নিউইয়র্ক সিটিতে হাউজিং ভাউচার তহবিল সংকট ঘিরে বড় ধরনের আবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রায় ১২ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়তে পারেন। তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শহরের প্রায় ৫ হাজার ২০০ পরিবার হাউজিং ভাউচার সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে শিশু ও পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। আবাসন অধিকারকর্মীরা জানান, সংকটটি নিউইয়র্কের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিন এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের প্রতিনিধি ব্রেন্ডন চেনি বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। যারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা এই সহায়তার ওপরই নির্ভরশীল। তিনি আরও জানান, ভাউচার কর্মসূচিটি বহু নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জীবনরেখার মতো কাজ করছে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অনেক পরিবার বাসস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ফেডারেল পর্যায়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির ফেডারেল অর্থায়ন ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে অংশগ্রহণকারীদের পাবলিক হাউজিং অপেক্ষমাণ তালিকায় আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে সেখানে ইতোমধ্যে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা লাশোন স্মিথ বলেন, এটি মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। বাসস্থান হারালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন অনেকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। উন্নত জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ মানুষকে সেখানে আকৃষ্ট করে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনে নানা ধরনের ঝুঁকিও বিদ্যমান, যা মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই, অনলাইন প্রতারণা, গাড়ি চুরি, গভীর রাতে নিরাপত্তাহীনতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ- এসব পরিস্থিতি প্রবাস জীবনে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ থাকার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা এবং পরিবারের কাউকে নিজের অবস্থান ও পরিকল্পনা জানানো নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত চার্জিং ডিভাইস রাখাও উপকারী হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বহনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত নথি সঙ্গে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ পন্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সড়কে চলাচলের সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া বা কানে উচ্চ শব্দে গান শোনা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্জন ও অন্ধকার এলাকায় একা চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শান্ত আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি থামানোর নির্দেশ পেলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানো এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে চলা উচিত। উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আইনজীবীদের মতে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি এবং না বুঝে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কল বা বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা এবং অজানা উৎসে তথ্য প্রদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাড়ির নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। গাড়ির ভেতরে মূল্যবান সামগ্রী দৃশ্যমান স্থানে রেখে গেলে চুরির ঝুঁকি বাড়ে। গাড়ি তালাবদ্ধ রাখা এবং আলোযুক্ত স্থানে পার্ক করা নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। বাসা ফাঁকা থাকা বা চলাচলের তথ্য প্রকাশ করলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। পরিবারের জন্য জরুরি পরিকল্পনা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নেওয়া যাবে- এসব বিষয়ে পরিবারের সবাইকে অবগত রাখা প্রয়োজন। শিশুদের জরুরি নম্বর ও ঠিকানা শেখানোও নিরাপত্তার অংশ। বাসায় ফেরার সময়ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা নিরাপদ অভ্যাসের অংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা ও প্রস্তুতিই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের এলিসভিল শহরের এক মেধাবী শিক্ষার্থী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন। জাইরেউনা কাউসেট নামের এই হাইস্কুল ছাত্রী কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা কর্মসূচি থেকে মোট ২০ লাখ ডলারেরও বেশি স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মোট ২,০০০,০৪৭ মার্কিন ডলারের স্কলারশিপ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ব্যাচের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জিপিএ ছিল ৪.