স্বাস্থ্য

ছবি: সংগৃহীত
ভেপ: মিষ্টি স্বাদের আড়ালে প্রাণঘাতী ঝুঁকি

ধূমপানের বিকল্প ভেবে অনেকেই ভেপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। কেউ নেন কৌতূহল থেকে, কেউ স্বাদের জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর। নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ফুসফুস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে আছে ভেপের বাষ্পে।   একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত ছিল। ধূমপানের বিকল্প কিংবা আধুনিক অভ্যাস হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট। অনেকের ধারণা, এটি ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ। তবে গবেষণার তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।   বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভেপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ সালে ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ।     অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম এবং যুক্তরাজ্যে ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ।   বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য সীমিত। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত "Electronic Cigarettes (Vaping) Preferences Among University Students in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার ই-সিগারেট ব্যবহার করেছেন অথবা নিয়মিত ভেপিংয়ে অভ্যস্ত।   সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একই সঙ্গে ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ই-সিগারেট তাদের তামাকজাত পণ্যের প্রতি আসক্ত করে তুলেছে।   কীভাবে কাজ করে ভেপ   ডিজাইনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ভেপের কাঠামো একই ধরনের। এতে একটি ট্যাংকে থাকে ই-লিকুইড বা ভেপের জুস। হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে এই তরল উত্তপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। ব্যবহারকারী মাউথপিস দিয়ে সেই বাষ্পসদৃশ মিশ্রণ ফুসফুসে টেনে নেন। ভেপের জুসে সাধারণত থাকে নিকোটিন, বিভিন্ন ফ্লেভার এবং প্রোপিলিন গ্লিসারল বা গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক।   কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর   চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেপের প্রায় প্রতিটি উপাদানই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নিকোটিন একটি আসক্তিকর রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রোপিলিন গ্লিসারল ও গ্লিসারিন সরাসরি বিষাক্ত না হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে কাশি, ফুসফুসের সক্ষমতা হ্রাস এবং বুকে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেপের বিভিন্ন স্বাদের জন্য ব্যবহৃত ডাইএসিটিল, এসিটিলপ্রোপিলিন, মেন্থল, কফি ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কিছু রাসায়নিক কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত সুক্রোজ ও গ্লুকোজ উত্তপ্ত হয়ে রিয়েকটিভ এলডিহাইডে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।   এ ছাড়া ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেল-ক্রোমিয়াম সংকরের মতো ভারী ধাতুও উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপ যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ভারী ধাতুর নির্গমনও তত বাড়তে থাকে।   প্রথম ৫০ টানের তুলনায় ১০১ থেকে ১৫০তম টানে প্রায় ৬০ গুণ বেশি ভারী ধাতু উৎপন্ন হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জৈব যৌগও ভেপের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।   ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে গবেষণা   ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। ৫৪ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপের বাষ্প গ্রহণকারী প্রাণীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি ছিল।   তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   ভেপ কি ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে?   গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ পরবর্তীতে ধূমপানও শুরু করেছেন। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে ভেপে আসা কিছু মানুষ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে সরে যেতে পেরেছেন।   তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সহায়ক হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে ভেপকে নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ।   সচেতনতার বিকল্প নেই   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, তামাক ও ভেপসহ নিকোটিননির্ভর সব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষতিকর জেনেও অনেকেই অভ্যাস থেকে সরে আসতে পারেন না। অথচ দীর্ঘদিন ভেপ ব্যবহারের ফলে যে ক্ষতি হয়, তার অনেকটাই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।   তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৫:৫
ফিতাকৃমি। ছবি: সংগৃহীত
মস্তিষ্কে একাধিক টিউমার ভেবেছিলেন চিকিৎসকরা, পরীক্ষায় ধরা পড়ল ফিতাকৃমির

দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র মাথাব্যথা ও আচরণগত কিছু পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্পেনের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার (মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন ক্যানসার) হয়েছে। তবে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সামনে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার নয়, বরং জীবন্ত ফিতাকৃমির (টেপওয়ার্ম) লার্ভা বাসা বেঁধেছিল।   ঘটনাটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Emerging Infectious Diseases-এ প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে Fox News Digital। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের কাস্তেয়োন অঞ্চলের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কখনো এমন কোনো দেশে ভ্রমণ করেননি, যেখানে এই রোগ সাধারণভাবে বেশি দেখা যায়। তবুও তিনি নিউরোসিস্টিসারকোসিস (Neurocysticercosis) নামে পরিচিত একটি বিরল পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এটি Taenia solium বা শূকরের ফিতাকৃমির ডিম থেকে সৃষ্ট একটি রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে। প্রথমে সিটি স্ক্যানে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। সেগুলো দেখতে ক্যানসারের টিউমারের মতো হওয়ায় ধারণা করা হয়, শরীরের অন্য কোথাও থেকে ক্যানসার ছড়িয়ে মস্তিষ্কে এসেছে।   এই সন্দেহের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা পুরো শরীরের স্ক্যান, কোলনোস্কোপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোথাও ক্যানসারের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। এরপর আরও বিস্তারিত এমআরআই পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মস্তিষ্কে কয়েকটি তরলভর্তি সিস্ট রয়েছে এবং কয়েকটির ভেতরে ফিতাকৃমির মাথাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে রোগী নিউরোসিস্টিসারকোসিসে আক্রান্ত।   চিকিৎসকেরা তাঁকে অ্যালবেনডাজল ও প্রাজিকোয়ান্টেল নামে দুটি পরজীবীনাশক ওষুধ এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োগ করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি কোনো জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, বহু বছর আগে অসাবধানতাবশত ফিতাকৃমির অতি ক্ষুদ্র ডিম শরীরে প্রবেশ করার ফলে এই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় এমন কিছু সহকর্মীর সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন, যারা এমন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন যেখানে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এটিকে নিশ্চিত সংক্রমণের উৎস হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের মাংস ঠিকমতো রান্না না করে খেলে সাধারণত অন্ত্রে ফিতাকৃমির সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু নিউরোসিস্টিসারকোসিস হয় ভিন্নভাবে। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করলে সেগুলো রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সিস্ট তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় খিঁচুনি, স্ট্রোক, স্নায়বিক জটিলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অন্যান্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি একটি একক রোগীর ঘটনা। তাই এর ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে যেসব অঞ্চলে এই রোগ খুব কম দেখা যায়, সেখানেও এমন সংক্রমণ ঘটতে পারে, এ ঘটনাটি সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে।   কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোসিস্টিসারকোসিসের ২ শতাংশেরও কম ঘটনা দেশীয়ভাবে সংক্রমিত বলে বিবেচিত হয়। আবার ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮টি। গবেষকদের মতে, রোগীর ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও মস্তিষ্কে একাধিক রিং-আকৃতির ক্ষত দেখা গেলে শুধু ক্যানসারের সম্ভাবনা নয়, নিউরোসিস্টিসারকোসিসের মতো বিরল পরজীবী সংক্রমণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিল পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচার এড়িয়ে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২১:২০
ছবি: সংগৃহীত
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

