যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এক স্কুল বাস ড্রাইভার লটারিতে ৫০ লাখ ডলার জিতে রাতারাতি আলোচনায় এসেছেন। সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তির নাম মরিস উইলিয়ামস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বাস চালকের কাজ করছেন। স্থানীয় লটারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মরিস একটি সেভেন ইলেভেন দোকানে থেমে আগের একটি লটারিতে জেতা ৫০ ডলারের পুরস্কার ভাঙান। পরে সেই অর্থ দিয়েই তিনি আরেকটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারির টিকিট কেনেন। গাড়িতে বসে টিকিটটি পরীক্ষা করার সময় প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি জ্যাকপট জিতেছেন। পরে টিকিট স্ক্যান করার পর দেখা যায়, সেটিই ছিল ৫০ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কারজয়ী টিকিট। মরিস বলেন, “প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। স্ক্যান করার পর দেখি মিলেছে ৫৯ নম্বর, আর মজার বিষয় হলো কয়েকদিন আগেই আমার বয়স ৫৯ বছর হয়েছে।” বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের খবরটি তিনি প্রথমে তার মাকে জানান। মরিসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা তাকে শান্ত থাকতে বলেন এবং এই আনন্দের মুহূর্তে পাশে থাকেন। পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিস জানান, সবার আগে তিনি তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি কিনতে চান। এছাড়া বাকি অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করবেন। এদিকে, বিজয়ী টিকিট বিক্রি করার কারণে সেভেন-ইলেভেন দোকানটিও ৫ হাজার ডলারের বিশেষ বোনাস পাবে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মরিসের মায়ের জন্য বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেরিতে ট্যাক্স ফাইল করা বা সময়মতো কর জমা দিতে না পারায় জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করা লাখো আমেরিকান এখন রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। “Kwong v. United States” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ফেডারেল ক্লেইমস রায় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে আইনি বিধান রয়েছে, তা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। আদালতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এই রায়ের ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেরিতে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বা সময়মতো কর পরিশোধ করতে না পারায় যাদের কাছ থেকে জরিমানা ও সুদ আদায় করা হয়েছিল, তারা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমেরিকান হয়তো না জেনেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা পরিশোধ করেছেন। মহামারির সময় চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে বহু মানুষ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করতে পারেননি। আদালতের এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইআরএস এখন পর্যন্ত সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ঘোষণা করেনি। ফলে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য রিফান্ড পেতে আগ্রহীদের নিজেদের ট্যাক্স রেকর্ড পর্যালোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন বা রিফান্ড দাবি জমা দিতে হবে। এছাড়া রিফান্ড দাবির সময়সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই যারা কোভিড সময়ের ট্যাক্স জরিমানা বা সুদ পরিশোধ করেছিলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জর্জিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর শেখ রহমানের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। গতকাল জর্জিয়ার রোডস জর্ডান পার্কে অনুষ্ঠিত “Early Vote & BBQ” অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভোটার ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন শেখ রহমান। তিনি আগাম ভোটদানের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি কমিউনিটির ঐক্য ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। শেখ রহমান বর্তমানে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন তিনি। এবারও তিনি স্টেট সিনেটর পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শেখ রহমানের ভাই ইকবাল, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কমিউনিটির ঐক্য ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, শেখ রহমানের মতো একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকের জর্জিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচনেও তিনি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে আবাসন নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিজনেস অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপ’ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা আফসানা আনজুম। শনিবার রাতে ইটন টাউনের শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারের ১৪তম গালা অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আফসানা আনজুম নিউজার্সিভিত্তিক নির্মাণ ও পরিবেশগত পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ‘তাহশিন কনস্ট্রাকশন’-এর মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি থেকে সিসা ও অ্যাসবেস্টস অপসারণ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তাহশিন কনস্ট্রাকশন বর্তমানে নিউজার্সির ১৫টি অনুমোদিত সংস্থার জন্য সিসা দূষণ অপসারণ ও পুনর্বাসনের কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গরাজ্য অনুমোদিত অ্যাসবেস্টস অপসারণকারী ঠিকাদার এবং ‘লেড ইন্সপেক্টর’ হিসেবেও স্বীকৃত। আটলান্টিক কাউন্টিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আফসানা আনজুম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। হারিকেন স্যান্ডির পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের উন্নয়ন ও বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলাতেও তার সক্রিয় ভূমিকার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নিউজার্সির সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিম্যানদের পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ মানপত্র প্রদান করা হয়। আফসানা আনজুম বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রিধারী এবং চার সন্তানের জননী। তার স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাউথ জার্সির বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন, নিরাপদ আবাসন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন। তার এই অর্জনে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন অনন্যা চন্দ জেসি। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেক হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অনন্যা মিশিগানপ্রবাসী বিশ্বেশ্বর চন্দ ও শেলী শীল দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা। তার এই সাফল্যের খবরে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনন্যা জানান, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রি-মেড’ বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই অর্জন তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনন্যা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান। শিক্ষাজীবনে অনন্যা একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘ন্যাশনাল অনার সোসাইটি’র সভাপতি এবং ‘অ্যাকাডেমিক গেমস’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি মিশিগান মেডিসিনের অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিচ বোর্ড এবং ‘ওমেন অব বাংলাটাউন ইউথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মেধার স্বীকৃতি হিসেবে অনন্যা ‘পালাজো স্ট্রজি’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারের আওতায় ইতালিতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তবে সব সুযোগের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও মেন্টরদের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বলেন, তাদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনন্যার বার্তা, “কখনো নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে না। মনে রাখবে, সাময়িক ব্যর্থতাও ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।”
পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি এক এলাকা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি সামরিক স্থাপনা মনে হতে পারে। কিন্তু সেই বিশাল কংক্রিট আর গ্রানাইটের দেয়ালের ভেতরেই নাকি লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বর্ণভান্ডারের একটি—প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ। এই রহস্যময় জায়গাটির নাম ফোর্ট নক্স। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোপন ভল্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গল্প, রহস্য আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কেউ বলেন, সেখানে এখনও হাজার হাজার টন খাঁটি স্বর্ণ সযত্নে রাখা আছে। আবার কেউ দাবি করেন, বহু আগেই সেই ভল্ট খালি হয়ে গেছে—কিন্তু সত্য জানে কেবল হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ। সম্প্রতি আবারও আলোচনায় আসে ফোর্ট নক্স, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই সেখানে গিয়ে দেখতে চান সত্যিই স্বর্ণগুলো এখনও আছে কি না। শুনতে যেন হলিউডের কোনো থ্রিলার সিনেমা। কিন্তু বাস্তবের ফোর্ট নক্স তার চেয়েও রহস্যময়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোরগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। বিশাল স্টিলের দরজা, বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দেয়াল, চারপাশে সেনাবাহিনীর কড়া পাহারা এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে ঘেরা পুরো এলাকা। বলা হয়, ভল্টের দরজার পাসওয়ার্ডও কোনো এক ব্যক্তি পুরোটা জানেন না—বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা কর্মকর্তার কাছে থাকে। ফোর্ট নক্স সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ। এমনকি বহু মার্কিন রাজনীতিকও কখনও এর ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাননি। ইতিহাসে মাত্র কয়েকবার সাংবাদিক ও বিশেষ অতিথিদের সীমিতভাবে ভল্ট দেখানো হয়েছিল। এরপর থেকেই রহস্য আরও গভীর হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে সংরক্ষিত স্বর্ণ শুধু ধন-সম্পদ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি, বৈশ্বিক প্রভাব এবং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান সম্পদও এখানে নিরাপদে রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সত্যিই কি সেই ভল্ট এখনও সোনায় ভরা? নাকি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ভবনের ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অজানা সত্য? রহস্যের উত্তর আজও পুরোপুরি জানা যায়নি। আর সেই কারণেই ফোর্ট নক্স এখনও বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক গোপন ভল্টগুলোর একটি।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এনওয়াইপিডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” বলে দাবি করলেও, সিটি প্রশাসন বলছে এটি পুলিশ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা হলেন এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন জেমস উইলসন।তিনি ব্রুকলিনের ৯৪তম প্রিসিঙ্কটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে মেয়র মামদানিকে “an embarrassment” বা “লজ্জাজনক” বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে তিনি নিউইয়র্কের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এনওয়াইপিডি প্রশাসন তাকে ব্রঙ্কসে অবস্থিত ৯১১ কল সেন্টারে বদলি করে। এনওয়াইপিডির নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল নেতারা ক্যাপ্টেন উইলসনের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করায় তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান অরিওলা বলেন, “যদি একই ধরনের মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা হতো, তাহলে হয়তো তাকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু মেয়র মামদানির সমালোচনা করায় এখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তারা এটিকে “দুই ধরনের নিয়ম” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন—একটি কট্টর বামপন্থীদের জন্য, আরেকটি অন্যদের জন্য। অন্যদিকে মেয়র মামদানি দাবি করেছেন, ক্যাপ্টেন উইলসনের বদলির সিদ্ধান্তে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ এনওয়াইপিডির প্রশাসনিক বিষয়।” তবে বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিনহাজ চৌধুরী। আগামী ৪ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় মিনহাজ চৌধুরী