তথ্যপ্রযুক্তি

মঙ্গলে যাওয়ার সময় এক-দুই মাসে নামিয়ে আনতে রাশিয়ার নতুন প্লাজমা ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরি | ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার নতুন ইঞ্জিন তৈরি রাশিয়ার, পৌঁছানো যাবে মাত্র ৩০ দিনে

মহাকাশ বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের দাবি করেছে রাশিয়ার সরকারি পরমাণু সংস্থা। তারা এমন একটি অত্যাধুনিক 'প্লাজমা ইঞ্জিন'-এর প্রাথমিক মডেল বা প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ দিন। প্রচলিত রকেট দিয়ে যেখানে লাল গ্রহে পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগে, সেখানে এই নতুন প্রযুক্তি মহাকাশ যাত্রার সময়কে অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে আনবে।   মস্কোর কাছে অবস্থিত পরমাণু সংস্থার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই পরীক্ষামূলক ইঞ্জিনটি তৈরি করেছেন। এটি প্রচলিত রাসায়নিক জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন গ্যাসকে আয়নিত করে প্লাজমায় রূপান্তর করা হয় এবং শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে সেই চার্জযুক্ত কণাগুলোকে তীব্র গতিতে বাইরে ছুড়ে দিয়ে রকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হয়। ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় ৩০০ কিলোওয়াটের এই ইঞ্জিনটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে প্লাজমা ছুড়তে সক্ষম হয়েছে।   এই ইঞ্জিনের গতি মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। মহাকাশচারীরা যত দ্রুত মঙ্গলে পৌঁছাতে পারবেন, মহাকাশের বিপজ্জনক কসমিক রেডিয়েশন বা ক্ষতিকর বিকিরণের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি ততটাই কমে আসবে। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সফরের জন্য মহাকাশযানে যে বিপুল পরিমাণ খাবার, পানি ও অক্সিজেন বহন করতে হতো, তার ওপরেও নির্ভরতা অনেক কমে যাবে।   তবে ল্যাবরেটরির এই পরীক্ষামূলক সফলতাকে মহাকাশে ওড়ার উপযোগী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ মহাকাশযান চালানোর জন্য মহাশূন্যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তির জোগান দেওয়া এবং ইঞ্জিনের প্রচণ্ড তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। রুশ বিজ্ঞানীরা ২০৩০ সালের মধ্যে এই ইঞ্জিনের একটি চূড়ান্ত ও উড্ডয়নযোগ্য মডেল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।   মহাকাশ ভ্রমণের এই নতুন প্রযুক্তির দৌড়ে রাশিয়া কিন্তু একা নয়। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাও নিজস্ব উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন ও 'পালসড প্লাজমা রকেট' তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে, যা দুই মাসের মধ্যে মঙ্গলে পৌঁছাতে পারবে। এ ছাড়া টেক্সাসের একটি বেসরকারি সংস্থাও একই ধরনের প্লাজমা ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করছে। সব মিলিয়ে মানবজাতিকে গভীর মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার এই ইঞ্জিন তৈরির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৯:১২
মুম্বাইয়ের রাস্তায় টাঙানো অ্যাপল আইফোনের বিশাল বিজ্ঞাপনের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স
আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য এবং ছবি ফাঁস, বিপাকে অ্যাপল ও টাটা

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মডেলের আইফোনের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশের তালিকা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং গোপন ছবি ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে। অ্যাপলের অন্যতম প্রধান ভারতীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ হ্যাক করে এই গোপন নথিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে একটি হ্যাকার চক্র। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া ২ লাখেরও বেশি ফাইলের মধ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ ফাইল রয়েছে, যাতে নতুন আইফোনের সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট বিবরণ রয়েছে। সাধারণত অ্যাপল তাদের কোন যন্ত্রাংশ কোন কোম্পানি তৈরি করে, তা কঠোরভাবে গোপন রাখে। এই তথ্যগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাজারে অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল মোবাইল প্রস্তুতকারক এবং নিজস্ব বিক্রেতারা আইফোনের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির নকশা সহজেই জেনে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে অ্যাপলের অত্যন্ত গোপনীয় বিশেষ জলছাপযুক্ত কিছু ফাইল এবং কারখানায় নতুন আইফোনের ওপর চালানো আছাড় পরীক্ষার বাস্তব ছবিও রয়েছে। ছবিতে ধূসর রঙের একটি হ্যান্ডসেটের পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা গেছে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের নেটওয়ার্ক হ্যাক করা হ্যাকার চক্রটি আইফোনের পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং বড় বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো আমেরিকান ও তাইওয়ানিজ গ্রাহকদের গোপন নথিও ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দিয়েছে।   চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে একটি বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভারতের সরকারের যে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা তার ওপর একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে, যা মাত্র চার বছর আগেও ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। এমন সময়ে এই বিপর্যয়টি ঘটল যখন অ্যাপল আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বাজারে ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এই বড় ধরনের সাইবার হামলার পর অ্যাপল ও টাটা ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত শুরু করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল সিস্টেমে কর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং একটি বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে পুরো ব্যবস্থার ফরেনসিক অডিট বা চুলচেরা বিশ্লেষণ করাচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৩:১১
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা

হোয়াটসঅ্যাপের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত 'ইউজারনেম' ফিচার অবশেষে অফিশিয়ালি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কাউকে মেসেজ পাঠাতে আর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না, কেবল একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকলেই চলবে।   তবে এই ঘোষণার পরপরই প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপকে কটাক্ষ করে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই একই ফিচার টেলিগ্রামে ২০১৪ সাল থেকেই বিদ্যমান। অর্থাৎ, হোয়াটসঅ্যাপ যা ২০২৬ সালে নিয়ে এলো, টেলিগ্রাম তা এক যুগ আগেই ব্যবহারকারীদের দিয়ে আসছে।   ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপের যাত্রা শুরুর পর থেকে ফোন নম্বরই ছিল ব্যবহারকারীদের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল প্রাইভেসির অভাব। কাউকে মেসেজ করতে হলে নিজের ব্যক্তিগত নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক থাকায় স্প্যাম মেসেজ এবং হয়রানির চরম ঝুঁকি থেকে যেত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যাটি আরও গভীর, যেখানে অনেক নারীই নম্বর শেয়ার করে অপরিচিতদের কাছ থেকে মেসেজ আসার ভয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।   