সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি বর্তমানে মিশরে অবস্থান করছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার ১১১ বাংলাদেশি, মিশর থেকে ফিরবেন দেশে

লিবিয়া থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি এখন মিশরে অবস্থান করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি নৌযানে বিপদের মুখে পড়ার পর বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৫৮ জন মিশরের পোর্ট সাঈদ এবং ৫৩ জন দামিয়াতের নিরাপত্তা কেন্দ্রে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের একজন কর্মকর্তা ৩ ও ৪ অক্টোবর পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সমুদ্রযাত্রা, দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও করে দেওয়া হয়।   পোর্ট সাঈদে থাকা ৫৫ বাংলাদেশি জানিয়েছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর তারা লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় এক রাত ও এক দিন তারা উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ‘কিংস্টন’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে সাহায্যের সংকেত পাঠান।   বিপদসংকেত পাওয়ার পর জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।   একই নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন যাত্রী নিয়ে তবরুক থেকে আরেকটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে প্রবেশের পর ওই নৌকাও ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় দুই দিন ভেসে থাকার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।   এ অবস্থায় যাত্রীরা জরুরি বিপদসংকেত পাঠালে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার অভিযানে এগিয়ে আসে। ওই জাহাজ তিন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও ৩৯ যাত্রী তখন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়াবহ। তারা জানিয়েছেন, একই দিন তবরুক থেকে ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সমুদ্রে প্রবেশের পরই নৌকাটি ঝড়ের মধ্যে পড়ে এবং একপর্যায়ে ভেতরে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে।   ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রীরা আশপাশের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধার কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠান। পরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়াগেনবর্গ শিপিংয়ের ‘আইজেবর্গ’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।   উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, জাহাজটি আর প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছালে নৌকায় থাকা সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকার ভেতরে পানি বাড়ছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।   বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির কেউই মিশরকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশ করা। কিন্তু ঝড়, নৌযানের যান্ত্রিক ত্রুটি ও পানি ঢুকে পড়ার কারণে তাদের যাত্রা ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে।   দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা, ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম ১১১ বাংলাদেশির কায়রো থেকে ঢাকা ফেরার টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে বলে দূতাবাসের কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরানো হবে।   যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন। বাকিদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।   এই ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকি সামনে এনেছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ রাবারের নৌকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উদ্ধার পেতে বিলম্বের কারণে এই রুটে যাত্রা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।   মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসও মানবপাচারকারী এবং অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্নে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা মুহূর্তেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৫১
গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার, ৫ অক্টোবর জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জল সামরিক সমাধিক্ষেত্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই হামলায় জড়িত এবং জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   হামাসের নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার ইসরায়েলে জাতীয়ভাবে স্মরণ দিবস পালন করা হয়। হামলা শুরুর সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিট থেকে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এই রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানেই গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেন নেতানিয়াহু।   স্মরণসভায় নেতানিয়াহু বলেন, গত তিন বছরে ইসরায়েল বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় হামাসের শাসন থাকতে দেওয়া হবে না।   নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা অংশ নিয়েছিল অথবা জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এলেও বাস্তবে বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এএফপির হিসাবে, ইসরায়েলের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। একই সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে সেখানে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।   গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে গাজার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় হামাসের শাসন থাকবে না।   ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর গাজার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি অঞ্চলে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও রয়েছে। সোমবারের স্মরণসভায় হিজবুল্লাহ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।   তিনি জানান, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে ভবিষ্যতে শান্তির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে। লেবাননের অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় বলেও দাবি করেন তিনি।   স্মরণসভার বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।   এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও সোমবারের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু।   তিন বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরায়েল ও গাজার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।   এর মধ্যেই যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। হামাসের ভূমিকা, ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর সোমবারের বক্তব্যে তাঁর সরকারের অবস্থান আবারও সামনে এসেছে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গাজায় হামাসের শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে চান তিনি। তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার পূর্ণ কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে স্মরণসভার বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি।   ফলে তিন বছর পূর্তির রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রধান বার্তা ছিল গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান। যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চললেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না।   সূত্র: এএফপি

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:২০
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে কানাডা
কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা

কানাডায় টানা কয়েক বছর অভিবাসনের হার কমানোর পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে যেতে পারে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে নতুন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা হবে।   এই আলোচনা এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কানাডা ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন তিন বছরের ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনাটি আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এতে নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ টার্গেট নির্ধারণ করা হবে।  গত কয়েক বছরে কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, হাউজিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রবেশের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  বর্তমান ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্টের টার্গেট রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।  সরকারের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে নন পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।  তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ধাপ সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ কানাডা স্থায়ীভাবে অভিবাসনের দরজা সংকুচিত রাখবে, এমন ধারণা এখনই নিশ্চিত নয়। বরং অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে অভিবাসনের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই আলোচনায় এসেছে।  কানাডার বর্তমান ইমিগ্রেশন নীতিতে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ জনকে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিও চালু রয়েছে।  সরকার ইতোমধ্যে কানাডায় থাকা এবং কাজ করা কিছু টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির পথে নেওয়ার উদ্যোগও রেখেছে। বর্তমান পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার টেম্পোরারি ওয়ার্কারকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিতে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কানাডায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।  আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টার্গেট ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ওয়ার্কারদের সংখ্যা কতটা বাড়বে বা বর্তমান সীমা বহাল থাকবে, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।  বাংলাদেশিসহ কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কার্নির বক্তব্যকে এখনই অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। নতুন টার্গেট ও কোন ক্যাটাগরিতে কতজন নেওয়া হবে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে সরকারের ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের আনুষ্ঠানিক ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা প্রকাশের পর।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৬
দালালের প্রতারণায় কিডনি বি ক্রির ঘটনায় নেপালের হোকসে গ্রাম পরিচিত হয়ে ওঠে ‘কিডনি ভ্যা লি’ নামে
কিডনি আবার হবে’ বলে অঙ্গ বি ক্রি, দালালের এমন কথায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে ‘কিডনি ভ্যা লি’

দারিদ্র্য, প্রতারণা আর অঙ্গ পা চার চক্রের ফাঁদে পড়ে নেপালের হোকসে গ্রামের বহু মানুষ একসময় কিডনি বি ক্রি করেছিলেন। দালালদের কেউ কেউ তাদের বোঝাত, একটি কিডনি বি ক্রি করলেও বড় কোনো সমস্যা হবে না, এমনকি কিডনি আবার গজিয়ে উঠবে। বছরের পর বছর চলা এই শো ষ ণের কারণে গ্রামটি পরে ‘কিডনি ভ্যা লি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।   হোকসে গ্রামের বহু পরিবারে কিডনি বি ক্রির অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে। আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকে দালালদের প্রলোভনে রাজি হন। কারও কারও দাবি, অ পা রে শ নের পর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন তারা এবং আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কত মানুষ এইভাবে কিডনি বি ক্রি করেছেন তার নির্ভুল হিসাব করা কঠিন। দালালরা দরিদ্র পরিবারগুলোর অসহায় অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কিডনি বি ক্রিতে রাজি করাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অঙ্গ বি ক্রি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের লেনদেন চলেছে। ভু ক্ত ভো গী দের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা অঙ্গ বি ক্রির প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাননি এবং প্রতারণার শিকার হয়েছেন। হোকসে গ্রামের পুরোনো এই অধ্যায় এখনো স্থানীয় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তবে সংকটটি শুধু একটি গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে অঙ্গ পা চারের নতুন অ ভি যোগও সামনে এসেছে, যেখানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের ভারতে নিয়ে গিয়ে কিডনি অপসারণের অ ভি যোগ উঠেছে। নেপালের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব লেবার অ্যান্ড মোবিলিটি বা সিইএসএলএএমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ভালো বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেপালি নাগরিকদের সীমান্ত পার করে ভারতে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আটকে রেখে বা চাপ প্রয়োগ করে কিডনি অপসারণের অ ভি যোগ রয়েছে। এমনই একটি ঘটনায় সিন্ধুলি এলাকার এক ব্যক্তি অ ভি যোগ করেন, ২০২৫ সালে চাকরির আশায় ভারতে যাওয়ার পর তাকে প্রায় এক মাস একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রাখা হয়। পরে কিডনি অপসারণের কথা জানানো হলে তিনি রাজি হননি। তার অ ভি যোগ, এরপর তাকে জোর করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে অ চে ত ন করা হয় এবং তার বাম কিডনি অপসারণ করা হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, কিডনির বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ রুপি দেওয়ার কথা বলা হলেও দেশে ফেরার সময় তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার রুপি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি পরিবারকে বিষয়টি জানান এবং নেপালের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোতে অ ভি যোগ করেন। অন্যদিকে নেপালের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যেও কিডনি রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্কাই নিউজের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশ ও মালয়েশিয়ায় কাজ করা কিছু নেপালি শ্রমিক দেশে ফিরছেন গুরুতর কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে। তীব্র গরম, পানিশূন্যতা এবং কঠিন কর্মপরিবেশকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। হোকসে গ্রামের ‘কিডনি ভ্যা লি’ পরিচয় তাই শুধু অতীতের একটি ভয়াবহ গল্প নয়। এটি দেখায়, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান এবং পা চার চক্রের প্রতারণা কীভাবে মানুষের শরীরকেও বাণিজ্যের অংশে পরিণত করতে পারে। পুরোনো শো ষ ণের ক্ষত মুছে না যেতেই নতুন অঙ্গ পা চারের অ ভি যোগ নেপালে একই সংকটের ভিন্ন রূপ সামনে আনছে। সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৭:৪৫
গাজার পূর্বের ও বর্তমানের ধ্বংসচিত্র তুলে ধরে জরুরি সহায়তার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির
গাজার পূর্বের ও বর্তমানের ধ্বংসচিত্র তুলে ধরে জরুরি সহায়তার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির

গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার বিভিন্ন এলাকার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি।    শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা পোস্টে জোলি গাজার রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটির কয়েকটি এলাকার আগের ও বর্তমান চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরেন। ছবিগুলোতে আগে ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা এখন ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী ঘটেছে, তার একটি চিত্র দেখা সম্ভব।    জোলি বলেন, গাজার পুরো পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে শুধু ভৌত ধ্বংসই দেখা যায়, এর আড়ালে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, নিহত পরিবার কিংবা বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছবিতে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।    জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউএনওস্যাটের তথ্য তুলে ধরে জোলি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউএনওস্যাটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা দুই লাখের বেশি।    শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন জোলি। তাঁর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা প্রয়োজন। অথচ ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের বাধা ও বিলম্ব রয়েছে।    জোলি বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজার মানুষের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান।    গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসরের দিক থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও দেখেন।    সেই সফরেও জোলি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ নিরাপদ ও ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ধ্বংসের পরিসর তুলে ধরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজনের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১:৩৬
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে

গুরুতর অসুস্থ বাবার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন এক চিকিৎসক সন্তান। ৬০ বছর বয়সী বাবা হৃদরোগ ও কিডনি বিকল হয়ে ধুঁকছিলেন। নেপালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে তুরস্কে নিয়ে যান ছেলে। টানা ২৫ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চোখ খোলেন বাবা।   ছেলেকে দেখে হাসিমুখে বলেন, "তুই আমাকে বাঁচিয়ে নিলি।" এই চিকিৎসক ছেলের নাম ডা. বিনোদ সাহ। বাবার জীবন বাঁচানোর এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে অন্য যেকোনো সফল চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটিই একসময় পড়াশোনায় অমনোযোগী এক দুষ্টু ছেলেকে জোর করে চিকিৎসক বানিয়েছিলেন।   ডা. বিনোদ সাহের শৈশব কেটেছে নেপালের সিরাহা জেলার গোলবাজারে। বইপত্রের চেয়ে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। বাবা ছেলেকে কড়া শাসনে রাখতেন, এমনকি পড়াশোনার জন্য তাঁকে বোর্ডিং স্কুলেও পাঠিয়েছিলেন।   কিন্তু স্বাধীনচেতা বিনোদ মাত্র দুই মাস পরেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে বাবা হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, "প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে দেব, তবু তোকে ডাক্তার বানাব।" বাবার এই অদম্য জেদ আর কঠোর শাসনই শেষ পর্যন্ত বিনোদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।   এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও বাবার উৎসাহে দ্বিতীয়বার মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অধিকার করে তুরস্কে পড়ার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পান বিনোদ। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। ভাষা না জানা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি তুর্কি ভাষা শিখে নেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে টানা তিন বছর নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন।   পরবর্তীতে শিশু চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি তুরস্কের হ্যাসেটেপ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং নবজাতক চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৫ ও ২০২৪ সালে তুরস্ক সরকার তাঁকে 'বর্ষসেরা চিকিৎসক' সম্মাননায় ভূষিত করে।   চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ডা. বিনোদ। একবার টানা ৪৮ মিনিট সিপিআর দিয়ে এক নবজাতককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। বিদেশে তুমুল সফল হলেও মাতৃভূমি নেপালের প্রতি তাঁর টান কখনোই কমেনি।   নেপালের শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার আশায় ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেপালের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কারণে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে একটি আধুনিক শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন।   জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় ডা. বিনোদ সাহ প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। যে বছর তিনি তুরস্কে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচান, সে বছরই তিনি বর্ষসেরা চিকিৎসকের পুরস্কার নিচ্ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে সেই দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা বলেছিলেন, "এখন মারা গেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই।   আমার ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।" দুষ্টু ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক হয়ে ওঠার এই যাত্রাকে বিনোদ তাঁর বাবার প্রতিই উৎসর্গ করেন। তাঁর ভাষায়, "স্বপ্ন দেখার চোখগুলো ছিল আমার বাবার, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটার পা ছিল আমার।"

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স) থেকে এক সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। ওয়ানিং "হেদার" ঝাং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   গত রোববার চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন ৩৪ বছর বয়সী এই নারী।   এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের এক সদস্যের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝাং এবং তার এক সহযোগী গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিবারের শহরতলির বাড়ির ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন।   মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, নজরদারির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে টিং-ইউ লাই। তিরিশোর্ধ্ব এই প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে বহুজাতিক ডাচ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ফিলিপসে কর্মরত।   ৩ অক্টোবর দায়ের করা অভিযোগে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্ট উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থান, বাড়ি এবং গাড়ির ছবিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।   অভিযোগপত্রে এই গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান এবং একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে লক্ষ্যবস্তুর বাড়ির দিকে রওনা দেন। প্রতিবেশীর সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় টিং-ইউ, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান বাড়িতে পৌঁছালে ঝাং ও তার সহযোগী তাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন।   ঝাংয়ের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে চীনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের কিছু বার্তাও উদ্ধার করেছে এফবিআই। সেখানে দেখা যায়, ঝাং চীনা সরকারের এক কর্মকর্তাকে টেক্সট করে লিখছেন, "তাকে দেখেছি। অল্পবয়সী ছেলে। এটাই সেই তরুণ।" এরপর তিনি গাড়ির দুটি লাইসেন্স প্লেটের নম্বর পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন যে তিনি ভিডিও রেকর্ড করছেন।   এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝাংয়ের পরিচয় হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে চীনের চাংশায় এক গোপন বৈঠকে তিনি নজরদারির এই মিশন গ্রহণ করেন।   এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও হয়রানি করার দায়ে বেশ কয়েকজন চীনা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসা বেইজিংয়ের এমন নজরদারির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৮:৩২
