- প্রচ্ছদ
- আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক
ভারতের উত্তরাখণ্ডে ধর্মভেদে আলাদা পারিবারিক আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়ে একই আইনি কাঠামো চালুর এই উদ্যোগকে বিজেপি সরকার সমতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের প্রশ্ন, সবার জন্য একই আইন করতে গিয়ে তাদের ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিনীতির জায়গা কতটা থাকছে। উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আইনটি কার্যকর হয়। স্বাধীনতার পর ভারতে কোনো রাজ্যে এ ধরনের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডই প্রথম। আইনটির মূল লক্ষ্য হলো ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন না রেখে নাগরিকদের পারিবারিক বিষয়ে একটি অভিন্ন নিয়ম চালু করা। উত্তরাখণ্ড সরকারের সরকারি ব্যাখ্যায়, নতুন বিধিতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার মতো বিষয়ে ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে একই কাঠামো প্রযোজ্য। বিয়ের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন ও নির্দিষ্ট তথ্য জানানোর নিয়ম রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইনটির এসব বিধান নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল। সমর্থকদের প্রধান যুক্তি হলো, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা আইন থাকলে নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিয়ে, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার আইনি কাঠামো তৈরি করবে। ২০২৬ সালেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সমর্থকেরা এটিকে সমতা, ন্যায়বিচার ও লিঙ্গসমতার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু সমালোচকদের আপত্তি মূলত অন্য জায়গায়। তাদের প্রশ্ন, ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় অভিন্ন আইনের আওতায় এনে কি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে? অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডও ২০২৬ সালে উত্তরাখণ্ডসহ নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উদ্যোগগুলোর বিরোধিতা করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলেছে। এই জায়গাতেই দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উত্তরাখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশ্ন করা হয়েছে, ধর্মীয় বিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে একজন মুসলিম কীভাবে একই সঙ্গে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রের আইন মেনে চলবেন। তবে মুসলিমরা ভবিষ্যতে ভারতের মূলধারা থেকে আরও দূরে সরে যাবে, এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখা যাবে না। এটি দ্য ইকোনমিস্টের একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্কতা। আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়। উত্তরাখণ্ড সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, একই দেওয়ানি কাঠামো রাজ্যের সব নাগরিকের ওপর প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ‘সবার জন্য একই আইন’ ধারণাটিও বাস্তবে কিছু সাংবিধানিক ব্যতিক্রমের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এদিকে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে গুজরাট ও আসাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে এগিয়েছে, আর মধ্যপ্রদেশও এ বছর নিজস্ব অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করেছে। রাজস্থানও ২০২৬ সালের আগস্টে একই ধরনের বিল বিধানসভায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা এখন শুধু একটি রাজ্যের আইন নিয়ে বিতর্ক নয়। এটি ভারতের ভবিষ্যৎ পারিবারিক আইন ব্যবস্থার বড় একটি পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মভেদে আলাদা ব্যক্তিগত আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন নিয়ম চালু করলে নাগরিকদের সমতা কতটা বাড়বে। অন্যদিকে প্রশ্ন থাকছে, সেই সমতার পথে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের জন্য কতটা জায়গা রাখা হবে। দেড় বছরের বেশি সময় পরও তাই উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ঘিরে মূল বিতর্কটি রয়ে গেছে একই জায়গায়: সবার জন্য একই আইন কি সত্যিই সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, নাকি অভিন্নতার নামে ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি অংশ ক্রমেই সংকুচিত হবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের পরদিনই উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের সাগরে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ংয়ের আশপাশের এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব দিকের জলসীমায় গিয়ে পড়ে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিমের সঙ্গে তার ভালো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করেনি। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, মহড়ার সময় ও পরিসর কমালেও এর ‘উসকানিমূলক’ চরিত্র বদলায়নি। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের যোগাযোগের দাবিও অস্বীকার করেছেন। তবে কিম ইয়ো জং একইসঙ্গে বলেছেন, ট্রাম্প ও তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ভালো। বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে পিয়ংইয়ং পুরোপুরি আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি, বরং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও বড় ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসার আগ্রহ জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণকে তার নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছে। অন্যদিকে পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত বৈরী নীতি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে। ট্রাম্প ও কিম এর আগে তিনবার সরাসরি বৈঠক করেছেন। ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের পারমাণবিক আলোচনা কার্যত থেমে যায়। এবার নতুন করে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেখিয়ে দিচ্ছে, সম্ভাব্য আলোচনার আগে দুই দেশের অবস্থানের বড় ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা এবং দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প এই নতুন উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রি, তেল পাচার, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বিশেষ করে চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রভাব বিশ্ববাজারে দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমলেও সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে ওয়াশিংটন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত সংকটের সমাধানে তেহরানকে বাধ্য করতে চাইছে। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি তাই নতুন পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ফ্রান্সের প্যারিসে শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের টার্মিনালকে ১৮ বছর নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন ইরানি নাগরিক মেহরান কারিমি নাসেরি। ১৯৮৮ সালে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পর দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করেন তিনি। তার অদ্ভুত জীবনকাহিনি পরে হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’-এর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। নাসেরি ১৯৮৮ সালের আগস্টে শার্ল দ্য গল মানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছিলেন। প্যারিসে এসে তিনি দাবি করেন, তার পরিচয়পত্র ও শরণার্থী সনদ হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে। ফলে ফ্রান্সে প্রবেশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার হাতে ছিল না। একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশও তাকে গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছিল না। এই জটিল অবস্থায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-ই হয়ে ওঠে তার আশ্রয়। দিন গড়াতে গড়াতে সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে বছর চলে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর সেখানেই থেকে যান নাসেরি। টার্মিনালের একটি লাল প্লাস্টিকের বেঞ্চ ছিল তার দীর্ঘদিনের বিছানা। বিমানবন্দরের কর্মীদের ব্যবহৃত গোসলের সুবিধা তিনি ব্যবহার করতেন। সময় কাটত বই পড়া, লেখালেখি ও নিজের ডায়েরি লিখে। বিমানবন্দরের কর্মীরাও ধীরে ধীরে তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তারা তাকে ‘স্যার আলফ্রেড’ নামে ডাকতে শুরু করেন। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো যাত্রী ওই টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াত করতেন। তাদের অনেকের কাছেই নাসেরি হয়ে উঠেছিলেন এক পরিচিত মুখ। কেউ কৌতূহলবশত তার সঙ্গে কথা বলতেন, কেউ আবার বিমানবন্দরে বসবাসকারী এই অদ্ভুত মানুষটির গল্প শুনতে থামতেন। তবে নাসেরির জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল, পরবর্তী সময়ে তার বিমানবন্দর ছাড়ার আইনগত সুযোগ তৈরি হলেও তিনি আর বের হননি। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বেলজিয়ামে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পান। পরে ফ্রান্সেও তার জন্য আইনি বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে থাকার পর সেটিই যেন তার পরিচিত পৃথিবী হয়ে উঠেছিল। তার জীবনের এই অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা ১৯৯৩ সালের ফরাসি সিনেমা ‘লস্ট ইন ট্রানজিট’-এর অনুপ্রেরণা দেয়। পরে আরও বেশি পরিচিতি পায় স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ২০০৪ সালের সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’। টম হ্যাঙ্কস অভিনীত সিনেমাটিতে একজন মানুষকে বিমানবন্দরে আটকে গিয়ে সেখানেই বসবাস করতে দেখা যায়। নাসেরির জীবনের সঙ্গে সিনেমাটির গল্পের মিল থাকলেও এটি তার জীবনের সরাসরি পুনর্নির্মাণ ছিল না। ২০০৪ সালেই নাসেরি নিজের স্মৃতিকথা ‘দ্য টার্মিনাল ম্যান’ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে বসবাসের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার গল্প ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি একসময় বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২০০৬ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর ছাড়েন নাসেরি। এরপর প্যারিসের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৬ বছর কাটান তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়েও বিমানবন্দরটি যেন তাকে আবার টেনে নেয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, বয়স সত্তরের শেষ দিকে, তিনি আবার শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে ফিরে আসেন। এর মাত্র দুই মাস পর, ১২ নভেম্বর ২০২২ সালে টার্মিনাল ২এফ-এ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মেহরান কারিমি নাসেরি। জীবনের প্রায় দুই দশক যে বিমানবন্দরকে নিজের বাড়ি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেখানেই থেমে যায় তার দীর্ঘ ও অস্বাভাবিক জীবনের গল্প।
মুখে কোনো মেকআপ না দিয়েই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মেলিসা রউফ। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী প্রতিযোগিতার ৯৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে পুরো প্রতিযোগিতায় মেকআপ ছাড়া অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ জনের তালিকায় জায়গা করে নেন। রউফের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ করতেন। নিজের স্বাভাবিক চেহারায় বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করতেন না তিনি। তবে ২০২২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে সেই অভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন রউফ। মিস লন্ডন প্রতিযোগিতায় কোনো মেকআপ ছাড়াই অংশ নেন তিনি। সেখানে ‘বের ফেস টপ মডেল’ পর্বে জয় পান, যা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এরপর মিস ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন রউফ। পুরোপুরি মেকআপ ছাড়া মঞ্চে হাজির হন তিনি। প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ৯৪ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রতিযোগী, যিনি মেকআপ ছাড়াই পুরো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে স্বাভাবিক চেহারায় মঞ্চে ওঠার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েননি রউফ। বরং ৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ১৬ জনের একজন হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। রউফ জানান, এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে সুন্দর দেখাতে মেকআপ বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হওয়া সম্ভব। তার এই বার্তা বিশেষ করে তরুণীদের নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে উৎসাহিত করেছে। পরবর্তীতে মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধারণাটিও আরও জনপ্রিয় হয়। রউফ নিজেও পরে এমন একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, ফিল্টার এবং নিখুঁত দেখানোর চাপ যখন মানুষের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে, তখন রউফের সিদ্ধান্ত ছিল নিজের চেহারাকে লুকিয়ে না রেখে স্বাভাবিকভাবেই মঞ্চে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী বার্তা।
বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্টের ২৬ বছর বয়সী ছেলে ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি। এর ফলে সাবেক গাড়ি বিক্রেতা ক্লেমঁ এখন বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য এবং বাবার সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। তবে তিনি বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন না এবং রাজপরিবার থেকে কোনো সরকারি ভাতাও পাবেন না। বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরেন্ট ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার প্রকাশ্যে জানান, ক্লেমঁ তারই জৈবিক সন্তান। ক্লেমঁর মা বেলজিয়ামের গায়িকা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আইরিস ভান্দেনকার্কহোভে, যিনি ‘ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেন’ নামেও পরিচিত। লরেন্ট ও আইরিসের সম্পর্কের সময় ক্লেমঁর জন্ম হয়। পরে ২০০৩ সালে লরেন্ট প্রিন্সেস ক্লেয়ারের সঙ্গে বিয়ে করেন। প্রকাশ্যে বাবার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও এতদিন ক্লেমঁ আইনগতভাবে প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিভিল রেজিস্ট্রারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পিতৃত্বের