আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ও ইরানের এক্সচেঞ্জ I ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ও ইরানের এক্সচেঞ্জ, একই নেটওয়ার্কে ঘুরছে বিলিয়ন ডলার

ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ 'নোবিটেক্স' থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির তৈরি করা নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। কাকতালীয়ভাবে, এই দুই ক্রিপ্টো ব্যক্তিত্ব আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান ক্রিপ্টো উদ্যোগেরও অন্যতম বড় সমর্থক। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে নোবিটেক্স এক্সচেঞ্জ ট্রন এবং বিএনবি চেইন এর মাধ্যমে অন্তত ২.৩ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। এই দুটি জনপ্রিয় ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন যথাক্রমে ক্রিপ্টো ধনকুবের জাস্টিন সান ও চ্যাংপেং ঝাও।   ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক দুটির মাধ্যমে ইরানি অর্থের প্রবাহ সচল ছিল। অন্যদিকে, সান এবং ঝাওয়ের মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স (Binance)—উভয়ই ট্রাম্প ও তার পরিবারের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল' এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও সমর্থক। যদিও ট্রাম্প পরিবার নোবিটেক্সের এই বিপুল লেনদেনের বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং তার রাষ্ট্রীয় পদের মধ্যে একটি সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাতের বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।   ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আরখামের উন্মুক্ত ব্লকচেইন ডাটা পরীক্ষা করে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা নোবিটেক্স ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ট্রনের মাধ্যমে ২ বিলিয়ন ডলার এবং বিএনবি চেইনের মাধ্যমে অন্তত ৩১৭ মিলিয়ন ডলারের লেনদেন করেছে। এমনকি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন সচল ছিল। স্বতন্ত্র গবেষক ও ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ নোবিটেক্স ট্র্যাকিং এড়াতে নিয়মিত তাদের ওয়ালেট ঠিকানা পরিবর্তন করে। এর আগে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল যে, এই এক্সচেঞ্জটির ব্যবহারকারীদের তালিকায় খোদ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর মতো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাও রয়েছে।   এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাইন্যান্স ও বিএনবি চেইনের মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, বিএনবি চেইন একটি উন্মুক্ত, বিকেন্দ্রীভূত ও স্বাধীন ব্লকচেইন, যা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা এক্সচেঞ্জ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। ট্রনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে তারা কেবল প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং প্রতিটি একক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে একে 'হাস্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। ওয়ার্ল্ড লিবার্টির মুখপাত্রও স্পষ্ট জানিয়েছেন, নোবিটেক্সের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা ট্রন নেটওয়ার্কের মালিক বা নিয়ন্ত্রক নন। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি এবং ট্রাম্পের ক্রিপ্টো ব্যবসায় সান ও বাইন্যান্সের বিপুল বিনিয়োগের কারণে এই পুরো সংযোগটি আন্তর্জাতিক মহলে এখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:৪০
ছবিঃ মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিখোঁজ ১

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘এমএইচ-৬০এস সি হক’ হেলিকপ্টার। বুধবার ভোরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের তিন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হলেও এক নৌসেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরীতে নিযুক্ত এই হেলিকপ্টারটি ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।   মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে হেলিকপ্টারটি সাগরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তবে এই জরুরি অবতরণ বা দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো আক্রমণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সামাজিক মাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া তিন ক্রু সদস্যকে বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ রণতরীতে রাখা হয়েছে। তারা সবাই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।   এদিকে, নিখোঁজ থাকা ওই ক্রু সদস্যের সন্ধানে সাগরে জোর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। উল্লেখ্য, ইরানের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের আবহে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর এই নৌবহরটি অপারেশন পরিচালনা করছে। এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলমান রয়েছে। এটি একটি বিকাশমান সংবাদ হওয়ায় নতুন কোনো তথ্য আসার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:২৪
বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের হাসান সনেট I ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের

ইতালির একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের হাসান সনেটকে ঘিরে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওর একটি সংক্ষিপ্ত অংশে তাকে কয়েকজন ভারতীয়কে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং জুবায়েরকে ক্ষমা চাইতে বলে।   ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুবায়ের ও বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। তবে জুবায়ের দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুরো ঘটনার চিত্র তুলে ধরে না।   নিজের প্রকাশিত ভিডিওতে জুবায়ের বলেন, তিনি ইতালির একটি পিজার দোকানে কাজ করেন। তার দাবি, কয়েকজন ভারতীয় ক্রেতা খাবার খাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্ডারের বিল বাদ দিয়ে কম বিল করার অনুরোধ করেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এরপর উত্তেজিত হয়ে তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন, যার একটি অংশ ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।   জুবায়েরের অভিযোগ, পুরো ঘটনার পরিবর্তে শুধু ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের একটি অংশ ভাইরাল হওয়ায় ঘটনাটি একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। পরে তিনি ভিডিও বার্তা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।   তবে ভারতীয় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে জুবায়েরের আনা অভিযোগ কিংবা ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট বা ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:৭
বাংলাদেশের রেজওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর I ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে গিয়ে শুধু ডিগ্রিই নয়, একই গবেষণাগারেই খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জীবনসঙ্গী

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছেই নতুন জ্ঞান, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে বাংলাদেশের রেজওয়ানের জন্য সেই যাত্রা এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি—নিজের জীবনসঙ্গী।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে পিএইচডি করতে যান রেজওয়ান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে গবেষণায় যোগ দেন টেইলর। মলিকুলার বায়োসায়েন্স ভবনের একই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয়।   রেজওয়ান বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে, আর টেইলর যুক্তরাষ্ট্রের। ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে গবেষণা করতে না এলে হয়তো কোনো দিনই আমাদের দেখা হতো না।”   সে সময় টেইলর স্ট্রাকচারাল বায়োলজিতে পিএইচডি করছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) গঠন, যা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে, রেজওয়ানের গবেষণার বিষয় ছিল ফাঙ্গাল প্রোটিন ব্যবহার করে ন্যানোপার্টিকল কোটিং প্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজিতে ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসেবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।   দিনের বেশিরভাগ সময় একই গবেষণাগারে কাটত দুজনের। গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়, আর শেষ পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   রেজওয়ান ও টেইলরের গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা গবেষণার সুযোগই এনে দেয় না; কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:১
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ I ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহে হাজারো প্রাণহানি, হিমাগারগুলো পৌঁছেছে ধারণক্ষমতার শেষ সীমায়

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের জনজীবন। স্মরণকালের ভয়াবহ এই গরমে ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। লাশের সারি দীর্ঘ হতে থাকায় দেশটির হিমাগারগুলোতেও আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। অতিরিক্ত মৃত্যুর এই চাপ সামলাতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই হিমশিম খাচ্ছেন শেষকৃত্য সম্পন্নকারী সেবাদাতারা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা নিহতের পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম ও পুলিশের অসংখ্য অনুরোধ ফিরিয়ে দিচ্ছেন।   ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশের চিত্রও বেশ নাজুক। জার্মানিতে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। দেশটির অধিকাংশ আবাসিক ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের ভেতরেই চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানী বার্লিনের বাসিন্দারা। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের হিরোস স্কয়ারে পথচারী ও পর্যটকদের ওপর ঠান্ডা পানি ছিটাচ্ছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এছাড়া রোমানিয়ার ব্রাশভ ও রাজধানী বুখারেস্ট, আলবেনিয়ার সমুদ্রসৈকত এবং সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের মানুষ একটু স্বস্তির খোঁজে সুইমিংপুল, ফোয়ারা ও ছায়াযুক্ত স্থানে ভিড় জমাচ্ছেন।   আবহাওয়া অধিদপ্তর সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমার পূর্বাভাস দিলেও পরবর্তীতে তা আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস’ সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ ছিল ব্যতিক্রমী মাত্রায় সমুদ্র উষ্ণতার একটি সময়। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, জুন মাসে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৯.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের আগের সব রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   ইইউ-এর সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস বৈশ্বিক মহাসাগরের বিশাল অংশজুড়ে ক্রমাগত উচ্চ তাপমাত্রা এবং সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। এই চরম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’-এর পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন ধাপের সূচনা নির্দেশ করতে পারে, যা বিশ্ববাসীকে আবারও এক অজানা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৩:৪২
ফ্রান্সের জন্মহার বৃদ্ধি ও অনুর্বরতা রোধে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নতুন মহাপরিকল্পনা | ছবি: এএফপি
জন্মহার বাড়াতে ফ্রান্সে মা-বাবার জন্য বেতনসহ অতিরিক্ত ছুটির নিয়ম চালু

