বিশেষ প্রতিবেদন

বিমানে অবস্থারত ব্যক্তি ছবি:সংগৃহীত।
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প

মাত্র সাত বছর বয়সে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারানো। এর তিন মাস পর দাদা-দাদির হাত ধরে পাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে। ইংরেজি না জানা এক বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে নতুন জীবন শুরু। সেই শিশুই পরে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেন এবং উচ্চশিক্ষার পথ ধরে মেডিকেল স্কুলে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আহমেদ মনজুর নিজের জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন এক ব্যক্তিগত লেখায়।   নাটশেল টুডেতে ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ‘দ্য মেকিং অব অ্যান আমেরিকান’ শিরোনামের লেখায় নিজের শৈশব, অভিবাসী জীবন, সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং ২৫ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক মার্কিন মেরিন আহমেদ মনজুর।   তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি। আহমেদ মনজুরের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় একটি বাসের ধাক্কায় হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় তার মা নিহত হন। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর।   মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে থানায় গিয়ে মায়ের মরদেহ শনাক্ত করার সেই স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। শৈশবের ওই অভিজ্ঞতাকেই নিজের জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।   ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত বাংলাদেশে আসেন তার দাদা-দাদি। পরিবারের সিদ্ধান্তে আহমেদকে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ভিসা আবেদনের পর তার ভিসা অনুমোদন হয়। জানুয়ারিতে মাকে হারানোর মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০১ সালের এপ্রিলেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন।   সেই যাত্রার সময় কেউ জানতেন না, বাংলাদেশে আবার পা রাখতে তার লেগে যাবে প্রায় ২৫ বছর।নিউইয়র্কে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় ষাটের কাছাকাছি বয়সী দাদা-দাদিকে সাত বছরের নাতিকে নিয়ে নতুন করে জীবন গড়তে হয়। আহমেদ বড় হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে। প্রথমে জ্যামাইকা এবং পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে ছিল তার বসবাস।   যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ইংরেজি প্রায় জানতেন না বলে জানিয়েছেন আহমেদ। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, স্কুলে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং চারপাশের সংস্কৃতি বোঝা তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্কুলজীবনে গ্যাং, সহিংসতা এবং মারামারির অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন তিনি।   এর মধ্যেই আসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি। মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও তার লেখায় উঠে এসেছে।   তবে কুইন্সের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ তার জীবনকে অন্যভাবেও সমৃদ্ধ করে। জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় বাংলা, স্প্যানিশ, হিন্দি, ম্যান্ডারিন, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষা শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তাকে আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সমাজকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়।   পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। কিন্তু এর সঙ্গে তৈরি হয় পরিচয়ের আরেক প্রশ্ন। ঘরের ভেতরে বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, আর বাইরে আমেরিকান সমাজ। এই দুই পরিচয়ের মধ্যে নিজের অবস্থান কোথায়, তা নিয়েও একসময় দ্বিধায় ছিলেন আহমেদ।   জীবনের পরবর্তী বড় অধ্যায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। মেরিনদের পোশাক প্রথমে তাকে আকৃষ্ট করলেও পরে বাহিনীর মূল্যবোধই তাকে সেখানে ধরে রাখে বলে জানিয়েছেন তিনি।   বুটক্যাম্প এবং পরবর্তী সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি একজন ইনফ্যান্ট্রি মেরিন হিসেবে সেকেন্ড ব্যাটালিয়ন, এইটথ মেরিন রেজিমেন্টে যোগ দেন।   ২০১৩ সালে সাত মাসের কমব্যাট ডিপ্লয়মেন্টে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের গারমসির জেলায় যান আহমেদ। অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডমের অংশ হিসেবে তার ইউনিট সেখানে কাউন্টারইনসার্জেন্সি অপারেশনে অংশ নেয় বলে নিজের লেখায় জানিয়েছেন তিনি।   দুই বছর পর ২০১৫ সালে আবারও বিদেশে দায়িত্ব পালন করেন। এবার পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের প্রশিক্ষণের কাজে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন তিনি।   মেরিন কোরে আহমেদ ছিলেন তার ইউনিটের একমাত্র বাঙালি আমেরিকান বলে জানিয়েছেন। সহকর্মীদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সে সময় নিজের জন্মভূমির সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।সহকর্মীদের কিছু বাংলা শব্দ শেখানো বা বাঙালি খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারতেন না বলে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।   মেরিন কোর থেকে সম্মানজনকভাবে অবসর নেওয়ার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন আহমেদ। ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রির সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করলেও বাংলাদেশে ফেরা হয়নি।   পরবর্তী সময়ে মেডিকেল স্কুলে ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। সামনে দীর্ঘ মেডিকেল শিক্ষা ও সার্জিক্যাল রেসিডেন্সির ব্যস্ততা থাকবে বুঝতে পেরে জন্মভূমিকে নতুন করে জানার সিদ্ধান্ত নেন।   অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, প্রায় ২৫ বছর পর ঢাকায় ফিরে আসেন আহমেদ মনজুর। প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করেন তিনি।   এবারের বাংলাদেশ সফর তার কাছে শুধু একটি দেশ ঘুরে দেখা ছিল না। এত বছর ধরে যে পরিচয় থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে রেখেছিলেন, সেই বাঙালি পরিচয়কেও নতুন করে আবিষ্কার করেন তিনি।   আহমেদ লিখেছেন, দীর্ঘদিন তার ধারণা ছিল পুরোপুরি আমেরিকান হয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে আসতে হবে। দুটি পরিচয় যেন একে অপরের বিপরীত। কিন্তু বাংলাদেশে ফিরে তার সেই ধারণা বদলে যায়।   মাকে হারিয়ে সাত বছর বয়সে যে শিশুটি ঢাকা ছেড়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই শহরেই ফিরে আসে একজন মার্কিন নাগরিক, সাবেক মেরিন এবং চিকিৎসাশিক্ষার পথে থাকা শিক্ষার্থী হিসেবে। আহমেদ মনজুরের কাছে এখন তার বাংলাদেশি ও আমেরিকান পরিচয় পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং জীবনের একই গল্পের দুটি অংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৮:১
স্বাক্ষরিত স্মারক ছবি:সংগৃহীত
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। দুই দেশ বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   এ উদ্যোগের আওতায় বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের কার্যকর ব্যবহার এবং শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।   নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই উন্নয়ন ও বৃত্তাকার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশের জন্য এসব ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর বড় অংশ যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহার না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডস সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব শিল্প, সবুজ বিনিয়োগ এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৫:১৮
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা ও ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই

ফ্লোরিডায় আগামী ১৮ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এবারের নির্বাচনে গভর্নর, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থী বাছাই হবে।   গভর্নর পদে বর্তমান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মেয়াদসীমার কারণে আবার প্রার্থী হতে পারছেন না। ফলে রিপাবলিকান শিবিরে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডস এবং ডিস্যান্টিস-সমর্থিত লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   ডেমোক্র্যাট শিবিরেও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডেভিড জলি এখন ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এবং তহবিল সংগ্রহে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।   সিনেট নির্বাচনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। নিয়োগপ্রাপ্ত রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির বিরুদ্ধে নভেম্বরে লড়ার জন্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাছাই হবে।   এবারের নির্বাচনের আরেকটি বড় বিষয় হলো নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র। নতুনভাবে নির্ধারিত আসনগুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের সুবিধা দিতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে।   ফ্লোরিডার এই প্রাইমারি তাই শুধু দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন নয়; নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যাবে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৩:৩৯
ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ স্যার কিয়ার স্টারমার। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন (আইএলআর) পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। দেশটিতে বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণের পাশাপাশি চাকরি, বেতন, বৈধ ভিসা এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের মতো বিষয়ও বিবেচনায় আসে।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কর্মরত অধিকাংশ বাংলাদেশি—বিশেষ করে স্কিলড ওয়ার্কার ও সংশ্লিষ্ট কর্মভিত্তিক ভিসাধারীদের—সাধারণত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে শুধু পাঁচ বছর পূর্ণ করলেই আবেদন অনুমোদন নিশ্চিত হয় না; অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।   কেন বাংলাদেশিদের জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম   স্কিলড ওয়ার্কার, হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার, ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপারসনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত রয়েছে।এসব ভিসাধারীকে নির্ধারিত চাকরি ও বেতনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি যদি স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করেন, তাহলে তার ভিসার শর্ত অনুযায়ী চাকরি ও আয়ের যোগ্যতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   এ ছাড়া বসবাসের সময়ের হিসাবেও নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রতি ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের সময় ১৮০ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী নিয়ম থাকতে পারে।   কিছু বাংলাদেশি তিন বছর পরও আবেদন করতে পারেন   সব কর্মীর জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারীদের কেউ কেউ তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকার পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।   একইভাবে ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসার কার্যক্রম ও নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি কোন ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন, সেই ভিসার অধীনে কী ধরনের কাজ করছেন এবং নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করছেন কি না—তার ওপরই মূলত স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা নির্ভর করবে।   বেতন ও চাকরির শর্তও গুরুত্বপূর্ণ   স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময় শুধু বসবাসের মেয়াদ নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি ও বেতনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্কিলড ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেতনসীমা বা সংশ্লিষ্ট পেশার ‘গোয়িং রেট’ পূরণের শর্ত রয়েছে। তবে পেশা, ভিসা কখন নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী বেতনসংক্রান্ত শর্তে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সব বাংলাদেশি কর্মীর জন্য একই বেতনসীমা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।   স্থায়ী বসবাস মানেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নয়   ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন বা আইএলআর পাওয়ার অর্থ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া নয়। এটি যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস ও কাজের অধিকার দেয়।পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে আলাদাভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।   ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে নিজের ভিসার ধরন, প্রয়োজনীয় বসবাসের সময়, চাকরি, বেতন এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের হিসাব ঠিক আছে কি না—তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থায়ী বসবাসের নিয়ম সবার জন্য এক নয়। তাই কোনো বাংলাদেশি পাঁচ বছর পূর্ণ করেছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএলআর এর জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসা রুটের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করেই আবেদন করতে হবে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৭:৯
পুলিশের প্রকাশিত ফটো: সংগৃহীত
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে একই  অটোজোন দোকানে টানা দুই রাতে সংঘবদ্ধভাবে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে মোট ২৭ জনের ছবি প্রকাশ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের বিভাগ।   শেরিফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ৮ আগস্ট ভোররাতে। রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিটে সাউথ আটলান্টিক বুলেভার্ডের ১১০০ ব্লকের ওই অটোজোন-এ অননুমোদিতভাবে প্রবেশের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ডেপুটিরা।   তদন্তকারীরা জানান, একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রথমে দোকানের কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর আরও প্রায় ১০ জন তার সঙ্গে যোগ দেয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সমন্বিত ‘মব-সদৃশ’ লুটপাট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে দোকানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি হয়।   প্রথম হামলার সময় ওই এলাকায় একটি স্ট্রিট টেকওভার চলছিল। স্ট্রিট টেকওভারের সময় সাধারণত বিপুলসংখ্যক মানুষ ও গাড়ি সড়কে জড়ো হয় এবং অবৈধভাবে গাড়ি চালানো, ড্রিফটিং ও বিভিন্ন ধরনের স্টান্ট করা হয়।   প্রথম ঘটনার তদন্তে দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনদের ছবি সংগ্রহ করে শেরিফ বিভাগ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচ পুরুষ ও ছয় নারীর ছবি প্রকাশ করা হয়।   তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই দোকানে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। ৯ আগস্ট ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কিছু একই সন্দেহভাজনসহ আরও কয়েকজন দোকানটিতে ঢুকে আগের মতোই সংঘবদ্ধভাবে লুটপাট চালায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   দ্বিতীয় ঘটনার সময়ও এলাকায় আরেকটি স্ট্রিট টেকওভার চলছিল। শেরিফ বিভাগের দাবি, দ্বিতীয়বারের হামলাতেও দোকানের পণ্য লুট করা হয় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি করা হয়।   দুই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় দফায় আরও সন্দেহভাজনের ছবি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে কর্তৃপক্ষ ১১ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারীর—মোট ২৭ জনের ছবি প্রকাশ করেছে।   শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, প্রকাশিত ছবিগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ধার করা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হলেও আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।   ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতা চেয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের বিভাগ। কারও কাছে এ বিষয়ে তথ্য থাকলে ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লু অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াচ কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রকাশিত ছবির ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে টানা দুই রাতের এই সংঘবদ্ধ লুটপাটের তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৬:৪৪
