কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও রোবোটিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাচ্ছে, আর বহু প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে কোটি কোটি চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে থাকছে না। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও অটোমেশনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে একই সময়ে নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে পুনরাবৃত্তিমূলক বা রুটিনভিত্তিক কাজগুলো। বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাশিয়ার, বাস, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বিক্রেতা, ডাটা এন্ট্রি কর্মী, প্রশাসনিক সহকারী, নির্বাহী সচিব, ব্যাংকের কাউন্টার কর্মকর্তা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের মতো পেশা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটালাইজেশন, জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশন দ্রুত এসব কাজের জায়গা দখল করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালকবিহীন যানবাহন প্রযুক্তির উন্নয়নও পরিবহন খাতের কিছু চাকরিকে ভবিষ্যতের ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত করেছে। যদিও বাংলাদেশসহ অনেক দেশ এখনো এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করেনি। গবেষণায় বলা হয়েছে, কেরানি ও অফিস সহকারী ধরনের চাকরিগুলো আগামী বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। কারণ এসব কাজের বড় অংশই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, নথি ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণভিত্তিক। এ ধরনের কাজ এআই তুলনামূলক সহজেই সম্পন্ন করতে পারে। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো এসব কাজ হাতে-কলমে করা হয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মী যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে একটি কাজ সম্পন্ন করেন, সেখানে আধুনিক এআইভিত্তিক সফটওয়্যার একই কাজ অনেক কম সময়ে করতে সক্ষম। গণমাধ্যম খাতেও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমানে এআই ব্যবহার করে দ্রুত সংবাদ সারাংশ তৈরি, অনুবাদ এবং তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে। ফলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিনির্ভর সংবাদ, সাধারণ অনুবাদ বা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো দক্ষতাভিত্তিক কাজের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির ‘জেনারেটিভ এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক ইন আমেরিকা’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআই অফিসভিত্তিক বহু চাকরির কাঠামো বদলে দেবে। বিশেষ করে গ্রাহকসেবা, অ্যাকাউন্টিং সহায়তা, বেতন প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তাসংক্রান্ত কাজ দ্রুত অটোমেটেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ম্যাককিনজির গবেষণায় বলা হয়েছে, সব চাকরি হারিয়ে যাবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলে যাবে। যেসব পেশায় মানবিক যোগাযোগ, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা বজায় থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা এবং সৃজনশীল খাতকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ‘দ্য ফিউচার অব অফিস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট অকুপেশনস ইন দ্য এরা অব এআই’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ অফিস সহকারীর চাকরি কমে যেতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে ডকুমেন্টেশন, সময়সূচি নির্ধারণ, প্রতিবেদন তৈরি এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার কাজে এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ‘এআই ইমপ্যাক্ট অন লেবার ফোর্স অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারস’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই-সহায়ক কোডিং টুল এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরির প্রযুক্তি সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু কোডিং দক্ষতা যথেষ্ট হবে না। জটিল সমস্যা সমাধান, সিস্টেম ডিজাইন, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং, কলসেন্টার, পোশাকশিল্প ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম এবং সরকারি অফিসগুলোতেও ধীরে ধীরে অটোমেশন ও এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কম দক্ষতাভিত্তিক অফিস চাকরিগুলো ভবিষ্যতে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনকে আতঙ্কের চোখে না দেখে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব কিছু কর্মসংস্থান কমালেও নতুন ধরনের পেশা ও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে কর্মীদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভিসানীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করবে, তার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু না কেনে, তাহলে সেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে এর শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাস্টমস ব্যবস্থা, শ্রম খাত এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। এসব সংস্কার বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের গম ও কৃষিপণ্য আমদানি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গমে অপচয়ের হার প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হতো। তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী। তবে তাদের জন্য সরকারের দেওয়া শর্তগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া প্রয়োজন। ভিসানীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক আবেদনকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেন অথবা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জাল কাগজপত্র ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান, যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খুব শিগগিরই পাঁচ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আলোচনার শেষদিকে বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মার্কিন দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় বাংলাদেশ নিজস্ব সিদ্ধান্তেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্প নিয়ে অন্য কোনো দেশের 'কনসার্ন' বা উদ্বেগ থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ। এসব কাজে চীনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। প্রকল্পটি নিয়ে ভূরাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ তিনি দেখেন না। তিনি আরও বলেন, ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নেবে, তবে জাতীয় স্বার্থ ও সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস করবে না। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, এখন যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি থেকে সরে আসছে না বলেও স্পষ্ট করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রম এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