দেশের আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া জন্মহার বাড়াতে মা ও বাবা উভয়ের জন্যই নতুন বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর পূর্বঘোষিত ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   আগের নিয়ম অনুযায়ী ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা প্রায় চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতেন এবং বাবারা সন্তানের জন্মের পর ২৮ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারতেন। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মা ও বাবা এখন থেকে এই বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি আরও এক বা দুই মাসের অতিরিক্ত ছুটি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে তারা মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ অর্থ আর্থিক সুবিধা হিসেবে পাবেন।   নতুন এই নিয়মটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা এর পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এমনকি যারা সন্তান দত্তক নিয়েছেন, সেইসব অভিভাবকরাও সমপরিমাণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ফরাসি সরকারের আশা, এই আর্থিক ও ছুটি সংক্রান্ত প্রণোদনা তরুণ দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করবে।   ইউরোপজুড়েই বর্তমানে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে, যার ব্যতিক্রম নয় ফ্রান্সও। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত বছর ফ্রান্সে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে নিচে নেমে গেছে। ফলে দেশটিতে এক ধরণের জনসংখ্যাগত সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   তবে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এটি পুরোপুরি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে স্থানীয় নারীবাদী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এই নতুন নিয়মে পরিবারে নারী-পুরুষের সমতা খুব বেশি বাড়বে না। কারণ বাস্তবতার নিরিখে সাধারণত দম্পতির মধ্যে যার আয় কম (অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী), তিনিই এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১২:৩৩
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হলেন ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং | ছবি: ম্যাক্সিম শেমেটভ/রয়টার্স
শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে চীনে রাশিয়ার গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ, রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই চীনের মাটিতে রুশ বাহিনীকে অত্যন্ত গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি চুক্তিকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও রয়টার্সের হাতে আসা কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক নথির বরাতে ১ জুলাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।     রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি অত্যন্ত গোপনীয় নথিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি বিশেষ ডিক্রি বা আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চীনে পাড়ি জমায়। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   নথি অনুযায়ী, বেইজিংয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত নভেম্বরে তিন সপ্তাহব্যাপী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রুশ সেনাদের মূলত তেজস্ক্রিয়তা, জৈবিক ও রাসায়নিক (রেডিওলজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল) যুদ্ধবিদ্যা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রয়টার্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, একজন চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের সামনে একটি ডামি পারমাণবিক চুল্লি নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন এবং রাসায়নিক রেকি করার কৌশল শেখাচ্ছেন।     গত মাসে প্রকাশিত অপর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ায় চীনের নানজিং ও বেংবু শহরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তদারকিতে রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ এবং চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুনসহ উচ্চপদস্থ জেনারেলরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তবে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।   এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন নিশ্চিত করেছেন যে ব্রাসেলস তাদের নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে এই গোপন প্রশিক্ষণের সত্যতা পেয়েছে। বর্তমানে এর আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বেইজিং নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখন চীনকে রাশিয়ার যুদ্ধের অন্যতম বড় সহায়তাকারী হিসেবে দেখছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের বিরুদ্ধে ইইউ নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১২:৬
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট (বাঁয়ে) আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর (ডানে) শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনি মাঠে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। আগামী নির্বাচনের চার মাস আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক জনাকীর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আহ্বান জানান।   প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে আইজেনকট বলেন, "ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।" তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরে যে সরকার গঠিত হবে, তারা যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।   ওই হামলায় হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ঘটে।   আইজেনকট বলেন, "আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলব। এটি হবে ভালো একটি অধ্যায়। কারণ ইসরায়েলকে জিততেই হবে, আর ইসরায়েল জিতবেই।"   গাজা যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি ও নেতৃত্বের অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। হিব্রু ভাষায় ‘ইয়াশার’ শব্দের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘ন্যায়নিষ্ঠ’।   ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের দল পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ২৪টি আসন।   মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকট সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সময় তার ছেলে গাল নিহত হওয়ার পর তার প্রতি জনসমর্থন আরও বেড়ে যায়। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।   ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তখন তিনি সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে তার অবস্থান খুব বেশি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।   সমাবেশে আইজেনকট বলেন, ইসরায়েলের জন্য এখন একটি সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়নবাদী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার ভাষায়, এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভিন্ন মতের মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন।   তিনি বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যমান নেতৃত্বের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই। তার দাবি, "এমন নেতৃত্বকে সরাতে হবে, যারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।"   আইজেনকটের বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:৫১
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু ক্লিয়েবার মোরানকে জীবিত উদ্ধার | ছবি: রয়টার্স
ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার, ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক ঘটনা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল অলৌকিকভাবে এই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি ভেঙে পড়া ভবনের নিচে সে আটকে ছিল।   উদ্ধারের পর ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনেন, তখন চারপাশের মানুষ আনন্দে উল্লাস ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে দেশের এই চরম বিপর্যয়ের মাঝে একটি 'আশার আলো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুত রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা 'গোল্ডেন আওয়ার' মনে করা হয়। সেই সময়সীমা পার হওয়ারও তিন দিন পর ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করা এক প্রকার অলৌকিক বিষয়। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জে রদ্রিগেজ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষের জীবিত থাকার আশা ফুরিয়ে যায়নি। দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাই এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   গত ২৪ জুন বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।   জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, উপদ্রুত এলাকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং মৌলিক সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ত্রাণের খাবারের জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য আসতে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই ৪৭ টন মানবিক ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছেছে। আগামী ৬ মাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৯:৪৭
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য’ ঘোষণা করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের যৌথ বিবৃতি | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যা ধর্মীয় দায়িত্ব, ফতোয়া দিলেন ইরানের শীর্ষ আলেমরা

