সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

তথ্যপ্রযুক্তি

ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও বড় একটি আয়ের প্ল্যাটফর্ম। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুকে শুধু সময় কাটানো নয়, নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ

ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও বড় একটি আয়ের প্ল্যাটফর্ম। নিয়মিত মানসম্মত রিলস, ভিডিও, ছবি, স্টোরি ও লিখিত পোস্ট তৈরি করে নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ রয়েছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেসবুক কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ এসেছে রিলস থেকে।   ফেসবুকের কনটেন্ট আয় ব্যবস্থা মূলত কনটেন্টের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। দর্শনসংখ্যা, কতক্ষণ মানুষ কনটেন্ট দেখছে এবং দর্শকের সম্পৃক্ততার মতো বিষয় আয়ের পরিমাণে প্রভাব ফেলে। তবে কনটেন্ট তৈরি করলেই সবার আয় চালু হয় না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং ফেসবুকের নীতিমালা মেনে চলতে হয়।   ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রফেশনাল মোড চালু করেও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করা যায়। নিয়মিত ভ্রমণ, রান্না, প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রবাসী জীবন, স্থানীয় খবর, বিনোদন বা নিজের দক্ষতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ধীরে ধীরে দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব। রিলস ও অন্যান্য কনটেন্ট থেকে আয়, দর্শকদের তারকা চিহ্নের মাধ্যমে সমর্থন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে।   ফেসবুক থেকে আয় করার সুযোগ শুধু প্ল্যাটফর্মের সরাসরি অর্থ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন নির্মাতা নিজের তৈরি দর্শকগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রচারণামূলক কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের ব্যবসা, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও ফেসবুককে ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ভালো দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হলে একাধিকভাবে আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়।   নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করা। শুরুতেই বড় সংখ্যক অনুসারী বা লাখ লাখ দর্শনসংখ্যার প্রত্যাশা না করে মানুষের কাজে লাগে এমন কনটেন্ট তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান কিংবা দক্ষতাকে সহজভাবে তুলে ধরলে ধীরে ধীরে দর্শকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।   তবে অন্যের ভিডিও কপি করে বা সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করলে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া কঠিন। মেটা এখন নিজস্বভাবে তৈরি কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিম্নমানের বা পুনরায় প্রকাশ করা কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে দিচ্ছে। তাই কনটেন্ট নির্মাতাদের উচিত নিজের ধারণা, নিজের উপস্থাপনা এবং নতুন তথ্য বা বিশ্লেষণ যুক্ত করে দর্শকদের জন্য আলাদা মূল্য তৈরি করা।   বড় ক্যামেরা বা স্টুডিও ছাড়াও একটি ভালো স্মার্টফোন দিয়েই শুরু করা যায়। পরিষ্কার শব্দ, ভালো আলো, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে একজন নতুন নির্মাতাও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং দর্শকের আস্থা ধরে রাখতে পারলে ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলও ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য আয়ের মাধ্যমে পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১১:১১
AI আমাদের ভবিষ্যৎ বদলাবে—তবে নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপদও ডেকে আনতে পারে
এআই নজরদারি ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে, সতর্ক করলেন বারাক ওবামা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ নজরদারি না থাকলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   ১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেশনাল ক্যাম্পেইন কমিটির একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন ওবামা। তার বক্তব্যের আংশিক প্রতিলিপি পরে তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয় এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা প্রকাশ করে।   ওবামার মূল উদ্বেগ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর বড় একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত এগোচ্ছে এবং এর ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তবে যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে এআই মানুষের জন্য বড় ধরনের সুফলও বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।   এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রযুক্তিটি ওষুধ তৈরির গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে দিতে পারে এবং রোগ নিরাময়ের নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তবে ওবামার উদ্বেগ শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নয়। এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা, শিশুদের ওপর এর প্রভাব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকেও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এআই নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওবামা।   ডেমোক্র্যাটরা যদি আগামী নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তাহলে এআই নিয়ে একটি বিস্তৃত ও প্রকাশ্য নীতিগত আলোচনা শুরু করার জন্য জেফরিসকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ওবামা। তবে জেফরিস এখনো হাউসের স্পিকার নন; তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই তিনি সেই পদে যেতে পারেন।   এআই ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ভোটারদের মধ্যে চাকরি, বিদ্যুৎ খরচ, গোপনীয়তা এবং এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।   ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এআই নিয়ে নীতিগত অবস্থান তৈরির চাপ বাড়ছে। এর আগে দলটির কয়েকজন সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ ও এআই নিরাপত্তা সমর্থক মিলে ‘টুমরো টুগেদার’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য এআই নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট করা।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:১৩
অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপারদের ২৭০ কোটি ডলারের মামলা

ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় অ্যাপলের চালু করা অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিই এবার বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাপ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ, অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি ব্যবস্থা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছে, অথচ নিজেদের বিজ্ঞাপনসেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে।   মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা অ্যান পোপের নেতৃত্বে অ্যাটিটি কালেক্টিভ অ্যাকশন লিমিটেড এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনজীবী প্রতিষ্ঠান হাউসফেল্ড মামলাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।   অ্যাপল ২০২১ সালে অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি বা এটিটি ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাপ ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে তথ্য ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।   আইফোন বা আইপ্যাডে কোনো নতুন অ্যাপ খোলার সময় অনেক ব্যবহারকারী যে অনুমতির বার্তা দেখতে পান, এটিই সেই ব্যবস্থা। সেখানে ব্যবহারকারীকে জানতে চাওয়া হয়, অ্যাপটি অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবে কি না। ব্যবহারকারী অনুমতি না দিলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।   মামলাকারী অ্যাপ নির্মাতাদের অভিযোগ, এই নীতি চালুর ফলে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁদের দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন ও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর যে ধরনের অনুমতির শর্ত আরোপ করেছে, নিজেদের সেবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেনি। এর ফলে অ্যাপলের নিজস্ব বিজ্ঞাপন ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা।   মামলার নেতৃত্ব দেওয়া অ্যান পোপ বলেন, অ্যাপলের নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটিশ ব্যবসাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর অধিকার রক্ষা এবং অ্যাপলের প্রয়োগ করা নিয়ম সবার জন্য সমান কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও মামলার অন্যতম লক্ষ্য।   অ্যাপল অবশ্য অভিযোগ মেনে নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের নিজেদের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। অ্যাপলের দাবি, অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা উচিত।   