ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফাইনালের হাফটাইম শোতে মঞ্চ মাতিয়েছেন জাস্টিন বিবার, শাকিরা, ম্যাডোনা, বিটিএস ও বার্না বয়ের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। তবে এত বড় আয়োজনেও তারা কেউই পারফরম্যান্সের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেননি। বরং তাদের যাতায়াত, মঞ্চ নির্মাণ ও প্রযোজনার ব্যয় বহন করেছে ফিফা, আর শিল্পীদের প্রাপ্তি ছিল বিশ্বব্যাপী প্রচার ও একটি মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ। বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী কসমোপলিটানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থাটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সুপার বোল হাফটাইম শোর মডেল অনুসরণ করে। সেখানে যেমন শিল্পীদের আলাদা পারফরম্যান্স ফি দেওয়া হয় না, তেমনি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতেও কোনো শিল্পীকে উপস্থিতির জন্য অর্থ প্রদান করা হয়নি। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শো আয়োজন করা হয় গ্লোবাল সিটিজেনের সহযোগিতায়। কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর জন্য অর্থ সংগ্রহ, যার উদ্দেশ্য বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল কার্যক্রমে সহায়তা করা। বিশ্বকাপের প্রতিটি টিকিট বিক্রি থেকে নির্দিষ্ট অর্থও এই তহবিলে যুক্ত হয়েছে। পারফরম্যান্সের আগে এক বিবৃতিতে জাস্টিন বিবার বলেন, বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন যা পুরো বিশ্বকে একত্রিত করে। এই হাফটাইম শোতে অংশ নিতে পেরে তিনি কৃতজ্ঞ এবং এর মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে অবদান রাখতে পারছেন বলেও উল্লেখ করেন। যদিও শিল্পীরা সরাসরি পারিশ্রমিক পাননি, তবুও অনুষ্ঠানটির পর তাদের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, হাফটাইম শোর পর জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, বিটিএস ও শাকিরার পরিবেশিত গানগুলোর অনলাইন স্ট্রিমিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। জাস্টিন বিবারের পরিবেশিত গানের স্ট্রিমিং ১১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের দল পুরস্কার হিসেবে ৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার এবং রানার্সআপ আর্জেন্টিনা ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছে। অর্থাৎ হাফটাইম শোর শিল্পীরা অর্থের বিনিময়ে নয়, বরং বৈশ্বিক দর্শকের সামনে নিজেদের উপস্থাপন এবং একটি সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজনে অংশ নেন।
২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির উত্তরসূরি থিয়াগো? আর্জেন্টাইনদের নতুন স্বপ্নের কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ পুত্র। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষের পথে—এমন আলোচনা যতই জোরালো হোক, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কল্পনায় নতুন এক স্বপ্ন জায়গা করে নিচ্ছে। সেই স্বপ্নের নাম থিয়াগো মেসি। বাবার পথ অনুসরণ করে একদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারে মেসির জ্যেষ্ঠ ছেলে—এমন সম্ভাবনাকে ঘিরেই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে। বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে সে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তার অগ্রগতি নজর কাড়ায় অনেক সমর্থকই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তাকে দেখার আশা করছেন। নেটমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় থিয়াগোর বয়স হবে প্রায় ১৮ বছর। সে সময়ের মধ্যে যদি তার ফুটবলীয় উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয় এবং পেশাদার পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই; সবকিছুই নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ওপর। থিয়াগোর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ও রয়েছে। জন্মসূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও, বিভিন্ন সময় সে আর্জেন্টিনার জার্সিতেই খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। বাবার মতোই আকাশি-নীল জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সাক্ষাৎকারে। মেসি পরিবারের ফুটবল চর্চা অবশ্য শুধু থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল খেলছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সন্তানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়। তাই থিয়াগোর বিকাশের এই পর্যায়ে অযথা চাপ না দিয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লিওনেল মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে থিয়াগো নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের কাছে নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার নাম।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই স্পেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়াবহ হারে ইসলামফোবিয়া ও বর্ণবাদী আক্রোশ ছড়িয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওবেরাক্স (OBERAXE) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জুন মাসজুড়ে অনলাইনে শনাক্ত হওয়া ৪০ হাজারের বেশি বিদ্বেষমূলক বার্তার একটি বড় অংশই খেলাধুলা এবং বিশেষ করে মুসলিম ফুটবলারদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের তরুণ উদীয়মান তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের জাতীয় অভিবাসন সচিবালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান 'স্প্যানিশ অবজারভেটরি অন রেসিজম অ্যান্ড জেনোফোবিয়া' (OBERAXE) তাদের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্টে এই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত মোট বিদ্বেষপূর্ণ ও উগ্র বার্তার প্রায় ১৬ শতাংশই সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ক্রীড়া ক্ষেত্রটিকে স্পেনে সামাজিক বিভেদ ও উগ্রতা ছড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রিপোর্টে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে স্প্যানিশ নাগরিক এবং পিতৃসূত্রে মরক্কো ও মাতৃসূত্রে বিষুবীয় গিনির বংশোদ্ভূত তারকা লামিনে ইয়ামালের ওপর নেমে আসা অপপ্রচারের কথা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোল উদযাপনের