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার ডাক দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতারা। এই দুই নেতাকে 'মাহদৌর আল-দাম' অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য ঘোষণা করে তাদের হত্যা করা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা দেশটির ৮৮ সদস্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ ১০ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দুষ্ট প্রধানমন্ত্রী এবং আমেরিকার অপরাধী প্রেসিডেন্টকে যে কোনো পরিস্থিতিতে হত্যা করা একটি ধর্মীয় কর্তব্য। ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া এখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   বিবৃতিতে কড়া ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, যে কোনো ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি যদি এই দুই অপরাধীর নাগাল পান, তবে তাদের সরাসরি জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়া ওই ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা 'হামশাহরি' তাদের প্রথম পাতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি রাইফেলের নিশানা ট্রাম্পের মুখের ওপর তাক করা রয়েছে এবং বড় অক্ষরে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, 'প্রতিশোধ নিশ্চিত'।   এদিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ আলেমরা। তারা দাবি করেছেন, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে তা কেবল একটি সময় ক্ষেপণ করার কৌশল মাত্র, যাতে আমেরিকাকে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করার সুযোগ দেওয়া যায়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৩০ এবং ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সব সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান করতে হবে, অন্যথায় আবার বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে তারা খামেনির নামে ইরানের সাধারণ জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৯:২৭
নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

মাত্র ১৫ বছর বয়সী মাশা পলস্কার কাছে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল বহুদিনের প্রতীক্ষিত একটি দিন। সহপাঠীদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ওয়াল্টজ নৃত্যে অংশ নিয়ে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। যুদ্ধের বাস্তবতা তার কৈশোরের আনন্দ, স্বাভাবিক স্কুলজীবন এবং নাচের মঞ্চ—সবকিছুর ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে।   তবুও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল যুদ্ধের অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ও আশার উপলক্ষ। উৎসবের পোশাকে সেজে সহপাঠীরা একে অপরের সঙ্গে ছবি তুলেছে, স্মৃতি ভাগাভাগি করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। অনেকের মুখে ছিল হাসি, তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা। মাশা জানান, নাচ তার সবচেয়ে প্রিয় শিল্প। বিদায় অনুষ্ঠানের ওয়াল্টজ পরিবেশনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের লাখো শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যায়। বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও অনলাইন, কোথাও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ক্লাস চালিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হয়েছে। ফলে একটি পুরো প্রজন্ম তাদের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় যুদ্ধের মধ্যেই পার করছে। এই বাস্তবতার মধ্যেও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজন ছিল না; এটি ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে এবং তারা আবার নির্ভয়ে পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।   আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো শিশু-কিশোর দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাশা পলস্কার গল্প কেবল একজন কিশোরীর অপূর্ণ নাচের স্বপ্নের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, ভেঙে যাওয়া পরিকল্পনা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ভবিষ্যতের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। বিদায় অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্তগুলো তাই আনন্দের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৬:৪০
কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা I ছবি: সংগৃহীত
ওপরে নির্মাণকাজ, নিচে চলছিল ক্লাস—পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