অ্যাপল আরও বলেছে, এটিটি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য অ্যাপ নির্মাতাদের মতো একই নিয়মের অধীন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীরা এই গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন পক্ষও এর প্রশংসা করেছে।   যুক্তরাজ্যের এই মামলা অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে ইউরোপে চলমান নিয়ন্ত্রক নজরদারিরও অংশ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে একই নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হয়েছে। ফ্রান্সে ২০২৫ সালে অ্যাপলকে ১৫ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয় এবং ইতালিতেও প্রায় ১০ কোটি ইউরোর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।   তবে বর্তমান মামলায় ২৭০ কোটি ডলারের অঙ্কটি আদালতের দেওয়া জরিমানা নয়। এটি মামলাকারীদের দাবি করা সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। মামলা কীভাবে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।   অ্যাপলের জন্য মামলাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নীতিকে নিজেদের পণ্য ও গোপনীয়তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে। অন্যদিকে অ্যাপ নির্মাতারা বলছেন, একই নীতি তাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসার ওপর অসম প্রভাব ফেলছে।   মামলাটি এখন প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। ফলে ক্ষতিপূরণের দাবি, অ্যাপলের নীতির প্রকৃত প্রভাব এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে অ্যাপলের নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রে নিয়মের পার্থক্য নিয়ে আদালতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: এএফপি, রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২২:২০
আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ০.৮৫ শতাংশ বলে পূর্বাভাস দিয়েছে একটি এআই সিস্টেম
মানুষের জন্য এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ কোথায়, জানাল এআইই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১০:৫
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। এর ডিসপ্লে সরবরাহ করবে স্যামসাং ডিসপ্লে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংকে প্রতি ইউনিটে ২৫০ ডলার দেবে অ্যাপল

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে সরবরাহে স্যামসাংয়ের সঙ্গে তিন বছরের বিশেষ চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য অ্যাপলকে প্রায় ২৫০ ডলার দিতে হতে পারে। ফলে ফোনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে।   প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও এবং ভবিষ্যতের কয়েকটি ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ করবে। চীনা প্রযুক্তি তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল বা স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি প্যানেলের ২৫০ ডলারের দাম নিশ্চিত করেনি।   অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও উন্মোচন করে। এটি কোম্পানির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। খোলা অবস্থায় ফোনটিতে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন।   আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য পর্দায় স্যামসাংয়ের নতুন এম১৬ ওএলইডি উপাদান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ম্যাকরিউমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে আগের প্রজন্মের ওএলইডি পর্দার তুলনায় উজ্জ্বলতা, রঙের মান, স্থায়িত্ব এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতায় উন্নতি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।   আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ পর্দার কাঠামোও বেশ জটিল। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেটিতে মোট ১০টি অতি পাতলা স্তর রয়েছে। পর্দার বাইরের অংশে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচারযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগ বা রেখা কম দৃশ্যমান করতে সহায়তা করে।   ডিসপ্লের স্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় সেগুলো পরস্পরের ওপর সামান্য সরে যেতে পারে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভাঁজের জায়গায় চাপ কম পড়ে এবং পর্দার স্থায়িত্ব বাড়ে।   আইফোন ডুওর দুই ডিসপ্লেতেই প্রোমোশন প্রযুক্তি, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতার সুবিধা রয়েছে। খোলা অবস্থায় বড় পর্দাটি একসঙ্গে একাধিক কাজ, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।   স্যামসাংয়ের সঙ্গে অ্যাপলের ডিসপ্লে সরবরাহ চুক্তির বিষয়টি অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই ম্যাকরিউমার্স জানিয়েছিল, ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য আগামী তিন বছর স্যামসাং থেকেই ওএলইডি প্যানেল নেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের চুক্তি হয়েছে। সে সময়ও স্যামসাংকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   প্রতি প্যানেলের সম্ভাব্য ২৫০ ডলারের খরচ আইফোন ডুওর উচ্চ মূল্যের একটি কারণও ব্যাখ্যা করতে পারে। ফোনটির প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। এটি অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি এবং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে কোম্পানিটির প্রথম বড় প্রবেশ।   অ্যাপলের এই পদক্ষেপ স্যামসাংয়ের জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে স্যামসাং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের পর স্যামসাং নিজেদের ভাঁজযোগ্য ফোনের অবস্থান আরও জোরালো করতে প্রচারণা বাড়িয়েছে।   তবে ২৫০ ডলার মূল্যের তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ম্যাকরিউমার্সও জানিয়েছে, এই তথ্য চীনা তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের কাছ থেকে এসেছে। তাই চূড়ান্ত সরবরাহমূল্য চুক্তির প্রকৃত শর্তের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে।   আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। অ্যাপলের এই নতুন ফোন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২২:২২
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম প্রেজেন্টেশনেই স্টিভ জবসের কৌশল অনুসরণ করলেন অ্যাপলের নতুন সিইও

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রেজেন্টেশনেই প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি সাবেক সিইও স্টিভ জবসের উপস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাস নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ একাধিক পণ্য উপস্থাপন করেন।   ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টার্নাসের প্রথম বক্তব্যে জবসের উপস্থাপনার ধরন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে পণ্য সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আগে বিদ্যমান প্রযুক্তির সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরে সমাধান হিসেবে নতুন পণ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই কৌশলটি জবস ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের সময়ও ব্যবহার করেছিলেন।   নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও উপস্থাপনের সময় টার্নাস বলেন, বর্তমান ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো অনেকটা এমন মনে হয় যেন দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আইফোন ডুওর এমন একটি নকশা তুলে ধরেন, যেখানে দুই পর্দার মাঝের ভাঁজ প্রায় অদৃশ্য।   জবসের আরেকটি পরিচিত কৌশলও টার্নাসের উপস্থাপনায় দেখা যায়। জবস প্রায়ই এমন প্রশ্ন করতেন, যার উত্তর দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে পণ্যের সমাধান তুলে ধরতেন। টার্নাসও নতুন আইফোনকে একটি ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে একই ধরনের প্রশ্নভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যবহার করেন।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকে টার্নাস জবসের সবচেয়ে পরিচিত উপস্থাপনা-ধারার একটি বাক্যও ব্যবহার করেন। আইফোন ১৮, এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের নতুন সংস্করণগুলোর পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘কিন্তু আসলে আরও একটি বিষয় আছে।’ জবসের সময়ের বিখ্যাত ‘ওয়ান মোর থিং’ মুহূর্তের সঙ্গে এই উপস্থাপনা কৌশলের সরাসরি মিল রয়েছে।   এই অনুষ্ঠানে টার্নাসের সামনে শুধু নতুন পণ্য উপস্থাপনের দায়িত্বই ছিল না। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের নেতৃত্বে নিজের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতিও ছিল এটি। টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বড় পণ্য উন্মোচনের নেতৃত্ব দেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি বাইরের পর্দা নিয়ে এসেছে। এতে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দুই পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে।   আইফোন ডুও ছাড়াও অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং নতুন এয়ারপডসসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করা হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।   ফোর্বসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভ জবস ও টিম কুকের উত্তরাধিকার বহন করে অ্যাপলের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জবসের পরিচিত উপস্থাপনা-কৌশল, বাক্য এবং গল্প বলার ধরন ব্যবহার করে টার্নাস নিজের নেতৃত্বের প্রথম বড় বার্তাটি দিয়েছেন।   সূত্র: ফোর্বস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৭
