যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক ডজন বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করায় পোশাক, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী ও গাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা। নতুন ব্যবস্থায় ৬০টি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বিদেশি রপ্তানিকারকেরা নয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ক্রেতাদেরই এই বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পোশাক ও বস্ত্রপণ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ জামাকাপড়, জুতা ও কাপড়জাত পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেসব উৎপাদনকারী দেশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেসব দেশ থেকে পণ্য আনার খরচ বাড়লে খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াতে পারেন। ইলেকট্রনিকস খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক ধাপে শুল্ক যুক্ত হলে নতুন ডিভাইস কেনা কিংবা পুরোনো যন্ত্র মেরামতের খরচও বাড়তে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা কফি এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি, সার এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে না। বাড়িঘর নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যয়ও আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কাঠ, ধাতব সামগ্রী, আসবাব, বৈদ্যুতিক উপকরণ এবং অন্যান্য নির্মাণপণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আসে। এসব পণ্যের দাম বাড়লে নতুন বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের খরচও বাড়তে পারে। গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারে। প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হলে নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির দাম, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এর পাশাপাশি কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর আলাদাভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় দেশটি থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিন বাজারের বেশ কয়েকটি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক বিদেশি দেশগুলোকে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়তে সময় লাগে; এর আগেই আমদানিকারকেরা বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। তবে শুল্ক কার্যকর হওয়া মানেই সব পণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে একই মাত্রায় বেড়ে যাবে, এমন নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচের কতটা নিজে বহন করবে, কতটা ক্রেতার ওপর চাপাবে এবং বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে কি না, তার ওপর প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে। এরপরও এমন সময়ে নতুন শুল্ক কার্যকর হলো, যখন খাবার, জ্বালানি ও আবাসন ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বহু মার্কিন পরিবার।
বিশ্ব বাণিজ্যনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী 'পারস্পরিক' শুল্ক নীতি বাতিল করে দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে এ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত এলো। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিট (ইস্টার্ন ডেলাইটস টাইম বা ইডিটি) থেকেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে পূর্বে আরোপিত ১৫০ দিনের অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই নতুন এই নিয়ম বলবৎ হবে। তবে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮শে জুলাই রাত ১২টা ০১ মিনিটের আগে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের উদ্দেশ্যে পরিবহনাধীন রয়েছে, সেগুলোকে নতুন এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই শুল্ক ধার্য করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) থেকে জবরদস্তিমূলক বা জোরপূর্বক শ্রম নির্মূল করার লক্ষ্যে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা দাবির প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের রাজনৈতিক নেতারাই বৈশ্বিক বাণিজ্যে শ্রমশোষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা ইতোমধ্যে নিজ দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের ওপর কঠোর আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে আসছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো জবরদস্তিমূলক শ্রম রোধে ঢিলেঢালা নীতি অনুসরণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ব্যবসায়ীরা একপ্রকার অন্যায্য প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। দেশীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা এবং বৈশ্বিক বাজারে সমতা ফেরাতে নতুন নিয়মে দুই ধরনের শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব দেশে জবরদস্তিমূলক শ্রম রোধে পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে (যেমন ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে)। আর যেসব দেশে এ সংক্রান্ত নিয়মকানুন অপর্যাপ্ত বা দুর্বল, সেসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে সব পণ্যে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, রাসায়নিক সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যকে নতুন শুল্কের আওতাবহির্ভূত রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব পণ্যে ইতোমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা শুল্ক আরোপিত রয়েছে—যেমন অটোমোবাইল, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা—সেগুলোতে নতুন করে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হচ্ছে না। অন্যদিকে, 'যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা' (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলোকেও এই