পাকিস্তানের লাহোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কাহনা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শিশু, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ছাদ ধসের পরপরই ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের মধ্যে ১৪ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং বাকি পাঁচজন বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধসের সময় ওই কোচিং সেন্টারের ভেতরে ৩০ জনেরও বেশি শিশু উপস্থিত ছিল।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ওপরের তলায় নির্মাণকাজ চলছিল এবং ঠিক সেই সময়েই নিচতলায় শিশুদের ক্লাস চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের ত্রুটি বা অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ ইতোমধ্যেই এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভবনের মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৯:৫৫
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে চাইলে দিতে হবে ১০ হাজার পাউন্ড, কঠোর হচ্ছে ব্রিটিশ অভিবাসন আইন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এবার চরম দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে ব্রিটিশ সরকার। প্রস্তাবিত নতুন ও কঠোর অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালিত আবাসন ও থাকা-খাওয়ার খরচের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের (সেটেলমেন্ট) অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত নতুন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’ উত্থাপনের কথা রয়েছে।   সরকারি কর্মকর্তারা নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থাকে অনেকটা শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষদের ওপর এটি কার্যত এক ধরনের অতিরিক্ত কর বা বোঝা চাপানোর শামিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে সরকারের বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, আশ্রয় পাওয়া যেমন একটি অধিকার, তেমনি এটি একটি দায়িত্বও। মানুষ যখন আয় করতে সক্ষম হবে, তখন ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান হিসেবে তাদের কাছ থেকে সরকার এই আর্থিক অবদান প্রত্যাশা করে।   তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ আর্থিকভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন জানান, তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর আগে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি। তাই খুব অল্পসংখ্যক মানুষই এই অর্থ পরিশোধের মতো আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারবেন। উল্টো এই নিয়মের কারণে অনেকেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে না থেকে বিকল্প বাসস্থানের পথ খুঁজতে পারেন এবং বেশি কর দেওয়ার ভয়ে বৈধভাবে কাজ করার প্রতি নিরুৎসাহিত হতে পারেন। হোম অফিস জানিয়েছে, আয়সীমাসহ বিস্তারিত বিষয়গুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিমালায় চূড়ান্ত করা হবে।   প্রস্তাবিত এই বিলে শুধু অর্থ পরিশোধের নিয়মই নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮-এর প্রয়োগ, অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং ‘আধুনিক দাসত্ব’ বা মডার্ন স্লেভারি-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো সংশোধনের পরিকল্পনাও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি যে আগামীতে নজিরবিহীন কঠোর হতে যাচ্ছে, তা এই নতুন বিল থেকেই স্পষ্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৯:১৪
কর্মী পাঠানোর শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ এখন শীর্ষ তিনেরও বাইরে I ছবি: সংগৃহীত
শীর্ষস্থান থেকে শীর্ষ তিনের বাইরে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজারের বড় পতন

