অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
ঈদে এটিএম বুথে টাকা তোলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন বা এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করাসহ কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বুথগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের বুথ পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও কিউআর কোড সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে বলা হয়েছে।   অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো এমএফএস সেবাগুলোতেও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে এবং গ্রাহক হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ০:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
ঈদের আগে ১৯ দিনে প্রবাসী আয় প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা দরে) প্রায় ৩০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।   চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ কোটি ডলারের বেশি। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা এ প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এভাবে আয় আসতে থাকলে ঈদের আগে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।   অন্যদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। আজ চারটি ব্যাংক থেকে সাত কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২৩:৪
ছবি: সংগৃহীত
বাজারে এলো নতুন ডিজাইনের পাঁচ টাকার নোট

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের পাঁচ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   মঙ্গলবার (১৯ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে   নতুন নোটটির সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পিছনভাগে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি।   অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই পাঁচ টাকার নোটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার।   নোটটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এবং তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’। পাশাপাশি ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ও সংযুক্ত করা হয়েছে।   এছাড়া নোটটিতে হালকা গোলাপি রঙের আধিক্য রাখা হয়েছে। নোটের বাম পাশে দুই মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যা কাগজের ভেতরে প্রবিষ্ট এবং আলোর বিপরীতে ধরলে দুই পাশ থেকেই দেখা যায়। নোটের সম্মুখভাগের নিচের অংশে গ্লিউইশ প্যাটার্নের ওপর মাইক্রো পয়েন্ট আকারে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ শব্দও মুদ্রিত রয়েছে।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকেই প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি পাওয়া যাবে।   একই সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চালু থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।   মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নিয়মিত নোটের পাশাপাশি পাঁচ টাকা মূল্যমানের নমুনা (Specimen) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময় অযোগ্য এই নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২৩:৪৯
ছবি: সংগৃহীত
ডলারের বাজারমূল্য ধরে রাখতে আরও ১০ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডলার কেনার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাজারে এখন চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৯৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে চলতি মে মাসেই কেনা হয়েছে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার। এবারের ডলারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে কেনা হয়েছে, যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।   এর আগে দেশের রিজার্ভ ও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে গত বছরের ১৩ জুলাই ১৮টি ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ১৫ জুলাই ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ও ২৩ জুলাই এক কোটি মার্কিন ডলার কেনা হয়েছিল।   পরবর্তীতে গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিক অর্থায়নে গত ৭ আগস্ট চার কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১০ আগস্ট আট কোটি ৩০ লাখ ডলার, ১৪ আগস্ট ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং ২৮ আগস্ট ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দফায় যথাক্রমে চার কোটি ৭৫ লাখ, ১৩ কোটি ৪০ লাখ, ২৬ কোটি ৫০ লাখ, ৩৫ কোটি ৩০ লাখ এবং ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। এছাড়াও অক্টোবরের তিন দফায় যথাক্রমে ১০ কোটি ৪০ লাখ, ১০ কোটি ৭০ লাখ এবং তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৭, ২০২৬ ২৩:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকদের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ: জেনে নিন আপনি এই অর্থ পাবেন কি না

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের বর্তমান ও সাবেক লাখো গ্রাহকের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের নামকরণে বিভ্রান্তি এবং গ্রাহকদের প্রাপ্য সুদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই বড় অংকের সমঝোতায় পৌঁছেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে যে, ক্যাপিটাল ওয়ান একই ধরনের নামের দুটি ভিন্ন সেভিংস অ্যাকাউন্ট চালু করে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষাকৃত কম সুদের অ্যাকাউন্টে নিজেদের অর্থ জমা রাখতে বাধ্য হয়েছেন।   মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের গ্রাহকদের জন্য '৩৬০ সেভিংস' এবং '৩৬০ পারফরম্যান্স সেভিংস' নামে দুটি পৃথক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছিল। নাম দুটি প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন ছিল যে কোনটিতে সুদের হার বেশি। এর ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অজান্তেই কম সুদের '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে অন্য অ্যাকাউন্টটিতে অনেক বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল। এই স্বচ্ছতার অভাবকেই মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।   