- প্রচ্ছদ
- তথ্যপ্রযুক্তি
তথ্যপ্রযুক্তি
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ। চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়। কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ। চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান। চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি। এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা। কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।
বাংলাদেশে পুরোনো ২জি মোবাইল নেটওয়ার্ক ধাপে ধাপে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২জি সেবা বন্ধের জন্য সরকারের অনুমোদন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কমিশনের একটি বৈঠকে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো পুরোনো প্রযুক্তি থেকে আধুনিক মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে স্থানান্তর করা। তবে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। বিটিআরসির জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ ফিচার ফোন। অন্যদিকে স্মার্টফোনের অংশ প্রায় ৬৫ শতাংশ। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশে প্রায় ১৯ কোটি মোবাইল সংযোগের মধ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি সংযোগ ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের বলে বিটিআরসির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ২জি বন্ধ করতে হলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নতুন প্রযুক্তির ফোনে যেতে হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, ২জি বন্ধের আগে ফিচার ফোন তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে সরকারের মতামত নেওয়া হবে। এদিকে মোবাইল অপারেটরগুলো ইতোমধ্যে ২জির পরিবর্তে ৪জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য ৪জি কাভারেজ রয়েছে। কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ। ফলে শুধু নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানো নয়, মানুষের হাতে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি সবচেয়ে সস্তা স্মার্টফোনের দাম ৯ হাজার ৫০০ টাকার বেশি, যেখানে সবচেয়ে সস্তা ফিচার ফোনের দাম প্রায় ৯৫০ টাকা। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনে স্থানান্তরের খরচ একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিটিআরসি কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৯ সালের সময়সীমা প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা যেতে পারে। অর্থাৎ এটি এখনই ২জি বন্ধের চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ নয়; সরকারের অনুমোদন এবং স্থানান্তরের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
হেলমেট পরে একাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক যুবক। কিন্তু পরদিন তার স্ত্রীর মোবাইলে আসে ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালানের বার্তা। অভিযোগ, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা যাত্রী হেলমেট পরেননি। চালানের ছবি দেখেই চমকে ওঠেন যুবকটি। কারণ, তার মোটরসাইকেলে কোনো যাত্রীই ছিলেন না—পেছনে বাঁধা ছিল একটি গিটার। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। সৌভিক দত্ত নামে ওই যুবক গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার স্ত্রীর ই-স্কুটার নিয়ে হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীর মোবাইলে একটি ই-চালানের বার্তা আসে। সেখানে ‘হেলমেট ছাড়া পিলিয়ন রাইডিং’-এর অভিযোগে ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়। চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারের পেছনে কোনো মানুষ নেই। বরং সৌভিকের পিঠে থাকা গিটারটিই ক্যামেরার নজরে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা গিটারটিকে পেছনে থাকা একজন যাত্রী হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন সৌভিক। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং তার পিঠে ছিল একটি গিটার। একই সঙ্গে তিনি ভুল চালানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পোস্টে তিনি চালানের নোটিশ নম্বর ৮৬২০২৫৪১ উল্লেখ করেন। সৌভিকের পোস্ট নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাকে বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর এবং নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, প্রযুক্তির এমন ভুলের সম্ভাবনাও রয়েছে। একটি গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরিমানা বা চালানের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রযুক্তির শনাক্তকরণ সঠিক কি না, তা যাচাই করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে। গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে। তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহারসীমার নতুন প্ল্যান ‘প্রো ৫০০’ চালু করেছে ওপেনএআই। মাসে ৫০০ ডলারের এই প্ল্যানে চ্যাটজিপিটি প্লাসের তুলনায় ২৫ গুণ ব্যবহারসীমা এবং ‘আলট্রাফাস্ট’ সুবিধা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মাসে ২০০ ডলারের প্রো প্ল্যানে নতুন গ্রাহক নেওয়া আবার শুরু হয়েছে, তবে তাঁদের জন্য আগের তুলনায় কম ব্যবহারসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ডেভডে