মাত্র চার বছরের ব্যবধানে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমবাজারে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। একসময় মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও, বর্তমানে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বিদেশি কর্মী নিয়োগের সার্বিক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন দ্রুত ডিজিটাল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণভিত্তিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।   মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া এক লিখিত জবাবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, ২০২৫ সালে দেশটিতে মাত্র ৭৭ হাজার ৮০৭ জন বিদেশি কর্মী প্রবেশ করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ কম। এই কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ১১ জন এসেছেন ইন্দোনেশিয়া থেকে। এরপর রয়েছে নেপাল ও ভারত। অথচ এই শীর্ষ তিন দেশের তালিকায় এবার বাংলাদেশের কোনো নাম নেই। কোটা মেলাকা আসনের সংসদ সদস্য খু পোয়ে তিয়ংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।   এর আগে কোভিড-পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঢল নামে, যা ২০২৩ সালে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩১ জন বিদেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ বা ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। কিন্তু অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া প্রভাব, কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়া এবং শ্রমিক শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মালয়েশিয়া সরকার নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং নিয়োগের হার এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়।   বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিদেশি কর্মীর কোটা আবেদন এখন অনলাইনেই সম্পন্ন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২৬ সালে ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম (তুরাপ) নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে 'ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম' (নাইস) চালুর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া।   অভিবাসন ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া এখন সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান, দক্ষতা এবং শৃঙ্খলার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হলেও, এটি একই সঙ্গে নতুন সুযোগ। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কর্মীদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিজের শীর্ষ অবস্থান ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৮:৫১
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
অতীতের সব সম্পর্কের ছাপ মুছে ফেলতে ১৩ হাজার ডলারের আধ্যাত্মিক থেরাপি, তুমুল আলোচনায় ব্রাজিল

অতীতের শারীরিক সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে এক অভিনব পথে হাঁটছেন নারীরা। ১৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে নিজেদের 'বডি কাউন্ট' শূন্যে নামিয়ে আনার এক বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করতে তারা ছুটে যাচ্ছেন সুদূর ব্রাজিলে। সেখানে তথাকথিত এক 'বডি কাউন্ট রিকভারি সেন্টার' নারীদের আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ করার এই ব্যয়বহুল ও অদ্ভুত সুযোগ দিচ্ছে।   এই বিশেষ চিকিৎসায় বেশ কিছু আধ্যাত্মিক আচার ও রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টারটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তাদের অতীতের সঙ্গীদের এনার্জি বা মানসিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অংশ নেওয়া নারীরা নিজেদের পুনরুজ্জীবিত এবং বিশুদ্ধ অনুভব করেন। মূলত, অতীত সম্পর্কের সমস্ত মানসিক ও আধ্যাত্মিক ছাপ মুছে ফেলে তাদের 'বডি কাউন্ট' বা শারীরিক সম্পর্কের সংখ্যা পুনরায় শূন্যে ফিরিয়ে আনাই এই থেরাপির প্রধান লক্ষ্য।   ১৩ হাজার ডলারের এই বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সেন্টারটি নারীদের একটি পরিপূর্ণ 'স্পিরিচুয়াল রিসেট' বা আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অতীত সম্পর্কের গ্লানি বা স্মৃতি চুকিয়ে যারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন শুরু করতে চাইছেন, তাদের কাছে বিপুল খরচের এই থেরাপি এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৭:৫৮
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি  I ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ভেতরে কয়েক কিলোমিটার ঢুকে পড়েছে চীনা সেনা, দাবি অরুণাচলের স্থানীয়দের

ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের দাবি, চীনা বাহিনী সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরির পাশাপাশি স্থানীয়দের চারণভূমি ও কৃষিজমি দখল করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের একটি সংগঠন এই অনুপ্রবেশের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের এ বিষয়ে আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।   তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বহু যুগ ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা যেসব জমিতে শিকার, পশুচারণ ও চাষাবাদ করতেন, সেগুলো এখন পুরোপুরি চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে চলে গেছে। স্মারকলিপির তথ্য থেকে জানা যায়, সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনী স্থায়ী পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে। আসফিলা এলাকার ওয়িং, পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাংয়ে এই দখলদারির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটি স্থান স্থানীয়দের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত। কেরু চাদের জানান, প্রায় এক যুগ আগে থেকেই ওই এলাকাগুলোতে চীনা সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়লেও ২০২০ সাল থেকে তারা কৌশলগতভাবে পাকাপাকিভাবে ওই ভূখণ্ডগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।   তখন থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নিজেদের ভূমি হারানোর আশঙ্কায় তারা এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো এই ঘটনাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে আদিবাসী সংগঠনের তোলা অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই অনুপ্রবেশের দাবি সরাসরি এবং জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে লাদাখেও চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সে সময় দাবি করেছিল যে তাদের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বেহাত হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৫:০
আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি; ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘রাইজিং স্টার’ মেহেদী হাসান | ছবি: সৌজন্যে
ইউরোপের মঞ্চে বাজিমাত, সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের মেহেদী

