সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশ

ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে প্রেমের প্রতারণায় গ্রেফতার
ফেসবুকে প্রেম, মোবাইলে বিয়ে, চার মাস পর জানলেন স্ত্রী আসলে পুরুষ

ফেসবুকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে নারীর ভুয়া পরিচয়ে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। পরে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে বিয়ের নাটক সাজিয়ে কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও বজায় রাখেন তিনি। এভাবে বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন তিন লাখ টাকারও বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর প্রকাশ্যে আসে পুরো প্রতারণার ঘটনা।   গ্রেফতার ওই তরুণের নাম শান্ত আলী। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং শহিদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় শান্তর পাশাপাশি তাঁর বাবাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামের একটি পরিচয়ের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কথাবার্তা বাড়তে থাকলে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই পরিচয়ের আড়ালে যে একজন তরুণ রয়েছেন, তা বুঝতে পারেননি প্রবাসী।   প্রায় চার মাস আগে সম্পর্কটিকে বিয়ের রূপ দেন শান্ত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয় ওই প্রবাসীকে। এরপর কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান শান্ত। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে নানা প্রয়োজন ও অজুহাত দেখিয়ে টাকা চাইতেন তিনি। একপর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায় করেন।   প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আরও একটি কৌশল অবলম্বন করেন শান্ত। নিজের বাবাকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে কথা বলাতেন বলে জানা গেছে। এতে কথিত বিয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রবাসীর সন্দেহ আরও কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এই যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেন।   বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে শান্ত আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে শান্ত ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।   গ্রেফতারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। তখন শান্তর মোবাইল ফোনে কল করেন সেই ইতালি প্রবাসী। ফোনটি আসার পর পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এতদিন যাঁকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ ভেবে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, তিনি আসলে কোনো নারী নন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগকারী ব্যক্তি শান্ত আলী নামের এক তরুণ।   প্রকৃত পরিচয় জানার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই প্রবাসী। তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।   লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, গ্রেফতার শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর আইডি হ্যাকিং এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁদের গ্রেফতারের পর ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।   এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে কীভাবে আর্থিক প্রতারণার শিকার হতে পারেন, এ ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। বিশেষ করে অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে বিয়ে বা পারিবারিক সম্পর্কের দাবি উঠলে ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অর্থ পাঠানোর আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৬:২৮
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
বিশ্ব পর্যটন মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্জন, এশিয়ার দায়িত্বে ডাল্টন জহির

বাংলাদেশের পর্যটন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহযোগী সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, তাকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   নতুন দায়িত্বে ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ভিডিও নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি তার দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি কাজ করবেন।   এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি হলো। ডাল্টন জহির আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের কার্যক্রম সম্পর্কে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচার করবেন এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরতে সহযোগিতা করবেন।   আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন প্রচারণায় মানসম্মত ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ডাল্টন জহিরের রয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে একজন পর্যটন পেশাজীবী, লেখক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত করা হয়েছে।   তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল ব্যবসায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে তিনি নির্বাহী পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুজাতিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।   পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও ভ্রমণ প্রচারণার ক্ষেত্রেও ডাল্টন জহির দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিস্তৃত। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে।বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ডাল্টন জহির লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন ও করপোরেট চলচ্চিত্র উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে। পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য ও পর্যটনসেবার প্রচারে মানসম্মত ভিডিও নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ভিডিও নির্মাতারা তাদের নির্মিত প্রচারচিত্র জমা দিতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবে অর্জিত পুরস্কার ও পয়েন্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি হয় এবং বছরের সেরা পর্যটন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।   বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারণায় ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ের একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে পর্যটন শিল্পে চলচ্চিত্র ও ভিডিও এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি দেশের পর্যটন পরিচিতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।   এই বাস্তবতায় এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডাল্টন জহিরের দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের খাবার ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যভিত্তিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে নিজেদের কাজের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এশিয়ার পর্যটন খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের পর্যটন গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও এবং ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও আধুনিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।   ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্ব সেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তার মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটন প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবীর এশিয়া অঞ্চলের এমন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পাওয়া দেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মাধ্যমে শুধু ডাল্টন জহিরের ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক পরিচিতিই বাড়েনি, বাংলাদেশের পর্যটন ও গন্তব্য প্রচারণার জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন একটি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:৮
বাংলাদেশে টেসলা-মার্সিডিজের চেয়েও বেশি শুল্ক মাল্টায়, চাপ বাড়ছে ক্রেতাদের
বাংলাদেশে টেসলা-মার্সিডিজের চেয়েও বেশি শুল্ক মাল্টায়, চাপ বাড়ছে ক্রেতাদের

