- প্রচ্ছদ
- আমেরিকা
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও সংসার চালানোর খরচ দিন দিন অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয়বহুল রাজ্যে বাড়ির দাম ও রেন্টের কারণে নতুন করে থিতু হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা, কম রেন্টে থাকা এবং স্থিতিশীল চাকরির সুযোগের কারণে আইওয়া অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মার্কিন মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যটি বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, আইওয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৫ ডলার। গত এক বছরে বাড়ির মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ১৫০ ডলার। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আবাসন খরচ। আইওয়ার রাজধানী ডেস মইনসে ২০২৬ সালের জুনে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ৮৫ ডলার।ডেভেনপোর্টে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ ডলার এবং ওয়াটারলুতে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ ডলার। অর্থাৎ বড় শহরের তুলনায় কম বাজেটে বাড়ি কেনার সুযোগ কিছু এলাকায় এখনও পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু বাড়ির দাম কম হলেই হবে না, মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের একটি ব্যয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। আবাসন ব্যয় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য, ইউটিলিটি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় তুলনামূলক কম। আরেকটি বিশ্লেষণে আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম এবং আবাসন ব্যয় ২৬ শতাংশ কম বলে হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার যদি বড় শহরের উচ্চ রেন্ট বা মর্টগেজ থেকে বেরিয়ে তুলনামূলক ছোট শহরে যেতে চায়, তাহলে মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও আইওয়ার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের একটি আবাসন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়ের তুলনায় বাড়ি কেনার সামর্থ্যের দিক থেকে আইওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসনবাজার। শুধু নতুন মর্টগেজের খরচ বিবেচনা করলে রাজ্যটি অষ্টম এবং মর্টগেজের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স ধরলে নবম সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাজ্যের অবস্থানে ছিল। তবে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাড়ির দাম তুলনামূলক কম হলেও আইওয়ায় প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা একেবারে কম নয়। ২০২৬ সালের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি বাড়ির মোট মাসিক মালিকানা ব্যয়ের গড়ে ১৯ শতাংশই প্রপার্টি ট্যাক্সের অংশ ছিল। তাই শুধু বাড়ির দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিসাব করা দরকার। চাকরির বাজারের দিক থেকেও আইওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। আইওয়া ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। জুন মাসে আইওয়ার নিয়োগকর্তারা আরও ৬০০টি চাকরি যোগ করেছেন। অর্থাৎ আইওয়া শুধু কৃষিনির্ভর রাজ্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যারা কম খরচের এলাকায় থেকে স্থিতিশীল আয় করতে চান, তাদের জন্য রাজ্যটি বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে। ছোট শহরগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধাও আলাদা। ডেস মইনসের মতো বড় শহরে কাজ ও ব্যবসার সুযোগ বেশি হলেও আশপাশের ছোট শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি ও রেন্ট আরও কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াটারলুতে ২০২৬ সালের মধ্যম রেন্ট ছিল প্রায় ৭০০ ডলার। তবে শহরভেদে রেন্ট, চাকরি এবং জীবনযাত্রার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই আইওয়া বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের আয় কত, চাকরি কোথায়, সন্তানের স্কুল কোথায়, বাড়ি কেনার পরিকল্পনা আছে কি না এবং প্রতিদিন কতটা যাতায়াত করতে হবে, এসব হিসাব করেই শহর নির্বাচন করা উচিত। যারা রিমোট জব করেন, তাদের জন্য আইওয়ার ছোট শহরগুলো আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। বড় শহরের তুলনায় কম রেন্ট বা বাড়ির দামে তুলনামূলক বড় জায়গা পাওয়া গেলে একই আয়ে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের মান, স্থানীয় সেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা আগে যাচাই করা জরুরি। আইওয়ার জীবন অবশ্য সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। শীত এখানে কঠিন হতে পারে, ছোট শহরে বড় মেট্রোপলিটন এলাকার মতো বিনোদন ও গণপরিবহনের সুবিধা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি কমিউনিটির আকারও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি বা ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহরগুলোর মতো নয়। তারপরও যারা উচ্চ রেন্ট, বাড়ির চড়া দাম ও প্রতিদিনের ব্যয়ের চাপ থেকে বের হয়ে তুলনামূলক কম খরচে পরিবার নিয়ে স্থিতিশীল জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য আইওয়া এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো একটি রাজ্য। ২০২৬ সালের আবাসন ও শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, এখানে কম খরচের সঙ্গে তুলনামূলক শক্তিশালী চাকরির বাজারও রয়েছে। তবে কম খরচ মানেই সবার জন্য বেশি সঞ্চয় নয়। কোন শহরে থাকছেন, কত আয় করছেন, বাড়ি কিনছেন নাকি রেন্টে থাকছেন এবং প্রপার্টি ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ কত, তার ওপর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আইওয়ায় যাওয়ার আগে স্থানীয় বাড়ির দাম, রেন্ট, চাকরি, স্কুল ও ট্যাক্সের হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা গর্ভবতী বোনকে মুক্ত করতে আইনজীবীর পেছনে ৩ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন কেলি ওকাম্পো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ দিয়ে বোনকে ডিটেনশন থেকে বের করা তো সম্ভব হয়নি, বরং তিনি দাবি করছেন, পুরো ঘটনাটিই ছিল একটি প্রতারণা। বোনকে ডিটেনশন থেকে মুক্ত করার আশায় কেলি একজন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি ৩ হাজার ডলার পরিশোধ করেন। তার আশা ছিল, আইনজীবী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার গর্ভবতী বোনকে দ্রুত মুক্ত করতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। অর্থ দেওয়ার পরও তার বোন ডিটেনশনেই থেকে যান। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে কেলি বুঝতে পারেন, তিনি যে আইনি সহায়তার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কেলি বলেন, “এটা ছিল প্রতারণা।” ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডিটেনশনে থাকা স্বজনকে দ্রুত মুক্ত করার আশায় পরিবারগুলো অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে আইনজীবীর সন্ধান করে এবং বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করে। তবে কোনো আইনজীবীকে অর্থ দেওয়ার আগে তার লাইসেন্স, পরিচয়, আইনজীবী হিসেবে কাজের অনুমোদন এবং দেওয়া আইনি সেবার শর্ত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি ও রসিদ রাখাও প্রয়োজন। কেলি ওকাম্পোর ঘটনায় ঠিক কীভাবে প্রতারণাটি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে এ ঘটনায় কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
