সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্য

জ্বর ও মাথাব্যথা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া—নিউমোনিক প্লেগের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলো জানুন
জ্বর থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া, নিউমোনিক প্লেগের যেসব উপসর্গ জানা জরুরি

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত এক নারীর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে মৃ ত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই নারী প্লেগে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়ায় পরিণত হওয়ার মতো উপসর্গগুলো নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক এলাকার একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় অসাবধানতাবশত জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে গিয়েছিল। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর তার মৃ ত্যু হয়। তবে রাশিয়ার ভোক্তা অধিকার ও মানবকল্যাণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর ক্ষেত্রে ‘অজানা কারণে নিউমোনিয়া’ শনাক্ত হয়েছিল। পরীক্ষায় তার শরীরে প্লেগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে প্লেগ নিশ্চিত করা হয়নি। নিউমোনিক প্লেগ কী? রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক ও সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে গুরুতর ধরনগুলোর একটি। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এতে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার পাশাপাশি দ্রুত নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও কাশি হতে পারে। কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত বা পানির মতো কফও দেখা দিতে পারে। এই রোগের উপসর্গ সংক্রমণের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছালে এক দিনের মতো কম সময়ের মধ্যেও উপসর্গ শুরু হতে পারে। কীভাবে নিউমোনিক প্লেগ হয়? নিউমোনিক প্লেগ দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, চিকিৎসা না করা বুবোনিক বা সেপটিসেমিক প্লেগের জীবাণু শরীরের অন্য অংশ থেকে ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর কাশি থেকে বের হওয়া সংক্রমিত ক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলেও নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে। প্লেগের অন্যান্য ধরন সাধারণত ভিন্ন উপায়ে ছড়ায়। বুবোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত মাছির কামড় অন্যতম প্রধান কারণ। এতে জ্বর, মাথাব্যথা, কাঁপুনি ও দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের এক বা একাধিক লসিকা গ্রন্থি ফুলে গিয়ে ব্যথাযুক্ত হতে পারে। সেপটিসেমিক প্লেগের উপসর্গ সেপটিসেমিক প্লেগ রক্তে সংক্রমণ ঘটায়। এতে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটে ব্যথা ও গুরুতর শারীরিক অবস্থা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ এবং টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা কেন জরুরি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা না করা হলে প্লেগ অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসা ছাড়া খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। রাশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত প্লেগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। তাই ওই ঘটনা থেকেই ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:২১
রাশিয়ার ইরকুতস্কে ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর সন্দেহভাজন প্লে গ প্রাদুর্ভাব নিয়ে সতর্কতা বেড়েছে
ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়ায় প্লে গের শঙ্কা, পরিস্থিতি নজরদারিতে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ায় সন্দেহভাজন প্লে গ প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইরকুতস্ক অঞ্চলে এক তরুণ ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর এবং প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার খবরের মধ্যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। ইরকুতস্কের একটি অ্যান্টি-প্লে গ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন ২৮ বছর বয়সী গবেষক দারিয়া শিপিলোভা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লে গের জীবাণু থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি প্লে গে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা রুশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে, প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য করণীয় মূল্যায়ন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন শিপিলোভা। পরে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃ ত্যু হয়। তাঁর মৃ ত্যুর পর সংশ্লিষ্ট একটি হাসপাতালকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসা কয়েক ডজন মানুষকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়নি এবং তাদের পরীক্ষার ফলও নে তি বা চ এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ অসুস্থতার নাম প্রকাশ না করে এটিকে ‘বিপজ্জনক সং ক্রা মক রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ওই অঞ্চলের সব ধরনের জনসমাগম ও সরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিপিলোভা ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায়’ ভুগছিলেন। আরও পরীক্ষায় তাঁর কর্মস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অন্য গবেষকদের সঙ্গে একটি অভিযানে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শিপিলোভা। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাক্রমে ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান আন্না পোপোভা মস্কো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মাইল দূরে ইরকুতস্ক অঞ্চলে যান। এর মধ্যে রাশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তবে প্লে গের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় মহামারি বিশেষজ্ঞ মিখাইল ফাভোরভ টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অ্যান্টি-প্লে গ প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ব্যক্তিরা সাধারণত সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করেন, তাই শুধু একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার কারণে সং ক্র মণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিপিলোভার মৃ ত্যুর কারণ এবং কথিত প্লে গ প্রাদুর্ভাব নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এখন পর্যন্ত প্লে গে আ ক্রা ন্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত কোনো পরীক্ষার ফল দিয়ে প্রমাণিত হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৮:৪৫
বয়স কি উল্টো পথে চলে? তরুণ শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট এর পর বদলে যাচ্ছে বয়স্ক হৃদপিণ্ড
বয়স কি উল্টো পথে চলে? তরুণ শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট এর পর বদলে যাচ্ছে বয়স্ক হৃদপিণ্ড

