অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলে দ্রুত মিলবে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসার সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হতে যাওয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বিশ্বের নির্বাচিত কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত ফি প্রদানকারী আবেদনকারীরা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পেতে পারবেন। তবে এই সুবিধা কেবল সাক্ষাৎকারের তারিখ দ্রুত পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাক্ষাৎকারের পর ভিসা প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত হবে না এবং ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনাও বাড়বে না।
অর্থাৎ আবেদনকারীরা দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ কিনতে পারবেন, কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত ভিসা নয়। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা সব মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু কনস্যুলেটে এটি চালু করা হবে।
প্রতিটি স্থানে কতটি প্রিমিয়াম সাক্ষাৎকারের সময় বরাদ্দ থাকবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় সক্ষমতার ওপর। ফলে দেশভেদে এই সুবিধার প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে এবং চাহিদা বেশি হলে সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। নতুন ৭৫০ ডলারের ফি বিদ্যমান ভিসা আবেদন ফি-এর বিকল্প নয়। আবেদনকারীদের প্রচলিত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ফি পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই অর্থ দিতে হবে।
অর্থাৎ দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ জট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ দেখতে চায়, দ্রুত সাক্ষাৎকারের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে আবেদনকারী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা কতটা আগ্রহী হন এবং এর মাধ্যমে সাক্ষাৎকার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয় কি না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচিটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।
এই সময়ের মধ্যে কতজন আবেদনকারী সুবিধাটি ব্যবহার করেন, এর কার্যকারিতা কতটা এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব পড়ে, তা মূল্যায়ন করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে জনমতও সংগ্রহ করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোরতা আরোপ করছে। নতুন দ্রুত সাক্ষাৎকার কর্মসূচি সেই বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের সময়েই চালু হচ্ছে।
সম্প্রতি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অতীত ইতিহাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়ও বেড়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে উবার চালিয়ে কত টাকা আয় করা যায়, তা নিয়ে ড্রাইভারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। একই কোম্পানির অ্যাপ ব্যবহার করলেও দুই শহরের ড্রাইভারদের আয়ের হিসাব এক নয়। যাত্রীদের চাহিদা, ট্রিপের দূরত্ব, স্থানীয় পেমেন্ট নীতি এবং গাড়ি পরিচালনার খরচের কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়। ২০২৬ সালের সরকারি পেমেন্ট নীতিতে দেখা যাচ্ছে, নিউইয়র্কে উবার ড্রাইভারদের জন্য ট্রিপভিত্তিক ন্যূনতম আয়ের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ অনুযায়ী ড্রাইভারদের ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। তবে কোন শহরে প্রকৃত লাভ বেশি, তা জানতে শুধু ট্রিপের আয় নয়, সব খরচও বিবেচনা করতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশন বা টিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে সাধারণ গাড়িতে উবার ও লিফটের ট্রিপের জন্য ন্যূনতম পেমেন্টের হার বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে শহরের ভেতরে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতি মাইলে ১ ডলার ২৮ দশমিক ৩ সেন্ট এবং প্রতি মিনিটে ৬৮ দশমিক ১ সেন্ট হারে ন্যূনতম পেমেন্ট নির্ধারিত রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটি ড্রাইভারদের ঘণ্টাপ্রতি নির্দিষ্ট বেতন নয়। যাত্রী নিয়ে কত মাইল এবং কত মিনিট গাড়ি চালানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রতিটি ট্রিপের ন্যূনতম পেমেন্ট হিসাব করা হয়। সহজ উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্কে