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কায় সেখান থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। রবিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, অভিযানিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক গতিবিধির তথ্য নিশ্চিত করা না গেলেও, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব বোমারু বিমান ইতিমধ্যে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।   রবিবার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে অন্তত ১০টি বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবে মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে এসেছিল। এত দ্রুততম সময়ে বিমানগুলো প্রত্যাহারের ঘটনাই প্রমাণ করে যে, হুমকিটিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কিছু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তিন সপ্তাহ আগের একটি নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবেই গত ২৪ ঘণ্টায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কমান্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।   গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার পর, সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।   ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান প্রত্যাহার করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মোতায়েন করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং ইউএসএস ম্যালকিন আইল্যান্ড উভচর যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। সাত হাজারের বেশি নৌসেনা ও দুই হাজার মেরিন সেনাসহ এই বিশাল বহরটি অঞ্চলটিতে পৌঁছালে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা তিনে পৌঁছাতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৮:৪
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বোঝাই করে এই অস্ত্রের চালান পাঠায় ইসলামাবাদ।   শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ইয়েমেনের চলমান বহুজাতিক সংঘাতে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করে সরকারি সেনাদের সহায়তা করছেন।   হুতিদের লাগাতার হামলা মোকাবিলা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন কয়েকজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে।   বৃহস্পতিবার হুতিরা তাইজ থেকে এডেনগামী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। তাইজ শহরটি পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে এডেন উত্তরের সরকারি এলাকাগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা সরকারের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। এর জবাবে সৌদি আরব হুতিদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী সানা, সাদা শহর এবং তাইজে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।   অন্যদিকে হুতিরাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পবিত্র মদিনা নগরীর মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ কেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি জোট, যদিও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে।   এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে গত আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের এই অবস্থান হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মরিয়া হয়ে মিত্র খোঁজারই অংশ।   এমনকি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও সম্প্রতি আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৭:৪৭
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   এর আগে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাহা শহরের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাথা কামানো বিদেশি চেহারার এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন।   পরবর্তীতে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাই ওই নারীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোববার রাত ১টার দিকে শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করার সময় ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ মার্কিন সেনা ওকিনাওয়ার ফুতেনমা এয়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।   এই ঘটনার পর টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ওকিনাওয়ায় জাপানি নাগরিকের মৃত্যু ও মার্কিন মেরিন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।   ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৬:২৮
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ
যু দ্ধের সময় আশ্রয়, মহামারিতে টিকাদান; ১০০ বছর ধরে মানুষের পাশে লন্ডনের ফজল মসজিদ

ঠিক এক শতাব্দী আগে লন্ডনের বুকে গড়ে ওঠা প্রথম মসজিদ 'ফজল মসজিদ' বা 'লন্ডন মসজিদ' তার শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে। ওয়ান্ডসওয়ার্থের সাউথফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি যুক্তরাজ্যের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।   শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যার অংশ হিসেবে গৃহহীন মানুষদের জন্য ১০ হাজার বিনা মূল্যের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে যখন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়, তখন প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে একটি রুপালি চাবি দিয়ে এর বিশাল কালো দরজা খোলা হয়েছিল।   এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ভারতের কাদিয়ানের একদল আহমদিয়া মুসলিম এর জন্য অর্থায়ন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নারী। নিজেদের অলংকার বিক্রি করে তাঁরা লন্ডনের প্রথম এই মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে এই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়তো তাঁদের কখনোই হবে না।   ২০১৮ সালে 'হিস্টোরিক ইংল্যান্ড' এই ভবনটিকে সংরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা দেয়। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ছিপছিপে জানালা, সবুজ গম্বুজ, শুভ্র দেয়াল এবং চারপাশের মনোরম গোলাপ বাগানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।   শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়, বরং ফজল মসজিদ বিভিন্ন সময়ে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রক্তদান কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই মসজিদ।   ঈদের সময় শিশুদের মিষ্টি বিতরণ, প্রতিবেশীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ—সবকিছুতেই তারা সোচ্চার। তাদের মূলমন্ত্র হলো 'সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়'।   মসজিদটি বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। ১৯৩০-এর দশকে এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম আবদুর রহিম দারদ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় ভারতের রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লন্ডনে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ইমাম দারদ তাঁকে বুঝিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে যেতে রাজি করান।   এই ফজল মসজিদের বাগানে দাঁড়িয়েই জিন্নাহ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগ এবং স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিল।   মসজিদটির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান প্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ বলেন, এই মসজিদের ইতিহাস প্রতিবেশীদের সেবা করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার নীতিকে দারুণভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদটি আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তির বাতিঘর হয়ে থাকবে। ফজল মসজিদ প্রমাণ করেছে যে, তাদের সম্প্রীতির বার্তাটি চিরন্তন এবং এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:৩৬
আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন
আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন

দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ক্যান্সারের কঠিন চিকিৎসার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছে সাত বছর বয়সী শিশু অ্যাডেলিন টেলর। নিজের এই বিজয় উদযাপন করতে গত ১৩ জুলাই ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এ এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেয় সে।   চিকিৎসার শেষ দিনে চিকিৎসাকেন্দ্রের 'ব্রেভারি বেল' বা সাহসিকতার ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি সে তার বাবার হাতে থাকা একটি বিশেষ ব্রেসলেট কেটে ফেলে। অ্যাডেলিনের রোগ শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তার বাবা ক্রিস টেলর 'অ্যাডেলিন স্ট্রং' লেখা ওই ব্রেসলেটটি পরে আসছিলেন।   ব্রেসলেট কাটার এই মুহূর্তটি ছিল বাবা ও মেয়ের এক নীরব প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন। ক্রিস টেলর জানান, তিনি মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন যে যেদিন সে ক্যান্সারকে জয় করবে, সেদিন নিজ হাতে এই ব্রেসলেটটি কেটে ফেলবে। এই কাজটিকে রোগের শৃঙ্খল ভেঙে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার একটি প্রতীকী রূপ হিসেবে দেখছেন তিনি। বাবা-মেয়ের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে ছোট্ট অ্যাডেলিন জানায়, সে সময় তার ভেতরে অনেক রকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল।   মাত্র চার বছর বয়সে অ্যাডেলিনের শরীরে 'বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া' ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল ব্লাড ক্যান্সার।   অ্যাডেলিনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেমোথেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ এই লড়াই শেষে স্ক্যান রিপোর্টে তার শরীর সম্পূর্ণ ক্যান্সারমুক্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। শেষ দিনে উপস্থিত পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং চিকিৎসক দলের সদস্যদের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে সে যখন ব্রেভারি বেলের দিকে ছুটে যায়, তখন তার মা লিন্ডা টেলর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   তিনি বলেন, মেয়ের এই আনন্দমাখা ছুটে যাওয়ার দৃশ্য তাদের এতো দিনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। বাবা ক্রিস জানান, শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা মাঝে মাঝে অভিভাবকদেরও অবাক করে দেয় এবং তিনি নিজেও মেয়ের এমন সাহসিকতা থেকে অনুপ্রেরণা খোঁজেন।   অ্যাডেলিন ক্যান্সারমুক্ত হলেও চিকিৎসকরা এখন তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখবেন। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এর পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজিস্ট-অনকোলজিস্ট ডা. ইলিয়া বুহতোইয়ারভ আশা প্রকাশ করেন যে, অ্যাডেলিনের সুস্থ হয়ে ওঠার এই অভিজ্ঞতা শৈশবকালীন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত অন্যান্য পরিবারগুলোকে সাহস জোগাবে।   তিনি জানান, শিশুদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া সবচেয়ে সাধারণ একটি ক্যান্সার হলেও আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এটি এখন অনেকাংশেই নিরাময়যোগ্য। 'লিউকেমিয়া' শব্দটি ভীতিকর হলেও এর শেষ প্রান্তে যে আশা বেঁচে আছে, সেটিই সবার মনে রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:১০
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোববার ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। একই দিনে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও তেহরান একতরফা শর্ত মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে ফিরলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।  হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এটি। ফলে দীর্ঘ সময় এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।  সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়।  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রিয়াদের দক্ষিণে একটি আরামকো স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে হামলার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে হুতিদের দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।  ইয়েমেনে শুরু বড় সামরিক অভিযান এর মধ্যেই ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে।    ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এরই মধ্যে রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশে হুতি অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে তাইজ শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজের সঙ্গে এডেনের যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণের লড়াইও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।   হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব ঘিরেও সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, আর বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ইরান বলছে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১২:৪৯
লন্ডনে প্রথম ও প্রাচীনতম ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আহমদিয়া নারীদের গয়না দানসহ কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে নির্মিত লন্ডনের ফজল মসজিদ প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সাউথফিল্ডসে অবস্থিত মসজিদটি ১৯২৬ সালের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের জন্য ১০ হাজার বেলা খাবার এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০ হাজার ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবার বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।    লন্ডনে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম ভবন হিসেবে পরিচিত ফজল মসজিদ। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ভারতের কাদিয়ানের মানুষের অনুদানের ইতিহাস। আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি ইউকের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা তাঁদের গয়না দিয়েছেন, শিশুরা দিয়েছে হাতখরচের টাকা, আর পুরুষেরা আয় ও সঞ্চয় থেকে অর্থ দিয়েছেন। দাতাদের প্রায় কেউই মসজিদটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি।   নারীদের এই অবদান শতবর্ষের আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। দূরদেশে একটি স্থায়ী উপাসনালয় গড়ে তুলতে তাঁরা ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছিলেন। তবে মসজিদটির নির্মাণে শুধু নারীদের অর্থ ছিল, এমন নয়। আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি আহমদিয়া কমিউনিটির স্বেচ্ছা অনুদানে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে নারীদের ত্যাগ ছিল উল্লেখযোগ্য।    