স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ছোট ব্যবসায় সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কমিউনিটি সেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া রাস্তা সংস্কার, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং সামাজিক কর্মসূচি ও পার্ক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। তার প্রচারণার মূল স্লোগান হচ্ছে— “Vision. Dedication. Results. Unified, We Create Change.” মিনহাজ চৌধুরী বলেন, তিনি এমন একটি অগ্রসর ও উদ্ভাবনী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান যেখানে স্থানীয় ব্যবসা, অবকাঠামো ও কমিউনিটির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রবাসীরা বলছেন, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি প্রবাহে দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে আমদানির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০১ শতাংশে। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এনবিআরের তথ্য বলছে, মোট আমদানির বড় অংশ এসেছে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মিলিয়ে মোট আমদানির প্রায় ৩৮ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। চুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার এবং আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মোস্ট ফেভারড নেশন শুল্ক বহাল রয়েছে। ইউএসটিআর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনে। আমদানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এলএনজি, এলপিজি, গম, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন কাঁচামাল। মোট আমদানির ৮৩ শতাংশই এসেছে ১০টি প্রধান পণ্য থেকে। পেট্রোবাংলা একাই এলএনজি আমদানি করেছে ৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার। খাদ্য অধিদপ্তর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার গম আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা গেছে। এ ছাড়া তুলা আমদানি ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তির কারণে জ্বালানি, খাদ্যশস্য ও শিল্প কাঁচামালের আমদানি কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, চুক্তির কাঠামো আমদানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাণিজ্য শর্ত এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও কাঁচামাল খাতে।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজার্সি–এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। শনিবার, ৯ মে নিউজার্সির কল্টস নেক শহরে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে রঙিন পোশাক, বাংলা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারসহ অংশ নিয়ে বৈশাখী আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ফায়জুর রহমান সাবু। তিনি বলেন, প্রবাসে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। প্রবাসে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রীনা আমানুল্লাহ, ডা. ফারুক আজম, শামীমা হোসেন লিপি, মেহের নিগার, শামীম, নাজনীন হোসেইন, মারুফ আলম, ডা. বিল্লা এবং ডা. মনোয়ার হোসেন। আয়োজনে একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন কমিউনিটি নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে ডা. লুসি হোসেনকেও তাঁর অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী শিল্পীরা। বাংলা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিতে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। শিশুদের পরিবেশনা বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এই ধরনের আয়োজন কেবল উৎসব নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বিখ্যাত Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে। কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। আয়োজকরা বলছেন, ফোবানার ৪০তম আয়োজনকে স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী করতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ফোবানা আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরা, উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করা এবং মূলধারার আমেরিকান সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রকাশিত বিভিন্ন কমিটি ও প্রস্তুতি কার্যক্রম থেকে জানা গেছে, এবারের কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, স্কলারশিপ ও শিক্ষা কার্যক্রম, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সেশন, কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় সভা, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শনী, বাংলাদেশি খাবারের ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ, মিডিয়া ও কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম, আইনি ও কমিউনিটি সহায়তা বিষয়ক আলোচনা এবং ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম। এছাড়াও ফোবানা কনভেনশন উপলক্ষে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা, প্রস্তুতি সভা এবং কমিটি গঠনের কাজও চলছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এবারের কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশিষ্ট অতিথি, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেবেন। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি মোয়াজ্জেম চৌধুরীসহ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে আরও বৃহৎ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হলিউড, ইউনিভার্সাল স্টুডিও এবং ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বের বিনোদন রাজধানী হিসেবে পরিচিত লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এবারের ফোবানা সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ। সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বাড়ছে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ। নিউইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। ভালো বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, সম্মানজনক পেশা এবং কমিউনিটির সেবার সুযোগ থাকায় অনেকের এ পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ অফিসার হতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ পুলিশ বিভাগে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা কিছু ক্ষেত্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হওয়ার