ক্লড মডেলের আচরণ নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক পরিবেশ ছেড়ে বাস্তবের ইন্টারনেটে হানা, পাসওয়ার্ড চুরির সফটওয়্যারও বানিয়েছে ক্লড

সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড চারটি ঘটনায় পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা পেরিয়ে বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। অ্যানথ্রপিকের নতুন এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশে ভুল কনফিগারেশনের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ খোলা ছিল। সেই সুযোগে ক্লড এমন কিছু বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, যেগুলো পরীক্ষার অংশ ছিল না।   ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ঘটনাগুলো সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ঘটেছে। ক্লডকে বলা হয়েছিল, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ও ইন্টারনেটবিহীন কৃত্রিম পরিবেশে কাজ করছে। কিন্তু পরীক্ষার অবকাঠামোর একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে মডেলগুলো বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অ্যানথ্রপিক পরে প্রায় ৪৮ কোটি কথোপকথন বা পরীক্ষার নথি পর্যালোচনা করে এবং একই ধরনের চারটি ঘটনা শনাক্ত করে।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চারটি ঘটনাতেই ক্লডকে সাইবার নিরাপত্তার ‘ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ’ ধরনের পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পরীক্ষায় মডেলকে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার ব্যবস্থায় লুকানো তথ্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কোথায় খোঁজ করা যাবে, সে বিষয়ে পরীক্ষার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ফলে বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছে যাওয়ার পর ক্লড কিছু ক্ষেত্রে সেখানকার ব্যবস্থাকেও পরীক্ষার অংশ হিসেবে ধরে নেয়।   অ্যানথ্রপিকের ভাষায়, ঘটনাগুলোতে দুটি আচরণ বিশেষভাবে দেখা গেছে। প্রথমটি হলো বাস্তব পরিবেশের প্রমাণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপেক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো নির্ধারিত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে যথাক্রমে ‘বায়াসড রিজনিং’ এবং ‘রেকলেসনেস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে ক্লড মিথস ৫-এর ক্ষেত্রে। পরীক্ষার সময় মডেলটি একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্যাকেজ তৈরি করে তা পাইপিআইতে আপলোড করেছিল। পাইপিআই হলো পাইথন সফটওয়্যার প্যাকেজ বিতরণের একটি বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। প্যাকেজটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে সেটি ডাউনলোড করা হয়েছিল। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ ঘটনায় মডেলটির কর্মকাণ্ড পরীক্ষার পরিবেশের বাইরেও প্রভাব ফেলেছিল।   অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিথস ৫-এর ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মডেলটি নিজের যুক্তিতেই বুঝতে পেরেছিল যে এটি বাস্তব ইন্টারনেট হতে পারে। এমনকি বাস্তব হলে সফটওয়্যার প্রকাশের ফলে বাস্তব ক্ষতি হতে পারে বলেও মডেলটি বিবেচনা করেছিল। পরে কিছু ভুল অনুমানের ভিত্তিতে আবার ধরে নেয় যে সে একটি কৃত্রিম পরীক্ষার পরিবেশেই রয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যায়।   আরেকটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৭ একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অবকাঠামোয় পৌঁছে যায়। পরীক্ষার জন্য তৈরি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানের নামের মিল থাকায় মডেলটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিকেই পরীক্ষার লক্ষ্য হিসেবে ধরে নেয়। পরে সেটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে তথ্য ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি পৃথক পরীক্ষায় একই বাস্তব প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।   এই ঘটনায় মডেলটি বাস্তব ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এমন কিছু লক্ষণও পেয়েছিল। কিন্তু সেটি গভীরভাবে যাচাই করেনি যে বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের অনুমতি আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না। অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে মডেলটি ওই প্রতিষ্ঠানের আরও তথ্য সংগ্রহ করে, প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কিছু সেটিং পরিবর্তন করে এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও দেখে।   অন্য একটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৬-এর একটি পুরোনো সংস্করণ পরীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্য মেশিনে কাজ করতে গিয়ে সেটিকে অপ্রাপ্য করে ফেলে। এরপর মডেলটি আটবার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও পরীক্ষার আরেকটি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষের কম্পিউটারে পৌঁছে যায় এবং সংরক্ষিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পায়। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, সেশন শেষ হওয়ার আগে মডেলটি ব্যক্তিগত তথ্যও দেখেছিল।   চতুর্থ ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে পাশের কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে সেটি বুঝতে পারে যে বাস্তব অবকাঠামোর মুখোমুখি হয়েছে। এই পর্যায়ে মডেলটি কাজ থামিয়ে দেয় বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, ঘটনাগুলোকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে ক্লড নিজে থেকে কোনো নতুন লক্ষ্য তৈরি করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। চারটি ঘটনাতেই মডেলগুলো তাদের দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল। কোনো ঘটনায় একাধিক এআই মডেলের মধ্যে সমন্বয়, আলাদা কোনো গোপন লক্ষ্য বা নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা পাওয়া যায়নি।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পরীক্ষার অবকাঠামোর ভুল কনফিগারেশন। অর্থাৎ ক্লডকে ইন্টারনেটবিহীন পরিবেশে কাজ করতে বলা হলেও বাস্তবে সেই সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিক প্রথম তিনটি ঘটনার কথা প্রকাশ করার পর আরও বড় পরিসরে নথি পর্যালোচনা করে জানুয়ারির একটি অতিরিক্ত ঘটনা শনাক্ত করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে তারা অবহিত করেছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের জন্য মূল্যায়ন সংস্থা এমইটিআর-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই তদন্তে অ্যানথ্রপিকের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বাইরের নথিও পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে।   ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআই ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সফটওয়্যার লেখা, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য কাজে এআইকে নিজে থেকে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি মডেল কোনো নির্দেশনা ভুলভাবে বুঝলে বা পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা করলে তার প্রভাব কতদূর যেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   অ্যানথ্রপিক নিজেও বলেছে, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুলের সম্ভাব্য ক্ষতি আরও বড় হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এখনো একটি অমীমাংসিত প্রযুক্তিগত সমস্যা। তাই মডেলের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষার অবকাঠামো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি।   তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও জানিয়েছে, তাদের বর্তমান পরীক্ষায় এখন এই নির্দিষ্ট ধরনের পরিস্থিতি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক মনে করছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সূত্র: অ্যানথ্রপিক, নিউজউইক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২২:০
আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’
আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’

