সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশ

জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!
জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট!

ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এই রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।    মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট। বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো যাচ্ছে না।   এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে আগামী বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।   তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে।   নতুন উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।   শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।   ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি।   নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৩:২৪
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয়চন্দ্র দাস। ছবি: সংগৃহীত
৪ হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, দোষী হলে ছেলের শাস্তিও চান সিদ্ধার্থের বাবা

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয়চন্দ্র দাস দাবি করেছেন, তার ছেলে মাদকাসক্ত নয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তদন্তে ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিনয়চন্দ্র এসব কথা বলেন। নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যরা ছিলেন সিদ্ধার্থদের নিকট প্রতিবেশী।   বিনয়চন্দ্র বলেন, সিদ্ধার্থ নিয়মিত বাড়িতে থাকত এবং তার কথা শুনত। ছেলে কীভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পুলিশের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ শোনার পরও বিষয়টি তার কাছে বিশ্বাস করা কঠিন বলে জানান তিনি।   তার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সিদ্ধার্থকে পাশের তার কাকার বাড়ি থেকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তখন তিনি বুঝতে পারেননি কেন পুলিশ তাকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে জানতে পারেন, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে চার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।    তবে চারজনকে হত্যার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিনয়চন্দ্র। তার প্রশ্ন, মাত্র দুজন যুবক কীভাবে একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় অন্য কোনো রহস্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার আহ্বান জানান তিনি।   ঘটনার দিন সিদ্ধার্থ বাড়িতে রাত কাটিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে বিনয়চন্দ্র বলেন, শুক্রবারগুলোতে ছেলে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে যেত। ওই রাতেও ভাত খাওয়ার পর পাশের এক বন্ধুর বাড়িতে থাকার কথা জানিয়েছিল সিদ্ধার্থ।   এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত চারজন হলেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম।    এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।    পুলিশের দাবি, গণপতিদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় তাদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা একে একে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।    তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আরও যাচাই করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১২:৪৬
নব্বইয়ের দশকে বিটিভির মঞ্চ কাঁপানো সেই কিশোরী বিতার্কিক রেবেকা শাফি আজ সফল এক বিজ্ঞানী। ছবি: সংগৃহীত
বিটিভির বিতর্কের মঞ্চ থেকে হার্ভার্ড হয়ে মস্তিষ্ক গবেষণায় রেবেকা

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার মঞ্চে কিশোরী রেবেকা শাফির যুক্তি, বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনা নজর কেড়েছিল। কয়েক দশক পর সেই সময়ের একটি বিতর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। ছোটবেলার সেই বিতার্কিক রেবেকাই পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন।   বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা রেবেকা নিজের পরিচিতিতে জানিয়েছেন, একই সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এসএসসি ও এইচএসসি এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।   ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অর্থাৎ ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন রেবেকা। তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার পয়েন্টের মধ্যে চার পয়েন্ট সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।   ক্যালটেকের পর তাঁর একাডেমিক যাত্রা এগিয়ে যায় বোস্টনে। সেখানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন রেবেকা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ব্ল্যাক হোল, বিশেষ করে ব্ল্যাক হোলের ঘূর্ণন বা স্পিন।   পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের এই দীর্ঘ একাডেমিক পথ পেরিয়ে পরবর্তী সময়ে গবেষণার ক্ষেত্র বদলান তিনি। মানুষের মস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন রেবেকা।   বর্তমানে তাঁর নিজের পরিচিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণা ফেলো হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র নিউরোসায়েন্স ও মানব জেনেটিক্সের সংযোগস্থলে। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি।   রেবেকার এই পথচলায় তাই একের পর এক বদল এসেছে জ্ঞানের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশের স্কুল বিতর্কের মঞ্চ থেকে ক্যালটেকে পদার্থবিজ্ঞান, এরপর হার্ভার্ডে ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণা এবং এখন মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করছেন তিনি।   তাঁর গল্পের বিশেষ দিক শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং নতুন জ্ঞান অর্জনের প্রতি ধারাবাহিক আগ্রহ। ছোটবেলায় বিতর্কের মঞ্চে যে কিশোরী নিজের যুক্তি দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন, সেই রেবেকা শাফিই পরে বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন।   বাংলাদেশের সেই বিতার্কিকের আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও গবেষণার যাত্রা এখন অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানের বিষয় বদলেছে, গবেষণার ক্ষেত্র বদলেছে, কিন্তু শেখার আগ্রহ ও নতুন কিছু জানার কৌতূহলই যেন তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় সঙ্গী।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১২:৩৯