প্রায় ১৫০ জনের নামাজ আদায়ের জায়গা থাকা মসজিদটি একটি আবাসিক সড়কে অবস্থিত। শতবর্ষের কর্মসূচিতে শান্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, খাবার বিতরণ ও স্বেচ্ছাসেবা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের মধ্যে থাকা মানুষকে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে। ঘোষিত সংখ্যাগুলো বছরব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজের হিসাব নয়।   মসজিদটির ইতিহাস ও শান্তির বার্তা তুলে ধরতে অক্টোবর মাসে লন্ডনের ১০০টি বাসে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরে যুক্তরাজ্যের অন্য এলাকাতেও এই প্রচার সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা। আহমদিয়া কমিউনিটির বিশ্বপ্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশীর সেবা এবং ধর্ম বা পটভূমি নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।    দীর্ঘ ইতিহাসে ফজল মসজিদ আহমদিয়া কমিউনিটির সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে তাদের চতুর্থ নেতা মির্জা তাহির আহমদ পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে এসে সাউথফিল্ডসে বসবাস শুরু করলে এখানে বিশ্ব সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শতবর্ষের বিবরণে এই অধ্যায়ও তুলে ধরা হয়েছে।    ব্রিটেনের ঐতিহ্য সংরক্ষণের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে ভবনটি। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে হিস্টোরিক ইংল্যান্ড মসজিদটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবনের মর্যাদা দেয়। চলতি বছরের মার্চে ওয়ান্ডসওয়ার্থ বরো কাউন্সিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণে একটি সবুজ ফলক প্রদান করে।    শতবর্ষের আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের অবদান স্মরণ এবং বর্তমান সমাজে সেবার কর্মসূচি। এক শতাব্দী আগে যাঁরা নিজেদের গয়না, সঞ্চয় ও হাতখরচ দিয়ে লন্ডনে মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের সেই অনুদানের ইতিহাস এবার তুলে ধরা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের সামনে। একই সঙ্গে গৃহহীন ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের ঘোষণা দিয়েছে মসজিদটির কমিউনিটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১০:২১
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদে পড়ে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় নৌসেনা প্রদীপ মুখার্জি। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানি নারীর হানি ট্রাপে পড়লেন নৌসেনা, ফাঁস করে দিলেন ‘গোপন স্পর্শকাতর তথ্য’

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে নৌবাহিনীর গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে ভারতের এক নৌসেনাকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা। শনিবার, ৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রণী থেকে প্রদীপ মুখার্জি নামের ৩১ বছর বয়সী ওই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দা কর্মীকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য দিয়েছেন।    সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রদীপ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আইএনএস অগ্রণীতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।   কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই নারী। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সম্পর্ক ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ, নৌবহরের চলাচল ও কার্যক্রমসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঘটনাটিকে তাঁরা ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তথ্য আদায়ের ফাঁদ।    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদীপের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করেন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্যরা। শনিবার সকালে বিশেষ দলটি আইএনএস অগ্রণীতে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয় পুলিশকেও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।   গ্রেপ্তারের পর প্রদীপকে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট ওয়ারেন্ট সংগ্রহের পর শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখার সদর দপ্তরে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।    ঠিক কী ধরনের তথ্য এবং কতটা তথ্য বাইরে গেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রদীপের কাছে হাওলা বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে কোনো অর্থ পৌঁছেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্তকারীদের অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রদীপের বক্তব্য বা তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায়ের তথ্য নেই।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:২২
পাঞ্জাবে গু লি করে হ ত্যা করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে
পাঞ্জাবে সম কা মী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গু লি করে হ ত্যা

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদনকে গু লি করে হ ত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। ম্যাড সান্ধু নামে পরিচিত এই ব্যক্তি শনিবার, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় লোহারকা রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রের বাইরে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গু লি চালিয়ে পালিয়ে যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, হ ত্যা কা ণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে অমৃতসরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সিরিভেন্নেলার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে হা ম লাটি ঘটে। গু লি বি দ্ধ সান্ধুকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে।   তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ প্রভজোৎ সিং ভির্ক জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পুলিশের হাতে কিছু সূত্র এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।   হ ত্যা কা ণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিলন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দা য় স্বীকারের পোস্ট দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ওই পোস্টে সান্ধুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়। কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে পোস্টটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই দা য় স্বীকারের পোস্ট থেকেই হামলাকারীদের পরিচয় বা হ ত্যা র উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সান্ধু প্রকাশ্যে নিজের সম কা মী পরিচয় নিয়ে কথা বলতেন। মেকআপ, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও লি ঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ভিডিও এবং পডকাস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঞ্জাব ও মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রে স্টাইলিস্ট এবং সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছু পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় নিয়ে তাঁকে বি দ্ বে ষ মূলক মন্তব্য ও হয় রা নি র মুখেও পড়তে হয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি সান্ধুর পোশাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও পুরোনো ভিডিও নিয়ে একটি নিহাং গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরো ধ হয়েছিল। ওই গোষ্ঠী তাঁর কিছু কনটেন্টের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। পরে সান্ধু অভিযোগ করেন, বিত র্ক তৈরির জন্য তাঁর পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে।   তবে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার হরমনবীর সিং গিল এই বিরো ধের সঙ্গে হ ত্যা কা ণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, হ ত্যা র উদ্দেশ্য জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সান্ধু অমৃতসরের একটি ইউনিসেক্স স্যালনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং মেকআপ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁর ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী ছিল।   হ ত্যা কা ণ্ডের পর অমৃতসরের সংসদ সদস্য গুরজিৎ সিং আউজলা দাবি করেছেন, সান্ধু দীর্ঘদিন ধরে হু ম কি পাচ্ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সে বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রে প্তা র এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:৩০
