যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিটকে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পর গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রায় এক মাস পলাতক থাকার পর ১৬ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পালিয়ে যেতে তাকে সহায়তা করার অভিযোগে তার সৎবাবাকেও আটক করা হয়েছে। মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের ফিলাডেলফিয়া শাখা জানিয়েছে, বুধবার কলোরাডো স্প্রিংসে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা আজ্জুবাইর আউটেন-ফ্লেমিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপনের চেষ্টা করেছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, গত ৬ জুন ভোররাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় বিলি শ্মিটের ওপর হামলার ঘটনায় আউটেন-ফ্লেমিং এবং আরেক ১৬ বছর বয়সী কিশোর কাসিম স্মিথ জড়িত ছিলেন। প্রসিকিউটর ল্যারি ক্রাসনারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনবিএ ফাইনালের খেলা দেখে একটি স্থানীয় বার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বিলি শ্মিট। পথে দুই কিশোর তার পথরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, আউটেন-ফ্লেমিং প্রথমে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন, পরে তাকে ঘুষি মেরে পকেট তল্লাশি করেন। ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা দুই সন্দেহভাজন শ্মিটকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে তারা সেখান থেকে হেঁটে চলে যেতে শুরু করলে শ্মিট নিজের ফোন ফেরত চেয়ে তাদের পিছু নেন। তদন্তে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে আউটেন-ফ্লেমিং ফোনটি রাস্তার দিকে ছুড়ে ফেলেন। এরপর দুই কিশোর আলাদা হয়ে যায়। শ্মিট কাসিম স্মিথের পিছু নিলে স্মিথ পেছনের পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। গুলিটি শ্মিটের বুকে লাগে। হামলার পর দুই সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে একটি এসইউভি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শ্মিটকে পেন-প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী ডন্টে আবদুলমালিকের বিরুদ্ধে তার সৎছেলে আউটেন-ফ্লেমিংকে ফিলাডেলফিয়া থেকে কলোরাডোতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা, বিচার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আউটেন-ফ্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে বর্তমানে কলোরাডোর জেবুলন পাইক ইয়ুথ সেন্টারে রাখা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এদিকে একই মামলার আরেক সন্দেহভাজন কাসিম স্মিথ এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়া ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দুই কিশোরের বিরুদ্ধেই হত্যা, ডাকাতি এবং হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিল শ্মিট ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের যেন আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হয়।" পরিবারের সদস্যরা জানান, বিলি শ্মিট পেন স্টেট ওয়ার্ল্ড ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। তিনি সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষ শেষ করেছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ, যিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের হার্টফোর্ড শহরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ম্যাডিসন স্ট্রিট এলাকায় এই সহিংস ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হার্টফোর্ড পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টার কিছু পরে ম্যাডিসন স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে তারা ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার অবস্থায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তদন্ত চলাকালেই পুলিশ জানতে পারে, একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইজনকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। অপর আহত ব্যক্তি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। তার শরীরেও গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে হার্টফোর্ড পুলিশ নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করে। ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তি হলেন ৩৬ বছর বয়সী ট্রয়লন কুপার, যিনি ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা। আর গুলিতে নিহত ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান অর্টিজ-সান্তিয়াগো, যার বাড়ি হার্টফোর্ডে। ঘটনার পরপরই ম্যাডিসন স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে। অপরাধস্থল ঘিরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। আশপাশের ভবন ও সড়কের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট এবং ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার আগে সংঘর্ষ কীভাবে শুরু হয়েছিল, কারা এতে জড়িত ছিল এবং কীভাবে ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল নাকি তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা ছড়ায়—সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। হার্টফোর্ড পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। যারা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন অথবা কোনো তথ্য, ভিডিও কিংবা ড্যাশক্যাম ফুটেজ সংরক্ষণ করেছেন, তাদের পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। সাইরেনের শব্দ ও জরুরি যানবাহনের আনাগোনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হার্টফোর্ড শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটলেও, একই ঘটনায় একজন ছুরিকাঘাতে এবং আরেকজন গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ঘটনা নতুন করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য তাদের হাতে নেই। তবুও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কী কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, কারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে। হার্টফোর্ডের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এখন কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অন্যতম আলোচিত অপরাধ তদন্তে পরিণত হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, সংগৃহীত আলামত, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওসিওলা কাউন্টিতে লাইসেন্স ছাড়া একাধিক সহায়ক আবাসিক সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ বাসিন্দাদের ওপর নির্যাতন, অবহেলা এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক দম্পতি আপাতত কারাগারেই থাকছেন। আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাদের জামিন শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, অভিযুক্ত মেরি ক্যারিংটন ও রোনাল্ড প্যাক চেরিশ হোম কেয়ার নামে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লাইসেন্সহীন সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কেন্দ্রে থাকা অসহায় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তদন্তে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ওসিওলা কাউন্টির বিভিন্ন চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে কয়েক বছরে শত শতবার জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক রোগী তেলাপোকায় ভরা কক্ষে বসবাস করতেন, দরজা-জানালায় তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রাখা হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। এছাড়া বাসিন্দাদের খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ ইবিটি কার্ড আত্মসাৎ এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ওষুধ বিতরণের অভিযোগও রয়েছে। ৯১১ কলে আত্মহত্যার চেষ্টা, মারধর, সহিংসতা এবং অচেতন বা মৃত্যুর ঘটনায় বারবার জরুরি সহায়তা চাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওসিওলা কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের নথিতে দেখা যায়, লুভর কোর্ট এলাকার একটি চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে দেড় বছরেরও কম সময়ে চারবার এমন রোগীর বিষয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়, যাদের শরীরে তখন আর কোনো প্রাণের লক্ষণ ছিল না। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট নাতাশিয়া লুবার্টের বাবার মৃত্যুর ঘটনায়ও ওই কেন্দ্র থেকে জরুরি সেবা চাওয়া হয়। শেরিফের দপ্তর ও মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তদন্তে অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি তাকে ওষুধ দিচ্ছিলেন, তার এ কাজের কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কিসিমির সোয়ান ওয়ে এলাকার আরেকটি কেন্দ্র থেকেও এক বাসিন্দাকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার খবর দিয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়। আরেকটি ঘটনায়, ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেট হারবার ড্রাইভের একটি চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যগত অবনতির কারণে এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৪ জুলাই তার মৃত্যু হয়। নাতাশিয়া লুবার্ট জানান, গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় তার বাবাকে দ্রুত একটি সেবাকেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হয়েছিল। একটি কমিউনিটি সংস্থার মাধ্যমে চেরিশ হোম কেয়ারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। তার ভাষায়, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে তার বাবাকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হবে, গোসল করানো হবে এবং সঠিকভাবে ওষুধ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা সেই প্রতিশ্রুতির কিছুই রক্ষা করেনি। অন্যদিকে জেমস অটিঞ্জার নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি পার্ক প্লেস বিহেভিয়ারাল হেলথ থেকে চেরিশ হোম কেয়ারের বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিলেন এবং প্রায় পাঁচ বছর সেখানে ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে সেখানে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগে শেরিফের দপ্তরে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, যাদের ওপর নিজের যত্নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারাই যদি নির্যাতন করে, তাহলে সেটি কল্পনারও বাইরে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু কর্মসূচি এবং স্থানীয় কয়েকটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রোগীদের এসব লাইসেন্সহীন কেন্দ্রে পাঠিয়ে তাদের দেখভালের জন্য অর্থ প্রদান করেছিল। ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবারবিষয়ক বিভাগ (ডিসিএফ) জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। তবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। পার্ক প্লেস বিহেভিয়ারাল হেলথ, ইউনিভার্সিটি বিহেভিয়ারাল সেন্টার এবং এইচসিএ ফ্লোরিডার পক্ষ থেকেও রোগীদের কীভাবে লাইসেন্সহীন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে এইচসিএ ফ্লোরিডা জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে। এদিকে ২৯ জুন নির্ধারিত জামিন শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পাবলিক ডিফেন্ডার এবং কনফ্লিক্ট রেজল্যুশন অফিস উভয়ই তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে না পারায় আদালত নতুন আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোনাল্ড প্যাকের নতুন জামিন শুনানি ২ জুলাই এবং মেরি ক্যারিংটনের শুনানি ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ততদিন তারা কারাগারেই থাকবেন। ওসিওলা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনো চলমান এবং এই ঘটনায় আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে বিক্ষোভ করার সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিউজউইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসন ইউনিফর্ম পরেই ক্যাপিটল ভবনের সামনে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। তাতে লেখা ছিল, "Impeach, Convict, Remove" অর্থাৎ "অভিশংসন করুন, দোষী সাব্যস্ত করুন, পদ থেকে অপসারণ করুন।" প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন বক্তব্যে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন, দোষী সাব্যস্ত এবং পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।" ঘটনার শুরুতে তার সঙ্গে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ওয়াটসনকে জানায়, কংগ্রেসের কোনো সদস্য সঙ্গে না থাকলে ক্যাপিটল ভবনের ওই স্থানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া যাবে না। নির্দেশ অমান্য করে তিনি ভবনের সিঁড়িতে উঠে অবস্থান নিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ডটি মাটিতে রেখে নিজের দুই হাত পেছনে নেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় উপস্থিত লোকজন করতালি দিয়ে সমর্থন জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন। পরে এক ভিডিওবার্তায় কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের দাবিতে অবস্থান নিতে দেখেছেন। তার ভাষায়, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে এমন সাহসের প্রয়োজন। বিক্ষোভের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিমুভাল কোয়ালিশন-এর প্রতিষ্ঠাতা জেসিকা ডেনসন। সংগঠনটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সদস্যদের ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে প্রচারণা চালায়। সংবাদ সম্মেলনে ডেনসন বলেন, মেজর জেসন ওয়াটসন বর্তমানে পোল্যান্ডে লজিস্টিকস রেডিনেস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ছুটিতে রয়েছেন। তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করেছেন। ডেনসনের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াটসন নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করতে অনুরোধ করেছিলেন। বক্তব্যে ওয়াটসন বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাট নন এবং আল গ্রিনের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও খুব বেশি জানেন না। তবে তার মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনে কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে আল গ্রিনই সবচেয়ে বেশি সাহসিকতা দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আল গ্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং দায়িত্বে বহাল থাকলে তিনি সহিংসতা উসকে দেওয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরি করবেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটিতে সেই প্রস্তাব ২৩৭ ভোটে বাতিল হয়। পক্ষে ভোট পড়ে ১৪০টি। এদিকে ফ্রি স্পিচ ফর পিপল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বোনিফাজ এক বিবৃতিতে ওয়াটসনের প্রশংসা করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন, যা অনেকের নীরবতার বিপরীত একটি উদাহরণ। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউজউইক। ওয়াটসনের আইনি লড়াইয়ের জন্য ইতোমধ্যে একটি অনলাইন তহবিল গঠন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশপ্রেমিক এই সামরিক কর্মকর্তার আইনগত ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই তহবিলে ২৪ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে বহু বছর ধরে সক্রিয় একটি মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, পালিয়ে যাওয়া শিশু এবং অসহায় নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করত। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক সংস্থা একযোগে অংশ নেয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয় এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিচিতজন এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনত। চাকরি, ভালো আয় কিংবা নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হতো। পরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, অপরাধচক্রটি কয়েক বছর ধরে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিত। কেউ ভুক্তভোগী সংগ্রহ করত, কেউ তাদের ওপর নজরদারি চালাত, আবার কেউ অর্থ লেনদেন ও থাকার ব্যবস্থা পরিচালনা করত। একটি মোটেলের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি জেনেশুনে কক্ষ ভাড়া দিয়ে এই অপরাধ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কেউ কেউ পালিয়ে যাওয়া শিশু বা পালক পরিবারে বেড়ে ওঠা কিশোরী। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা এবং অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই চক্রটি কেবল একজন বা দুজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো না। এটি ছিল একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করত। তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানবপাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুতর সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এমন অপরাধ দমনে ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। সর্বশেষ এই অভিযান সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে মানবপাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে লাইভ সম্প্রচারের প্রস্তুতির সময় সিবিএস নিউজ শিকাগোর এক সংবাদদলের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিন পরে ওই তিন ব্যক্তি শিকাগোর আরেকটি এলাকায় পথচারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে পুলিশ। সিবিএস নিউজ শিকাগো ও শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে অ্যাডলার প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে ইস্ট সলিডারিটি ড্রাইভ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় একজন প্রতিবেদক ও একজন আলোকচিত্রী বিকেল ৪টার সংবাদ বুলেটিনের জন্য সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের টো ট্রাক এসে তাদের সংবাদভ্যানের সামনে থামে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাক থেকে নেমে আসা তিনজনের একজন একটি কুকুর নিয়ে সংবাদকর্মীদের দিকে এগিয়ে যান এবং আলোকচিত্রীকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে তিনি কুকুরটিকে হামলার নির্দেশ দিলেও কুকুরটি তা মানেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের একজন বলেন, হামলাকারীরা কোনো কারণ ছাড়াই সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিল। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ও তার স্ত্রী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে আলোকচিত্রী একটি ভাঁজ করা স্টুল দিয়ে হামলাকারীকে আঘাত করেন। তবে তাতেও হামলাকারী থামেননি। এরপর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন একটি পার্কিং কোন দিয়ে সংবাদভ্যানের সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন এবং ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। হামলার ঘটনায় প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রী শারীরিকভাবে আহত না হলেও সংবাদ সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিকাগোর ব্রাইটন পার্ক এলাকায় পুলিশ একই টো ট্রাকটি শনাক্ত করে। পুলিশ জানায়, তখন ওই তিন ব্যক্তি সড়কের পাশে থাকা কয়েকজন মানুষের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ তাদের আটক করার চেষ্টা করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে একটি পুলিশ গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সময় সঙ্গে থাকা কুকুরটি পালিয়ে যায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুকুরটিকে উদ্ধার করা গেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। গ্রেপ্তার হওয়া ৩৭ বছর বয়সী জন টুইস্টের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ, সম্পত্তি নষ্ট এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী উইলিয়াম হুয়ের্তার বিরুদ্ধে পুলিশের ধাওয়া এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের দুই সরকারি কর্মচারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ মূলত ব্রাইটন পার্কের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া ২৯ বছর বয়সী রাফায়েল সালিনাসের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যকে আহত করা, ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে সম্পদের ক্ষতি, বেপরোয়া আচরণ এবং গ্রেপ্তার প্রতিরোধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই অতীতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ছিল। সিবিএস নিউজ শিকাগোর তথ্য অনুযায়ী, জন টুইস্ট অতীতে অপহরণ-সংক্রান্ত একটি মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন এবং দুর্ঘটনায় পড়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি প্রতারণামূলক টো ট্রাক চক্রের মামলায়ও কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। এক নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশও জারি হয়েছিল। উইলিয়াম হুয়ের্তার বিরুদ্ধে আগে প্রথম-ডিগ্রি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর হামলার দায়ে তিনি ছয় বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। অন্যদিকে রাফায়েল সালিনাসের বিরুদ্ধে মে মাসে হিট অ্যান্ড রান ঘটনার পর পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এই তিনজন অতীতেও টো ট্রাক ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাদের আটকাদেশ-সংক্রান্ত শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হবে। ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কুলিং সেন্টার চালু করেছে। প্রবীণ, শিশু, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গৃহহীন মানুষ এবং যাদের বাসায় পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউইয়র্কে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে অনুভূত তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নগর প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার, সিনিয়র সেন্টার এবং সরকারি ভবনকে অস্থায়ী কুলিং সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়। শুধু কুলিং সেন্টারই নয়, নগর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত মোবাইল সহায়তা ভ্যানও মোতায়েন করেছে। এসব ভ্যান শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পানীয় জল, ইলেকট্রোলাইট, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি গৃহহীন ও একাকী বসবাসকারী প্রবীণদের খোঁজ নিতে বিশেষ টিমও মাঠে কাজ করছে। শহর প্রশাসন বাসিন্দাদের দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার, পর্যাপ্ত পানি পান করার এবং পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের কখনোই পার্ক করা গাড়ির ভেতরে রেখে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে, কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে নগর প্রশাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বড় বড় ডিজিটাল বিলবোর্ডের আলো কমানো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটিকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে কুলিং সেন্টারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত গরমকে অবহেলা না করে কেউ অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। একই সঙ্গে একা বসবাসকারী প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র গরমের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির এই জরুরি পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো তাপজনিত অসুস্থতা ও সম্ভাব্য প্রাণহানি কমিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ উইন্ডসরের একটি কস্টকো শাখায় জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কেনার চেষ্টার অভিযোগে নিউইয়র্কের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে তাদের গাড়ি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ২৮টি চুরি করা আর্থিক নথি এবং অন্য একটি কস্টকো শাখা থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা পণ্যও উদ্ধার করা হয়েছে। সাউথ উইন্ডসর পুলিশ বিভাগ (এসডব্লিউপিডি) জানায়, রোববার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ১২২০ ট্যামারাক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত কস্টকো শাখা থেকে জরুরি ফোন আসে। অভিযোগ ছিল, দুই ব্যক্তি দোকান থেকে পণ্য নিয়ে স্বয়ংক্রিয় বিলিং কাউন্টারে জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৩৫ বছর বয়সী ব্রিটানি এ. হাওয়ার্ড এবং ব্রুকলিনের ৩৪ বছর বয়সী কাশিম এম. উইলিয়ামস। পুলিশের ভাষ্য, তারা কস্টকোর একাধিক শাখায় একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার আগে দোকান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, একই দুই ব্যক্তি প্রায় ৩০ মিনিট দূরে অবস্থিত কানেকটিকাটের এনফিল্ড এলাকার একটি কস্টকো শাখায়ও একই কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে। পরে তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৮টি চুরি করা আর্থিক নথি উদ্ধার করা হয়। এসব নথি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ইস্যু করা ছিল। একই সঙ্গে এনফিল্ডের কস্টকো শাখা থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা বিভিন্ন পণ্যও উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধেই অন্য অঙ্গরাজ্যে পূর্বের পরোয়ানা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাশিম এম. উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টিতে ডাকাতি, শ্বাসরোধ করে হামলা এবং মারধরসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, যা কার্যকরযোগ্য। অন্যদিকে ব্রিটানি এ. হাওয়ার্ডের বিরুদ্ধে নিউ জার্সির হাডসন কাউন্টিতে ক্রেডিট কার্ড চুরির মামলায় পরোয়ানা