বাংলাদেশে বিলাসবহুল গাড়ির তুলনায় বেশি শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে আমদানি করা মাল্টায়। বর্তমানে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক ও করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অথচ টেসলা ও মার্সিডিজ বেঞ্জের নির্দিষ্ট মডেলসহ অন্তত ১৪৬টি শ্রেণির গাড়িতে এর চেয়ে কম শুল্ক ও কর আরোপ করা হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক করকাঠামোর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।   চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুল্ককাঠামো পর্যালোচনা করে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি করা মাল্টায় যে হারে শুল্ক ও কর আরোপ করা হচ্ছে, তা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা একটি ফলের ওপর বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি হারে কর আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হিসাব অনুযায়ী, আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা হলেও এর ওপর শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। অর্থাৎ শুধু আমদানি মূল্য ও কর মিলিয়েই খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৯৪ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবসায়িক খরচ ও মুনাফা যোগ হয়ে খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যায়।   সম্প্রতি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে আমদানি ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমে প্রায় ৪০০ টাকায় নেমে আসে।   অন্যদিকে বাংলাদেশে আমদানি করা টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়িতে তুলনামূলক কম শুল্ক দিতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের হিসাবে ৫০ হাজার ডলার মূল্যের একটি টেসলা গাড়ির ওপর শুল্ক ও করের হার প্রায় ৮০ শতাংশ। একইভাবে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের বিওয়াইডি বা সমজাতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬৪ শতাংশ।   মার্সিডিজ বেঞ্জের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো থেকে ২০২৬ সালে উৎপাদিত তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি খালাস করে র‍্যাংগস মোটরস লিমিটেড। প্রতিটি গাড়ির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ির আমদানিতে শুল্ক ও করের হার ছিল ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ।   তবে সব ধরনের টেসলা বা মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ওপর একই হারে শুল্ক আরোপ করা হয় না। গাড়ির ধরন, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, প্রযুক্তি, মূল্য এবং নির্ধারিত এইচএস কোড অনুযায়ী করের হার পরিবর্তিত হয়।   মাল্টার ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে আমদানি করা মাল্টার মোট শুল্ক ও করের হার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে।   ২০২২ সালের মে মাসে ডলার সংকটের মধ্যে ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে তৎকালীন সরকার। এর ফলে মাল্টার ওপর মোট শুল্ক ও করের বোঝা প্রায় ১১৪ শতাংশে পৌঁছায়।   পরবর্তী সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা আরও বাড়িয়ে প্রায় ১৩৬ শতাংশ করা হয়। ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের পর ২০২৫ সালের মার্চে কিছু অতিরিক্ত শুল্ক কমানো হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে মাল্টার মোট শুল্ক ও করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।   বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম প্রথম আলোকে জানান, বিশ্বের অন্য দেশে আমদানি করা তাজা ফলের ওপর এত বেশি শুল্ক আরোপের নজির বিরল। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মাল্টার মতো ফলের ওপর বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি কর আরোপ করা হচ্ছে।   চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক জুনাইদুল হক জানান, আগে এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা শুল্ক ও কর দিতে হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও বেশি দাম দিতে হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক তুলনাতেও বাংলাদেশের শুল্কহার অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে আমদানি করা কমলালেবুর কার্যকর গড় শুল্কহার ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সে হিসাবে বাংলাদেশে মাল্টার ওপর মোট শুল্ক ও করের হার প্রায় ২৩ গুণ বেশি।   প্রতিবেশী ভারতেও আমদানি করা কমলালেবুর ওপর মৌলিক শুল্ক ৩০ শতাংশ। অন্যান্য করসহ মোট করের বোঝা প্রায় ৩৩ শতাংশ।   এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে তাজা ফলের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের মতে, তাজা ফল অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।   গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেই একসময় ফল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।   তাঁর মতে, রোগীদের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত মাল্টার ওপর কিছু বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি শুল্ক ও কর আরোপের ঘটনা দেশের বিদ্যমান করকাঠামোয় ভারসাম্যের অভাব তুলে ধরে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও এর একটি বড় অংশের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। কারণ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সময় শুল্ক, কর এবং অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নেন।   ফলে মাল্টার মতো একটি ফলের উচ্চমূল্য শুধু আমদানি ব্যবসার বিষয় নয়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের শুল্ককাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৬:৫১
ফ্যামিলি কার্ডের নামে কাবিননামা তৈরির অভিযোগ
ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই, পরে বিধবা জানলেন তার বিয়ে হয়ে গেছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, তিনি কাউকে বিয়ে করেননি কিংবা বিয়েতে সম্মতিও দেননি। অথচ কয়েক দিন পর জানতে পারেন, তাঁর বিয়ে হয়ে গেছে বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি তাঁকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে।   ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। কয়েক দিন পর তাঁকে ডেকে একটি কাগজে টিপসই নেন। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।   প্রায় ১৩ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন ওই নারী। এরপর অন্যের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। ছেলেদের বিয়ে দিয়েছেন, সংসারে নাতি-নাতনিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একাই পরিবারের দায়িত্ব সামলানো এই নারী এখন নিজের অজান্তে বিয়ের কাগজ তৈরির অভিযোগ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।   তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের জন্য কোথাও যাননি এবং কোনো কাজির সামনেও উপস্থিত হননি। এমনকি যাঁর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তির বিয়ের প্রস্তাবও তিনি আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।   ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এর আগেও একাধিকবার ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু নারীটি কখনো রাজি হননি।   আবদুল কুদ্দুস নিজেও বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানিয়েছেন, স্বামী তাঁকে আগে এ ধরনের কোনো বিয়ের কথা জানাননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কুদ্দুস দাবি করেন, তিনি কোর্ট ম্যারেজ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাঁদের কথা শোনেননি বলে জানান সুফিয়া।   এদিকে কাবিননামায় আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। দলিলটিতে কাজি হিসেবে গোলাম মোস্তফা এবং সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে।   তবে সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো বিয়েতে সাক্ষী হননি।   অন্যদিকে কাজি গোলাম মোস্তফাও কাবিননামাটি জাল বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এ ধরনের কোনো বিয়ে সম্পন্ন করেননি। এর আগেও ২০২০ সালে তাঁর নামে একই ধরনের জাল কাগজ তৈরি হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। বর্তমান ঘটনায় কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।   এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, আবদুস ছাত্তার দলের কোনো পদধারী নেতা নন। বিগত নির্বাচনে তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি।   ফজলুল হকের ভাষ্য, স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।   এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশ বৈঠক হয়েছে। গত সোমবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস কেউই উপস্থিত ছিলেন না।   সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত অভিযুক্তদের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সালিশের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   বিধবা নারীর সম্মতি ছাড়া বিয়ের কাবিননামা তৈরির অভিযোগটি এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও। ফলে কাবিননামাটি কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং এতে কারা জড়িত, তা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।     সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৫:৫২
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম ঐশির মৃ ত্যু
উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার তিন মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে (ইসিইউ) পড়াশোনা করছিলেন। মাত্র তিন মাস আগে দেশ ছেড়ে যাওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাসনিম ঐশি। সেখানে নতুন পরিবেশে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। তবে পার্থের ঠিক কোন এলাকায় এবং কবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় তাসনিম পথচারী ছিলেন, নাকি কোনো যানবাহনে অবস্থান করছিলেন, তাও জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ আ হ ত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিচিতজন ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের কথা জানা গেছে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে এমন মৃ ত্যুর খবর তাঁদের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃ ত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে তাসনিমের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, অথবা অস্ট্রেলিয়াতেই তাঁর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া তাসনিম ঐশির আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর আবারও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৫:৪৬
নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে জার্মান পর্যটকের ব্যাগ চু রি
নাটোর স্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চু রি, সিসিটিভিতে সন্দেহভাজন শনাক্ত

নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ ব্যাগ চু রির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি শনাক্ত করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে স্টেশনের যাত্রী বিশ্রামাগারে এ ঘটনা ঘটে। ব্যাগ উদ্ধারে রাত থেকেই সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ব্যাগ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।   ভুক্তভোগী জার্মান নাগরিকের নাম কিরিল ল্যান্ডার উইবার। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে তিনি দেশে এসেছেন। নাটোরে আসার পর তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়া এক যুবক কৌশলে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, বুধবার বগুড়ার বিভিন্ন স্থান ঘুরে সান্তাহার রেলস্টেশনে পৌঁছান ওই পর্যটক। সেখান থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোরের উদ্দেশে রওনা দেন। নাটোর থেকে অন্য ট্রেনে দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।   বিকেলে নাটোর স্টেশনে নেমে পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রী বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন কিরিল। এ সময় হলুদ রঙের কটি পরা এক যুবক তাঁর সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। পর্যটকের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরিচিতি তৈরি হয়।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুবকের কাছে ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন কিরিল। সেই সুযোগে যুবক ব্যাগটি নিয়ে সরে পড়েন বলে তাঁর অভিযোগ। ব্যাগের মধ্যে একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।   চু রির খবর পাওয়ার পর সান্তাহার রেলওয়ে থানার একাধিক দল রাতেই তদন্ত শুরু করে। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়।   ফুটেজে হলুদ কটি পরা এক যুবককে পর্যটকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই যুবক নিজের পরনের কটি খুলে তার ভেতরে ব্যাগটি লুকিয়ে স্টেশন এলাকা থেকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।   সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ব্যাগ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে আ ট ক এবং চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।   ব্যাগ হারিয়ে বিপাকে পড়েন ওই জার্মান পর্যটক। ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হারিয়ে স্টেশনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পুলিশের কাছে যান।   নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। তবে ভুক্তভোগী বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সদর থানা পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চু রি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকের ল্যাপটপ শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে ডিভাইসটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আ ট ক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণকালীন সেবা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক স্থান, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা বাংলাদেশে আসেন। তাঁদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যক্তিগত মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পর্যটনবান্ধব পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   বিশেষ করে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য যাত্রীসমাগমপূর্ণ স্থানে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত মালামাল অন্যের কাছে রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যটকেরা অনেক সময় স্থানীয় পরিবহনব্যবস্থা ও ভাষার সঙ্গে পরিচিত না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   নাটোরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত হওয়াকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও এখনো কোনো তথ্য নেই।   চু রি যাওয়া ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি পর্যটকের ব্যাগ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই এখন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৫:৬
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি অবস্থান তৃতীয় স্থানে নেমেছে
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় স্থান দখল করল চীন

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির দিক থেকে এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে মার্কিন বাজারে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকের অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর দ্বিতীয় স্থানটি আবার দখলে নিয়েছে চীন। শীর্ষ অবস্থান অবশ্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।   যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।   অটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বদলে এখন নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে।   অন্যদিকে একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ২৪ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশটি। তবে চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা ইতিবাচক নয়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রভাবের মধ্যে দেশটির পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে।   এর আগে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চিত্রটি ভিন্ন ছিল। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চীনের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু আগস্টের রপ্তানি যোগ হওয়ার পর চীন বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায় এবং দ্বিতীয় স্থান দখল করে।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে এই বাজার থেকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে যাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গত কয়েক বছরেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২২ সালে রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরের বছর বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে মার্কিন ভোক্তা চাহিদায় চাপ তৈরি হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও কমে যায়। ২০২৩ সালে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।   এরপর ২০২৪ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে আবার প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানি আয় উন্নীত হয় প্রায় ৮২০ কোটি ডলারে। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান বলছে, বছরের শুরুতে সেই ইতিবাচক ধারাটি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।   শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারেও চলতি বছরে চাপ দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।   এই সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনাম নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চলতি বছর শুধু বাংলাদেশের রপ্তানিই কমেনি, শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর অনেকের ক্ষেত্রেই রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। ফলে আগামী মাসগুলোতে মার্কিন বাজারে রপ্তানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৩:৫১
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ

চার্জার কিংবা নির্দিষ্ট চার্জিং প্যাডে ডিভাইস বসানোর ঝামেলা কমাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিজোলিংক। তাঁদের লক্ষ্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে।   এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্টপাওয়ারবক্স নামের একটি প্রযুক্তি। প্রচলিত ওয়্যারলেস চার্জারে সাধারণত ফোন বা অন্য ডিভাইস নির্দিষ্ট প্যাডের ওপর সঠিকভাবে বসাতে হয়। কিন্তু স্মার্টপাওয়ারবক্স এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি ছোট ত্রিমাত্রিক পরিসরের ভেতরে ডিভাইসের অবস্থান পরিবর্তন হলেও চার্জিং কার্যক্রম চালানো যায়। ফলে ভবিষ্যতে একটি ড্রয়ার বা নির্দিষ্ট চার্জিং জোনের মধ্যে ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারবাড রাখলেই সেগুলো চার্জ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং অধ্যাপক আইগুও প্যাট্রিক হু। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত।   স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রযুক্তিতে আসবাবের ভেতরে বসানো পাতলা ও সমতল কয়েলের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব কয়েল নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকা উপযুক্ত ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে উন্নত পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে কোন ডিভাইসের চার্জ প্রয়োজন, কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।   গবেষকদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। বরং চার্জিংয়ের উপযোগী ডিভাইস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অংশ সক্রিয় করবে। এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং নিরাপদে চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রকল্পটির গবেষণা এগিয়ে নিতে ১ লাখ ১৪ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানটি প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ উন্নয়নে সহায়তা করবে।   এই গবেষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চার্জিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা। রিজোলিংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায়ও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে।   অন্যদিকে রিজোলিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগিন্স ইনস্টিটিউটে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। রিজোলিংকে তিনি কৌশলগত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকটি দেখছেন।   দুই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত রিজোলিংক শুধু মোবাইল ফোন বা ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির জন্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমাধান তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমে রয়েছে প্রযুক্তির নকশা, গবেষণা, পরীক্ষামূলক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই।   বিশেষ করে স্মার্ট হোম, অফিস এবং হাসপাতালের মতো পরিবেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা। একটি ড্রয়ার কিংবা আসবাবের নির্দিষ্ট অংশকে চার্জিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একাধিক ডিভাইস আলাদা আলাদা তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হতে পারে। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য কম তারনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে গবেষণাটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। স্মার্টপাওয়ারবক্সের বর্তমান ধারণা পুরো বাড়ি বা বড় একটি কক্ষের যেকোনো স্থান থেকে ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি নয়। এটি মূলত ছোট একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক পরিসরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও ইন্টারনেট সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এক নয়।   প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সফলতার জন্য চার্জিংয়ের দক্ষতা, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, উৎপাদন খরচ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে কার্যকর একটি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এসব বিষয়ে আরও উন্নয়ন ও পরীক্ষা প্রয়োজন।   ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে দুই উদ্যোক্তার। বিশেষ করে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস, স্মার্ট হোম এবং স্মার্ট হাসপাতালের জন্য সাশ্রয়ী তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন।   বাংলাদেশে প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের মতো ভিন্ন দুটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই দুই গবেষক এখন নিউজিল্যান্ডে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও শিল্পক্ষেত্রের সমাধানে রূপ দেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।   স্মার্টপাওয়ারবক্সের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভবিষ্যতের চার্জিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ।   সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১:১৩
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর খোকনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মৃ ত্যুর খবর

নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিক লীগ নেতা আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়।   সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে খোকনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। খোকনকে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।   সিদ্দিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান নিশ্চিত করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোকনের মরদেহ ব্রুকলিনের উইনথ্রপ স্ট্রিটে চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে পাঠায়। তাঁর মরদেহ সেখানে রয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।   খোকন নিউইয়র্কের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। কিউ গার্ডেনসের বাসায় একা থাকতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরায়।   প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন খোকন। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক লীগের রাজনীতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।    

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ০:১৭
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপূজায় ‘মদ খেয়ে নাচানাচি’ করলে ঘাড়ে ধরে থানায় নেওয়া হবে: ফেনীর পুলিশ সুপার

ফেনীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, পূজামণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় নাচানাচি, মাতলামি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ সুপারের বক্তব্যের অংশ পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি জানান, পূজার সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।   প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব রয়েছে। পূজা চলাকালে কেউ মদ্যপান করে নাচানাচি বা মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আসার পাশাপাশি পুলিশের মেডিকেল টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।   পুলিশ সুপার বলেন, পূজামণ্ডপে দু-একজনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ পুরো পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও একই ধরনের আচরণে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই শুরু থেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর থাকবে। তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় বিবেচনা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।   দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। প্রতিমা তৈরির সময় থেকেও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আরও পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানান তিনি।   সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। একই সঙ্গে গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদেরও কাজে লাগানো হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রস্তুতি সভায় ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারাও সভায় অংশ নেন এবং নিরাপদ পরিবেশে উৎসব আয়োজনের বিষয়ে মতামত দেন।   এবার ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ১৫৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি বেড়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি এবং ছাগলনাইয়ায় পাঁচটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।   পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গুজব প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।   সূত্র: আজকের পত্রিকা, প্রথম আলো ও ফেনী জেলা প্রশাসনের দুর্গাপূজা প্রস্তুতি সভার তথ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২৩:২৫
সৌদিতে প্রবাসীদের পরিবার নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ
ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নিতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা নিজেদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।   সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নতুন এ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।   নতুন নিয়মে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশভিসার আবেদন করতে কর্মীর নিজের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসা কর্মীর কর্মভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সমান্তরালভাবে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।   আগের ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের কর্মভিসা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে পারবেন।   পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ প্রবেশভিসা পাওয়ার পরও পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে।   সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুবিধা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাস ও কর্মজীবনকে আরও সহজ করতে পারে।   সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাসের পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৭:৫৯
দুর্গাপূজায় মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।   এই ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।   ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।   গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। ফলে পূজার কারণে টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।   এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পূজার ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম চালু থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৭:২৮
নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল
নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল

প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা জানতে ঢাকায় এসেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ৭ ও ৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী ‘লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও নেপাল নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।   সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলমও আলোচনায় অংশ নেবেন।   এ ছাড়া দেশের বাইরে ভোটদান ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. সালীম আহমদ খান এবং উপপ্রকল্প পরিচালক মামুনুর হোসেন বৈঠকে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির নির্বাচনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত থাকবেন।   নেপালের প্রতিনিধি দলে দেশটির দুজন নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইউএনডিপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।   সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নেপালের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে। ৭ ও ৮ অক্টোবর তারা প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবে।   বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যে পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিরা সেসব বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হবে।   নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানো। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও উত্তম চর্চা নেপালের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের চলমান ওসিভি-এসডিআই প্রকল্প সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিদের সফরের অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা সেটিই।   দুই দিনের এই কর্মসূচিতে শুধু কারিগরি বিষয় নয়, ভোটার ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটার শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির নতুন পথও খুলতে পারে।   সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৪:৩৮
সিরাজগঞ্জে অসহায় ও দরিদ্র ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গম চর থেকে গ্রামগঞ্জ, ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ সিরাজগঞ্জের মামুন

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ জন অসহায়, দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে দিচ্ছেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাঁকে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ বলে ডাকেন।    মামুন বিশ্বাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর সেই অর্থ দিয়ে বিয়ের প্রয়োজনীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। এভাবে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন মামুন। ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন তিনি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।    এর ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন মামুন বিশ্বাস। আর্থিক সংকটের কারণে এর আগে একাধিকবার সুচিত্রার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। পরে মামুনের উদ্যোগে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুচিত্রার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হয়।    শুধু নিজ এলাকার মধ্যেই তাঁর এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল, চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। বিয়ের পরও তাঁদের নিজের মেয়ের মতো দেখেন বলে জানিয়েছেন মামুন। আর এই সম্পর্ক থেকেই স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর ‘বাবা’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে।    তবে এতগুলো বিয়ের কৃতিত্ব একা নিজের বলে মনে করেন না মামুন বিশ্বাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মানবিক কাজের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ফেসবুক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। তিনি মূলত মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন পৌঁছে দেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া সহযোগিতা একত্র করে প্রয়োজনমতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও আরও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।    মামুনের সামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু মেয়েদের বিয়ের আয়োজনের মধ্যেই সীমিত নয়। জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, খাবার বিতরণ এবং গবাদিপশু কিংবা দোকান দিয়ে পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। নিজের গ্রামে পাখির জন্য একটি অভয়াশ্রমও গড়ে তুলেছেন মামুন বিশ্বাস।    প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ১৫৬টি বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি মামুন বিশ্বাস এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি বিয়ের আলাদা নথি বা সরকারি কোনো তালিকার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক আতিয়া ও সুচিত্রার বিয়েসহ তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উদাহরণ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে মামুন বিশ্বাস এখন সিরাজগঞ্জের পরিচিত সমাজকর্মীদের একজন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের পাশে অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়ানোর এই উদ্যোগই তাঁকে স্থানীয় মানুষের কাছে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, মানবিক কাজে মানুষের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।   সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:৪৯
ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাবনা
খাদ্য ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর বড় সুযোগ দেখছে বিশ্বব্যাংক