শুল্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল এবং এসব পণ্যে মার্কিন উপাদানের উচ্চ উপস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বাণিজ্যিক সুরক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইবোলা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে আইনসম্মত শুল্কসহ সম্ভাব্য সকল আইনি ও প্রশাসনিক উপায় ব্যবহার করতে প্রশাসন বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকের কাছেই এখন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একটি সাধারণ স্টার্টার হোম বা প্রথম বাড়ি কিনতে এখন একটি পরিবারের বছরে গড়ে প্রায় ৭৮ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই আয়ের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েলটর ডটকমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির দাম বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হারে মর্টগেজ ঋণ এবং তুলনামূলক কম দামের বাড়ির সংকট—এই তিনটি কারণ প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হান্না জোন্স বলেন, প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী অনেক মানুষ ইচ্ছার অভাবে বাজারের বাইরে নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য বাড়ি কেনা বাস্তবসম্মত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ বেড়েছে। ফলে সেখানে তুলনামূলকভাবে স্টার্টার হোমের সংখ্যা বাড়ছে। তবে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির দামও বাড়তে থাকায় নতুন ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও উচ্চ সুদের কারণে অনেক পরিবার কাঙ্ক্ষিত ঋণ নিতে পারছে না। ফলে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং মর্টগেজ সুদের হার বাড়ার প্রভাব একসঙ্গে পড়েছে। এর ফলে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশিত ওয়ালেটহাবের নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে রয়েছে কানসাস। তালিকার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে লুইজিয়ানা, ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং সাউথ ক্যারোলাইনা। আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করেছে। এর মধ্যে ছিল গড় ক্রেডিট স্কোর, আর্থিক দুরবস্থার কারণে কিস্তি স্থগিত বা বিলম্বিত হওয়া ঋণ হিসাব, জনপ্রতি সংকটাপন্ন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, দেউলিয়া হওয়ার আবেদন এবং ঋণসংক্রান্ত অনলাইন অনুসন্ধানের হার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কানসাসে প্রতি ব্যক্তির বিপরীতে আর্থিক সংকটে থাকা ঋণ হিসাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যক্তিগত দেউলিয়া হওয়ার আবেদন প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ‘ঋণ’ ও ‘লোন’ সম্পর্কিত গুগল অনুসন্ধানের হারও দেশটির অন্যান্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি ছিল। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লুইজিয়ানায় প্রায় ১২ শতাংশ বাসিন্দার ঋণ হিসাব আর্থিক সংকটের কারণে স্থগিত বা বিলম্বিত অবস্থায় রয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির গড় ক্রেডিট স্কোরও দেশের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফ্লোরিডায়ও আর্থিক চাপে থাকা মানুষের সংখ্যা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটিতে আর্থিক সংকটে থাকা ঋণ হিসাবের হার দেশজুড়ে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি। প্রতিবেদনে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে টেক্সাস এবং সাউথ ক্যারোলাইনা। এছাড়া শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে ওয়াইওমিং, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং কেনটাকি। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপ বলেন, কোনো অঙ্গরাজ্যের মানুষ আর্থিকভাবে কতটা চাপে রয়েছে, তা বোঝার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো কতজন মানুষ বিল পরিশোধ পিছিয়ে দিচ্ছেন বা ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা। এসব তথ্যের সঙ্গে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন এবং ক্রেডিট স্কোরের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করলে একটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর অধিকাংশ ক্রেতাই ১৫ বা ৩০ বছরের মর্টগেজ বা হোম লোনের পথ বেছে নেন। দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণের ফলে মাসিক কিস্তির চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বছরের পর বছর সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধ এবং সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরিশোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ মর্টগেজ ল্যান্ডেররা। ব্যাংক অফ আমেরিকার মর্টগেজ ঋণ কর্মকর্তা রবার্ট মুলার জানিয়েছেন, দ্রুত ঋণমুক্ত হওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি ঋণের মূল অংশ বা প্রিন্সিপাল ব্যালেন্সে পরিশোধ করা। মূল ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমে গেলে ভবিষ্যতে সেই অর্থের ওপর সুদও কম ধার্য হয়। ফলে মোট সুদের খরচ কমার পাশাপাশি ঋণের মেয়াদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তিনি আরও জানান বছরে এক বা একাধিকবার অতিরিক্ত অর্থ প্রিন্সিপাল হিসেবে জমা দেওয়া যেতে পারে। বোনাস, ট্যাক্স রিফান্ড বা অন্য কোনো অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ এ কাজে ব্যবহার করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘বাই-উইকলি পেমেন্ট’। এতে মাসে একবার পুরো কিস্তি পরিশোধের পরিবর্তে প্রতি দুই সপ্তাহে অর্ধেক কিস্তি দেওয়া হয়। এর ফলে বছরে মোট ২৬টি অর্ধেক কিস্তি বা ১৩টি পূর্ণ মাসিক কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ হয়। এতে প্রতি বছর একটি অতিরিক্ত কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ ঋণের মূল অংশে চলে যায়, যা মর্টগেজের মেয়াদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এই সুবিধা সব ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা মর্টগেজ সার্ভিসার একইভাবে পরিচালনা করে না। তাই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সময় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থ যেন ‘প্রিন্সিপাল অনলি পেমেন্ট’ হিসেবে প্রয়োগ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতের মাসিক কিস্তি হিসেবে সমন্বয় করা হতে পারে, ফলে ঋণের মূল পরিমাণ প্রত্যাশিত হারে কমবে না। একই সঙ্গে মর্টগেজ চুক্তিতে আগাম ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো ‘প্রিপেমেন্ট পেনাল্টি’ বা অতিরিক্ত ফি রয়েছে কি না, সেটিও আগে যাচাই করা উচিত। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রচলিত আবাসিক মর্টগেজে এ ধরনের জরিমানা থাকে না, তবুও ঋণের ধরনভেদে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। রবার্ট মুলার আরও জানান আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একক কোনো কৌশল সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যাদের মর্টগেজের সুদের হার তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে অবসরকালীন সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা উচ্চ সুদের অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনে একজন আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অতিরিক্ত প্রিন্সিপাল পরিশোধ এবং সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন ১০ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যেও পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, ধারাবাহিকতা এবং সুপরিকল্পিত বাজেট ব্যবস্থাপনা।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্র নিউইয়র্ক থেকে গত কয়েক বছরে শত শত কোম্পানি অন্য অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে নিউইয়র্ক থেকে ৮৯২টি কোম্পানি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারের আয়ও স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল ফ্লোরিডা। চার বছরে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে ৩৪১টি কোম্পানি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টেক্সাস, যেখানে গেছে ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান। এরপর নর্থ ক্যারোলিনায় স্থানান্তরিত হয়েছে ১২৯টি কোম্পানি। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত তথ্য আইআরএসের আন্তঃরাজ্য অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এই তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এটি কোনো সাম্প্রতিক একক ঘটনার চিত্র নয়; বরং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিগুলোর স্থানান্তরের সামগ্রিক হিসাব। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম করহার, ব্যবসাবান্ধব নীতি, কম পরিচালন ব্যয়, আবাসন খরচ এবং কর্মপরিবেশের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর দূরবর্তী কর্মব্যবস্থার বিস্তার এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কোম্পানি স্থানান্তরের এই প্রবণতা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক এখনও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ওয়াল স্ট্রিট, বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় এখনো নিউইয়র্কেই অবস্থিত। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। করনীতি, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, অবকাঠামো, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয়ই ভবিষ্যতে আরও বেশি কোম্পানির অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইআরএসের তথ্যভিত্তিক এই বিশ্লেষণ যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট স্থানান্তরের বর্তমান প্রবণতা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানির মানুষ শুধু উন্নত প্রযুক্তি, শিল্প বা বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাণের জন্যই পরিচিত নন। তাদের আরেকটি বড় পরিচয় হলো সুশৃঙ্খল আর্থিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস। বিভিন্ন আর্থিক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির অধিকাংশ মানুষ প্রতি মাসেই আয়ের একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য আলাদা করে রাখেন। অনেকেই মনে করেন, জার্মানরা হয়তো অতিরিক্ত কৃপণ। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। তারা অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যয় করেন। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় এই অভ্যাস তাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্যও জার্মানদের এই জীবনধারা অনুসরণ করা কার্যকর হতে পারে। জার্মানদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি খরচ না করা। দৈনন্দিন কেনাকাটার ক্ষেত্রে তারা ব্র্যান্ডের চেয়ে গুরুত্ব দেন পণ্যের মান ও দামের ওপর। তাই অনেকেই নিয়মিত কেনাকাটা করেন লিডল, আলডি, পেনি কিংবা নেটোর মতো ডিসকাউন্ট সুপারমার্কেটে। একই মানের পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়ায় মাস শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। এছাড়া বাজারে যাওয়ার আগে তালিকা তৈরি করে তারা সাধারণত সেই তালিকার বাইরে অতিরিক্ত কিছু কেনেন না। অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বাতিল করাও তাদের আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যবহার না করলেও মাসের পর মাস বিভিন্ন অ্যাপ, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা জিমের সদস্যপদের জন্য অর্থ পরিশোধ করার প্রবণতা অনেক দেশে দেখা যায়। কিন্তু জার্মানিতে মানুষ নিয়মিত ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে যেসব সেবা ব্যবহার করছেন না, সেগুলো দ্রুত বাতিল করে দেন। এতে ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় খরচ জমে বড় অঙ্কে