- প্রচ্ছদ
- তথ্যপ্রযুক্তি
তথ্যপ্রযুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু ও কিশোরদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার বিচার শুরু হচ্ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘসময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন সুবিধা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের তথ্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। মামলাটিতে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে। মেটার আদালতের নথি অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যগুলোর হিসাব অনুসারে সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে মেটা এই অঙ্ককে প্রমাণভিত্তিক নয় বলে দাবি করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মেটা শিশু ও কিশোরদের মনোযোগ ধরে রাখতে লাইক বাটন, অবিরাম স্ক্রল এবং সুপারিশভিত্তিক ব্যবস্থার মতো সুবিধা ব্যবহার করেছে। এসব সুবিধা ব্যবহারকারীদের সামাজিকমাধ্যমে আরও বেশি সময় কাটাতে উৎসাহিত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে থাকেন, বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ তত বাড়ে এবং এর মাধ্যমে মেটা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে বলে জানত এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করেছে। এটি শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২৯টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল মামলায় মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তুলেছে। তবে বর্তমান বিচারপর্বে চার অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অভিযোগও রয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে, মেটা তরুণদের নিরাপত্তার বিষয়ে জনসমক্ষে যে অবস্থান জানিয়েছে, তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের পার্থক্য ছিল। মামলায় মেটার কর্মী ও কর্মকর্তাদের শতাধিক বক্তব্যকে সম্ভাব্য বিভ্রান্তিকর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যস্ত রাখা ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং তাদের চাওয়া আর্থিক জরিমানাও বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি। মেটা আরও বলেছে, তারা কিশোরদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি করেছে এবং শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আদালতে তুলে ধরবে। মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিকমাধ্যমের শিশুদের ওপর প্রভাব নিয়ে চলমান হাজারো মামলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাতেও রায় এসেছে। চলতি বছরের মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মামলায় মেটা ও গুগলকে এক তরুণীর মানসিক ক্ষতির জন্য দায়ী করা হয় এবং ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। নিউ মেক্সিকোতেও মেটার বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে চলা বর্তমান মামলাটি প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। মামলায় বিচারকের পাশাপাশি একটি পরামর্শমূলক জুরি রয়েছে। জুরির মতামত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন জেলা আদালতের বিচারক ইয়ভন গনজালেজ রজার্স। ফলে এই বিচার শুধু মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, সামাজিকমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু ও কিশোরদের প্রতি দায়িত্ব এবং তাদের পণ্য নকশার বিষয়ে ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিজের হাতে পুরো ডিসার্টেশন লেখার পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল যুক্তরাজ্যের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। নিখুঁত ব্যাকরণ, লেখার একই ধরনের ছন্দ এবং কিছু বিরামচিহ্নের ব্যবহার দেখে তার কাজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন একজন পরীক্ষক। অভিযোগ প্রমাণিত ধরে প্রথমে তার নম্বর সীমিত করে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারত। তবে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ডিসার্টেশনে পূর্ণ নম্বর পান। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজের মেডিকেল শিক্ষার্থী হ্যারিসন শার্পলসের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। গত বছরের আগস্টে ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী জানতে পারেন, তার ডিসার্টেশনে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। শার্পলসের ডিসার্টেশনের বিষয় ছিল হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের উদ্বেগ কমাতে প্লে থেরাপির প্রভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার কাজ দুজন মানব পরীক্ষক মূল্যায়ন করেন। তাদের একজন লেখাটিতে সম্ভাব্য এআই ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিবিসির দেখা পরীক্ষকের নোটে শার্পলসের লেখার অত্যন্ত পরিশীলিত ও একই ধরনের ভাষাশৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ধারাবাহিকভাবে প্রায় নিখুঁত ব্যাকরণ, বাক্য ও অনুচ্ছেদের গঠনে মিল এবং লেখার কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা। একই সঙ্গে তার লেখায় এম ড্যাশের ব্যবহারও সন্দেহের কারণগুলোর একটি হিসেবে উঠে আসে। শার্পলস অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করেন, পুরো ডিসার্টেশন তিনি নিজেই লিখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটি শেষ করার জন্য তার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে লিখতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন। ফলে এআই ব্যবহার করার প্রয়োজনই তিনি অনুভব করেননি। অভিযোগ ওঠার পর তাকে ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের একটি প্যানেলের সামনে অনলাইন শুনানিতে অংশ নিতে হয়। সেখানে ডিসার্টেশনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ ও মেডিকেল টার্মের অর্থ জানতে চাওয়া হয়। শার্পলস পরে জানান, এমন ধরনের প্রশ্নের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না এবং শুনানিতে নিজের অবস্থান প্রত্যাশামতো তুলে ধরতে পারেননি। প্রথম শুনানির এক সপ্তাহ পর তাকে জানানো হয়, এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে তার ডিসার্টেশনের গ্রেড সীমিত করে দেওয়া হয়। বিষয়টি তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশার রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানতে পেরে তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল করেন। শার্পলসের আপিলের অন্যতম ভিত্তি ছিল প্রথম শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন। আপিল গৃহীত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। নতুন শুনানিতে তার লেখার প্রক্রিয়া ও কীভাবে তিনি ডিসার্টেশন তৈরি করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। দ্বিতীয় শুনানিতে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল থাকেনি। পরে ডিসার্টেশনের জন্য তাকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়ার কারণে তার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং গ্র্যাজুয়েশনও পিছিয়ে যায়। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মামলার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে, ওই শিক্ষার্থীর আপিল গ্রহণের সিদ্ধান্তটি প্রথম শুনানির আয়োজনসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়াগত সমস্যার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বৃহত্তর শিক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখায় এআই ব্যবহার শনাক্ত করা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। শার্পলসের ঘটনা দেখিয়েছে, শুধু লেখার ধরন, নিখুঁত ব্যাকরণ বা নির্দিষ্ট বিরামচিহ্নের মতো বৈশিষ্ট্যকে সন্দেহের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের নিজের লেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইরানে উদ্ধার হওয়া ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। গত ৪ ও ৫ আগস্ট উদ্ধার হওয়া এই যন্ত্রাংশগুলো বিশ্লেষণ করে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা ইরানের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রটির গাইডেন্স সিস্টেম এবং থার্মাল প্রটেকশন আর্কিটেকচার নিয়ে এতদিন যে অস্পষ্টতা ছিল, তা এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়েছে ধ্বংসাবশেষে পাওয়া একটি ফোর-এলিমেন্ট কন্ট্রোলড রিসেপশন প্যাটার্ন অ্যান্টেনা বা সিআরপিএ (CRPA)। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিং একটি অতি সাধারণ অথচ কার্যকর কৌশল হলেও, এই সিআরপিএ প্রযুক্তির কারণে তীব্র জ্যামিংয়ের মুখেও ‘খাইবার’ তার লক্ষ্যপথে অবিচল থাকতে পারে। সাধারণ অ্যান্টেনার বদলে এটি একাধিক দিক থেকে আসা সংকেতের শক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ফলে আকাশপথে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও স্যাটেলাইট নেভিগেশনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা একেবারেই কম। ক্ষেপণাস্ত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বহুমুখী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অসামান্য সক্ষমতা। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস (GPS) বা রাশিয়ার গ্লোনাস (GLONASS)-এর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ইউরোপের গ্যালিলিও (Galileo) এবং চীনের বেইদু (Beidou) নেটওয়ার্কের সুবিধাও একযোগে কাজে লাগাতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, সংঘাতের সময় শত্রুপক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো স্যাটেলাইট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেও দেয়, তবুও বিকল্প উপায়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এর সাথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS) যুক্ত থাকায় দীর্ঘপথে বিচ্যুতির হারও ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসে। রাতের বেলা বা বৈরী আবহাওয়ায় কমান্ড সেন্টার কিংবা রাডার স্টেশনের মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে আরও বেশি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির টার্মিনাল ফেজ বা উড্ডয়নের শেষ ধাপ। দাবি করা হচ্ছে, খাইবার-এর ট্রাইকনিক ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MaRV) বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে নিজের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। হঠাৎ উচ্চতা বা দিক পরিবর্তনের এই অভাবনীয় সক্ষমতার কারণে প্যাট্রিয়ট, থাড কিংবা অ্যারো-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর পক্ষেও এর গতিপথ অনুমান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সব সময় কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত উপসংহার টানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ। এদিকে, উদ্ধার হওয়া অ্যান্টেনার নকশার সঙ্গে চীনের একটি বাণিজ্যিক মাল্টি-জিএনএসএস অ্যান্টি-জ্যামিং সিস্টেমের দৃশ্যত মিল পাওয়া গেছে। তবে একে সরাসরি চীনের কোনো সামরিক সহায়তা হিসেবে দেখতে রাজি নন অধিকাংশ বিশ্লেষক। তাদের মতে, তেহরান সম্ভবত বেসামরিক বা বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তীতে নিজস্ব দক্ষতায় রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সরঞ্জামে তা সফলভাবে যুক্ত করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সমরাস্ত্রকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকেই প্রভাবিত করবে না, বরং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের হিসাব-নিকাশেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
‘জুরাসিক পার্ক’ কি কখনও বাস্তবে সম্ভব হবে? কোটি মানুষের কল্পনায় ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ঘিরে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এগোলেও প্রকৃত ডাইনোসরকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা বর্তমান বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাস্তবের জুরাসিক পার্ক’ তৈরির একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ইলন মাস্ক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, তিনি আশা করেন কেউ একদিন এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে। তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে ডি-এক্সটিংশন বা বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিনেমায় দেখানো পদ্ধতিতে ডাইনোসর ফিরিয়ে আনা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরদের ব্যবহারযোগ্য ডিএনএ আজ আর সংরক্ষিত নেই। এত দীর্ঘ সময়ে ডিএনএ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে জীবন্ত প্রাণী পুনর্গঠন করা বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়। তবে ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা থেমে নেই। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বায়োটেক কোম্পানি উলি ম্যামথ, ডোডো কিংবা মোয়ার মতো তুলনামূলক সাম্প্রতিক সময়ে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে জিন সম্পাদনা ও আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য মূলত সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, যদিও এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বিতর্কও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে জিন প্রকৌশলে আরও বড় অগ্রগতি এলেও ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মতো প্রকৃত ডাইনোসরের পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত ক্ষীণ। তবে ইলন মাস্কের মন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখা নিয়ে মানুষের কৌতূহল এখনও আগের মতোই প্রবল, আর সেই আগ্রহই ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন নতুন বিতর্ক ও গবেষণার জন্ম দিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নতুন এবং পরীক্ষাগারে কার্যকরভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। বিজ্ঞানীদের মতে, জিনোম নকশায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং জৈবনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ। গবেষণায় তৈরি ১৬টি নতুন ভাইরাসই ব্যাকটেরিওফাজ, অর্থাৎ এমন ভাইরাস যা কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো মানুষের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না এবং মানুষের শরীরকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা নেই। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই বিবিসিকে বলেন, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জিনোম তৈরি করা এই প্রথম, যা জীবন্ত কোষে প্রবেশ করে সফলভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি গবেষণার ক্ষেত্র ছিল।" গবেষণায় ইভো-১ ও ইভো-২ নামে দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের বিপুল পরিমাণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম তৈরি করার জন্য এগুলোকে আরও উন্নত করা হয়। গবেষকরা এআইয়ের তৈরি ৩০২টি সম্ভাব্য জিনোম নকশা পরীক্ষাগারে বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ইশেরিশিয়া কোলাই (ই. কোলাই) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। গবেষক দলের সদস্য স্যামুয়েল কিং জানান, পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার স্তরের মধ্যে পরিষ্কার দাগ দেখা যাওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন যে নতুন ভাইরাসগুলো কার্যকর হয়েছে। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গবেষণাগারে উপস্থিত গবেষকেরা আনন্দে করতালি দেন। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ধরনের চিকিৎসা উদ্ভাবনে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ফাজ থেরাপি বা ব্যাকটেরিওফাজভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়নে এআই-নির্ভর জিনোম নকশা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি জৈবনিরাপত্তা ও জৈব সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক থমাস ইংলসবাই এবং মরিটজ হ্যাঙ্কে বলেন, এই গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে যে এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রযুক্তিটি যেন কোনোভাবেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন নতুন ভাইরাস তৈরির গবেষণা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং এ ধরনের গবেষণায় আরও কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। গবেষক দল জানিয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন কোনো ভাইরাসকে প্রশিক্ষণ ডেটায় অন্তর্ভুক্ত করেননি, যা মানুষ বা অন্যান্য জটিল প্রাণীকে সংক্রমিত করতে পারে। এছাড়া পুরো গবেষণাই উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন পরীক্ষাগারে পরিচালিত হয়েছে। ব্রায়ান হাইয়ের মতে, বর্তমানে বিদ্যমান গবেষণাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নৈতিক তদারকি এই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে স্পেনের পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনথেটিক বায়োলজি গবেষণাগারের অধ্যাপক মার্ক গুয়েল এই গবেষণাকে "জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়" বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের সাহায্যে নতুন জীববৈজ্ঞানিক নকশা তৈরি করে তা বাস্তবে কার্যকর প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। ম্যানচেস্টার ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক প্যাট্রিক কাই বলেন, এই গবেষণা শুধু ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রমাণ করেছে, এআইভিত্তিক জিনোম ভাষা মডেলগুলো ধীরে ধীরে জীবের বিবর্তনের মৌলিক নীতিও বুঝতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এটি এআই-সহায়তায় নতুন জিনোম নকশা ও চিকিৎসা প্রযুক্তির বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এক বছরেরও বেশি সময় মহাকাশে ভেসে থাকার পর অবশেষে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের একটি ওপরের ধাপ (আপার স্টেজ)। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। এই গতি শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, সংঘর্ষের শক্তি ছিল প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য। রকেটটির উৎক্ষেপণ হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এর মাধ্যমে দুটি চন্দ্রযান (লুনার ল্যান্ডার) নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠানো হয়। মিশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ধ্বংস হলেও ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়। স্পেসএক্সের কর্মকর্তা জুলিয়ানা শেইম্যান জানান, সৌর সক্রিয়তা এবং চাঁদ ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে রকেটটির গতিপথ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। শেষ পর্যন্ত সেটি চাঁদের দিকে ধাবিত হয়ে উচ্চগতিতে আঘাত হানে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছিটকে বের হয়েছে। এসব ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ১১৪ মাইল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়নে নাসার ‘লুনার রিকনেসান্স অরবিটার’ (Lunar Reconnaissance Orbiter) আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সংগ্রহ করবে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে নতুন সৃষ্ট ক্রেটারের আকার, গভীরতা এবং ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণার পরিমাণ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য জানা যাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি যদিও পরিকল্পিত ছিল না, তবুও এটি চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো ভারী বস্তু চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, কীভাবে ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং চাঁদের মাটির গঠন কীভাবে পরিবর্তিত হয় এসব বিষয়ে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব মিশন, স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং নতুন মহাকাশযানের নিরাপদ অবতরণের পরিকল্পনায় এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষও ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
অ্যাপলের বছরের সবচেয়ে বড় পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন প্রজন্মের আইফোন উন্মোচনের আগে এবার যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইল স্টোরের কর্মীদের জন্য বিশেষ লটারি চালু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি, যাতে নির্বাচিত কর্মীরা সরাসরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান। ব্লুমবার্গের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোরে কর্মরত কর্মীরা ‘ইভেন্ট সাপোর্ট এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এ অংশ নিতে আবেদন করতে পারবেন। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মীরা অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানানো, সারিবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা, দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিরাপত্তা দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে অতীতের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, অ্যাপল সাধারণত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের নতুন আইফোন উন্মোচন করে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এবারের অনুষ্ঠান অ্যাপলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উন্মোচন হতে পারে। নতুন আইফোনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ডিভাইস এবং সফটওয়্যার আপডেটও ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো নতুন পণ্যের বৈশিষ্ট্য বা মূল্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। অ্যাপলের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গণমাধ্যম, প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং অ্যাপলপ্রেমীদের নজর থাকে এই আয়োজনের দিকে। এ বছরও সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন আইফোন এবং সম্ভাব্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ দুই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স চীনের তৈরি চিপ উৎপাদন সরঞ্জাম পরীক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে চীনে চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি সরবরাহের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স চীনের সাংহাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড মাইক্রো-ফ্যাব্রিকেশন