ইরান সংঘাতের প্রভাব এবং সৌদি আরবের ভিসা বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো কমেছে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে সামগ্রিক বিদেশগামী কর্মসংস্থান কমলেও ইউরোপে বৈধভাবে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ১৮ হাজার ২২০ জন বাংলাদেশি বৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৪৪৫ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপে বৈধ অভিবাসন বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী নিয়োগ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৭ জনে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৩। ফলে বাংলাদেশের মোট বিদেশগামী কর্মসংস্থানও বছরওয়ারি হিসাবে প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ইউরোপে বৈধ অভিবাসনে বড় ধরনের পুনরুদ্ধারের ধারা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে ইউরোপে ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, যা ২০২৪ সালে ছিল ২২ হাজার ২৭১ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ৪৬ হাজার ৪৫৫ জন থেকে ২০২৪ সালে ইউরোপমুখী বৈধ অভিবাসন অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছিল। বিএমইটির মতে, ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবের ভিসা নীতির কড়াকড়ি উপসাগরীয় শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও ইউরোপে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। ইউরোপে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে ইতালিকে কেন্দ্র করে। মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের যৌথ উদ্যোগের পর দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইতালি ৪ হাজার ৬৪৫ জন বাংলাদেশি কর্মী নিয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৩৬৫ জন, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ১ হাজার ১৬২। ইতালি মূলত কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে মৌসুমি কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া পর্তুগাল, সার্বিয়া, রোমানিয়া, রাশিয়া ও বেলারুশেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বেড়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বাইরে শ্রমবাজার বৈচিত্র্যকরণের সরকারি প্রচেষ্টা এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতালির সাফল্যের পর সরকার সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে শ্রম অভিবাসন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর উপসাগরীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ এপ্রিল সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ইউরোপে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়া এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রায় দুই বছর ধরে সীমিত থাকায় ইউরোপে এই প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বাংলাদেশের মোট বিদেশগামী কর্মসংস্থানে ইউরোপের অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে কম। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে গেছেন ১৮ হাজার ২২০ জন বাংলাদেশি, যা মোট বিদেশগামী কর্মসংস্থানের মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি। শ্রম রপ্তানিকারকরা বলছেন, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি, নথি জালিয়াতির কারণে ভিসা অনুমোদনের হার কমে যাওয়া এবং নিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের কারণে ইউরোপের বাড়তে থাকা শ্রমিক চাহিদার পুরো সুযোগ নিতে পারছে না বাংলাদেশ। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, আলবেনিয়া ও মন্টেনেগ্রোর মতো দেশগুলোর অনেক নিয়োগকারী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, অনেক কর্মী গন্তব্য দেশে পৌঁছে পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে বেশি মজুরির চাকরির উদ্দেশ্যে চলে যান। তবে পর্তুগাল, সাইপ্রাস, মলদোভা, বেলারুশ, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো উদীয়মান শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। ইউরোপে কর্মী পাঠানো প্রতিষ্ঠান ইনফিনিটি এইচসিএম লিমিটেড চলতি বছর মলদোভায় ৩৭ জন কর্মী পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন কংক্রিট শ্রমিক, ছয়জন পেভিং স্টোন ইনস্টলার এবং চারজন কৃষি শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মলদোভায় ওয়েল্ডার, মেকানিক, ভারী যন্ত্রপাতি চালক এবং নির্মাণ ও কৃষি খাতে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মাসিক বেতন সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি হয়ে থাকে। ইনফিনিটি এইচসিএম লিমিটেডের চেয়ারম্যান শারমিন আফরোজ সুমি বলেন, হাতে-কলমে দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদেরই নিয়োগকারীরা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কর্মী গন্তব্য দেশে পৌঁছে অবৈধভাবে অন্য ইউরোপীয় দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করায় নিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়েছে। ইউরোপে বৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও স্থলপথে ২৪ হাজার ৩১৮ জন বাংলাদেশি অনিয়মিতভাবে ইউরোপে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিরা প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যদিও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা যুক্তরাজ্যের প্রায় দ্বিগুণ। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপে প্রায় ৯ লাখ ৪৪ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে ৬ লাখ ৫২ হাজার ছিলেন যুক্তরাজ্যে। অনানুষ্ঠানিক হিসাবে ইউরোপে বাংলাদেশির সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে এ সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে ইউরোপ থেকে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবদান ছিল ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫০ জন বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ গেছেন উপসাগরীয় দেশগুলোতে। ইউরোপে গেছেন মাত্র ৫ শতাংশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন, আতিথেয়তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় এই বাজারের পূর্ণ সুবিধা নিতে পারবে না। বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীমা আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, গন্তব্য দেশে পৌঁছে কিছু কর্মীর অবৈধভাবে অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঘটনায় অনেক দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। তিনি বলেন, অনেক কর্মী প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও কাজের মানে নিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না, যা ভবিষ্যৎ নিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানান, ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভিসা আবেদন বাংলাদেশে নয়, ভারতে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়। ভারতের ভিসা পেতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়।
বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল বেইজিং, সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শেষ করার আশ্বাস বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিআরসিএমআরপি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প। সম্প্রতি এই প্রকল্পে সমর্থন জানিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। পরে প্রশ্নোত্তরটি চীনের ইরান দূতাবাসের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে চীন প্রস্তুত। তিস্তা নদী প্রকল্প আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনও তার সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সফরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের সপ্তম আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক প্রকল্প আইসব্রেকার অব নলেজ-এর একজন বিজয়ী হিসেবে উত্তর মেরুতে এক বিরল অভিযানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র মো. মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। বাংলাদেশসহ ২২টি দেশের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে এই সম্মানজনক সুযোগ অর্জন করেছেন প্রত্যয়। গত ২৩ জুন মস্কোর মিউজিয়াম অব অ্যাটমিক এনার্জিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী আগস্ট মাসে তারা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক আইসব্রেকার ৫০ লিয়েত পাবেদি-তে চড়ে সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে এক অনন্য অভিযানে অংশ নেবেন। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম। তিনটি পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। পারমাণবিক শক্তি, আর্কটিক অনুসন্ধান এবং বিকাশমান নতুন প্রযুক্তির ওপর একটি বিজ্ঞান কুইজ, বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় শিক্ষামুলক ওয়েবিনার এবং কীভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তি আজকের বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে শীর্ষক চূড়ান্ত উপস্থাপনা। বিজ্ঞান, শিক্ষা, পারমাণবিক শিল্প এবং আর্কটিক গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থী প্রত্যয় তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমার কাছে এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, এমন একটি অনন্য সুযোগ পেয়েছি। এমন একটি অভিযানে অংশ নেওয়া কেবল ভ্রমণ নয়, বরং পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানের জগৎ কতটা বিশাল হতে পারে, তা দেখার এক দারুণ সুযোগ। এটা আমি অনুপ্রেরণা হিসেবে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চাই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একত্রিত করবে এই অভিযান। এর মাধ্যমে তারা আর্কটিক অঞ্চল অন্বেষণ করার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শোনা, কর্মশালায় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মতবিনিময় সেশনের মাধ্যমে তারা রসাটমের পারমাণবিক আইসব্রেকার বহর সম্পর্কেও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। রসাটম আয়োজিত আইসব্রেকার অব নলেজ প্রকল্পটি স্টেম (STEM) শিক্ষার প্রসার, তরুণ বৈজ্ঞানিক প্রতিভার বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে ক্যারিয়ার গড়তে তরুণদের উৎসাহিত করে থাকে। একইসঙ্গে প্রকল্পটি আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় পারমাণবিক প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। পাবনা প্রতিনিধি: এম এস রহমান
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তরুণরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট চাপ দেশের মানুষও উপলব্ধি করেছে। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত প্রায় নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর হাত থেকে বের করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণের চেয়ে মানুষের জীবনে তার প্রভাব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর শেষ ধাপে উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনশীল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কেবল মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। তিনি জানান, ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ বা দুর্বল শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সব মিলিয়ে, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি টেকসই, রপ্তানিমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন প্রযোজক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। হাসপাতাল সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর থেকে সরানোর পর তার অবস্থার সাময়িক উন্নতি হলেও পরে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর তাকে