ঢাকা - স্টাফ রিপোর্টার: সোমালিয়ার মোগাদিশুর বিখ্যাত 'দারু সালাম ইউনিভার্সিটি' (ডিএসইউ)-র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রশাসনের এই সর্বোচ্চ চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্বকারী অধ্যাপক মিজানের এই শীর্ষ অবস্থান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা ও নেতৃত্বের এক অনন্য গৌরবগাথা। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি বিদেশের মাটিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে তিনি সাফল্যের সাথে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য দক্ষতা ও সুনামের সাথেই পালনে করে চলছেন। গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাজীবন ও পাণ্ডিত্য ড. মিজানের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত্তি গড়ে উঠেছে তাঁর অসামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞা ও দক্ষতার ওপর। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সরকার ও রাজনীতি' বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা ইন্সটিটিউট থেকে তিনি অর্জন করেছেন তিনটি স্নাতকোত্তর (MSS, MACPM ও MIR&D) এবং 'সুশাসন ও মানবাধিকার' বিষয়ের ওপর পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর শিক্ষকতা জীবনে তিনি সুশাসন, মানবাধিকার ও অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) মতো জটিল বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণামূলক অবদান রেখে চলেছেন। সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অধ্যাপক মিজানের এই বর্ণিল সাফল্যগাথা স্রেফ এক দিনে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক ত্যাগ ও লড়াইয়ের ইতিহাস। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। এর জের ধরে ২০০০ সালে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়ে, চরম নিপীড়নের মুখে ২০১৯ সালে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিশ্বমঞ্চে পদচারণা ও সমাজসেবা রাজনৈতিক নির্বাসনে গিয়েও দমে যাননি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাংতা গ্রামের এই কৃতি সন্তান। প্রয়াত শিক্ষাবিদ মৌলভি জোবায়েদ আলী ও নূরজাহান বেগমের সুযোগ্য পুত্র ড. মিজান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মেধার পরিচয় দিতে শুরু করেন। ডিএসইউ-এর উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি সোমালিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটি অব মোগাদিশু এবং বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যথাক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং সরকার ও রাজনীতি বিভগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সোমালিয়ার আলফা ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ব্যুরোতেও অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি একজন সমাজসেবক হিসেবে তিনি 'রোটারি ক্লাব অব ঢাকা স্কলারস'-এর প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদকের ভূমিকাও পালন করছেন। মানবতা ও তরুণদের প্রতি বার্তা নিজের এই দীর্ঘ অভিযাত্রাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক পরম বিজয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মিজান বলেন, "স্বৈরাচার যেখানে আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা সেখানে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছেন।" দেশ-বিদেশের তরুণ সমাজ ও বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তায় তিনি আহ্বান জানান, কোনো জুলুম, নির্বাসন বা কঠিন পরিস্থিতি যেন কারও স্বপ্নের সীমানা কেড়ে নিতে না পারে। আত্মবিশ্বাস ও মেধাকে শাণিত রেখে সবাইকে মানবকল্যাণে উৎসর্গীকৃত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এশিয়া ও আফ্রিকার সহকর্মী এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরার এই মহৎ মিশন কেবল শুরু।
কল্পবিজ্ঞানের মুভিগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় ল্যাবরেটরির কাঁচের জারে রাখা আছে মানুষের জীবন্ত মস্তিষ্ক, আর তার সঙ্গে সহস্র তার জুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে শক্তিশালী কোনো সুপারকম্পিউটার। এতদিন এসব দৃশ্যকে নিছক পরিচালকের বুনো কল্পনা ভেবে যারা উড়িয়ে দিতেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক চমকপ্রদ বাস্তবতা। প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য এই সন্ধিক্ষণে বিশাল সব ডেটা সেন্টারে সারি সারি সিলিকন চিপের জায়গা দখল করতে যাচ্ছে জীবন্ত কোষ তথা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন। আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এই প্রথম সিলিকন চিপ নয়, বরং সম্পূর্ণ জৈবিক উপাদানের সমন্বয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম জীবন্ত ডেটা সেন্টার। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কারের ফলে ডেটা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এখন আকাশচুম্বী। তবে এই কেন্দ্রগুলোর প্রাণভোমরা আধুনিক সিলিকন চিপের আকাশচুম্বী দাম এবং এগুলো চালাতে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ এখন বিশ্বজুড়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল বিদ্যুৎ খরচ ও চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা এক জাদুকরী ও টেকসই সমাধানের সন্ধান পেয়েছেন, যা হলো জৈবিক কম্পিউটার। সিলিকন চিপের বদলে মস্তিষ্কের নিউরন ব্যবহার করার ফলে বিদ্যুৎ খরচ যেমন অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পাবে, তেমনি কম্পিউটিং সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি ‘কোর্টিক্যাল ল্যাবস’। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন দিয়ে তৈরি দুটি জৈবিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে গোটা প্রযুক্তি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কোর্টিক্যাল ল্যাবস এর আগেও তাদের ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি নিউরনের সাহায্যে ক্লাসিক ভিডিও গেম ‘পং’ খেলিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে তারা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, তাদের ফ্ল্যাগশিপ জৈবিক কম্পিউটার ‘সিএল১’ মাত্র এক সপ্তাহের অনুশীলনে বর্তমান বিশ্বের অত্যন্ত জটিল ও জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ডুম’ (Doom) দারুণভাবে আয়ত্ত করে ফেলেছে। জীবন্ত কোষের এই ডেটা সেন্টার প্রযুক্তির বিবর্তনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি কেবল একটি সাশ্রয়ী সমাধানই নয়, বরং তথ্যের প্রক্রিয়াকরণে মানুষের জৈবিক কাঠামোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতার সফল প্রয়োগ। সিলিকন যুগের পর এবার মানুষের নিউরনের এই অভাবনীয় যাত্রা কম্পিউটিং জগতের ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আধুনিক জীবনের প্রতিটি মোড়ে এখন শৈশবের এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরের ড্রয়িংরুম—সবখানেই শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন। চোখের পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ শর্ট ভিডিও কিংবা রিল স্ক্রল করে যাওয়া এখনকার শিশুদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ব্যস্ত অভিভাবকরা শিশুকে শান্ত রাখতে কিংবা নিজের কাজে মনোযোগ দিতে অবলীলায় তাদের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি নিরীহ মনে হলেও, এর আড়ালে শিশুদের মানসিক ও ভাষাগত বিকাশে কতটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একদল গবেষক তাদের এক গবেষণায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব এবং বয়ঃসন্ধির শুরুতে যারা নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের শব্দভান্ডার এবং পড়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিও বা ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় শিশুরা নতুন নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তারা সাধারণ শব্দ চিনতে এবং সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ডিজিটাল আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর আইনি তৎপরতা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন শিশুদের সুরক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ঠিক এমন এক সময়ে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার এই গবেষণাটি জনসমক্ষে এলো, যা শিশুদের হাতে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে অভিভাবকদের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
ভারতের কেরালার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তরুণ আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া। বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরাম্ব্রা আসনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন তিনি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি হিসেবে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) হয়ে কেরালা রাজ্য আইনসভায় প্রবেশ করার গৌরব অর্জন করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ফাতিমা তাহিলিয়া মোট ৮১ হাজার ৪২৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কেরালার বাম গণতান্ত্রিক জোটের (এলডিএফ) অন্যতম শীর্ষ নেতা টি.পি. রামকৃষ্ণনকে ৫ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। রামকৃষ্ণনের এই পরাজয়কে বাম শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পেরাম্ব্রা আসনের এই ফলাফলকে ওই অঞ্চলের ভোটারদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির এক বড় ধরনের রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একই আসনে বাম জোটের রামকৃষ্ণন ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনে রামকৃষ্ণনকে হারিয়ে ফাতিমা তাহিলিয়ার এই জয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। canউদ্যোগী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ আইনজীবী তাহিলিয়ার এই জয় কেবল একটি আসনের সাধারণ ফলাফল নয়, বরং এটি মুসলিম নারীদের সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। অতীতে আইইউএমএল-এর পক্ষ থেকে নারীদের নির্বাচনে খুব একটা মনোনয়ন দেওয়া হতো না। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের আগে দলটির মনোনীত পূর্ববর্তী দুই নারী প্রার্থীই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। আইইউএমএল-এর পক্ষ থেকে প্রথম মুসলিম নারী বিধায়ক (MLA) নির্বাচিত হয়ে ফাতিমা তাহিলিয়া কেরালা রাজ্যে দলটির জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করলেন। পেরাম্ব্রার ভোটারদের রায় এবং এই তরুণ নেত্রীর ঐতিহাসিক বিজয় কেরালা বিধানসভার ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি জনগণের শক্তির জয় এবং সুশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।” তিনি রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। মোদি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ বিজেপিকে যে জনদেশ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের দল কাজ করবে। এমন একটি সরকার গঠন করা হবে, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন, সুযোগ এবং আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করবে।” নির্বাচনের সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ফলাফল উপলক্ষে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়। তামিলনাড়ু প্রাথমিক ভোট গণনায় বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। সকাল থেকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে এবং বিজয়ের টিভিকে-র মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিজয়ের টিভিকে এগিয়ে রয়েছে ১০৪ আসনে। অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতাসীন ডিএমকে এগিয়ে রয়েছে ৫০ আসনে। আর ৭৭ আসনে এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এডিএমকে জোট। নির্বাচন পরবর্তী বুথফেরত জরিপে অধিকাংশ সংস্থা ডিএমকে-এর জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছিল। তবে জেভিসি এক্সিট পোলসহ বেশ কিছু জরিপে এনডিএ জোট এবং বিজয় থালাপতির দলের জয়ের কথা উঠে আসে। অন্যদিকে একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে রয়েছে ১৭৫ আসনে। অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১১৫ আসনে। এছাড়া আসামে বিজেপি জোট ৯৩ আসনে এবং কংগ্রেস জোট ২৫ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট ডলার সংকট মোকাবিলায় এবার চীনা মুদ্রায় তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন যে এশীয় ও উপসাগরীয় মিত্ররা জরুরি ভিত্তিতে 'কারেন্সি সোয়াপ লাইন' বা দ্রুত ডলার বিনিময়ের সুযোগ চেয়েছে। ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং ডলারের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমিরাতের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ডলারের সরবরাহ পুনরুদ্ধার না করা হয়, তবে তেল লেনদেনের জন্য তারা ইউয়ানসহ অন্যান্য বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত এখনই ডলার ত্যাগ না করলেও এই হুঁশিয়ারিটি মূলত বর্তমান সংকটকালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার একটি চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। চীন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইউয়ানের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, তাই আমিরাতের এমন অবস্থান বেইজিংয়ের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি আংশিকভাবেও ইউয়ানে তেল বিক্রি শুরু হয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের আধিপত্য কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ১৯৯০-এর দশকের পর উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় মুদ্রা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন তিন বছরের এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ফরাসি সরকারকে সর্বোচ্চ ৬৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে লন্ডন। মূলত যৌথ নজরদারি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করাই এই বিশাল অংকের অর্থায়নের প্রধান লক্ষ্য। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে উত্তর ফ্রান্সের সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে। এর অধীনে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা এবং সামরিক কর্মকর্তা মোতায়েন করা হবে। বাকি ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড কেবলমাত্র তখনই প্রদান করা হবে, যদি নতুন পদক্ষেপগুলো অবৈধ পারাপার ঠেকাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর ফলে মানবপাচার চক্র দমনে পুলিশি সক্ষমতা ও তথ্য বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, এই সমঝোতার ফলে ফরাসি উপকূলে নজরদারি কার্যক্রম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত জনবল ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছেছে। তবে বর্তমান কিয়ার স্টারমারের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ৪২ হাজারের বেশি অবৈধ পারাপারের চেষ্টা সফলভাবে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন এই চুক্তিটি ২০২৩ সালে হওয়া আগের চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে টোল বা মাশুল ব্যবস্থা চালুর পর প্রথমবারের মতো রাজস্ব পেয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবাই এই ঘোষণা দেন। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইতিমধ্যে এই খাতের প্রথম আয় জমা হয়েছে বলে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিশ্চিত করেছে। গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন এই প্রণালী দিয়ে পার হওয়া জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সংঘাতের কারণে সেখানে নৌ চলাচল অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। তেহরান আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করবে। বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই জলপথের ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিশদ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এবং সাম্প্রতিক জাহাজ আটকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পেন্টাগনের গোয়েন্দা মূল্যায়নে এই প্রণালী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেও পুরো হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করে নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘসূত্রতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: তাসনিম ও মেহর নিউজ
শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালিয়ে ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করেছে সাইবার অপরাধীরা। এটি এখন পর্যন্ত দেশটির কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটা সবচেয়ে বড় সাইবার অর্থচুরির ঘটনা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় দেশটির পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হার্শানা সুরিয়াপেরুমা জানান, চুরি হওয়া এই অর্থটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার একটি ঋণ পরিশোধের জন্য পাঠানোর কথা ছিল। তবে নিয়মিত তদন্তের সময় দেখা যায়, নির্ধারিত সেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব থেকে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আগে অপরাধীরা প্রথমে মন্ত্রণালয়ের ই-মেইল সার্ভারে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ফৌজদারি তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সহায়তাও চেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা এই রহস্যজনক অর্থ লেনদেনের বিষয়ে অবগত আছেন এবং লঙ্কান কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। ২০২২ সালের চরম অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশটি যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে এই বিশাল অংকের অর্থ চুরি লঙ্কান অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জাতীয় আর্থিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঝুঁকি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে।
একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটেন সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’। এই আইনের ফলে ব্রিটেনে বর্তমানে ১৭ বছর বা তার কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য তামাকজাত পণ্য কেনা চিরতরে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। নতুন আইনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর সময়সীমা। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কখনোই বৈধভাবে তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। এমনকি বয়স বাড়লেও তাঁদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আজীবন বহাল থাকবে। এছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্কুল, খেলার মাঠ, হাসপাতাল এবং শিশুদের বহনকারী গাড়ির ভেতরে ধূমপান ও ভেপিং কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর এখন কেবল ‘রাজকীয় সম্মতি’ (Royal Assent) পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এটি কার্যকর হলে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। তবে পাব বাগান, সৈকত বা ব্যক্তিগত বাড়ির ভেতরে ধূমপানের ক্ষেত্রে এখনই কোনো নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালিতে ঘুরতে গিয়ে চরম অপদস্থ হলেন একদল ভারতীয় পর্যটক। উবুদ এলাকার বিলাসবহুল ‘আসভারা রিসোর্ট’ থেকে চেক-আউটের সময় হোটেলের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে তাদের হাতেনাতে আটক করে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ওই পর্যটকরা রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন এবং ১৯ এপ্রিল তাদের চেক-আউট করার কথা ছিল। যাওয়ার আগে হোটেলের কর্মীরা নিয়মিত পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, রুমের বেশ কিছু জিনিস নিখোঁজ। সন্দেহ হওয়ায় পর্যটকদের ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক হোটেলের সরঞ্জাম। উদ্ধারকৃত জিনিসের তালিকায় ছিল— গোসলের তোয়ালে, বাথরুমের পাপোশ, হেয়ার ড্রায়ার, কিমোনো রোব (পোশাক), এমনকি টিভির রিমোট বক্স এবং ডাইনিংয়ের চামচ-বাসনও। ভিডিওতে দেখা যায়, হোটেলের কর্মীরা যখন ব্যাগ থেকে একের পর এক জিনিস বের করছেন, তখন পর্যটকরা বারবার ক্ষমা চাইছেন এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার অনুরোধ করছেন। তবে হোটেলের এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, “টাকা বড় কথা নয়, এটি সম্মানের বিষয়। আপনারা অন্য দেশ থেকে এসে এমন কাজ করতে পারেন না।” পরবর্তীতে স্থানীয় জিয়ানইয়ার পুলিশ জানায়, পর্যটকরা তাদের ভুল স্বীকার করে সব জিনিস ফেরত দেওয়ায় এবং ক্ষমা চাওয়ায় বিষয়টি আর আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় বিদেশের মাটিতে পর্যটকদের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনা টাইটানিক জাহাজডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি হয়েছে ৯ লাখ ডলারেরও বেশি দামে। বিরল ও ঐতিহাসিক এই স্মারকটি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলার দামে বিক্রি হয়। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, লাইফ জ্যাকেটটি ব্যবহার করেছিলেন লরা মেবেল ফ্রানকাটেলি, যিনি ১৯১২ সালে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় লাইফবোটে করে প্রাণে বেঁচে যান। জ্যাকেটটির বিশেষত্ব হলো, এতে ওই সময় বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রীর স্বাক্ষরও রয়েছে, যা এটিকে আরও মূল্যবান করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইটানিক সম্পর্কিত যেকোনো স্মারক সামগ্রী বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে এই লাইফ জ্যাকেটটির মূল্য এত বেশি হবে, তা অনেকেই ধারণা করতে পারেননি। নিলামের আগে এর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি হিমশৈলে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিক। সে সময় জাহাজটিতে থাকা প্রায় ২,২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ইতিহাসে এটি অন্যতম মর্মান্তিক নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। নিলামকারীরা বলছেন, টাইটানিকের স্মৃতি আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই জাহাজের ইতিহাস, ট্র্যাজেডি এবং স্মারক সামগ্রীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনো অটুট। এই বিক্রি আবারও প্রমাণ করলো, টাইটানিক শুধু একটি জাহাজের নাম নয়—এটি ইতিহাস, বেদনা এবং মানুষের আবেগের এক অমলিন প্রতীক।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এ বছরের হজের প্রথম কাফেলা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পথচলা। মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও খেজুর দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজযাত্রীদের মদিনার মসজিদে নববীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কয়েক দিন অবস্থানের পর হজের মূল কার্যাদি পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আরও অসংখ্য ফ্লাইট মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য পরিবহন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে আলাদা সহায়তা দল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপের দেশগুলোতে পড়তে শুরু করেছে, যার ফলে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের খাদ্য ও শিল্প সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে পানীয় শিল্প এবং চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়তে পারে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আসন্ন গ্রীষ্মজুড়ে দেশটিতে খাদ্য সরবরাহে চরম চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ‘এক্সারসাইজ টার্নস্টোন’ নামক একটি মহড়ার মাধ্যমে যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। ফাঁস হওয়া গোপন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহ বর্তমানের মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মুরগি ও শূকর জবাই প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। এছাড়া রক্ত, অঙ্গ এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণে ব্যবহৃত ড্রাই আইস সংকটে প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে জি৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের হিসাব মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে চলতি বছর প্রতিটি পরিবারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ পাউন্ড খরচ করতে হতে পারে। কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনে জরুরি আইন জারি করে অন্যান্য শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার নিজে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফাঁস হওয়া তথ্যে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে। বর্তমানে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা না থাকলেও সুপারমার্কেটে পণ্যের বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে জনগণকে সরাসরি অবহিত করা হবে।
গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার লক্ষ্যে মিশরের রাজধানী কায়রোতে প্রথমবারের মতো সরাসরি গোপন আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আরিয়ে লাইটস্টোন এবং হামাসের পক্ষে রয়েছেন প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া। সিএনএনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হামাস প্রতিনিধি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান শর্তগুলো পূরণ না হলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া গাজা থেকে অবরোধ পুরোপুরি শিথিল করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আলোচনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। তবে হামাস এই প্রস্তাবকে ‘অসম ভারসাম্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা গাজায় পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও মানবিক বিপর্যয় রোধে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকেই মূল শর্ত হিসেবে গণ্য করছে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সংঘাত ও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কায়রোর এই সরাসরি আলোচনা গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উপকণ্ঠে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় ইহুদি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইম্যানুয়েল কলেজ’ চলতি বছরের শেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মূলত তীব্র আর্থিক সংকট এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সাবেক প্রধান রাব্বি লর্ড ইম্যানুয়েল জ্যাকোবোভিটস এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভি এই ঘোষণা দিয়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। গত বছরই আর্থিক চাপের মুখে স্কুলটির প্রাথমিক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০২৫ সালে দ্য সানডে টাইমস প্যারেন্ট পাওয়ার গাইডে এটি যুক্তরাজ্যের সেরা পারফর্মিং ইহুদি স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অবদান বেড়ে যাওয়ায় স্কুল পরিচালনার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতা অলিভার ডাউডেন এই পরিস্থিতিকে ‘বেসরকারি স্কুলে ভ্যাট আরোপের কুফল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে অনেক অভিভাবক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে বিনামূল্যে সরকারি ইহুদি স্কুলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায় এই সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এটি কেবল একটি স্কুল বন্ধ হওয়া নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবসান।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে সিরিয়া থেকে নিজেদের সর্বশেষ সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হাসাকাহ অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কাসরাক’ সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছিল। সিরীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ঘাঁটিটি ত্যাগ করার পরপরই সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশন সেখানে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জামগুলো জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটিটি সিরীয় সরকারি বাহিনী ও সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) অধীনে রয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে এসডিএফ-কে জাতীয় কাঠামোর সাথে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বাশার আল-আসাদকে পরাজিত করে ক্ষমতায় বসা আহমেদ আল-শারা সরকারের সাথে এসডিএফ-এর চুক্তির ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। নতুন এই সরকারকে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সাথে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই সেনা প্রত্যাহার বড় ভূমিকা রাখবে। ইরানের সাথে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননে ইসরায়েলের সাথে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন সেনারা সিরিয়া ত্যাগ করল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ বন্ধের’ নীতির অংশ হিসেবে এর আগে আল-তানফ এবং আল-শাদাদি ঘাঁটি থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে সিরিয়া রাষ্ট্র নিজেই তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ দমনের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে বলে দামেস্ক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানে একটি পাথর খনি ধসের দীর্ঘ ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবদুল ওয়াহাব বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ খাইবার পাখতুনখোয়ার মারদান জেলার রুস্তম তেহসিলের নাঙ্গাবাদ এলাকায় এই ভয়াবহ খনি ধসের ঘটনা ঘটে। এতে কর্মরত শ্রমিকরা মাটির নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই আটজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ১৭ দিন ধরে চলা টানা উদ্ধার অভিযান শেষে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) আবদুল ওয়াহাবকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তা সৈয়দ আব্বাস এক ভিডিও বার্তায় জানান, আবদুল ওয়াহাব মোহমান্দ জেলার বাসিন্দা। নিখোঁজ এই শ্রমিকের সন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল। তাকে উদ্ধারের পরপরই দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়ার পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতির কারণে ভূমিধস ও খনি ধস একটি নিয়মিত ঝুঁকি। বিশেষ করে আপার দির, সোয়াত ও কোহিস্তানের মতো এলাকায় খনি শ্রমিকরা সবসময়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। ১৭ দিন পর আবদুল ওয়াহাবের ফিরে আসা যেন এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুর জেলায় এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হরিপুরের হাট্টার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। সামা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরিপুরে সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড (এসএনজিপিএল) পরিচালিত একটি পাইপলাইনের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি বস্তি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা বাসিন্দারা আটকা পড়েন। জেলা ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু, দুই কিশোরী, দুই বৃদ্ধা নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পাইপলাইন লিকেজের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইসরায়েল নয়, বরং ইরানই ‘প্রধান শত্রু’। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। গারগাশ বলেন, আরব বিশ্বের অনেক দেশ ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও, হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে। ড. গারগাশ উল্লেখ করেন, জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের কারণে তেহরানের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আমিরাতের গভীর ও যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করে, তবে আমিরাতেরও অধিকার রয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি এবং ক্ষতিপূরণ চাওয়ার। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই আমিরাত এখন ইরানকে তাদের প্রধান হুমকি হিসেবে গণ্য করছে বলে তিনি জানান। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।