জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
ইংরেজি শিখতে উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিবদের থাইল্যান্ড পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য থাইল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অবস্থিত পাতায়া শহরের কাছাকাছি, যা পর্যটননির্ভর এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে।   তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো নিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের সময় এটি অনভিপ্রেত।   লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “রাজনীতি এবং আমলাতন্ত্রে শুদ্ধাচার ও সদিচ্ছা না থাকলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না।”   অপরদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যদি কোনো সচিব মনে করেন ইংরেজি শিখতে বিদেশে যেতে হবে, তাহলে তাদের সচিব হওয়ার যোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ। বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে ঘরে বসেই দক্ষতা অর্জন সম্ভব।”   সরকার প্রতি বছর কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে এই থাইল্যান্ড পাঠানো প্রকল্প নিয়ে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিয়াম ফাউন্ডেশন, যা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে, তারা সরাসরি ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা শুধু জানিয়েছেন, আগের প্রকল্প অনুমোদন কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে হয়নি, এবার পুনরায় অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটে উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবনা নিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল দ্রুত পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানালেও দীর্ঘ আলোচনার পর স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সদস্যরা একযোগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন।   ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতারা বলেন, সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান না থাকা দুঃখজনক। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।   সরকারপক্ষের সদস্যরা জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
জাতীয় সংশোধ অধিবেশনে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান । ছবি : সংগৃহীত
১৮ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মামলা হয়েছে

২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলা ছিল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।   বুধবার (১ মার্চ) সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে সংরক্ষিত নেই। শুধুমাত্র বিএনপির ক্ষেত্রে আমরা এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছি।”   আইনমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিট পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করবে কোন মামলাগুলো রাজনৈতিক হয়রানিমূলক।   এরপর ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ছয় সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ কমিটি জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই করে মামলার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর বাকিগুলোর প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
দক্ষিণ কোরিয়ায় কূটনৈতিক বৃন্দ
বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।   বুধবার (১ এপ্রিল) দেশটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আগ্রহের কথা জানান দক্ষিণ কোরিয়ার গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী লিম সাং উ। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর হতে পারে, যা বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে সিউল মনে করে।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৌফিক ইসলাম শাতিল, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গত পাঁচ দশকে অবকাঠামো, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরেন।   রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের নবনির্বাচিত সরকার সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।   বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ঢাকা। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় উভয় দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী
হরমুজ প্রণালীতে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের ৬ জাহাজ মুক্ত

দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ।  বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী। রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা ও তেহরান জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেও যুদ্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ইরানের অসন্তোষের কথা লুকাননি।  তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ইরানের ভাই। দুর্দিনে এক ভাই আরেক ভাইয়ের পাশে দাঁড়াবে—এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আমরা নিন্দারও প্রত্যাশা করি।" তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন। জলিল রহীমি জাহানাবাদী আমেরিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের উসকানিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার সময়েই এই আগ্রাসন শুরু করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, "আমেরিকা এখন পালানোর পথ খুঁজছে।"  সাধারণ জনগণের ওপর হামলা, স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বোমা বর্ষণকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মসজিদ কি উগ্রবাদের আখড়া? শিশুরা কি তাদের জন্য হুমকি ছিল?" ইরানি রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, তারা কোনো প্রতিবেশী দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছেন না, বরং আমেরিকান ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ইরানের প্রযুক্তি বা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়ে এখন পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছে, যাতে ইরান মোটেও ভীত নয়।  জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "জাতিসংঘ এখন শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিপদে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা বৃথা।"

