বিশেষ প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত।
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘বাথটাব রিং’

লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবিঃ এআই । আমেরিকা বাংলা
প্রযুক্তির দাপট বনাম কৌশলের লড়াই: আমেরিকা-ইরান 'অসম যুদ্ধের' নেপথ্যে

বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাত একটি ধ্রুপদী ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের রূপ নিয়েছে। প্রথাগত সামরিক মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নৌঘাঁটির সামনে ইরান আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও, তেহরান এই অসমতা দূর করার জন্য অত্যন্ত চতুর ও কার্যকরী রণকৌশল গ্রহণ করেছে। অনেক সময় তারা সরাসরি সম্মুখ সমরে না গিয়েও তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।    বর্তমানে চলমান যুদ্ধে একদিকে রয়েছে ওয়াশিংটনের হাই-টেক প্রযুক্তির দাপট, আর অন্যদিকে রয়েছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং নিখুঁত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।   এই সংঘাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক ও সাইবার যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, যাকে ইরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী।    ইরানের কৌশল হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ক্লান্তিজনক যুদ্ধ (War of Attrition) চালিয়ে যাওয়া, যাতে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার উপস্থিতি কমিয়ে ফেলে। ফলে এটি কেবল দুটি দেশের সীমানার লড়াই নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট।   সংঘাতের এই জটিল সমীকরণে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুটি উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দমানোর চেষ্টা করছে, তেহরান তখন তার কৌশলগত ধৈর্য এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহারের মাধ্যমে লড়াইয়ের ময়দানকে ওয়াশিংটন থেকে হাজার মাইল দূরে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে।   এই অসম যুদ্ধে বড় কোনো বিজয় যেমন কোনো পক্ষের জন্য সহজ নয়, তেমনি যেকোনো পক্ষ থেকে সামান্য ভুল পদক্ষেপ বা প্ররোচনা পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকুণ্ডে ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কেবল অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং কূটনৈতিক ধূর্ততা এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ধানমন্ডি ৩২-এর ধ্বংসস্তূপকে ইসরায়েলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি দাবি!

বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ধ্বংসাবশেষের ছবি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভয়াবহ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে— ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ধ্বংসস্তূপের ওই ছবিটি আসলে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের। ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে ছড়ানো একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট থেকে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের একটি ভবন ধসে পড়েছে। কিন্তু ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রুমর স্ক্যানার’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা ছবিটির অসংগতি ধরিয়ে দিয়েছেন। তারা দেখিয়েছেন, ছবিতে থাকা ভবনের স্থাপত্যশৈলী, চারপাশের পরিবেশ এবং ধ্বংসাবশেষের ধরণ হুবহু ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের সাথে মিলে যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত হয়। সেই স্থানীয় ঘটনার ছবিকেই এখন আন্তর্জাতিক সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ‘কনটেক্সট-স্ট্রিপিং’ বা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের অপকৌশল চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যুদ্ধে এক দেশের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি অন্য দেশের বলে চালিয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময়ে কোনো ছবি বা সংবাদ শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করে নেওয়ার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাসপোর্ট নবায়ন এখন হাতের মুঠোয়: জেনে নিন ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার সহজ নিয়ম ও খরচ

বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় যা বিদেশ যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নাগরিকদের এই ভোগান্তি কমাতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) এখন ই-পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করেছে। এর ফলে ঘরে বসেই আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।   পাসপোর্ট রিনিউ কেন জরুরি? আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো দেশে প্রবেশ বা ভিসার আবেদনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকা বাধ্যতামূলক। এর কম মেয়াদ থাকলে অনেক দেশই ভিসা দিতে চায় না। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত নবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।   অনলাইনে রিনিউ করার ধাপসমূহ: এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে হয় না। প্রথমে ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইট (www.epassport.gov.bd) এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করতে হবে। এরপর ‘অ্যাপ্লাই ফর নিউ পাসপোর্ট’ অপশনে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও আগের পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে। আবেদনের ‘ID Document’ ধাপে গিয়ে রিনিউয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ (যেমন— মেয়াদ শেষ, হারানো বা তথ্য সংশোধন) নির্বাচন করতে হবে। সব তথ্য যাচাই শেষে আবেদন সাবমিট করলে একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যাবে।   প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: বায়োমেট্রিক প্রদানের সময় পাসপোর্ট অফিসে নিচের নথিগুলো সাথে নিতে হবে: অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও ফি জমার রশিদ। পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC বা GO।   ফি ও সময়সীমা: পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়। সাধারণত ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে সাধারণ ডেলিভারি এবং জরুরি প্রয়োজনে আরও দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। প্রবাসীরাও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে একই পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে এনআইডি-র সাথে তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় আবেদন বাতিল হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য

যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত।  বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।  ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল।  যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চীনে মিলল কোটি কোটি বছরের পুরনো জীবাশ্ম: বদলে যেতে পারে পৃথিবীর বিবর্তনবিদ্যার ইতিহাস

পৃথিবীতে জটিল প্রাণের বিবর্তন ঠিক কবে এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনে আবিষ্কৃত একদল অতি প্রাচীন জীবাশ্ম (Fossil) বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর আদিম প্রাণের বিকাশের সময়কালকে আরও কয়েক কোটি বছর পিছিয়ে দিতে পারে। দক্ষিণ চীনের পার্বত্য অঞ্চলে একটি প্রাচীন শিলাস্তরে এই জীবাশ্মগুলোর সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূতত্ত্ববিদরা। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন (৫৫ থেকে ৬০ কোটি) বছর আগের। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জীবাশ্মগুলোতে আদিম বহুকোষী প্রাণের জটিল গঠন লক্ষ্য করা গেছে, যা এর আগে এই সময়ের কোনো নমুনায় দেখা যায়নি। আবিষ্কারের গুরুত্ব: বিজ্ঞানীদের এতদিনকার ধারণা ছিল যে, পৃথিবীতে ‘ক্যাম্ব্রিয়ান পিরিয়ড’ (Cambrian Period) বা প্রায় ৫৪ কোটি বছর আগে প্রাণের হঠাৎ এবং দ্রুত বিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু চীনের এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, তারও অনেক আগে থেকে পৃথিবীতে জটিল গঠনের প্রাণী বা জীব বাস করত। গবেষক দলের প্রধান বলেন, "আমরা যা পেয়েছি তা কেবল কিছু পাথর নয়, বরং প্রাণের ইতিহাসের একটি হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। এই জীবাশ্মগুলো প্রমাণ করে যে, বিবর্তন আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও ধীরগতিতে এবং অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল।" গঠনগত বৈশিষ্ট্য: প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলোতে আদিম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের প্রতিসাম্য (Symmetry) এবং বিশেষায়িত টিস্যু বা কলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেই প্রাচীনকালেই প্রাণীরা চলাফেরা করতে এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল। বিবর্তনবাদে নতুন মাত্রা: এই আবিষ্কারটি ডারউইনের বিবর্তনবাদ এবং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক সময়রেখা নিয়ে পুনরায় ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে জীববিজ্ঞানীরা এই অনুসন্ধানকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ নয়, বরং আমাদের আদি পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার এক নতুন চাবিকাঠি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক গবেষক দল জীবাশ্মগুলোর আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গবেষণা শেষ হলে জীববিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের অনেক তথ্যই পুনরায় লিখতে হবে। পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব এবং প্রাণের উন্মেষ নিয়ে চীনের এই আবিষ্কার আগামী দিনগুলোতে বিজ্ঞানের জগতে আরও নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ধর্ষণের পশুবৃত্তি
ধর্ষণের পশুবৃত্তিকে রুখবে কোন শক্তি: ভয়, আইন নাকি সামাজিক বিবেক?

মানুষের ভেতরে দুটি শক্তি সব সময় পাশাপাশি কাজ করে—একটি সভ্যতার, অন্যটি প্রবৃত্তির। সভ্যতা মানুষকে সামাজিক করে, নৈতিক করে, দায়িত্বশীল করে; আর প্রবৃত্তি মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে তাড়না দেয়, তাকে তাড়িত করে। এই দুই শক্তির সংঘর্ষই মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি মৌলিক বাস্তবতা। যখন মানুষের ভেতরে সভ্যতার শক্তি প্রবল থাকে, তখন সে ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে পারে, অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু যখন প্রবৃত্তি বা পশুবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সেই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ শক্তি উপস্থিত থাকে না, তখন মানুষ ভয়ঙ্কর অপরাধও করতে পারে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে বোঝার ক্ষেত্রে এই মানবিক ও প্রবৃত্তিগত দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যায় না। মানুষের শরীরে যৌনতা একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি মানব প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু সভ্য সমাজ এই প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও আইন তৈরি করেছে। যৌনতা তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা নৈতিকতা, সামাজিক বিধি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ঘটে। কিন্তু যখন এই প্রবৃত্তি বিকৃত রূপ নেয় এবং অন্যের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করে, তখন তা অপরাধে পরিণত হয়। ধর্ষণ আসলে শুধু যৌনতা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা, অন্যকে অপমান করার বিকৃত মানসিকতা এবং মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের বহি:প্রকাশ।   অনেকেই মনে করেন, মানুষ যদি ধার্মিক হয়, যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে বা পূজা করে, যদি সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়, তাহলে সে এমন অপরাধ করবে না। বাস্তবতা কিন্তু সব সময় এই ধারণাকে সমর্থন করে না। ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যেখানে সমাজে সম্মানিত বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষও ভয়াবহ অপরাধ করেছে। আবার অপরদিকে বলা হয় নারীরা পর্দা করলে ধর্ষণ ঘটত না, এক্ষেত্রেও শত শত উদাহরণ আছে পর্দানশীন নারী, বৃদ্ধ নারী বা নবজাতক বা দু-তিন বছরের মেয়ে শিশুও ধর্ষিতা হচ্ছে। এর কারণ হলো ধর্মীয় আচার বা সামাজিক পরিচয় মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই নিশ্চিত নিশ্চয়তা নয়। মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে দীর্ঘ পারিবারিক সুশিক্ষা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণ ও অভ্যাস, পরিবারের অন্য সদস্যদের অনৈতিক কার্যকলাপ, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক শিক্ষা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক বোধের মাধ্যমে। শুধু বাহ্যিক পরিচয় বা আচার দিয়ে মানুষের অন্তর্গত প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মানুষের মস্তিষ্ক একটি জটিল সিস্টেম। এখানে নানা ধরনের সিগন্যাল বা প্রেরণা বা প্রেষণা কাজ করে। একটি সিগন্যাল মানুষকে কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে, আবার আরেকটি সিগন্যাল সেই কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলে। সভ্যতা মূলত মানুষের মস্তিষ্কে এই দ্বিতীয় সিগন্যালটি তৈরি করার চেষ্টা করে-যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিবেক বা নৈতিক বোধ বলতে পারি। কিন্তু সব মানুষের মধ্যে এই শক্তি সমানভাবে বিকশিত হয় না। অনেক সময় পরিস্থিতি, পরিবেশ, পারিবারিক সুশিক্ষা এবং সুযোগের অভাব এই নৈতিক সিগন্যালকে দুর্বল করে দেয়। এই জায়গায় আইন এবং শাস্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইন শুধু অপরাধ ঘটার পর বিচার করার জন্য নয়; আইন মানুষের মনে একটি সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা তৈরি করে। একজন মানুষ যখন কোনো অপরাধ করার কথা ভাবেন, তখন তার মস্তিষ্কে সম্ভাব্য শাস্তির ছবিও ভেসে ওঠে। এই ভয় অনেক সময় মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে। সমাজবিজ্ঞানে এটিকে ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধমূলক প্রভাব বলা হয়।   মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সিদ্ধান্তই এই ধরনের মানসিক সিগন্যাল দ্বারা প্রভাবিত হয়। কেউ সাপ ধরে না, কারণ তার মনে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ভয় কাজ করে। কেউ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কিছু লেখার আগে দ্বিধা করে, কারণ তার মনে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ আইন ভাঙতে চায় না, কারণ সে জানে এর জন্য শাস্তি হতে পারে। অর্থাৎ মানুষের আচরণের ওপর ভয় বা সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—যদি ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য অত্যন্ত কঠোর এবং প্রকাশ্য শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে কি মানুষের মনে এমন ভয় তৈরি হবে না যা তাকে অপরাধ থেকে বিরত রাখবে? এই প্রশ্নের পেছনে একটি শক্তিশালী যুক্তি আছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কঠোর আইন ও দৃশ্যমান শাস্তি অপরাধ কমাতে ভূমিকা রেখেছে। যখন সমাজে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে কোনো অপরাধের জন্য কঠিন ও অবধারিত শাস্তি হবে, তখন অনেক মানুষ সেই অপরাধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। তবে একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও রয়েছে। শুধু শাস্তির কঠোরতা সব সময় অপরাধ কমানোর একমাত্র বা সবচেয়ে কার্যকর উপায় নয়। গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায় যে অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে শাস্তির নিশ্চিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ যদি মানুষ মনে করে যে অপরাধ করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে কঠোর শাস্তির ভয়ও অনেক সময় তাকে অপরাধ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিন্তু যদি সে নিশ্চিত থাকে যে অপরাধ করলে ধরা পড়বেই এবং শাস্তি হবেই, তাহলে তুলনামূলক কম শাস্তিও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। আরেকটি জটিল বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিপজ্জনক ও বিপরীত ফলও বয়ে আনতে পারে। যেমন কোনো অপরাধের শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদণ্ড, তাহলে অপরাধী অনেক সময় প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ভিকটিমকে হত্যা করার মতো আরও গুরুতর অপরাধ করতে পারে। কারণ তার কাছে তখন আর হারানোর কিছু থাকে না। তাই আইন প্রণয়ন ও শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।   গণতান্ত্রিক সমাজে আরেকটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে—যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষ কোনো কঠোর আইন চায়, তাহলে সেটি কেন সব সময় বাস্তবায়িত হয় না? এর উত্তর সহজ নয়। গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে চলে না; এটি সংবিধান, মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা সাথেও সম্পৃক্ত। অনেক সময় জনপ্রিয় আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও টেকসই আইনি প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণের উদ্বেগ বা দাবি অগ্রাহ্য করা উচিত। বরং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে, গবেষণা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধের প্রশ্নে তাই একমাত্র কোনো একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যার শিকড় রয়েছে পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, অর্থনীতি এবং মানসিকতার গভীরে। একটি শিশুর চরিত্র গড়ে ওঠে পরিবারে। যদি ছোটবেলা থেকেই তাকে অন্যের মর্যাদা, সম্মতি এবং মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি তৈরি হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক সংস্কৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সমাজে এখনও নারীর প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিদ্যমান। এই মানসিকতা পরিবর্তন না করলে আইন একা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। সামাজিক ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ অবশ্যই অপরিহার্য। একটি সমাজে যদি অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় আটক   ©️মো: আবদুর রহমান মিঞা (লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস হতে সচিবালয়ে দৌড়ঝাঁপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। গত কয়েকদিন ধরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিড় আর ফুলেল শুভেচ্ছার মাঝেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ‘একান্ত সচিব’ (পিএস) ও ‘সহকারী একান্ত সচিব’ (এপিএস) নিয়োগ নিয়ে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।   পিএস পদে নিয়োগ পেলেন যারা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ উপসচিব মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের পিএস হয়েছেন উপসচিব এ বি এম ইফতেখারুল খন্দকার। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সরিষাবাড়ীর ইউএনও তাসনিমুজ্জামান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পিএস হয়েছেন ইউএনও মো. তাছবীর হোসেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর পিএস হয়েছেন সামিউল আমিন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছেন মাহবুবুর রহমান।   এপিএস হিসেবে যাদের নাম চূড়ান্ত: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৯ জন এপিএস নিয়োগের তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এপিএস হয়েছেন মো. ইউনুস আলী। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের এপিএস হয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদের এপিএস হিসেবে মো. আকবর হোসেন এবং ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর এপিএস হিসেবে আল মুনজির বিন ওবায়েদ নিয়োগ পেয়েছেন। বিশেষভাবে আলোচিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. খাইরুল আমিন।   তদবির বনাম অনীহা— এক বিচিত্র সমীকরণ: সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পিএস হওয়ার জন্য যেমন একদল কর্মকর্তার মধ্যে জোর তদবির রয়েছে, তেমনি অন্য একটি অংশ এই পদে আসতে অনীহা দেখাচ্ছেন। তদবিরকারীদের বড় লক্ষ্য থাকে পিএস হিসেবে সফল হলে পরবর্তীতে ‘জেলা প্রশাসক’ (ডিসি) হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা। অন্যদিকে, অনেক দক্ষ কর্মকর্তা ‘রাজনৈতিক তকমা’ লেগে যাওয়ার ভয়ে পিএস হতে চাইছেন না। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে বা রাজনৈতিক পটভূমিতে কোনো রদবদল হলে এই কাজের কারণে তাদের পদোন্নতি আটকে যেতে পারে।   তবে নতুন সরকার প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদেরই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করছে। খুব দ্রুতই বাকি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস ও এপিএস নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম
সাহসী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিদায়

জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কেন্দ্রবিন্দু ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ (আইসিটি)-এর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেড় বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।   তাজুল ইসলামের দেড় বছর: এক সাহসিকতার ইতিহাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ৭ সেপ্টেম্বর আইসিটির হাল ধরেছিলেন তাজুল ইসলাম। তাঁর দেড় বছরের কর্মমেয়াদে জুলাই গণহত্যার বিচারে অভাবনীয় গতি আসে। তাঁর টিমের কঠোর পরিশ্রমে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা নিশ্চিত হয়। এছাড়া আয়নাঘর বা গুমের ঘটনায় জড়িত প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রেও তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। বিদায় বেলায় তাজুল ইসলাম বলেন, "রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক। আমি আশা করি, নতুন যিনি আসছেন তিনি বিচারপ্রার্থী ও নির্যাতিত মানুষের কথা মাথায় রেখে সুবিচার নিশ্চিত করবেন।"   কে এই আমিনুল ইসলাম? নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি এখন থেকে ‘অ্যাটর্নি জেনারেল’-এর সমান পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিদায়ী প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।   জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দায়িত্ব নিয়েই আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় আমি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পূর্ণ সহযোগিতা করব। আমার স্পষ্ট বার্তা হলো— যারা নির্দোষ তারা কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হবেন না, কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের সর্বোচ্চ সাজা পেতেই হবে।" নির্বাচিত সরকারের অধীনে বিচারকাজে আরও গতি আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের চিত্র আইসিটিতে বর্তমানে ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি মামলার বিচার সচল রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড এবং রামপুরা গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলো এখন রায়ের অপেক্ষায়। বর্তমানে ৪৫৭ জন আসামির মধ্যে ১৬১ জন গ্রেপ্তার থাকলেও ২৯৩ জন এখনো পলাতক। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা এবং বিচার কাজ শেষ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার

বিদেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এলেও তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকরা সেই সফরগুলোতে বাধা হয়ে দাঁড়ান। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।   রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট দুটি দেশের আমন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত ডিসেম্বরে কসোভোর একটি অ্যাসেম্বলিতে ‘কি-নোট পেপার’ উপস্থাপনের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।   এরপর কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে আসা একটি আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত অবাক করা এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাতারে একটি আন্তর্জাতিক সামিটে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল, যেখানে কেবল রাষ্ট্রপতিরই অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সফরটি বাতিল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নজিরবিহীন কৌশলের আশ্রয় নেয়। মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির নামে একটি চিঠির খসড়া তৈরি করে পাঠানো হয়, যেখানে লেখা ছিল— ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি ওই সামিটে অংশ নিতে পারছেন না।’   রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, এই চিঠি তৈরির আগে তাঁর সাথে কোনো পরামর্শই করা হয়নি। এমনকি তাঁকে সেই খসড়া চিঠিতে সই করার জন্য রীতিমতো চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি কি এতটাই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন যে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেতে পারবেন না?" পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রাষ্ট্রপতি সেই চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পাল্টা প্রতিবাদ জানান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আচরণকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন। তবে সেই প্রতিবাদের কোনো জবাব তিনি পাননি।   সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, তাঁকে বিদেশ সফরে যেতে না দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর নাম ও পরিচয়কে আড়াল করে রাখা। তৎকালীন সরকার চায়নি কোথাও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি থাকুক বা জনগণ তাঁর সম্পর্কে জানুক। এই সংকীর্ণ মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।   শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনই নয়, দেশের ভেতরেও তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তনে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় রেওয়াজ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে এভাবে জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাদ দেওয়া হচ্ছে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর চিফ প্রসিকিউটর পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত সরকার। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করার পর থেকে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্রমতে, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম দেশের একজন প্রথিতযশা আইনজীবী। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তাঁর আইনি দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। আইনি মহলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সর্বজনবিদিত।   একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে ইতোমধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত রবিবার আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে তাজুল ইসলামকে ডেকে পাঠান। সেই বৈঠকেই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসার বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলের আগ্রহের কথা জানানো হয়। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া যখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে প্রসিকিউশন টিমের শীর্ষে এমন রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি বিচার কাজকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করবে বলে আশা করছে সরকার। খুব দ্রুতই এই নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন: ফারুকী

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “অনেক দিন ধরেই শুনে আসছিলাম যে তারেক রহমান নাকি এখন আর জিয়াউর রহমানের ধারায় নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেখলাম, তিনি স্পষ্টভাবেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করছেন।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন তিনি। পাঠকদের পড়ার সুবিধার্থে ফারুকীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো: বেশ কিছুদিন আগে একজন আমাকে একটা ছবি পাঠায়। ছবিটার অথেনটিসিটি যাচাই করার জন্য একজনকে দেই। ছবিটা ছিল ১৯৫৩ সালে প্রভাত ফেরি শেষে মোনাজাতরত মানুষের। এর মধ্যে আজকে ফাহাম আব্দুস সালামের সৌজন্যে ওই ছবিটা টীকাসহ পাইলাম। আর গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে মোনাজাত আদায় করলেন।   অনেক দিন ধরে শুনতেছিলাম, তারেক রহমান এখন আর জিয়াউর রহমানের লাইনে নাই। আমি তো দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন।   জিয়াউর রহমানের পথটা কী? সেটা হইলো আমাদের ধর্মীয় পরিচয়-আচার-রীতি না লুকাইয়াই আমরা একটা বহু জাতি-বহু ধর্ম-বহু ভাষার মানুষের রিপাবলিক বানাইতে পারি। যেই রিপাবলিকের মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দেয়, চাইলে মোনাজাত পড়তে পারে, আবার গাইতেও পারে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো….’, যেই রিপাবলিক কারো হেজেমনিক পারপাস সার্ভ না কইরা আত্মপরিচয় গইড়া তুলতে পারে, যেই রিপাবলিকের মানুষেরা তার স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়া গৌরব করে এবং স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজন হইলে চব্বিশ ঘটাইয়া দিতে পারে।   কিন্তু এখন প্রশ্ন হইলো- কে বা কারা কোন সংকোচে এই মোনাজাতকে আমাদের কালেকটিভ মেমোরি থেকে মুছে দিতে চাইলো? এর পেছনের রাজনীতিটাই বাংলাদেশের অনেকগুলা সাংস্কৃতিক সংকটের একটা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও জুলাই সনদের যে বিষয় বাস্তবায়ন হবে না

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মোট সংগৃহীত ভোটের ৬২ শতাংশেরও বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের পথ সুগম হয়েছে।   জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল আইনপ্রণেতা হিসেবেই নন, বরং একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এই পরিষদকে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।   কী কী পরিবর্তন আসছে সংবিধানে? গণভোটের রায়ে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র নির্বাহী ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এখন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এছাড়া, এক ব্যক্তি জীবনে দুই মেয়াদের বেশি বা ১০ বছরের অধিক সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এই যুগান্তকারী প্রস্তাবেও সায় দিয়েছেন ভোটাররা।   উচ্চকক্ষ নিয়ে নতুন বিতর্ক: গণভোটের জয় সত্ত্বেও একটি বিষয়ে বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে সরাসরি বলা হয়েছে, সংসদের উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠিত হবে জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ‘ভোটের আনুপাতিক হারে’। এর বিপরীতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির ইশতেহারে বলা ছিল উচ্চকক্ষ হবে ‘আসন সংখ্যার ভিত্তিতে’।   পরিসংখ্যান বলছে, ভোটের হার বা ‘পিআর পদ্ধতি’ অনুসরণ করলে উচ্চকক্ষ ১০০ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৫২-৫৩টি এবং জামায়াত জোট ৩৮টির মতো আসন পাবে। কিন্তু আসন সংখ্যার ভিত্তিতে হলে বিএনপি জোট একাই ৭০টি আসন পাবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বিএনপির ইশতেহার সরাসরি জনগণের ভোটে পাস হয়নি, কিন্তু আনুপাতিক হারের বিষয়টি গণভোটের ব্যালটে ছিল এবং জনগণ তাতে ‘হ্যাঁ’ বলেছে। ফলে জনরায়ের প্রাধান্য কোন দিকে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।   আশা ও চ্যালেঞ্জ: যদিও বিএনপির কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল, তবুও অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে। আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারকে এই ম্যান্ডেটকে সম্মান জানাতে হবে, অন্যথায় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও বৈধতা সংকটে পড়তে পারে। ১৮০ দিনের এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে নতুন বাংলাদেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