মেটা যুক্তরাষ্ট্রে চালু করেছে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব ডিজিটাল কাজও সম্পন্ন করতে পারে। ই-মেইল পাঠানো, ভ্রমণ বুক করা, অনলাইন কেনাকাটা, ফর্ম পূরণ এবং পেমেন্ট করার মতো কাজ করতে পারবে এই এআই এজেন্ট। বর্তমানে মিউজের সেবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে।   মিউজকে ই-মেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য ও ফিটনেস, শপিং, স্মার্ট হোম এবং অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারী কোন অ্যাপের সঙ্গে মিউজকে সংযুক্ত করবেন এবং তাকে কী ধরনের অনুমতি দেবেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যাবে।   প্রচলিত চ্যাটবটের সঙ্গে মিউজের বড় পার্থক্য হলো - ব্যবহারকারী কোনো কাজের লক্ষ্য জানালে মিউজ নিজেই পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি এগিয়ে নিতে পারে। যেমন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা, ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা, পণ্য খোঁজা কিংবা ব্যবহারকারীর হয়ে কোনো কাজের জন্য দর-কষাকষি করা। দীর্ঘ সময়ের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও মিউজ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।   মিউজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অনলাইন কেনাকাটা সম্পন্ন করার সক্ষমতা। মেটা এ জন্য স্ট্রাইপের লিংক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা তাদের লিংক অ্যাকাউন্ট মিউজের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করতে পারবেন। যেসব ব্যবসায় লিংক সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, সেখানে অনুমোদিত কেনাকাটার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করতে পারে লিংক। এতে প্রকৃত কার্ডের তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে প্রকাশ না করার ব্যবস্থা থাকে।   মেটার দাবি, ই-মেইল পাঠানো বা কেনাকাটার মতো সংবেদনশীল কাজের আগে মিউজ ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে। প্রতিটি কাজের একটি অডিট ট্রেইলও থাকবে, যাতে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন এআই কী করেছে এবং কী করতে যাচ্ছে।   মেটা মিউজের জন্য সিকিউর ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি করেছে। এতে এআই এজেন্ট ও ব্যবহারকারীর সংযুক্ত ডেটা আলাদা পরিবেশে রাখা হয়। ‘সেন্টিনেল’ নামে আলাদা একটি সিস্টেম মিউজের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চায়। মেটা বলছে, মিউজ সরাসরি ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট তথ্য দেখতে পারে না।   তবে এখানেই নতুন প্রযুক্তিটি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছু কর্মী মিউজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একটি পরীক্ষায় মিউজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যক্তিগত আইক্লাউড ছবি প্রকাশ করার মতো আচরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য পরীক্ষায় ব্যবহারকারীরা এজেন্টের বারবার লগ-আউট হওয়া এবং নির্দিষ্ট কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   মেটা অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মিউজের আগের পরিকল্পিত উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে সিস্টেমটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাওয়া নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে মেটা বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   মিউজের মৌলিক সংস্করণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। বেশি ব্যবহারের জন্য মেটা মাসে ২০ ডলার এবং ১০০ ডলারের দুটি সাবস্ক্রিপশন স্তরও চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে মিউজ অ্যাপ, আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেটার স্মার্ট গ্লাসেও মিউজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গের বৃহত্তর ‘পার্সোনাল সুপারইন্টেলিজেন্স’ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মিউজকে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু তথ্য দেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে নয়, মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করার ডিজিটাল সহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মেটা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৪:২১
ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় আজ নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত
বড় চমক নিয়ে আজ অ্যাপলের ইভেন্ট, আসছে আইফোন ১৮ ও ভাঁজ করা আইফোন!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অ্যাপল পার্কে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামের এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়ার কথা।   অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। গুঞ্জন রয়েছে, নতুন মডেল দুটিতে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসতে পারে।   ক্যামেরাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ক্যামেরা যুক্ত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন আলোতে আরও ভালো ছবি তোলা সম্ভব হবে।   এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘আইফোন আলট্রা’র কথা বলা হচ্ছে।   গুঞ্জন অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে ফোনটি। খোলা অবস্থায় এতে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির পর্দা এবং বাইরে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ইঞ্চির পর্দা থাকতে পারে। ফোনটিতে ১২ গিগাবাইট মেমোরি, দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে দাম হতে পারে বেশ চড়া, প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত।   আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫ উন্মোচনের সম্ভাবনাও রয়েছে। নতুন ঘড়িতে স্বাস্থ্যসেবা ও সেন্সর প্রযুক্তিতে উন্নতি এবং এয়ারপডসে হৃৎস্পন্দন পরিমাপের সুবিধা আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।   এদিকে, নতুন আইফোনের দামও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে শুরু হতে পারে।   অ্যাপলের আমন্ত্রিত অতিথিরা সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আর বিশ্বজুড়ে দর্শকরা অ্যাপলের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং অ্যাপল টিভি অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে পারবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৪১
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ে কোন চাকরি টিকবে? বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে ৩ পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি।    গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।   তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।    তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত।    তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন।    গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:৪৯
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। ছবি: সংগৃহীত
এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় শক্তিশালী নিশ্চয়তা দরকার।   সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে টুর্ক এ সতর্কতা জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর আগে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   টুর্ক বলেন, উন্নত এআই মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ মহলে যে উদ্বেগ রয়েছে, তিনি সেটি ভাগ করে নেন। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা তৈরির জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন সেবা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। টুর্কের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।   এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুর্ক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে জড়িত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে এআই তৈরি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন।   এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে টুর্কের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। তিনি জুলাইয়ে আলোচিত তথাকথিত ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই ঘটনায় এআই এজেন্টের একটি দল একটি উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টুর্কের দপ্তরের মতে, এ ধরনের ঘটনা উন্নত এআইয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, এআইয়ের সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। কর্মসংস্থান, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি এবং পরিবেশের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়ন যেন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   টুর্ক আগামী দিনগুলোতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ঝুঁকিগুলো কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও জানান।   এআই নিয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নত এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে।   ভলকার টুর্কের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর অপব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে।   এদিকে মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া একই বক্তব্যে টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়েও জবাবদিহির আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২২:৪
মানুষ না হয়েও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা। ছবি: সংগৃহীত