পরিণত হওয়ার সুযোগ থাকে না। বিশ্বখ্যাত বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ কিংবা অডির মতো গাড়ির দেশ হলেও অনেক জার্মান প্রতিদিনের যাতায়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করেন। উন্নত বাস, ট্রেন ও ট্রামের নেটওয়ার্কের কারণে কম খরচে সহজে চলাচল করা সম্ভব হয়। এতে জ্বালানি, পার্কিং, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বীমার মতো ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। প্রয়োজন হলে অনেকেই গাড়ি কেনার বদলে কার-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করেন। সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও তারা একটি কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করেন। মাস শেষে যা অবশিষ্ট থাকে তা জমা না রেখে, বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ হিসাবে স্থানান্তর করেন। জার্মানির অনেক ব্যাংক স্থায়ী স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনার মাধ্যমে এই অর্থ নির্দিষ্ট সঞ্চয়ী হিসাব বা বিনিয়োগ তহবিলে পাঠানোর সুবিধা দেয়। ফলে প্রথমেই সঞ্চয় নিশ্চিত হয় এবং বাকি অর্থ দিয়ে পুরো মাসের বাজেট পরিচালনা করা সহজ হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থ সাশ্রয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতিও জার্মানদের মধ্যে লক্ষণীয়। দেশটিতে প্লাস্টিক ও কাঁচের বোতল কেনার সময় অতিরিক্ত একটি আমানত মূল্য পরিশোধ করতে হয়, যা ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট মেশিনে বোতল ফেরত দিলে ফেরত পাওয়া যায়। অনেকেই এসব বোতল জমিয়ে রেখে পরে রিফান্ড নিয়ে দৈনন্দিন কেনাকাটায় ব্যবহার করেন। পাশাপাশি নতুন পণ্য কেনার পরিবর্তে ভালো মানের সেকেন্ড-হ্যান্ড আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও জার্মানদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয় যতই হোক, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সঞ্চয়, পরিকল্পিত ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। জার্মানদের এই অভ্যাস শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্থিতিশীলতাই বাড়ায় না, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ও তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্যও এই অভ্যাসগুলো কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত সঞ্চয়, পরিকল্পিত বাজেট এবং সচেতন ব্যয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এ মাসে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া টানা ছয় মাস পর এই প্রথম কোনো মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো। বিশ্লেষকদের মতে, মাসভিত্তিক ওঠানামা থাকলেও পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। স্বর্ণ ও রুপার দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটির চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৬১ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,০৭৬ দশমিক ৪০ ডলারে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, টানা চতুর্থ মাসের মতো স্বর্ণের দরপতনের পথে রয়েছে, যেখানে মোট পতন প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই প্রবণতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনায় তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এতে করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়ানোর পথে হাঁটে। আর সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, যা বাজারে এর দামে প্রভাব ফেলে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। স্পট সিলভারের মূল্য ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে। তবে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১,৬৩০ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২১৮ দশমিক ৯২ ডলারে। বিশ্ববাজারে এই ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আর্থিক নীতির অনিশ্চয়তা মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা লেগেছে। মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হিসেবে পাওয়া মর্যাদা হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে প্রযুক্তি খাতজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। মাত্র তিনটি লেনদেন সেশনে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাস্ক যে অর্থ হারিয়েছেন, তা বিশ্বের অনেক শীর্ষ ধনীর পুরো সম্পদের সমান। যদিও ব্লুমবার্গের হিসাবে মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, ফোর্বস এখনও তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করছে। ফলে তিনি এখনও ট্রিলিয়নিয়ার কি না, তা নির্ভর করছে কোন সম্পদ-তালিকা বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর। মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ স্পেসএক্সে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৮ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন। ব্লুমবার্গের হিসাবে স্পেসএক্সে তাঁর অংশীদারির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশ। স্পেসএক্সের মূল্য কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। কোম্পানিটি মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য আগামী বছরগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ঘোষিত বন্ড বিক্রির একটি অংশও এই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। শুধু স্পেসএক্স নয়, মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলাও চাপের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া নতুন নিরাপত্তা তদন্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ১৯ জুন টেক্সাসে একটি টেসলা মডেল-৩ গাড়ি একটি বাড়িতে আঘাত করলে ৭৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে বিপুল সম্পদ হারানোর পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখনও বিশ্বের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৭ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় মাস্ক এখনও অনেক এগিয়ে রয়েছেন। অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করে বলেন, স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতনে কাগজে-কলমে মাস্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ওয়ারেন বাফেটের পুরো সম্পদের চেয়েও বেশি। তবে তাতেও বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে তাঁর অবস্থান অটুট রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা মাস্কের সম্পদে বড় প্রভাব ফেললেও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ও প্রভাব এতটাই বিশাল যে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের একজন ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। রকেট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর টানা কয়েক দিন ধরে কমতে থাকায় তার ব্যক্তিগত সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। এর ফলে তার সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের একজন ল্যারি পেজের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি। বর্তমানে ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৯ বিলিয়ন ডলার বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মহাকাশ প্রযুক্তি, উপগ্রহ যোগাযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ব্যবসা নিয়ে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শেয়ার লেনদেনের প্রথম কয়েক দিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বাজারমূল্য কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যায়। তবে সেই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। টানা তিন কার্যদিবস ধরে শেয়ারদর কমতে থাকায় কোম্পানিটির বাজারমূল্যও দ্রুত হ্রাস পায়। এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারায় প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রকাশের পর বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় বিনিয়োগের জন্য অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এ ঘোষণার পর একদিনেই শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও কোম্পানির হাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবুও ভবিষ্যৎ ব্যয় ও মুনাফা নিয়ে বাজারে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শুধু ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নয়, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারেও চাপ দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার সূচক নাসডাক কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের শেয়ারদরেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এশিয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে এবং জাপানের প্রধান শেয়ারসূচকেও বড় ধরনের পতন রেকর্ড করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাত নিয়ে গত কয়েক বছরের উচ্ছ্বাসের পর এখন বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আয়, ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। ফলে প্রযুক্তিখাতের শেয়ারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে। এর পরেই রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত। বাজেটে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাত। কৃষি, রপ্তানি এবং অন্যান্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচির জন্য প্রতি ১০০ টাকায় ১১ টাকা ৩০ পয়সা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ টাকা ১০ পয়সা। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ৮ টাকা ৮০ পয়সা। বিভিন্ন ছোট-বড় খাতের সমন্বয়ে গঠিত অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা। স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সা। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে প্রতি ১০০ টাকায় ৪ টাকা ৭০ পয়সা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধার জন্য ৪ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হবে ৪ টাকা ৩০ পয়সা এবং জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা। কৃষি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও পরিচালনায় ব্যয় হবে ২ টাকা ৯০ পয়সা। প্রতি ১০০ টাকায় খাতভিত্তিক ব্যয় খাত বরাদ্দ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৫.৫০ টাকা শিক্ষা ও প্রযুক্তি ১৪.০০ টাকা ভর্তুকি ও প্রণোদনা ১১.৩০ টাকা জনপ্রশাসন ৯.১০ টাকা পরিবহন ও যোগাযোগ ৮.৮০ টাকা অন্যান্য খাত ৬.১০ টাকা স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ৫.৭০ টাকা স্বাস্থ্য ৫.৩০ টাকা সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ ৪.৭০ টাকা পেনশন ৪.৫০ টাকা প্রতিরক্ষা ৪.৩০ টাকা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ৪.১০ টাকা কৃষি ৩.৭০ টাকা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ২.