- প্রচ্ছদ
- লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল
বয়স মাত্র ২৪ বছর। অথচ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ডলারের সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন লন্ডনের তরুণী মিয়া ম্যাকগ্রাথ। লক্ষ্য আরও বড়। ৪০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এমন আর্থিক অবস্থানে যেতে চান, যেখানে জীবন চালানোর জন্য নিয়মিত চাকরি করা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। এই লক্ষ্য পূরণে মিয়া বেছে নিয়েছেন কঠোর সঞ্চয় ও নিয়মিত বিনিয়োগের পথ। দামি কফি কেনা থেকে শুরু করে নিয়মিত বাইরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় পোশাক কিংবা সৌন্দর্যচর্চায় বড় অঙ্কের খরচ, সবকিছুতেই লাগাম টেনেছেন তিনি। তার দৈনন্দিন সাশ্রয়ের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ সকালের নাশতা। অধিকাংশ দিন ডিমের সঙ্গে রুটি বা অর্ধেক ব্যাগেল খেয়ে সকাল শুরু করতেন মিয়া। খরচ পড়ত প্রায় ৫০ পেন্স, যা এক ডলারেরও কম। তবে শুধু সস্তা নাশতা খেয়ে যে তিনি এত অর্থ জমিয়েছেন, বিষয়টি তা নয়। মিয়ার আর্থিক অবস্থান তৈরির পেছনে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুবিধা ও সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর প্রায় দুই বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকায় তাকে রেন্ট দিতে হয়নি। মিয়া নিজেও এই সুবিধার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে থাকার সুযোগ তাকে আর্থিকভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। রেন্ট ও বাসাবাড়ির অন্যান্য বড় খরচ না থাকায় আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে দিতে পেরেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ফুলটাইম চাকরির সঙ্গে বিভিন্ন সাইড হাসল থেকেও বাড়তি আয় করেছেন। মিয়া নিজেই জানিয়েছেন, শুরু থেকেই তার আয় অস্বাভাবিক বেশি ছিল না। বরং অল্প বয়সে পার্সোনাল ফাইন্যান্স সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হওয়া এবং আয় হাতে আসার পর নিয়মিত বিনিয়োগ করাই তাকে দ্রুত এগিয়ে দিয়েছে। তার বাড়তি আয়ের পথগুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন পণ্য পুনরায় বিক্রি, ব্যাংক সুইচিং, সার্ভে, কনটেন্ট তৈরি এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তোলা। ছোট অঙ্কের বাড়তি আয়কেও তিনি বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। মিয়ার এই পরিকল্পনা মূলত ‘ফায়ার’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফায়ার অর্থ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনডিপেনডেন্স, রিটায়ার আর্লি’। এই ধারণার অনুসারীরা কর্মজীবনের শুরুর দিক থেকেই আয়ের বড় অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের আয় দিয়েই জীবনযাপনের ব্যয় চালানো সম্ভব হয়। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মিয়া জানিয়েছিলেন, তার সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। সে সময় তার নির্ধারিত ‘ফায়ার নম্বর’ ছিল প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। অর্থাৎ তার হিসাবে ওই পরিমাণ বিনিয়োগ তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে সেখান থেকে পাওয়া আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিকভাবে স্বাধীন থাকা সম্ভব হতে পারে। পরবর্তী সময়ে তার সঞ্চয় আরও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ মিয়া জানান, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রায় এক লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে নিজের লেখায় তিনি জানান, ২৫ বছর বয়সে তার নেট ওয়ার্থ প্রায় তিন লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে এবং তিনি নিজের ব্যবসাও পরিচালনা করছেন। তবে মিয়ার কাছে ‘আগে অবসর’ মানেই ৪০ বছর বয়সে সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া নয়। তার লক্ষ্য ‘সফট রিটায়ারমেন্ট’। অর্থাৎ অর্থ উপার্জনের বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কতটা এবং কখন কাজ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অর্জন করা। তিনি চান এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে, যখন ছুটি নেওয়ার জন্য প্রতিবার বসের অনুমতির অপেক্ষা করতে হবে না এবং শুধু মাসিক বিল পরিশোধের জন্য অপছন্দের চাকরি ধরে রাখার প্রয়োজন হবে না। মিয়ার গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিজের আর্থিক সুবিধার বিষয়টি তিনি আড়াল করেননি। বাবা-মায়ের সঙ্গে রেন্ট ছাড়া থাকার সুযোগ তার সঞ্চয়ের গতিকে বাড়িয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ফলে তার সাফল্যের পেছনে শুধু দৈনিক কফি বাদ দেওয়া বা ৫০ পেন্সের নাশতা নয়, কম খরচে থাকার সুযোগ, ধারাবাহিক বিনিয়োগ, বাড়তি আয়ের একাধিক পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা একসঙ্গে কাজ করেছে। অল্প বয়সে কিছু ভোগব্যয় কমিয়ে মিয়া যে লক্ষ্যটি অর্জন করতে চাইছেন, সেটি শুধু নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করা নয়। তার কাছে মূল লক্ষ্য এমন আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা, যেখানে জীবনের সময় কীভাবে ব্যয় করবেন, সেই সিদ্ধান্ত অর্থের প্রয়োজন নয়, বরং নিজের ইচ্ছাই নির্ধারণ করবে।
২০১৯ সালে স্ত্রী কেলি ম্যাকগ্রর দেওয়া একটি চুল কাটায় অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিনব পথ বেছে নেন জেমস ম্যাকগ্র। স্ত্রীর ঘুমন্ত অবস্থায় বিমানে তোলা একটি অপ্রস্তুত ছবি, যেখানে তাকে নাক ডাকতে দেখা যায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেয় জেমসের উরুতে ট্যাটু হিসেবে। দীর্ঘ ২৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে নানা ধরনের মজার প্র্যাঙ্ক বা ঠাট্টা করে একে অপরকে চমকে দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে জেমস ও কেলির। তবে ২০১৯ সালের ঘটনাটি তাদের সেই মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে যেন অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। স্ত্রীর দেওয়া চুল কাটাটি পছন্দ হয়নি জেমসের। তাই প্রতিশোধ হিসেবে তিনি বিমানে ঘুমিয়ে থাকা কেলির একটি ছবি বেছে নেন। ছবিতে কেলিকে নাক ডাকতে দেখা যাচ্ছিল। শুধু তাই নয়, ট্যাটুতে তার চেহারার একটি বৈশিষ্ট্য আরও বাড়িয়ে দেখানো হয়, যাতে ছবিটি আরও হাস্যকর দেখায়। ঘটনাটি জানার পর প্রথমে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে যান কেলি। তার মনে হয়েছিল, মজা করতে গিয়ে জেমস এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে নিজের এমন একটি ছবি স্থায়ীভাবে স্বামীর শরীরে ট্যাটু হিসেবে দেখে তিনি মোটেও খুশি হননি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষোভ অনেকটাই হাসিতে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত কেলিও ট্যাটুটির অদ্ভুত ও হাস্যকর দিকটি মেনে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে মজা করতে শুরু করেন। তবে এখানেই গল্প শেষ নয়। দীর্ঘদিনের এই প্র্যাঙ্ক যুদ্ধের পাল্টা জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেলি। তিনি জানিয়েছেন, জেমসের এই কাণ্ডের প্রতিশোধ তিনি নেবেন। আর কেলির সেই প্রতিশোধ নিয়ে এখন বেশ চিন্তিত জেমস নিজেই। এত বছরের দাম্পত্য জীবনে একে অপরকে নিয়ে অসংখ্য মজার কাণ্ড ঘটালেও, এবার কেলি কী করবেন, সেটিই যেন জেমসের কাছে সবচেয়ে বড় রহস্য।
সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর নিয়ম মেনে চলছেন কলম্বিয়ান সংগীতশিল্পী শাকিরা। এপ্রিল ২০২৬-এ স্পেনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আল সিয়েলো কন এয়া’-তে সাংবাদিক হেনার আলভারেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর দুই ছেলে মিলান ও সাশার নিজস্ব কোনো মোবাইল ফোন নেই। এমনকি আইপ্যাড ব্যবহারের সুযোগও সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ। সাক্ষাৎকারে শাকিরা জানান, সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তিনি খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের কাছে একটি আইপ্যাড রয়েছে, তবে সেটিও নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। সাধারণত শনিবার সকালে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য তারা আইপ্যাড ব্যবহার করতে পারে। ইন্টারনেটে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকারও নেই। শুধু তাই নয়, সন্তানদের জন্য ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছেন শাকিরা। তাঁর মতে, অনলাইনের নানা তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং অন্যের মতামত শিশুদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের ভার্চুয়াল জগতের অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে চান তিনি। মিলান ও সাশাকে নিজেদের নাম, মায়ের নাম কিংবা তাদের বাবার নাম ইন্টারনেটে খুঁজে দেখতেও উৎসাহিত করেন না শাকিরা। এর পেছনে তাঁর যুক্তি হলো, সন্তানরা যেন অনলাইনে অন্য মানুষের মন্তব্য, সমালোচনা বা অতিরিক্ত মনোযোগের ওপর নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও সুখ নির্ভর করতে না শেখে। শাকিরার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সন্তানরা এখন যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও পরিণত হয়েছে এবং কোথায় তথ্য খোঁজা উচিত আর কোথায় না, সে বিষয়টি তারা বুঝতে শেখেছে। তিনি চান, তারা অনলাইনের স্বীকৃতির বদলে বাস্তব জীবনের সাধারণ আনন্দ ও অভিজ্ঞতার মধ্যে সুখ খুঁজে নিক। প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শাকিরার এই অবস্থান শুধু নিজের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাক্ষাৎকারে তিনি শিশুদের ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও মত দেন। শিশুদের অনলাইন জগত থেকে সুরক্ষিত রাখতে অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে মিলান ও সাশা কৈশোরে পা দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত একজন শিল্পীর সন্তান হিসেবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ছোটবেলা থেকেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। সেই কারণে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনসম্পৃক্ততা থেকে তাদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন শাকিরা। এপ্রিলের ওই সাক্ষাৎকারের বক্তব্যটি এখন আবার আলোচনায় এসেছে মূলত সন্তান পালনে শাকিরার এই ব্যতিক্রমী পদ্ধতির কারণে। প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে যেখানে শিশুদের হাতে খুব অল্প বয়সেই স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে শাকিরার পরিবারে নিয়মটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর কাছে সন্তানদের শৈশবকে যতটা সম্ভব বাস্তব জীবন, পরিবার ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, চুলের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়েও আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘হেয়ার লংজেভিটি’। এর লক্ষ্য শুধু চুল পড়া বন্ধ করা নয়, বরং আগে থেকেই চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বজায় রাখা। সাধারণ চুলের যত্নে অনেক সময় খুশকি, শুষ্ক বা অতিরিক্ত তেলতেলে মাথার ত্বক, চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণায় সমস্যার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শুধু শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা সাজসজ্জার দিকে নজর দেওয়া হয় না। বরং মাথার ত্বক, চুলের গোড়া, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যে পরিবর্তন আসে, তা যতটা সম্ভব ধীর করা। চুলের যত্ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য একবারের কোনো চিকিৎসা বা অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য মাথার ত্বকের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ও জমে থাকা উপাদান দূর করা এবং চুলের জন্য উপযুক্ত যত্ন নেওয়া চুলের ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে অতিরিক্ত চুল ধোয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এতে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি, চুলের রুক্ষতা বা দ্রুত তেলতেলে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুলের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক যত্ন নেওয়া, চুলের দৈর্ঘ্যের চেয়ে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং চুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব কারণে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা পুষ্টির ঘাটতির মতো বিষয়ও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুলের যত্নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবনধারার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণা চুলের যত্নের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকেই যত্ন নিয়ে চুলের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়েতে এ বছর ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হলেও মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) কয়েক দশক পরের, অর্থাৎ ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এমটিএ-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে যেখানে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৮৩.৭ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা কমে ৮২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, প্রতি পাঁচটি কর্মদিবসের যাত্রার মধ্যে অন্তত একটি ট্রেন ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে বি, এন, ২ (Two) এবং এফ লাইনের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, যেখানে সময়মতো ট্রেন আসার হার ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের ঘরে নেমে গেছে। সাবওয়ের এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ম্যানহাটনের বাসিন্দা আনা জানান, ৬ (Six) ট্রেনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এই লাইনটিতে সময়ানুবর্তিতার হার ৮৫.৩ শতাংশ থেকে ৯ পয়েন্ট কমে ৭৬.৩ শতাংশে নেমেছে, যা পুরো সিস্টেমের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ডে দুই মিনিট লেখা থাকলেও ট্রেন আসতে দশ মিনিট লেগে যায়, আর ভিড় ঠেলে ট্রেনে ওঠা রীতিমতো যুদ্ধ করার মতো। হাসপাতালে কর্মরত এই নারী জানান, সাবওয়ের কারণে অফিসে দেরি হলে তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। আরেক যাত্রী স্যাল প্যাডেলারো জানান, একবার একটি বিকল এফ ট্রেনে তিনি ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। সাবওয়ের এই নিত্যদিনের দেরির কারণে অফিসের কাজ ও ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে দেরির এই ভিড়ে ৭ (Seven), জে এবং এল ট্রেনগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো সেবা দিচ্ছে, যেগুলোর সময়ানুবর্তিতার হার ৮৫ থেকে ৮৯ শতাংশের মধ্যে। এমটিএ চেয়ারম্যান জানো লিবার জানিয়েছেন, সিগন্যালিং সমস্যা, পুলিশের হস্তক্ষেপ বা অসুস্থ যাত্রীর মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে তারা পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া, এমটিএ তাদের সাম্প্রতিক বোর্ড মিটিংয়ে "এলিমিনেটিং বটলনেকস" শীর্ষক একটি রিপোর্টের মাধ্যমে ২৫টি সমস্যাজড়িত পয়েন্ট মেরামতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য হতাশার বিষয় হলো, এই সমাধানগুলো পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে যখন নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হবে, তখনও এই যানজট নিরসনের কাজ শেষ হবে না, যা মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আরও হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারী, স্টেডিয়ামভর্তি ভক্ত আর জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠার বহু আগে আইশোস্পিডের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর মা। ছোট্ট একটি ঘর থেকে অল্প কয়েকজন দর্শক নিয়ে