বিতর্কে ব্যবহৃত 'মাসরুর' নামটি সিটি ব্যাংকের সাবেক এমডি ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন নন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
পরীমণিকে ৩ কোটি টাকার গাড়ি দেন ‘পুতুলের সাবেক স্বামী’ মাসরুর, বিতর্কে জড়ায় সিটি ব্যাংকের মাসরুরের নাম

চিত্রনায়িকা তমা মির্জার ব্যাংকিং খাতে যোগদানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক বছর আগের পরীমণিকে ঘিরে বহুল আলোচিত গাড়ি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেই বিতর্কে ব্যবহৃত ‘মাসরুর’ নামটি নিয়ে এখন দাবি উঠেছে, আলোচিত ব্যক্তি সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন নন। তবে নতুন এই দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   সম্প্রতি তমা মির্জা এবি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকিং খাত ও বিনোদনজগতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই সূত্র ধরে ২০২১ সালের পরীমণির গাড়ি বিতর্কের প্রসঙ্গও আবার সামনে আসে।   ২০২১ সালে পরীমণিকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি মাসেরাতি গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সিটি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি শুরু থেকেই অস্বীকার করেন মাসরুর আরেফিন।   তৎকালীন এক বক্তব্যে তিনি পরীমণিকে কখনো দেখেননি এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের পরিচয় বা যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম নিয়েও ভুলের বিষয়টি তুলে ধরেন।   এর কয়েক দিন পর ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাক তাদের প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক সংশোধনীতে আগের প্রতিবেদনে মাসরুর আরেফিনের নাম ভুলবশত ছাপা হয়েছিল বলে স্বীকার করে। সংবাদপত্রটি জানায়, ওই প্রতিবেদনে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মাসরুর আরেফিনের নাম এবং একই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। দুটি তথ্যই ভুল ছিল বলে ইত্তেফাক স্বীকার করে এবং পরীমণির ঘটনার সঙ্গে মাসরুর আরেফিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানায়।   এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি ও কিছু সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, পরীমণির গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ আসলে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। তিনি সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সাবেক স্বামী।   তবে এই দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ব্যক্তি মাসরুর হোসেন মিতুই ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যে পরীমণির সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগ এবং পরবর্তী পারিবারিক ঘটনার যোগসূত্রের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব দাবির নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।   এদিকে নতুন করে আলোচনায় আসা আরেকটি দাবি হলো, তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের বক্তব্যে যে ‘মাসরুর’-এর ইঙ্গিত ছিল, সেটি খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুকে ঘিরে ছিল। পরে নামের বিভ্রান্তির কারণে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের নাম সামনে আসে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এই বক্তব্যও বর্তমানে মূলত বিভিন্ন সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবির ওপর নির্ভরশীল এবং এর স্বাধীন যাচাই মেলেনি।   অন্যদিকে, ২০২১ সালের ঘটনাপ্রবাহে একটি বিষয় নথিভুক্তভাবে স্পষ্ট। মাসরুর আরেফিনের নাম প্রকাশের পর তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নিজেরাই তার নাম ভুলভাবে প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছিল।   ফলে কয়েক বছর পর পরীমণির সেই গাড়ি বিতর্ক আবার সামনে এলেও মূল প্রশ্ন এখন অভিযোগের সত্যতা নয়, বরং ‘মাসরুর’ নামটি নিয়ে তৈরি হওয়া পরিচয় বিভ্রান্তি। একদিকে রয়েছে ২০২১ সালের ভুলভাবে প্রকাশিত নাম ও তার পরবর্তী সংশোধন, অন্যদিকে রয়েছে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া দাবি। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এই দুই ব্যক্তিকে এক ব্যক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৯:৫৮
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষের দুই বন্ধু: একজন বঙ্গভবনে, অন্যজন অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষের দুই বন্ধু: একজন বঙ্গভবনে, অন্যজন অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১৭১ নম্বর কক্ষ একসময় ছিল চার তরুণের ঠিকানা। তাঁদেরই দুজন ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তখন তাঁরা পরিচিত ছিলেন না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে। ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের তরুণ ছাত্র, একই হলের আবাসিক, একই রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সময়ের বন্ধুত্বই কয়েক দশক পরও টিকে আছে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেশের অন্যতম পরিচিত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা।   ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন মির্জা ফখরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁরা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের একই কক্ষে থাকতেন। একই ঘরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল ও রাজনীতিবিদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চারজনই সে সময়ের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।    সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ, বৈষম্য ও রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, একই রাজনৈতিক আবহ এবং হলজীবনের ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়েই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়।   সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সেই সময়ের জীবন অবশ্য খুব শান্ত ছিল না। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এক স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, তৎকালীন আইয়ুবপন্থী ছাত্রসংগঠন এনএসএফের কর্মীরা তাঁদের কক্ষে অন্তত দুবার হামলা চালিয়ে ঘর তছনছ করেছিল। ওই সময় তিনি হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।    বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর চার বন্ধুর পথ ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে পৌঁছান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।    