জ্যারেড কুশনার এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি:সংগৃহীত
হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসছেন ট্রাম্পের জামাতা, ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার। মিসরে হামাসের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার।   মিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, হামাসের সঙ্গে সমঝোতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   হামাসের সঙ্গে আলোচনার পর কুশনারের নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠককে গাজা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শান্তি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে হামাস ও ইসরাইল—দুই পক্ষের সম্মতি এবং বেশ কিছু জটিল শর্তের সমাধান প্রয়োজন।   এদিকে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর চাপ বাড়ছে।   আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশও ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আলোচনার পথই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   তবে শান্তি পরিকল্পনার বেশ কিছু বিষয় এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, গাজার নিরাপত্তা এবং ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   হামাসের সঙ্গে কুশনারের সরাসরি আলোচনাও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ওয়াশিংটন একদিকে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরোক্ষ ও কখনো সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।   এখন কুশনার ও নেতানিয়াহুর বৈঠকে ইসরাইল শান্তি পরিকল্পনাটি কতটা গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। পাশাপাশি হামাসের সঙ্গে মিসরের আলোচনায় যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের অবস্থান কতটা সমন্বয় করা যায়, তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   গাজায় হামলা চলতে থাকা অবস্থায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা বাস্তব অগ্রগতি তৈরি করতে পারে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির শর্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমানোর ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৬:২৯
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ধাক্কা, গত মাসে কমেছে ২৩ হাজার চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদেরা বরং নতুন চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চাকরি কমলেও বেকারত্বের হার বেড়ে যায়নি।   কর্মসংস্থানের দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা ও অবসর-আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পতন কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে।   এদিকে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।   এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৭:৬
আটলান্টায় গুলির ঘটনায় একজন আহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
আটলান্টায় গুলির ঘটনায় একজন আহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গুলির ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আটলান্টা পুলিশ।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ড্রাইভ এনডব্লিউ-এর ২৪০০ ব্লকে গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আহত ব্যক্তিকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তি বর্তমানে সচেতন ও জ্ঞানসম্পন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁর পরিচয়, বয়স বা লিঙ্গ প্রকাশ করা হয়নি।   এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। গুলির ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়।   আটলান্টা পুলিশ বিভাগের গুরুতর হামলা তদন্ত ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সূত্র খুঁজে দেখছেন।   পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলির কারণ ও ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৬:৪৮
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে বড় পতন, ৬৩ বছরে এমন স্বস্তি দেখেননি মার্কিন ভোক্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়তে থাকার মধ্যেই ওষুধের খরচে বড় স্বস্তির খবর এসেছে। জুলাই পর্যন্ত এক বছরে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এটি ১৯৬৩ সালের মার্চের পর দেশটিতে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামের সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির তথ্যে এই পরিবর্তন উঠে এসেছে। সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী থাকার সময় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ছয় মাসের হিসাবেও ওষুধের দাম দ্রুত কমেছে।   এই পরিসংখ্যানকে নিজেদের ওষুধের দাম কমানোর নীতির বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যনীতি হিসেবে সামনে এনেছেন ট্রাম্প।   বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে একই ওষুধের জন্য অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় বেশি মূল্য দিতে হয়—এই ব্যবধান কমাতে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি সরাসরি ভোক্তাদের কম দামে নির্দিষ্ট ওষুধ পাওয়ার সুযোগ এবং ব্যয়বহুল ওষুধের দাম কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি মেডিকেয়ার জিএলপি-১ ব্রিজ। গত ১ জুলাই কর্মসূচিটি চালু হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট ডি সুবিধাভোগীরা ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট জিএলপি-১ ওষুধ মাসে ৫০ ডলার কো-পেতে পেতে পারেন। বর্তমানে ওয়েগোভি, জেপবাউন্ডের নির্দিষ্ট সংস্করণ এবং ফাউন্ডায়ো কর্মসূচিটির অন্তর্ভুক্ত।   কর্মসূচির আওতায় ওষুধ প্রস্তুতকারীরা প্রতি মাসের সরবরাহ ২৪৫ ডলারের নেট মূল্যে দিচ্ছে, তবে যোগ্য রোগীর নিজস্ব খরচ ৫০ ডলার। এই সুবিধা সবার জন্য নয়; নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ এবং চিকিৎসকের অনুমোদন প্রয়োজন।   তবে জুলাইয়ে ওষুধের দাম কমার পুরো কৃতিত্ব শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতিকে দেওয়া যাবে না। মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম নিয়ে সরাসরি দর-কষাকষির ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের মাধ্যমে। প্রথম দফার আলোচনায় নির্ধারিত দাম ২০২৬ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেই কাঠামো অব্যাহত রেখে পরবর্তী পর্যায়ের দর-কষাকষির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।   ফলে বর্তমান মূল্যপতনের পেছনে একাধিক বিষয় কাজ করছে। নতুন প্রশাসনের মূল্য কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি আগে পাস হওয়া আইন, মেডিকেয়ারের দর-কষাকষি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে নতুন মূল্যব্যবস্থাও বর্তমান বাজারে প্রভাব ফেলছে।   তারপরও জুলাইয়ের পরিসংখ্যান ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ে মার্কিন পরিবারগুলোর উদ্বেগের মধ্যে এমন একটি খাতে দাম কমেছে, যেখানে বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।   আর পতনের মাত্রাটিও সাধারণ নয়—ছয় দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে এমন বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি।   তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেক রোগীর ফার্মেসির বিল ঠিক ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে—এমন নয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূচক সামগ্রিক বাজারে প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য পরিবর্তন পরিমাপ করে। একজন রোগী বাস্তবে কত টাকা দেবেন, তা নির্ভর করবে তার ওষুধ, স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেয়ার সুবিধা, ডিডাক্টিবল ও কো-পেসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।   সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় পরীক্ষা হবে এই পতন কতটা স্থায়ী হয়। জুলাইয়ের রেকর্ড পরিসংখ্যান আপাতত হোয়াইট হাউসকে শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম এমন গতিতে কমছে, যা দেশটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেখেনি।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৬:২৯
ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত সড়ক, চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা। ছবি:সংগৃহীত
ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা ও ঝড়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কয়েক দিনের টানা প্রবল বৃষ্টি, ঝড় ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।   বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকা। বিশেষ করে হোয়াইট রিভার নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ইন্ডিয়ানাপোলিস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্লাবন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   রাজ্যের কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে হোয়াইট রিভারের পানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠেছে, যা ১৯১৩ সালের বন্যার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল নৌকা ব্যবহার করে প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।   ইন্ডিয়ানাপোলিসে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করেছে। কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।   ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০টির বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের আবাসন এলাকাতেও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চালানো হয়েছে। ফায়েট কাউন্টিসহ অন্যান্য এলাকায় চলছে উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম।   দুর্যোগে মৃত্যুর ঘটনাগুলোও বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে। রাজ্য জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজন নারী, দুইজন পুরুষ এবং চার বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে দুইজন এবং জেনিংস, লেক, পোর্টার ও লাপোর্ট কাউন্টিতে একজন করে মারা গেছেন।   প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার পাশাপাশি ঝোড়ো বাতাসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ঝড়ের সময় ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কয়েক লাখ গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হন।   এদিকে ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারে ফেডারেল সহায়তার জন্য রাজ্যের অনুরোধ অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বন্যার পানিতে গাড়ি না চালানো এবং পানি দ্রুত বাড়তে থাকা এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় সামান্য গভীর পানিও গাড়ি বা মানুষকে ভাসিয়ে নিতে পারে। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   ইন্ডিয়ানায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও বেশ কিছু এলাকায় নদীর পানি ও জলাবদ্ধতা এখনো উদ্বেগের কারণ। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৫:১২
অফিসে একজন কর্মকর্তা কাজ করছেন প্রতীকী। ছবি: সংগ্রহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নিয়োগের গতি কমলেও ছাঁটাই এখনো কম

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন নিয়োগের গতি ধীর হয়ে পড়লেও কর্মরত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা এখনো দেখা দেয়নি। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে বেকার ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ।   অর্থনীতিবিদেরা ২ লাখ ৫ হাজার আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে নতুন আবেদনের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়েও কিছুটা বেশি হয়েছে।   তবে এক সপ্তাহের এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গত চার সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদনের গড় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজারে নেমেছে।   শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদেরা অনেকটা এমন একটি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকলেও বিদ্যমান কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করছে না। এর ফলে যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।   চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। গত বছর এই গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০। তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে যে দ্রুতগতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক দুর্বল। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল।   সর্বশেষ চাকরির হিসাবেও শ্রমবাজারের ধীরগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের হার কমলেও সেটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী চাকরির বাজারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে না।   উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক অবস্থান নতুন নিয়োগের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মী বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।   তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঢেউ দেখা যায়নি। গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন সাধারণত ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল, যা ঐতিহাসিক বিবেচনায় তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে চাকরিতে থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে।   অর্থনীতিবিদদের জন্য মূল উদ্বেগ তাই বর্তমানে শুধু কত মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, তা নয়; বরং নতুন চাকরি কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও। নিয়োগের গতি দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল থাকলে চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া এবং নতুন করে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।   সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো ভেঙে পড়েনি। তবে দ্রুতগতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সময়ও আর নেই। কম নিয়োগ এবং কম ছাঁটাইয়ের এই ভারসাম্য কতদিন বজায় থাকবে, সেটিই আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৭:৩৫
চালক গাড়ির ভেতরে থাকা প্রশিক্ষকের পাশে তার সদ্য পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ধরে আছেন। ছবি:সংগৃহীত
নতুন প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের জন্য নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সের এ টু জেড

নিউ ইয়র্কে নতুন জীবন শুরু করার পর অনেক প্রবাসীর জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে কোন ডকুমেন্ট লাগবে, কোথায় পরীক্ষা দিতে হবে, লার্নার পারমিটের পর কী করতে হবে এবং রোড টেস্টের প্রক্রিয়া কী, এসব নিয়ে নতুনদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করেই সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায়।   প্রথমেই ঠিক করতে হবে আপনি স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি নাকি এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। তিন ধরনের লাইসেন্সের ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা এক নয়। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর হতে হবে।   ডিএমভিতে আবেদন করার সময় বয়স, পরিচয় এবং নিউ ইয়র্ক স্টেটে বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। কোন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য এবং কোন ডকুমেন্টের কত পয়েন্ট রয়েছে, তা ডিএমভির নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ঠিক হয়। তাই সবার জন্য পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড এবং ঠিকানার দুটি প্রমাণ বাধ্যতামূলক, এমনভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও তিনি কোন ধরনের লাইসেন্স চাইছেন, তার ওপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নির্ভর করে।   বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের গ্রিন লাইট ল-এর কারণে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও যোগ্য নিউ ইয়র্ক বাসিন্দারা স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর কখনো ইস্যু হয়নি এমন আবেদনকারীকে এ বিষয়ে ডিএমভির নির্ধারিত হলফনামা দিতে হয়। পরিচয়, জন্মতারিখ ও নিউ ইয়র্কে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টের সমন্বয়ও জমা দিতে হবে।   