২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ১১ মে’র মধ্যে ফিফার কাছে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড জমা দেওয়ার কথা রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্টস জানিয়েছে, সেই তালিকায় অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র-এর নাম থাকছে। পাশাপাশি সুযোগ পাচ্ছেন উদীয়মান প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে ৩৫ থেকে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হয়। পরে সেই তালিকা থেকেই চূড়ান্ত ২৩ থেকে ২৬ সদস্যের দল নির্বাচন করা হবে। যদিও চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার সময়সীমা ১ জুন, তার আগেই দল ঘোষণা করতে পারে দেশগুলো। ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগামী ১৮ মে চূড়ান্ত দল নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট থাকলে নেইমার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন। দীর্ঘ সময় ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারকে ঘিরে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার ফিটনেস পরিস্থিতির দিকেই এখন নজর ব্রাজিল সমর্থকদের। অন্যদিকে চেলসিতে যোগ দিতে যাওয়া তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাও উইলিয়ানও রয়েছেন আলোচনায়। বর্তমানে তিনি হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। সময়মতো সুস্থ হতে না পারলে বিকল্প হিসেবে এন্ড্রিক কিংবা রাইয়ান-কে বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তবে দল ঘোষণার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। চোটের কারণে রিয়াল মাদ্রিদ-এর দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এডার মিলিতাও ও রদ্রিগো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। ফলে প্রাথমিক স্কোয়াডেও জায়গা হচ্ছে না তাদের। আনচেলত্তির পরিকল্পনায় এটি বড় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কিছুদিন। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। তবে মেক্সিকোর সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই উৎসব বিষাদে রূপ নিচ্ছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এখন মেক্সিকানদের কাছে কেবল এক দুঃস্বপ্ন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেক্সিকোর বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি এবং সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় টিকিটের এই মূল্য আকাশছোঁয়া। একজন সাধারণ মেক্সিকান শ্রমিকের কয়েক মাসের সম্পূর্ণ বেতন দিলেও একটি টিকিট কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফা যদিও দাবি করেছে যে তারা সর্বনিম্ন ৬০ ডলারের (প্রায় ৭,০০০ টাকা) টিকিটও রেখেছে, তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধান বলছে, রিসেল বা পুনরায় বিক্রির বাজারে একেকটি টিকিটের দাম ৩,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার (প্রায় ৩.৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামের এক সত্তরোর্ধ্ব ফুটবল ভক্ত, যিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন, আক্ষেপ করে বলেন, "এই বিশ্বকাপ আর সাধারণ মানুষের নেই। এটি কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশে খেলা হওয়া সত্ত্বেও আমি এবার গ্যালারিতে যেতে পারছি না।" উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে। অল্প ম্যাচ এবং বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে টিকিট সিন্ডিকেট এবং ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং পলিসি সাধারণ ভক্তদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী হঠাৎই ঢাকায় আসছেন। ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ায় আপাতত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকা এই মিডফিল্ডার ব্যক্তিগত কাজে অংশ নিতে আজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের মৌসুম শেষ করেছে তার ক্লাব লেস্টার সিটি। ২ মে শেষ ম্যাচ খেলার পর এখন ছুটিতে রয়েছেন তিনি। এই বিরতিতেই বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হামজা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই সফরকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত হিসেবে দেখছে। ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, হামজার সফর সম্পর্কে বাফুফেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “হামজা চৌধুরী ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশে আসছেন। আমরা জেনেছি, কিছু বাণিজ্যিক কাজের জন্য তিনি কয়েক দিন ঢাকায় থাকবেন।” ফিফা উইন্ডোর বাইরে সাধারণত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও এবার ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৪ মে থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হামজার সরাসরি সান মারিনোতে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে জাতীয় দলের জন্য নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে বাফুফে। এই প্রেক্ষাপটে হামজার সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর ফুটবল অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি করেছে।
