ওয়াশিংটন, ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবি তুলেছেন ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানরা। এ লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ন্যান্সি মেস একটি সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যা ইতোমধ্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ন্যান্সি মেসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের সদস্য, ফেডারেল বিচারক এবং সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া (ন্যাচারাল-বর্ন) নাগরিক হতে হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এ ধরনের শর্ত কেবল প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য প্রযোজ্য। মেসের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ও বিচারিক পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একক আনুগত্য নিশ্চিত করতেই এ সংশোধনী প্রয়োজন। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারক স্পার্কল এল. সুকনানান ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটার তালিকা যাচাই-সংক্রান্ত একটি উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ট্রাম্প প্রশাসন অঙ্গরাজ্যগুলোকে অভিবাসন-সংক্রান্ত ফেডারেল তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সুযোগ দিতে চেয়েছিল। আদালত রায়ে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ওই উদ্যোগে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পপন্থীদের একাংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ফেডারেল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীকে ঘিরে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য এ উদ্যোগকে অভিবাসী নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও বিভাজনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের অবদানের ওপর গড়ে ওঠা একটি দেশ এবং আইনগতভাবে নাগরিকত্ব অর্জনকারীরা সংবিধান অনুযায়ী সমান অধিকার ভোগ করেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যান্সি মেসের প্রস্তাব আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করতে হলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন এবং পরে অঙ্গরাজ্যগুলোর অন্তত তিন-চতুর্থাংশের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হলেও প্রস্তাবটি বাস্তবে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহু স্কুলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কমছে নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তি, কোথাও ছোট হয়ে আসছে স্নাতক ব্যাচ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে পুরো স্কুল। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, যার প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। গত এক দশকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মহার হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোর অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব। একসময় যেসব অঞ্চল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিল, সেখানেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও অধ্যাপক মাইকেল কার্স্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার খুব কম স্কুল জেলা আছে যেখানে এই সংকট দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, এটি এখন প্রায় পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জন্মহার হ্রাস। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৬ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে জন্মহার। গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কয়েক বছর পর দৃশ্যমান হয়। কারণ আজ যারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের জন্ম হয়েছে পাঁচ বা ছয় বছর আগে। ফলে কম জন্মহার এখন সরাসরি স্কুলের ভর্তি সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা ঘরে শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ায় ভর্তি কমেছে। কিন্তু পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল কারণ জনমিতিক পরিবর্তনই। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, সান হোসে এবং উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী কমার হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার (পিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে বে এরিয়া অঞ্চলে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের মতো শহরে বসবাসের খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেক তরুণ পরিবার সেখান থেকে স্যাক্রামেন্টো বা সেন্ট্রাল ভ্যালির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে বড় শহরগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আগামী এক দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো অঞ্চলেই ধারাবাহিক শিক্ষার্থী বৃদ্ধি বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ভাষাভাষী ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার্থী হ্রাসের হার তুলনামূলক বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অভিবাসী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের অর্থায়নের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী কমলে কমে যায় বাজেটও। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান হোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পাঁচটি স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ওপরও পড়ছে। ভর্তি কমে যাওয়ার কারণে অনেক জেলায় নিয়োগ স্থগিত, কর্মী ছাঁটাই এবং শিক্ষক সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি শিক্ষা খাতে অর্থায়ন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বেশি সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব হবে। ছোট শ্রেণিকক্ষ, ব্যক্তিগত সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে। এদিকে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা শুধু স্কুল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং বাজেট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যয় কমানো যথেষ্ট হবে না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন, সাশ্রয়ী আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। তাদের ভাষায়, এটি কেবল স্কুলের ভর্তি কমার গল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
