- প্রচ্ছদ
- স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে ২ হাজার ৫৫০টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আরও ১৬টি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৮টি হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছরের মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৪০৭টি ঘটনা কোনো না কোনো প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ২০২৬ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩২টি এবং ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাব থেকে ১ হাজার ৩৭৫টি সংক্রমণ এসেছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় টিকা না নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের সংক্রমণের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। মাত্র ১৬টি ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে শুধু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারণে সংক্রমণ হচ্ছে—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও শিশুদের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে সুরক্ষা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২ হাজার ৫৬৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা এবং ৪৮টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গিয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে ২০২৬ সালের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়; নতুন তথ্য যুক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তীব্র চুল পড়ার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য নতুন আশার খবর দিয়েছেন গবেষকেরা। বাতসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আগে থেকেই ব্যবহৃত একটি ওষুধ গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা বা অ্যালোপেশিয়া রোগীদের চুল গজাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। তৃতীয় ধাপের দুটি বড় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটির উচ্চমাত্রা গ্রহণকারী রোগীদের প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ ২৪ সপ্তাহের মধ্যে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পেয়েছেন। গবেষণায় ব্যবহৃত ওষুধটির নাম আপাডাসিটিনিব। এটি মুখে খাওয়ার একটি জ্যানাস কাইনেজ বা JAK ইনহিবিটর, যা শরীরের নির্দিষ্ট রোগপ্রতিরোধী সংকেত নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে চুল পড়ার কারণ হতে পারে। নতুন গবেষণায় এই রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জেএএমএ ডার্মাটোলজি’তে প্রকাশিত দুটি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ১২ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৩৯৯ জন রোগী অংশ নেন। বিশ্বের ২৪৮টি গবেষণাকেন্দ্রে এসব পরীক্ষা পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার মাথার অন্তত অর্ধেক চুল পড়ে গিয়েছিল এবং গবেষণার শুরুতে গড়ে প্রায় ৮৪ শতাংশ মাথার চুল হারিয়েছিলেন তারা। গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব, ৩০ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয়। ২৪ সপ্তাহ পর দেখা যায়, কম মাত্রার ওষুধ গ্রহণকারীদের প্রায় ৪৫ শতাংশের মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে এসেছে। আর ৩০ মিলিগ্রাম মাত্রা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ। বিপরীতে প্লাসিবো গ্রহণকারীদের মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ একই মাত্রার চুল ফিরে পেয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষণায় শুধু মাথার চুল নয়, ভ্রু ও চোখের পাতার চুলের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা গেছে। কিছু রোগীর মাথার চুল পুরোপুরি ফিরে আসার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা সাধারণ বংশগত চুল পড়ার মতো নয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় রোগপ্রতিরোধী সমস্যা, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে চুলের গোড়াকে আক্রমণ করে। ফলে মাথায় ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে পুরো মাথা, ভ্রু, চোখের পাতা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশের চুলও পড়ে যেতে পারে। রোগটির ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। আপাডাসিটিনিবের কার্যপ্রক্রিয়াও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি JAK-1 নামের একটি প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধী সংকেত পরিবহনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ চুলের গোড়াকে বাইরে থেকে উদ্দীপিত করার বদলে ওষুধটি রোগটির পেছনে থাকা রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়ার একটি অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে। তবে গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে সবার জন্য নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ ২৪ সপ্তাহ পরও প্রায় অর্ধেক রোগী পরীক্ষায় নির্ধারিত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়ার মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ওষুধ ব্যবহারের পর চুলের এই পুনরুদ্ধার কতটা স্থায়ী হবে এবং ওষুধ বন্ধ করলে কী ঘটবে, সেটিও আরও গবেষণায় জানতে হবে। ওষুধটির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ওপরের শ্বাসনালির সংক্রমণ, ব্রণ, রক্তে ক্রিয়েটিন ফসফোকাইনেজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং নাক-গলার সংক্রমণের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ১৫ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ, ৩০ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্লাসিবো গ্রহণকারীদের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে দেখা যায়। গবেষকেরা পরীক্ষায় নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির সংকেত পাননি বলে জানিয়েছেন। তবে আপাডাসিটিনিব সাধারণ কোনো চুল পড়ার ওষুধ নয়। এটি একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক রোগপ্রতিরোধী ওষুধ এবং এর আগে থেকেই বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তালিকায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে, তবে গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে এর অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, ইউরোপে পরিস্থিতি এগিয়েছে আরও এক ধাপ। গত ২৯ জুলাই ইউরোপীয় কমিশন ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদন দিয়েছে। ইউরোপীয় অনুমোদনের ভিত্তি ছিল এই তৃতীয় ধাপের UP-AA গবেষণা কর্মসূচির ফলাফল। অ্যালোপেশিয়ার চিকিৎসায় JAK ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অ্যালোপেশিয়ার জন্য বারিসিটিনিব, রিটলেসিটিনিব এবং ডিউরুক্সোলিটিনিবের মতো JAK-সম্পর্কিত ওষুধ অনুমোদিত রয়েছে। ফলে আপাডাসিটিনিবের নতুন ফলাফল এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরও একটি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে JAK ইনহিবিটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA এই শ্রেণির কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে গুরুতর হৃদ্যন্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনা, ক্যানসার, রক্ত জমাট বাঁধা এবং মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। আপাডাসিটিনিবের ক্ষেত্রেও এর রোগপ্রতিরোধী কার্যপ্রক্রিয়ার কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার ফল তাই গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আপাডাসিটিনিব গ্রহণের সুযোগ নেই। কার জন্য এই ওষুধ উপযুক্ত, কী মাত্রায় ব্যবহার করা হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা, তা রোগীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে। সব মিলিয়ে, তীব্র অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ২৪ সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর মাথার চুল ফিরে আসা এবং কিছু রোগীর সম্পূর্ণ চুল পুনরুদ্ধার চিকিৎসকদের আশাবাদী করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
