বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে চলমান সমালোচনা, রিট আবেদন এবং রাজনৈতিক বয়ান। নির্বাচন শেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও তাঁকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের সক্রিয়তা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ড. ইউনূসকে নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে তীব্রতা বাড়ছে। কেউ তাঁকে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করছেন, কেউ আবার তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এমনকি তাঁকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এসব আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদিকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সংস্কার কমিশন গঠন, আইন প্রণয়ন এবং বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একাধিক রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিশন গঠনের আবেদনও জানানো হয়েছে। এর আগে ড. ইউনূসের সরকার গঠন ও শপথকে অবৈধ ঘোষণার দাবিতেও রিট করা হয়েছিল। যদিও আদালত সেটি খারিজ করে দেন, এরপর নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’। চুক্তিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে বলা হয়েছে, এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রিটকারীরা অভিযোগ করেছেন, চুক্তিতে অসম শুল্ক কাঠামো ও দেশীয় শিল্পের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি ড. ইউনূস। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নীরব অবস্থানও নতুন করে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রকাশ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিলেও দলটির বিভিন্ন বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা উঠে এসেছে। একই সময়ে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত, মূল্যস্ফীতি, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকার সমালোচনার মুখে রয়েছে। বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সুশাসন নিশ্চিত এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বর্তমান সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার পথ তৈরি করতে পারে। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আসছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও বিভিন্ন বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলেছেন। একই সময়ে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যেও হতাশা ও বিভাজনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক রূপান্তর অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দেশের জনগণের শান্তি–নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন। এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।” পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইয়েরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অধিকারহীনতার শিকার মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।” জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা এখনো গবেষণার বিষয় হতে পারে।” বক্তব্যের শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি। এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার ৮১তম বিজয় দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান ডে পালিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক (গ্রিন সিটি) এলাকায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজন মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোতে পালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণমূলক কর্মসূচি। শোভাযাত্রায় রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত ২৫০ জনেরও বেশি রাশিয়ান নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের পূর্বপুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা ও আত্মত্যাগকারী শহীদদের ছবি হাতে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো শহীদ ও যুদ্ধাহতদের স্মরণ করা, ইতিহাস ও ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো, শান্তি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। শোভাযাত্রাকে ঘিরে পুরো গ্রিন সিটি এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও দিনটি পালন উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রীন সিটির অভ্যন্তরের স্টেডিয়ামে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাবনা প্রতিনিধি, এম এস রহমান
ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও দ্রুত ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই সমস্যার মূল কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি জানান, ভারত সরকার অভিবাসীদের বিশদ বিবরণ বাংলাদেশকে প্রদান করেছে যাতে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ এই বিষয়ে যথাযথ এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমটি তারা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে চায়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ইস্যুটি দীর্ঘদিনের এবং এটি সমাধানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক সাড়া পেলে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চলার অভিযোগ উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তালিকা ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই এলাকায় ১৫০টির বেশি স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে এবং এতে জড়িত রয়েছেন অন্তত ৭২ জন। তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে আরও ২৫ জনের নাম উঠে এসেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তালিকা করে অভিযান শুরু। , রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে যেতে রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে শত শত দোকান বসে। একটু সামনেই কয়েকটি স্কুল। সেগুলোর আশপাশের রাস্তা, গলির সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসে দোকানের পর দোকান। দেখলে মনে হবে যেন পুরোটাই বিপণিবিতান। রাস্তাগুলো সিটি করপোরেশনের। দোকান হকারের। কিন্তু সেখান থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসী। দিনের পর দিন পুলিশের চোখের সামনেই দোকানগুলো বসছে। চাঁদার কথাও থানা-পুলিশের অজানা নয়। কিন্তু দোকান উচ্ছেদ অথবা চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। অনেকটা মিলেমিশে চাঁদাবাজি চলছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। ঢাকার চাঁদাবাজদের নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ যে তালিকা করেছে তাতেও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির সুযোগ দিয়ে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা টাকার ভাগ পান। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিট মিলে তালিকাটি করেছে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। পুলিশ বলছে, তালিকায় নতুন নাম নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে।রাজধানী ঢাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজি অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের এখানকার তালিকায় থাকা চাঁদাবাজদের বেশির ভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী অথবা তাঁরা নিজেদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। আবার পেশাদার সন্ত্রাসীরাও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অন্যান্য দলেরও কিছু নেতা-কর্মীর নাম তালিকায় আছে। তালিকায় কিছু নাম আছে, যাদের রাজনৈতিক বা অন্য পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকা বিশ্লেষণ এবং সরেজমিন অনুসন্ধান করে রাজধানীতে চাঁদাবাজির একটা চিত্র পাওয়া গেছে। তা নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে সামনে আনা হলো মিরপুর অঞ্চলের চাঁদাবাজি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড় শর বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলায় জড়িত ৭২ জন। চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছেন ২৫ জন। রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭৩ অন্তর্বর্তী সরকারের আমল এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে দলটির বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি তখন অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ৪ মার্চ মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তালিকা তৈরির পর উচ্চপর্যায়ের সংকেত পেয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ১ মে শুরু হওয়া অভিযানে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ হিসেবে গত সোমবার পর্যন্ত ১০০ জনকে এবং সহযোগী হিসেবে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। মিরপুরের চাঁদাবাজেরা মিরপুর, গাবতলী, শাহ আলী, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, রূপনগর ও ভাষানটেক থানা এলাকায় বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। এর মধ্যে গাবতলী টার্মিনাল একটা গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের দোকান, মূল সড়কে অবৈধ বাস-ট্রাক পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ, লেগুনাস্ট্যান্ড, ভাঙারির দোকান, ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা, ময়লার ব্যবসা, পোশাক কারখানা, ঝুট ব্যবসা, ভবন নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান, সরকারি জমিতে কাঁচাবাজার, বস্তিঘর ও ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ, কয়লা ও ইট-বালুর ব্যবসা ইত্যাদিতে চাঁদাবাজি হয়। মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম রয়েছে ২৫ ব্যক্তির। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে এই প্রতিবেদকও চাঁদাবাজির নানা তথ্য পেয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের মেট্রোস্টেশনের নিচের ফুটপাতে পোশাকের দোকানে কেনাবেচা করছিলেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। ব্যবসার খবরাখবর এবং পণ্যের দর-কষাকষির পর তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, ফুটপাতে দোকান করতে টাকা দিতে হয় কি না। তিনি বললেন, প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতির জন্য দৈনিক ৫০ টাকা দিতে হয়। তাঁর দোকানে দুটি বাতি আছে। দিতে হয় ১০০ টাকা। আর দোকান বসানোর জন্য দিতে হয় দৈনিক আরও ১০০ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হকার আরও বলেন, কিছুদিন আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানের কারণে তিনি সাত দিন দোকান বসাতে পারেননি। কিন্তু দোকান খোলার পর আগের সাত দিনের টাকাও দিতে হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত। পুলিশের তালিকায় দেখা যায়, মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়ক ও হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গলি এবং সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ফুটপাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান রয়েছে। দোকানসংখ্যা দেড় হাজার ও দৈনিক গড় চাঁদা দোকানপ্রতি ২০০ টাকা ধরে হিসাব করে দেখা যায়, মাসে অন্তত ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের এসব দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর সপ্তাহখানেক আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম আজম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছিলেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা তোলেন, কারা ভাগ পান—এসব বিষয়ে কোনো কিছুই তাঁর জানা নেই।এসআই তরিকুল ইসলামের কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘থানার সেকেন্ড অফিসার থাকার সময় আমার বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আমি সেই পদ (সেকেন্ড অফিসার) ছেড়ে দিয়েছি।’ তাঁর দাবি, চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অবশ্য ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওসিরা সুবিধা নেন বলেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান বা অনেক সময় দায়সারা গোছের কিছু পদক্ষেপ নেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। পুলিশ বলছে, পরে তিনি বিদেশে চলে যান। তিনি বিদেশে বসেই মিরপুরের একটা অংশের চাঁদাবাজিসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। আব্বাসের হয়ে চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত মো. সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুলের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তাঁরা ফোন ধরেননি। মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁর নামে কেউ চাঁদা তোলেন কি না, সেটা তিনি জানেন না। পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এসব দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে তোলেন শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান দেওয়ান। সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। যদিও পুলিশের তালিকা ও স্থানীয় সূত্র বলছে, তাঁর নিয়ন্ত্রণেই চাঁদাবাজি হয়।পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’ মিরপুর ১ নম্বর এলাকার প্রধান সড়ক দখল করে লেগুনাস্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর থেকে শাহ আলী মাজার রোডের দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত ৩০টির মতো লেগুনা চলাচল করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লেগুনাপ্রতি দৈনিক ২০০ টাকা করে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়।পুলিশের তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগ ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করেই সড়ক দখল করে লেগুনার স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। লেগুনা থেকে চাঁদা তোলা হয় যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নামে। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তবে একাধিক লেগুনাচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, ইমন নামের একজন লাইনম্যান প্রতিদিন লেগুনাগুলো থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করেন। জগলুল পাশার নামেই টাকা আদায় করা হয়। পল্লবীর স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। পল্লবীতে ‘মামুন বাহিনী’ পল্লবীতে গত বছরের ১২ জুলাই একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এ কে বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে। সেদিন গুলিতে শরিফুল ইসলাম নামের প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা আহত হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর তা না পেয়ে ওই হামলা চালানো হয়। এর সঙ্গে জড়িত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মামুন এখন বিদেশে। সেখান থেকেই নিজের বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজিসহ ওই এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর পক্ষে পল্লবী এলাকায় চাঁদাবাজি করেন মাসুম বিল্লাহ ওরফে ভাগনে মাসুম, মনির, বাপ্পী, লালচাঁন ও মুন্না। পল্লবীর কালশীর একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গত রমজান মাসে মামুন বাহিনীর লোকজন তাঁর অফিসে এসে মাসে এক লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর মামুন বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেন। পরে স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে চাঁদার পরিমাণ কমিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকায় নামানো সম্ভব হয়। মাসের প্রথম সপ্তাহে মামুনের লোকজন এসে তাঁর অফিস থেকে টাকা নিয়ে যায়। পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। যেমন গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। রূপনগর এলাকার আরামবাগ বাগানবাড়ির ঝিলপাড় বস্তিতে প্রায় ৩৫০ ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ রয়েছে। সেখান এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জনি ও খোকন নামের দুই ব্যক্তি এসব সংযোগ দেন। ঘরভাড়ার বাইরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির জন্য ঘরপ্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি নুর সালাম তোলেন বলে পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে। এ বিষয়ে নুর সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঝিলপাড় নামের আরও একটি বস্তি রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর। সেখানেও অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে টাকা তোলা হয়। এ টাকা তোলেন রূপনগর থানার ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত সাজেদুল ইসলাম (টুটুল)। তিনি রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। সাজেদুল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঠিকাদারি করেন। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। থানার সোর্স হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর নেই। যদিও পুলিশের তালিকায় সাজেদুলের নামই রয়েছে।পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি গাবতলীতে আন্তজেলা বাস টার্মিনালের বাইরেও বিভিন্ন বাসের কাউন্টার আছে। আরও রয়েছে ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালের ইজারাদার হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের ছেলে আরাত হানিফ। নথিপত্রে তাঁর নামে ইজারা নেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণ করেন মো. হানিফ। ইজারাদারের লোকেরা গাবতলী বাস টার্মিনালের আশপাশের ফুটপাত, বাস কাউন্টার ও খাবারের হোটেল থেকে চাঁদা তোলেন। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। মোফাজ্জাল আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান। জাতীয় পার্টির নেতা মো. মাসুম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, গাবতলী টার্মিনালের ইজারায় তাঁরও অংশ রয়েছে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা দোকান থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া নেওয়া হয়। ফুটপাত থেকে কোনো টাকা তোলা হয় না। এদিকে ইজারাদার আরাত হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে তাঁর বাবা মো. হানিফের সঙ্গে কথা হয় গতকাল মঙ্গলবার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইজারা নেওয়া দোকান থেকে বৈধভাবে ইজারার টাকা তোলা হয়। তবে এর বাইরে কোনো দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয় কি না, তা তিনি খোঁজ নেবেন। এ ছাড়া টার্মিনালে অনেক দোকানপাটের কারণে বাস রাখার জায়গা কমে যায়। সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। বালু ব্যবসায় যুবদল নেতার ‘চাঁদা’ গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আমিন বাজার সেতুর দিকে যাওয়ার পথে বাঁ দিকে বেড়িবাঁধ সড়ক গেছে হাজারীবাগের দিকে। এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে অনেকগুলো বালু, ইট ও খোয়ার দোকান। অনেক দিন ধরে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। এর বাইরে ওই এলাকায় দ্বীপনগর নামে একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে ১০টি বালুর ‘গদি’ (বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করা হয়) রয়েছে। ২৮ এপ্রিল সেখানে গেলে একজন বালু বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি জমি ভরাট করে এখানে নতুন করে বালু ও ইটের ‘গদি’ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না। আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পুলিশের তালিকা বলছে, সরকারি জমিতে বসানো এসব বালুর গদি থেকে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেন যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মিরপুর অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে জড়িত হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের অনেকের নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) আমিনুল হকের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না। ‘সমাধান আছে’ সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যেসব ব্যবসা ও সেবায় বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে চাঁদা তুলছে চাঁদাবাজেরা। এসবের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদের পর আবার বসে। পুরোপুরি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার প্রশ্নও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি হলো ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা। ফুটপাতের একটি অংশ দিয়ে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করে একাংশে দোকান বসানোর অনুমতি দিতে পারে সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে বস্তিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বৈধভাবেই দেওয়া উচিত। নগর-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, এসবের সমাধান আছে। তবে সমাধানে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা দেখা যায় না। চাঁদাবাজ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পুলিশের ‘নেক্সাস’ (অসাধু জোট) এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সমাধান করলে টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, চাঁদাবাজেরা নিতে পারে না। আদিল মুহাম্মদ খান এ–ও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ কাজের বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেগুলো শক্ত হাতে দমন করা দরকার। তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
গ্রিসের করিদালোজ কারাগারে কামরান দেলোয়ার হোসেন খান নামের এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় এবং প্রবাসে থাকা এক স্বজনের অনুরোধে তার মরদেহ গ্রিসেই দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ মার্চ কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো বৈধ নথি না থাকায় শুরুতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে গ্রিক নথিতে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক বিবেচনায় দূতাবাস তার মরদেহের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কামরানের পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে তার বর্তমান পরিবারের কোনো সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিদেশে অবস্থানরত তার এক ভাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন নেই। তিনি মরদেহ দেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফনের জন্য অনাপত্তি জানান। সাধারণত বৈধ কাগজপত্রহীন বা পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মানবিক কারণে গ্রিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানায়, এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনী এলাকার একটি মুসলিম কবরস্থানে আগামী ৭ মে দাফন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটে সাধারণত বৈধ কর্মীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য আর্থিক সহায়তা থাকে। প্রবাসে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও পরিবারের অনুরোধে দূতাবাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি দূতাবাস তদারকি করছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ২১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে নিজের পছন্দের লোককে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ৪ জন চাকরী প্রার্থী সহ শতাধিক গ্রামবাসী। মানববন্ধন শেষে গ্রামবাসী ঝাড়ু উঁচিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেও রাখা হয়। পরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে মুক্ত করেন। সোমবার (৪ মে) দুপুরে কলেজের সামনে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চাকরি প্রার্থীরা বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে ওই অধ্যক্ষ আমাদের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অথচ আমাদের চাকরি না দিয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকদের তিনি চাকরি দিয়েছেন। এখন হয় তিনি আমাদের চাকরি দেবেন, না হয় আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে। জানা