আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আংশিকভাবে পুনরায় চালু অ্যাসাইলাম - কারা পাবেন সুযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় এসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর দেশটি আবার সীমিত পরিসরে কিছু আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নিউজ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   এর আগে, গত নভেম্বরে এক আফগান অভিবাসীর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁদের মধ্যে একজন পরে মারা যান। এই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রায় সব অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়।   ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন শুধুমাত্র যেসব দেশকে “কম ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেসব দেশের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সীমিত আকারে আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে প্রতিটি আবেদনকারীকেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং অতীত ইতিহাস (ব্যাকগ্রাউন্ড চেক) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।   যদিও কোন কোন দেশ এই “কম ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আওতায় আছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে স্থগিত রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মূলত স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য—যেমন পারিবারিক বা চাকরিভিত্তিক ভিসা। তবে এটি অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, কারণ আশ্রয় একটি আলাদা আইনি ব্যবস্থা।   বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম আবেদন বর্তমানে গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো দেশ যদি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে, তাহলে সেই দেশের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে বাংলাদেশ এই তালিকায় পড়বে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ওই হামলার ঘটনার পর প্রশাসন আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে এবং আরও কঠোর অভিবাসন নীতি চালু করে। এর ফলে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আরও কিছু দেশকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা দেশগুলোর আবেদনকারীরা আবার আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর থাকবে এবং অনুমোদন পাওয়া এখনও কঠিন হতে পারে।   এছাড়া, নতুন নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকাকালে তাঁদের কাজের সুযোগেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগও জোরদার করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সংবিধান-প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা বাতিলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে 'ট্রাম্প বনাম বারবারা' মামলার শুনানি ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন তার এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ করেছে। যদি আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের নয়, বরং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়বে—যা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ১৪১৬০ স্বাক্ষর করেন, যার নাম 'আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করা'। এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসা, শিক্ষাভিসাধারী, ডিএসিএ সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, শুধুমাত্র নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানরাই 'যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন'; অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসীদের সন্তানরা নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সংবিধানের সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন না।   এই পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হওয়ার আগের সময়ের সঙ্গে। ১৮৫৭ সালের 'ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে কৃষ্ণাঙ্গরা নাগরিক নয়। পরবর্তীতে ১৮৬৬ সালের সিনেট বিতর্ক এবং ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক' মামলার রায়ে নিশ্চিত করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল মানুষই নাগরিক। ট্রাম্পের বর্তমান প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এক ধরনের শ্রেণিভেদ তৈরি হতে পারে, যেখানে নাগরিকত্ব জন্মস্থানের বদলে বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।   ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে 'আপনার কাগজপত্র দেখান' ধরনের পরিস্থিতি এবং জাতিগত প্রোফাইলিং বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। মিনেসোটা ও ফ্লোরিডায় বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভুলবশত আটক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ১ এপ্রিল সেসিলিয়া ওয়াং সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তিনি এবং তার সংগঠন সংবিধান রক্ষার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন যুগের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা সন্দেহ, নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে তরুণ দম্পতির মৃত্যু

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । নিউ ইয়র্কের কুইন্সে এক অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ ও তার ১৮ বছর বয়সী প্রেমিকার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করছে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে জ্যাকসন হাইটস এলাকার ৮৪তম স্ট্রিট ও ৩৪তম অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তর্ক-বিতর্কের শব্দ শোনা যায়। এরপর একাধিক গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের এক সদস্য ও পাশের বাসিন্দা ৯১১-এ ফোন করেন।   ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তরুণীকে মাথা, বুক ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত অবস্থায় পায়। তার প্রেমিকের মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়, এবং তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরুণটি প্রথমে তার প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করে, এরপর নিজেই আত্মহত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।   এখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মেডিকেল এক্সামিনার ময়নাতদন্ত করবেন। এ ঘটনায় এর আগে ওই দম্পতির মধ্যে কোনো বিরোধের অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সিনেটর জেসিকা রামোস বলেন, গার্হস্থ্য সহিংসতা বাস্তব এবং অনেক সময় তা এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছে যায়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