মাত্র কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত। অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে এক হাজার পাউন্ড ছাড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট বা বিবিএল করানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের হাতে ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। সেই অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় ৩৮ বছর বয়সী তিন সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়। এখন তার মৃত্যু নিয়ে তদন্তে বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের যথাযথভাবে ঝুঁকি জানানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলির বাসিন্দা হেইলি ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বামী নিল ডাওয়েলের সঙ্গে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যান। পরিকল্পনা ছিল টামি টাক ও লাইপোসাকশন করানোর। কিন্তু স্বামীর দাবি, অস্ত্রোপচারের অল্প সময় আগে চিকিৎসক তার নিতম্বের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে অতিরিক্তভাবে বিবিএল করানোর প্রস্তাব দেন। সাম্প্রতিক ইনকোয়েস্টে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের জন্য এক হাজার পাউন্ড ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিল ডাওয়েলের দাবি, স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং ঝুঁকিগুলোও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। হেইলি ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের বিহিটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করান। পরদিন ৩ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তিনি দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাট এম্বোলিজমের সম্পর্ক পাওয়া যায়। এ অবস্থায় শরীরের চর্বির কণা রক্তপ্রবাহে ঢুকে ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিবিএল এমন একটি কসমেটিক সার্জারি, যেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে লাইপোসাকশনের মাধ্যমে চর্বি সংগ্রহ করে নিতম্বে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চর্বি ভুল জায়গায় প্রবেশ করলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। হেইলির স্বামী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার স্ত্রী যে তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সবগুলোর বিষয়ে যথাযথ সম্মতি ছিল না। ২০২৪ সালে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি তাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। তার আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল অস্ত্রোপচারের সময়কাল নিয়ে। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি প্রায় ছয় ঘণ্টা চলার কথা থাকলেও তা শেষ হয় প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। তিনি দাবি করেন, সার্জন অস্ত্রোপচারের মাঝপথে চলে যান এবং অ্যানেসথেটিস্টের ওপর দায়িত্ব রেখে যান। নিল আরও অভিযোগ করেছিলেন, হেইলির মৃত্যুর পর তাকে একটি কনসেন্ট ফর্মে সই করতে বলা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। তবে হেইলির মৃত্যু ঘিরে চলমান তদন্তে রোগীর সম্মতি, তাকে দেওয়া তথ্য এবং অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। হেইলির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ইনকোয়েস্ট পরিচালনা করছেন হ্যাম্পশায়ারের এরিয়া করোনার নিকোলাস ওয়াকার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কে চলমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ইনকোয়েস্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে এবং নিল ডাওয়েল সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন। করোনার তদন্তের পরিধি শুধু হেইলির মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা তথ্য পাচ্ছেন, সেটিও পর্যালোচনায় আনা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই চিকিৎসা নিতে তুরস্কে যাওয়ার পর অন্তত ছয় ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। কম খরচে কসমেটিক সার্জারির জন্য তুরস্ক ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় হলেও একাধিক মৃত্যুর পর বিদেশে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। হেইলি ডাওয়েলের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কেবল অস্ত্রোপচারের ফলাফল নয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক মিনিট আগে নতুন একটি উচ্চঝুঁকির প্রক্রিয়া করানোর সিদ্ধান্ত একজন রোগী কতটা বুঝে এবং স্বাধীনভাবে নিতে পারেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে এই মৃত্যু।
নারীদের প্রজননক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা যায় কি না, তা নিয়ে নতুন গবেষণা করছেন চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত স্টেট কি ল্যাবরেটরি অব স্টেম সেল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ বায়োলজির অধ্যাপক ও পরিচালক ড. হংমেই ওয়াং। তার নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল খতিয়ে দেখছে, বছরে প্রায় ১২ বার মাসিক হওয়ার পরিবর্তে যদি তিন মাসে একবার বা বছরে মাত্র চারবার মাসিক হয়, তাহলে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণু (এগ) আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে কি না। তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি থেকে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ড. ওয়াংয়ের গবেষণার ধারণা এসেছে মানুষের বিবর্তন ও অতীত জীবনধারা বিশ্লেষণ থেকে। তার মতে, অতীতে নারীরা ঘন ঘন গর্ভধারণ ও দীর্ঘ সময় সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণে সারা জীবনে গড়ে প্রায় ১০০ বার মাসিক হতো। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় একজন নারী সারা জীবনে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বার মাসিকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে ডিম্বাণু তুলনামূলক দ্রুত কমে যেতে পারে এবং সন্তান ধারণের সময়কালও কমে আসতে পারে। স্পেনের সংবাদপত্র *এল পাইস*-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ওয়াং বলেন, ডিম্বস্ফোটন কমানো গেলে আরও বেশি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ ডিম্বস্ফোটন বন্ধ হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদনও কমে যায়, যা নারীর হাড়, হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ কারণে গবেষকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি নিরাপদ পদ্ধতি খুঁজে বের করা, যাতে নারীর প্রজননক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেও সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণার সঙ্গে চীনের বর্তমান জনসংখ্যাগত সংকটেরও সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্টেম সেল, প্রজনন চিকিৎসা এবং ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছে, যাতে মানুষ চাইলে তুলনামূলক বেশি বয়সেও সন্তান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই গবেষণা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগে এটি কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি বা স্বাস্থ্য পরামর্শ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ক্যালোরি কমিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করেও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা। গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমানো একই ধরনের বিপাকীয় সুবিধা দিতে পারে, যা আগে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হতো। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০টিরও বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Cell Press Blue-এ। এতে দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কমানো হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, কোষের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুষ্টি-সংকেত নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও কমতে পারে। গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর-২১ (FGF21) নামের একটি বিপাকীয় হরমোন। খাদ্যে প্রোটিন কমে গেলে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, FGF21 শক্তি ব্যয় বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যালোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রোটিনের তিনটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীরে এসব অ্যামিনো অ্যাসিডের অতিরিক্ত উপস্থিতি কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের গবেষক ডাডলি ল্যামিং বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের জন্য পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষকেরা এও স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নতুন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়; বরং পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর একটি পর্যালোচনা। তাই এটি মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব বিপাকীয় পরিবর্তন সত্যিই মানুষের আয়ু বাড়ায় কি না। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য একই মাত্রার প্রোটিন উপযুক্ত নয়। তাই এই ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরচর্চার সময় খাদ্য থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। গবেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক খাদ্য নির্দেশিকায় সবার জন্য এক ধরনের প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজিসহ একাধিক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অল্প মাত্রার অ্যালকোহলও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, দিনে অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল পান হৃদ্স্বাস্থ্য বা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে নতুন গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অল্প মাত্রার অ্যালকোহলও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজি–তে প্রকাশিত গবেষণা এবং এ–সংক্রান্ত একাধিক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, পরিকল্পনা এবং সমস্যা সমাধানের মতো জ্ঞানীয় দক্ষতাকে দুর্বল করতে পারে। গবেষকদের মতে, অ্যালকোহল মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার ও হোয়াইট ম্যাটার—উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। গ্রে ম্যাটার চিন্তাভাবনা, বিচার-বিশ্লেষণ ও স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে, আর হোয়াইট ম্যাটার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণে এই দুই অংশের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল শুধু মস্তিষ্কের কোষেই প্রভাব ফেলে না; এটি ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় এবং ভিটামিন বি–১ (থায়ামিন)–এর ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এসব পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়ও দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের এমন স্নায়বিক সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিচার-বিশ্লেষণ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যালকোহল ছাড়ার পরও এসব পরিবর্তনের কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আগেই জানিয়েছে, স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহল গ্রহণের এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও একই ধরনের বার্তা দিচ্ছে—বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘পরিমিত পান’ও ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, অল্প অ্যালকোহল গ্রহণ করলেই সবার স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যায় না। তবে গবেষণাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে, অ্যালকোহল যত কম গ্রহণ করা যায়, মস্তিষ্কের জন্য তত ভালো। বিশেষ করে যাদের পরিবারে ডিমেনশিয়া, স্ট্রোক বা অন্যান্য স্নায়বিক রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। নতুন এসব গবেষণার ফলে একসময় প্রচলিত থাকা ‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’ ধারণাটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকায়ও এ বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা বা জিমে ভারী ওজন তোলার পর পেশি ফুলে ওঠা বা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। তবে শরীরচর্চা শেষ করার পর অনেক পুরুষই তাদের যৌনাঙ্গে এক ধরনের সাময়িক আকৃতিগত সংকোচনের মুখোমুখি হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় জিম পরবর্তী এই সাময়িক সংকোচন একেবারেই স্বাভাবিক হলেও, সঠিক ধারণার অভাবে অনেক পুরুষই এ নিয়ে মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রের নান্দনিক নার্স প্র্যাকটিশনার ও লাশফুল এস্টেটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস বুস্তামান্তে সম্প্রতি এই বিষয়ের পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখা করেছেন। তার মতে, ব্যায়াম করার সময় প্রায় সব পুরুষের ক্ষেত্রেই কম-বেশি সাময়িক আকৃতি সংকোচনের ঘটনা ঘটে। কারও ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন খুবই সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে শরীরের সাথে অঙ্গটি অতিরিক্ত গুটিয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী সমস্যা নয় এবং শারীরিক কোনো ক্ষতির কারণও নয়। ভারী ব্যায়াম, কার্ডিও বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের সময় মানুষের শরীর একটি বিশেষ জরুরি বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায় চলে যায়। এই সময়ে শরীরের প্রধান প্রধান পেশি, হ্রদযন্ত্র, ফুসফুস এবং ত্বকে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। ফলে শরীরের অসংবেদনশীল ও অতিরিক্ত অংশগুলো থেকে রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে কমে গিয়ে সচল পেশিগুলোতে রক্ত প্রবাহিত হয়। ব্যায়াম শেষ করার পর যখন শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে এবং স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তখন রক্ত সঞ্চালন আবার সর্বত্র সুষমভাবে বণ্টন হয়। সাধারণত জিম শেষ করার কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে শরীরের এই অংশটি আগের স্বাভাবিক শিথিল অবস্থায় ফিরে আসে। তবে ব্যায়ামের পর শরীর অতিরিক্ত পানিশূন্য থাকলে, শরীর ঠাণ্ডা পরিবেশের মুখোমুখি হলে কিংবা অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও ব্যায়াম পূর্ববর্তী উদ্দীপক পানীয় গ্রহণ করলে এই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে। ক্রিস বুস্তামান্তে সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনার কোনো শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলেও এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক পুরুষ বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত বোধ করেন, জিমের ড্রেসিংরুমে অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করেন এবং ভাবেন যে তাদের শরীরে কোনো বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। মূলত এই অনাবশ্যক দুশ্চিন্তা ও মানসিক উদ্বেগই শারীরিক সমস্যার চেয়ে বড় আকার ধারণ করে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণ সংকোচন স্বাভাবিক হলেও কিছু বিশেষ লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি ব্যায়াম শেষ করার অনেক পরেও আকৃতি স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরে, নতুন করে কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব হয়, শারীরিক অক্ষমতা বা অবশ ভাব দেখা দেয় কিংবা প্রস্রাবে কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তবে বিলম্ব না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, জিমের আয়না বা পোশাক পরিবর্তনের ঘরের সাময়িক পরিবর্তন দেখে নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা বা যৌন স্বাস্থ্য বিচার করা মোটেও ঠিক নয়। সঠিক তথ্য জানা থাকলে অনাবশ্যক দুশ্চিন্তা থেকে সহজেই মুক্ত থাকা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে কঠোর গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার কারণে গর্ভপাতের (মিসক্যারেজ) জটিলতায় আক্রান্ত এক নারী সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণসংকটে পড়েছিলেন। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এমিলি ওয়ালডর্ফ গুরুতর জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও ভ্রূণের হৃদস্পন্দন চলমান থাকায় চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে গর্ভাশয় খালি করতে পারেননি। আরকানসাসের গর্ভপাত আইন ভঙ্গের আশঙ্কায় তাঁকে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা তাঁর জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা এমিলি ও তাঁর পরিবারকে জানান, জরায়ুর মুখ খুলে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী দ্রুত গর্ভাশয় খালি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অঙ্গরাজ্যের আইন এবং ফৌজদারি শাস্তির আশঙ্কায় হাসপাতাল সেই চিকিৎসা দিতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা গভর্নরের দপ্তরেও যোগাযোগ করেন, তবে সেখান থেকেও কোনো সমাধান মেলেনি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পর এমিলিকে শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে কানসাসে নেওয়া হয়, যেখানে গর্ভপাত বৈধ। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন রক্ষার জন্য জরুরি চিকিৎসা দেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা বেড়ে যায়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ডবস রায়ের পর আরকানসাসে প্রায় সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ হয়। কেবল মায়ের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হলেও, চিকিৎসকেরা বলছেন আইনের ভাষা স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক হাসপাতাল ঝুঁকি এড়াতে জরুরি পরিস্থিতিতেও চিকিৎসা দিতে দ্বিধায় পড়ে। প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানে আরকানসাসের একাধিক চিকিৎসক একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এমিলি ওয়ালডর্ফ বর্তমানে আরকানসাসের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার বাদীদের একজন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বর্তমান আইন জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্সের কার্যালয় জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্য আদালতে বিদ্যমান গর্ভপাত আইনকে সমর্থন ও রক্ষায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
বিরল লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে একসময় পুরো শরীর অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল হলুদ হয়ে গিয়েছিল যুক্তরাজ্যের ২৫ বছর বয়সী কিরান কুপারের। নিজের চেহারার পরিবর্তনে তিনি এতটাই অস্বস্তিতে ছিলেন যে মানুষের দৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পেতেন। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা এবং দ্বিতীয়বার লিভার প্রতিস্থাপনের পর এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের চেশায়ারের নর্থউইচের বাসিন্দা কিরান জন্মের পর থেকেই বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া নামের একটি বিরল লিভারের রোগে ভুগছেন। এ রোগে যকৃত থেকে পিত্ত বহনকারী নালিগুলো ঠিকভাবে তৈরি হয় না বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পিত্ত স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পেরে যকৃতে জমে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করে। মাত্র সাত সপ্তাহ বয়সে রোগটি নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রোপচার করা হলেও সেটি সফল হয়নি। পরে ২০০২ সালে, মাত্র ১১ মাস বয়সে তার প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। তবে ২০১৪ সালে, ১৩ বছর বয়সে, তার শরীরে আবার জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা পরে জানান, ভবিষ্যতে তাকে দ্বিতীয়বার লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে। ২০২৩ সালে তাকে প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শরীরে বিলিরুবিন নামে একটি রঞ্জক পদার্থ অস্বাভাবিকভাবে জমে যাওয়ায় ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে জন্ডিস বলা হয়। কিন্তু কিরানের ক্ষেত্রে সেই হলুদ রং এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তার পুরো শরীর প্রায় উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। কিরান বলেন, "হঠাৎ নিজেকে আয়নায় দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি যেন 'দ্য সিম্পসনস'-এর বার্ট সিম্পসনের মতো হয়ে গেছি। রাস্তায় বের হলে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। এতে আমি খুব অস্বস্তি বোধ করতাম।" তার মা, ৫৪ বছর বয়সী কেরি কুপার বলেন, একদিন ছেলে অসুস্থ বোধ করছিল। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, কিরানের পুরো শরীর হলুদ হয়ে গেছে। "আমার মনে হয়েছিল, আমি হয়তো আমার ছেলেকে হারাতে যাচ্ছি। প্রথমে তার শরীর হলুদ হয়েছিল, পরে সেই রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমরা মজা করে বলতাম, সে বার্ট সিম্পসনের মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ," বলেন কেরি। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে কিরানকে বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং একটি উপযুক্ত লিভারের অপেক্ষা করেন। এ সময় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখা হয়। অবশেষে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দ্বিতীয়বারের মতো লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে তার ত্বকের রং স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে অস্ত্রোপচারের পর তাকে আবার হাঁটা শিখতে হয়েছে। কিরান বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগে ব্যথা খুব একটা ছিল না, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সময়টা ছিল ভয়াবহ। আমাকে আবার হাঁটা শিখতে হয়েছে। এখনও প্রতি ছয় সপ্তাহ পরপর হাসপাতালে যেতে হয় এবং সারা জীবন ওষুধ খেতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমি এখন অনেক ভালো অনুভব করছি। আমি বেঁচে আছি, এ জন্য কৃতজ্ঞ। আমার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই, কারণ আমি যেন নরক থেকে ফিরে এসেছি।" বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া একটি বিরল জন্মগত রোগ। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন এ রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘদিন জন্ডিস থাকা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে রঙের মল এর প্রধান লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগটি যকৃত বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ রোগের স্থায়ী ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা নেই। তবে জন্মের প্রথম দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাসাই পদ্ধতির অস্ত্রোপচার করলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। যদি সেটি সফল না হয়, তাহলে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে।
