রংপুর

অভিযুক্ত বরের বাড়ির সামনে মানববন্ধন | ছবি: সংগৃহীত
মোবাইল ফোনে দুই বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ; কুড়িগ্রামে ‘বর তুমি কার?’ স্লোগানে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মোবাইল ফোনে বিয়ে এবং একাধিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই প্রবাসী এক যুবক একই গ্রামের দুই ছাত্রীকে আলাদাভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছেন—এমন খবরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার (১২ এপ্রিল) অভিযুক্তের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন।   স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বড়লই জকরিয়াটারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির ছেলে বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কর্মরত। প্রবাসে থাকাকালে তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজ গ্রামের জিম খাতুন নামের এক কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশ পায় যে, বাবু মিয়া একই কায়দায় পার্শ্ববর্তী নওদাবশ গ্রামের শিরীনা খাতুন নামের আরেক শিক্ষার্থীকেও বিয়ে করেছেন।   এই খবর জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘বর তুমি কার?’ সংবলিত পোস্টার হাতে নিয়ে এই প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান। বড়ভিটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মোবাইল বিয়ের নামে একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি সামাজিক ও নৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নাগেশ্বরী জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৩৩ কেভি লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং লাইনের পাশে থাকা গাছের ডালপালা কর্তন কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নাগেশ্বরী-১ ও নাগেশ্বরী-২ ফিডারের আওতাধীন সকল এলাকায় ওই সময়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে।   নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের (কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কামাল হোসেন জানান, গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতেই এই সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হয়ে গেলে দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রামে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় কুড়িগ্রামে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এই আয়োজন করে জেলা ছাত্রদলের নেতা নাঈম ইসলাম অসীম।   অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে মরহুমা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।   আয়োজক নাঈম ইসলাম অসীম বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেই এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।”   অনুষ্ঠানে বক্তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৭, ২০২৬ 0
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।  ছবি: সংগৃহীত
রংপুর–৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেনকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আখতার হোসেনকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনি পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।   জিডিতে আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, বিকেল অনুমানিক সাড়ে পাঁচটার সময় তিনি পীরগাছা থানার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।   আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশের মতো আমার আসনেও শাপলা কলির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, গোপনে হুমকিও এসেছে। তবে ভয় দেখিয়ে, উড়ো কথা বলে কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাদের জয়যাত্রাকে থামানো যাবে না।   পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী তদন্ত চালানো হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
ভারতের দাদাগিরি এদেশে আর চলবে না: এটিএম আজহার