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।
ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

বৈধ ভারতীয় ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র হাতে থাকলেই ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি, ভিসা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে পারে। এসব যাচাইয়ের পর ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের রয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিচারপতি অমিত মহাজন এক তুর্কমেনিস্তানের নাগরিকের করা আবেদন খারিজ করে বলেন, শুধু বৈধ ভিসা থাকার কারণে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের শর্তহীন বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার অর্জন করেন না। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ। তুর্কমেনিস্তানের ওই নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই বিমানে করে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর কাছে বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। একই ধরনের ভিসা নিয়ে তাঁর স্বামীও তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ওই নারীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং একই দিন তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলো না, তার কারণ জানানো হোক এবং তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। একই বিমানে থাকা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টিকেও তিনি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিককে ভিসা দেওয়া মানেই তাঁকে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চূড়ান্ত অধিকার দেওয়া নয়। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া। আদালতও এই যুক্তিকে গ্রহণ করে। বিচারপতি অমিত মহাজন বলেন, ভারতের প্রচলিত আইনি কাঠামো ভিসাকে ভারতে প্রবেশের ‘পরম ও শর্তহীন অধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করে না। বিদেশি নাগরিকের প্রবেশের বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিবেচনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মামলার শুনানিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই নারীর আগের ভারত সফর এবং তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের সামনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালে বহুবার ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। এসব সফরের মধ্যে ব্যবসায়িক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ভিসায় করা ভ্রমণও ছিল। কর্তৃপক্ষ তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও ভারতে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু অসঙ্গতির কথা আদালতকে জানায়। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল এবং ভারতে ব্যবসায়িক সফরের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নথি পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু নেতিবাচক তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল বলে আদালতকে জানানো হয়। এর একটি অংশ আদালতের সামনে গোপন নথি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আদালত এসব তথ্য বিবেচনা করে জানায়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যে কোনো ভিত্তি ছাড়া নেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালত আরও বলে, বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জায়গায় বসে নিজের মূল্যায়ন চাপিয়ে দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য থাকার কথা জানানো হয়েছে। ওই নারীর স্বামীকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলেও তাঁকে কেন দেওয়া হলো না—এই প্রশ্নও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আদালত মনে করে, একই বিমানে ভ্রমণ করলেই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে একই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের নথি ও পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ভারতে বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন কার্যকর রয়েছে। আইনটি ৪ এপ্রিল ২০২৫ প্রণীত হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ ও বহির্গমন, বিদেশিদের ভিসা, নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথিতেও ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং আদেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু ভিসা থাকা নয়, অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও কর্তৃপক্ষের যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের অর্থ অবশ্য এই নয় যে বৈধ ভিসাধারী প্রত্যেক বিদেশিকেই ভারতে প্রবেশের সময় আটকে দেওয়া হবে। বরং আদালতের বক্তব্য হলো, ভিসা মূলত ভারতে প্রবেশের অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি; এটি নিজে থেকেই সীমান্ত পার হওয়ার চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় অধিকার তৈরি করে না। অর্থাৎ কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়ার পরও বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় সন্তোষজনক না হলে অথবা আইনগত কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণ থাকলে প্রবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। তবে এই রায়কে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কোনো ভারতীয় ভিসা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মামলাটি তুর্কমেনিস্তানের এক নাগরিককে কেন্দ্র করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো বিদেশি নাগরিকের বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:১৮
নেপালের লাংটাং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা
নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ৩৭ দিন পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় খোঁজ মিলেছে এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর তিনি নিরাপদে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে জানান, ওই পর্যটক নেপালের কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ার দূতাবাসে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে যান।   ৩৭ দিন পর নিখোঁজ ওই পর্যটকের জীবিত থাকার খবর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ থাকা অন্যদের পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।   গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে, ভয়াবহ বন্যার এক দিন আগে, ওই পর্যটককে নাগথালি ভিউপয়েন্টে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়। পরে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ায় তিনি দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। সেখানে বিদ্যুৎ ও খাবার পানিরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল।   হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের পর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে তৈরি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল।   এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রা ণ হা নি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভে ঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম অঞ্চলগুলোর অনেক জায়গায় রাস্তা ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়।   এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপালের বন্যার পর কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।   নেপালের পর্যটন দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক তখনো নিখোঁজ ছিলেন।   নিখোঁজদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক ছিলেন।   ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের জীবিত ফিরে আসার খবর তাই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৪১