ফুটবল, সাম্বা, আমাজনের বিস্তীর্ণ অরণ্য এবং মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির পরিচিতি সাধারণত এসব বিষয় ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এই পরিচিত চিত্রের আড়ালে দেশটিতে নীরবে বিস্তার লাভ করছে ইসলাম, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষক ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিম সম্প্রদায় এখন আর কেবল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্রাজিলের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা আইবিজিই এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ১৫ লাখের মধ্যে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় সংখ্যাগত কিছু পার্থক্য দেখা যায়, ইসলামিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় ১৫ লাখ সক্রিয় মুসলিম বসবাস করছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। গবেষকদের মতে, সরকারি আদমশুমারিতে ধর্ম পরিবর্তনের তথ্য অনেক সময় দ্রুত হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ব্রাজিলে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশজুড়ে প্রায় ১৫১টি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। এর পাশাপাশি শতাধিক নামাজকেন্দ্র এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সাও পাওলো, পারানা, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা এবং ফোজ দো ইগুয়াসু অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা এবং মসজিদের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলামের প্রসারের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো অভিবাসন। গত শতাব্দীতে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে বিপুল সংখ্যক আরব মুসলিম ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মুসলিম অভিবাসীরা সেখানে আসেন। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফেডারেশন অব মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনস ইন ব্রাজিলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় ব্রাজিলীয় ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সংগঠনটির দাবি। ব্রাজিলের ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো সাও পাওলোর মেসকিতা ব্রাজিল। ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদকে শুধু ব্রাজিল নয়, সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম এবং সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশটিতে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদও মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী এবং বিশাল মিনার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পারানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কুরিতিবায় অবস্থিত ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদ এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ার ইসলামিক সেন্টারও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাজিলের প্রায় সব মুসলিমই নগরাঞ্চলে বসবাস করেন। সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা এবং বেলো হরিজন্তে শহরগুলো মুসলিম জনসংখ্যার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের অন্যতম বড় হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও ব্রাজিলের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। দেশটির বিশাল হালাল খাদ্যশিল্প শুধু স্থানীয় মুসলিমদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলাম এখন আর শুধুমাত্র অভিবাসীদের ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় না। স্থানীয় সমাজে মুসলিমদের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। ফুটবলপ্রেমী এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিমরা এখন একটি ছোট কিন্তু ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিলে ইসলামের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই দেশটির নাগরিকদের মানসিকতা নিয়ে সামনে এসেছে এক তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের দেশ নিয়ে গর্ববোধ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর বিশ্বাস—সবকিছুতেই ধীরে ধীরে ভাটা পড়ছে মার্কিন সমাজে। অরাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক রিলিজিয়ন রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআরআই)-এর সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, মার্কিনিরা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে বাস করছেন। শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, অনেকেই এখন বিপরীত মতাদর্শের মানুষকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবেও দেখতে শুরু করেছেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মাত্র ৫১ শতাংশ মার্কিনি নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে ‘খুব বেশি গর্বিত’ বলে মনে করেন। অথচ ২০১৩ সালে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ। এক দশকের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে এই পতন গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জরিপে জাতীয় পরিচয়ের ধারণা নিয়েও বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের অর্ধেকেরও কম মনে করেন যে আমেরিকায় জন্ম নেওয়া, ঈশ্বরে বিশ্বাস করা বা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী হওয়া একজন প্রকৃত মার্কিনির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান সমর্থকদের বড় অংশ এসব বিষয়কে জাতীয় পরিচয়ের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে দেখেন। গবেষণার ফলাফল বলছে, রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি কমছে ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর প্রতি বিশ্বাসও। বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ধারণা ছিল, কঠোর পরিশ্রম করলে যে কেউ জীবনে সফল হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে অর্ধেকেরও কম মার্কিনি এই বিশ্বাসে আস্থা রাখছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী নাগরিকদের মধ্যে ২০২৪ সালে যেখানে ৫০ শতাংশ মনে করতেন কঠোর পরিশ্রম মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়, সেখানে বর্তমানে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৬ শতাংশে। পিআরআরআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রবার্ট পি. জোন্স বলেন, জরিপটি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের গভীরতা তুলে ধরেছে। তার মতে, পরিচয়, গণতন্ত্র এবং জাতীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে রিপাবলিকান ও অন্যান্য মার্কিনিদের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। গবেষণায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে নাগরিকদের মনোভাব। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৮ শতাংশ মার্কিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে গর্ববোধ করেন। বিশ্বের অন্যতম পুরোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই হার অনেক বিশ্লেষকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভক্তি এবং জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধ নাগরিকদের মধ্যে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। জরিপটি ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৫ হাজার ৪৬৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। গবেষকদের মতে, ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতার মাত্রায় জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা প্লাস বা মাইনাস ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে প্রকাশিত এই জরিপ দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যে প্রশ্ন ও সংশয় বাড়ছে, তা আগামী বছরগুলোতে মার্কিন রাজনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন আর শুধু ব্রিটেনে প্রবেশের অনুমতিপত্র নয়, বরং বহুদেশ ভ্রমণের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা অথবা যুক্তরাজ্যের আবাসিক অনুমতিপত্র থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশে সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা সহজীকৃত প্রবেশ সুবিধা পেতে পারেন। এতে আলাদা আলাদা ভিসার জন্য আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা অনেকাংশে কমে যায়। বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলেও একই ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। ভ্রমণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক আবেদনকারী স্বল্পমেয়াদি ভিসা পাচ্ছেন, আবার আবেদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একবার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া গেলে শুধু ব্রিটেন নয়, বরং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচির মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে একই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয়ও কমে আসে। অনেক ভ্রমণকারী এখন ইউকে ভিসাকে ‘মাল্টি-ডেস্টিনেশন ট্রাভেল স্ট্র্যাটেজি’র অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কোনো দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অন্য কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইউকে ভিসা অবশ্যই ব্যবহার করা থাকতে হবে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ও ভিসা নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। এদিকে ইউকে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ধরনের ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য, সঠিক নথিপত্র এবং সুস্পষ্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আর একবার সেই ভিসা হাতে এলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগও তৈরি হয়, যা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্যগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের বিভিন্ন তালিকায় নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সেরাদের মধ্যে স্থান পেয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক ক্যারিয়ারের দরজা খুলে দেয়। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বিশ্বজুড়ে। অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছেই এমআইটি উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ স্বপ্নের নাম। একইভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ব্যবসা, আইন, চিকিৎসা, জননীতি এবং মানবিক বিষয়ে হার্ভার্ডের খ্যাতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনায়ক, নোবেল বিজয়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সিলিকন ভ্যালির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গুগল, নেটফ্লিক্স, ইয়াহু এবং আরও অনেক সফল প্রযুক্তি উদ্যোগের পেছনে স্ট্যানফোর্ডের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, ছোট ক্লাস সাইজ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। পাশাপাশি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় মানবিক বিজ্ঞান, আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা ক্যালটেক একটি বিশেষ আকর্ষণের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল, অর্থনীতি এবং পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে বার্কলে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ও বিশ্বের সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিয়মিতভাবে স্থান পেয়ে থাকে। বিশেষ করে জনস হপকিন্স চিকিৎসা বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। নেতৃত্বের গুণাবলি, গবেষণায় অংশগ্রহণ, সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততাও ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী পূর্ণ বা আংশিক বৃত্তি নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের সন্তানদের মিডিল স্কুল থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করেন জাতে এসব আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি শুধু উচ্চশিক্ষার সনদ নয়; এটি বিশ্বমানের গবেষণা, পেশাগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করে। আর সেই পথের অন্যতম বড় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যেগুলো এখনও হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক মুসলিম ধর্মীয় নেতা, মুফতি এবং মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের গ্রেফতার ও আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির মুসলিম সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, বিশ্লেষক