১১ দলীয় জোটের রংপুর-২ (বদরগঞ্জ–তারাগঞ্জ) আসনের এমপি প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “ভারতের দাদাগিরি এ দেশে আর চলবে না। ১৯৭১ সালে ভারত উপকারের নামে আমাদের শোষণ করেছে। তারা কখনো প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি।”   শনিবার সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মণ্ডলেরহাট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ভারত সবসময় নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং এ দেশের মানুষের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছে। এখনো তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন একটি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে, যারা ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে চায়।   তিনি বলেন, “একটি দল ভারতের মন জোগাতে কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এখন সচেতন। তারা আর এসব ফাঁদে পা দেবে না।”   তিনি আরও বলেন, ওই দলটি অতীতে দুর্নীতিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল এবং আবারও ক্ষমতায় যেতে ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাজনীতি করছে।   ব্যাংক লুট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যারা বলে তারা দুর্নীতি করবে না, তারাই নিজেদের দলে ব্যাংক লুটেরা, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের মনোনয়ন দিচ্ছে।”   ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এটিএম আজহার বলেন, “১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে আমরা কারও সঙ্গে শত্রুতামূলক আচরণ করব না। পার্শ্ববর্তী দেশ যদি বন্ধুসুলভ আচরণ করে, আমরাও বন্ধুত্ব বজায় রাখব। কিন্তু রাষ্ট্রের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো বন্ধুত্ব করা হবে না। ভারত যদি সত্যিকারের বন্ধু হতো, তাহলে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে এত নাটক করত না। আমরা তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায় করে ছাড়ব।”   তিনি আরও বলেন, “ব্যাংক লুটেরারা যদি আবার সংসদে যায়, তাহলে তারা বাকি ব্যাংকগুলোও দেউলিয়া করে ফেলবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে অর্থ পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ ও ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”   নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যারা নারীদের হিজাব খুলে নেয়, পেটে লাথি মারে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। তাদের কাছে নারীরা নিরাপদ নয়। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের বর্জন করতে হবে।”   দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, নারী নির্যাতনকারী ও অর্থ পাচারকারীদের সরাতে হলে দাঁড়িপাল্লাসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।”   রামনাথপুর ইউনিয়ন সভাপতি শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন শহীদ ওসমান হাদী হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ ওসমানী, উপজেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সভাপতি মাসুদ হাসান প্রামানিক, উপজেলা জামায়াতের আমির কামারুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী রানী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিজড়া জনগোষ্ঠীর আনোয়ারা ইসলামী রানী।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর নূরপুরে ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।   আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবিতে আমি রংপুর-৩ আসন থেকে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। এ সময় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরিপ্রেক্ষিতে হরিণ প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বানও জানান ।   তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, তাদের সমর্থক এবং আমার নির্বাচনী কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, আমার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যেন কোথাও কোনো ধরনের উত্তেজনা, সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে বিশ্বাস করি।   কারো সঙ্গে আপোষ কিংবা বিক্রি না হয়ে বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দাবি করে রানী বলেন, আমাকে ভুল বুঝবেন না, কষ্ট পাবেন না। আপনাদের রানী কারো কাছে বিক্রি হয় না, কারো সঙ্গে আপোষ করে না। এটি কোনো বিদায় নয়; এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ়, নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান। একই সঙ্গে আমার এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে সংহতি জানিয়ে আমার হাতকে শক্তিশালী করবেন, যাতে করে হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হয়।   সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনও হয়নি। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিশ্চিত হয়নি। ফলে আমাদের ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি এই শব্দটিকে সমর্থন করি না। আমরা পিছিয়ে পড়া নই, পিছিয়ে রাখা। আমরা কেউ সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা মূলধারায় মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ চাই।   তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে এবং জুলাই জাতীয় সনদের ভবিষ্যতের পথরেখা প্রণয়নের পূর্বেই আমাদের জন্য অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন প্রয়োগের দাবি জানিয়ে আসছি। অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন হলো এমন একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় সংসদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রেও একসময় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে থেকে প্রতিনধিত্ব করা এই মানবাধিকারকর্মী বলেন,  ১৯৭৩ সালে যেখানে ১৫টি সংরক্ষিত আসন ছিল, তা পর্যায়ক্রমে বেড়ে আজ ৫০টিতে পৌঁছেছে। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের মা ও বোনেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে অগ্রগতি অর্জন করছে। কিন্তু  ৫০টি সংরক্ষিত আসনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোন সংরক্ষিত আসন দেয়া হয়নি। নারীদের পাশাপাশি হিজড়া সম্প্রদায়সহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবি জানাচ্ছি। আমরাও সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমাদের প্রান্তিকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।   আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, যুগের পর যুগ ধরে বাংলাদেশে হিজড়া জনগোষ্ঠী, আদিবাসী, হরিজনসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিজ দেশেই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নানাবিদ বঞ্চনার শিকার। পৈতৃক সম্পত্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে তারা বৈষম্যের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সামাজিক বঞ্চনা একসময় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে লাশ দাফন করতেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এই প্রান্তিকতার অবসান চাই।     প্রসঙ্গত, আনোয়ারা ইসলাম রানী ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি এবং রূপান্তরের উদ্যোক্তা। তিনি সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৮১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আনোয়ারা ইসলাম রানী ঈগল প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন।   রংপুর সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলে রংপুর-৩ আসন। এই আসনে ১৬৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২৪০। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৯ জন ও হিজড়া ৫ জন। ইতোমধ্যে রংপুর-৩ আসনে ৫ হাজার ২৩০ ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
আমাকে ভোট দিন, জয়ী হলে সবার বিয়ের ব্যবস্থা করব: এমপি প্রার্থী আশা