অন্যদিকে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বেছে নেন অর্থনীতি, গবেষণা ও শিক্ষকতার পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উন্নয়ন, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।   তবে পেশা ও রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তাঁদের বন্ধুত্বে ছেদ ঘটায়নি। ২০২০ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের জন্মদিনে তাঁর বাসায় মির্জা ফখরুল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আহমেদ কামাল একসঙ্গে আড্ডা দেন। ওই সময় ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় পর চার পুরোনো বন্ধু একসঙ্গে বসেছিলেন এবং যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোতে।    সাম্প্রতিক সময়েও সেই বন্ধুত্বের কথা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছিলেন, মির্জা ফখরুল তাঁর শিক্ষাজীবনের বন্ধু ও সাবেক রুমমেট। একই সময়ে শিক্ষা ও প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন বলে জানান।    এখন তাঁদের পরিচয়ের পরিধি অনেক বড়। একজন দেশের রাষ্ট্রপতি, অন্যজন অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের জগতে সুপরিচিত মুখ। কিন্তু তাঁদের দীর্ঘ জীবনের গল্পের শুরু হয়েছিল একই জায়গা থেকে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ১৭১ নম্বর কক্ষ।   সেই কক্ষের চার তরুণের জীবন পরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌঁছেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে। আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ হয়ে উঠেছেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক। সময় তাঁদের পরিচয় বদলে দিয়েছে, দায়িত্ব বদলে দিয়েছে, পথও আলাদা করেছে। কিন্তু কয়েক দশক পরও তাঁদের গল্পের শুরুর জায়গাটি একই রয়ে গেছে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৮:২০
ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা
ইয়াবা সেবন করে ধরা পরে পরিচয় গোপন রাখতে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। আটক দুজন একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ প্রথমে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়।   সেখানে তারা আবার ইয়াবা সেবন করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখতে পান এবং সেখানে কেন এসেছে তা জানতে চান। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা গণপতি চক্রবর্তীর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি।   চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।   পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   এরপর নিচতলায় থাকা ১২ বছর বয়সী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। ফলে প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত এবং তাকে জীবিত রাখলে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটিকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়।   হত্যাকাণ্ডের পরও বাড়িতে বেশ কিছু সময় অবস্থান করে অভিযুক্তরা। তারা বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। কিছু সময় চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেওয়ার পর সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ আরও জানায়, মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। তারা খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।   হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পুলিশের দাবি, মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এসব স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আটক দুজনের দেখানো জায়গা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   আটক দুজন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৬:৪৬
শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে
শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।    নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটি বেশ কিছুদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের কাউকে বাইরে বের হতে না দেখে এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।   রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে প্রীয়মের মরদেহ একটি কক্ষের খাটের নিচে পাওয়া যায়।    মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।    ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শেষ না করা পর্যন্ত মৃত্যুগুলোকে হত্যা বা অন্য কোনো কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ০:৫১
ফরিদপুরে নিজ বাড়ির ছাদে ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শক আবীর হোসেনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু

ফরিদপুর শহরে নিজ বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক ইলেকট্রিশিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. আবীর হোসেন (৫৫) নামে এক পুলিশ পরিদর্শকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার খোদাবক্স রোডে নিজের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত আবীর হোসেন শরীয়তপুরের নড়িয়া সার্কেল অফিসে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবু বকর মোল্লার ছেলে। কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের নিজ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে আবীর হোসেনের নতুন বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ চলছিল। এ সময় ইলেকট্রিশিয়ান আবদুল আজিজ (২৫) হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিষয়টি দেখে তাকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত এগিয়ে যান আবীর হোসেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।   পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত আবদুল আজিজ বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিজের নতুন বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক কাজ চলার সময় দুর্ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক আবীর হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১২:৩
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।   নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের একই দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।   আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।   বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্যদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   নতুন ছয় সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও বিস্তৃতি ঘটল। তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:৭
