আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
মিয়ানমারের নতুন ‘প্রেসিডেন্ট’ মিন অং হ্লাইং: একতরফা নির্বাচনে ক্ষমতার চূড়ান্ত দখল

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতেই তাঁর নাম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে আয়োজিত এক বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ দেশটিতে সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আরও দুজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও তারা মূলত অনুগত এবং তাঁদের জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই সেনাবাহিনীর সক্রিয় কর্মকর্তা বা জান্তা সমর্থিত দলের প্রতিনিধি, যার ফলে হ্লাইংয়ের বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।   প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বাধা ও কৌশল দীর্ঘদিন ধরে মিন অং হ্লাইংয়ের স্বপ্ন ছিল দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়া। ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত দল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তবে এখন প্রেসিডেন্ট হতে গেলে তাঁকে কিছু আইনি ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে: সেনাবাহিনী ত্যাগ: সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে হলে তাঁকে সামরিক পোশাক ও পদ ছাড়তে হবে। এতে সেনাবাহিনীর ভেতরে তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উত্তরসূরি নির্বাচন: নিজের ক্ষমতা অটুট রাখতে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত জেনারেল ইয়ে উইন ও’কে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। পরামর্শদাতা পরিষদ: পদত্যাগ করলেও যাতে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তাঁর প্রভাব থাকে, সেজন্য তিনি নিজেই একটি নতুন শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন, যার প্রধান থাকবেন তিনি নিজেই।   আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ সংকট সামরিক সরকার এই নির্বাচনকে ‘শান্তির পথ’ হিসেবে দাবি করলেও জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো একে একটি বড় ধরনের ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের একটি বড় অংশ এখনো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা টাংসিরি।
ইরানের ‘হরমুজ সম্রাট’ কমান্ডার তাংসিরি নিহত: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য!

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ জানানো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, বন্দর আব্বাসে তাদের বাহিনীর একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি ও আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।   কমান্ডার তাংসিরির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক মাসব্যাপী যুদ্ধের পর সরাসরি স্থল অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মার্কিন বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হামলা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালাবে এবং এরপর বিমান হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করবে।   এই যুদ্ধের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে খারগ দ্বীপ, যেখান থেকে ইরান তার ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি করে। এছাড়া কেশম দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপও মার্কিন নিশানায় রয়েছে। তবে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপগুলো দখল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেখানে যাতায়াত সহজ হলেও মার্কিন সেনারা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুত (AUB)
ইরানের হামলার হুমকি: বৈরুতে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

ইরানের নজিরবিহীন হামলার হুমকির মুখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বিখ্যাত 'আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত' (এইউবি) তাদের সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (২৯ মার্চ) এক জরুরি বার্তায় জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী সোম ও মঙ্গলবার সব ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাসে কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকবেন।   এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছে যে, সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরান সময় দুপুর ১২টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার নিন্দা না জানায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টা হামলার শিকার হবে। তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ফাদলো খৌরি এক বিবৃতিতে জানান, যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবুও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা থাকলেও বৈরুতের এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: আল আরাবিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপসাগরও এখন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী!

হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান উপসাগরও এখন ইরানের সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে নৌবাহিনীর একজন কমান্ডারের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ওমান উপসাগরীয় এলাকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও কর্তৃত্বের অধীনে রয়েছে।   ইরানি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা ও কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানি সেনারা এখন শুধু মার্কিন সৈন্যদের তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসার অপেক্ষা করছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে ইরানের এই একচ্ছত্র আধিপত্য ঘোষণার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হলো। ইরানের এই কঠোর অবস্থান এবং মার্কিন রণতরীর পিছু হটার খবর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নতুন মোড় নিতে পারে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের জলসীমায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি ।
'মার্কিন সেনারা হবে হাঙরের খাবার': ইরান থেকে ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে।   বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়।   একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।   সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার জন্য হুমকি ট্রাম্প: নিউইয়র্কে রাজপথে নামলেন ডি নিরো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। শনিবার (২৮ মার্চ) নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে আয়োজিত বিশাল ‘নো কিংস’ র‍্যালিতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘আই লাভ নিউইয়র্ক’ ব্যাজ পরিহিত এই অভিনেতা সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক এবং তাকে ‘এখনই থামাতে হবে’।   ইরানে চলমান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে শনিবার নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে কয়েক হাজার ‘নো কিংস’ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার এবং থার্টি ফোর্থ স্ট্রিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাজার হাজার মানুষ ‘নো আইস’ এবং ‘নো কিংস’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে। ডি নিরো অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কেড়ে নিচ্ছে এবং কেবল নিজের ও ঘনিষ্ঠদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যস্ত রয়েছে।   ‘দ্য গডফাদার’ খ্যাত রবার্ট ডি নিরো দীর্ঘকাল ধরেই ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ম্যানহাটনের এই র‍্যালিতে ডি নিরো ছাড়াও নাগরিক অধিকার নেতা আল শার্পটন এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ডি নিরো তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ট্রাম্প যেভাবে দেশের মৌলিক আদর্শ ও সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তা নজিরবিহীন।   সূত্র: আর্ট থ্রেট

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ: পাকিস্তানে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।   উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ

নেপালের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির নবগঠিত সরকার। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সব রাজনৈতিক দল-সংযুক্ত ছাত্র সংগঠন এবং তাদের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন) এর নেতৃত্বাধীন সরকার অনুমোদিত ১০০ দফার সুশাসন ও সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শিক্ষার মান কমে যাওয়া এবং সুস্থ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। তবে ছাত্র রাজনীতির বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মতামত তুলে ধরার জন্য ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ নামে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নির্দলীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই কাউন্সিল গঠন করা হবে।   উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ নেপালে এক গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। র‍্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ এবং তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) গত ২৭ মার্চ শপথ নেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে ব্যাপক সংস্কার শুরু করেছে। ছাত্র রাজনীতির নামে চলমান অস্থিতিশীলতা বন্ধ করে একটি আধুনিক ও পেশাদার শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।   সূত্র: নেপাল নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ আগুন, রাসায়নিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলার মুখে আবারও কেঁপে উঠেছে ইসরাইল। হাইফার পর এবার অবৈধ ভূখণ্ডটির ‘নিওত হোভভ’ শিল্পাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকালে ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ওই শিল্পাঞ্চল থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ চুইয়ে পড়ার (Leakage) আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে সৃষ্ট শকওয়েভে একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন ৪০ নম্বর হাইওয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিল নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ইসরাইলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।   ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেলের আঘাতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে নেগেভ মরুভূমির ওই শিল্পাঞ্চল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ইরান থেকে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা হয়েছে, যা মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও জেরুসালেম পোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন ৭২) | ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে পালিয়েছে মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’!

মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আরব সাগর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানি সেনাদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি বর্তমানে ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে।   ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আজ রোববার এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার (ফায়ারিং রেঞ্জ) মধ্যে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ হবে গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’র শহীদ নাবিকদের রক্তের প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।   ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, তারা বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সমুদ্রের দানব খ্যাত এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে না পেরে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক আধিপত্য আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। ফাইল ছবি
মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে ‘শারীরিক সম্পর্ক’? মোদির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সুব্রহ্মণ্যম স্বামী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অভিযোগ করেছেন যে, একাধিক নারী সংসদ সদস্যকে বিশেষ অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে মন্ত্রীপদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব জেফ্রি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভারতে এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।   স্বামীর এই বিস্ফোরক দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন এক সময় মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু এমপিকে কিসের ভিত্তিতে মন্ত্রী করা হয়েছে তা হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। কিশওয়ার এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, হরদীপ সিং পুরী এবং স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনে ‘বিশেষ পরিষেবার’ ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি করেন।   মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার এক সময় মোদিকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করলেও, তার এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্বামী বা কিশওয়ার—কেউই এখন পর্যন্ত তাদের এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) বা শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মন্দিরে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, গ্রেপ্তার ৭

