- প্রচ্ছদ
- আমেরিকা
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ চলতি সপ্তাহে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বাজারে এবার তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত হলে ইতোমধ্যে উচ্চ মর্টগেজ রেটের চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং মার্কেটে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টরা। ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের বৈঠকে বসেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে ফেড ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছিল। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার পেছনে মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা CPI মাসিক হিসাবে ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিকে মর্টগেজ রেটও ইতোমধ্যে বাড়ছে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির বার্ষিকীকৃত হার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখের নিচে চলে গেছে। একই সময়ে পেন্ডিং হোম সেলসও কমেছে, ফলে আট মাসের ধারাবাহিক বৃদ্ধির অবসান হয়েছে। তবে ফেডের সুদের হার সরাসরি মর্টগেজ রেট নির্ধারণ করে না। ফেড মূলত ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে মর্টগেজ রেট বন্ড মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই ফেড সুদের হার বাড়ালেই মর্টগেজ রেট একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল মনে করেন, সেপ্টেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াক বা না বাড়াক, মর্টগেজ রেটের ওপর চাপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতারা তুলনামূলক সতর্ক হয়ে উঠছেন। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ফার্স্ট টাইম হোমবায়ার ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্রেতা এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সেকেন্ড হোমের ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাড়ি বিক্রেতাদেরও দাম, মেরামতের খরচ এবং ক্লোজিংয়ের সময় বিভিন্ন কনসেশন নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বেশি সমঝোতা করতে হতে পারে বলে রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাজার ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটা মনে করছেন না অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী। ফলে ফেডের এবারের সিদ্ধান্ত শুধু সুদের হার নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি কেনাবেচা, মর্টগেজ খরচ এবং নতুন বাড়ি কেনার সামর্থ্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগামী কয়েক দিনের সুদের হার ও মর্টগেজ মার্কেটের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না। চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল। ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল। রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে। প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল। হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
করোনাকালীন সরকারি ঋণ কর্মসূচিতে জালিয়াতির সন্দেহে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মিসৌরির কানসাস সিটিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ভ্যান্স বলেন, করদাতাদের অর্থ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের আর সরকারি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, সন্দেহভাজন এসব ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচিতে আবেদন করা থেকে বিরত রাখা হবে। মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএর প্রশাসক কেলি লফলার জানান, নতুন করে স্থগিত করা প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আনুমানিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির যোগসূত্র রয়েছে। এই অর্থ ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সরকারি তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের পদক্ষেপগুলোসহ দেশজুড়ে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসবিএ। এসবিএ জানিয়েছে, স্থগিত করা ঋণগ্রহীতারা ভবিষ্যতে সংস্থাটির ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি এসবিএর ৮(এ) ফেডারেল ঠিকাদারি কর্মসূচিসহ কিছু সরকারি সুবিধাও তাদের জন্য বন্ধ থাকবে। সন্দেহভাজন ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে বিষয়টি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভ্যান্সের ঘোষণার সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কয়েক মাসের একটি বড় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ফলাফল প্রকাশ করেছে। ১২ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং ২০টির বেশি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারী সংস্থা অংশ নেয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৬০ জনের বেশি আসামিকে ঘিরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। এই অভিযানে প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। আরও প্রায় ৪৩ জন এসবিএ-সংশ্লিষ্ট করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪০ জনের সাজাও হয়েছে, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন ব্যবসা দেখিয়ে ঋণের আবেদন, কর্মী ও বেতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, আয় ও ব্যবসার হিসাব পরিবর্তন করা এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ২০২০ সালে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম বা পিপিপি চালু করেছিল মার্কিন সরকার। লকডাউন ও ব্যবসায়িক বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের বেতনসহ নির্দিষ্ট খরচ মেটাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে পরে তা মওকুফ করার সুযোগও ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির আওতায় প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তবে কর্মসূচি দ্রুত চালু করার কারণে ঋণ অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায়। মার্কিন সরকারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিপিপি এবং করোনাকালীন আরেকটি ঋণ কর্মসূচি, অর্থনৈতিক ক্ষতি দুর্যোগ ঋণ বা ইআইডিএল থেকে বিতরণ করা ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থে জালিয়াতির লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে এই পরিমাণকে সরাসরি প্রমাণিত জালিয়াতির অর্থ হিসেবে ধরা যায় না। এটি বিভিন্ন তথ্য, অসঙ্গতি ও জালিয়াতির সম্ভাব্য সংকেতের ভিত্তিতে করা সরকারি হিসাব। করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির অনেক ঘটনা এত বছর পরও কেন সামনে আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সিবিএস নিউজকে বলেন, আগে যেসব মামলার তদন্ত বা বিচার করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থ ছিল না, এখন সেসব মামলা হাতে নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ প্রসিকিউটর এ ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান। গত মাসে বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি শনাক্তকরণ কেন্দ্র চালু করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য নিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ও আবেদন শনাক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতি নিয়ে করা প্রায় ৩০ লাখ রেফারেলের মধ্যে প্রায় ২০ লাখেই অসম্পূর্ণ, ভুল অথবা পুনরাবৃত্ত তথ্য ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। নতুন অভিযানে মিসৌরির একটি মামলাও বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সেখানে জেমি গ্রে নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গ্রে পিপিপি ও ইআইডিএল ঋণের আবেদনে এমন কয়েক ডজন ব্যবসার মালিকানা দাবি করেছিলেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগে বাস্তবে চালু ছিল না। ব্যবসার মালিকানা, কর্মী, আয় এবং কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইওয়াতেও পৃথক একটি মামলায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা আরও শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে প্রায় ৪৭০টি ভুয়া পিপিপি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বিতরণও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মহামারির সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন অভিযান সেই পুরোনো প্রশ্নও সামনে এনেছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির বিস্তৃত স্বয়ংক্রিয় যাচাই ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা হয়। তখন পর্যন্ত ৫২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পিপিপি ঋণ অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল। তদন্তের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেস করোনাকালীন পিপিপি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত ও মামলা করার আইনি সময়সীমা ১০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন মামলা সামনে আসার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি অর্থের অপচয় ও জালিয়াতি বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি বছর বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠন করেছে। পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরকারি অর্থের অপচয়, অপব্যবহার ও জালিয়াতি শনাক্তে একটি আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্সও কাজ করছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য হলো যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই অর্থের অপব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে সরকারি অর্থ ফেরত আনা। সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর কাছে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণাত্মক তৎপরতার বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে। সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহাকাশে পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কক্ষপথে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, কীভাবে কাজ করে কিংবা ঠিক কখন এগুলো কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মেইঙ্ক। সাংবাদিকদের সঙ্গে পরে এক বৈঠকেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করলে প্রতিরোধমূলক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মেইঙ্কের এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মহাকাশে অস্ত্র থাকার সবচেয়ে সরাসরি প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা মহাকাশে সম্ভাব্য সামরিক সক্ষমতা, প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট মোকাবিলা এবং মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললেও কক্ষপথে ইতোমধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি এভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, রাশিয়া ও চীন মহাকাশে এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইটের যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত বা অকার্যকর করতে পারে। এসব আশঙ্কার কারণেই ওয়াশিংটন মহাকাশে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর ভাষায়, ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ’ বলতে এমন সক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মহাকাশে নিজেদের ও মিত্রদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা, দুর্বল করা বা অকার্যকর করা যায়। এসব ব্যবস্থা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই পরিকল্পনার আওতায় কক্ষপথ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। বিমানবাহিনীর সচিব জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার জন্য ইতোমধ্যে উড়ান-প্রস্তুত হার্ডওয়্যার তৈরি হয়েছে। মেইঙ্ক আরও জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত করার স্যাটেলাইট ব্যবস্থার প্রথম উপগ্রহ চলতি মাসেই উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে থাকা শত্রু বিমান বা অন্যান্য উড়ন্ত লক্ষ্য শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী। মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট ও মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। ফলে পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে সামরিক প্রতিযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ নয়। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি বা মহাকাশ চুক্তি পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু প্রচলিত অস্ত্র, স্যাটেলাইট বাধাগ্রস্ত করার ব্যবস্থা বা অন্যান্য অ-পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নেই। গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কার্যক্রম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর মতে, চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশ-বিরোধী সক্ষমতা তৈরি করছে। রাশিয়াকেও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে বলে তারা মনে করে, যা অন্য মহাকাশযানকে আক্রমণ করার সক্ষমতা রাখতে পারে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার দুটি স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত এক ডজন স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা। মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ, নজরদারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখাই শুরুতে এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এখন সেই দায়িত্বের পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাহিনীটি। মেইঙ্কের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে মার্কিন অস্ত্র থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো। তবে সেগুলো কী ধরনের অস্ত্র এবং কী পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত পরিধি আপাতত অজানাই থাকছে। সূত্র: বিবিসি, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন ও মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।
চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারেননি ফক্স রাইকার। ওই বয়সে তার অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি তার পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা ফক্সের শৈশব কেটেছে যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা শেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিয়েছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় কথোপকথন শুরু করা, অন্যের মুখের অভিব্যক্তি বোঝা এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, এসব বিষয় আলাদাভাবে অনুশীলন করতে হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফক্স শুধু যোগাযোগের দক্ষতাই অর্জন করেননি, একাডেমিক ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন। সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সম্মানসহ পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অটিজম সহায়তা কর্মসূচির প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। স্নাতক শেষ করার পর ফক্স পেনসিলভানিয়ার পাওলি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ বা জরুরি অবস্থায় আসা রোগীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করে। ২০২৩ সালে সিবিএস ফিলাডেলফিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা একসময় মনে করেছিলেন তিনি হয়তো স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালের সহকর্মীরা পরে তার কাজের প্রশংসা করেন। পাওলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিল্যান্ট জানিয়েছিলেন, ফক্সকে দেখে কর্মক্ষেত্রে তার অটিজম বোঝার উপায় ছিল না। তিনি ফক্সকে পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও ফক্স নিজের অটিজমের বিষয়টি আড়াল করেননি। বরং মেডিকেল স্কুলের আবেদনে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি তার জীবনের একটি অংশ এবং অটিজমের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের বুঝতে তাকে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। বর্তমানে ফক্স ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক লেখায় তিনি নিজেই তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অটিজম তার জন্য শুধু একটি চ্যালেঞ্জ নয়, রোগীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত রোগীরা জরুরি বিভাগে এলে তাদের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফক্স আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগের কিছু বিষয় তার জন্য এখনো সচেতনভাবে পরিচালনা করতে হয়। চোখে চোখ রাখা, অন্যের অঙ্গভঙ্গি বোঝা কিংবা কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরার মতো বিষয়গুলো তিনি দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেছেন। কখনো কখনো কোনো কথাকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার কারণে ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাকে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সচেতন করেছে। চিকিৎসাবিদ্যায় তার যাত্রা এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। তার সাম্প্রতিক পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাবিদ্যার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফক্সের গল্পটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ঘটনা নয়, অটিজম নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। অটিজমে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও বিকাশের পথ এক নয়। তাই শৈশবের একটি নির্ণয় দিয়ে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ কতটা দূর যেতে পারবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্যও সেটিই বলে জানিয়েছেন ফক্স। তার মতে, অটিজম বা অন্য কোনো স্নায়ুবৈচিত্র্য একজন মানুষের পরিচয়ের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু সেটিই তার সক্ষমতার পুরো পরিচয় নয়। চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে তিনি এখন এমন একটি পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে নিজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে কাজে লাগাতে চান। চার বছর বয়সে যাকে নিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ফক্স রাইকার এখন নিজের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি। তার যাত্রা দেখাচ্ছে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা আশঙ্কা সবসময় তার শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে না। সূত্র: ফক্স রাইকারের লেখা, ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন, সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৮২ লাখ পরিবারকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচের চাপ সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের এককালীন ভর্তুকির চেক দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এসব চেক ডাকযোগে পাঠানো শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে তা বিতরণ করা হবে। গভর্নর ক্যাথি হকুলের প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘প্রটেক্টিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট’ বা ‘পাওয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অঙ্গরাজ্য বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য মোট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮২ লাখ করদাতা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা কমাতেই এই এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শরৎ ও শীতের মাসগুলো সামনে রেখে ঘর গরম রাখা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ে, তখন এই অর্থ তাৎক্ষণিক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। গভর্নর হকুল বলেছেন, নিউইয়র্কের অনেক পরিবার বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচের চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সরাসরি মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে চাইছে। আয়ের পরিমাণ ও কর দাখিলের ধরন অনুযায়ী চেকের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর দাখিলকারী দম্পতি বা দম্পতিদের মধ্যে যাদের ২০২৪ সালের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা ২০০ ডলার পাবেন। একই ধরনের করদাতাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে হলে তারা পাবেন ১৫০ ডলার। আর এককভাবে কর দাখিলকারী যাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা পাবেন ১০০ ডলার। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষের জন্য সময়মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরো বছর নিউইয়র্কের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অন্য কারও কর রিটার্নে নির্ভরশীল ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। চেকগুলো সরাসরি যোগ্য পরিবারের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ বিতরণ চলবে। ফলে সব যোগ্য পরিবার একই দিনে বা একই সময়ে চেক পাবে না। নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবেই এই ১ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে। মে মাসে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি জানায়, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে ‘পাওয়ার’ চেকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নিউইয়র্ক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল কমাতে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি সরাসরি সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, আবহাওয়াজনিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মতো কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এককালীন ১০০ থেকে ২০০ ডলারের অর্থ সহায়তা পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক ব্যয় কিছুটা কমাতে পারলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যের সমস্যার সমাধান করবে না। তাদের মতে, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন। নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর জন্য জ্বালানি খরচ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। রাজ্য সরকারও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বাজেটে ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন প্ল্যান’ নামে একটি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যার লক্ষ্য ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা হলে তার একটি অংশ গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্কের নতুন কর্মসূচিটি অবশ্য প্রচলিত নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসিক সহায়তা কর্মসূচি নয়। বরং নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা বিপুলসংখ্যক করদাতাকে একবারের জন্য সরাসরি অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ। রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৮২ লাখ নিউইয়র্কবাসী উপকৃত হবেন এবং মোট ১ বিলিয়ন ডলার মানুষের হাতে পৌঁছাবে। চেক পেতে যোগ্য বাসিন্দাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে না হওয়ায় রাজ্য আশা করছে, অর্থ সহায়তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফলে ঠিকানা বা করসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের রেকর্ড ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ও নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিং।
ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িপ্রেমী জেমস ওয়েহর ও ফ্লোরিডার তরুণী অ্যালেক্সিস ‘লেক্সি’ ক্র্যামার দুর্ঘটনার আগে দিনটি একসঙ্গেই কাটিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় এক মাস কথা বলার পর প্রথমবারের মতো দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী ক্র্যামার। ২৭ বছর বয়সী ওয়েহর ছিলেন দক্ষিণ অরেঞ্জ কাউন্টির জনপ্রিয় গাড়ি প্রদর্শনী ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা। ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে আরভাইনের কালভার ড্রাইভ ও ডিয়ারফিল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২০১৯ সালের একটি ম্যাকলারেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দিলে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুজনই মারা যান। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ম্যাকলারেনটি একটি লাল বাতিতে থেমে ছিল। সংকেত সবুজ হওয়ার পর গাড়িটি উত্তর দিকে দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের কার্বে ধাক্কা খেয়ে একটি গাছে গিয়ে আঘাত করে। পরে গাড়িটি দুই ভাগে ভেঙে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি ঠিক কত গতিতে চলছিল এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা পুলিশ এখনো জানায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আরভাইন পুলিশের মেজর অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম। দুর্ঘটনার পর ওয়েহরের পরিবার ও তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ওয়েহর সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অরেঞ্জ কাউন্টির গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন। সান ক্লেমেন্টেতে আয়োজিত এই সাপ্তাহিক গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রায়ই হাজারো গাড়িপ্রেমী ও বিভিন্ন ধরনের উচ্চক্ষমতার গাড়ি অংশ নিত। এদিকে ক্র্যামারের পরিবারের এক সদস্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, ওয়েহর তার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথা বলতেন এবং প্রথমবার দেখা করার জন্য তাকে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় উড়িয়ে আনেন। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর পর শনিবার দুজন পুরো দিন একসঙ্গে কাটান বলে পরিবারের সদস্যটি জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়েহর ক্র্যামারকে বলেছিলেন যে তিনি তার স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে আছেন এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অরেঞ্জ কাউন্টির আদালতে তখনও বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েনি। পরিবারের একজন সদস্য ক্র্যামারকে বিষয়টি নিয়ে সতর্কও করেছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। শনিবার সকালে ওয়েহর ও ক্র্যামার একসঙ্গে নাশতা করেন। পরে তারা নোবু রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান এবং এরপর পেনড্রি হোটেলে যান। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্র্যামার পরিবারের এক সদস্যকে নাশতার সময়ের একটি ছবি পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘At cute breakfast place’ বা সুন্দর একটি নাশতার জায়গায় আছি। পরিবারের সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিতে একজন পুরুষের পাশের অবয়ব দেখা যাচ্ছিল এবং তার হাতে থাকা ট্যাটুর সঙ্গে ওয়েহরের ট্যাটোর মিল ছিল। ক্র্যামার এর আগে কখনো ওয়েহরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। ইনস্টাগ্রামের বার্তার মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং প্রায় এক মাস ধরে যোগাযোগের পর এই প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ওয়েহরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের একজন সদস্য দাবি করেছেন, ক্র্যামার জানতেন ওয়েহর বিবাহিত, তবে ওয়েহরের দেওয়া আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন যে তার বিবাহিত সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি ওয়েহরের বক্তব্যকে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন বলে ওই সদস্য জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। আরভাইন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একক গাড়ির দুর্ঘটনা এবং এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে পুলিশ প্রকাশ করেনি। পরে ওয়েহরের পরিবার ও তার গাড়ি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ক্র্যামারের পরিচয় তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তা জানিয়েছে। ওয়েহরের মৃত্যুতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গাড়িপ্রেমী মহলে শোক নেমে এসেছে। গাড়ি প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপাশি তিনি গাড়ি সংস্কৃতি ও উচ্চক্ষমতার গাড়িকে ঘিরে একটি বড় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত চার প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চার প্রান্তিকে মোট ৫ হাজার ৭৯০ জনের নাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা হারানো ব্যক্তিদের তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসীদের করসংক্রান্ত সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের বিশ্লেষণ বলছে, ছয় বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ চার প্রান্তিকের মোট সংখ্যা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ওই সময়ে তালিকায় ১ হাজার ৭৮১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ফলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট নাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৩টি, যা গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে এই তালিকা থেকে ঠিক কতজন ব্যক্তি ওই সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তা সরাসরি বলা যায় না। কারণ ফেডারেল রেজিস্টারে সাধারণত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কখন কোনো ব্যক্তির মর্যাদা পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছে, সেই সময়ের ভিত্তিতে নাম প্রকাশ করা হয়। নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা ত্যাগের প্রকৃত তারিখ এর আগে বা পরে হতে পারে। তালিকায় সাবেক মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কিছু দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীও থাকেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করেছেন। গ্রিনব্যাকের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৫০০ জনেরও কম মার্কিন নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বা ত্যাগ করেছেন। ওই সময়ে বছরে গড়ে নাম প্রকাশিত হয়েছিল ৪৫২টি। ২০১০ সালে বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক সম্পদ ও হিসাবের ওপর নজরদারি বাড়াতে ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট বা এফএটিসিএ পাস হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এই আইনের আওতায় বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের মার্কিন গ্রাহকদের বিদেশে থাকা আর্থিক সম্পদের তথ্য জানাতে হয়। বিদেশে বসবাসকারী অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য এই করব্যবস্থা ও প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম এমন দেশ, যেখানে নাগরিকরা বিদেশে বসবাস করলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ওপর করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকতে হয়। ২০১৪ সালে এফএটিসিএ কার্যকর হওয়ার পর নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে। গ্রিনব্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এক বছরে ৫ হাজার ৪০৯ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা কমে ২ হাজার ৭১-এ নেমে আসে। এরপর ২০২০ সালে তা আরও বেড়ে ৬ হাজার ৭০৫ জনে পৌঁছে, যা তখন আধুনিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা ছিল। এরপর সংখ্যায় কিছু ওঠানামা থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ৫ হাজার ৭৯০ জনের সংখ্যা সেই ধারাবাহিকতারই নতুন উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বসবাসকারী কিছু মার্কিন নাগরিক করব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণেও নাগরিকত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষও কারও কারও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পেছনে একটি বাস্তব ও সরাসরি কারণ হিসেবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াকরণ ফি ৮০ শতাংশ কমিয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল হয়েছে। ২০১০ সালের আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি ছিল না। পরে ৪৫০ ডলার ফি চালু করা হয়। ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। ফলে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের খরচ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছর সেই ফি আবার ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পূরণ, সাক্ষাৎকার এবং আনুষ্ঠানিক শপথের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব হারানোর সনদ অনুমোদন করলে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে দিয়েছে, নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব না রাখলে এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি রাষ্ট্রহীনও হয়ে যেতে পারেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাধারণভাবে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করার অধিকারও থাকে না। করসংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেই আগের সব কর-দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব ত্যাগের আগের সময়ের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী করের দায়ও প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন সরকার আরও জানিয়েছে, কর এড়ানোর উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়েছে বলে নির্ধারিত হলে কিছু পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। গ্রিনব্যাকের সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে শুধু একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। করব্যবস্থার জটিলতা, বিদেশে বসবাসের খরচ, নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়া এবং কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মিলেই এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য প্রকাশের সময় ও প্রকৃত নাগরিকত্ব ত্যাগের সময়ের মধ্যে পার্থক্য থাকায় সংখ্যাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করাও জরুরি। সূত্র: নিউজউইক, গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহান মামদানি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে করা মামলায় নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একাধিক স্থানীয় সরকার এই নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধির মাধ্যমে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার প্রচলিত ও দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রকাশ করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বিধির আওতায় নির্দিষ্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে আয়ভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং আবাসন সহায়তার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কোনো অভিবাসী এসব সুবিধার একটি গ্রহণ করলেই তার ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন বিধান নেই। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যিনি মূলত সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মামলাকারীদের মতে, সাময়িক, সম্পূরক বা নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধাকে এই ধারণার আওতায় বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঐতিহাসিক আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস অতীতে ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে নতুন বিধির মাধ্যমে এর অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মেয়র মামদানি বলেন, নতুন নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যেগুলো তারা আইন অনুযায়ী পাওয়ার অধিকার রাখে। তার আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা আবাসন সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে। মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায় কোনো বোঝা নয়। তারা শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে শিকাগো ও সিয়াটলসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, নতুন নীতি কার্যকর হলে বৈধভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও প্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং নতুন বিধি সেই আইনগত কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য নয়, বরং তার বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক পরিস্থিতি, চাকরি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি দীর্ঘদিনের। তবে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই নীতির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই বিস্তৃত বিধান বাতিল করে তুলনামূলকভাবে সীমিত কাঠামো চালু করে। নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের করা মামলার কারণে বিষয়টি আবার আদালতের সামনে এসেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হবে কি না এবং এর কতটা অংশ বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য শহরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে এক নারী যাত্রীর পোশাক খুলে অশা লী ন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই নারীকে আ ট ক করে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ, যা বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রকাশিত এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম, সংক্ষেপে একার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা ককপিটে যাত্রীর আচরণ সম্পর্কে জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ নম্বর সারির ৯ডি আসনে থাকা ওই নারী সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অশা লী ন আচরণ করেন বলে ক্রুরা রিপোর্ট করেন। কেবিন ক্রুর বার্তার পর বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে ফ্লাইটটি মাঝপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামির দিকেই এগিয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে একটি গোলযোগের ঘটনায় তাদের সদস্যরা সাড়া দেন এবং ঘটনাটি বিমানের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, বয়স এবং কেন তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো—ফ্লাইটে ওই নারীকে ঘিরে একটি গুরুতর আচরণগত গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, বিমানটি মিয়ামিতে অবতরণ করে এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন এমন আচরণ করেছিলেন বা তার পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না। সোর্স: ইউএসএ টুডে, মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিসের বক্তব্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য।
চীনে তিন দিনের একটি কর্মশালায় অংশ নিতে গিয়ে আ ট ক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক মিন জিন। চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে। তবে তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিয়ানমার থেকে চীনের কুনমিংয়ে পৌঁছান মিন জিন। বিমানবন্দরে নামার পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি কুনমিংয়ে পৌঁছেছেন। এরপরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এক চীনা অধ্যাপক। অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরিবারও এ সফর নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল না। কারণ এর আগেও তিনি একাধিকবার একাডেমিক কাজে চীন সফর করেছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরেও চীনা সরকারের সমর্থনে আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৩ জুন দুপুরে কুনমিংয়ে পৌঁছানোর পর মিন জিন ওই অধ্যাপকসহ তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অধ্যাপককে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ল্যান্ডেড, ব্রো’। এরপর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে অধ্যাপক তাঁকে একাধিকবার ফোন করেন এবং বার্তা পাঠান। সন্ধ্যার দিকে মিন জিনের পরিবারও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি যে হোটেল বুক করেছিলেন, সেখানেও তিনি ওঠেননি। তাঁর ফোনের অবস্থান পরে কুনমিং বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে আনিংয়ের লিয়ানরান এলাকায় দেখা যায়। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করার তথ্যও আর পাওয়া যায়নি। পরদিন মিন জিনের স্ত্রী সিলভিয়া জিন একটি চীনা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনে তিনি ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক তদন্ত’ এবং চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য উল্লেখ শুনতে পান। তিনি মিন জিন আ ট ক আছেন কি না জানতে চাইলে ফোনটি কেটে দেওয়া হয়। ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াংঝু কনস্যুলেট থেকে পরিবারকে জানানো হয়, মিন জিনকে চীনের ইউনান প্রদেশে আ ট ক করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন। বর্তমানে মিন জিনকে চীনের ‘নির্দিষ্ট স্থানে আবাসিক নজরদারি’ ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রে প্তার বা অভিযুক্ত করার আগেই গোপন কোনো স্থানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। চীনের আইনে এমন ব্যবস্থায় একজনকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত আ ট ক রাখা সম্ভব। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন জিনকে একটি ছোট জানালাবিহীন কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বলে এবং সব সময় এক বা দুজন প্রহরী তাঁকে নজরদারিতে রাখেন। তিনি বাইরে যেতে বা সূর্যের আলো পেতে পারেন না। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কখনো এর চেয়েও বেশি সময় ধরে। গত তিন মাসে মিন জিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কর্মকর্তার সঙ্গে তিনবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিবার প্রায় ৩০ মিনিট করে হোটেলের একটি কনফারেন্স রুমে তাঁদের দেখা হয়েছে এবং চীনা কর্মকর্তারা পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিন জিনের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও হাঁটুর ব্যথা রয়েছে। মিন জিন মিয়ানমারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নাগরিকত্ব পান। তিনি মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ন ও জাতিগত সংঘাত নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানও ছিল বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, ঠিক কোন কারণে মিন জিনকে আ ট ক করা হয়েছে। তবে তাঁর সাবেক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত একাডেমিক কাজ চীনা নিরাপত্তা সংস্থার নজরে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিন জিনকে অন্যায়ভাবে আ ট ক করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে। এক মুখপাত্র বলেছেন, চীনা সরকারি সংস্থাগুলো মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেছেন, মিন জিন ‘ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’র আওতায় রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর ‘বৈধ অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। চীনে বর্তমানে মিন জিনসহ দুই মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অন্যায়ভাবে আ ট ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যজন হলেন মার্কিন ভূকম্পবিদ ইউলিন চেন, যিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চীনে আ ট ক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে, যা তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার অস্বীকার করেছে। মিন জিনের পরিবার আশা করছে, চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে তাঁর মুক্তির বিষয়টি উঠে আসবে। এর আগে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্য থাকা চীনা যাজক এজরা জিনকে মুক্তি দিয়েছিল। মিন জিনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর দিক সামনে এনেছে। একদিকে চীন বিদেশি বিনিয়োগকারী, গবেষক ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির কঠোর ও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চীনে ভ্রমণ নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা জারি করা কিংবা চীনকে ‘অন্যায়ভাবে আ ট ক করার রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কবার্তাকে ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগকেও তিনি আক্রমণ করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যাল-এ ধারাবাহিক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা এআই পৃথিবী ধ্বংস করবে বলে সতর্ক করছেন এবং ডেটা সেন্টারকে নিজেদের এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলছেন, তারা অতীতেও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাদের বক্তব্যকে ‘হোক্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, একই ধরনের লোকজন এখন নতুন একটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য; এর সত্যতা যাচাই না করে এটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং এতে চীন লাভবান হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো গার্ডরেল বা অতিরিক্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট’। ট্রাম্পের এই অবস্থান এসেছে এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সতর্কবার্তার পর। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অত্যাধুনিক এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুধু মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকিই নয়, চাকরি, গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ও স্থানীয় প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের যুক্তির বিপরীতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না প্রযুক্তি খাতের সবাই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের অপব্যবহার এবং দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে শিল্পখাতের ভেতর থেকেই সতর্কতা বাড়ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাও এআই নীতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে এবং এতে চীন সুবিধা পেতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনে এখন মূল বিতর্ক দাঁড়িয়েছে—এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি নিরাপত্তার জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনা হবে। সোর্স: রয়টার্স ও ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে আর্থিক সংকটে থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ঠেকাতে নতুন একটি সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। ‘নো-ফি মাইক্রোলোন অ্যান্টি-ডিসপ্লেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ নিতে কোনো ফি, সুদ বা জামানত দিতে হবে না। আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্সের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই বছরের পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে বাসাভাড়া পরিশোধে সহায়তা করা। এতে ভাড়া দিতে না পারার কারণে কোনো পরিবার যেন হঠাৎ করে উচ্ছেদের মুখে না পড়ে, সেটিই মূল উদ্দেশ্য। এই কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—ঋণ পেতে ক্রেডিট চেক, সুদ, ফি, ক্রেডিট রিপোর্টিং কিংবা কালেকশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। এমনকি ঋণের জন্য কোনো জামানতও দিতে হবে না। ফলে প্রচলিত ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় থাকা ভাড়াটিয়ারাও এই সহায়তার সুযোগ পেতে পারেন। তবে ৫০০ ডলারের ঋণটি পুরোপুরি ফেরত দিতে হবে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি সপ্তাহে ২০ ডলার করে মোট ২৫ সপ্তাহে অর্থটি পরিশোধ করতে হবে। কোনো সুদ বা অতিরিক্ত জরিমানাও দিতে হবে না। মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স বলেন, অনেক সময় সাময়িক সংকট ও স্থিতিশীলতার মধ্যে পার্থক্য হতে পারে মাত্র কয়েকশ ডলার। তার মতে, এই কর্মসূচি পরিবারগুলোকে নিজেদের ঘরে থাকতে সহায়তা করবে এবং সাময়িক আর্থিক সমস্যাকে উচ্ছেদের মতো বড় সংকটে পরিণত হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করবে। এই উদ্যোগটি আটলান্টার সম্প্রতি অনুমোদিত ‘নেইবারহুড রিইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বৃহৎ প্রকল্পের লক্ষ্য শহরের আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও সহনীয় করা এবং বিভিন্ন এলাকায় বিনিয়োগ বাড়ানো। প্রাথমিকভাবে কর্মসূচির জন্য আটলান্টা শহর ৫০ হাজার ডলার দিচ্ছে। এয়ারবিএনবিও ঋণের খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার ডলার দিয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ফাউন্ডেশন অব গ্রেটার আটলান্টা এবং উইলিয়াম জোসেফ ফাউন্ডেশন—দুটি প্রতিষ্ঠান ঋণের মূলধন হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে দিয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ফ্ল্যাগস্টোন ইনিশিয়েটিভ দুই বছরের পরীক্ষামূলক সময়ে আটলান্টা শহরের হয়ে কর্মসূচিটি পরিচালনা করবে। যোগ্য ভাড়াটিয়ারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন অথবা আটলান্টার হাউজিং হেল্প সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর এক কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য প্রকাশ করে হু ম কি দেওয়ার অভিযোগে গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে এলিয়েসো বালান-জোকয়কে আ ট ক করেছে আইসিই। সংস্থাটির দাবি, বালান প্রকাশ্য একটি ফেসবুক গ্রুপে ওই কর্মকর্তার স্ত্রী ও সন্তানদের স্কুলসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেন এবং এক শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেন। আইসিই জানিয়েছে, বালানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের একটি ডিইউআই (মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো) দণ্ডের রেকর্ডও রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, আইসিইর অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত। সংস্থাটি বলেছে, আইসিই কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হু ম কি কে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং এ ধরনের হু ম কি র জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে বালান আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ চার বছরে সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার আগেই আটকে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ এ বিষয়ে একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা নতুন নিয়মটি আপাতত বাস্তবায়ন করা যাবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা এবং নির্দিষ্ট বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জে ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা চার বছরে সীমিত করার কথা ছিল। চার বছরের বেশি সময় পড়াশোনা বা গবেষণা চালিয়ে যেতে হলে তাদের আলাদাভাবে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে অনুমোদন নিতে হতো। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ‘স্ট্যাটাসের মেয়াদ’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী বা গবেষক তাদের অনুমোদিত শিক্ষাগত বা গবেষণা কার্যক্রম চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন, যতক্ষণ তারা ভিসার শর্ত মেনে চলেন। এই নীতি কয়েক দশক ধরে চালু রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছে, এর সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন নিয়মের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে প্রশাসন। তবে বিচারক সেলার প্রশাসনের যুক্তিকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করেননি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএইচএস নতুন নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ এবং অপেক্ষাকৃত কম কঠোর বিকল্পগুলো যথেষ্টভাবে বিবেচনা করেনি। এই মামলায় একাধিক উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংগঠন নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদি ডিগ্রি ও গবেষণা কার্যক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা ছিল। কারণ অনেক গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জীবনবিজ্ঞান খাতে আন্তর্জাতিক গবেষকদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য এবং অনেক জৈবচিকিৎসাবিষয়ক পিএইচডি সম্পন্ন করতে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে। বিচারকের আদেশে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ‘স্ট্যাটাসের মেয়াদ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের অবদান বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন নিয়মকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। এটি একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়মটি কার্যকর করা বন্ধ থাকবে। পরবর্তী আদালতীয় কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে নতুন ভিসা নীতির চূড়ান্ত পরিণতি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য চার বছরের নতুন সীমা কার্যকর হচ্ছে না। নতুন নিয়ম শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৪০৬ জন মার্কিন সেনা আ হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ জন সেনা নি হ ত হয়েছেন বলে পেন্টাগনের সর্বশেষ ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেম-এর তথ্য জানিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাবে আ হ তের সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় ৬৭ জন বেড়েছে। পেন্টাগনের এই হিসাব ওভারসিজ অপারেশনস নামে আলাদা একটি শ্রেণির আওতাভুক্ত। ৭ জুলাই থেকে এই শ্রেণিতে বিদেশি সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনাদের নি হ ত ও আ হ ত হওয়ার তথ্য রাখা হচ্ছে। এর আগে এসব হতাহতের একটি অংশ অপারেশন এপিক ফিউরি-র হিসাবের মধ্যে ছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর আরও ৬৭ জন সেনা আ হ ত হয়েছেন। তবে নি হ ত সেনার সংখ্যা ৪ জনেই রয়েছে। জুলাইয়ে জর্ডানের মুয়াফাক সালতি এয়ার বেসে হামলায় তিনজন এবং ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও একজন সেনা নি হ ত হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৪০৬ জন আ হ তের সবাই ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে আ হ ত হয়েছেন—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। পেন্টাগনের ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণিতে বিভিন্ন বিদেশি সামরিক কার্যক্রমের হতাহতের তথ্য একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। ফলে কোন ঘটনায় কতজন আ হ ত হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ বিভাজন প্রকাশিত হয়নি। এই হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। জুলাইয়ে পেন্টাগন ডিফেন্স কেসুয়েল্টি এনালাইসিস সিস্টেমে নতুন ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণি চালু করে। এর ফলে ইরান যুদ্ধের আগের হিসাব থেকে চারজন নি হ ত এবং বেশ কিছু আ হ ত সেনাকে আলাদা শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়। এ নিয়ে হতাহতের হিসাব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর আগে আগস্টের হিসাবে অপারেশন এপিক ফিউরি ও ওভারসিজ অপারেশনস মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৭৫০-এর বেশি মার্কিন সেনা আ হ ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছিল। সর্বশেষ ৪০৬ জনের সংখ্যা মূলত ৭ জুলাই থেকে চালু হওয়া ওভারসিজ অপারেশনস শ্রেণির হিসাব। তাই দুই হিসাবকে সরাসরি একসঙ্গে যোগ করে নতুন মোট সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য বিমানের টিকিট কম দামে পেতে হলে শুধু কখন টিকিট কাটছেন, সেটিই নয়, বরং কোন সময়ে ভ্রমণ করছেন এবং কতটা আগে বুকিং করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রার সময় কিছুটা নমনীয় রাখা, আগেভাগে ভাড়া পর্যবেক্ষণ করা এবং সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনের ফ্লাইট বেছে নেওয়ার মতো কৌশলে অনেক সময় টিকিটের খরচ কমানো সম্ভব। নিউ ইয়র্ক ও আটলান্টা ভিত্তিক বাংলা ট্রাভেলের এজেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার একটি ভালো সময় হলো অফ সিজন। তার মতে, সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের সময় ভ্রমণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এই সময়ে ভালো ভাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকে। তার পরামর্শ, একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটার পরিবর্তে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো। সাধারণভাবে অন্তত এক মাস আগে বুকিং করার পরামর্শ দিলেও তিনি দুই থেকে তিন মাস আগে টিকিটের দাম পর্যবেক্ষণ করে বুকিং করার কথা বলেন। কারণ বিমান ভাড়া প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে এবং একই রুটের টিকিটের দামও সময়ভেদে ওঠানামা করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো যাত্রার দিন নিয়ে কিছুটা নমনীয় থাকা। আব্দুল্লাহ আল মামুনের মতে, মঙ্গলবার ও বুধবারের মতো সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ফ্লাইট নিলে অনেক সময় তুলনামূলক কম ভাড়া পাওয়া যায়। গুগল ফ্লাইটস এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবারে উড়লে সপ্তাহান্তের তুলনায় গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কম ভাড়া পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট রুটে প্রতিবার একইভাবে প্রযোজ্য নয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, মঙ্গলবার বা বুধবারে টিকিট কাটলেই যে কম দাম পাওয়া যাবে, এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। গুগল এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের কোন দিনে টিকিট কেনা হচ্ছে, তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই শুধু মঙ্গলবার আসার অপেক্ষায় না থেকে ভাড়া ভালো থাকলে আগেই বুকিং করা বেশি যুক্তিযুক্ত। অনলাইনেও রয়েছে বেশ কিছু কার্যকর কৌশল। গুগল ফ্লাইটস এর প্রাইস ট্র্যাকিং চালু করলে নির্দিষ্ট রুট বা ফ্লাইটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ই-মেইল বা নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। যাদের যাত্রার তারিখে নমনীয়তা আছে, তারা নির্দিষ্ট তারিখের পরিবর্তে এনি ডেটস অপশন ব্যবহার করে কম ভাড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন। আরেকটি সুবিধা হলো ফ্লেক্সিবল ডেটস বা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা। একই গন্তব্যে একদিন আগে বা পরে যাত্রা করলেই কখনো কখনো ভাড়ায় বড় পার্থক্য দেখা যায়। গুগল ফ্লাইটস এর ক্যালেন্ডার ও প্রাইস গ্রাফ ব্যবহার করে বিভিন্ন দিনের ভাড়া একসঙ্গে তুলনা করা যায়। পাশাপাশি কাছাকাছি একাধিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটের দামও যাচাই করা যেতে পারে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গুগল এর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাধারণত আগেভাগে বুকিং করার প্রবণতাই ভালো ফল দেয়। তবে নির্দিষ্ট রুট ও যাত্রার তারিখ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো সময় ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ না করে নিজের রুটের ভাড়া কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা বেশি কার্যকর। কম দামের টিকিট খুঁজতে গিয়ে শুধু মূল ভাড়া দেখলেও চলবে না। লাগেজ ফি, সিট নির্বাচনের খরচ, দীর্ঘ লে-ওভার, বিমানবন্দর পরিবর্তন কিংবা আলাদা টিকিটে যাত্রার মতো অতিরিক্ত বিষয় থাকলে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে সব অতিরিক্ত খরচ যোগ করে মোট ভাড়া তুলনা করা জরুরি। সব মিলিয়ে কম দামে বিমানের টিকিট পেতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে অফ সিজনে ভ্রমণের পরিকল্পনা, দুই থেকে তিন মাস আগে থেকেই ভাড়া পর্যবেক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনের ফ্লাইট