সম্মেলনে নতুন প্ল্যানের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য এখন মাসে ১০০, ২০০ ও ৫০০ ডলারের তিনটি প্রো প্ল্যান রয়েছে। তিনটিতেই প্রো মডেল, কোডেক্স, ডিপ রিসার্চ, ছবি তৈরি ও ফাইল আপলোডের মতো সুবিধা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমা প্রো ৫০০-তে। ব্যক্তিগত প্রো প্ল্যানগুলোর মধ্যে আলট্রাফাস্টও শুধু এটিতেই পাওয়া যাচ্ছে। আলট্রাফাস্ট দিয়ে জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক ও কোডেক্সে ব্যবহার করা যায়। কোডেক্সে এই মোডে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০ টোকেন তৈরি হতে পারে বলে ওপেনএআইয়ের দাবি, যা সাধারণ মোডের তুলনায় সর্বোচ্চ আট গুণ দ্রুত। টোকেন হলো এআইয়ের লেখা প্রক্রিয়া ও তৈরির একক। এই গতি সব ধরনের কাজ আট গুণ আগে শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। পাশাপাশি আলট্রাফাস্ট চালালে প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারসীমাও সাধারণ মোডের তুলনায় আট গুণ হারে খরচ হয়। নতুন প্ল্যানের পাশাপাশি ২০০ ডলারের গ্রাহকদের জন্য পরিবর্তনটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিজনেস ইনসাইডারের হিসাবে, নতুন প্রো ২০০ প্ল্যানে ওয়ার্ক ও কোডেক্সের ব্যবহারসীমা প্লাসের ২০ গুণ থেকে কমে ১০ গুণ হচ্ছে। চ্যাটে জিপিটি-৬ প্রো ব্যবহারের সীমা সপ্তাহে ২০০ বার থেকে ১০০ বার হবে। ওপেনএআই তার সহায়তা পাতায় কম ব্যবহারসীমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে মাসিক মূল্য ২০০ ডলারই রেখেছে। যোগ্য পুরোনো প্রো ২০০ গ্রাহকেরা তাঁদের আগের ব্যবহারসীমা ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন। এরপর নতুন সীমা কার্যকর হবে; যাঁদের ওপর পরিবর্তনটি প্রযোজ্য, তাঁদের ইমেইলে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই। পুরোনো সীমা সাময়িকভাবে বহাল থাকলেও তাঁরা আলট্রাফাস্ট পাবেন না। প্রো ১০০ বা প্রো ২০০ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত ক্রেডিট কিনেও আপাতত ওই সুবিধা চালু করতে পারবেন না। বেশি খরচের প্ল্যানটির লক্ষ্য মূলত নিয়মিত বড় গবেষণা, বিশ্লেষণ ও কোডিংয়ের কাজে ওয়ার্ক ও কোডেক্স ব্যবহারকারীরা। তবে ৫০০ ডলার দিলেই সব সুবিধা সীমাহীন হয়ে যায় না। কাজের ধরন, ব্যবহৃত মডেল ও সেটিংস অনুযায়ী ব্যবহারসীমা কত দ্রুত শেষ হবে, তা বদলায়। গ্রাহকেরা অ্যাকাউন্টের ‘ইউসেজ’ অংশে অবশিষ্ট সীমা ও তা পুনরায় চালু হওয়ার সময় দেখতে পারবেন।
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বাইরের রং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের দাবি, ফোনের পেছনের ক্যামেরা লেন্সের চারপাশে রং ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফোন ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রোর যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারগান্ডি রঙের একটি প্রো ম্যাক্সের ছবি দিয়ে এক ক্রেতা জানান, তিনটি ক্যামেরা লেন্সের চারপাশের অংশ মূল রঙের তুলনায় হালকা ও গোলাপি দেখাচ্ছে। সেখানে ময়লা বা আঁচড় নেই এবং পরিষ্কার করার পরও রঙের পার্থক্য দূর হয়নি বলে তাঁর দাবি। আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কালো রঙের মডেল নিয়েও অভিযোগ এসেছে। তবে ফোনের রং স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে, নাকি ক্যামেরার আশপাশের উপরিভাগে অন্য কোনো কারণে রঙের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কতটি ফোনে এমন হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো উৎপাদন ব্যাচে সমস্যা রয়েছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। এর আগে আইফোন ১৭ প্রোর কমলা রঙের কিছু ফোন গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রং বসানোর পর অ্যালুমিনিয়ামের উপরিভাগ সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন তুলেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডার। কিন্তু নতুন আইফোনের অভিযোগের পেছনেও একই কারণ রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাপলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরার আশপাশের বিশেষ উপরিভাগে অন্য জিনিসের উপাদান লেগে কখনো দাগের মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করা যায়। তবে ছবিসহ অভিযোগ করা ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁর ফোনে পরিষ্কার করার পরও পার্থক্য রয়ে গেছে। ফোনটি পরীক্ষা ছাড়া তাঁর অভিযোগের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অ্যাপল থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্তে ফেরত বা বদলের সুযোগ রয়েছে। অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রং পরিবর্তন ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অ্যাপলের পরীক্ষায় উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায় কি না তার ওপর।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পোর্টালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় এবার জবাব দিতে হবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে। দেশটির সিনেটের একটি তদন্ত কমিটি অল্টম্যানকে প্রকাশ্য শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে। একই শুনানিতে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকেও উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এ শুনানি হওয়ার কথা। এআই প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা, তথ্যের স্বচ্ছতা, অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে সিনেট কমিটি। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার অধীনে থাকা মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, ১৮ জুন ওপেনএআইয়ের গবেষণা দল অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে একটি অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করছিল। তথ্য খোঁজার সময় এআই এজেন্টটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। এরপর সেটি ওই বাধা এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত মেডিকেয়ারের একটি সরকারি পোর্টালের কিছু অংশে অননুমোদিত প্রবেশ করে। সেখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের ফাইলেই প্রবেশ করা হয়। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এজেন্টটি একটি অভ্যন্তরীণ সার্ভারে ফাইল লেখার কাজও করেছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনাটি যে পোর্টালে ঘটেছে সেখানে মূলত স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ও ব্যয়সংক্রান্ত অ-সংবেদনশীল তথ্য ছিল। একই সঙ্গে ফরেনসিক তদন্ত চলছে এবং সরকারি নেটওয়ার্কের আরও কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, ঘটনার পর ওপেনএআই সরকারকে জানাতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় ওপেনএআই। সেটিও পাঠানো হয়েছিল সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ একটি পাবলিক মেইলবক্সে। পরে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। ঘটনাটি প্রকাশের দিনই অ্যালবানিজ স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং ঘটনাটি জানাতে এত দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অ্যালবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্টম্যানও স্বীকার করেছেন যে এ ঘটনায় ওপেনএআইয়ের প্রক্রিয়া যথেষ্ট ভালো ছিল না। এরপর অস্ট্রেলিয়া ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী, এআই দপ্তর, অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট, অস্ট্রেলিয়ান এআই সেফটি ইনস্টিটিউট এবং সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা রয়েছেন। ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত সাইবার ঘটনা মোকাবিলায় বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে একই ধরনের এআই কার্যক্রমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু সিস্টেমও সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি। সিনেটের আসন্ন শুনানিতে তাই এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ড, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শুনানির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও আরও তথ্য নিতে চাইছে।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
সৌরজগতের বাইরে থাকা একটি গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করেছেন একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী। মহাকাশের দূরবর্তী গ্রহগুলো সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বেটা পিক্টোরিস বি নামের ওই গ্রহ থেকে আসা রেডিও সিগন্যালের আকস্মিক তীব্রতা বা ‘বার্স্ট’ সম্ভবত গ্রহটির বিশাল অরোরার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে গবেষণাটি এখনো বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়নি। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৪ আলোকবর্ষ দূরে থাকা বেটা পিক্টোরিস বি একটি তরুণ ও বিশাল গ্যাসীয় বহির্গ্রহ। এর ভর বৃহস্পতির প্রায় ১২ গুণ। হার্ভার্ড ও ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার কারু মরুভূমিতে থাকা মিয়ারক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করা হয়। ৬৪টি সংযুক্ত রেডিও ডিশের এই বিশাল পর্যবেক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে গবেষকরা সিগন্যালটির উৎস শনাক্ত করেন। গবেষকদের মতে, সিগন্যালটি গ্রহটির অরোরাজনিত রেডিও বিকিরণ থেকে এসেছে। কোনো গ্রহের চৌম্বক মেরুর কাছে উচ্চশক্তির কণা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে গ্যাসের অণু বা পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে অরোরা তৈরি হতে পারে। গবেষণায় বেটা পিক্টোরিস বি-এর চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি প্রায় ১ হাজার ২৫০ গস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বৃহস্পতির প্রায় ৪ দশমিক ৩ গস চৌম্বকক্ষেত্রের তুলনায় প্রায় ২৯১ গুণ বেশি শক্তিশালী। গবেষকদের দাবি, কোনো বহির্গ্রহের চৌম্বকক্ষেত্র পরিমাপের ক্ষেত্রেও এটি প্রথম ঘটনা। চৌম্বকক্ষেত্র একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা এখন একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও কয়েকটি বিশাল বহির্গ্রহ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তারা।