ফ্লোরিডার ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিতে গাড়ি চালানোর সময় স্বামীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তার কানের একটি অংশ কামড়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে ৪৩ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় গাড়িতে তাদের ৭ বছর ও ১ বছর বয়সী দুই সন্তানও ছিল। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় নর্থবাউন্ড আই-৯৫ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন অ্যামি আরলিন বেকার ও তার স্বামী। তারা একটি বোট পার্টি থেকে ফিরছিলেন। পথে তাদের মধ্যে সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তর্ক শুরু হয়। তদন্তকারীদের কাছে বেকারের স্বামী অভিযোগ করেন, তর্কের সময় বেকার তার মুখে আঘাত করেন। এরপর তার মাথা ধরে কানে কামড় দেন এবং কানের একটি অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তিনি গাড়ি চালিয়ে ওয়েস্ট বোকা মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানে বেকারও কানে কামড় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, তিনি ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন’। এমনকি ছিঁড়ে যাওয়া কানের অংশটিও তিনি সংগ্রহ করে চিকিৎসাকর্মীদের হাতে দেন। তবে বেকারের দাবি, প্রথমে তার স্বামীই তাকে আঘাত করেছিলেন। তার স্বামী এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ৭ বছর এবং অন্যজনের মাত্র ১ বছর। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের এক ট্রুপার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বেকারকেই ঘটনার প্রধান হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ সময় তার স্বামী কানের অংশ পুনরায় জোড়া লাগানোর জন্য অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ছিলেন। বেকারের বিরুদ্ধে শারীরিক ক্ষতিসহ অ্যাগ্রাভেটেড ব্যাটারি এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতি না ঘটিয়ে শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর ফ্লোরিডার ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে বেকারকে ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি মেইন জেলে নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ট্রাম্পের এই দাবির তাৎক্ষণিক ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এক্সে থাকা ভারতের হায়দ্রাবাদস্থ ইরানি কনস্যুলেটের সরকারি অ্যাকাউন্ট ‘ইরান ইন হায়দ্রাবাদ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র পোস্ট করা হয়। কলম্বিয়া ওয়ান নিউজ এর তথ্যমতে, সেখানে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যকে নীল রঙে চিহ্নিত করে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে: ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’। পাশাপাশি ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও এক্সে ট্রাম্পের পোস্টের কড়া সমালোচনা করে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার এই ভ্রান্ত ধারণা শিগগিরই সংশোধন করা হবে, অন্যথায় ইরান নিজেরাই এই ‘ভ্রান্ত ধারণাগ্রস্ত’ লোকটির ভুল ভেঙে দেবে। ইরানের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্নিয়াকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি নেহাত কাকতালীয় নয়। ক্যালিফোর্নিয়া, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকাটি ইরানের বাইরে ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। ইউসিএলএ-এর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ পরিচালিত ইরানি ডায়াসপোরা ড্যাশবোর্ডের তথ্য উদ্ধৃত করে তুর্কিয়ে টুডে জানিয়েছে, শুধু লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতেই প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি আমেরিকান বসবাস করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি সম্প্রদায়ের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকাটি ইরানিদের জীবনের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, যা স্থানীয়ভাবে “তেহরানজেলেস” নামে বেশি পরিচিত। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এই অভিনব মানচিত্র-বিতর্ক সামনে এল। যুদ্ধ বন্ধ এবং বৃহত্তর একটি চুক্তির পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু চুক্তিটির বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে। এদিকে, এই কৌশলগত জলপথে নৌচলাচলের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি
নিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার। নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে। এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন। তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে। ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। আগামী বছর অঙ্গরাজ্য আইনসভায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি। টেক্সাসে সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৩৪০ জনের বেশি এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী রয়েছেন ডালাস ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বা ডালাস আইএসডিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৭১ জন এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী কাজ করছেন। এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন এমন পেশায় বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুযোগ দেয়। শিক্ষা খাতেও স্থানীয়ভাবে যোগ্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে পারে। ডালাস আইএসডি জানিয়েছে, তারা মূলত যেসব পদে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক পাওয়া কঠিন, সেসব পদ পূরণে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ইংরেজি-স্প্যানিশ দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডালাস আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষকদেরও টেক্সাসের নির্ধারিত শিক্ষক সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ এই ভিসায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের স্থানীয় শিক্ষকদের মতোই নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। তবে গভর্নর অ্যাবটের প্রস্তাবের পেছনে শুধু শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নয়, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তিনি টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে বিদেশি সরকার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপহার ও অর্থায়নের ওপরও আরও কঠোর বিধিনিষেধ চান। অ্যাবটের উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্কুলে স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এইচ-১বি নিয়োগ বন্ধ হলে শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে টেক্সাসে দ্বিভাষিক শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া অনেক স্কুলের জন্য ইতিমধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হলে এসব শূন্য পদ পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে। এইচ-১বি নিয়োগ নিয়ে অ্যাবটের অবস্থানও নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি টেক্সাসের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সংস্থা ও সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন এইচ-১বি আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সরকারি স্কুলগুলোতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আগামী বছর টেক্সাস আইনসভায় এটি উত্থাপনের পর আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে সরকারি স্কুলে বিদেশি শিক্ষক ও অন্যান্য এইচ-১বি কর্মীদের ভবিষ্যৎ। ফলে টেক্সাসে একদিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এইচ-১বি কর্মসূচি।