এই বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব গ্রাহক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে ১৬ জুন ২০২৫-এর মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাপিটাল ওয়ান-এর '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, তারা এই তহবিলের অর্থ পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। বর্তমান গ্রাহকদের পাশাপাশি যারা এই সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন, তারাও এই ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ পাবেন। এটি মূলত সেই সব গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি যারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে লোকসানের শিকার হয়েছেন।   আপনি এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করা এখন অত্যন্ত সহজ। ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকরা তাদের মোবাইল অ্যাপ বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করে সরাসরি অ্যাকাউন্টের ধরন পরীক্ষা করতে পারেন। অ্যাপে প্রবেশের পর সেভিংস অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করে 'অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস' থেকে 'ভিউ অল' অপশনে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টের সঠিক নাম দেখা যাবে। এছাড়া যারা বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক নন, তারা তাদের পুরনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ইমেইল চেক করে নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা উল্লিখিত সময়ের মধ্যে '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টের আওতাভুক্ত ছিলেন কি না।   ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ প্রতিটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। ব্যাংকের সূত্রমতে, গ্রাহক কতদিন ধরে উক্ত অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেছেন, তার অ্যাকাউন্টে গড় জমার পরিমাণ কত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত মোট কতজন গ্রাহক এই অর্থের জন্য দাবি পেশ করছেন—এই তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যোগ্য গ্রাহকদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ পাঠানো শুরু হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলাদা করে আবেদনের প্রয়োজন না হলেও, নিজের অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৭:৯
ছবি - সংগৃহিত
ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত

জিন্স বা ডেনিম পোশাক রপ্তানির যাত্রা শুরুর প্রায় চার দশক পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগে অর্জিত এই অবস্থান প্রতি বছরই আরও শক্তিশালী হচ্ছে।   সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এবং ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ৯৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। দেশটির বাজারে প্রায় ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। এখানেও বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে।   বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশ। যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে, আর ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান উভয়ই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান ১০৩ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও চীনও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।     খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত দেড় দশকে ডেনিম শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। আগে যেখানে দেশে মাত্র ১০-১২টি ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিল ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে। এখন দেশীয় মিলগুলোই মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করছে, যা আগে আমদানিনির্ভর ছিল।   উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। গ্যাস ও পানির মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। এছাড়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরেও বাংলাদেশে আসছে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।   ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও ওয়াশিং সুবিধা বাড়ার ফলে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) দৈনিক প্রথম আলোয় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২২:৮
ছবি - সংগৃহিত
ইস্টার্ন রিফাইনারি তীব্র সংকটে, তেল শোধনাগারটির ভবিষ্যৎ কী?

ইরান যুদ্ধের কারণে তীব্র সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ব তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর ইস্টার্ন রিফাইনারি কখনো এমন তেল সংকটে পড়েনি   সরকারের জ্বালানি বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ বছরের মার্চ শিডিউলের ক্রুড অয়েল পার্সেল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতর কারণে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারায় বর্তমানে ইআরএল লো ফিডে চালু রাখা হয়েছে।   বাস্তবতা হলো, রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা জরুরি মজুত ডেড স্টক ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। আর দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রেখে মেইনটেনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণে পাঠানো হয়েছে।   বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ তেলের চালান এসেছে। যুদ্ধের কারণে মার্চের পর থেকে আমদানি জটিলতা এবং এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।   "মার্চ মাসে আমাদের দুটো কনসাইনমেন্ট ছিল এক লাখ টন করে। আর এপ্রিলে একটা এক লাখ টনের। মার্চে একটা ছিল দুই তারিখে, সেটা শিডিউল অনুযায়ী লোড করে অপেক্ষা করছে- সেটার জন্য আমরা ইরানি দূতাবাস এবং সব জায়গায় যোগাযোগ করেছি। মাঝখানে আমরা কনফার্মেশন পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আবার হরমুজে সমস্যার কারণে আটকে গেছে। আমাদের শিপ রেডি আমরা সুযোগ পেলেই নিয়ে আসবো।   "আর এপ্রিলের ২০-২২ তারিখে যেটা ছিল সেটা টাইমলি রওনা দেবে। আমরা আশা করছি, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসে পৌঁছাবে" বলেন মি. রহমান।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি জানিয়েছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুড অয়েলের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। এরপর রিফাইনারি আবার পুরোদমে সচল হবে।   তবে এই রিফাইনারির দুটি ইউনিট বন্ধের কারণে দেশে তেলের কোনো সংকট হবে না বলে দাবি করেছে বিপিসি।   পরিশোধিত তেলের ঘাটতি পূরণ করতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন আমদানি এবং মজুত করা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান দাবি করেছেন, রিফাইনারি বন্ধ হলেও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করা হচ্ছে।   "এই মাসে ১৭টা কার্গো আসার কথা ছিল। এর মধ্যে দুটো ফোর্স মেজার ঘোষণা করা হয়েছে। আর একটা ডেফারড ঘোষণা করা হয়েছে। বাকী ১৪ টার মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটা কার্গো চলে আসছে। ১১টার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।"   ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ বর্তমানে বছরে পনের লক্ষ টন ক্রুড পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল ন্যাপথা ও বিটুমিনসহ প্রায় ১৬ ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করে।   বাংলাদেশে মোট তেলের চাহিদার প্রায় কুড়ি শতাংশ পূরণ করে এই রিফাইনারি। ইস্টার্ন রিফাইনারি মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত মানের ক্রুড ছাড়া অন্যান্য দেশের ক্রুড তেল পরিশোধন করতে পারে না। যে কারণে রাশিয়া বা ভেনেজুয়েলা বা অন্যান্য উৎস থেকে হেভি ক্রুড আমাদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা সম্ভব নয়   রিফাইনারির এ প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান এবং এর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। ১৯৬৮ সালে নির্মিত তেল শোধনাগারটির সক্ষমতা দ্বিগুন বাড়ানো এবং আধুনিকায়ন করতে নিজস্ব অর্থায়নে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে।   ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বছরে ৪৫ লাখ টন ক্রুড পরিশোধন করা সক্ষমতা তৈরি হবে।   বিপিসি চেয়ারম্যান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বর্তমান যেটা আছে, এটা অনেক পুরোনো হওয়াতে হাই কোয়ালিটি ক্রুড ছাড়া এটা রিফাইন করতে পারে না।   "প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাজার অনেক বৃদ্ধি পাবে। আমরা যেকোনো ধরনের ক্রুড রিফাইন করতে পারবো। এটা অনেক বড় অ্যাডভান্টেজ। আমরা অনেক সস্তা ক্রুড কিন্তু আছে, আমরা আনতে পারি না। কারণ আমাদের এই ইআরএল এ ম্যাচিং হয় না। যে কারণে ইআরএল টু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"   বিপিসির দাবি ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ হলে তেল উৎপাদন দ্বিগুন বাড়বে। দেশের মোট তেলের অর্ধেক চাহিদা পূরণ করতে পারবে। পরিশোধিত তেলের বিপরীতে আমদানিতে ব্যারেল প্রতি ১৮ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। তেলের মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে।   তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি পরিস্থিতির বিবেচনায় ইআরএল সক্ষমতা বৃদ্ধি কতটা লাভজনক হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।   জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, একটা করতে পারে যেহেতু আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি অনেক পূরাতন হয়ে গেছে, এটা হয়তো সময় এসে গেছে আর কিছুদিন চালিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়া। যদি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমাদের ডাবল ক্যাপাসিটি হলো। তখন তাহলে সেটা হয়তো খুব খারাপ হবে না।   "অনেকে ভাবছে যে একটা রিফাইনারি থাকলে ওটার মধ্যেতো কিছুটা স্টক থাকে। ক্রুড অয়েলের স্টক আছে সেটা সাপ্লাইয়ে সাহায্য করে। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে হবে যে আমাদের সবকিছু ইমপোর্টেড। আমাদের ক্রুডটা ইমপোর্টেড, ডিজেলও ইমপোর্টেড। এর মধ্যে একটাই সুবিধা যে শোধন করে সাপ্লাইটা ঠিক রাখলাম প্রাইসটাও ঠিক রাখলাম। কিন্তু আমি কোনো স্টাডি দেখানি বা হিসাব দেখি নাই যে আমাদের ওই ধরনের লাভ" বলেন ইজাজ হোসেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২২:৭
ছবি - সংগৃহিত
এপ্রিলের ২০ দিনে এল ১২টি জাহাজ, দেশে কোন তেলের মজুত কত

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসছে দেশে। এপ্রিল মাসের ২০ দিনে এখন পর্যন্ত ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১২টি জাহাজ এসেছে। এতে মজুত কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমেনি।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, এ মাসে ৮টি জাহাজে এসেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল। অকটেন এসেছে ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন। একটি করে জাহাজে এসেছে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল। এর বাইরে ভারত থেকে পাইপলাইনে এসেছে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল। এই সরবরাহের কারণে গতকাল রোববার থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে চাপ কিছুটা কমতে পারে।   বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, নিয়মিত তেল আসছে। এপ্রিলে সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতিমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়ে বেশি হয়েছে। এখন মে ও জুনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।   