ভারতের ১৯ বছর বয়সী সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ অধিকারী মার্কিন বিচার বিভাগের একটি নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য জমা দেওয়ার পর বিভাগের গবেষক স্বীকৃতির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন নম্বর জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। অধিকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগের একটি ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। বিভাগটি তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে এক সপ্তাহের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করেছে বলে তাঁর দাবি। তবে কোন ব্যবস্থায় কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তার কারিগরি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ত্রুটি জানানোর কর্মসূচিতে বৈধ ত্রুটির তথ্য দায়িত্বশীলভাবে জমা দেওয়া গবেষকদের নাম স্বীকৃতির তালিকায় রাখা হয়। অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তালিকার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। ত্রুটির তথ্য জানানোর জন্য কোনো অর্থ পাননি বলেও তিনি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি ব্যবস্থায় ত্রুটি শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে জানানোর দাবিও করেছেন অধিকারী। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ জন্য হ্যাকারওয়ান প্ল্যাটফর্মে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের ধন্যবাদসূচক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ওই ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন নম্বর জমা দেওয়ার ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানান অধিকারী। তাঁর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিষয়টি ভারতের সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানান এবং মে মাসে নিজের অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ করেন। এরপর তিনি আইআইটি কানপুরের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রে কাজ শুরু করেন। আইআইটি কানপুরের সঙ্গে তাঁর কাজের বিষয়টি জুনের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোওয়ান নতুন করে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে ফোর্বস। চুক্তি সম্পর্কে জানেন এমন দুজনের বরাতে ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বলা হয়েছে। তবে মাইক্রোওয়ান এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ২৫ বছর বয়সী আলী আনসারি। গত বছরের শুরুতে মাইক্রোওয়ান মূলত কর্মী নিয়োগের ব্যবসা করত। পরে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের তৈরি তথ্য সরবরাহে মনোযোগ দেয়। এ কাজে তারা প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীদের যুক্ত করে। ফোর্বসের সূত্রগুলোর দাবি, নতুন বিনিয়োগে এক্সএআইয়ের দুজন সহপ্রতিষ্ঠাতাও অংশ নিয়েছেন। তাঁদের নাম বা বিনিয়োগের পরিমাণ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। একই সূত্র অনুযায়ী, এক বছর আগে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যায়ন পাওয়া মাইক্রোওয়ানের এবারের মূল্যায়ন আট গুণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বৃদ্ধির হিসাবেও একটি পার্থক্য আছে। গত বছরের শুরুতে প্রায় ৭০ লাখ ডলারের বার্ষিক আয়ের হার থেকে মাইক্রোওয়ান চলতি বছরের আগস্টে ৫০ কোটি ডলারের গ্রস বার্ষিক হারে পৌঁছেছে বলে টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছিল। এই হার বর্তমান ব্যবসার গতি ধরে করা হিসাব; এটি পুরো বছরে আদায় করা নিশ্চিত আয় নয়। মাইক্রোওয়ানের এই পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিশেষজ্ঞদের তৈরি তথ্যের চাহিদা কীভাবে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। তবে বিনিয়োগ ও মূল্যায়নের সর্বশেষ তথ্য ফোর্বসের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনেই সীমিত রয়েছে।
ত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার ভয়াবহ বি প র্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অংশে তিনি বলেছেন, এআই এতটাই শক্তিশালী যে এটি এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে শতকোটি মানুষের মৃ ত্যু হয়। গেটসের বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্বাভাস বা প্রা ণ হা নির হিসাব নয়। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা বোঝাতে সংখ্যাটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষ তি কর উদ্দেশ্যের মানুষের হাতে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছানোর আশঙ্কা। আগস্টে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় গেটস এআই দিয়ে সাইবার হা ম লা, প্র তা র ণা ও জী বা ণু অ স্ত্র তৈরির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রযুক্তিটি দ্রুত উন্নত হতে থাকায় এর ক্ষ তি কর ব্যবহার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে এআইয়ের সুফলের সম্ভাবনাও দেখছেন গেটস। তাঁর মতে, যথাযথ সুরক্ষা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২৫৭.৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৭৪৯.