বয়স বেশি এমন দাতার হৃদপিণ্ড তরুণ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পর জৈবিকভাবে তুলনামূলক তরুণ হওয়ার লক্ষণ দেখাতে পারে। আবার তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপন করলে সেটিতে দ্রুত বয়স বাড়ার আণবিক চিহ্ন দেখা যেতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় এমনই চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   গবেষণাটি সেপ্টেম্বর মাসে জীববিজ্ঞানের প্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম বায়োআরকাইভে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি এখনো পিয়ার রিভিউ সম্পন্ন করেনি। ফলে ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও এখনই চিকিৎসা নীতি পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন না গবেষকেরা।   জেসি আর. পোগানিক, তোমোহিসা মাতসুনাগা, আলেকজান্ডার টাইশকোভস্কি, স্টিভ হরভাথ, ভাদিম এন. গ্লাডিশেভসহ গবেষক দলটি মূলত জানতে চেয়েছিল, একটি অঙ্গের ‘জৈবিক বয়স’ শুধু তার দাতার বয়সের সঙ্গে স্থায়ীভাবে নির্ধারিত থাকে কি না, নাকি নতুন শরীরের পরিবেশ সেটিকে পরিবর্তন করতে পারে।   এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রথমে ইঁদুরের ওপর বয়সে অমিল হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা করা হয়। তরুণ ইঁদুরের হৃদপিণ্ড বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে এবং বয়স্ক ইঁদুরের হৃদপিণ্ড তরুণ ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করে গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশন, জিন এক্সপ্রেশনসহ বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আণবিক সূচক বিশ্লেষণ করেন।   ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স অনেকাংশে নতুন শরীরের বয়সের দিকে সরে যাচ্ছে। বয়স্ক হৃদপিণ্ড তরুণ শরীরে যাওয়ার পর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু আণবিক চিহ্ন উল্টো দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটিতে তুলনামূলক দ্রুত বয়স বাড়ার সংকেত দেখা গেছে।   গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক একাধিক ‘এজিং ক্লক’ ব্যবহার করে এই পরিবর্তন পরিমাপ করেন। ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে রাসায়নিক পরিবর্তনের ধরন দেখে জীববিজ্ঞানে কোনো টিস্যুর আনুমানিক জৈবিক বয়স নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের এসব বয়সসংক্রান্ত মলিকিউলার প্যাটার্ন দাতার বয়সের চেয়ে গ্রহীতার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ছে।   তবে পরিবর্তনটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েনি। ইঁদুরের পরীক্ষায় প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের বয়স পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেলেও গ্রহীতার নিজস্ব হৃদপিণ্ড, রক্ত বা লিভারের জৈবিক বয়সে একই ধরনের বড় পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। এতে গবেষকদের ধারণা, নতুন শরীরের পরিবেশ বিশেষভাবে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটির ওপর প্রভাব ফেলছে।   ইঁদুরের ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না, সেটি যাচাই করতে গবেষকেরা ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের পুরোনো হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রেকর্ড ও সংরক্ষিত হৃদপিণ্ডের বায়োপসি নমুনা বিশ্লেষণ করেন। মানবদেহের আণবিক বিশ্লেষণের জন্য বয়সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকা ১১ জন হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর নমুনা নির্বাচন করা হয়।   এই ছোট মানব নমুনাতেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেশি বয়সী দাতার হৃদপিণ্ড তুলনামূলক কম বয়সী গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটির ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক জৈবিক বয়স কমে যাওয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়। বিপরীত পরিস্থিতিতেও হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স গ্রহীতার বয়সের দিকে সরে যাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে।   গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতার বয়স অঙ্গ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে হৃদপিণ্ডে কাঠামোগত ও কার্যগত পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায় তুলনামূলক কম বয়সী দাতার হৃদপিণ্ডকে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র দাতার ক্যালেন্ডার বয়স দিয়ে একটি হৃদপিণ্ডের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বিচার করা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে।   গবেষকদের মতে, যদি বড় পরিসরের গবেষণায় একই ফলাফল নিশ্চিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তুলনামূলক বেশি বয়সী দাতার কিছু হৃদপিণ্ডও ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিবেচনার সুযোগ বাড়তে পারে। এতে সীমিত সংখ্যক দাতা হৃদপিণ্ডের ব্যবহার আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরোনো হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে নতুন হয়ে যায়। বয়সের কারণে টিস্যুতে তৈরি হওয়া সব ধরনের ক্ষতি উল্টে যায় এমন প্রমাণ গবেষণাটি দেয়নি। বরং গবেষকেরা দেখিয়েছেন, বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট মলিকিউলার ও এপিজেনেটিক বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ নতুন শরীরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিবর্তিত হতে পারে।   আরেকটি বিষয়ও গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া নিজেই হৃদপিণ্ডের ওপর শারীরিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জৈবিক বয়স বৃদ্ধির সংকেতও দেখা গেছে। ফলে ‘তরুণ শরীরে গেলেই পুরোনো হৃদপিণ্ড পুরোপুরি তরুণ হয়ে যাবে’ এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো মানুষের ওপর আণবিক বিশ্লেষণের নমুনা সংখ্যা খুবই কম এবং গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউ হয়নি। হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের ধরন, ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা, দাতার স্বাস্থ্য এবং প্রতিস্থাপনের সময়কালসহ বহু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।   তারপরও গবেষণাটি অঙ্গের বয়স সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এখন পর্যন্ত বয়সকে অঙ্গের প্রায় স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হলেও এই গবেষণা বলছে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে একটি অঙ্গের জৈবিক বয়স তার চারপাশের শরীরের পরিবেশের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বড় ও দীর্ঘমেয়াদি মানব গবেষণায় ফলাফল নিশ্চিত হলে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতা অঙ্গ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কৌশলে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৩:০
তরুণদের মধ্যে বাড়ছে স্ট্রোকের প্রবণতা, কারণ খুঁজছেন গবেষকেরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বয়স্কদের রোগ এখন তরুণদেরও, ৩০ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে স্ট্রোকের হার

সাধারণত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও গত প্রায় তিন দশকে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘নিউরোলজি’-তে প্রকাশিত হয়।   গবেষণায় ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের প্রথমবারের স্ট্রোকের ২ হাজার ৭৬টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। একই সময়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্ট্রোকের হার বরং কমেছে, যা তরুণদের ক্ষেত্রে দেখা যাওয়া বিপরীত প্রবণতাটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।   গবেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির বড় অংশই হয়েছে ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে এবং এটি স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। তরুণদের মধ্যে ইস্কেমিক স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি এক লাখে ২৩ দশমিক ৮টি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ বা মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি।   তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার পেছনে ঠিক কোন কারণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে স্ট্রোকে আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন এবং মাদক বা অন্যান্য নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঝুঁকির কারণের সঙ্গে স্ট্রোকের হার বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেলেও এগুলোই পুরো বৃদ্ধির কারণ, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না।   গবেষণাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার বাড়লেও স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার সামান্য কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে নেমে আসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেঁচে যাচ্ছেন। তবে এর অর্থ একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা স্নায়বিক জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে।   বস্টনের টাফটস মেডিকেল সেন্টারের ভাসকুলার নিউরোলজিস্ট ডা. মিশেল লেপার্ট বলেন, তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ার প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণের দিকে ইঙ্গিত করলেও বলেন, শুধু এসব কারণ দিয়ে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। তরুণদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের হার একইভাবে না বাড়ায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে।   লেপার্ট আরও জানান, ৪৫ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে, যা গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয়। বিশেষ করে যেসব নারী অরা-সহ মাইগ্রেনে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অরা-সহ মাইগ্রেন বলতে মাথাব্যথার আগে বা সঙ্গে দৃষ্টিতে ঝিলমিল, আলোর ঝলক বা অন্য ধরনের সাময়িক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেওয়াকে বোঝায়।   চিকিৎসকেরা বলছেন, তরুণ বয়স মানেই স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমন ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলসহ অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। তাই ২০, ৩০ বা ৪০-এর কোঠায় থাকা ব্যক্তিদেরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন ‘বি ফাস্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে ভারসাম্য হারানো, চোখ বা দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন, মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া, হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং কথা বলায় সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা নতুন কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলেও তা উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।   তবে গবেষকেরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন গবেষণাটি মূলত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকির ওই পাঁচ-কাউন্টি এলাকার জাতিগত বৈচিত্র্য, শিক্ষা ও আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটিকে সরাসরি পুরো দেশের প্রতিটি তরুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গবেষণাটি বরং তরুণদের মধ্যে স্ট্রোক বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রবণতার শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর কারণ খুঁজতে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।   সূত্র: ডব্লিউসিভিবি

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২২:০
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