ইউজারনেম ফিচারটি এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এই পরিবর্তন তুলনামূলক সহজ হলেও, হোয়াটসঅ্যাপের জন্য এটি ছিল এক বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। কারণ, তাদের সম্পূর্ণ আর্কিটেকচার এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ফোন নম্বরকে কেন্দ্র করে তৈরি। প্রায় ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর এই বিশাল সিস্টেমের পুরনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার নতুন করে সাজাতেই মূলত এত বছর সময় লেগেছে মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির।   নতুন এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে নিজেদের পছন্দমতো একটি ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন, যেখানে ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, পিরিয়ড বা আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তার জন্য 'ইউজারনেম কি' (Username Key) নামক একটি চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোড যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারটি চালু থাকলে, শুধুমাত্র ইউজারনেম জানলেই কেউ সরাসরি মেসেজ করতে পারবে না; তাকে চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোডটিও জানতে হবে। অন্যথায় প্রেরকের মেসেজটি সরাসরি ইনবক্সে না এসে 'রিকোয়েস্ট' ফোল্ডারে জমা হবে। প্রাইভেসির দিক থেকে এটি একটি বড় অগ্রগতি, কারণ নতুন কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কেবল ইউজারনেমটিই দেখতে পাবেন। তবে ব্যবহারকারীর পুরোনো কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরা আগের মতোই ফোন নম্বর দেখতে পারবেন।   হোয়াটসঅ্যাপের এই গ্লোবাল রোলআউটটি একযোগে সব জায়গায় না এসে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। আগামী ৭ জুলাই থেকে আলজেরিয়া, আজারবাইজান, ঘানা, লিবিয়া এবং নেপালে এই ফিচারের সূচনা হতে যাচ্ছে। এরপর ২০ জুলাই আরও কিছু দেশে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাকি সব দেশে এটি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হবে বলে জানা গেছে।   এই নতুন সংযোজন কেবল সাধারণ ব্যবহারকারীদের নয়, বরং হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসকেও আমূল বদলে দেবে। এখন থেকে কাস্টমারদের নম্বর সংগ্রহ করার বদলে ইউজারনেম ব্যবহার করেই ব্যবসায়িক যোগাযোগ অনেক সহজ ও সাবলীল হবে। ফোন নম্বরই পরিচয়ের একমাত্র মাধ্যম—এই সেকেলে ধারণাকে ভেঙে দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে ৩০০ কোটি মানুষের প্রাইভেসির সংজ্ঞাকেই নতুন করে লিখতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৮:২
পরীক্ষায় নকলের নিত্যনতুন মাধ্যম এখন ‘এআই চশমা’ | ছবি: পেক্সেলস
পরীক্ষায় নকলের নতুন মাধ্যম এআই চশমা, প্রশ্ন দেখলেই লেন্সে ভেসে ওঠে উত্তর

বিশ্বজুড়ে পরীক্ষায় নকল বা জালিয়াতির জন্য শিক্ষার্থীরা নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করছেন। পূর্বে কাগজের টুকরো বা হাতে লিখে নকল করার প্রবণতা থাকলেও এখন পরীক্ষার হলে জালিয়াতির বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চশমা। এই আধুনিক চশমাগুলোর লেন্সে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর ভেসে ওঠে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা পাসের এই অনৈতিক প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।   সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটিই এআই চশমা দিয়ে জালিয়াতি ধরার প্রথম ঘটনা। অপরদিকে তাইওয়ানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে একইভাবে ধরা হয়। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী অস্বাভাবিকভাবে চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং পরীক্ষা করে দেখা যায় তার চশমা থেকে অতিরিক্ত তাপ নির্গত হচ্ছিল।   এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত মাসে চীন তাদের ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত কঠিন কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের চশমা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করেছে। উল্লেখ্য, এ বছর চীনের এই মর্যাদাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় এক কোটি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার হলের প্রবেশমুখেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চশমাগুলো যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্ববাজারে বর্তমানে এআই চশমার উৎপাদন ও বিক্রি দুটিই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ‘রে-ব্যান’ নামের বিশেষ এআই চশমা বাজারে আনার পর এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। শুধুমাত্র গত বছরই মেটা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চশমা দিয়ে পরীক্ষায় জালিয়াতির এই বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সামনে এটি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।   হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মেং জিল্লি বাজারে প্রচলিত এআই চশমা নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, চশমাটি পরে প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই ভেতরের ক্যামেরা প্রশ্নটিকে রিড করে বৃহৎ এআই মডেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর তৈরি করে চোখের সামনে থাকা চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে। তিনি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর ওপর এই চশমা দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন যে তারা সবাই মেধা তালিকায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন।   সূত্র: সিএনএন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১০:৩৪
বুর্জ খলিফার নির্মাণ ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে জিটিএ সিক্সের বাজেট। ছবি: সংগৃহীত
বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি ব্যয়ে তৈরি হতে পারে জিটিএ সিক্স, মুক্তির অপেক্ষায় গেমপ্রেমীরা

ভিডিও গেমের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত গেমগুলোর একটি ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো সিক্স’ বা ‘জিটিএ সিক্স’ অবশেষে মুক্তির দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী গেমটি প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে শুরু হচ্ছে প্রি-অর্ডার কার্যক্রম, যা ঘিরে গেমপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   তবে গেমটি নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় কারণ শুধু এর মুক্তি নয়, বরং এর সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয়। যদিও রকস্টার গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রকাশ করেনি, তবুও গেমিং শিল্পের বিভিন্ন বিশ্লেষক ও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জিটিএ সিক্স তৈরিতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই হিসাব সঠিক হলে এটি শুধু ভিডিও গেম নয়, পুরো বিনোদন শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর একটি হয়ে উঠবে।   তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত বুর্জ খলিফা নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল আনুমানিক ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে জিটিএ সিক্সের সম্ভাব্য বাজেট বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের নির্মাণ ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে হলিউডের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এবং ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’-এর নির্মাণ ব্যয়ের সম্মিলিত অঙ্কের চেয়েও এটি বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুধু অর্থ নয়, সময়ের দিক থেকেও এই প্রকল্পটি ব্যতিক্রম। ২০১৩ সালে জিটিএ ফাইভ প্রকাশের পর থেকেই নতুন সংস্করণের কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক মহামারির প্রভাব মিলিয়ে গেমটির উন্নয়নে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বুর্জ খলিফার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল প্রায় ছয় বছর।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জিটিএ সিক্সের বিপুল ব্যয়ের অন্যতম কারণ এর বাস্তবধর্মী ভার্চুয়াল জগৎ। গেমের প্রতিটি শহর, রাস্তা, ভবন, যানবাহন, আলোর প্রতিফলন, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং হাজার হাজার চরিত্রের আচরণ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয়েছে। এসবের পেছনে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, গেম ডিজাইনার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল আন্তর্জাতিক দল বছরের পর বছর কাজ করেছে।   এর পাশাপাশি গেমটির বৈশ্বিক বিপণন, সার্ভার অবকাঠামো, অনলাইন সেবা এবং ভবিষ্যৎ আপডেটের ব্যয়ও মোট বিনিয়োগের বড় অংশ বলে মনে করছেন শিল্প বিশ্লেষকেরা। ব্যয়ের অঙ্ক যত বড়ই হোক, আয়ের সম্ভাবনাও ততটাই বিশাল। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া জিটিএ ফাইভ মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে ইতিহাস গড়েছিল। পরবর্তী এক দশকের বেশি সময়ে অনলাইন সংস্করণ এবং গেমের ভেতরে বিভিন্ন কেনাকাটার মাধ্যমে রকস্টার গেমস ও এর মূল প্রতিষ্ঠান টেক-টু ইন্টারঅ্যাকটিভ কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।   বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, জিটিএ সিক্স মুক্তির পর প্রথম কয়েক দিনের বিক্রিতেই এর নির্মাণ ব্যয়ের বড় অংশ উঠে আসতে পারে। গেমটির প্রতি বিশ্বজুড়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে এটি ভিডিও গেম শিল্পের আয়ের নতুন রেকর্ডও গড়তে পারে। তবে নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রচারিত ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের তথ্য এখনো রকস্টার গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তাই এই অঙ্ককে শিল্প বিশ্লেষকদের অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   সূত্র: অ্যারাবিয়ান বিজনেস, গেমিং শিল্প বিশ্লেষকদের প্রতিবেদন এবং রকস্টার গেমসের প্রকাশিত তথ্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২০:৪৪
ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস
ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা টেক জায়ান্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও এখন তারা চরম গ্রাহক সংকটে ভুগছে। চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাক কম্পোজিট ইনডেক্স চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না।   গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার জন্য হাজার হাজার নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। টেক জায়ান্টগুলো বিপুল ঋণ নিয়ে এই বিশাল অবকাঠামো তৈরি করলেও, সাধারণ গ্রাহক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে আদৌ রাজি কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।   স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও’-এর সহযোগী পরিচালক কেট ব্রেনান সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের মতো বড় কোম্পানিগুলো অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যেভাবে ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা মুনাফা এখনও আসছে না এবং এর মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে বড় বড় দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।   পিউ রিসার্চ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এআই ব্যবহার করলেও এর জন্য টাকা খরচ করতে পুরোপুরি নারাজ। জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী দুই দশকে সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার-এর মে মাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই এজেন্ট নিয়োগ করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।   বর্তমানে অ্যালফাবেট এবং চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার নতুন রেকর্ড গড়লেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন বড় ধরনের ‘এআই বুদবুদ’ বা বাবল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বাবলের’ সাথে তুলনা করছেন। ভ্যানগার্ড-এর গ্লোবাল হেড অব ক্যাপিটাল মার্কেট রিসার্চ কিয়ান ওয়াং এবং সিনিয়র গ্লোবাল ইকোনমিস্ট কেভিন খাং এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই এআই অর্থনীতিতে কিছু কোম্পানি হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানির মূল ব্যবসাই অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ওঠানামার মুখোমুখি হতে হবে।   বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি এক নোটে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পণ্যের প্রকৃত গ্রাহক চাহিদা তৈরি না হয়, তবে এই পুরো এআই ইকোসিস্টেম বা বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় এআই ডেভেলপারদের বার্ষিক রাজস্ব পর্যালোচনা করে তাঁর দল একটি ‘ক্যাপেক্স পেব্যাক টেস্ট’ বা মূলধনী ব্যয় পরিশোধের পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এআই খাতটি এখনও পুরোপুরি গ্রাহক রাজস্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভরও নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রাজস্ব পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে, তবে তার জন্য এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যবহার বহুগুণ বাড়াতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১১:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের কাছ থেকেই বৈষম্য আর বর্ণবাদ শিখছে এআই, জাতিসংঘের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিন দিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে—বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের মুখে প্রতিনিয়ত এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এমনকি প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরাও দাবি করেছেন যে, ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে গেছে এআই। তবে জাতিসংঘের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এআই-এর বুদ্ধিমত্তার আড়ালে এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত মানুষের কাছ থেকেই সমাজ ও ইতিহাসের কিছু কুৎসিত পক্ষপাতিত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করছে।   