মানুষের সক্ষমতার সীমানা কি তবে ফুরিয়ে এলো? লন্ডনের রাজপথে আজ এমনই এক প্রশ্নের জন্ম দিলেন কেনিয়ার দৌড়বিদ সেবাস্তিয়ান সাওয়ে। দীর্ঘদিনের অধরা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে ম্যারাথনের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অফিসিয়াল রেসে দুই ঘণ্টার কম সময়ে দৌড় শেষ করার অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। রোববার (২৬ এপ্রিল) লন্ডন ম্যারাথনে সাওয়ে নির্ধারিত ৪২.১৯৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় নিয়েছেন মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড। এর আগে অনানুষ্ঠানিক ইভেন্টে এলিয়ড কিপচোগে এই কৃতিত্ব দেখালেও, পেশাদার প্রতিযোগিতামূলক ম্যারাথনে এটিই প্রথম 'সাব-টু আওয়ার' বা দুই ঘণ্টার নিচে দৌড় শেষ করার ঘটনা। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই সাওয়ে দুর্দান্ত গতি বজায় রাখেন। শেষ কয়েক কিলোমিটারে তার গতি দর্শকদের স্তম্ভিত করে দেয়। ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করার পর এক আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বলেন, "আমি জানতাম মানুষ পারে। আজ আমি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর জন্য প্রমাণ করলাম যে কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সাওয়ের এই সাফল্য অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করল। এটি কেবল একটি পদক জয় নয়, বরং মানব শরীরের গতির নতুন এক মাইলফলক।
ফুটবল মাঠে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে বড় পদক্ষেপ নিল ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে বেনফিকার আর্জেন্টাইন তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উয়েফা এই শাস্তির ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানায়, প্রেস্তিয়ানির আচরণ ছিল বৈষম্যমূলক (হোমোফোবিক)। গত ফেব্রুয়ারিতে লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ম্যাচ চলাকালীন ভিনিসিউস গোল করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে উদযাপন করতে গেলে স্থানীয় সমর্থক ও বেনফিকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে প্রেস্তিয়ানি ভিনিসিউসের মুখ বরাবর জার্সি টেনে ধরে কিছু একটা বলেন। ভিনিসিউস অভিযোগ করেন যে তাকে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে এবং ভিনিসিউস মাঠ ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন। উয়েফার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে উঠে আসে যে প্রেস্তিয়ানির মন্তব্যটি বর্ণবাদী না হলেও তা চরম অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক ছিল। ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনটি ম্যাচ স্থগিত (probation) রাখা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন, তাই আপাতত তাকে আরও দুটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে উয়েফা ফিফাকে অনুরোধ করেছে এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ম্যাচেও কার্যকর করতে। যদি ফিফা তাতে সাড়া দেয়, তবে আগামী জুনে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে প্রথম দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না এই ২০ বছর বয়সী ফুটবলার। ফুটবল বিশ্বে এই রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি বলেছেন, মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে গালি দেওয়া বা বাজে মন্তব্য করার বিষয়টি ফুটবলের আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে লাল কার্ডের আওতায় আনা উচিত।
২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখনই চরমে। তবে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবার এক চমকে দেওয়ার মতো খবর সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে অবিশ্বাস্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকারও বেশি! সম্প্রতি টিকিট পুনঃবিক্রয়কারী একটি প্ল্যাটফর্মে এই চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট রিসেল বা পুনঃবিক্রয় করার ঘটনা নতুন নয়, তবে ২০ লাখ ডলারের এই অঙ্ক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। যদিও ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ জনগণের জন্য টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে রিসেলারদের এমন কর্মকাণ্ডে ফুটবল ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারি এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। ফিফা বরাবরই দর্শকদের সতর্ক করে আসছে যেন তারা কেবল অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ম্যাচ এবং টিকিটের সংখ্যা বাড়লেও ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিটের জন্য দর্শকদের বড় অঙ্কের অর্থই গুণতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ফুটবলের ঐতিহ্যের খাতিরেই ইতালির বিশ্বকাপে থাকা জরুরি। উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ইতালি এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি মূলত ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের করা কিছু মন্তব্যে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ক্ষুব্ধ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ একে ‘নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তারা মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির এমন চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান বাছাইপর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে এবং কোনো দেশের রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় করল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের ‘অঘোষিত ফাইনালে’ কিউইদের ৫৫ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। গত মাসে পাকিস্তানকে হারানোর পর এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়, যা ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে দেশটিকে এক ধাপ এগিয়ে নিল। ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০৬ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের ৭৬ রানের ফিফটিতে ভর করে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম ও ওপেনার নিক কেলি দ্রুত ফিরে গেলে সফরকারীরা চাপে পড়ে যায়। শেষ দিকে ডেন ফক্সক্রফটের ৭২ বলে ৭৫ রানের মারকুটে ইনিংস হারের ব্যবধানই কমিয়েছে শুধু। ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান; ৯ ওভারে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে তিনি শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মেহেদি হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেন। টানা দুই সিরিজ জয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে বড় সুবিধা পেল বাংলাদেশ। তবে সরাসরি মূল পর্বে খেলতে হলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে হবে টাইগারদের। অন্যথায় বাছাইপর্বের বাধা টপকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন এই দলটিকে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, দর্শকদের মাঝে টিকিটের চাহিদাও আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই উন্মাদনার মাঝেই ফুটবল ভক্তদের জন্য নতুন খবর জানাল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের জন্য নতুন করে আরও কিছু টিকিট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবার টিকিটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এবং আগের চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল কিছু ক্যাটাগরি। নতুন ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ফিফা জানিয়েছে, বুধবার থেকে তাদের অফিশিয়াল পোর্টালে ১, ২ এবং ৩ নম্বর ক্যাটাগরির পাশাপাশি নতুন একটি ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’র টিকিট পাওয়া যাবে। মূলত স্টেডিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলো থেকে খেলা দেখার সুযোগ দিতেই এই প্রিমিয়াম স্তরটি চালু করা হয়েছে। তবে এই নতুন স্তরের টিকিটের দাম সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের পকেটে বেশ চাপ ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিকিটের এই নতুন মূল্যতালিকা এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেছেন, তারা আগে যখন টিকিট কিনেছিলেন, তখন সেরা সিটগুলো হয়তো সাধারণ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি। এখন সেই ভালো সিটগুলোকেই ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ বা দামি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে যখন প্রথম দফায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি-৩ এর টিকিটের দাম ছিল ১৪০ ডলার। আর ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছিল ৮,৬৮০ ডলার। তবে এপ্রিলের শুরুতে টিকিট পোর্টাল পুনরায় চালু হলে দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম ১০,৯৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিন দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ (৪৮ দলের) এই বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমনি যাতায়াত এবং সিটের উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের। আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টারে নির্ধারিত হবে ৪৮টি দলের ভাগ্য। এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে বিশ্বমঞ্চের লড়াই। ড্র অনুষ্ঠানে মোট চারটি পটে ১২টি করে বল থাকবে, যেখান থেকে পর্যায়ক্রমে দলগুলো ‘এ’ থেকে ‘এল’ পর্যন্ত মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৪টি করে দল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, স্বাগতিক তিন দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই যথাক্রমে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘ডি’ গ্রুপে স্থান করে নিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো বাদে একই কনফেডারেশনের দুই দল একই গ্রুপে পড়ার সুযোগ নেই, তবে উয়েফার ১৬টি দেশ থাকায় প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ দুটি ইউরোপীয় দল থাকতে পারে। বিশ্বকাপের এই নতুন ড্র পদ্ধতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল— স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। টেনিস স্টাইল ব্র্যাকেট অনুসরণ করায় এই চার পরাশক্তি যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে সেমিফাইনালের আগে তাদের একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর ফলে ফুটবল ভক্তরা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং লামিন ইয়ামালের স্পেনের মধ্যকার দ্বৈরথ দেখার জন্য অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পট-১ এ স্বাগতিকদের পাশাপাশি ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলগুলো থাকলেও পট-২ ও ৩-এ থাকা ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো কিংবা উরুগুয়ের মতো দলগুলো যেকোনো বড় শক্তির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ৪২টি দল মূল পর্ব নিশ্চিত করলেও বাকি ৬টি দল আগামী বছরের প্লে-অফ শেষে চূড়ান্ত হবে। উৎসবের এই আমেজে কিছুটা তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনৈতিক ময়দান। ড্র অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে ইরান এই আয়োজন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার দাবি, মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার গ্যাঁড়াকলে পড়ে কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতা তৈরি হওয়ায় ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ফিফার দ্বারস্থ হয়েছে। যদিও ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের কথা ছিল, তবুও ড্র অনুষ্ঠানে এই জটিলতা খেলার মাঠে রাজনীতির ছায়া ফেলেছে। এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে ফিফার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে, যেখানে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর পথচলা।