স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ মো. মেহেদী হাসান 'ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬'-এ সম্মানজনক ‘রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন। লন্ডনের ওয়ান মরগেট প্লেসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। একই বছর তিনি প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ বিভাগেও অন্যতম ফাইনালিস্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।   মেহেদী হাসানের মূল বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে হলেও তিনি ঢাকার দক্ষিণখানে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সফটওয়্যার প্রকৌশলের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তার পেশাজীবন শুরু করেন। এরপর ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি স্পেনের একটি নামী বিজনেস স্কুল থেকে উচ্চতর এমবিএ ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন।   বাংলাদেশে থাকাকালে মেহেদী হাসান বিশ্বব্যাংক ও গ্রামীণফোনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে স্পেনে পাড়ি জমান। ২০২২ সালে একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিখ্যাত ফোর্বস টেকনোলজি কাউন্সিলে যোগদানের বিরল আমন্ত্রণ পান। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করার পাশাপাশি ছয়টি মহাদেশের ৬০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণের এক দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে মেহেদী হাসান প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে 'হাসটি লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়, যার চালিকাশক্তি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এই বিশেষ প্রকল্পের ৬০ শতাংশের বেশি কোড এআই দিয়ে তৈরি করার ফলে সফটওয়্যারটি তৈরির সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক কমে আসে। প্রযুক্তি খাতে মেধার এমন অনন্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই বছর ইউরোপীয় আসরে সেরা উদীয়মান তারকা নির্বাচিত হন।   ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস মূলত পুরো মহাদেশজুড়ে জমা পড়া শত শত আবেদন থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২৩টি বিশেষ বিভাগে কয়েকজনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করে। বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিনটেক ইন্টেল’ প্রতি বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজন ও পরিচালনা করে থাকে। এবারের আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরিসহ ১০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ফিনটেক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় নেতারা যুক্ত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৩:১৭
উন্নত বিশ্বকে পেছনে ফেলে জি-২০ জোটের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ সৌদি আরব | ছবি: এএফপি
জি-২০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ সৌদি আরব, রাতের বেলা নিশ্চিন্তে একা হাঁটেন ৯৫ শতাংশ নারী

