দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পর আজ এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হাঙ্গেরির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। আজ রোববার হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন, যার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব—বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বুদাপেস্টের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা নাগাদ ভোট প্রদানের হার ৫৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এবার দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়তে পারে। নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে অরবানের ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ (Fidesz) এবং তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমান বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির মধ্যে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ম্যাগিয়ারের দল অরবানের দলের চেয়ে প্রায় ৭-৯ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী ম্যাগিয়ার নিজেকে একজন উদারপন্থী ও ইউরোপ-পন্থি নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশের দুর্নীতি দমন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ? ১. ইইউ ও ইউক্রেন যুদ্ধ: অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইইউ-র অধিকাংশ দেশ যখন কিয়েভকে সমর্থন দিচ্ছে, তখন অরবান রাশিয়ার প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। ম্যাগিয়ার জয়ী হলে হাঙ্গেরি পুনরায় ইউরোপীয় মূলধারায় ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২. রুশ সংযোগ: নির্বাচনের ঠিক আগে অরবানের সরকারের বিরুদ্ধে মস্কোর সাথে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে অরবান একে ‘শান্তি বনাম যুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করছেন, যেখানে তিনি নিজেকে হাঙ্গেরিকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষার একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেছেন। ৩. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: অরবানের অন্যতম বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নির্বাচনের ঠিক আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুদাপেস্ট সফর করে অরবানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অরবানের পতন হলে ইউরোপে উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতির বড় একটি স্তম্ভ ভেঙে যেতে পারে। ভোট দিতে আসা এক তরুণ ভোটার মিহালি বাসি বলেন, "আমরা দেশে পরিবর্তন চাই। বর্তমান সরকারের আমলে জনজীবনে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন ব্যালট বাক্সে।" অন্যদিকে অরবানের সমর্থকরা মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও হাঙ্গেরির স্বকীয়তা বজায় রাখতে অরবানের কোনো বিকল্প নেই। তবে অরবানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরির বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিদেজ সরকারের তৈরি করা বিশেষ নির্বাচনী সীমানার কারণে ম্যাগিয়ারের দলকে অন্তত ৫-৬ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করতে হবে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল আসা শুরু হবে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ী কে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। এটি কি অরবানের ‘ইলিবেরাল ডেমোক্রেসি’ বা অনুদার গণতন্ত্রের জয় হবে, নাকি পিটার ম্যাগিয়ারের হাত ধরে হাঙ্গেরি নতুন দিগন্তের পথে যাত্রা শুরু করবে—তা সময়ই বলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আসন্ন রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তবে এবারের প্রচারণায় উন্নয়নের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য ও ইসলামফোবিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থীদের একটি বড় অংশ উগ্র রক্ষণশীল ভোটারদের তুষ্ট করতে এবং দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিএনএন-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, টেক্সাসের শীর্ষ পর্যায়ের রিপাবলিকান প্রার্থীরা বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন এবং জনসভায় ইসলামকে সরাসরি ‘পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্য হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়িত করছেন। অনেক প্রার্থী তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় দাবি করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘শরিয়া আইন’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে এবং তারা এর কট্টর বিরোধী। বিশেষ করে ক্যান প্যাক্সটন এবং জন কর্নিনের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রচারণায় এই সুর অত্যন্ত জোরালো। রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল পদপ্রার্থী অ্যারন রেইৎজ তার এক বিতর্কিত বিজ্ঞাপনে সরাসরি মুসলিম অভিবাসনকে ‘আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ডালাসের উত্তরে একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আবাসিক প্রকল্প নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে তুমুল বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা তারা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাসের রিপাবলিকান ভোটারদের একটি বড় অংশ ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল। তাদের ভোট নিশ্চিত করতেই প্রার্থীরা ‘ভয়ের রাজনীতি’ বেছে নিয়েছেন। রিপাবলিকান কনসালট্যান্ট ভিনি মিনচিলো বলেন, "টেক্সাস রিপাবলিকান প্রাইমারিতে মুসলিম ভীতি বা ইসলামফোবিয়া একটি অত্যন্ত কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্র। ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের কাল্পনিক ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের ভোট আদায় করা অনেক সহজ।" এদিকে, এই ধরণের প্রচারণাকে ‘অমানবিক’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে টেক্সাসের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স’ (CAIR)-এর অস্টিন শাখার অপারেশন ম্যানেজার শায়মা জায়ান বলেন, "আমাদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে তারা একটি পুরো সম্প্রদায়কে দানব হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি কেবল বিভাজনই বাড়াবে না, বরং মুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।" উল্লেখ্য যে, টেক্সাসে প্রায় ৩ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা। হওয়া সত্ত্বেও, আসন্ন মে মাসের রান-অফ এবং নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বর্ণবাদ ও ইসলামফোবিয়াকে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসার এই প্রবণতা মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে কে কার চেয়ে বেশি ইসলাম বিরোধী হতে পারেন, তা নিয়ে যেন এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই মেরুকরণের রাজনীতি টেক্সাসের আগামী দিনের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী এক মেরুকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরি। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আবারও এক উত্তপ্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এর ফলাফল আটলান্টিকের দুই পারের ভূ-রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভিক্টর অরবান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার কৌশলগত মিত্রতা এবারের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে। অরবানের রক্ষণশীল ও কট্টর জাতীয়তাবাদী নীতির সাথে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' বা 'আমেরিকা প্রথম' নীতির অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। হাঙ্গেরির বর্তমান প্রশাসন সরাসরি ট্রাম্পের আদর্শকে সমর্থন জানিয়ে আসছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি-নির্ধারকদের জন্য এক বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা অরবানের জন্য এবারের নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে। ইইউ-এর সাথে হাঙ্গেরির আইনি ও আর্থিক দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী করেছে। ব্রাসেলসের নীতিনির্ধারকরা বারবার অরবানের বিরুদ্ধে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে, অরবানের দাবি, তিনি হাঙ্গেরির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছেন এবং বাইরের শক্তির প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি অরবানের এই প্রচারণাকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। যদি ট্রাম্প বা তার আদর্শিক মিত্ররা পশ্চিমা বিশ্বে পুনরায় আধিপত্য বিস্তার করে, তবে সেটি অরবানের মতো নেতাদের জন্য এক বড় আশীর্বাদ হতে পারে। তবে বিপরীতে, ইইউ যদি অরবানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে হাঙ্গেরি ও ইউরোপের সম্পর্কের ফাটল আরও চওড়া হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষকরা মনে করছেন, অরবানের এই নির্বাচন হাঙ্গেরির ভবিষ্যতের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপের ঐক্য রক্ষার প্রশ্নে। অরবানের জয় মানে হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার সাথে সহমর্মী বা 'পুতিন-পন্থী' বলয়ের আরও শক্তিশালী হওয়া। আর পরাজয় মানে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার পট পরিবর্তন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে হাঙ্গেরির রাজনৈতিক মাঠ এখন সরগরম। একদিকে জাতীয়তাবাদের স্লোগান, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি—এই দুইয়ের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী কে হবে, তা জানতে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
ভারতের গণতান্ত্রিক উৎসবের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আসাম, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই তিন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ আসামের ১২৬টি, কেরালার ১৮০টি এবং পুদুচেরির ১৩০টি বিধানসভা আসনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরার একটি করে শূন্য আসনে উপনির্বাচনও আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুসহ এই সবকটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে। আজ সকাল সকাল নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কান্নুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার ভোট প্রদান করেন। অন্যদিকে, পুদুচেরির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামীও সাতসকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ভোটারদের রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং নারী ভোটারদের গণতন্ত্রের এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি সমাজ-গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই কেন্দ্র থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্বাচনী এলাকায় এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গবেষণা সংস্থা 'সবর ইনস্টিটিউট'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে অতিরিক্ত তালিকা থেকে মোট ২,৮২৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭০০ জনই মুসলিম এবং মাত্র ১২৬ জন অমুসলিম। অথচ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তালিকায় দেখা গিয়েছিল, এই এলাকায় মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের তালিকায় মুসলিমদের হার ছিল মাত্র ৩৩.৩ শতাংশ। হঠাৎ করে এই বিশাল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নামের বানান বা বয়সের অসঙ্গতি খুঁজে বের করতে গিয়ে এই জটিলতা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে আরবি বা ফার্সি নামের ইংরেজি বানানে পার্থক্যের কারণে অসংখ্য মানুষ ভোটার তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বাংলার নবাব মীর জাফরের পরিবারের উত্তরসূরী থেকে শুরু করে হতদরিদ্র দিনমজুররাও রয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় ৪৮.