২৩, যা তাঁর ধারাবাহিক শিক্ষাগত সাফল্যেরই প্রতিফলন। জাইরেউনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করি। তবে আমার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম শ্রেণি থেকেই, কারণ আমি কখনও ‘বি’ গ্রেড পাইনি।” তিনি আরও জানান, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন। স্কুলজীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্বগুণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। আগামী শরতে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হবেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (OB-GYN) হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। শিক্ষক ও কমিউনিটির সদস্যরা বলছেন, জাইরেউনার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে বড় স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিতে পারে— তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবিশ্বাস্য এক ঘটনায় মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উদ্ধার হলো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিজয়ী লটারির টিকিট। নিউ জার্সি লটারির পিক-6 ড্রয়ের এই টিকিটটি কেনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ মে, রোজল্যান্ড এলাকার একটি এক্সন গ্যাস স্টেশন থেকে। কিন্তু টিকিট কেনার পর সেটি কোথায় রাখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুলে যান ক্রেতা। লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া একটি বিজয়ী টিকিটের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে টিকিটটি কোন গ্যাস স্টেশন থেকে কেনা হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করা হয়। খবরটি দেখে ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, এটি হয়তো তারই কেনা টিকিট হতে পারে, কারণ ওই গ্যাস স্টেশনটি ছিল তার নিয়মিত যাতায়াতের জায়গা। এরপর তিনি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মীরা জানান, তাদের এখানে নিয়মিত খুব কম সংখ্যক মানুষ Pick-6 টিকিট কিনতেন এবং তাকে বাড়িতে থাকা পুরোনো টিকিটগুলো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে বলেন। পরে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে একটি পুরোনো প্যান্টের পকেটে কুঁচকানো অবস্থায় পাওয়া যায় বহু কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, টিকিটটির মেয়াদ শেষ হতে তখন বাকি ছিল মাত্র আট দিন। অর্থাৎ আর কিছুদিন দেরি হলে প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেত। এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক বাস্তব ঘটনা।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের সব স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে দুটি স্যুটকেস হাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক দক্ষিণ এশীয় তরুণী। দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত হওয়া এবং একদিন ইউনাইটেড নেশন এ কাজ করা। তরুণীর পারিবারিক জীবন সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা একাই তিন সন্তানকে বড় করেছেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের একা বিদেশে পড়তে পাঠানো খুব সাধারণ নয়, সেখানে তার মা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে স্বাধীন ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তরুণী জানান, তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনে সেই চক্র ভাঙতে। মায়ের সেই সাহস এবং আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পৃথিবী। কোনো বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়াই তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজে রান্না করা, পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয় তাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে। প্রথমে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডে আনজা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর ২০২৫ সালের বসন্তে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ পান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। বার্কলিতে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা মাকে ফোন করেন। তখন ভোর ৪টা হলেও মা আনন্দে সেই খবর উদযাপন করেছিলেন। তরুণীর ভাষায়, “বার্কলিতে ভর্তি হওয়া শুধু আমার নয়, আমার মা ও আমার যৌথ সংগ্রামের ফল।” শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছেন তিনি। বার্কলিতে “মুসলিম টেক কোলাবরেটিভ ”–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি (পলিটিকাল ইকোনোমি) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের জীবন ও সমাজকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই তার আগ্রহ বেশি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোর কোনো স্টার্টআপে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই লক্ষ্য থেকেই একদিন জাতিসংঘে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই তরুণী। অনেকের কাছে এটি শুধুই একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি একজন মায়ের সাহস, একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ লায়ন্স বর্ষের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন জেএফএম রাসেল। একই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন মাসুদ রানা তপন। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাবের সদস্যদের সমর্থনে বর্তমান সভাপতি রাসেল আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন। তিনি এর আগে এক মেয়াদে সভাপতি, দুই মেয়াদে সেক্রেটারি, দুই মেয়াদে মেম্বারশিপ চেয়ারম্যান এবং দুই মেয়াদে জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, মাসুদ রানা তপন গত দুই মেয়াদে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন। তার সততা, নেতৃত্বগুণ ও ক্লাবের প্রতি আন্তরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম সেরা ও সম্মানজনক ক্লাব হিসেবে পরিচিত। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর ৫১টি ক্লাবের মধ্যে সদস্য সংখ্যার দিক থেকে এই ক্লাব দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সেবামূলক প্রকল্পের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লাব। গত বছর ক্লাবটি স্থানীয় কমিউনিটি এবং দেশের বাইরের মানবসেবামূলক কার্যক্রমে ২ লক্ষ ডলারের বেশি সেবা প্রদান করেছে। নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন জেএফএম রাসেল এবং সেক্রেটারি লায়ন মাসুদ রানা তপন বলেন, “আমরা সকল লায়ন্স সদস্যকে একটি পরিবারের মতো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে কমিউনিটি, অসহায় মানুষ এবং দেশের বাইরের দরিদ্র মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করা। আমরা এই ক্লাবকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই এবং আগামী বছরকে একটি স্মরণীয় বছরে পরিণত করতে চাই।” নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, নির্বাচিত কমিটি এবং সকল সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা আলাস্কা এয়ারলাইন্স হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে। নতুন এই রুটের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য আরও সহজ ও দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দৈনিক ননস্টপ ফ্লাইটটি হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দর ও হনোলুলুর ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচল করছে। এটি একটি মৌসুমি সেবা, যা আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চালু থাকবে। নতুন ফ্লাইট অনুযায়ী, হনোলুলু থেকে দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে বিমানটি রাত প্রায় ৯টায় বারব্যাঙ্কে পৌঁছায়। আলাস্কা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এই রুট যুক্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার যাত্রীদের জন্য হাওয়াই ভ্রমণ আরও সহজ হবে। এই সংযোজনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার মোট নয়টি বিমানবন্দর থেকে হনোলুলুতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে আলাস্কা এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস, লং বিচ, অকল্যান্ড, অন্টারিও, স্যাক্রামেন্টো, সান দিয়েগো, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসে। এ ছাড়া হাওয়াইয়ের বিভিন্ন গন্তব্য যেমন মাউই, কাউয়াই এবং কাইলুয়া-কোনা থেকেও সংস্থাটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আলাস্কা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যৌথ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ও গন্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির বৈশ্বিক বিক্রয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বাণিজ্য কার্যক্রম বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল থোয়েটস বলেন, দুই সংস্থার সমন্বয়ের ফলে যাত্রীদের জন্য আরও বেশি আসন, ফ্লাইট ও গন্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। নতুন রুটে রিটার্ন টিকিটের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু পরবর্তী সৎকার বা ফিউনারেলের ব্যয় ক্রমেই বেড়ে চলায় তা অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সাধারণ দাফন থেকে শুরু করে কফিন, কবরস্থান, ফিউনারেল হোমের ফি, পরিবহনসহ সব মিলিয়ে ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ন্যাশনাল ফিউনারেল ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (এনএফডিএ) অনুযায়ী, কফিনসহ পূর্ণ দাফন ও সৎকারের জাতীয় গড় খরচ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ ডলার। ভল্টসহ এই ব্যয় প্রায় ৯ হাজার ৯৯৫ ডলারে পৌঁছে যায়। দাহ করার ক্ষেত্রেও গড় ব্যয় ৬ হাজার ২৮০ ডলার। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর এই খরচ গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০২৬ সালে একটি সাধারণ সৎকারের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ৫৯৫ ডলারে নিতে পারে। আঞ্চলিকভাবে এই ব্যয়ের তারতম্য আরও স্পষ্ট। নর্থইস্ট অঞ্চল, বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফিউনারেল ব্যয় জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। দক্ষিণাঞ্চলে যেখানে ব্যয় শুরু হয় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ ডলার থেকে, সেখানে নর্থইস্টে তা ৮ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। একটি পূর্ণ ফিউনারেল প্যাকেজে সাধারণত অনুষ্ঠানের কক্ষ ভাড়া, কফিন, কবরস্থান, ভল্ট, সমাধিফলক ও গাড়ি ভাড়া অন্তর্ভুক্ত থাকে। কফিনই এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ, যার দাম ৯০০ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। দাহ করার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সেটিও উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি দাহ করার গড় ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২০২ ডলার। কিছু এলাকায় তা ৯৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া গেলেও কয়েকটি রাজ্যে এটি ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। সরকারি