গেছে, ২০০০ সালে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি স্থাপিত হয় । সে সময় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন সাগর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হয়। অভিযোগে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কলেজটিতে নৈশ্য প্রহরী পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। এতে চারজন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১ মে ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার আগে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন চাকরি দেয়ার কথা বলে খানমরিচ গ্রামের বাসিন্দা লিমন হোসেন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা এবং হেলাল উদ্দিন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন। তবে নিয়োগের আগের রাতে অধ্যক্ষ তার নিজ এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগী লিমন হোসেন ও হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের চাকরী দেবার আশ্বাস দিয়ে এতগুলো টাকা নিলেন অধ্যক্ষ সাগর। কিন্তু আমাদের কাউকে চাকরী না দিয়ে নিজ এলাকার একজনকে বেশি টাকার বিনিময়ে চাকরী দিয়েছেন। এটা আমরা মানবো না। আমাদের চাকরী না দিলে আমাদের টাকা ফেরত দেন তিনি। এর আগে কলেজের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর পদে দু’জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে অফিস সহকারী পদে নুরুজ্জামানের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হয়ে সোমবার তারাও বিক্ষোভে অংশ নেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব মিথ্যা ও বানোয়াট। গ্রামবাসী ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলছে। আমি কারো কাছ থেকে ঘুষ নেইনি। খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আরিফুজ্জামান বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছি। এখন কে কাকে টাকা দিয়েছেন সে বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগও দেয়নি আমার কাছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আজ শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাধারণত প্রতি বছর ১ মে থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও, এ বছর হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার আগে ধরা মাছসমূহ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবহন সম্পন্ন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন হ্রদসংলগ্ন সকল বরফকল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। একইসঙ্গে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণ রোধে হ্রদসংলগ্ন এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রায় সহায়তার জন্য সরকারিভাবে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। হ্রদের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই আগাম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকায় প্রেমিকার বাড়িতে ডেকে এনে সানজিদা কবির অনিতা (২১) নামে এক কলেজছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম হিমুর (৩০) বাসা থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সানজিদা বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হিমু পলাতক রয়েছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সানজিদা ও হিমু একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে বড় বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সানজিদা। পরে তার ফোন বন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লোকেশন ট্র্যাক করে হিমুর বাসায় গিয়ে সানজিদাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। সানজিদার পরিবারের দাবি, হিমু এর আগেও ঝালকাঠিতে আরেক প্রেমিকাকে হত্যা করেছিল এবং সেই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযুক্ত হিমুর মা জাহানারা বেগম জানান, সকালে সানজিদা তাদের বাসায় আসে এবং পরে ছেলের কক্ষে তার লাশ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সে সময় হিমু বাসা থেকে পালিয়ে যায়। তবে কীভাবে এই মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। ফরেনসিক দলের প্রাথমিক ধারণা, সানজিদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, নিহত ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে একে শ্বাসরোধে হত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
সাব রেজিস্টার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোড় চলছে দুদকে, তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরেই রয়েছে মাইকেলের বিলাস বহুল ভবনে ২৯ টি ফ্ল্যাট। গুলশান-১ এর ৭ নং রোডের ৭ নং কোহিনুর টাওয়ারে তার বর্তমান আবাস্থল । এখানে ২ টি ফ্লোর নিয়ে ডুপ্লেক্স করে রাজকীয় জীবন তার। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক এ ২৭ নম্বর বাড়ি। গুলশান সার্কেল ১ প্লট ৩৭,৩৯,৪১ এবং ব্লক ই এর ৬ নম্বর রোডের ৩০১/এ ১০ কাঠার পুরো প্লটটি স্ত্রীর বড় ভাইয়ের নামে কেনা। গুলশান ১ এর ৭ নম্বর রোডের ৩ নম্বর শখিনা নামের বিলাশবহুল বাড়িটির তৃতীয় চতুর্থ তলায় ২৫০০ স্কয়ার ফিটের দুটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে যার প্রতিটি ফ্ল্যাটের মুল্য কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা। গুলশান-১ এর ৪ নম্বর সড়কের ৪বি, গুলশান-১ এর স্টার সেন্টারে বাণিজ্যক স্পেস, পূর্বাচল মডেল টাউনের মা মহল, সেক্টর ১১৩ এর, রোড ১০৬, প্লটি তার শ্যালকের নামে। গুলশান-১ এর ৩৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর হাউজে রয়েছে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ বর্গফুট এর ২টি ফ্ল্যাট। ৪০/২ নর্থ এভিনিউ গুলশানে তার ৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান। গ্রিন ভিউ এপার্টমেন্ট, এইচ#৩৯, রোড-২৪ লেক সার্কেল গুলশান-১ এ ২৫০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য প্রায় ১২ কোটিরও বেশি। তার স্ত্রী জান্নাত নীলার নামে রয়েছে প্লট ১৪৩, ব্লক এইচ এর পুরো প্লট যার নাম্বার ৬। নিকেতন