আপনার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয় হলো কান। আর সেই কানে যদি ঠিকমতো শুনতে না পান, তবে মহাবিপদ। যদিও অনেক সময় ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করলেও আমরা তা সহজে বুঝতে পারি না। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, বধিরতা বা কানে না শোনার সমস্যাটি হঠাৎ করে আসে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়; শ্রবণশক্তি পুরোপুরি কমে যাওয়ার আগে কান কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলোকে সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।   বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রধান ৫টি লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো: কানে ভারি ভাব বা চাপ অনুভব করা: কিছু মানুষের কানে সবসময় ভারি ভাব কিংবা চাপ অনুভূত হয়। আবার অনেকের মনে হয় কান যেন বন্ধ বা জ্যাম হয়ে আছে। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কানের ভেতরের অংশে কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা ভীষণ জরুরি। কথার আওয়াজ শুনলেও অর্থ বুঝতে না পারা: ফোনে কথা বলার সময় বারবার শব্দ পরিষ্কার না শোনা, শিশু কিংবা নারীর তুলনামূলক উঁচু স্বরের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া কিংবা কথার শব্দ শুনলেও তার অর্থ বুঝতে সমস্যা হওয়া শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বিশেষ করে বাজার, অফিস কিংবা ভিড়ের জায়গায় কারও কথা বুঝতে সমস্যা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। টিভি বা মোবাইলের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়া: টিভি, মোবাইল কিংবা রেডিওর ভলিউম আগের চেয়ে বেশি রাখতে ইচ্ছা করাও একটি বড় সতর্ক সংকেত। যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আপনি খুব জোরে শব্দ দিয়ে টিভি বা মোবাইল চালাচ্ছেন, তাহলে দ্রুত শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন আছে। কানের ভেতর অদ্ভুত শব্দ বা ‘টিনিটাস’: এটি সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, কানের ভেতর সবসময় ভোঁ ভোঁ, শোঁ শোঁ, বাঁশির মতো বা ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দ হচ্ছে। আশপাশে কোনো শব্দ না থাকলেও মনের ভেতর এই আওয়াজ শোনা যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিনিটাস’ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটিই শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রথম সংকেত। সবাই আস্তে কথা বলছে মনে হওয়া: অন্যের কথা বারবার জিজ্ঞাসা করা বা ঠিকমতো শুনতে না পাওয়া এর লক্ষণ। অনেক সময় আপনার মনে হতে পারে যে সামনের মানুষটি খুব আস্তে বা অস্পষ্ট করে কথা বলছে, কিন্তু আসলে তা নয়; মূলত আপনার কান শুনতে পাওয়ার ক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে।   চিকিৎসকদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়স বৃদ্ধি, দীর্ঘ সময় হেডফোনে জোরে গান শোনা, উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা, কানের সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। তাই কানে এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে শ্রবণশক্তির আরও অবনতি রোধ করা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১০:৪৬
ছবি: প্রতীকী ছবি
পারিবারিক খাবারের টেবিলেও স্মার্টফোনে ব্যস্ত ৭৫ শতাংশ অভিভাবক

পারিবারিকভাবে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় স্মার্টফোন ও টিভির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে—এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের চেয়েও বেশি ডিভাইস ব্যবহার করছেন অভিভাবকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, পারিবারিক খাবারের সময় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবারেই কোনো না কোনো ধরনের মিডিয়া ব্যবহার দেখা গেছে।   ‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ৩৫০-এর বেশি অভিভাবকের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশের বেশি অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের শেষ পারিবারিক খাবারের সময় তারা ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস ব্যবহার করেছেন। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে স্মার্টফোন।   গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭০ শতাংশও খাবারের সময় কোনো না কোনো ধরনের মিডিয়া ব্যবহার করেছে। পরিবার একসঙ্গে খাবার খেলে মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয় এবং শিশুদের খাদ্যাভ্যাসও তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর থাকে। তবে শুধু একসঙ্গে খাওয়াই যথেষ্ট নয়—এর সঙ্গে প্রয়োজন মনোযোগী ও বিভ্রান্তিহীন সময়।   টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মার্জি স্কিয়ার বলেন, পারিবারিক খাবার মূলত একটি নিয়মিত ‘চেক-ইন’ মুহূর্ত, যেখানে আবেগ ও অনুভূতি ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয়। তার মতে, এই সময় সন্তানরা অনুভব করে তারা গুরুত্ব পাচ্ছে।   হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান ফিশেল বলেন, পারিবারিক খাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটিন, যা শিশুদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক পরিচয়ের অনুভূতি তৈরি করে। গবেষক সিসিলিয়া সাদা গারিবায় বলেন, সব ধরনের মিডিয়া ব্যবহার একই রকম নয়। বড় স্ক্রিনে একসঙ্গে কিছু দেখা পারিবারিক বন্ধনের সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারে প্রত্যেকে আলাদা জগতে চলে যায়—ফলে একসঙ্গে থেকেও সংযোগ কমে যায়।   গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে পরিবারগুলোর মধ্যে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলেও সেটি অনেক সময় একাকী বা বিভক্ত মিডিয়া ব্যবহারের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় না পেলেও অন্তত সপ্তাহে একবার হলেও ডিভাইস ছাড়া একসঙ্গে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এমনকি পাঁচ থেকে বিশ মিনিটের ছোট পারিবারিক সময়ও সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব না হলেও সীমিত ও সচেতন ব্যবহারই পারিবারিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৫:১৯
আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ‘মিডল ফিঙ্গার’ দেখালেন হাসনাত। ফেসবুক থেকে
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ‘মিডল ফিঙ্গার’ দেখালেন হাসনাত