স্বীকৃতি নথিভুক্ত করা হয়। কয়েক মাস বিষয়টি গোপন থাকার পর ১৯ আগস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। আইনগত স্বীকৃতির ফলে ক্লেমঁ এখন তার বাবার অন্য তিন সন্তান প্রিন্সেস লুইস এবং যমজ প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিকের সমানভাবে প্রিন্স লরেন্টের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছেন। চাইলে বাবার রাজপরিবারের পদবি স্যাক্স-কোবুর্গ গ্রহণ করারও অধিকার রয়েছে তার। তবে নিজের মায়ের পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বর্তমানে ভান্দেনকার্কহোভে পদবিই রাখতে চান ক্লেমঁ। আইনগত স্বীকৃতির কারণে ক্লেমঁ বেলজিয়ামের রাজপুত্রের মর্যাদা পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছেন। তবে এই মর্যাদার সঙ্গে কোনো সরকারি দায়িত্ব বা রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব যুক্ত হবে না। একইভাবে তিনি রাজপরিবারের সরকারি ভাতাও পাবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্লেমঁ বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় থাকবেন না। বেলজিয়ামের সংবিধান অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকার নির্দিষ্ট বৈবাহিক বংশধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ক্লেমঁর কোনো অবস্থান তৈরি হচ্ছে না। ক্লেমঁর পিতৃত্ব নিয়ে বেলজিয়ামে প্রায় দুই দশক ধরে নানা আলোচনা ছিল। ২০২৫ সালে প্রিন্স লরেন্ট প্রকাশ্যে তাকে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকার করার পর সেই দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটে। এবার আইনগত স্বীকৃতির মাধ্যমে রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
রাশিয়ার ১৮ শতকের এক কৃষক পরিবারের নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভাকে ঘিরে এমন এক রেকর্ডের দাবি রয়েছে, যা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হয়েছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও এটিকে এক মায়ের সর্বোচ্চ সন্তান জন্মদানের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে কয়েক শতাব্দী পুরোনো হওয়ায় ঘটনাটির সব তথ্য আধুনিক মানদণ্ডে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভ্যালেন্টিনা ছিলেন রুশ কৃষক ফিওদর ভাসিলিয়েভের প্রথম স্ত্রী। গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৭২৫ থেকে ১৭৬৫ সালের মধ্যে ২৭টি প্রসবে তিনি ১৬ জোড়া যমজ, ৭ সেট ট্রিপলেট এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটের জন্ম দেন। সব মিলিয়ে সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯। এই হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জোড়া যমজে সন্তান ৩২ জন, ৭ সেট ট্রিপলেটে ২১ জন এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটে ১৬ জন। তিন ধরনের সন্তান মিলিয়েই ৬৯ জন। ঘটনাটির তথ্য প্রথমদিকে রাশিয়ার নিকোলস্ক মঠের নথিতে পাওয়া যায়। ১৭৮২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় পাঠানো একটি প্রতিবেদনে ভাসিলিয়েভ পরিবারের সন্তানসংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ১৭৮২ সালে দ্য জেন্টলম্যানস ম্যাগাজিনেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়। তবে ভ্যালেন্টিনার গল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নিজেও বলছে, ঘটনাটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হলেও সেই সময়ের একাধিক নথি এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্যালেন্টিনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়, এমনকি তার নাম নিয়েও ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিততা নেই। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফিওদর ভাসিলিয়েভ পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তার আরও ১৮ সন্তান ছিল, যার মধ্যে ছিল ৬ জোড়া যমজ ও ২ সেট ট্রিপলেট। ফলে দুই স্ত্রী মিলিয়ে তার মোট সন্তানের সংখ্যা ৮৭ বলে দাবি করা হয়েছে। এত বেশি যমজ ও একাধিক সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কিছু আধুনিক বিশ্লেষণে জেনেটিকভাবে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। তবে ভ্যালেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। চার শতাব্দী আগের এই ঘটনাটির সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ৬৯ সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবিটি এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ড তালিকায় রয়েছে। তাই ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভার নাম ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের তালিকায় এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ তোলা একাডেমিক নাথান কোফনাসকে সাসপেন্ড করেছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। আরডের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর কোফনাসের কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ডিসিপ্লিনারি তদন্তও শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কোফনাস ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও নৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের একজন পোস্টডক্টরাল গবেষক। তিনি জুলাইয়ে একটি ব্লগ পোস্টে আরডের পিএইচডি গবেষণায় অন্য গবেষণার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য মিল থাকার অভিযোগ তোলেন। পরে বিষয়টি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। আরডে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। আরডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে আলোচনায় আসেন। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে তার একাডেমিক কাজ ও যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পর কেমব্রিজ তদন্ত শুরু করে। এর মধ্যে তার পিএইচডি থিসিসের শতাধিক অংশ অন্য একটি থিসিসের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে। ৫ আগস্ট আরডে কেমব্রিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কয়েক দিন পর ১৪ আগস্ট তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। তার মৃত্যু ঘিরে প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ, একাডেমিক যাচাই প্রক্রিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোফনাসকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ডিসিপ্লিনারি তদন্ত চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান এবং বৈষম্য, ঘৃণা ও বর্ণবাদের বিরোধিতা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে তারা একাডেমিক স্বাধীনতার গুরুত্ব স্বীকার করলেও এর চর্চা দায়িত্বশীলভাবে করতে হবে বলে জানিয়েছে। কোফনাস নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার বিরুদ্ধে আরডেকে বৈষম্যের অভিযোগে তদন্ত চলছে এবং তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে। কোফনাস এর আগে কেমব্রিজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে এম্যানুয়েল কলেজ তার কিছু বিতর্কিত বক্তব্যের পর তার পদ শেষ করে দেয়। পরে কেমব্রিজের নিজস্ব তদন্তে তার প্রকাশিত মতামতকে অনেকে আপত্তিকর মনে করলেও তা আইন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রি-স্পিচ সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করেনি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। আরডের ঘটনাটি এখন ব্রিটিশ একাডেমিয়ায় প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ যাচাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং কোনো গবেষককে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোফনাসের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০১৩ সালে চীনের ২৪ বছর বয়সী ওয়াং শিয়াও জানতে পারেন, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাতে হয়তো আর এক বছরের মতো সময় আছে। পরিবারের কারও কিডনি তার সঙ্গে মেলেনি। জীবন বাঁচানোর আর কোনো পথ না দেখে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা শুনলে অবাক হতে হয়। ক্যানসার রোগীদের একটি অনলাইন সহায়তা গ্রুপে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন এমন এক অসুস্থ পুরুষকে, যিনি মৃত্যুর পর তার একটি কিডনি দান করতে পারবেন। ওয়াং সেখানে লিখেছিলেন, বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যথাসাধ্য যত্ন নেবেন। তার এই পোস্টের জবাব দেন ২৭ বছর বয়সী ইউ জিয়ানপিং। তিনি মায়েলোমা নামের এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং এরই মধ্যে কয়েকবার রোগটি ফিরে এসেছিল। ওয়াংয়ের সঙ্গে তার রক্তের গ্রুপও মিলে যায়। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে দুজন বিয়ে নিবন্ধন করেন। শুরুতে এটি ছিল মূলত বেঁচে থাকার একটি সমঝোতা। ওয়াং ইউয়ের চিকিৎসার সময় তার পাশে থাকবেন এবং পরে তার বাবার দেখাশোনা করবেন। বিনিময়ে ইউ মৃত্যুর পর নিজের একটি কিডনি ওয়াংকে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। দুজন নিজেদের আর্থিক বিষয়ও আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কক্ষ, চিকিৎসার দীর্ঘ দিন আর অসুস্থতার মাঝেও একসঙ্গে কাটানো সময় ধীরে ধীরে সেই চুক্তির চরিত্র বদলে দেয়। দুজন একে অন্যের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন, অসুস্থতা নিয়েও হাসি-ঠাট্টা করতেন এবং কঠিন সময় পার করতে পরস্পরকে মানসিকভাবে সাহস দিতেন। একসময় তারা বুঝতে পারেন, সম্পর্কটি আর শুধু কিডনির বিনিময়ে করা বিয়ে নেই। এরপর ইউয়ের আবার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ওয়াং রাস্তায় ছোট একটি ফুলের স্টল দেন। প্রতিটি ফুলের সঙ্গে তিনি হাতে লেখা কার্ডে তাদের গল্প তুলে ধরতেন। দুই অসুস্থ মানুষের একে অপরকে বাঁচানোর এই গল্প দ্রুত মানুষের নজরে আসে। অনেকেই তাদের ফুল কিনে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ থেকে প্রায় ৫ লাখ ইউয়ান সংগ্রহ হয়েছিল, যা ইউয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে। চিকিৎসার পর ইউয়ের শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হতে থাকে। একই সময়ে ওয়াংয়ের নিজের কিডনি সমস্যাও কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসে। তার ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে জানান, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়তো আর নাও হতে পারে। অর্থাৎ যে কিডনির আশায় তাদের বিয়ের শুরু, শেষ পর্যন্ত সেই কিডনির প্রয়োজনই আর রইল না। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুজন আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করেন। এবার তাদের বিয়ের পেছনে কোনো চুক্তি ছিল না, ছিল দীর্ঘ অসুস্থতার সময় একে অপরের পাশে থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরে পরবর্তীতে তারা একসঙ্গে ফুলের ব্যবসা শুরু করেন। তাদের অসাধারণ জীবনকাহিনি ২০২৪ সালের চীনা সিনেমা ‘ভিভা লা ভিদা’-র অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। যে দুজন একসময় জীবন বাঁচানোর জন্য একটি চুক্তিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তির প্রয়োজনই পড়েনি। বরং কঠিন অসুস্থতার মধ্য দিয়ে একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে তারা খুঁজে পেয়েছিলেন এমন এক সম্পর্ক, যা আজও তাদের একসঙ্গে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মাঝেই বৃহস্পতিবার পূর্ব দিকে একগুচ্ছ স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে পিয়ংইয়ং থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে সাগরে পতিত হয়েছে। কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' সামরিক মহড়া চলাকালেই পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহড়ার পরিসর 'উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর' নির্দেশ দেওয়ায় শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই এই মহড়া শেষ হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প মহড়া কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেন। গত বুধবার তিনি আরও জানান যে, চলতি বছরের শেষের দিকে কিমের সঙ্গে তার পুনরায় সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের জন্য 'উন্মুক্ত হুমকি' আখ্যা দিয়ে এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ আগস্ট পূর্ব উপকূলে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবারের এই নিক্ষেপটি হলো চলতি আগস্ট মাসে উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালানোর পর গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে এক কিশোর ভাই-বোন। চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই দুই কিশোর-কিশোরীর সন্ধানে জরুরি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ১৬ বছর বয়সী মুকর্মা এবং তার ১৪ বছর বয়সী ভাই মুহাম্মদ গত সোমবার ভোরের দিকে পরিবারের একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেআর১০ এনটিএফ (KR10 NTF)। সর্বশেষ তাদের গাড়িটি এ৪০ অক্সফোর্ড রোড হয়ে জেরার্ডস ক্রস থেকে বীকনসফিল্ডের দিকে যেতে দেখা গেছে। এরপর থেকে আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরায় গাড়িটির দেখা মেলেনি এবং পরিবারের সঙ্গেও তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। নিখোঁজ মুহাম্মদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, হালকা গড়নের এই এশীয় কিশোরের কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কালো চুল রয়েছে এবং সে নিয়মিত চশমা পরে। অন্যদিকে, তার বোন মুকর্মার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। হালকা গড়নের এই কিশোরীর লম্বা, কালো ও কোঁকড়ানো চুল সাধারণত বেণীতে বাঁধা থাকে। সে সম্ভবত হিজাব পরিহিত অবস্থায় আছে এবং তার এক গালে টোল রয়েছে। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ সার্জেন্ট গ্যারি ওয়াকার জানিয়েছেন, নিখোঁজদের বয়স, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময়ের কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ এই ঘটনাটিকে তদন্তের একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে। গ্যারি ওয়াকার জানান, চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই শিশুরা এখন দেশের যেকোনো স্থানে থাকতে পারে। তাই তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য বা দর্শন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে এগিয়ে আসার জন্য পুলিশ বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে কেউ যদি গত কয়েক দিনে তাদের কোনো প্রকার সাহায্য বা আশ্রয় দিয়ে থাকেন, তবে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। মুকর্মা বা মুহাম্মদকে দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে কল করে ‘CAD 2117/17AUG’ রেফারেন্স উল্লেখ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া কেউ চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে কল করে সম্পূর্ণ বেনামেও তথ্য প্রদান করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের কেন্ট শহরের নর্থফ্লিটে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ব্লেক গ্যালিয়ার। গত বছরের ৩০ অক্টোবর, নিজের ১৩তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর সে এই চরম পথ বেছে নেয়। তার শোকাহত পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম তাকে ধারাবাহিকভাবে এমন সব ভিডিও দেখাচ্ছিল, যা আত্মহত্যার মতো বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরে। বাইরে থেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও হাসিখুশি স্বভাবের ব্লেকের মধ্যে মানসিক অবসাদের কোনো লক্ষণই ছিল না বলে জানিয়েছেন তার মা জেমা বেস্ট। ৪৭ বছর বয়সী জেমা বেস্ট জানান, মৃত্যুর পর ব্লেকের ফোন ঘেঁটে তারা দেখতে পান সে নিয়মিত উদ্বেগজনক সব কন্টেন্ট দেখত এবং রিপোস্ট করত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সব বন্ধুর ফোন ছিল, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক বয়সও ছিল ১৩, তাই আমি বোকামি করে কখনোই বিষয়টি খতিয়ে দেখিনি। এখন বুঝতে পারছি, সামাজিক মাধ্যমই ব্লেকের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।" এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জেমা এবং ব্লেকের ১৯ বছর বয়সী বড় বোন টায়লা গ্যালিয়ার এখন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার ‘রেইজ দ্য এজ’ (Raise The Age) ক্যাম্পেইনের জোরালো সমর্থক। উল্লেখ্য, তরুণদের অনলাইনে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যা বড়দিনের আগেই পাস হতে পারে। এদিকে, অন্য কোনো শিশুকে যেন ব্লেকের মতো পরিণতি ভোগ করতে না হয়, সেজন্য তার মা ও বোন 'ব্লেকস পিংক প্রমিস' নামে একটি দাতব্য সংস্থা গড়ে তুলেছেন। আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় থাকা এই সংস্থাটি ইতিমধ্যেই গ্রেভসেন্ডের চারটি স্কুলের ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী ৭৬ জন শিক্ষার্থী এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য অর্থায়ন করেছে। টায়লা জানান, তাদের পুরো জীবন এলোমেলো হয়ে গেলেও অন্তত একটি শিশুকেও যদি তারা সাহায্য করতে পারেন, তবে এই উদ্যোগ সার্থক হবে। চলতি বছরের শেষের দিকে ব্লেকের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা ইনকুয়েস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজিল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ‘মহাকাশ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রম’-এর সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান। গত মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ মডেলের মার্কিন বিমানটি আবার সেখানে ফিরে আসে। আইসিই২৮ (ICE28) কল সাইনযুক্ত এই ফ্লাইটটি নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএ) জারি করা পাইলটদের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ বা 'নোটাম' (NOTAM)-এর কারণেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়। সিএএ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদেরকে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রমের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এটি ছিল মূলত রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা। এর ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সিএএ পাইলটদের জন্য এই নোটাম জারি করে। এই বিপদের আশঙ্কাটি তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ‘ওশেনিক ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর)’ এলাকার মধ্যে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার চুক্তির অধীনে নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করে থাকে। নিউজিল্যান্ডের এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতে, এফআইআর অঞ্চলটি প্রায় তিন কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বেশিরভাগ অংশই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত। তবে সিএএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা ওই এলাকাটিকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করলেও, তা বিমান চলাচলে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না; বরং ফ্লাইটের অপারেটরদের সতর্ক করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ফ্লাইটটি তাদের বার্ষিক শীতকালীন ফ্লাইটের একটি অংশ ছিল। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালীন গবেষণা মৌসুম শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গবেষকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতি বছর ক্রাইস্টচার্চ থেকে এই রুটিন ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়।
ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হতাহতের তথ্যভান্ডার ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিক্যাস) হালনাগাদ করার পর এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। গত বুধবার পেন্টাগন নতুন করে আরও ৫০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য এই তালিকায় যুক্ত করেছে। ডিক্যাসের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের সাথে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সর্বমোট ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে যখন আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এল। পেন্টাগনের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত মাসে ডিক্যাসের তালিকা থেকে নিহত চারজন এবং বেশ কয়েকজন আহত সেনার নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা চরম সমালোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে পেন্টাগন দাবি করে যে ‘সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের’ কারণে এই ভুল হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় তালিকায় যুক্ত করা হয়। পেন্টাগন গত মাসেই ডিক্যাসে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে হতাহতদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে ৭ জুলাই তারিখেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় কংগ্রেসকে ইরানের সাথে নতুন সংঘাত শুরুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। তবে কোন নির্দিষ্ট সংঘাতে এই সেনারা হতাহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পেন্টাগন শুরু থেকেই আহত সেনাদের তথ্য প্রকাশে বেশ ধীরগতি অবলম্বন করে আসছে। এতসব উদ্বেগ ও প্রাণহানির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে পরিস্থিতি বর্তমানে ‘খুব ভালো’। তবে তিনি তেহরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এখনও চরম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেকের পরিচয় হয় মাদুরাই বিমানবন্দরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের সময় রাবেক তাকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে সম্পর্কে গড়ায়। বর্তমানে তারা বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা জটিলতার কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এখনো স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাপথেই লোরেনা ও রাবেকের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির হলেও সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাবেক মুসলিম এবং লোরেনা ক্যাথলিক। দুই পরিবারের মধ্যেও শুরুতে ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তাদের একসঙ্গে বসবাসের পথ সহজ হয়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবার ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে থাকেন, আর রাবেক ভারতে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্বামীর যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টনার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। এর মধ্যেই তাদের ঘরে আসে সন্তান। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্ম দিলেও ভিসা না থাকায় রাবেক সেই সময় সেখানে যেতে পারেননি। ফলে সন্তানের জন্মের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পায়নি পরিবারটি। পরে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন হওয়ার পর রাবেক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। বর্তমানে লোরেনা ও রাবেককে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সময় ভাগ করে চলতে হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করে শেষ পর্যন্ত একই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার সরকারি আবেদন ফি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে আইনজীবী বা মাইগ্রেশন এজেন্টের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে লোরেনা ও রাবেকের ক্ষেত্রে মোট খরচ ঠিক কত হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরোপুরি ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের জন্য সমস্যাটি শুধু ভিসার নয়, বরং কোথায় পরিবার হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত। তাদের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তঃদেশীয় প্রেম, বিয়ে, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য এবং অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক কীভাবে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ে ও পরিবারে রূপ নিয়েছে, সেই গল্পই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির কিছু নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সন্তানের নাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
গাজা উপত্যকায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, মিসর ও কাতার। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তিন দেশ, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা তুরস্ক, মিসর ও কাতার। তারা বলেছে,গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ গাজায় বেসামরিক মানুষ, নারী ও শিশুসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন করে সংকট তৈরি করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের সদস্যরা। তুরস্ক, মিসর ও কাতার বলেছে, গাজা সংঘাতের অবসানে যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সেটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নিয়েও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে কোনটি আগে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে আলোচনা এগোতে বাধার মুখে পড়েছে। তিন দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। তুরস্ক, মিসর ও কাতারের এই অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের নাত্তাই জাতীয় উদ্যানে এককভাবে পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৮ বছর বয়সী লিলি হুপারের মরদেহ আট দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা মরদেহ উদ্ধারের পর ভুল যোগাযোগের কারণে কিছু সময়ের জন্য তার পরিবারকে জানানো হয়েছিল, লিলিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে সেই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়। লিলি হুপার ১২ আগস্ট সকালে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওকডেল এলাকার বাড়ি থেকে একা পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। তার গন্তব্য ছিল সিডনি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বন ও পাহাড়ি এলাকা। পুলিশ জানিয়েছিল, সেদিন সকালে তিনি বনাঞ্চল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবার তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করে। রাত প্রায় ১১টার দিকে উদ্ধারকারী দল নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের বোনাম পিক হাঁটার পথের কাছে ওয়াংগান্ডেরি রোডে তার গাড়িটি খুঁজে পায়। গাড়ি পাওয়া গেলেও লিলির কোনো সন্ধান মিলছিল না।এরপর শুরু হয় ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, রাজ্য জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী, বন ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা এতে অংশ নেয়। পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। ড্রোন, হেলিকপ্টার, বিশেষ উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর, ঘোড়া ও ট্রেইল বাইক ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। নাত্তাই জাতীয় উদ্যানের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ঘন বন, খাড়া ঢাল ও দুর্গম পথের কারণে অভিযান পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও লিলির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ২০ আগস্ট অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা বনাঞ্চলের ভেতর একটি মরদেহ খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, মরদেহটি লিলি হুপারের বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া তখনও সম্পন্ন হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিতের কথা জানায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পরই ঘটে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। অনুসন্ধান দলের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্যবহৃত একটি বার্তা ভুলভাবে বোঝা হয়। উদ্ধার অভিযানের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার জন্য ব্যবহৃত সংকেত বা কোডের অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এমন তথ্য পৌঁছে যায় যে লিলিকে জীবিত পাওয়া গেছে। সেই তথ্য তার পরিবারকেও জানানো হয়। এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসও সংসদে লিলিকে জীবিত উদ্ধারের খবর ঘোষণা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, আগের তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিবারের কাছে ক্ষমা চান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল খবরটি জানার পর লিলির পরিবার কয়েক মিনিটের জন্য ভেবেছিল তাদের মেয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরপর প্রকৃত খবর জানার পর সেই আশাই পরিণত হয় গভীর শোকে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশও স্বীকার করেছে যে যোগাযোগের ভুলের কারণে পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। লিলির পরিবার পুরো অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ, জরুরি সেবাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যান্য উদ্ধারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। আট দিন ধরে শত শত মানুষ দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি এখন শুধু লিলির মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; অনুসন্ধান অভিযানের সময় কীভাবে ভুল তথ্য তৈরি হলো এবং যাচাই না করেই তা কীভাবে পরিবার ও জনসমক্ষে পৌঁছে গেল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর যোগাযোগ বিভ্রাট এড়াতে প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। লিলি হুপারের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। আট দিনের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো;যে মুহূর্তে তারা মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন, তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আশার জায়গা নিয়েছে এক অপূরণীয় শোক।
ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব শুধু দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগই তৈরি করে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। দেশটির সরকারি তথ্যসেবা ইনফোফিনল্যান্ডে নাগরিকত্বের সঙ্গে যুক্ত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রথমত দেশটির পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার অর্জন করা। নাগরিকদের জন্য ফিনিশ পাসপোর্ট দেশের নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি নাগরিকদের সাধারণ বসবাসের অনুমতির তুলনায় নাগরিকত্বের এই অধিকার আলাদা। দ্বিতীয়ত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের নিজের দেশে প্রবেশের অধিকার রয়েছে। বিদেশে অবস্থান করলেও নাগরিকরা ফিনল্যান্ডে ফিরে যেতে পারেন। নাগরিকত্বের সঙ্গে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিশেষ সুরক্ষাও যুক্ত রয়েছে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ফিনিশ নাগরিকরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নিতে পারেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব অর্জনের পর একজন বিদেশি শুধু দেশটিতে বসবাসকারী ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন। চতুর্থত, ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে নাগরিকরা শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; তারা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। পঞ্চম অধিকার হলো নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজের সুযোগ। ফিনল্যান্ডের কিছু সরকারি দায়িত্ব ও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকত্ব প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে এমন কিছু সরকারি চাকরি ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়, যেগুলো বিদেশি নাগরিকদের জন্য সীমিত। ষষ্ঠ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব। ফিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় ফিনিশ নাগরিকরা একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন অধিকার পান। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোতে অবাধে চলাচল, বসবাস ও কাজের সুযোগ অন্যতম। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে অন্য সদস্যদেশে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও রয়েছে।তবে ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্বের সঙ্গে শুধু অধিকার নয়, কিছু দায়িত্বও রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ ফিনিশ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় পড়তে হতে পারে। নারীদের জন্য সামরিক সেবা স্বেচ্ছামূলক। ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের দেশের আইন মেনে চলার দায়িত্বও রয়েছে।নাগরিকরা বিদেশে অবস্থান করলেও কিছু পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের আইনের আওতায় আসতে পারেন। একই সঙ্গে ফিনল্যান্ড একাধিক নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুমতি দিলেও সংশ্লিষ্ট অন্য দেশের আইন ও নাগরিকত্বের বিধান আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। তবে নাগরিকত্ব এবং বসবাসের অনুমতি এক বিষয় নয়। ফিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না।নাগরিকত্বের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হয়।আবেদনকারীর পরিচয়, ফিনল্যান্ডে বসবাসের সময়কাল, ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে। ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব একজন বিদেশির জন্য শুধু একটি পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, নির্দিষ্ট সরকারি পদে কাজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে চলাচল ও কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নাগরিকদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও আইন মেনে চলার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়।
যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসকারী দম্পতিদের আর্থিক ও উত্তরাধিকার অধিকার বাড়ানোর সরকারি প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ৩৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী ক্লেয়ার লংহার্স্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তন কার্যকর হলে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর নিজের উপার্জন ও সঞ্চয়ের ওপরও আর্থিক দাবি তৈরি হতে পারে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লেয়ার ও তাঁর সঙ্গী ইউসুফ আব্রাকি ২০২২ সালে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। বিয়ের পোশাক, অনুষ্ঠানস্থল, তিন স্তরের কেক, আলোকচিত্রগ্রাহক এবং প্রায় ৬৫ জন অতিথির প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা আইনগতভাবে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। অনুষ্ঠানটি বিয়ের মতো হলেও সেখানে আইনগত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ছিলেন না। ক্লেয়ার ও ইউসুফের বয়সের ব্যবধান সাত বছর। ক্লেয়ারের বয়স ৩৭ এবং ইউসুফের ৩০। তাঁদের পরিচয় হয় ইউসুফ যখন ক্লেয়ারের কর্মস্থল ডেভিড লয়েড জিমে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। ক্লেয়ার জানিয়েছেন, তিনি ইউসুফকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন না; বরং নিজের আর্থিক স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই আইনগত বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা-মায়ের তিক্ত বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতাও তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে তাঁদের তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে এবং ক্লেয়ার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্লেয়ার বছরে প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি আয় করেন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয় গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে ইউসুফ সপ্তাহান্তে একটি বেকারিতে খণ্ডকালীন কাজ করেন। তাঁদের তিন কক্ষের ভাড়া বাসার ভাড়া, বিভিন্ন বিল ও স্থানীয় করের বড় অংশ ক্লেয়ারই বহন করেন।ক্লেয়ারের বক্তব্য, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিয়ে করেননি এবং এই সিদ্ধান্ত তাঁদের সম্পর্কের প্রতি অনাস্থার প্রকাশ নয়। বরং দুজনের সম্মতিতেই তাঁরা এমন একটি সম্পর্ক বেছে নিয়েছেন যেখানে প্রত্যেকে নিজের আর্থিক অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তাঁর সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদের একটি অংশ নিয়ে আইনি দাবি উঠতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রস্তাবটি এসেছে ‘এ ফেয়ারার এন্ড টু রিলেশনশিপস’ নামে একটি বিস্তৃত পারিবারিক আইন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে। ৫ জুন ২০২৬ সরকার এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ১৪ আগস্ট তা শেষ হয়। প্রস্তাবের আওতায় বিয়ে না করা দম্পতিদের বিচ্ছেদ এবং কোনো একজনের মৃত্যুর পর আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দম্পতি অন্তত তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করলে অথবা তাঁদের সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। তবে শুধু একসঙ্গে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহিত দম্পতির সমান অধিকার পাওয়া যাবে না। আদালতকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁরা একটি স্থায়ী পারিবারিক সম্পর্কে ছিলেন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্পর্ক ভেঙে গেলে আদালত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্পদ, বাসস্থান, পেনশন বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ নিয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরকারের নথিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি আইনগতভাবে নিজের মালিকানাধীন সম্পদের মালিকানা বজায় রাখবেন; বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ও পারিবারিক বাস্তবতা বিবেচনায় আদালত সম্পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সন্তানের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৩৫ লাখের বেশি দম্পতি বিয়ে বা নাগরিক অংশীদারত্ব ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস করছেন। ২০২৫ সালে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখে পৌঁছায়, যা মোট পরিবারের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান আইনে এসব পরিবারের অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা পান না। বর্তমান আইনে বিয়ে না করা কোনো দম্পতির একজনের সম্পত্তি, সঞ্চয় বা পেনশনের ওপর অন্যজনের বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। একইভাবে, কেউ উইল না করে মারা গেলে তাঁর সহবাসকারী সঙ্গীও বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রীর মতো স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হন না। নতুন প্রস্তাবে এই বিষয়গুলোও সংস্কারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। সরকার বলছে, সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি বা আয় কমিয়ে দেন কিংবা সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং সঙ্গীর মৃত্যুর পর আর্থিক অনিশ্চয়তার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান আইনে যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমাতে চায় সরকার। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, অনেক মানুষ সচেতনভাবেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাঁরা নিজেদের সম্পদ ও আর্থিক স্বাধীনতা আলাদা রাখতে চান। তাঁদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামো অনিচ্ছাকৃতভাবে বিয়ের মতো আর্থিক দায় তৈরি করতে পারে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে ক্লেয়ার লংহার্স্টের ঘটনাকে এই বিতর্কের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান হকহেডও বিষয়টিকে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এমন মানুষদের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক স্বাধীনতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে, যারা সচেতনভাবে আইনগত বিয়ে না করার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনের মতো নতুন আইন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। ১৪ আগস্ট ২০২৬-এ সরকারের পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়েছে; এখন সরকার মতামত ও তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। সরকারের ঘোষণাতেও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংস্কার সংসদীয় সময়সূচি ও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ফলে ক্লেয়ার লংহার্স্টের উদ্বেগটি বর্তমানে কোনো কার্যকর আইনের কারণে তাঁর সঞ্চয় হারানোর ঘটনা নয়; বরং ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাঁর আশঙ্কা। যুক্তরাজ্যে বিয়ে না করে একসঙ্গে বসবাসকারী লাখো দম্পতির আর্থিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, সেই প্রশ্নই এখন সংস্কার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের ইন্ডিয়া টুডে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কারণ ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনের আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ছিলেন শক্তিশালী অবস্থানে। পাকিস্তানের জিও নিউজ মির্জা ফখরুলকে বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাঁর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটির ক্ষমতায় ফেরার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও একই দিনে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সংসদে ৩৪৯ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং ভোটগ্রহণ উন্মুক্ত ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।অন্যদিকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্পর্কও তুলে ধরেছে। জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরে আসে। এর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের পেছনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁকে দলীয় পদ ছাড়তে হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বিরোধী রাজনীতিতে এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র ও নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। ফলে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার চেয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁর অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের বিষয়টিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর দীর্ঘদিনের এই বিরোধী নেতা এখন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মির্জা ফখরুলের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এদিকে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া দুটি বিষয়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমে খবরটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবারের প্রাণঘাতী হামলার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তুরস্ক, মিসর ও কাতার যৌথভাবে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। তিন দেশ বলেছে, গাজায় হামলা জোরদার হলে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে গাজায় সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ ফিলিস্তিনির মরদেহ নিয়ে গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতরা তিনটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় তাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব এটি স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব নয়।এর মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় প্রথমবারের মতো ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব ও তার পরিবারের সদস্যদের এবং ১৫ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে গাজায় হামলা অব্যাহত থাকা এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।