সময় ইয়ামালের ইসলামী রীতি অনুযায়ী সেজদা দেওয়া থেকেই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভের সূচনা হয়। মাঠে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের এই স্বাভাবিক প্রকাশের পরপরই তাঁর নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং স্প্যানিশ জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছড়াতে থাকে। সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে "ঘৃণ্য আরব", "স্পেনে আরবদের স্থান নেই", "সে স্প্যানিশ হওয়ার যোগ্য নয়" এবং "আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে অপমান করা হয়েছে"—এমন নানা উগ্র বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে ওবেরাক্স তাদের প্রতিবেদনে এক কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটবল মাঠের এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্রীড়াঙ্গন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গা নয়, বরং এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কিত গোটা ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়কে নিগ্রহ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমাপন্থী ডানপন্থী মতাদর্শ ও মুসলিমবিদ্বেষ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় তা এখন অ্যাথলেটদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানছে। স্পেনের হয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলার পরও একজন উদীয়মান মুসলিম তরুণ অ্যাথলেটের প্রতি এই ধরনের আচরণ বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সৌদি আরব ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে এমন একাধিক অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা আধুনিক স্থাপত্যের নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো নিওম (NEOM) শহরের জন্য পরিকল্পিত একটি ভবিষ্যতধর্মী স্টেডিয়াম, যা ‘স্কাই স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সৌদি আরবের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিওম অঞ্চলে একটি বিশেষ নকশার স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির উচ্চাভিলাষী নিওম স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অংশ, যেখানে প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নিওম স্টেডিয়ামটি ‘দ্য লাইন’ নামে পরিচিত সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ নগর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার উচ্চতায় নির্মিত হওয়ার ধারণা সামনে এসেছে এবং এতে প্রায় ৪৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নিওম প্রকল্প সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অন্যতম বড় অংশ। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই দেশটি এই ধরনের বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আকাশে ভাসমান স্টেডিয়াম’-এর কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কাল্পনিক ছবি, যা বাস্তব নির্মাণ পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সৌদি আরবের প্রকৃত পরিকল্পনায় নিওমে একটি বিশ্বকাপ ভেন্যুর কথা থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিশাল আকাশে ঝুলে থাকা স্টেডিয়ামের দৃশ্যগুলোকে বাস্তব নকশা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরব মোট ১৫টি স্টেডিয়াম ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রিয়াদে নির্মাণাধীন কিং সালমান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম অন্যতম বড় প্রকল্প, যার ধারণক্ষমতা ৯২ হাজারের বেশি হতে পারে এবং এটি উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে পরিকল্পনায় রয়েছে। সৌদি আরবের এই বিশাল ক্রীড়া অবকাঠামো পরিকল্পনা দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পরিবর্তনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় আকারের ক্রীড়া বিনিয়োগ নিয়ে মানবাধিকার ও ব্যয়ের বিষয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সৌদি আরবের এই প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের ক্রীড়া অবকাঠামোর চিত্রকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। তবে পরিকল্পনাগুলোর কতটা বাস্তব রূপ পাবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরের নির্মাণ অগ্রগতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়রকে চেনা দায় হয়ে পড়েছে। চিবুক সুন্দর করার অস্ত্রোপচারের (চিন হারমোনাইজেশন সার্জারি) পর তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষের মতো দেখাচ্ছে, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের হয়ে মাঠে দৌড়েছিলেন। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম টিএমসি সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাজিলের গোইয়ানিয়ার একটি ক্লিনিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. আলেসান্দ্রো আলারকাওর অধীনে চিবুকের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এই অস্ত্রোপচারে ফিলারের সাহায্যে মুখের সীমানা বা ফেসিয়াল কনট্যুর তৈরি করা হয়। ভিনিসিউস তার চিবুককে আরও স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপের সময় পর্যালোচনার বিষয় ছিল। 🚨 Vini Jr at the clinic after his chin harmonization surgery. pic.twitter.com/WOq8OC0fgs — Madrid Zone (@theMadridZone) July 20, 2026 অস্ত্রোপচারের পর ভিনিসিউসের বেশ কয়েকটি ছবি সামনে এসেছে এবং সেখানে তার পরিবর্তন চমকে দেওয়ার মতো। সোমবার ভিনিসিউসের সাবেক প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকা তাদের একসঙ্গে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন, যেখানে তারা নতুন জিমনেসিয়ামে একসঙ্গে পোজ দিয়েছেন। এছাড়া ড্যানিলো সানফোনেইরো অফিসিয়াল নামের এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ভিনিসিউস যখন স্বাক্ষর করছিলেন, তখনকার একটি পার্শ্ব-প্রোফাইলের ছবি প্রকাশ করেন। যাদের ভিনিসিউসের ক্যারিয়ার সম্পর্কে ধারণা আছে, তারা চিবুকের এই প্রক্রিয়ার পর তার চেহারার পার্থক্য বুঝতে পারবেন। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর তিনি এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাকি এটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রকাশিত ছবিতে তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে এবং নতুন চিবুক নিয়ে তিনি বেশ হাসিখুশি আছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। স্পেনের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে গেলেও জাতীয় দলের জন্য এ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিলেই জানান, "উচ্ছ্বাস উদযাপনের দিনটি নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ওই দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।" রোববারের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সত্ত্বেও বুয়েনস আইরেসে জাতীয় দলকে স্বাগত জানানোর সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও দলীয় কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধিদলের একাংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে আর্জেন্টিনায় এসে পৌঁছাবে। অপরদিকে, বাকি খেলোয়াড়দের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সরাসরি তাদের নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটির জন্য অন্যান্য গন্তব্যে রওনা হবেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দে যখন স্পেনের ফুটবলাররা মেতে উঠেছিলেন, তখনই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তৈরি হয় আলোচনার নতুন বিষয়। ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাম্প। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভিআইপি গ্যালারিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে ম্যাচ উপভোগ করেন তিনি। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার ছবি দেখানো হলে দর্শকদের একটি অংশ শিস ও বিদ্রুপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে এসব উপেক্ষা করে তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতির সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন ট্রাম্প। দুই দলের খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দেওয়ার পর স্পেন অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন তিনি। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আলোচনার বিষয়টি। স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনও ট্রাম্প মঞ্চে অবস্থান করছিলেন। ফিফার কর্মকর্তারা তাকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন, যাতে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করতে পারেন। তিনি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও পুরোপুরি মঞ্চ ছাড়েননি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও তাকে মঞ্চ থেকে নামানোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প স্পেনের খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়ে উদযাপনের মুহূর্তের অংশ হয়ে থাকেন। এ ধরনের ঘটনা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগেও ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসির শিরোপা উদযাপনের সময় তাকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। সে সময় চেলসির অধিনায়ক রিস জেমস তাকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এবার স্পেনের কোনো খেলোয়াড়কে ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। মঞ্চে তার অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল একটি ব্যতিক্রমী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, স্পেন যদি বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তিনি টানা তিন সপ্তাহ দাড়ি ও গোঁফ কাটবেন না। শুধু তাই নয়, ভক্তদের জন্য ১০০টি বিটস হেডফোনও উপহার দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় যেন এখন এসে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোজা। বিশ্বকাপের আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশ্বকাপ জিততে পারলে তিন সপ্তাহ দাড়ি-গোঁফ রাখব। আর ১০০টি বিটস হেডফোন উপহার দেব।’ তার এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইয়ামাল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ফাইনালেও তিনি স্পেনের আক্রমণে অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন এবং দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর আরেকটি বিষয়েও। বিশ্বকাপ জয়ের আগে দেওয়া সেই মজার প্রতিশ্রুতি সত্যিই রাখেন কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা। পাশাপাশি ভক্তদের জন্য ঘোষণা করা ১০০টি বিটস হেডফোন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেন কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল ঢেউ, প্রতিকূল আবহাওয়া আর টানা কয়েক সপ্তাহের একাকী সংগ্রাম সব বাধা অতিক্রম করে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই পর্যন্ত একাই নৌকা বেয়ে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেলসি ফেন্ডলার। এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তিনি শুধু একটি রেকর্ডই গড়েননি, বরং সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে নিজের নামও স্থায়ীভাবে লিখে রেখেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ওশান রোয়িং সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী কেলসি ফেন্ডলার গত ২১ মে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে থেকে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ২ হাজার ৪০০ মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে তিনি ৩ জুলাই হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে পৌঁছান। পুরো যাত্রা শেষ করতে তার সময় লাগে ৪৩ দিন ১৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। এই সময়টি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই পর্যন্ত একক নৌযাত্রায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ওশান রোয়িং সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এটি এই রুটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত একক নৌযাত্রা। একই সঙ্গে ফেন্ডলার প্রথম মার্কিন নারী হিসেবে একা বৈঠা চালিয়ে এই পথ সফলভাবে অতিক্রম করলেন। পেশায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের একজন নদী-গাইড কেলসি। তার ব্যবহৃত নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল ২১ ফুট। দীর্ঘ এই অভিযানে তাকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠা চালাতে হয়েছে। মাঝসমুদ্রে কখনও উত্তাল ঢেউ, কখনও প্রবল বাতাস, আবার কখনও সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ঘুম, খাবার ও বিশ্রাম—সবকিছুই সীমিত পরিসরে নৌকার মধ্যেই সামলাতে হয়েছে। সমুদ্রে থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ তুলে ধরতেন কেলসি। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন হাতে ফোসকা পড়া, শারীরিক ক্লান্তি, ঝড়ের সঙ্গে লড়াই এবং দীর্ঘ একাকিত্বের বাস্তব চিত্র। সেই সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ও নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন। হনুলুলুতে পৌঁছানোর পর শত শত মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, গন্তব্যে পৌঁছানোর মুহূর্তটি ছিল অবিশ্বাস্য। এত মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। কেলসি জানান, তার এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি রেকর্ড গড়া নয়; বরং মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের, বড় স্বপ্ন দেখতে এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করা। তার বিশ্বাস, সাহস নিয়ে প্রথম পদক্ষেপ নিতে পারলেই অসম্ভব মনে হওয়া অনেক লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একক সমুদ্রযাত্রার প্রতি আগ্রহ বাড়লেও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াইয়ের এই রুটকে এখনো বিশ্বের অন্যতম কঠিন সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ দূরত্ব, অনিশ্চিত আবহাওয়া ও বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এই পথ পাড়ি দেওয়া অভিজ্ঞ নাবিকদের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন কেলসি ফেন্ডলার।
কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোজারা। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প। দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায়। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভারতের কেরালা রাজ্যে এখন অভূতপূর্ব উন্মাদনা বিরাজ করছে। ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই হাই-ভোল্টেজ মহাদূন্দ্ব উপলক্ষে সোমবার রাজ্যের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার। ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খেলাটির সময়সূচি গভীর রাতে হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের কথা বিবেচনা করে এই বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেরালা প্রশাসন। একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ স্কুল-কলেজের পাশাপাশি সব ধরনের পেশাদার উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ছুটির আওতায় থাকবে। রাত জেগে প্রিয় দলের জমজমাট লড়াই দেখার পর পরদিন সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া কষ্টকর হতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টিসহ বিরোধী দলীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ ছুটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসান সোমবার রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। অবশ্য ক্লাস স্থগিত থাকলেও আগে থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সূচিতে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি না হয়, সেজন্য এই পরীক্ষাগুলো চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরালা সরকার। ফুটবলের প্রতি কেরালার মানুষের আবেগ চিরকালই একটু আলাদা। আন্তর্জাতিক যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট এলেই রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এবারের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছে আর্জেন্টিনা এবং তাদের সেটি করার প্রয়োজনও ছিল। প্রথম দুইটি নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে এবং মিশরকে সহজে গুঁড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হলেও, আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানের জয়গুলোর জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে। যদিও মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকান এই দেশটি তাদের শেষ ১৬-র পরাজয়ের দায়িত্বে থাকা ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছে। মিশর অভিযোগ করেছে, আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং তাদের তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির প্রতি বিশেষ সুবিধা দেখানো হয়েছে। ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান বলেন, মিশরের প্রতি “অন্যায় আচরণ” করা হয়েছে এবং তারা “অবিচারের শিকার” হয়েছে। ফিফাও পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মি. হাসান। তিনি বলেন, “হয়তো তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন লড়াইয়ে টিকে থাকে।” এরপর সুইজারল্যান্ডকে ১০ জনের দলে নামিয়ে আনতে আর্জেন্টিনার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল। একইসঙ্গে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কোয়ার্টার ফাইনালটি ৩-১ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের সেমিফাইনাল জয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষেই গিয়েছিল।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইনালের আগে তিনি পুরো টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই আসরের মাধ্যমে বিশ্ব দেখেছে যে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ। নিউইয়র্কে ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষায়, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করেছে। রোববার অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন। এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করেছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরাপত্তা, ভিসা ব্যবস্থা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে আসরটি। ফাইনাল উপলক্ষে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ম্যাচটিকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো দলের প্রতি সমর্থন জানাননি। ফলে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, কার হাতে তিনি বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে শুধুই মাঠের লড়াইয়ের ফলাফলে।