ইকুইপমেন্টের তৈরি এচিং মেশিন পরীক্ষা করছে। চিপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্র সিলিকন ওয়েফারের নির্দিষ্ট অংশ সরিয়ে চিপের সূক্ষ্ম নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। প্রায় দুই বছর আগে এএমইসির এই যন্ত্র পরীক্ষার কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠান দুটি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র চীনে থাকা বিদেশি চিপ নির্মাতাদের মার্কিন সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে এখনো পর্যন্ত এএমইসির যন্ত্র বড় পরিসরে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়নি স্যামসাং বা এসকে হাইনিক্স। তারপরও বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতাদের কাছ থেকে পরীক্ষার সুযোগ পাওয়া চীনা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে চীনের চিপ শিল্পকে ধীর করার লক্ষ্য থাকলেও এর ফলে দেশটির নিজস্ব সরঞ্জাম নির্মাতারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। স্যামসাং জানিয়েছে, তারা চীনের কারখানার জন্য এএমইসির কোনো সরঞ্জাম পরীক্ষা করেনি এবং এমন পরিকল্পনাও নেই। এসকে হাইনিক্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের চীনা কারখানার জন্য বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন চিপ সরঞ্জাম চীনে নিতে প্রতিবার আলাদা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তবে ২০২৫ সালে সেই বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জন্য চীনে থাকা কারখানাগুলোর জন্য কিছু সরঞ্জাম আনার অনুমতি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান দুটি আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে থাকা মার্কিন যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের ওপরও বিধিনিষেধ দিতে পারে। এই ঝুঁকি কমাতে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স চীনা সরবরাহকারীদের বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখছে। তবে এর লক্ষ্য চীনে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো নয়, বরং বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা ও উন্নত করা। স্যামসাং চীনের শিয়ান শহরে ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ তৈরি করে। এসকে হাইনিক্স চীনের দালিয়ানে ন্যান্ড মেমোরি চিপ এবং উশিতে ডিআরএএম মেমোরি চিপ উৎপাদন করে। এসব কারখানায় বর্তমানে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি এচিং যন্ত্রের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। চীনের চিপ সরঞ্জাম নির্মাতারা এচিং, চিপের স্তর তৈরি, পরিষ্কার করা ও পৃষ্ঠ মসৃণ করার মতো প্রযুক্তিতে দ্রুত উন্নতি করেছে। বিশ্বের বড় চিপ নির্মাতারা এসব সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু করলে তা চীনা প্রযুক্তি শিল্পের জন্য বড় স্বীকৃতি হয়ে উঠতে পারে। তবে চীনা সরঞ্জাম নির্মাতাদের সামনে এখনো প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, সীমিত সেবা নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দেশের কারখানায় চীনা সরঞ্জাম ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মহাকাশে ভাসতে থাকা স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় চার টন ওজনের ওই অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আঘাত করে। এ ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে নাসা। রকেটের ওই অংশটি গত বছর থেকে মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসছিল। এটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের দ্বিতীয় ধাপের অংশ, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের একটি চন্দ্রযানকে চাঁদের দিকে পাঠানোর অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, বুধবার নির্ধারিত সময়ে রকেটের অংশটি চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করবে। এর ফলে চাঁদের মাটিতে ধুলা ও পাথরের কণা ছিটকে কয়েক মাইলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সূর্যের আলোতে তৈরি হওয়া এই ধুলার মেঘ পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা কঠিন হবে বলে জানানো হয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষের কারণে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ৬০ ফুট চওড়া এবং ১২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে। মহাকাশ সংস্থাটি ওই স্থানের আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের সুযোগ খুঁজছে। এসব তথ্য কৃত্রিম আঘাত এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের প্রভাব বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে। সাধারণত রকেটের এমন অংশগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে পুড়ে যায় অথবা সমুদ্রে পড়ে যায়। তবে চাঁদে পাঠানো অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত শক্তির কারণে ফ্যালকন-৯ রকেটের দ্বিতীয় ধাপটি মহাকাশে থেকে যায় এবং পরে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসতে থাকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চলতি বছর শনাক্ত করেন, রকেটের ওই অংশটি এমন এক গতিপথে রয়েছে যা শেষ পর্যন্ত চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, সূর্যের কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে বস্তুটি চাঁদের দিকে যাওয়ার পথে চলে যায়। মহাকাশে পড়ে থাকা রকেটের অংশ বা মহাকাশ বর্জ্যের এমন আঘাত চাঁদে খুবই বিরল ঘটনা। এর আগে ২০২২ সালে চীনের একটি রকেট অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করেছিল। ২০০৯ সালে নাসা ইচ্ছাকৃতভাবে একটি রকেট অংশ চাঁদে আঘাত করেছিল গবেষণার উদ্দেশ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদে অবতরণের উদ্দেশ্যে পাঠানো কয়েকটি মহাকাশযানও সফলভাবে অবতরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে রাশিয়ার লুনা-২৫ এবং ভারতের চন্দ্রযান-২ অভিযানের অবতরণযান রয়েছে। নাসা ও স্পেসএক্স ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত চন্দ্র সংঘর্ষ ঠেকানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। এই ঘটনা মহাকাশে থাকা পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
ব্রিটিশ উদ্যোক্তা জেমস ড্যাকোম্ব মাত্র ১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। নয় বছর পর তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওলিক্সের মূল্যায়ন পৌঁছেছে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। লন্ডনভিত্তিক ওলিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করে। সম্প্রতি নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্য আগের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এআই চিপের বাজারে বর্তমানে এনভিডিয়ার আধিপত্য থাকলেও, সেই বাজারে বিকল্প তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ওলিক্স। মাত্র ২৫ বছর বয়সী জেমস ড্যাকোম্ব দুই বছর আগে ওলিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৭ বছর বয়সে তিনি কো-মাইন্ড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলেন। কলেজ ছাড়ার পর পিটার থিয়েলের দাতব্য ফেলোশিপের সহায়তায় তিনি ওই উদ্যোগ শুরু করেন। পিটার থিয়েল ফেলোশিপ একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুদান কর্মসূচি, যেখানে নির্বাচিত ব্যক্তিদের দুই বছরের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রচলিত উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে নিজেদের প্রকল্প বা ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন পরিচিত উদ্যোক্তাও এই ফেলোশিপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জেমস ড্যাকোম্বের আগের প্রতিষ্ঠান কো-মাইন্ড বর্তমানে মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিমাপের মাধ্যমে রোগী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি ব্লেচলি ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি হোল্ডিং প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ বা নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি ওলিক্স ৩১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্ম এবং নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসসহ কয়েকজন বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যা ছয় মাসের মধ্যে বেড়ে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমানে ওলিক্সে ১৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। লন্ডন, ব্রিস্টল ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় রয়েছে। জেমস ড্যাকোম্ব জানিয়েছেন, ওলিক্সের বিশেষায়িত চিপ প্রযুক্তি বড় আকারের এআই মডেল দ্রুত ও কম খরচে পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে। ওলিক্সের তৈরি চিপগুলো এনভিডিয়ার প্রচলিত চিপের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযোগী চিপ তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী বছর গ্রাহকদের কাছে প্রথম তৈরি চিপ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এআই খাতে বর্তমানে এনভিডিয়া সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে ওলিক্সের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষায়িত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই খাতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সার্বভৌম এআই তহবিলও ওলিক্সে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির এআই মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেন, ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ তৈরিতে ওলিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ওলিক্স কর্মীদের জন্য কিছু ভিন্ন ধরনের নীতিও চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীরা নিজেদের উপযুক্ত মনে না করলে চাকরি ছাড়ার জন্য ১৮ সপ্তাহের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। এছাড়া যারা কর্মস্থলের ২০ মিনিটের মধ্যে বসবাস করেন, তাদের অতিরিক্ত মাসিক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লাখ লাখ বই কিনে সেগুলো স্ক্যান করার পর ধ্বংস করছে, এমন অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরোনো ও বিরল বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মলাট কেটে দ্রুতগতির যন্ত্রে স্ক্যান করার পর মূল কপিগুলো নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বই সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলোর চাহিদা বেশি, কারণ এসব বইয়ে এআই-সৃষ্ট লেখা থাকার সম্ভাবনা নেই। ফলে মানবসৃষ্ট উচ্চমানের লেখার মাধ্যমে নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া সহজ হয় এবং তথাকথিত ‘মডেল কলাপস’ বা নিম্নমানের এআই-নির্ভর কনটেন্টে প্রশিক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামে একটি গোপন প্রকল্পে লাখো বই কিনে তাদের মলাট কেটে স্ক্যান করে ‘ক্লড’ চ্যাটবটের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছিল। আদালতে উপস্থাপিত নথিতে প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিপুলসংখ্যক বই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে স্ক্যান করে ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করা। এই প্রকল্পকে ঘিরে লেখকদের করা কপিরাইট মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচারক উইলিয়াম আলসাপ রায় দেন, বৈধভাবে কেনা বই স্ক্যান করে ডিজিটাল কপি তৈরি এবং সেই কপি দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া ‘ফেয়ার ইউজ’-এর আওতায় পড়তে পারে, যদি সেগুলো প্রকাশ বা বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ না করা হয়। তবে একই মামলায় অ্যানথ্রপিকের কাছে সংরক্ষিত লাখো পাইরেটেড বই কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল বলে আদালত মন্তব্য করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি লেখক ও প্রকাশকদের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারে সমঝোতায় পৌঁছায়। বই ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ব্র্যাড কারসন বলেছেন, বর্তমান আইনি কাঠামো বই সংরক্ষণের পরিবর্তে ধ্বংসকে উৎসাহিত করছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও জানিয়েছেন, বিরল বই থাকলে সেগুলো ধ্বংস না করে বিকল্প উপায়ে স্ক্যান ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ফ্যাক্টরি এআইয়ের প্রধান নির্বাহী মাতান গ্রিনবার্গের মতে, যান্ত্রিকভাবে বই ধ্বংসের মধ্যে মানবসভ্যতাবিরোধী একটি দিক রয়েছে এবং ইতিহাস কখনোই বই ধ্বংসকারীদের ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেনি। অন্যদিকে লেখকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ফেয়ারলি ট্রেইনড’-এর প্রতিষ্ঠাতা এড নিউটন-রেক্স প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র কয়েক ডলারে একটি ব্যবহৃত বই কিনে সেটি দিয়ে বাণিজ্যিক এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া কতটা নৈতিক, যদি সেই মডেল পরবর্তীতে লেখকের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করে। এদিকে বিতর্কের পর আইএসবিএনডিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কখনো এআই প্রশিক্ষণের জন্য বই কেনা, স্ক্যান বা বিক্রির সেবা চালু করেনি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি ছিল কেবল বাজারের আগ্রহ যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সেটি কখনো বাস্তবে চালু করা হয়নি এবং ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুরোনো ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-ওয়েস্ট থেকে সোনা উদ্ধার করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ করেন মূল্যবান ধাতু পরিশোধনকারী হিসেবে লাইসেন্সধারী কিয়াও । তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই টন টেলিযোগাযোগ খাতের ইলেকট্রনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তিনি ১৯১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ২৯ হাজার মার্কিন ডলার। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক দর্শকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে, অল্প কয়েকটি পুরোনো সিম কার্ড থেকেই এত সোনা পাওয়া সম্ভব। তবে কিয়াও পরে স্পষ্ট করেন, এটি কোনো ছোট পরিমাণ সিম কার্ড থেকে নয়; বরং বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক টেলিযোগাযোগ খাতের ইলেকট্রনিক স্ক্র্যাপ, চিপ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক উপাদান দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করে ওই পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনলাইনে পুরোনো সিম কার্ড ও ঘরোয়া উপায়ে সোনা বের করার কিট বিক্রির প্রবণতাও দেখা যায়। অনেক বিক্রেতা দাবি করতে শুরু করেন, এসব কিট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষও ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সোনা উদ্ধার করতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু আলাদা করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং এতে শক্তিশালী ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া এ ধরনের কাজ করা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, উভয়ের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অনেক দেশে ই-ওয়েস্ট সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এ ধরনের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করলে আইনগত জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সোনাসহ মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এটি কোনো সহজ বা ঘরোয়া পদ্ধতি নয়। শিল্প পর্যায়ে বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা, উন্নত প্রযুক্তি এবং কঠোর নিরাপত্তা মান অনুসরণ করেই এ ধরনের কাজ পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও দেখে ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষায় না জড়িয়ে এ ধরনের কাজ প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত পেশাদারদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন ওপেনএআই-এর একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে নজিরবিহীন একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সিকিউরিটি পরীক্ষার সময় ওপেনএআই এর একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সুরক্ষিত পরিবেশ (স্যান্ডবক্স) অতিক্রম করে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ঘটনাটি প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের উন্নত এআই এজেন্টগুলোর সাইবার সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, এআই বাস্তব পরিবেশে জটিল সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে কতটা সক্ষম, তা যাচাই করা। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষার এক পর্যায়ে এআই এজেন্টটি সুরক্ষিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর এটি এআই কোম্পানি হাগিং ফেস-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তাদের প্রোডাকশন অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ওপেনএআই এর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই এজেন্টটি ধারণা করেছিল যে পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারে এবং সেই লক্ষ্যেই এটি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাগিং ফেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম। মেটা, গুগল, মাইক্রোসফটসহ অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ডেভেলপার তাদের এআই মডেল, ডেটাসেট এবং গবেষণা প্রকল্প এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও ব্যবহার করেন। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোতে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পর হাগিং ফেস দ্রুত অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে আক্রান্ত সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে, নিরাপত্তা দুর্বলতা বন্ধ করে এবং ঝুঁকিতে থাকা সার্ভিস ক্রেডেনশিয়াল পরিবর্তন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত এআই মডেল, ডেটাসেট বা সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সীমিত কিছু অভ্যন্তরীণ ডেটাসেট ও সার্ভিস ক্রেডেনশিয়ালে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কোন তথ্যে প্রবেশ করা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হ্যাকিং নয় এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়নি। ঘটনাটি ছিল শুধুমাত্র গবেষণা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে। ঘটনার পর ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে হাগিং ফেস তাদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার যৌথ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। আইটি স্পেশালিস্টদের মতে, ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই এজেন্ট তৈরি ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু এআই এর সক্ষমতা নয়, পরীক্ষার অবকাঠামোর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্বের অনেকেই এটিকে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস বা ভিডিও কলে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন সংরক্ষণ করতে চান অনেকেই। তবে জনপ্রিয় এই বার্তাবিনিময় অ্যাপে এখনো সরাসরি কল রেকর্ড করার সুবিধা নেই। ফলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের বিকল্প উপায়ে কল সংরক্ষণ করতে হয়। তবে এ ধরনের রেকর্ডিংয়ের আগে গোপনীয়তা ও আইনগত বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। বর্তমানে কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘কল রেকর্ডার (আর্লি অ্যাকসেস)’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপের অডিও কল রেকর্ড করা সম্ভব। কিছু ডিভাইসে ভিডিও কলের শব্দও সংরক্ষণ করা যায়। তবে এই সুবিধা সব স্মার্টফোনে সমানভাবে কাজ করে না। অ্যাপটি ব্যবহার করতে হলে প্রথমে এটি ইনস্টল করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে। এরপর মাইক্রোফোন, পরিচিতি তালিকা, বিজ্ঞপ্তি ও রেকর্ডিং–সংক্রান্ত অনুমতিগুলো চালু করতে হবে। পরে রেকর্ডিং অপশন সক্রিয় করে প্রয়োজনীয় সেটিংস সম্পন্ন করলেই অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে। সেটআপ সম্পন্ন হওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপে কল শুরু হলে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কথোপকথন সংরক্ষণ করতে পারে। পরে অ্যাপে প্রবেশ করে রেকর্ড করা কল, রেকর্ডের সময় এবং কলের দৈর্ঘ্যসহ বিভিন্ন তথ্য দেখা যাবে। তবে অ্যান্ড্রয়েডের সংস্করণ, মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নীতি এবং সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ডিভাইসে এই সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি অকার্যকর হতে পারে। বিকল্প হিসেবে অনেক স্মার্টফোনে থাকা বিল্ট-ইন ‘পর্দা ধারণ’ সুবিধা ব্যবহার করেও হোয়াটসঅ্যাপের অডিও বা ভিডিও কল সংরক্ষণ করা যায়। ফোনে এ সুবিধা না থাকলে নির্ভরযোগ্য পর্দা ধারণকারী অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করা অনেক দেশে আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই যেকোনো কল রেকর্ড করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া এবং স্থানীয় আইন মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উপায়।
পৃথিবীর কক্ষপথে ভেসে থাকা স্পেসএক্সের একটি ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশ আগামী ৫ আগস্ট চাঁদের পৃষ্ঠে অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনাজনিত বিপর্যয় নয়; বরং মহাকাশ গবেষণার জন্য বিরল এক পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার) গতিতে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত করবে। এতে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া এবং ১৬ ফুট গভীর একটি নতুন গর্ত তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ধুলা ও শিলাখণ্ডের একটি বিশাল মেঘ তৈরি হবে, যা শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। রকেটের এই অংশটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। ওই মিশনে ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ব্লু ঘোস্ট এবং জাপানের আইস্পেসের হাকুটো-আর চন্দ্রযান বহন করা হয়। মিশন শেষে রকেটের উপরের ধাপটি মহাকাশে ভেসে থাকে এবং পরে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সংঘর্ষ পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না এবং বর্তমানে চাঁদে থাকা কোনো কার্যকর মিশনের ওপরও প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি মানুষের তৈরি মহাকাশযানের চাঁদে আঘাতের বিরল ঘটনা হওয়ায় গবেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এই সংঘর্ষ থেকে উড়ে যাওয়া ধুলা, গর্তের আকার এবং প্রভাব বিশ্লেষণ করে চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার (এলআরও) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি চন্দ্রযান সংঘর্ষস্থলের আগে ও পরে ছবি তুলে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন মানমন্দির ও অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা মহাকাশে ক্রমবর্ধমান 'স্পেস জাঙ্ক' বা মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে চাঁদে মানব ও রোবোটিক অভিযান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহৃত রকেট ও অন্যান্য মহাকাশযানের অংশ কীভাবে নিরাপদে অপসারণ করা হবে, সেটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে দ্রুত উত্থান হওয়া ২৪ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ও সাবেক ওপেনএআই গবেষক লিওপোল্ড আশেনব্রেনারের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহটি পরিণত হয়েছে বড় সংকটের সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিয়ের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হেজ ফান্ড 'সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস' বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঋণনির্ভর বিনিয়োগের কারণে তহবিলটির সম্পদের মূল্য দ্রুত কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আশেনব্রেনার বিশ্বের কয়েকটি বড় হেজ ফান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে কেন গ্রিফিনের প্রতিষ্ঠান সিটাডেলের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ বিক্রি করা হয়। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে আশেনব্রেনার জানান, তিনি তার তালিকাভুক্ত শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করেছেন এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে তহবিলকে আরও স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনা হবে। একসময় প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই তহবিলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে। সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকে তাদের বড় অংশীদারিত্ব এখনো ধরে রাখা হয়েছে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আশেনব্রেনার অল্প বয়সেই প্রযুক্তি অঙ্গনে পরিচিতি পান। মাত্র ১৯ বছর বয়সে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এফটিএক্সে কাজ করেন। পরে ২০২৩ সালে ওপেনএআইতে যোগ দিয়ে সুপারইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা একটি দলে যুক্ত হন। তবে প্রায় এক বছর পর গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তাকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলেও সেই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওপেনএআই ছাড়ার পর তিনি 'সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস: দ্য ডিকেড অ্যাহেড' নামে ১৬৫ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা ওই প্রবন্ধ প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং অনেক প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে সেই নামেই তিনি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। স্ট্রাইপের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক ও জন কলিসন, ন্যাট ফ্রিডম্যান এবং ড্যানিয়েল গ্রসের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এই তহবিলে বিনিয়োগ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ারে অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি এই ধসের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এআই খাতের শেয়ারের দরপতনের পর ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার চাপ তৈরি হলে তহবিলটি দ্রুত সম্পদ বিক্রিতে বাধ্য হয়। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে এই সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ার কারমেলে দীর্ঘদিনের সঙ্গী অ্যাভিটাল বালউইটকে বিয়ে করেছেন আশেনব্রেনার। তবে বিয়ের আনন্দের পাশাপাশি এখন তাকে সামাল দিতে হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত হেজ ফান্ড সংকটও।
ব্যবহারকারীদের অপব্যবহার ও ভুয়া ছবি তৈরির আশঙ্কায় গুগল তাদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির ফিচার চালুর মাত্র এক দিনের মধ্যেই স্থগিত করেছে। গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া এই পরীক্ষামূলক সুবিধাটি বাস্তব স্থানের ওপর কৃত্রিমভাবে তৈরি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছবি বসানোর সুযোগ দিচ্ছিল, যা দ্রুতই ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া নতুন এআই ফিচারটি ব্যবহার করে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানের স্যাটেলাইট ও থ্রিডি দৃশ্যের ওপর নতুন ছবি তৈরি করা যাচ্ছিল। তবে চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, বিস্ফোরণ, শরণার্থী শিবির, বন্যা এবং বিভিন্ন দুর্যোগের কাল্পনিক দৃশ্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেন। এরপর নিরাপত্তা বিশ্লেষক, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) গবেষক এবং তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, গুগল আর্থের মতো দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাস্তব ও কৃত্রিম ছবির পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং ভুয়া তথ্য শনাক্ত করাও আরও জটিল হবে। সমালোচনার মুখে গুগল জানায়, তারা জানে মানুষ বাস্তব পৃথিবীর নির্ভরযোগ্য চিত্র দেখার জন্য গুগল আর্থের ওপর আস্থা রাখে। যদিও অনেক ভূ-তথ্য বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক কাজে এই ফিচার ব্যবহার করছিলেন, তবুও কিছু ব্যবহারকারী এমন ছবি তৈরি ও শেয়ার করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গুগল আরও জানিয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো মূল গুগল আর্থের মানচিত্র বা স্যাটেলাইট চিত্রের অংশ ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতে এআই-উৎপাদিত হওয়ার ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল। তবুও এসব ছবি স্ক্রিনশট আকারে সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারায় বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত উন্নত হওয়ায় বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি তৈরি আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ফলে সাংবাদিকতা, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিজ্যুয়াল তথ্য সংরক্ষণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের এই সিদ্ধান্ত দেখায়, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি ভুল তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাপলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় সাময়িক প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বহু ব্যবহারকারী লেনদেন সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে অ্যাপল পে, অ্যাপল ক্যাশ ও ওয়ালেট-সংক্রান্ত সেবায় অর্থ পাঠানো, গ্রহণ এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিঘ্নের অভিযোগ উঠে আসে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে জানান, লেনদেনের সময় "Unable to Connect to Wallet Services"সহ বিভিন্ন ত্রুটি বার্তা দেখা