পুনরায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়। এর আগে তার স্ত্রী মেরি মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে তীব্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার ছেলে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশের চিত্রকলা, শিশুতোষ টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। টেলিভিশনের মাধ্যমে শিল্পচর্চা ও সৃজনশীলতা ছড়িয়ে দিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে তার কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার কর্ম ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিষয়ে ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি আয়কর অব্যাহতির সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভ্যাট কমানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’ তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত করদাতাদের আরও স্বস্তি দিতে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এই সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের করের চাপ কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন-সংক্রান্ত বিধান নিয়েও জনমনে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, দেশে অনেকেই জমি নিবন্ধনের সময় প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্য দেখান। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য প্রমাণ করতে গিয়ে করদাতাদের নানা জটিলতায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, করদাতাদের এই হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যেই বিধানটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ওই বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল স্কয়ারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার অবস্থার সামান্য উন্নতি হওয়ায় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। এতে স্বজনদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়। তবে পরে আবারও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে পুনরায় ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে সুস্থ করে তুলতে পারেননি। মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চিত্রকলা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ অনুষ্ঠান এবং সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নির্মিত তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে সমাদৃত হয়েছে। শিল্প ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম (ইউএবি)-এ সফলভাবে পিএইচডি অভিসন্দর্ভ (ডিসার্টেশন) ডিফেন্স সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। তাঁর এই অর্জনের কথা জানিয়েছেন ইউএবির সেন্টার ফর সাইবার সিকিউরিটির পরিচালক ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাগিব হাসান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক রাগিব হাসান জানান, ড. ইসমাইল হোসেন তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করা অষ্টম গবেষক। ২০২২ সালে ইউএবিতে গবেষণা শুরু করার পর মাত্র ৩ বছর ৯ মাসে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন, যা গবেষণার সময়কাল বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য। অধ্যাপক রাগিব হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইসমাইলের গবেষণার বিষয় ছিল স্মার্ট বিল্ডিং ও স্মার্ট অবকাঠামো। গবেষণাকালে তিনি স্মার্ট বিল্ডিং প্রকল্পের প্রধান পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে অধ্যাপক রাগিব হাসান, অধ্যাপক নাসিম উদ্দিন এবং আরেক পিএইচডি গবেষক জিসাদের সঙ্গে যৌথভাবে ১০টি আইইইই (IEEE) পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে দুটি প্রভিশনাল পেটেন্টও ইস্যু হয়েছে। গবেষণায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইউএবি থেকে ব্লেজার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেন ড. ইসমাইল হোসেন। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক রাগিব হাসান তাঁর শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গুণাবলীরও প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণার বাইরেও ড. ইসমাইল ও তাঁর পরিবার তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে গত বছর অধ্যাপক রাগিব হাসানের দুর্ঘটনার পর ড. ইসমাইল এবং তাঁর গবেষণা দলের সদস্যরা পরিবারের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন। অধ্যাপক রাগিব হাসান আরও জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী মাসে ড. ইসমাইল হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিউর-ট্র্যাক সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেবেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি ড. ইসমাইল হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আরেকজন মেধাবী গবেষকের এই সাফল্য তাঁকে গর্বিত করেছে। তিনি ড. ইসমাইলের গবেষণা ও একাডেমিক জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
দেশজুড়ে হামের বিস্তার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন শিশু, যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে। এদিকে সংক্রমণের হারও কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় ১১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৯৪১ জন। ফলে একদিনেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ জনে পৌঁছেছে। হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বলছে, একই সময়ে নতুন করে ৮৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন রোগী, যাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সচেতনতার অভাব—এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় এক লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রোববার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রণীত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এর আওতায় এসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ৯৮ একর জমিতে সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য পর্যায়ক্রমে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তায় রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৭টি বস্তি এবং কয়েকটি পৌরসভার নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন পরিস্থিতির উন্নয়নে আরেকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। জাকারিয়া তাহের বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদ্মা আবাসিক এলাকার ৫৭৮ নম্বর প্লটে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও খুলনার হারিণটানা মৌজায় প্রায় আট একর জমিতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সল্টগোলা এলাকায় প্রায় ৮৩ কাঠা জমিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসন নির্মাণের একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। প্রকল্পটি স্ব-অর্থায়ন অথবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ সংশোধন করা হবে। সংশোধনীতে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তি সংক্রান্ত বিধান পর্যালোচনা করা হবে। নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিতে দেশব্যাপী যাচাই কার্যক্রম চলছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে পুনঃযাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ৩০ লাখ উপকারভোগীর জন্য ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতাও মাসিক ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা কর্মসূচির আওতায় ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলার ৫৬টি পাইলট ইউনিটের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী পরিবারপ্রধান সুবিধা পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদকে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ধাপ। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) থেকে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভিএসি) পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা ভ্রমণপ্রত্যাশীরা আবারও ভারতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য আবেদনকারীদের সুবিধার্থে মেডিকেল ভিসা আরও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভিসা আবেদন কেন্দ্রেও এ সেবা চালু করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা প্রদান কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ স্থগিত করেছিল। একই সময়ে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি পাসপোর্ট জমা ও ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় মেডিকেল, ব্যবসায়িক, শিক্ষার্থী ও সরকারি ক্যাটাগরির কিছু ভিসা ইস্যু করা হলেও পর্যটন ভিসা চালু হয়নি। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দাম্পত্য জীবনের নানা জটিলতার সমাধান দেওয়া জনপ্রিয় চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশালের আকস্মিক বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া একটি যৌথ পোস্টের মাধ্যমে তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যাওয়ার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ‘লাইফস্প্রিং’-এর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিচ্ছেদের পেছনে কোনো নাটকীয় বা নেতিবাচক কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে কোনো ব্যক্তিগত বিবাদ বা গোপন কারণ নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই দম্পতি। দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর তারা দুজনেই উপলব্ধি করেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে ব্যক্তি হিসেবে তারা বদলে গেছেন। সম্পর্কের যে ভিত্তি নিয়ে তারা বিশ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সেই মানসিকতার বড় পরিবর্তন এসেছে। কোনো জোরপূর্বক বা তিক্ত সম্পর্কের টানাপোড়েন বয়ে বেড়ানোর চেয়ে জীবনের এই পর্যায়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াকেই তারা দুজনের জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন। যৌথ ফেসবুক পোস্টে তারা জানান, তাদের এই দীর্ঘ পথচলায় যেমন আনন্দ ও সুসময় ছিল, তেমনি ছিল নানামুখী সংগ্রাম ও সীমাবদ্ধতাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসারীরা তাদের জীবনের যেসব মুহূর্ত দেখেছেন, সেগুলো কোনো নিখুঁত বা কৃত্রিম সম্পর্কের প্রদর্শন ছিল না। ওগুলো ছিল তাদের জীবনের বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতা, যা তারা আন্তরিকভাবেই যাপন করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় সম্পর্কের ভেতরের সমীকরণগুলো বদলে যাওয়ায়, কোনো প্রকার তিক্ততা তৈরি না করে পরস্পরের প্রতি সম্মান ধরে রেখে এই ২০ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছেন তারা। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে এই ব্যক্তিগত ঘটনাটি নিয়ে যেন কোনো ধরনের মনগড়া অনুমান, গুজব বা বিচার-বিশ্লেষণ করা না হয়, সে জন্য তারা সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা মনে করিয়ে দেন, কোনো ভাইরাল সংবাদের আড়ালে কিছু বাস্তব মানুষ থাকে, যারা জীবনের অত্যন্ত কঠিন একটি মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বিশেষ করে তাদের সন্তান, বাবা-মা ও ভাইবোনদের মানসিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই বিষয়টি নিয়ে চারপাশের মানুষকে সংবেদনশীল ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক দম্পতি। নিজেদের জীবন থেকে নেওয়া এক মূল্যবান শিক্ষা পাঠকদের সাথে শেয়ার করে তারা এই অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন। বিদায়লগ্নে তারা সবাইকে নিজের পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার এবং প্রিয় মানুষের হাত শক্ত করে ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। জীবন যে অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং আজকের একটি সাধারণ মুহূর্তও যে আগামী দিনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হতে পারে, সেই সত্যটি মনে করিয়ে দিয়ে তারা সবাইকে প্রতিটি মুহূর্ত সচেতনভাবে ও কৃতজ্ঞতার সাথে বাঁচার তাগিদ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা একটি পর্যটক পরিবারের অসাবধানতায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকে রেস্তোরাঁয় ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় এই ঘটনা ঘটে। পরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর শিশুটি তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে পায়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাকিস্তানি ওই পরিবারের সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার করাচি থেকে ১১ সদস্যের