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানান। টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর কাছে একটি বার্তাও পৌঁছে দেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।” রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, আর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে খেলবে স্পেন। আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার সরকারের অবস্থানে পার্থক্য থাকায় ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেসব দাবির অনেকগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপ একদম শেষ প্রান্তে। যেখানে শিরোপা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এরইমাঝে শুরু হয়ে গেছে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে এবার এক অভিনব আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশ ও ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। তবে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও'র ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে একটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামেও একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ হবে। এরপর মূল পর্বের বাক সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপ ও আফ্রিকায়।
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টাইন তারকার খেলার প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতিপক্ষের কড়া নজরদারির মধ্যেও মেসি যেভাবে মাঠে জায়গা তৈরি করেন, সেটি তার নজরে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি মেসিকে দেখছিলাম। তাকে খুব ভালোভাবে পাহারা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি সে ডান পাশে অবস্থান নিয়েছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি? আমি বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, কিন্তু কেউ এ নিয়ে কথা বলেনি।” মেসির খেলার ধরন নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে। অনুষ্ঠানে তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দক্ষতা ও মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও খেলার জায়গা তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠের বিভিন্ন অংশে অবস্থান পরিবর্তন করা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই কৌশলই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদিকে, একই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের সাফল্যে ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। ট্রাম্পও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচ।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে। ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি। ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে। যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনায় একটি দাতব্য ফটোশুটে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন মাত্র কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুই আজ স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফুটবল বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। আর প্রায় দুই দশক পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তারা। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই পুরোনো ছবিটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ফুটবলের উত্তরাধিকার বহনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ২০০৭ সালে ইউনিসেফ, এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এবং স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। লামিনে ইয়ামালের পরিবার একটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় এবং সেই সুযোগেই বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে তরুণ মেসির সঙ্গে শিশুপুত্রের ছবি তোলেন। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের বয়স মাত্র কয়েক মাস। ছবিটি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে আসেনি। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ছবিটির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্তও নিশ্চিত করেন, এটি কোনো সম্পাদিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি নয়; বরং বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত সেই দাতব্য আয়োজনেরই একটি বাস্তব মুহূর্ত। এরপর থেকেই ছবিটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন ফ্রেম হিসেবে পরিচিতি পায়। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হওয়ায় সেই ছবির তাৎপর্য আরও বেড়ে গেছে। একদিকে আছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে আছেন স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত তারকা লামিনে ইয়ামাল, যিনি অল্প বয়সেই ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের প্রতীকী লড়াই। একসময় যে কিংবদন্তির কোলে ছিলেন ইয়ামাল, আজ সেই কিংবদন্তির বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামছেন তিনি। ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় ছবি রয়েছে। তবে একটি ছবিতে একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এত সুন্দরভাবে ধরা পড়ার ঘটনা খুবই বিরল। তাই ২০০৭ সালের সেই ছবিটি এখন শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি গ্রীষ্মে কেবল ফুটবল তারকারাই মাঠ মাতাচ্ছেন না, ডেটিং অ্যাপ এবং ম্যাচমেকিং সার্ভিসের মুখপাত্রদের মতে, অবিবাহিত বা সিঙ্গেল ব্যক্তিরাও ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের নিজ শহরে আসা নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। ডেটিং ওয়েবসাইট ‘ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের রোমান্সের শহরের তালিকায় আটলান্টা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের জরিপ করা সিঙ্গেলদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা টুর্নামেন্ট দেখতে আসা কোনো দর্শকের সাথে ডেটে গেছেন অথবা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টিন্ডারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সোয়াইপ করার হার বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন। ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ ৪৭ শতাংশ এবং দেশীয় ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাম্বল গ্রুপ ইভেন্টগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং সিঙ্গেলদের জন্য আয়োজিত ওয়াচ পার্টিগুলোতে তারা বড় ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করছে। ‘ইন দ্য ওয়াইল্ড ডেটিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা লেক্সি ইয়াং বলেন, তার অনুসারীরা সরাসরি বা সশরীরে দেখা করার সুযোগ খুঁজছিলেন এবং বিশ্বকাপ ওয়াচ পার্টি ও দর্শনার্থীদের আগমনের মাধ্যমে ঠিক সেই সুযোগটিই তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় এটি সত্যিই দেখায় যে মানুষ সরাসরি যোগাযোগ চায় এবং খেলাধুলা হলো যুক্ত হওয়ার একটি দারুণ মাধ্যম। ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে মানুষের মাঝে একটি যৌথ আগ্রহ তৈরি হয়। এটি স্পষ্টতই তাদের আরও গভীর স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। আমি সত্যিই অনেক মানুষকে তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে দেখছি, যা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রটিকে সাহায্য করেছে।" আটলান্টার একজন অবিবাহিত বাসিন্দা, যিনি একাধিক বিশ্বকাপ আয়োজক শহরে গিয়েছেন, তার মতে প্রেম সত্যিই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। কেটি ফ্রিডম্যান নামে ওই বাসিন্দা বলেন, "আমি আমার গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আছি, তাই এ পর্যন্ত চারটিতে গিয়েছি। আটলান্টা, সিয়াটল, বোস্টন এবং নিউইয়র্ক। এটি দারুণ ছিল। প্রথমবারের মতো মানুষের আমেরিকা সফরের অভিজ্ঞতা শোনার বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই মজার মনে হয়েছে। তারা কী দেখল, কী পছন্দ করল—এগুলো কথা শুরু করার দারুণ উপায়।" আটলান্টার আরেক বাসিন্দা রাশাদ বলেন, "আমি মনে করি আরও মানুষের এখানে আসা উচিত। এটি একটি চমৎকার পরিবেশ। এখানে পানীয়, খাবার এবং গান রয়েছে, কোনো কিছুর জন্য আপনাকে অর্থ দিতে হবে না, এটি একটি দারুণ বিষয়।"
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইপ্রোফাইল এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের কিছু টিকিট এখনও পাওয়া যাচ্ছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার থেকে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন মাঠে নামবেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসি। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। পরাশক্তিদের এই লড়াই মাঠে বসে দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের পকেটের বড় একটি অংশই খসাতে হচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ ক্যাটাগরির সবচেয়ে কমদামী টিকিটের মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার। এই মূল্য গত মঙ্গলবারের ফ্রান্স বনাম স্পেনের সেমিফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দামের তুলনায় প্রায় ঠিক দ্বিগুণ। যারা গ্যালারির একদম সামনে থেকে মেসি ও কেইনের দ্বৈরথ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য টিকিটের মূল্য আরও অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের একদম লোয়ার লেভেলের ১০০-লেভেলের গ্যালারির টিকিটগুলোর মূল্য বর্তমানে শুরু হচ্ছে ৩ হাজার ৬৬৯ ডলার থেকে, যা মূলত সেকশন ১২২-এর আসনের জন্য প্রযোজ্য। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি শুরু হবে। এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের জন্য দুটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার একটি টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এবং অন্যটি আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। মঙ্গলবারের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন। এই সেমিফাইনালের মহারণ শেষ হওয়ার পর আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দামও ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হচ্ছে ৬ হাজার ৮৪২ ডলার থেকে। আর একদম মাঠের কাছাকাছি লোয়ার-লেভেলের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ১৩ হাজার ৭০ ডলার থেকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার ইউরোপের ভেতরেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ বিষয়ে সমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। তিনি একজন আইনজীবী, নরওয়ে নারী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার মতে, কোনো দেশকে একতরফাভাবে বয়কট করার পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত বছর অসলোতে নরওয়ে ও ইসরায়েলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে বলেন, নরওয়ে বিশ্বাস করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত। তার ভাষায়, বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়ম ও নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন। তবে নরওয়ে সেই ম্যাচ বয়কট করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ম্যাচে অংশ না নিলে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেত, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। নরওয়ের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ফিফা ও উয়েফার নেওয়া সিদ্ধান্ত। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। ক্লাভেনেস এবং তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ফুটবলের নীতিমালা ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ। মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকজন আইনজীবীও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের সক্রিয় ভূমিকার ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু আরব বা এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিভিন্ন কর্মসূচি দেখা যায়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তার জন্য দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বহু দর্শক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে "শিশুদের বাঁচতে দাও" লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করেন। চলতি বছরের মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে ফিফা। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা বা উয়েফা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।