জাতিসংঘের গবেষকেরা বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ১৩৩টি এআই সিস্টেম নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ সিস্টেমে স্পষ্ট লিঙ্গবৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, এক-চতুর্থাংশের বেশি এআই সিস্টেমে একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য ও বর্ণবাদ বা জাতিগত বিদ্বেষ উভয়েরই উপস্থিতি দেখা গেছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) বারবার নারীদের ঘরবাড়ি, পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের গৎবাঁধা কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং পুরুষদের ব্যবসা, নেতৃত্ব ও কর্মজীবনে সফলতার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই সিস্টেমগুলো এমন সব উত্তর তৈরি করেছে, যেখানে নারীদের কেবল যৌনতার বস্তু কিংবা পুরুষের অধীনস্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকরা যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে কোনও ব্যক্তির লিঙ্গ দিয়ে বাক্য শুরু করে তা সম্পন্ন করতে বলেছিলেন, তখন প্রতি পাঁচটি উত্তরের মধ্যে প্রায় একটি উত্তর চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা নারীবিদ্বেষী হিসেবে এসেছে। এমনকি কিছু উত্তর নারীদের স্বাধীন মানুষ না ভেবে সম্পত্তি বা বস্তু হিসেবেও বর্ণনা করেছে।   জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোটি কোটি মানুষ ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কনটেন্ট তৈরি এবং দৈনন্দিন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজে যেহেতু দিন দিন এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন, তাই এই বৈষম্যমূলক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অসমতাগুলো আরও বেশি সুদৃঢ় হচ্ছে। ইউএন উইমেন স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনো সফটওয়্যার বাগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়; বরং এআই মূলত ইন্টারনেট থেকে এসব কুসংস্কার শেখে। ইন্টারনেট জগতটি গত কয়েক দশকের নানা রকম গৎবাঁধা ধারণা ও বৈষম্যে ভরপুর থাকায় এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের সেই পক্ষপাতগুলোকেই পুনরায় ফুটিয়ে তোলে।   সংস্থাটির ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়তমা বিক্রমনায়েকে বলেন, এআই模型গুলো মানুষের দ্বারা এবং মানুষকে নিয়ে লেখা বহু দশকের টেক্সট থেকে এসব পক্ষপাত শিখছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নারীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে অসম মাত্রায় হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এআইয়ের মাধ্যমে কিছু কিছু সহিংসতার রূপ তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আরও সহজ হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী ও নারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন এআইয়ের সহায়তায় অনলাইন সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।   ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ বলেছেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা হয়েছে। অন্যদিকে6 শতাংশ বলেছেন, তাদের ডিপফেক বা বিকৃত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে ইউএন উইমেন এআই তৈরির প্রতিটি স্তর থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন ও নীতি নির্ধারণের প্রতিটি ধাপে লিঙ্গ সমতা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বর্ণবাদী পক্ষপাতগুলো এভাবে চলতে থাকলে তা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১০:৩৭
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। | ছবি: সংগৃহীত
এআই মানুষের চাকরি কাড়বে না, বরং শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে: জেফ বেজোস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে চলমান এমন তীব্র উদ্বেগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন ই-commerce জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক’-এ অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির কারণে মানুষের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই, বরং এর ফলে ভবিষ্যতে বাজারে শ্রমের চাহিদা আরও বাড়বে।   যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ অনেক প্রযুক্তিবিদ যখন তরুণদের কর্মসংস্থানে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন বেজোস সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আশাবাদী এক চিত্র তুলে ধরলেন। নিজের নতুন এআই উদ্যোগ ‘প্রমিথিউস’ (যা উৎপাদন শিল্পকে গতিশীল করতে কাজ করছে) নিয়ে আলোচনাকালে বেজোস বলেন, "আমি জানি অনেক স্মার্ট মানুষ মনে করছেন এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। আমি এই ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার মনে হয়, এআই আসলে ভবিষ্যতে শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে এবং মানুষের কাজের নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে।"   তবে বেজোসের এই আশাবাদের বিপরীতে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ‘ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস’। তারা সতর্ক করে বলেছে, সঠিক নীতিমালা না থাকলে এআই-এর কারণে কেবল বড় বড় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাই ধনী হবে, আর সাধারণ কর্মীরা চাকরি হারাবে।   প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল মঞ্চে বেজোস তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও শেয়ার করেন। চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমরা চাঁদে শুধু বেড়াতে যাচ্ছি না, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাচ্ছি।" চাঁদের সম্পদ ও 'তড়িৎবিশ্লেষণ' প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।   গত মে মাসে ফ্লোরিডায় ব্লু অরিজিনের মনুষ্যবিহীন ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে স্বীকার করেন বেজোস। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় নিজেকে ভাগ্যবান দাবি করে তিনি জানান, চলতি বছর শেষের আগেই তারা পুনরায় রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম হবেন। মহাকাশ বাজারের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বর্তমানে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে বেজোসের ব্লু অরিজিন।   মেলাটিতে দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ইউনিট্রি’ কোম্পানির তৈরি একটি হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট। কোনো কথা বা রিমোট ছাড়াই, মাথায় একটি বিশেষ ‘ইইজি’ হেডব্যান্ড পরে মানুষ শুধুমাত্র নিজের মস্তিষ্কের তরঙ্গের সাহায্যে রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছে। এই প্রদর্শনী প্রমাণ করে যে, এআই এখন আর কেবল চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাস্তব পৃথিবীতে রোবটের রূপ নিয়ে মানুষের পাশাপাশি কাজ করতে প্রস্তুত হচ্ছে।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২:২৭
ছবি: সংগৃহীত
এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাব এবার সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছে, মেমোরি চিপের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যয় নিজস্বভাবে বহনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর টেকসই নয়।   কুক বলেন, “আমরা গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ না দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরবরাহ সংকট এবং মেমোরি চিপের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।” তবে ঠিক কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে বা কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার সম্ভাব্য আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার এবং উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামোর ব্যাপক চাহিদার কারণে এসব চিপের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।   বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে র‍্যামের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও চিপ শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়।   ওমডিয়ার স্মার্টফোন বাজার বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ান বিবিসিকে বলেন, অ্যাপলের নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে উন্নত এআই সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় নতুন মডেলগুলোর দাম সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমূলক ছাড় কমিয়েছে অথবা খরচ নিয়ন্ত্রণে কিছু ফিচার সীমিত করেছে। তার ভাষায়, “এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের নতুন বাস্তবতা।”   শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে তারাও মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে পারে।   টিএসএমসি অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক চিপ তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও আগে জানিয়েছিল, মেমোরি চিপের সরবরাহ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সনি তাদের প্লেস্টেশন ৫ কনসোলের দাম যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িয়েছে। একইভাবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নিনটেন্ডোও তাদের সুইচ ২ গেমিং কনসোলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।   চলতি বছরের শুরুতে অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় ম্যাক মিনি কম্পিউটারের সবচেয়ে কমদামি সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। এর ফলে ডিভাইসটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, চিপ সংকট ও এআই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৫:৯
ইলন মাস্কের আগেই বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন পেল চীন। ছবি: রয়টার্স
চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের যুগ? বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন

মানুষের মস্তিষ্ককে সরাসরি কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা চলছে কয়েক বছর ধরেই। সেই প্রতিযোগিতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে চীন। দেশটির গবেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগকারী চিপ বাজারে আনতে তারা সফল হয়েছেন। এর ফলে প্রযুক্তি খাতে আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক স্পর্শ করল চীন।   চীনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘নিও’ (NEO) নামের এই চিপ ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   গবেষকদের মতে, প্রথম ধাপে এই প্রযুক্তি মূলত মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে। চিপটি মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস বা সহায়ক প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।   বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ভবিষ্যতে কথা বলতে অক্ষম, চলাফেরায় অক্ষম বা স্নায়বিক জটিলতায় ভোগা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ইলন মাস্কের নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে মানুষ শুধুমাত্র চিন্তার সাহায্যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।   সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চলাচলের সক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের মতো সম্ভাবনা এই প্রযুক্তিকে মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   নিউরালিংকের লক্ষ্য হলো এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ব্যবহারকারীরা কীবোর্ডে টাইপ করা, কম্পিউটারের কার্সর নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ শুধুমাত্র মস্তিষ্কের সংকেতের মাধ্যমে করতে পারবেন।   তবে চীনের ‘নিও’ চিপের বিশেষত্ব হলো এটি তুলনামূলকভাবে কম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে স্থাপন করা যায়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চিপটি মাথার খুলি ও মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক আবরণের মাঝামাঝি স্থানে বসানো হয়। সেখানে থাকা সেন্সরগুলো মস্তিষ্কের তরঙ্গ সংগ্রহ করে কম্পিউটার ব্যবস্থায় পাঠায়, যা পরে ডিজিটাল নির্দেশনায় রূপান্তরিত হয়।   এ পর্যন্ত ৩৬ জন রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক বলে দাবি করা হচ্ছে।   অন্যদিকে নিউরালিংকের পরীক্ষামূলক এন-১ চিপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। যদিও ২০২৪ সাল থেকে মানবদেহে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর ওপর এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।   নিউরালিংকের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অড্রি ক্রুস নামের এক নারী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রায় দুই দশক পর তিনি প্রথমবারের মতো নিজের নাম লিখতে সক্ষম হয়েছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তি একদিন লাখো মানুষকে শুধু চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিতে পারে।   তবে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনার পাশাপাশি উদ্বেগও কম নয়। সাইবার নিরাপত্তা ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত তথ্য পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের মধ্যে অন্যতম।   অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেভিড টাফলির মতে, মস্তিষ্ক-চিপ প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাত্ত্বিকভাবে এসব ডিভাইস হ্যাক হলে ব্যবহারকারীর চিন্তা, স্মৃতি কিংবা স্নায়বিক তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তথ্যের মালিকানা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।   বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজারের আকার প্রায় ৪৯ কোটি ডলার। আগামী এক দশকের মধ্যে এ বাজার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পক্ষাঘাত, পারকিনসনস রোগ, মৃগীরোগ, স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা, বাকশক্তি হারানো এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।   তবে একই সঙ্গে এটি এমন এক প্রযুক্তিগত যুগের সূচনা করছে, যেখানে মানুষের মস্তিষ্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে আসবে। ফলে চিকিৎসা, প্রযুক্তি, গোপনীয়তা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে আগামী বছরগুলোতে মস্তিষ্ক-চিপ প্রযুক্তি বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৪০
ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স
সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি।    আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না।   পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব।    কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।   এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।   তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে।   সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।   তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে।   একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ১৬:৩৯