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মিজানুর রহমান আজহারী
যে কারণে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পর এবার অস্ট্রেলিয়াতেও বাধার মুখে পড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের সরাসরি হস্তক্ষেপে আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল এবং তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান আজহারী সিডনি, মেলবোর্ন এবং পার্থসহ অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে আয়োজিত ইসলামি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পূর্বের কিছু বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডকে ‘উগ্রপন্থী’ ও ‘ঘৃণা ছড়ানোর সহায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টনি বার্ক আজহারীর ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার মনে করছে, তার উপস্থিতি দেশটির সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতীতে তার দেওয়া কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কিত মন্তব্যকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালেও যুক্তরাজ্যে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন আজহারী। সে সময় লন্ডনে তার একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তার ভিসা বাতিল করে দেয় এবং তাকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজহারীর ভক্ত ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বা তার টিমের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সভায় অংশ নিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন দেশে তার প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তাকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
কুষ্টিয়ায় ঠান্ডাজনিত উপসর্গে ৯৭ শিশু হাসপাতালে
কুষ্টিয়ায় ঠান্ডাজনিত উপসর্গে ৯৭ শিশু হাসপাতালে, ১৯ শিশুর হামের সন্দেহ

কুষ্টিয়ার জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ শিশু ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি ও কাশির জটিলতায় ভর্তি হয়েছেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ শিশু, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ৪২ শিশু এবং উপজেলা পর্যায়ে ১১ শিশু ভর্তি রয়েছেন।   হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তি শিশুদের মধ্যে ১৯ শিশুর শরীরে হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে। বাকি শিশুরা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, এখানে ৯ শিশুর শরীরে র‌্যাশ দেখা গেছে, যাদের হামের প্রাথমিক সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, চলতি বছর থেকে জেলার শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হাসপাতালে শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, তবে রি-এজেন্ট সংকট কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সিভিল সার্জন আশা প্রকাশ করেছেন যে শীঘ্রই এটি সমাধান করা হবে এবং হামের পরিস্থিতি সম্পর্কে দৈনিক আপডেট প্রদান করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতনের অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতনের অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ৭৬ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াহিদুজ্জামান নাঈমুলকে পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা তুহিন প্রধান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডের কাছে।   স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তুহিন প্রধানসহ প্রায় ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।   চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত মুক্তিযোদ্ধার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।   গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অভিযোগ দায়ের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   স্থানীয়দের মতে, তুহিন প্রধান পূর্বে ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং কলেজ শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের পরিবর্তনের পর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান।   বুধবার (১ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে নানা সংকটের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   জবাবে মার্কিন জ্বালানি সচিব জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।   এ সময় উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংগৃহীত ছবি
‘অন্তর্বর্তী সরকারের গোপন চুক্তির কারণে রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে’—ড. দেবপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে করা এক গোপন চুক্তির কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র-এর অনুমতি নিতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশ।   ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট এমন এক নীতিগত পরিবেশে তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকারের কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা সীমিত। তার ভাষায়, বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির কিছু ধারা—বিশেষ করে ‘নন-মার্কেট কান্ট্রি’ সম্পর্কিত বিধান—বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি কৌশলকে সংকুচিত করছে।   তিনি জানান, তুলনামূলক কম দামের উৎস থেকে তেল আমদানি, যেমন রাশিয়া, এখন আর সহজ নয়। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ছাড় প্রয়োজন হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারের অস্থির সময়ে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, জ্বালানি সংকট এখন দেশের রাজস্বনীতি, বৈদেশিক লেনদেন ও মুদ্রানীতিতে একযোগে চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর সংস্কার শর্তের মধ্যে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের শর্ত পূরণ এবং একই সঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।   জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং টাকার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়তে পারে।   তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ ওই অঞ্চল থেকেই আসে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে কঠিন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, রাজস্ব সুরক্ষায় জ্বালানি কর কাঠামো বজায় রাখা হবে, নাকি ভোক্তাদের চাপ কমাতে তা হ্রাস করা হবে—এই দ্বিধায় রয়েছে সরকার।   এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর প্রায় ৫৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রয়োগ করা হলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।   ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।   পরিশেষে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এমন নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে রাজস্ব শৃঙ্খলা, বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। অন্যথায় এই সংকট বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হামলা ও বিশৃঙ্খলা রোধে পেট্রোল পাম্পে কঠোর নিরাপত্তার দাবি মালিকদের

সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের লাঞ্ছনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ও পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাম্প কর্মীরা দিনরাত সেবা দিলেও বিভিন্ন স্থানে তারা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন, যা পাম্প পরিচালনার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ দফা প্রস্তাব: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে: ১. পাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেল সরবরাহ সমন্বয়। ৩. ক্রেতা বা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়ানো। ৪. পাম্পে সব ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন। ৫. পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ (পরীক্ষামূলক)। ৬. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ৭. ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৮. সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং অহেতুক দোষারোপ বন্ধ করা। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, যাতে পণ্যবাহী ও গণপরিবহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
‘কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করলেন না?’ সংসদে বিরোধী দলকে আন্দালিব পার্থের প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারের রূপরেখা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।   বিপ্লবী সরকার না করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে পার্থ প্রশ্ন করেন, “৫ আগস্টের পর আপনারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করলেন না? যদি নতুন করে সংবিধানই বানাতে হতো, তবে কেন পুরোনো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থাকলেন? এখন পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা খোদ সংবিধানটাকেই বাতিল করতে চাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি ভিত্তি নিয়ে।   জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে পার্থ বলেন, “আপনারা যদি শেষ ৬ বলে ১২ রান করে ম্যাচ জেতান, তবে মনে রাখবেন এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। অথচ এখন আপনারা জুলাইয়ের পুরো কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করছেন। এমন কোনো দাবি করবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রেজারি বেঞ্চে বসা প্রায় সবাই জুলাই যোদ্ধা ছিলেন এবং জেল খেটেছেন।   গণভোটের কারিগরি ত্রুটি গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, “গণভোটে আপনারা চারটি বিষয় যুক্ত করেছেন। কিন্তু কোনো ভোটার যদি তিনটি বিষয়ে একমত হয়ে একটিতে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তিনি কী করবেন? আপনারা তো ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করছেন। সনদের বাকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন গণভোটে আনা হলো না?”   সংবিধান ও জুলাই স্পিরিট বক্তব্যের শেষে ব্যারিস্টার পার্থ জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রতি যেমন আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে, তেমনি জুলাইয়ের মূল স্পিরিট বা চেতনাকেও সমুন্নত রাখতে হবে। জুলাই সনদ নিয়ে তাঁর কোনো বিরোধ নেই জানিয়ে তিনি মূলত পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী এপ্রিল মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম না বাড়িয়ে আগের অবস্থানেই রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত)’ আলোকে এপ্রিল মাসের জন্য তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যমান দামই বহাল থাকছে।   নতুন আদেশ অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যতালিকা নিচে দেওয়া হলো: ডিজেল: ১০০ টাকা (প্রতি লিটার) অকটেন: ১২০ টাকা (প্রতি লিটার) পেট্রোল: ১১৬ টাকা (প্রতি লিটার) কেরোসিন: ১১২ টাকা (প্রতি লিটার)   জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দ্রব্যমূল্যের কথা বিবেচনা করে সরকার আপাতত দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে রমজান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   উল্লেখ্য, প্রতি মাসে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে আসছে সরকার। তবে এপ্রিলে দাম স্থিতিশীল রাখার এই ঘোষণা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে গুজব ছড়িয়েছিল যে তেলের দাম বাড়তে পারে, যার ফলে অনেক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সরকারের এই স্পষ্ট ঘোষণার পর সেই অস্থিরতা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে? সিদ্ধান্ত জানাল সরকার

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।  আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ছে না। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুসরণ করে নতুন মাসের এই দর ঠিক করা হয়েছে। ফলে এপ্রিলে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২৬ টাকা, পেট্রোল ১২২ টাকা এবং কেরোসিন ১০৮ টাকা দরেই বিক্রি হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।  রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসান। ফাইল ছবি
হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসান পদত্যাগ করলেন