এ/১৩৩, ব্লক এ, রোড-৩ ১৮০০ স্কয়ার ফিটের ১ টি ফ্ল্যাট , হাতিরঝিল এর কাছে ৪৮/এ তে রয়েছে ১৫৫০ স্কয়ার ফিট এর ফ্ল্যাট যা তার শ্যালকের নামে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাদেকপুর গ্রামে ইটের ভাটা, রুপগঞ্জ নারায়নগঞ্জের ইসাপুর বাজার আবাসিক প্রকল্পের জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে রয়েছে ব্লক ডিতে ৫ কাঠার দুটি, ব্লক এতে ১০ কাঠার একটি যা তার বোনের নামে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। বড় মগবাজারের ৭০৪/১ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট, পান্থপথের কাঠাল বাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ২৪/সিতে রয়েছে ২টি ফ্লোর প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে তিনটি করে ইউনিট, যেখানে একটি ফ্লোর রেখেছেন নিজের চিত্তবিনোদনের জন্য। বনশ্রীর জে ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ির বি ইউনিটে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন ভাতিজার নামে। বনশ্রীর ব্লক বি এর হোসাইন মঞ্জিলের ৫ম তলায় বোনের স্বামীর নামে কেনা দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার খাদিজা ভিলা নামের আবাসিক ভবনেও রয়েছে তার একটি ফ্ল্যাট নিশ্চিত হওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর ব্লক ডিতে আজম রোডের ৮৮ নম্বর বাড়িতে ১৭০০ স্কয়ার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিম আকোরটাকুর পাড়ার ব্লক এ তে ১৫ নম্বর প্লটে জায়গা কিনেছেন। নিজ জেলার খাস নগর (পূর্ব পাড়া ) বাঞ্ছারামপুরে কৃষি জমি ১০০বিঘা। লাহিড়ী, রসুল্লাবাদও নবীনগরে রয়েছে ৩০ বিঘা কৃষি জমি, মাছের ঘের ও খামার।তার নিজ গ্রাম খাল্লাসহ বাড্ডা সলিমগঞ্জ, মাঝিয়ারার জীবন নগরে ২০ একর কৃষি জমিসহ মাছের ঘের ও খামার রয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ধানমণ্ডি , গুলশান, নিকুঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও প্লট। আফতাব নগরে নিজের আলাদা বলয় থাকার কারণে বের করা যাচ্ছে না নির্দিষ্ট আরও ফ্ল্যাট এর হোল্ডিং নম্বর। তবে মাইকেলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, এক আফতাব নগরেই তার রয়েছে ২৯টি ফ্ল্যাট, বেশিরভাগ ফ্ল্যাটর মূল্য প্রতি ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আমলে নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্টার পদে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দলকে ব্যবহার করে ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সাব-রেজিস্টার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন করে বেশ সমালোচনায় আসেন দেশজুড়ে। এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার নিয়োগ দেয়া ২৮তম বিসিএসের নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পান । তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে প্রথমবার দলীয় লোকদের নন ক্যাডারে সাব রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন তিনি।শুধু নিজের নয়, চাকরির শর্ত পূরণ না করেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান ৯৫ জন। যার মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন মাইকেলের আপন বোন আসমাউল হুসনা লিজা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে চিহ্নিত হওয়ার পরও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে বহাল রয়েছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা গ্রামে তার বাড়ি। ঐ এলাকার এমপি ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম তাজের সঙ্গে পারিবারিক সখ্যতা থেকে বাগিয়ে নেন দুই ভাই বোনের চাকরি। শুধু চাকরি নয়, চাকরিতে যোগদানের পরে দুজনেই দেশের লোভনীয় পোষ্টিংও বাগিয়ে নেন। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে হাত মিলিয়ে বদলি বাণিজ্যে সফলতা পেয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন হয়ে যান সাব-রেজিস্ট্রার জগতের গডফাদার। বিভিন্ন সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সাথে শুরু করেন সাব-রেজিস্টারের বদলী বাণিজ্য। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়ায় সহজেই গড়ে তোলেন বদলী বাণিজ্যের সাম্রাজ্য । এতে করে নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা । সর্বক্ষেত্রে তার অবৈধ অর্থ উপার্জনের শেল্টার দাতা ছিলেন আনিসুল হক। তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী ধরনের সাব-রেজিস্টার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের এক দুই জন সাংবাদিকদের সঙ্গে করেন সখ্যতা। এতে সরকারের কোন পর্যায়ের লোকজন তার দিকে আঙ্গুল তুললেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে হয়রানি শুরু করেন। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন বিভিন্ন সাব-রেজিস্টারদের। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উল্লেখ, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর প্রধান কার্যালয়ে রমজান- মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে রাফসান আল আলভী নামের সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এরপর থেকে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি সাব- রেজিস্ট্রার বদলিতে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের নিকট অনুরোধ জানান।