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি পেতে আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে এসেছে বেশ কিছু নতুন সুযোগ। বিশেষ করে যারা প্রথমবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটিতে পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধা চালু হয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেটের একটি বিশেষ নিয়োগ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পদে কোনো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন চাকরিপ্রার্থী এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া প্রবাসীদের জন্য সরকারি চাকরির পথ আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সিটি প্রশাসনের প্রশাসনিক সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একটি নতুন স্থানীয় আইনের আওতায় ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় আবেদনকারী এবং নিউইয়র্ক সিটির হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ যোগ্য আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য আর ফি দিতে হচ্ছে না। তবে পরীক্ষার ফি মওকুফ হওয়ার অর্থ এই নয় যে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে হবে না। নিউইয়র্ক সিটির অধিকাংশ সিভিল সার্ভিস পদে এখনো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্ক স্টেটের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি হলো এনওয়াই হেল্পস বা নিউইয়র্ক হায়ারিং ফর ইমার্জেন্সি লিমিটেড প্লেসমেন্ট স্টেটওয়াইড কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রয়োজন না থাকলেও আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হবে। ২০২৬ সালে এই কর্মসূচির আওতায় প্রশাসনিক সহকারী, অফিস সহকারী, মোটর ভেহিকল প্রতিনিধি এবং এ ধরনের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেটের একটি প্রশাসনিক সহকারী পদে বছরে ৪০ হাজার ৩৯১ ডলার থেকে ৫৮ হাজার ৪৪৭ ডলার পর্যন্ত বেতনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পদটি বিশেষ নিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত ছিল। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির তালিকায় স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টের মতো পদও রয়েছে। ২০২৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদের পরীক্ষার জন্য ১ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট পদের পরীক্ষা ২০ অক্টোবর এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদের পরীক্ষা ২২ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের জন্য ন্যূনতম বেতন বছরে ৪৮ হাজার ৭১৯ ডলার। এই চাকরিতে ট্রাফিক ও পার্কিং আইন কার্যকর করা, লঙ্ঘনের নোটিশ দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক শুনানি বা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো দায়িত্ব থাকে। চাকরিটিতে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করতে হতে পারে এবং বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন কর্মীর চাকরিও দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে এটিকে পরীক্ষা ছাড়াই সহজে পাওয়া যায় এমন চাকরি বলা ঠিক হবে না। এই পদে প্রথমে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, মেডিকেল পরীক্ষা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়। স্যানিটেশন কর্মীর প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৪৭ হাজার ৭৫২ ডলার। পাঁচ বছর ছয় মাস চাকরি করার পর বেতন ৯৫ হাজার ৩১৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, পেনশন এবং অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই চাকরির জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডির পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেটের ক্লাস এ বা বি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হয়। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির বা এমটিএর ট্রানজিট ক্লিনার পদও তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। এমটিএর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, বৈধভাবে কাজের অনুমতি যাচাই, মাদক পরীক্ষা এবং মেডিকেল পরীক্ষাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের মেইল ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন পদও নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য সম্ভাব্য সরকারি চাকরির সুযোগ তৈরি করে। এটি সিটি বা স্টেটের চাকরি নয়, ফেডারেল সরকারের চাকরি। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, মাদক পরীক্ষা ও মেডিকেল যাচাইয়ের মতো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপ রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অতিরিক্ত যোগ্যতাও প্রয়োজন হতে পারে। তবে ২০২৬ সালে নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য একটি পদকে সবচেয়ে সহজ বলা যাবে না। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, শারীরিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলের ওপর। যারা নিউইয়র্কে নতুন করে সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য প্রথমেই নিউইয়র্ক স্টেটের পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের পদগুলো খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির নতুন পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধাও কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম যোগ্যতা, আবেদনের শেষ তারিখ এবং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আছে। ২০১৭ সালে এমা রেন গিবসন নামে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয় এমন একটি ভ্রূণ থেকে, যা জন্মের আগে প্রায় ২৪ বছর ফ্রোজেন অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভ্রূণটি যখন ফ্রোজেন করা হয়, তখন এমার মা টিনা গিবসনের বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। এমার জন্ম হয় ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর। তার মা টিনা ও বাবা বেঞ্জামিন গিবসন পূর্ব টেনেসিয়ায় বসবাস করতেন। এমার জন্মের সময় তার ওজন ছিল প্রায় ৬ পাউন্ড ৮ আউন্স এবং দৈর্ঘ্য ছিল ২০ ইঞ্চি। এমার গল্পের শুরু অবশ্য ২০১৭ সালে নয়। ভ্রূণটি ১৯৯২ সালের ১৪ অক্টোবর তৈরি হওয়ার পর ক্রায়োপ্রিজারভেশনের মাধ্যমে ফ্রোজেন করে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, টিনা গিবসন যখন পৃথিবীতে মাত্র দেড় বছরের শিশু, তখনই ভবিষ্যতের এই সন্তানটির ভ্রূণ ল্যাবে সংরক্ষিত হয়ে যায়। বহু বছর পর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন টিনা ও বেঞ্জামিন। তারা টেনেসির নক্সভিলের ন্যাশনাল এমব্রিও ডোনেশন সেন্টারের মাধ্যমে একটি দান করা ভ্রূণ গ্রহণ করেন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আইভিএফের মাধ্যমে তৈরি এবং অন্য দম্পতির অব্যবহৃত ভ্রূণ অন্য পরিবারকে গর্ভধারণের জন্য দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের মার্চে ভ্রূণটি গলিয়ে টিনার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক মাসের গর্ভাবস্থার পর নভেম্বর মাসে জন্ম নেয় এমা। তখন এটি দীর্ঘ সময় ফ্রোজেন থাকা কোনো মানব ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আলোচিত হয়। ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল সময়ের হিসাব। এমার ভ্রূণটি ১৯৯২ সালে ফ্রোজেন হয়েছিল, অথচ তার মা টিনা জন্মেছিলেন ১৯৯১ সালে। অর্থাৎ, মা যখন শৈশবে, তখনই ভবিষ্যৎ মেয়ের ভ্রূণ একটি ল্যাবে ফ্রোজেন অবস্থায় অপেক্ষা করছিল। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভ্রূণ কত বছর ফ্রোজেন ছিল, সেটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ভ্রূণ গলানোর পর সেটি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়ে সফল গর্ভধারণ ও জন্মের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এমার সুস্থ জন্ম সেই প্রক্রিয়ার সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছিল। এমার জন্মের কয়েক বছর পর অবশ্য এই রেকর্ড আরও দীর্ঘ হয়। ২০২০ সালে একই পরিবারের আরেকটি শিশু, মলি গিবসন, এমন একটি ভ্রূণ থেকে জন্ম নেয় যা প্রায় ২৭ বছর ফ্রোজেন ছিল। মলির জন্মের মাধ্যমে এমার সেই সময়কার রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। তবু এমা গিবসনের গল্পটি বিশেষ হয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সময়ের ব্যবধানের কারণে। ১৯৯২ সালে ফ্রোজেন হওয়া একটি ক্ষুদ্র ভ্রূণ দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করে ২০১৭ সালে একটি সুস্থ শিশুর জন্মের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখে। আর সেই শিশুকে পৃথিবীতে আনেন এমন একজন মা, যিনি নিজেই ভ্রূণটি ফ্রোজেন হওয়ার সময় ছিলেন মাত্র এক বছরের শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি। বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত। এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ন্ত্রণে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের ভিসা, প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছু ব্যবস্থাকেও নতুন নাগরিকত্ব নীতির আওতায় আনা হয়েছে। নতুন নির্বাহী আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সরকারি স্বীকৃতি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে এমন শিশুদের কথা বলা হয়েছে, যাদের কোনো অভিভাবকই মার্কিন নাগরিক নন এবং যাদের বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মী, অথবা সন্তানের জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। বাণিজ্যিক সারোগেসির ব্যবস্থাও এই তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়াকে বেছে নেন, তাহলে তাঁর ভিসা বাতিল, প্রবেশে বাধা বা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় বার্থ ট্যুরিজমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সেই দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকদের বার্থ ট্যুরিজমে বড় অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। একই শুনানিতে একজন সাক্ষী চীনকে সবচেয়ে বড় এবং ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বার্থ ট্যুরিজম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই। ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা থাকলেও সংগঠিত বার্থ ট্যুরিজম ব্যবসার বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে চীন ও রাশিয়ার ধনী গ্রাহকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও এ ধরনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ৬ আগস্টের আদেশটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প যে বিস্তৃত নির্বাহী আদেশে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি আরও বড় পরিসরের ছিল। ওই আগের উদ্যোগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার রায়ে ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিধানকে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আদালতের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে। এর কয়েক সপ্তাহ পর নতুন নির্বাহী আদেশ দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করেছে। এর মধ্যে বার্থ ট্যুরিজম ও বাণিজ্যিক সারোগেসি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি পরিবারের জন্য ভিসা যাচাই আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য গোপন করলে তা ভিসা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর আগে থেকেই মার্কিন ভিসা নীতিতে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মার্কিন প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের ফলে বার্থ ট্যুরিজমকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাসপাতাল বুকিং, বাসস্থান, ভিসা পরামর্শ এবং অন্যান্য সেবা দেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সরকারি নথি পাওয়ার বিষয়েও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা, ফেডারেল আইন এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি নজরে রাখার মতো। বিশেষ করে যারা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, সন্তান জন্মদান বা সারোগেসির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভিসার শর্ত এবং বর্তমান মার্কিন অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বাস্তবে নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজু করার সুবিধা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডালাস এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনের দাবি, তাদের একজন রিপোর্টার গোপন অনুসন্ধানের সময় বিমানবন্দরের দুই কর্মীর কাছে মুসলিমদের নামাজের আগে ওজু করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা সম্পর্কে জানতে চাইলে, দুই কর্মীই আলাদাভাবে সাধারণ শৌচাগারের বেসিনে পা ধোয়ার পরামর্শ দেন। ওজু হলো নামাজের আগে মুসলিমদের পবিত্রতা অর্জনের একটি ধর্মীয় প্রক্রিয়া। এতে মুখ, হাত, মাথা ও পা ধোয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু ধাপ রয়েছে। বিমানবন্দরের মতো দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে হয় এমন জায়গায় মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা ধর্মীয় অনুশীলন সহজ করতে পারে। ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের একজন রিপোর্টার গোপনে বিমানবন্দরের কর্মীদের কাছে ওজু করার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় দুই কর্মী পৃথকভাবে তাঁকে সাধারণ শৌচাগারের বেসিন ব্যবহারের কথা জানান। প্রতিবেদনে ওই কর্মীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ওজুর সুবিধা একেবারে নতুন কোনো বিষয় নয়। বিমানবন্দরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডির আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষের পাশে আগে থেকেই দুটি ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রার্থনাকক্ষটি নতুন জায়গায় স্থানান্তরের সময় এই সুবিধা যুক্ত করা হয়। বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে আন্তধর্মীয় প্রার্থনার স্থানও রয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় টার্মিনাল ডিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ওজুর ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে। প্রকল্পের নথিতে প্রায় ৩ লাখ ডলারের সংস্কারকাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারীদের দুটি বিদ্যমান শৌচাগারে আলাদা ওজুর ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা ছিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে টেক্সাসে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিমানবন্দরগুলোর অর্থায়ন ও এ ধরনের সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ওজুর ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরের আগের নথিতে দেখা যায়, মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ২০১৯ সালেই আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষের পাশে ওজুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রার্থনাকক্ষ ও ধর্মীয় সুবিধাগুলো বিভিন্ন ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে। ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কর্মীদের সাধারণ বেসিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিমানবন্দরে ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্পর্কে কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না। বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিএফডব্লিউতে পাঁচটি টার্মিনালজুড়ে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীসেবা ও সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষও অন্তর্ভুক্ত। তবে ওজু করার জন্য সাধারণ শৌচাগারের বেসিন ব্যবহারের বিষয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান নীতিমালা সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে আলাদা কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে দুই কর্মী রিপোর্টারকে কী কারণে সাধারণ বেসিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত নির্দেশনা ছিল নাকি বিমানবন্দরের প্রচলিত নিয়মের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই চূড়ান্ত অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে চার ধরনের ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তর বা আইআরএস। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনে যেসব ব্যক্তি এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য নন, তারা করদাতাদের অর্থে দেওয়া এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাবেন না। ১৯ আগস্ট ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস যৌথভাবে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধার ফেরত দেওয়া অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে স্পষ্টভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় পড়বে চার ধরনের কর সুবিধা। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণ কর সুবিধা, শিশু কর সুবিধা, আমেরিকান সুযোগ কর সুবিধা এবং অর্জিত আয় কর সুবিধা। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে করদাতাকে ফেডারেল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা আইনে নির্ধারিত যোগ্য বিদেশি হতে হবে। যোগ্য বিদেশিদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং আইনে নির্ধারিত আরও কিছু শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। করদাতাকে নিজের ট্যাক্স রিটার্নে শপথভঙ্গের শাস্তির বিধান মাথায় রেখে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য। যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা আলাদা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা যোগ্য বিদেশি হলেই সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ হবে। তবে প্রস্তাবিত নিয়মের অর্থ এই নয় যে যোগ্য নন এমন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার কোনো অংশই দাবি করতে পারবেন না। যে অংশটি সরাসরি আয়করের দায় কমাতে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সেটি দাবি করা যেতে পারে। মূলত করের দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে যে অর্থ করদাতাকে ফেরত দেওয়া হয়, নতুন নিয়মে সেই অংশটিকেই সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল আইনে যাদের এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার অনুমতি নেই, তাদের কাছে করদাতাদের অর্থে দেওয়া সুবিধা পৌঁছানো ঠেকানো। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইন অনুযায়ী যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের হাতে করদাতাদের অর্থ যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেন, ফেরতযোগ্য কর সুবিধা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিন পরিবার এবং কর্মজীবীদের আর্থিক সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব সুবিধা কেবল আইনগতভাবে যোগ্য করদাতাদের জন্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি করব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত এবং প্রকাশ্য শুনানির অনুরোধ গ্রহণ করবে। নিয়ম চূড়ান্ত হলে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের তারিখে বা তার পরে শেষ হওয়া কর বছরের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার খরচ কমাতে ডলার স্টোর থেকে খাবার কিনছেন। কিন্তু এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক একটি চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় ডলার স্টোরের আশপাশে বসবাস এবং স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড ক্যাম্পাসের গবেষকেরা ২০২৬ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ডলার স্টোর ও প্রচলিত মুদি দোকানের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যানসহ গবেষক দল ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৫০০ সিটি প্রকল্পের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবহার করেন। গবেষণায় বিশেষভাবে দেখা হয়েছে, কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ডলার স্টোর বা প্রচলিত মুদি দোকানে পৌঁছাতে কতটা সহজ। এ জন্য ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে দোকানগুলোর অবস্থান ও আশপাশের জনগোষ্ঠীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি আয়, বেকারত্বসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত মুদি দোকানের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রতিকূল স্বাস্থ্য ফলাফলের তুলনামূলক কম সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ডলার স্টোরের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বিভিন্ন অঞ্চলে বজায় ছিল। তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকেরা ডলার স্টোরের খাবারকে এসব রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। গবেষণাটি মূলত বিভিন্ন এলাকার খাবারের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ডলার স্টোর বেশি থাকার কারণেই সেখানকার মানুষ স্থূলতা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষক রায়ান ব্রুয়েলম্যানের মতে, মূল সমস্যা খাবারের দাম নয়, বরং কী ধরনের খাবার মানুষ সহজে কিনতে পারছেন সেটি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার কম দামে বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় এ ধরনের খাবারের প্রাপ্যতা বেশি হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত মুদি দোকান ও ডলার স্টোরের খাবারের ধরনে পার্থক্য রয়েছে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক ডলার স্টোরে তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও হালকা খাবারের উপস্থিতি বেশি হওয়ার বিষয়টি আগের গবেষণাগুলোতেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও ডলার স্টোর থেকে কেনা খাবার অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কেনা খাবারের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম স্বাস্থ্যকর বলে দেখা যায়। তবে সেই গবেষণায় এটাও দেখা হয়েছিল যে ডলার স্টোরে বেশি কেনাকাটা করা পরিবারগুলো অন্য জায়গা থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য কিছুটা পূরণ করতে পারে। অন্যদিকে, কম আয়ের পরিবারের জন্য ডলার স্টোরের গুরুত্বও গবেষকেরা উপেক্ষা করেননি। এসব দোকানে খাবারের দাম তুলনামূলক কম এবং অনেক এলাকায় এগুলো সহজে পৌঁছানো যায়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় কম আয়ের ডলার স্টোর ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী দাম ও সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেই তারা এসব দোকানে কেনাকাটা করেন। তবে তাদের অনেকেই ডলার স্টোরে আরও বেশি ফল, শাকসবজি ও উন্নতমানের প্রোটিনজাত খাবার চান। এই বাস্তবতার কারণে গবেষকেরা ডলার স্টোর কমিয়ে দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং এসব দোকানেই স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ফল ও সবজি বিক্রি, স্থানীয় কৃষক বাজার বা খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার এবং ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করার মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানী শাই বিষ্ণুমোহনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, মানুষ সাধারণত নিজের বাজেট, সময় ও আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগ বিবেচনা করেই খাবার বেছে নেন। তাই মানুষ কোথা থেকে কেনাকাটা করছেন, সেটিকে দায়ী করার বদলে সাশ্রয়ী দামে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরকে খাবারের দোকান হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রচলিত সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় সাধারণ পণ্য বিক্রির দোকান হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে খাদ্য পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে এগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস বোঝার ক্ষেত্রে ডলার স্টোরের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী খাবার ও জনস্বাস্থ্যের মধ্যে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কম দামের খাবার মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও সেই খাবার কতটা পুষ্টিকর, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারকে শুধু বড় সুপারমার্কেটেই নয়, কম আয়ের মানুষ যেসব দোকানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন, সেখানেও সহজলভ্য করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির সংকট কাটাতে নতুন নির্মাণ বাড়ানো প্রয়োজন হলেও উল্টো কমছে বাড়ি তৈরির গতি। জুলাইয়ে একক পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণের হার আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৮ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে বলে মার্কিন জনগণনা ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে কম পর্যায়ের হার। একক পরিবারের বাড়িই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন নির্মাণের সবচেয়ে বড় অংশ। ফলে এই খাতে এমন পতন আবাসন সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই মাসে অ্যাপার্টমেন্টসহ সব ধরনের নতুন আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ শুরুর হারও কমেছে বলে সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে রয়েছে বাড়ি কেনার ঋণের উচ্চ সুদ। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজারে প্রবেশ না করে অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী, শ্রম ও জমির ব্যয়ও বেশি থাকায় নির্মাতাদের জন্য কম দামে নতুন বাড়ি বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। জাতীয় আবাসন নির্মাতা সমিতি বা এনএএইচবির সাম্প্রতিক তথ্যও একই ধরনের চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগস্টে নতুন একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে নির্মাতাদের আস্থা এক পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ হয়েছে। তবে সূচকটি ৫০-এর নিচে থাকায় সামগ্রিকভাবে নির্মাতাদের বড় অংশ এখনো বাজার পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। আগস্ট ছিল টানা ১৬তম মাস, যখন এই সূচক ৪০-এর নিচে রয়েছে। জুলাইয়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচক ছিল ৩৪। তখন বর্তমান বিক্রয় পরিস্থিতির সূচক ৩৭, আগামী ছয় মাসের বিক্রয় প্রত্যাশা ৪৩ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের যাতায়াতের সূচক ছিল মাত্র ২৩। অর্থাৎ বাড়ি কিনতে আগ্রহী মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাড়ির দামও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। জাতীয় পর্যায়ে বাড়ির দাম উচ্চ অবস্থানে থাকায় কম সুদের ঋণের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেক ক্রেতা। ফলে একদিকে বাড়ির প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে বর্তমান দামে অনেক পরিবারের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর দেশটির আবাসন নির্মাণ খাত বড় ধাক্কা খায়। বহু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করে, কর্মীরা খাতটি ছেড়ে যান এবং নতুন প্রকল্পে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সুদের হার ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ার পর বাড়ি কেনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। কিন্তু তখনও বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি ছিল না। সীমিত সরবরাহের বিপরীতে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। মহামারির পর নির্মাণ কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখনো কাটেনি। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। আবাসন সংকটের আকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব ভিন্ন হলেও, পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাব যে বাজারের বড় সমস্যা, তা নিয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। অন্যদিকে নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। দেশে বাড়ির ঘাটতি থাকলেও ক্রেতারা বর্তমান দামে পর্যাপ্ত বাড়ি কিনতে পারছেন না। ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে বিক্রি না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে নির্মাতারা নতুন প্রকল্প শুরু করার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে পড়ছেন। এনএএইচবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ৩৭ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছিলেন। গড়ে দাম কমানোর হার ছিল ৬ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩ শতাংশ নির্মাতা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের বিক্রয় সুবিধা বা প্রণোদনা দিয়েছেন। আগস্টেও নির্মাতাদের মধ্যে এই চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওওয়েন্স বলেন, উচ্চ নির্মাণ ব্যয় ও আবাসনের সামর্থ্যসংক্রান্ত চাপ নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উচ্চ বন্ধকি ঋণের হার সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাজারের বাইরে রাখছে, আর নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে বাড়ি তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠছে। তবে পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। জুলাইয়ে আবাসিক ভবনের নির্মাণ অনুমোদনের হার বেড়েছে। জনগণনা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মোট নির্মাণ অনুমোদন বার্ষিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে উঠেছে। একক পরিবারের বাড়ির অনুমোদনও বেড়েছে। অর্থাৎ নির্মাতাদের একটি অংশ ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে এখনো পুরোপুরি আশাহত হননি। এখানে নির্মাণ অনুমোদন এবং নির্মাণ শুরু হওয়ার মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে এমন নয়। ফলে অনুমোদন বাড়লেও প্রকৃত নির্মাণ শুরু হতে সময় লাগতে পারে। আবাসন বাজারের এই চাপ শুধু বাড়ি নির্মাতা বা ক্রেতাদের বিষয় নয়। নতুন বাড়ির সরবরাহ কম থাকলে পুরোনো বাড়ির বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। আবার বাড়ির দাম দীর্ঘদিন উচ্চ থাকলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। বিশেষ করে তরুণ পরিবার ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার সামর্থ্য এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, বাড়ির মূল্য এবং মাসিক কিস্তি সব মিলিয়ে বাড়ি কেনার মোট খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার এখন এক ধরনের বৈপরীত্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বাড়ির ঘাটতি পূরণ করতে আরও নির্মাণ প্রয়োজন, অন্যদিকে উচ্চ সুদ ও নির্মাণ ব্যয়ের কারণে নির্মাতারা নতুন প্রকল্পে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ক্রেতাদের সামর্থ্য না বাড়লে শুধু নির্মাণ বাড়ালেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। আগামী মাসগুলোতে বন্ধকি ঋণের সুদ, নির্মাণসামগ্রীর দাম, বাড়ির বিক্রি এবং নির্মাতাদের আস্থার সূচক আবাসন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের দুর্বল নির্মাণের পরও নির্মাণ অনুমোদনের কিছুটা উন্নতি বাজারে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের আশা ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ, বর্জ্যপানি, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনাগারে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ), এফবিআই, এনএসএ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সতর্কতার ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে সিমেন্সের এস৭ সিরিজের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক কারখানা ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সিমেন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা সতর্কতাতেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাদের এস৭ পিএলসি চলমান সাইবার হুমকি অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাইয়ের হালনাগাদ সতর্কতায় এস৭-১২০০ পিএলসিকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সিমেন্স জানিয়েছে, তাদের শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এ হুমকির মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি। সতর্কতায় বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত থাকা এমন পিএলসি খুঁজছে, যেগুলো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অথবা যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া গেলে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট শিল্প নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে আরও গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করে না। এগুলো বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কোনো সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করা গেলে পানি শোধনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এই সতর্কতার মূল লক্ষ্য পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকদের। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো প্রযুক্তি, ভুলভাবে কনফিগার করা যন্ত্র এবং সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা এবং অনেক পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এখনো ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবস্থা আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে। সিআইএসএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত পিএলসি বিচ্ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার হালনাগাদ করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। সিমেন্সও গ্রাহকদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ারওয়ালসহ অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে সিমেন্সের কয়েকটি এস৭-সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২০২৬ সালেও একাধিক সতর্কতা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির রাউটার ও স্মার্ট ডিভাইসে শক্তিশালী আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করা উচিত। এ ছাড়া অচেনা ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনে দেওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য দেখতে বার্তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য হামলা ও প্রস্তুতি শনাক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সিআইএসএ ও অন্যান্য সংস্থার সতর্কতার পাশাপাশি সিমেন্সও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না। বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান। বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়। এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা। বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে। লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে। বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে। লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি পুলিশ হেলিকপ্টার ও ছোট একটি বিমানের মধ্যে মাঝ আকাশে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কার্লাইল বিমানবন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (এফএএ) ও জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটি তদন্ত করছে। এফএএর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিটে কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির কার্লাইল বিমানবন্দরের কাছে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশের একটি বেল ৪০৭ হেলিকপ্টারের সঙ্গে একটি সেসনা ১৫০ ছোট বিমানের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর উভয় উড়োজাহাজই বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। পুলিশের হেলিকপ্টারে দুইজন আরোহী ছিলেন বলে এফএ জানিয়েছে। তবে ছোট বিমানটিতে ঠিক কতজন ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা বিভাগের বিপুলসংখ্যক যান পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে একটি মাঠের মধ্যে পুলিশ হেলিকপ্টারটিকে কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আশপাশে ছড়িয়ে ছিল উড়োজাহাজের বিভিন্ন অংশ ও ধ্বংসাবশেষ। উদ্ধারকারী ও তদন্তকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাট্রিক ব্রাউন ও লয়েড স্লাসার নামের দুই স্থানীয় বাসিন্দা একটি বেড়া টপকে মাঠে গিয়ে সহায়তার চেষ্টা করেন। তারা পুলিশ হেলিকপ্টারের ভেতরে দুইজন এবং ছোট বিমানটিতে একজনকে দেখেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান। তবে আরোহীদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দুর্ঘটনার আগে পুলিশ হেলিকপ্টারটি তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ছিল এবং বিমানবন্দরের কাছে কয়েকটি কৌশলগত উড্ডয়ন অনুশীলন করছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের উড্ডয়ন ও অনুশীলন অস্বাভাবিক নয়। তবে এসব কর্মকাণ্ডই সংঘর্ষের কারণ ছিল কি না, তা এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্ঘটনায় জড়িতদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। ঘটনাস্থলে একজন কাউন্টি করোনারকেও ডাকা হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পরপরই কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে থাকা দুইজনের পরিচয় এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কার্লাইল শহরটি পেনসিলভেনিয়ার রাজধানী হ্যারিসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কার্লাইল বিমানবন্দরটি স্থানীয় উড্ডয়ন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনাটি বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সক্ষম হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। উভয় উড়োজাহাজের গতিপথ, উচ্চতা, আবহাওয়া, বিমানবন্দরের কার্যক্রম এবং পাইলটদের যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এফএএ ও এনটিএসবি তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের সঠিক কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। এ ধরনের তদন্তে সাধারণত ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট উড্ডয়ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজ দুটির আরোহী এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। এটি একটি চলমান ঘটনা। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ বা হতাহতের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে ঘিরে বড় ধরনের প্রবাসী মিলনমেলা। বাংলাদেশ-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, লাইভ সংগীত, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন ধরনের গেমস, র্যাফেল ড্র এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। রোববার, ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার-০০এ১-এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। এর ঠিকানা ৮৯৯৯ ফোর্ট হান্ট রোড, আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া ২২৩০৮। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা ছাড়াও ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেটের বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকরা জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো নকীব খান এই অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। তার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। তার গান বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজবানির মূল আকর্ষণ থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরের দিকে মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, পারিবারিক মিলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন। আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়া জানান, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে কেন্দ্র করে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংযোগ তৈরি করতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আয়োজক শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবান সফল করতে আগের দিন থেকেই খাবার প্রস্তুতি ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনাও থাকবে। মেজবানি ও সংগীতের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ র্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি হিরের আংটি। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪কে টেলিভিশন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গেমসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ ফ্যাশন শোরও আয়োজন থাকছে।