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিকে একত্র করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোতে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের নতুন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সীমিত সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে সহায়তার অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা আরও নির্দিষ্টভাবে দরিদ্র এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি।   বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগের গতি এখন অনেকটাই কমে গেছে। রপ্তানিতেও আগের গতি নেই। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়ছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণ বিতরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কম থাকায় বড় সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   তবে এসব চাপের মধ্যেও দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকায় এই স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।   তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। তার মতে, এ ক্ষেত্রে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই এবং এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থমকে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।   ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয়ের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থাকা রাজস্ব ঘাটতি ২০২৬ অর্থবছরে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।   বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে।   বিশ্বব্যাংক মনে করছে, সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে উপকারভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও উন্নত করা গেলে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। সীমিত সরকারি অর্থ যেন প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, সে জন্য আরও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।   এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে কারা প্রকৃতভাবে সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে থাকা ঘাটতি কমানো সহজ হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।   ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’-এর পরিপূরক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।   বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এ বছর এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতিকূলতার কারণে ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।   দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে এবং তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরি করতে প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।   বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বৈশ্বিক ভ্যালু চেইন থেকে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য দক্ষতা, অবকাঠামো এবং সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। যদিও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় এ অঞ্চলে এআই ব্যবহারের হার এখনও কম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নতুন বাজার ও ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। একইভাবে সরকারগুলোও জনসেবা উন্নত করা এবং সম্মুখসারির কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে।   এর উদাহরণ হিসেবে ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে এআইভিত্তিক নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলাদেশে এআইয়ের সহায়তায় উন্নত রেটিনাল স্ক্রিনিংয়ের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।   বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে বলেন, এআই গ্রহণের মাধ্যমে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির পরিধি ও সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মান উন্নত করার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে এআই ব্যবহারের পথে থাকা মৌলিক ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো আগে দূর করতে হবে।   সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং অন্যদিকে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন প্রকৃত প্রয়োজন থাকা মানুষের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৪৫
ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন সময়সূচি
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম

ভারতীয় ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম জানিয়েছে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বা আইভ্যাক। নতুন ব্যবস্থায় পরবর্তী দুই সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খোলা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা ক্যাটাগরিতে স্লটের প্রাপ্যতার ওপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে।   আইভ্যাকের বর্তমান অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার অথবা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে খোলা হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিনে স্লট চালু হলেও সব আবেদনকারীর জন্য সব সময় স্লট পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা ক্যাটাগরিতে কতগুলো স্লট রয়েছে, তার ওপর বুকিংয়ের সুযোগ নির্ভর করবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বুকিং খোলা থাকবে। আর শনিবার বুকিং করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অবশ্যই স্লটের প্রাপ্যতা থাকতে হবে।   আইভ্যাক স্পষ্ট জানিয়েছে, যেদিন বুকিং করা হচ্ছে, সেদিনের জন্য কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাবে না। আবেদনকারীরা কেবল বুকিংয়ের সময় খোলা থাকা দুই সপ্তাহের চক্রের মধ্যে ভবিষ্যতের কোনো তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন। কোন তারিখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তা স্লটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের আগে আবেদনকারীদের অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করে তৈরি করা ওয়েবফাইল প্রস্তুত রাখতে হবে। আইভ্যাকের নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় আপলোড করা ওয়েবফাইল ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে গ্রহণ করা হবে না। বুকিংয়ের সময় প্রথমে প্রধান আবেদনকারীর ওয়েবফাইল আপলোড করতে হয়। প্রয়োজন হলে পরে অন্যান্য আবেদনকারীর ওয়েবফাইলও যুক্ত করা যায়।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় আইভ্যাক সেন্টার নির্বাচন, উপলভ্য তারিখ বাছাই এবং এরপর অর্থ পরিশোধের ধাপ রয়েছে। বুকিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে ইনভয়েস ডাউনলোড করতে হবে। নির্ধারিত সেন্টার ও উপলভ্য তারিখ সিস্টেমে দেখানোর পর আবেদনকারী সেখান থেকে উপযুক্ত তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন।   বর্তমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা, পারিবারিক, শিক্ষার্থী, কাজ, সাংবাদিক, ট্রানজিট, কূটনৈতিক ও অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া স্লটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাপয়েন্টমেন্ট সফলভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সেটি পরিবর্তন বা বাতিল করার সুযোগ নেই। অন্য তারিখে আবেদন জমা দিতে চাইলে নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। একইভাবে একজনের নামে বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ে কোনো সমস্যা হলে কিছু ক্ষেত্রে আপলোড করা ওয়েবফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বুকিং করতে হলে প্রয়োজনীয় ওয়েবফাইল আবার আপলোড করতে হবে। আইভ্যাকের নির্দেশনায় স্লট না পাওয়া বা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলোও বুকিং সম্পন্ন না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইভ্যাক আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য এজেন্ট, দালাল, মধ্যস্থতাকারী বা অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শও দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা প্রতারণার অংশ হতে পারে।   তাই ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইভ্যাকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় প্রবেশ করে স্লটের প্রাপ্যতা যাচাই করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে নতুন স্লট খোলার বিষয়টি মাথায় রেখে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওয়েবফাইল আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে স্লট পাওয়া যাবে কি না, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়; এটি সংশ্লিষ্ট মিশন, ভিসা ক্যাটাগরি ও উপলভ্য স্লটের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:৫৮
মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ
পর্যটন, নির্মাণ ও চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কর্মী নেবে মন্টিনেগ্রো