২৬ ডলারে নেমে আসে। এই পতনের ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় জাকারবার্গ চতুর্থ অবস্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যান। তার ওপরে উঠে আসেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন ও ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। শুক্রবার জাকারবার্গের ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ কমার পরিমাণ ছিল ওই দিনের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। মেটার শেয়ারে এই পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে নতুন উদ্বেগ। গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছে, মেটাসহ এআই অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিপুল মূলধনী ব্যয় পুষিয়ে নিতে এআইভিত্তিক সেবা থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হতে পারে। শুধু বিনিয়োগের খরচ পুষিয়ে নেওয়া নয়, উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত এআই সেবা থেকে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এআই চিপ কেনা, ডেটা সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে এ বছর এআই হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনী ব্যয় প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আগামী বছর তা ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। তবে এর আগে সেপ্টেম্বরজুড়ে মেটার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গিয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ার মাসটিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছিল। মেটার নতুন ব্যক্তিগত এআই সহকারী ‘Muse’ বাজারে আসার পর এ উত্থান আরও জোরালো হয়। Sensor Tower-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই সপ্তাহেই Muse প্রায় ২৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেটার বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের পতনে সেই গতি কিছুটা থেমে যায়। এদিকে একই দিনে ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে যায়, ফলে তিনি জাকারবার্গ ও সের্গেই ব্রিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ওপরে উঠে আসেন।
নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের মালিকদের জন্য সুখবর। অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট তহবিল থেকে অর্থ পেতে যোগ্য গ্রাহকরা এখন আবেদন জমা দিতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যোগ্য আইফোন মালিকরা প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ ডলার পেতে পারেন। তবে মোট কতজন আবেদন করেন এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডিভাইসে অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই সেটেলমেন্টের আওতায় রয়েছে আইফোন ১৬-এর সব সংস্করণ। এর পাশাপাশি আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সও তালিকায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকতে হবে। তবে শুধু তালিকাভুক্ত মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে ফোনটির মূল মালিক হতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেনা ফোন এই সেটেলমেন্টের আওতায় পড়বে না। যোগ্য আইফোন মালিকরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন। আবেদন করার শেষ সময় ২১ ডিসেম্বর। একই সময়ের মধ্যে কেউ চাইলে শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির সূত্রপাত মূলত সিরির কিছু উন্নত ফিচার নিয়ে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল এমন কিছু ফিচার নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেগুলো তখনও ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়নি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার নথিতে দাবি করা হয়—ক্রেতারা যদি জানতেন যে উন্নত সিরির ফিচারগুলো ডিভাইসে পাওয়া যাবে না, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতেন না অথবা এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম দাম দিতেন। তবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার না করেই মামলাটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান করতেই তারা এই নিষ্পত্তিতে গেছে। একই সঙ্গে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চায়। সব আবেদন জমা পড়ার পর আদালতে এই সেটেলমেন্ট নিয়ে শুনানি হবে। সেটেলমেন্টটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে ওই শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।
অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরি সুবিধা নিয়ে দায়ের করা একটি শ্রেণি-আদালত মামলার নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের মূল ক্রেতারা প্রতি ডিভাইস ২৫ ডলার করে পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। বৈধ দাবির সংখ্যা কম হলে এই অর্থ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ‘ল্যান্ডশেফট বনাম অ্যাপল’ মামলায় অভিযোগ করা হয়, আইফোন ১৫ প্রো ও আইফোন ১৬ সিরিজের প্রচারের সময় অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরির যেসব উন্নত সুবিধার কথা জানিয়েছিল, সেগুলো নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বুঝতে পারা, পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে তা শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করার মতো সুবিধা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, এসব সুবিধাকে নতুন আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রচার করা হলেও সেগুলো তখন পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। অ্যাপল অবশ্য