এরপর আসে লার্নার পারমিট। সাধারণ ক্লাস ডি পারমিটের লিখিত পরীক্ষা বাংলাসহ ২০টি ভাষায় দেওয়া যায়। পরীক্ষায় মোট ২০টি মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন থাকে। পাস করতে কমপক্ষে ১৪টির সঠিক উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে চারটি রোড সাইন প্রশ্নের মধ্যে অন্তত দুটির উত্তর সঠিক হতে হবে।   অনলাইনে পুরো আবেদন ও পরীক্ষা শেষ করেই সব প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারী লার্নার পারমিট পেয়ে যাবেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়। ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচয়, বয়স ও রেসিডেন্সির ডকুমেন্ট নিয়ে ডিএমভি অফিসে যেতে হয়। অনলাইনে আগে থেকে ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনলাইন পারমিট টেস্টের সুযোগও নির্দিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সীমিত। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য তা ডিএমভির নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করা জরুরি।   পারমিট পাওয়ার পর একা গাড়ি চালানো যাবে না। সাধারণভাবে পাশে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালানোর বৈধ লাইসেন্সধারী একজন সুপারভাইজিং ড্রাইভার থাকতে হবে। নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় লার্নার পারমিটধারীদের গাড়ি চালানোর স্থান ও সময় নিয়েও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ রয়েছে।   রোড টেস্ট দেওয়ার আগে নতুন ড্রাইভারদের ডিএমভি অনুমোদিত পাঁচ ঘণ্টার প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে অনুমোদিত হাইস্কুল বা কলেজের ৪৮ ঘণ্টার ড্রাইভার এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পন্নকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।   পাঁচ ঘণ্টার কোর্স অনলাইনেও করা যায়, কিন্তু এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ডিএমভির অনুমোদিত অনলাইন প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স করতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং বৈধ নিউ ইয়র্ক স্টেট ফটো লার্নার পারমিট থাকতে হবে। অনুমোদিত প্রোভাইডারের মাধ্যমে কোর্সটি করতে হয়। কোর্স শেষ হওয়ার তথ্য সাধারণত প্রোভাইডার ইলেকট্রনিকভাবে ডিএমভিকে জানিয়ে দেয়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর। লার্নার পারমিট পাওয়ার পর রোড টেস্ট নির্ধারণের আগে কমপক্ষে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়। জুনিয়র পারমিটধারীদের অন্তত ৫০ ঘণ্টা সুপারভাইজড ড্রাইভিং প্র্যাকটিস করতে হয়, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা সূর্যাস্তের পর গাড়ি চালানোর অনুশীলন থাকতে হবে। রোড টেস্টের সময় অভিভাবকের স্বাক্ষর করা নির্ধারিত সার্টিফিকেশনও প্রয়োজন হয়।   প্রি-লাইসেন্সিংয়ের শর্ত পূরণ হলে রোড টেস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। ডিএমভির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, জিপ কোডের কাছাকাছি পরীক্ষাকেন্দ্রে সাধারণত প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্ট তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মকাল ও স্কুল ছুটির মতো ব্যস্ত সময়ে অপেক্ষা ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিউ ইয়র্ক সিটিতে সবসময় তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই রোড টেস্ট পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   রোড টেস্টের দিন পরীক্ষার উপযোগী বৈধ গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। গাড়িটির বৈধ রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ইন্সপেকশন সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে। সঙ্গে থাকা ড্রাইভারেরও বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পরীক্ষার সময় গাড়িতে পরীক্ষার্থী ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিএমভির নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।   রোড টেস্টের ফল একই দিন সন্ধ্যা ৬টার পর অনলাইনে পাওয়া যায়। পাস করলে অনলাইনে একটি ইন্টারিম লাইসেন্স পাওয়া যাবে। ফটো লার্নার পারমিটের সঙ্গে সেটি রেখে গাড়ি চালানো যায়। মূল ফটো ড্রাইভার লাইসেন্স সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে মেইলে পাঠানো হয়।   প্রথম দুইবার রোড টেস্ট দেওয়ার সুযোগ প্রাথমিক ফি কাঠামোর মধ্যে থাকে। দুইবারই ফেল করলে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। আবার পরীক্ষা দেওয়ার আগে অন্তত ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়।   নতুন প্রবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ড্রাইভার লাইসেন্সের নামে থার্ড পার্টি বা সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা। ড্রাইভিং স্কুল বা ডিএমভি অনুমোদিত কোর্স প্রোভাইডার প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কোর্স দিতে পারে, কিন্তু ড্রাইভার লাইসেন্স ইস্যু করে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভি।   তাই আবেদন শুরুর আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নির্বাচন করা, ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করা এবং এরপর পারমিট, প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স ও রোড টেস্টের ধাপ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিয়ম, ফি এবং গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার সময় নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:৪৮
ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রিঅ্যাকশন মিমে (Reaction Meme) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে চশমা পরা একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলছেন। ছবি:সংগৃহীত
পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী সাধারণ একটি লেখা পড়তে ও ছোট একটি বাক্য লিখতে হিমশিম খাওয়ায় ক্লাসরুমেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস। হিউস্টনের হুইটলি হাইস্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তার প্রকাশ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন উইলিয়ামস। স্কুলের স্টাফ ডিরেক্টরিতে তাকে ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ও ফক্স ২৬ হিউস্টন তার বক্তব্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই লেখার ভিত্তিতে একটি ছোট বাক্য সম্পন্ন করার কাজ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাটি ব্যাখ্যাও করেন এবং কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করেন।   কিন্তু এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কাজটি শেষ করতে পারেনি বলে জানান উইলিয়ামস। তার দাবি, এমন শিক্ষার্থীও তার ক্লাসে রয়েছে যারা ঠিকমতো পড়তে কিংবা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি দেখে তিনি এতটাই বিচলিত হন যে পরে লাঞ্চের সময় একটি ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   উইলিয়ামস বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং উত্তর দেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার পরও তারা কয়েকটি শব্দ বসিয়ে একটি বাক্য সম্পন্ন করতে পারেনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীদের এমন মৌলিক দক্ষতায় ঘাটতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   তবে উইলিয়ামসের অভিজ্ঞতা তার নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এবং এটি হুইটলি হাইস্কুলের সব দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর পড়া ও লেখার সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে না। কতজন শিক্ষার্থী ওই কাজটি করতে পারেনি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক অগ্রগতি করেছে। শক্তিশালী পাঠদান, উচ্চ প্রত্যাশা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যমে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য।   একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা প্রয়োজন। শিক্ষক ও স্কুলের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে হিউস্টন আইএসডি।   হুইটলি হাইস্কুল দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্কুলটির সামগ্রিক রেটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যর্থতার পর্যায়ের রেটিং পাওয়া স্কুলটি পরে বি রেটিংয়ে উন্নীত হয়েছে। যদিও স্টেট অব টেক্সাস অ্যাসেসমেন্টস অব অ্যাকাডেমিক রেডিনেস বা স্টার পরীক্ষার ফলাফলে এখনও দুর্বলতার জায়গা রয়েছে।   ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উইলিয়ামসের শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে তিনি জানান, তার ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে, তিনি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং টেক্সাসে একাধিক টিচিং সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছেন।   একটি ক্লাসরুমের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো টেক্সাস বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে একজন শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ দেশটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের লিটারেসি, শেখার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:৩৭