রাজনীতির ময়দানে আমরা সাধারণত রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ বা ভাতার প্রতিশ্রুতি শুনে থাকি। কিন্তু ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মণি এবার তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক পথ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নেকমরদ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে একটা করে ভোট দিন, আমি বিজয়ী হলে আপনাদের বিয়ের ব্যবস্থা সহজ করে দেব।”   আশা মণির দাবি, গণসংযোগে গেলে অনেক অবিবাহিত তরুণ ভোটার তাকে কাছে পেয়ে আবদার করছেন যেন তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এই দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করবেন। কেবল তরুণ ভোটার নয়, তিনি দাদা-দাদি, চাচা-চাচিসহ সব স্তরের মানুষের কাছেই ‘বিয়ের উপহার’ হিসেবে ভোট চেয়েছেন।   আশা মণির এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে হাস্যরস। নেটিজেনদের কেউ কেউ এটিকে ‘বিপ্লবী প্রতিশ্রুতি’ বললেও অনেকেই মজা করে লিখছেন, “ভোটের বাজারে বউ বা স্বামী পাওয়ার গ্যারান্টি কেবল আশা মণি আপাই দিতে পারেন!”   প্রার্থিতা: ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আশা মণিসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থী: পুরো জেলায় মাত্র ২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। একজন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জাতীয় পার্টির নূরুন্নাহার বেগম এবং অন্যজন এই আলোচিত আশা মণি। অতীত রেকর্ড: এর আগেও তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লড়েছিলেন, যদিও ভোটের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। তবে হার-জিত যাই হোক, সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন শুধু তাঁরই নাম।

Unknown জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
বক্তব্য দিচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের
গণভোট বেআইনি ও অবৈধ: জি এম কাদের

রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হবে। পার্লামেন্টের বাইরে কথা হবে, চায়ের দোকানে কথা হবে ইউটিউবে কথা হবে। তখন মানুষ বুঝবে, এখানে এই জিনিসটা ভালো, এই জিনিসটা খারাপ– আমি হ্যাঁ ভোট দেবো, না “না” ভোট দেবো। আপনারা কেন আগে থেকে বলছেন– যেখানে মানুষকে আপনি সবগুলো জিনিস বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এবং এই কাজটি যেহেতু সংবিধানসম্মত নয়, এই জন্য আমি মনে করি এই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ।’   শনিবার বিকালে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।   জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, যারা “না” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা নাৎসিবাদের দোসর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটা বেআইনি। এ জন্য যে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সেটাও বেআইনি এবং অবৈধ।’   এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি রংপুরের সন্তান আমাকে রংপুরের জনগণ বিপুল ভোটে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’ তিনি সমবেত জনতাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।   শনিবার বিকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান।   বিকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জিএম কাদের। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং লাঙ্গল মার্কার পক্ষে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান।   এ সময় মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাচ্ছে। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে।   আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে। এ দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, যারা গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।   স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরের আরডিএ ও তাজহাট জমিদারবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন।    এছাড়াও তিনি মিঠাপুকুরে এলজিইডির সড়ক পরিদর্শন ও শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শানেরহাটে নির্মিত রাস্তা পরিদর্শন করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দিনাজপুর: যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের অন্যতম দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।   গত বছরের ১ নভেম্বর হতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর ১৫ দিন পর আবার উৎপাদনে আসে গত ১৪ জানুয়ারি। তবে, ৪ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটিতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম।   রোববার সন্ধ্যায় মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বককর সিদ্দিক জানান, রোববার সকালে প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে এটির মেরামতকাজ শুরু হবে। তবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আবার কবে উৎপাদনে ফিরবে তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এবার উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো, প্রতি ৫ বছর পর পর মেরামত করতে হয়। ইতোমধ্যে ২০ বছর হয়ে গেছে।   তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার উপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে কাজ করছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আবার তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তারপরও আশা করছি, আগামী মার্চে উৎপাদনে ফিরতে পারে। আর দ্বিতীয় ইউনিটির যন্ত্রাংশ দাম বাড়ার অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গরিমসি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0