সহায়তা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মৃত্যুর পর মাত্র ২৫৫ ডলার সহায়তা দেয়, যা শেষকৃত্যের মোট ব্যয়ের তুলনায় নগণ্য। নিউইয়র্কে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। শহরে কয়েক লাখ মুসলিম বসবাস করলেও পৃথক মুসলিম কবরস্থান না থাকায় বিভিন্ন বেসরকারি কবরস্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে কিছু ক্ষেত্রে একটি শেষকৃত্যের খরচ ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন, গুসল, কাফন ও জানাজা সম্পন্ন করতে হয়। ফলে পরিবারগুলো সময় নিয়ে বিকল্প খোঁজার সুযোগ পায় না। এতে আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি এলাকায় বেশ কয়েকটি মুসলিম ফিউনারেল সার্ভিস রয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে সেবা দেওয়া হয়। নিউজার্সির কিছু ইসলামিক সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলারে মৌলিক সেবা পাওয়া যায়। তবে এতে কবরের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে না। মুসলিম ফ্রি ব্যুরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিনামূল্যে দাফনের ব্যবস্থা করে থাকে, তবে তা নির্ভর করে দাতব্য সহায়তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। সভায় মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী দুই মাসের মধ্যে চালু হতে পারে। নিউইয়র্ক সফরকালে আয়োজিত এ সভায় প্রবাসীদের উদ্দেশে মন্ত্রী অতীতের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সকল প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্ল্যাটফর্ম। তিনি সভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বক্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পরিহারের অনুরোধ জানান। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সোসাইটির ৫০ বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং প্রবাসীদের পক্ষে ৯ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সেবা উন্নয়ন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু, মোবাইল কনস্যুলার সেবা চালু এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। সভায় বক্তারা সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাউজিং খাতে অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বক্তাদের মধ্যে বাবরুল হোসেন বলেন, “আরিফুল হক চৌধুরী কর্মী থেকে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।” তিনি তাঁকে ‘সিলেট রত্ন’ হিসেবে অভিহিত করার প্রস্তাব দেন, যা উপস্থিতদের করতালিতে সমর্থন পায়। জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “প্রবাসীদের সর্বস্বান্ত করা ম্যানপাওয়ার ব্যবসার মাফিয়াচক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” হাউজিং খাতে অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্লট বিক্রির নামে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। মন্ত্রী জানান, সরকার প্রবাসীবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করবে এবং তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডধারীরা বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সুবিধা পাবেন। দেশে অবস্থানকালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষায়ও বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ব্যবস্থাও থাকবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান তিনি। এর আগে নিউইয়র্কে ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার জৈন্তা আয়োজিত আরেক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তিনি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হলেও মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ন্যায় ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে কর্মীরা কম খরচে বিদেশ যেতে পারবেন। প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা কঠিন। বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা সমন্বিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে এর দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে ফেন্টানাইল মিশ্রিত নকল ও বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভারতের একটি অনলাইন ফার্মেসির সঙ্গে যুক্ত ১৩ জন ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নকল প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধ সরবরাহ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই ১৩ জন ব্যক্তি কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স এবং এর মালিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তারা ভারত থেকে তাদের এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন। এই চক্রটি অনুমোদনহীন অনলাইন ফার্মেসির আড়ালে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের কাছে নকল ওষুধ বিক্রি করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ওষুধের মধ্যে অতি বিপজ্জনক রাসায়নিক ‘ফেন্টানাইল’ মিশ্রিত ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি। এই অবৈধ মাদক পাচার ও বিক্রি থেকেই এই চক্রটির আয়ের সিংহভাগ আসত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেন্টানাইলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (Weapon of Mass Destruction) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা এই অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ মাদক সিন্ডিকেটগুলো নির্মূল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা আমেরিকান নাগরিকদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা এই অশুভ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমান্ত পারের অপরাধ দমনে উভয় দেশের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এলো, যা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA) -এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। সম্প্রতি আয়োজকরা ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ও বিভিন্ন সাব-কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তালিকায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাবিব আহমেদ টিয়া। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল। আয়োজক কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট, মাসুদ রব চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ এস হক প্রধান সমন্বয়ক এবং ড. মুশফিকুল হক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কনভেনশন সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিদ আহমেদ মিঠু, স্কলারশিপ কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুস রাহী, ইয়ুথ ফোরাম কমিটির চেয়ারম্যান রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান লাসকার আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কমিটির দায়িত্বে শফিক রহমান, গেস্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালেন এলিয়াস খান, গেস্ট অ্যাকমোডেশন কমিটির দায়িত্বে মেহেদী হাসান এবং স্টল ও বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মো শওকত আনজিম। ফোবানা আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ। আয়োজকরা আরও জানান, উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের ফোবানা কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন। আয়োজকদের বলেন, ফোবানা এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় রিয়েল এস্টেট খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশি রিয়েল্টর মোহাম্মদ বি চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি সফলভাবে তার প্রথম হাউস ক্লোজিং সম্পন্ন করেছেন, যা তার পেশাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোহাম্মদ বি চৌধুরী জানান, মানুষের স্বপ্নের বাড়ি খুঁজে পেতে সহায়তা করা তার জন্য শুধু একটি পেশা নয়, বরং দায়িত্ব ও আনন্দের বিষয়। প্রথম ক্লোজিং সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি তার ক্লায়েন্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের আস্থা ও সহযোগিতাই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান কমিউনিটির পরিচিত ব্যক্তিত্ব আসদুজ্জামান খান লিটনের প্রতি, যার অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ তাকে রিয়েল এস্টেট পেশায় আসতে উৎসাহিত করেছে। জর্জিয়াভিত্তিক এই পেশাজীবী বর্তমানে রিয়েল এস্টেটের পাশাপাশি ট্যাক্স, অ্যাকাউন্টিং এবং বিভিন্ন ধরনের ইন্স্যুরেন্স সেবার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তার সেবার আওতায় রয়েছে ফার্স্ট-টাইম হোম বায়ার সহায়তা, সেকেন্ড হোম ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগমূলক সম্পত্তি, কমার্শিয়াল ও ব্যবসায়িক স্পেস কেনাবেচা এবং হোম, অটো ও কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত পরামর্শ। তিনি জানান, বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে দ্বিধায় থাকেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সহজ, নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মোহাম্মদ বি চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে জর্জিয়া, বিশেষ করে আটলান্টা এলাকায় স্থানান্তর হচ্ছেন। কর্মসংস্থান, ব্যবসায়িক সুযোগ এবং তুলনামূলকভাবে ভালো জীবনযাত্রার কারণে আটলান্টাকে এখন অনেকে “দক্ষিণের নিউ ইয়র্ক” বলেও উল্লেখ করছেন। যেসব বাংলাদেশি পরিবার নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, মিশিগান, মেরিল্যান্ড, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে জর্জিয়ায় মুভ করতে চান, তারা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে ভিডিও কলের মাধ্যমেও তিনি ক্লায়েন্টদের বিভিন্ন তথ্য ও গাইডলাইন দিয়ে সহায়তা করে থাকেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারকে বাড়ি কেনা, বিনিয়োগ ও আর্থিক পরিকল্পনায় সহায়তা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। যোগাযোগের জন্য: মোহাম্মদ বি চৌধুরী Real Estate Agent | Tax Pro | Insurance Agent Website: www.mbcassociate.com Email: mohammad.bc.homes@gmail.com Phone: 404-931-2448 / 404-396-3898 অফিস এড্রেস: 5269 Buford Hwy, Doraville, GA 30340, Suite #108
