ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশের স্পিকারকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান সফর করবেন। ইরান কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাবে। আগামী ৪ জুলাই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি শুরু হবে। ওই দিন অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জানাজা। এরপর ৭ জুলাই রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ ৯ জুলাই আরেক দফা জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলার শুরুতেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি প্রাণ হারান। নিহতের আগে টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ভিত্তিহীন, একপেশে ও ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান প্রচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে অনলাইনভিত্তিক অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি 'মিডিয়া ওয়াচ' প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত অসংখ্য সংবাদ ও মতামতধর্মী লেখায় বিএনপি এবং দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, ষড়যন্ত্র, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা ও দল পরিচালনায় ব্যর্থতার মতো অভিযোগ নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ ও নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৮১টি প্রতিবেদন শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট। এর মধ্যে ৫২টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ২৮টি মতামতধর্মী লেখা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সংবাদের উল্লেখযোগ্য অংশে নির্ভরযোগ্য বা নাম প্রকাশিত কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি ছিল না। দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিএনপি, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায়। প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে সম্পাদকীয় অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন পেজে তারেক রহমানকে নিয়ে যে নেতিবাচক পোস্ট ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই অতীতে প্রকাশিত এসব সংবাদকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিবেদনগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মূলত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, লন্ডনে বিলাসী জীবন, ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতা, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিএনপির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ২৪.কমে প্রকাশিত একাধিক বিশেষ প্রতিবেদন ও কলামে এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা পরিচয়যুক্ত সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, বিএনপির নেতৃত্বের সংকট, দল পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনে একই ধরনের বয়ান অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এই 'মিডিয়া ওয়াচ'-এর উদ্দেশ্য ছিল ৫ আগস্টের আগে ও পরে একই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলকে ঘিরে সংবাদ পরিবেশনের ধরনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো কতটা তথ্যনির্ভর ছিল, তা পর্যালোচনা করা। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ২৪.কম কিংবা সংশ্লিষ্ট ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নানা ইতিবাচক অর্জন তুলে ধরেন। তিনি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন তাদের সর্বোচ্চ স্তরের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশই একমত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চেয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের এই সফরটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়েছে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কম থাকায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চুক্তি করার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট থাকায় চীনের সাথে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। বিগত দিনে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এই সফরের মাধ্যমে সেগুলোর বাস্তবায়ন এখন বড় আকারে সামনে এসেছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়েও চীন বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও কার্যকর সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও দুইবার বিএনপি সরকারের আমলেই রোহিঙ্গা সমস্যার সফল কূটনৈতিক সমাধান করা হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা বজায় রেখে এই সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে। এই সফরে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হূমায়ুন কবির জানান, সফরকালে বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল দুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক, সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করবে। চীন সরকার দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। একই সাথে তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিনিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদও অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, চীনা বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশে একটি পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন সিটি’ বা আধুনিক নগরী গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই বিনিয়োগ আলোচনাগুলো এগিয়ে চলছে। এই সফরের সফলতার ওপর ভিত্তি করে আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও শক্তিশালী পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বাড়ছে উদ্বেগ। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও চীন চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জমি আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে ২০২৫ সালে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। এর ফলে মোংলাকে ঘিরে চীনের বিনিয়োগ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বেইজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হারানোর বিষয় নয়, বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে। এদিকে তিস্তা নদী প্রকল্পও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা চান। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও বর্তমান সরকার অপেক্ষা না করে নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়। দ্য প্রিন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিস্তা প্রকল্প ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ এই নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি—যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হওয়ায় সেখানে চীনের যেকোনো সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও নদী ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন খাতে এসব চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা আগের বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের একটি বিকল্প রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার হতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে। আউটলুক ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগ মূলত অর্থনৈতিক নয়; বরং ভূগোল ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত। মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প এবং সম্ভাব্য লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তবে ভারতও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক সহায়তা গ্রহণ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ ২৬ জুন দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, খাদ্য উৎপাদন ধরে রাখা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা অব্যাহত রাখতে সরকারের সক্ষমতা জোরদার করা। বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে আমন ও বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে মানুষের জীবিকা রক্ষা এবং খাদ্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি সেবা সচল রাখতে সরকারকে সহায়তা দেওয়া হবে। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর জন্য। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। প্রকল্পটির আওতায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার প্রায় অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান চাষ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। এই অর্থ দ্রুত ছাড় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে ব্যয় করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই অর্থ ৩০ জুনের মধ্যেই ছাড় করা হবে। বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দ্রুত এই অর্থ ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় এই অর্থায়ন বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বেইজিং কখনও সরে আসবে না। তিনি বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে বলেও জানান। বৈঠকে দুই দেশ 'অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়' গঠনের ঘোষণা দেয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয়। শি জিনপিং বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় চীন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি চীনের উন্নয়নকে বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর অনুরোধও জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ 'এক চীন' নীতিতে অটল রয়েছে। তিনি বলেন, তাইওয়ানকে বাংলাদেশ চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা শুরু করতে চাইলে চীন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট—দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান। এই লক্ষ্যেই সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে চায়। মাহদী আমিন আরও জানান, চীন আশ্বাস দিয়েছে—বাংলাদেশ যখন প্রয়োজন মনে করবে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেবে, তখন তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। অতীতেও বাংলাদেশের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কিছু উদ্যোগ সফল হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেন, অতীতে সরকারের দুর্বলতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমাবদ্ধতার কারণে সংকটটি জটিল আকার ধারণ করেছে। তবে বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের পথে এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বাংলাদেশ নিজ উদ্যোগে আলোচনা শুরু করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে চীনকে পাশে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে সফল হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তায় একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায় এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। মাহদী আমিন জানান, বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অন্তত ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব চুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এসব সমঝোতা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সফরসূচির অংশ হিসেবে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।’ কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি এনেছে। আসন্ন এই বৈঠক সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পথ সুগম করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেপ্তারের একদিনের মধ্যেই যুবলীগের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিহত নুরুল আলম (৪৫) সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। কারা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। পরদিন বুধবার (২৪ জুন) সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। জেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, নুরুল আলমকে সুস্থ অবস্থায় আটক করা হয়েছিল এবং হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, হেফাজতে থাকা অবস্থায় কী ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন কারাগার ও থানায় অন্তত ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই চার মাসেই এ সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত—হেফাজতে নির্যাতন বা অস্বাভাবিক মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নুরুল আলমের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না হলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগার বা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন। বস্তুটির গায়ে লেখা ছিল ‘জয় বাংলা’। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মৎস্য কমিটির সদস্যদের জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে বোমাসদৃশ মনে হলেও সেটি কার্যকর বিস্ফোরক কিনা, তা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা দাবি করেন, বস্তুটির গায়ে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকায় এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতার অংশ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত শেষে বস্তুটির প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। এসময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, যিনিও একই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। সংবর্ধনা শেষে সেখান থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা সেখানেই অবস্থান করবেন। এর আগে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে যাত্রা করে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা গ্রীষ্মকালীন দাভোস সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালীন দাভোসে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও সেরা অনুশীলন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সফর শেষে গত সোমবার চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি এখন বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান পানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, পানি এখন শুধু একটি উন্নয়ন ইস্যু নয়, অনেক দেশের জন্য এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এশিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলি ওয়াটার কনসালটেটিভ বোর্ড (এএডব্লিউসি)-এর মহাসচিব হা সাং জে’র নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে স্পিকার উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—পানি সংকটের সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করছে। নদীভিত্তিক এই অঞ্চলে পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। হা সাং জে বৈশ্বিক পানি সংকট সমাধানে এএডব্লিউসি’র কার্যক্রমে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যদের এই প্ল্যাটফর্মের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি ২০২৬ সালে লাওসে অনুষ্ঠিতব্য সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। স্পিকার এএডব্লিউসি’র উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে সংস্থাটি একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে পানি সংকট সমাধানে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বস্ত করেন, পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংসদীয় উদ্যোগ জোরদারে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের এ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি সুপারিশ করবেন। এ সময় তিনি আরও জানান, লাওসে অনুষ্ঠিতব্য এএডব্লিউসি’র পরবর্তী বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ থাকবে। উল্লেখ্য, এএডব্লিউসি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তঃসংসদীয় প্ল্যাটফর্ম। পানি নিরাপত্তা, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণে সহযোগিতা বাড়াতে সংস্থাটি কাজ করে আসছে। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আটটিতে মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য সাবেক ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিককে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব নাম এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরার অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বাইরে আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনের জন্যও প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দলের নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনে মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মহানগর আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে দেশের বাকি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে দল আরও পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই অধিকাংশ সিটিতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জামায়াতও এখন সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে দলটি আগাম নির্বাচনী বার্তা দিতে চেয়েছে। এদিকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট সিটিগুলোতে দলীয় প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাঙামাটি শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাঙামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কবির রয়েছেন। এছাড়া আটক অন্যদের মধ্যে আছেন—মো. নুরুল হক (৫২), চম্পক দাশ (৫৪), মো. নিজাম উদ্দীন (৪২), মো. ইলিয়াছ (৩৫), মো. ইসমাইল (৫৯), মো. জসিম (৩৮), মো. নয়ন (১৯), মো. তারিকুল ইসলাম (৪৫), মো. রাসেল (৩৮), শাহাদত হোসেন (৩২), রাম প্রসাদ শীল (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), দুর্জয় কান্তি দে (২৬) এবং হাফিজুর রহমান (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের এই অভিযানের পর স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগরীসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার (২২ জুন) জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ এলাকা, পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা। এসব জায়গাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। গত সপ্তাহে ডিআইজি কামরুল আহসানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে সব ইউনিট প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও মিছিল করার চেষ্টা করতে পারেন। প্রজ্ঞাপনে আরও সতর্ক করে বলা হয়, এসব কর্মসূচি ঘিরে অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষ, বিশেষ করে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, যা সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কার্যক্রমে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
শেনজেনভুক্ত কোনো দেশের ভিসাধারীদের উদ্দেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থান করলে ভবিষ্যতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ঢাকায় অবস্থিত শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাস থেকে এক বার্তায় এ সতর্কতা জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শেনজেনভুক্ত কোনো দেশে অবস্থান করা হলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এতে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা প্রত্যাখ্যান এড়াতে ভিসাধারীদের অবশ্যই ভিসার শর্ত ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ঢাকায় অবস্থিত শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাসগুলো নিয়মিতভাবে ভিসা নীতি, ভ্রমণ শর্ত ও অভিবাসন নিয়ম সংক্রান্ত বিভিন্ন সতর্কবার্তা প্রকাশ করে থাকে।
মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার তিনি মালয়েশিয়া ত্যাগ করেন। এর আগে রোববার রাতে তিনি ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি পরবর্তী গন্তব্য চীনের উদ্দেশে রওনা হন। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সফরকালে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ১০ জনসহ মোট ২৩ জন সদস্য ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দুই নেতা একান্ত বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন এবং শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। বাসস ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (স্থানীয় সময়) সকাল সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রায় রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। সকাল ৯টায় তারা পৌঁছান পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্রা ভবনে। সেখানে তাদের স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে লালগালিচায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সফরসঙ্গীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি। পরে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পেরদানা পুত্রা ভবনের পঞ্চম তলায় দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের পর শুরু হয় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলগুলোর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায় বলে আগে থেকেই জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রসচিব। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সাংস্কৃতিক আয়োজনও রাখা হয়েছে, যেখানে মালয় ও বাংলা ভাষায় সংগীত পরিবেশন করবেন দেশটির শিল্পীরা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ার প্রধান সড়কজুড়ে দুই দেশের জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়, যা সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। এর আগে রোববার রাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানেও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য সচিব সারওয়ার হোসেন বাবু। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, “কুমিল্লা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আপা আজ রাত ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।” একই সঙ্গে তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সেলিমা আহমাদ মেরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকায় তিনি একজন সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রেখেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেছেন। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার সাম্প্রতিক উদ্যোগ বা অন্য কোনো বিষয়কে যুক্ত করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোনো ব্যক্তিই কোনো জায়গায় ‘অপরিহার্য’ নন। তাছাড়া এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং শিগগিরই তাকে নতুন কোনো পদে পদায়ন করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। রোববার (২১ জুন) সরকারের এক প্রশাসনিক আদেশে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে রোববার মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনে তাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হলেও, কেন তাকে ডিসির পদ থেকে সরানো হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং বিভিন্ন গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। সারওয়ার আলমের এই আকস্মিক বদলি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, বদলি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কোনো কারণ নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। একজন কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবেন, আবার অন্য কর্মকর্তা এসে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই সরকারের নিয়মিত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। উল্লেখ্য, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে মো. সারওয়ার আলম সেখানকার মাজারের দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের অনিয়ম ও হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এর পরপরই তার বদলির আদেশ আসায় এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘লোকের এভাবে মেলালে তো হবে হবে না। মাজারের সঙ্গে এ বদলির কী সম্পর্ক আছে? বদলি তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, হতেই পারে। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলানোর কোনো কারণ নেই।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তা কোনো পদে স্থায়ী নন। তিনি আসবেন, যাবেন এবং তার কাজ করবেন। কোনো ব্যক্তি কোনো জায়গায় অপরিহার্য নন। একজন কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে মানুষ তাকে পছন্দ করবে, ভালোবাসবে, সেটাই স্বাভাবিক। সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বই হলো মানুষের জন্য ভালো কাজ করা।’ ডিসি পদ থেকে সরিয়ে সারওয়ার আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো পদে পদায়ন না করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী যাদের কোনো দপ্তর বা জেলা থেকে আনা হয়, তাদের প্রথমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের নতুন পদে পদায়ন দেওয়া হয়। সারওয়ার আলমকে আপাতত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে, এখান থেকেই তাকে খুব দ্রুত নতুন পদে পদায়ন করা হবে।’ উল্লেখ্য, ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের দক্ষ কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম এর আগে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন তিনি র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক সফল ভেজালবিরোধী ও অনিয়মবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা কুড়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।