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান গুরুতর দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করেন।   এর আগে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।   অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় পক্ষপাতিত্ব করেছেন। একটি মামলায় সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকলেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। আরেকটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে কোনো পক্ষ না করেই তার মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়েছিল, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছিল।   আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের প্রারম্ভে বা চলাকালীন পদত্যাগ এমন গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উচ্চ আদালতের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সংগৃহীত ছবি
স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছে। সরকারের উদ্যোগে শিগগিরই স্কুলগুলোতে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান চালানোর বিষয়ে ভাবনা চলছে।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানান, এই বিষয়টি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষভাবে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।   শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করে, শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রায়শই পাবলিক পরীক্ষা পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে আয়োজন করে, যা জাতীয় পর্যায়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
উপবন এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
উপবন এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ভানুগাছ ও শমশেরনগর রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সাময়িকভাবে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।   মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল প্রায় ৬টার দিকে শমশেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির ইঞ্জিন থেকে তেল (মবিল) পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ইঞ্জিনজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনটি দ্রুত থামানো হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সিলেটগামী যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে, যা এসে ট্রেনটি সরিয়ে নেবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।   কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সময়সূচি বিপর্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
সাবেক এমপির স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা নিয়ে চাঞ্চল্য
স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত, সাবেক এমপির স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা নিয়ে চাঞ্চল্য

দিনাজপুরের হিলিতে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সিমু।   সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি দাম্পত্য জীবনের নানা সংকট ও মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরেন। পরে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্বজনরা রাত ৮টার দিকে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।   হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিমুকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েনের কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করতেন। তবে ওইদিন তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   এছাড়া জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই সময় থেকে খাদিজা হিলি শহরের সিপি রোড এলাকায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন তাদের বিয়ে হয়।   ফেসবুক পোস্টে খাদিজা নিজের দীর্ঘদিনের মানসিক কষ্ট, দাম্পত্য জীবনের নানা অভিযোগ এবং হতাশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বহু বছর ধরে চলা অবিচার ও মানসিক চাপ আর সহ্য করতে পারছিলেন না। একই সঙ্গে নিজের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সন্তানের জন্য দোয়া রেখে যান।   উল্লেখ্য, শিবলী সাদিক এর আগে ২০১১ সালে কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমাকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক দ্বন্দের জেরে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১৯ সালে খাদিজা মল্লিক সিমুর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারকে ৪৭ দেশের সমর্থন

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেওয়া ৪৭টি দেশ বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম খাতের সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেছে তারা। সোমবার (৩০ মার্চ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   জেনেভায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার ও অগ্রগতি নিয়ে নবম প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বর্তমান সরকারের গৃহীত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়েছে বলে জানানো হয়। আইএলওর ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি দেশ, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষ বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বানও জানায়।   এর আগে ২০১৯ সালে আইএলও কনভেনশনের কিছু ধারা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন একটি মামলা করে। সেই প্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে একাধিক অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনা হয়। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তারা জানান, সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।   বক্তারা আরও জানান, শ্রম আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ আইএলওর ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া আইন সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক গ্রুপ—যেমন আরব গ্রুপ, উপসাগরীয় দেশসমূহ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—বাংলাদেশের শ্রম খাতে অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ জানায়।   অধিবেশন শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী বছরের মার্চ মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নবনিযুক্ত ৪২ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন।   গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সঙ্গে এটি তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মব কালচার নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর ব্যবস্থা

দেশে কথিত ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনি এবং দাবির নামে রাস্তা অবরোধের মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর সতর্কবার্তা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে বা মব গঠন করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হলে সরকার তা দমনে কঠোরতম অবস্থানে যাবে।   অধিবেশনে রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক সময়ের মব সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তথ্য দেন যে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই ধরনের সহিংসতায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি নিজেও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া সড়ক অবরোধের প্রবণতা বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, প্রতিটি বিশৃঙ্খলাকে ঢালাওভাবে ‘মব’ বলা ঠিক নয়; অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুরকে সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্মারকলিপি প্রদান বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। তবে মব তৈরি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা অনিবার্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0