ভিডিও বানানোর সময়ও ছেলের স্বপ্নকে ছাড়তে দেননি তিনি। আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্ট্রিমার। ড্যারেন জেসন ওয়াটকিনস জুনিয়র, যিনি ‘আইশোস্পিড’ নামে পরিচিত, বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও লাইভস্ট্রিমে জানিয়েছেন, শৈশবে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। মা একাই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন। সে সময় ইউটিউবে ভিডিও বানিয়েও তেমন কোনো আয় হতো না, তবু ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই আইশোস্পিড বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন। ইউটিউব লাইভস্ট্রিম, বিনোদনমূলক ভিডিও এবং বিভিন্ন ভাইরাল মুহূর্তের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, আইশোস্পিড তাঁর আয় থেকে মাকে প্রতি মাসে ১ লাখ মার্কিন ডলার করে দেন। তবে এ তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট ও প্রতিবেদনেই এ দাবি উঠে এসেছে, কিন্তু অর্থের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যও প্রচারিত হয়েছে। তবে একটি বিষয় নিয়ে তেমন দ্বিমত নেই, আইশোস্পিড একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মায়ের অবদান তিনি কখনো ভুলবেন না। তাঁর সাফল্যের পেছনে মায়ের উৎসাহ ও সমর্থনের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। অনেকের কাছে এই গল্প শুধু একজন জনপ্রিয় ইউটিউবারের সাফল্যের নয়, বরং কঠিন সময়ে সন্তানের পাশে থাকা একজন মায়ের বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসের প্রতিদানের গল্প।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অস্টিন শুধু সঙ্গীত বা সংস্কৃতির জন্যই নয়, বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও সুপরিচিত। শহরটির খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে গুয়েরোস টাকো বার (Güero's Taco Bar), মিস্টার ন্যাচারাল (Mr. Natural) এবং কামিনো রিয়াল (Camino Real)। কয়েক দশক ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই তিন রেস্তোরাঁ আজও অস্টিনের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যান শহরটির ঐতিহাসিক টেক্স-মেক্স রেস্তোরাঁগুলো নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ১৯০৫ সালের ভবনে গড়ে ওঠা গুয়েরোস টাকো বার অস্টিনের জনপ্রিয় সাউথ কংগ্রেস (SoCo) এলাকায় অবস্থিত গুয়েরোস টাকো বার শুধু খাবারের জন্য নয়, ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও পরিচিত। ১৯০৫ সালে এটি প্রথমে পশুখাদ্য ও বীজের দোকান হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরে এটি মুদির দোকান ও ফিড স্টোর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৬ সালে রবার্ট আরউইন ও ক্যাথি লিপিনকট একটি ছোট টাকেরিয়া হিসেবে গুয়েরোস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৩ সালে তারা ঐতিহাসিক ভবনটিতে রেস্তোরাঁটি স্থানান্তর করেন। বর্তমানে এখানকার টেক্স-মেক্স ও মেক্সিকান খাবার, পুরোনো ধাঁচের ক্যান্টিনা, উন্মুক্ত বাগান এবং ঐতিহাসিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। নিরামিষ মেক্সিকান খাবারের ব্যতিক্রমী ঠিকানা অস্টিনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মেক্সিকান রেস্তোরাঁগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত মিস্টার ন্যাচারাল। ১৯৮৮ সালে মেক্সিকোর মনতেরে শহর থেকে আসা জেসুস ও লুইসা মেনদোজা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রচলিত মেক্সিকান খাবারের নিরামিষ সংস্করণ পরিবেশন করা হয়। গরুর মাংস ছাড়া ফাহিতা, মাংসবিহীন বার্গার, শূকরের মাংস ছাড়া তামালে, মাছ ছাড়া সেভিচে এবং প্রাণিজ উপাদান ছাড়া চোরিজো এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। রেস্তোরাঁটির সঙ্গে রয়েছে বেকারি, জুস বার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও ভেষজ পণ্যের দোকান। সব খাবার নিজস্ব রান্নাঘরেই প্রস্তুত করা হয়। ২০০৮ সালে ছোট ব্যবসায় বিশেষ অবদানের জন্য মার্কিন স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মেনদোজা পরিবারকে সম্মাননা দেয়। হলিউড অভিনেতা ইথান হক এবং নির্মাতা রিচার্ড লিংকলেটারেরও এটি প্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর একটি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয় কামিনো রিয়াল ১৯৯২ সালে লুসিয়ানো হেনরিকেজ প্রতিষ্ঠা করেন কামিনো রিয়াল। উত্তর-পশ্চিম অস্টিনের এই পারিবারিক রেস্তোরাঁ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বল্প মূল্যে বৈচিত্র্যময় টেক্স-মেক্স খাবার পরিবেশন করে আসছে। রেস্তোরাঁটির মেনুতে রয়েছে ১৭ ধরনের সকালের নাশতা, বিভিন্ন ধরনের ব্রেকফাস্ট টাকো, চিংড়ির সাতটি বিশেষ পদ এবং জনপ্রিয় ফাহিতা। তুলনামূলক কম দামে বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য এটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। প্রতিষ্ঠাতা লুসিয়ানো হেনরিকেজ পরে মধ্য টেক্সাসের আরও কয়েকটি এলাকায় শাখা চালু করলেও মূল অস্টিন শাখার জনপ্রিয়তার সমান সাড়া অন্য কোথাও পাননি। অস্টিনের খাদ্য ঐতিহ্যের অংশ খাদ্যবিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বদলে যাওয়া অস্টিনে নতুন নতুন রেস্তোরাঁ চালু হলেও গুয়েরোস, মিস্টার ন্যাচারাল এবং কামিনো রিয়ালের মতো পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো শহরের খাদ্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শুধু খাবারের স্বাদ নয়, প্রতিটি রেস্তোরাঁই নিজেদের ইতিহাস, পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণেই কয়েক দশক পরও এগুলো অস্টিনের সবচেয়ে পরিচিত টেক্স-মেক্স গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যচর্চার নানা আধুনিক পদ্ধতি জনপ্রিয় হলেও মরক্কোর নারীরা এখনো আস্থার জায়গা হিসেবে বেছে নেন প্রকৃতিকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা যে উপাদানগুলো ব্যবহার করে আসছেন, তা শুধু রূপচর্চার অংশ নয়—বরং তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়ার এই ধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মরোক্কান নারীদের রূপচর্চায় সবচেয়ে আলোচিত উপাদানগুলোর একটি হলো আরগান তেল, যা ‘লিকুইড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। স্থানীয় আরগান গাছের বাদাম থেকে তৈরি এই তেল ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। প্রতিদিনের ব্যবহারে এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। অনেকেই ঘুমানোর আগে মুখে এই তেল ব্যবহার করেন, যাতে ত্বক সারারাত পুষ্টি পায়। চুলের যত্নেও এটি সমান কার্যকর—চুলের গোড়া মজবুত করা, উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা এবং আগা ফাটা কমাতে নিয়মিত আরগান তেল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। ত্বক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে মরক্কোর অ্যাটলাস পর্বতমালা থেকে সংগৃহীত রাসুল ক্লে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই খনিজসমৃদ্ধ মাটি ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামে ভরপুর, যা ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়। গোলাপ জল বা সাধারণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। একই সঙ্গে এটি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং খুশকি দূর করতেও কার্যকর। মরোক্কান স্পা সংস্কৃতি, যা ‘হাম্মাম’ নামে পরিচিত, সেখানে ব্ল্যাক সোপ একটি অপরিহার্য উপাদান। অলিভ ও অলিভ তেল দিয়ে তৈরি এই ঘন সাবান ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর বিশেষ ধরনের স্ক্রাবিং গ্লাভ দিয়ে ঘষে ত্বকের মৃত কোষ তুলে ফেলা হয়। এতে ত্বক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের জমে থাকা ধুলাবালি ও ব্রণজনিত সমস্যা কমতেও সহায়তা করে। গোলাপ জলও মরোক্কানদের দৈনন্দিন রূপচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশুদ্ধ গোলাপের পাপড়ি থেকে তৈরি এই জল প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। ত্বক পরিষ্কারের পর এটি ব্যবহার করলে ত্বকের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং ত্বক সতেজ অনুভূত হয়। অনেকেই এটি মুখে স্প্রে করে মেকআপ সেট করতেও ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, আকার ফ্যাসি নামে পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী উপাদানও মরোক্কান নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পপি ফুল ও ডালিমের খোসা শুকিয়ে তৈরি এই প্রাকৃতিক রঙ ঠোঁট ও গালে ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকে স্বাভাবিক লাল আভা এনে দেয়, যা কৃত্রিম প্রসাধনীর তুলনায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে করা হয়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও এটি উপযোগী হওয়ায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মরোক্কান নারীদের রূপচর্চার এই পদ্ধতি আধুনিক প্রসাধনী নির্ভরতার বিপরীতে একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল এই ঐতিহ্য শুধু সৌন্দর্য ধরে রাখে না, বরং ত্বক ও চুলের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাও নিশ্চিত করে।
ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে ও পরে আসলে কী খাওয়া উচিত—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের একচেটিয়া জয়জয়কার দেখা যায়। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার আগের ও পরের খাবারের নিয়মটি বেশ সহজ এবং এর জন্য খুব দামি বা জটিল খাবারের প্রয়োজন নেই। নিয়ম অনুযায়ী, শরীরচর্চার আগে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি জোগায়। অর্থাৎ, এ সময়ে ধীর-নিঃসরণকারী কার্বোহাইড্রেট (Slow-release Carbohydrates) যুক্ত খাবার সবচেয়ে উপকারী। অন্যদিকে, শরীরচর্চার পর ব্যায়ামের কারণে পেশির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা পূরণ ও পেশি গঠনে প্রয়োজন প্রোটিন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি যেকোনো খাবার বা স্ন্যাক্সে এই দুই উপাদানের (কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন) একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ থাকে। যারা সাধারণত সকালে শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউট করেন, তাদের জন্য পুষ্টিকর কিছু নাস্তার আইডিয়া নিচে দেওয়া হলো: ১. ওটস ও পরিজ (মিষ্টি নাস্তা): ধীর-নিঃসরণকারী কার্বোহাইড্রেটের জন্য ওটস বা পরিজ চমৎকার বিকল্প। ‘পিনহেড ওটস’ এবং ‘রোল্ড ওটস’ একসঙ্গে মিশিয়ে হালকা আঁচে সময় নিয়ে রান্না করলে এটি দারুণ ক্রিমি ও সুস্বাদু হয়। এর সঙ্গে কিছুটা কলা কুচি মিশিয়ে নিলে তা হয়ে ওঠে পুষ্টির পাওয়ারহাউজ। আর হাতে সময় কম থাকলে চকলেট রাই পরিজের সঙ্গে মধু ও নাশপাতি, কিংবা আপেল ও দারুচিনির সহজ পরিজ তৈরি করা যেতে পারে। ২. মুখরোচক ও নোনতা নাস্তা: যারা সকালে মিষ্টি খাবার পছন্দ করেন না, তারা আগের রাতেই ক্রোস্যান্টের ভেতরে হ্যাম, চিজ এবং সবুজ শাকসবজি দিয়ে মুড়িয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন, যা সকালে শুধু বেক করে নিলেই চলে। ঝটপট তৈরির জন্য ডিমের অমলেট ও রুটির সংমিশ্রণে তৈরি প্যানকেকও বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া লাল আটার পিটা রুটির সাথে সেদ্ধ ডিম বা ফেটা চিজ দিয়ে খেতে পারেন। যারা নিরামিষভোজী, তারা ডিমের বদলে স্ক্র্যাম্বলড টফু খেতে পারেন, যা কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের দারুণ ভারসাম্য তৈরি করে। ৩. ঝটপট স্মুদি: সকালে ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা না করলে স্মুদি হতে পারে সেরা সমাধান। শরীরচর্চার আগে কলা, ওটস, খেঁজুর ও দারুচিনির স্মুদি কিংবা পুষ্টিকর গ্রিন স্মুদি খাওয়া যেতে পারে। এতে করে নিজের প্রয়োজনমতো পুষ্টি উপাদান সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে খাবার দাবারের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিতে শরীরকে হাইড্রেটেড বা পরিমিত জলীয় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি শরীরচর্চা শেষে খাবারে প্রোটিন নিশ্চিত করা উচিত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নামহীন সম্পর্ক বা 'সিচুয়েশনশিপ' কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস বদলানোর দিন হয়তো এবার ফুরোতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বা জেনারেশন জেড (জেন-জি)-এর মধ্যে ডেটিং বা প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রবণতা বা ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই নতুন ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—সম্পর্কের প্রচলিত সব নিয়মকানুন ছুড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো একটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নতুন এই শব্দটিকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ (Wildflowering)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই নতুন ট্রেন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ অনেকটা বুনো ফুলের মতো ফুটে ওঠা। এই ট্রেন্ডটি মূলত সিঙ্গেল বা অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে, যেন তারা রোমান্টিক সম্পর্ককে কোনো চাপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে দেন। এখানে সম্পর্কের কোনো তকমা বা নাম (লেবেল) থাকে না, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকে না এবং সম্পর্কটি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে বা এর ভবিষ্যৎ কী, তা নির্ধারণ করার কোনো চাপও থাকে না। সোজা কথায়, আগামী পাঁচ বছর পর সম্পর্কটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে, "দেখা যাক না, সম্পর্কটা কোন দিকে যায়"—এমন নির্ভার চিন্তাধারাই হলো ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং। বর্তমান যুগে ডেটিং বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেসেজের অর্থ বিশ্লেষণ করা, ডেটিং অ্যাপে কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে তার কৌশল নিয়ে মাথা ঘামানো এবং ঠিক কোন মুহূর্তে গিয়ে সম্পর্কটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে অবিরাম বিতর্ক চলতেই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের এই ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার নিখুঁত প্রতিষেধক হিসেবেই উঠে এসেছে ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং। এই ধারণার মূল ভিত্তি খুব সহজ: একটি সম্পর্ককে জোর করে কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে ফেলার চেষ্টা বন্ধ করা এবং সেটিকে তার নিজস্ব গতিতে উন্মোচিত হতে দেওয়া। আধুনিক শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা অনেক সিঙ্গেল মানুষের কাছেই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে। 'আনসিঙ্গেল: হাউ টু ডেট স্মার্টার অ্যান্ড ক্রিয়েট লাভ দ্যাট লাস্টস' বইয়ের লেখিকা এবং প্রখ্যাত ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যান এই বিষয়ে তার বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যারা প্রতিটি ফার্স্ট ডেট বা প্রথম দেখাকে অনেকটা বিয়ের ইন্টারভিউ বা চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো মনে করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষ উপকারী হতে পারে। অ্যামি চ্যান বলেন, "আপনি যদি এমন কেউ হন, যিনি প্রথম বা দ্বিতীয় ডেটেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে ফেলেন; ভাবতে শুরু করেন যে সামনের মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী হতে পারবে কি না বা আপনাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের বাবা/মা হওয়ার যোগ্য কি না, তাহলে আপনার কিছুটা থামা প্রয়োজন। অনেকেই মনের ভেতরে থাকা একটি অদৃশ্য চেকলিস্ট মেলানোর জন্য ইন্টারভিউ স্টাইলে প্রশ্ন করতে থাকেন। এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিষয়ে আরও বেশি শিথিল ও স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাটা উপকারী হতে পারে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফিনিশিং লাইনের দিকে দৌড়ানোর চেয়ে বরং কৌতূহলী থাকা, নিজেকে জানা এবং জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে আপনি আসলে কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করা বেশি জরুরি। তবে, যারা খুব বেশি রোমান্টিক এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের মানদণ্ডগুলোকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এই ট্রেন্ডের একটি অন্ধকার দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।. আরেক প্রখ্যাত ডেটিং কোচ ড্যামোনা হফম্যান মনে করেন, আধুনিক ডেটিংয়ের ‘গ্যামিফিকেশন’ বা সব কিছুকে খেলা হিসেবে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং ট্রেন্ডের জন্ম। বর্তমানে ডেটিং অ্যাপগুলোতে অবিরাম সোয়াইপ করা, ম্যাচ করা এবং একই সাথে একাধিক মানুষের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার কারণে রোমান্স বা প্রেমকে সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের চেয়ে একটি গেম বা খেলা বলে বেশি মনে হয়। ড্যামোনা হফম্যান সতর্ক করে বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রত্যাশা যদি একেবারেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত অনেকেই হতাশ হতে পারেন, বিশেষ করে তারা যদি নিজেরা পরিষ্কার না থাকেন যে তারা দিন শেষে আসলে কী চান। সব কিছু সময়ের ওপর ছেড়ে দিলে অনেক সময় মানুষ লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে। তাহলে এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং কাদের জন্য কার্যকর? ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যানের মতে, এটি নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব ডেটিংয়ের ধরনের ওপর। যারা হুট করেই দ্রুত কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাদের জন্য একটু ধীরগতিতে চলা এবং সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়াটা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে, যারা এক সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে দ্রুত লাফিয়ে বেড়ান এবং কখনোই কোনো গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি করেন না, তাদের ক্ষেত্রে বরং এই অবাধ স্বাধীনতার চেয়ে কিছুটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি নিখুঁত বা আদর্শ সম্পর্ক আসলে এক্সেল শিটে করা নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল রোমান্সের ঠিক মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায় অবস্থান করে। কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ততা ডেটিংকে আনন্দদায়ক রাখতে পারে, আবার কিছু নিজস্ব মানদণ্ড বা প্রত্যাশা সম্পর্কটিকে একটি অন্তহীন ও অর্থহীন ‘সিচুয়েশনশিপ’-এ পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ বুনো ফুল কোনো মালির যত্ন ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও, একটি সম্পর্ককে সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হতে হলে তাতে অন্তত সামান্যতম দিকনির্দেশনা ও যত্নের প্রয়োজন হয়। ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের এই ধারণাটি মূলত তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রেমে পড়ার জন্য আদৌ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা রুলবুকের প্রয়োজন আছে কি না। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রেমের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘রিলেশনশিপ অ্যানার্কি’ (Relationship Anarchy) বা সম্পর্কের নৈরাজ্যবাদ অন্যতম। ২০০৬ সালে সুইডিশ লেখিকা অ্যান্ডি নর্ডগ্রেন এই দর্শনের প্রবর্তন করেন। এই দর্শন অনুযায়ী, একজন মানুষের জীবনে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে—সমাজের এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর বদলে তারা বন্ধুত্ব, সৃজনশীল অংশীদারত্ব এবং অন্যান্য মানবিক সম্পর্কগুলোকেও রোমান্টিক সম্পর্কের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সেক্স-পজিটিভ ডেটিং অ্যাপ 'ফিল্ড' (Feeld) এবং শিক্ষাবিদ রুবি রেয়ারের ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজন হয়তো নিজের অজান্তেই কোনো না কোনোভাবে এই 'রিলেশনশিপ অ্যানার্কি' বা প্রথাগত নিয়মের বাইরের সম্পর্ক চর্চা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের জীবনযাপনের কারণে তারা আগের চেয়ে কম একাকীত্ব অনুভব করেন এবং মানসিকভাবে বেশি সমর্থন পান। তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথাগত সম্পর্কের কোনো মাইলফলক না থাকায়, সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ করা এবং প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের মতো এই দর্শনগুলো মূলত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, সামাজিক চাপ এবং সমাজ নির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। এই দুটি ট্রেন্ডই প্রমাণ করে যে, আধুনিক তরুণ ডেটাররা এখন ঐতিহ্যের চেয়ে স্বকীয়তা এবং চেকলিস্ট মেলানোর চেয়ে প্রকৃত মানসিক সংযোগকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অবশ্য, কোনো পদ্ধতিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা যেমন সতর্ক করেছেন যে, ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং অনেক সময় মানুষকে কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি রিলেশনশিপ অ্যানার্কির ক্ষেত্রেও ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক আঘাত এড়াতে প্রচুর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আত্মসচেতনতার প্রয়োজন হয়। তারপরেও, যে প্রজন্ম ডেটিং অ্যাপের যান্ত্রিকতা, নামহীন সম্পর্ক এবং অন্তহীন নিয়মের বেড়াজালে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে এই স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন বোঝা খুব কঠিন কিছু নয়। সম্পর্ককে প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হোক কিংবা সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজানো হোক—জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মূলত একটি জিনিসই খুঁজছেন, আর তা হলো: আধুনিক যুগের যান্ত্রিক প্রেমকে কিছুটা হলেও স্ক্রিপ্ট বা পূর্বপরিকল্পনার বাইরে নিয়ে আসার একটি উপায়।
দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন— একটি নির্দিষ্ট রুটিন, সকালে সূর্যের আলো গায়ে মাখা এবং ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার অভ্যাসই হলো ভালো ঘুমের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো ঘুমের জন্য নানা ধরনের শর্টকাট বা কৌশল বা 'ট্রেন্ড' ছড়িয়ে পড়েছে। এসব টিপসের কোনটি আসলেই কার্যকর আর কোনটি শুধুই গুজব, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা বেশ কঠিন। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব ট্রেন্ডের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক হেলথ সিস্টেমের স্লিপ সার্ভিসের পরিচালক ডেভিড ওয়ার্কেনটিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন চারটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ভালো ঘুমের জন্য নিজের কিছু কার্যকরী পরামর্শও দিয়েছেন। ওয়ার্কেনটিন বলেন, "ঘুমের বিষয়টি মূলত ধারাবাহিকতা, মানুষের শারীরিক বায়োলজি এবং আচরণের ওপর নির্ভর করে। তাই ট্রেন্ডিং কোনো কৌশলের চেয়ে মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলাই সবসময় বেশি কার্যকর।" মুখে টেপ লাগানো গত কয়েক বছর ধরে মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানোর একটি চল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। দাবি করা হয়, এর ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়, নাক ডাকা কমে এবং ঘুমের মান বাড়ে। তবে ডেভিড ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি নিয়ে বেশ শঙ্কিত। তিনি বলেন, এর ফলে শ্বাসরোধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যারা স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন বা সিপিএপি (CPAP) মেশিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া রাতে যাদের অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা বমির বমি ভাব থাকে, তাদের জন্যও মুখে টেপ লাগানো বিপজ্জনক। ওয়ার্কেনটিন এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এর পক্ষে কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর বদলে তিনি সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠাটা জরুরি। ঘুম থেকে ওঠার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ৩০ মিনিট সকালের প্রাকৃতিক আলো গায়ে মাখানো ঘুমের যেকোনো ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে। ঘুমানোর আগে চর্বিযুক্ত খাবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন, ঘুমানোর ঠিক আগে নির্দিষ্ট কিছু চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, যা ভালো ঘুমে সাহায্য করে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়ার্কেনটিন। তিনি জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এর পরিবর্তে তিনি ঘুমানোর আগে নিজেকে শান্ত রাখার একটি রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দেন। ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা স্ট্রেচিং বা কম উত্তেজনার টিভি অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে। ঘুমানোর পরিবেশ অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা হওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে ঘুমানোর আগে যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। প্রাকৃতিক মেলাটোনিন বা মকটেল সম্প্রতি ইন্টারনেটে একটি বিশেষ পানীয় বা ‘মকটেল’ ভাইরাল হয়েছে, যা খেলে চমৎকার ঘুম হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। টার্ট চেরি জুস, ম্যাগনেসিয়াম পাউডার এবং প্রিবায়োটিক সোডা বা স্পার্কলিং ওয়াটার মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। ওয়ার্কেনটিন এই পানীয়ের বিষয়ে ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে অতিরিক্ত চিনি থাকা যাবে না এবং মেলাটোনিন হিসেবে চেরি জুসের পরিমাণও বেশি হওয়া উচিত নয়। এটি অনিদ্রার স্থায়ী কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত দূরপাল্লার ভ্রমণের পর জেট ল্যাগ কাটাতে এটি কাজে লাগতে পারে। যেকোনো নতুন উপাদান গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। ওয়ার্কেনটিন জানান, ঘুমের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। একজন মানুষের কতক্ষণ ঘুম প্রয়োজন, তা তার জেনেটিক্স বা শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ৬ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। তাই জোর করে আট ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে— এমন চিন্তা বাদ দেওয়া উচিত। কফি পান করে ছোট ঘুম বা 'ন্যাপুচিনো' এটি শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও অনেকেই ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম বা 'ন্যাপ' নেওয়ার ঠিক আগে এক কাপ কফি পান করছেন। ক্যাফেইন শরীরে কাজ শুরু করতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেয়, তাই ঘুম ভাঙার পরপরই শরীর সতেজ অনুভূত হয়। একে বলা হচ্ছে 'ন্যাপুচিনো'। ওয়ার্কেনটিন বলেন, কৌশলগতভাবে এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপায় হলেও, নিয়মিত ভালো ঘুমের বিকল্প এটি হতে পারে না। যদি এটি করতেই হয়, তবে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া রাতে ঘুমানোর অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বা কফি জাতীয় পানীয় পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ওয়ার্কেনটিনের আরেকটি কার্যকর পরামর্শ হলো— বিছানায় শুয়ে যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তবে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া উচিত। অন্য কোনো কাজ করে তারপর আবার বিছানায় ফেরা উচিত, যাতে আমাদের মস্তিষ্ক বিছানাকে 'জেগে থাকার জায়গা' হিসেবে ভুল না করে।
পর্যাপ্ত ঘুম কেবল শরীরের ক্লান্তিই দূর করে না, বরং হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে শুধু দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোই যথেষ্ট নয়; ঘুমের সময়সূচিতে অনিয়ম বা ‘স্লিপ ইরেগুলারিটি’ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন আলাদা সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের কার্যকলাপে নীরবে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। নিয়মিত ঘুমের সময় পরিবর্তন করলে শরীরের 'সার্কাডিয়ান রিদম' বা প্রাকৃতিক জৈবঘড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছন্দপতনের ফলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত রাতে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কথা থাকলেও অনিয়মিত ঘুমের কারণে তা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং হার্ট ও রক্তনালির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। ফলে ঘুমের দৈর্ঘ্য ঠিক থাকলেও ভুল সময়ের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ক্লান্তি এবং শরীরের প্রদাহ কমছে না। ব্যস্ত জীবনে রাত জেগে সিরিজ দেখা বা একেক দিন একেক সময়ে ঘুমানো এখন একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেকেই একে সামান্য ব্যাপার মনে করলেও চিকিৎসকেরা একে শরীরের ওপর অত্যাচার করার শামিল বলে অভিহিত করেছেন। সুস্থ হৃদযন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করা ভীষণ জরুরি বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে এবং ঘুমের সময় নির্দিষ্ট করতে চিকিৎসকেরা কিছু কার্যকরী উপায় অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নিজের কাজের ওপর ভিত্তি করে কখন ঘুমাতে যাবেন এবং কখন উঠবেন তা নির্দিষ্ট করতে হবে। প্রয়োজনে ঘুমানো ও ওঠার জন্য ঘড়িতে রিমাইন্ডার বা অ্যালার্ম ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে ফোনের সংকেত পাওয়া মাত্রই সব কাজ বা ডিভাইস ছেড়ে বিশ্রামের আবহ তৈরি করা যায়। এ ছাড়া, ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ দূরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ স্ক্রিনের ব্লু-লাইট মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। একই সাথে সন্ধ্যার পর চা বা কফির মতো ক্যাফিনজাতীয় পানীয় সেবনের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের মধ্যে নিয়মিত ডিম খাওয়ার সঙ্গে আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি কমার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে পাঁচ বা তার বেশি দিন ডিম খান, তাদের আলঝেইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন ডিম খেলে ঝুঁকি কমে প্রায় ২০ শতাংশ এবং অনিয়মিতভাবে ডিম খেলেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ওপর ১৫ বছর ধরে পরিচালিত গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৮ জনের শরীরে আলঝেইমার্স শনাক্ত হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমে থাকা কোলিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব উপাদান জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই শুধু ডিম খেলেই আলঝেইমার্স পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। বরং ডিম খাওয়ার সঙ্গে রোগের ঝুঁকি কমার একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী। তারা বলছেন, ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেটিও স্বাস্থ্য উপকারিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রাচীন কাশ্মীরি সৌন্দর্য চর্চার ঐতিহ্য নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কোরিয়ান গ্লাস-স্কিন ট্রেন্ড ও আধুনিক বিউটি সিরামের জনপ্রিয়তার আগেই কাশ্মীরি পরিবারগুলো প্রাকৃতিক উপাদান ও আয়ুর্বেদিক জ্ঞাননির্ভর সৌন্দর্য রীতির চর্চা করত বলে জানা যায়। কাশ্মীরি ঐতিহ্য অনুযায়ী সৌন্দর্য চর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার ছিল মূল ভিত্তি। বর্তমান সময়ে এই প্রাচীন রীতিগুলো