স্মার্ট ওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডের ভিড়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন ও অভিনব মাধ্যম হিসেবে বাজারে আসছে সেন্সরযুক্ত ‘স্মার্ট টয়লেট সিট’। এই আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য বাজারে আনতে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে মার্কিন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি কাসানা। দৈনন্দিন জীবনের কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচকগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে ড. নিকোলাস কন এই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন। কাসানার তৈরি এই বিশেষ টয়লেট সিটে উন্নতমানের সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার খুব সহজেই পরিমাপ করা সম্ভব। পরীক্ষার পর এই সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মোবাইল অ্যাপে যুক্ত হয়ে যায়, যা দেখে ব্যবহারকারী সহজেই নিজের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারেন। নতুন এই ‘স্মার্ট সিট’-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ ডলার। এটি যেকোনো সাধারণ টয়লেটের মূল সিটের পরিবর্তে খুব সহজেই ইনস্টল করা যায়। ব্যবহারকারী সিটে বসার সঙ্গে সঙ্গেই এর ভেতরে থাকা সেন্সরগুলো তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে এবং রিয়েল-টাইম ডাটা মোবাইল অ্যাপে আপলোড করে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা, যারা বিভিন্ন ফিটনেস ডিভাইস চার্জ দেওয়া বা নিয়মিত ব্যবহার করার ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখে এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট অস্টিন ম্যাককর্ড জানান, এই পণ্যের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত কোনো নতুন অভ্যাস গড়তে হয় না বা আলাদা করে কিছু মনে রাখতে হয় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার একটি বড় অংশের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে এবং তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়। কাসানার এই ডিভাইসটি সেই জটিল প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, এই ডিভাইসে থাকা সেন্সরগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এটি চিকিৎসকের বিকল্প বা কোনো রোগ নির্ণয়কারী যন্ত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে এটি বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যতে নার্সিং হোম ও বয়স্কদের আবাসন প্রকল্পেও এটি সরবরাহের বড় সুযোগ রয়েছে। সূত্র: ফোর্বস
দীর্ঘায়ু ও বার্ধক্য ঠেকানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বায়োহ্যাকার ব্রায়ান জনসন জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে একটি বিরল ও নিরাময়হীন অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত। ‘অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস (এআইজি)’ নামে পরিচিত এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই পাকস্থলীর আস্তরণে আক্রমণ চালায়। নিজের শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমার পাকস্থলী নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলছে।" ৪৮ বছর বয়সী ব্রায়ান জনসন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত বায়োহ্যাকারদের একজন। বার্ধক্যের গতি কমানো এবং যতদিন সম্ভব সুস্থভাবে বেঁচে থাকার লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই, কোলনোস্কপি, কঠোর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং নানা পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্যসেবা তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র Don't Die: The Man Who Wants to Live Forever তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে জনসন জানান, গত মে মাসে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস ধরা পড়ে। তবে তিনি নিশ্চিত নন, ঠিক কত বছর ধরে তিনি এই রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, তার দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিকভাবে কম ফেরিটিন বা আয়রন সঞ্চয়ের মাত্রার কারণ অনুসন্ধান করতেই রোগটি শনাক্ত হয়। রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কোপি এবং পাকস্থলীর বায়োপসির মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করা হয়। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছর ধরে তার ফেরিটিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পুষ্টি গ্রহণ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। পরে বিশেষায়িত পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে অ্যান্টি-প্যারিয়েটাল সেল অ্যান্টিবডির মাত্রা বেড়ে গেছে, যা অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পাকস্থলীর বায়োপসিতে রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তিনি আরও জানান, ২১ বছর বয়সেই তার হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়েছিল এবং প্রায় তিন দশক ধরে ওষুধের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের আগে থেকেই অন্য কোনো অটোইমিউন রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য সংস্থা গাটস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদনকারী কোষে আক্রমণ করে। ফলে আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ শোষণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এতে রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। রোগটির সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বদহজম, বমি বমি ভাব, অল্প খাওয়াতেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি, পেটে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়। ব্রায়ান জনসন মনে করেন, শৈশবে অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চিনিযুক্ত খাবার ও কোমল পানীয় গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক চাপ ও মানসিক অবসাদ তার শরীরে অটোইমিউন সমস্যার সূচনা ঘটাতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনো অনুমোদিত স্থায়ী চিকিৎসা নেই। সাধারণত চিকিৎসকেরা রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং সম্ভাব্য জটিলতা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। তবে জনসন জানিয়েছেন, তিনি এবং তার চিকিৎসক দল আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনভিত্তিক গবেষণা ও উন্নত জীববৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগটির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, "আজ পর্যন্ত অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনো অনুমোদিত নিরাময় নেই। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত জীববিজ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির এই যুগে শুধু অতীতে নিরাময় ছিল না বলেই কোনো রোগকে চিরস্থায়ীভাবে নিরাময় অযোগ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।" একই সঙ্গে তিনি জানান, তার লক্ষ্য এখনো অপরিবর্তিত, যতদিন সম্ভব সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা।
ধূমপানের বিকল্প ভেবে অনেকেই ভেপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। কেউ নেন কৌতূহল থেকে, কেউ স্বাদের জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর। নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ফুসফুস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে আছে ভেপের বাষ্পে। একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত ছিল। ধূমপানের বিকল্প কিংবা আধুনিক অভ্যাস হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট। অনেকের ধারণা, এটি ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ। তবে গবেষণার তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভেপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ সালে ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম এবং যুক্তরাজ্যে ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য সীমিত। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত "Electronic Cigarettes (Vaping) Preferences Among University Students in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার ই-সিগারেট ব্যবহার করেছেন অথবা নিয়মিত ভেপিংয়ে অভ্যস্ত। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একই সঙ্গে ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ই-সিগারেট তাদের তামাকজাত পণ্যের প্রতি আসক্ত করে তুলেছে। কীভাবে কাজ করে ভেপ ডিজাইনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ভেপের কাঠামো একই ধরনের। এতে একটি ট্যাংকে থাকে ই-লিকুইড বা ভেপের জুস। হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে এই তরল উত্তপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। ব্যবহারকারী মাউথপিস দিয়ে সেই বাষ্পসদৃশ মিশ্রণ ফুসফুসে টেনে নেন। ভেপের জুসে সাধারণত থাকে নিকোটিন, বিভিন্ন ফ্লেভার এবং প্রোপিলিন গ্লিসারল বা গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক। কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেপের প্রায় প্রতিটি উপাদানই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নিকোটিন একটি আসক্তিকর রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রোপিলিন গ্লিসারল ও গ্লিসারিন সরাসরি বিষাক্ত না হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে কাশি, ফুসফুসের সক্ষমতা হ্রাস এবং বুকে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেপের বিভিন্ন স্বাদের জন্য ব্যবহৃত ডাইএসিটিল, এসিটিলপ্রোপিলিন, মেন্থল, কফি ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কিছু রাসায়নিক কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত সুক্রোজ ও গ্লুকোজ উত্তপ্ত হয়ে রিয়েকটিভ এলডিহাইডে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেল-ক্রোমিয়াম সংকরের মতো ভারী ধাতুও উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপ যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ভারী ধাতুর নির্গমনও তত বাড়তে থাকে। প্রথম ৫০ টানের তুলনায় ১০১ থেকে ১৫০তম টানে প্রায় ৬০ গুণ বেশি ভারী ধাতু উৎপন্ন হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জৈব যৌগও ভেপের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে গবেষণা ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। ৫৪ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপের বাষ্প গ্রহণকারী প্রাণীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি ছিল। তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভেপ কি ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে? গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ পরবর্তীতে ধূমপানও শুরু করেছেন। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে ভেপে আসা কিছু মানুষ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে সরে যেতে পেরেছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সহায়ক হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে ভেপকে নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতনতার বিকল্প নেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, তামাক ও ভেপসহ নিকোটিননির্ভর সব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষতিকর জেনেও অনেকেই অভ্যাস থেকে সরে আসতে পারেন না। অথচ দীর্ঘদিন ভেপ ব্যবহারের ফলে যে ক্ষতি হয়, তার অনেকটাই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র মাথাব্যথা ও আচরণগত কিছু পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্পেনের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার (মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন ক্যানসার) হয়েছে। তবে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার নয়, বরং জীবন্ত ফিতাকৃমির (টেপওয়ার্ম) লার্ভা বাসা বেঁধেছিল। ঘটনাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Emerging Infectious Diseases-এ প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে Fox News Digital। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের কাস্তেয়োন অঞ্চলের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কখনো এমন কোনো দেশে ভ্রমণ করেননি, যেখানে এই রোগ সাধারণভাবে বেশি দেখা যায়। তবুও তিনি নিউরোসিস্টিসারকোসিস (Neurocysticercosis) নামে পরিচিত একটি বিরল পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এটি Taenia solium বা শূকরের ফিতাকৃমির ডিম থেকে সৃষ্ট একটি রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে। প্রথমে সিটি স্ক্যানে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। সেগুলো দেখতে ক্যানসারের টিউমারের মতো হওয়ায় ধারণা করা হয়, শরীরের অন্য কোথাও থেকে ক্যানসার ছড়িয়ে মস্তিষ্কে এসেছে। এই সন্দেহের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা পুরো শরীরের স্ক্যান, কোলনোস্কোপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোথাও ক্যানসারের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। এরপর আরও বিস্তারিত এমআরআই পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মস্তিষ্কে কয়েকটি তরলভর্তি সিস্ট রয়েছে এবং কয়েকটির ভেতরে ফিতাকৃমির মাথাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে রোগী নিউরোসিস্টিসারকোসিসে আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা তাঁকে অ্যালবেনডাজল ও প্রাজিকোয়ান্টেল নামে দুটি পরজীবীনাশক ওষুধ এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োগ করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি কোনো জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, বহু বছর আগে অসাবধানতাবশত ফিতাকৃমির অতি ক্ষুদ্র ডিম শরীরে প্রবেশ করার ফলে এই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় এমন কিছু সহকর্মীর সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন, যারা এমন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন যেখানে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এটিকে নিশ্চিত সংক্রমণের উৎস হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের মাংস ঠিকমতো রান্না না করে খেলে সাধারণত অন্ত্রে ফিতাকৃমির সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু নিউরোসিস্টিসারকোসিস হয় ভিন্নভাবে। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করলে সেগুলো রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সিস্ট তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় খিঁচুনি, স্ট্রোক, স্নায়বিক জটিলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অন্যান্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি একক রোগীর ঘটনা। তাই এর ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে যেসব অঞ্চলে এই রোগ খুব কম দেখা যায়, সেখানেও এমন সংক্রমণ ঘটতে পারে, এ ঘটনাটি সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে। কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোসিস্টিসারকোসিসের ২ শতাংশেরও কম ঘটনা দেশীয়ভাবে সংক্রমিত বলে বিবেচিত হয়। আবার ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮টি। গবেষকদের মতে, রোগীর ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও মস্তিষ্কে একাধিক রিং-আকৃতির ক্ষত দেখা গেলে শুধু ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, নিউরোসিস্টিসারকোসিসের মতো বিরল পরজীবী সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিল পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচার এড়িয়ে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
আপনার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয় হলো কান। আর সেই কানে যদি ঠিকমতো শুনতে না পান, তবে মহাবিপদ। যদিও অনেক সময় ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করলেও আমরা তা সহজে বুঝতে পারি না। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, বধিরতা বা কানে না শোনার সমস্যাটি হঠাৎ করে আসে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়; শ্রবণশক্তি পুরোপুরি কমে যাওয়ার আগে কান কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলোকে সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রধান ৫টি লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো: কানে ভারি ভাব বা চাপ অনুভব করা: কিছু মানুষের কানে সবসময় ভারি ভাব কিংবা চাপ অনুভূত হয়। আবার অনেকের মনে হয় কান যেন বন্ধ বা জ্যাম হয়ে আছে। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কানের ভেতরের অংশে কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা ভীষণ জরুরি। কথার আওয়াজ শুনলেও অর্থ বুঝতে না পারা: ফোনে কথা বলার সময় বারবার শব্দ পরিষ্কার না শোনা, শিশু কিংবা নারীর তুলনামূলক উঁচু স্বরের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া কিংবা কথার শব্দ শুনলেও তার অর্থ বুঝতে সমস্যা হওয়া শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বিশেষ করে বাজার, অফিস কিংবা ভিড়ের জায়গায় কারও কথা বুঝতে সমস্যা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। টিভি বা মোবাইলের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়া: টিভি, মোবাইল কিংবা রেডিওর ভলিউম আগের চেয়ে বেশি রাখতে ইচ্ছা করাও একটি বড় সতর্ক সংকেত। যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আপনি খুব জোরে শব্দ দিয়ে টিভি বা মোবাইল চালাচ্ছেন, তাহলে দ্রুত শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন আছে। কানের ভেতর অদ্ভুত শব্দ বা ‘টিনিটাস’: এটি সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, কানের ভেতর সবসময় ভোঁ ভোঁ, শোঁ শোঁ, বাঁশির মতো বা ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দ হচ্ছে। আশপাশে কোনো শব্দ না থাকলেও মনের ভেতর এই আওয়াজ শোনা যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিনিটাস’ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটিই শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রথম সংকেত। সবাই আস্তে কথা বলছে মনে হওয়া: অন্যের কথা বারবার জিজ্ঞাসা করা বা ঠিকমতো শুনতে না পাওয়া এর লক্ষণ। অনেক সময় আপনার মনে হতে পারে যে সামনের মানুষটি খুব আস্তে বা অস্পষ্ট করে কথা বলছে, কিন্তু আসলে তা নয়; মূলত আপনার কান শুনতে পাওয়ার ক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়স বৃদ্ধি, দীর্ঘ সময় হেডফোনে জোরে গান শোনা, উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা, কানের সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। তাই কানে এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে শ্রবণশক্তির আরও অবনতি রোধ করা সম্ভব।
পারিবারিকভাবে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় স্মার্টফোন ও টিভির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে—এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের চেয়েও বেশি ডিভাইস ব্যবহার করছেন অভিভাবকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, পারিবারিক খাবারের সময় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবারেই কোনো না কোনো ধরনের মিডিয়া ব্যবহার দেখা গেছে। ‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ৩৫০-এর বেশি অভিভাবকের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশের বেশি অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের শেষ পারিবারিক খাবারের সময় তারা ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস ব্যবহার করেছেন। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে স্মার্টফোন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭০ শতাংশও খাবারের সময় কোনো না কোনো ধরনের মিডিয়া ব্যবহার করেছে। পরিবার একসঙ্গে খাবার খেলে মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয় এবং শিশুদের খাদ্যাভ্যাসও তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর থাকে। তবে শুধু একসঙ্গে খাওয়াই যথেষ্ট নয়—এর সঙ্গে প্রয়োজন মনোযোগী ও বিভ্রান্তিহীন সময়। টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মার্জি স্কিয়ার বলেন, পারিবারিক খাবার মূলত একটি নিয়মিত ‘চেক-ইন’ মুহূর্ত, যেখানে আবেগ ও অনুভূতি ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয়। তার মতে, এই সময় সন্তানরা অনুভব করে তারা গুরুত্ব পাচ্ছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান ফিশেল বলেন, পারিবারিক খাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটিন, যা শিশুদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক পরিচয়ের অনুভূতি তৈরি করে। গবেষক সিসিলিয়া সাদা গারিবায় বলেন, সব ধরনের মিডিয়া ব্যবহার একই রকম নয়। বড় স্ক্রিনে একসঙ্গে কিছু দেখা পারিবারিক বন্ধনের সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারে প্রত্যেকে আলাদা জগতে চলে যায়—ফলে একসঙ্গে থেকেও সংযোগ কমে যায়। গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে পরিবারগুলোর মধ্যে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলেও সেটি অনেক সময় একাকী বা বিভক্ত মিডিয়া ব্যবহারের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় না পেলেও অন্তত সপ্তাহে একবার হলেও ডিভাইস ছাড়া একসঙ্গে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এমনকি পাঁচ থেকে বিশ মিনিটের ছোট পারিবারিক সময়ও সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব না হলেও সীমিত ও সচেতন ব্যবহারই পারিবারিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিয়নে একটি আলোচনা সভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠান শেষে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বাইরে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিচয়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তির বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি ধারণ করা হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে অনেকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন অঙ্গভঙ্গি প্রত্যাশিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক আচরণের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত? রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ। উচ্চ রক্তচাপের কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়? অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। লবণ কম খাওয়া এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে। নিয়মিত ব্যায়াম করা সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়। ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়। মানসিক চাপ কমান মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন ৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না। নিয়মিত ওষুধ খান ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না। ক্যাফেইন কমান দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।
পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বিধান, তেমনি রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দিকও। কিন্তু প্রতি বছর অসচেতনতা, তাড়াহুড়া এবং সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা কুরবানির গোশতের গুণগত মান নষ্ট করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ায়। এসব ভুল শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও ক্ষতিকর হতে পারে। কুরবানির সময় সাধারণ কিছু ভুল ও তার সঠিক দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো। জবাইয়ের সময় যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয় ও সঠিক পদ্ধতি: কুরবানির অন্যতম বড় ভুল হলো শরিয়তসম্মত জবাই পদ্ধতি অনুসরণ না করা, যেমন— ধারালো ছুরি ব্যবহার না করা, পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া কিংবা এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা। আরেকটি গুরুতর ভুল হলো, জবাইয়ের পর পশুর পুরোপুরি প্রাণ বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো বা দ্রুত প্রাণ বের করার জন্য গলার স্থান বা মেরুদণ্ডে ধারালো ছুরির আগা দিয়ে আঘাত করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে, এতে পশুর মেরুরজ্জুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পশু আকস্মিক শক বা হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়ার ব্যাঘাতে মারা যেতে পারে। ফলে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হতে পারে না এবং গোশতে জমাট রক্ত থেকে গোশতের গুণগত মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। সঠিক নিয়ম হলো প্রধান রগগুলো কেটে পশুর শরীর থেকে পর্যাপ্ত রক্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া। গরম গোশত সংরক্ষণ ও ধোয়ার ভুল পদ্ধতি: কুরবানির পরপরই গরম গরম গোশত রান্না করে খাওয়া কিংবা তাড়াহুড়া করে পলিথিনে ভরে স্তূপ করে রাখা বড় ধরনের ভুল। বৈজ্ঞানিকভাবে, জবাইয়ের পর গোশত অন্তত ৬ ঘণ্টা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা বা ‘চিলিং’ করা উত্তম, যা গোশত নরম করে, স্বাদ উন্নত করে এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। গরম অবস্থায় গোশত প্যাকেট বা স্তূপ করে রাখলে ভেতরে তাপ আটকে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধি ও পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া গোশত কাটার পর অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার ধোয়ার ফলে গোশতের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং পানির ছিটা থেকে জীবাণু রান্নাঘরের সিঙ্ক বা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে গোশতে দৃশ্যমান ময়লা, লোম বা জমাট রক্ত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত গোশত খাওয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ: কুরবানির দিনে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গোশত বেশি পরিমাণে খেলে বদহজম, গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটি, উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা, রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা, ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাস্তা দখল করার কারণে পরিবেশ দূষণ হয় এবং রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় রক্ত ও বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, মাছি ও সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তাই নির্দিষ্ট স্থানে পরিচ্ছন্নভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা জরুরি। কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিফলন। তাই শরিয়তের বিধান, স্বাস্থ্যবিধি ও বৈজ্ঞানিক দিক মাথায় রেখে সঠিকভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা সবার দায়িত্ব। সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানি করলে একদিকে যেমন ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজও থাকে নিরাপদ, সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব জগতেই এবার মানুষের হারানো হাত কিংবা পা পুনরায় গজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একদল শক্তিশালী জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবদেহের অঙ্গ ও কোষ পুনরুত্পাদন বা রিঅ্যাক্টিভেশনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS)-এ প্রকাশিত এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ হারানো লাখ লাখ মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন হাড়, মাংসপেশি এবং টিস্যু গজানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগার একযোগে কাজ করেছে। মেক্সিকান অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার নিয়ে কাজ করা ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী জশ কারি জানান, অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুর—এই তিনটি ভিন্ন প্রকৃতির জীবের অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তুলনা করে দেখা গেছে যে, তাদের মধ্যে একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জেনেটিক প্রোগ্রাম কাজ করছে। এই যৌথ প্রকল্পের অন্য দুই প্রধান গবেষক হলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জন ডেভিড এ. ব্রাউন, যিনি ইঁদুরের আঙুল পুনরুত্পাদন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের কেনেথ ডি. পস, যার গবেষণার মূল বিষয় ছিল জেব্রাফিশের পাখনার পুনরুত্পাদন। প্রকৃতিতে অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার তার হারানো হাত-পা, লেজ, মেরুদণ্ডের টিস্যু এবং এমনকি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুনরায় গজিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, জেব্রাফিশ বারবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পাখনা মেরামতের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও কিডনি পুনর্গঠন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে ইঁদুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কারণ মানুষের মতো ইঁদুরেরও কিছু ক্ষেত্রে নখের অংশ অক্ষত থাকলে আঙুলের ডগা পুনরুত্পাদনের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৬' (SP6) এবং 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৮' (SP8) নামের দুটি বিশেষ জিন যখন সক্রিয় বা 'অন' হয়, তখন এই প্রাণীদের শরীরে অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা জেগে ওঠে। গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা জিন-সম্পাদনার আধুনিক প্রযুক্তি 'ক্রিসপার' (CRISPR) ব্যবহার করে অ্যাক্সোলটলের শরীর থেকে 'SP8' জিনটি অপসারণ করেন। এর ফলে প্রাণীটি তাৎক্ষণিকভাবে তার হাড় ও অঙ্গ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একইভাবে ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যায়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরিবর্তনের নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে এই জিনটি আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের হাড় গজানোর ক্ষমতা আবার পুনরুদ্ধার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হন, যাদের একটি বড় অংশই ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভোগেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অঙ্গহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীরে সরাসরি হাত-পা গজানোর ক্ষমতা না থাকলেও, এই গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শরীরের ভেতরেও প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন কোনো অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রোগ্রাম সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার অপেক্ষা রাখছে মাত্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মাদক নীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গাঁজাকে কম বিপজ্জনক মাদকের তালিকায় পুনর্নির্ধারণ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা 'শিডিউল-১' ভুক্ত মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, যা হেরোইন বা এলএসডি-র মতো উচ্চ বিপজ্জনক মাদকের সমপর্যায়ভুক্ত। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এটিকে 'শিডিউল-৩' ভুক্ত মাদকের তালিকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই তালিকায় সাধারণত সেইসব ড্রাগ বা ওষুধ থাকে যা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং আসক্তির ঝুঁকি তুলনামূলক কম, যেমন— কেটামিন বা কোডিন মিশ্রিত টাইলেনল। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে গাঁজা নিয়ে গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে এবং যেসব অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ, সেখানকার ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের কর সুবিধা পাবেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে গাঁজা পুরোপুরি বৈধ হয়ে যাচ্ছে, তবে এটি ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজার প্রতি দীর্ঘদিনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে গাঁজা শিল্পের প্রভাব আরও বাড়বে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সহজতর হবে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তরের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে চীন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি ক্যানসার মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান ক্যানসার হাসপাতালে আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই চিত্র উঠে আসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও জানান, ক্যানসারকে ভয় না পেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (স্ক্রিনিং) ওপর জোর দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চীনে নারীদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি জরায়ু ক্যানসার এবং ২০ কোটির বেশি স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ফলে দেশটিতে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ক্যানসার রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৪০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীন সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৪৬.৬ শতাংশে উন্নীত করা। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।