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই -এর একটি "ওয়ান্টেড"। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রায় তিন দশক ধরে পলাতক রয়েছেন জাহিদুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসক। ১৯৯৬ সালের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মামলা এবং পরবর্তীতে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও আজও তাকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   এমনকি ২০২৬ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম জ্বলজ্বল করছে। তাকে সশস্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করে সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তার সন্ধানে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়ে নতুন করে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   এফবিআইয়ের তথ্যমতে, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর। সে সময় জাহিদুল ইসলাম পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের কক্ষে চিকিৎসাধীন ওই রোগীকে তিনি এমন একটি ওষুধ প্রয়োগ করেন যাতে ওই নারী অচেতন অবস্থার কাছাকাছি চলে যান। এরপরই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এই চিকিৎসক।   এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ে অভিযোগ আনা হলে বিচার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে তার বিরুদ্ধে বিচার এড়ানোর উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে পলায়ন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড পোস্টার অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা জাহিদুল ইসলামের উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১৬০ পাউন্ড এবং চোখ বাদামি রঙের। তদন্তকারীদের ধারণা, নিউইয়র্ক স্টেট এবং কানাডার মন্ট্রিয়লের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।   তবে বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য সংস্থাটির কাছে নেই। পলাতক এই চিকিৎসক তার স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণ করে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যিনি নিজেও পেশায় একজন চিকিৎসক। তবে তার স্ত্রীর পরিচয় বা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   দীর্ঘ তিন দশক পার হলেও জাহিদুলকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা থেকে সরে আসেনি এফবিআই। সংস্থাটি তাকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী দূতাবাসে বা কনস্যুলেটে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে। ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড অফিসের অধীনে থাকা এই মামলাটি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আজও অমীমাংসিত।   তবে এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড নোটিশে তিনি কেবল অভিযুক্ত হিসেবেই তালিকাভুক্ত রয়েছেন, আদালতে তার বিরুদ্ধে এখনও দোষ প্রমাণিত হয়নি। দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও তাকে ধরতে কর্তৃপক্ষের এই অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, এই স্পর্শকাতর মামলাটির সুরাহা করতে তারা বদ্ধপরিকর।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৬:৪৭
কমান্ড সেন্টারের ভেতরে কর্তব্যরত মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিক। ছবি:সংগৃহীত
টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নৌসেনা নিহতের দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের মধ্যে গোলাগুলিতে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। তবে ঘটনাটি এখনো মার্কিন নৌবাহিনী বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে নিহতের সংখ্যা বা গোলাগুলির ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা রণতরীটিতে নৌসেনাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং এতে সাতজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্যের পক্ষে কোনো স্বাধীন মার্কিন সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়নি।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বিষয়টি অবশ্য আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রণতরীটি টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার টানা ২০৬ দিন সমুদ্রে থাকার রেকর্ড করেছিল।    দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে রণতরীটির নৌসেনাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা, সীমিত বিশ্রাম এবং পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রণতরীটিতে প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মূলত একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং এর সঙ্গে থাকে একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে গঠিত ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে রণতরীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে ইরান একাধিকবার রণতরীটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও এসব দাবির কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অস্বীকার করেছে। মার্চে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত করেনি।    চলতি বছরের মার্চে আব্রাহাম লিংকে বিমান পরিচালনার সময় একজন মার্কিন নৌসেনা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। মার্কিন পঞ্চম নৌবহর জানিয়েছিল, ঘটনাটি যুদ্ধজনিত ছিল না এবং আহত নৌসেনার অবস্থা জীবনহানির ঝুঁকিমুক্ত ছিল। পরে তাকে তীরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।    ইরানি সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি দাবি করেছিলেন, তাদের বাহিনী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালিয়েছে। ইরানের এসব সামরিক দাবি অবশ্য আলাদাভাবে যাচাই করা যায়নি।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাতজন নৌসেনা নিহত হওয়ার দাবিটি এখনো শুধু ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন নৌবাহিনী, প্রতিরক্ষা দপ্তর বা অন্য কোনো স্বাধীন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত মৃত্যু বা গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৮:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে ২৩ হাজার, বেকারত্বের হার নেমেছে ৪.১ শতাংশে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।

চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগদাতা ও কর্মসংস্থান সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে কুইন্সে চাকরি নিয়োগ মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি। অনুষ্ঠানটি ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।   অনুষ্ঠানের স্থান দ্য গ্রেটার অ্যালেন এএমই ক্যাথেড্রাল অব নিউইয়র্ক, ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ড, কুইন্স। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত সহায়তা পাওয়া যাবে।   চাকরিপ্রার্থীদের আগেভাগে নিবন্ধন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিপাটি পেশাগত পোশাক, ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং কয়েক কপি জীবনবৃত্তান্ত সঙ্গে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগের পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, চাকরির আবেদন এবং কর্মজীবন উন্নয়ন সম্পর্কিত সহায়তাও পাওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক সিটি বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের চাকরির মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তি ও কর্মজীবন পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।  

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৬:৩২
লুইজিয়ানা হাইওয়েতে ১৮ চাকার ট্রেইলর ট্রাক থেকে লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফ অফিসের ডেপুটিদের প্রায় ৮০০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করার ঘটনা। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮-চাকার ট্রাক থেকে ৪০ লাখ ডলারের ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ১৮-চাকার ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে মেথামফেটামিন জব্দের অন্যতম বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ডেনহাম স্প্রিংস এলাকায় আই-১২ মহাসড়কে নিয়মিত ট্রাফিক স্টপের সময় ট্রাকটি থামানো হয়। এলাকাটি ব্যাটন রুজ শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে।   ট্রাকটির চালক হিসেবে অ্যান্টন ভিতালিয়েভিচ রাকভ নামে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকা এবং বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি হিসেবে বর্ণনা করেছে।   শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাকভকে আটকের পর ট্রাকটির ট্রেইলারে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ১৪ কেজি বা ৭৮৯ দশমিক ৫৬ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়।   জব্দ করা মাদকগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো বড় বড় প্যাকেটে রাখা ছিল। প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ মাদক কয়েকটি বড় কনটেইনারে এবং টেবিলের ওপর সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তদন্তকারীকে ট্রাকের ওপরের অংশ পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে।   লিভিংস্টন প্যারিশের শেরিফ জেসন আরড ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।   গ্রেপ্তারের পর রাকভকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি হেফাজতে রয়েছেন।   এই জব্দের মাত্রা সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই লিভিংস্টন প্যারিশে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় প্রায় ৩৬১ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার বলে মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য জানিয়েছিল।   এর আগে মার্চে ডিইএ, এফবিআই ও লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সমন্বিত একটি মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ১৮-চাকার একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৩২৫ পাউন্ড মাদক উদ্ধার করে। মাদকগুলো আইসক্রিম ফ্রিজারের ভেতরে লুকানো বিশেষ ধাতব বাক্সে রাখা হয়েছিল।   নতুন এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ট্রাকের চালকের অভিবাসন অবস্থাও সামনে এসেছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৫:৪৪
মানুষের কঙ্কাল। ছবি:সংগৃহীত
অরল্যান্ডোর কাছে মহাসড়কের পাশে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কাছে আন্তর্জাতিক ড্রাইভ এলাকার একটি মহাসড়কের পাশ থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুজন পথচারী আন্তর্জাতিক ড্রাইভ ও কন্টিনেন্টাল গেটওয়ের সংযোগস্থলের কাছে হাঁটার সময় দেহাবশেষ দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।   খবর পাওয়ার পর শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। দেহাবশেষের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।   তদন্তকারীরা এখন দেহাবশেষটি কত পুরোনো, এটি কার এবং কীভাবে ওই স্থানে এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অপরাধ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা পরীক্ষকের গাড়ি থাকার কথা জানিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   তবে এখন পর্যন্ত দেহাবশেষের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে অপরাধ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।   অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় ও চিকিৎসা পরীক্ষকের দপ্তর দেহাবশেষ পরীক্ষা করে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

মিজানুর রহমান প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৯:১৯
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের সম্পত্তির দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
কার্দাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে চুরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হিডেন হিলস এলাকায় তারকা কিম কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর।   রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে খবর আসে, ওই সম্পত্তিতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঢুকে পড়েছেন এবং পরে সেখান থেকে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। সম্পত্তিটির নিরাপত্তাকর্মী সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের পর সম্পত্তি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে একটি গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। পরে তিনি ওই গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যবহৃত গাড়িটি কার্দাশিয়ানের একজন কর্মীর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির মালিকানা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশি সূত্রের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি কার্দাশিয়ানের এক কর্মীর। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং সম্পত্তি থেকে ঠিক কী কী নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।   কার্দাশিয়ান বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করেন না। সম্পত্তিটি সংস্কারের কাজ চলায় তিনি ও তার সন্তানরা সেখানে ছিলেন না। ফলে ঘটনার সময় বাড়িতে কার্দাশিয়ান বা তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস জানিয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীর নজরে সন্দেহজনক তৎপরতা আসার পর দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।   এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সন্দেহভাজনকে আটক করে।এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন সম্পত্তিতে সন্দেহভাজনের প্রবেশ, গাড়ি ব্যবহারের ঘটনা এবং সম্ভাব্য চুরির বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   হিডেন হিলস লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার একটি সুরক্ষিত ও অভিজাত আবাসিক সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত। সেখানে তারকা ও ধনী ব্যক্তিদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। ফলে কার্দাশিয়ানের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে এমন ঘটনা স্থানীয়ভাবে বিশেষ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।   এটি কিম কার্দাশিয়ানের জন্য নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নয়। ২০১৬ সালে প্যারিসে অবস্থানের সময় তিনি সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন। তবে এবারের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মালিকানাধীন একটি সংস্কারাধীন সম্পত্তিতে ঘটেছে এবং সে সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৮:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গাড়ির চলাচল ও নম্বরফলক নজরদারিতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে গোপনীয়তার উদ্বেগ।