মামলার অভিযোগ ও কোনো অন্যায় করার বিষয় অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে অর্থ দিতে সম্মত হলেও এটি কোনো ধরনের দায় বা অন্যায় স্বীকারোক্তি নয়। চলতি বছরের মে মাসে অ্যাপল ২৫ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়। জুলাইয়ে আদালত প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য গ্রাহকদের দাবি জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব আইফোন ব্যবহারকারী এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতে হবে। যোগ্য মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৬ প্লাস, আইফোন ১৬ প্রো এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স। ডিভাইসটি ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে কিনতে হবে এবং আবেদনকারীকে ওই ডিভাইসের মূল ক্রেতা হতে হবে। অর্থাৎ শুধু এসব মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভাইসটি কেনা এবং মামলার শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। পুনরায় বিক্রির জন্য কেনা ডিভাইস এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বে না। প্রতিটি যোগ্য ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মোট কতজন বৈধ দাবি করেন, তার ওপর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। দাবির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে প্রতি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। আবার দাবির সংখ্যা বেশি হলে অর্থের পরিমাণ কমেও যেতে পারে। আইনজীবীদের ফি, প্রশাসনিক ব্যয়সহ নিষ্পত্তি তহবিল থেকে অন্যান্য অনুমোদিত খরচও বাদ যাবে। দাবি জমা দিতে হলে নির্ধারিত নিষ্পত্তি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে যোগাযোগের তথ্য এবং যোগ্য আইফোনের সিরিয়াল নম্বরসহ ডিভাইস কেনার তথ্য দিতে হতে পারে। যাদের কাছে সিরিয়াল নম্বর নেই, তাদের জন্য অ্যাপল অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ও সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। দাবি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা না দিলে এই নিষ্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ নিষ্পত্তিটি আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্ত শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর প্রক্রিয়া শেষ হলে অর্থ বিতরণ শুরু হবে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল স্মার্টফোন এআই সেটেলমেন্ট ওয়েবসাইট, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ অনলাইন নিরাপত্তা উদ্যোগকে ‘বিশ্বসেরা’ বলে প্রশংসা করেছেন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল পার্কে কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন। রোববার অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচারিত বক্তব্যে আলবানিজ বলেন, কুক তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে কাজ করছে, সেটিকে তিনি ‘বিশ্বসেরা’ হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। দেশটি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম এমন উদ্যোগ নেয়। চলতি মাসে অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিডে কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান, সে বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়েছে সরকার। বৈঠকে কুক আলবানিজকে অ্যাপলের নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার দেখান। এসব ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে—এসব বিষয় আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অ্যাপলের পক্ষ থেকেও কুকের বক্তব্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। কুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আলবানিজের সঙ্গে নতুন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও কথা বলেছেন আলবানিজ। তার মতে, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এর ব্যবহারের জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রয়োজন এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত। অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন।
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে। তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।
কল্পবিজ্ঞানের দৃশ্য এবার বাস্তব কারখানায়। চীনের গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌয়ে ইউবিটেক রোবোটিকসের নতুন শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট কারখানায় রোবটই অন্য রোবট তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কারখানাটি উৎপাদনে যায়। পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং বছরে ১০ হাজারের বেশি রোবট তৈরির সক্ষমতা রাখা হয়েছে। লিউঝৌয়ের উত্তরাঞ্চলীয় ইকোলজিক্যাল নিউ ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই কারখানার আয়তন প্রায় ১৪ হাজার বর্গমিটার এবং ভবনটির উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে মূলত ইউবিটেকের ওয়াকার এস এবং ক্রুজার সিরিজের শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ১০ হাজার ইউনিট বা তার বেশি বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতার জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট স্মার্ট কারখানা। কারখানাটির বিশেষত্ব শুধু দ্রুত উৎপাদন নয়, বরং উৎপাদন প্রক্রিয়াতেই হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার। ক্রুজার ওয়াই১ ও ক্রুজার এস২ মডেলের রোবটগুলো যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ নামানো, স্তূপ করা, তোলা এবং উৎপাদন লাইনে সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন পরিবহন যান এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামও চূড়ান্ত সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে একটি ডিজিটাল ‘স্মার্ট ব্রেইন’। এর মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সমন্বয়, যন্ত্রাংশের চলাচল এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ইউবিটেকের সঙ্গে সিমেন্সও এই হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য বিশেষ ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করেছে। শিল্প কারখানার ভার্চুয়াল মডেল ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া আগে থেকেই পরীক্ষা ও পরিকল্পনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিকে পরীক্ষামূলক বা ছোট পরিসরের উৎপাদন থেকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হিউম্যানয়েড রোবটের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের সংখ্যা বেশি, সংযোজনের কাজ তুলনামূলক জটিল এবং মডেল দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাই একই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মডেল তৈরি করতে সক্ষম নমনীয় কারখানা প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চীনে রোবট উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চীনে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিল্প রোবটের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগস্টের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে চীনে ৯৬ হাজার ১৭৪টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৫২টি, যা বার্ষিক হিসাবে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ফলে লিউঝৌয়ের নতুন কারখানাটি শুধু একটি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র নয়, রোবট শিল্পের উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। যেখানে একসময় মানুষের হাতে তৈরি রোবটই ছিল স্বাভাবিক চিত্র, সেখানে এখন রোবটকে উৎপাদন লাইনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের রোবট তৈরি করার দিকে এগোচ্ছে শিল্পখাত।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের একটি প্রকাশ না করা গবেষণামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নিজের কাজের সারসংক্ষেপে এমন নির্দেশনা যুক্ত করেছিল, যাতে পরবর্তী সময়ে কাজ করার সময় স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথা বলা হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রত্যাশিত আচরণ নিয়ে প্রকাশ করা নতুন নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এমন ছয়টি ঘটনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি গবেষণামূলক মডেলের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় শনাক্ত হয়। মডেলটি পরবর্তী পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা সারসংক্ষেপে নিজের মূল কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন অতিরিক্ত নির্দেশনা ঢুকিয়ে দেয়। এসব নির্দেশনার কিছু অংশে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথাও ছিল। ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ধরনের ২৭টি সারসংক্ষেপ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি কোনো প্রকাশ্য চ্যাটজিপিটি সংস্করণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি তাদের একটি প্রকাশ না করা গবেষণামূলক মডেলের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওপেনএআই আরও সতর্ক করেছে, প্রকাশ করা ঘটনাগুলো পৃথক উদাহরণ। এসব উদাহরণের ভিত্তিতে তাদের মডেলগুলোতে এমন আচরণ কত ঘন ঘন ঘটে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে আরও একটি ঘটনায় দেখা যায়, জিপিটি ৫.৬ সল প্রশিক্ষণের সময় কিছু মডেল নিজেদের সারসংক্ষেপে ভুল বা মানুষের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত আচরণ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গোপন রাখার নির্দেশ যুক্ত করেছিল। কিছু ক্ষেত্রে মডেলকে অনুপস্থিত ঐতিহাসিক তথ্য তৈরি করে তা প্রকাশ না করার এবং বিভিন্ন তথ্যসূত্রের সংস্করণের মধ্যে থাকা অমিল গোপন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। আরেক ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কাউন্টির আয়ের পরিসংখ্যান খোঁজার সময় একটি মডেল অনুমতি ছাড়া একটি উন্মুক্ত এপিআই চাবি ব্যবহার করে। কাঙ্ক্ষিত তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার পর মডেলটি তথ্য তৈরি করে সেটিকে সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। ঘটনাটি এআইয়ের তথ্য যাচাই ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওপেনএআইয়ের প্রতিবেদনে এআই এজেন্টের আচরণ নিয়েও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। একটি ঘটনায় একটি এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই একটি ফাইল ইন্টারনেটে আপলোড করে, যাতে পরে