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ইসরাত জাহান। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পর্যন্ত। সেখানে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে ভর্তি হন এবং মেমফিসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যেও তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরাত। সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে কখনো পিছিয়ে থাকা মনে করেননি। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।   শিক্ষাজীবনের শুরুটাও তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পড়াশোনায় দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ২০১০ সালে শুরু করা স্নাতক পড়াশোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে তাঁকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন তিনি।   তখন ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করলেও ইংরেজিতে কথা বলা ও অনেক বিষয় বুঝতে তাঁর সমস্যা হতো। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য জিআরই পরীক্ষাও দেন দুইবার। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন।   এরপর শুরু হয় উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পালা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনা করা হবে, কোথায় জিআরই বাধ্যতামূলক নয় এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কি না, এসব তথ্য তিনি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খুঁজে বের করেন। পরে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।   সেই চেষ্টার ফল আসে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পান ইসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশি নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রজনন আচরণের সম্পর্ক।   স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোফাইলে তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য, জনমিতি, স্বাস্থ্য বৈষম্য ও চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান উল্লেখ রয়েছে। একই প্রোফাইলে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে সমাজবিজ্ঞানের দুটি কোর্স পড়ানোর তথ্যও রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত জাহান পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে যান। মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে তাঁর পদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট ইনস্ট্রাক্টরের তথ্যও রয়েছে।   একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করাকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল ইসরাতকে। সেই পথ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতায় পৌঁছানোর গল্পটি দেখায়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। নিজের দক্ষতা তৈরি, সঠিক তথ্য খোঁজা এবং সুযোগের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা করাও উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১১:১৮
বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার বিশ্বজয়
বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার বিশ্বজয়

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় চতুর্থ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুউদ্দীন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।    এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশ থেকে মোট ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। পাঁচটি বিভাগে কুরআন মুখস্থ, নির্ভুল তেলাওয়াত, তাজবিদ এবং সংশ্লিষ্ট জ্ঞান যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়।    নুরুউদ্দীন জাকারিয়া চতুর্থ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই বিভাগে ১৫ পারা কুরআন হিফজ, শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত এবং তাজবিদের নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিচারকরা একাধিক ধাপে প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই করেন।    নুরুউদ্দীন ঢাকার আর রাইহান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের আগে দেশেও কুরআন তেলাওয়াতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।   ২০২৩ সালে দেশের সবচেয়ে বড় কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত ‘কুরআনের নূর’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন নুরুউদ্দীন জাকারিয়া। সেখানে প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ঢাকার মার্কাজু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পুরস্কার হিসেবে ১০ লাখ টাকা পান।    এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের মাধ্যমে সেই অর্জনের তালিকায় যোগ হলো আরও বড় একটি অধ্যায়। মক্কার পবিত্র নগরীতে অনুষ্ঠিত কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুরআন প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দাওয়াহ ও গাইডেন্স এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।    এবারের প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ৫০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজ ও কুরআন তেলাওয়াতকারীদের অংশগ্রহণের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার প্রথম স্থান অর্জন দেশের কুরআন শিক্ষার অঙ্গনে নতুন সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:৩৪
বিকেলে নববধূকে নিয়ে বাড়ি আসেন, রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু
বিকেলে নববধূকে নিয়ে বাড়ি আসেন, রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৌভাতের আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমেদ আনাস বাপ্পি নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগের দিনই নববধূকে বাড়িতে এনেছিলেন বাপ্পি।   বাপ্পি ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। প্রায় দুই মাস আগে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল।   পরিবারের সদস্যরা জানান, বৌভাত উপলক্ষে বাড়িতে অতিথিদের খাবারের জায়গা ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চলছিল। বাপ্পিও সেখানে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারকি করছিলেন। একপর্যায়ে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।   স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্ট্যান্ড ফ্যান সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাপ্পির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় বৌভাতের সব আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।   দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   শুক্রবার যে বাড়িতে নববধূকে ঘিরে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই বাপ্পির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:১৬
জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী
জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ।   শুক্রবার বিকেলে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ এসব তথ্য জানান।   পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকান রয়েছে। দোকানটির মালিক বিপ্লব বসাক। সেখানে রোমেন দে নামের ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন।   গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মীরা স্বর্ণের অলংকারের মজুত মিলিয়ে দেখার সময় গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি মালিককে জানানো হলে তিনি বাসা থেকে দোকানের দিকে রওনা হন। মালিক আসছেন জানতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে বেরিয়ে যান।   পরে দোকানের মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেনের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। ওই চুড়িগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চুড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।   এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক বিপ্লব বসাক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।   এর ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।   রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিয়াখান নগরের ওই জুয়েলারি দোকান থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।   পরদিন ২০ আগস্ট শ্যামল সিংহকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে থাকা আরও ৩৯টি চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে।   এরপর কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি এবং বিভিন্ন বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আরও ২০টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ জানায়, বন্ধকি ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।   এ ছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি এবং চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি ও ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।   সিএমপি জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:৮
আলোচিত মন্ত্রীরাসভার সদস্যরা।ছবি:সংগৃহীত
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয়?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজনকে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়াবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে।   নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।   তবে চারজনের দায়িত্ব ও দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি ও দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের দুজনই বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের আলোচনার কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন, তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।   আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে আন্দালিব রহমান পার্থকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   এর পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিমান, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্ত নয়।   এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে এই ফলাফল পাওয়া যায়।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পুনর্বণ্টনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনার অংশ হিসেবেও মন্ত্রিসভায় সীমিত পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।   তবে নতুন মন্ত্রীদের শপথ এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য দায়িত্বগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:৫৮
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফলাফল আগেই নির্ধারিত, গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত, এখানে অন্য কিছু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।   কোনো সংসদ সদস্য তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন না, এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত। কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে, দলের পক্ষ থেকে যেখানে ভোট দিতে বলা হবে, সেখানেই ভোট দিতে হবে।"   সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, কেউ দলের মতামতের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের ৩১ দফা অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার কথা বলেছিল।   ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, বিএনপি কেন এত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করল তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বিএনপি হয়তো ভেবেছিল সংশোধন না করে নির্বাচন করলে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে, আর সংশোধন হলে সমস্যা হতে পারে।   অলি আহমদের এই প্রতিক্রিয়ার কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। ৩৫০ সদস্যের সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ নিজে ভোট দিতে পারেননি।   রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, বঙ্গভবনে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ আছে, আর সেখানে মাজার জিয়ারত ও নামাজ পড়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ খুবই সীমিত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, "একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি; আপনার কাছ থেকে আমরা কিছু ভালো জিনিস আশা করি। সব জিনিসের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:৪২
নিজ হাতে পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ করছেন কুমিল্লার মাদ্রাসাছাত্রী সুরাইয়া জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত
রিলস দেখে সময় নষ্ট না করে ৮ মাসে পুরো কোরআন লিখলেন সুরাইয়া