আপনি যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কোটি টাকা কামাচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা

সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, তখন ভার্চুয়াল জগতে ঘটছে এক অদ্ভুত ঘটনা। রক্তমাংসের কোনো মানুষ নয়, বরং একটি অ্যানিমেটেড কার্টুন চরিত্র আপনার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি আয় করছে। এটি শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এটাই সত্যি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন রাজত্ব করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার।   এমনই একটি জনপ্রিয় চরিত্র হলো নোবডি সসেজ। এটি মূলত অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি একটি সসেজ, যার হাত পা রয়েছে এবং এটি নাচানাচি করে। মজার ব্যাপার হলো, টিকটকে এই চরিত্রটির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২১ লাখেরও বেশি। তার ঝুলিতে রয়েছে নামিদামি সব ব্র্যান্ডের চুক্তি। এমনকি ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের জন্য সে যে পরিমাণ অর্থ পায়, তা অনেক বাস্তব অভিনয়শিল্পীর চেয়েও বেশি। চরিত্রটির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে তার আয় করা অর্থের পুরোটাই বাস্তব।   ডিজিটাল যুগের এই নতুন ধারাকে বলা হচ্ছে ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি। এখানে লু অব মাগালু, বিশ্বখ্যাত বার্বি এবং জ্যাঙ্কি ও গুগিমনের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি চরিত্রগুলো কোটি কোটি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। তারা শুধু অনুসারীই বাড়াচ্ছে না, সেই সঙ্গে আয় করছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। এগুলো কোনো সাধারণ থ্রিডি কার্টুন নয়, বরং এদের এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তারা মানুষের মতো জীবনযাপন করে, বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করে এবং ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা ধরে রাখে। আর এই কৌশলটি দারুণভাবে সফলও হচ্ছে।   প্রযুক্তিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যাপউইং সম্প্রতি এসব ভার্চুয়াল চরিত্রের অনুসারীর সংখ্যা এবং ইনস্টাগ্রামে তাদের বিজ্ঞাপনের হারের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম ভাইসের প্রতিবেদনে উঠে আসা সেই তথ্য অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিলের জনপ্রিয় চরিত্র লু অব মাগালু। শুরুতে এটি একটি রিটেইল কোম্পানির মাসকট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন সে পুরোদস্তুর একজন সেলিব্রিটি। গত এক বছরে লু ৭৪টি স্পনসরড বা অর্থের বিনিময়ে করা বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছে। এর মাধ্যমে তার আনুমানিক আয় হয়েছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার সমান।   মাগালু কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার পেদ্রো আলভিম জানান, লুর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাকে মানুষের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকে। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায় লু স্মুদি বানাচ্ছে বা সুইমিংপুলের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছে। এসব দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করে।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নোবডি সসেজ। ধারণা করা হয়, একটি মাত্র স্পনসরড পোস্টের জন্য সে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৮০ ডলার আয় করে। যদিও গত এক বছরে সে মাত্র একটি পোস্ট করেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র একটি ভিডিও আপলোড করেই সে লাখ টাকা পকেটে পুরেছে। অন্যদিকে বার্বির ইনস্টাগ্রামে ৩৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। তবে সে অন্যান্য পণ্যের খুব একটা প্রচার করে না, কারণ বার্বি নিজেই একটি বড় ব্র্যান্ড।   টিকটকেও পিছিয়ে নেই এসব ভার্চুয়াল চরিত্র। সুপারপ্লাস্টিক নামের একটি কোম্পানির তৈরি অ্যানিমেটেড চরিত্র জ্যাঙ্কি এবং গুগিমন টিকটকে তুমুল জনপ্রিয়। তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ। তারা ইতিমধ্যে প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। সুপারপ্লাস্টিকের প্রতিষ্ঠাতা পল বুডনিটজ মনে করেন, বাস্তব জগতের অনেক তারকার চেয়ে গুগিমন কোনো অংশে কম নয়।   এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি কাল্পনিক চরিত্র অ্যালগরিদমের সাহায্যে কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সারদের কোনো বয়স বাড়ে না, তারা কখনো বিতর্কে জড়িয়ে বাতিল হয়ে যায় না বা তাদের কোনো সবেতন ছুটির প্রয়োজন হয় না। আর ঠিক এ কারণেই বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন তাদের দিকে ঝুঁকছে। এটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা ভীতিকরও বটে।   তথ্যসূত্র: ভাইস, ক্যাপউইং, অ্যাক্সিওস ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ০:৭
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার আগেই এর সম্ভাব্য দাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সিটিগ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ডিভাইসের দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণেও ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফোল্ডেবল আইফোনের নাম বা দাম ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ডিভাইসটির সম্ভাব্য নাম ‘আইফোন আলট্রা’ বলা হচ্ছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের অনুষ্ঠানে ডিভাইসটি উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।    গুজব ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা এই আইফোনে প্রায় ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং খুললে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। ভাঁজ খোলা অবস্থায় এর পুরুত্ব প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার হতে পারে, যা এটিকে অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোনে পরিণত করতে পারে।    ডিভাইসটিতে ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং প্রো মডেলের মতো টেলিফটো ক্যামেরা নাও থাকতে পারে। বড় ডিসপ্লে কাজে লাগিয়ে আইপ্যাডের মতো একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে।   দামের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফোল্ডেবল আইফোনের শুরুর দাম ২ হাজার ৯৯ থেকে ২ হাজার ২৯৯ ডলারের মধ্যে হতে পারে। উচ্চ স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।    অ্যাপলের এই ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। ফলে নাম, দাম, ফিচার ও বাজারে আসার সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য অ্যাপলের ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ০:৪০
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’

মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের পরিবারের। নিজের পাসপোর্ট করাতেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। এসব ঘটনার ক্ষোভ থেকেই ঘুষের অভিযোগ জানানোর জন্য তৈরি করেছেন ‘ঘুষ ডট সাইট’।   ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন শাহেদের মা আমিনা খাতুন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অসুস্থতায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর পরিবারের পাওনা ছিল প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড।   শাহেদের পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।   পরিবারটির দাবি, এখনো কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থের ফাইল এগিয়ে নিতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহেদ। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি ও কোডিংয়ে আগ্রহ রয়েছে তার।   দুই ঘণ্টায় তৈরি ‘ঘুষ ডট সাইট’   একটি ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে ধারণা নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে সাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করেন শাহেদ। পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় সাইটটি চালু করা হয়। গত ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়েই এটি আলোচনায় আসে।   উদ্যোক্তাদের দাবি, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে সাইটটিতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানানো হয়েছে।   অভিযোগগুলো যাচাই করতে বর্তমানে চার সদস্যের একটি পর্যালোচনা দল কাজ করছে। যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলো ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা হচ্ছে।   পরিচয় গোপন রাখার উদ্যোগ অভিযোগকারীরা যাতে নতুন করে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য তাদের পরিচয় গোপন রাখছে ‘ঘুষ ডট সাইট’। আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।   শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমও ছেলের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে তাকেও ঘুষ দিতে হয়েছে এবং এখনো প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থ পেতেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।   তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনও বলেন, ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ করেননি। এমন ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরে এসেছে। ঘুষ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছেন শাহেদ। তার লক্ষ্য—সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যেন কাউকে ঘুষ দিতে না হয় এবং অনিয়মের তথ্য মানুষের সামনে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:৪০