ছিল। সর্বশেষ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ২৮টি পেমেন্ট কার্ড চুরি, চুরি, পরিচয় চুরি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত দুজনকেই ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের জামিনে আটক রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের ম্যানচেস্টার সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া আর্থিক নথিগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার পাশাপাশি, এই দুই ব্যক্তি আরও কোনো অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য এ সপ্তাহে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজ্যের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে ১০৫ থেকে ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কানেকটিকাটে এমন তীব্র গরমের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং জারি করেছে। এই সতর্কতা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের রাজধানী হার্টফোর্ডসহ অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করতে পারে। এটি ২০১১ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ দিনের একটি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে বহু বছরের দৈনিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো তুলনামূলক শীতল হলেও সেখানেও তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট অঙ্গরাজ্যের চরম গরম মোকাবিলা প্রটোকল চালু করেছেন। এর আওতায় বিভিন্ন শহর ও পৌরসভায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কুলিং সেন্টার খোলা হয়েছে, যাতে যাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত শীতল পরিবেশ নেই তারা সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসিন্দারা নিকটস্থ কুলিং সেন্টারের তথ্য রাজ্যব্যাপী তথ্যসেবা থেকে জানতে পারবেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ এবং যাদের ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই, তাদের দ্রুত এসব কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে অবস্থান করলে হিট এক্সহসশন ও হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা পোশাক পরা এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও পোষা প্রাণীকে কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়ির ভেতরে রেখে না যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতার মাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীরের ঘাম দ্রুত শুকাতে পারবে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হবে এবং মানুষ বাস্তব তাপমাত্রার তুলনায় আরও বেশি গরম অনুভব করবে। এ কারণেই তাপসূচক ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেক জায়গায় দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অনুশীলন স্থগিত করা হয়েছে অথবা সকাল ও সন্ধ্যায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিয়মিত বিরতি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিপুল সংখ্যক মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও এ পর্যন্ত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির পুরো সময়জুড়েই গরম অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার ও শনিবারও তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকবে। একই সময়ে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনী ও উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠানগুলোতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তবে সব এলাকায় সারাদিন বৃষ্টি হবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। এই ধরনের তাপপ্রবাহে রাতের তাপমাত্রাও তুলনামূলক বেশি থাকায় শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এতে অসুস্থতার ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই রাতে পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করতে পারে। এরপর আগামী সপ্তাহের শুরুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী সুদের হার–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশটির আর্থিক বাজারে বাড়ছে অপেক্ষা। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিও এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। কারণ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এবং পণ্যমূল্যের ওপর সরাসরি পড়ে। ফেড সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। সেই বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানো, কমানো বা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নতুন অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হবে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এখন বাজারের প্রধান আলোচনার বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য। এই দুটি সূচক প্রকাশের পর অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা আরও স্পষ্ট হবে। ফেডের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার নিয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির লক্ষণ দেখালেও মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় পুরোপুরি পৌঁছায়নি। ফলে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফেডের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়াল স্ট্রিটে লেনদেনেও সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের নতুন বিনিয়োগ থেকে আপাতত বিরত রয়েছেন। তারা সরকারি অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ এবং ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। ফলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ওঠানামার পরিবর্তে সীমিত পরিসরে লেনদেন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেশি থাকলে ব্যাংক ঋণের খরচ বেড়ে যায়। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগ ধীর হতে পারে। একই সঙ্গে আবাসন ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের সুদও বাড়ে। ফলে অনেক পরিবার ব্যয় কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে সুদের হার কমে গেলে ঋণ গ্রহণ সহজ হয়, ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসে। তবে খুব দ্রুত সুদের হার কমানো হলে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ফেড একাধিকবার জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতিকে টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তারা সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্য পর্যালোচনা করছে। কোনো একটি সূচকের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং বেকারত্বের হারও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে একই সময়ে ভোক্তা মূল্যসূচক ও মজুরি বৃদ্ধির গতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ এসব তথ্য মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। ফেডের সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার, স্বর্ণের দাম, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেশি থাকলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি বড় অংশ ডলারভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে যায়। আবার সুদের হার কমলে অন্যান্য দেশের বাজারেও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়তে পারে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারেও লেনদেন তুলনামূলক সংযত রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের আগে ঝুঁকি কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন। বাজারের অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বিনিয়োগ কৌশলও পুনর্মূল্যায়ন করছে। ফেডের পরবর্তী বৈঠকের আগে প্রকাশিত প্রতিটি সরকারি অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ব্যয়, উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতের কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্যই আগামী সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। সে কারণে বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো ফেডের প্রতিটি ঘোষণা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী বৈঠকে ফেড কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নতুন অর্থনৈতিক তথ্যই হবে সেই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারের দৃষ্টি এখন ফেডের পরবর্তী ঘোষণার দিকে, যা আগামী মাসগুলোর অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ফেডারেল বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর এক হাজারেরও বেশি গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট মামলার পর্যালোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। দেশটির উত্তর ইলিনয় জেলার শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অতীতের সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতেই এই বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উত্তর ইলিনয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু বুট্রোস জানান, চলমান সব গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রায় দুই দশক আগের উপস্থাপনাগুলিও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। তার ভাষায়, এটি একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত পর্যালোচনা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে কোনো মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া নৈতিক মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ‘ব্রডভিউ সিক্স’ নামে পরিচিত একটি বহুল আলোচিত মামলা। গত বছর শিকাগোর উপকণ্ঠে একটি ফেডারেল অভিবাসন কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় চার কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সরকার। কিন্তু পরে আদালতে প্রকাশিত গ্র্যান্ড জুরির নথিতে প্রসিকিউটরদের আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, একজন প্রসিকিউটর গ্র্যান্ড জুরির এক সদস্যের সঙ্গে অনুমতি ছাড়া যোগাযোগ করেছিলেন এবং ভিন্নমত পোষণকারী কিছু জুরির অংশগ্রহণও সীমিত করা হয়েছিল। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার শেষ পর্যন্ত ওই মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করে। এরপরই বিচার বিভাগের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়। অ্যান্ড্রু বুট্রোস বলেন, এই পর্যালোচনা কেবল অতীতের ভুল খুঁজে বের করার জন্য নয়; বর্তমানে বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখা তাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উপস্থাপিত গ্র্যান্ড জুরি কার্যক্রমও এই পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন আগে নিষ্পত্তি হওয়া কিছু মামলাও নতুন করে আলোচনায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আদালতে প্রকাশিত নথিতে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রমাণ উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটরের অনুপযুক্ত মন্তব্য, গ্র্যান্ড জুরিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে—এমন আচরণ। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশনায় গ্র্যান্ড জুরির সঙ্গে প্রসিকিউটরদের যোগাযোগ, নথি সংরক্ষণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতিমালা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্ক এড়াতে সহায়ক হবে। এদিকে যেসব মামলায় একই প্রসিকিউটর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেগুলোরও পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। কোনো মামলায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিচার বিভাগের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বলেনি যে পর্যালোচনাধীন সব মামলায় অনিয়ম হয়েছে, তবু প্রতিটি মামলার নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনজীবী মহলও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাদের মতে, গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বিচারব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। তাই কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে। শিকাগোকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিস্তৃত পর্যালোচনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক হাজারের বেশি মামলার নথি পুনরায় যাচাইয়ের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতগুলো মামলায় প্রভাব ফেলবে, তা এখন তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই কিশোরের একজনকে কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর সন্দেহভাজনকে ধরতে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের বয়স ১৬ বছর। তাকে কলোরাডো স্প্রিংস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পেনসিলভানিয়ায় ফিরিয়ে এনে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম বিলি (উইলিয়াম) শ্মিট। তার বয়স ছিল ২২ বছর। তিনি পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ৬ জুন রাতে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় নিজ বাসার কাছাকাছি হাঁটার সময় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানান, হামলার সময় বিলি শ্মিট নিজের মোবাইল ফোন ফেরত চাইছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুই ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর একজন পালিয়ে কলোরাডোতে চলে যায় বলে তদন্তে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অভিযুক্ত কিশোরকে কলোরাডো স্প্রিংসে তার স্বজনদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের গোলাগুলি বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে মামলার আরেক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরিয়ে দিতে তথ্য দিলে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস। পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, কিংবা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় আরও কেউ অংশ নিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত বিলি শ্মিটের মৃত্যুতে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তার পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় শোকাহত। শিক্ষার্থীর পরিবারও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছে। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, বিলি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, পরিশ্রমী এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা একজন তরুণ। তার মৃত্যু তাদের পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পেনসিলভানিয়ায় স্থানান্তর করা হবে। এরপর আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক দ্বিতীয় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর অপরাধ, সশস্ত্র ছিনতাই এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মামলার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদ ঐতিহ্যগতভাবে মর্যাদা, দায়িত্ববোধ ও জনস্বার্থের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ থেকে দূরে থাকার এক ধরনের অলিখিত নৈতিক মানদণ্ডও দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করেছেন দেশটির নেতারা। তবে সাম্প্রতিক এক আর্থিক প্রতিবেদনে সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের সেই ধারা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান দায়িত্ব শেষে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় ছিলেন। সেনাবাহিনী থেকে পাওয়া মাসিক মাত্র ১১৩ ডলারের পেনশনই ছিল তার একমাত্র আয়। পরে নিজের স্মৃতিচারণে তিনি লিখেছিলেন, প্রেসিডেন্ট পদের সম্মানকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লাভের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। একই ধরনের সতর্কতা দেখা গেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ক্ষেত্রেও। নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগেই তিনি নিজের বিনিয়োগ ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’-এর অধীনে হস্তান্তর করেন, যাতে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত না হয়। এমনকি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা তার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল, সে বিষয়েও তিনি অজ্ঞ ছিলেন বলে দায়িত্বের শেষ দিকে জানান। তবে এই ঐতিহ্য থেকে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার সর্বশেষ দায়িত্বকালেই ট্রাম্প অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য নজিরবিহীন বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা। ইতিহাসবিদ বারবারা পেরির ভাষায়, প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি এবং এটি একেবারেই ব্যতিক্রমী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের আয়ের বড় একটি অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত থেকে। এই খাত থেকেই তিনি প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘সেলিব্রেশন কয়েন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি প্রায় ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন, যা তার চালু করা ‘$TRUMP’ মিম কয়েনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল’ নামের একটি ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকেও তার আয় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় প্রায় চার গুণ বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প বা তার পরিবারের কোনো সিদ্ধান্তে স্বার্থের সংঘাত ঘটেনি। তাদের বক্তব্য, সব সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য ভিন্ন মত দিচ্ছেন ইতিহাসবিদ ও নৈতিকতা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অতীতে কিছু প্রেসিডেন্টের পরিবার ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হলেও, দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রেসিডেন্ট নিজে এত বড় পরিসরে ব্যক্তিগত আয় করেছেন—এমন নজির নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইউলিসিস গ্রান্ট ও ওয়ারেন হার্ডিংয়ের প্রশাসনের সময় রাজনৈতিক দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও, সেগুলোর প্রকৃতি ছিল ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—তিনি এবং তার পরিবার সরাসরি ক্ষমতায় থাকাকালেই ব্যবসায়িকভাবে উল্লেখযোগ্য লাভ করেছেন। অন্যদিকে, জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন বা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের ভাইয়ের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো আলোচিত হলেও, তা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল না বলে মনে করা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্প তার পারিবারিক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছেলেদের হাতে দিলেও সম্পদ ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’-এ স্থানান্তর করেননি, যা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সাবেক হোয়াইট হাউস নৈতিকতা উপদেষ্টা রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত দেয় এবং এটি জনসাধারণের জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্সি ও ব্যক্তিগত ব্যবসার এই মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনটি বিবিসির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ ও বিমান প্রদর্শনী, ‘প্যারেড অব সেইলস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ম্যাসির আতশবাজির অনুষ্ঠানকে ঘিরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহান্তে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে একটি বড় আয়োজন এবং মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য পৃথক ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে সবাই নিরাপদে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। তিনি জানান, শহরের পাঁচটি বরোতেই অতিরিক্ত ইউনিফর্মধারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কয়েক মাস ধরে নগর কর্তৃপক্ষ, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে আয়োজন থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, বুধবার থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক ও মার্কিন নৌবহরের জাহাজ ইতোমধ্যে শহরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এ বছরের উদযাপনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা বিভাগ, যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তায় ভারী অস্ত্রধারী বিশেষ ইউনিট, কে-৯ কুকুরদল, বিমান ও নৌ ইউনিট, ড্রোন প্রতিরোধ দল এবং হাজারো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। প্যারেড দেখতে টিকিটধারী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এদিকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ম্যানহাটনের ৫৯তম স্ট্রিটের দক্ষিণে ওয়েস্ট সাইড হাইওয়ে যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। দিনভর ওই এলাকায় বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিকেল ৩টা থেকে এফডিআর ড্রাইভ ও ব্রুকলিন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে ইস্ট রিভার ও হাডসন নদীতে ম্যাসির স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ২০০০ সালের পর এবার প্রথমবারের মতো দুই নদী থেকেই একযোগে আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কের পিয়ার-১ থেকে পিয়ার-৬ এবং ম্যানহাটনের সাউথ স্ট্রিট সিপোর্ট এলাকায় শুধুমাত্র টিকিটধারী দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। তাদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ব্রুকলিনের ক্লার্ক স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করবে এমটিএ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ভোটারদের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে সম্প্রদায়টির রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই শক্তি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করেছে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। বাংলা ভাষায় ব্যালট, ভোটার গাইড এবং নির্বাচনী সহায়তা চালু হওয়াও এই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। তবুও নির্বাচনের দিন বহু নিবন্ধিত ভোটার কেন্দ্রে যান না। কমিউনিটির রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কিছু আসে-যায় না।’ আবার অনেকে নির্বাচনের তারিখ, আগাম ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নিবন্ধিত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল, ডিস্ট্রিক্ট লিডার, জুডিশিয়াল ডেলিগেট, পার্টি কমিটি এবং বিভিন্ন পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তাদের অনেকেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনের প্রার্থী শামসুল হক মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। অথচ তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের বাংলাদেশি ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন। শামসুল হক বলেন, “অনেকের সঙ্গে দেখা হলে তারা ফলাফল শুনে আফসোস করছেন। তারা বলছেন, এত কম ব্যবধান জানলে অবশ্যই ভোট দিতে যেতাম। এই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহাই বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিন দফায় ১০ হাজার বাড়ির দরজায় প্রায় ৩০ হাজার বার কড়া নাড়া হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের দিন উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ। তার ভাষায়, “জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কাসহ ৮ থেকে ১০টি ভবনে শত শত বাংলাদেশি বসবাস করেন। প্রতিদিন তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। অথচ ভোটের দিন তাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হননি।” তিনি মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমষ্টিগত উদ্যোগ। কমিউনিটির ভূমিকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অনেক নেতা আছেন। তারা মাঠে নামলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু অনেককেই নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাইনি। অনেকেই মূলধারার রাজনীতির দাবি করলেও বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।” তিনি জানান, ফলাফল যাই হোক, তিনি থেমে থাকবেন না। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবেন। এদিকে ১১ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এখনও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শামসুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ২০৩টি ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। এতে আমার ভোট বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেশি হলে অনেক নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল কয়েকশ ভোটেরও কম, অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন। কমিউনিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশিরা নির্বাচন এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, কিন্তু ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী হয়নি। অন্যদিকে ইহুদি, চীনা, ভারতীয়, কোরিয়ান ও লাতিনো সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিন ভোটার পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও অনেক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়লেও সেই আগ্রহ এখনও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে ভোটদানের হার আশানুরূপ নয়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের বিভিন্ন নির্বাচনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুসংগঠিত ভোটার উপস্থিতিই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেয়। কমিউনিটির নেতাদের মতে, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সারা বছরব্যাপী ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা, নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনের দিন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ভোটার পরিবহনের ব্যবস্থা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। এখন সেই সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ। কমিউনিটির প্রবীণদের ভাষায়, “প্রার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাওয়া।” কারণ একটি নির্বাচনে কয়েকটি ভোটই একজন বাংলাদেশি প্রার্থীর জয় কিংবা পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতির ওপর।