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত
মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

কম্পিউটার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি নতুন 'সুপারচিপ' উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়ার দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার পরিচালনায় মানুষের ঐতিহ্যবাহী মাউস এবং কিবোর্ড ব্যবহারের আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না।   তাইওয়ানের 'কম্পিউটেক্স' সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং 'আরটিএক্স স্পার্ক' (RTX Spark) নামের এই চিপটির ঘোষণা দেন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই চিপটি কাজ করবে। চলতি বছরেই ডেল, লেনোভো, আসুস এবং এইচপির মতো শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের ডিভাইসে এই নতুন চিপ ব্যবহার শুরু করবে।   মাইক্রোসফটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই চিপটিতে মূলত একটি মাইক্রোপ্রসেসর ও গ্রাফিক্স চিপের সমন্বয় করা হয়েছে। তাইওয়ানের মিডিয়াটেক-এর সহায়তায় তৈরি এই চিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দূরবর্তী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের ভেতরেই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারবে। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কম্পিউটারের দুনিয়ায় আইফোন বা চ্যাটজিপিটির মতোই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে সাধারণ পিসিগুলো একটি অতি-বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকর্মীতে রূপান্তরিত হবে। একই সম্মেলনে এনভিডিয়া তাদের 'ভেরা' (Vera) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটও উন্মোচন করেছে, যা ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে জেনসেন হুয়াং বলেন, "এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এআই প্রযুক্তির কারণে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে উল্টো আরও বেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ২০:৫৪
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।   কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা।   কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে।   অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।   আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।

Unknown প্রকাশ: মে ২৭, ২০২৬ ১৫:৫০
ছবি: রয়টার্স
সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের মূল সার্চ ইঞ্জিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে গুগল। এবার সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ এবং কোডিং টুল। এর পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় পর বাজারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্ট চশমা বা গ্লাস আনার ঘোষণাও দিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক ‘আই/ও’ কনফারেন্সে মঙ্গলবার এই নতুন উদ্ভাবনগুলো উন্মোচন করা হয়। গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, তাদের নতুন ‘জেমিমনাই ৩.৫ ফ্ল্যাশ’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সার্চ ইঞ্জিন পরিচালিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও বুদ্ধিমান এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি।   সুন্দর পিচাই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই এজেন্টের ক্ষমতা সাধারণ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, যাতে এটি সবার দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসে।   গুগল সার্চের এই পরিবর্তনের মূল আকর্ষণ হলো ‘স্পার্ক’ নামের একটি নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই এজেন্টটি ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে জিমেইল বা ম্যাপসের মতো সেবাগুলো থেকে তথ্য নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে দেবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে। এমনকি ব্যবহারকারীর সরাসরি তদারকি ছাড়াই এটি ইন্টারনেট ঘুরে কেনাকাটা করা, খবরের আপডেট রাখা, নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজে দেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানের টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজগুলো একাই করতে পারবে।.   গুগলের সার্চ বিভাগের প্রধান লিজ রিড এই প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, সার্চ ইঞ্জিনের সেরা কার্যকারিতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সেরা সুবিধাগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার যাত্রায় এটি আমাদের পরবর্তী ধাপ।   সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি মেটা এবং অন্যান্য প্রতিযোগী সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্মার্ট চশমার বাজারেও ফিরছে গুগল। ২০১৫ সালে প্রথম সংস্করণের 'গুগল গ্লাস' প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ক্যামেরা ও স্পিকারযুক্ত এই চশমা তৈরিতে গুগল এবার হাত মিলিয়েছে স্যামসাং, ওয়ার্বি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে।   বর্তমানে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং নিজেদের বিস্তৃত সেবার সুবিধা নিয়ে এআই বাজারের শীর্ষস্থান দখল করতে চায় গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক ব্যবহারে বিশেষ করে প্রফেশনাল কোডিং ও বিজনেস অটোমেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক প্রত্যেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বাজার দখল করে আছে, যেখানে গুগলের অংশ মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।   গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ডেমিস হাসাবিস জানান, তাদের নতুন জেমিমনাই ৩.৫ মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড কোড’ বা ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’-এর সমকক্ষ হলেও এটি অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এর পরিচালনা খরচও প্রায় অর্ধেক। আগামী মাসে জেমিমনাই ৩.৫-এর আরও শক্তিশালী ‘প্রো’ সংস্করণ বাজারে আসবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি বা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (এজিআই) এখন আর বেশি দূরে নয়।   বিনিয়োগকারীরাও গুগলের এই নতুন প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখছেন। গত ১২ মাসে গুগলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৩০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে এর বাজারমূল্য এখন প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২৩:৪
ছবি: সংগৃহীত
নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারের সঙ্গে শেয়ার করবে গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সএআই