ভারতের কর্ণাটকের হাসান জেলার বেত্তাদা ভৈরবশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে একটি প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটকে কেন্দ্র করে একদল ফটোগ্রাফারের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ছবি তোলা এবং মন্দিরে জুতো পরে থাকা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। উত্তেজিত জনতা ফটোগ্রাফারদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে।   হামলায় নভি এবং নন্দন নামে দুই ফটোগ্রাফার গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সাকলেশপুর তালুক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই মন্দির এলাকাটি পর্যটক ও যুগলদের কাছে ফটোশুটের জন্য বেশ জনপ্রিয়, তবে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন নিয়ে স্থানীয়দের সাথে পর্যটকদের বিরোধ প্রায়ই সামনে আসে।   খবর পেয়ে সাকলেশপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় পুলিশ সাতজন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আশি, প্রশান্ত, রক্ষা, অরবিন্দ, উচিত, প্রজ্বল ও নিশান্ত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।   সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের আইআরজিসি’র হামলা

ওমান উপকূলে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে কিছুটা দূরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরব সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথে এই অভিযান চালানো হয়।   বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলা ওমানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি। ইরান সর্বদাই প্রতিবেশী দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে হামলায় মার্কিন জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা অভিযানের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   উল্লেখ্য, ওমান সংলগ্ন এই জলসীমা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির সাথে যুক্ত। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের একটি বিশেষ পুলিশ ইউনিট | ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের হামলায় দুই কর্মকর্তাসহ ৯ ইসরায়েলি সেনা আহত

দক্ষিণ লেবানন থেকে চালানো পৃথক দুটি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ৯ জন ইসরায়েলি সৈন্য আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) ইসরায়েলি আর্মি রেডিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন সেনা ও কর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ এক সামরিক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ছোড়া একটি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর এবং অন্য একজন মাঝারিভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া পৃথক এক রকেট হামলায় আরও একজন কর্মকর্তা এবং ছয়জন সৈন্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর হামলার পর থেকেই লেবাননে তীব্র বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,১৪২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩,৩১৫ জনেরও বেশি মানুষ।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় পতিত একটি প্রতিহতকৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ | ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ ভারতীয় নাগরিক আহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনস (কেজেডএডি) কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করলে এর ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে। আহত ভারতীয় নাগরিকদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে গুজব থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই।
খার্গ দ্বীপে হামলা চালালে কেউ জীবিত ফিরবে না: ইরান

ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।   শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এক বিবৃতিতে জানান, এই দ্বীপে যারাই হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখাবে, তারা আর জীবিত ফিরতে পারবে না। খার্গ দ্বীপকে ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির প্রধান ধমনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর নিরাপত্তায় যেকোনো হুমকির জবাব হবে চরম সিদ্ধান্তমূলক ও কঠোর। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা দিল ইরান।   সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
র‌্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী: বালেন্দ্র শাহের রাজনৈতিক উত্থান ও শপথ গ্রহণ