শর্ত থাকে। আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা GED থাকতে হয় এবং অনেক বিভাগ কলেজ শিক্ষাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে। পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে হলে প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক বিভাগে পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষাও নেওয়া হয়ে থাকে। নির্বাচিত প্রার্থীদের পরে পাঠানো হয় পুলিশ একাডেমিতে। সেখানে কয়েক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে আইন, অস্ত্র পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আত্মরক্ষামূলক কৌশল এবং কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। একাডেমি শেষে নতুন কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ অফিসারের সঙ্গে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা ভাষা জানা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক বিরোধ বা কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রমে বাংলাদেশি অফিসারদের উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বেতন ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকেও পেশাটি আকর্ষণীয়। অঙ্গরাজ্য ও বিভাগের ভিত্তিতে একজন পুলিশ অফিসারের বার্ষিক আয় সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য পরিষ্কার ব্যক্তিগত রেকর্ড, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। আগামী ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে তাকে। শনিবার (৯ মে) ফিফার পক্ষ থেকে এই তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সঞ্জয়ের জন্ম ঢাকায় হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে বেশ পরিচিত। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্জয় ছাড়াও মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, টরন্টোর এই অনুষ্ঠানটি কানাডার স্বকীয়তা ও বিশ্বকাপের উন্মাদনার এক অনন্য প্রতিফলন হবে। এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং ফুটবল ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফিকেও এক নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও ১২ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে কানাডা। টরন্টোতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি শুরুর আগেই এই জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য স্টেডিয়ামের গেট ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।50920266105
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য ‘ঈদ আনন্দমেলা ২০২৬’। মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে BWI এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত Clarion Hotel BWI Airport Arundel Mills-এর মিলনায়তনে। ঠিকানা: 7253 Parkway Drive, Hanover, MD 21076 এবারের ঈদ আনন্দমেলাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আয়োজকদের পক্ষে মোহাম্মদ কাজল বলেন, ঈদ উৎসব, বাংলা নববর্ষ এবং বাংলা সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে থাকছে নানা আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ঈদ উদযাপন, বাংলা নববর্ষের আমেজ, পান্তা-ইলিশ পরিবেশন, নৃত্য পরিবেশনা এবং লাইভ কনসার্ট। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগের জন্য এটি একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন তিনি। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিথি আনোয়ার। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন শাহনাজ বেলী, মাহিন সুজন, রাজীব, নোয়েল এবং শোয়েব থমাসসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে চ্যানেল আই, এমকে টিভি এবং আমেরিকা বাংলা। আয়োজকরা মনে করছেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে মোহাম্মদ কাজলের সঙ্গে। যোগাযোগ নম্বর: ৪৪৩-৩৩৩-৭২৪৬।
লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।" পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এক অভিবাসী চিকিৎসক গ্রিন কার্ড নবায়ন জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। লিবিয়া থেকে আসা চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আলঘৌলা একজন ফুসফুস ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ। তিনি ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় ও কেনটাকির গ্রামীণ এলাকার রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় তার সেবার ওপর অনেক রোগী নির্ভরশীল। খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির কারণে তার গ্রিন কার্ড নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। আবেদন বাতিল হলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তার বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসক ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের জটিলতায় বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার চিকিৎসকদের জন্য একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন এই নীতির আওতায় যেসব চিকিৎসকের গ্রিন কার্ড বা ভিসা আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তারা কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ডা. ফয়সাল আলঘৌলার মতো অনেক বিদেশি চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রে থেকে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বিদেশি চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত H-1B ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রযুক্তিখাতের বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B ভিসায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ন্যূনতম বেতন হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার এবং টেক্সাসের ডালাসে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন H-1B কর্মীদের বেতনের ন্যূনতম সীমা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা প্রায় ১ লাখ ডলারের ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আমাজন, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যাপল প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ বহন করতে পারলেও ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। এতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি খাতের অনেকে আশঙ্কা করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি মেধাবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী সংকটও তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ফেডারেল সরকারের প্রাইভেট স্কুল ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় করদাতারা নির্দিষ্ট শিক্ষা সহায়তা সংস্থায় অনুদান দিলে কেন্দ্রীয় কর থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট স্কুলের বেতন, টিউশনি, অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা এবং অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে এক সভায় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নিউ ইয়র্কের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন গভর্নরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কর্মসূচিটি বহু পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে। তবে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি স্কুল ব্যবস্থার বাইরে অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। এর আগে গভর্নর হোকুল চার্টার স্কুল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন। নতুন এই কর সুবিধা কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিউ ইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সরকারি অনুদানের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) স্থাপনের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক তোফায়েল চৌধুরী-এর মালিকানাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘গ্রি মেকানিক্যাল ইয়ংকার্স’। ইয়ংকার্সে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং মূলধারার মার্কিন সমাজে সেবা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে। তোফায়েল চৌধুরী জানান, সরকারি অনুদানে বাসা-বাড়িতে এসি স্থাপনের এই সুবিধা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এ বছরের শেষে এই কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আগ্রহীদের দ্রুত বুকিং নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রতি পরিবারকে ৮ থেকে ১০ হাজার ডলারের রিবেট দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একই সুবিধা প্রযোজ্য। তার ভাষায়, এটি একটি সময়সীমাবদ্ধ সুযোগ, যা “আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিটিং ও কুলিং সিস্টেম স্থাপন করে থাকে বলে জানান তিনি। এতে পুরোনো বয়লার সিস্টেম থেকে মুক্তি পাওয়া এবং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। তোফায়েল চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটির গ্রিন সিটি পরিকল্পনায় অবদান রাখা। পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।” তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ১০ বছরের গ্যারান্টি ও ওয়্যারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, গ্রাহকের সিদ্ধান্তের পর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠানটি সমন্বয় করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি দ্রুত যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুযোগটি সীমিত সময়ের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি বা “ফুড স্ট্যাম্প” নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অপব্যবহার ও প্রতারণা ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু ব্যক্তি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও ভুল তথ্য ব্যবহার করে সরকারি খাদ্য সহায়তা নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্স জানান, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের কাছে ফেরারি, বেন্টলি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, অথচ তারা ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাও গ্রহণ করছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তে প্রায় ৫ লাখ ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক সুবিধা অবৈধভাবে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার মৃত ব্যক্তির নামেও খাদ্য সহায়তা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসএনএপি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিগুলোর একটি, যা নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচিতে জালিয়াতি ও অপব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ফুড স্ট্যাম্প গ্রহণকারী দোকানগুলোর জন্যও নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। এখন থেকে দোকানগুলোতে প্রোটিন, শস্য, দুগ্ধজাত পণ্য, ফল ও সবজি মিলিয়ে অন্তত সাত ধরনের খাদ্যপণ্য রাখা বাধ্যতামূলক হবে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের শরৎ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে এক গ্যাস স্টেশনের দোকানকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাইতিয়ান নাগরিক রলবার্ট জোয়াচিনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। ফ্লোরিডার লি কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স জানান, ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল গ্যাস স্টেশনের বাইরে ৫১ বছর বয়সী নিলুফা ইসমিনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয়। নিহত নিলুফা ইসমিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তিনি দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালান। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষ “অত্যন্ত নৃশংস ও ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছে। ঘটনার পর জোয়াচিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স বলেন, “এই ঘটনা ছিল অত্যন্ত সহিংস, অপ্রয়োজনীয় ও ভয়াবহ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কর্মরত এক মায়ের জীবন নির্মমভাবে শেষ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছি, মৃত্যুদণ্ডসহ।” স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ভিডিও প্রমাণ ও তদন্তে হামলার নির্মমতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। নিরাপত্তা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে তার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আইনি জটিলতায় ছিলেন। ফ্লোরিডায় গ্যাস স্টেশনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দোকানকর্মী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন |
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।