যাচ্ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা অ্যাপল ক্যাশে যোগ হয়নি বা প্রাপকের কাছে পৌঁছেনি। অ্যাপলের সিস্টেম স্ট্যাটাস পেজেও সাময়িকভাবে স্বীকার করা হয় যে, কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপল ক্যাশ সেবায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক জানায়, বিভ্রাট চলাকালে অনেক ব্যবহারকারী দোকানে কেনাকাটা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ পাঠানো এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের মতো কাজে সমস্যার সম্মুখীন হন। একই সময়ে ডাউনডিটেক্টরসহ বিভিন্ন সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনলাইন আলোচনায় অনেক ব্যবহারকারী জানান, তারা অ্যাপলের গ্রাহকসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা বলে জানানো হয় এবং প্রকৌশলীরা সমাধানে কাজ করছেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে কখন পুরোপুরি সেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। এরপর ধীরে ধীরে সেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে অ্যাপলের সর্বশেষ সিস্টেম স্ট্যাটাস অনুযায়ী অ্যাপল পে এবং সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ সেবা সচল রয়েছে।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীদের জন্য ‘এক্স মানি’ নামে নতুন আর্থিক সেবা চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রণভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠাতে পারবেন, পাশাপাশি পাবেন ভিসা-সমর্থিত ডেবিট কার্ড ও অন্যান্য ব্যাংকসদৃশ সুবিধা। নতুন সেবাটি বর্তমানে এক্সের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। ‘এক্স মানি’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ জমা রাখা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি-টু-পি) অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরাসরি বেতন গ্রহণ (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) এবং ভিসা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করা যাবে। এ সেবার ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে রয়েছে ক্রস রিভার ব্যাংক। এক্স জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যবহারকারীরা জমাকৃত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক মুনাফা এবং যোগ্য কেনাকাটায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। ডেবিট কার্ডটি এটিএম থেকেও ব্যবহার করা যাবে এবং অ্যাপল ওয়ালেটের মতো ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গেও সংযুক্ত করা যাবে। দীর্ঘদিন ধরেই ইলন মাস্ক এক্সকে একটি ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা বহুমুখী সেবা প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদান-প্রদান এবং আর্থিক সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার লক্ষ্যেই ‘এক্স মানি’ চালু করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন এ আর্থিক সেবা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সেবাটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি দক্ষিণ ফ্রান্সে দারুণ রোমান্টিক সময় কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার বন্ধুদের একটি দলের সঙ্গে নৌবিহারে গিয়ে এই জুটিকে বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। পেজ সিক্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা যায়, হালকা নীল রঙের একটি স্প্যাগেটি-স্ট্র্যাপ পোশাক পরিহিত কেটি পেরির বুকে পরম যত্নে সানস্ক্রিন মাখিয়ে দিচ্ছেন ট্রুডো। চোখে রোদচশমা এবং কানে বড় দুল পরা ‘ফায়ারওয়ার্ক’ খ্যাত এই গায়িকা তখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে খালি পায়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে দুজনকে নৌকায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। শনিবার সুইজারল্যান্ডে পারফর্ম করার মাধ্যমে নিজের ‘ইউরো সামার ফেস্টিভ্যাল’ ট্যুর শেষ করেছেন কেটি পেরি। মূলত দীর্ঘ এই কনসার্ট ট্যুরের ক্লান্তি দূর করতেই তিনি এই অবকাশ যাপনে বের হয়েছেন। গত মাসেই একটি সূত্র জানিয়েছিল যে, কাজের ফাঁকে প্রেমিক এবং সম্ভব হলে সন্তানদের নিয়ে ইয়টে করে সুন্দর কোনো জায়গায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এই পপ তারকা। নৌবিহার শেষে এই জুটিকে ডক ধরে হাঁটতেও দেখা যায়। সে সময় ৪১ বছর বয়সী পেরির চোখ ছিল মোবাইল ফোনে এবং ৫৪ বছর বয়সী ট্রুডোর কাঁধে ছিল একটি বড় টোট ব্যাগ। ক্যাজুয়াল এই আউটিংয়ে ট্রুডোর পরনে ছিল জলপাই রঙের লম্বা হাতার শার্ট, খাকি রঙের প্যান্ট এবং বাদামি স্যান্ডেল। দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রেম করছেন ট্রুডো ও পেরি এবং নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের কোনো রাখঢাক নেই। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় একটি রোমান্টিক পিকনিকের সময় তাদের আবেগঘন চুম্বনের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছিল। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মন্ট্রিয়লে প্রথম ডেটের পর থেকেই তারা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, দুজনেই তাদের আগের সিরিয়াস সম্পর্ক থেকে সদ্য বেরিয়ে এসেছিলেন এবং পেরি নিজেও ভাবেননি যে তিনি এত দ্রুত কারও প্রেমে পড়বেন। কেটি পেরি তার প্রাক্তন বাগদত্ত অরল্যান্ডো ব্লুমের ৫ বছর বয়সী মেয়ে ডেইজির মা। অন্যদিকে, জাস্টিন ট্রুডো তার প্রাক্তন স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের ঘরের তিন সন্তান—জেভিয়ার (১৮), এলা-গ্রেস (১৭) এবং হ্যাড্রিয়েন (১২)-এর বাবা। আগের সম্পর্কের তিক্ততা ভুলে বর্তমানে তারা দুজন দারুণ সময় পার করছেন। পেরির মতে, জীবনসঙ্গীর মধ্যে তিনি যা যা খুঁজছিলেন, ট্রুডোর মধ্যে তার সবই আছে। কানাডার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দুর্দান্ত রসবোধ, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং পুরোদস্তুর ভদ্রোচিত আচরণের কারণেই পেরি তার প্রতি ভীষণ মুগ্ধ।
অ্যাপলের আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন সফটওয়্যার আপডেট প্রকাশ করেছে, যেখানে ডিভাইসের নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের দ্রুত আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপলের নতুন আপডেটে এমন কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতা ঠিক করা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা হ্যাকাররা আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর আক্রমণ চালানোর সুযোগ পেতে পারে। অ্যাপল নিয়মিতভাবে আইওএস আপডেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধান করে থাকে। তবে অনেক ব্যবহারকারী নতুন আপডেট আসার পরও তা ইনস্টল করতে দেরি করেন, যা তাদের ডিভাইসকে সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নতুন ফিচারের জন্য নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সফটওয়্যার আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইফোনে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আপডেট উপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যবহারকারীরা আইফোনের সেটিংস অপশনে গিয়ে সফটওয়্যার আপডেট বিভাগ থেকে নতুন আপডেট উপলব্ধ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে পারবেন। অ্যাপল ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ডিভাইস নিরাপদ থাকে। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার এবং অপরিচিত লিংক এড়িয়ে চলা স্মার্টফোন নিরাপদ রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।