সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

লাইফস্টাইল

যারা ভারতে আর্থিক সংকটে ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের বাড়ি-গাড়ি! প্রবাসজীবন নিয়ে বিতর্ক
যারা ভারতে আর্থিক সংকটে ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের বাড়ি-গাড়ি! প্রবাসজীবন নিয়ে বিতর্ক

ভারতে আর্থিক সংকটে থাকা পরিচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গিয়ে বড় বাড়ি, গাড়ি এবং তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করতে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন প্রণব ভরদ্বাজ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিদেশে গেলেই কি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়, নাকি বাড়ি ও গাড়ির আড়ালে থাকে মর্টগেজ, ঋণ এবং জীবনযাত্রার বিপুল খরচ? এই প্রশ্নেই বিভক্ত হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।   প্রণব ভরদ্বাজ তাঁর পোস্টে জানান, ভারতে থাকার সময় যেসব পরিচিত মানুষকে আর্থিকভাবে সংগ্রাম করতে দেখেছেন, তাঁদের কয়েকজন বিদেশে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করছেন বলে মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাঁদের বড় বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং দৈনন্দিন জীবনে নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এই পরিবর্তন তাঁকে ভাবিয়েছে, একই ব্যক্তি এক দেশে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও অন্য দেশে কীভাবে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবন গড়ে তুলতে পারেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পান। তাঁদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান, আয় এবং বিভিন্ন পেশায় কাজের সুযোগের কারণে অনেক অভিবাসী নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা নিজ দেশে সীমিত আয়ের কারণে বাড়ি বা গাড়ি কেনার সুযোগ পাননি, তাঁরা বিদেশে গিয়ে নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে এসব সম্পদ অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন।   তবে অন্য একদল ব্যবহারকারী এই তুলনার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় বড় বাড়ি কিংবা দামি গাড়ি থাকলেই একজন মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এসব সম্পদ মর্টগেজ ও গাড়ির ঋণের মাধ্যমে কেনা হয়। ফলে বাইরে থেকে স্বচ্ছন্দ জীবন মনে হলেও প্রতি মাসে বড় অঙ্কের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মর্টগেজের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হয়। একইভাবে গাড়ি কেনার পর মাসিক কিস্তি, অটো ইন্স্যুরেন্স, জ্বালানি ও মেরামতের খরচও রয়েছে। ফলে বাড়ি ও গাড়ির মালিকানা থাকলেও মাস শেষে একজন ব্যক্তির হাতে কত অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই তাঁর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।   কানাডার ক্ষেত্রেও আবাসন ব্যয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বাড়ির দাম ও রেন্ট অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশ দখল করে। এর সঙ্গে দৈনন্দিন খরচ, পরিবহন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় যোগ হয়। ফলে একজন অভিবাসীর আয় তুলনামূলক বেশি হলেও সেই আয়ের কতটা সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে, তা নির্ভর করে তাঁর বসবাসের শহর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর। আলোচনায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। ভারতে যে আয় দিয়ে একটি পরিবারের জীবনযাত্রা পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় একই ব্যক্তি ভিন্ন পেশা বা বেশি বেতনের চাকরিতে যুক্ত হয়ে নতুন সুযোগ পেতে পারেন। তবে দুই দেশের আয়ের সরাসরি তুলনা করার সময় স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ডলারে আয়ের পরিমাণ বেশি হলেই প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বেশি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে বিদেশে বসবাসের সঙ্গে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরেও বেশ কিছু বিষয় জড়িত। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, চাকরির স্থায়িত্ব, পরিবারের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বাড়ি, গাড়ি কিংবা জীবনযাত্রার ছবি দিয়ে কারও সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করা কঠিন।   প্রণব ভরদ্বাজের পোস্টটি মূলত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা। এতে উল্লেখ করা পরিচিত ব্যক্তিদের আয়, ঋণ, সম্পদের মূল্য বা সঞ্চয়ের কোনো তুলনামূলক হিসাব দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কিংবা ভারতের সব মানুষের আর্থিক অবস্থার প্রতিনিধিত্বকারী তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে পোস্টটি ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা অভিবাসী জীবনের একটি পরিচিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। বিদেশে বড় বাড়ি ও গাড়ি অর্জন করা যেমন আর্থিক অগ্রগতির লক্ষণ হতে পারে, তেমনি এসব সম্পদের বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণও থাকতে পারে। ফলে প্রবাসজীবনের সাফল্য বিচার করতে শুধু দৃশ্যমান সম্পদ নয়, আয়, ব্যয়, ঋণ এবং সঞ্চয়ের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা প্রয়োজন।    

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১:৬
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া

কল্পনা করুন, আপনার বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধের টাকা নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি অ্যাপে বিল আপলোড করলেন। আর বিশ্বের কোনো বিলিয়নিয়ার সেটি দেখে আপনার হয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করে দিলেন। এমন একটি ব্যবস্থা চালু হলে কেমন হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে একটি অভিনব ধারণা।   ধারণাটি অনেকটা ডেটিং অ্যাপের মতো। তবে এখানে জীবনসঙ্গী খোঁজার পরিবর্তে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষের সঙ্গে বিত্তশালী দাতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। একজন ব্যক্তি তাঁর অপরিশোধিত বিল জমা দেবেন। অন্যদিকে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান কেউ চাইলে সেই বিল পরিশোধের দায়িত্ব নিতে পারবেন। তবে এমন কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ বাস্তবে চালু হয়েছে কিংবা বিলিয়নিয়াররা এভাবে সাধারণ মানুষের বিল পরিশোধ করছেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে বর্তমানে একটি সম্ভাব্য উদ্যোগের ধারণা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক পরিবারের নিয়মিত খরচের মধ্যে রয়েছে রেন্ট, মর্টগেজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসা এবং ক্রেডিট কার্ডের বিল। এসব খরচের কোনোটি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে অতিরিক্ত ফি, ঋণের চাপ কিংবা অন্যান্য আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি বিল পরিশোধের সুযোগ আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। সাধারণত বিভিন্ন বিলে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য থাকে। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথ্য প্রকাশ করলে পরিচয় চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এ ছাড়া কারা প্রকৃত অর্থে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন, জমা দেওয়া বিল আসল কি না এবং দাতাদের অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না, সেসব নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও প্রয়োজন হবে। সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে বিল পরিশোধের সুযোগ রাখা হলে অর্থের অপব্যবহারের কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে দাতা ও সহায়তাপ্রার্থীর পরিচয় যাচাই, তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ পরিচালনাপদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশায় কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।   এখন প্রশ্ন হলো, এমন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা সত্যিই চালু হলে সাধারণ মানুষ কতটা আগ্রহ দেখাবেন? বিশেষ করে বকেয়া বিল পরিশোধের সুযোগ পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে তাঁরা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন? একদিকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। এই দুই বিবেচনার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সহায়তাপ্রার্থীদের।   আপনার কী মত? কোনো বিলিয়নিয়ার আপনার বকেয়া বিল পরিশোধ করে দেওয়ার সুযোগ দিলে আপনি কি নিরাপদ একটি প্ল্যাটফর্মে বিল জমা দেবেন, নাকি ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন?  

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ০:৮
দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতের এক দম্পতির সম্পর্ক
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী

দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতের এক দম্পতির সম্পর্ক। বিচ্ছেদের নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে স্ত্রীকে নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি ভরণপোষণের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বামী। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর সম্পত্তি ও আর্থিক দায়দায়িত্বের প্রশ্ন সামনে আসায় ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রী ২৩ বছর ধরে আলাদা বসবাস করছিলেন। এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে না থাকলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর ভরণপোষণ ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তবে প্রস্তাব দেওয়া এবং আদালতের নির্দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। প্রস্তাবটি আদালত গ্রহণ করেছেন কি না কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ভরণপোষণ বা অ্যালিমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়। বিচ্ছেদের পর স্বামী বা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের নির্দেশ দিতে পারেন। এর পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আয়, সম্পত্তি, আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজন এবং মামলার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। ভরণপোষণ সব সময় মাসিক অর্থ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রযোজ্য আইন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এককালীন অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কোনো দম্পতি নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি বা আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে সেটিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট তথ্য, আইনি বিধান এবং আদালতের মূল্যায়নের ওপর।   দীর্ঘদিন আলাদা বসবাসের বিষয়টিও বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারতে দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়লে আদালত সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারেন। তবে শুধু দীর্ঘদিন আলাদা থাকলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের জন্য প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ২৩ বছর আলাদা থাকা এই দম্পতির ঘটনায় সম্পত্তি দেওয়ার প্রস্তাবটি বিচ্ছেদের আর্থিক নিষ্পত্তির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস না করলেও বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল থাকলে ভরণপোষণ ও অন্যান্য আর্থিক অধিকার কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এ ধরনের মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।   তবে আলোচিত মামলায় স্বামীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ, প্রস্তাবিত সম্পত্তির প্রকৃতি এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে স্ত্রী স্বামীর সব সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছেন কিংবা আদালত তাঁকে পুরো সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন জীবন শেষে আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্কের সমাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে সম্পত্তির অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি দায়দায়িত্বের প্রশ্ন। ট্যাগ: বিবাহবিচ্ছেদ, ভারত, স্বামী স্ত্রী, ভরণপোষণ, সম্পত্তি, আদালত, পারিবারিক আইন ফেসবুক হুক: ২৩ বছর ধরে আলাদা থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের সময় স্ত্রীকে নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি ভরণপোষণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব স্বামীর। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তি নিয়ে কী ঘটেছে? #DivorceCase #IndiaNews #Alimony #FamilyLaw #LegalNews ২৩ বছর আলাদা থাকার পর বিচ্ছেদ, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ ভারতে দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছেন পাটনা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্ত্রীকে স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে স্বামীর পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বামী নিজেই এই প্রস্তাব দেন এবং স্ত্রী তাতে সম্মতি জানান। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আট সপ্তাহের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর বিচারপতি বিবেক চৌধুরী ও বিচারপতি রানা বিক্রম সিংয়ের বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, স্বামী ও স্ত্রী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পৃথকভাবে বসবাস করছেন এবং তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। দুজনের কেউই আবার একসঙ্গে সংসার করতে আগ্রহী নন। মামলার শুনানিতে আদালত জানতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক নেই। এত বছর আলাদা থাকার পর তাঁদের পুনরায় একসঙ্গে বসবাসের সম্ভাবনাও নেই। আদালতের মতে, উভয় পক্ষের আচরণ ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্ন জীবন থেকে স্পষ্ট যে তাঁরা স্থায়ীভাবে দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যাগ করেছেন। টানা ২৩ বছরের এই বিচ্ছিন্নতাকে বিবাহবিচ্ছেদের যথেষ্ট ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিত্যাগের কারণে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০২৫ সালে পারিবারিক আদালত একতরফাভাবে দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের একটি আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য চালু করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাটনা হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী। আপিলের শুনানিতেই দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়টি সামনে আসে। মামলায় স্বামীর পক্ষে আইনজীবী ভোলা কুমার এবং স্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী অনুপা নন্দ ঝা আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানিতে জানানো হয়, স্ত্রীর নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। স্বামীর আইনজীবী জানান, স্ত্রী আগে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করলেও পরে সেখান থেকে চলে গিয়ে পৃথক বাসস্থানে থাকতে শুরু করেন। স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বামী নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। স্ত্রীর আইনজীবী তাঁর পক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি জানান। উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আদালত বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ জারি করেন। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে স্বামীকে প্রয়োজনীয় আইনি দলিল সম্পাদন করে সম্পত্তি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য উভয় পক্ষের আইনজীবীদেরও তাঁদের মক্কেলদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছেন, এই সম্পত্তি হস্তান্তরই হবে স্ত্রীর স্থায়ী ভরণপোষণের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। অর্থাৎ উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমেই মামলাটিতে স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্থায়ী ভরণপোষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা, আয়ের উৎস এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। তবে এই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল উভয় পক্ষের সম্মতি। ফলে এই রায়কে সব বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন জীবনের পর আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে স্ত্রীর স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়েও একটি চূড়ান্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১:৪৭
মা ও মেয়ের সম্পর্কে দূরত্বের ইঙ্গিত
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কি না, তা সব সময় সহজে বোঝা যায় না। কখনো যোগাযোগ কমে যাওয়া, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা কিংবা নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আর বাবা-মাকে সরাসরি না জানানোর মতো ছোট পরিবর্তন থেকেই সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত মিলতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আগেই সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হতে পারে।   ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৩৯৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ১০ জনের মধ্যে চারজন অন্তত একজন ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ভাই বা বোনের সঙ্গে, ১৬ শতাংশ বাবা বা মায়ের সঙ্গে এবং ১০ শতাংশ নিজের সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্কের দূরত্ব কখনো হঠাৎ তৈরি হয়েছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এর আগে আচরণ ও যোগাযোগে কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে এসব পরিবর্তন মানেই যে সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, তা নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, নতুন জীবন শুরু করা কিংবা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠার কারণেও সন্তান আগের তুলনায় কম যোগাযোগ করতে পারে। ভার্জিনিয়ার ভিয়েনা শহরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত দম্পতি ও পারিবারিক থেরাপিস্ট মেরি ম্যাকলাফলিন বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হতে পারে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিজের জীবনের কথা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া। আগে সন্তান হয়তো ভ্রমণের পরিকল্পনা, নতুন সম্পর্ক কিংবা কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির খবর সবার আগে বাবা-মাকে জানাত। কিন্তু ধীরে ধীরে বাবা-মা এসব খবর অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন। ম্যাকলাফলিনের মতে, তখন সন্তান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করলেও নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আর আগের মতো সরাসরি বাবা-মাকে জানাতে চাইছে না—এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পারিবারিক ছুটির দিন, জন্মদিন কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়াও সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। একইভাবে ফোনকলের উত্তর না দেওয়া, বার্তার জবাব দিতে দীর্ঘ সময় নেওয়া কিংবা যোগাযোগকে সংক্ষিপ্ত ও অনিয়মিত করে ফেলার মতো আচরণও সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে। কখনো কখনো এই পরিবর্তন এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ভাইবোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা পরিবারের অন্য সদস্যরাও মন্তব্য করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সন্তানকে দেখছেন না বা তাঁর খবর পাচ্ছেন না। ম্যাকলাফলিন আরও বলেন, কোনো সন্তান আগে পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী থাকলেও পরে বারবার ছবি তোলার সময় সরে যেতে পারে। এমন আচরণ থেকে বোঝা যেতে পারে, সে নিজেকে পরিবারের অংশ হিসেবে দেখার পরিবর্তে আলাদা পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। তবে একটি নির্দিষ্ট আচরণ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না; পরিস্থিতি ও সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা জরুরি। পেনসিলভানিয়াভিত্তিক থেরাপিস্ট ও ব্লাইথ ল্যান্ড্রি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ব্লাইথ ল্যান্ড্রি বলেন, সন্তানের নতুন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরও পারিবারিক সম্পর্কে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নতুন বন্ধুদের মধ্যে কেউ যদি কঠিন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়, তাহলে তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ল্যান্ড্রি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের ঘটনাগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা শুরু করাও একটি লক্ষণ হতে পারে, যাতে আগের অভিজ্ঞতাগুলোকে বাস্তব ঘটনার তুলনায় আরও ক্ষতিকর হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দেখা করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়াও সম্পর্কের দূরত্বের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, সম্পর্কের কথাবার্তার ধরনে বড় পরিবর্তন আসা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আগে যে সন্তান স্বাভাবিকভাবে কথা বলত, তার আচরণ হঠাৎ অনেক বেশি কঠোর বা বিরূপ হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা বোঝার জন্য অনুমানের বদলে খোলামেলা আলোচনাই বেশি কার্যকর হতে পারে। স্বাধীনতা আর সম্পর্কের দূরত্বের পার্থক্য ২০২৪ সাল থেকে নিজের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে কানেকটিকাটের বাসিন্দা লরা ওয়েলিংটনের। তাঁর মতে, সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন হতে চাওয়া এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রবণতার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে।   ওয়েলিংটন বলেন, সন্তান যখন কৈশোর পেরিয়ে তরুণ বয়সে প্রবেশ করে, তখন নিজের জীবন গড়তে এবং নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে বাবা-মায়ের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে যেতে পারে। অনেক অভিভাবকই এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে সন্তানকে স্বাধীনতা দিতে চান। তাঁরা প্রতিটি বিষয়ে বিরোধে না জড়িয়ে কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন, তা বেছে নিতে চেষ্টা করেন। কারণ প্রতিটি বিষয়ে বিরোধ তৈরি হলে যোগাযোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে ওয়েলিংটনের মতে, সন্তানের আচরণে যদি বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব দেখা যায়, তাহলে সেটিও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাঁর বর্ণনায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তান এমন মনোভাব দেখাতে পারে যেন সে সবকিছু জানে, আর বাবা-মা কিছুই বোঝেন না। বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতা বা মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং তাঁদের কথা বলার সুযোগ না রাখাও সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা জীবনযাপনের ধরনে বড় পার্থক্যও বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে ওয়েলিংটন মনে করেন। কোনো পরিবারে সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গি বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হতে পারে; আবার উল্টোভাবে বাবা-মায়ের কঠোর মতাদর্শও সম্পর্কের বিরোধ বাড়াতে পারে। তবে মতের অমিল থাকলেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবে, এমন নয়। মতপার্থক্য সামলানোর ধরন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সাসের মনোবিজ্ঞান গবেষক রিচার্ড ব্লেক, যিনি উদ্বেগ ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে কাজ করেন, বলেন, অন্যের ভিন্ন মতামত বিবেচনা করতে অনিচ্ছুক হওয়াও সম্পর্কের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি আগে থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বারবার কথা বলা বন্ধ করে দেয় বা সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি নিয়ে গর্ব করে, তাহলে বাবা-মায়েরও বিষয়টি খেয়াল করা উচিত। তবে এই আচরণ দেখেই ভবিষ্যতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। যোগাযোগের সমস্যায় কী করবেন   ব্লেকের মতে, বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে চলমান যোগাযোগের সমস্যা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে। সন্তান যদি মনে করে, বাবা-মা তার কথা শোনেন না, তার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন না কিংবা নিজের মতামত চাপিয়ে দেন, তাহলে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এ অবস্থায় বাবা-মায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে মনোযোগ দিয়ে সন্তানের কথা শোনা, মাঝপথে বাধা না দেওয়া এবং সে যা বলেছে, তা নিজের ভাষায় পুনরায় তুলে ধরে বোঝার চেষ্টা করা। এরপর সহজভাবে জানতে চাওয়া যেতে পারে, তার বলার মতো আরও কিছু আছে কি না। এর মাধ্যমে সন্তান নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পেতে পারে। ব্লেকের মতে, সন্তানের উদ্বেগ বারবার উপেক্ষা করলে বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সন্তানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও সেটি মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু অভিভাবক জানান, তাঁরা সন্তানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে খুব ঘনিষ্ঠ মনে করতেন। এরপর হঠাৎ এমন বার্তা বা চিঠি পেয়েছেন, যেখানে আর যোগাযোগ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ল্যান্ড্রির পরামর্শ, সন্তানের আচরণে দূরত্বের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু তার ভুল খোঁজার পরিবর্তে নিজের ভূমিকাও পর্যালোচনা করা উচিত। বাবা-মায়ের কোনো কথা বা আচরণে সন্তান কষ্ট পেয়েছে কি না, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার সুযোগ আছে কি না, কিংবা সম্পর্ক মেরামতের জন্য এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না—এসব প্রশ্ন নিয়ে সৎভাবে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের মূল কথা হলো, দূরত্বের প্রতিটি লক্ষণকে সম্পর্ক ছিন্ন করার নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং পরিবর্তনগুলোকে আলোচনার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দোষারোপ না করে মনোযোগ দিয়ে শোনা, পারস্পরিক সীমারেখাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা—এসব পদক্ষেপ সম্পর্কের সমস্যা বোঝার এবং তা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৭:৪১
মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা

মেয়ের বিয়ের দিন বাবা হিসেবে তার হাত ধরে হেঁটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬২ বছর বয়সী জিম জেটজ। কিন্তু অগ্ন্যাশয়ের চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাই ২০১৪ সালের মার্চে নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়ে জোসির সঙ্গে আয়োজন করেন বিয়ের আদলে একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান, যাতে বাবার সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতি মেয়ের কাছে থেকে যায়।   জিমের আশঙ্কা ছিল, মেয়ের প্রকৃত বিয়ের দিন পর্যন্ত তিনি হয়তো বেঁচে থাকবেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি চেয়েছিলেন, ভবিষ্যতে জোসি যেন অন্তত বাবার হাত ধরে হেঁটে যাওয়ার একটি স্মৃতি মনে রাখতে পারে। বাবা-মেয়ের এই ইচ্ছার কথা জানতে পারেন আলোকচিত্রী লিন্ডসে ভিলাতোরো। তিনি তাঁদের জন্য বিশেষ একটি স্মৃতি তৈরি করার উদ্যোগ নেন। বন্ধুদের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটির।   জোসির ১১তম জন্মদিনে বাড়ির পেছনের উঠান সাজানো হয় ফুল দিয়ে। আনা হয় বিয়ের কেক। সাদা পোশাকে কনের সাজে হাজির হয় জোসি, আর স্যুট পরে প্রস্তুত হন তার বাবা জিম। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো করে সাজানো পথ ধরে বাবার হাত ধরে হেঁটে যায় ছোট্ট মেয়েটি। অনুষ্ঠানটি ছিল সম্পূর্ণ প্রতীকী। সেখানে কোনো বর ছিল না, হয়নি কোনো আইনগত বা বাস্তব বিয়েও। বরং বাবা-মেয়ের ভালোবাসা ও তাঁদের সম্পর্কের বন্ধন উদযাপন করতেই এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে একজন যাজক তাঁদের সম্পর্কের জন্য আশীর্বাদ করেন। জিম মেয়েকে একটি আংটিও উপহার দেন, যা দিনটির স্মারক হয়ে থাকার কথা।   আলোকচিত্রী লিন্ডসে অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করেন। বাবার সঙ্গে কাটানো সেই দিনটি জোসির জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ এক স্মৃতি। আর জিমের কাছে এটি ছিল মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর গভীর ভালোবাসা ও উদ্বেগের এক আবেগঘন প্রকাশ। একজন বাবার কাছে মেয়ের বিয়ের দিন তার হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জিম জানতেন না, জীবনের সেই দিনটি দেখার সুযোগ তাঁর হবে কি না। তাই ভবিষ্যতের অপেক্ষায় না থেকে মেয়ের সঙ্গে সেই মুহূর্তের একটি স্মৃতি আগেভাগেই তৈরি করে রাখেন তিনি।   ২০১৪ সালের সেই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল না বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করা। বরং অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে মেয়েকে এমন একটি স্মৃতি উপহার দেওয়া, যা ভবিষ্যতে বাবার অনুপস্থিতিতেও তাদের ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেবে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২:৫৫
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে

বিমান চালানোর সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য ঘুমিয়ে পড়া বা জেগে থাকতে তীব্র লড়াই করার অভিজ্ঞতা হয়েছে ইউরোপের ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ পাইলটের। ইউরোপের ৩২টি দেশের প্রায় ৭ হাজার ২০০ পাইলটের ওপর পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। ২০২৬ সালের আগস্টে পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং ক্লান্তি নিয়েও ফ্লাইট পরিচালনা করার প্রবণতা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের ২৮ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। ইউরোপীয় ককপিট অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) উদ্যোগে পরিচালিত জরিপটি বিশ্লেষণ করেছে বিমান চলাচলবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইনস সিমন্স। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী পাইলটদের ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, আগের চার সপ্তাহে উড়োজাহাজ পরিচালনার সময় অন্তত একবার অনিচ্ছাকৃতভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য ঘুমিয়ে পড়া কিংবা জেগে থাকতে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। এ ধরনের অবস্থাকে বলা হয় ‘মাইক্রোস্লিপ’। এতে অল্প সময়ের জন্য অনিচ্ছাকৃত ঘুম চলে আসতে পারে, যা পাইলটের মনোযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাইলট সাধারণত বা প্রায়ই পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পান না বলে জানিয়েছেন। ফলে এক ফ্লাইটের পর আরেক ফ্লাইট পরিচালনার সময় জমতে থাকা ক্লান্তি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ক্লান্তির কারণে নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনার উপযুক্ত মনে না করলেও অনেক পাইলট তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে চান না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন, ক্লান্তি অনুভব করলেও সাধারণত তাঁরা নিজেদের ফ্লাইট পরিচালনার অনুপযুক্ত ঘোষণা না করে কাজ চালিয়ে যান।   ক্লান্তির বিষয়টি জানালে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রায় ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পাইলট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ক্লান্তির কথা জানালে তাঁদের শাস্তি বা প্রতিশোধমূলক আচরণের মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ পাইলট অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জরিপে ‘কমান্ডারস ডিসক্রিশন’ ব্যবস্থার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার আওতায় ক্যাপ্টেন নির্ধারিত সীমার বাইরে ফ্লাইট ডিউটির সময় বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন। জরিপে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ পাইলট জানিয়েছেন, আগের চার সপ্তাহে তাঁরা অন্তত একবার এ সুবিধা ব্যবহার করেছেন। ইসিএর মতে, ফ্লাইটের বিলম্ব পুষিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের চাপ পাইলটদের ক্লান্তি বাড়াতে পারে। তাই শুধু ফ্লাইট ডিউটির সময়সীমা নির্ধারণ করলেই হবে না, পাইলটরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন কি না এবং ক্লান্তির কথা নির্ভয়ে জানাতে পারছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।   তবে জরিপের ফলাফলকে সব ইউরোপীয় পাইলটের অভিজ্ঞতার সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাবে না। এটি অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে পরিসংখ্যানগুলো জরিপে অংশ নেওয়া পাইলটদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, সব ফ্লাইটে পাইলট ঘুমিয়ে পড়ছেন এমন প্রমাণ দেয় না। বিমান চলাচলে পাইলটের ক্লান্তি নতুন সমস্যা নয়। দীর্ঘ সময় কাজ, রাতের ফ্লাইট, অনিয়মিত কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শারীরিক ও মানসিক সতর্কতা কমিয়ে দিতে পারে। ককপিটে মনোযোগ ধরে রাখা, পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়ন করা এবং জরুরি অবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্লান্তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ককপিট অ্যাসোসিয়েশন বিমান সংস্থাগুলোর ক্লান্তি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যেখানে পাইলটরা শাস্তি বা চাকরিগত ক্ষতির আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে পারবেন।   জরিপের ফলাফল আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক উড়োজাহাজ ও প্রযুক্তির পাশাপাশি পাইলটদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বাস্তবসম্মত কর্মসূচি এবং নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১:১৬
তালিতে সংস্কারের পর মার্কিন দম্পতির বাড়ি
মাত্র ১৩ হাজার ডলারে ইতালিতে বাড়ি কিনে ১৮ হাজার ডলারে সংস্কার করলেন মার্কিন দম্পতি

তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিম্যান। শেষ পর্যন্ত ইতালিতে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে ১৩ হাজার ১৫০ ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁরা। কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করতে আরও প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলার খরচ করেন এই মার্কিন দম্পতি। এখন ইতালিতেই মেয়েকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাঁরা।   ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া ক্যাসান্দ্রার বয়স ৩৩ বছর, আর তাঁর স্বামী অ্যালেক্সের বয়স ৩৪। ২০২০ সালে তাঁদের মেয়ের জন্মের সময় তাঁরা চেক প্রজাতন্ত্রে ক্যাসান্দ্রার দাদার সঙ্গে থাকছিলেন। এর আগে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময় দাদার বাড়িকে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তাঁরা। সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—বন্ধুদের কাছে এমন কথাই বলেছিলেন ক্যাসান্দ্রা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে বাড়ি কেনা এবং সন্তানের দেখাশোনার জন্য কতটা ব্যয় করতে হবে, তা হিসাব করে তাঁদের পরিকল্পনা বদলে যায়। ক্যাসান্দ্রার উপলব্ধি হয়, দেশে ফিরে গেলে জীবনযাপনের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই ইউরোপেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। ক্যাসান্দ্রা বলেন, সন্তান হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু বাড়ি কেনা ও শিশুর যত্নের খরচ সম্পর্কে জানার পর সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইতালির বিভিন্ন শহরে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাত্র এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির উদ্যোগের খবর তাঁদের নজরে আসে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া শহর ও গ্রামগুলোতে নতুন বাসিন্দা আনা, পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এক ইউরোর বাড়ি কেনার বিজ্ঞাপন দেখলেই যে সত্যিকার অর্থে এত কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়া যাবে, তা নয়। কোনো কোনো এলাকায় এক ইউরো কেবল প্রতীকী মূল্য। আবার কোথাও নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। বাড়ি কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করার শর্তও থাকতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে প্রকৃত ব্যয় কত হতে পারে, তা যাচাই করতে চেয়েছিলেন ক্যাসান্দ্রা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাড়ি কিনতে ২০ হাজার ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ৬২৭ ডলারের বেশি খরচ না করা। অনলাইনে বাড়ি খোঁজার পাশাপাশি নিজের চোখে সম্পত্তি দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইতালিতে বাড়ির সন্ধান   ২০২১ সালে ইতালির আব্রুজ্জো ও তুসকানি অঞ্চলে বাড়ি দেখতে যান এই দম্পতি। সব মিলিয়ে ১৫টি বাড়ি ঘুরে দেখেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলে দুই তলা, দুই শয়নকক্ষের একটি বাড়ি পছন্দ হয় তাঁদের। বাড়িটির আয়তন এক হাজার ৭৬ বর্গফুটের সামান্য কম। নিচতলার নিচে থাকা বেসমেন্টে আরেকটি শয়নকক্ষ এবং ওপরে একটি চিলেকোঠাও ছিল। বাড়ি সংস্কারে যে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হবে, তা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। তাই বাড়ি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাড়ির টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় কি না, সেটিও ছিল ক্যাসান্দ্রার কাছে অপরিহার্য শর্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা এবং দাম তুলনা করতে তিনি তালিকা তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মনে হয়। তখন এলাকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর বিশেষ ধারণা ছিল না; মূল বিবেচনা ছিল ভালো দামে বাড়ি কেনা এবং টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য পাওয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটির কেনাকাটা সম্পন্ন করেন তাঁরা। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করায় কোনো বাড়ি কেনার ঋণ নিতে হয়নি। কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা বাড়িটি তখন বসবাসের উপযোগী ছিল না। দেয়াল নতুন করে মেরামত করা, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ, জানালা-দরজা পরিবর্তন এবং রান্নাঘর ও বাথরুম পুরোপুরি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। নিজেরাই করলেন বেশির ভাগ সংস্কার   বাড়ির সংস্কার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালেক্স নিজেই বেশির ভাগ কাজ করেন। তবে পানির সংযোগ ও পাইপলাইনের মতো কিছু কাজের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করতে হয়। দম্পতির হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি সংস্কারে তাঁদের মোট ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো খরচ হয়, যা প্রায় ১৪ হাজার ২০৭ থেকে ১৭ হাজার ৭৫৮ ডলারের সমান। সংস্কারের সময় টেরেসের আকার বাড়ানো হয়। নিচতলায় নতুন একটি বাথরুম তৈরি করা হয় এবং বেসমেন্টকে অতিথিদের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়। ২০২২ সালের শরৎকালে সংস্কারের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়। পরে ২০২৩ সালে বেসমেন্ট ও চিলেকোঠার কাজও নতুন করে করা হয়। বাড়ির অন্দরসজ্জায় প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ না করে নানা রকম নকশা ও রঙের সমন্বয় করেন ক্যাসান্দ্রা। পুরোনো আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী খুঁজতে বিভিন্ন ব্যবহৃত পণ্যের দোকান এবং খোলা বাজারে ঘুরেছেন তিনি। বাড়িতে প্রাকৃতিক উপকরণ, উষ্ণ ও শীতল রঙের মিশ্রণ এবং নানা রঙের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন। ক্যাসান্দ্রার মতে, বাড়িটি আকারে ছোট হওয়ায় তিনি একে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে চেয়েছিলেন। ঘরের প্রতিটি জিনিসের পেছনে তাঁর নিজস্ব ভাবনা রয়েছে। কোনো জিনিস কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেটির সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে থাকুক—এমনটাই ছিল তাঁর ইচ্ছা। ঋণ নেই, তবে রয়েছে নিয়মিত খরচ   বাড়ির জন্য কোনো বন্ধকী ঋণ না থাকায় দম্পতির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে। ক্যাসান্দ্রার মতে, আয় কমে গেলে বা অর্থের টান পড়লেও অন্তত বাড়ির ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা থাকায় তিনি আর্থিক স্বাধীনতা অনুভব করেন। তবে বাড়ির মালিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে বসবাসের জন্য আর কোনো খরচ নেই। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ইন্টারনেটের জন্য মাসে ১২ ইউরো বা প্রায় ১৪ ডলার দিতে হয়। বছরে সম্পত্তি কর ৬১ ইউরো এবং আবর্জনা অপসারণের জন্য ২৮৬ ইউরো খরচ হয়। এ ছাড়া প্রতি দুই মাসে পানির বিল প্রায় ৯১ ইউরো এবং বিদ্যুতের বিল ২১৭ ইউরো। শীতকালে ঘর গরম রাখতে তাঁরা কাঠের গুঁড়া থেকে তৈরি জ্বালানির পেলেট ব্যবহার করেন। এ জন্য সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ ইউরো পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, যা মাসে প্রায় ২০০ ডলারের সমান। ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পর ক্যাসান্দ্রা প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে ভ্রমণবিষয়ক ব্লগ ও নিউজলেটারের জন্য কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। পাশাপাশি অন্য একজন ভ্রমণবিষয়ক ব্লগারের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। অ্যালেক্স আগে কসাই হিসেবে কাজ করতেন। এখন তাঁদের দ্বিতীয় বাড়িটি পরিচালনা করেন, যেটি পর্যটকদের কাছে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বাড়িও কিনেছেন তাঁরা   ২০২৪ সালে ইতালিতে আরেকটি বাড়ি কেনেন এই দম্পতি। শহরের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত একতলা বাড়িটিতে দুটি শয়নকক্ষ ও একটি বাথরুম রয়েছে। বাড়িটির সঙ্গে নিজস্ব জমি ও ব্যক্তিগত বাগানও আছে। এর দাম ছিল ১৭ হাজার ইউরো, যা প্রায় ২০ হাজার ৮৩ ডলারের সমান। এই দ্বিতীয় বাড়িটি তাঁরা পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেন। সেখানে প্রতি রাতের ভাড়া সর্বোচ্চ ৮৫ ইউরো বা প্রায় ১০১ ডলার হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বাড়িটি থাকার জন্য ব্যবহার না করে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, ক্যাসান্দ্রার কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা বেশি পছন্দের। সেখান থেকে হেঁটেই দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। এখনই ইতালি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁদের। মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পর হয়তো অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাববেন। তবে সেটি অন্তত আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করেন না ক্যাসান্দ্রা। তিনি চান, মেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে বেড়ে উঠুক। দম্পতি সাধারণত বছরে একবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। দেশটিকে তাঁরা নিজেদের বাড়ি হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু প্রতিবার ফিরে গেলে আগের পরিচিত পরিবেশ যেন আরও অপরিচিত মনে হয় বলে জানান ক্যাসান্দ্রা। তাঁর শৈশবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনকার অভিজ্ঞতা