একটি পাকিস্তানি পরিবার বাংলাদেশে ভ্রমণে আসে। ঢাকায় একদিন থাকার পর আজ শনিবার ভোরে দুটি গাড়ি নিয়ে তারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি দিয়ে সকালের নাশতা করে। এ সময় তারা গল্প ও আড্ডায় মেতে ছিলেন। নাশতা শেষ করে সবাই আবার যাত্রা শুরু করলেও ভুলে দুই বছরের শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরেই ফেলে রেখে চলে যান। রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চালকসহ অন্তত ১৪ জন দুটি গাড়িতে করে এসে সেখানে নাশতা করছিলেন। দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে মা ছিলেন। গাড়ি আলাদা হওয়ায় মা ভেবেছিলেন শিশুটি তার বাবার কাছে আছে, আর বাবা ভেবেছিলেন সে মায়ের সাথে আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা শিশুটিকে ছাড়াই রওনা হন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার পর চা পানের জন্য আবার যাত্রাবিরতি দিলে তারা বুঝতে পারেন যে শিশুটি তাদের সাথে নেই। এদিকে শিশুটি রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়ার পর প্রথমে কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দ্রুত তাকে সামলে নেন। তারা শিশুটিকে একমুহূর্তের জন্যও আতঙ্কিত হতে দেননি এবং মোবাইলে ভিডিও ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত ও হাসিখুশি রাখেন। এর পাশাপাশি জাইতুন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করে। একই সাথে তারা রেস্তোরাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটি জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। চট্টগ্রামে গিয়ে শিশুটির পরিবার যখন নিখোঁজের বিষয়টি টের পায়, তখন তারা ফেসবুকে জাইতুন রেস্তোরাঁর ওই পোস্টটি দেখতে পায়। পরে তারা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভিডিও কলে শিশুর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন। এরপর তারা দ্রুত কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে রেস্তোরাঁয় এসে শিশুটিকে বুঝে নেন। পাকিস্তানি পরিবারটির ১২ দিন বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই যাত্রাপথেই তারা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সূত্র: প্রথম আলো
রাজধানীর শাহবাগে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টানা তিন দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর শুক্রবার বিকেলে তার ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত ডা. ফারা ফেরদৌস (২৭) খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য অধ্যয়ন করছিলেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুনের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে স্বজনরা শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবনে তার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে শাহবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলে ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকালে মরদেহে পচন ধরেছিল। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। শাহবাগ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ডা. ফারা ফেরদৌসের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এক লাফে ভরিতে বেড়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। ফলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম। দেশীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের দাম বাড়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বেশি। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় কাঁচামালের মূল্য সমন্বয় করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম শনিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হারসহ বিভিন্ন কারণে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, ক্রেতারা বলছেন, লাগাতার দাম বাড়ায় স্বর্ণ কেনা তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চলতি বছরে একাধিকবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সামনে দাম আরও পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পর আবুধাবি থেকে ফেডারেল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করে। একই সঙ্গে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠাতে বলা হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলো ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।” সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকেই জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কূটনৈতিকভাবে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছি, যদি কোনো বাংলাদেশি সেখানে অবস্থান করে, তাহলে তাদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠানো হোক। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ সময় শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলার তিন আসামিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে এবং তারা বর্তমানে কলকাতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ভারতের আইন অনুযায়ী আদালতে মামলা হয়েছে। আমরা এক্সট্রাডিশন চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঠিয়েছি। আশা করছি, তাদের শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, আসামিদের ফেরত আনার পর মামলার বাকি তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা যাবে।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে আজ (শুক্রবার) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বহুমাত্রিক হবে। কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অগ্রগতি প্রত্যাশা করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষ দিনের কর্মসূচিতে আরও রয়েছে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চীনের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন। চার দিনের সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা। উল্লেখ্য, গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে অংশ নিতে গত সোমবার রাতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বেইজিংয়ে যান তিনি। সফরের শেষ দিনে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তার এই রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হচ্ছে। সূত্র: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।