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   ৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার, সংসদীয় কূটনীতি বাড়ানো, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মন্টিনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।   বাংলাদেশে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।   বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমবাজারের এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব জানান।   বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপরও দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।   এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চলসহ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:২৫
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ মো.শরূপ হাসান আনন্দ উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে জায়গা করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ৪.০০-এর মধ্যে পূর্ণ ৪.০০ সিজিপিএ অর্জনের পর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কেমব্রিজে এমফিল করতে যাচ্ছেন তিনি। তার উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় রয়েছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপের অর্থায়ন।   কেমব্রিজে শরূপ এমফিল ইন বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বাই অ্যাডভান্সড স্টাডি প্রোগ্রামে পড়বেন। তার বিশেষায়িত ক্ষেত্র ইনফেকশন বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার ইমিউনোলজি। কেমব্রিজে অধ্যয়নকালে তিনি ঐতিহাসিক ম্যাগডালেন কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।   কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইনফেকশন বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার ইমিউনোলজি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কমনওয়েলথের অর্থায়নের আওতায় থাকা এমফিল ক্ষেত্রগুলোর একটি। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় সংক্রমণ, রোগজীবাণু ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।   শরূপের একাডেমিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ঢাকাতেই। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২৫ সালে তিনি সর্বোচ্চ ৪.০০ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শরূপ। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আশফাকুর সাজিবের গবেষণাগারে কাজ করেন তিনি। সেখানে রোগজীবাণুর আচরণ, মানবদেহে রোগজীবাণু প্রবেশের পর প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া এবং আণবিক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   এই গবেষণার অভিজ্ঞতাই পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। কেমব্রিজে তার পড়াশোনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হবে হোস্ট-প্যাথোজেন ইন্টারঅ্যাকশন, অর্থাৎ রোগজীবাণু ও আক্রান্ত মানবদেহের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক। একই সঙ্গে সংক্রামক জীবাণু কীভাবে মানবদেহকে আক্রান্ত করে এবং শরীরের ইমিউন সিস্টেম কীভাবে সেই আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেসব বিষয় নিয়েও তিনি উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করবেন।   ইনফেকশন বায়োলজি ও মলিকিউলার ইমিউনোলজি আধুনিক জীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র। সংক্রামক রোগের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ এবং আণবিক পর্যায়ে সংক্রমণের বিভিন্ন ধাপ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ক্ষেত্রের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরূপের আগের গবেষণা অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এই বিশেষায়িত শিক্ষার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জন থেকে কেমব্রিজে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত শরূপের এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।   সূত্র: দ্যা এক্সিলেন্স অফ ঢাকা ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:১৭
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত ঠিকানা থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, তদন্তে ডিবির সাইবার ইউনিট

রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত একটি ইমেইল পাঠানো হয়েছে। বার্তায় মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হুমকির উৎস ও প্রেরকের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ইউনিট।   পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার, ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে হুমকির ইমেইলটি আসে। এতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ও জানানো হয়।   হুমকির বার্তা পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানিয়েছেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।   ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ইউনিট। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। তবে এ পর্যায়ে বিস্তারিত কিছু জানানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানিয়েছেন, হুমকির ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পুলিশ এখন পর্যন্ত এটিকে বাস্তবায়নযোগ্য হুমকি হিসেবে দেখছে না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ইমেইলটির উৎস এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।   ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকেও হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাত ইমেইল পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।   হুমকির বার্তায় ৬ অক্টোবর সকাল ১১টার কথা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।   তদন্তের এই পর্যায়ে ইমেইলটি কে বা কারা পাঠিয়েছে, কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে কিংবা এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৩৩
সৌদি আরবের জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে
সৌদিতে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় কুমিল্লার প্রবাসী সজিবের মৃ ত্যু

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় মো. সজিব নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃ ত্যু হয়েছে। রোববার, ৪ অক্টোবর হামলার সময় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্য ও সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে। নি হ ত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জুবাইল শহরে কাজ করছিলেন সজিব। সৌদি আরবে কর্মরত আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি সজিবের মৃ ত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। একই এলাকায় কর্মরত আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী রোশন আলী সরকারও সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলাটি ঠিক কোথায় আঘাত হানে এবং এর লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রবাসে ছিলেন সজিব। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শো কের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক আহমেদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাগড়া গ্রামের এক প্রবাসীর সৌদি আরবে মৃ ত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সজিবের ম র দে হ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বজনেরা ম র দে হ বাংলাদেশে এনে পারিবারিকভাবে দা ফ নের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন সৌদি আরব ও প্রতিবেশী ইয়েমেনকে ঘিরে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে জুবাইলে যে হামলায় সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে, সেটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলায় হ তা হ তের বিস্তারিত কিংবা সজিবের মৃ ত্যু নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উৎস ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই সজিবের মৃ ত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের এখন প্রধান প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে সজিবের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৮:১৬
মেলবোর্ন থেকে বাংলাদেশি খাবার ও রান্নার ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে তুলে ধরছেন কুমকুম কালাম
ছোট থেকেই ১৫ জনের রান্না একাই করতেন, 'ইউর লিল কুক' কুমকুমের স্বপ্ন এখন বিশ্বজুড়ে বাংলা খাবার