প্রেমিকার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আংটি বাড়িয়ে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব—এ দৃশ্য নতুন নয়। তবে পৃথিবীর অন্যতম আইকনিক স্থাপনা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু চূড়ায় উঠে সেই প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা নিউইয়র্কবাসীকে বিস্মিত করেছে। দুঃসাহসিক এই কাণ্ডের পর ওই যুগলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পথচারীরা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ১০২তম তলার ওপর ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় দুই ব্যক্তিকে দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সেখানে একটি কালো ব্যানার টানাচ্ছিলেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউইয়র্ক পুলিশ, বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। নিচে বিপুল কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমলেও ওই যুগল শান্তভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান। ব্যানার টানানো শেষে তারা কিছুটা নিচে নেমে একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ান। সেখানে পুরুষটি হাঁটু গেড়ে বসে নারী সঙ্গীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে দুজনকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করতে দেখা যায়। ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তাদের টানানো ব্যানারে লেখা ছিল, "যখন ক্ষমতার লোভের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি বড় হবে, তখন পৃথিবী শান্তি ফিরে পাবে।" দুপুর ১টার দিকে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ভবনের চূড়ায় উঠে তাদের নিচে নামিয়ে আনেন। অনুমতি ছাড়া ভবনের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রবেশের কারণে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই যুগল হলেন রাশিয়ার পরিচিত রুফটপার ও নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র "Skywalkers: A Love Story"-এর প্রধান দুই চরিত্র অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বেয়ারকুস (Vbeerkus)। তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন উঁচু ভবন ও স্থাপনায় উঠে দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ভবনের চূড়ায় তারা কীভাবে এবং কখন পৌঁছেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন, ২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে পরিচালিত অভিযানে ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ দাবি করেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। বিভাগটির দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই দেশব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে স্বাধীনভাবে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণকারী গবেষকদের প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি নথির ভিত্তিতে করা এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে। এসব আটকের প্রায় অর্ধেকই স্থানীয় কারাগার, আটককেন্দ্র অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কের আইনজীবীদের একটি সংগঠনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শহরটিতে প্রশাসনিকভাবে আটক হওয়ার সংখ্যা ২০১৭ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। তাদের তথ্যমতে, আটক হওয়া শত শত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো ফৌজদারি মামলার রেকর্ড ছিল না। আবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুতেই নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটকের সংখ্যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের মোট আটকের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই অভিযান এমন সময়ে জোরদার করা হয়েছে, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুর নাগরিকত্বের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক অভিযান নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, তবু স্বাধীন তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, আটক হওয়া সবার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড নেই। ফলে অভিযানটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন দেশটির যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার ভাষ্য, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আধিপত্য ও জাতীয় নিরাপত্তা ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবছরের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে সামরিক খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়াই বর্তমানে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিই দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ডলারের আধিপত্য, স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। হেগসেথ বলেন, শুধু ট্রেজারি বিভাগ ডলারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে না, এতে মার্কিন বিমান বাহিনীরও ভূমিকা রয়েছে। একইভাবে শুধু ফেডারেল রিজার্ভ নয়, মেরিন কোরও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত। আর বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে শুধু বাণিজ্য বিভাগ নয়, মার্কিন নৌবাহিনীরও অবদান রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে দেশটি সহজে ঋণ নিতে পারে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ করতে পারে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়বে, যা বাজার, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চীনের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যাপ্ত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এখন মহাকাশ, সাইবার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা, সমুদ্রের নিচের প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতায় বড় বিনিয়োগের সময় এসেছে। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কংগ্রেসের সদস্যদের বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং দিয়েছে এবং কেন এই বাজেটকে জরুরি বলে মনে করছে, তা ব্যাখ্যা করেছে। হেগসেথ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা (অডিট) পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসন এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যেই সফলভাবে অডিট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার ভাষ্য, বাজেটের প্রতিটি খাত পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকারহীন ব্যয় কমানো হয়েছে, যার ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করে তা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্পে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিনিময়ে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের নিজেদের অর্থে নতুন উৎপাদন কারখানা ও অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের ব্যয়ও কমছে। হেগসেথের মতে, নতুন এই ব্যবস্থায় সেনাবাহিনী নির্ধারিত সময়ের আগেই আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাবে। একই সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদেরও নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, অন্যথায় তাদের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হবে। নিবন্ধের শেষে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দায়িত্বশীল প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, দুটি লক্ষ্যই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব এবং সে জন্য কংগ্রেসকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করা উচিত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যবহৃত মূল্যবান সরঞ্জাম ও তামার তার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ১৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ও