কাঠমান্ডু, নেপাল নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ (২৭ মার্চ) শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় জয় অর্জন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করলেন।   শপথ গ্রহণের আগে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নেপালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যুবসমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ জগতে র‌্যাপার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মাত্র তিন বছরের মেয়র পদে থাকার সময়েই তিনি দেশের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা যুবসমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এক সপ্তাহের মধ্যেই জনগণ ওলির সরকারের পতন নিশ্চিত করেন।   বালেন্দ্র শাহ বালেন নামে বেশি পরিচিত। ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নেপালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় দলগুলোর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন।   বালেন্দ্রের জনপ্রিয়তা মূলত তার সামাজিক বার্তা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যুবসমাজের প্রতি সমর্থনের কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নেপালে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সূত্র: বিবিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পুতিনের ‘ওয়ার মেশিন’ যেভাবে সচল রাখছে ইরানের যুদ্ধ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করলেও, ক্রেমলিনের জন্য তা এক অভাবনীয় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল তেলের দামই বাড়াচ্ছে না, বরং রাশিয়ার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ মেটানোর এক মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তেলের বাজারে রাশিয়ার দাপট দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার পর তেলের বৈশ্বিক দাম বেড়ে যাওয়ায় পুতিন প্রশাসন এখন পূর্ণ বাজারমূল্যে তেল বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে।  সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর জ্যেষ্ঠ সহযোগী বেন কাহিল জানান, এই সংঘাতের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। যেখানে রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল, সেখানে এখন উপচে পড়ছে ভ্লাদিমির পুতিনের রাজকোষ। কেবল তেল নয়, লক্ষ্য গ্যাস ও সার ইরান সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে কেবল জ্বালানি তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেহেতু রাশিয়া এই দুটি পণ্যের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক, তাই বিশ্বজুড়ে হাহাকার তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার মুনাফা লাভের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে বড় বিজয়ী’ হলো রাশিয়া। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অর্থনীতি কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের ফেলো আলেকজান্দ্রা প্রোকোপেনকো জানান, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে রাশিয়া এক ভয়াবহ বাজেট সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা পুতিনকে ‘সময় কিনে’ দিয়েছে।    রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, চলতি বছরে যে ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, রাশিয়ার অর্থনীতির পালে তত বেশি হাওয়া লাগবে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
সাবেক জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সাবেক র‍্যাপার বলেন শাহ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সাবেক জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বলেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। আজ শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে নির্বাচনে তাঁর দল এক বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলেন শাহর এই উত্থান নেপালের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করেন বলেন শাহ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বলেন শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সংগীতশিল্পী এবং স্বতন্ত্র ধারার রাজনীতিক হিসেবে তাঁর এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা হিমালয় কন্যা নেপালকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বলেন শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নগরায়নের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। আন্তর্জাতিক মহলও নেপালের এই নতুন নেতৃত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী এই কৌশলগত রাষ্ট্রের নতুন সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকেই এখন সবার নজর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প: আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে পরিকল্পিত হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরানের সাথে চলমান আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ইরান সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আগামী ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ভুয়া নিউজ মিডিয়া এবং অন্যদের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হলেও, ইরানের সাথে আলোচনা প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, আলোচনার অংশ হিসেবে সদিচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরাসরি আলোচনার কথা নিশ্চিত করেনি। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি মার্কিন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরা বুধবার এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেছেন। যদিও এক ইরানি কর্মকর্তা এই প্রস্তাবটিকে ‘একপাক্ষিক ও অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এই সংকটকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার ইঙ্গিত মূলত বিশ্ববাজারে তেলের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা এড়ানোর কৌশল হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইরানের কৌশলগত তেল হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার গুঞ্জন পরিস্থিতিকে এখনও উত্তপ্ত করে রেখেছে। সব মিলিয়ে, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই ১০ দিনের বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রণক্ষেত্রে এবার ১২ বছরের শিশুরাও: ইরানের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র একটি সাম্প্রতিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা সরাসরি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।  দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসি-র তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রহিম নাদালি জানান, ‘ফর ইরান’ নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় শিশুদের টহল দেওয়া, চেকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং লজিস্টিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। আইআরজিসি-র দাবি, অনেক কম বয়সী কিশোররা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের প্রবল দাবির মুখে এই বয়সসীমা কমিয়ে ১২ বছরে আনা হয়েছে। তবে তেহরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী শিশুদের সামরিক কাজে ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও, ইরান সেই অঙ্গীকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো বলছে, শিশুদের এমন বিপজ্জনক কাজে ব্যবহার তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। অতীতেও ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে শিশুদের ব্যবহার এবং তাদের ওপর নির্যাতনের একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।  বর্তমানে ইরানে কয়েক মিলিয়ন শিশু শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে, তার ওপর এই নতুন সামরিক ডিক্রি শিশুদের ভবিষ্যৎকে আরও অন্ধকারে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0