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নতুন অর্থবছরের জন্য ১২৪.৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিতর্কিত প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রস্তাবও বাতিল করেছে তার প্রশাসন। সিটি প্রশাসনের দাবি, শিক্ষা, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সেবাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। বাজেট পরিকল্পনায় সরকারি স্কুল, সাবওয়ে নিরাপত্তা এবং নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের সহায়তায় অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর আগে নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়তে থাকা ব্যয় এবং সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় প্রপার্টি ট্যাক্স বাড়ানোর আলোচনা চলছিল। তবে জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসে মেয়র মামদানির প্রশাসন। মেয়র মামদানি বলেন, কর বৃদ্ধি ছাড়াই ব্যয় পুনর্বিন্যাস, প্রশাসনিক সাশ্রয় এবং বিকল্প রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজেট ভারসাম্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, বাজেটের কিছু অংশ এখনও অস্থায়ী রাজস্ব ও ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আগামী বছরগুলোতে আবারও আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসন ব্যয়, আবাসন সংকট এবং নগর পরিচালনার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধি না হওয়ায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা আপাতত স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে শহরের আয় বাড়াতে প্রশাসনকে নতুন কৌশল নিতে হতে পারে। নতুন বাজেট এখন নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে এটি আগামী অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম শুরু হওয়ার আগেই নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে এয়ার কন্ডিশনার (A/C) ও ফ্যান বিতরণ কর্মসূচি। অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের 'হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম' বা হিপ (HEAP)-এর আওতায় 'কুলিং অ্যাসিস্ট্যান্স বেনিফিট' কর্মসূচির জন্য গত ১৫ এপ্রিল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। মূলত বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, নিম্নআয়ের পরিবার এবং যাদের অতিরিক্ত গরমে গুরুতর শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি করে কুলিং ইউনিট প্রদান করা হবে, যার ক্রয় এবং ইনস্টলেশন খরচ সম্পূর্ণভাবে বহন করবে সরকার। এই কর্মসূচির অধীনে গ্রাহকরা উইন্ডো বা পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার এবং ফ্যানের জন্য সর্বোচ্চ ৮০০ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে যাদের ঘরের গঠনের কারণে ওয়াল স্লিভ ইউনিটের প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ ১ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই সহায়তার মধ্যে কেবল নতুন ইউনিট ক্রয় নয়, বরং পুরোনো ইউনিট অপসারণ এবং এসি বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ছোটখাটো মেরামতের খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যেসব ভবনে কাঠামোগত কারণে এসি বসানো সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে উন্নতমানের ফ্যান সরবরাহ করা হবে। উল্লেখ্য যে, এই সুবিধাটি 'আগে এলে আগে পাবেন' ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে, তাই নির্ধারিত বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলেই আবেদন গ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা অতি সহজেই 'অ্যাকসেস এনওয়াইসি' (ACCESS NYC) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদিকে, সিটির বাইরের বাসিন্দাদের তাদের স্থানীয় হিপ (HEAP) অফিসে ফোন, ডাকযোগে কিংবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য পরিচয়পত্র, বাসস্থানের প্রমাণপত্র, আয়ের তথ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর জমা দিতে হবে। এ ছাড়া বিশেষ শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ হিসেবে ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসকের সনদের প্রয়োজন হতে পারে। মূলত যেসব পরিবার নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে অবস্থান করছে অথবা যারা নিয়মিতভাবে ফুড স্ট্যাম্প (SNAP), টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স কিংবা বিশেষ এসএসআই (SSI) সুবিধা পাচ্ছেন, তারাই এই কর্মসূচির জন্য মূলত যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। নিউইয়র্কে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন দাবদাহের কারণে হিটস্ট্রোক এবং নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয়। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং নাগরিকদের সুস্থতা নিশ্চিতে প্রশাসন সকল যোগ্য বাসিন্দাদের দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইবে (eBay) কে অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া প্রায় ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা) প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবটি দিয়েছিল ভিডিও গেম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গেমস্টপ (GameStop) যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মিম স্টক” হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ইবে (eBay) এর পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, গেমস্টপ (GameStop) এর প্রস্তাব “অযাচিত” এবং “বিশ্বাসযোগ্য বা আকর্ষণীয় নয়”। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, eBay বর্তমানে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং তাদের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফলভাবেই এগোচ্ছে। eBay বোর্ডের পক্ষ থেকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেনকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, এই অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গেমস্টপ (GameStop) এর পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে eBay। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত ছিল না। কারণ গেমস্টপ (GameStop) এর বাজারমূল্য eBay-এর তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এত বড় চুক্তির অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটিও পরিষ্কার ছিল না। যদিও গেমস্টপ (GameStop) দাবি করেছিল, তারা টিডি সিকিউরিটিজের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় ঋণের চাপ ভবিষ্যতে eBay-এর ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। বর্তমানে Amazon, Etsy এবং Temu-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও eBay নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেন এখনই পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, বোর্ড প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি সরাসরি ইবে (eBay) এর শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইবে (eBay) এর নিট মুনাফা বেড়ে ৪১৮.৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ প্রস্তাব সহজেই ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।
অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইবে (eBay) ভিডিও গেম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গেমস্টপের (GameStop) ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের টেকওভার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইবে এই প্রস্তাবকে "অযাচিত" এবং "বিশ্বাসযোগ্য বা আকর্ষণীয় নয়" বলে অভিহিত করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আগে থেকেই এই প্রত্যাখ্যানের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কারণ গেমস্টপ ইবে-এর তুলনায় অনেক ছোট একটি প্রতিষ্ঠান এবং এই বিশাল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে তা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল। ইবে বোর্ড অব ডিরেক্টর্স গেমস্টপের সিইও রায়ান কোহেনকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছে, ইবে একটি "শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক ব্যবসা"। প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে তারা দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি, মুনাফা এবং সম্ভাব্য যৌথ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। এছাড়া গেমস্টপের পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইবে। আমাজন, এটসি এবং টেমুর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে থাকলেও ইবে দাবি করেছে যে তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সফলভাবে কাজ করছে। গেমস্টপ মূলত একটি "মিম স্টক" (meme stock) হিসেবে পরিচিতি পায়, যেখানে খুচরা বিনিয়োগকারীদের প্রভাবে শেয়ার বাজারে নাটকীয় উত্থান-পতন ঘটে। গেমস্টপের বাজারমূল্য ইবে-এর প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। গেমস্টপ জানিয়েছিল, তারা টিডি সিকিউরিটিজের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই চুক্তি ইবে-কে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিত যা মোটেও লাভজনক হতো না। গেমস্টপের সিইও রায়ান কোহেন অবশ্য এখনই হাল ছাড়ছেন না। গত সপ্তাহে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বোর্ড প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে তিনি সরাসরি ইবে-এর শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আবেদন করবেন। ইবে-এর ২০২৫ সালের নিট মুনাফা ৪১৮.৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এখন দেখার বিষয় গেমস্টপ তাদের প্রস্তাব নিয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়।
বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার হু হু করে বাড়ছে। তবে এই প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করার বদলে উল্টো চাকরি কেড়ে নেবে কি না সেই আতঙ্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের মধ্যে তুঙ্গে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশের বেশি শ্রমিক এআই নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন চান। তারা মনে করেন, মালিকপক্ষ বা বড় প্রযুক্তি কোম্পানির চেয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোই তাদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ শতাংশ কর্মীর স্পষ্ট দাবি চাকরি থেকে ছাঁটাই বা পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো যন্ত্র বা এআই নেবে না, এটি নিতে হবে একজন মানুষকে। এ ছাড়া ৯২ শতাংশ কর্মী চান কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। অবাক করার মতো তথ্য হলো, বর্তমানে মাত্র ৭ শতাংশ কর্মী জানেন যে তাদের মালিকপক্ষ এআই ব্যবহার করে তাদের ওপর নজরদারি করছে কি না। এই লুকোচুরি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন কর্মীরা। শ্রমিকদের এই উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে এআই-এর মাধ্যমে কর্মী ছাঁটাইয়ের চেষ্টা। ইতিমধ্যে গণমাধ্যম এবং স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা তাদের চুক্তিতে এআই সুরক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার লড়াই শুরু করেছেন। নার্সদের অভিযোগ, অনেক হাসপাতালে রোগীর অনুমতি ছাড়াই এআই দিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, মানুষের বিচারবুদ্ধি যেন কোনো রোবটের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা না হয়। শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করা যায় এমন প্রশ্নে ৩৯ শতাংশ কর্মীই বেছে নিয়েছেন শ্রমিক ইউনিয়নকে। ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়েও তারা নিজেদের সংগঠনের ওপর বেশি বিশ্বাস রাখছেন। ইউনিয়ন নেতাদের মতে, এই জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে যে এআই-এর এই যুগে মানুষ তাদের কাজের নিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় এখন অনেক বেশি সচেতন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এক স্কুল বাস ড্রাইভার লটারিতে ৫০ লাখ ডলার জিতে রাতারাতি আলোচনায় এসেছেন। সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তির নাম মরিস উইলিয়ামস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বাস চালকের কাজ করছেন। স্থানীয় লটারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মরিস একটি সেভেন ইলেভেন দোকানে থেমে আগের একটি লটারিতে জেতা ৫০ ডলারের পুরস্কার ভাঙান। পরে সেই অর্থ দিয়েই তিনি আরেকটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারির টিকিট কেনেন। গাড়িতে বসে টিকিটটি পরীক্ষা করার সময় প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি জ্যাকপট জিতেছেন। পরে টিকিট স্ক্যান করার পর দেখা যায়, সেটিই ছিল ৫০ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কারজয়ী টিকিট। মরিস বলেন, “প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। স্ক্যান করার পর দেখি মিলেছে ৫৯ নম্বর, আর মজার বিষয় হলো কয়েকদিন আগেই আমার বয়স ৫৯ বছর হয়েছে।” বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের খবরটি তিনি প্রথমে তার মাকে জানান। মরিসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা তাকে শান্ত থাকতে বলেন এবং এই আনন্দের মুহূর্তে পাশে থাকেন। পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিস জানান, সবার আগে তিনি তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি কিনতে চান। এছাড়া বাকি অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করবেন। এদিকে, বিজয়ী টিকিট বিক্রি করার কারণে সেভেন-ইলেভেন দোকানটিও ৫ হাজার ডলারের বিশেষ বোনাস পাবে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মরিসের মায়ের জন্য বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেরিতে ট্যাক্স ফাইল করা বা সময়মতো কর জমা দিতে না পারায় জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করা লাখো আমেরিকান এখন রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। “Kwong v. United States” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ফেডারেল ক্লেইমস রায় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে আইনি বিধান রয়েছে, তা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। আদালতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এই রায়ের ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেরিতে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বা সময়মতো কর পরিশোধ করতে না পারায় যাদের কাছ থেকে জরিমানা ও সুদ আদায় করা হয়েছিল, তারা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমেরিকান হয়তো না জেনেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা পরিশোধ করেছেন। মহামারির সময় চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে বহু মানুষ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করতে পারেননি। আদালতের এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইআরএস এখন পর্যন্ত সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ঘোষণা করেনি। ফলে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য রিফান্ড পেতে আগ্রহীদের নিজেদের ট্যাক্স রেকর্ড পর্যালোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন বা রিফান্ড দাবি জমা দিতে হবে। এছাড়া রিফান্ড দাবির সময়সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই যারা কোভিড সময়ের ট্যাক্স জরিমানা বা সুদ পরিশোধ করেছিলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জর্জিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর শেখ রহমানের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। গতকাল জর্জিয়ার রোডস জর্ডান পার্কে অনুষ্ঠিত “Early Vote & BBQ” অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভোটার ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন শেখ রহমান। তিনি আগাম ভোটদানের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি কমিউনিটির ঐক্য ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। শেখ রহমান বর্তমানে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন তিনি। এবারও তিনি স্টেট সিনেটর পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শেখ রহমানের ভাই ইকবাল, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কমিউনিটির ঐক্য ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, শেখ রহমানের মতো একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকের জর্জিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচনেও তিনি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।