- প্রচ্ছদ
- আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠন শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাঁদের প্রধান দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, কাশ্মীরি গেট, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, জনপথসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো। তবে সব স্টেশনে বিধিনিষেধ কার্যকরের বিষয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি। রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনগামী বিভিন্ন ট্রেন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দিল্লিতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে রাজধানীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। তবে সরকারের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ফলে ঘোষিত পরিবহন বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথেও বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ চেকপোস্ট। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদাবাদ, বদরপুর, নয়ডা সংযোগ সড়ক এবং দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের উদ্দেশ্য, বড় ধরনের জমায়েতের কারণে যানজট ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে নজরদারি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির ১৫টি পুলিশ জেলায় অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আগের বিক্ষোভের মতো সংঘাত এড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে দিল্লি পুলিশ শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের আবেদন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা থাকলেও আয়োজকেরা ৭ অক্টোবর আবেদন করেন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং অতীতের কর্মসূচিতে নির্দেশনা না মানার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে অনুমতি না পাওয়ার পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করতেই প্রশাসন এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে সংগঠনের সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এতে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধন ও পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিরোধী জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ কামনা করার উদ্যোগও নিয়েছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা, যন্তরমন্তর সংলগ্ন সড়ক এবং অতীতে সংঘর্ষের ঘটনাস্থলগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীতে বড় ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর এখন নজর থাকবে, নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রেখে সরকার কীভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল সচল রাখে এবং বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্যারামজিত ও তাঁর স্বামী নামিন্দার। এ সময়ে আইভিএফ চিকিৎসার ব্যর্থতা, একাধিক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর একসময় সন্তান নেওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন প্যারামজিত। কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের পর প্রার্থনা করার প্রায় এক মাসের মাথায় জানতে পারেন, তিনি আবার গর্ভবতী। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে রয়েছে যমজ সন্তান। ২০২৩ সালে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের দুই কন্যা আভনুর ও আজুনি। ২০০৯ সালে বিয়ের পরপরই পরিবার গড়ার চেষ্টা শুরু করেন প্যারামজিত ও নামিন্দার। কিন্তু বারবার তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গর্ভধারণের জটিলতা। সন্তান নেওয়ার জন্য প্যারামজিতকে আইভিএফসহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিবার নতুন করে আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা ও সন্তান হারানোর বেদনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। প্যারামজিত জানান, প্রতিবার মাসিক শুরু হলে তাঁর মনে হতো, আবারও বুঝি মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না। কখন গর্ভধারণ করতে পারবেন, আদৌ পারবেন কি না—এমন প্রশ্ন তাঁকে তাড়া করত। পরিবার শুরু করার জন্য নিজের ওপর একধরনের চাপও অনুভব করতেন তিনি। আইভিএফ চিকিৎসার প্রক্রিয়াও ছিল কঠিন। ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন, ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের মতো বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসাবিষয়ক জটিল শব্দ ও প্রক্রিয়া বুঝতে সমস্যা হতো। তাঁর সংস্কৃতিতে আইভিএফ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কম হওয়ায় চিকিৎসার বিষয়টি অনেকটা গোপন রেখেই এগিয়ে যেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর প্রতিবার গর্ভধারণ পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকতেন প্যারামজিত। তাঁর মনে হতো, এবার হয়তো কাঙ্ক্ষিত সুখবর পাবেন। কিন্তু পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল আসায় ভেঙে পড়তেন। এরপরও আবার চেষ্টা করেছেন। এভাবে একের পর এক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা জমতে থাকে। ২০১৮ সালে তাঁদের জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় শোক। প্যারামজিতের গর্ভে থাকা যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, যাদের নাম রাখা হয়েছিল অমৃত ও ফতেহ—প্রায় ২০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় হারিয়ে যায়। সেই সময় প্যারামজিতের শরীরে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেই গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া দেখা দিয়েছিল। এ অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা মা ও অনাগত সন্তানের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, একটি শিশুর হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে না এবং অন্য শিশুটিকেও বাঁচানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্যারামজিতের নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকির কথা বলা হয়। সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। প্যারামজিতের ভাষায়, তখন তাঁর মনে হয়েছিল, সন্তানদের ছাড়া আর বেঁচে থাকার শক্তি নেই। এই গভীর শোক তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই বাড়িতে থেকেও তাঁরা মাসের পর মাস নীরবতায় দিন কাটাতেন। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসা ও বারবার ক্ষতির অভিজ্ঞতায় ক্লান্ত হয়ে প্যারামজিত ও নামিন্দার সিদ্ধান্ত নেন, আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাঁদের মনে হয়েছিল, এত কিছুর পর হয়তো আর কখনো মা-বাবা হওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান হুজুর সাহিব ও অমৃতসর পরিদর্শনে গিয়ে প্যারামজিত আবার প্রার্থনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তান চেয়ে প্রার্থনা করেন এবং সন্তান হলে তাকে নিয়ে আবার সেখানে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রায় এক মাস পর তাঁর মাসিক বন্ধ হয়। প্রথমে ভ্রমণ কিংবা কাজের ব্যস্ততার কারণে এমন হয়েছে বলে ভেবেছিলেন তিনি। পরে গর্ভধারণ পরীক্ষা করলে ফল ইতিবাচক আসে। ১৩ বছরের চেষ্টা ও ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর আবার গর্ভবতী হওয়ার খবরটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। ছয় সপ্তাহের পরীক্ষার সময় আরেকটি চমক অপেক্ষা করছিল। চিকিৎসাকর্মী তাঁকে জানান, তাঁর গর্ভে একটি নয়, দুটি সন্তান রয়েছে। আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন প্যারামজিত। তবে একই সঙ্গে ২০১৮ সালের স্মৃতি তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে। আগের মতো আবারও সন্তান হারাতে হবে কি না, সেই ভয় তাঁকে ঘিরে ধরে। এবার তাঁর গর্ভাবস্থায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। আগে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকায় চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁকে অ্যাসপিরিন ও রক্ত পাতলা রাখার ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। টুইনস ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পান তিনি। নিকি ও লরা নামের দুই বিশেষজ্ঞ ধাত্রী পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর পাশে ছিলেন। প্যারামজিত জানান, এবার তাঁর উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারতেন। এতে নিজের স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে আশ্বস্ত বোধ করতেন। গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনির জন্ম হয়। একটি শিশুর ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। একই সময়ে প্যারামজিতের শরীরেও ফোলা ও রক্তচাপ বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। দুই মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় বলে বর্ণনা করেছেন প্যারামজিত। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংগ্রাম, বারবার গর্ভধারণজনিত ক্ষতি এবং প্রথম যমজ সন্তানদের হারানোর পর অবশেষে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল গভীর আবেগের। ২০২৬ সালের অক্টোবরের হিসাবে, আভনুর ও আজুনি তিন বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্যারামজিত এখন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে সন্তান হারানো কিংবা সন্তান ধারণে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য পরিবারগুলোও মানসিক সমর্থন ও আশার কথা জানতে পারে। তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রার পর তাঁর পরিবারে দুই কন্যার আগমন সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
তীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়। ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়। চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাত্রিযাপনসহ শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ডিয়ান্দ্রা কনটু সিডনির পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিউইংটন কলেজে ভূগোল পড়াতেন। ৩২ বছর বয়সী এই নারীর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতন, অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন স্পর্শ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করাসহ মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইংটন কলেজে শিক্ষকতা করার সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ শুরু করেছিলেন বলে কনটুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো প্রায় ছয় মাস ধরে ঘটেছিল। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি রাত্রিযাপনসহ একটি শিক্ষাসফরেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকা প্রথমে ওই শিক্ষার্থীকে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখান। পরে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় এবং ক্যাম্পাসের আশপাশেও একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকার ফিটজরয় দ্বীপে আয়োজিত একটি শিক্ষাসফরের ঘটনা মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দিনের বেলায় শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। পরে রাতে গুরুতর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। পুলিশের তদন্তের পর সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের সাদারল্যান্ড এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে কনটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা নয়টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গুরুতর যৌন নির্যাতন, চারটি যৌন নিপীড়ন, তিনটি গুরুতর যৌন স্পর্শ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরটি হলো নিজের কর্তৃত্বাধীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতন। নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনে এই অপরাধের শাস্তির বিধান ধর্ষণের অপরাধের সমতুল্য। তবে অভিযোগ গঠন করা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর কনটুকে সাদারল্যান্ড স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে বন্ডে মুক্তি দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সাদারল্যান্ড পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, কনটু শিশুদের পড়াতে পারবেন না। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কিংবা মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এসব শর্ত মেনে চলতে হবে তাঁকে। নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময় কনটু তাঁর আগের পারিবারিক নাম হারালাম্বিদিস ব্যবহার করতেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই বছর ভূগোল পড়িয়েছেন। পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত একটি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচির নেতৃত্বেও ছিলেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এরপর তিনি নিউইংটন কলেজ ছেড়ে দেন। তবে অভিযোগের সময়কার বিস্তারিত পরিস্থিতি কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নিউইংটন কলেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো শিক্ষকের আচরণ সমর্থন করে না, যা পেশাগত মানদণ্ড কিংবা প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে। তবে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই পর্যায়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নিউইংটন কলেজ ছাড়ার পর কনটু অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকতা করেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের ওটলিতে অবস্থিত জর্জেস রিভার কলেজের সিনিয়র ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। এটি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। ২০২৪ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস শিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন কনটু। সেখানে সমাজ ও সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ভূগোল বিষয় পড়াতেন। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময়কার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তারের প্রস্তুতির সময় পুলিশ কনটুকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে সরিয়ে দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি তাঁর শিক্ষকতার স্বীকৃতিও বাতিল করেছে। অঙ্গরাজ্যটির শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি ও মানদণ্ড তদারকির দায়িত্ব পালন করে এই স্বাধীন সংস্থা। তবে শিক্ষকতার স্বীকৃতি বাতিল হলেও কনটু এখনো নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের কর্মী হিসেবে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে বিকল্প দায়িত্বে রাখা হয়েছে। আদালতের বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, শিশুদের পড়ানোর অনুমতি নেই তাঁর। এদিকে চলতি বছর নিউইংটন কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। খণ্ডকালীন সংগীত শিক্ষক বেঞ্জামিন ডেভিড কলিঞ্জের বিরুদ্ধে অনলাইনে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ ওঠে। তবে ওই ঘটনার সময় নিউইংটন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অভিযোগটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জড়িত ছিল না। দুটি মামলা পৃথক এবং একটি ঘটনার সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। ডিয়ান্দ্রা কনটুর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ নভেম্বর বারউড স্থানীয় আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে কনটুর বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রার্থনা চলাকালে একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাড়িতে হা মলা, ভাঙচুর ও মা রধরের অভিযোগ উঠেছে শতাধিক মানুষের একটি দলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশ করে সদস্যদের হেনস্তা করার পাশাপাশি তাদের জোর করে ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা হয়। চলে যাওয়ার আগে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছও রেখে যায় দলটি। ঘটনার সময় পরিবারের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও হা মলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ধলহরা গ্রামে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন বিকেলে সোনালি ও বাপি রানা বাড়িতে প্রার্থনার আয়োজন করছিলেন। এ সময় প্রায় ১০০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে দলটি পরিবারের সদস্যদের মা রধর করে এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। পরে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছ রেখে যায় তারা। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লো গান দেওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। ঘটনার সময় পরিবারের এক কিশোর সদস্যও রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বয়স ১৫ বছর। তবে পরিবারের সদস্যদের আঘাতের ধরন কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পরিবারটি আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় থানায় যায়। অভিযোগ দায়েরের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে তারা কেশপুর থানায় উপস্থিত হয়। কিন্তু ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরও তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর বা প্রাথমিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র আরও অভিযোগ, থানার ভেতরে ও বাইরে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হু মকি দেওয়া হয়। ফলে ঘটনার পর পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রে প্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা তদন্তের অগ্রগতিও স্পষ্ট নয়। প্রার্থনার সময় একটি পরিবারের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নি র্যাতন, ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা এবং থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিগুলো বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তবে অভিযোগের সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতা আম্বানির হাতে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ভারত সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে স্টারলিংক চালুর চেষ্টা করছে মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরদিন আরেকটি পোস্টে সরাসরি আম্বানি পরিবারের প্রসঙ্গ তোলেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব আইন ও শর্ত পূরণের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে? অন্য এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে এই মন্তব্য করেন মাস্ক। তবে আম্বানি পরিবারের কোন সদস্যকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের টেলিকম খাতে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক আগ্রহ রয়েছে। রিলায়েন্সের জিও স্পেস টেকনোলজি স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সুনীল মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে। ফলে স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন আটকে দিয়েছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি মাস্ক। মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে সবাইকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে। বিতর্কে যুক্ত হন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। মাস্কের পোস্টের জবাবে তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন, আরেকজনের কথা জানতে পারলে তিনি আরও অবাক হবেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রাহুল। জবাবে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। এদিকে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায়। বিদেশ থেকে কেনা স্টারলিংক যন্ত্র ভারতে ব্যবহার এবং ভারত থেকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের শর্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে স্টারলিংকের নামসংবলিত একটি যন্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংকেত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁর বক্তব্য। স্পেসএক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে স্টেশন স্থাপন করেছে স্টারলিংক। এসব স্থাপনার সঙ্গে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মিত্তালও জানিয়েছেন, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুধু স্টারলিংকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। ভারতের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। ডেলয়েটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের মূল্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের দাবি, সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে মাস্কের অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। সূত্র: রয়টার্স
মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানি বিক্রি করে মিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা রাহুল ভোহরা। কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত খাবার ও শারীরিক অবহেলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একদিন সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে কাটাতে হয় প্রায় এক সপ্তাহ। সেই অভিজ্ঞতার পর জীবনযাপন বদলে আবার ব্যবসায় ফেরেন রাহুল। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুপারহিউম্যান কোম্পানির মূল্যায়ন পৌঁছায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলারে। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের ৪ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্যোক্তা জীবনের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ৪২ বছর বয়সী রাহুল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বেড়ে ওঠা ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই উদ্যোক্তা মাত্র আট বছর বয়সে নিজে নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। পরবর্তী সময়ে ভিডিও গেম তৈরির কাজেও যুক্ত হন। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। ২০১০ সালে কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে র্যাপোর্টিভ নামের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। এটি ছিল জিমেইলের সঙ্গে যুক্ত একটি সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইমেইলে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দেখতে পারতেন। প্রতিষ্ঠানটি একই বছর ওয়াই কম্বিনেটরের সামার ব্যাচে সুযোগ পায়। মাত্র পাঁচজনের দল নিয়ে শুরু হওয়া কোম্পানিটি দ্রুত লিংকডইনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে। তবে ব্যবসার ভবিষ্যৎ ও বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারছিলেন না রাহুল। প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিত খাবার খেতেন। কখনো পিৎজা, কখনো ব্রাউনি দিয়েই দিনের খাবার সারতেন। নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাসও ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের চাপের মধ্যে থাকতে থাকতে সেই পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালের এক রাতে তীব্র বমি বমি ভাব ও অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাঙে রাহুলের। অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজে যান তিনি। দুপুরে ব্যথা বেড়ে গেলে অফিস থেকে চার ব্লক দূরের একটি ফার্মেসিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথেই একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের বাইরে লুটিয়ে পড়েন। এক সহপ্রতিষ্ঠাতা ওষুধের ব্যবস্থা করলেও হাসপাতালে না গিয়ে আবার কাজে ফিরে যান তিনি। পরদিন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ শনাক্ত হয়। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। রাহুলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, একজন নার্স তাঁকে জানান, তাঁর শরীরের ভেতরের অবস্থা প্রকৃত বয়সের তুলনায় ১০ থেকে ২০ বছর বেশি বয়সী কারও মতো মনে হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর কয়েক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম নেন রাহুল। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন, নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করেন এবং ধ্যানকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেন। বিশেষ করে ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন পদ্ধতি শেখেন তিনি। এখনো ব্যস্ততার মধ্যেও ধ্যানের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখেন বলে জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাহুলের প্রথম কোম্পানি র্যাপোর্টিভ অধিগ্রহণ করে লিংকডইন। আনুমানিক দেড় কোটি ডলারের এই চুক্তিতে প্রতিষ্ঠাতারা মিলিয়নিয়ার হন। প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগের প্রায় ২০ গুণ অর্থ ফেরত পান। অথচ প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ২০ মাসে কোম্পানিটির সরাসরি আয় হয়েছিল মাত্র ১৪ সেন্ট। প্রথম কোম্পানি বিক্রির পর ২০১৪ সালে কনরাড আরউইন ও বিবেক সোধেরাকে সঙ্গে নিয়ে সুপারহিউম্যান প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে ইমেইল ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে পরিচিতি পায়। ২০২১ সালে বিনিয়োগ সংগ্রহের সময় কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলার। এটি রাহুলের ব্যক্তিগত সম্পদ কিংবা কোম্পানির বার্ষিক আয় নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপারহিউম্যান অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় গ্রামারলি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তখন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার এবং কর্মীসংখ্যা ছিল একশর বেশি। তবে অধিগ্রহণের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। একই বছরের অক্টোবরে গ্রামারলি তার মূল কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে সুপারহিউম্যান রাখার ঘোষণা দেয়। ফরচুনকে রাহুল জানান, দ্বিতীয় কোম্পানি বিক্রির সময় আগের মতো শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। তাঁর মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত কাজ ও নিজের শরীরকে অবহেলা করাকে সাফল্যের পরিচয় মনে করা উচিত নয়। ব্যবসায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা বজায় রেখেও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সম্ভব। তবে তাঁর পরিবর্তিত জীবনযাপনই পরবর্তী ব্যবসায়িক সাফল্যের একমাত্র কারণ ছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
নিজেদের বিয়েতে জাঁকজমকপূর্ণ ভোজের আয়োজন না করে সেই অর্থ দিয়ে প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাবার খাইয়েছিলেন তুরস্কের এক নবদম্পতি। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের সঙ্গে জীবনের বিশেষ দিনটির আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা। শুধু খাবারের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকেননি, বিয়ের পোশাক পরে নিজেরাই শরণার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী কিলিস শহরে ঘটে যাওয়া এই ব্যতিক্রমী ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই নবদম্পতি হলেন ফেতুল্লাহ উজুমজুওলু ও এসরা পোলাত। তুরস্কের কিলিস শহরে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সাধারণত বিয়ের দিন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বড় ধরনের ভোজের আয়োজন করা হয়। তবে ফেতুল্লাহ ও এসরা নিজেদের বিয়ের দিনটি অন্যভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। অতিথিদের জন্য বরাদ্দ অর্থ তাঁরা ব্যয় করেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আশ্রয় নিতে আসা মানুষের খাবারের পেছনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ জমিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ নিজেদের অতিথিদের আপ্যায়নের পরিবর্তে শরণার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে ব্যবহার করেন নবদম্পতি। এতে তাঁদের বিয়ের আনন্দের অংশ হয়ে ওঠেন প্রায় চার হাজার অসহায় মানুষ। সে সময় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিবেশী তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কিলিস শহরটি যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। অনেক শরণার্থী নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা কাজ করছিল। ফেতুল্লাহর বাবা আলি উজুমজুওলু ছিলেন তুরস্কের মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মুর একজন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক। শরণার্থীদের দুর্দশা তিনি কাছ থেকে দেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ছেলের বিয়ের আনন্দ ভিন্নভাবে উদযাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছিল, আশপাশে এত মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছেন, এমন সময় শুধু আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বড় ভোজের আয়োজন করার পরিবর্তে অসহায় মানুষদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া বেশি অর্থবহ হবে। আলি তাঁর ছেলে ও হবু পুত্রবধূকে বিয়ের খাবারের জন্য রাখা অর্থ শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করার পরামর্শ দেন। প্রথমে এই প্রস্তাব শুনে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন এসরা পোলাত। কারণ নিজের বিয়ের দিনটি ঘিরে তাঁরও কিছু প্রত্যাশা ছিল। তবে পরে তিনিও এই উদ্যোগে সম্মতি দেন। এরপর নবদম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, বিয়ের আনন্দ নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শরণার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মুর মুখপাত্র হাতিসে আভজি নবদম্পতির উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানান, বিয়ের জন্য পরিবারের জমানো অর্থ শরণার্থীদের খাবার সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটি তখন কিলিস শহর ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করত। বিয়ের দিন নবদম্পতির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করে সংস্থাটি। খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় তাদের একটি বিশেষ খাবারবাহী ট্রাক। সেখানে প্রায় চার হাজার শরণার্থীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। নবদম্পতি নিজেরাও খাবার বিতরণের কার্যক্রমে অংশ নেন। শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তাঁরা, সরাসরি শরণার্থীদের কাছে গিয়ে খাবার পরিবেশন করেন। সেই দিনের প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, এসরা সাদা বিয়ের পোশাক পরে শরণার্থীদের খাবার দিচ্ছেন। তাঁর মাথায় ছিল বিয়ের সাজের বিশেষ অলংকার। অন্যদিকে বর ফেতুল্লাহও বিয়ের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরেই খাবার বিতরণ করছিলেন। বিয়ের প্রচলিত ভোজের পরিবর্তে শরণার্থীদের খাবার পরিবেশনের এই দৃশ্য দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানবিক সহায়তা সংস্থা কিমসে ইয়োক মু নবদম্পতির খাবার বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর সেসব ছবি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ব্রিটেনের দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং আইটিভি নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি নিউজের ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনে এসরা পোলাত দিনটিকে অসাধারণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রকৃত অর্থে যাঁদের খাবারের প্রয়োজন, তাঁদের সঙ্গে নিজেদের বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রচলিত বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিবর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছিল। বর ফেতুল্লাহও শরণার্থী শিশুদের মুখে আনন্দ দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের নতুন জীবন শুরু করতে পারা ছিল বিশেষ অনুভূতির। বিয়ের দিনটি শুধু নিজেদের জন্য নয়, অন্য মানুষের জন্যও আনন্দময় করে তুলতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। ফেতুল্লাহর বাবা আলি উজুমজুওলুও ছেলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। শরণার্থীদের কঠিন পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, ছেলের বিয়ের এই উদ্যোগ অন্য মানুষদেরও জীবনের বিশেষ দিনে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে। ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট। ২০১১ সালে দেশটিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর লাখ লাখ মানুষ নিরাপত্তার সন্ধানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁদের একটি বড় অংশ তুরস্কে প্রবেশ করেন। সীমান্তবর্তী কিলিস শহরে শরণার্থীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে দৃশ্যমান। কিলিসে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা শরণার্থীদের খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের অর্থ শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে নবদম্পতির সরাসরি খাবার বিতরণের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, ফেতুল্লাহ ও এসরা শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেননি। বিয়ের পোশাক পরেই তাঁরা শরণার্থীদের কাছে যান এবং নিজের হাতে খাবার তুলে দেন। কোনো পৃথক দাতব্য অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নিজেদের বিয়ের দিনেই এই আয়োজন করেছিলেন তাঁরা। ফলে ব্যক্তিগত আনন্দের সঙ্গে মানবিক সহায়তার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে ফেতুল্লাহ উজুমজুওলু ও এসরা পোলাতের এই উদ্যোগ সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়। তাঁদের বিয়ে এবং প্রায় চার হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাবার বিতরণের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ছবিগুলোতে ধরা রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনের স্মৃতি। যেখানে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের নিয়ে বড় ভোজের পরিবর্তে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো হাজারো মানুষের একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফেতুল্লাহ ও এসরার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত আনন্দকে অসহায় মানুষের সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ হয়ে আছে। নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে তাঁরা উদযাপন করেছিলেন শরণার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিয়ে। বিয়ের পোশাক পরে হাজারো মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যই তুর্কি নবদম্পতির উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত করে তুলেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য ধর্মীয় প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বার্তাটি প্রকাশ করে। মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় নিরাপত্তাকে মহান আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য। ইরানের বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্রসীমা, বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় তাঁদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, ইরানের পুলিশ বাহিনী দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের মধ্যেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি অভিযোগ করেন, ইরানের পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব হামলা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার কারণে পুলিশ বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও সদস্যরা বিকল্প উপায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি পুলিশ স্টেশন ও স্থায়ী কর্মস্থলের বাইরে রাস্তায় এবং যানবাহনের মধ্য থেকেও কাজ চালিয়ে গেছেন। খামেনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেক ত্যাগ সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। অথচ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পেছনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তবুও তাঁদের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের মূল্য রয়েছে। বার্তায় জনগণের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা সমাজেরই অংশ। সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যদের মতো তাঁরাও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন। সে কারণে জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। খামেনির মতে, পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ইরানের পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু জনবল বৃদ্ধি কিংবা প্রচলিত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও তথ্য ব্যবস্থাপনায়ও উন্নতি আনতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। খামেনি বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে মানবসম্পদ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উন্নয়ন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ইরানের পুলিশপ্রধানসহ বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানান মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার জন্য ইরানি জাতি কৃতজ্ঞ। বার্তার শেষ অংশে ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে পুলিশের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম মাহদীর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি সফল হবেন। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য প্রচলিত শিয়া ধর্মীয় প্রার্থনাও উল্লেখ করেন তিনি। শিয়া ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মাহদী হলেন দ্বাদশ ইমাম, যিনি বর্তমানে অন্তর্ধানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আবির্ভূত হবেন। তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কে শিয়া মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। মোজতবা খামেনির এই বার্তাতেও সেই ধর্মীয় রীতির প্রতিফলন দেখা গেছে। তবে তিনি ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পুলিশ বাহিনীর অবদান, বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য প্রার্থনা। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পটভূমিতে তাঁর এই বার্তায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনগণের আস্থা এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
চীনের আধুনিক নগরজীবনের পরিচিত ছবির বাইরে এক ভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতীয় পর্যটক প্রণব কারাড। দেশটির গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকার একটি সরু গলিতে ঘুরতে গিয়ে তিনি দেখতে পান রাস্তার পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা, পুরোনো ভবন, ঝুলন্ত তার এবং নির্মাণকাজের জন্য বসানো ব্যারিকেড। এসব দৃশ্য ভিডিও করে প্রকাশের পর তাঁর প্রশ্ন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এমন অপরিচ্ছন্ন এলাকা থাকতে পারে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু ভারতকেই কেন নোংরা দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ভ্রমণের সময় গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকায় যান প্রণব। সেখানে হাঁটার সময় আশপাশের পরিবেশ দেখে তাঁর নিজের দেশের বিভিন্ন এলাকার কথা মনে পড়ে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তার দুই পাশে পুরোনো ভবন, কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, আবার কোথাও ধাতব বেড়া ও ব্যারিকেড দিয়ে জায়গা ঘিরে রাখা হয়েছে। ওপরের দিকে জট পাকানো তার ঝুলছে। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এসব দৃশ্য দেখিয়ে প্রণব বলেন, তাঁর কাছে জায়গাটি ভারতের কোনো সাধারণ এলাকার মতোই মনে হচ্ছে। ভবনের অবস্থা, রাস্তার পরিবেশ এবং নির্মাণকাজের দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন এলাকার মিল খুঁজে পান তিনি। ভিডিওতে তিনি আরও জানান, চীনের মতো একটি দেশের বড় শহরে এমন পরিবেশ দেখবেন, তা আগে ভাবেননি। বিশেষ করে দোকানের বাইরে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ ও ময়লা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। প্রণবের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের আধুনিক শহর সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ছবি ও ভিডিও দেখা যায়, সেগুলোর সঙ্গে এই এলাকার পরিবেশের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতেও অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে। আবার অন্য অনেক দেশের মতো সেখানেও কিছু অপরিচ্ছন্ন এলাকা আছে। তাহলে আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে কেন এত বেশি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়? নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে প্রণব লেখেন, এটি গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার রাস্তার দৃশ্য। এখানে সরু গলি, জমে থাকা আবর্জনা এবং এমন পরিবেশ রয়েছে, যা শহরের প্রচারণামূলক ছবিতে সাধারণত দেখা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশেরই এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যা বাইরে থেকে দেখা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চিত্রের সঙ্গে মেলে না। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় কেন বারবার ভারতের উদাহরণ সামনে আনা হয়, অথচ অন্য দেশের একই ধরনের সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়। প্রণবের ভিডিওটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন দেশের জীবনযাত্রা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় একপেশে চিত্র তুলে ধরা হয়। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, চীনের আধুনিক ভবন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিষ্কার রাস্তার দৃশ্য বেশি প্রচারিত হলেও দেশটির সব এলাকার পরিবেশ যে একই রকম নয়, সেটি এ ধরনের ভিডিও থেকে বোঝা যায়। একজন ব্যবহারকারীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের এমন দৃশ্য খুব কমই সামনে আসে। আরেকজন মন্তব্য করেন, পৃথিবীর কোনো দেশই সব জায়গায় সমান পরিচ্ছন্ন নয়। প্রতিটি দেশেরই কিছু উন্নত ও পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে, আবার কিছু জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে সবাই প্রণবের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, একটি দেশের নির্দিষ্ট এলাকার ভিডিও দিয়ে অন্য দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার তুলনা করা যথাযথ নয়। তাঁদের যুক্তি, কোনো শহরের একটি রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হলেই পুরো শহর বা দেশের পরিবেশ একই রকম, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে কয়েকটি পরিষ্কার রাস্তা দেখিয়েও একটি দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই আলোচনায় ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ধারণার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে বিভিন্ন সময় রাস্তার ময়লা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট ও জনবহুল এলাকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে প্রায়ই আধুনিক অবকাঠামো, উঁচু ভবন এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার ছবি বেশি দেখা যায় বলে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন। প্রণবের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের অনলাইন উপস্থাপনার পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে দেখানো গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার নির্দিষ্ট রাস্তাটি চীনের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারতের সঙ্গে চীনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা নগর পরিচ্ছন্নতার তুলনামূলক কোনো পরিসংখ্যানও ভিডিওটিতে নেই। ফলে ঘটনাটিকে দুই দেশের পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রণবের ভিডিওটি মূলত পর্যটক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন দেশকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অমর উজালাও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুয়াংজুর ওই এলাকার ভিডিও নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। কেউ ভারতের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরির অভিযোগ করেছেন, আবার কেউ একটি এলাকার দৃশ্য দিয়ে পুরো দেশকে বিচার না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের ভিডিও ও ছবি থেকে কোনো দেশের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয়টি সামনে এসেছে। একটি শহরের পর্যটন এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশে পার্থক্য থাকতে পারে। একইভাবে নির্মাণাধীন রাস্তা ও নিয়মিত ব্যবহার হওয়া পরিচ্ছন্ন রাস্তার অবস্থাও এক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বারবার প্রচারিত হলে সেটিই অনেকের কাছে দেশটির সামগ্রিক পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। অথচ বাস্তবে একই দেশের বিভিন্ন শহর ও এলাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। প্রণবের প্রকাশিত ভিডিওতেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি চীনের একটি নির্দিষ্ট এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখিয়ে ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভিডিওটি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো দেশের পরিচ্ছন্নতা বা জীবনযাত্রার মান বিচার করতে হলে বিচ্ছিন্ন ছবি কিংবা কয়েক মিনিটের ভিডিওর পরিবর্তে বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। চীনের গুয়াংজু শহরের একটি সরু গলিতে ধারণ করা ভিডিও এভাবেই ভারত ও চীনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশগুলোর ভাবমূর্তি তৈরির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির কৃষি ও প্রাণিকল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিলভিও এরকেন্স ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অচেতন না করে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার পক্ষে ব্যক্তিগত অবস্থান জানিয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি বলেন, প্রাণিকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া নেদারল্যান্ডসে এ ধরনের জবাইয়ের প্রচলন থাকা উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই অবস্থান মুসলিম সম্প্রদায় কিংবা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। ডাচ সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএনএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল ভিভিডির রাজনীতিক এরকেন্স বলেছেন, পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের পক্ষ থেকে আনা আইন প্রস্তাবটি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। প্রস্তাবটি পাস হলে নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও আগে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হতে পারে। তবে দেশটিতে হালাল মাংস কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনাটি মূলত জবাইয়ের আগে পশুকে অচেতন না করার প্রচলিত ব্যতিক্রমী অনুমতি তুলে দেওয়া নিয়ে। এরকেন্স বলেন, নেদারল্যান্ডস প্রাণিকল্যাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। অথচ ধর্মীয় কারণে এখনো কিছু ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন না করে জবাই করার অনুমতি রয়েছে। এই অবস্থাকে তিনি অসংগতিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রথমে অচেতন করা হয়। কিন্তু কিছু ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু সচেতন থাকা অবস্থায় গলা কাটা হয়। এতে পশু অতিরিক্ত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করতে হলে সেটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করতে হবে, যাতে আদালতে তার বৈধতা টিকে থাকে। নেদারল্যান্ডসে হালাল ও কোশের পদ্ধতিতে পশু জবাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ হালাল জবাইয়ের ধর্মীয় শর্ত অনুযায়ী পশু সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন। একইভাবে ইহুদি সম্প্রদায়ের কোশের জবাইয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধর্মীয় বিধান রয়েছে। তবে সব হালাল জবাই অচেতন না করে সম্পন্ন হয়, এমন নয়। কিছু হালাল পদ্ধতিতে পশুকে সাময়িকভাবে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়, যদি তা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ধর্মীয় পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ইতোমধ্যে অচেতন করা হয়। তাই তিনি মনে করেন, অচেতন করার ব্যবস্থা রেখে ধর্মীয় জবাই পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। এদিকে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে কাজ করা রাজনৈতিক দল পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস নতুন করে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধে একটি সংশোধিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ধর্মীয় কারণে বিদ্যমান ব্যতিক্রমী অনুমতি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে আইন কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট জবাইখানাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য দেড় বছর সময় দেওয়ার কথাও রয়েছে। দলটির যুক্তি, পশু জবাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা কমাতে সব ক্ষেত্রেই অচেতন করার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি। গত ৬ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হয়। সেখানে ডেঙ্ক দলের সংসদ সদস্য দোগুকান এরগিন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এরগিন বলেন, অচেতন না করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাই বন্ধ করার উদ্যোগ মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেক মুসলিম ও ইহুদি নাগরিক উদ্বিগ্ন হয়েছেন বলেও জানান তিনি। জবাবে এরকেন্স বলেন, সরকার হালাল বা কোশের খাবার নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনাটি কেবল নেদারল্যান্ডসের ভেতরে অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি থাকবে কি না, সেই প্রশ্নকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও বিদেশ থেকে হালাল ও কোশের মাংস আমদানি বন্ধ হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত বিধানের কারণে এ ধরনের পণ্য আমদানি অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সর্বশেষ কোরবানির ঈদের সময় নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৭০ শতাংশ হালাল জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে অচেতন করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং প্রাণিকল্যাণের বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে অচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আইন করে একই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হলে ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। নেদারল্যান্ডসের তুর্কি ফেডারেশনও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংগঠনটির বিবৃতিতে সভাপতি মুরাত গেদিক বলেন, ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ ঠেকাতে প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হতে পারে। তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রাণিকল্যাণবিষয়ক সংগঠন ডিয়েরেনবেসখেরমিং প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংগঠনটি ৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় জানায়, অচেতন না করে পশু জবাই বন্ধের আইন প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে অচেতন করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আগে থেকেই আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। নেদারল্যান্ডসেও বিষয়টি নতুন নয়। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালস ২০১১ সালে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। সে সময় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলেও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়নি। এবার নতুন প্রস্তাবটি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি হলো পশু জবাইয়ের সময় যন্ত্রণা কমিয়ে প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করা। অন্যটি হলো মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার। প্রতিমন্ত্রী এরকেন্স জানিয়েছেন, সরকার নিজে এ মুহূর্তে হালাল বা কোশের জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো বিল প্রস্তুত করেনি। পার্টি ফর দ্য অ্যানিম্যালসের উদ্যোগে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে এলে সরকার সেটির আইনগত ও বাস্তব দিক পর্যালোচনা করবে। শেষ পর্যন্ত আইনটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাবটির আইনি গ্রহণযোগ্যতার ওপর। ফলে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসে হালাল মাংস নিষিদ্ধ হয়েছে কিংবা ধর্মীয় পদ্ধতিতে সব ধরনের পশু জবাই বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু অচেতন না করে পশু জবাইয়ের অনুমতি প্রত্যাহারের সম্ভাব্য আইন। নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে নেদারল্যান্ডসে প্রাণিকল্যাণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষক সংকট এবং স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ আন্দোলন টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের স্কুলগুলো অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি স্কুলের কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নঁত, রেন, ব্রঁ, তুলোঁ ও মার্সেইয়ের মতো শহরগুলোতে লাখো মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে মিছিল শুরু করেছে। এর আগে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেবে। এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রেন শহরের একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভরত ১৮ বছর বয়সী হানা এএফপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। সালিনা নামের ১৭ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি ছিল এবং এমন একটি জরুরি বিষয় মাসের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার মতো কোনো বিষয় নয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশের কঠোর ভূমিকা নিয়েও দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসঁতে এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে আসা ইংরেজি শিক্ষক শার্লট বোবো পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'অতিরিক্ত কঠোর' বলে মন্তব্য করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারানোর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ ফুরিয়ে আসার মুহূর্তে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন ফরাসি রাজনীতিতে স্পষ্ট মেরুকরণ তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মারিন ল্য পেন দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা স্কুলের যে ক্ষতি করেছে তার মেরামতের খরচ তাদের বা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থি প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে পুলিশের 'বর্বর আচরণের' তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ ও দাবি জানানোর জন্য চালু করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই ৪৩ হাজারের বেশি সাড়া পড়েছে। বিএফএম টিভির জন্য এলাবের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মানুষ চান দ্রুত এই বিক্ষোভের অবসান হোক।
দীর্ঘ ৩৮ বছরের বিচ্ছিন্নতা, তবে মনের কোণে সযত্নে রয়ে গিয়েছিল ছোটবেলার স্মৃতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানেই নিজের ছোটবেলার আয়াকে খুঁজে বের করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরাসি নাগরিক পিয়েরে ডুপন্ট। গত ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই আবেগঘন পুনর্মিলনের খবরটি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। পিয়েরে যখন একেবারে ছোট ছিলেন, তখন তার পরিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে বসবাস করত। সেখানে আয়েশা নামের এক স্থানীয় নারী পরম মমতায় তাকে লালন-পালন করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পিয়েরের পরিবার ফ্রান্সে ফিরে গেলে আয়েশার সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে পিয়েরে কখনোই তার সেই স্নেহময়ী আয়াকে ভুলে যাননি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে তিনি আয়েশাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। পুরনো দিনের অ্যালবামের ছবি ঘেঁটে এবং সাবেক প্রতিবেশীদের সাহায্যে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সেনেগালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি তার সেই প্রিয় আয়ার সন্ধান পান। খবর পেয়ে এক মুহূর্তও দেরি না করে আয়েশাকে দেখতে সরাসরি সেনেগালে ছুটে যান পিয়েরে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়ে তারা দুজনেই আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের এই পুনর্মিলনের দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়। আয়ার অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে পিয়েরে তাকে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৯ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি আয়েশার শেষ বয়সের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে তার জন্য একটি স্থায়ী মাসিক ভাতারও ব্যবস্থা করেছেন এই ফরাসি নাগরিক। প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে আয়েশা তার জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করার পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। ছোটবেলার একজন আয়ার প্রতি এমন অভাবনীয় সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের এই ঘটনাটি বর্তমান পৃথিবীতে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর—দুই উপকূল থেকেই একই সঙ্গে তিনটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে 'র্যাচেল' (Rachel) ও 'সাইমন' (Simon) নামের দুটি ঝড় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে, অন্যদিকে আটলান্টিকের দিক থেকে মেক্সিকো উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসছে 'ইসায়াস' (Isaias)। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিরল 'ট্রিপল থ্রেট' বা ত্রিমুখী হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড় 'র্যাচেল' এই সপ্তাহান্তেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের শক্তিতে উত্তর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরাংশের দিকে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রবল জলোচ্ছ্বাস, প্রাণঘাতী রিপ কারেন্ট এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া র্যাচেলের প্রভাবে সৃষ্ট আর্দ্রতা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্থলভাগের দিকে ছড়িয়ে পড়বে, যার ফলে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের আরও দক্ষিণাংশে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন সিস্টেম 'সাইমন'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হারিকেনে রূপ নেবে এবং শনিবার মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলে একটি বড় ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন (Major Hurricane) হিসেবে আঘাত হানবে। সাইমনের কারণে মেক্সিকো উপকূলে বিধ্বংসী বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক ভূমিধসের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেক্সিকোতে সাইমন এবং বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে র্যাচেলের হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ইসায়াস'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, রাতের বেলা শক্তি সঞ্চয় করে এটি আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সব মিলিয়ে এই ত্রিমুখী ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে কিংবা তুলে ফেলতে হলে সেটি আর প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসে না। তখন বাধ্য হয়েই ভরসা করতে হয় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর। কিন্তু কেমন হতো, যদি আপনার শরীর নিজেই একটি নতুন দাঁত তৈরি করে নিতে পারতো? অসম্ভব মনে হওয়া এই কল্পনাবিলাসকেই এবার বাস্তবে পরিণত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন জাপানের একদল চিকিৎসাবিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পরীক্ষামূলক এই ওষুধটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিআরজি০৩৫’ (TRG035)। এর মূল লক্ষ্য হলো ‘ইউএসএজি-১’ (USAG-1) নামের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মূলত এই প্রোটিনটিই মানুষের শরীরে নতুন করে দাঁত গজানোর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর আগে প্রাণীদেহে চালানো এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, এই প্রোটিনকে ব্লক করার মাধ্যমে সফলভাবে তাদের নতুন দাঁত গজানো সম্ভব। সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জন্য এই ওষুধ তৈরির পথে হাঁটেন গবেষকরা। এই যুগান্তকারী ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ২০২৪ সালে প্রথম 'হিউম্যান ট্রায়াল' শুরু হয়। সম্প্রতি ২০২৬ সালে সফলভাবে এর 'ফেজ ওয়ান' বা প্রথম ধাপের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রাথমিক ধাপে মানবদেহে ওষুধটির নিরাপত্তা এবং প্রভাব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। মানুষের হারানো দাঁত সফলভাবে গজানোর চূড়ান্ত কার্যকারিতার ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও, গবেষণাটি অত্যন্ত সফলতার সাথে এখন পরবর্তী ধাপে এগোচ্ছে। গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, ২০৩০ সালের মধ্যেই সাধারণ মানুষের জন্য দাঁত গজানোর এই অভাবনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি সহজলভ্য করে তোলা। শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি সফল হলে, ভবিষ্যতে ডেন্টাল চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এর ফলে হারানো দাঁতের চিকিৎসায় মানুষকে আর কৃত্রিম উপায়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না, বরং শরীর নিজেই তার হারানো দাঁত পুনরায় তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে।