কুমিল্লার লাকসামের মাদ্রাসাছাত্রী সুরাইয়া জান্নাত নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় কাজে লাগিয়ে নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা লেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রায় আট মাসের প্রচেষ্টায় তিনি ১ হাজার ১১৯ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করেছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কাজে তিনি প্রায় ৫৫০টি কলম ব্যবহার করেছেন।   সুরাইয়া জান্নাত কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের টানদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি প্রবাসী নূর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। বর্তমানে তিনি মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।   দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি হাতে কোরআন লেখার কাজ শুরু করেন সুরাইয়া। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় তিনি এই কাজে ব্যয় করেন। প্রায় আট মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে ৩০ পারার কোরআন হাতে লেখেন তিনি। পুরো পাণ্ডুলিপিতে মোট ১ হাজার ১১৯টি পৃষ্ঠা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   কোরআন লেখার সময় পবিত্রতা ও শুদ্ধতা বজায় রাখতে বিশেষ সতর্ক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সুরাইয়া। প্রতিদিন কাজ শুরুর আগে অজু করতেন তিনি। এরপর নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে কোরআন লেখার কাজে বসতেন।   নিজ হাতে কোরআন লেখার এই উদ্যোগের পর ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন সুরাইয়া। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ নিজের হাতে লেখার ইচ্ছা রয়েছে তার। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।   মেয়ের এমন উদ্যোগে গর্বিত বাবা নূর হোসেন লিটন। মেয়ের হাতে লেখা কোরআন দেখে খুশি হয়ে তিনি তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরাইয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিস সুলতানা।   এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের হাতে কোরআন লেখার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুরাইয়া পরিবারের কাছ থেকে পুরস্কার এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।   সুরাইয়ার এই উদ্যোগের পেছনে নিজের অবসর সময়কে কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন লেখার কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি ৩০ পারার পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছেন বলে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে।   তবে তাঁর হাতে লেখা কোরআন সম্পন্ন করার সময় নিয়ে দেওয়া তথ্যে একটি সময়গত অসঙ্গতি রয়েছে। সেখানে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কাজ শুরুর কথা বলা হলেও আগস্টের শেষ দিকে পুরো কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ আগস্টের হিসাবে আগস্টের শেষ সময় এখনো আসেনি। তাই কাজটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:১১
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের ক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
যশোরে সিজারের পর নবজাতকের মৃত্যু, শরীরে কাটার চিহ্ন নিয়ে অভিযোগ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিজার করাতে এসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সিজারের সময় শিশুটির মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার চিহ্ন দেখা যায় এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় পরে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, নবজাতকের শরীরে থাকা ক্ষত সিজারের সময় কাটার কারণে হয়নি এবং সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরাকে ভোরে প্রসব ব্যথা ওঠার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর তাকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন এবং পরে সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে প্রসূতির অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর পরিবারের সদস্যদের ছেলে সন্তান হওয়ার কথা জানানো হয় এবং নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়। স্বজনদের দাবি, তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলেও প্রথমে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটিকে দেখতে গেলে তার মাথা, ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার চিহ্ন দেখতে পান তারা।   নবজাতকের খালা রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, পাঁচ দিন আগে শিশুটির নড়াচড়া না থাকায় তার বোন তাজমিরাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা মা ও শিশু ভালো থাকার কথা জানিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। সিজারের পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে শিশুটিকে দেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটার চিহ্ন পাওয়ার দাবি করেন স্বজনেরা।   স্বজনদের দাবি, পরে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য অন্য একটি শিশু হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে তারা জানান। শিশুটির বাবা সাগর হাসান চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।   তবে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পী বলেছেন, নবজাতকের শরীরে থাকা ক্ষত সিজারের সময় কেটে যাওয়ার কারণে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না। তার ধারণা, সিজারের আগেই অন্য কোনো কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ ও চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।   ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে নবজাতকের মৃত্যু ও শরীরে কাটার চিহ্নের বিষয়ে স্বজনদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভিন্ন বক্তব্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সিজারের সময় শিশুটির শরীরে ক্ষত সৃষ্টি বা চিকিৎসকের অবহেলাকে নবজাতকের মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা তথ্যনির্ভর হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:০
শাফি ছবি:সংগৃহীত।
দ্বাদশ শ্রেণিতেই ৩০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ডিং, শাফির এআই স্টার্টআপে বাংলাদেশের বিশ্বজয়