এবং কিছু স্বাধীন গণমাধ্যমের মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের পরিচয়গত অবস্থানের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। বিবিসি মনিটরিংয়ের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত আটজন মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রশাসনিক অবাধ্যতা থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এসব অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণও থাকতে পারে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকেও ঘুষ দাবির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়। রুশ গণমাধ্যম কোমেরসান্তের প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কিছু মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে গ্রেফতারগুলোর পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট সামনে এসেছে। মে মাসের শুরুতে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম)-এর প্রধান রাভিল গাইনুতদিন প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতবদ্ধ নামাজ কার্যত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করেন। চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনটি কার্যকর হলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করাও আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে পর্যাপ্ত মসজিদ ও উপাসনালয় না থাকা সত্ত্বেও নতুন স্থাপনা নির্মাণে কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখাচ্ছে। এর কিছুদিন পরই মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ায় অনেক পর্যবেক্ষক দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে রাশিয়ার কট্টর জাতীয়তাবাদী ও উগ্র-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো এসব গ্রেফতারকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন চ্যানেলে তারা মুসলিম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। কিছু চ্যানেল এমনকি ডিইউএমকে ‘চরমপন্থি’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বানও জানিয়েছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয় ডিইউএম-এর উপপ্রধান দামির মুখেতদিনভকে ঘিরে। তার কার্যালয়ে ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধের একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শন নিয়ে রুশ জাতীয়তাবাদীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। সমালোচকদের দাবি ছিল, ওই চিত্রকর্ম রাশিয়ার ঐতিহাসিক বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরে মুখেতদিনভ চিত্রকর্মটি সরিয়ে ফেলেন এবং এর জায়গায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি চিত্রকর্ম স্থাপনের ঘোষণা দেন। ডিইউএম শুরুতে এসব গ্রেফতার নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরে সংগঠনটির প্রধান রাভিল গাইনুতদিন একটি বিবৃতিতে বলেন, ডিইউএমকে চরমপন্থা, বিদেশি প্রভাব বা উগ্রবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভিত্তিহীন। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ধরনের প্রচারণা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ায় বর্তমানে দুই ধরনের প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। অন্যদিকে যুদ্ধকালীন জাতীয়তাবাদী আবহে ইসলামবিদ্বেষী ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যও আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। রাশিয়ায় বর্তমানে দুই কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করে, যা ইউরোপের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের নীতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক গ্রেফতার অভিযান নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে, সেই আনুগত্য এখনো কি রাজনৈতিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট? পর্যবেক্ষকদের মতে, মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান শুধু কয়েকজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ভবিষ্যৎ নয়, বরং রাশিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামাজিক নীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।
কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় উচ্চস্তরের উড্ডয়ন লাইসেন্স ছাড়াই তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনা করেছেন। এ সময় তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রায় ৯০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেন এবং বিপুল পরিমাণ বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রি ওয়ালের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং নকল সনদ সংরক্ষণের মতো একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াল ১৯৯৮ সালে এয়ার কানাডায় কর্মজীবন শুরু করেন। তবে ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকে তিনি প্রয়োজনীয় যোগ্যতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পাইলটকে যাত্রীবাহী বিমানের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ (এটিপিএল) থাকতে হয়। এই লাইসেন্স অর্জনের জন্য একাধিক লিখিত পরীক্ষা ও নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়ালের কাছে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ করার অনুমোদন থাকলেও ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এটিপিএল লাইসেন্স ছিল না। বরং তিনি জাল বা ভুয়া নথি ব্যবহার করে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করেছিলেন। এয়ার কানাডা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছর একটি নিয়মিত মূল্যায়নের সময় তার লাইসেন্স-সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর বিষয়টি তদন্তের জন্য কানাডার পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে বিমান সংস্থাটি স্বেচ্ছায় পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরই ওয়ালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এয়ার কানাডা জোর দিয়ে বলেছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা কখনো ঝুঁকির মধ্যে ছিল না। কারণ প্রতিষ্ঠানটির সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পিল আঞ্চলিক পুলিশের উপপ্রধান Nick Milinovich বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অনেকটা এমন একজন চিকিৎসকের