চুলে পাক ধরা সাধারণত বয়স বাড়ার স্বাভাবিক একটি লক্ষণ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, চুলের রং হারানোর পেছনে শরীরের এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।   গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে। এতে বিজ্ঞানীরা চুলের ফলিকলের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের স্টেম সেল বা মূল কোষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কোষগুলোকে বলা হয় মেলানোসাইট স্টেম সেল। এগুলো থেকেই চুল ও ত্বকের রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রঞ্জক কোষ তৈরি হয়।   স্বাভাবিক অবস্থায় মেলানোসাইট স্টেম সেল বারবার পুনরুৎপাদিত হয়ে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এর ফলে চুলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক রং বজায় থাকে। কিন্তু শরীরের কোষগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। অতিবেগুনি রশ্মি, কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং কোষের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াও ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে।   গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএতে বিশেষ ধরনের গুরুতর ক্ষতি হলে কোষগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক পথে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেলগুলো দ্রুত পরিণত রঞ্জক কোষে রূপান্তরিত হয় এবং পরে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে হারিয়ে যায়। ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে চুলে পাকা রং দেখা দিতে পারে।   বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো—ডিএনএতে ক্ষতি হওয়া কোষগুলোকে স্টেম সেল হিসেবে টিকে থেকে বারবার বিভাজিত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে বিভাজিত হতে থাকলে সেখানে জিনগত পরিবর্তন জমা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।   অর্থাৎ, চুলের রং হারানোর এই প্রক্রিয়াকে শরীরের এক ধরনের ‘ত্যাগ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে শরীর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করে।   তবে গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সব ধরনের ডিএনএ ক্ষতির ক্ষেত্রে মেলানোসাইট স্টেম সেল একইভাবে আচরণ করে না।   গবেষকরা ইঁদুরের কোষকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কিছু রাসায়নিক এবং অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনেন। তখন দেখা যায়, কিছু পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে থাকে। অর্থাৎ, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও তারা টিকে থাকে এবং বিভাজিত হতে থাকে।   এ ধরনের পরিস্থিতি মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসার তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আশপাশের কোষ ও টিস্যু থেকে পাওয়া রাসায়নিক সংকেতও এই আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।   গবেষকদের ভাষায়, একই স্টেম সেল পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে পারে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দ্রুত পরিণত হয়ে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরে গেলে চুল পেকে যেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পরিবেশে সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষ টিকে গিয়ে বিভাজিত হতে থাকলে ক্যানসার তৈরির সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে।   এখানেই পাকা চুল ও ক্যানসারের মধ্যে গবেষণায় পাওয়া অপ্রত্যাশিত সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পাকা চুল নিজেই ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বরং একই কোষীয় প্রতিক্রিয়ার দুটি ভিন্ন ফলাফল হিসেবে চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।   গবেষণাটি বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতি ও অন্যান্য পরিবর্তন জমতে থাকে। একই সময়ে কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও বদলে যেতে পারে।   তবে এই গবেষণার ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের শরীর, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাপনের সঙ্গে ইঁদুরের পার্থক্য রয়েছে। তাই মানুষের চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মেলানোসাইট স্টেম সেল কীভাবে ক্ষতির প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কোন সংকেত তাদের নিরাপদ পথে বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিচালিত করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার ও বয়সজনিত কোষীয় পরিবর্তন নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   অর্থাৎ, মাথার পাকা চুলকে শুধু বয়সের দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে দেখার বাইরে গিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা এর পেছনে থাকা কোষীয় প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৩:২৩
How Self-Absorbed, Self-Centered People’s Behavior Affects Relationships and Mental Health
নিজেকে নিয়েই মগ্ন, অন্যের অনুভূতির মূল্য নেই: আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে চেনার উপায় ও করণীয়

কথা বলছেন আপনি, কিন্তু আলোচনার বিষয় বারবার ঘুরে যাচ্ছে তার দিকে। আপনার কষ্টের কথা বললে তিনি নিজের সমস্যার কথা সামনে আনছেন। কোনো ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তর না দিয়ে উল্টো আপনাকেই দোষী বানিয়ে দিচ্ছেন। কখনো হয়তো মনে হচ্ছে, সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার দায়িত্বটা শুধু আপনারই।   শুরুতে এসব আচরণকে হয়তো ভালোবাসার অতিরিক্ত প্রকাশ, আত্মবিশ্বাস কিংবা একটু জেদ হিসেবে মনে হতে পারে। কিন্তু একই আচরণ যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হতে পারে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ। ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা হতে পারে, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমনকি মনে হতে পারে—সমস্যাটা বোধহয় আমারই।   এখানেই আত্মকেন্দ্রিক আচরণ নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন।   মনোবিজ্ঞানে অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ আচরণের সঙ্গে নিজের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিতভাবে দেখা, অতিরিক্ত প্রশংসা ও স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি কম সহানুভূতি দেখানোর মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে একজন মানুষ আত্মকেন্দ্রিক আচরণ করলেই তাকে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত বলা যায় না। এটি একটি নির্দিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং এর নির্ণয় প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর বিষয়।   ভালোবাসার সম্পর্কে যখন ‘আমি’ হয়ে ওঠে সবকিছু   একটি সুস্থ প্রেমের সম্পর্কে দুজন মানুষের চাওয়া, অনুভূতি ও মতামতের জায়গা থাকে। কিন্তু একজন সঙ্গী যদি সবসময় নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে।   আপনি হয়তো কোথাও যেতে চান, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে তার পছন্দ অনুযায়ী। আপনি কোনো বিষয়ে কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু আপনার অনুভূতির বদলে আলোচনায় উঠে আসবে তার কষ্ট। কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজের ভুল স্বীকারের পরিবর্তে তিনি হয়তো ব্যাখ্যা করবেন কেন সমস্যাটির জন্য আপনিই দায়ী।   এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্কের মধ্যে একজন কথা বলবেন আর অন্যজন শুধু মানিয়ে নেবেন—এমন এক অসমতা তৈরি হতে পারে।   বিশেষ করে তরুণদের প্রেমের সম্পর্কে এ ধরনের আচরণ অনেক সময় প্রথমদিকে সহজে বোঝা যায় না। অতিরিক্ত খোঁজ নেওয়া কখন নিয়ন্ত্রণে পরিণত হচ্ছে, ভালোবাসার নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কমে যাচ্ছে কি না, কিংবা মতের অমিল হলেই অপরাধবোধ তৈরি করা হচ্ছে কি না—এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি।   বিয়ের পর চাপটা কেন আরও জটিল হয়   দাম্পত্য জীবনে শুধু আবেগ নয়, অর্থনীতি, সন্তান, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো অসংখ্য বিষয় জড়িয়ে থাকে। ফলে একজন সঙ্গীর অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক আচরণ পুরো সম্পর্কের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।   যদি একজন সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখতে চান, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেন কিংবা প্রতিটি সমস্যার দায় জীবনসঙ্গীর ওপর চাপান, তাহলে ঘরে থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।   সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, এই ধরনের সম্পর্কের সমস্যা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা পরিচিতদের সামনে সম্পর্কটি স্বাভাবিক দেখালেও ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ প্রতিদিন নিজের কথা বলার সুযোগ, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের অনুভূতির স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে পারেন।   যখন নিজের অনুভূতিকেই সন্দেহ হতে শুরু করে   দীর্ঘদিন দোষারোপ, অস্বীকার কিংবা বাস্তব ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো আচরণের মধ্যে থাকলে একজন মানুষ নিজের উপলব্ধি নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারেন। এটিই গ্যাসলাইটিং নামে পরিচিত একটি আচরণগত ধরন।   উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো ঘটনা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আপনি সেটি নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু অপর পক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করলেন বা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলেন যে শেষ পর্যন্ত আপনারই মনে হলো, হয়তো আপনি ঘটনাটিকে ভুলভাবে বুঝেছেন।   একটি বিচ্ছিন্ন মতবিরোধকে অবশ্য গ্যাসলাইটিং বলা যায় না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো আচরণের ধারাবাহিকতা এবং তার প্রভাব।   দীর্ঘস্থায়ী এমন অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগ, অপরাধবোধ বা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা মানসিক ট্রমার মতো প্রভাবও ফেলতে পারে।   কেন অনেকেই সম্পর্ক ছাড়তে পারেন না   কখনো কষ্টদায়ক সম্পর্কের মধ্যেও ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া, ভালো সময় বা সাময়িক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। ফলে একজন মানুষ মনে করতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো আবার আগের মতো ভালো হয়ে যাবে।   এই টানাপোড়েনকে কখনো ‘ট্রমা বন্ড’ বলা হয়। কষ্টের পাশাপাশি পাওয়া ইতিবাচক মুহূর্তগুলো সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলতে পারে।   তবে প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই কাউকে শুধু একটি শব্দ বা কয়েকটি আচরণের ভিত্তিতে বিচার করার পরিবর্তে পুরো সম্পর্কের ধরন, পরিস্থিতি এবং নিজের মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সঙ্গে থাকলে যে ৭টি বিষয় মনে রাখবেন   ১. আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া দেবেন না   উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে রাগ বা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে আলোচনা আরও জটিল হতে পারে। সম্ভব হলে কিছুটা সময় নিয়ে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য জানান।   ২. বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে যাবেন না   প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই। নিজের অবস্থান পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্তভাবে জানানো যথেষ্ট হতে পারে।   ৩. আচরণের পুনরাবৃত্ত ধরন লক্ষ্য করুন   একটি ঘটনা নয়, বরং একই ধরনের আচরণ বারবার ঘটছে কি না দেখুন। গ্যাসলাইটিং, দোষ চাপানো, নিজের ভুল অস্বীকার করা কিংবা অভিযোগ উল্টো আপনার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।   ৪. নিজের সীমারেখা ঠিক করুন   কোন আচরণ আপনি মেনে নেবেন এবং কোন আচরণ মেনে নেবেন না, তা নিজের কাছে পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজন হলে অপর পক্ষকেও সেই সীমারেখা জানিয়ে দিন।   ৫. প্রয়োজন ছাড়া যোগাযোগ বাড়াবেন না   সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় বিষয়েই কথা সীমিত রাখুন। সংক্ষিপ্ত, শান্ত ও তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব কমাতে পারে।   ৬. অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনায় নিরপেক্ষ থাকুন   ‘গ্রে রক’ পদ্ধতিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আবেগ বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করা হয়। তবে এটি সব পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত নয়। সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।   ৭. নিজের জীবনকে আবার নিজের করে নিন   অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্যে থাকতে থাকতে অনেকেই নিজের বন্ধু, পরিবার, আগ্রহ কিংবা ব্যক্তিগত লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যান। সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাগুলো ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।   নিজের আত্মসম্মান পুনর্গঠন করা, কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সবচেয়ে বড় ‘জবাব’ নিজের ভালো থাকা   আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ মানুষের আচরণ সামলানোর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের গল্প নয়। বরং এটি নিজের সীমারেখা, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তি ফিরে পাওয়ার গল্প।   অন্য একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করবেন, সেটি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই আচরণের সামনে নিজের সীমা কোথায় হবে, কোন পরিস্থিতিতে দূরত্ব প্রয়োজন এবং কখন সহায়তা চাইতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখা যায়।   কারও আচরণকে বদলে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের ওপর নেওয়ার চেয়ে নিজের সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ একটি সম্পর্ক তখনই সুস্থ হতে পারে, যখন সেখানে শুধু একজনের চাওয়া নয়, দুজন মানুষের অনুভূতি ও মর্যাদারও জায়গা থাকে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২:২২
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে

সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘমেয়াদে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সন্তান জন্মের পর কয়েক বছর এই রোগের ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে বদলায়।    সন্তান জন্মের পর ঝুঁকি কতটা বাড়বে এবং কত দিন থাকবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ক্যানসারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।   ২০১৮ সালে প্রকাশিত ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের আপেক্ষিক ঝুঁকি সন্তান জন্ম না দেওয়া নারীদের তুলনায় প্রসবের প্রায় পাঁচ বছর পর সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই গবেষণায় ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় বয়স বেশি হলে এবং স্তন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকির বৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। এই ফল কোনো ব্যক্তির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।    অন্যদিকে, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্তন্যদানের সময় মাসিক চক্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরের নিজস্ব কিছু হরমোনের সংস্পর্শও কমে। এটি সুরক্ষামূলক প্রভাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে বুকের দুধ খাওয়ালেই স্তন ক্যানসার হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।    গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার বিরল। কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় স্তন বড় হওয়া, ভারী লাগা বা টিস্যুর পরিবর্তনের কারণে সন্দেহজনক গুটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, এসব স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   তাই স্তনে বা বগলে নতুন গুটি, স্থায়ী শক্ত অংশ, ত্বকে টোল পড়া, স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বুকের দুধ ছাড়া অন্য ধরনের নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ স্তনের পরিবর্তন ক্যানসার নয়। তবু কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু গর্ভাবস্থা বা দুধ জমার ফল ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১:৪২
ভুল পা কাটার অভিযোগে ওহাইওর নারীর হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন
ডান পা কাটার কথা ছিল, কেটে ফেলা হলো বাঁ পা; হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারীর অস্ত্রোপচারে ভুল পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন ওই নারী ও তার স্বামী।   শ্যারন জ্যাকস নামের ৭৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মারিয়েটার সেলবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় তিনি দেখতে পান, তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে বলে মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মা ম লার নথি অনুযায়ী, জ্যাকসের ডান পায়ে ক্যানসারজনিত সমস্যার কারণে ওই পা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা ভুল করে বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত ডান পাটিও অন্য একটি হাসপাতালে কেটে ফেলতে হয়। ফলে জ্যাকস এখন দুই পা হারিয়েছেন।   জ্যাকসের আইনজীবী ব্র্যাড লেইনের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক সঠিক পা চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ভুল পা কেটে ফেলার পরও সঠিক পায়ে অস্ত্রোপচারের চিহ্নটি ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে।   মা ম লায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসা দল দুবার ‘টাইম-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর পরিচয়, কোন অস্ত্রোপচার হবে এবং শরীরের কোন অংশে অস্ত্রোপচার করা হবে—এসব নিশ্চিত করার কথা। এরপরও কীভাবে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যাকসের আইনজীবী।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ছিল অস্ত্রোপচারের স্থান সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে, একাধিকবার যাচাইয়ের সুযোগ থাকার পরও ভুলটি শনাক্ত করা হয়নি।   এ ধরনের ভুল অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মা ম লায় ঘটনাটিকে এমন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এড়ানো সম্ভব ছিল।   মা ম লায় জ্যাকসের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, স্থায়ী অক্ষমতা, আগের ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে সেলবি জেনারেল হাসপাতালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি গুরুতর অস্ত্রোপচারজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের পর্যালোচনায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং নির্ধারিত অপারেশন থিয়েটার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।   হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা আর ওই পদে কর্মরত নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অস্ত্রোপচার দলের কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, তারা ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের পর্যালোচনায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।   মা ম লাটি এখন আদালতে চলমান। অভিযোগগুলো মা ম লায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:২৬
ছবি: U.S. Census Bureau
ইন্স্যুরেন্স নেই? জেনে নিন নিউ ইয়র্কে ফ্রিতে চিকিৎসার পাঁচটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা

হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে অনেক অভিবাসীর দুশ্চিন্তা থাকে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা খরচের ভয়ে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শহরের সরকারি কর্মসূচি ও কয়েকটি ফ্রি ক্লিনিকে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে সেবা পাওয়া যায়। তবে সব জায়গায় সব চিকিৎসা ফ্রি নয়।   প্রথম ঠিকানা এনওয়াইসি কেয়ার। যাঁরা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন বা তা বহন করতে পারেন না, তাঁদের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি। সদস্যরা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কম দামে ওষুধ পেতে পারেন। খরচ আয়ের ওপর নির্ভর করে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সদস্য হওয়ার বাধা নয়। জানতে বা আবেদন করতে ফোন করুন ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে; বাংলায় সহায়তা চাইতে পারেন।   দ্বিতীয় ঠিকানা এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতাল ও কুইন্স হাসপাতালও এই নেটওয়ার্কের অংশ। ইন্স্যুরেন্স না থাকলে সেখানে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসিসট্যান্স বা ‘অপশনস’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বিল কমতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলতে ৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে ফোন করে ৩ চাপুন। হাসপাতালের সেবা মাত্রেই ফ্রি হবে, এমন ধারণা নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।   তৃতীয় ঠিকানা ম্যানহাটনের উইল কর্নেল কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫০৫ ইস্ট ৭০তম স্ট্রিট। ইন্স্যুরেন্সবিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই স্টুডেন্ট পরিচালিত ক্লিনিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রাইমারি কেয়ার দেওয়া হয়। বর্তমানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিমেডিসিন এবং নির্দিষ্ট শনিবার সকালে সরাসরি সেবা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। নতুন রোগীকে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আবেদন করতে হয়; অপেক্ষাও থাকতে পারে। ফোন ৬৪৬-৯৬২-৯২২২।   চতুর্থ ঠিকানা ব্রুকলিন ফ্রি ক্লিনিক। ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সেবার ধরন আগে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকটি সরাসরি সেবা দেওয়ার পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রের তথ্য দেয়। তাই সেখানে যাওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনটি জানিয়ে যোগাযোগ করা জরুরি।   পঞ্চম ঠিকানা নিউ ইয়র্ক সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের ক্লিনিকগুলো। যৌনস্বাস্থ্য, যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসা এবং টিকাদানের জন্য আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। এসব সেবার অনেকগুলো বিনামূল্যে বা কম খরচে পাওয়া যায়; তবে এগুলো সাধারণ সব রোগের প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিক নয়। কাছের কেন্দ্র, খরচ ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম জানতে ৩১১ নম্বরে ফোন করা যায়।   এনওয়াইসি কেয়ারে ভর্তির সময় পরিচয়, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাস ও আয়ের প্রমাণ চাইতে পারে। পাসপোর্ট বা বিদেশি পরিচয়পত্রও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কাগজপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আগে ফোন করে নিজের পরিস্থিতি জানান। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে চিকিৎসা পাওয়া যাবে না, এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই।   বাংলাভাষী ডাক্তার চাইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় দোভাষী বা বাংলায় সেবার ব্যবস্থা আছে কি না জেনে নিন। বেসরকারি চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে ফি এবং এনওয়াইসি কেয়ারের সেবা সেখানে প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন। আর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সাধারণ ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে ইমার্জেন্সি রুমে যান বা ৯১১ নম্বরে কল করুন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ০:২২
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ
স্টেজ-৪ স্তন ক্যানসারে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন দিল এফডিএ

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অগ্রসর ও ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ করে স্টেজ-৪ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় এফডিএ জানায়, ইমলুনেস্ট্র্যান্ট (ব্র্যান্ড নাম ইনলুরিও) ও অ্যাবেমাসিক্লিব (ব্র্যান্ড নাম ভারজেনিও) একসঙ্গে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যাদের ক্যানসার ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর-পজিটিভ, এইচইআর২-নেগেটিভ এবং ইএসআর১ জিনে পরিবর্তন রয়েছে।   ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনলুরিও ও ভারজেনিও একসঙ্গে ব্যবহার করলে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার বাড়া বা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়ে রাখার সময় গড়ে ১১ দশমিক ১ মাস হয়েছে। শুধু ইনলুরিও ব্যবহার করা রোগীদের ক্ষেত্রে এই সময় ছিল ৫ দশমিক ৫ মাস।   চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার প্রধান তদন্তকারী কোমল ঝাভেরি বলেন, প্রথম দিকের চিকিৎসা বা সহায়ক চিকিৎসার পরও রোগের অগ্রগতি দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ক্যানসার বৃদ্ধির দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে ওষুধের সমন্বিত ব্যবহার চিকিৎসায় প্রতিরোধক্ষমতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এফডিএ জানিয়েছে, ইনলুরিও ব্যবহারে ভ্রূণের ক্ষ তির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে ভারজেনিওর ক্ষেত্রে গুরুতর ডায়রিয়া, শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া, ফুসফুসে প্রদাহ বা ক্ষ তি, লিভারের সমস্যা, শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা এবং ভ্রূণের ক্ষ তির মতো ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।   দুই ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় রোগীদের মধ্যে সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।   এফডিএর সুপারিশ অনুযায়ী, ইনলুরিও প্রতিদিন একবার ৪০০ মিলিগ্রাম খালি পেটে সেবন করতে হবে। খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পর এটি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ভারজেনিওর ক্ষেত্রে ইনলুরিওর সঙ্গে প্রতিদিন দুইবার ১৫০ মিলিগ্রাম করে সেবনের সুপারিশ করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াও এটি গ্রহণ করা যায়। রোগের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অসহনীয় না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৮:৩৬
তরুণদের মধ্যে গত তিন দশকে স্ট্রোকের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে
বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেই বাড়ছে স্ট্রোকের হার, বলছে গবেষণা

তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের হার গত প্রায় তিন দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের হার কমেছে।   গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার সিনসিনাটি ও নর্দার্ন কেনটাকি অঞ্চলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয়টি সময়পর্বের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭৬টি প্রথমবারের স্ট্রোকের ঘটনা শনাক্ত করেন।   গবেষণায় দেখা যায়, তরুণদের মধ্যে প্রতি ১ লাখ মানুষের হিসাবে স্ট্রোকের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৯টি। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২টিতে। এই বৃদ্ধি মূলত ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে হয়েছে। এ ধরনের স্ট্রোক মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে।   ইস্কেমিক স্ট্রোকের হারও এই সময়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে এ ধরনের স্ট্রোকের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮টি, যা ২০২০ সালে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৩টিতে পৌঁছায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কয়েক ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি।   গবেষণায় তরুণ বয়সে স্ট্রোক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকটি প্রচলিত ঝুঁকিও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের ব্যবহার—সবকটির হার বেড়েছে।   সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। স্ট্রোক হওয়া তরুণদের মধ্যে নথিভুক্ত পদার্থ ব্যবহারের হার ১৯৯৩-৯৪ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির বড় অংশের সঙ্গে গাঁজা ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই গবেষণা থেকে গাঁজা ব্যবহারই স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।   গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড রবিনসন বলেছেন, গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজার ব্যবহার অনেক বেড়েছে এবং বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের সম্পর্ক থাকার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও কঠোর ও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।   গবেষকেরা বলছেন, তরুণ বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং তামাক এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় অবশ্য একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। তরুণদের স্ট্রোকের পর ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৩-৯৪ সালে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসার উন্নতির কারণে আগের তুলনায় বেশি তরুণ স্ট্রোকের পর বেঁচে থাকছেন।   তবে বেশি মানুষ বেঁচে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অক্ষমতা বা অন্যান্য জটিলতা নিয়ে জীবনযাপনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে—স্ট্রোক হয়নি এমন মানুষের মধ্যে একই ঝুঁকিগুলোর তুলনামূলক তথ্য না থাকায় এসব ঝুঁকি স্ট্রোক বৃদ্ধির কারণ কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৬:২৮
আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের চেয়ে সঠিক নিয়ম জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ কখন খাবেন! জানুন সঠিক সময় ও নিয়ম