শৈশবের রান্নাঘরে রুটি বানানোর আবদার থেকে শুরু। কৈশোরে একসঙ্গে ১৫ জনের জন্য রান্না। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, নিজের খাবারের ছবি ধরে রাখার জন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, পেশাদার শেফ হিসেবে পথচলা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ। বাংলাদেশি তরুণী কুমকুম কালামের ‘Your Lil Cook’ এখন শুধু রান্নার একটি পেজ নয়, তার কাছে এটি দেশের খাবার, পারিবারিক স্মৃতি ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম।   বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমকুম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থাকেন। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি জানিয়েছেন, রান্নার প্রতি আগ্রহ শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সেই। মাত্র চার বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের কাছে রুটি বানাতে সাহায্য করার আবদার করতেন তিনি। নয় বছর বয়সে নিজে প্রথম রান্না করেন ডিম ভুনা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের প্রতি সেই আগ্রহও বাড়তে থাকে। কৈশোরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে একসঙ্গে ১৫ জনের জন্য রান্না করার অভিজ্ঞতা হয়ে যায় কুমকুমের। মা, ফুফু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে যেমন শিখেছেন, তেমনি ইউটিউব দেখে নতুন নতুন রান্নাও চেষ্টা করতেন। ঈদের আগের রাতে রান্না করে পরদিন পরিবারের সদস্যদের পরিবেশন করার স্মৃতিও তার রান্নার প্রতি ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্কুল শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যান কুমকুম। সেখানে পড়াশোনা, কাজ এবং নিজের খরচ চালানোর ব্যস্ততার মধ্যেও রান্না থামেনি। বরং পরিবার ও দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলাদেশের খাবারের প্রতি টান আরও বাড়তে থাকে। বন্ধুদের জন্য প্রায়ই দেশি রান্না করতেন তিনি। তার রান্নার প্রতি আগ্রহ দেখে পরিচিতজনদের অনেকেই তাকে আদর করে ‘Little Cook’ নামে ডাকতেন। সেখান থেকেই আসে ‘Your Lil Cook’ নামটি। কুমকুমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নিজের রান্না করা খাবারের ছবি সংরক্ষণের জন্য অনেকটা হঠাৎ করেই একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ খোলেন তিনি। তখন নিয়মিত রেসিপি বা ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল না। যখন রান্না করতেন এবং সময় পেতেন, তখনই ছবি তুলে পোস্ট করতেন। ধীরে ধীরে সেই ছোট পেজে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। কয়েকশ অনুসারী থেকে কয়েক হাজার, পরে লাখের ঘরে পৌঁছে যায় তার দর্শকসংখ্যা। বর্তমানে Your Lil Cook-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার, সহজ রান্নার পদ্ধতি এবং সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্টই প্ল্যাটফর্মটির প্রধান পরিচয়। কুমকুমের জীবনের আরেকটি বড় মোড় আসে করোনা মহামারির সময়। পড়াশোনা ও কাজের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হলে তিনি আরও বেশি সময় রান্নায় দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের আগের পড়াশোনা ছেড়ে পেশাদারভাবে রান্না শেখার সিদ্ধান্ত নেন এবং মেলবোর্নে কমার্শিয়াল কুকিং ও কুলিনারি আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেফ হিসেবেও কাজ করেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় শোক তার রান্নাকে নতুন অর্থ দেয়। মায়ের মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে কয়েক মাস কাটান কুমকুম। সে সময় তার মনে হয়, পরিবারের পুরোনো রান্না ও রেসিপিগুলো যদি পরবর্তী প্রজন্ম না শেখে, তাহলে একসময় সেগুলো হারিয়ে যেতে পারে। তখন পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে আরও বেশি করে ঐতিহ্যবাহী রান্না শেখার উদ্যোগ নেন তিনি। মেলবোর্নে ফিরে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি খাবার নিয়ে নিজের কাজ আরও বিস্তৃত করেন। একসময় ‘Your Lil Cook’ নামে একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁও চালু করেন। নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মেনু, পরিবেশন ও রান্না সবকিছুর পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। প্রায় এক বছর রেস্তোরাঁটি পরিচালনার পর ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে সেটি বন্ধ করে বিরতি নেন। তবে রান্নার সঙ্গে সম্পর্ক থামেনি। এরপর তিনি পূর্ণ সময়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শেফ ও রেসিপি ডেভেলপার হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ২০২৪ সালে শুরু করেন ‘Your Lil Cook Supper Club’। মেলবোর্নে আয়োজিত এই উদ্যোগে অতিথিদের জন্য ঘরোয়া পরিবেশে বিভিন্ন পদে সাজানো বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়। বর্তমান Your Lil Cook প্ল্যাটফর্মেও সেই সাপার ক্লাবের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার তথ্য রয়েছে। তার ওয়েবসাইটে এখন খিচুড়ি, মাছ ভাজা, দুধ চিতই, পুলি পিঠা, বেগুন শুঁটকি, মগজ ভুনাসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি রান্নার রেসিপি প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘Bangladeshi Classics’, ‘Deshi Jhal Bideshe’ এবং ‘Dinner for Two’ এর মতো আলাদা সিরিজের মাধ্যমেও রান্নার কনটেন্ট তৈরি করছেন তিনি। কুমকুমের লক্ষ্য শুধু জনপ্রিয় রান্নার ভিডিও তৈরি করা নয়। নিজের পরিচিতিতে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশি খাবারের ঐতিহ্য ও আতিথেয়তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তুলতে চান। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম যেন পারিবারিক রেসিপি, পিঠা, উৎসবের খাবার এবং বাংলাদেশের নিজস্ব রান্নার ইতিহাসকে ধরে রাখে, সেটিও তার অন্যতম লক্ষ্য। একসময় পরিবারের রান্নাঘরে ১৫ জনের জন্য খাবার তৈরির যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত কুমকুম কালামের পেশাগত জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে খাবারের ছবি রাখার জন্য শুরু করা ছোট্ট ‘Your Lil Cook’ এখন মেলবোর্ন থেকে বাংলাদেশের রান্না ও সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করার একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৭:২৭
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০