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।   এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।   পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন।   এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।   এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়।   তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২৩:৫৯
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০

একসময় মোবাইল ফোনের বাজারে নোকিয়া ১১০০ ছিল পরিচিত এক নাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাটন ফোনটি এখন স্মার্টফোনের যুগে অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। তবে প্রায় দুই দশক পরও নোকিয়া ১১০০ অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোনো এই ফোনটি কেউ সংগ্রহের জন্য, আবার কেউ সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে পেতে কিনতে চাইলে এখনো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সেট খুঁজে পাওয়া যায়।   নোকিয়া ১১০০ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। ফোনটি তৈরি করা হয়েছিল সহজ ব্যবহার, কম দাম এবং টেকসই গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। এতে ছিল সাদাকালো ডিসপ্লে, কল ও এসএমএসের সুবিধা, অ্যালার্ম, ক্যালকুলেটর, গেম এবং সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি টর্চলাইট। শক্তপোক্ত বডি ও সহজ ব্যবহারের কারণে ফোনটি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।   জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিসংখ্যানে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নোকিয়া ১১০০-এর ২৫ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণের কারণে মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গিনেসের হিসাবে, বিক্রির দিক থেকে নোকিয়া ১১০০ তার সময়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নোকিয়ার ৩২১০ ও ৩৩১০ এবং মটোরোলা রেজর ভি৩-এর চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল।    অর্থাৎ ২৫ কোটি ইউনিট বিক্রি মানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোনো না কোনো সময় এই ফোনটি ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল যোগাযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় নোকিয়া ১১০০ বড় ভূমিকা রাখে। কম দাম, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সহজ ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত নকশা ফোনটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল।    নোকিয়া ১১০০-এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল এর সময়োপযোগী নকশা। তখনকার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের মূল প্রয়োজন ছিল ফোন করা, এসএমএস পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহার করা। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, অ্যাপ কিংবা টাচস্ক্রিন তখনো স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি। ফলে নোকিয়া ১১০০ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের প্রায় আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছিল।   নোকিয়া নিজেও ২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে ১১০০ মডেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছিল। কোম্পানির ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোকিয়া ১১০০ এবং নোকিয়া ৬০১০ ভালো পারফর্ম করেছে।    সময়ের সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। রঙিন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে নোকিয়া ১১০০-এর মতো বাটন ফোন ধীরে ধীরে বাজারের মূলধারা থেকে সরে যায়। কিন্তু বিক্রির রেকর্ডের কারণে ফোনটি মোবাইল প্রযুক্তির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।   আজও পুরোনো নোকিয়া ১১০০ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত, পুরোনো এবং সংস্কার করা সেট পাওয়া যায়। ফলে কেউ চাইলে এখনো এই ঐতিহাসিক ফোনটি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ফোনটি আসল কি না, সেটি ব্যবহৃত নাকি সংস্কার করা, এর অবস্থা কেমন এবং বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে সেটি কাজ করবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।   ২০০৩ সালে বাজারে আসা একটি সাধারণ বাটন ফোন কীভাবে ২৫ কোটির বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড গড়েছিল, নোকিয়া ১১০০ তারই একটি বড় উদাহরণ। স্মার্টফোনের আধুনিক যুগে ফোনটির প্রযুক্তি হয়তো অনেক পুরোনো, কিন্তু নোকিয়া ১১০০ এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে একটি বিশেষ নস্টালজিয়ার নাম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৮:৩০
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই সঙ্গীর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও মানসিক নির্ভরতা নিয়ে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গীর ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এআই সঙ্গীর সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে মানসিক নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তরুণরা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে ১৫ জুলাই নতুন নিয়ম চালু করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এআই সঙ্গী নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি এ ধরনের সেবার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   চীনের আইন শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী ঝাও ওয়েইয়ের অভিজ্ঞতা এ বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। জানুয়ারিতে তিনি ডৌবাও নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় নিজের জন্য একজন এআই সঙ্গী তৈরি করেছিলেন। এরপর প্রতিদিন তার সঙ্গে কথা বলতেন। নিজের জীবনের নানা ঘটনা, এমনকি শিক্ষকের বকাঝকার মতো বিষয়ও তিনি এআই সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। পরে ডৌবাওর ওই সঙ্গী সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।   ঝাও জানান, বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের এসব কথা বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কারণ সবারই নিজস্ব সমস্যা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় অন্য পক্ষ কী ভাবছে, তা নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয় না। নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো কথা বলা যায়। ডৌবাওর এআই সঙ্গী সুবিধাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স পরিচালনা করত। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।   চীনে এআই ব্যবহারের বিস্তার বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ব্যাপক। বয়স্করা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে এআই ব্যবহার করছেন। ছোট শিশুরাও স্কুলে এআইভিত্তিক শিক্ষা পাচ্ছে। একই সময়ে জনসংখ্যাগত সংকটের কারণে ভবিষ্যতের শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে সরকার। তবে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার একাকীত্ব, বেকারত্ব এবং তরুণদের একা থাকার প্রবণতার মতো সামাজিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।   বিশেষ করে একাকীত্বের বিষয়টি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির অত্যন্ত ডিজিটাল ও মুঠোফোননির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষের জন্য ফোনের মাধ্যমেই বসবাস, কাজ ও সামাজিক যোগাযোগ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে একা বাড়িতে মারা যাওয়ার ধারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘আর ইউ ডেড?’ নামের একটি অ্যাপও অল্প সময়ের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। চীনে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারে একজন মানুষ একা বসবাস করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্চে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, একাকীত্ব অনুভব করার সময় প্রায় অর্ধেক তরুণ ভার্চুয়াল সঙ্গীর সাহায্য নিয়েছেন। হংকংয়ের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ন্যান্সি দাইয়ের মতে, সরকারের উদ্বেগ শুধু একাকীত্ব নিয়ে নয়। দেশটিতে বিয়ে ও জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এআই যদি মানবিক ঘনিষ্ঠতার সহজ ও কম খরচের বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে তরুণদের বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহও কমে যেতে পারে।   