৯ শতাংশ নারী এবং ৫১.১ শতাংশ পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা প্রমাণ করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই হয়তো এই যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও বিজেপি দাবি করেছে এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং নথিপত্রের অমিলের কারণেই হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ও বামফ্রন্টের অভিযোগ, বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ নাম পুনর্দ্ধারের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও সাইবার ক্যাফেগুলোতে ভিড় করছেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মালদা জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজি), মালদার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে শোকজ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার সকাল থেকেই মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং কালিয়াচকের মতো এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন সাতজন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে রাতভর ঘেরাও করে রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিতে হবে। পাশাপাশি, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং শুনানি চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষ ভোটার 'বিবেচনাধীন' তালিকায় রয়েছেন। 'সবর ইনস্টিটিউট' নামক একটি সংস্থার দাবি, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ পড়ার হার তুলনামূলক অনেক বেশি। গবেষক সাবির আহমেদের মতে, ২০০২ সালের তালিকার সাথে বর্তমান ম্যাপিং প্রক্রিয়ায় অসংগতির কারণেই মানুষের মধ্যে এই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে "রাষ্ট্রপতি শাসন জারির গেমপ্ল্যান" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণ থাকার এবং প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তৃণমূলের উসকানি বলে দাবি করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
‘ডিপ স্টেট’ নামে পরিচিত শক্তিশালী একটি মহল অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে ওই প্রস্তাবে সরকার সায় দেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি। আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের তারিখ পেছানোসহ বিভিন্ন উপায়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশল সাজানো হয়েছিল। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরাই পদত্যাগ করে নির্বাচনের পথ সুগম করেছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপি সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনের সময় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও চুক্তিকে উপেক্ষা করছে। গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতেও এমন অবস্থানের ফল ভালো হয়নি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
ডেনমার্কের সাধারণ নির্বাচনে নাটকীয় মোড় নিয়েছে রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি ব্লক সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রেডরিকসেনের ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ১৭৯ সদস্যের ডেনিশ পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৯০টি আসন। সেখানে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৮৪টি আসন। অন্যদিকে, রক্ষণশীল দক্ষিণপন্থিরা জিতেছে ৭৭টি আসনে। এই পরিস্থিতিতে ১৪টি আসন নিয়ে ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি বা 'কিং-মেকার' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেনের দল। রাসমুসেন ইতোমধ্যে তার অনড় অবস্থানের কথা জানান দিয়েছেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা কোনো ব্লকের সঙ্গেই মিশে যাব না। আমরা লাল বা নীল কোনো মেরুতেই পা দিচ্ছি না।" তার এই অবস্থান ফ্রেডরিকসেনের জন্য নতুন সমীকরণ ও জটিলতা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবরে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনায় নির্বাচন এগিয়ে আনেন ফ্রেডরিকসেন। আর্কটিক মহাসাগরের ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত এই আধা-স্বশাসিত অঞ্চলটি নিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এখন দেখার বিষয়, রাসমুসেনকে পাশে নিয়ে ফ্রেডরিকসেন ফের সরকার গড়তে পারেন কি না।
আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আইনি বাধ্যবাধকতা ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ১১টি সরকারি দপ্তরের অধীনে থাকা মোট ২৩টি বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর এই পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে 'অফিস অফ প্রফিট' বা লাভজনক পদের জটিলতা এড়াতে প্রতিবারই এই নিয়ম পালন করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সংযুক্ত করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, তালিকার বাইরেও যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে তাঁর পদ থেকে থাকে, তবে সেখান থেকেও যেন তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেসব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, তথ্য ও সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স এবং অরণ্য দপ্তর। উল্লেখিত এই দপ্তরগুলোর বিভিন্ন সংস্থায় তিনি চেয়ারপার্সন, মিশন হেড বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৫শে মার্চ বিকেল ৪টের মধ্যে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' জমা দিতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট। এটি রুমিন ফারহানার সংসদে দ্বিতীয়বার যোগদান হলেও সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এটাই তার প্রথম সংসদে যাওয়া। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সে সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক পথচলা, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এই বিজয় তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে দোয়া করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন এবং দেশজুড়ে মানুষের দোয়া ও সমর্থন পেয়েছেন। তার মতে, এই অপমান মানুষের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছিল এবং তারা তাকে সমর্থন দিয়েছে। দল থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সঠিক কারণ তার জানা নেই এবং সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা কেবল সংশ্লিষ্টরাই দিতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করলেও কোনো কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন সংসদ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ খারাপ না হলেও বড় একটি অংশ নির্বাচনের বাইরে থাকায় সংসদ পূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক হয়নি। অনেক নতুন সদস্য থাকায় কিছু জায়গায় অভ্যস্ত হতে সময় লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে পরিণতি ‘ফ্যাসিবাদীদের মতো’ হতে পারে। সোমবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাসভবনে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের সেই ত্যাগ ও প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে তা কেউ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অত্যাচার করেছে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে—সেই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বা প্রশাসন জনগণের মালিক নয়, বরং তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, যা জনগণ আর দেখতে চায় না। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা সুবিধা অর্জনের জন্য নয়; বরং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তারা কোনো প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও তা করবেন না। নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট ও ফলাফলের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং কিছু বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
উত্তর কোরিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক কিম জং উনের একনায়কতন্ত্র ও কঠোর শাসনের কথা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত না হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো যথেষ্ট। সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিম জং উন ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি বিশাল ব্যবধান মনে হলেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোটার। ১৯৫৭ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো নির্বাচনে শাসকের বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—কারা এই দুঃসাহসী ০.০৭ শতাংশ মানুষ? গত সাত দশকে উত্তর কোরিয়ায় যা কেউ ভাবতেও পারেনি, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা এই ভোটারদের নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা। নেটিজেনরা মজা করে বলছেন, এই ০.০৭ শতাংশ মানুষই এখন উত্তর কোরিয়ার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে। অনেকে আবার তাদের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই সাহসী মানুষদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত’। ইতিহাস বলে, কিম জং উনের শাসনে অবাধ্যতার কোনো স্থান নেই। এমনকি নিজের আপন চাচাকেও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে ১২০টি ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে ঠেলে দিতে দ্বিধা করেননি এই স্বৈরশাসক। এমন কঠোর মানসিকতার একজন মানুষের শাসনে থেকে যারা ‘না’ ভোট দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন, তারা কি তবে কোনো গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? ভঙ্গুর অর্থনীতি আর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের মাঝে এই সামান্য ভোট কি কিমের সাজানো সিংহাসনে কোনো কম্পন ধরাতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এই নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন বা এক মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১৮০ দিনের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের আমলের মতোই দলীয় শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কূটনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করেই সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংস্কার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকায় গণভোট পরবর্তী এই প্রক্রিয়াটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে এই সরকারের আগামীর আসল পরীক্ষা।
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রোববার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ করা হবে এবং আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে আট দফায় ভোট হলেও এবার নজিরবিহীনভাবে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। কমিশনারের মতে, প্রক্রিয়ার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। একইসাথে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতেও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এক নজরে ভোটের তফশিল: প্রথম দফা (২৩শে এপ্রিল): উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মোট ১৫টি জেলায় ভোট। জেলাগুলো হলো— কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম। দ্বিতীয় দফা (২৯শে এপ্রিল): দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোট। জেলাগুলো হলো— কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান। ফলাফল: ৪ঠা মে। ভোটের আগে 'ভোটার তালিকা' কাঁটা নির্বাচন ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বর্তমানে 'বিবেচনাধীন' অবস্থায় রয়েছে। হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই তালিকা খতিয়ে দেখছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, "কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আবার কোনো অবৈধ নাম তালিকায় থাকবে না।" ভোট গ্রহণের আগে পর্যন্ত যাদের নাম নিষ্পত্তি হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। লড়াই যখন অস্তিত্বের ও পরিবর্তনের ২০২৬-এর এই নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্য এটি মহাকরণ দখলের লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'কন্যাশ্রী' ও ডিএ বৃদ্ধির মতো জনমুখী প্রকল্প; অন্যদিকে বিজেপির তোলা 'দুর্নীতি', 'নারী নিরাপত্তা' ও 'পরিবর্তন'-এর ডাক— দুই শিবিরের প্রচারেই এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা হুঙ্কার আসন্ন নির্বাচনকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। শেষ পর্যন্ত বাংলার জনতা কাকে বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনের ভোটের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকোর্ট। আসনটিতে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজের আসনের ব্যবহৃত সকল ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জামাদি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মাওলানা মামুনুল হকের দায়ের করা নির্বাচনী মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেবল ঢাকা-১৩ নয়, বরং গাইবান্ধা-৫, ঢাকা-৫, পাবনা-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের নির্বাচনী নথিপত্রও সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২৫ জনেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠিত এই বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আবেদনগুলো আমলে নিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সুরক্ষিত রাখার আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে বিতর্কিত আসনগুলোর প্রকৃত ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের পথ আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রবীণ নেতাদের আধিপত্য এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল। হিমালয় কন্যা নেপালে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। প্রথাগত রাজনীতির ‘হেভিওয়েট’দের ধরাশায়ী করে দেশটিতে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সাবেক র্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহের (বালেন) দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের বা ‘জেন-জি’ (Gen Z) ভোটারদের এক নীরব বিপ্লব হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতি মূলত নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল-এর মতো পুরোনো দলগুলোর হাতে বন্দি ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এবং স্থবির অর্থনীতির বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের রাস্তায় নেমেছিল তরুণ প্রজন্ম। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে জেন-জি ভোটাররা। ফলাফল অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ নিজে ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এবারের নির্বাচনে মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণরা। নেপালের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যাদের বয়স ২৪-এর নিচে, তারা প্রথাগত নেতাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ঝুঁকছেন বালেন্দ্রর দিকে। বালেন্দ্র শাহর প্রচারণার মূল ভিত্তি ছিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন। গত বছর নেপাল সরকারের সামাজিক মাধ্যম বা 'টিকটক' নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণদের যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, বালেন শাহ সেই ক্ষোভকে সফলভাবে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পেরেছেন। নেপালের রাজনীতিতে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় র্যাপার। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন তার কাজের ধরণ তাকে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষে পরিণত করে। এবারের নির্বাচনে তার দল আরএসপি (RSP) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা তাকে নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। তবে এই ভূমিধস জয়ের পরেও বালেনের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। বিশেষ করে তার অতীত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি কীভাবে নিজেকে তুলে ধরেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল। নেপালের এই নির্বাচন প্রমাণ করল যে, দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু জনমোহিনী বক্তৃতা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আর ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের দাবিতে নেপালের এই ‘জেন-জি বিপ্লব’ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রাজনীতির জন্যও এক বড় বার্তা হয়ে রইল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই দুই আসনে ঘোষিত বিজয়ীদের প্রতি আদালতের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। আজ রোববার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ জুন। নির্বাচনে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন এবং ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। আবেদনে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫ জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন আসনের ব্যালট পেপার ও সরঞ্জামাদি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগের শুনানি চলছে।