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিয়নে একটি আলোচনা সভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।   রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।   অনুষ্ঠান শেষে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বাইরে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিচয়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তির বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি ধারণ করা হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে।   ছবিটি প্রকাশের পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে অনেকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন অঙ্গভঙ্গি প্রত্যাশিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক আচরণের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছেন।   তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৪:১৩
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করণীয়
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ! সময়মতো সচেতন না হলে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত? রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ।   উচ্চ রক্তচাপের কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।   রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়? অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।   লবণ কম খাওয়া এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।   ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে।   নিয়মিত ব্যায়াম করা সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।   স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়।   ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়।   মানসিক চাপ কমান মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন।   নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন ৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না।   নিয়মিত ওষুধ খান ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক।   পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না।   ক্যাফেইন কমান দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে।   উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

এম আর হেলাল প্রকাশ: জুন ১, ২০২৬ ২০:১১
ছবি: সংগৃহীত
কুরবানির গোশত সংরক্ষণে অসচেতনতা বাড়াচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু পশু কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া, পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা। কুরবানির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে ধর্মীয় বিধান, তেমনি রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দিকও। কিন্তু প্রতি বছর অসচেতনতা, তাড়াহুড়া এবং সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা কুরবানির গোশতের গুণগত মান নষ্ট করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ায়। এসব ভুল শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও ক্ষতিকর হতে পারে। কুরবানির সময় সাধারণ কিছু ভুল ও তার সঠিক দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।   জবাইয়ের সময় যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয় ও সঠিক পদ্ধতি: কুরবানির অন্যতম বড় ভুল হলো শরিয়তসম্মত জবাই পদ্ধতি অনুসরণ না করা, যেমন— ধারালো ছুরি ব্যবহার না করা, পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া কিংবা এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা। আরেকটি গুরুতর ভুল হলো, জবাইয়ের পর পশুর পুরোপুরি প্রাণ বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো বা দ্রুত প্রাণ বের করার জন্য গলার স্থান বা মেরুদণ্ডে ধারালো ছুরির আগা দিয়ে আঘাত করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে, এতে পশুর মেরুরজ্জুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পশু আকস্মিক শক বা হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়ার ব্যাঘাতে মারা যেতে পারে। ফলে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে রক্ত বের হতে পারে না এবং গোশতে জমাট রক্ত থেকে গোশতের গুণগত মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। সঠিক নিয়ম হলো প্রধান রগগুলো কেটে পশুর শরীর থেকে পর্যাপ্ত রক্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া।   গরম গোশত সংরক্ষণ ও ধোয়ার ভুল পদ্ধতি: কুরবানির পরপরই গরম গরম গোশত রান্না করে খাওয়া কিংবা তাড়াহুড়া করে পলিথিনে ভরে স্তূপ করে রাখা বড় ধরনের ভুল। বৈজ্ঞানিকভাবে, জবাইয়ের পর গোশত অন্তত ৬ ঘণ্টা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা বা ‘চিলিং’ করা উত্তম, যা গোশত নরম করে, স্বাদ উন্নত করে এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। গরম অবস্থায় গোশত প্যাকেট বা স্তূপ করে রাখলে ভেতরে তাপ আটকে দ্রুত জীবাণু বৃদ্ধি ও পচনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া গোশত কাটার পর অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার ধোয়ার ফলে গোশতের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে এবং পানির ছিটা থেকে জীবাণু রান্নাঘরের সিঙ্ক বা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে গোশতে দৃশ্যমান ময়লা, লোম বা জমাট রক্ত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে।   অতিরিক্ত গোশত খাওয়ার ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ: কুরবানির দিনে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গোশত বেশি পরিমাণে খেলে বদহজম, গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটি, উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা, রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা, ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাস্তা দখল করার কারণে পরিবেশ দূষণ হয় এবং রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় রক্ত ও বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, মাছি ও সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তাই নির্দিষ্ট স্থানে পরিচ্ছন্নভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা জরুরি।   কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিফলন। তাই শরিয়তের বিধান, স্বাস্থ্যবিধি ও বৈজ্ঞানিক দিক মাথায় রেখে সঠিকভাবে কুরবানি সম্পন্ন করা সবার দায়িত্ব। সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানি করলে একদিকে যেমন ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজও থাকে নিরাপদ, সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২২:১০