নতুন আইজিপি হওয়ার চেষ্টায় তিনজন, পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার ও শীর্ষ পদে রদবদল। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রাক্কালে কে হচ্ছেন নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি), তা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। যদিও বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পেশাদারিত্ব ফেরাতে নতুন আইজিপি নিয়োগের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।   পুলিশের সর্বোচ্চ এই পদটি পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নতুন আইজিপি হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত ৩ জন হেভিওয়েট কর্মকর্তা এগিয়ে আছেন: ১. একেএম শহীদুর রহমান: বর্তমানে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তা বিসিএস ১২তম ব্যাচের। বরিশাল ও নোয়াখালীতে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শহীদুর রহমান ২০২৫ সালে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। তাঁর বর্তমান পদের মেয়াদ আগামী ১৫ মার্চ শেষ হতে যাচ্ছে।   ২. আলী হোসেন ফকির: এপিবিএন প্রধান হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা বিসিএস ১৫তম ব্যাচের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন।   ৩. হাসিব আজিজ: বর্তমানে সিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত হাসিব আজিজও ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ঝিনাইদহ, ফেনী ও চট্টগ্রামে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণে তিনিও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। পাশাপাশি বিশেষায়িত বাহিনী র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।   সূত্রমতে, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে পদোন্নতি বঞ্চিত ও কোণঠাসা হয়ে থাকা চার শতাধিক মেধাবী কর্মকর্তার একটি বড় অংশ নতুন সরকারের কাছে নিজেদের মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজেদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেছেন।   নতুন সরকার ও আগামীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন সৎ, সাহসী এবং 'পুলিশিং' বোঝেন এমন কর্মকর্তাকেই বাহিনীর অভিভাবক হিসেবে বেছে নিতে চান। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে নতুন আইজিপির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারেই বাজিমাত, সংসদে কুমিল্লার নতুন পাঁচ মুখ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির হেভিওয়েটদের ভিড়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন কুমিল্লার ৫ জন তরুণ ও মেধাবী নেতা। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে যে আটটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে এই ৫ জনের সরাসরি সংসদে অভিষেক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সংসদে যাওয়া কুমিল্লার সেই ৫ নতুন মুখ হলেন: ১. কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস): বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। ২. কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ৩. কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন। ৪. কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম। ৫. কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।   সবচেয়ে আলোচিত বিজয়টি এসেছে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে। ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছি। যারা আমাকে ভোট দেননি, তাদেরও মন জয় করে আমি সবার প্রতিনিধি হতে চাই। সমাজকে এমনভাবে সাজাবো যেখানে আমার কট্টর শত্রুর প্রতিও কেউ অবিচার করতে পারবে না।”   অন্যদিকে, কুমিল্লা-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি জসিম উদ্দিন এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর তাঁর এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বা তাঁদের ঘরবাড়িতে কোনো ধরণের হামলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শান্তি ও সহনশীলতাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটলে আইন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”   কুমিল্লা-২ আসনের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কুমিল্লার সমস্যার কথা তুলে ধরা। স্থানীয় ভোটারদের মনে এখন নতুন এক আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার সংসদে নতুন জোরালো ভূমিকা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই ৫ নতুনের উদ্যম কুমিল্লার ভাগ্যোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সজীব ওয়াজেদ জয়
তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে রাজি জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল বর্জন করলেও দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি (ITV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। শনিবার ভোরে প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।   সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমি এমন একজন মানুষ যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করি। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক বা প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সংলাপই আমার জীবনের মূল কৌশল।” তিনি দাবি করেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে বাইরে রেখে যে নির্বাচন হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এই নির্বাচনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় সংসদে অনেক বেশি প্রভাব অর্জন করতে পারে।   নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যে যদি টোরি বা লিবারেলদের মতো কোনো বড় দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন দেওয়া হতো, তবে সেটা যেমন হতো, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন ঠিক তেমনই। এটাকে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যায় না।” তবে আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর সাফাই গেয়ে জয় দাবি করেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে কোনো কারচুপি হয়নি, বরং বিরোধীরাই সেগুলো বর্জন করেছিল।   আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশে যে অল্পসংখ্যক পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের কড়া পাহাড়ায় চলাফেরা করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় তাদের পক্ষে প্রকৃত চিত্র দেখা সম্ভব নয়।” নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী জয় বলেন, “আমরা অবশ্যই একদিন দেশে ফিরব। দেখুন—তারেক রহমান, যিনি একসময় দণ্ডিত হয়েছিলেন, তিনি যদি আজ সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে আমাদের জন্য পরিস্থিতি চিরকাল এমন থাকবে না।” মা শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেখ হাসিনা একদিন বাংলাদেশে ফিরবেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ফেরা ‘একেবারেই নিরাপদ’ নয়।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া জয়ের এই সাক্ষাৎকারটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং অন্যদিকে বিজয়ী পক্ষের সাথে আলোচনার প্রস্তাবকে বিশ্লেষকরা এক নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ফেনীতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা
দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুর, কৃষক দল নেতাকে অব্যাহতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলার ফুলগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ‘ধানের শীষ’ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজীর মুন্সিরহাট বাজারে জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ীদের অন্তত পাঁচটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মুন্সিরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমনকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি জানিয়েছে, দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।   এদিকে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নে জয়নাল আবেদীন দুলাল নামের এক জামায়াত কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সবচেয়ে করুণ অধ্যায়টি ঘটে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিজের সন্তানের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর সইতে না পেরে স্ট্রোক করে মারা যান দুলালের মা রৌশন আরা বেগম। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   সহিংসতার ছায়া পড়েছে ছাগলনাইয়াতেও। সেখানে এক জামায়াত নেতার তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াত নেতারা অবিলম্বে এসকল হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।   ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানিয়েছেন, প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
হত্যাকাণ্ডের শিকার জসিম উদ্দিন ও বিএনপির লোগো
বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধানের শীষের সমর্থকদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।   শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। নিহত জসিম মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের ‘ফুটবল’ প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।   নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল জসিমদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা জসিম উদ্দিন, তাঁর বৃদ্ধ বাবা মাফিক নায়েব এবং দুই ভাই মোখলেস ও মহসিনকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জসিম মারা যান।   নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের একমাত্র দোষ ছিল আমরা ফুটবল প্রতীকের নির্বাচন করেছিলাম। নাসির দেওয়ান ও তাঁর ছেলে শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর এই তান্ডব চালানো হয়েছে। ওরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।” উল্লেখ্য, শাকিল দেওয়ান মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিল দেওয়ান দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং সকালে জসিমদের পক্ষ থেকেই আগে হামলা চালানো হয়েছিল। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনি দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের পর এমন সহিংসতায় পুরো চরাঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
‘জুলাই যোদ্ধা’ সায়েম উদ্দিন
ফেনীর সেই জুলাই যোদ্ধার ওপর বিএনপি নামধারীদের হামলা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফেনীর মহিপালে আওয়ামী অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অকুতোভয় লড়াই করে দেশজুড়ে আলোচিত হওয়া সেই ‘জুলাই যোদ্ধা’ সায়েম উদ্দিনের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর রাস্তার মাথা এলাকায় একদল দুষ্কৃতকারী তাঁর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।   সায়েম উদ্দিন ফেনীর আল-জামেয়াতুল মালাহিয়া কামিল মাদরাসার ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৪ আগস্ট মহিপালে যখন চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো গুলি চলছিল, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদের ওপর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর সেই সাহসিকতার দৃশ্য সে সময় নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল এবং তিনি বিপ্লবের এক প্রতীকী মুখ হয়ে উঠেছিলেন।   এনসিপি’র ফেনী-৩ আসনের এম্বাসেডর আবদুল্লাহ আল জোবায়ের জানান, রাত ৮টার দিকে সায়েমকে একা পেয়ে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে ডেকে নেয়। সেখানে তারা সায়েমকে কিল-ঘুষি, লাথি এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড আঘাত করে। সায়েমের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা মুখপরিচিত এবং তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।   ঘটনার খবর পেয়ে আবদুল্লাহ আল জোবায়ের তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে সায়েমকে উদ্ধার করেন এবং ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বীর যোদ্ধার ওপর হামলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যান্য সহযোদ্ধারা। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।   ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, "বিপ্লবের একজন আলোচিত বীরকে এভাবে মারধর করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছি এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।" বর্তমানে সায়েম ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রুবাইয়াত বিন করিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   এই বিষয়ে ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, "জেলায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে দল প্রশ্রয় দেবে না। জড়িতরা যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানিয়েছি।" দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।   বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর এমন হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জাতীয় পার্টি (জাপা)