আবারও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক স্কিনকেয়ার নিয়ে নতুন আগ্রহ এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। কাশ্মীরি জাফরানকে দীর্ঘদিন ধরে সৌন্দর্য চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে কাশ্মীরি নারীরা জাফরান দুধ বা গোলাপ জলে ভিজিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে এর প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের কারণে এটি ফেস মাস্ক, সিরাম এবং বিভিন্ন স্কিনকেয়ার পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাশ্মীরি কাহওয়া নামের ঐতিহ্যবাহী পানীয়ও সৌন্দর্য ও সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জাফরান, সবুজ চা, বাদাম, দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে তৈরি এই পানীয় হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে বলে প্রচলিত আছে। সমসাময়িক সময়ে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া কাশ্মীরি সৌন্দর্য রীতিতে বাদাম তেলের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক আর্দ্র রাখতে বাদাম তেল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে কোল্ড-প্রেসড আমন্ড অয়েল ত্বকের যত্ন, চোখের নিচের আর্দ্রতা রক্ষা এবং চুলের পুষ্টিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাশ্মীর অঞ্চলের আখরোটের খোসা দিয়ে তৈরি স্ক্রাবও ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য চর্চার অংশ হিসেবে পরিচিত। এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়। আধুনিক স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোও এখন আখরোটভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করছে। সূত্র অনুযায়ী, টাইমস এন্টারটেইনমেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য উপাদানের পুনরায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিদিন ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও এর বেশি চুল পড়া উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করতে কেবল প্রসাধনী নয়, বরং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত প্রোটিন ও শাক-সবজি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং গঠন সুন্দর থাকে। চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যাপসিকাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের সজীবতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সালাদ বা বিভিন্ন খাবারে নিয়মিত ক্যাপসিকাম রাখলে চুল পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ডিম প্রোটিন ও বায়োটিনের অন্যতম প্রধান উৎস, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। অনেকে চুলে ডিমের প্যাক ব্যবহার করলেও চিকিৎসকরা এটি খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। নিয়মিত ডিম খেলে ভেতর থেকে চুলের পুষ্টি নিশ্চিত হয় এবং চুল শক্ত হয়। সামুদ্রিক ও দেশি মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি-এর ভাণ্ডার। মাছের এসব উপাদান চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং অকালে চুল ঝরে যাওয়া রোধ করে। এছাড়া মাছে থাকা ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম চুলের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস হলো মসুর ডাল, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে বিশেষভাবে কাজ করে। এছাড়া মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সুস্থ ও ঘন চুল পেতে ডায়েটে এসব খাবার নিয়মিত রাখা প্রয়োজন।
সময়ের নিয়ম মেনে বয়স বাড়লেও তার ছাপ আপনার চেহারায় পড়বে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন যত্নের ওপর। বর্তমানে বাজারে হাজারো নামের ‘অ্যান্টি-এজিং’ ক্রিম বা সিরাম পাওয়া যায়, যা রাসায়নিকে ভরপুর এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি অনেকে দামী লেজার থেরাপির পেছনেও ছোটেন। অথচ আপনার রান্নাঘরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই সম্ভব চেহারার যৌবন ধরে রাখা। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি বিশেষ ৪টি ফেসপ্যাক ব্যবহারের বিস্তারিত নিয়ম নিচে দেওয়া হলো: ১. ত্বক টানটান করতে পেঁপের প্যাক: ত্বক ঝুলে যাওয়া বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া রোধে পেঁপে অতুলনীয়। পেঁপেতে থাকা 'প্যাপাইন' নামক এনজাইম ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ফেলে ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। পদ্ধতি: এক টুকরো পাকা পেঁপে ভালো করে চটকে নিয়ে তাতে এক চামচ খাঁটি মধু মেশান। মিশ্রণটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ২. শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ফেরাতে ডিম-দই: যাঁদের ত্বক খসখসে বা প্রাণহীন, তাঁদের জন্য ডিম ও টকদইয়ের মাস্ক মহৌষধ। এটি ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পদ্ধতি: একটি পাত্রে একটি ডিমের কুসুম, এক চামচ ঘন টকদই, এক চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ত্বক হবে মাখনের মতো নরম। ৩. বলিরেখা রুখতে গ্রিন টি ও বেসন: গ্রিন টি-তে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা বা সূক্ষ্ম রেখা (Fine lines) পড়তে দেয় না। পদ্ধতি: এক কাপ গ্রিন টি বানিয়ে ঠান্ডা করে নিন। তাতে সামান্য বেসন ও এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাকটি ত্বকের ট্যান দূর করে এবং বার্ধক্যের ছাপ প্রতিরোধ করে। ৪. তৈলাক্ত ত্বকের উজ্জ্বলতায় গাজর ও মসুর ডাল: যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের জন্য গাজর ও মসুর ডালের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে জেল্লা বাড়ায়। পদ্ধতি: একটি গাজর সেদ্ধ করে ভালো করে চটকে নিন। এর সাথে এক চামচ মসুর ডাল বাটা ও সামান্য মধু মেশান। মিশ্রণটি কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে নিমিষেই সজীবতা ফিরে আসবে।
রাশিয়ায় ইন্টারনেটের ওপর ক্রেমলিনের ক্রমবর্ধমান কড়াকড়ি এবং নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন দেশটির জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সম্প্রতি ইন্টারনেটে তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর প্রভাব কমাতে যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ফলে আয়ের উৎস হারানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার শঙ্কায় আছেন হাজারো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার নতুন এই নীতিমালার আওতায় অনেক বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ভিপিএন (VPN) ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো রাশিয়ায় নিষিদ্ধ ছিল, তবে অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ভিপিএন ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সরকারের নতুন সেন্সরশিপ আইন এখন সেই পথও বন্ধ করে দিচ্ছে। রুশ ইনফ্লুয়েন্সারদের মতে, এই বিধিনিষেধ কেবল তাদের বাকস্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তাদের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাশিয়ার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম 'ভিকে' (VK) বা 'টেলিগ্রাম' ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলেও, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের মতো বিজ্ঞাপনের সুযোগ বা আয়ের সংস্থান নেই বলে দাবি করছেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন প্রশাসন মূলত ইন্টারনেটে একটি 'ডিজিটাল দেয়াল' তৈরি করতে চাইছে, যাতে বাইরের বিশ্বের কোনো তথ্য বা প্রভাব রুশ নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই সেন্সরশিপের ফলে রাশিয়ার তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিজেকে ভালোবাসতে না পারলে অন্যকে ভালোবাসা সম্ভব নয়—জনপ্রিয় এই প্রবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অনেকের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন মনোবিদরা। আপাতদৃষ্টিতে অনুপ্রেরণামূলক মনে হলেও পোর্টল্যান্ডের মনোবিদ জেফ গুয়েন্থার জানান, এ কথাটি আক্ষরিক অর্থে মোটেও সত্যি নয় এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা শর্তের প্রয়োজন পড়ে না। জেফ গুয়েন্থার এই জনপ্রিয় প্রবাদের নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যারা মারাত্মক আত্মবিশ্বাসের অভাব বা বিষণ্ণতায় ভোগেন, তারাও সন্তানদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন কিংবা বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান। নিজের প্রতি অনুরাগের অভাব থাকলেও মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব হয় না। সুতরাং ভালোবাসা দেওয়ার ক্ষমতা নিজের প্রতি অনুরাগের ওপর নির্ভর করে না। এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি করে বলে মনে করেন এই মনোবিদ। তাদের বোঝানো হয় যে, আগে নিজেদের মানসিক সমস্যা ‘ঠিক’ বা ‘ফিক্স’ করতে হবে, তবেই তারা অন্যের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর ফলে অনেক মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন এবং এই একাকীত্বকে ‘নিজের ওপর কাজ করা’ বলে চালিয়ে দেন। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক সময় অন্যকে ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষের হারানো আত্মসম্মানবোধ ফিরে আসে। সম্পর্কে থেকে কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকা বা বিশ্বস্ত থাকাই প্রমাণ করে যে ওই ব্যক্তি অন্যদের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম। এটিই অনেক সময় মানসিক নিরাময়ের প্রকৃত পথ হিসেবে কাজ করতে পারে। জেফ গুয়েন্থার আরও উল্লেখ করেন, এই উক্তিটি মূলত যা বোঝাতে চায় তা হলো—অতীতের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে একে ‘ভালোবাসতে না পারা’ বলা সম্পূর্ণ ভুল। এগুলো মূলত স্নায়বিক সিস্টেমের কিছু অভ্যাস, যা ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয় এবং এটি অবশ্যই নিরাময়যোগ্য।
দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে প্রেমে জড়ানো বা পরকীয়া বর্তমান সময়ে এক জটিল সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এর ফলে সুন্দর সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও বিয়ের পর পরকীয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীদের এই পথে পা বাড়ানোর পেছনে সাধারণত আবেগীয় ও মানসিক কারণগুলোই বেশি কাজ করে। লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের পরকীয়ায় জড়ানোর পেছনে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো: অতীতের স্মৃতি: অনেক নারী পরিবারের চাপে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেন। এমন ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রথম প্রেম বা অতীত সম্পর্ক ভুলতে পারেন না এবং সুযোগ পেলেই প্রাক্তন সঙ্গীর দিকে ঝুঁকে পড়েন। মানসিক একাকীত্ব: দাম্পত্য জীবনে স্বামী যদি স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় না দেন বা তাদের মধ্যে অর্থবহ কোনো কথা না হয়, তবে স্ত্রীর মনে একাকীত্ব বাসা বাঁধে। এই শূন্যতা পূরণের জন্য তিনি অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। একঘেয়েমি ও অবহেলা: সম্পর্কের শুরুর দিকের আকর্ষণ হারিয়ে গেলে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভালোবাসা ও মনোযোগ না পেলে নারীরা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তখন অন্য কেউ সামান্য মনোযোগ দিলেই তারা সেদিকে প্রভাবিত হন। চাহিদার অপূর্ণতা: মানসিক ও আবেগীয় চাহিদার পাশাপাশি শারীরিক চাহিদাও দাম্পত্যের একটি বড় অংশ। সঙ্গী যদি স্ত্রীর এই প্রয়োজনগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নারীরা অনেক সময় বাইরে বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন। প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা: স্বামী যদি আগে পরকীয়া করেন বা স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা ও অসম্মান করেন, তবে অনেক নারী এর প্রতিশোধ হিসেবে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিতে চান যে অবহেলিত হওয়া কতটা কষ্টের।
বর্তমান বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে ফ্যাশন আইকন মানেই কে-পপ আইডলরা। তাদের পরনের পোশাক মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কে-পপ দুনিয়ায় দাপিয়ে বেড়ানো এক নতুন ফ্যাশন ধারার কথা, যার নাম ‘আকুবি’ (Acubi)। গ্ল্যামারাস ও জমকালো পোশাকের ভিড়ে এই ‘কোয়াইট কুল’ (Quiet Cool) বা শান্ত অথচ আকর্ষণীয় স্টাইলটি এখন সবার নজর কাড়ছে। আকুবি ফ্যাশন আসলে কী? আকুবি মূলত তিনটি ভিন্ন ফ্যাশন স্টাইলের এক অনন্য মিশ্রণ— সাইবার পাঙ্ক (Cyberpunk), ওয়াইটিকে (Y2K), এবং সাবভারসিভ বেসিকস (Subversive Basics)। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো মিনিমালিজম বা নূন্যতম সাজ। যেখানে খুব বেশি রঙ বা কারুকাজ নেই, বরং সাদামাটা কিন্তু স্মার্ট কাট ও ডিজাইনের ওপর জোর দেওয়া হয়। নিউ জিন্স (NewJeans), ব্ল্যাকপিঙ্ক (Blackpink) কিংবা লে সেরাফিম (LE SSERAFIM)-এর মতো জনপ্রিয় ব্যান্ডের সদস্যদের এখন প্রায়ই এই লুকে দেখা যাচ্ছে। কেন এটি জনপ্রিয় হচ্ছে? ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত জাঁকজমক থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণের মধ্যে অসাধারণ হয়ে ওঠাই আকুবি স্টাইলের মূল লক্ষ্য। একে বলা হচ্ছে ‘কোরিয়ান কোয়াইট কুল’। এটি এমন এক ঘরানা যা তরুণদের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে কোনো চিৎকার ছাড়াই। এই পোশাকগুলো সাধারণত সাস্টেইনেবল বা টেকসই ফ্যাশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বর্তমান পরিবেশ সচেতন প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়। কে-পপ আইডলদের ভূমিকা: সিএনএন-এর প্রতিবেদন বলছে, কে-পপ আইডলরা যখন স্টেজের বাইরে সাধারণ জীবনযাপন করেন বা এয়ারপোর্টে যাতায়াত করেন, তখন তারা এই আরামদায়ক অথচ স্টাইলিশ আকুবি ফ্যাশন বেছে নিচ্ছেন। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই লুকের ছবি পোস্ট করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সাধারণ ভক্তদের মধ্যেও এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই স্টাইলটি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। জাঁকজমকের চেয়ে রুচিশীল সাধারণতাই যে এখনকার আসল ফ্যাশন, ‘আকুবি’ যেন তারই প্রমাণ দিচ্ছে।
অনেকে সারা দিন কাজের চাপ ও ক্লান্তির পরও রাতে ঘুমাতে পারেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র। অর্থাৎ, শারীরিকভাবে ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক জাগ্রত অবস্থায় থাকে। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এই সমস্যার কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে শরীরের কর্টিসল হরমোন বেশি মাত্রায় থাকে। ফলে মস্তিষ্ক মনে করে বিপদের মধ্যে আছেন এবং ঘুম বাধাগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়ত, রাতের দিকে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি থেকে বের হওয়া নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। তৃতীয়ত, ‘বেডটাইম প্রোকাস্টিনেশন’ বা অতিরিক্ত চিন্তা—দিনের কাজ, আগামীকালের পরিকল্পনা বা পুরনো স্মৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ—মস্তিষ্কের প্রি–ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে, যা ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ঘুমের জন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন: ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখা, নিয়মিত রুটিনে ঘুমানো ও ওঠা, ৪–৭–৮ শ্বাসক্রিয়া অনুশীলন করা এবং দুপুরের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা। ঘুম শুধু বিশ্রামের মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য অত্যাবশ্যক। সঠিক অভ্যাস ও মন শান্ত রাখার মাধ্যমে ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র ভাঙা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।