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের হারানো অঙ্গ পুনরুদ্ধারের জিনের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব জগতেই এবার মানুষের হারানো হাত কিংবা পা পুনরায় গজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একদল শক্তিশালী জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবদেহের অঙ্গ ও কোষ পুনরুত্পাদন বা রিঅ্যাক্টিভেশনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে।   বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS)-এ প্রকাশিত এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ হারানো লাখ লাখ মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন হাড়, মাংসপেশি এবং টিস্যু গজানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগার একযোগে কাজ করেছে। মেক্সিকান অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার নিয়ে কাজ করা ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী জশ কারি জানান, অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুর—এই তিনটি ভিন্ন প্রকৃতির জীবের অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তুলনা করে দেখা গেছে যে, তাদের মধ্যে একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জেনেটিক প্রোগ্রাম কাজ করছে।   এই যৌথ প্রকল্পের অন্য দুই প্রধান গবেষক হলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জন ডেভিড এ. ব্রাউন, যিনি ইঁদুরের আঙুল পুনরুত্পাদন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের কেনেথ ডি. পস, যার গবেষণার মূল বিষয় ছিল জেব্রাফিশের পাখনার পুনরুত্পাদন।   প্রকৃতিতে অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার তার হারানো হাত-পা, লেজ, মেরুদণ্ডের টিস্যু এবং এমনকি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুনরায় গজিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, জেব্রাফিশ বারবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পাখনা মেরামতের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও কিডনি পুনর্গঠন করতে পারে।   বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে ইঁদুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কারণ মানুষের মতো ইঁদুরেরও কিছু ক্ষেত্রে নখের অংশ অক্ষত থাকলে আঙুলের ডগা পুনরুত্পাদনের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৬' (SP6) এবং 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৮' (SP8) নামের দুটি বিশেষ জিন যখন সক্রিয় বা 'অন' হয়, তখন এই প্রাণীদের শরীরে অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা জেগে ওঠে।   গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা জিন-সম্পাদনার আধুনিক প্রযুক্তি 'ক্রিসপার' (CRISPR) ব্যবহার করে অ্যাক্সোলটলের শরীর থেকে 'SP8' জিনটি অপসারণ করেন। এর ফলে প্রাণীটি তাৎক্ষণিকভাবে তার হাড় ও অঙ্গ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একইভাবে ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যায়।   পরবর্তীতে ডিএনএ পরিবর্তনের নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে এই জিনটি আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের হাড় গজানোর ক্ষমতা আবার পুনরুদ্ধার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হন, যাদের একটি বড় অংশই ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভোগেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অঙ্গহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।    চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীরে সরাসরি হাত-পা গজানোর ক্ষমতা না থাকলেও, এই গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শরীরের ভেতরেও প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন কোনো অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রোগ্রাম সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার অপেক্ষা রাখছে মাত্র।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬ ১৬:৫৩
ছবি: সংগৃহীত।
কড়াকড়ি শিথিল, গাঁজা সেবনে বৈধতা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মাদক নীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গাঁজাকে কম বিপজ্জনক মাদকের তালিকায় পুনর্নির্ধারণ করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা 'শিডিউল-১' ভুক্ত মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, যা হেরোইন বা এলএসডি-র মতো উচ্চ বিপজ্জনক মাদকের সমপর্যায়ভুক্ত। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এটিকে 'শিডিউল-৩' ভুক্ত মাদকের তালিকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এই তালিকায় সাধারণত সেইসব ড্রাগ বা ওষুধ থাকে যা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং আসক্তির ঝুঁকি তুলনামূলক কম, যেমন— কেটামিন বা কোডিন মিশ্রিত টাইলেনল। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে গাঁজা নিয়ে গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে এবং যেসব অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ, সেখানকার ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের কর সুবিধা পাবেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে গাঁজা পুরোপুরি বৈধ হয়ে যাচ্ছে, তবে এটি ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজার প্রতি দীর্ঘদিনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে গাঁজা শিল্পের প্রভাব আরও বাড়বে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সহজতর হবে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তরের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১:৭
ছবি: সংগৃহীত।
দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ, ক্যানসার চিকিৎসায় বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে চীন

বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে চীন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি ক্যানসার মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান ক্যানসার হাসপাতালে আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই চিত্র উঠে আসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও জানান, ক্যানসারকে ভয় না পেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (স্ক্রিনিং) ওপর জোর দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চীনে নারীদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি জরায়ু ক্যানসার এবং ২০ কোটির বেশি স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ফলে দেশটিতে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ক্যানসার রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৪০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীন সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৪৬.৬ শতাংশে উন্নীত করা।  বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ২:১
ছবি: ফাইল ফটো
অতিরিক্ত চিনি কি সন্তানের মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে? জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনির উপস্থিতি শিশুদের কেবল দাঁতের ক্ষতিই করে না, বরং এটি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণা সংস্থার মতে, শিশুদের সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে চিনি গ্রহণ সীমিত রাখা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনির আধিক্য শিশুর মনোযোগ ও মানসিক স্থিতিশীলতায় ব্যাঘাত ঘটায়।   চিনির প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে, যা শিশুকে অস্থির ও খিটখিটে করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণে শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ছোটবেলার এই মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস বড় হয়েও থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।   বিশেষজ্ঞরা প্রক্রিয়াজাত চিনি যেমন ক্যান্ডি, প্যাকেটজাত জুস বা সিরিয়াল কমিয়ে প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে ফলমূল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে থাকা ফাইবার চিনির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে পুষ্টি নিশ্চিত করে। এছাড়া খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন বাদাম) রাখলে রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে।   সন্তানের মেধা ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট এই দৈনন্দিন পরিবর্তনগুলোই শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২২:৪৬
ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে, আর বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এক নজরে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি: মোট মৃত্যু: ৯ জন (হাম নিশ্চিত: ১ জন, উপসর্গসহ: ৮ জন)। নতুন ভর্তি রোগী: ১১০৫ জন (সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে)। হাম শনাক্ত: ১৭৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।   হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৮:৪৬
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৬:৭
ছবি: সংগৃহীত।
হামের প্রকোপে কাঁপছে দেশ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০টি শিশু।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।  গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫৩ জনে এবং নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে ১০ হাজার ২২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৫৬ জন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১১, ২০২৬ ২১:৫
ছবি - সংগৃহিত
বুকের ব্যথাটা গ্যাসের নাকি হার্টের, কীভাবে বুঝবেন?

বুকে ব্যথা হলেই তা হৃদরোগ নয়; এটি গ্যাস্ট্রিক (অ্যাসিড রিফ্লাক্স), ফুসফুসের সমস্যা, পেশিতে টান, পিত্তথলির রোগ কিংবা মানসিক চাপের কারণে হতে পারে। হৃদরোগের ব্যথায় বুকের মাঝে চাপ ধরে, যা ঘাড় বা হাতে ছড়ায়। তবে তীব্র বুকে ব্যথা, ঘাম ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি ও ট্রপোনিন আই পরীক্ষা করা উচিত।   অনেক সময় সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হার্টের সমস্যা ছাড়াও ফুসফুস, পাকস্থলী— এমনকি মানসিক চাপের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে ব্যথা হলে হার্টের রোগের কথাই মাথায় আসে। চিনচিনে ব্যথা হোক কিংবা বুকে চাপ অনুভব করা— সবার জন্য সেই হৃদ্যন্ত্রকেই দায়ী করা হয়। অথচ খলনায়ক হতে পারে ফুসফুস কিংবা পাকস্থলী।   বুকে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে সব সময়ে? না কি মাঝেমধ্যে চাপ চাপ ব্যথার অনুভূতি হচ্ছে? মনে হচ্ছে, কেউ যেন কয়েক মণ ভারি পাথর বসিয়ে দিয়েছে। বুকে ব্যথা হলেই হৃদরোগ বলে ভেবে নেন অনেকেই। আতঙ্কিতও হন। কিন্তু বুকে ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। হার্টের অসুখের প্রধান উপসর্গই হলো বুকে ব্যথা, যার সঙ্গে বদহজম বা গ্যাসের ব্যথার মিল আছে। আবার ফুসফুসের রোগ হলেও তার পূর্বলক্ষণে বুকে ব্যথা হতে পারে।    বুকে ব্যথার ধরন ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ হয় অনেকের। তখন মনে হয় গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে রয়েছে। খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসতে থাকে গলার কাছে। প্রচণ্ড জ্বালা হয়। সেই সঙ্গে বুকে-পিঠে ব্যথা করতে থাকে। যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে আছে মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে তা অম্বলের জন্য হচ্ছে। আর আছে বুকের মাঝখানে কিংবা নিচের দিকে জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া। শোয়ার সময় বা খাওয়ার পর এ ব্যথা বাড়তে পারে। ভারি খাবার খেয়ে শোবার পরেই চোঁয়া ঢেকুর উঠতে শুরু করে। এমন ব্যথার কারণ হতে পারে ‘জিইআরডি’। অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। আর শ্বাস টানার সময়ে কিংবা কাশতে গিয়ে যদি বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা বা চিনচিনে ব্যথার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে সেটি ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে।   বুকে সারাক্ষণই যদি ব্যথা হতে থাকে, সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধছে। পানি জমছে ফুসফুসে। আর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথাকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু এটি হয় পালমোনারি এমবলিজম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে। অনেক সময়ে যক্ষ্মা বা ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও বুকে ব্যথার অনুভূতি হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কফের সঙ্গে রক্ত উঠে আসতে পারে।   হৃদরোগের ব্যথার লক্ষণ হৃদরোগের কারণে ব্যথা হলে তার উপসর্গ কিছুটা আলাদা হয়। তখন বুকের মাঝখানে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে বুকে চাপ ধরছে। এ ব্যথা যদি বুক থেকে ঠেলে গলার দিকে উঠতে শুরু করে, সেই সঙ্গে হাতেও ব্যথা শুরু হয়, তাহলে সাবধান হতে হবে। ব্যথার সঙ্গেই দরদর করে ঘাম হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে পিঠের দিকেও যাবে। চোয়াল ও কাঁধেও ব্যথা শুরু হবে। তখন হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করবে। হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যাবে। তখন একমুহূর্তও সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ২০:৫৭
ছবি: সংগৃহীত
কোলেস্টেরল কমাতে ওটমিল ও কাঠবাদাম; ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাঁচবে আপনার হৃদয়

রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে ওটমিল ও কাঠবাদাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রক্তে বিদ্যমান চর্বি মূলত দুই প্রকার—এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) এবং এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল)। এলডিএল ধমনীর দেয়ালে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচলে বাধা দেয়, যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, এইচডিএল ধমনী থেকে খারাপ কোলেস্টেরল অপসারণে সহায়তা করে শরীরকে সুস্থ রাখে।   হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এলডিএল-এর মাত্রা কমিয়ে এইচডিএল বাড়ানো জরুরি। জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত একটি ঘরোয়া মিশ্রণ সেবনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই পদ্ধতিতে এক কাপ রান্না করা ওটমিলের সঙ্গে চারটি কাঠবাদাম মিশিয়ে প্রতিদিন সকালের নাস্তায় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওটমিলে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। অন্যদিকে কাঠবাদামে আঁশের পাশাপাশি রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই দুটি উপাদান রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং ধমনীর জটিলতা দূর করতে সরাসরি কাজ করে। নিয়মিত এই খাদ্যাভ্যাস কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।   তবে কেবল খাদ্যাভ্যাসই যথেষ্ট নয়; পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা আবশ্যক। ওটমিল ও কাঠবাদামের এই সহজ ঘরোয়া দাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর এই রুটিন অনুসরণ করলে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৭, ২০২৬ ০:৪১
ছবি: সংগৃহীত
হাম ও অন্ধত্বের ঝুঁকি: আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখছেন তো?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা Measles বা হামের ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব সরাসরি হাম সৃষ্টি না করলেও এই রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, Vitamin A শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে শরীর সহজেই সংক্রমণে আক্রান্ত হয় এবং হাম হলে তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে হাম হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।   বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।   জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক পুষ্টি এবং সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হামজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৬:২৫
ছবি: সংগৃহীত
হাম পরিস্থিতিতে সরকারের তথ্যহীনতা নিয়ে তাসনিম জারার অভিযোগ