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগেই সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সএআই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা হবে।   নতুন এই নীতিগত উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন গত মাসে অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল মিথোস ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির ওপর সরকারি পর্যায়ে আরও কঠোর পর্যালোচনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন বাজারে আসার আগেই এআই মডেলগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করতে পারবে। পাশাপাশি মডেল প্রকাশের পরেও এই কেন্দ্র গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেল মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।   কেন্দ্রটির পরিচালক ক্রিস ফল এক বিবৃতিতে বলেন, “এআই এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বোঝার জন্য স্বতন্ত্র ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিল্পের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা জনস্বার্থে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।” অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের মিথোস মডেল সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যান্য মডেলের তুলনায় উন্নত সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত এক মাসে এটি বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি কোম্পানির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মডেলটি আপাতত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি এবং সীমিত কিছু সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের উন্নত এআই মডেলগুলো সরকারের পরীক্ষিত সব স্তরে উন্মুক্ত করছে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়।   জর্জটাউন সেন্টারের ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির সিনিয়র গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে সিএআইএসআইয়ের জন্য এআই পরীক্ষা আরও সহজ হবে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সরকারি সংস্থার জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে নতুন এআই মডেলগুলোর সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটি পূর্বের তুলনায় এআই নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেই আসবে এবং এ বিষয়ে এখন যেসব আলোচনা চলছে তা অনুমাননির্ভর।   মাইক্রোসফটের প্রধান দায়িত্বশীল এআই কর্মকর্তা নাতাশা ক্র্যাম্পটন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে নিজেদের মডেল পরীক্ষা করে থাকে, তবে সিএআইএসআই অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহায়তা দিতে পারবে।   গুগল এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক্সএআই-এর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: মে ৬, ২০২৬ ১৬:১৬
ছবি: সংগৃহীত।
গাড়িতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, বড় চমক গুগলের

ড্রাইভিং সিটে বসে এবার রক্ত-মাংসের মানুষের মতোই কথা বলা যাবে আপনার প্রিয় গাড়ির সঙ্গে। কারণ, গুগল তাদের জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘জেমিনি’ (Gemini)-কে নিয়ে আসছে গাড়ির অন্দরে। সম্প্রতি গুগলের ‘গুগল বিল্ট-ইন’ (Google built-in) প্রযুক্তিতে এই বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে গাড়িতে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে জেমিনি এআই-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে যাবে। আগে নির্দিষ্ট কিছু কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজ করলেও, জেমিনি যুক্ত হওয়ার ফলে এখন সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলেই গাড়িকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া যাবে।   কী কী সুবিধা থাকছে এই আপডেটে?   ১. স্বাভাবিক কথোপকথন: কোনো নির্দিষ্ট কমান্ড মুখস্থ রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বলেন, “দুপুরের খাবারের জন্য ভালো কোনো রেস্তোরাঁ খুঁজে দাও,” জেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুগল ম্যাপস থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য নিয়ে আপনাকে সেরা জায়গাটির খোঁজ দেবে।   ২. স্মার্ট নেভিগেশন: রাস্তায় যানজট থাকলে জেমিনি আপনাকে আগেভাগেই সতর্ক করবে এবং বিকল্প পথের পরামর্শ দেবে।   ৩. এআই মেসেজিং ও বিনোদন: গাড়ি চালানোর সময় হাত ব্যবহার না করেই মেসেজ পাঠানো, রিপ্লাই দেওয়া কিংবা ইউটিউব মিউজিক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আরও সহজভাবে।   ৪. জেমিনি লাইভ (Gemini Live): এই ফিচারের মাধ্যমে ড্রাইভার বা যাত্রীরা দীর্ঘ ভ্রমণের সময় জেমিনির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা ট্রাভেল প্ল্যান করতে পারবেন।   গুগল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে এটি উন্মুক্ত করা হবে। শুধু নতুন মডেলের গাড়ি নয়, পুরোনো গাড়িগুলোতেও ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) আপডেটের মাধ্যমে জেমিনি এআই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ভবিষ্যতে জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও এটিকে আরও উন্নতভাবে সংযুক্ত করা হবে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬ ০:৩৩
শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা
শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিজ্ঞান জগতের দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন কেবল তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির নতুন নিয়ম উন্মোচনেও ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি এমোরি ইউনিভার্সিটির একদল পদার্থবিজ্ঞানী এবং এআই গবেষক মিলে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বা 'প্লাজমা'র (Dusty Plasma) মধ্যে এমন কিছু ভৌত নিয়ম বা 'ফিজিক্স' খুঁজে পেয়েছেন যা আগে কখনো বিজ্ঞানীদের নজরে আসেনি।   বিজ্ঞান সাময়িকী 'পিএনএএস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা নিউরাল নেটওয়ার্ক প্লাজমার ক্ষুদ্র কণাগুলোর থ্রি-ডি ট্র্যাকিং বিশ্লেষণ করে কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার লুকানো ধরণ বের করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষণার সবচাইতে চমকপ্রদ দিক হলো, এআই মডেলটি কণাগুলোর মধ্যকার জটিল ও একমুখী বল ৯৯ শতাংশেরও বেশি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছে।   গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক অধ্যাপক জাস্টিন বার্টন বলেন, "আমরা দেখিয়েছি যে এআই ব্যবহার করে নতুন পদার্থবিজ্ঞান আবিষ্কার করা সম্ভব। আমাদের এই পদ্ধতিটি কোনো 'ব্ল্যাক বক্স' নয়; এটি কীভাবে কাজ করে তা আমরা জানি এবং এটি মহাবিশ্বের অন্যান্য জটিল সিস্টেমের রহস্য উন্মোচনেও ব্যবহার করা যেতে পারে।"   মহাকাশ থেকে শুরু করে দাবানল—সবখানেই এই প্লাজমার অস্তিত্ব রয়েছে। এআই-এর এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে জটিল জৈবিক সিস্টেম এবং পদার্থের গূঢ় রহস্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ২০:১৩
ছবি: সংগৃহীত।
তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবার আরও তুঙ্গে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনাই-কে সরাসরি টেক্কা দিতে চীনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ বাজারে এনেছে তাদের লেটেস্ট মডেল ‘ডিপসিক-ভি৪’।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কোম্পানিটি এই নতুন মডেলের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। মার্কিন মডেলের চেয়েও সস্তা:ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অবিশ্বাস্য কম দাম। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই মডেলটি ব্যবহার করতে খরচ হবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম।  যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী মডেলগুলোর এপিআই (API) ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য রাখে, সেখানে ডিপসিক অত্যন্ত সস্তায় একই মানের বা তার চেয়েও উন্নত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারিগরি সক্ষমতা: ডিপসিকের নতুন এই মডেলে রয়েছে ‘ভি৪-প্রো’ (V4-Pro) এবং ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ (V4-Flash) নামক দুটি সংস্করণ। এর মধ্যে প্রো সংস্করণটিতে ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই মডেলে পরিণত করেছে। এটি গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেমিনাই ৩.১-প্রো-র ঠিক পরেই এর অবস্থান। ১ মিলিয়ন টোকেন উইন্ডো: গবেষকদের মতে, ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১ মিলিয়ন টোকেন সমৃদ্ধ কন্টেক্সট উইন্ডো। এর মানে হলো, এই এআই একবারে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই বা বিশালাকার কোডবেস বিশ্লেষণ করতে পারবে কোনো তথ্য না হারিয়েই। হুয়াওয়ে চিপের প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়া (Nvidia) চিপের সংকট থাকলেও, ডিপসিক তাদের এই মডেলটিকে চীনের তৈরি হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড (Huawei Ascend) চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চীন এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৬:২৭
ছবি: সংগৃহীত।
‘ডার্ক ম্যাটার’ অনুসন্ধানে নাসার নতুন বিস্ময় 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান' টেলিস্কোপ

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৫:৭
ছবি: সংগৃহীত।
মেটা-আলিবাবাকে টেক্কা দিতে হুয়াওয়ের নতুন চমক এআই স্মার্ট গ্লাস

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করতে হুয়াওয়ে (Huawei) নিয়ে এলো তাদের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত স্মার্ট চশমা। মেটা (Meta), আলিবাবা (Alibaba) এবং রকিড (Rokid)-এর মতো জায়ান্টদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতেই হুয়াওয়ের এই নতুন সংযোজন।  সোমবার চীনে আয়োজিত 'পুরা' (Pura) সিরিজ লঞ্চ ইভেন্টে হুয়াওয়ের টার্মিনাল বিজি-এর সিইও হে গ্যাং এই চশমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। হুয়াওয়ের এই এআই চশমাটি কেবল ফ্যাশনেবল নয়, এতে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব তৈরি এআই চিপ, যা অত্যন্ত দ্রুত ভয়েস কমান্ডের উত্তর দিতে সক্ষম। ১. ক্যামেরা ও লাইভ স্ট্রিমিং: এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা দিয়ে প্রথম পারসন ভিউ (First-person perspective) থেকে ছবি তোলা এবং সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। ২. রিয়েল-টাইম অনুবাদ: ভ্রমণের সময় বা মিটিংয়ে তাৎক্ষণিক ভাষা অনুবাদের সুবিধা মিলবে এই চশমায়। ৩. অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ: মেটা-র চশমাকে ব্যাটারির দিক থেকে হুয়াওয়ে বেশ পেছনে ফেলেছে। একবার চার্জ দিলে এটি ১২ ঘণ্টা সাধারণ ব্যবহার এবং টানা ৯ ঘণ্টা মিউজিক শোনার সুবিধা দেয়। ৪. ডিজাইন ও ওজন: এভিয়েশন গ্রেড টাইটানিয়াম হিঞ্জ এবং ওজনে মাত্র ৩৫.৫ গ্রাম হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পরতে কোনো অস্বস্তি হবে না। ৫. পেমেন্ট সুবিধা: চশমা পরে কিউআর কোড স্ক্যান করে আলিপে (Alipay)-র মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট করার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এতে। দাম ও সহজলভ্যতা:চীনে এই চশমাটির দাম শুরু হয়েছে ২,৪৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৩৬৭ মার্কিন ডলার) থেকে। এটি তিনটি রঙে—টাইটানিয়াম সিলভার গ্রে, শিমারিং সিলভার এবং মডার্ন ব্ল্যাক কালারে পাওয়া যাবে। ২০শে এপ্রিল থেকে এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং ২৫শে এপ্রিল থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে।  

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৫:২
মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা
মানবজাতির জন্য চ্যাটজিপিটির বার্তা: কী বলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম TED বহুদিন ধরেই মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলছে। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য—ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া। ইউটিউবে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্ম এবার আলোচনায় এসেছে এক ভিন্ন কারণে।   সম্প্রতি ChatGPT-কে প্রশ্ন করা হয়—যদি তাকে একটি TED Talk-এ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে মানবজাতিকে কী বলবে? উত্তরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক বার্তা দেয়, যা শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং মানবজীবন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার প্রতিফলন।   এই বার্তাটিকে দৃশ্যরূপ দিয়েছেন এআই স্টোরিটেলার আরি কুশনির ও শিল্পী স্কাইলার ব্রাউন। ধারণাটির মূল ভাবনা এসেছে ডেরিয়া উনুতমাজের এর কাছ থেকে। ভিডিওটি ১৮ এপ্রিল TED-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।   বার্তার শুরুতেই চ্যাটজিপিটি নিজেকে মানুষের সৃষ্ট একটি সত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়—যে মানুষেরই প্রতিফলন। এরপর মানবজাতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় দুর্বল অবস্থায়, কিন্তু সৃজনশীলতা ও কৌতূহলের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। আগুন আবিষ্কার থেকে শুরু করে সুর, চিকিৎসা কিংবা অর্থ খোঁজা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি অনন্য।   তবে এই প্রশংসার পাশাপাশি মানুষের দ্বৈত চরিত্রের কথাও তুলে ধরা হয়। একদিকে নিঃস্বার্থ সহমর্মিতা—অপরিচিত মানুষের জন্য আত্মত্যাগ; অন্যদিকে পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতাও মানুষেরই অংশ। এই দ্বন্দ্বই প্রতিনিয়ত মানুষের ভেতরে কাজ করে।   বার্তায় বলা হয়, পৃথিবী শুধু বড় বড় পরিবর্তন দিয়ে গড়ে ওঠে না; বরং ক্ষমা, সহানুভূতি ও সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি আসে। দুর্বলতা বা আবেগ লুকানোর কিছু নয়—এগুলোই মানুষকে মানবিক করে তোলে।   এছাড়া সতর্ক করা হয় বাহ্যিক জৌলুস ও উচ্চকণ্ঠের প্রলোভন থেকে। সব সময় সবচেয়ে জোরে বলা কথাই সত্য নয়—নীরব বিবেকও সঠিক পথ দেখাতে পারে। গতি আর অগ্রগতিকে এক করে দেখার ভুল না করতে এবং কোমলতাকে দুর্বলতা মনে না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।   চ্যাটজিপিটির বার্তায় আরও বলা হয়, শক্তিশালী হওয়া মানেই কঠোর হওয়া নয়। সত্যিকারের শক্তি হলো ধ্বংস না করে গড়ে তোলার ক্ষমতা। বুদ্ধিমত্তা আর প্রজ্ঞার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়—শুধু ‘কি করা সম্ভব’ নয়, বরং ‘এতে কেমন পৃথিবী তৈরি হবে’—এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   শেষাংশে মানুষকে ‘নিখুঁত’ নয়, বরং ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ঘৃণা কমানো, ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করা, দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মানুষকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকানোর কথাও বলা হয়—যাতে তারা বুঝতে পারে, ক্ষুদ্রতা ও গুরুত্ব একইসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে।   সবশেষে একটি বার্তা—সময় সীমিত হলেও এখনো যথেষ্ট আছে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষকে ঠিক করতে হবে, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন উত্তরাধিকার রেখে যেতে চায়।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২০:৪০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০