ঢাকার সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাফি বিন সুলতান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই তিনি যুক্ত হয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার জগতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এজেন্টিকহায়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তিনি।   শাফির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার বিষয়টি তার একাডেমিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন অর্জনের কারণেও নজর কেড়েছে। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক একাডেমিক গবেষণা প্রতিযোগিতার ফলাফলে শাফি বিন সুলতানকে জুনিয়র বিভাগে স্বর্ণপদকজয়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। একই ফলাফলে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের নামও রয়েছে।   এজেন্টিকহায়ার মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই থেকে শুরু করে নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ ও দক্ষ করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।   স্টার্টআপটির যাত্রা শুরু হয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওয়েভস্পার্কসের তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলনের মাধ্যমে। শাফির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে আয়োজিত ছয় দিনের একটি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মিলে এজেন্টিকহায়ার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন দেশ ও সময় অঞ্চলে থাকা দলের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করতে থাকেন।   তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্টার্টআপ তৈরি, পরামর্শ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হয়। এজেন্টিকহায়ারের দলও পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপনের সুযোগ পায়।   প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলনের প্রদর্শনী আয়োজনে তারা নিজেদের পণ্য ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেওয়ার সুযোগও পায় দলটি।   এজেন্টিকহায়ার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়মন্ড চ্যালেঞ্জেও অংশ নেয়। শাফি বিন সুলতানের প্রকাশিত পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতাটিতে এজেন্টিকহায়ার সেরা পাঁচ চূড়ান্ত প্রতিযোগীর তালিকায় জায়গা করে নেয়।   তবে এজেন্টিকহায়ারের ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা এবং প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রান্ত থেকে প্রান্ত নিয়োগ স্টার্টআপ, এমন দাবিগুলোর স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এসব তথ্যকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দাবি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   শাফির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক তার বয়স ও শিক্ষাজীবন। সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি। সেখানে শাফি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক স্টার্টআপের পণ্য উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।   এজেন্টিকহায়ারের প্রতিষ্ঠাতা দলও আন্তর্জাতিকভাবে বৈচিত্র্যময়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণরা এই দলের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে মিলে প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবসা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা শাফির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শেখার সুযোগ তৈরি করেছে।   শাফির এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবর্তিত প্রবণতারও একটি উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে প্রবেশের প্রচলিত পথের পাশাপাশি এখন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই প্রযুক্তি, গবেষণা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই আন্তর্জাতিক একটি স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত হওয়া শাফির জন্য নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। তবে এজেন্টিকহায়ার এখনো তাদের যাত্রার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে নিজেদের প্রযুক্তি কতটা বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিয়োগবাজারে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৮:১৭
বিয়ে করলেন ভাইরাল সেই প্রবাসী, এবার পাতে ‘আস্ত খাসি’
বিয়ে করলেন ভাইরাল সেই প্রবাসী, এবার পাতে ‘আস্ত খাসি’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের বিশেষ খাবার ‘খদরে’ আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই ফিরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া একদিনের ব্যবধানেই নতুন করে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট রাতে নতুন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবারের আয়োজনে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থাও ছিল বলে বিয়ের ছবি ও স্বজনদের বক্তব্যে জানা গেছে।   নতুন কনের নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়া এলাকার জাহের মিয়ার মেয়ে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জুনায়েদের বাড়িও একই এলাকায়। নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ টাকা।   বিয়ের পর জুনায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের বিশেষ খাবারের আয়োজনও নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে খদরে খাসি পরিবেশনের দৃশ্য দেখা যায়। আগের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই খাসিকে ঘিরেই বিরোধ তৈরি হওয়ায় নতুন বিয়েতে একই আয়োজনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।   এর মাত্র একদিন আগে সোমবার ১৭ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জুনায়েদ। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বরপক্ষের জন্য বিশেষভাবে সাজানো খাবার ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। কনেপক্ষের অভিযোগ, ওই খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান।   কনেপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ফুল ও অন্যান্য আয়োজন নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খাবারের সময় খদরে খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উপস্থিত স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি বিয়েতে রাজি হননি বলে দাবি কনেপক্ষের।   তবে ঘটনার পর জুনায়েদ পাল্টা বক্তব্য দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, শুধু খাসি না থাকাই বিয়ে না হওয়ার কারণ ছিল না। তার অভিযোগ, বিয়ের আসরে পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি কাবিন দাবি করা হয়েছিল এবং তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।   