দেশে জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর—মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে। তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই চালান যুক্ত হলে মজুত প্রায় দুই সপ্তাহ বাড়বে।   ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন। দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের ১১ হাজার ৮৬২ টনের তুলনায় কম। অর্থাৎ সরবরাহের চাপ থাকলেও চাহিদা কিছুটা নেমেছে। নিয়মিত তেল আসছে। এপ্রিলে সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতিমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়ে বেশি হয়েছে। এখন মে ও জুনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অনিন্দ্য ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়   অকটেনের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টনে, যা দিয়ে ২৪ দিন চলবে। এর মধ্যে নতুন একটি জাহাজে ২৭ হাজার টন অকটেন এসে খালাস শুরু হয়েছে। ফলে মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। গড় বিক্রি ১ হাজার ১১৫ টন, যা গত বছরের ১ হাজার ১৮৫ টনের তুলনায় কম।   পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২৫৩ টন—গত বছরের ১ হাজার ৩৭৪ টনের তুলনায় কম। অর্থাৎ ছোট যানবাহনের জ্বালানিতেও চাহিদা কিছুটা কমতির দিকেই।   বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চলবে। এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭২০ টন, যা গত বছরের ২ হাজার ২৬৩ টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গ্যাস–সংকট না বাড়লে এই খাতে চাপ তুলনামূলক কমই থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাহাজে তেল আসায় দেশের মজুত দ্রুত বাড়ছে। এ সপ্তাহে তেল নিয়ে আরও অন্তত ৫টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে অকটেন ও ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও বড় চালান খালাস হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। গড় বিক্রি ১ হাজার ৭৭৫ টন, যা গত বছরের প্রায় দেড় হাজার টনের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে। কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের। এই দুই জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক কম হওয়ায় সরবরাহে চাপও কম।   সরবরাহ বাড়ছে, তবু দীর্ঘ অপেক্ষা জাহাজে তেল আসায় দেশের মজুত দ্রুত বাড়ছে। এ সপ্তাহে তেল নিয়ে আরও অন্তত ৫টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে অকটেন ও ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও বড় চালান খালাস হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই স্বস্তির প্রতিফলন এখনো পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না মাঠপর্যায়ে। চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, তেল নিতে এখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মানুষকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ তেল পাচ্ছেন, আবার কেউ খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নতুন করে সরবরাহ বাড়লেও তা সব পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগছে। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমার বদলে অনেক জায়গায় এখনো একই চিত্র রয়ে গেছে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২২:৭
ছবি: সংগৃহীত
৪৭ দিন পর হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে।   এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।   বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা।   জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স।   উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।   পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৫:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট প্রস্তাব; কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রাক্কলিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়।   প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মাথায় রেখেই মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।   বাজেটে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা অন্যতম। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশীয় ও প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।   সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।   আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেটে নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-এর শর্ত থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি, সার ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই এখন এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৬:২৩
ফাইল ছবি।
সারচার্জ বাতিল করে ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যমান সারচার্জ প্রথা তুলে দিয়ে নতুন ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকার উচ্চসম্পদশালী ব্যক্তিদের করের আওতায় আনতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে সম্পদ কর আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পেলে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।   বিদ্যমান পদ্ধতিতে ৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে প্রদেয় করের ওপর ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ দিতে হয়। তবে নতুন নিয়মে দলিল মূল্যের পরিবর্তে জমির বর্তমান বাজারমূল্য বা মৌজামূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারিত হবে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর ০.৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সম্পদ কর দিতে হবে। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই একজন করদাতার বার্ষিক প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি হবে না।   এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, দলিল মূল্যের পরিবর্তে মৌজামূল্যে সম্পদ মূল্যায়ন করা হলে করের আওতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান পদ্ধতিতে ৯০-এর দশকে কেনা দামী জমির মালিকরা অনেক ক্ষেত্রে সারচার্জের বাইরে থাকছেন, যা নতুন পদ্ধতিতে আর সম্ভব হবে না। কর্মকর্তাদের ধারণা, যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই খাত থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।   বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে জিডিপির প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর হিসেবে আদায় করা হয়। বাংলাদেশেও কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে এই প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে এনবিআর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদের মূল্যায়ন পদ্ধতি যেন সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে; অন্যথায় সম্পদ গোপনের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১:১
দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সংগৃহীত ছবি
রেকর্ড আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল স্বর্ণের দাম; ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সারাদেশে এই নতুন দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।   গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রেকর্ড ৫৫ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো।   বাজুসের নির্ধারিত নতুন দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা। ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। এর আগে গত ৯ এপ্রিল স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হলেও সপ্তাহ পার হতেই তা আবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা ও ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ০:৪৬
ছবি - সংগৃহিত
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চায় বাংলাদেশ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু চমক রাখতে চায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মূলত দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতিতে আস্থা ফেরানো মূল লক্ষ্য আসছে বাজেটে। কর আদায়ে আসবে একাধিক নতুন কৌশল। সব নাগরিককে আনা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায়।    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর  জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে।    চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন বাজেট প্রণয়নে তিন মাস সময় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। এর আগে থেকেই অর্থনীতিতে বিশাল সব সংকট। লক্ষ্যের ধারে কাছেও নেই রাজস্ব আদায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় আর বিদ্যুতে ভর্তুকি নিয়ে বড় মাথাব্যথা। এমনকি কমছে না নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় নতুন বাজেট আকারে ছোট হবে, নানা মহলে এমন আলোচনা ছিল, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো।    আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে সংসদে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে পারে নতুন সরকার। যার সাড়ে ৬ লাখ কোটি আদায় করতে হবে রাজস্ব বিভাগকে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। অর্থের সংকট থাকলেও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটের ৬৭ ভাগ ব্যয় হতে পারে পরিচালন খাতে।    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কাজ হচ্ছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। একইসঙ্গে যাতে দারিদ্র্য না বাড়ে সেজন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা করা। তারপর অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি করা। আমরা অতীতে বিএনপি সরকারের সময় দেখেছি, ২ শতাংশীয় পয়েন্ট আকারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেটা অন্য সরকারের সময় হয়নি। সেজন্যই আমরা বলছি, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি সম্ভব। নতুন রাজস্ব লক্ষ্যে প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তে। সেই ধারাবাহিকতায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে কর অব্যাহতি আর প্রণোদনা। সারচার্জের বদলে আরোপ হতে পারে সম্পদ কর। আয়কর রিটার্ন যাচাই হবে বাড়ির মালিকদের। ভ্যাটের আওতায় আসবে এসএমই খাত। অনেক লেনদেনে বাধ্যতামূলক হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার।   প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ও ‘ওয়ান ডিজিটাল আউটলেট’ চালুর দিকে এগোচ্ছি আমরা। এ লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যাংক হিসাব নিশ্চিত করা হবে। এরপর সবাই কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করবে। এতে কর ফাঁকি, কর পরিহার বা জালিয়াতির সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।      নতুন বাজেটে গুরুত্ব পাবে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। ইশতেহারে আর্থিক-সামাজিক চুক্তির কথা বলেছিল বিএনপি, তারমানে জনগণ কর দেবে আর সরকার দেবে সেবা। সেই লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা হেলথ কার্ড নিয়ে তোড়জোড় বেশি। এসব বাস্তবায়নে দরকার বাড়তি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। তাহলে কীভাবে সামলাবে সরকার? সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার যেভাবে ঋণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে, তাতে করে বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ থাকার সুযোগ কম। এবং সেখানে একটা ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট হবে—ইতোমধ্যে সেটার একটা চাপ রয়েছে। সেই জায়গায় করে বিদেশ থেকে বাড়তি ফান্ড ফ্লো যদি এই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বা পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যুক্ত না করা যায়, তাহলে নতুন করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি বা কর্মসংস্থান—সেই জায়গাটিও কিন্তু কষ্ট হবে।    জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট ঘোষণা হতে পারে আগামী ১১ জুন। অর্থনীতির এত সংকটের মাঝে বাজেট দিয়ে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানোর সুযোগ নতুন সরকারের সামনে। রাজনৈতিক দল হিসেবে নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ নিঃসন্দেহে থাকবে সরকারের, সেজন্য সবার আগে বাজেটের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২২:১০
মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে। সংগৃহীত ছবি
টাকার বিনিময়ে আজ কোন দেশের মুদ্রা কত? দেখে নিন ১৭ এপ্রিলের আপডেট

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে সচল রয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা। প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, আজ দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের কেনা ও বেচা—উভয় ক্ষেত্রেই দাম ধরা হয়েছে ১২২.৭০ টাকা। অন্যদিকে, ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো কেনার ক্ষেত্রে দাম ১৪৪.৭৬ টাকা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১৪৪.৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও চাহিদা অনুযায়ী এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।   আজকের মুদ্রার বিনিময় হার (বাংলাদেশ ব্যাংক অনুসারে): মুদ্রার নাম ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) মার্কিন ডলার ১২২.৭০ ১২২.৭০ পাউন্ড (GBP) ১৬৬.৩৫ ১৬৬.৪৪ ইউরো (EUR) ১৪৪.৭৬ ১৪৪.৭৯ সৌদি রিয়াল ৩২.৭৯ ৩২.৭৯ ইন্ডিয়ান রুপি ১.৩১ ১.৩১ কানাডিয়ান ডলার ৮৯.২৮ ৮৯.৩০ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৫৩ ৯৬.৫৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৭.৯৫ ৮৮.০০ জাপানি ইয়েন ০.৭৭০ ০.৭৬৭

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ০:২৯
ফাইল ছবি
রিজার্ভে বড় স্বস্তি; ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল বাংলাদেশ

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্জনের মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো। একই সময়ে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই উন্নতির নেপথ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।   বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে। ১৬ এপ্রিল চারটি ব্যাংক থেকে ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা দরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫,৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে। কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত তারল্য শোষণ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং হুন্ডি নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রফতানি আয় বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ২২:৫৩
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দারিদ্র্য বাড়ার শঙ্কা: বাংলাদেশের অগ্রগতি ঝুঁকিতে—ইউএনডিপি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটি বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।   বুধবার প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে ৩৬টি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য ধাক্কা—এই তিনটি প্রধান কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ইউএনডিপি জানায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এটিকে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখছে।   বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে লাখো অভিবাসী পরিবারের জীবিকায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায়।   এ ছাড়া আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশের কার্গো পণ্যের বড় একটি অংশ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের হাব হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে—এই প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন শ্রমবাজারে অভিবাসন কমে যেতে পারে এবং বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছে ইউএনডিপি। জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং কর্মঘণ্টা কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত নীতি গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত সাফল্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৫:৫১
আইএমএফের পূর্বাভাস - সুখবরের পাশাপাশি আছে দুঃসংবাদও

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুখবরের পাশাপাশি দুঃসংবাদের পূর্বাভাসও দিয়েছে।   তারা বলছে, সুসংবাদের মধ্যে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে সরকারের রাজস্ব আয় সামান্য বাড়বে। তবে দুঃসংবাদের মধ্যে রয়েছে-একই হিসাবে সামগ্রিকভাবে সরকারের ঘাটতি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি একদিকে সরকারের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনই বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমবে। মানুষের স্বার্থে সরকারি খাতের ব্যয় বাড়লেও অনেক দেশের তুলনায় এ বৃদ্ধির হার বেশ কম। সোমবার রাতে প্রকাশিত আইএমএফ-এর এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়।   প্রতিবেদনে সরকারের আর্থিক অবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের বিভিন্ন খাত নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সরকারের ব্যয় গত অর্থবছরে বেশ কমে গিয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ অবস্থায় বিভিন্ন খাতে সরকার আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় না করলে ভর্তুকি বাড়বে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির হিসাবে সরকারের সামগ্রিক ভারসাম্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি আরও কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। পরে ২০২৭ থেকে ২০৩০-এ দুই অর্থবছরে আরও বেড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে।   গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় কমে জিডিপির হিসাবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে জিডিপির হিসাবে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ উন্নীত হতে পারে। এর পরের কয়েক বছরে এটি বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশে যেতে পারে।   