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রণীত জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া একাধিক সংস্কার বাতিল বা স্থগিত করেছে বাংলাদেশের নতুন সংসদ। এতে করে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি থেকে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে কি না- তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকেরা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-প্রধান নতুন সংসদ সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দায়িত্ব নিয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে- কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনসহ। তবে অন্তত ২৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় অকার্যকর হয়ে গেছে। এর মধ্যে মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বাতিল হওয়া এসব অধ্যাদেশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংস্কারের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ক্ষমতা আবার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার বলছে, এটি সংস্কার বাতিল নয়; বরং আইনগুলো আরও পরিপূর্ণ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা। আলোচনার মাধ্যমে সংশোধিত আইন পুনরায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। পটভূমি: আন্দোলন থেকে সংস্কার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাচারিতা, মতপ্রকাশের দমন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ নামে একটি সংস্কার কাঠামো প্রণয়ন করে, যাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পায় এই চার্টার। তবে সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে পারেনি; পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে। সংবিধান অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিল করতে হয়। মানবাধিকার কমিশন: কী পরিবর্তন হলো বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর একটি ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) সংক্রান্ত। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়সীমা, ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার বিধান ছিল। কিন্তু তা বাতিল হওয়ায় ২০০৯ সালের পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে, যেখানে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত। সরকার বলছে, ওই অধ্যাদেশে আইনি অস্পষ্টতা ছিল। তবে সাবেক কমিশনারদের অভিযোগ, সরকারের যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। গুমের আইনগত স্বীকৃতি: শূন্যতা তৈরি গুমের ঘটনাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার উদ্যোগও বাতিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশন ১ হাজার ৯০০-এর বেশি অভিযোগ পায়, যার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুমকে স্পষ্টভাবে আইনে সংজ্ঞায়িত না করলে বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দায়মুক্তির ঝুঁকি তৈরি হয়। বিচার বিভাগীয় সংস্কার বাতিল হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় গঠন এবং বিচারক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি চালু করা। এর লক্ষ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানো। এসব প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। সরকারের অবস্থান: ‘পুনর্মূল্যায়ন, বাতিল নয়’ সরকার বলছে, স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা কঠিন ছিল। তাই কিছু আইন পরে আলোচনা করে পুনরায় আনা হবে। আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান হুইপের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনগুলো আরও পরিশীলিত করে পুনরায় প্রণয়ন করা হবে। বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি সংস্কারের পথ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণের যে প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছিল, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল আইন বাতিল নয়; বরং ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্ন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য দুর্বল করতে পারে। এতে করে আগের মতোই নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা এটিও মনে করেন, সরকার চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারগুলো আরও শক্তিশালী করে ফিরিয়ে আনার সুযোগ এখনো রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায় এক যুবককে, যার কোলে কাপড়ে মোড়ানো একটি শিশুর মরদেহ। স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৫ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে যে যুবককের কোলে শিশু টির মরাদেহ দেখা গিয়েছে তিনি শিশুটির বাবা এ বিষয়ে ছবি ও তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শিশুটির নাম সাদমান। তাকে চিকিৎসার জন্য কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে ঢাকার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতাল-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছবিতে হাসপাতালের সামনে কয়েকজন নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে। পরে শিশুটির মরদেহ নিয়ে স্বজনরা রাস্তায় ফিরে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় ১ মাস ১৬ দিন বয়সী কন্যাসন্তানসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগমকে (৩৭)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে কোলের শিশুকে দুধ পান করানোর সময় পুলিশ তাঁকে হাজতখানায় নিতে চাইলে এক আবেগঘন ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিনের জোর আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন এবং কারাগারে মা ও শিশুর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আইনজীবীরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তিনি ওই আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। রাজনীতির মারপ্যাঁচে নিষ্পাপ শিশুর এই কারাবাস নিয়ে আদালত পাড়ায় চলছে নানা আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে দুই মাস থাকার পর ‘অমানবিক’ পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়তু চৌধুরী। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর আইসিই এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জয়তুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বন্দিশিবিরের পরিবেশ তার মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। জয়তু বলেন, ওই পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার ভাষায়, “ব্যবস্থাটি এমন যে মানুষ ধীরে ধীরে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।” জয়তু চৌধুরী ২০২১ সালে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় ইলিনয় ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসংক্রান্ত জটিলতায় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং খুচরা চুরির মতো পূর্ববর্তী কিছু অভিযোগ ছিল, যেগুলোর জন্য তিনি অনুতপ্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিই হেফাজতে থাকার সময় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের অভিযোগ করেন জয়তু। তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। জয়তুর স্ত্রী অ্যাশলে ইয়ামিলত একজন মার্কিন নাগরিক। শুরুতে তিনি স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জীবন পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় বন্দিশিবিরে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত তিনি ‘সেলফ-ডিপোর্টেশন’ বা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে আইসিইর সঙ্গে তার ফেরার টিকিট নিয়ে মতবিরোধও তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করছে বলে জানা গেছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের দাবিতে আন্দোলন এবং ক্লাসরুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় একটি কওমি মাদ্রাসার ১৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পূর্ব আরিচপুর এলাকার ‘জামিয়া নুরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা’য় এই ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃতরা সবাই মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরা হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দাওরা হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আসছিল। তবে কওমি মাদ্রাসার প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দেয়। এর জেরে গতকাল শনিবার সকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং সন্ধ্যায় ক্লাসরুমে তালা লাগিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিটি অনৈতিক এবং তাদের আচরণ চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আজ দুপুরে জরুরি বৈঠকে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে ১৩ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ওই বিভাগে মোট ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন আগেই চলে যাওয়ায় এই বহিষ্কারাদেশের পর বিভাগটি বর্তমানে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ৫১ শতাংশই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভিসা অনুমোদনের হারের রেকর্ড গড়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক ভিসা আবেদনের মাত্র ৬৭.৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। নেপালে ৬৫ শতাংশ, ভারতে ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন আবেদনকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ কি না, তা যাচাইয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণেই বিপুল সংখ্যক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় আবেদন বৃদ্ধির হার নেপালে ৯১ শতাংশ এবং ভারতে ৩৬ শতাংশ হলেও চীন থেকে আবেদনের হার কমেছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির মতে, এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর 'ঝুঁকি' রেটিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রস্তুতির বিষয়গুলো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, যাতে প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
সুনামগঞ্জ শহরের চার লেন সড়ক উন্নতিকরণ কাজের লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বড় একটি এলাকায় টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) থেকে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের হাছনরাজা তোরণ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কারণে মল্লিকপুর ও দিরাই ১১ কেভি ফিডার স্থানান্তরের কাজ চলবে। ফলে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা: মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, পুলিশ লাইন, কালীপুর, জলিলপুর, পিরিজপুর, ফকিরনগর, শ্রীপুর, হবতপুর, ইকবলনগর, হালুয়ারগাও, জানিগাঁও, গোবিন্দপুর, মদনপুর-দিরাই রাস্তা, কলাইয়া, ভৈষবের, ষোলঘর, যুব উন্নয়ন, বিলপাড়, আলীপাড়া, বনানীপাড়া, ধোপাখালী ও নবীনগর এলাকা। সুনামগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদ জানান, জনস্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ বিভাগ সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। আজ ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে। রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাঁর শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয় এবং দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিসিএস ১৩তম ব্যাচের এই মেধাবী কর্মকর্তা ১৯৯৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি কাস্টমস, ভ্যাট ও এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাণিজ্য সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। গেল বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকার তাঁকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া মাহবুবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে প্রশাসনের সহকর্মী ও বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাড়তি ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড়ের বাইরে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসে দুটি কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, সরকার অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা চেয়েছে। বিশ্বব্যাংক থেকেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ এবং রিজার্ভের ওপর প্রভাব পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে খেলাধুলা, সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক পেশাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংক এ খাতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।