রাস্তার ধারের বিশাল বিলবোর্ডে সাধারণত চলচ্চিত্র তারকা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপনই চোখে পড়ে। কিন্তু চীনের কিছু শহর এই পরিচিত দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তারকার বদলে সেখানে এখন জায়গা পাচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা, মেট্রো স্টেশন ও ব্যস্ত সড়কের ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠছে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের যুগান্তকারী সব অবদানের কথা। এই তালিকায় রয়েছেন চীনের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কিয়ান শুয়েসেন, পারমাণবিক বিজ্ঞানী দেং জিয়াশিয়ান এবং কিংবদন্তি কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা মানুষের জীবনকে বদলে দেয়। তাঁদের এই কাজগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কাজ ও অবদান সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, জনসমাগমের স্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁদের পরিচিতি বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। চীনের এই উদ্যোগ আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা আগামী প্রজন্মের সামনে কাদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছি? কেবল বিনোদন জগতের জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে, জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারিগরদের কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? বিজ্ঞানীদের এই ধরনের জনস্বীকৃতি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান নয়; এটি একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশেও যদি বিজ্ঞানীদের অবদানকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করা যায়, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুত অন্য কোনো দেশ বা পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি এই ঘোষণা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিধিমালা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) কাঠামোর আওতায় থেকেই সম্পূর্ণ আইনিভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মোহাম্মদ এসলামি আরও জানান, আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি বারবার সামনে আনা হচ্ছে এবং এটিকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের মূল ভিত্তি হওয়ায় এ নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই তাদের জাতীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতিতে পরমাণু প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তাই ইরানের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন নেতিবাচক দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা। মূলত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মোহাম্মদ এসলামির এই কঠোর বার্তা সামনে এলো। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বৈধ অধিকার।
বিমানের টিকিটের দাম বিশ্বজুড়েই ক্রমাগত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের গড় মূল্য ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ভ্রমণ খরচ কমাতে যাত্রীরা নানা ধরনের ফন্দি আঁটছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত কৌশলটি হলো 'স্কিপল্যাগিং' বা 'হিডেন সিটি' ফ্লাইং। এই অভিনব পদ্ধতিতে যাত্রীরা তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের টিকিট কাটলেও সেখানে যান না; বরং মাঝপথে লে-ওভার বা ট্রানজিট শহরেই নেমে যান। কারণ, অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট শহরে সরাসরি যাওয়ার টিকিটের চেয়ে ওই শহরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো গন্তব্যের টিকিট কাটলে খরচ বেশ কম পড়ে। স্কিপল্যাগড নামের একটি সার্চ ইঞ্জিনের সিইও আক্তারের জামান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডোর সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া হয়তো ৩৫০ ডলার, কিন্তু নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডো হয়ে ডালাস যাওয়ার টিকিটের দাম মাত্র ১৭০ ডলার। যাত্রীরা এক্ষেত্রে সস্তা টিকিটটি কিনে অরল্যান্ডোতেই নেমে যান। স্কিপল্যাগড প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই কৌশল ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সাশ্রয় করেছেন। গড়ে একেকজন যাত্রীর প্রায় ৪৭ শতাংশ বা ১৮০ ডলার পর্যন্ত বেঁচে যায়। বিশেষ করে ভ্রমণের ঠিক আগমুহূর্তে যখন টিকিটের দাম আকাশচুম্বী থাকে, তখন এই কৌশলটি বাজেট-সচেতন যাত্রীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের এই কৌশলের চরম বিরোধী। ডলার ফ্লাইট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেসি নিউগার্টেন জানান, স্কিপল্যাগিংয়ের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর রাজস্ব আয়ে ঘাটতি দেখা দেয় এবং আসন বরাদ্দ মডেলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতে, মাঝপথে যাত্রী নেমে গেলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং ওই শূন্য আসনটি অন্য কোনো জরুরি যাত্রীর কাজে লাগতে পারত। ক্ষুব্ধ এয়ারলাইন্সগুলো ইতোমধ্যে স্কিপল্যাগড ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আমেরিকান এয়ারলাইন্স কপিরাইট লঙ্ঘন ও অবৈধ আয়ের মামলায় স্কিপল্যাগডের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছে। এর আগে ইউনাইটেড ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সও একই কারণে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। স্কিপল্যাগিং সরাসরি কোনো বেআইনি কাজ না হলেও এটি প্রায় সব এয়ারলাইন্সের শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্লোবাল ট্রাভেল মোমেন্টসের সিইও ডানকান গ্রিনফিল্ড-টার্ক সতর্ক করে বলেন, ধরা পড়লে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার সুবিধা বাতিল করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে তাদের ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারে। তাই এই কৌশল ব্যবহার করতে হলে যাত্রীদের বেশ কিছু সতর্কতা মানতে হয়। প্রথমত, কোনোভাবেই রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার টিকিট কাটা যাবে না, শুধু একমুখী টিকিট কাটতে হবে। কারণ মাঝপথের কোনো ফ্লাইটে না উঠলে এয়ারলাইন্স পুরো ট্রিপ বাতিল করে দেয়। দ্বিতীয়ত, কোনো বড় চেক-ইন লাগেজ দেওয়া যাবে না; যাত্রীকে শুধু একটি ছোট ব্যাকপ্যাক নিতে হবে যা সিটের নিচে রাখা যায়। এছাড়া টিকিট কাটার সময় লয়ালটি পয়েন্ট বা ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা এবং একই রুটে বারবার এই কৌশল প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দক্ষিণ কোরিয়া বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে। এর মাধ্যমে সিউল এমন এক সামরিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে গেল, যা কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধ-সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের কাছাকাছি সাগরে নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ত্রটি পরিকল্পিত উচ্চতায় এর বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিচে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার আগে উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয়ভাবেই সফলভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলে 'কোরীয় উপদ্বীপের অপারেশন থিয়েটারে' যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম হবে। প্রেসিডেন্ট লি "নিজেদের শক্তির মাধ্যমেই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার" ওপর জোর দেন এবং একই দিনে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী হিউনমু-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত আন্তঃকোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। তবে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সিউলের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি নিয়ে উপহাস করেছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিউলের প্রতি ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে গিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের "বৈরী" নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট লি-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ তিনি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পৃক্ততার পক্ষে এবং সীমান্তে সেনা আহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও উত্তরের প্রতি তার বক্তব্যকে যথেষ্ট নমনীয় রেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, কিম জং উনের সাথে 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি বড় সামরিক মহড়া একতরফাভাবে কমিয়ে আনার পর সিউলের এই স্বনির্ভরতার তাগিদ আরও বেড়েছে। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেই মতভেদ দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি তারা এটিকে ৭০০ কিলোমিটার উড়তে দেখেছে, অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার বলে মূল্যায়ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই দুই মিত্র দেশের ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে উপহাস করে দাবি করেন, তারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সঠিকভাবে ট্র্যাক করতেই অক্ষম এবং তাই এটি মাঝপথে ধ্বংস করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে ৭২ হাজার পাউন্ড দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েছিলেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক দম্পতি। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হন তাঁরা। একপর্যায়ে বাড়িটির কাঠামো এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পরিবারটির বাড়ি। ঘটনাটি ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরের বিটার্ন এলাকার। ভুক্তভোগী দম্পতির নাম আহমেদ আলী ও রিফাত আলী। তাঁরা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিন সন্তানকে নিয়ে নিজেদের বাড়িটি আরও আরামদায়ক ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই একসময় বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় নতুন অংশ নির্মাণের জন্য নিজেদের সঞ্চয় থেকে ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন আহমেদ ও রিফাত। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে অসমাপ্ত কাজের বিভিন্ন অংশ এতটাই ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া যায় যে সেগুলো ব্যবহার অনিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। বাড়ির নিচতলার অধিকাংশ জায়গা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ওপরতলায় সীমিত পরিসরে বসবাস করতে বাধ্য হন দম্পতি। রান্নাঘর ও বাগানও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না তাঁরা। ফলে নিজেদের বাড়িতে থেকেও প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবারটিকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এন্টারটেইনমেন্ট ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ, খোলা বৈদ্যুতিক তার এবং কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দম্পতির অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারের কর্মীরা মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে চলে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় আর ফিরে আসতেন না। রিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রী কেনার কথা বলে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত অর্থও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সামগ্রী কেনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরে স্থপতির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিজেদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দম্পতি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। আহমেদ জানান, পুরো পরিস্থিতি তাঁদের জন্য এতটাই মানসিক চাপের ছিল যে একপর্যায়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরিবারটির দুরবস্থার খবর পৌঁছায় বিবিসির জনপ্রিয় বাড়ি সংস্কারবিষয়ক অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএসের কাছে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস এবং তাঁর টিম পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা নির্মাণকাজের গুরুতর ত্রুটিগুলো দেখতে পান। পরিদর্শনের সময় নিক নোলস বাড়িটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালের নিচে বড় ফাঁক দেখতে পান। এতে ভবনটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি পরিবারটিকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিক নোলস জানান, ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতায় কোনো পরিবারকে নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলার ঘটনা তাঁর জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় বাড়িটি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ। স্থানীয় নির্মাণকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক দক্ষ কর্মী উপস্থিত হন। কয়েক মাসের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। এ উদ্যোগে অংশ নেন বেসিংস্টোক কলেজ অব টেকনোলজির নির্মাণবিষয়ক শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা অভিজ্ঞ নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কাঠের কাজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং পানির পাইপ স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করেন। কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়িটিকে নিরাপদ ও আধুনিক বাসস্থানে রূপান্তর করা হয়। বাড়িটি সংস্কারের সময় পরিবারটির বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আহমেদ ও রিফাত দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী হলেও তাঁদের সন্তানরা শুনতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ঘরের ভেতরের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে ঘরের বিভিন্ন অংশে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নজর রাখা যায়। পাশাপাশি বাড়িতে বিশেষ সতর্কসংকেত ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। কোনো সমস্যা হলে শব্দের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবে। এতে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের জন্য ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। বাড়ি সংস্কারের প্রস্তুতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাসা এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে অ্যাসবেস্টস সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা করে। পুরোনো ভবনের সংস্কারকাজে ক্ষতিকর উপাদানের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বাড়ির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিবেশ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আহমেদ ও রিফাত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা। ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানের ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান বলেন, সমাজে বিভেদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও এই প্রকল্পে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। বিপদে পড়া একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করেছেন। পরিবারটির বাড়ি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তবে সেই উদ্যোগের পুরো ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডিআইওয়াই এসওএসের বিশেষ পর্বটি বিবিসি ওয়ানে প্রচারিত হয় ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেও যে পরিবারটি নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছিল না, স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সেই পরিবার এখন নতুনভাবে সাজানো বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। প্রচলিত সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে কবিতা, গদ্য, নাটক ও প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। ৭৬ বছর বয়সী এই লেখক তাঁর সৃজনশীল ও পরীক্ষামূলক সাহিত্যকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংযোগ তৈরি করে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য অ্যান কার্সনকে এবারের পুরস্কারে নির্বাচিত করা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কার্সন। ছোটবেলা থেকেই ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন ও ভাষা তাঁর চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কার্সনের সাহিত্যকর্ম শুধু কবিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লেখায় একই সঙ্গে পাওয়া যায় কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং দার্শনিক চিন্তার সমন্বয়। কোনো একটি সাহিত্যধারার নিয়ম মেনে লেখার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ধারাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে নতুন ধরনের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন। অ্যান কার্সনের সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। কবিতার আঙ্গিকে লেখা এই উপন্যাসে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র ও কাহিনিকে আধুনিক সময়ের প্রেম, পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েছেন তিনি। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন। প্রাচীন গ্রিক পুরাণে ডানাওয়ালা লাল রঙের এক দানব হিসেবে পরিচিত এই চরিত্রকে কার্সন তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তাঁর লেখায় গেরিয়নের মাধ্যমে মানবিক অনুভূতি, একাকিত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মপরিচয়ের জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে। সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরির আরেকটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি এই বইয়ের রচনাগুলো নির্দিষ্ট কোনো ক্রম অনুসরণ না করেও পড়া যায়। প্রচলিত বইয়ের কাঠামোর বাইরে গিয়ে পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক। কার্সনের ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ বইটিও তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখার পরিচয় বহন করে। এতে সাহিত্য, শিল্প, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিভিন্ন উপাদান স্থান পেয়েছে। তাঁর অনেক লেখায় নাট্যরীতি ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রভাবও দেখা যায়। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য আধুনিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে অ্যান কার্সনের। গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে তাঁর অনুবাদগ্রন্থ ‘ইফ নট, উইন্টার’ বিশেষভাবে সমাদৃত। এ ছাড়া সফোক্লিস ও ইউরিপিডিসের মতো প্রাচীন গ্রিক নাট্যকারের রচনাও অনুবাদ করেছেন তিনি। অনুবাদের ক্ষেত্রেও শুধু মূল ভাষার অর্থ তুলে ধরাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি কার্সন। প্রাচীন সাহিত্যকর্মের ভাষা, ভাবনা ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক পাঠকের কাছে কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে, সেটিও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’ নামের দীর্ঘ কবিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাহিত্যিক বিশ্লেষণ এবং কবিতার ভাষা একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন তিনি। লেখালেখির পাশাপাশি দৃশ্যশিল্প, নৃত্য, সংগীত, অপেরা ও থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন অ্যান কার্সন। বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে সাহিত্যের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার ব্যবহার। একটি শব্দের উৎপত্তি, তার অর্থের পরিবর্তন এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শব্দটি কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করে, এসব বিষয় নিয়ে কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অনেক সময় শব্দের ইতিহাস থেকেই তাঁর নতুন লেখার ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি টি এস এলিয়ট পুরস্কার, গ্রিফিন কবিতা পুরস্কার এবং ম্যাকআর্থার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এই লেখক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে সত্তর বছর বয়সের পর বক্সিং অনুশীলনও শুরু করেন তিনি। নোবেল পাওয়ার খবরটি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অবস্থান করা এই লেখক পুরস্কার ঘোষণার সময় সেখানেই ছিলেন। অ্যান কার্সন সাহিত্যে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় কানাডীয় সাহিত্যিক। এর আগে ২০১৩ সালে কানাডার ছোটগল্পকার অ্যালিস মুনরো এই সম্মাননা অর্জন করেন। এবারের পুরস্কারের মাধ্যমে কানাডার সাহিত্য আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি পেল। ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ একাডেমি প্রতিবছর বিশ্বসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করে। অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব হলো, তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে শুধু অতীতের ঐতিহ্য হিসেবে দেখেননি। বরং সেই সাহিত্য থেকে চরিত্র, ভাষা ও ভাবনা গ্রহণ করে আধুনিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছেন। কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে লেখালেখির নতুন পথ তৈরি করাই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।