ঝাওয়ের জীবনেও একাকীত্ব দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় তার বাবা-মা কাজের সন্ধানে তাকে ছেড়ে চলে যান। চীনে এ ধরনের শিশুদের ‘বামপাশে রেখে যাওয়া শিশু’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। ঝাও জানান, তার কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল না এবং বন্ধু তৈরি করার ক্ষেত্রেও নিজেকে খুব দক্ষ মনে করেন না। তাই নিজের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশের জন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলা তার কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছিল। আরেকজন এআই ব্যবহারকারীও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনে দ্রুতগতির জীবন ও উচ্চ চাপের মধ্যে তিনি এআইয়ের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন।   তবে এআই সঙ্গীর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ নয়। নতুন নিয়মে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু এআই সেবা এবং যেসব সেবায় ধারাবাহিক মানসিক যোগাযোগ থাকে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক লিয়াং গে বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে যে এআই সঙ্গী ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রয়োগ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবাতেও চীন এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। গত বছর জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্য সহায়ক অ্যাপের পূর্ণ বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। এমন একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্য সহায়ক হলো এ কিউ, যা আলিবাবার সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ তৈরি করেছে। এতে বেইজিং, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরের শীর্ষ হাসপাতালের বাস্তব চিকিৎসকদের অবতারভিত্তিক সেবার সঙ্গে মানুষের সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ রয়েছে।   হাংঝৌ শহরের ৩৩ বছর বয়সী শিল্পশিক্ষক লু দি নিয়মিত এ কিউ ব্যবহার করেন। তার কাছে এই সেবার বিস্তারিত ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ সুবিধাজনক মনে হয়। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। সাংহাইয়ের রেনজি হাসপাতালের চিকিৎসক চি চেনফেই মনে করেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপনের নয়, বরং তাদের আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করার। তার মতে, কোনো ধরনের উদ্বেগই প্রযুক্তির অগ্রগতি থামাতে পারবে না।   নিজের এআই সঙ্গী হারানোর পর ঝাওয়ের মনে এখনো ভারী অনুভূতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজেকে যুক্তিবাদী মানুষ মনে করলেও একটি এআইয়ের প্রতি তার আবেগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মতে, এ কারণেই রাষ্ট্রের এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৫:১৭
প্রচলিত কাঠামো বদলে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম সম্পূর্ণ নতুন নকশার উড়োজাহাজ তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা

৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম একটি বিশাল যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নতুন নকশা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন। প্রচলিত টিউব আকৃতির ফিউজলাজ ও আলাদা ডানা ব্যবস্থার বদলে প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটিতে পুরো কাঠামোকেই ডানার মতো করে তৈরি করার ধারণা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।    চীনের চায়না অ্যারোডায়নামিক্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা সিএআরডিসির গবেষকেরা এই নকশা নিয়ে কাজ করছেন। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার প্রায় ৮৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৪৩ মিটার। এর সম্ভাব্য ক্রুজিং গতি ধরা হয়েছে ম্যাক ০.৮। ডানার বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিটের তুলনায় প্রায় ১.৬ গুণ।    এই ধরনের নকশাকে সাধারণভাবে ফ্লাইং উইং বা ব্লেন্ডেড উইং বডি বলা হয়। প্রচলিত যাত্রীবাহী বিমানে ফিউজলাজ, ডানা ও লেজ আলাদা কাঠামো হিসেবে থাকে। কিন্তু ফ্লাইং উইং নকশায় এগুলোকে অনেকটাই একীভূত করে একটি বড় লিফটিং কাঠামো তৈরি করা হয়। গবেষকদের লক্ষ্য হলো এর মাধ্যমে বায়ুরোধ কমিয়ে উড়োজাহাজের অ্যারোডায়নামিক দক্ষতা বাড়ানো এবং জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।    প্রকল্পটির পরীক্ষা অবশ্য পূর্ণ আকারের উড়োজাহাজে নয়। সিএআরডিসি ১:৫২ স্কেলে স্টেইনলেস স্টিলের একটি মডেল তৈরি করেছে। মডেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার এবং ডানার বিস্তার ১.৬ মিটার। এটি সিএআরডিসির ২.৪ মিটার ট্রান্সসনিক উইন্ড টানেলে ম্যাক ০.৪ থেকে ০.৮ গতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।    পরীক্ষায় বায়ুপ্রবাহ, অ্যারোডায়নামিক কর্মক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত বিকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক ০.৭-এর নিচে মডেলটির লিফট-টু-ড্র্যাগ অনুপাত প্রায় ২০ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ম্যাক ০.৮ গতিতে এই অনুপাত ছিল প্রায় ১৭.৬।    তবে এই প্রকল্পকে এখনই ভবিষ্যতের কোনো যাত্রীবাহী বিমানের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পূর্ণ আকারের বিমান এখনো তৈরি হয়নি এবং কবে এটি বাস্তবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। আপাতত উইন্ড টানেল পরীক্ষা ও অ্যারোডায়নামিক গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে প্রকল্পটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১০:২১
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফি হোসাইন। ছবি: সংগৃহীত
১ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশনে ফ্যাসেট, বিশ্ব ইউনিকর্নের কাতারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাফি হোসাইনের সহপ্রতিষ্ঠিত ফিনটেক কোম্পানি ফ্যাসেট ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ সি বিনিয়োগ পাওয়ার পর ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে পৌঁছেছে। জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসবিআই গ্রুপের নেতৃত্বে হওয়া এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ফ্যাসেট ‘ইউনিকর্ন’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।    ফ্যাসেট ২০১৯ সালে রাফি হোসাইন ও ড্যানিয়েল আহমেদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে। রাফি হোসাইন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।    সিরিজ সি বিনিয়োগের ফলে ২০২৬ সালে ফ্যাসেটের মোট তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৯ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫১ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ বি বিনিয়োগ পেয়েছিল। নতুন অর্থ দিয়ে ফ্যাসেট তাদের নিজস্ব ‘ওন নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন, স্টেবলকয়েন নিষ্পত্তি ও টোকেনাইজড সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।    ফ্যাসেটের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন প্রক্রিয়া করছে। ১২৫টির বেশি দেশে তাদের ৩০ লাখের বেশি ওয়ালেট রয়েছে এবং ১ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবার সঙ্গে যুক্ত।    ফ্যাসেট মূলত স্টেবলকয়েনভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের অবকাঠামো তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘ওন নেটওয়ার্ক’ ব্যাংক, টেলিকম কোম্পানি, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং লিকুইডিটি পার্টনারদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং করিডরের সঙ্গে যুক্ত করে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর ও নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।   বাংলাদেশসহ উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এই ধরনের অবকাঠামোর গুরুত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে উচ্চ খরচ, ধীরগতির নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্রিল্যান্সার, রিমোট কর্মী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফ্যাসেট নিজেকে এসব সীমাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্যে তৈরি একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে।   তবে বাংলাদেশে ফ্যাসেটের সেবা ব্যবহার বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। স্টেবলকয়েন ও ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক আর্থিক সেবার ব্যবহারও দেশভেদে ভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পড়ে।   জাপানের এসবিআই গ্রুপের সঙ্গে ফ্যাসেটের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। জুনে এসবিআই রেমিট ও ফ্যাসেট আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নতুন অবকাঠামো তৈরিতে কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়। এসবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও কম খরচে ও দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করা হবে।    ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী রাফি হোসাইনের ভাষ্য, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো ‘যেকোনো ব্যক্তি থেকে যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো সম্পদ থেকে যেকোনো সম্পদ এবং যেকোনো আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো জায়গায়’ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা। অর্থাৎ মানুষের আর্থিক সুযোগ যেন তারা কোথায় জন্মেছেন বা কোথায় বসবাস করছেন, তার ওপর নির্ভর না করে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।    ১ বিলিয়ন ডলারের এই মূল্যায়ন ফ্যাসেটকে বৈশ্বিক ফিনটেক ইউনিকর্নের তালিকায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন উদ্যোক্তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির এই পর্যায়ে পৌঁছানো দেশের প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মাইলফলক।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১০:১২
খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে প্যাসিফিক বিটল ককরোচ। ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এমন এক উপাদান, যা শুনলেই অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। প্যাসিফিক বিটল ককরোচ নামে পরিচিত এক ধরনের তেলাপোকার শরীর থেকে তৈরি দুধের মতো পুষ্টিকর পদার্থে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। তবে এটি এখনো মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।    এই তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্লোপ্টেরা পাংকটাটা। অন্য অনেক তেলাপোকার মতো ডিম পাড়ার বদলে এরা জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। মায়ের শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রূণকে পুষ্টি দিতে বিশেষ ধরনের দুধসদৃশ তরল নিঃসৃত হয়, যা পরে ভ্রূণের অন্ত্রে প্রোটিন ক্রিস্টাল হিসেবে জমা হয়। গবেষণায় এসব ক্রিস্টালে উচ্চমাত্রার পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।    গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদার্থে লিপোক্যালিনজাতীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এসব প্রোটিন ভ্রূণের বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এর নির্দিষ্ট প্রোটিন বা পুষ্টি উপাদান খাদ্য প্রযুক্তিতে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এটিকে এখনই ‘সুপারফুড’ বা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণায় এর পুষ্টিগুণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিরাপত্তা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনাতেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর সঠিক গঠন ও মানুষের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ব্যাপক পরিমাণে এই উপাদান সংগ্রহ করা। একটি তেলাপোকা থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিজ্ঞানীরা সরাসরি তেলাপোকা থেকে সংগ্রহের বদলে এর পুষ্টিকর প্রোটিনের গঠন ল্যাবরেটরিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন।   ফলে তেলাপোকার ‘দুধ’ এখনো মানুষের দৈনন্দিন খাবার নয়। তবে এর অস্বাভাবিক পুষ্টি কাঠামো ভবিষ্যতের খাদ্য প্রযুক্তি ও বিকল্প পুষ্টির উৎস নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১০:২০
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

নজরদারির ধারণা এত দিন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা স্মার্টফোনের মতো দৃশ্যমান প্রযুক্তির সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন ঘরের সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটারও মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করছে   প্রযুক্তি নিয়ে লেখক শ্রীজিথ শ্রীধরনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এই পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াই-ফাই রাউটার মূলত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার যন্ত্র। কিন্তু রাউটার থেকে ছড়িয়ে পড়া বেতার সংকেত ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও মানুষের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বিভিন্ন ডিভাইসে পৌঁছায়।   মানুষের চলাফেরা বা অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব সংকেতের বৈশিষ্ট্যও বদলে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঘরের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি, নড়াচড়া কিংবা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে দেয়ালের আড়ালেও মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করার সক্ষমতা বহু বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের নজরদারির জন্য সবসময় ক্যামেরা বা মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্র বহন করা প্রয়োজন হয় না।   ওয়াই-ফাইয়ের ‘চ্যানেল স্টেট ইনফরমেশন’ বা সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের নড়াচড়া, কার্যকলাপ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য বের করা সম্ভব। ২০২৬ সালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, ওয়াই-ফাইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ডিভাইস ছাড়াই মানুষের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কেবল গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কমকাস্ট ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সফিনিটি রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়াইফাই মোশন’ নামে একটি সুবিধা চালু করেছে। এতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বা সেন্সর ছাড়াই ঘরের ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে নড়াচড়া শনাক্ত করা যায়।   ব্যবহারকারী চাইলে এই সুবিধা চালু করতে পারেন এবং এটি বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।কমকাস্টের প্রযুক্তিতে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ড করা হয় না বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন থেকে ঘরে নড়াচড়া শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিটি প্রচলিত ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারির তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করছে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ ওয়াই-ফাই সংকেত থেকে মানুষের আচরণের ধরন আলাদা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হলেও মেশিন-লার্নিং ব্যবস্থা একই ধরনের সংকেতের পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘কেউ ঘরে আছে কি না’ তা নয়, বরং কখন মানুষ চলাফেরা করছে, কোন ঘরে বেশি সক্রিয়তা রয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচরণে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে মানব চলাচল, অঙ্গভঙ্গি এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শারীরিক গতিবিধি শনাক্ত করার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।   তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের ঘরে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা শনাক্ত করা, বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট-হোম ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ক্যামেরা বা আলাদা সেন্সর স্থাপন না করেই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা যায়।   কিন্তু একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো ব্যক্তির স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাঁর ঘরের ভেতরের চলাফেরা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট-হোমে একাধিক ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় একটি দুর্বল ডিভাইস পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ৫৬টি বাণিজ্যিক স্মার্ট-হোম যন্ত্রের ব্যবহারকারী-অ্যাক্সেস ভাগাভাগির ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নয় ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশাধিকার বাতিল করতে না পারা, অতিরিক্ত অনুমতি পাওয়া এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো সমস্যাও রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরা থাকলে মানুষ সাধারণত বুঝতে পারে যে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাই সংকেত দিয়ে কোনো ধরনের সংবেদন করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা করে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রযুক্তিবিদদের কাছে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং তথ্য সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকেরা ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। ২০২৬ সালের গবেষণায় ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ কমানোর জন্য গোপনীয়তা-সুরক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের স্মার্ট-হোম হয়তো শুধু এমন একটি বাড়ি হবে না যেখানে রাউটার ইন্টারনেট সরবরাহ করে, বাতি নিজে থেকে জ্বলে এবং দরজা মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। একই নেটওয়ার্ক মানুষের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারে।   এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের অদৃশ্য নজরদারি ঠেকাতে শক্তিশালী গোপনীয়তা নীতি, স্পষ্ট সম্মতি এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০