আইএমএফ-এর অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হবে। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বিগত সরকার রাজস্ব খাতে যে সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছিল, তা বর্তমান সরকার অব্যাহত রাখলে রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের সরকারি ব্যয় কমে গিয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। আগামী অর্থবছরে বেড়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে পারছে না। যে কারণে এ দুটি খাতে সার্বিক সেবার মান উন্নত হচ্ছে না।   সূত্র জানায়, রাজস্ব আয় কমায় সরকার নির্ভর করছে বৈদেশিক ঋণের ওপর। এর মধ্যে বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে বৈদেশিক ঋণও নিতে হচ্ছে। এই ঋণের বড় অংশই যাচ্ছে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধে। ফলে সরকার ঋণ নিয়েও উন্নয়ন খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ২২:১৬
ফাইল ফটো।
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ, ভয়াবহ মন্দার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই সংঘাতের জেরে চলতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফ-এর সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ। যা গত জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ কম। আইএমএফ এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুদ্ধ ‘স্বল্পকাল’ স্থায়ী হবে—এমন ধারণা থেকে। তবে সংস্থাটি দুটি নেতিবাচক পরিস্থিতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং এর ফলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গত জানুয়ারির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তবে প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসতে পারে মাত্র ২ শতাংশে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হঠাৎ করেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এমন এক ‘জ্বালানি সংকট’ তৈরি করতে পারে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে মাত্র চারবার ২ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যে পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশ্ব আবারও সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ২২:৫
প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে সুবাতাস বইছে। গেল মাসে (মার্চ) দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সেই ধারা চলতি মাসেও (এপ্রিল) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।এর মধ্যে গত তিন দিনে (বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার) রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি মাসের প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।   অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৭৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ।   বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা।তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে শক্তিশালী ভিত গড়ে দেশের অর্থনীতি। রীতিমতো ঝলক দেখাচ্ছে প্রবাসী আয়।   রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন কৌশলগত নীতিমালা ও কঠোর তদারকির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় দেশে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৬:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট বদলে দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের; অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য দূর করতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল ২০২৬ (রোববার) জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে এই ধরণের নোট গ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিনিময় মূল্য প্রদানে কোনো ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট শাখার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা’ (Clean Note Policy) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটগুলো বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করে গ্রাহককে ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদান করতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো ত্রুটিপূর্ণ নোটের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।   ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কে এম ইব্রাহিম। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে এই বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ০:২১
ছবি - সংগৃহিত
কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে জ্বালানির দাম, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের নিয়মিত ও স্থিতিশীল চলাচল নিশ্চিত হওয়া জরুরি।   মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি হওয়া বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।    তুফটস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম স্টাডিজের অধ্যাপক রকফোর্ড উইটজ আল জাজিরাকে জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ পার হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো অনেক দেরি।   বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ এবং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধ্যাপক উষা হ্যালি জানান, ইরাকের মতো দেশগুলো স্টোরেজ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় চালু করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যাবে। বিশেষ করে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, যদি নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়।   এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ থেকে আরও নিচে নেমে যেতে পারে।    সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ। আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ২০:৪৮
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0