- প্রচ্ছদ
- রাজনীতি
রাজনীতি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন সামান্তা শারমিন। তবে তাঁর পদত্যাগের কারণ কিংবা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির ঘোষিত নতুন কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এর আগে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন কমিটিতে তাঁর পদ পরিবর্তনকে পদাবনতি হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পর সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জিনা হিনোহোসা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টানা তিন মেয়াদের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছর পর টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম লাতিন নারী গভর্নর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন হিনোহোসা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও টেক্সাস ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার পর জিনা হিনোহোসাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ডেসিশন ডেস্ক এইচকিউর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে হিনোহোসা প্রায় ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গ্রেগ অ্যাবট প্রায় ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে এবার বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটল। টেক্সাসে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে ১৯৯০ সালে গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন অ্যান রিচার্ডস। এরপর টানা কয়েক দশক অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গ্রেগ অ্যাবট ২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন। এবার তিনি চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু হিনোহোসার কাছে পরাজিত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো। জিনা হিনোহোসা টেক্সাসের অস্টিন থেকে নির্বাচিত পাঁচ মেয়াদের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ। এর আগে তিনি অস্টিনের পাবলিক স্কুল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন সিভিল রাইটস আইনজীবী। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়ে ওঠা হিনোহোসার মা মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। তাঁর বাবা একসময় টেক্সাস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি স্কুলের জন্য অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের বেতন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন হিনোহোসা। বিশেষ করে টেক্সাসে বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এসব প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাকে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র গ্রেগ অ্যাবট সীমান্ত নিরাপত্তা, কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি, কর কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রচারণায় তিনি হিনোহোসাকে অতিরিক্ত উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নির্বাচনী তহবিলের দিক থেকেও অ্যাবট এগিয়ে ছিলেন। তবে বিপুল প্রচারণা ব্যয় এবং রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত তাঁর জয় নিশ্চিত করতে পারেনি। বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে হিনোহোসা বলেন, টেক্সাসের মানুষ এমন একটি ফল তৈরি করেছেন, যা অনেকেই অসম্ভব মনে করেছিলেন। তিনি জানান, রাজ্যের মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস কখনো কমেনি। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর অ্যাবট তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে পরাজয় স্বীকার করে গ্রেগ অ্যাবট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় টেক্সাসের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাবটের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্রিস পাপাস। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর জন ই. সুনুনুকে পরাজিত করেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন সিনেটে সমকামী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী পাপাসের জয়ের ফলে নিউ হ্যাম্পশায়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনটি ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। দীর্ঘদিনের সিনেটর জিন শাহিন অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি শূন্য হচ্ছিল। রিপাবলিকানরা আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন পাপাস। তিনি বলেন, এই বিজয় ওয়াশিংটনের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিউ হ্যাম্পশায়ারের মানুষের অবস্থানের প্রতিফলন। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, হেলথ কেয়ারের ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। বিজয়ী ভাষণে স্বামী ভ্যানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পাপাস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফল যা-ই হোক, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে জীবন কাটাতে পারাকে তিনি নিজের সৌভাগ্য মনে করেন। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ক্রিস পাপাস ২০১৮ সালে প্রথমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর আগে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, হিলসবোরো কাউন্টির ট্রেজারার এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জন সুনুনু ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন সিনেটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিন শাহিনের কাছে পরাজিত হন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিনেটে ফেরার চেষ্টা করলেও পাপাসের কাছে হেরে যান। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরাজয় স্বীকার করে পাপাসকে অভিনন্দন জানান সুনুনু। মার্কিন সিনেটে এর আগেও প্রকাশ্যে সমকামী নারী ও এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে উইসকনসিনের সিনেটর ট্যামি বল্ডউইন অন্যতম। তবে প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। নিউ হ্যাম্পশায়ারের এই নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্রেটিকদের জন্য বড় সাফল্য। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ক্রিস পাপাস। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, নিউ হ্যাম্পশায়ার পাবলিক রেডিও, ডব্লিউএমইউআর।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি কানসাসে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সিনেট নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯৪ বছর পর কানসাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট একজন সিনেটরের এই পরাজয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স হ্যামিল্টনের বিজয় নিশ্চিত করেছে। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। এরপর টানা প্রায় এক শতাব্দী রাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আধিপত্য বজায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অবসান ঘটালেন হ্যামিল্টন। অ্যাডাম হ্যামিল্টন পেশায় একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক। তিনি কানসাসের চার্চ অব দ্য রেজারেকশনের প্রতিষ্ঠাতা প্যাস্টর। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আগে থেকেই রাজ্যটিতে তাঁর পরিচিতি ছিল। রাজনীতিতে নতুন হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং মধ্যপন্থী অবস্থানকে নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব দেন তিনি। অন্যদিকে পরাজিত রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কানসাসের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। এর আগে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। পেশায় চিকিৎসক মার্শাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নিজের আসন ধরে রাখতে পারেননি তিনি। মার্শালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অক্টোবর মাসে কানসাসে নির্বাচনী সমাবেশ করেন তাঁরা। রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে ব্যর্থ হন মার্শাল। নির্বাচনী প্রচারণায় হ্যামিল্টন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং হেলথ কেয়ারের খরচ নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেন তিনি। দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে কাজ করার অঙ্গীকারও ছিল তাঁর প্রচারণার অন্যতম বিষয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামিল্টন মধ্যপন্থী রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন পেতে সক্ষম হন। বিশেষ করে কানসাস সিটির আশপাশের শহরতলি এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন তাঁর বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কানসাস ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান সমর্থিত রাজ্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেখানে প্রায় ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই রাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সিনেট নির্বাচনে বিজয় এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ফলাফল হয়ে উঠেছে। হ্যামিল্টনের এই জয় শুধু কানসাসের রাজনৈতিক ইতিহাসেই পরিবর্তন আনেনি, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দলীয় শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় নতুন কংগ্রেসে দুই দলের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এর প্রভাব পড়বে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, নিউইয়র্ক পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হাউস স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফরিস। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান জেফরিসের পরবর্তী স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হাউস স্পিকার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনী প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাটদের হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চার বছর পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে দলটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। ৫৬ বছর বয়সী হাকিম জেফরিস বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্কের অষ্টম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্বকারী জেফরিস ২০১২ সালে প্রথম কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। ব্রুকলিনের বিভিন্ন এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তবে হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পিকার হওয়া যায় না। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশনে সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হতে হয়। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ধরে রাখতে পারলে আগামী জানুয়ারিতে বর্তমান রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন জেফরিস। নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, হেলথ কেয়ার, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সরকারি কার্যক্রমের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। হাউসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে বিভিন্ন কংগ্রেশনাল কমিটির নেতৃত্বও তাদের হাতে যাবে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, অভিবাসন নীতি এবং সরকারি কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ বাড়বে। তবে কোনো আইন কার্যকর করতে সিনেটের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মতো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। হাকিম জেফরিসের সম্ভাব্য স্পিকার হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে এর আগে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিক স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি নতুন ইতিহাস গড়বেন। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের এই ডেমোক্র্যাট নেতার সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নতুন কংগ্রেসে স্পিকার নির্বাচনের ভোট। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ক্ষমতাধর সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হবেন হাকিম জেফরিস।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক সিটিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিল সদস্য আবু আহমদ মুসার শপথ নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাঁর শপথ গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। তবে সিটি প্রশাসন বা আদালতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে শপথ গ্রহণের বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাকের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যালেক্সিস ক্রট তাঁর চেম্বারে আবু আহমদ মুসাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শহরের মেয়র নির্বাচন ঘিরে প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার মধ্যেই এই দায়িত্ব পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। আবু আহমদ মুসা হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মেয়র প্রো টেম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রাম্যাক রিভিউ গত ১৬ অক্টোবর জানিয়েছিল, মেয়র নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে মুসা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পরবর্তী সময়ে সিটি প্রশাসন জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাডাম আলহারবি মেয়র হিসেবে বহাল থাকবেন। হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র পদ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন থেকে। ওই নির্বাচনে অ্যাডাম আলহারবিকে প্রথমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি অ্যাবসেন্টি ব্যালট নিয়ে আদালতে মামলা করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স বিতর্কিত ব্যালটগুলো গণনা করে। নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ পান ২ হাজার ৮৯ ভোট এবং অ্যাডাম আলহারবি পান ২ হাজার ৭৭ ভোট। অর্থাৎ ১২ ভোটে এগিয়ে যান মাহমুদ। তবে তাঁর হ্যামট্রাম্যাকে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আইনি বিরোধ থাকায় ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি মুহিত মাহমুদের পক্ষে রায় দেন। আদালত তাঁর বসবাসের যোগ্যতা বহাল রাখেন এবং বিতর্কিত ব্যালটসহ নির্বাচনের ফল প্রত্যয়নের নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাহমুদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা দূর হয়। হ্যামট্রাম্যাক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, মেয়রের অনুপস্থিতিতে মেয়র প্রো টেম দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে সিটির সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবু আহমদ মুসাকে কাউন্সিল সদস্য এবং মোহাম্মদ হাসানকে মেয়র প্রো টেম হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে সোমবারের কথিত শপথের পর মুসার আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা ও দায়িত্বের মেয়াদ সম্পর্কে সিটির নতুন ঘোষণা প্রয়োজন। মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরের পাশেই অবস্থিত হ্যামট্রাম্যাক। শহরটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী রাজনীতিতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আবু মুসার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের খবর নিশ্চিত হলে তা শহরটির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটের সিনেট নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আগামীকাল ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে এই ফলাফল রিপাবলিকানদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বেশ কয়েকটি স্টেইটে দুই দলের প্রার্থীদের সমর্থনের ব্যবধান খুবই কম। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস, কানসাস, মেইন, ওহাইও ও আলাস্কায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেট আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়াতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানের আসনে দলটির প্রার্থী তুলনামূলক বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সাতটি স্টেইটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল এসেছে টেক্সাস থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। অর্থাৎ সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন তালারিকো। টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৮ সালের পর এই স্টেইট থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হননি। ফলে সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কানসাসেও রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন পেয়েছেন ৪৯ শতাংশ সমর্থন। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ। কানসাস থেকে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৩২ সালে। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনায় এবারের জরিপে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ওহাইওতে সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। মেইনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন পেয়েছেন ৫১ শতাংশ এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ সমর্থন। দুই স্টেইটেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা ৪৮ শতাংশ এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাঈদ রিপাবলিকান মাইক রজার্সের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের সমর্থন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যাচ্ছে, তা দুই দলের প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। ডেমোক্র্যাট এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের আসনসংখ্যা ৪৭। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন জিততে হবে। কারণ দুই দলের আসনসংখ্যা ৫০টি করে হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্ণায়ক ভোট দিতে পারবেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপগুলো ২৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। সাতটি স্টেইটে মোট ৫ হাজার ৭০৮ জন সম্ভাব্য ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। স্টেইটভেদে জরিপের ত্রুটিসীমা ভিন্ন। মিশিগান ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান তুলনামূলক বেশি হলেও অন্য পাঁচটি স্টেইটে ফল পরিসংখ্যানগতভাবে খুব কাছাকাছি। সিয়েনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডন লেভি জানিয়েছেন, জরিপ অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ব্যবধান বিবেচনায় উভয় দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও প্রকৃত ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। আগামীকাল মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার ভারসাম্য।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে কৃষকদের জন্য ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত কয়েক সপ্তাহে ঘোষিত এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ডিজেল, সার ও কৃষি উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে কৃষকদের সহযোগিতা করা। আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষিত সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে ডিজেলের উচ্চমূল্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এককালীন ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থসহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যেই এই কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। তবে কৃষকেরা কবে নাগাদ অর্থ হাতে পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া গবাদিপশু পালনকারী খামারি ও মৎস্য খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কৃষক ও জমির মালিকদের জন্য রয়েছে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থপ্রদান। সার উৎপাদন প্রকল্পে ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষায়িত ফসল উৎপাদন খাতের উদ্ভাবনী প্রকল্পে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পণ্য দাতব্য ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে ব্যবহারের কথা রয়েছে। তবে ঘোষিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই সরাসরি নগদ অনুদান নয়। এর মধ্যে ঋণ, সরকারি ক্রয় ও বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থও রয়েছে। এই উদ্যোগের বাইরে ২০২৫ সালের ফসল উৎপাদনের জন্য যোগ্য কৃষকদের প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের নিয়মিত নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভুট্টা, সয়াবিন, গম ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদকরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। কৃষিপণ্যের বাজারদর ও উৎপাদনসংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে বিদ্যমান সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে এসব অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। অটোমোবাইল সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য ছিল ৬ ডলার ৩২ সেন্ট। এক বছর আগের তুলনায় যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। ফলে ১০০ গ্যালনের একটি ট্যাংক পূর্ণ করতে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬০ ডলার বেশি খরচ হচ্ছে। ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং শুল্কনীতির কারণে কৃষি যন্ত্রপাতির খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর অনেক খামার লাভজনক অবস্থায় থাকতে পারছে না। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে চাপ তৈরি করেছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গ্রেগ ইবেনডাল মনে করেন, সরকারের এককালীন অর্থসহায়তা অনেক কৃষককে তাৎক্ষণিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তা দূর হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হলেও কৃষি খাতের অর্থনৈতিক সংকট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সহায়তা ঘোষণা কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ ভোটারদের সিদ্ধান্ত কতটা বদলাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকদের কাছে শুধু তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার খরচও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি ভোটার এল-সায়েদকে ভোট দিলে তাঁকে পাগল বলতে হবে। এর পরপরই তিনি মন্তব্য করেন, তাঁরা এমনিতেই পাগল। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলিনার রক হিলে রিপাবলিকান পার্টির এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সমাবেশে স্থানীয় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি মিশিগানের আলোচিত সিনেট নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা তোলেন। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন করতে পারেন এমন ভোটারদেরও আক্রমণ করেন। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যদি কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি হন এবং আবদুলকে ভোট দেন, তাহলে আপনি পাগল।’ এরপর তিনি আবার বলেন, ‘আপনারা এমনিতেই পাগল।’ তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের একাংশ হাততালি দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গ্রিওর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য উঠে এসেছে। শুধু ভোটারদের নিয়ে মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এল-সায়েদ এর আগেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। সাবেক কংগ্রেসম্যান রজার্সকে সমর্থন করছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এল-সায়েদ। নির্বাচনের শেষ সময়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা বা পরিবর্তনের হিসাবেও মিশিগানের আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের মতো বিষয়গুলো তাঁর নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে পারেন। তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানও নির্বাচনী প্রচারে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উদারপন্থী রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ব্রিজ টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির মুখপাত্র ব্র্যান্ডন ওয়েদার্সবি অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি ও মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটারদের অপমান করা গ্রহণযোগ্য নয়। মিশিগানের ভোটার অধিকারবিষয়ক সংগঠন র্যাঙ্ক এমআই ভোটের নির্বাহী পরিচালক মার্সেই আলেনও ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নিজে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি হওয়ায় প্রেসিডেন্টের মন্তব্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছে। আলেন বলেন, ভোটাররা নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন এবং কাকে সমর্থন করবেন, তা নির্ধারণের অধিকার তাঁদের রয়েছে। এর আগেও আবদুল এল-সায়েদকে সমর্থনকারী ইহুদি ভোটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, যেসব ইহুদি ভোটার এল-সায়েদকে সমর্থন করেন, তাঁদের নিজেদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। ওই বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ ক্যারোলিনার সমাবেশে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে নতুন করে মন্তব্য করলেন তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের মাথা পরীক্ষা করানো উচিত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থকদের উদ্দেশে এমন বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে আগেও দেখা গেছে। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। ডেট্রয়েটের এক সমাবেশে তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের আক্রমণের সমালোচনা করেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনে জন্মস্থান ও পরিচয় নিয়ে ছড়ানো বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা তাঁর ক্ষেত্রেও সফল হয়নি। মিশিগানে আবদুলের ক্ষেত্রেও তা সফল হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মিশিগানের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি, মুসলিম ও আরব আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকায় এসব জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির পর দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টাও চালাচ্ছেন এল-সায়েদ। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের বক্তব্যকে সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। মিশিগানের সিনেট আসনটি সেই লড়াইয়ের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি ভোটার এল-সায়েদকে ভোট দিলে তাঁকে পাগল বলতে হবে। এর পরপরই তিনি মন্তব্য করেন, তাঁরা এমনিতেই পাগল। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলিনার রক হিলে রিপাবলিকান পার্টির এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সমাবেশে স্থানীয় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি মিশিগানের আলোচিত সিনেট নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা তোলেন। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন করতে পারেন এমন ভোটারদেরও আক্রমণ করেন। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যদি কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি হন এবং আবদুলকে ভোট দেন, তাহলে আপনি পাগল।’ এরপর তিনি আবার বলেন, ‘আপনারা এমনিতেই পাগল।’ তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের একাংশ হাততালি দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গ্রিওর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য উঠে এসেছে। শুধু ভোটারদের নিয়ে মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এল-সায়েদ এর আগেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। সাবেক কংগ্রেসম্যান রজার্সকে সমর্থন করছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এল-সায়েদ। নির্বাচনের শেষ সময়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা বা পরিবর্তনের হিসাবেও মিশিগানের আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের মতো বিষয়গুলো তাঁর নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে পারেন। তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানও নির্বাচনী প্রচারে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উদারপন্থী রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ব্রিজ টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির মুখপাত্র ব্র্যান্ডন ওয়েদার্সবি অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি ও মুসলিম আমেরিকানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটারদের অপমান করা গ্রহণযোগ্য নয়। মিশিগানের ভোটার অধিকারবিষয়ক সংগঠন র্যাঙ্ক এমআই ভোটের নির্বাহী পরিচালক মার্সেই আলেনও ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নিজে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি হওয়ায় প্রেসিডেন্টের মন্তব্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছে। আলেন বলেন, ভোটাররা নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন এবং কাকে সমর্থন করবেন, তা নির্ধারণের অধিকার তাঁদের রয়েছে। এর আগেও আবদুল এল-সায়েদকে সমর্থনকারী ইহুদি ভোটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, যেসব ইহুদি ভোটার এল-সায়েদকে সমর্থন করেন, তাঁদের নিজেদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। ওই বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ ক্যারোলিনার সমাবেশে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে নতুন করে মন্তব্য করলেন তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের মাথা পরীক্ষা করানো উচিত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থকদের উদ্দেশে এমন বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে আগেও দেখা গেছে। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। ডেট্রয়েটের এক সমাবেশে তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের আক্রমণের সমালোচনা করেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনে জন্মস্থান ও পরিচয় নিয়ে ছড়ানো বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা তাঁর ক্ষেত্রেও সফল হয়নি। মিশিগানে আবদুলের ক্ষেত্রেও তা সফল হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মিশিগানের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি, মুসলিম ও আরব আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকায় এসব জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির পর দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টাও চালাচ্ছেন এল-সায়েদ। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের বক্তব্যকে সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। মিশিগানের সিনেট আসনটি সেই লড়াইয়ের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক সুইস সুন্দরী ও মডেল বিয়াট্রিস কিউল। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে তাঁকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় কিউলের বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি সুইজারল্যান্ডে মডেলিংয়ের পাশাপাশি আর্থিক খাতে কাজ করতেন। ১৯৯৩ সালে ট্রাম্পের আয়োজিত একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান তিনি। সেখানেই ট্রাম্প ও পরবর্তী সময়ে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, প্লাজা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমার যত্ন নেব।’ এরপর ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধি তাঁকে হোটেলের ওপরের তলায় একটি কক্ষে নিয়ে যান। কিউলের অভিযোগ, সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প তাঁকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতে বলে মন্তব্য করেন, ‘শো চলতেই হবে।’ কিউল জানান, এই অভিজ্ঞতার পর আতঙ্কিত অবস্থায় প্রতিযোগিতা শেষ করে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন কিউল। তবে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন। নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। আগের ও বর্তমান বর্ণনার এই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নতুন প্রতিবেদনে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হলেও অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টাইনের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন নারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যদের দাবি, অন্তত পাঁচজন নারী এপস্টাইনের উপস্থিতিতে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। আরও কয়েকজন নারীকে ট্রাম্পের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়। হোয়াইট হাউস এটিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জেফরি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে এই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে, এমন নয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় যৌন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা পৃথক দেওয়ানি মামলায় নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন ও মানহানির জন্য দায়ী করেন। তবে সেই দেওয়ানি রায় এবং বিয়াট্রিস কিউলের নতুন ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ পৃথক ঘটনা। ক্যারলের মামলার সিদ্ধান্ত দিয়ে কিউলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এপস্টাইন-সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে। কিউলের অভিযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। SOURCE মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; পিপল ম্যাগাজিন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য টেলিগ্রাফ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬; দ্য ইনডিপেনডেন্টের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার নিকি মিনাজ। রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে নিকি মিনাজের সৌন্দর্য নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে এর আগে কখনো এত সুন্দর লাগেনি।’ একই সমাবেশে নিকির শারীরিক সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মিশিগানের ম্যাকমোরান প্লেস অ্যারেনায় এই নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের পক্ষে প্রচার চালান ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে মিশিগানে পৌঁছান ৪৩ বছর বয়সী র্যাপার নিকি মিনাজ। সমাবেশে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠে নিকি রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিকি মিনাজের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর শরীরের একটি অংশের সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিকিকে দাঁড়াতে বলেন। নিকি উঠে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লে সমাবেশস্থলে উল্লাস শুরু হয়। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন নিকি তাঁর মন্তব্যে অপমানিত হননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিকি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমর্থন দিয়ে আসছেন। এরপর মঞ্চে উঠে নিকি মিনাজ সমর্থকদের নিয়ে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দেন। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের নামেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পার করছে। তাই মিশিগানের ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিকি বলেন, তাঁর ফিরে আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলেছে এবং মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আরও স্পষ্ট করেন নিকি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো তাঁর জন্য সম্মানের এবং তিনি ভবিষ্যতেও তাঁকে সমর্থন করে যাবেন। এমনকি ট্রাম্প আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকেও সমর্থন দেবেন বলে জানান এই র্যাপার। নিকির বক্তব্য শেষ হলে ট্রাম্প আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিকিকে আগে কখনো এত সুন্দর দেখায়নি। একই সঙ্গে তাঁকে একজন বুদ্ধিমান ও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া নিকি মিনাজ শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের কুইন্সে বেড়ে ওঠেন। সংগীতজগতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন আয়োজনেও তাঁকে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আর্থিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই শিল্পী। মিশিগানের নির্বাচনী লড়াই এবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাঈদ। অন্যদিকে গভর্নর পদে জন জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জোসেলিন বেনসন। সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে আবদুল এল সাঈদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এল সাঈদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের সরাসরি প্রচারে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে সমাবেশে প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যও সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের সিনেট ও গভর্নর পদের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে। ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ছয় মিনিটের ভিডিওতে তিনি বলেন, নির্বাচনী লড়াইয়ে স্বতন্ত্রদেরও জায়গা পাওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওতে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাককনাহে মনে করেন, কংগ্রেসে স্বতন্ত্র প্রতিনিধিরা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের ওপর স্থায়ী নজরদারি ও ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শুধু প্রতিবাদের প্রতীক কিংবা অন্য প্রার্থীর ভোট কমানোর মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবেও গুরুত্ব দিতে হবে। ভিডিওতে কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীকে সমর্থন দেননি এই অভিনেতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, নিজের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বদলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সামনে থাকা বিকল্পগুলোর ওপর জোর দেন তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজ এলাকার প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার আহ্বানও জানান। ম্যাককনাহের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে একই দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভোটারদের সব মত ও প্রত্যাশা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। স্বতন্ত্রদের ভোট দিলে তা নষ্ট হয়, এমন ধারণাকেও প্রশ্ন করেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য বিকল্প প্রার্থীদের বাস্তব সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর দলীয় বিভাজনের বাইরে যাওয়ার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে এমন আহ্বান ভোট ভাগ করে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস নিউজের প্রতিবেদনে এসব প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে টেক্সাসের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন ম্যাককনাহে, যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে নামেননি। এবারের ভিডিওতেও ২০২৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আলোচনা এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারীদের জোর করে হিজাব খুলিয়ে চুল তল্লাশি, মারধর ও গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারী প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের বরাতে ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ ও ৮ অক্টোবরের এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম সাফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর একজন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তা নারী বন্দিদের চুল পরীক্ষা করতে হিজাব খুলতে বাধ্য করেন। এরপর ১৭ জন নারীকে প্রায় তিন ঘণ্টা ১৩ নম্বর সেলে আটকে রেখে তাঁদের চুলের বেণি খুলতে বলা হয়। একই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবরণের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, ১৭ নারীকে আইসোলেশন সেলে রাখা হয়েছিল। তবে সাফার বিস্তারিত বিবরণে তাঁদের একটি সেলে একসঙ্গে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রত্যেককে পৃথকভাবে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের অভিযোগ, নারী বন্দিদের সেল ও গোসলের জায়গায় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বয়স্ক নারীসহ ১৫ জন বন্দি থাকা একটি কক্ষে পেপার স্প্রে ছোড়া হলে কয়েকজন বমি করেন। এসব ঘটনার মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সাফা। এর আগে ১৪ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছিল, দামন কারাগারে আটক দুই নারী আইনজীবীর কাছে তাঁদের সেলে বারবার অভিযান এবং ৭ অক্টোবর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস নারী বন্দিদের সুরক্ষা, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসা এবং আটক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা স্থগিত রাখা, ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সময়ে রাশিয়া মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি বড় প্যাকেজ স্থগিত রেখেছেন। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য জ্বালানির দাম কমানো হলেও সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে। ইউক্রেনের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো সামরিক সহায়তা। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি অবশ্য বলেছেন, সরবরাহে বিলম্বের পেছনে ইউক্রেনকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্য ছিল না। ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে শহর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করতে এসব ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। সামরিক সহায়তা সময়মতো না পৌঁছালে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ড্রোন পরিচালনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে সহায়তা সীমিত হওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে সম্পর্কের অবনতির মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০ অক্টোবর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নরওয়ের অসলোতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী কয়েকজন আইনপ্রণেতা রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর চাপ কমে গেলে মস্কো যুদ্ধক্ষেত্রে আরও সুবিধা পেতে পারে। তবে ট্রাম্পের প্রশাসন কূটনৈতিক উদ্যোগ ও জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো কার্যকর সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামরিক সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আলোচনা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরকারি অর্থের জালিয়াতি শনাক্ত করতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি কর্মসূচিতে সন্দেহজনক জালিয়াতির তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পেতে পারেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচিটির নাম ‘ফ্রড হুইসেলব্লোয়ার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’। বিচার বিভাগ এটি পরিচালনা করবে। fraud.gov ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা বড় ধরনের আইন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তথ্যদাতা পুরস্কারের যোগ্য হতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে শুধু অভিযোগ জমা দিলেই পুরস্কার পাওয়া যাবে না; তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। এই কর্মসূচি সরকারি অনুদান, সুবিধা ও অর্থায়ন ব্যবস্থায় জালিয়াতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে বাস্তবে কতটি মামলা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে এবং কতজন পুরস্কার পাবেন, তা এখনো জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান। সোমবার ১৯ অক্টোবর দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ গড়তে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভালো নির্বাচন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার বিস্তারিত যথাসময়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কোনো খবর তাঁর জানা নেই। ডিলার নিয়োগ ও সার বরাদ্দে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি। একই দিন ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সভায় চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবলসংকট নিরসন ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থের অপচয়, জালিয়াতি ও অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্ত করা, অর্থ ছাড়ের আগেই সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি নির্মূলবিষয়ক টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জালিয়াতি প্রতিরোধের অঙ্গীকারে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতের সরকারি কর্মকর্তারা এতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। সরকারি সহায়তার অর্থ অপব্যবহার হলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই জালিয়াতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের অর্থ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে সুবিধা হতে পারে। তবে উদ্যোগ ঘোষণার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জালিয়াতি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়েছে কিংবা ঘোষিত সাশ্রয়ের সব অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মসূচিটির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে তদন্ত, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে জালিয়াতি কমার পরিমাপযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর জর্জিয়ার ডালটনে নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের পদ নিয়ে উপহাস করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, তাঁর রসিকতায় উপস্থিত শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল সীমিত। ডালটন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সংশয় হলে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। এতে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই সংখ্যার পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র দেননি। এরপর ইরানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে ওই পদ নিতে বলার ভঙ্গিও করেন তিনি। ‘মোহাম্মদ’ মুসলিমদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি নাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি শ্রদ্ধা থেকে বহু মুসলিম পরিবার ছেলেসন্তানের এই নাম রাখে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, তাঁর ভাষা এসব জনগোষ্ঠীকে হেয় করে এবং নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। তবে শুক্রবারের এই নির্দিষ্ট মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কোনো সংগঠনের পৃথক বিবৃতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ইমিগ্রেশন নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একই তদন্তে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক ডজনের বেশি গ্র্যান্ড জুরি সমন দেওয়া হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের জন্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানিয়েছে, ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মামলা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানের একটি অংশে তিনি কীভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন এবং তাঁর প্রয়াত বাবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি তদন্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়েছেন। সংস্থাটি আইসিইর অংশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ওমর শিশু থাকাকালে তাঁর বাবা পূরণ করেছিলেন, এমন ইমিগ্রেশন নথিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ওমর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখানোর প্রচেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভিত্তিহীন অভিযোগের লক্ষ্য করেছেন। ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি হয়েছে। মিনেসোটার প্রতিনিধি ওমর ওই নির্বাচনে পুনর্নির্বাচন চাইছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত তদন্তে প্রকাশ্যে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তদন্ত বা ফোন জব্দ হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ঘটনা আওয়ামী লীগের সহিংস রাজনৈতিক চরিত্র আবারও প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজনের উচ্চস্বরে স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে কয়েকজনকে তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে এখানে আসার কারণ জানতে চাইতে এবং ফিরে যেতে বলতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। আমার দেশের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিবৃতিতে নাহিদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটির মধ্যে অনুশোচনার লক্ষণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশে ও বিদেশে সক্রিয় দলটির সহিংস কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। নাহিদ আরও দাবি করেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের সময় গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নাহিদ। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের সংকটকালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে তাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদিকে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনার পর যে ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রাপ্য প্রটোকলে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তবে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বা কোথায় তা শুরু হবে, প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।