ভারতের দ্বিতীয় দালাল জাতীয় পার্টির কবর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল রদবদল ঘটে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এক সময়ের দাপুটে রাজনৈতিক শক্তি এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারের নির্বাচনে এক চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। সারা দেশে ২০০টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি দলটি। এমনকি দলটির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর রংপুরেও ধুলোয় মিশে গেছে লাঙ্গল।   রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩০টিতেই জাপা প্রার্থী দিয়েছিল, কিন্তু কুড়িগ্রাম, নীলফামারী বা রংপুরের কোথাও তারা জয়ী হতে পারেনি। এরশাদের এই দুর্গে এবার জয়জয়কার দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের এবং নব্য রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। লাঙ্গলের চরম ভরাডুবির দিনে সাধারণ মানুষের রায় গেছে মূলত ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ‘শাপলা কলি’র বাক্সে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে মূলত জামায়াত জোটের সঙ্গে বিএনপির।   বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে জাপার ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দলটির অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। বিশেষ করে ভারতের সাথে সখ্যতা এবং জিএম কাদেরের ‘ভারতীয় দালাল’ ভাবমূর্তি ভোটারদের বিমুখ করেছে। ২০২৩ সালে দিল্লি সফর শেষে ভারতের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে না পারার মতো স্পর্শকাতর মন্তব্য জাপার রাজনৈতিক অবস্থানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।   নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ কর্তৃক ‘ব্ল্যাকমেইল’ হওয়ার দোহাই দিলেও জনগণ আর জিএম কাদেরের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল—রওশন এরশাদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের আলাদা গ্রুপ হওয়া—দলটিকে ভেতর থেকে আরও জরাজীর্ণ করে তুলেছে। চার দশকের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় সংসদ একটিও লাঙ্গল প্রতীক ছাড়াই গঠিত হতে যাচ্ছে। অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক মৃত্যু এখন এক রূঢ় বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
আলোচিত নেতাদের পরাজয়
আলোচিত নেতাদের পরাজয়

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে এক রুদ্ধশ্বাস ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। আওয়ামী আমলের ‘আমি-ডামি’ আর ‘নিশিরাতের ভোটের’ গ্লানি মুছে ভোটাররা এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়েছেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচন ছিল ‘জায়ান্ট কিলার’দের দখলে। দেশের রাজনীতির বহু হেভিওয়েট এবং আলোচিত মুখ এবারের ব্যালট যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন।   নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের পরাজয়। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার লবির কাছে মাত্র ২ হাজার ৭০২ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। কক্সবাজার-২ আসনেও হার মেনেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। একইভাবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে প্রখ্যাত আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং সিলেট-৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।   রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে লড়াই ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ। ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ তুর্কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাসের কাছে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে ‘মায়ের ডাক’-এর সানজিদা ইসলাম তুলিকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন গুম থেকে ফেরা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের ডা. খালিদুজ্জামান শক্ত লড়াই দিলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   পিরোজপুরের ফলাফল ছিল মিশ্র। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে শামীম সাঈদী পরাজিত হলেও ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে আসছেন। এদিকে, জুলাই বিপ্লবের পরিচিত মুখ সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজিত হয়েছেন। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা ডা. তাসনিম জারাও বড় ব্যবধানে হেরেছেন।   বিস্ময়কর ফলাফল দেখা গেছে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার ক্ষেত্রে। বগুড়া-২ আসনে তিনি মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্যও এই নির্বাচন ছিল বিপর্যয়কর; দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর ফয়জুল করীমসহ চরমোনাই পীরের তিন ভাইই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন এবং কেউ কেউ জামানতও হারিয়েছেন।   এছাড়াও নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফুটবলার আমিনুল হক, মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জুনায়েদ আল হাবীবের মতো আলোচিত প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে জয়ের স্বাদ পাননি। মূলত ভোটাররা এবার ব্যক্তি পরিচিতির চেয়ে দলীয় মেরুকরণ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই ব্যালট পেপারে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ চাকরিতে বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, যেভাবে যোগ দিতে পারবেন আপনিও

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১০, ২০২৬ 0