- প্রচ্ছদ
- জাতীয়
জাতীয়
জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এআই যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভা কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানুষের সৃজনশীলতা ও নিজস্ব চিন্তার সক্ষমতা বজায় রেখে জনকল্যাণে এবং পরিমিত মাত্রায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে কুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষার সুযোগ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনকে দেশের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এদিকে সাক্ষাৎকালে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং কুয়েটের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে একদিকে প্রযুক্তি ও এআই গবেষণাকে উৎসাহিত করার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে এর ব্যবহারে মানুষের নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি পর্যায়েও এআই ব্যবহারে সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগস্টে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও গোপনীয় সরকারি তথ্য অননুমোদিতভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। জাতীয় এআই নীতি ২০২৬–২০৩০-এর খসড়ায় দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক এআই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফরের আগের প্রকাশিত কর্মসূচিতে বিস্ট ফিলানথ্রোপি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, বায়ের ফাউন্ডেশন ও নর্থওয়েল হেলথসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণও রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিজের উচ্চশিক্ষার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মিলন বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকাকালে তিনি গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হলে নিজের হায়ার স্টাডিজের গবেষণার বিষয়টি তাকে দেখান। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তারেক রহমান বিষয়টি দেখে সেটিতে পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। মিলন বলেন, তার গবেষণার প্রাথমিক বিষয়টি ছিল উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রিক। কিন্তু তারেক রহমান বিষয়টি দেখে ‘হায়ার’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং’, সংক্ষেপে টিভিইটি, যুক্ত করে দেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এটিকে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তিনি তখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় গবেষণার বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়। এরপর বিষয়টি পরিবর্তনের পর তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে গবেষণাকে যুক্ত করেন বলে জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে শিক্ষার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের এই অংশে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উঠে আসে। মিলন আরও বলেন, বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যে ধরনের সংযোগ প্রয়োজন, তা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তার মতে, চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতেই চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। দেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা নিয়েও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা বিশ্বের অন্য দেশের মানুষের তুলনায় কম নয়। শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। নিজের শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ তুলে মিলন বলেন, তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরে বিদেশে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ করেন। সময় ও চাহিদার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই তিনি বিষয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। পরবর্তীতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬ প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বর্তমানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি বছর তিনি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং শিক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় যাত্রীভাড়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মালিকপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবহন মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক পয়সা বাড়ানোর একটি হিসাব তারা প্রস্তাব করেছেন। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি ভাড়া নয়, বরং মালিকপক্ষের প্রস্তাব। সরকার রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। দেশের বিপুলসংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ডিজেলচালিত হওয়ায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিকদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। মালিকপক্ষ বলছে, শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা। এদিকে নতুন সরকারি ভাড়া ঘোষণার আগেই কিছু পরিবহনে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোনো ভাড়ায় চললেও কিছু বাসে স্টপেজপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অনেক চালক ও পরিবহনকর্মী জানিয়েছেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন। পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। ফলে বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে চূড়ান্ত ভাড়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এখন বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া অনুমোদিত হলে কোন শ্রেণির বাসে কিলোমিটারপ্রতি কত টাকা দিতে হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিও সরকারি ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে। সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এর একদিন আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রম তৈরির কথা বলেন। প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর আহ্বানও জানান তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি আসন্ন সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাতে শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তাঁরা। সাক্ষাতের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম ওই স্মৃতিস্তম্ভে খচিত রয়েছে। মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিস্তম্ভটির রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন। রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গভবনের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। রাষ্ট্রপতি শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন। মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বহুল আলোচিত শহিদদের একজন। পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের স্মরণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ নিহতদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছিল। রোববারের সাক্ষাতে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে সাক্ষাতের এসব বিষয় জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা পাচ্ছে না। এ কারণে তরুণদের অর্জিত দক্ষতা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ডকে ছোট একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমন্বিত কাঠামোয় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের পাশাপাশি খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মান, সনদ এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে কাজ করতে চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিদ্যমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সহায়তা করবে। ফলে ৫ বিলিয়ন ডলার এখনই বিনিয়োগ হয়ে যাচ্ছে না, বরং এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য অ্যামচ্যামের নির্ধারিত লক্ষ্য। গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যামের নেতারা এই বিনিয়োগ লক্ষ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আনার জন্য সরকারের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বাধা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অ্যামচ্যামের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যমান সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মার্কিন কোম্পানিগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায় সংগঠনটি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটি সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া, একক জানালা ব্যবস্থা কার্যকর করা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার ব্যয় কমানো এবং মূলধন ও মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটির মতে, বিনিয়োগকারীরা বড় প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সরকারি সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও কাজ করছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত সরকারের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও অ্যামচ্যাম কাজ করছে। সংগঠনটি মনে করে, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পরিবর্তন আনা গেলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যাম আরও জানিয়েছিল, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রেখে নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি। সব মিলিয়ে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার বিষয়টি বর্তমানে একটি লক্ষ্য ও উদ্যোগ হিসেবে রয়েছে। অর্থাৎ এই অর্থ নিশ্চিতভাবে বিনিয়োগের ঘোষণা নয়; বরং অ্যামচ্যাম বিদ্যমান ও সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সরকারের সহযোগিতায় কাজ করতে চায়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গত ২৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেসব শিক্ষার্থী ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির প্রয়োজনীয়তার মুখে পড়েন, তাঁদের সেই জটিলতা কমাতেই এই ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে না। টিউশন ফি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা হিসেবে অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীকেই ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই ঋণ সুবিধা সেই আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী ও বিদেশগামী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণসেবা দিয়ে থাকে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২২ আগস্ট) দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি ভোট পড়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথ পড়ান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিবসহ দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক নেতার নতুন সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। মার্কিন দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বিশেষভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে সংসদ ভবনের দৃশ্যমান অবয়বে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সংসদ ভবন স্থাপত্যগত ও ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। এ কারণে কে এই স্থাপনার অনুমোদন দিয়েছেন, কোথায় কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হচ্ছে, এটি স্থায়ী নাকি সাময়িক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। কালিমা তাইয়্যেবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। এর অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপনের বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
দেশের মেয়েদের স্নাতক বা অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা পুরস্কার ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনেও তিনি একই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করে অনার্স পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়। তারেক রহমান বলেন, সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের যেভাবে উপবৃত্তি দেওয়া হয়, উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা মেয়েদেরও সেভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর আগে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নারীশিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও বেশ কিছু নতুন সুবিধা রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া স্কুলের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড ডে মিল কর্মসূচি চালুর কাজও করছে সরকার। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিতর্ক, কুইজ ও স্কাউটিংয়ের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে, কী ধরনের ফি সরকার বহন করবে এবং বৃত্তির জন্য ফলাফলের মানদণ্ড কী হবে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উচ্চমাধ্যমিকের পরও মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়বে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনে সমস্যায় থাকা পরিবারের মেয়েদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশই পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং দুই দেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠক দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পাশাপাশি সেনাপ্রধান ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া ইনস্টিটিউটের নতুন শাখাগুলোর ভিত্তিপ্রস্তরও উন্মোচন করেন। সেনাসদর জানিয়েছে, আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামি নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে দক্ষ, সৃজনশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেনাপ্রধান বলেন, ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যম এই প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীল সুনাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষা খাতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত এই ইনস্টিটিউট আধুনিক একাডেমিক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, ভাষা দক্ষতা এবং চরিত্র গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে এ শিক্ষাব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জামিনে মুক্তি পেলেও দেশটি ছাড়তে পারবেন না পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তার বিরুদ্ধে দেওয়া জামিন আদেশ বাতিল করে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সেই আদেশ বাতিলের জন্য সরকারের নিযুক্ত ল’ ফার্ম ইতোমধ্যে আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামিন বাতিল করা সম্ভব হবে এবং এরপর দ্রুত তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা যাবে। মন্ত্রী আরও জানান, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে জামিনে থাকলেও আদালতের শর্ত অনুযায়ী তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। ফলে দেশত্যাগে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং তিনি দুবাইয়ের বিচারিক কর্তৃপক্ষের নজরদারিতেই থাকবেন। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে জামিন আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও আইনি উভয় প্রক্রিয়াই অব্যাহত রেখেছে।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ফের কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন এবং ভূরাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক এই সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দেশ দুটি। সম্প্রতি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে মালে সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন তিনি। এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পৌঁছে দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ নীতি অনুসরণ করে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে দুই দেশের চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে তা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সার্ককে নতুন করে সচল করার তাগিদ দেন দুই নেতা। এছাড়া মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও পেশাজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এবং দেশটির অর্থনীতিতে তাদের অবদানের কথা স্বীকার করেন। উক্ত বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত প্রীতি চা-চক্র ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যমকে তিনি নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’ এর আগে বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও লেখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাতে স্বাক্ষর হয়নি। স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছিল। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই দেশে ফিরেই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার বিষয়ে স্পিকার সেখানে কথা বলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দেশে ফিরে আসেন তিনি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী আরেক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘স্যার দুদিন আগে জানিয়েছেন যে, ওরা আমাকে (রাষ্ট্রপতি) চলে যেতে বলেছেন। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো করে চলে যাও।’ ‘ওরা’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।
রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশদূষণকারী যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর পরিবেশ ও যান চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে ঢাকার সড়কে অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে হর্ন নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা করা হয়। বৈঠকে পরিবেশদূষণ কমানো, যানজট নিরসন এবং রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সরকার বলছে, রাজধানীর বায়ুদূষণ কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈশ্বিক তৈরি পোশাক (আরএমজি) বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ধীরগতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর নতুন বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছেন। একই সময়ে ভারত ও ভিয়েতনাম নতুন বাজার, বাণিজ্য চুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে এখন শুধু কম উৎপাদন ব্যয়ই যথেষ্ট নয়। দ্রুত পণ্য সরবরাহ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং অনুকূল বাণিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটি উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ভারত ও পোশাক ও বস্ত্র খাতে রপ্তানি বাড়াতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ভারত–যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। শিল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, এর মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে ভারতের পোশাক শিল্পও চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বল সমন্বয়ের কারণে ভারত প্রতিবছর অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৭০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য পোশাক রপ্তানি হারাচ্ছে। গবেষণাটি ইঙ্গিত করে, কেবল বাণিজ্য চুক্তি নয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতাও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য কমানোর চাপ লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা হারানোর বিষয়টিও রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখনও দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নতুন বাজারে প্রবেশের ওপর জোর দিতে হবে। ভারত, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশ—তিন দেশই বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি, ভোক্তা চাহিদা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উৎপাদন দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে কোন দেশ বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে আইন অনুযায়ী কারাগারে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শেখ হাসিনা সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য এলো। সোমবার (১৩ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা একজন দণ্ডিত আসামি। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে কারাগারে যেতে হবে এবং এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।” রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। গত সপ্তাহে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার দলের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা ওই অনুরোধ পর্যালোচনা করছে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ও আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।
তুরস্কের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জেলাটিতে নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই এই কারখানা স্থাপনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগটি দেশের সামরিক ও প্রযুক্তিগত খাতের উন্নয়নে এক বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে এই আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা নির্মাণ করা হবে। এই কারখানায় তৈরি ড্রোন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। উত্তরাঞ্চলের আকাশপথের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নেই। সেই অভাব পূরণে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এখন পুরোদমে চলছে। তিনি আরও জানান, কেবল বিমানবন্দরই নয়, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদনও এরমধ্যে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীর বহরে যেসব নতুন ও আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে, সেগুলো মূলত এই ঘাঁটিতেই রাখা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দরটি দেশের অন্যতম পুরোনো বিমানবন্দর। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অতীতে প্রকল্পটি আর এগোতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।