মতো, যিনি সাধারণ চিকিৎসা করার অনুমতি পেয়েছেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞ সনদ ছাড়া জটিল অস্ত্রোপচার করছেন।” পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে ওয়াল বিভিন্ন ধরনের বোয়িং উড়োজাহাজ পরিচালনা করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৯০০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করেন এবং কয়েক মিলিয়ন ডলার বেতন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেন। তদন্তে জানা গেছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার লাইসেন্সের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর কানাডার পরিবহন বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। পরে পিল আঞ্চলিক পুলিশ ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে এবং অনুসন্ধানী পরোয়ানা নিয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করে। সেই তদন্তেই লাইসেন্সটি জাল বলে সন্দেহের ভিত্তি পাওয়া যায়। গত ১ জুন ওয়ালের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথি ব্যবহার এবং নকল সনদ সংরক্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এয়ার কানাডা জানিয়েছে, ঘটনার পর তারা নিজেদের পাইলটদের লাইসেন্স ও যোগ্যতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা পরিচালনা করেছে। ওই পর্যালোচনায় অন্য কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে এই অভিযোগিত প্রতারণা ধরা পড়েনি। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড অনেক সময় বছরের পর বছর গোপন থাকতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত অসঙ্গতি সামনে চলে আসে এবং তখনই তদন্ত শুরু হয়। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়, বরং বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি ও নথি যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, পাইলটের নিয়মিত দক্ষতা পরীক্ষার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি, তবুও এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ পার্কস। জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে লড়ছেন। আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক রানঅফ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাবিলাহ পার্কস ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই আইনসভায় প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জর্জিয়ার সপ্তম সিনেট জেলার প্রতিনিধিত্বকারী নাবিলাহ পার্কস চলতি বছর তাঁর সিনেট আসন থেকে পদত্যাগ করে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি চার লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে রানঅফে জায়গা করে নেন। আগামী ১৬ জুনের রানঅফে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরেক প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। নির্বাচনী প্রচারণায় নাবিলাহ পার্কস জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেইড কর্মসূচির বিস্তার, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নারীদের প্রজনন অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বিপুল বাজেট উদ্বৃত্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শিশুযত্নের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির মজুরি কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে নাবিলাহ নিজেকে একজন দৃঢ় ও আপসহীন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কিছু আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন। যদিও এসব সমালোচনার বিষয়ে জশ ম্যাকলরিনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাবিলাহর প্রচারণা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থন পেয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসম্যান হ্যাঙ্ক জনসন, আটলান্টার সাবেক মেয়র শার্লি ফ্র্যাঙ্কলিন, ফুলটন কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফানি উইলিস এবং ডিকাল্ব কাউন্টির কমিশনার টেড টেরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদটি অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তি স্টেট সিনেটের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন। ফলে আসন্ন রানঅফ নির্বাচন শুধু একটি দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং জর্জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পদে ডেমোক্র্যাটরা আবারও জয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এমন বাস্তবতায় নাবিলাহ পার্কসের প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী ১৬ জুনের রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাবিলাহ পার্কস নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেখানে জয় পেলে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর এমন সম্ভাব্য অর্জন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
ছিদ্দিকুর রহমান বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যয়ের কারণে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশের এই পর্যটন নগরীকে ঘিরে। তবে কক্সবাজারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ এখনও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নীতিগত সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি এবং পর্যটকবান্ধব সেবার অভাব বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। কক্সবাজার কেন বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এর ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের অন্যান্য জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতগুলোর তুলনায় এর বিস্তৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একে অনন্য করেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ বর্তমানে বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে পাহাড়ি বনাঞ্চল—এই সড়ককে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মনোরম উপকূলীয় পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, ইনানী সৈকত, হিমছড়ি, মহেশখালী এবং টেকনাফের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ সৃষ্টি করছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, আধুনিক রেল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেল প্রতিষ্ঠার ফলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশে বাংলাদেশের প্রধান বাধা ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম বাধা হচ্ছে ভিসা ব্যবস্থা। অনেক দেশের নাগরিককে আগাম ভিসা সংগ্রহ করতে হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং ভিসা অন অ্যারাইভালের সুযোগ সম্প্রসারণ করলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদ নিয়ে বিশ্বব্যাপী কার্যকর প্রচারণা প্রায় নেই বললেই চলে। মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও বাংলাদেশের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে বিশ্বের অনেক পর্যটক এখনও বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বড় একটি অংশ নগদ অর্থ বহনের পরিবর্তে কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ পর্যটন এলাকায় আন্তর্জাতিক কার্ড গ্রহণের সুবিধা এখনও সীমিত। হোটেল ছাড়া অনেক রেস্টুরেন্ট, পরিবহন সেবা ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ না থাকায় বিদেশি পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। পেশাদার গাইড ও সেবার অভাব বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বহুভাষিক ট্যুর গাইডের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, জাপানি, চীনা বা স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ গাইডের অভাব বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে সীমিত করে। এছাড়া পর্যটনসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি এবং অপ্রফেশনাল আচরণের অভিযোগও রয়েছে। যাতায়াত ও ট্রাফিক সমস্যা বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ ঢাকা হয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। রাজধানীর দীর্ঘ যানজট, বিমানবন্দরের চাপ এবং কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ বিদেশি পর্যটক, বিশেষ করে নারী পর্যটকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত কৌতূহলী দৃষ্টি, অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি তোলা কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবের অভিযোগ পাওয়া যায়। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যটকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৈশকালীন বিনোদনের সীমাবদ্ধতা বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে সন্ধ্যার পরও পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ সীমিত। ফলে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন নিশ্চিত করা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রাখে। এ জন্য প্রয়োজন, সহজ ও দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণা বৃদ্ধি। পর্যটন এলাকাগুলোতে আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত করা। বহুভাষিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড তৈরি করা। পর্যটক নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়ন। বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা। পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন। বিশ্ব পর্যটন শিল্পে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, পাহাড়, বনভূমি, সংস্কৃতি এবং আতিথেয়তার সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী পর্যটন গন্তব্য হওয়ার সব উপাদান ধারণ করে। কক্সবাজার ইতোমধ্যে সেই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে নয়, বরং আধুনিক নীতি, আন্তর্জাতিক মানের সেবা, সহজ ভিসা ব্যবস্থা এবং কার্যকর বৈশ্বিক প্রচারণার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যটনের বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৭ জন অভিবাসী নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন, আর্থিক জালিয়াতি, ভিসা প্রতারণা, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতারণা, তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়ে থাকেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে “ডিন্যাচারালাইজেশন” বলা হয়। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “যারা অপরাধ লুকিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, এটি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জনের সুযোগ নেই।” হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিনও একই ধরনের কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “যারা আইন ভঙ্গ করে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেয়, তারা এই সুযোগ হারাবে। প্রশাসন আইনগত সব পথ ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেবে।” বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কিউবার নাগরিক ৫৪ বছর বয়সী লেইডিস ডেলমাস গার্সিয়ার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়, তিনি ও তার সহযোগীরা ফ্লোরিডায় ৩০টি ফিজিক্যাল থেরাপি ক্লিনিক পরিচালনা করে বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুয়া বিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। অথচ নাগরিকত্বের আবেদনকালে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন। হাইতির নাগরিক জ্যঁ ক্লদ আলফ্রেডের বিরুদ্ধে নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে দীর্ঘ সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগেই তিনি এসব অপরাধে জড়িত ছিলেন, কিন্তু আবেদনপত্রে তা গোপন করেন। পরে আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। কলম্বিয়ার নাগরিক আন্দ্রেয়া মারোকুইনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা থেকে আসা অর্থ ব্যবহার করে মিয়ামিতে ভুয়া রিয়েল এস্টেট লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, তিনি এক প্রভাবশালী কলম্বিয়ান মাদক ব্যবসায়ীর মেয়ে এবং বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন। ভারতের নাগরিক নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ভুয়া এইচ-১বি ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিউ জার্সিভিত্তিক একটি কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি জাল নথি ও ভুয়া করপোরেট তথ্য ব্যবহার করে একাধিক ভিসা আবেদন করেছিলেন এবং নাগরিকত্বের সময় এসব তথ্য গোপন করেন। এছাড়া জামাইকা, মেক্সিকো, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, চীন, কঙ্গো এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, মাদক বিতরণ, আর্থিক জালিয়াতি, পরিচয় গোপন এবং অভিবাসন প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। একজন কলম্বিয়ান ক্যাথলিক পুরোহিত ফার্নান্দো ক্রিস্টানচোর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ধর্মীয় নেতৃত্বের সুযোগ ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনভাবে নির্যাতন করেন। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং ২২ বছরের কারাদণ্ড পান। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস সহযোগিতা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার হওয়ার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সমালোচকরা বলছেন, এতে বৈধ অভিবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়তে পারে। তবে প্রশাসনের দাবি, কেবল প্রতারণা ও গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বর্তমানে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জটিল রোগের অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বাংলাদেশে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জানেন না যে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি। রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্তনালীর দেয়ালে সৃষ্ট চাপের পরিমাপ। এটি সাধারণত দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়, যেমন ১২০/৮০। এর মধ্যে প্রথম সংখ্যা বা সিস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। দ্বিতীয় সংখ্যা বা ডায়াস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড শিথিল অবস্থায় থাকার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান এবং বংশগত কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। অনেকেই মনে করেন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা উচ্চ রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, চোখের ক্ষতি এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার কারণ হতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা রান্নায় লবণের পরিমাণ কমানো এবং খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চিপস, চানাচুর, আচার, সস এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। ওজন নিয়ন্ত্রণেও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। এ কারণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করাও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, বাদাম, দই এবং লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভাজাপোড়া খাবার, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার সীমিত রাখতে বলা হয়। গরু ও খাসির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও সংযমের পরামর্শ দেওয়া হয়। ধূমপান ও মদ্যপান উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। একটি সিগারেট গ্রহণের পর কিছু সময়ের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে মদ্যপানও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ কারণে যোগব্যায়াম, ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত মাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে ঘরেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তবে পরিমাপের আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া এবং ধূমপান বা ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। যাদের জন্য চিকিৎসক ওষুধ নির্ধারণ করেছেন, তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু এবং মটরশুঁটিতে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম পাওয়া যায়। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা ও কফি পান কমানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই দৈনিক চা বা কফির পরিমাণ সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। অল্প বয়স থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাত একটি ধ্রুপদী ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের রূপ নিয়েছে। প্রথাগত সামরিক মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নৌঘাঁটির সামনে ইরান আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও, তেহরান এই অসমতা দূর করার জন্য অত্যন্ত চতুর ও কার্যকরী রণকৌশল গ্রহণ করেছে। অনেক সময় তারা সরাসরি সম্মুখ সমরে না গিয়েও তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। বর্তমানে চলমান যুদ্ধে একদিকে রয়েছে ওয়াশিংটনের হাই-টেক প্রযুক্তির দাপট, আর অন্যদিকে রয়েছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং নিখুঁত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই সংঘাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক ও সাইবার যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, যাকে ইরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। ইরানের কৌশল হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ক্লান্তিজনক যুদ্ধ (War of Attrition) চালিয়ে যাওয়া, যাতে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার উপস্থিতি কমিয়ে ফেলে। ফলে এটি কেবল দুটি দেশের সীমানার লড়াই নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট। সংঘাতের এই জটিল সমীকরণে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুটি উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দমানোর চেষ্টা করছে, তেহরান তখন তার কৌশলগত ধৈর্য এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহারের মাধ্যমে লড়াইয়ের ময়দানকে ওয়াশিংটন থেকে হাজার মাইল দূরে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই অসম যুদ্ধে বড় কোনো বিজয় যেমন কোনো পক্ষের জন্য সহজ নয়, তেমনি যেকোনো পক্ষ থেকে সামান্য ভুল পদক্ষেপ বা প্ররোচনা পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকুণ্ডে ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কেবল অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং কূটনৈতিক ধূর্ততা এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ধ্বংসাবশেষের ছবি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভয়াবহ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে— ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ধ্বংসস্তূপের ওই ছবিটি আসলে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের। ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে ছড়ানো একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট থেকে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের একটি ভবন ধসে পড়েছে। কিন্তু ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রুমর স্ক্যানার’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা ছবিটির অসংগতি ধরিয়ে দিয়েছেন। তারা দেখিয়েছেন, ছবিতে থাকা ভবনের স্থাপত্যশৈলী, চারপাশের পরিবেশ এবং ধ্বংসাবশেষের ধরণ হুবহু ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের সাথে মিলে যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত হয়। সেই স্থানীয় ঘটনার ছবিকেই এখন আন্তর্জাতিক সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ‘কনটেক্সট-স্ট্রিপিং’ বা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের অপকৌশল চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যুদ্ধে এক দেশের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি অন্য দেশের বলে চালিয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময়ে কোনো ছবি বা সংবাদ শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করে নেওয়ার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় যা বিদেশ যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নাগরিকদের এই ভোগান্তি কমাতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) এখন ই-পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করেছে। এর ফলে ঘরে বসেই আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। পাসপোর্ট রিনিউ কেন জরুরি? আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো দেশে প্রবেশ বা ভিসার আবেদনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকা বাধ্যতামূলক। এর কম মেয়াদ থাকলে অনেক দেশই ভিসা দিতে চায় না। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত নবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইনে রিনিউ করার ধাপসমূহ: এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে হয় না। প্রথমে ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইট (www.epassport.gov.bd) এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করতে হবে। এরপর ‘অ্যাপ্লাই ফর নিউ পাসপোর্ট’ অপশনে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও আগের পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে। আবেদনের ‘ID Document’ ধাপে গিয়ে রিনিউয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ (যেমন— মেয়াদ শেষ, হারানো বা তথ্য সংশোধন) নির্বাচন করতে হবে। সব তথ্য যাচাই শেষে আবেদন সাবমিট করলে একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: বায়োমেট্রিক প্রদানের সময় পাসপোর্ট অফিসে নিচের নথিগুলো সাথে নিতে হবে: অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও ফি জমার রশিদ। পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC বা GO। ফি ও সময়সীমা: পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়। সাধারণত ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে সাধারণ ডেলিভারি এবং জরুরি প্রয়োজনে আরও দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। প্রবাসীরাও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে এনআইডি-র সাথে তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় আবেদন বাতিল হতে পারে।
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল। যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
পৃথিবীতে জটিল প্রাণের বিবর্তন ঠিক কবে এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনে আবিষ্কৃত একদল অতি প্রাচীন জীবাশ্ম (Fossil) বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর আদিম প্রাণের বিকাশের সময়কালকে আরও কয়েক কোটি বছর পিছিয়ে দিতে পারে। দক্ষিণ চীনের পার্বত্য অঞ্চলে একটি প্রাচীন শিলাস্তরে এই জীবাশ্মগুলোর সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূতত্ত্ববিদরা। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন (৫৫ থেকে ৬০ কোটি) বছর আগের। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জীবাশ্মগুলোতে আদিম বহুকোষী প্রাণের জটিল গঠন লক্ষ্য করা গেছে, যা এর আগে এই সময়ের কোনো নমুনায় দেখা যায়নি। আবিষ্কারের গুরুত্ব: বিজ্ঞানীদের এতদিনকার ধারণা ছিল যে, পৃথিবীতে ‘ক্যাম্ব্রিয়ান পিরিয়ড’ (Cambrian Period) বা প্রায় ৫৪ কোটি বছর আগে প্রাণের হঠাৎ এবং দ্রুত বিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু চীনের এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, তারও অনেক আগে থেকে পৃথিবীতে জটিল গঠনের প্রাণী বা জীব বাস করত। গবেষক দলের প্রধান বলেন, "আমরা যা পেয়েছি তা কেবল কিছু পাথর নয়, বরং প্রাণের ইতিহাসের একটি হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। এই জীবাশ্মগুলো প্রমাণ করে যে, বিবর্তন আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও ধীরগতিতে এবং অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল।" গঠনগত বৈশিষ্ট্য: প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলোতে আদিম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের প্রতিসাম্য (Symmetry) এবং বিশেষায়িত টিস্যু বা কলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেই প্রাচীনকালেই প্রাণীরা চলাফেরা করতে এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল। বিবর্তনবাদে নতুন মাত্রা: এই আবিষ্কারটি ডারউইনের বিবর্তনবাদ এবং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক সময়রেখা নিয়ে পুনরায় ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে জীববিজ্ঞানীরা এই অনুসন্ধানকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ নয়, বরং আমাদের আদি পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার এক নতুন চাবিকাঠি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক গবেষক দল জীবাশ্মগুলোর আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গবেষণা শেষ হলে জীববিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের অনেক তথ্যই পুনরায় লিখতে হবে। পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব এবং প্রাণের উন্মেষ নিয়ে চীনের এই আবিষ্কার আগামী দিনগুলোতে বিজ্ঞানের জগতে আরও নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।