বিশ্বের প্রভাবশালী জি-২০ জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সৌদি আরব। দেশটির জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিসটিকস সম্প্রতি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ডেটা ব্যবহার করে একটি বিশেষ নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, উন্নত বিশ্বের বহু দেশকে পেছনে ফেলে নাগরিক সুরক্ষায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।   প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ রাতের বেলা নিজের এলাকায় একা হেঁটে চলাফেরা করাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করেন। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ নাগরিকদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই রাতে একা চলাচলে কোনো ধরনের ভীতি অনুভব করেন না। এই পুরুষদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ বিষয়টিকে 'খুবই নিরাপদ' এবং ১১ শতাংশ 'কোনোভাবে নিরাপদ' বলে উল্লেখ করেছেন।   জননিরাপত্তার এই তালিকায় সবচেয়ে ইতিবাচক ও চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে দেশটির নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে। তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশই রাতের অন্ধকারে নিজ এলাকায় একা হাঁটাকে নিরাপদ মনে করেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই রাতের পরিবেশকে 'খুবই নিরাপদ' বলে রেটিং দিয়েছেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তরুণ বা যুবকদের পাশাপাশি দেশটির প্রবীণ ও বয়োবৃদ্ধ নাগরিকেরাও রাতের বেলা একা যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে সৌদি আরবের এমন অবস্থান দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, বিশ্বের শক্তিশালী জি-২০ জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বড় বড় পরাশক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নও এই জোটের অংশ। এই সমস্ত অঞ্চলের জননিরাপত্তার মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবের এই অর্জন বৈশ্বিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৯:৫৬
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গে তোলপাড়, কবীরকে শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় 'মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার' বিষয়ে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুমায়ুন কবীরদের মতো ব্যক্তিদের এবার শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে এবং এই ধরনের কথা বলার আগে তাদের ২৫ বার ভাবা উচিত।   সম্প্রতি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর জেরে সোমবার বিধানসভায় 'পয়েন্ট অব অর্ডার' উত্থাপন করেন বিজেপি বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী। তিনি রেজিনগরের জনসভায় দেওয়া হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার রথীন বসু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে জানানোর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।   মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত বক্তব্যটি পড়ে শোনান। গত ২৬ তারিখ রেজিনগরের কাশীপুরের এক সভায় হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, তিনি যেদিন মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামবেন, সেদিন লাখে লাখে মানুষ রাস্তায় নামবে এবং প্রতিপক্ষের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। সেখানে তিনি পুলিশ প্রশাসন কিংবা মুখ্যমন্ত্রী কাউকেই পরোয়া না করে নিজেই সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া শক্তিপুরের আরেকটি সভায় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গলা ধরে থানা থেকে বের করে আনার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।   এইসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রেজিনগরে ইতিমধ্যে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভরতপুর ও রেজিনগরের পঞ্চায়েতগুলো নিজের দখলে নিতে না পেরে ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানতেই হুমায়ুন কবীর এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ও লাগামহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারতের আইনই শেষ কথা বলবে এবং এই ধরনের হুমকি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি জানান। একই সাথে তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ সফরের ঘোষণাও দেন।   অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বক্তব্যের জবাবে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, সব কিছুই আইনের পথে চলবে এবং তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। পূর্ববর্তী সিপিএম ও তৃণমূল সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হলেও কোনোটিতেই তার বিরুদ্ধে গুন্ডাগিরি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রমাণ হয়নি দাবি করে তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তবে বিরোধী দলের নেতা নওশাদ সিদ্দিকী হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, যে-ই এই ধরনের আপত্তিকর বা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করুন না কেন, তিনি তার সঙ্গে একমত নন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১২:১৩
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী | ছবি: ফাইল ছবি
পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অংশ বলে দাবি করলেন বিদায়ী সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই অঞ্চলটি এখনও সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   আগামীকাল মঙ্গলবার অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার একদিন আগে গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তা এখনও বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনো আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।   উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং উভয় দেশই এখন পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বড় বড় সীমান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থাও বেড়েছে।   ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিকল্প খুঁজতে বিশেষজ্ঞ দল গঠন, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য চালু এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা। এছাড়া স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মাঠপর্যায়ের বৈঠক ও ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   তবে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত নজরদারি, রসদ সরবরাহ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদায়ী সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারত সম্পূর্ণ সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১২:৫
ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি
ল্যাবরেটরিতে মানুষের কোষ দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করল ইরান

গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন বা স্নায়ুকোষ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করেছে ইরান। মানুষের মস্তিষ্কের মতোই নিজে নিজে নতুন তথ্য শিখতে সক্ষম এই নিউরাল নেটওয়ার্ক। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উদীয়মান 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' (ওআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক দৌড়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।   ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানান, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছে ইরান। শরীরের বাইরেও এই কোষগুলো মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মতোই সিন্যাপস তৈরি করতে পারছে এবং নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।   আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মূলত মানুষের মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি। ইরানের একটি নলেজ-বেজড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গেই ইরান সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে।   নতুন এই প্রযুক্তির দুটি যুগান্তকারী সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রসেসিং বা তথ্য বিশ্লেষণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় এর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার প্রায় ১০ লাখ গুণ কম। এই দুটি অনন্য সুবিধার কারণে সিলিকন চিপের বিকল্প হিসেবে কোষ-ভিত্তিক প্রসেসরের দিকে ঝুঁকে পড়া এখন বিশ্বব্যাপী প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বে 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' বা জৈবিক প্রক্রিয়াকরণ মূলত এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে চিপ তৈরি করা হয়। এটি মানুষের মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য রকমের কম শক্তি খরচ করার অসাধারণ প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে হুবহু অনুকরণ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের বিকল্প হিসেবে এই জৈবিক চিপের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে যেতে অবশ্য এখনো কিছুটা সময় লাগবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৯:২৪
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০