মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব ধরনের জনসমাগম ও অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কুয়েত সরকার। এ অবস্থায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশের কুয়েত দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তাজনিত কারণে ঈদের ছুটিতে সব ধরনের জনসমাগমমূলক আয়োজন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
নিষিদ্ধ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নাট্যানুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান বা কনসার্ট, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ যেকোনো ধরনের জমায়েত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলেও জানানো হয়।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের আইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে দীর্ঘ দেড় বছর নিরুদ্দেশ থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ মিনিটের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। অভ্যুত্থান চলাকালীন একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের করা রিমান্ড আবেদন এবং আসামিপক্ষের জামিন আবেদন—উভয়ই নাকচ করে দেন আদালত। আদালত প্রাঙ্গণে শিরীন শারমিনকে হাজির করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ডিবি পুলিশ তাকে আদালত কক্ষ থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় শিরীন শারমিন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেও, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছেন তিনি পড়েননি, বরং পা কিছুটা বেঁকে গিয়েছিল। শুনানিতে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাবেক স্পিকারকে ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে দুই দিনের রিমান্ড দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিরীন শারমিন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করে দাবি করেন, এজাহারে নাম থাকা ছাড়া ঘটনার সাথে শিরীন শারমিনের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে গুলিবর্ষণে মো. আশরাফুল (ফাহিম) নামে এক যুবক স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ এবং শিরীন শারমিনসহ অন্যান্য আসামিদের প্রত্যক্ষ মদতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে গত রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ, আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় কণ্ঠভোটে সেগুলো সরাসরি পাস হয়। সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সময়ের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে আজ পাস হওয়া বিলগুলো অপরিবর্তিতভাবে গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) এবং রেজিস্ট্রেশন সংশোধন সংক্রান্ত চারটি বিল পাসের প্রস্তাব দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিলটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন এই আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুমের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইনটি সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে গুমের বিচার নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কয়েকটি বিলও পাস হয়। মূলত নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য এই বিলগুলো আনা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) সংক্রান্ত বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিলেট ও খুলনার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিলগুলো পাসের প্রস্তাব করলে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।