বিবেচনা, ফ্লেক্সিবল ডেটস ব্যবহার এবং প্রাইস ট্র্যাকিং চালু রাখা। তবে কোনো কৌশলই প্রতিটি রুটে কম দাম নিশ্চিত করে না। ভ্রমণের মৌসুম, চাহিদা, আসনসংখ্যা এবং এয়ারলাইন্সের মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে টিকিটের দাম পরিবর্তিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা নেওয়ার কারণে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড বা নির্দিষ্ট ভিসার আবেদনে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে—এমন নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহরান মামদানি নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্কসহ কয়েকটি শহর ও কাউন্টির জোট সোমবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করে। একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিও পৃথকভাবে নীতিটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ড বা নির্দিষ্ট ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা আয়ভিত্তিক বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। এর মধ্যে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, হাউজিংসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়মে সরকারি সহায়তা ব্যবহারের বিষয়টি আগের তুলনায় আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিধিও বাড়বে। শহরটির আশঙ্কা, এর ফলে আইনগতভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক অভিবাসী পরিবারও নিজেদের গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিতে অনীহা দেখাতে পারে। মেয়র মামদানি এই সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন নীতির প্রভাব শুধু সরাসরি আবেদনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এর কারণে অন্য যোগ্য পরিবারগুলোর মধ্যেও সরকারি সেবা নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা আইনগতভাবে পাওনা সহায়তা থেকে পরিবারগুলো দূরে থাকলে এর প্রভাব জনস্বাস্থ্যেও পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। মামলায় নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে রয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি এবং ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। অন্যদিকে লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বাধীন পৃথক মামলায় নিউইয়র্কের সঙ্গে আরও ২১টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি যুক্ত হয়েছে। উভয় মামলাতেই নতুন নীতির বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি বিস্তৃত করার উদ্যোগ অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথমবারের মতো নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদেও অনুরূপ একটি নীতি চালু করা হয়েছিল। তখন মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা ও হাউজিং ভাউচারসহ আরও কিছু সরকারি সুবিধা আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ওই নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই হয় এবং পরে বাইডেন প্রশাসন তা বাতিল করে। বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির মাধ্যমে কর্মকর্তারা একজন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারবেন। এর লক্ষ্য হলো ভিসা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করা ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা মূল্যায়ন করা। তবে নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ দিয়েছে—শুধু নতুন নীতির কারণে প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা বন্ধ না করতে। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির অভিবাসন পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে এবং একই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই কোনো সুবিধা বন্ধ করার আগে বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা অনুমোদিত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও বিনামূল্যে ও গোপনীয় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এখনো আদালতে বিষয়টির শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ফলে নতুন নীতিটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, কিংবা আদালত এর বাস্তবায়নে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য কার্যকর হওয়ার তারিখ সামনে থাকায় অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নিজেদের পরিস্থিতি বুঝে আগে থেকেই আইনগত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের 2-K চাইল্ডকেয়ার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার শিশু পূর্ণদিবস ও বছরব্যাপী বিনামূল্যের সেবা পাচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুলের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব পরিবারের জন্য 2-K সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রথম ধাপের কর্মসূচিতে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ছাড়া চার বরোর নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কাজে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এই কর্মসূচির চাহিদা যে কতটা বেশি, তা আবেদনসংখ্যাতেই স্পষ্ট। প্রথম ধাপে মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি আসনের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রায় তিনটি আবেদন ছিল। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পরিবারগুলোর ৮২ শতাংশ তাদের পছন্দের শীর্ষ তিনটির মধ্যে কোনো একটি কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি পরিবার পেয়েছে তাদের প্রথম পছন্দের আসন। পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাশ্রয়ও এই কর্মসূচির অন্যতম বড় দিক। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়ের হিসাবে, একটি বিনামূল্যের 2-K আসন একটি পরিবারকে গড়ে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে। কর্মসূচির উদ্বোধনের দিন মামদানি বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারগুলো অন্তত ২০ হাজার ডলারের বার্ষিক চাইল্ডকেয়ার ব্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। উদ্বোধনের সময় মামদানি বলেন, এই কর্মসূচির ফলে বাবা-মায়েদের সন্তানদের চাইল্ডকেয়ারের খরচ নিয়ে আগের মতো দুশ্চিন্তা করতে হবে না। তিনি এটিকে নিউইয়র্কের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় কিছু পরিবার জানিয়েছে, বিনামূল্যের এই সেবা তাদের কাজে ফেরার বা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শুরুতেই চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানান, কিছু কেন্দ্রে ১০০ জনের বেশি শিশুর ওয়েটলিস্ট ছিল এবং অতিরিক্ত আসন তৈরি হওয়ায় ওয়েটলিস্ট থেকে পরিবারগুলোকে অফার দেওয়া শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটি চালুর আগে অবশ্য কিছু প্রশাসনিক সমস্যাও সামনে এসেছিল। চাইল্ডকেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ পরিশোধে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগস্টে মামদানি প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে ৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং চাইল্ডকেয়ার প্রদানকারীদের পেমেন্ট দ্রুত করার উদ্যোগ ঘোষণা করে। 2-K কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ আরও বড়। নিউইয়র্ক স্টেট প্রথম বছরে এই কর্মসূচিতে ৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। ২০২৭ সালে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১২ হাজার শিশুকে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডও তখন অন্তর্ভুক্ত করার কথা। গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বছরে এ কর্মসূচির জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। মামদানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক সিটির যে কোনো পরিবারের জন্য 2-K আসন নিশ্চিত করা। তবে প্রথম ধাপের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাইল্ডকেয়ার সেন্টার, কর্মী ও অর্থায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের নতুন 2-K কর্মসূচি শুধু দুই বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নয়; কর্মজীবী পরিবারগুলোর চাইল্ডকেয়ার ব্যয় কমানো এবং বাবা-মায়েদের কর্মক্ষেত্রে থাকার সুযোগ তৈরির একটি বড় সামাজিক কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রথম ধাপের বিপুল চাহিদা এর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, নিউইয়র্ক স্টেট, Chalkbeat New York, NBC New York, FOX 5 New York।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।