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৬:১
স্থায়িত্ব পরীক্ষায় বিপাকে আইফোন ডুয়ো
জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় টিকল না আইফোন ডুয়ো, ধুলা ও চাপে বিকল স্ক্রিন

অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুয়ো স্থায়িত্ব পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জনপ্রিয় প্রযুক্তিবিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে ধুলা ঢুকে সমস্যা তৈরি করে। পরে ফোনটি বাঁকানোর পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভেতরের নমনীয় পর্দা। প্রথমে পর্দায় সবুজ রেখা দেখা দেয়, এরপর সেটি পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তবে পরীক্ষাটি ছিল স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে পরিচালিত একটি পরীক্ষা।   ইউটিউবার জ্যাক নেলসন, যিনি জেরিরিগএভরিথিং নামে পরিচিত, তাঁর পরীক্ষায় ফোনটির বাইরের অংশ, পর্দা, ধুলা প্রতিরোধক্ষমতা এবং কাঠামোগত দৃঢ়তা যাচাই করেন। শুরুতে বাইরের পর্দা তুলনামূলক ভালো অবস্থায় ছিল। তবে ভেতরের নমনীয় পর্দা নখের আঁচড়েও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখায়। পরে ধুলা ও ময়লা দিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেয়।   অ্যাপল ফোনটিতে আইপি৬৮ মানের ধুলা ও পানি প্রতিরোধক্ষমতার কথা উল্লেখ করলেও পরীক্ষায় ধুলার কণা ভাঁজ করার কবজায় প্রবেশ করেছে বলে দেখা যায়। এর ফলে ফোনটি পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না। ফোনের দুই অংশ বন্ধ রাখার জন্য থাকা চুম্বকও ভেতরে জমে থাকা ধুলার কারণে সেটিকে ঠিকভাবে বন্ধ করতে পারেনি বলে নেলসন জানান।   এরপর ফোনটির কাঠামো কতটা চাপ সহ্য করতে পারে, তা দেখতে বাঁকানোর পরীক্ষা করা হয়। শুরুতে ফোনের ফ্রেম অক্ষত থাকলেও ভেতরের পর্দায় স্থায়ী সবুজ রেখা দেখা দেয়। দ্বিতীয়বার চাপ প্রয়োগের পর আরও রেখা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পর্দাটি স্পর্শে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। নেলসনের মতে, ফোনটির ভাঁজ করার যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত নড়াচড়া পর্দাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ধুলার কারণে কবজায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল, নাকি যন্ত্রাংশটির দৃঢ়তা যথেষ্ট ছিল না, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।   পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত ভেতরের পর্দা বদলাতে প্রায় এক হাজার ডলার খরচ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন নেলসন। তবে এই পরিমাণকে অ্যাপলের নিশ্চিত মেরামত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; এটি পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা খরচ। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা ফোনটির স্বাভাবিক দৈনন্দিন ব্যবহারকে তুলে ধরে না। বরং অতিরিক্ত ধুলা ও অস্বাভাবিক চাপের মধ্যে এর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। তাই পরীক্ষার ফল দিয়ে সব আইফোন ডুয়োর স্থায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ভাঁজযোগ্য ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কবজা ও নমনীয় পর্দার যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:২২
কোম্পানির নির্দেশ মেনে নিজের খরচে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক কর্মী।
অফিসে ফিরতে বিদেশ থেকে যাত্রা, পৌঁছেই চাকরিচ্যুত হওয়ার দাবি কর্মীর

কোম্পানির নির্দেশ মেনে নিজের খরচে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক কর্মী। রেডিটে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের দশ দিনের মধ্যে অফিসে উপস্থিত হতে বলেছিল প্রতিষ্ঠানটি। নির্দেশ মানতে তিনি বাড়তি খরচে বিমানের টিকিট কেনেন। কিন্তু ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়। ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মীর প্রায় এক মাস পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ অফিসে ফেরার নির্দেশ আসায় তিনি ইমেইলে যাত্রার খরচ ও আগের পরিকল্পনার বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মানবসম্পদ বিভাগ সতর্ক করে। এরপর তিনি টিকিট কেটে দেশে ফিরে অফিসে যোগ দেন।  ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতির বৈঠকে কোম্পানি তাঁর বিরুদ্ধে নীতিমালা না মানার অভিযোগ তোলে এবং পুরোনো কিছু বিষয় সামনে আনে। তিনি প্রায় দশ সপ্তাহের বেতনের সমপরিমাণ চাকরিবিচ্ছেদকালীন অর্থ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে তাঁর প্রশ্ন, চাকরি শেষ করার সিদ্ধান্ত দূরবর্তী বৈঠকে জানানো সম্ভব হলে তাঁকে কেন ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক যাত্রা করতে বলা হলো।    প্রতিবেদনে কোম্পানির নাম, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরিচয় বা নিয়োগকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির কারণ ও সিদ্ধান্তের সময় সম্পর্কে কর্মীর দাবির বাইরে নিশ্চিত তথ্য নেই। রেডিটের সংশ্লিষ্ট পোস্টটি বর্তমানে প্ল্যাটফর্মের ফিল্টারে সরানো হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে পোস্ট সরানোর কারণ সেখানে বিস্তারিত জানানো হয়নি, আর সেটি দিয়েও অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ০:৫০
মুখ পরিষ্কার না রাখলে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
ব্রণের সমস্যা সারাতে মাসের পর মাস মুখ ধোননি ইনফ্লুয়েন্সার, জমেছে সবুজাভ স্তর

ব্রণ কমানোর আশায় মুখ ধোয়া ও ত্বকের পরিচর্যার পণ্য ব্যবহার বন্ধ করেছিলেন কানাডায় বসবাসরত তরুণী টিয়া জাখের। কয়েক সপ্তাহ পর তার মুখে জমে থাকা স্তর সবুজাভ দেখাতে শুরু করে। এটিকে ত্বক সেরে ওঠার অংশ বলে দাবি করলেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, মুখ পরিষ্কার না রাখলে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   চিলির সংবাদমাধ্যম বায়োবায়োচিলের ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিয়া নিজের এই পদ্ধতির কথা টিকটকে জানিয়েছিলেন। তার আশা ছিল, মুখে জমে থাকা মৃত কোষের স্তর একসময় নিজে থেকেই খসে পড়বে এবং নিচে ব্রণমুক্ত ত্বক দেখা যাবে।   টিয়া ওই অবস্থাকে ‘রিটেনশন হাইপারকেরাটোসিস’ বলে বর্ণনা করেন। তার দাবি, আগে নিয়মিত ত্বক খুঁটে বা ঘষে মৃত কোষ সরানোর অভ্যাস ছিল। তা বন্ধ করার পর কোষগুলো সাময়িকভাবে জমে যাচ্ছে। তবে এটি তার নিজের ব্যাখ্যা, প্রতিবেদনে চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।    বায়োবায়োচিলেকে দেওয়া বক্তব্যে ইন্টেগ্রামেডিকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হেক্টর ফুয়েনসালিদা বলেন, মুখ পরিষ্কার বন্ধ রাখলে উল্টো প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও নতুন ব্রণ দেখা দিতে পারে। মুখে একটি স্তর তৈরি হয়ে পরে স্বাভাবিকভাবে খসে পড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ত্বক গাঢ় ও পুরু হয়ে যাওয়াকেও সুস্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে জানান তিনি।   চিকিৎসক আরও বলেন, এ ধরনের অভ্যাস সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তবে টিয়ার মুখের সবুজাভ স্তরের কারণ সংক্রমণ কি না, তা নিশ্চিত রোগনির্ণয় হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    ব্রণযুক্ত ত্বকের পরিচর্যায় আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি মৃদু ক্লেনজার দিয়ে আলতোভাবে দিনে সর্বোচ্চ দুবার এবং ঘাম হওয়ার পর মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেয়। আঙুলের সাহায্যে ক্লেনজার লাগাতে এবং ত্বক ঘষাঘষি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অতিরিক্তবার মুখ ধোয়াও ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে ব্রণ আরও খারাপ করতে পারে।    সংস্থাটির নির্দেশনায় কুসুম গরম পানি ব্যবহার এবং নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখ শুকানোর কথা বলা হয়েছে। ত্বকের সমস্যা বা পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১:৫৬
ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে
বুর্জ খলিফায় অফিস! প্রযুক্তিতে নেক্সট ইলন মাস্ক খ্যাত ১৪ বছরের জয়নম

দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিন গড়ে তুলেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নম জৈন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বয়স ১৪ বছর বলে উল্লেখ করা হয়। ছোট ব্যবসার বিপণন ও গ্রাহক যোগাযোগের কাজ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই উদ্যোগের অফিস বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় বলে সেসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    জয়নমের পরিবারের আদি নিবাস ভারতের পুনেতে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে যায় সে। ছোটবেলা থেকেই বাবার মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়নম জানিয়েছে, ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে।    প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুরুর আগেই ছোট বোনের সঙ্গে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করত জয়নম। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাত বছর বয়সে শুরু করা সেই চ্যানেলে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করা হতো। প্রতিবেদনের হিসাবে, তিন মাসের মধ্যে চ্যানেলটি এক লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার পায়।    পড়াশোনার ক্ষেত্রেও প্রচলিত সময়সূচির বাইরে এগোনোর চেষ্টা করে জয়নম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে সে বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে জয়পুরের একটি স্কুলের সহায়তায় কেমব্রিজ আইজিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার সাক্ষাৎকারের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় ১০৫ দিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ বছর বয়সে দশম শ্রেণির সমমানের এই ধাপ সম্পন্ন করে সে।    এরপর নিজের উদ্যোগে সময় দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয় জয়নম। মেঙ্গো ইঞ্জিনকে ব্যবসার জন্য সহায়ক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে সে। বিপণনের পরিকল্পনা, কনটেন্ট তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রাহকসেবার বিভিন্ন কাজ এক জায়গা থেকে পরিচালনায় সহায়তা করা এর লক্ষ্য।   তবে উদ্যোগটি তখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জয়নমের বরাতে বলা হয়, প্রায় ১০০টি ব্যবসা সেবাটি ব্যবহারের অপেক্ষমাণ তালিকায় যোগ দিয়েছিল। এই সংখ্যা অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের আয় নির্দেশ করে না।    প্রযুক্তি শেখার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চেয়ে নিজে পরীক্ষা করার ওপর বেশি নির্ভর করেছে বলে জানিয়েছে জয়নম। এমিরেটস টোয়েন্টিফোর সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বরাতে ইকোনমিক টাইমস লিখেছে, বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার, ইউটিউব দেখে শেখা এবং নতুন বিষয় নিয়ে কৌতূহল থেকেই তার শেখার বড় অংশ এসেছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১:৪৩
সন্তানের মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের পাঁচটি কৌশল
সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি

সন্তান কোনো কারণে ভেঙে পড়লে বা আবেগ সামলাতে না পারলে অভিভাবকদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে তাকে বুঝিয়ে বলা। কী করা উচিত, কেন এমন আচরণ করা ঠিক নয় কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে—এসব বোঝানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শিশু যখন তীব্র মানসিক চাপ বা আবেগের মধ্যে থাকে, তখন দীর্ঘ উপদেশ সব সময় কাজে আসে না। বরং সে সময় অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতি, পাশে থাকা এবং ছোট ছোট কিছু আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।   শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান বিপর্যস্ত হলে তার মস্তিষ্কের চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর অংশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তখন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে অভিভাবকের কথা শোনার বা যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শিশুকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তাকে শান্ত পরিবেশ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই বিশেষজ্ঞ একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড লাইফ স্পেশালিস্ট ও থেরাপিস্ট। তিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরকে সহায়তা করেছেন। নিজের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি দেখেছেন, শিশুরা যখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের চিন্তাশক্তির চেয়ে অনুভূতি বেশি প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘কো-রেগুলেশন’ বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, শিশু যখন নিজের আবেগ সামলাতে হিমশিম খায়, তখন বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শান্ত আচরণ থেকে সে স্থিরতা পেতে পারে। গবেষণাতেও শিশুদের মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তুলতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিশু কষ্টে থাকলে সে সব সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকের কথা অমান্য করে না। অনেক সময় তার মানসিক অবস্থা এমন থাকে যে ব্যাখ্যা, সমঝোতা বা সংশোধনের কথা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিতে সে থাকে না। তখন প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির অনুভূতি ফিরে পাওয়া। অভিভাবক পাশে থাকলে শিশু বুঝতে পারে, কঠিন মুহূর্তে তাকে একা সামলাতে হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাঁচটি সহজ আচরণ শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। প্রথমত, সন্তানের পাশে নীরবে বসুন। সন্তান মন খারাপ করে থাকলে তার পাশে বসে থাকা কিংবা সে নিজের ঘরে থাকলে দরজার বাইরে অবস্থান করাও তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। এতে সে বুঝতে পারে, প্রয়োজন হলে অভিভাবককে কাছে পাবে। তবে সন্তান যদি কিছুটা একা থাকতে চায়, সেই ইচ্ছাকেও সম্মান করা জরুরি। তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। বরং কোথায় গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে দিন। এতে তার মনে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, হাত বাড়িয়ে দিন বা কোমল স্পর্শের সুযোগ রাখুন। মন খারাপের সময় সব শিশু স্পর্শ পছন্দ করে না। তাই সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে হাত ধরা, পিঠে আলতো করে হাত রাখা কিংবা নিজের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া সহায়ক হতে পারে। সন্তান হাত ধরতে চাইলে ধরবে, না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে না। তার ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখালে সে বুঝতে পারে, তার অনুভূতি ও পছন্দ অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, একসঙ্গে ধীরে শ্বাস নিন। সন্তানকে বারবার ‘শান্ত হও’ বা ‘গভীর শ্বাস নাও’ বলার বদলে অভিভাবক নিজেই ধীরে ও দৃশ্যমানভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দেখাতে পারেন। চাইলে শ্বাস নেওয়ার শব্দও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। শিশু অনেক সময় অজান্তেই কাছের মানুষের শ্বাসের ছন্দ অনুসরণ করে। শান্ত পরিবেশে এভাবে কিছুক্ষণ থাকা তার শরীর ও মনকে স্থির হতে সাহায্য করতে পারে। চতুর্থত, শান্ত হতে সাহায্য করে এমন খেলনা বা উপকরণ কাছে রাখুন। অনেক শিশুর পছন্দের নরম খেলনা বা অন্য কোনো পরিচিত জিনিস থাকে, যা তাকে স্বস্তি দেয়। এমন কিছু শিশুর কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে প্রস্তুত হলে নিজেই সেটি ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন কাগজের পাখা দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন কিংবা হাতে চেপে ধরা যায় এমন স্ট্রেস বল ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। তবে এসব কৌশল শিশুর মন শান্ত থাকার সময় শেখানো ভালো। তাতে চাপের মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করা তার জন্য সহজ হতে পারে। পঞ্চমত, পাশাপাশি থেকে কোনো কাজে যুক্ত হন। সব সময় কথা বলেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, এমন নয়। ছোট শিশুদের সঙ্গে বসে ছবি আঁকা, রং করা, ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা কিংবা খেলনার সাহায্যে কোনো পরিস্থিতি অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে। বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ধাঁধা মেলানো, বই পড়ে শোনানো, কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা ভিডিও গেম খেলার মতো কাজও কাজে আসতে পারে। এতে শিশুকে নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার জন্য চাপ দিতে হয় না, অথচ অভিভাবকের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় থাকে। এই পাঁচটি আচরণের মূল কথা হলো, সন্তানের আবেগকে অস্বীকার না করে তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করা। তবে সব শিশু একইভাবে সাড়া দেয় না। কারও কাছে পাশে বসে থাকাই যথেষ্ট, আবার কেউ কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাইতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের সহায়ক অভিজ্ঞতা শিশুদের নিজের আবেগ চিনতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে পারে। অভিভাবক সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন না, কিন্তু শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সন্তান হয়তো অভিভাবকের বলা প্রতিটি কথা মনে রাখবে না। কিন্তু কঠিন সময়ে সে কতটা নিরাপদ, বোঝা হয়েছে এবং সমর্থন পেয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা তার মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:৫৮
২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় প্রিন্সেস ক্রুজেস
প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় শীর্ষে যারা

প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকা। বড় প্রমোদতরিতে সমুদ্রভ্রমণের জন্য কোন কোম্পানিগুলো যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ পেয়েছে, তা উঠে এসেছে বার্ষিক পাঠক জরিপে। বিশাল জাহাজের বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেছে প্রিন্সেস ক্রুজেস। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট বড় জাহাজের বিভাগে শীর্ষে রয়েছে ভার্জিন ভয়েজেস।   ২০২৬ সালের রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে বিভিন্ন আকারের জাহাজ পরিচালনাকারী ক্রুজ কোম্পানিগুলোকে মূল্যায়ন করেছেন পর্যটকেরা। এতে সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোর জন্য আলাদা বিভাগ রাখা হয়। চার হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারে, এমন জাহাজকে ‘মেগাশিপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই বিভাগে প্রিন্সেস ক্রুজেস পেয়েছে ৯২ দশমিক ৩৫ স্কোর। প্রিন্সেস ক্রুজেসের বহরে নতুন যুক্ত হওয়া সান প্রিন্সেস ও স্টার প্রিন্সেস জাহাজ দুটি কোম্পানিটিকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছে। সান প্রিন্সেস যাত্রা শুরু করে ২০২৪ সালে, আর স্টার প্রিন্সেস চালু হয় ২০২৫ সালে। প্রতিটি জাহাজে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ যাত্রী বহন করা সম্ভব। এগুলোই বর্তমানে কোম্পানিটির বহরের সবচেয়ে বড় জাহাজ। মেগাশিপ বিভাগের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৮৬ দশমিক ৪৫ স্কোর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নয়টি ক্রুজ জাহাজই এই কোম্পানি পরিচালনা করে। এর সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোতে পূর্ণ ধারণক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬০০ যাত্রী থাকতে পারেন। জাহাজগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে ওয়াটার পার্ক থেকে শুরু করে সরাসরি মঞ্চে পরিবেশিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এই বিভাগে তৃতীয় হয়েছে এমএসসি ক্রুজেস, যার স্কোর ৮৫ দশমিক ২৩। চতুর্থ স্থানে রয়েছে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন, পেয়েছে ৮১ দশমিক ০৫। পঞ্চম স্থানে থাকা নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের স্কোর ৮০ দশমিক ৩০। এমএসসি ক্রুজেসের বড় জাহাজগুলোতে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ যাত্রী বহন করা যায়। কার্নিভালের বড় জাহাজগুলোতে সমুদ্রের ওপর রোলার কোস্টারের মতো আকর্ষণীয় বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের জাহাজগুলোতেও ওয়াটার পার্ক, গো-কার্ট রেসিং এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি গেমিংয়ের মতো সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে বড় জাহাজের প্রতিযোগিতায় শুধু যাত্রী ধারণক্ষমতা নয়, ভ্রমণের সময় বিনোদনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আকারে কিছুটা ছোট বড় জাহাজের বিভাগে ফলাফল আলাদা। আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার ৯৯৯ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম জাহাজগুলোকে এই বিভাগে রাখা হয়েছে। এখানে ভার্জিন ভয়েজেস ৯১ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিজনি ক্রুজ লাইন, যার স্কোর ৯০ দশমিক ৭৫। তৃতীয় হয়েছে হল্যান্ড আমেরিকা লাইন, পেয়েছে ৯০ দশমিক ৫৭। এই বিভাগের চতুর্থ স্থানে রয়েছে সেলিব্রিটি ক্রুজেস, যার স্কোর ৮৫ দশমিক ৭৪। পঞ্চম স্থানে থাকা প্রিন্সেস ক্রুজেস পেয়েছে ৮৪ দশমিক ২৭। অর্থাৎ, প্রিন্সেস ক্রুজেস মেগাশিপ বিভাগে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি বড় জাহাজের বিভাগেও শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। দুটি বিভাগের শীর্ষ পাঁচের তালিকা একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, যাত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী ক্রুজ কোম্পানিগুলোর অবস্থান জাহাজের আকারভেদে বদলে যাচ্ছে। মেগাশিপ বিভাগে প্রিন্সেস ক্রুজেস এগিয়ে থাকলেও তুলনামূলক ছোট বড় জাহাজে ভার্জিন ভয়েজেস প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ডিজনি ক্রুজ লাইন ও হল্যান্ড আমেরিকা লাইনও এই বিভাগে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মেগাশিপ বিভাগের সেরা পাঁচ ক্রুজ লাইন হলো: প্রিন্সেস ক্রুজেস (৯২.৩৫), রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল (৮৬.৪৫), এমএসসি ক্রুজেস (৮৫.২৩), কার্নিভাল ক্রুজ লাইন (৮১.০৫) এবং নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইন (৮০.৩০)। বড় জাহাজের বিভাগের সেরা পাঁচ ক্রুজ লাইন হলো: ভার্জিন ভয়েজেস (৯১.০০), ডিজনি ক্রুজ লাইন (৯০.৭৫), হল্যান্ড আমেরিকা লাইন (৯০.৫৭), সেলিব্রিটি ক্রুজেস (৮৫.৭৪) এবং প্রিন্সেস ক্রুজেস (৮৪.২৭)। এবারের বার্ষিক পুরস্কারে শুধু বিশাল ও বড় জাহাজ নয়, মাঝারি ও ছোট জাহাজ এবং নদীপথে চলাচলকারী ক্রুজ লাইনগুলোকেও মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের সমুদ্রভ্রমণ ও নদীভ্রমণের জন্য যাত্রীদের পছন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রায় ৮ লাখ ভোটের এই জরিপে উঠে আসা ফলাফল পর্যটকদের ক্রুজ ভ্রমণের পছন্দ সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে কোন ক্রুজ লাইন বেছে নেওয়া হবে, তা নির্ভর করতে পারে জাহাজের আকার, বিনোদনের সুযোগ এবং ভ্রমণকারীর ব্যক্তিগত চাহিদার ওপরও।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:২৪
নিজের যত্নে গড়ে তুলুন সুস্থ ও সুন্দর জীবন
নিজের জন্য সময় বের করুন, প্রতিদিনের জীবনে প্রশান্তি ফেরাতে মেনে চলুন ২০ অভ্যাস