৪ ডলারের গণ্ডি পাড়, জ্বালানির দামে নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ট্রিপল এ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার পেট্রোলের গড় দাম ৫ সেন্ট বেড়ে এখন ৪.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে একদিনে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ উল্লম্ফন। ২০২২ সালের পর এই প্রথম তেলের দাম ৪ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। গত এক সপ্তাহে দামের সামান্য উঠানামা থাকলেও এখন তা স্থিতিশীলভাবে ঊর্ধ্বমুখী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গ্যালন প্রতি দাম বেড়েছে ১.০৮ ডলার।  বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৫ সালের হারিকেন ক্যাটরিনা কিংবা ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়ও এক মাসে এতো দ্রুত দাম বাড়তে দেখা যায়নি। মূলত ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হতে পারে, তবুও ইরানের পক্ষ থেকে  দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের প্রস্তুতির আভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা কাটছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুদ্ধ কি শেষ হচ্ছে? জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের ভাষণে নতুন যে বার্তা আসছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত কি তবে এসেই গেল? ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ঘিরে যখন যুদ্ধের অবসানের গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাওয়া গেল এক ভিন্ন ইঙ্গিত।  মঙ্গলবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ট্রাম্প সম্ভবত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে অন্য কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছেন না। বরং যুদ্ধের সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই ভাষণের মূল সুর হতে পারে 'সাময়িক কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি'। তিনি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করবেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা জানাবেন। তবে তার যুক্তির কেন্দ্রে থাকছে একটিই লক্ষ্য—একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখে দেওয়া। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।  সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশ কম এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিংও নিম্নমুখী। এমতাবস্থায়, আমেরিকান জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তিনি এই ভাষণকে ব্যবহার করতে চাইছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না পেয়ে কয়েকটি দেশের ওপর খেপেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি।   অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে।   যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান।   উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ন্যাটোর সাথে কি সম্পর্ক ছিন্ন করছে যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।  ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পাইলটদের ঘাঁটিতে বিধ্বংসী হামলা ইরানের, একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণীয় এক আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জন মার্কিন পাইলট এবং ফাইটার জেট ক্রুদের আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।  তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনার ওপর তাদের অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী অভিযান। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানে একটি মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্রমাগত এই হামলার মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ব্যারাক ও ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধক্ষেত্রে গতি আনতে ড্রোন মার্কেটপ্লেস চালু করছে মার্কিন সেনাবাহিনী

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়তে থাকায় সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই প্রকল্পে অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ইউনিট অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস এবং আর্মি এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করছে। ‘ইউএএস মার্কেটপ্লেস’ নামে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, সরকারি অংশীদার এবং মিত্রদেশগুলো সহজেই ড্রোন প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারবে।   প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা যাচাইকৃত ড্রোন সিস্টেমগুলোর তুলনা করতে পারবেন, সরাসরি অর্ডার দিতে পারবেন এবং ব্যবহারের পর মতামত ও রেটিং প্রদান করতে পারবেন—যা অনেকটা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতার মতো।   মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।   সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম সংগ্রহ–বিষয়ক প্রধান ব্রেন্ট ইনগ্রাম বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশের বাধা কমিয়ে উদ্ভাবকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে, যাতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।   এ ছাড়া ইউএএস প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্নেল ড্যানিয়েল মেদাগ্লিয়া জানান, এই প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে সেনারা তাদের মিশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত পাবে।   সাধারণত নতুন সামরিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বাজেট অনুমোদনের ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নতুন এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু ড্রোন সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করবে না, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি
ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ চেষ্টায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়: ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৩৩ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   মেয়র মামদানি বলেন, একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই টেকসই সমাধান আনতে পারে না। তিনি এই যুদ্ধকে ‘নিরর্থক’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।   তার মতে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের যুদ্ধনীতি অতীতেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এমন ব্যয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   তিনি উল্লেখ করেন, এই বিপুল অর্থ যদি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হতো, তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিক্ষাঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু যুদ্ধনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন এগোচ্ছিল, তা প্রায় অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার পতনের ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী অভিযান শেষ করবে বলে তিনি আশাবাদী। বক্তব্যে ট্রাম্প কেবল ইরান নয়, নিজের মিত্র দেশগুলোর প্রতিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে নিজেদের তেল সংগ্রহের দায়িত্ব এখন তাদেরই নিতে হবে; যুক্তরাষ্ট্র আর এ কাজে কাউকে পাহারাদার হিসেবে সাহায্য করবে না। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে এক বৈঠকের পর পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের এই ঝটিকা সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসতে যাচ্ছে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে বড় ফাঁক শনাক্ত, ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকসহ বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ভিসা স্ক্রিনিং বা আবেদনকারী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ‘নিরাপত্তা ঘাটতি’ ধরা পড়ার পর, ভিসা প্রদানের নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তাদের বর্তমান স্ক্রিনিং পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তা বন্ধ করতে নতুন ও আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যালোচনায় দেখেছে যে, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঠিক তথ্য বা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে ফুটে ওঠে না। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বনকারী যেন ভিসা না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের ওপর এর প্রভাব: ১. তীব্র যাচাই-বাছাই: এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। ২. সময় বৃদ্ধি: স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণে ভিসা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩. সাক্ষাৎকারে গুরুত্ব: কনস্যুলার অফিসাররা এখন থেকে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য ও নথিপত্র নিয়ে আরও খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম কঠোর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে আবেদনকারীদের উচিত হবে সব তথ্য সততার সাথে প্রদান করা এবং কোনো ধরনের ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার না করা। তথ্যের সামান্য অমিল বা অসংগতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মজীবী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদেরও এখন থেকে আরও সতর্কতার সাথে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব শীঘ্রই এই স্ক্রিনিং আপগ্রেড নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
বোমা দিয়েই হবে আলোচনা, মিত্রদের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ হেগসেথের

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং মিত্রদেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এখন আর কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়।  হেগসেথের মতে, ইরানের ভেতরে প্রভাবশালী কোনো পক্ষের সাথে আমেরিকার যোগাযোগ চলছে এবং সেই আলোচনা বর্তমানে বেশ সক্রিয় ও বাস্তবমুখী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শর্ত মেনে ইরান যদি চুক্তিতে আসতে চায়, তবেই কেবল ওয়াশিংটন নমনীয় হবে। অন্যথায় হেগসেথের কঠোর হুঁশিয়ারি— “আমরা এখন থেকে বোমার মাধ্যমেই সমঝোতা করব।” হেগসেথ কেবল ইরানের ওপরই নয়, বরং আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদেশগুলোর ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি কেন এখনো হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, আমেরিকা যেখানে সারা বিশ্বের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধে নেমেছে, সেখানে ন্যাটো (NATO) মিত্রদের এমন অনীহা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন সেনা বা 'বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড' মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে বাগে আনতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৯ বার সতর্কবার্তা উপেক্ষা: নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ট্রাক-বিমান সংঘর্ষে চাঞ্চল্যকর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে সূত্রে থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার আগে অন্তত নয়বার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট যানবাহনটি থামেনি।   ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি নিয়মিত অবতরণ প্রক্রিয়ার সময়। কানাডার মন্ট্রিয়াল থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমান রানওয়েতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় জরুরি কাজে একটি অগ্নিনির্বাপক গাড়িকে রানওয়েতে প্রবেশের অনুমতি দেয় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।   তবে অনুমতি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বুঝতে পারে যে দ্রুতগতিতে একটি বিমান অবতরণ করছে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরপরই গাড়িটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া শুরু হয়।   তদন্তে উঠে এসেছে, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অন্তত নয়বার থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক গাড়ির চালক সময়মতো সাড়া দিতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, যোগাযোগ বিভ্রাট, শব্দজনিত সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ব্যর্থতা ঘটে।   এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উচ্চগতিতে অবতরণরত বিমানটির পক্ষে সামনে থাকা গাড়িটিকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সরাসরি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বিমানের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুই পাইলট নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কর্মী।   তদন্তকারীরা বলছেন, এটি কোনো একক ভুলের ফল নয়; বরং একাধিক ত্রুটির সম্মিলনে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অনুমতি দেওয়ার পরপরই বারবার থামার নির্দেশ দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পাশাপাশি চালকের প্রতিক্রিয়ায় বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও বড় ভূমিকা রেখেছে।   এই দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলটকে তরুণ ও দক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মৃত্যু বিমান চলাচল খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। ইতোমধ্যে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কথোপকথন বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন’, ক্ষেপে আগুন ট্রাম্প

ধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনে মিত্রদেশগুলোকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যের হয়ে লড়াই করবে না; বরং প্রতিটি দেশকে এখন থেকে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদেরই ভূমিকা নিতে হবে। ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্রগুলোর উচিত এখন সাহস সঞ্চয় করা। তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশগুলোর উচিত নিজেরাই প্রণালিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে নেওয়া। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভের সুর ছিল স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের লড়াই নিজেদেরই লড়তে শিখতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে একা ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে সেখানে থাকবে না—যেমন তোমরা আমাদের জন্য ছিলে না।" মূলত ইরানবিরোধী অভিযানে যেসব দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য করেই এই কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, "ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ এরই মধ্যে শেষ।" পোস্টের একদম শেষে তিনি মিত্রদের প্রতি চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে লেখেন, "নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন!" ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব: ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে ফেড, ঝুঁকিতে মার্কিন অর্থনীতি

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের নীতি অনুসরণ করছেন।   হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উপস্থাপনায় পাওয়েল বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রভাবে ইরান, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে—তা দেখার জন্য সময় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের নীতিগত অবস্থান এমন জায়গায় রয়েছে, যা আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিচ্ছে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, তেলের দামের মতো আকস্মিক ধাক্কা সাধারণত সময়ের সঙ্গে অর্থনীতিতে শোষিত হয় এবং নীতিনির্ধারকেরা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ফেডের দুই প্রধান লক্ষ্য—পূর্ণ কর্মসংস্থান ও মূল্য স্থিতিশীলতা—চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পাওয়েল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে এই মাসের শুরুতে দুই দিনের নীতি বৈঠক শেষে ফেড তার ওভারনাইট বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে আহ্বান জানাতে পারেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট।   রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিভিট বলেন, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ভাগাভাগি করার ধারণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বক্তব্য আসতে পারে।   এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে এই ব্যয় বহনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট আগ্রহী হতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পেনকে তোপ: আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধে ক্ষোভ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।   আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তখনই আমরা দেখেছি, ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেন আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, এমনকি তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে না। এটি দেখে তারা গর্বও করছে।   রুবিও আরও উল্লেখ করেন, কিছু দেশ একই আচরণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এর ফল কী হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন চাকরির বাজারে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-এর শ্রমবাজারে। এক বছরের স্থবিরতার পর বাজারে যে সামান্য স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছিল, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।   ইরান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার করেছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি আসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে পারে।   বর্তমানে শ্রমবাজারে একটি ‘অপেক্ষমাণ’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়োগ কম হলেও বড় আকারে ছাঁটাইও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের প্রথমার্ধে চাকরি বৃদ্ধির হার সীমিত থাকবে এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও মূল্যস্ফীতি হ্রাস, সুদের হার কমানো এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছরে শ্রমবাজারে উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল।   তবে নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ‘স্থিতিশীল হলেও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আল্টিমেটাম: ‘ভয়াবহ পরিণাম’ নিয়ে ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পর যেকোনো মূল্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, এটি হয় ইরানের সম্মতিতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ইরানে ওয়াশিংটনের সামরিক লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সেগুলো অর্জনে মাসের পর মাস নয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিযান শেষেও যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে দেশটিকে এর ‘ভয়াবহ পরিণাম’ ভোগ করতে হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রণালি সচল করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাইডেন-ট্রাম্পের উত্তরসূরি প্রশাসন।   সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল এককভাবে নয় বরং আন্তর্জাতিক মিত্রদের নিয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তেহরানের প্রতি এই কঠোর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে চলমান সামরিক উত্তজনা ও মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান নিয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। হাশেম আহেলবাররার সঙ্গে আলাপকালে রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, তেহরান বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই পারমাণবিক শক্তির মালিক হতে চায়, যার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নেবে না।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশটির তৈরি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কেবল পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই নয়, বরং সব ধরনের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং ‘সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।   সাক্ষাৎকারে রুবিও ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটি একটি চূড়ান্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানকে তাদের সামরিক সক্ষমতা সংকোচনের জন্য সরাসরি চাপ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0