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়েরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য বা নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   ডা. তাসনিম জারা বলেন, বর্তমানে শিশুদের অভিভাবকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। জ্বর বা র‍্যাশ উঠলে তারা ঠিক কখন এবং কোথায় যাবেন—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না কি জেলা হাসপাতালে—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। এমনকি আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দিতে হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ এ নিয়ে নীরব। ফলে অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।     আলোচনায় তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানান, দেশে এখনো হামে আক্রান্ত বা মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও সঠিক তথ্য না মেলায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তার মতে, এবারের প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। সঠিক তথ্যের অভাবেই সাধারণ মানুষ আজ শঙ্কিত।   উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এই যৌথ আয়োজনে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ২২:১১
টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।   শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। খবর বিবিসি বাংলার।   বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।   এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।   অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়। সরকারি টিকা   সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।   বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।    সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে-   বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।   পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।    ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেওয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়। 

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ২২:৩
ছবি - সংগৃহিত
হামের প্রকোপ ও প্রতিকার: জীবন বাঁচাতে আপনার যা জানা জরুরি

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত মানুষের নাক ও গলার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে এই রোগের ফলে রোগীর শরীরে প্রচণ্ড জ্বরের পাশাপাশি মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং এমনকী দীর্ঘস্থায়ী অন্ধত্বের মতো জটিল সব শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।   গর্ভবতী নারী এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগটি সবচাইতে বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম থাকে যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে হামের কোনো নির্দিষ্ট ঔষধ বা চিকিৎসা নেই বিধায় এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখা।   কোনো সংক্রামিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে এই রোগটি বাতাসের মাধ্যমে খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের হার প্রায় নব্বই শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ত্যাগ করার দুই ঘণ্টা পরেও সেখানে এই বিপজ্জনক জীবাণুর অস্তিত্ব থেকে যেতে পারে যা সুস্থ মানুষকে নতুন করে সংক্রমিত করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।   হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শরীরে ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দিতে পারে এবং এর সাথে টানা কাশি ও নাক দিয়ে অবিরাম পানি পড়ার সমস্যা তৈরি হয়।   চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং মুখের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ বা কপলিক স্পট দেখা দিলে বুঝতে হবে রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তখন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।   সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে লাল রঙের র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যা রোগীর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর একটি পরিস্থিতি।   যদি মনে হয় হাম হয়েছে তবে আতঙ্কিত না হয়ে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং নিজের শারীরিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ফোনে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে।   হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সরাসরি না গিয়ে প্রথমে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত যাতে আপনার মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তি এই ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ না পায়।   সংক্রমণ রুখতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে যাতে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।   ব্যবহৃত টিস্যু যত্রতত্র না ফেলে ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে হবে এবং সাবান ও পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যা পরিবারের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।   আক্রান্ত ব্যক্তির খাওয়ার বাসনপত্র বা পানীয় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না এবং ঘরের যে সমস্ত জায়গা বারবার স্পর্শ করা হয় সেগুলো নিয়মিত শক্তিশালী জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।   দরজার হাতল, টেবিল এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে ভাইরাসের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যা বিপদমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।   হামের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সচেতনতাই হলো প্রধান হাতিয়ার যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।    

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬ ২২:৩৪
ফাইল ছবি
দেশে হামের প্রকোপ: ২০ জেলার ৩০ স্থান ‘হটস্পট’ ঘোষণা, কাল থেকে জরুরি টিকাদান

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০টি হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়।   হামের হটস্পট এলাকাগুলো: ঘোষিত হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরগুনা পৌরসভা ও সদর; পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া; চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; গাজীপুর সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট। এছাড়াও নেত্রকোনার আটপাড়া; ময়মনসিংহের সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা; রাজশাহীর গোদাগাড়ী; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; নওগাঁর পোরশা; যশোর পৌরসভা ও সদর; নাটোর পৌরসভা ও সদর; মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর; মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর; ঢাকার নবাবগঞ্জ; ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।   বিশেষ পরামর্শ: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিতে হবে। এছাড়া হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬ ২১:৪২
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০