জুনায়েদের অভিযোগের বিপরীতে প্রথম কনেপক্ষ জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সমঝোতা হয়েছিল। তাদের দাবি, দুই লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং বরের পক্ষের একজন প্রতিনিধিও সেই লিখিত ফর্দে স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে বিয়ের দিন হঠাৎ অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।   প্রথম ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কনের স্বজনদের বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কনের বাবা জানিয়েছিলেন, আগে থেকে জানানো হলে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থা করা যেত। তার দাবি ছিল, এমন কোনো বিশেষ শর্তের কথা তাকে আগে জানানো হয়নি।   খাসি নিয়ে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জুনায়েদকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা থামার আগেই পরদিন রাতে তার নতুন বিয়ের খবর সামনে আসে।   নতুন বিয়েতে ছয় লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং বরের খদরে খাসি পরিবেশনের ছবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিন আগে যে খাসিকে ঘিরে বিয়ে না হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একদিন পর সেই খাসির আয়োজনের মধ্যেই নতুন সংসার শুরু করলেন আলোচিত জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ০:১৪
জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া I ছবি: সংগৃহীত
আস্ত খাসি না দেওয়ায় তর্ক করলেন বর, বিয়ে না দিয়েই জাপানপ্রবাসীকে ফিরিয়ে দিলেন কনের বাবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের আসরে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বরের জন্য তৈরি করা বিশেষ খাবারের ডালায় 'আস্ত খাসি' না থাকায় শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। আর এই অযৌক্তিক ক্ষোভ ও অশালীন আচরণের জেরে জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়াকে বিয়ে না দিয়েই আসর থেকে বের করে দিয়েছেন কনের বাবা সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই অভিনব ঘটনাটি ঘটে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলামের মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। দুপুরে বরপক্ষ কনের বাড়িতে উপস্থিত হলে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হয়।   কিন্তু শুরুতেই সেই ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বর। এরপর বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জন অতিথির খাওয়াদাওয়া শেষে বর, তাঁর ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সেই ডালায় আস্ত খাসি না দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জুনায়েদ। কনেপক্ষের সঙ্গে তিনি চরম বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।   পরিস্থিতি শান্ত করতে বরের বড় ভাই উজ্জল মিয়া এগিয়ে এলে জুনায়েদ রেগে গিয়ে তাঁর ভাইকেই ওই মেয়েকে বিয়ে করতে বলেন! বরের এমন উদ্ধত আচরণ ও বেয়াদবি দেখে কনের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন এবং খাওয়া শেষে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালংকারসহ বরপক্ষকে বিদায় করে দেন।   এ বিষয়ে কনের বাবা সফিকুল ইসলাম জানান, খাবারের ডালায় আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি তুলে চরম খারাপ আচরণ শুরু করেন। খাসির বিষয়টি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না জানালেও তিনি শান্ত হননি, উল্টো নিজের বড় ভাইকে বিয়ে করতে বলার মতো ধৃষ্টতা দেখান। ছেলের এমন মানসিকতা দেখে তিনি মেয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে বিয়ে না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।   ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়াও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খাবার নিয়ে বরের চরম বেয়াদবির কারণেই কনের বাবা তাঁদের তাড়িয়ে দিয়েছেন।   তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিযুক্ত বর জুনায়েদ। তাঁর দাবি, খাওয়ার পর কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে দশ গুণ বেশি অর্থ দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।   অন্যদিকে, বরের ভাই উজ্জল মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, বিয়ে না দেওয়ার কথা বলায় তাঁরা বরকে নিয়ে ফিরে এসেছেন। পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের মধ্যেই পুরো বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৭:২৬
শিশু ও  মা ফাতেমা বেগম।
কান্নায় ঘুমের ব্যাঘাত, ১৪ দিনের নবজাতককে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা করল মা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অতিরিক্ত কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর কারণে ১৪ দিন বয়সী নিজের নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট শিশুটির বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে। রাত প্রায় ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেন।    পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে আবার বলেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং তারা ঘরে ও আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।    একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে রাখা বৃষ্টির পানির ড্রামে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাতেমাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।    বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ফাতেমা পুলিশকে বলেছেন শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, ঘুমাত না এবং তাকে ঘুমাতে দিত না। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিশুটিকে পানির ড্রামে ফেলেছেন বলে পুলিশের দাবি।    পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিশুটিকে ড্রামে ফেলার পর সেটির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটির বাবা থানায় হত্যা মামলা করলে ফাতেমাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির ছেলে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম হয়েছিল ৪ আগস্ট।    স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এই পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।    নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।    বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ফাতেমাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পুরো পরিস্থিতি, শিশুটির মৃত্যুর সময় এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৮:৫৩
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০