অ্যাথলেটিক্সের দুনিয়ায় এখন সবথেকে আলোচিত নাম ১৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় স্প্রিন্টার গাউট গাউট। গতি আর দৌড়ানোর ধরনে কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের সাথে তার মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি সম্প্রতি ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্টের গড়া অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন এই তরুণ। নিজের ছায়া দেখতে পাওয়া সেই গাউট গাউটকে এবার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন খোদ ‘গতিদানব’ উসাইন বোল্ট। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিএনএন স্পোর্টসের সাথে আলাপকালে বোল্ট জানান, গাউট গাউটের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে এই বয়সে মনোযোগ ধরে রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। বোল্ট বলেন, "এত অল্প বয়সে চারপাশ থেকে অনেক মনোযোগ এবং প্রলোভন আসবে। ডানে-বামে হাজারো হাতছানি তোমাকে ট্র্যাক থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চাইবে।" বোল্ট আরও যোগ করেন, "আমি আশা করি তার পাশে এমন কিছু সঠিক মানুষ থাকবে যারা তাকে সঠিক পথ দেখাবে এবং শুধুমাত্র অ্যাথলেটিক্সেই ফোকাস রাখতে সাহায্য করবে। কারণ সাফল্য এলে বাকি সব সুযোগ এমনিতেই আসবে। কিন্তু যদি মাঠের খেলায় ভুল হয়ে যায়, তবে অর্জিত সবকিছুই হারিয়ে যেতে পারে।" দক্ষিণ সুদান বংশোদ্ভূত গাউট গাউট এরই মধ্যে অ্যাথলেটিক্স বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। চলতি মাসে অস্ট্রেলীয় সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার দৌড়ে ১৯.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি নতুন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব রেকর্ড গড়েন, যা ২০০৪ সালে করা বোল্টের রেকর্ডকেও (১৯.৯৩ সেকেন্ড) ছাড়িয়ে গেছে। আগামী জুনে ডায়মন্ড লিগে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন লেটসিলে তেবোগোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এই বিস্ময় বালক।
ইংল্যান্ডের ফুটবলে আবারও বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন লেস্টার সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরী। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টো তাঁকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। শনিবার ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে লেস্টার সিটির হয়ে শুরুর একাদশে খেলেন ২৮ বছর বয়সী এই মধ্যমাঠের খেলোয়াড়। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে তিনি এদিন দলে ফিরেছিলেন। ম্যাচের ৭১ মিনিটে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় এবং তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় জর্ডান জেমসকে। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে হামজার উদ্দেশে বর্ণবাদী গালাগাল দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামজা দর্শকদের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ে জড়ান। পরে তিনি রেফারির কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে গেলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে বারবার কথা বলা হলেও, মাঠে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কয়েক সপ্তাহের টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিনেই অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে মোট ৭৯ জন ক্রিকেটার তাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন। বোর্ডের বৈধতা নিয়ে ক্লাবগুলোর বয়কট ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে লিগ হওয়া নিয়ে যে শঙ্কা জেগেছিল, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অস্থায়ী কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অবসান ঘটে। ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষায় বিসিবি প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে এবারের লিগে থাকছে না কোনো সুপার লিগ বা রেলিগেশন পদ্ধতি; খেলা হবে কেবল একক রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে। দলবদলে বড় চমক যারা প্রথম দিনেই ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী দলগুলো তাদের তুরুপের তাস গুছিয়ে নিয়েছে: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ডিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান এনামুল হক বিজয়কে দলে ভিড়িয়ে বড় চমক দেখিয়েছে তারা। এছাড়াও রিশাদ হোসেন, নাঈম শেখ ও পারভেজ হোসেন ইমনের মতো তরুণ তুর্কিদের নিশ্চিত করেছে সাদা-কালো শিবির। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে মোহামেডান থেকে নিজেদের ডেরায় টেনেছে প্রাইম ব্যাংক। সঙ্গে নিয়েছে দুই তরুণ প্রতিভা তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিবকে। আবাহনী লিমিটেড: বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তাদের কোর টিম ধরে রাখার পাশাপাশি দলে নিয়েছে সৌম্য সরকার, জাকের আলী অনিক ও সাব্বির রহমানকে। ঢাকা লিওপার্ডস: নবাগত এই দলটি অভিজ্ঞ মোমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করছে। স্বস্তিতে ক্রিকেটাররা লিগ শুরু হওয়া নিয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "অবশেষে লিগটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা বড় ধরণের ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলাম। এটি না হলে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ে পড়ত।" আগামীকাল রবিবার দলবদলের শেষ দিন। এরপরই নির্ধারিত হবে কোন দল কোন শক্তিতে মাঠে নামছে।