৯০ টাকা প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ ঋণের সুদ, শিক্ষা, ভর্তুকি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দেশে সবার অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশসহ মোট ১০টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই অগ্রাধিকার খাতগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নয়নের সুফল দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব অঞ্চলে সমভাবে পৌঁছে দিতে সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলা হয়। এতে শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত সব বয়সী নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা ডিরেগুলেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি সেবায় বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলা হয়েছে, উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জনগণের অংশগ্রহণে বনায়ন কর্মসূচিকে সবুজ বিপ্লবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্কের ভারতে বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি আগামী কয়েক বছরে ভারতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার বেশি। জানা গেছে, এই বিনিয়োগ মূলত ভারতের ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে ডাটা সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বড় আকারের অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। সেই চাহিদাকে সামনে রেখেই ভারত এখন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। রবিন খুদা বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তার পড়াশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ডাটা সেন্টার কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশেও নানা ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একজন সফল উদ্যোক্তা কেন এত বড় বিনিয়োগ ভারতের মতো দেশে করলেন, বাংলাদেশে নয়। অনেকে মনে করছেন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশের সমপরিমাণ। যদিও বাজেট ও ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী এ হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে ভারতের বর্তমান অবস্থান এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা এই ঘোষণার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনের অর্থনীতিতে ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই এই খাতে যে দেশ যত বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে, প্রযুক্তি অর্থনীতিতে তাদের অবস্থান তত শক্তিশালী হবে।
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। রবিবার (৭ জুন) ইকবাল আহসানের সঞ্চালনায় ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। বায়াররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না। এ অবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, এ কারণে মানবশক্তি কমাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর কাঠামোয় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। এ কে আজাদ বলেন, অনেক কোম্পানি উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যাংক সুদের হার কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক উৎপাদন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন বা এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করাসহ কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বুথগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের বুথ পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও কিউআর কোড সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে বলা হয়েছে। অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো এমএফএস সেবাগুলোতেও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে এবং গ্রাহক হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা দরে) প্রায় ৩০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ কোটি ডলারের বেশি। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা এ প্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এভাবে আয় আসতে থাকলে ঈদের আগে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। আজ চারটি ব্যাংক থেকে সাত কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের পাঁচ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১৯ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে নতুন নোটটির সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পিছনভাগে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই পাঁচ টাকার নোটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার। নোটটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এবং তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’। পাশাপাশি ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ও সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নোটটিতে হালকা গোলাপি রঙের আধিক্য রাখা হয়েছে। নোটের বাম পাশে দুই মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যা কাগজের ভেতরে প্রবিষ্ট এবং আলোর বিপরীতে ধরলে দুই পাশ থেকেই দেখা যায়। নোটের সম্মুখভাগের নিচের অংশে গ্লিউইশ প্যাটার্নের ওপর মাইক্রো পয়েন্ট আকারে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ শব্দও মুদ্রিত রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকেই প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চালু থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নিয়মিত নোটের পাশাপাশি পাঁচ টাকা মূল্যমানের নমুনা (Specimen) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময় অযোগ্য এই নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
দেশের ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডলার কেনার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাজারে এখন চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৯৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে চলতি মে মাসেই কেনা হয়েছে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার। এবারের ডলারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে কেনা হয়েছে, যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। এর আগে দেশের রিজার্ভ ও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে গত বছরের ১৩ জুলাই ১৮টি ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ১৫ জুলাই ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ও ২৩ জুলাই এক কোটি মার্কিন ডলার কেনা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিক অর্থায়নে গত ৭ আগস্ট চার কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১০ আগস্ট আট কোটি ৩০ লাখ ডলার, ১৪ আগস্ট ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং ২৮ আগস্ট ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দফায় যথাক্রমে চার কোটি ৭৫ লাখ, ১৩ কোটি ৪০ লাখ, ২৬ কোটি ৫০ লাখ, ৩৫ কোটি ৩০ লাখ এবং ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। এছাড়াও অক্টোবরের তিন দফায় যথাক্রমে ১০ কোটি ৪০ লাখ, ১০ কোটি ৭০ লাখ এবং তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের বর্তমান ও সাবেক লাখো গ্রাহকের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের নামকরণে বিভ্রান্তি এবং গ্রাহকদের প্রাপ্য সুদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই বড় অংকের সমঝোতায় পৌঁছেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে যে, ক্যাপিটাল ওয়ান একই ধরনের নামের দুটি ভিন্ন সেভিংস অ্যাকাউন্ট চালু করে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষাকৃত কম সুদের অ্যাকাউন্টে নিজেদের অর্থ জমা রাখতে বাধ্য হয়েছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের গ্রাহকদের জন্য '৩৬০ সেভিংস' এবং '৩৬০ পারফরম্যান্স সেভিংস' নামে দুটি পৃথক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছিল। নাম দুটি প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন ছিল যে কোনটিতে সুদের হার বেশি। এর ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অজান্তেই কম সুদের '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে অন্য অ্যাকাউন্টটিতে অনেক বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল। এই স্বচ্ছতার অভাবকেই মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব গ্রাহক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে ১৬ জুন ২০২৫-এর মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাপিটাল ওয়ান-এর '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, তারা এই তহবিলের অর্থ পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। বর্তমান গ্রাহকদের পাশাপাশি যারা এই সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন, তারাও এই ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ পাবেন। এটি মূলত সেই সব গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি যারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে লোকসানের শিকার হয়েছেন। আপনি এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করা এখন অত্যন্ত সহজ। ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকরা তাদের মোবাইল অ্যাপ বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করে সরাসরি অ্যাকাউন্টের ধরন পরীক্ষা করতে পারেন। অ্যাপে প্রবেশের পর সেভিংস অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করে 'অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস' থেকে 'ভিউ অল' অপশনে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টের সঠিক নাম দেখা যাবে। এছাড়া যারা বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক নন, তারা তাদের পুরনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ইমেইল চেক করে নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা উল্লিখিত সময়ের মধ্যে '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টের আওতাভুক্ত ছিলেন কি না। ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ প্রতিটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। ব্যাংকের সূত্রমতে, গ্রাহক কতদিন ধরে উক্ত অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেছেন, তার অ্যাকাউন্টে গড় জমার পরিমাণ কত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত মোট কতজন গ্রাহক এই অর্থের জন্য দাবি পেশ করছেন—এই তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যোগ্য গ্রাহকদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ পাঠানো শুরু হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলাদা করে আবেদনের প্রয়োজন না হলেও, নিজের অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
জিন্স বা ডেনিম পোশাক রপ্তানির যাত্রা শুরুর প্রায় চার দশক পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগে অর্জিত এই অবস্থান প্রতি বছরই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এবং ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ৯৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। দেশটির বাজারে প্রায় ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। এখানেও বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশ। যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে, আর ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান উভয়ই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান ১০৩ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও চীনও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত দেড় দশকে ডেনিম শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। আগে যেখানে দেশে মাত্র ১০-১২টি ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিল ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে। এখন দেশীয় মিলগুলোই মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করছে, যা আগে আমদানিনির্ভর ছিল। উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। গ্যাস ও পানির মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। এছাড়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরেও বাংলাদেশে আসছে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে। ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও ওয়াশিং সুবিধা বাড়ার ফলে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দৈনিক প্রথম আলোয় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।