সারাহ, দিশা ও স্মিতার নাম ফ্যাশন শোর অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পুট দ্য মাস্ট্যাশ অন আঙ্কেল স্যাম’ নামে একটি বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। এটি এনায়েত খান ও আবু রুমি আয়োজন করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেজবানকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, পুরো দিনটিকে পরিবার ও কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরাও এবারের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। মেজবানের খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রচারপত্রে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে রিজার্ভেশন করা যাবে। জেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ প্রদানের জন্য baitpodc@gmail.com ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়ার ফোন নম্বর ৭০৩-৩৩২-৫৯৫৮ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের পাউন্ড রিজে প্রকৃতির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকা একটি ব্যতিক্রমী ‘মিরর হাউস’ ১৫ মিলিয়ন ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। কাঁচ, স্টেইনলেস স্টিল ও জিংক-কোটেড কপারের প্রতিফলনশীল বহিরাবরণের কারণে বাড়িটি চারপাশের গাছপালা, আকাশ ও পাথুরে ভূদৃশ্যকে প্রতিফলিত করে। ফলে দূর থেকে দেখলে বাড়িটির সীমানা আলাদা করে বোঝা কঠিন। ৪,৪৮৫ বর্গফুটের এই বাড়িটি প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। চার শয়নকক্ষের বাড়িটি নকশা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কিয়েরানটিম্বারলেক। বাড়িটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর স্থাপনাটির দৃশ্যমান প্রভাব যতটা সম্ভব কম থাকে। বাড়িটির বাইরের অংশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিফলনশীল উপকরণ ব্যবহারের কারণে দিনের আলো, আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এর চেহারাও বদলে যায়। বিশেষ করে পালিশ করা স্টেইনলেস স্টিলের প্যানেলগুলো বাড়ির কোণগুলোকে এমনভাবে প্রতিফলিত করে যে স্থাপনাটির প্রান্ত অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যায়। বাড়িটির ভেতরেও রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টম কাঠের কাজ, একটি আধুনিক রান্নাঘর, ২ হাজার ৪০০ বোতল ধারণক্ষমতার ওয়াইন সেলার, হোম থিয়েটার এবং বড় কাচের দেয়াল। রয়েছে জিওথার্মাল হিটিং ও কুলিং ব্যবস্থা এবং ট্রিপল-পেন জানালা। স্থাপনাটি নির্মাণের সময় জমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। বড় পাথুরে গঠন ও ভূপ্রকৃতির মধ্যে বাড়ির দুটি অংশ স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি কাচঘেরা ব্রিজ দিয়ে সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে। স্থাপত্যবিষয়ক প্রকাশনা আর্কিটেকচারাল রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটি নির্মাণে প্রাকৃতিক পাথুরে ভূখণ্ডকে যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা হয়েছিল। বাড়িটির মালিক মাইকেল ও ওলগা কাগান ২০০৯ সালে ৩৩ একর জমি কিনেছিলেন। পরে জমির একটি অংশ বিক্রি এবং ১০ একর সংরক্ষণ কাজে দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৯ দশমিক ৫ একর জমিতে বাড়িটি গড়ে তোলা হয়। স্থাপনাটি ২০১৪ সালে সম্পন্ন হয়। এখন ১৫ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুল আবাসন হিসেবেই নয়, প্রকৃতি ও আধুনিক স্থাপত্যের ব্যতিক্রমী সমন্বয় হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। পাউন্ড রিজের বনভূমির মধ্যে প্রতিফলিত এই বাড়িটি যেন আশপাশের প্রকৃতির অংশ হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ২৭ অঙ্গরাজ্যে এই ছত্রাকের ৩ হাজার ৪৩৭টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। একই সময়ে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২৯০টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ক্যান্ডিডা অরিস মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছড়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা কিংবা জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র, কেন্দ্রীয় শিরায় ক্যাথেটার বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্র ব্যবহার করা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র ও নার্সিংহোমের বাসিন্দারাও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দেশটিতে প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল কেসের সংখ্যা বেড়েছে। সিডিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৮৮২টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২৮ এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৯৭-এ পৌঁছায়। তবে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসাবেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি কেস শনাক্ত হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৮৭৩টি কেস পাওয়া যায়। এরপর টেক্সাসে ৪৩৩ এবং টেনেসিতে ২৮৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ক্যান্ডিডা অরিসের অনেক ধরন প্রচলিত ছত্রাকনাশক ওষুধে প্রতিরোধী। সিডিসির জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্যান্ডিডা অরিস নমুনা ফ্লুকোনাজল নামের বহুল ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় ইকাইনোক্যান্ডিন শ্রেণির ওষুধকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইকাইনোক্যান্ডিন প্রতিরোধী এবং একাধিক শ্রেণির ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিছু ধরনও শনাক্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত হলেই যে ব্যক্তি অসুস্থ, এমন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরে ছত্রাকটির উপস্থিতি কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকাকে ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, ছত্রাকটি ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে থাকতে পারে, কিন্তু তখনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা তৈরি নাও করতে পারে। সিডিসি বলছে, ক্যান্ডিডা অরিসের ক্লিনিক্যাল সংক্রমণের উপসর্গ নির্দিষ্ট নয়। শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে এবং সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তে ছত্রাক পাওয়া সাধারণত আক্রমণাত্মক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৩ হাজার ৫০৭টি ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তীব্র চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল এবং দীর্ঘমেয়াদি তীব্র চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর মতো নয়। বরং আক্রান্ত বা ছত্রাক বহনকারী ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শ এবং দূষিত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা পৃষ্ঠের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। হাসপাতালের বিছানার রেলিং, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছত্রাকটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। এ কারণে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। বরং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্রের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্ডিডা অরিস মোকাবিলায় তাই দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চঝুঁকির রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করলে শরীরে ছত্রাকটি থাকা অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সিডিসির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাত পরিষ্কার রাখা, ক্যান্ডিডা অরিসের বিরুদ্ধে কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্পর্শভিত্তিক সতর্কতা এবং রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সময় তার ক্যান্ডিডা অরিসের অবস্থার তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডিডা অরিসের শনাক্তকরণ আরও বাড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো এখন আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা ও নজরদারি হচ্ছে। ফলে কেসের সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলও হতে পারে। সিডিসিও জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং স্ক্রিনিং বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিডিসির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ক্যান্ডিডা অরিসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই উচ্চঝুঁকির রোগীদের শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।