লিওনেল মেসি মানেই যেন এক জাদুর কাঠি। আবারও তার প্রমাণ মিলল মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে মায়ামি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির ক্রস থেকেই দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান বার্টরাম। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কলোরাডো। ৫৯ এবং ৬২ মিনিটে পরপর দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, তখনই আবারও দৃশ্যপটে হাজির মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের কোণা থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে টানা সাত ম্যাচে নিয়ে গেল। বর্তমানে লিগে ৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষেই রয়েছেন মেসি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলারমো হোয়োসের অধীনে এটি মায়ামির প্রথম জয়।
বিশ্ব টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক দুই নম্বর তারকা ও তিউনিসিয়ান গর্ব ওনস জাবেউর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার শুধু র্যাকেট হাতে নয়, বরং মানবতার পক্ষে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি, টেনিসে লিঙ্গবৈষম্য এবং প্রথম সন্তান জন্মের পর কোর্টে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এই ‘মিনিস্টার অফ হ্যাপিনেস’। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাবেউর বলেন, "একজন অ্যাথলেট হিসেবে কথা বলাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যখন শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকতে দেখি বা নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ হারাতে দেখি, তখন টেনিস কোর্টের জয়-পরাজয় গৌণ হয়ে যায়।" গাজা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেনিস বিশ্বে নারীদের সমান অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্ট। টেনিসের বড় আসরগুলোতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে জাবেউর এখন এক নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। তিনি প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে মা হওয়া মানেই যে ক্যারিয়ারের ইতি, তা মানতে নারাজ এই তিউনিসিয়ান। কিম ক্লিইস্টার্সের মতো কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, মা হওয়ার পর আরও শক্তিশালী হয়ে টেনিস কোর্টে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জাবেউর বলেন, "আমি নিজেকে সময় দিতে চাই, দেখতে চাই আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই আবারও টেনিস র্যাকেট হাতে ফিরব এবং আগামী কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।" তার এই ঘোষণা ভক্তদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রভাবশালী এই অ্যাথলেট আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বৈশ্বিক পরিবর্তনের দূত।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই এখন তুঙ্গে। আগামী রোববার ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। লিগ টেবিলের সমীকরণ যখন অত্যন্ত জটিল, তখন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা একে 'চাপ' হিসেবে না দেখে 'সুযোগ' এবং 'মর্যাদা' হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও আর্সেনালের চেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এক ম্যাচ কম খেলেছে। ফলে রোববারের এই ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'ডু অর ডাই' ম্যাচে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লিগ কাপের ফাইনাল এবং এফএ কাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় আর্সেনালের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও, আর্তেতা আত্মবিশ্বাসী। আর্তেতা বলেন, "বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং সেরা কোচের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে থাকাটা আমাদের জন্য বড় এক সুযোগ ও সম্মানের। আমরা এই অবস্থানে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন সময় লড়াই উপভোগ করার।" অন্যদিকে, সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এই ম্যাচটিকে দেখছেন 'ফাইনাল' হিসেবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ম্যাচে হারলে তাদের লিগ শিরোপার আশা শেষ হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামের এই মহরণটির দিকে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যাতায়াত খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপের সময় ট্রেন ও বাসের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যানহাটনের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম (যেখানে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে) পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া ১০০ ডলারের বেশি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে এই রুটের ফিরতি টিকিট মাত্র ১২.৯০ ডলারে পাওয়া যায়। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সময় ভক্তদের সাধারণ ভাড়ার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি টাকা গুনতে হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ম্যাসাচুসেটসেও। বোস্টন থেকে জিলেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাতায়াত খরচ ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফরাসি সমর্থকদের একটি সংগঠনের মুখপাত্র গুইলাম আউপ্রেত্রে এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিগত টুর্নামেন্টগুলোতে যাতায়াত খরচ টিকিটের সাথেই যুক্ত থাকত অথবা বিশাল ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু এবার ভক্তদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে এই ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল সরাসরি ফিফাকে দায়ী করে বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ ভক্তদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিশাল খরচ স্থানীয় করদাতা ও সমর্থকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলও এই