তামার তার বহনকারী দুটি ট্রেলার চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুক কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোর একটি ট্রাক ইয়ার্ড থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি চুরি হওয়া ট্রাকের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ট্রেলারে প্রায় তিন লাখ ডলার মূল্যের তামার তার ছিল, যা আলাবামা থেকে চুরি করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা ট্রাকটির বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রেলারটি অক্ষত থাকলেও ট্রাকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই নম্বরপ্লেটও উইসকনসিন থেকে চুরি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অপরাধীরা প্রথমে আলাবামা থেকে ট্রাকটি চুরি করে। এরপর পরিচয় গোপন করতে চুরি করা নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সেটি ইলিনয়ে নিয়ে আসে। ট্রাক ইয়ার্ডের মালিক তদন্তকারীদের জানান, যে ব্যক্তি চুরি হওয়া ট্রাকটি সেখানে রেখে গিয়েছিল, সে এক সপ্তাহ আগেও আরেকটি ট্রাক একই স্থানে এনে রেখেছিল। পরে ওই দ্বিতীয় ট্রাকটির মালিক জানান, তার ট্রেলারটি ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল থেকে চুরি হয়েছিল। এতে প্রায় ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সরঞ্জাম ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ট্রেলারের বর্তমান অবস্থান প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ছয় মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এখন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান পণ্য চুরি করছে। তারা 'স্ট্র্যাটেজিক থেফট' নামে পরিচিত একটি কৌশল ব্যবহার করে ট্রাক পরিবহন প্রতিষ্ঠান, ব্রোকার বা ক্যারিয়ারদের প্রতারণার মাধ্যমে পণ্য কিংবা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কার্গো চুরি প্রতিরোধবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। এসব চুরির বড় অংশই ছিল তামাসহ বিভিন্ন ধাতু এবং এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সরঞ্জাম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং যন্ত্রপাতি। উচ্চ বাজারমূল্য ও বাড়তি চাহিদার কারণে এসব পণ্য চোরচক্রের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করলেও তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। ভিসা আবেদনের সময় প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাগুলোকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচার বিভাগের জালিয়াতি দমন শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে পাঠানো এক স্মারকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করার যেকোনো প্রচেষ্টা তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে যারা ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ফৌজদারি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, অনেক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ কার্যক্রমেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিসা নেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ফৌজদারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। স্মারকে অতীতে পরিচালিত কয়েকটি মামলার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে ‘ইউএসএ হ্যাপি বেবি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগে মাইকেল ওয়েই ইউয়ে লিউ ও জিং ডং দম্পতির প্রত্যেককে ৪১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, তারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন ভিসা পেতে সহায়তা করতেন। এর আগে ২০২২ সালে নিউইয়র্কভিত্তিক ইব্রাহিম আকসাকালকে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি তুর্কি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা প্রচার করতেন এবং কীভাবে গর্ভধারণের তথ্য গোপন রাখতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। এছাড়া ২০২০ সালে চাও ‘এডউইন’ চেন পরিচালিত ‘ইউ উইন ইউএসএ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত আদায় করত এবং ৫০০-এর বেশি গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে সহায়তা করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চেনকে ৩৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে বছরে কত শিশু জন্ম নিচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তবে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার শিশুর জন্ম এ ধরনের ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের দাবি, শুধু পর্যটক ভিসায় আসা নারীদের কাছেই বছরে প্রায় ৩৩ হাজার শিশুর জন্ম হয়। এছাড়া অস্থায়ী ভিসাধারী ও অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের কাছেও আরও কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়। এদিকে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ‘বার্থ ট্যুরিজম’কে দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি শিল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি গর্ভবতী অবস্থায় শুধুমাত্র সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বানানোর উদ্দেশ্যে এখানে আসে, তাহলে সেটি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আমরা এটি বন্ধে কাজ করছি এবং তা করেই ছাড়ব।” এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যাতে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। আদালতের ওই রায়ের পরই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে বিদ্যমান আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেয় মার্কিন বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক অবৈধ অভিবাসীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা ভোগ শেষে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে সাজা ঘোষণার পর অভিযুক্তকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে দায়ের হওয়া আরেকটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করতে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় ও মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার ৩১ বছর বয়সী নাগরিক নিকল আলেক্সান্দ্রা কনত্রেরাস-সুয়ারেজ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যানহাটনের থমাস জেফারসন পার্কের বিপরীতে অবস্থিত একটি বডেগা দোকানের শৌচাগারে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে মার্চ মাসে তিনি দ্বিতীয় ডিগ্রির ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। ভুক্তভোগী কিশোরকে যেন আদালতে এসে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রসিকিউশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে দ্বিতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি আগামী ১০ বছর তাকে প্রবেশন পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত একজন অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাজা ভোগ করা শেষ হলে তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো ভুল ছিল না, এটি ছিল সচেতন সিদ্ধান্ত। আমার ছেলের সঙ্গে এই ঘটনা না ঘটলেও অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে এমন অপরাধ ঘটতে পারত।” আদালতে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ভুক্তভোগী কিশোর জানায়, এই ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে আঘাত করেছে এবং সে এই বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় না। সে এখন সমস্ত অতীত ভুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে আগ্রহী। কিশোরটি বলে, “এখন অভিযুক্ত আর এখানে নেই। অবশেষে আমি মনে করছি, কিছুটা শান্তি ফিরে পেয়েছি।” মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে আটক করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই মামলায় মাত্র ছয় মাসের সাজা প্রদানের বিষয়টিকে “ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছিল। ধর্ষণের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ফলে কনত্রেরাস-সুয়ারেজের বিরুদ্ধে অভিবাসন-সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়। তবে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়া কঠোর হেফাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নিউইয়র্কের সাজা শেষে কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মেডফোর্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি, পতিতাবৃত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ এবং হামলার অভিযোগে পৃথক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।