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড

ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। কোনো ছবিতে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা, আবার কোথাও মার্কিন ড্রোনের ওপর পা রেখে দাঁড়িয়ে আছেন এক ইরানি সেনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ঘটনাগুলোকে নিজেদের অবস্থান থেকে তুলে ধরতে এসব ছবি ব্যবহার করছে ইরান।   তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারের একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখ বন্ধ অবস্থায় দেখানো হয়েছে। মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের আদল রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির বার্তাই ছবিটিতে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিলবোর্ডটির নির্মাতারা জানিয়েছেন। এটি স্থাপন করা হয়েছিল গত মে মাসে।   আরেকটি সাম্প্রতিক বিলবোর্ডে পানির নিচে চলতে সক্ষম একটি মার্কিন ড্রোনের ওপর ইরানি সেনাকে পা রেখে দাঁড়াতে দেখা যায়। হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি ড্রোন আটক করার যে দাবি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস করেছে, বিলবোর্ডটি সেই দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবিটি নিজে ড্রোন আটক হওয়ার স্বাধীন প্রমাণ নয়।    এএফপির প্রতিবেদক বিলবোর্ড তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজের প্রক্রিয়া দেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা কাফায়ি জানান, নতুন কোনো ঘটনার পর তাঁর দল দ্রুত ছবি ও বার্তা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা দলও রয়েছে। এসব বিলবোর্ড সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত হচ্ছে বলে এএফপি জানিয়েছে।   সব বিলবোর্ড একই সময়ে তৈরি হয়নি। এএফপির প্রতিবেদনে চলতি বছরের মে, জুলাই ও আগস্টে তেহরানে দেখা ছবির পাশাপাশি নতুন বিলবোর্ডের কথাও রয়েছে। ডিজাইনারদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দৃশ্যমান জায়গাগুলোতে নতুন বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। (arabnews.com)   সূত্র: ৪ অক্টোবর ২০২৬-এ আরব নিউজে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:৫২
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
নির্দেশের পরও নিউইয়র্কে থাকা ইরানের দুই প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলেন মার্কিন প্রশাসন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। একজন শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, অন্যজন শনিবার সকালে চলে যান। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে গত সোমবার ইরানের জাতিসংঘ মিশনকে প্রতিনিধিদলের সবাইকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। শুক্রবার দুই সদস্যের নিউইয়র্কে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের চলে যাওয়ার নির্দেশ আবার জানায় ওয়াশিংটন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা তাঁদের ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা নির্দেশের পর দুজন পৃথক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। তাঁদের জোরপূর্বক দেশ থেকে সরানোর কোনো বিবরণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেয়নি।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকেও নির্ধারিত সময়ের আগে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে এপি।   তবে মূল প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কারের আগের মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের জাতিসংঘ মিশন। তাদের বক্তব্য, আগে থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সর্বশেষ যে দুই সদস্য শুক্রবার ও শনিবার দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ইরানের পৃথক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট

বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। তুর্কমেনিস্তানের এক নারীকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় করা আবেদন খারিজ করে ৩০ সেপ্টেম্বর এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত মহাজন। আদালত বলেছেন, ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া পৃথক সিদ্ধান্ত।   মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী গত ২৫ মার্চ স্বামীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দুজনেরই একই ধরনের ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাঁকে দেননি। সেদিনই তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।   এরপর ওই নারী আদালতে আবেদন করে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং তাঁর ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ চান। তাঁর যুক্তি ছিল, বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে; অথচ একই ফ্লাইটে আসা তাঁর স্বামী প্রবেশ করতে পেরেছেন।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার পর অভিবাসন বিভাগ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল এক থেকে তিন দিন; তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।   আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, উপস্থাপিত নথিতে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ছিল। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসার কথা বললেও তিনি ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা আমন্ত্রণপত্র দেখাতে পারেননি এবং নিজ দেশে তাঁর ব্যবসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি। ব্যবসায়িক ভিসা নেওয়ার পরও একটি নথিতে নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব বিষয় আদালত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় বিবেচনা করেছে।   বিচারপতি মহাজন বলেছেন, ভারতের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের জন্য বৈধ ভ্রমণ নথি ও ভিসা প্রয়োজন। কিন্তু সেগুলো থাকলেই প্রবেশের নিঃশর্ত অধিকার তৈরি হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জনস্বাস্থ্যের মতো নির্দিষ্ট বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ প্রবেশে বাধা দিতে পারে। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারাও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন।   স্বামীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও স্ত্রীকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে বৈষম্য হিসেবে মানেননি আদালত। আদেশে বলা হয়, দুজন একই ফ্লাইটে এসেছেন বলেই তাঁদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একই তথ্য বা উদ্বেগ ছিল, এমন ধরে নেওয়া যায় না। আদালত গোপনীয়ভাবে জমা দেওয়া নথিও পর্যালোচনা করেছে এবং সিদ্ধান্তটি তথ্য ছাড়া নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেনি। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়।   সূত্র: দিল্লি হাইকোর্টের ৩০ সেপ্টেম্বরের আদেশ ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:১৬
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০