ভাড়া বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর সাথে আগের চুক্তিতে যাতায়াত বিনামূল্যে রাখার কথা থাকলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ফিফা অবাক হয়েছে যে, নিউ জার্সির মতো জায়গায় কেন যাতায়াত খরচের জন্য ফিফাকেই অর্থ দিতে বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আনন্দ যখন ভক্তদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন যাতায়াতের এমন ব্যয়বহুল চিত্র সাধারণ সমর্থকদের হতাশ করে তুলেছে। অনেকের মতে, ফুটবল এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই ধারায় এবার নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ ফুটবলার ট্রেভর ইসলাম। তবে তাঁর জাতীয় দলে অভিষেক কবে হবে, তা নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রেভরের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাঁর পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী মে মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ট্রেভর ইসলাম বর্তমানে এনসিএএ ডিভিশন-১ লিগে নিয়মিত খেলছেন। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার মূলত সেন্টার ফরোয়ার্ড হলেও লেফট উইং ও রাইট উইং—দুই পজিশনেই সমান দক্ষ। ফলে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁকে। ফাহাদ করিম জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ট্রেভরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে এবং তাঁর সম্মতি নিয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ট্রেভরের খেলা এ বছর নিশ্চিত নয়। পড়াশোনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের কারণে জুন উইন্ডোতে তাঁকে পাওয়া যাবে না। সেপ্টেম্বর উইন্ডোতেও খেলার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বর উইন্ডোতে তাঁকে পাওয়ার বিষয়ে কিছুটা আশাবাদ রয়েছে বাফুফের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকে ট্রেভর ইসলামকে নিয়মিতভাবে জাতীয় দলে পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফুটবল মাঠের ম্যাজিক দেখানোর পর এবার ফুটবল ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিলেন লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ‘ইউই কর্নেয়া’ এখন থেকে পরিচালিত হবে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার মালিকানায়। বার্সেলোনার সাথে মেসির দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই নতুন বিনিয়োগ বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কর্নেয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউই কর্নেয়া ঘোষণা করছে যে, আর্জেন্টাইন ফুটবলার এবং আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবটি অধিগ্রহণ করেছেন এবং বায়াক্স লোব্রেগাত ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের নতুন মালিক হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের সময় থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে তার এক নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা এখন পূর্ণাঙ্গ মালিকানায় রূপ নিল ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বার্সেলোনার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কর্নেয়ার ইতিহাসে বেশ কিছু চমকপ্রদ সাফল্য রয়েছে। ২০২১ সালে কোপা দেল রেতে স্প্যানিশ জায়ান্ট আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল দলটি। মেসির বর্তমান মায়ামি সতীর্থ জর্দি আলবা এই ক্লাবেরই একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। এছাড়া আর্সেনালের গোলকিপার দাভিদ রায়া এবং বার্সার ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্টিনও এই ক্লাবের প্রাক্তন খেলোয়াড়। বর্তমানে স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরে (গ্রুপ ফাইভ) খেলছে কর্নেয়া। পয়েন্ট তালিকায় তাদের বর্তমান অবস্থান তৃতীয়। লিগের নিয়ম অনুযায়ী এই গ্রুপের শীর্ষ দল চতুর্থ স্তর এবং কোপা দেল রেতে খেলার সুযোগ পায়। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চমস্থানধারী দলগুলো সুযোগ পায় প্রমোশন প্লে–অফে। মেসির মালিকানায় আসার পর ক্লাবটির পরিকাঠামো এবং খেলোয়াড় সংগ্রহে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ইন্টার মায়ামিতে খেলার পাশাপাশি স্পেনের ফুটবলে এই বিনিয়োগ মেসির ফুটবল পরবর্তী ক্যারিয়ারের এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফুটবল মাঠের পর এবার ক্লাব মালিকানায় নতুন চমক দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের পঞ্চম বিভাগের কাতালান ক্লাব 'কোর্নেয়া' (UE Cornellà) কিনে নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্সেলোনাভিত্তিক এই ক্লাবটি মূলত বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরির জন্য পরিচিত। বর্তমান তারকা জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্তিন ও আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার মতো খেলোয়াড়রা এই ক্লাবের একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন। বিশেষ করে জর্দি আলবা ২০১২ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে এই কোর্নেয়াতেই টানা ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। মেসির মালিকানা গ্রহণের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ আরও জোরদার করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্থানীয় শেকড়ের সাথে সংযোগ বজায় রেখেই প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। ইউরোপীয় কোনো ক্লাবের পূর্ণ মালিকানায় এটি মেসির প্রথম পদক্ষেপ হলেও, ক্লাব ব্যবসায় তিনি নতুন নন। এর আগে উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার হয়েছেন তিনি, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।