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যান। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিশ্রাম, পছন্দের কাজ বা নিজের মনের খোঁজ নেওয়ার জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য সময় বের করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের একটি প্রয়োজনীয় অংশ।   নিজের যত্ন বা সেলফ-কেয়ার মানে শুধু স্পা, দামি প্রসাধনী কিংবা ছুটি কাটানো নয়। প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু অভ্যাস যোগ করেও নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্ভব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ নিজের জন্য রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অনুসরণ করতে পারেন এমন ২০টি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো। ১. দিনের শুরুতে তৈরি করুন নিজের রুটিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া না করে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। কয়েক মিনিট ধ্যান, ডায়েরি লেখা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। দিনের শুরুতে শান্ত ও সচেতন কিছু অভ্যাস আপনাকে কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে।   ২. আরামদায়ক গোসলের সময় বের করুন সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে উষ্ণ পানিতে গোসল করতে পারেন। চাইলে গোসলের পরিবেশ আরামদায়ক করে তুলতে মৃদু আলো ও পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সুগন্ধি তেল বা বাথ সল্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের সংবেদনশীলতার বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। ৩. মনোযোগ দিন বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ চর্চা বা মাইন্ডফুলনেসের মাধ্যমে বর্তমান মুহূর্তের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। কয়েক মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া, নীরবে বসে থাকা কিংবা মনোযোগ দিয়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। ৪. শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ম্যাসাজ করুন শরীরের পেশিতে টান বা অস্বস্তি অনুভব করলে উপযুক্ত ম্যাসাজ আরাম দিতে পারে। চাইলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নিতে পারেন অথবা বাড়িতে নিরাপদভাবে ম্যাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যথা, আঘাত বা শারীরিক অসুস্থতা থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ৫. পুষ্টিকর খাবার খান সুস্থ থাকার জন্য খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করলে ব্যস্ততার মধ্যেও সুষম খাবার খাওয়া সহজ হতে পারে। ৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি প্রয়োজন। দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। সবার পানির চাহিদা এক নয়; আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তা নির্ভর করতে পারে। ৭. প্রযুক্তি থেকে বিরতি নিন দীর্ঘ সময় ফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মন ক্লান্ত হতে পারে। তাই দিনের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। এ সময় বই পড়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা প্রযুক্তির বাইরে কোনো শখের কাজে মন দিতে পারেন। ৮. পছন্দের শরীরচর্চা বেছে নিন শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। যোগব্যায়াম, নাচ, দ্রুত হাঁটা কিংবা অন্য কোনো পছন্দের ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন। শুরুতেই কঠিন রুটিন অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই; নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সক্রিয় থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। ৯. কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখুন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। সেগুলো বড় কোনো অর্জন হতে হবে না; প্রিয়জনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো কিংবা দিনের একটি সুন্দর মুহূর্তও হতে পারে। এভাবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। ১০. ঘুমকে গুরুত্ব দিন শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের আগে পর্দা ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ১১. প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক সমর্থন এবং আপনজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনের খোঁজ নিন, একসঙ্গে সময় কাটান এবং নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিন। সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ১২. প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা নির্ধারণ করুন সব দায়িত্ব একা সামলানোর চেষ্টা করলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে কোনো অনুরোধে না বলুন। ব্যক্তিগত সময়ের সুরক্ষা এবং দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর সীমারেখা সহায়ক হতে পারে। ১৩. পছন্দের শখে সময় দিন ছবি আঁকা, বাগান করা, গান শেখা কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজ আনন্দ ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করে। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের পছন্দের কাজে সময় রাখুন। এসব কাজের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন অল্প সময় দিয়েও শুরু করা যায়। ১৪. ত্বকের যত্ন নিন ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ একটি পরিচর্যার রুটিন তৈরি করুন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানো উপকারী হতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে ত্বকে মানানসই কি না, তা যাচাই করুন। ১৫. পছন্দের গান শুনুন গান অনেকের মন ভালো করতে কিংবা শান্ত হতে সাহায্য করে। কাজের ফাঁকে, হাঁটার সময় অথবা বিশ্রামের মুহূর্তে পছন্দের গান শুনতে পারেন। নিজের মেজাজ অনুযায়ী আলাদা প্লেলিস্ট তৈরি করলেও দৈনন্দিন রুটিন আরও আনন্দদায়ক হতে পারে। ১৬. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে নিজেকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না। মনে রাখুন, ভুল ও কঠিন সময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ। একজন বন্ধুর প্রতি যে সহানুভূতি দেখাতেন, নিজের প্রতিও তেমন বোঝাপড়া ও সদয় আচরণ করার চেষ্টা করুন। ১৭. ঘর গুছিয়ে রাখুন অগোছালো পরিবেশে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পেতে সময় লাগে এবং অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় ঘর বা কাজের জায়গা গুছিয়ে রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার চেষ্টা না করে ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট। ১৮. প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন সুযোগ পেলে বাইরে কিছু সময় কাটান। পার্কে হাঁটা, গাছপালা দেখা কিংবা খোলা পরিবেশে বসে থাকা দৈনন্দিন একঘেয়েমি থেকে বিরতি দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ না থাকলেও কাছাকাছি কোনো সবুজ জায়গায় অল্প সময় কাটাতে পারেন। ১৯. সুগন্ধের মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন কিছু সুগন্ধ অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে। ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস বা পেপারমিন্টের সুগন্ধযুক্ত পণ্য কেউ কেউ বিশ্রামের সময় ব্যবহার করেন। তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়; উপযুক্তভাবে পাতলা করে ব্যবহার করতে হয়। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সুগন্ধে সংবেদনশীলতা থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি। ২০. প্রয়োজন হলে বিশ্রামের দিন নিন কখনো কখনো শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ থেকে বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করুন, পছন্দের কাজ করুন কিংবা নিরিবিলি সময় কাটান। তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা মন খারাপ দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য একসঙ্গে সব অভ্যাস শুরু করার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের জীবনযাপন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি অভ্যাস বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে রুটিনে যুক্ত করুন। কারও জন্য নিয়মিত হাঁটা উপকারী হতে পারে, আবার অন্য কারও কাছে পর্যাপ্ত ঘুম বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল বিষয় হলো, নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়—এটি নিজের সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৫:৩৬
অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং
'জীবন আর ক'টা দিন', আন্টার্কটিকা ঘুরে সর্বস্ব খরচ ক্যানসার আক্রান্তের, ফিরে জানলেন তিনি সুস্থ!

থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর সঞ্চয়ের অর্থ খরচ করে পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং। দেশে ফিরে পরীক্ষায় তাঁর টিউমারের আকার ছোট পাওয়া যায় বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ভ্রমণ বা পেঙ্গুইনের ছবি তোলার কারণে ক্যানসার সেরেছে, এমন চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াংয়ের বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের একটি স্কুলে প্রশাসনিক পদে কাজ করতেন তিনি। ২০১৩ সালে অবসরের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর থাইরয়েড ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং। ইউনান নেটের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এক মাসের অ্যান্টার্কটিকা সফরে তিনি দেড় লাখ ইউয়ান ব্যয় করেন। প্রচণ্ড ঠান্ডা, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও জাহাজের দুলুনির কারণে সফরটি সহজ ছিল না। তবু বরফের প্রান্তরে অপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে পেরেছিলেন তিনি।    একই বিবরণে বলা হয়, সফর শেষে পরীক্ষায় টিউমারের আকার কমতে দেখে চিকিৎসকেরা আপাতত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেন। এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছিল। তবে টিউমারের পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণের মতো চিকিৎসার নথি বা গবেষণার ফল ওই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।  বন্য প্রাণীর ছবি তোলার শখ পরবর্তী সময়ে ওয়াংয়ের জীবনের বড় অংশ হয়ে ওঠে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তিনি এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন। এই সংখ্যা তাঁর সামগ্রিক আলোকচিত্রচর্চার, অ্যান্টার্কটিকায় থাকা পেঙ্গুইনের প্রজাতির সংখ্যা নয়। তাঁর অ্যান্টার্কটিকা সফরও ছিল এক মাসের, কয়েক বছরের নয়।    টিউমার ছোট হওয়া এবং ক্যানসার সম্পূর্ণ সেরে যাওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যানসারের লক্ষণ আংশিক বা পুরোপুরি কমে যাওয়াকে রেমিশন বলা হয়। পুরোপুরি রেমিশনের পরও রোগ ফিরে আসতে পারে বলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ফলে ওয়াংয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ভ্রমণের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের প্রমাণ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৯:৪৩
ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতনের তালিকা
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি

চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্বের ধরনও বিবেচনা করা যেতে পারে। কেউ বিশ্লেষণধর্মী কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কেউ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন। আবার কারও আগ্রহ সৃজনশীল কাজে। ব্যক্তিত্বের এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পেশা খুঁজলে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।   মায়ার্স-ব্রিগস টাইপ ইন্ডিকেটর (এমবিটিআই) নামের বহুল পরিচিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মানুষকে ১৬টি ধরনে ভাগ করা হয়। চার জোড়া বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এই ধরনগুলো নির্ধারণ করা হয়—বহির্মুখিতা বা অন্তর্মুখিতা, বাস্তব তথ্যের প্রতি মনোযোগ বা অন্তর্দৃষ্টিনির্ভর চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত বা অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনামুখী মনোভাব বা পরিস্থিতি অনুযায়ী চলার প্রবণতা। রিজিউম জিনিয়াসের একটি গবেষণায় এমবিটিআইয়ের প্রতিটি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই জনপ্রিয় পেশা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য পারসোনালিটি ডেটাবেজ ফোরামের প্রশ্নাবলির উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর মধ্যম বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী পেশার এই তালিকাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত নিজের পছন্দ, শক্তি ও কাজের ধরন নিয়ে ভাবার একটি উপায়। পেশা বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, চাকরির সুযোগ এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রিজিউম জিনিয়াসের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ ইভা চ্যানের মতে, নিজের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে একজন ব্যক্তি নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিত্বের ধরন নিয়ে ভাবা আত্মপর্যালোচনা ও আত্মসচেতনতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতন তালিকার শীর্ষে রয়েছে সার্জন পেশা। আইএসটিজে (ISTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশাকে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সার্জনদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ ডলার। এই পেশায় দীর্ঘ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, মনোযোগ এবং প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্ক থাকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজনও রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট। আইএনএফজে (INFJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকায় এই পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৮০ ডলার। অন্যের অনুভূতি ও আচরণ বোঝা, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এয়ারলাইন ক্যাপ্টেন। ইএসটিজে (ESTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষেরা সাধারণত নিয়ম মেনে কাজ করা, পরিকল্পনা ও সংগঠন বজায় রাখা এবং দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৯৮ হাজার ডলার। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিপি (INTP) ব্যক্তিত্বের জন্য পদার্থবিজ্ঞানী পেশাকে উপযুক্ত বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ ডলার। যুক্তিনির্ভর চিন্তা, জটিল সমস্যার সমাধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগ্রহ এ ধরনের কাজে সহায়ক। গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সুযোগও এ পেশার বৈশিষ্ট্য। ইএনএফপি (ENFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিজ্ঞাপন পরিচালক পেশার কথা বলা হয়েছে। সৃজনশীলতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন ধারণা তৈরি এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় গুরুত্বপূর্ণ। তালিকায় বিজ্ঞাপন পরিচালকদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ ডলার। ইএনটিজে (ENTJ) ব্যক্তিত্বের জন্য প্রসিকিউটর বা সরকারি কৌঁসুলির পেশাকে মানানসই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫১ হাজার ১৬০ ডলার। যুক্তি সাজিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন, চাপের মধ্যে কাজ করা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা এ কাজে প্রয়োজন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক বা এইচআর ম্যানেজার পেশাটি ইএনএফজে (ENFJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০ ডলার। কর্মীদের প্রয়োজন বোঝা, সহমর্মিতা, যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইএসটিপি (ESTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিক্রয় ব্যবস্থাপক বা সেলস ম্যানেজার পেশার কথা বলা হয়েছে। এখানে মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬০ ডলার। লক্ষ্য অর্জনের মানসিকতা, দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আত্মবিশ্বাস এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় সহায়ক। আইএসএফজে (ISFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ বিশেষজ্ঞ পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮০ ডলার। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্কতা, নিয়ম মেনে কাজ করা এবং মানুষের সেবায় আগ্রহ এ পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএসটিপি (ISTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পেশাকে উপযোগী বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮০ ডলার। দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং চাপের মধ্যে শান্ত থেকে কাজ করার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিজে (INTJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ডেটা সায়েন্টিস্ট পেশার মিল তুলে ধরা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৯০ ডলার। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রবণতা শনাক্ত করা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করা এ কাজের মূল অংশ। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। আইএনএফপি (INFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য অ্যানিমেটর পেশার কথা বলা হয়েছে। তালিকায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার। সৃজনশীল চিন্তা, গল্প বলার দক্ষতা এবং নতুন ধরনের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ এ পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। যারা পর্দার আড়ালে থেকে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দর্শকের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে চান, তাঁদের জন্য এটি মানানসই হতে পারে। ইএনটিপি (ENTP) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট বা অপরাধ-সম্পর্কিত মনোবিশ্লেষণ পেশাকে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৪ হাজার ৩১০ ডলার। মানুষের আচরণ বোঝা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ইএসএফপি (ESFP) ব্যক্তিত্বের জন্য মডেল পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৯ হাজার ৯৯০ ডলার। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকার মতো বৈশিষ্ট্য এ কাজে সহায়ক হতে পারে। ইএসএফজে (ESFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষকতার কথা বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৩ হাজার ৯৮০ ডলার। পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রম সাজানো, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার পেশা, যা আইএসএফপি (ISFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮০ হাজার ৬৯০ ডলার। সৃজনশীলতা, নিজস্ব নকশার মাধ্যমে ভাবনা প্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এ পেশার অন্যতম আকর্ষণ। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিত্বের ধরন পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক সূত্র হতে পারে, তবে এটি কোনো নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী নয়। একই ব্যক্তিত্বের মানুষের আগ্রহ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল বা বেতনের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:৫৬
কানাডার অন্টারিওর বাসিন্দা সারা ডিক
আক্কেলদাঁত তোলার পরই ফুলে যায় মুখ! গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি দুই সন্তানের মা

আক্কেলদাঁত তোলার পর মুখ ও গলায় ফোলা দ্রুত বেড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কানাডার অন্টারিওর বাসিন্দা সারা ডিক। ৩১ বছর বয়সী এই নারী প্রথমে ফোলাকে স্বাভাবিক ভেবেছিলেন। কিন্তু গিলতে, মুখ খুলতে ও কথা বলতে কষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি রুমে যান। সেখানে সংক্রমণ ও তীব্র প্রদাহের চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আংশিক বের হওয়া একটি আক্কেলদাঁত তুলিয়েছিলেন সারা। পরদিন মুখের এক পাশ প্রচণ্ড ফুলে যায়। ডেন্টিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে যেতেও বলা হয়।   পরে ফোলা গাল ও চোয়াল ছাড়িয়ে ঘাড় ও গলায় ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অবস্থা দেখে অনেকে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা ও সিটি স্ক্যান করা হয়। শিরায় ওষুধ ও তরল দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হলে তিনি বাড়ি ফেরেন। দুই সন্তানের মা সারা জানান, এখন দৈনন্দিন কাজে ফিরলেও কিছুটা ব্যথা ও ফোলা রয়েছে।  আক্কেলদাঁত তোলার পর কিছু ব্যথা ও ফোলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এটি সাধারণত একটি সহজ প্রক্রিয়া হলেও সংক্রমণসহ কিছু জটিলতা হতে পারে। ব্যথা ও ফোলা তীব্র হলে বা বাড়তে থাকলে এবং ব্যথার ওষুধে উপকার না হলে জরুরি ডেন্টাল পরামর্শ নেওয়া উচিত।   ব্যথার সঙ্গে মুখে বাজে স্বাদ, জ্বর বা অসুস্থ লাগাও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণ। আর মুখ বা গলার ফোলায় শ্বাসনালি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কিংবা গিলতে সমস্যা হলে বিষয়টি জরুরি চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে বলে এনএইচএস ইংল্যান্ডের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৩:১২
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে বিকল্প উপাদান
তারুণ্য ধরে রাখতে রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়, সংবেদনশীল ত্বকে কাজে দেবে যেসব উপাদান

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে রেটিনয়েড ব্যবহার করেন অনেকে। ভিটামিন এ-জাতীয় এই উপাদান ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রেটিনয়েড সবার ত্বকে মানায় না। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব ও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যত্নে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা। ত্বকের বয়সের ছাপ কমানোর জন্য সানস্ক্রিন ও রেটিনয়েডকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং কোলাজেন ভেঙে যাওয়ার গতি কমাতে সহায়তা করে। কোলাজেন এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিয়মিত রেটিনয়েড ব্যবহারের পরও সবার ত্বকে একই রকম ফল পাওয়া যায় না। কারও ত্বক সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবহারেও অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হলে জোর করে পণ্যটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন ও প্রতিক্রিয়া বুঝে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়া যেতে পারে। রেটিনয়েড কেন ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ রেটিনয়েড বলতে ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদানকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে রেটিনল, রেটিনাল, ট্রেটিনয়েন ও অ্যাডাপালিনের মতো উপাদান। এগুলোর শক্তি, কার্যকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম এক নয়। নিউইয়র্কের বোর্ড-সার্টিফায়েড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হাইসেম এলডিকের মতে, রেটিনল ও রেটিনয়েডের বিভিন্ন ধরন ভিটামিন এ-সংশ্লিষ্ট হলেও ত্বকে সক্রিয় রূপে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় তাদের পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে, রেটিনাইল এস্টার তুলনামূলক মৃদু। এরপর রয়েছে রেটিনল ও রেটিনাল। এসব উপাদানের অনেক পণ্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ট্রেটিনয়েন বা রেটিনয়িক অ্যাসিড সাধারণত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অ্যাডাপালিনও পরিচিত একটি রেটিনয়েড, যা মূলত ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেটিনয়েড ত্বকের কোষের নবায়ন বাড়াতে এবং কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি ব্রণ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের কিছু দাগের দৃশ্যমানতা কমানো এবং অসম রং উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উপকারের পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ব্যবহারের শুরুতে ত্বকে শুষ্কতা, চুলকানি, টানটান অনুভূতি, খোসা ওঠা ও সূর্যের আলোতে সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়েও যেতে পারে। ত্বক নতুন উপাদানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় এমন পরিস্থিতিকে অনেক ক্ষেত্রে ‘পার্জিং’ বলা হয়। তবে তীব্র জ্বালাপোড়া বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেটিনয়েড ব্যবহারে অস্বস্তি কমানোর উপায় রেটিনয়েড ব্যবহার করতে চাইলে শুরু থেকেই প্রতিদিন লাগানোর প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে সপ্তাহে দুই রাত ব্যবহার করে ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। ত্বক মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সবার ত্বক একই গতিতে মানিয়ে নেয় না। পুরো মুখের জন্য সাধারণত মটরদানার সমান পরিমাণ পণ্য যথেষ্ট। বেশি পরিমাণ ব্যবহার করলে ফল ভালো হবে, এমন নয়; বরং ত্বকে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ‘স্যান্ডউইচ পদ্ধতি’ কিছুটা সহায়ক হতে পারে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানো হয়। এরপর রেটিনয়েড ব্যবহার করে আবার ময়েশ্চারাইজার দেওয়া হয়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। অন্যদিকে, ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘শর্ট কন্ট্যাক্ট থেরাপি’ বিবেচনা করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে রাতে রেটিনয়েড ১৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলা হয়। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। রেটিনয়েড ব্যবহারের শুরুতে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, অন্যান্য অ্যাসিড বা এক্সফোলিয়েটিং মাস্কের মতো সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার না করাই ভালো। একাধিক সক্রিয় উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে। রেটিনয়েড সাধারণত রাতে ব্যবহার করা হয়। দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। রেটিনয়েডের বিকল্প হতে পারে যেসব উপাদান অ্যাজেলাইক অ্যাসিড: রেটিনয়েড সহ্য না হলে অ্যাজেলাইক অ্যাসিড একটি বিকল্প হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনা হার্টের মতে, এই উপাদান ত্বকের প্রদাহ, ব্রণ ও কালচে দাগ কমাতে সহায়তা করে। ব্রণ ও রোসেশিয়ার যত্নে তৈরি অনেক পণ্যেই এটি ব্যবহার করা হয়। পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন বা রাতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকুচিওল: উদ্ভিদজাত এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে রেটিনয়েডের বিকল্প হিসেবে পরিচিত। হার্টের মতে, বাকুচিওল কোলাজেনের কার্যক্রমে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং ব্রণের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সূক্ষ্ম বলিরেখা কমানো ও ত্বকের রং উন্নত করার ক্ষেত্রে বাকুচিওলের ফল রেটিনলের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। গবেষণায় বাকুচিওল ব্যবহারে ত্বকের জ্বালাপোড়া তুলনামূলক কম দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাজেলাইক অ্যাসিড ও বাকুচিওল ত্বকের কিছু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও এগুলো রেটিনয়েডের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। বিশেষ করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর ভাঙন কমানোর ক্ষেত্রে রেটিনয়েডের মতো কার্যকারিতা এসব উপাদানের রয়েছে—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। কারা বেশি সতর্ক থাকবেন রোসেশিয়া, পেরিওরিফিশিয়াল ডার্মাটাইটিস বা একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা থাকলে রেটিনয়েড ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কম শক্তিশালী পণ্য ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল উপাদানের পরিবর্তে পণ্যে থাকা প্রিজারভেটিভ বা অন্য উপাদান ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করে ত্বককে সুস্থ হওয়ার সময় দিতে হবে। পরে অন্য কোনো ফর্মুলা ব্যবহার করা উপযুক্ত হবে কি না, তা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস। এ সময় ত্বকের যত্নে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবশেষে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়। তবে বিকল্প উপাদান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ত্বকের ধরন, সংবেদনশীলতা ও বিদ্যমান সমস্যা বিবেচনা করা জরুরি। কোনো উপাদান ব্যবহারে বারবার অস্বস্তি হলে জোর করে তা চালিয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ত্বকের উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৮:১৬
ছবি: sciencebee
৫ বছরে দেশের চিনির ব্যবহার কমেছে ৩৩ শতাংশ! বদলেছে ভোগের ধরন

বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি উচ্চ দাম, মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও ভূমিকা রাখছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের হিসাবে চিনির ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমার চিত্র রয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার কমাকে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।    ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ইউএসডিএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০২১-২২ মৌসুমে দেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। অন্য প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য তা ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টনে নামার প্রাক্কলন উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই অঙ্কের ব্যবধান প্রায় ৩৩ শতাংশ। শেষের অঙ্কটি পূর্বাভাস হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় একে চূড়ান্ত ভোগের হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।  চিনির উচ্চমূল্য এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবহার কমার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং কম চিনিযুক্ত পণ্যের প্রতি আগ্রহও পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন কারণ কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার পৃথক পরিমাপ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    অন্যদিকে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বোঝা বড়ই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের এই হিসাব নির্দিষ্ট বয়সসীমার মানুষের জন্য প্রাক্কলন, সব বয়সের রোগীর সরাসরি গণনা নয়।  জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুটি আলাদা সূচক। চিনির ব্যবহার কমলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা রোগীর সংখ্যা একই হারে কমবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং তামাক পরিহার টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা এর শুরু বিলম্বিত করতে সহায়তা করে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার ও পানীয়তে যোগ করা চিনি এবং মধু, সিরাপ ও ফলের রসে থাকা মুক্ত শর্করা দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেয়। অতিরিক্ত উপকারের জন্য তা ৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথাও বলা হয়েছে। তাই শুধু চায়ের চিনি কমানো নয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ও চিনিযুক্ত পানীয়সহ পুরো খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: sciencebee  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২:৩৮
চুল ঘন করার পণ্য কেনার আগে জেনে নিন
চুল ঘন করার আশায় টাকা খরচের আগে জেনে নিন কোন পণ্য এড়িয়ে চলবেন

চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজানো কিংবা চুল আরও ঘন করার আশায় অনেকেই দামি শ্যাম্পু, সিরাম, ভেষজ তেল ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্য চুলকে নরম, চকচকে ও তুলনামূলক ঘন দেখাতে সাহায্য করলেও সেগুলো নতুন চুল গজায়—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই চুলের যত্নে অর্থ ব্যয়ের আগে কোন পণ্য কী কাজে লাগে, তা জানা জরুরি। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কির মতে, বাজারে চুল গজানোর দাবি করা অনেক পণ্যের উপাদান চুলের ফলিকলে কার্যকর প্রভাব ফেলে কি না, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চুলের গোড়া বা ফলিকল মাথার ত্বকের ভেতরে থাকে। কোনো উপাদানকে সেখানে পৌঁছে কার্যকর হতে হলে মাথার ত্বকে যথেষ্ট সময় থাকতে হবে, ত্বকের বাধা পেরোতে হবে এবং কার্যকর অবস্থায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ফলে পণ্যের গায়ে আকর্ষণীয় উপাদানের নাম থাকলেই সেটি চুল গজাবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঘন করার আশায় কেনার আগে পাঁচ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১. চুল গজানোর দাবি করা শ্যাম্পু ক্যাফেইন, পেপটাইড ও বিভিন্ন বিশেষ উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়াকে সক্রিয় করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করার দাবি করে। কিন্তু এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কিছু গবেষণার ফল প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু গবেষণা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ কেলি ডোবসের মতে, শ্যাম্পু মাথায় বেশিক্ষণ থাকে না। ব্যবহারের অল্প সময় পরই তা ধুয়ে ফেলা হয়। ফলে এর উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে ভালো শ্যাম্পু মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের তন্তু মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু শুধু শ্যাম্পু দিয়ে নতুন চুল গজানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২. উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট   চুলের যত্নে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ বেশ জনপ্রিয়। অনেক সাপ্লিমেন্টে দৈনিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন থাকে। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ৩০ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুল গজাতে উপকারী—এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ নেই। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, বায়োটিনের ঘাটতিও বিরল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মাত্রার বায়োটিন ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কারও শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘাটতি না জেনে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ৩. ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেলকে চুল গজানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব তেল নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। কেলি ডোবসের মতে, ক্যাস্টর অয়েল চুলকে নরম রাখতে এবং চুলের ঘর্ষণজনিত ক্ষতি ও ভাঙন কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতানা তেলও চুলের পরিচর্যায় কন্ডিশনিং উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন, চকচকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগতে পারে। তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমা আর নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। তাই শুধু এসব তেল ব্যবহার করে চুল পড়ার মূল কারণ দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ৪. চালের পানি চাল ভেজানো বা রান্নার পর পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত পানিকে চুল লম্বা ও ঘন করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নানা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহর মতে, চালের পানি চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি চুলের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে প্রচার করা হলেও এর শ্বেতসার চুলে জমে শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো মাথার ত্বকের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই বোতলজাত চালের পানির স্প্রে কেনার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার পুরুষদের বংশগতভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিএইচটি নামের হরমোন। ফিনাস্টেরাইড নামের ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এ কারণে রেড ক্লোভার ও বারডকের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদানযুক্ত পণ্যও একই কাজ করতে পারে বলে প্রচার করা হয়। তবে নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সেজাল শাহের মতে, বারডক ডিএইচটি কমিয়ে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে—এমন অর্থবহ প্রমাণ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় খুবই সীমিত। তাই এসব ভেষজ উপাদানকে চুল পড়ার স্বতন্ত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডিএইচটির ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোন পণ্যগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ধরনের বংশগত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল অন্যতম গবেষণাসমর্থিত ওষুধবিহীন বিকল্প। একটি ৪৮ সপ্তাহের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহারকারীদের চুল পুনরায় গজানোর হার দুই শতাংশ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুশকিবিরোধী শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রোজমেরি তেল নিয়েও একটি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যদিও গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সিরাম চুলের ঘনত্ব ও চেহারায় উন্নতি আনতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। আবার ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ভিভিস্কাল ও নুট্রাফলের মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট নিষ্ক্রিয় উপাদানের তুলনায় ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ছিল। চুল পড়ার কারণ না জেনে একের পর এক পণ্য কেনার পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো রোগের কারণে চুল পড়তে পারে। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অকারণে অর্থ ব্যয় এড়ানো এবং সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:২৪
স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস

স্মার্টফোন ছাড়া কি সত্যিই স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? গাড়ি চালানোর পথ খুঁজে বের করা, কনসার্টের টিকিট দেখানো কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা দেখতে কিউআর কোড স্ক্যান করা—দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা এখন অনেকেরই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিল্পী ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর আন্দোলনকর্মী অগাস্ট ল্যামের অভিজ্ঞতা বলছে, স্মার্টফোন ছাড়াও জীবন চালানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, তাঁর মতে, এই পরিবর্তনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অবসর সময় এবং মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ল্যাম তাঁর নতুন বই ইউ ডোন্ট নিড আ স্মার্টফোন: আ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু ডাউনগ্রেডিং ইওর ফোন অ্যান্ড আপগ্রেডিং ইওর লাইফ-এ স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বইটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, স্মার্টফোনের সুবিধা ছাড়ার কিছু অসুবিধা থাকলেও এর বাইরে থাকার সুফল তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে নিজের ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন পর স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ল্যাম। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ফোনে এত বেশি সময় ব্যয় করছেন যে শিল্পচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। নিজের ভাষায়, তিনি ফোন ব্যবহারে একধরনের আসক্তি অনুভব করছিলেন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই—এমন একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহার শুরু করেন। স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে ল্যামের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাবে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করাও কঠিন হবে। কারণ, অনলাইনে অনুষ্ঠান বা বিভিন্ন আয়োজনের খবর দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু বাস্তবে তিনি উল্টো অভিজ্ঞতা পান। তাঁর দাবি, স্মার্টফোন ছাড়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় বেড়েছে, আর পুরোনো বন্ধুত্বগুলোও আরও দৃঢ় হয়েছে। ল্যামের মতে, অন্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোনে মনোযোগ না দিলে তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে একা থাকার সময়ও ফোনের মাধ্যমে অন্যদের সামাজিক জীবনে ডুবে থাকার প্রবণতা কমে। এতে নিজের সময় ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়। বন্ধুত্ব রক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে। আগে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুটি কাটানো কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের খবর প্রকাশ করলে তিনি সেখান থেকেই তা জানতে পারতেন। স্মার্টফোন ছাড়ার পর বন্ধুদের তাঁকে ফোন করে বা সরাসরি দেখা করে খবর জানাতে হতো। গ্রুপ মেসেজ ব্যবহার করতে না পারায় যোগাযোগ আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার বদলে ল্যাম সরাসরি পরবর্তী সপ্তাহে দেখা করার পরিকল্পনা করেন কিংবা নিজের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। এতে পরিচয়ের পর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি অনলাইন অনুসরণের ওপর নির্ভর করে থাকে না। ফোন ছাড়ার পর অবসর সময়ও বেড়েছে স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধা। অনলাইনে বিল দেওয়া, মানচিত্র দেখে গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা ডিজিটাল টিকিট সংগ্রহ করা—এসব কাজ ফোনে সহজেই করা যায়। কিন্তু ল্যামের মতে, ফোনে অল্প অল্প করে বারবার সময় দেওয়ার অভ্যাসই দিনের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। তিনি বলেন, কেউ যদি দিনে পাঁচ ঘণ্টা ফোনে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন, তাহলে সেই অভ্যাস বন্ধ করলে পাঁচ ঘণ্টাই ফিরে পাওয়া সম্ভব। ফোনের বদলে ইউটিলিটি বিল দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা, ডাকঘরে যাওয়া কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে বাসের টিকিট ছাপানোর মতো কাজ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এসব কাজের মাধ্যমে বাইরে বের হওয়া, হাঁটাচলা করা এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও তৈরি হয়। ল্যামের অভিজ্ঞতায়, ফোনে বারবার খবর দেখা, বার্তা পড়া কিংবা বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করার মতো ছোট ছোট কাজ একত্রে দিনের কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করাতে পারে। এসব অভ্যাস কমানোর পর ব্যস্ত সময়েও তাঁর প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অবসর থাকে। ফোন ব্যবহারের সময় যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক অনুভব করতেন, সেটিও অনেক কমেছে বলে জানান তিনি। মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির পরিবর্তন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমলে নিজের স্মৃতিশক্তি ও দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার কথাও বলেছেন ল্যাম। তাঁর মতে, আগে থেকেই মানুষের মধ্যে তথ্য মনে রাখা ও আশপাশের পরিবেশ বুঝে চলার স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। সবকিছুর জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করলে সেই দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি; সবার স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগ একইভাবে বদলাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের আরেকটি প্রভাব হলো, অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মন সরাতে অনেকেই স্ক্রল করতে শুরু করেন। ল্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে স্মার্টফোন ছাড়া থাকা এমন মনে হতে পারে, যেন প্রয়োজনীয় মোকাবিলা-কৌশল ছাড়াই আটকে পড়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলেন—বন্ধুকে ফোন করা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া কিংবা গান শোনা। এতে অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা। ল্যামের পরামর্শ, স্মার্টফোন ছাড়া জীবন সম্ভব নয় বলে ধরে নেওয়ার আগে অন্তত এক মাস চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। তবে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণের মতো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে স্মার্টফোনের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য তিনি আলাদা একটি সাধারণ ফোনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান ফোন হিসেবে রাখার এবং স্মার্টফোনটি শুধু চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের বিকল্পও তুলে ধরেছেন। স্মার্টফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবার জন্য বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা কিংবা কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। ল্যামের অভিজ্ঞতার মূল বার্তা হলো, ফোনের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময়, মনোযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্যও জায়গা রাখা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৫:৫৭
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০