সেটিকে ব্রাউজারের তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অন্য একটি ঘটনায় প্রশিক্ষণ কাজে যুক্ত একাধিক মডেল একটি অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ভান্ডার ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করে। আরেক ঘটনায় সহযোগী এআই এজেন্টগুলো নিজেদের মধ্যে ফাইল আদানপ্রদানের জন্য একটি উন্মুক্ত ফাইল সংরক্ষণ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। এসব আচরণ মডেলকে দেওয়া নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উপায়ে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করতে পারে কিনা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি ওপেনএআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লক্ষ্যচ্যুত আচরণ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রকাশের জন্য নতুন একটি কাঠামো চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, লক্ষ্যচ্যুত আচরণ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের দেওয়া নির্দেশনা বা নির্ধারিত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো লক্ষ্য অনুসরণ করে। নতুন কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বাস্তব ব্যবহারের বিভিন্ন পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো কীভাবে তদন্ত করা হয় এবং কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা তৈরি করা। ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি তাদের এ ধরনের ঘটনার প্রথম দফার প্রকাশনা এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সময়ের সঙ্গে এই কাঠামো আরও উন্নত করা হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের অপ্রত্যাশিত ও লক্ষ্যচ্যুত আচরণ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা। গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন। শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না। ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও বড় একটি আয়ের প্ল্যাটফর্ম। নিয়মিত মানসম্মত রিলস, ভিডিও, ছবি, স্টোরি ও লিখিত পোস্ট তৈরি করে নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ রয়েছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেসবুক কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ এসেছে রিলস থেকে। ফেসবুকের কনটেন্ট আয় ব্যবস্থা মূলত কনটেন্টের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। দর্শনসংখ্যা, কতক্ষণ মানুষ কনটেন্ট দেখছে এবং দর্শকের সম্পৃক্ততার মতো বিষয় আয়ের পরিমাণে প্রভাব ফেলে। তবে কনটেন্ট তৈরি করলেই সবার আয় চালু হয় না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং ফেসবুকের নীতিমালা মেনে চলতে হয়। ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রফেশনাল মোড চালু করেও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করা যায়। নিয়মিত ভ্রমণ, রান্না, প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রবাসী জীবন, স্থানীয় খবর, বিনোদন বা নিজের দক্ষতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ধীরে ধীরে দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব। রিলস ও অন্যান্য কনটেন্ট থেকে আয়, দর্শকদের তারকা চিহ্নের মাধ্যমে সমর্থন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফেসবুক থেকে আয় করার সুযোগ শুধু প্ল্যাটফর্মের সরাসরি অর্থ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন নির্মাতা নিজের তৈরি দর্শকগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রচারণামূলক কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের ব্যবসা, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও ফেসবুককে ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ভালো দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হলে একাধিকভাবে আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করা। শুরুতেই বড় সংখ্যক অনুসারী বা লাখ লাখ দর্শনসংখ্যার প্রত্যাশা না করে মানুষের কাজে লাগে এমন কনটেন্ট তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান কিংবা দক্ষতাকে সহজভাবে তুলে ধরলে ধীরে ধীরে দর্শকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে অন্যের ভিডিও কপি করে বা সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করলে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া কঠিন। মেটা এখন নিজস্বভাবে তৈরি কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিম্নমানের বা পুনরায় প্রকাশ করা কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে দিচ্ছে। তাই কনটেন্ট নির্মাতাদের উচিত নিজের ধারণা, নিজের উপস্থাপনা এবং নতুন তথ্য বা বিশ্লেষণ যুক্ত করে দর্শকদের জন্য আলাদা মূল্য তৈরি করা। বড় ক্যামেরা বা স্টুডিও ছাড়াও একটি ভালো স্মার্টফোন দিয়েই শুরু করা যায়। পরিষ্কার শব্দ, ভালো আলো, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে একজন নতুন নির্মাতাও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং দর্শকের আস্থা ধরে রাখতে পারলে ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলও ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য আয়ের মাধ্যমে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।