হিমালয়কন্যা নেপালে আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের এক অগ্নিপরীক্ষা। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালি 'জেন জি' (Gen Z) প্রজন্মের নজিরবিহীন আন্দোলনের পর এই প্রথম ব্যালট বাক্সে রায় দিচ্ছে জনতা। ১৯৯০ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে নেপাল ৩২টি সরকার পরিবর্তন হতে দেখলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারও কোনো একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও সাবেক র্যাপার ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহ। পেশাদার সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বালেন লড়ছেন ঝাপা-৫ আসনে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ভারত নাকি চীন: অস্বস্তিতে দিল্লি নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলি বরাবরই চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মের আইকন বালেন শাহ নিজেকে কট্টর 'ভারত-বিরোধী' হিসেবে তুলে ধরেছেন। মেয়র থাকাকালীন তিনি তাঁর দপ্তরে 'অখণ্ড নেপাল'-এর মানচিত্র টাঙিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন, যেখানে ভারতের উত্তরাখণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশকে নেপালের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, ওলি বা বালেন—যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তা ভারতের কৌশলগত স্বার্থের প্রতিকূলে যেতে পারে। নির্বাচনী ময়দানের সমীকরণ নেপালি কংগ্রেস এবার প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী তরুণ নেতা গগন থাপাকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে, সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল ওরফে 'প্রচণ্ড'ও রয়েছেন লড়াইয়ে। তবে সবার নজর বালেন শাহের 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (আরএসপি)-র দিকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সোশ্যাল মিডিয়া এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুল সমর্থনে বালেন এবার চমক দেখাতে পারেন। নেপাল নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে ১৬৫টি আসন থেকে ব্যালট সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। হিমালয়ের এই দেশে কি এবার জেন-জি বিপ্লব সফল হবে, নাকি পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণই বজায় থাকবে—তার উত্তর পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রবল চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে ট্রাম্পকে যতটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ তার জন্য ততটাই জটিল। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার-এর সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে জানান, "ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলো আপাতদৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি গভীর।" সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, যদি এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু বা ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে তারা এই হামলার সমর্থনে থাকবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ৯৩ শতাংশ নাগরিক ইরানের ওপর হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। মাসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করেন, তবে তাকে দেশে চরম রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হবে এবং তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক কঠিন সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিত ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এই দলটি। বর্তমানে রাজনৈতিক ‘স্পেস’ ফিরে পেতে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল। দলীয় সূত্রমতে, আপাতত সহিংসতা এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠনেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার বিষয়ে হাইকমান্ডে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে মূল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে নেতৃত্ব ঘিরেই। দলের ভেতরে এখনো শেখ হাসিনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব আনার বিষয়টি জোরালো আলোচনায় রয়েছে। বিচক্ষণ মহলের মতে, আওয়ামী লীগ ‘শেখ পরিবার’-এর হাতেই নেতৃত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবেন এবং সামনে আনা হতে পারে নতুন কোনো মুখ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে তৃণমূল ও শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ এখনো মনে করেন, পরিস্থিতির বিচারে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে কড়া নজর রাখছে দলটি। অনেক আত্মগোপনে থাকা নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা দেখছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বাস্তবতা মেনে বিকল্প নেতৃত্বের পথ খোলা রাখা—এই দ্বৈত কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে ক্ষমতায় আসেনি; বরং বিভিন্ন কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও ইসলামি আদর্শভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে তরুণরা পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং সংস্কারের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা গেছে, যা জনগণের মনোভাবের প্রতিফলন। নির্বাচনী অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ভোটের চিত্র বদলে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দল শক্ত অবস্থান নেবে বলেও জানান। স্বল্প আসন পেয়েও সংসদে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যে পরিমাণ ভোটের স্বীকৃতি মিলেছে, তার মর্যাদা রক্ষায় তাঁরা সংসদে যোগ দিয়েছেন। সেখানে দলীয় স্বার্থ নয়, জনগণের অধিকার ও দাবি তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি প্লট ও করমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা তাঁরাই আগে দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে প্রবাসী আয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি রমজানে চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ চাঁদা দাবি করলে তা না দিতে এবং বাধা এলে দলকে অবহিত করতে। ভবিষ্যতে মাসে অন্তত একদিন জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews