সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

রাজনীতি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা ছাত্র হওয়ার জন্য সংসদে আসিনি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমির

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে ‘শিক্ষকের ভূমিকা পালন’ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা করতে হলে সংসদের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে সেখানে শিক্ষা দিতে হবে। সংসদ সদস্যরা কারও ছাত্র হওয়ার জন্য সংসদে আসেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।   তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ নতুন করে এসব শব্দ উচ্চারণ করেননি। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি অন্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আসছেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, তা বুঝতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সংসদে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসিনি। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটি ইউনিভার্সিটি খুলুন। সেখানে যার পছন্দ হয়, ভর্তি হবে এবং তার লেকচার শুনবে।’   ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হাসতে দেখা যায়।   জামায়াত আমির আরও বলেন, একই বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুইবার তাদের আক্রমণ করেছেন। তার ভাষায়, এটি ‘কালচারাল’ নয়, বরং ‘পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম’। এ ধরনের আচরণ সংসদে হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আজ সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য তাকে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং তার বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে।’   তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করে বক্তব্যটি সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দিলে তারা সংসদে বসবেন। অন্যথায় ‘অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার প্রশ্নই ওঠে না’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১২:১২
সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির বাইরে মির্জা ফখরুলের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবারের ভোটে তিনি পেয়েছেন মোট ২৫৫ ভোট।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।   বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন এবং মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।   বিএনপির নিজস্ব ভোট ২৪৪ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল তাঁর দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন ২৪৪ ভোট। দলটির নির্বাচিত ২০৮ জন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ৩৬ জনও তাঁকে ভোট দিয়েছেন।   অর্থাৎ বিএনপির নিজস্ব ভোটের হিসাব দাঁড়ায় ২৪৪টি। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। ফলে বিএনপির নিজস্ব ভোটের বাইরে তাঁর পক্ষে পড়েছে আরও ১১টি ভোট।   এই অতিরিক্ত ১১ ভোটের মধ্যে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে এসেছে তিনটি ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন সাতটি ভোট। আর ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।   সব মিলিয়ে বিএনপির ২৪৪ ভোটের সঙ্গে জোটসঙ্গীদের তিন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সাত এবং হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত একজনের ভোট যোগ হয়ে তাঁর মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ২৫৫টিতে।   অলি আহমদ পেলেন ৮৮ ভোট অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রদত্ত ৩৪৩ ভোটের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর ভোট যোগ করলে মোট ভোটের হিসাবও মিলে যায়।   ফল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।   নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর শুক্রবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এই ফলাফলে মির্জা ফখরুল শুধু বিএনপির সংসদ সদস্যদের সমর্থনই পাননি, জোটসঙ্গী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একটি অংশের ভোটও পেয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলে দলীয় ভোটের পাশাপাশি সংসদের বাইরে থেকে পাওয়া এই ১১ ভোটও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) নর্থ জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) নর্থ জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববারের এ আয়োজনে মিশিগানসহ আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও কমিউনিটির সদস্য অংশ নেন।   মিশিগানের ওয়ারেন শহরের ইসলামিক সেন্টার অব নাইন মাইল ব্যাংকুয়েট হলে ক্বারী শায়খ আব্দুল মুকিতের পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রেনেসাঁ কালচারাল গ্রুপ অব মিশিগানের শিল্পীরা নাশিদ পরিবেশন করেন।   মুনা নর্থ জোনের প্রেসিডেন্ট নেসার উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. সাঈদুর রহমান চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।   অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রামজি মুহাম্মদ, মুনার সহকারী নির্বাহী পরিচালক হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ, এমসিএম মসজিদের ইমাম শায়খ তারিক আদনান, দারুল কুরআন মসজিদের ইমাম শায়খ সাঈদ আহমদ, মুনার কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক খাইরুল হাসান রফিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।   বক্তারা বলেন, ইসলামের সুমহান আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দাওয়াহর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাওয়াহকে শুধু বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। ব্যক্তির চরিত্র, আচরণ, সততা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।   তারা বলেন, নতুন প্রজন্মকে ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে অভিভাবকসহ কমিউনিটির প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।   আয়োজক নেতৃবৃন্দ বলেন, মিশিগানের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও কমিউনিটির সদস্য কনফারেন্সে অংশ নেন। এ ধরনের আয়োজন মুসলিম সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন সিডিআর মসজিদের ইমাম শায়খ নেছার উদ্দিন।   কনফারেন্সে বক্তাদের আলোচনায় মূলত একটি বার্তাই গুরুত্ব পায়—দাওয়াহকে শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে ইসলামের নৈতিক ও মানবিক আদর্শের বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৯:৩১
১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে ড. অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
১১ দলের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন: কর্নেল অলি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রোববার রাজধানীতে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।   জোটের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়সহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যেও অলি আহমদকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন নম্বর ০০১ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ছাতা’।   প্রার্থী ঘোষণার পর অলি আহমদ বলেন, ১১ দলের নেতারা তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে তারা কখনো বেইমানি করবেন না।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জোটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশনও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।   জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এর আগেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। গত এপ্রিলে জোট ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে সময়ও জোটের বৈঠকে শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও অলি আহমদসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।   নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার করা সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাঠে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল ১১ দলীয় জোট।   অলি আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অংশ। ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই জোটের হয়ে অংশ নিয়েছিল এলডিপি।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১০:৫৯
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।   দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘ডেইলি ওয়াদা’ জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের নাম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।   বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আরেক নেতাও ফখরুলের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে। তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম জানানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ।   এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।   এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করে।   সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না হলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও বৈধ প্রার্থিতার ওপর।   নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।   তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই যদি একমাত্র বৈধ প্রার্থী হন, তাহলে সংসদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারে।   রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বুধবার বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত তিনি একক বৈধ প্রার্থী হলে ২০ আগস্টের ভোট ছাড়াই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:৩৯
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে আলোচনায় বসলে দুই দেশের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।   রোববার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জনবান্ধব। দুই দেশের দুই নেতা একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি। দুই দেশের প্রধান একসঙ্গে হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার পুরো আত্মবিশ্বাস আছে।’   দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, মানুষে মানুষে সম্পর্ক ভালো থাকলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথও তৈরি হয়।   তিনি বলেন, ‘মানুষ এক আছে, সমাধান হবেই। কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সব ইতিবাচক আছে।’   বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এই সম্পর্ক শুধু জনগণের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখা প্রয়োজন।   তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের এই সম্পর্ক সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখতে হবে।’   বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।   একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের খরচ কমানো এবং ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আচরণ খুবই ভালো এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কও ভালো। এই ইতিবাচক সম্পর্ক ভবিষ্যতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়েও আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং জনগণের সম্পর্ককে সরকারি পর্যায়ের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৬:৫২
শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে ঘিরে একাধিক সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

গণ অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে একাধিক সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, তাকে গণভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া, কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়া এবং পরে সামরিক বিমানে ভারতে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্বে ছিলেন, সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা নিশ্চিতকরণ প্রকাশ করা হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্ট রাজধানীতে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে তাকে ও তার বোন শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি সি-১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমানে তারা ভারতের উদ্দেশে রওনা হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পুরো অভিযানে হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের জন্য পৃথক ফ্লাইং ক্রু দায়িত্ব পালন করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র সরকারি বা সামরিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।    এতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিমান ও ক্রুরা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। প্রতিবেদনে অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বর্তমান দায়িত্ব সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।    আইনি দিক থেকে বিষয়টি নিয়ে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, পদত্যাগের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা পেতে পারেন। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, সে প্রশ্ন আইন ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির আলোকে মূল্যায়নের বিষয়। এই মতামত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর ব্যক্তিগত আইনি বিশ্লেষণ; এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৫:৭
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই বলে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। বিষয়টি সামনে আসায় ইরান-সংঘাতের জেরে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল গ্রিনকেভিচ সম্প্রতি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, অতিরিক্ত একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হবেন।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে এবং একই সঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সামরিক সম্পদ বণ্টন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।  পেন্টাগনের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, এ ধরনের সতর্কবার্তা সামরিক কমান্ডাররা প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিষয়টি বর্তমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কতটা বেড়েছে, সেটিও স্পষ্ট করে।      এর আগেও ওয়াশিংটন পোস্টের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলকে রক্ষায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনকে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খাতের অর্থ পুনর্বিন্যাস করতেও হয়েছে।  সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতিকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সম্পদ ধরে রাখা এখন পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Unknown প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ২১:৫৮
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, দলটিকে অতীতে নিষিদ্ধ করার একমাত্র কারণ ছিল তারা "আধিপত্যবাদ মেনে নেয়নি"। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পেছনেও জামায়াতকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, কারণ এই দলটিকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, "ধানাই-পানাই বাদ দিয়ে সোজা পথে চলুন। জাতি কঠিন সংকটে আছে।"   জুলাই গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত শুরু থেকেই এই আন্দোলনের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছিল, তবে কখনো এর একক কৃতিত্ব দাবি করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ চলছে এবং সাধারণ মানুষ যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছে না।   সভায় তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, জুলাইয়ের শহীদদের নির্মম হত্যার বিচার এবং আহতদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে জামায়াত সবসময় অনড় থাকবে। পাশাপাশি জনগণের অধিকার রক্ষায় যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ ও কথা বলা অব্যাহত থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১১:৪৩
এনআইএআইডি এর সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসি
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসিকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিনেটের একটি তদন্তমূলক শুনানি। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা, উহানের গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, সরকারি নীতিনির্ধারণ এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্য নিয়ে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাউসি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা আত্মঅভিযোগ এড়ানোর সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুনানির শুরু থেকেই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ফাউসির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯-এর উৎস, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। এদিনও তিনি জানতে চান, উহানের গবেষণায় মার্কিন অর্থায়নের বিষয়ে ফাউসি কি কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছিলেন, কোভিড-১৯-এর উৎস সম্পর্কে জনগণকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তিনি পূর্ববর্তী সাক্ষ্যে সত্য গোপন করেছিলেন কি না।     প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে ফাউসি একই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আইনজীবীর পরামর্শে তিনি ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’-এর অধিকার ব্যবহার করছেন। ফলে এসব প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। এরপর রিপাবলিকান সদস্যরা মহামারির সময় নেওয়া বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লকডাউন, স্কুল বন্ধ, মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা, টিকা নীতি এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারি বার্তা। তারা জানতে চান, এসব সিদ্ধান্তের ফলে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে ফাউসি কোনো ভুল স্বীকার করেন কি না। কিন্তু এসব প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি ফাউসি। তিনি বারবার একই সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে নীরব থাকেন। শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি ফাউসির নীরবতার সীমা যাচাই করতে কয়েকটি অত্যন্ত সাধারণ প্রশ্নও করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দিনের নাম, ফাউসির পরা টাইয়ের রং এবং শুনানিকক্ষের কার্পেটের রং সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। কিন্তু এসব প্রশ্নের ক্ষেত্রেও ফাউসি উত্তর না দিয়ে ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করেন। অন্য রিপাবলিকান সদস্য বার্নি মোরেনো মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, চাকরি হারানো মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ফাউসি ক্ষমা চাইবেন কি না। এসব প্রশ্নেরও কোনো সরাসরি জবাব দেননি সাবেক এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।     তবে শুনানির শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফাউসি বলেন, বহু বছর ধরে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, চলমান পরিস্থিতিতে যেকোনো বক্তব্য ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। সে কারণেই তিনি আইনজীবীর পরামর্শে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে র‍্যান্ড পল দাবি করেন, ফাউসির নীরবতা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর জবাব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। তার অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া প্রি-এম্পটিভ ক্ষমার পরও ফাউসির ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানান, কমিটি ফাউসির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। শুনানিতে রিপাবলিকান সদস্যদের মূল প্রশ্নগুলো ছিল উহান গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, ‘গেইন অব ফাংশন’ গবেষণা, কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য উৎস, মহামারির সময় সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য নন যা ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অধিকার। তবে এই অধিকার ব্যবহার করা অপরাধ স্বীকার করার সমতুল্য নয়; বরং সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এড়ানোর একটি সাংবিধানিক সুযোগ।     দিনব্যাপী শুনানির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব প্রশ্নেই ফাউসির একই অবস্থান। এতে শুনানি রাজনৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকানরা এটিকে জবাবদিহি এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর ফাউসির পক্ষের যুক্তি হলো, তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত একটি অধিকার প্রয়োগ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ০:১৩
ছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের পরদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন সাবেক ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেওয়ার ঠিক একদিন পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।   বুধবার (১৫ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে দেখা করে দলটির সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন তিনি। এই সময় সদ্যবিদায়ী শিবিরের অন্যান্য নেতারাও দলটির সহযোগী সদস্য ফরম সংগ্রহ করেন। জামায়াতে সাদিক কায়েমের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।   এর আগে গত সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দেন সাদিক কায়েম। সর্বশেষ তিনি এই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   এদিকে জামায়াতে যোগদানের পরই সাদিক কায়েমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত জুনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থী হিসেবে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।   অবশ্য বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জামায়াত নেতা জানিয়েছেন, দলের প্রার্থী হিসেবে তার নাম চূড়ান্ত হলেও তা এখনও অনানুষ্ঠানিক। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ তথা মজলিসে শূরার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, সাদিক কায়েমই যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখন প্রায় নিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১২:১০
সংগৃহীত
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর পাশে দেশের মানুষও দাঁড়াবে।”   আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সব নাগরিকের দায়িত্ব। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ইস্যুতে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিল আনা হলেও শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদকের সম্পূর্ণ নির্মূল নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, “মাদককে নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়, সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। মাদক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।”   তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন সদস্য দাবি করেছেন যে দেশের বড় একটি মাদক চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা দিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, জনস্বার্থে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংসদে কঠোর বিরোধিতা করা হবে। উন্নয়নের নামে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ সময় তিনি নেত্রকোনার স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অর্থবছরের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।   মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। সঞ্চালনা করেন জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া।   এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৮:৫৮
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল আজ ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধি দলটি দেশটির বিভিন্ন শোকানুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবে।   প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ডা. এস. এম. খালিদুজ্জামান, মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরকালে প্রতিনিধি দলটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা, দাফন এবং শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবে। পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতেও তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছে।   ইরানের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে। পরে কোমে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২৩:৩২
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলি হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্যও ইরান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো ভিসা না পাওয়ায় তিনি বিমানের টিকিট কাটতে পারেননি। ফলে তার সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভিসা পাওয়ার পরই যাত্রার তারিখ ও ফ্লাইট নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।   এনসিপি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। সফরটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন দলটির নেতারা।   অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্যসহ চারজন নেতারও ইরান যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এনসিপির জন্যও ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুযোগ তৈরি হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ২:৫৭
শেখ হাসিনা | ছবি: সংগৃহীত
এ বছর দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব: শেখ হাসিনা

ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন।   সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।”   বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।”   নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।”   দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”   আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন।   বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৯:৫০
জায়িদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত
জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন শিবির প্যানেলের রাকসু নেতা

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান। শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জাহানারা ইমামকে অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   জায়িদ হাসান রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর পোস্টে একটি ফটোকার্ডে জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীর তথ্য তুলে ধরা হলেও ক্যাপশনে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নে বিদেশি নকশা অনুসরণ করা হয়েছিল।   পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনেকেই এ মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে জায়িদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   সমালোচনার মুখে জায়িদ হাসান পরে আরেকটি পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো শহীদের মাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি; বরং জাহানারা ইমামের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই পোস্টে তিনি নিজের আগের বক্তব্যে অনড় থাকার কথাও জানান।   এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জায়িদ হাসানের বক্তব্যের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে রাকসু কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খানও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাকসুর সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবি তোলেন। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।   জাহানারা ইমাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর ছেলে শাফী ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি 'শহীদ জননী' হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখা একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।   ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রাকসু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ২৩:২৬
ত্রিপুরায় মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত | ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক এমপি প্রাণ গোপাল দত্ত!

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই কলেজটির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ক্লাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।   ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের একজন স্টাফ নার্স আজ শনিবার সকালে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ওই প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কতদিন ধরে সেখানে শিক্ষকতা করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি ওই কর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে নাক-কান-গলা (ইএনটি) সম্পর্কিত একটি বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবং তাঁর পেছনের ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।   গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না মিললেও, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজের এই সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন।   অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ৯:৩৩
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান।   বক্তব্যে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।     বক্তব্য শেষে সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান। সংসদের এমন দৃশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।     এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।     সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য এবং তাৎক্ষণিক এই প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশের একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ৩:৪২
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
দক্ষিণ এশিয়ায় ‘জেন জি’ অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের সামনে কঠিন বাস্তবতা

বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় যুবসমাজ এবং ‘জেন জি’ (জেনারেশন জেড) প্রজন্মের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারগুলো বর্তমানে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। প্রবল জনসমর্থন ও পরিবর্তনের বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা এখন তাদের সামনে দৃশ্যমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ এই নতুন সরকারগুলোর যাত্রাপথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।   বিগত কয়েক বছরে এই তিন দেশেই তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় দেউলিয়া অবস্থা ও নিত্যপণ্যের চরম সংকটে গণ-বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন হয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিপ্লবে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে নেপালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সৃষ্ট ‘জেন জি’ বিপ্লবের জোয়ারে কে পি শর্মা অলির সরকারের পতন ঘটে। দেশগুলোর আইএমএফ নির্ভরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুবসমাজের জনসংখ্যাগত চাপ এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উসকে দিতে এই আন্দোলনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করেছিল।   গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তিন দেশের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। নেপালে উগ্র পরিবর্তনের পথে হেঁটে সাবেক র‍্যাপার বালেণ শাহ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএনপি নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কায় মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী জোটের নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সরকারগুলোকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও অনভিজ্ঞতা ও ধীরগতির কারণে সেই আশাবাদ দ্রুতই ফিকে হতে শুরু করেছে। নেপালে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মাসেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   অভ্যন্তরীণ এই সংকটগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে, যা নতুন সরকারগুলোর স্বস্তির সময়কে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একধরনের আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর খামখেয়ালি আচরণ দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নতুন এই সরকারগুলো যদি বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশগুলোতে আবারও তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণ-বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৫:২১
শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি থেকে অবসরের গুঞ্জন নাকচ করলেন শেখ হাসিনা, আবারও ফিরতে চান রাজনীতির মাঠে

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের একা রেখে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তার অবসর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে নেই।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?”   তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসর বিবেচনা করবেন।   আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিল ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।   অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৮:৫২
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে ।  ছবি: সংগৃহীত
শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির আদর্শিক কর্মী তৈরির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।   দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।   সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সভাপতি এ.বি.এম. ইজাজুল কবির রুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান।   দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই চার নেতাকে সভাপতি পদে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।   তবে চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   দলীয় সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আসছে। বিশেষ করে জুলাই মাসের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।   ছাত্রদলের অধীনে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিশাল শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।   এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার (বিন্দু)।   যদিও ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এখন নজর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।   নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকার সমন্বয় কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৬:৪৩
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০