিশ্বাস্য গল্প, যার অনেকটাই তিনি জীবনের চার দশক পার হওয়ার পর জানতে পেরেছিলেন।
বলিউডের পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে এক বছরে তিনি যে পরিমাণ আয় করেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরেও এত অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। ২০২৪ সালে শুরু করা তাঁর রান্না ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ভ্লগ এখন শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, বড় আয়ের উৎসও হয়ে উঠেছে। সোহা আলি খানের সঙ্গে এক সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় ফারাহ তাঁর ইউটিউব যাত্রা ও আয়ের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন সিনেমার কাজ শুরু হতে সময় লাগবে বুঝতে পেরে দলের পরামর্শে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন। খাবার নিয়ে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা থেকেই পরে তাঁর দীর্ঘদিনের কুক দিলীপকে ভিডিওতে যুক্ত করেন। দিলীপকে যুক্ত করার পরই বদলে যায় চ্যানেলের চিত্র। ফারাহর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা, রসিকতা ও রান্নার ভিডিও দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি দ্বিতীয় ভ্লগ প্রকাশের পরই ফারাহ ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন পান, যা ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ করার স্বীকৃতি। ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো সৃজনশীল স্বাধীনতা। সিনেমা, টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মতো এখানে কোনো প্রডাকশন হাউস বা চ্যানেলকে কনটেন্টের ধরন কিংবা অতিথি বাছাই নিয়ে নির্দেশনা দিতে হয় না। নিজের চ্যানেলে নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন তিনি। এই স্বাধীনতার পাশাপাশি ইউটিউব তাঁকে আর্থিকভাবেও চমকে দিয়েছে। ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিল্মে বহু সিনেমা পরিচালনা করেও ক্যারিয়ারের কোনো এক বছরে তিনি ইউটিউব থেকে পাওয়া এক বছরের আয়ের মতো অর্থ উপার্জন করেননি। ফারাহর এই ডিজিটাল সাফল্যের সঙ্গে তাঁর কুক দিলীপের জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফারাহ জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি দিলীপের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করেছেন এবং তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছেন। রান্নার ভিডিও, তারকাদের সঙ্গে আড্ডা এবং দিলীপের সঙ্গে মজার কথোপকথন মিলিয়ে ফারাহ খানের ইউটিউব চ্যানেল এখন তাঁর ফিল্ম ক্যারিয়ারের বাইরে আলাদা একটি পরিচয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখের জন্যও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নতুন ধরনের সৃজনশীলতা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
হলিউড তারকা হেনরি ক্যাভিলের ভাতিজা থমাস ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের বলেছিল, তার চাচাই সুপারম্যান। কিন্তু বিষয়টি বিশ্বাস করেনি শিক্ষক ও সহপাঠীরা। বরং শিক্ষক তাকে মিথ্যা বলার জন্য বকাঝকা করেন। পরে থমাসের মা বিষয়টি নিশ্চিত করলে পুরো ঘটনা অন্য রূপ নেয়। ক্যাভিল নিজেই বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ক্যাভিল সুপারম্যান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর। পরিবার নিয়ে স্কুলের একটি আলোচনায় থমাস গর্ব করে জানায়, তার চাচা সুপারম্যান। তবে স্কুলে গল্প বানিয়ে বলার জন্য থমাসের সুনাম থাকায় শিক্ষক তার কথা বিশ্বাস করেননি। তাকে মিথ্যা না বলার জন্য সতর্ক করা হয় এবং বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়। স্কুল থেকে ছেলেকে নিতে গিয়ে থমাসের মা শিক্ষককে জানান, সে আসলে মিথ্যা বলছে না। তার চাচা সত্যিই হেনরি ক্যাভিল, যিনি পর্দায় সুপারম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যাভিলের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর থমাস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুঝিয়ে দেয় যে সে শুরু থেকেই সত্য কথাই বলছিল। ঘটনাটি পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে ঘিরে বিভ্রান্তিও রয়েছে। ছবিটি ক্যাভিলের ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হলেও, ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি ২০১৩ সালের পারিবারিক একটি ছবি এবং সেটিকে পরে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হয়েছে। হেনরি ক্যাভিল ২০১৩ সালে জে লেনোর অনুষ্ঠানেও ঘটনাটি বলেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড রায়ান’ অনুষ্ঠানে আবারও বিষয়টি তুলে ধরেন। ফলে গল্পটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং ক্যাভিলের নিজের বলা একটি পুরোনো পারিবারিক ঘটনা, যা সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ভাইরাল হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।