আয়রন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২—শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পুষ্টি উপাদান। তবে এসবের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কোনটি খাবেন তা নয়, কীভাবে ও কখন খাবেন সেটিও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ‘সেরা সময়’ সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময় নয়; বরং খাবার, পানীয় ও অন্য ওষুধের সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার বিশেষ উপকারের প্রমাণ খুব কম। ৮৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।   বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ দীর্ঘদিন গ্রহণের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার ভিটামিন এ-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন শরীরে জমে গিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   তবে রক্ত পরীক্ষায় কোনো পুষ্টির ঘাটতি ধরা পড়লে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থার আগে ও শুরুর সময়ে ফলিক অ্যাসিড, খাবার থেকে পর্যাপ্ত বি১২ পাওয়া সম্ভব না হলে ভিটামিন বি১২ এবং শরতে ও শীতে ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ রয়েছে।   আয়রন: খাওয়ার নিয়ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ   আয়রনের সাপ্লিমেন্ট সাধারণত আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু ক্লান্ত লাগছে বলেই নিজের ইচ্ছায় আয়রন খাওয়া ঠিক নয়। কারণ আয়রনের ঘাটতির পেছনে রক্তক্ষরণ বা শরীরে আয়রন শোষণে সমস্যা থাকতে পারে। তাই ঘাটতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর কারণও খুঁজে দেখা জরুরি।   আয়রন খাওয়ার ক্ষেত্রে খাবার ও পানীয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, পানির বদলে কফির সঙ্গে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিলে আয়রন শোষণ ৫৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। সকালের নাশতার সঙ্গে নিলে শোষণ আরও কমেছিল।   অন্যদিকে, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আয়রন শোষণ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারে বলে ওই গবেষণায় দেখা যায়। তবে ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি নিলে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাওয়া যায়নি। গবেষণাটিতে সকালে আয়রন গ্রহণ করলে বিকেলের তুলনায় শোষণ কিছুটা বেশি হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তবে পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। তাই শুধু এই ফলাফলের ভিত্তিতে সকালে আয়রন খাওয়াকে বাধ্যতামূলক নিয়ম বলা যায় না।   সাধারণভাবে খালি পেটে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। কিন্তু এতে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই খালি পেটে খেলে সমস্যা হলে খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পর গ্রহণ করা যেতে পারে। আয়রনের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   ক্যালসিয়ামও একসঙ্গে গ্রহণ করলে আয়রন শোষণ কিছুটা কমাতে পারে, বিশেষ করে বেশি পরিমাণে নিলে। তাই আয়রন ও ক্যালসিয়াম দুটোই খাওয়ার পরামর্শ থাকলে কতক্ষণ ব্যবধানে খাবেন, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।   ভিটামিন ডি: খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা ভালো   ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন। গবেষণায় দেখা গেছে, চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন ডি৩ গ্রহণ করলে চর্বিহীন খাবারের তুলনায় শরীরে এটি ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।   তাই ভিটামিন ডি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল সাধারণত দিনের প্রধান খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা সুবিধাজনক। তবে গবেষণায় সকালের নাশতা দুপুর বা রাতের খাবারের চেয়ে ভালো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময়ের চেয়ে খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   কিছু ওষুধ ভিটামিন ডি শরীরে শোষণ বা ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ওজন কমানোর ওষুধ অরলিস্ট্যাট এবং প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত কিছু কর্টিকোস্টেরয়েড। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে শুধু সাপ্লিমেন্টের সময় পরিবর্তন না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।   ভিটামিন বি১২: সময়ের চেয়ে কারণ গুরুত্বপূর্ণ   ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মূলত প্রাণিজ খাবার ও বি১২ সমৃদ্ধ খাবার থেকে পাওয়া যায়।   গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাণিজ খাবার খান না এবং বি১২ সাপ্লিমেন্টও নেন না, তাদের শরীরে বি১২-এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তাদের রক্তে বি১২-এর মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোর উন্নতি দেখা গেছে।   বি১২ সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে কেন সাপ্লিমেন্টটি প্রয়োজন হচ্ছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মেটফরমিন এবং ওমিপ্রাজলের মতো পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারে বি১২ শোষণ বা শরীরে এর মাত্রা কমাতে পারে। শুধু ওষুধ ও বি১২ আলাদা সময়ে খেলেই এ প্রভাব ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে।   চিকিৎসকের পরামর্শে সায়ানোকোবালামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করলে কিছু ক্ষেত্রে খালি পেটে খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে প্রেসক্রিপশন বা প্যাকেটের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।   সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে যা মনে রাখবেন   কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে প্রথমেই ভাবতে হবে, সেটি আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। একই উপাদান একাধিক পণ্যে আছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। মাল্টিভিটামিন, এনার্জি ড্রিংক বা বিভিন্ন ‘ওয়েলনেস’ পাউডারে একই ভিটামিন বা মিনারেল থাকতে পারে।   আপনি যদি নিয়মিত কোনো প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খান, তাহলে সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ওষুধের পারস্পরিক প্রভাব বা কতটা ব্যবধান রাখা দরকার, তা ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।   সবশেষে, সব সাপ্লিমেন্টের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যেখানে খাবার বা পানীয় শোষণে প্রভাব ফেলে, সেখানে সেটি বিবেচনা করা দরকার। আর যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বাড়তি সুবিধার প্রমাণ নেই, সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সময় বেছে নেওয়াই ভালো, যখন নিয়মিত খাওয়ার কথা মনে থাকে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৫:৩৭
হাড়ে ক্যানসার! এক্সরেতে দেখতে হুবহু সূর্যরশ্মির মতো চিহ্ন
হাড়ে ক্যানসার! এক্সরেতে দেখতে হুবহু সূর্যরশ্মির মতো চিহ্ন

অস্টিওসারকোমা হাড়ের এক ধরনের বিরল ক্যানসার। এটি সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়ে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে টিউমারটি হাঁটুর কাছের হাড়ে পাওয়া যায়।   কখনো কখনো এক্সরেতে টিউমার থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকা সরু রেখার মতো নতুন হাড় দেখা যায়। সূর্যের রশ্মির মতো দেখতে এই চিহ্নকে চিকিৎসকেরা ‘সানবার্স্ট’ বলে থাকেন। তবে অস্টিওসারকোমার সব এক্সরেতে এমন চিহ্ন দেখা যায় না।   হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এবং আক্রান্ত স্থানে ফোলা এ রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ। একই লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ বা এক্সরের চিহ্ন দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।   চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা করেন। টিউমারের নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ে ব্যথা বা ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ০:৩৬
জেন কালমাঁ—১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী যাচাই করা ব্যক্তি
ধূ ম পা ন করতেন, ওয়াইন ও চকলেটও ছিল পছন্দ, তবু বেঁচেছিলেন ১২২ বছর!

ফ্রান্সের আরল শহরের জেন কালমাঁ বেঁচে ছিলেন ১২২ বছর ১৬৪ দিন। ১৮৭৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই নারী মৃ ত্যু বরণ করেন ১৯৯৭ সালের ৪ আগস্ট। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, নির্ভরযোগ্য নথিতে যাচাই হওয়া মানুষের বয়সের রেকর্ডে তিনি এখনো সবার ওপরে।   কালমাঁর বয়স শুধু তাঁর নিজের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে স্বীকৃতি পায়নি। গবেষকেরা তাঁর জন্ম ও বিয়ের নথি, বিভিন্ন সময়ের জনশুমারির তথ্য এবং পরিবারের সদস্যদের নথি মিলিয়ে দীর্ঘ জীবনকালটি যাচাই করেছেন।   তাঁর খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবন নিয়েও বহু গল্প প্রচলিত। গিনেসের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি কখনো সপ্তাহে প্রায় এক কিলোগ্রাম চকলেট খেতেন, খাবারের পর অল্প পরিমাণ পোর্ট ওয়াইন পান করতেন এবং জলপাই তেল খাবারে ও ত্বকে ব্যবহার করতেন। ধূমপান ছেড়েছিলেন ১১৭ বছর বয়সে। তবে এসব অভ্যাস তাঁকে এত দীর্ঘ জীবন দিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই তথ্য থেকে টানা যায় না।   কৈশোরে চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের সঙ্গে দেখা হয়েছিল বলেও কালমাঁ দাবি করেছিলেন। ঘটনাটির বিবরণ এসেছে তাঁর স্মৃতিচারণ থেকে; তাই এটিকে স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া সাক্ষাৎ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।   দীর্ঘ জীবনে স্বামী, মেয়ে ও নাতির মৃ ত্যুও দেখেছেন কালমাঁ। তাঁর জীবন নিয়ে কৌতূহলের পাশাপাশি বয়সের রেকর্ডটি গবেষণার বিষয় হয়ে আছে। সেই রেকর্ডের ভিত্তি তাঁর চকলেট বা ওয়াইনের গল্প নয়, বরং জন্ম থেকে মৃ ত্যু পর্যন্ত সংরক্ষিত নথির ধারাবাহিকতা।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৯:১২
ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে খাবার বানাচ্ছেন মায়েরা
ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে খাবার বানাচ্ছেন মায়েরা, প্রমাণ কতটা!

ফ্লু থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বুকের দুধ দিয়ে রান্না ও বেক করা খাবার তৈরির কথা উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন মায়ের অভিজ্ঞতায়। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পোস্ট বিষয়টি তুলে ধরে। তবে বুকের দুধ দিয়ে তৈরি রান্না করা খাবার ফ্লু প্রতিরোধ করে, এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।    বুকের দুধে শিশুর জন্য উপকারী অ্যান্টিবডি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মায়ের বুকের দুধ পান করানো শিশুকে ফ্লু থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশু, যারা এখনো ফ্লুর টিকা নিতে পারে না, তাদের জন্য এই সুরক্ষা প্রাসঙ্গিক। কিন্তু শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিচিত উপকারিতা থেকে রান্না করা খাবার খেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ফ্লু প্রতিরোধ হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।    দুধ গরম করার বিষয়েও সতর্কতা আছে। সিডিসি বলছে, শিশুকে খাওয়ানোর জন্য রাখা বুকের দুধ সরাসরি চুলায় বা মাইক্রোওয়েভে গরম করা উচিত নয়। মাইক্রোওয়েভে গরম করলে দুধের পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে এবং অসমভাবে গরম হয়ে শিশুর মুখ পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।    ফ্লু প্রতিরোধে সিডিসির সুপারিশ হলো, বিরল কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী সবাইকে প্রতি মৌসুমে ফ্লুর টিকা দেওয়া। বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েরাও টিকা নিতে পারেন। পাশাপাশি ছোট শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবারের সদস্য ও শিশুর পরিচর্যাকারীদের টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ অবস্থায় হাত ধোয়া ও সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকানোর নিয়ম মানার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১০:৩
এমএস চিকিৎসায় পরিবর্তিত এইচআইভির ওষুধের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা
এইচআইভির ওষুধ বদলে এমএস চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা, গবেষণায় মিলল সাড়া জাগানো ফল

এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক ধরনের ওষুধে পরিবর্তন এনে তৈরি করা নতুন একটি ওষুধ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএসের কারণে তৈরি হওয়া কিছু গুরুতর সমস্যা কমাতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর অর্থায়নে করা গবেষণায় প্রাণীর ক্ষেত্রে আগে থেকেই তৈরি হওয়া দৃষ্টিশক্তি হারানো ও চলাফেরার সমস্যায় উন্নতির দেখা মিলেছে। তবে এখনো মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি।   গবেষণায় **কামুভুডিন-৯ বা কে-৯** নামের পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই শ্রেণির অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ থেকে তৈরি একটি পরিবর্তিত সংস্করণ। গবেষকদের ধারণা, কে-৯ মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে থাকা **ইনফ্ল্যামাসোম** নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে বাধা দেয়, যা অতিরিক্ত সক্রিয় হলে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ও মৃ ত্যু ঘটাতে পারে।   গবেষণায় এমএসের মতো উপসর্গ তৈরি করা ইঁদুরকে কয়েক দিন পর কে-৯ দেওয়া হয়। তখন তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসার পর গবেষকরা দেখতে পান, কে-৯ দেওয়া প্রাণীগুলো শুধু নতুন স্নায়বিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিতই থাকেনি, বরং আগের কিছু চলাফেরার সমস্যা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিও অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।   গবেষকদের মতে, কে-৯ স্নায়ুর প্রধান অংশ **অ্যাক্সন** এবং তাকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ **মাইলিন শিথ**কে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে। এই অংশগুলো মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীদের রক্তে স্নায়ুর ক্ষতির একটি জৈবচিহ্নও কম পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসাটির সম্ভাব্য স্নায়ু-সুরক্ষাকারী প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মানুষের স্বাস্থ্য-তথ্য বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখতে পান, এইচআইভি বা হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে এমএস শনাক্ত হওয়ার হার কম ছিল। যাদের আগে থেকেই এমএস ছিল, তাদের মধ্যেও পরবর্তী সময়ে রোগের পুনরাবৃত্তির হার তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ওই ওষুধগুলো এমএস প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে।   এমএস হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্বাভাবিক তথ্য আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে সুস্থ স্নায়ু টিস্যুতে আক্রমণ করাই মূল সমস্যা। প্রচলিত চিকিৎসাগুলো সাধারণত এই রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে নতুন করে রোগের আক্রমণ বা রিল্যাপ্স কমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আগে থেকে তৈরি হওয়া স্নায়ুর ক্ষতি সাধারণত ঠিক করতে পারে না।   নতুন গবেষণায় অবশ্য আরেকটি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ সরাসরি সবসময় স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে না; বরং এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ভেতরে থাকা

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৬:৪৪
ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ
৩ হাজার ৪০০ ছাড়াল হাম আক্রান্ত, বিমানবন্দর ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন।   ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি।   অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।   তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।   গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।    

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:০
তরুণদের মধ্যে বাড়ছে কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর উদ্বেগ
তরুণদের কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা

একসময় কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই মৃত্যুহার সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়েনি।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারে মারা যাওয়া এক লাখ এক হাজারের বেশি মানুষের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০ বছরে ওই বয়সী মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।   তবে তথ্য আরও বিশ্লেষণ করার পর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। যাদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৪ জন থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ জন হয়েছে। অন্যদিকে অন্তত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ২ দশমিক ৭ জনের কাছাকাছিই স্থির রয়েছে।   গবেষকদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আয়, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগের সম্পর্ক রয়েছে। কলেজ ডিগ্রি না থাকা মানুষের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম বেতনের কাজে যুক্ত থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিমা বা বেতনসহ ছুটির সুবিধা কম থাকতে পারে। এর ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন হতে পারে।   শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝার সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এমন এলাকায় বসবাসের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, যেখানে পরিবেশ দূষণ বেশি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বা শরীরচর্চার সুযোগ তুলনামূলক কম। ধূমপান ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।   তবে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে তরুণদের মৃত্যুহার কেন বাড়ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। গবেষকেরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি নতুন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে এবং ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের নতুন রোগীও এখন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন, কারণ সে সময় রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত।   তরুণদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরুর সুপারিশ করা বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ বছর করেছে। চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে রোগটি উন্নত পর্যায়ে শনাক্ত হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তরুণদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তাই বয়স কম হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৬:৯
জিএলপি-১ ওষুধে বিরল চোখের রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি
জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধে হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা, যা বলছে গবেষণা

ওজন কমানো ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত জনপ্রিয় জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ওজেম্পিক, ওয়েগোভি ও মাউঞ্জারো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে খুবই বিরল একটি চোখের রোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা চলছে। রোগটির নাম নন-আর্টেরিটিক অ্যান্টেরিয়র ইস্কেমিক অপটিক নিউরোপ্যাথি, সংক্ষেপে এনএআইওএন। এতে হঠাৎ করে, সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন ব্যক্তি এসব ওষুধের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাব্য এই ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক করা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণাই প্রমাণ করেনি যে জিএলপি-১ ওষুধ সরাসরি এনএআইওএনের কারণ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   এনএআইওএন কী?   চোখের অপটিক নার্ভে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না পৌঁছালে এনএআইওএন হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের চক্ষু ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ড. জন চেনের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি হঠাৎ অপটিক নার্ভের সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ। সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং এই ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে এনএআইওএনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার না করলেও ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া রাতে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়া এবং অপটিক নার্ভের গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্যও এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।   জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ কতটা?   এই সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ২০২৪ সালে। বোস্টনের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গবেষণায় দেখা যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারী কিছু রোগীর মধ্যে এনএআইওএন হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। সেমাগ্লুটাইড হলো ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রধান সক্রিয় উপাদান।   এরপর আরও বড় পরিসরে বেশ কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। তবে এসব গবেষণার ফল এক নয়। কোনো কোনো গবেষণায় সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অন্য কিছু গবেষণায় তেমন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত জিএলপি-১ ওষুধের কারণে এনএআইওএন হয়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।   ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি বা ইএমএ পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে সেমাগ্লুটাইড-ভিত্তিক কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে এনএআইওএনকে খুব বিরল সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সতর্কতা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জিএলপি-১ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রতি ১০ হাজারে প্রায় একজনের হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।   তবে নর্থ আমেরিকান নিউরো-অপথালমোলজি সোসাইটি এবং আমেরিকান একাডেমি অব অপথালমোলজি জানিয়েছে, কিছু গবেষণায় সামান্য বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও অন্য গবেষণায় কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, এনএআইওএনের সামগ্রিক ঝুঁকি কম।   যুক্তরাষ্ট্রে এখনো নির্দিষ্ট সতর্কতা নেই   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বর্তমানে জিএলপি-১ ওষুধের লেবেলে এনএআইওএনকে নির্দিষ্ট ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা দেয়নি। তবে এফডিএর সেনটিনেল ইনিশিয়েটিভ এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকেত নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   এফডিএ জানিয়েছে, বাজারে আসার পরও ওষুধগুলোর নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   অন্যদিকে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রস্তুতকারক নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সব রিপোর্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মাউঞ্জারো ও জেপবাউন্ডের প্রস্তুতকারক এলি লিলিও জানিয়েছে, তারা ওষুধগুলোর নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে।   ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত?   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জিএলপি-১ ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। ডায়াবেটিস ও গুরুতর স্থূলতার চিকিৎসা না করলেও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য প্রমাণিত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।   যারা সেমাগ্লুটাইড বা অন্য কোনো জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার করছেন এবং কোনো উপসর্গ নেই, তারা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের উদ্বেগ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তবে কারও যদি হঠাৎ করে কোনো ব্যথা ছাড়াই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে এনএআইওএনের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিটি বিরল বলেই মনে হচ্ছে এবং এসব ওষুধ সরাসরি এই রোগ সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৫:১৩
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
দেশে মেধাবী চিকিৎসকের অভাব নেই, তারপরও কেন বিদেশমুখী রোগীরা প্রশ্ন? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে দক্ষ ও মেধাবী চিকিৎসক থাকার পরও চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক রোগী ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন কেন?এ প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, চিকিৎসকদের দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের হাসপাতালেই অনেক উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীরা যদি দেশে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন, তাহলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে চিকিৎসার পেছনে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়াও কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য ঢাকা বা বড় শহরের পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   বিশেষ করে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্তান না হওয়ায় অনেক দম্পতিকে সামাজিক কটূক্তি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অথচ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে; প্রয়োজন সেই সক্ষমতাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও শক্তিশালী করা।   ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা কম হলেও শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিধি বাড়াতে হবে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে।    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মুসারাত সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৮:৪৪
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি? চিকিৎসকের সতর্কবার্তা
এয়ার ফ্রায়ার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি! চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় নতুন আলোচনা

জনপ্রিয় রান্নার যন্ত্র এয়ার ফ্রায়ার নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চিকিৎসক ডা. পুনম দেশাই। দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এই চিকিৎসক দাবি করেছেন, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই তার এয়ার ফ্রায়ার ফেলে দিয়েছেন।   ডা. দেশাইয়ের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা হলেও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আলুর মতো শর্করা বা স্টার্চসমৃদ্ধ খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে।   আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) জানিয়েছে, ভাজা, বেক করা বা রোস্ট করার মতো উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে; তবে মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মাধ্যমে পাওয়া অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো সীমিত ও অসঙ্গত।   ডা. দেশাই আরও দাবি করেছেন, কিছু এয়ার ফ্রায়ারে থাকা নন-স্টিক আবরণে PFAS-জাতীয় রাসায়নিক থাকতে পারে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব এয়ার ফ্রায়ার একই ধরনের আবরণ দিয়ে তৈরি নয়।   কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অনেক নন-স্টিক রান্নার সামগ্রীর আবরণে PFAS ব্যবহার করা হয় এবং অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রায় এসব সামগ্রী ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।   তবে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেই ক্যানসার হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) বলছে, খাবারে থাকা অ্যাক্রিলামাইড মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা বাড়ায়, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি অবশ্য দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত তাপে খাবার রান্না না করার এবং অতিরিক্ত বাদামি বা পুড়ে যাওয়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।   ডা. দেশাই বলেছেন, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতেই হলে তিনি স্টেইনলেস স্টিলের মডেল বেছে নেবেন এবং সেটিও খুব বেশি ব্যবহার করবেন না।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৫:৪৮
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০