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির নম্বরফলকের পাশাপাশি রং, স্টিকার ও আঁচড়ও নজরদারিতে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কে চলাচলকারী গাড়ির ওপর নজরদারি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় নম্বরফলক শনাক্তকারী ক্যামেরা এখন শুধু গাড়ির নম্বরফলক পড়ছে না; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে গাড়ির ধরন, মডেল, রং, আঁচড়, ডেন্ট, এমনকি বাম্পারের স্টিকারের মতো দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যও শনাক্ত ও সংরক্ষণ করতে পারছে।   এসিএলইউ বলছে, ফ্লক সেফটির তৈরি এই ক্যামেরা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটিতে প্রায় ৮০ হাজার ক্যামেরা রয়েছে, যা ৪৯টি অঙ্গরাজ্যের ৫ হাজারের বেশি এলাকায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ক্যামেরা প্রতি মাসে ২ হাজার কোটিরও বেশি গাড়ি শনাক্ত করার তথ্য সংগ্রহ করে বলে ফ্লক সেফটির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য ও এসিএলইউর সাম্প্রতিক প্রচারণায় উল্লেখ করা হয়েছে।    এই প্রযুক্তি মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গাড়ির ছবি ধারণ করে। এরপর ছবির নম্বরফলক শনাক্ত করার পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে কোনো গাড়ির নম্বরফলক জানা না থাকলেও তার রং, মডেল, ধরন, দৃশ্যমান ক্ষতি বা বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে সেটিকে পরবর্তী সময়ে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এসিএলইউর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এই ক্যামেরা শুধু অপরাধে সন্দেহভাজন গাড়িকে নজরদারি করে না। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের গাড়ির তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি কোনো অপরাধ না করেও তার গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি তথ্যভান্ডার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এই তথ্য বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে ভাগাভাগি করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের একটি ক্যামেরা ব্যবস্থা বৃহত্তর জাতীয় নজরদারি নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে বলে এসিএলইউ আশঙ্কা করছে। সংগঠনটি এই ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য ব্যাপক গণনজরদারির অবকাঠামো হিসেবে দেখছে।   তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রযুক্তিটির ইতিবাচক দিকও তুলে ধরছে। তাদের দাবি, চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত করা, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং গুরুতর অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সশস্ত্র ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড, গাড়ি চুরি ও মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্তে সহায়তা পাওয়া গেছে।   অন্যদিকে গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, অপরাধ দমনের জন্য তৈরি প্রযুক্তি যদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের তথ্যও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা কোথায় থাকবে?   এই বিতর্ক ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাতেও পৌঁছেছে। চলতি বছরে নম্বরফলক শনাক্তকারী ক্যামেরার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য কীভাবে ব্যবহার ও ভাগাভাগি করা যাবে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রায় একশটি প্রস্তাব বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উত্থাপিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   কয়েকটি শহর আবার ফ্লক সেফটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল বা প্রযুক্তির ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করছে। এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত নজরদারি এবং তথ্য অন্য সংস্থার হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা।    এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কোনো ব্যক্তির গাড়ি কোথায় কোথায় চলাচল করেছে, সেই তথ্য দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে পরে অনুসন্ধান করা হলে তা ব্যক্তির চলাচলের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করতে পারে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে থাকা অযৌক্তিক তল্লাশি ও নজরদারি থেকে সুরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও আদালতে বিতর্ক চলছে।   তবে “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি গাড়ির সব তথ্য সরাসরি জাতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উন্মুক্ত” এমন দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কোন সংস্থা তথ্য দেখতে পারবে, কতদিন তথ্য রাখা হবে এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট সংস্থার চুক্তি, স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের আইন এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়মের ওপর নির্ভর করে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখন মূল বিতর্ক শুধু অপরাধ দমনে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নয়। বরং একজন সাধারণ নাগরিকের গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে, সেই তথ্য কতদিন সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে কে তা ব্যবহার করতে পারবে এই প্রশ্নই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:৪৫
টিপিএস বাতিলের পর নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি হারিয়েছেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে টিপিএস বাতিলের পর চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী

নিউইয়র্ক সিটি সরকার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো বেশ কয়েকজন হাইতিয়ান কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান নাগরিকদের এই সুরক্ষা বাতিলের পথ পরিষ্কার হওয়ায় কর্মীদের বৈধ কাজের অনুমতি আর বহাল না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, নগর সরকার নিজ উদ্যোগে এসব কর্মীকে ছাঁটাই করতে চায়নি। ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই কর্মীদের কাজের অনুমতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে যাদের বৈধভাবে কাজ করার অন্য কোনো অনুমতি নেই, তাদের চাকরি থেকে আলাদা করতে হয়েছে।   সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাইতিয়ান কর্মীদের চাকরির বৈধতা পর্যালোচনা করা হয়। শুক্রবার নগর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত কর্মীর সংখ্যা ‘এক ডজনের বেশি’ থেকে ‘কয়েক ডজন’ বলা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ নগরীর হাসপাতাল ব্যবস্থায় কাজ করতেন।   মেয়র মামদানি সোমবার জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য টিপিএস পুনর্বহাল অথবা বিকল্প হিসেবে ডিফার্ড এনফোর্সড ডিপারচার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, টিপিএস পুনর্বহাল কিংবা এ ধরনের বিকল্প সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে রয়েছে।   টিপিএস এমন একটি সাময়িক অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর মানবিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। হাইতির নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল।   জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হাইতির টিপিএস বাতিলের পথে থাকা আইনি বাধা কার্যত দূর হয়ে যায়। এরপর আগস্টের শুরুতে ফেডারেল আদালতও আগের সেই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নেই বলে নিশ্চিত করে। ফলে হাইতিয়ান টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।   নিউইয়র্ক শহরের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাইতিয়ান অভিবাসীরা নগরীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টিপিএস বাতিলের ফলে শুধু সরকারি কর্মী নয়, বেসরকারি খাতের বহু কর্মীরও চাকরি ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।    মামদানি জানিয়েছেন, চাকরি হারানো কর্মীদের পাশে থাকার জন্য নগর সরকার আইনি পরামর্শ, নতুন ধরনের কাজের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে টিপিএস পুনর্বহাল না হলে এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।   টিপিএস বাতিলের প্রভাব নিউইয়র্কের বাইরেও ব্যাপক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক এই সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। তাদের অনেকেই বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, কাজ করছেন এবং পরিবার গড়ে তুলেছেন। এখন টিপিএস বাতিলের কারণে তাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   মেয়র মামদানির ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নগর সরকার একদিকে ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে টিপিএস পুনর্বহালের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে।   এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অভিবাসন অধিকার, কর্মসংস্থান এবং ফেডারেল বনাম স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৬:৫৯
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০