একজন উবার ড্রাইভার যদি যাত্রী নিয়ে ছয় মাইল পথ অতিক্রম করতে ২০ মিনিট সময় নেন, তাহলে টিএলসির বর্তমান ফর্মুলা অনুযায়ী ওই ট্রিপের ন্যূনতম পেমেন্ট হবে প্রায় ২১ ডলার ৩২ সেন্ট। যাত্রী টিপস দিলে তা এই পেমেন্টের অতিরিক্ত হিসেবে পাওয়ার কথা। কিন্তু একজন ড্রাইভার দিনে এমন কতটি ট্রিপ পাবেন, তা নির্দিষ্ট নয়। যাত্রী ওঠানোর আগে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া, ট্রিপের জন্য অপেক্ষা এবং যানজটে আটকে থাকার কারণে একই সময় কাজ করেও দুই ড্রাইভারের আয় ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে উবার ড্রাইভারদের আয়ের হিসাব চলে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২-এর আওতায়। উবারের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ড্রাইভাররা অ্যাকটিভ টাইমের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ন্যূনতম মজুরির অন্তত ১২০ শতাংশ এবং অ্যাকটিভ মাইলের জন্য নির্ধারিত মাইলেজ ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা পান। অ্যাকটিভ টাইম বলতে ট্রিপ গ্রহণ করার পর থেকে সেটি শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। ফলে অ্যাপে অনলাইনে থেকে যাত্রীর অপেক্ষায় কাটানো সময় এই নিশ্চয়তার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয় না। নির্ধারিত সময় শেষে ড্রাইভারের যোগ্য আয় নিশ্চয়তার পরিমাণের নিচে থাকলে কোম্পানি পার্থক্য সমন্বয় করে দেয়। এই দুই ব্যবস্থার পার্থক্য বোঝা জরুরি। নিউইয়র্কে ড্রাইভারদের ন্যূনতম পেমেন্ট মূলত ট্রিপের দূরত্ব ও সময়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাকটিভ টাইম ও মাইলেজের ভিত্তিতে আয়ের নিশ্চয়তা হিসাব করা হয়। ফলে নিউইয়র্কের প্রতি ট্রিপের পেমেন্ট এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ঘণ্টাভিত্তিক আয়ের নিশ্চয়তাকে সরাসরি তুলনা করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। দুটি শহরের প্রকৃত আয় তুলনা করতে হলে একই সময়ের মোট কাজের ঘণ্টা, সম্পন্ন করা ট্রিপ এবং গাড়ির খরচের তথ্য প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের রাইডশেয়ার ড্রাইভারদের আয় নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায়ও গ্রস আয় ও নেট আয়ের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গ্রস আয় হলো ড্রাইভার গাড়ি পরিচালনার নিজস্ব খরচ বাদ দেওয়ার আগে যত অর্থ পান। অন্যদিকে নেট আয় নির্ধারণ করতে গ্যাস, ইন্স্যুরেন্স, গাড়ির কিস্তি বা লিজ, মেইনটেন্যান্স, টায়ার পরিবর্তন এবং অন্যান্য খরচ বাদ দিতে হয়। ড্রাইভারের ব্যক্তিগত ট্যাক্সের হিসাবও আলাদা। ফলে প্রতিদিন ২০০ ডলার গ্রস আয় করলেই পুরো অর্থ তাঁর হাতে থেকে যাবে, এমন নয়। নিউইয়র্কে উবার চালানোর ক্ষেত্রে টিএলসি লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। গাড়ির ইন্স্যুরেন্স, লাইসেন্সিং এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেক ড্রাইভার নিজের গাড়ি ব্যবহার করেন, আবার কেউ ভাড়া বা লিজ নেওয়া গাড়ি দিয়ে কাজ করেন। ভাড়া গাড়ির ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট খরচ থাকায় পর্যাপ্ত ট্রিপ না পেলে লাভ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে নিজের গাড়ি থাকলেও মর্টগেজের মতো গাড়ির লোন, ইন্স্যুরেন্স ও মেইনটেন্যান্সের খরচ বিবেচনায় নিতে হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসেও গাড়ি পরিচালনার খরচ গুরুত্বপূর্ণ। শহরের বিস্তৃত এলাকা, যাত্রী ওঠানো ও নামানোর স্থান এবং ট্রিপের মধ্যবর্তী দূরত্বের কারণে ড্রাইভারদের অনেক সময় যাত্রী ছাড়াই গাড়ি চালাতে হয়। এসব মাইলের জন্য সরাসরি ট্রিপের ভাড়া পাওয়া যায় না, অথচ গ্যাস ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতির খরচ বাড়তে থাকে। একইভাবে ব্যস্ত সময়ে বেশি ট্রিপ পাওয়ার সুযোগ থাকলেও যানজট এবং যাত্রী পাওয়ার অনিশ্চয়তা আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রাইভারদের প্রতিদিনের গড় আয়ের সরাসরি তুলনাযোগ্য সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য পাওয়া যায় না। তাই নিউইয়র্কে প্রতিদিন ২৫০ ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ২০০ ডলার আয় হয়, এমন নির্দিষ্ট অঙ্ককে দুই শহরের সব ড্রাইভারের গড় আয় হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। একজন ড্রাইভার কত ঘণ্টা কাজ করছেন, কোন সময়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, কতটি ট্রিপ পাচ্ছেন এবং কী ধরনের গাড়ি ব্যবহার করছেন, তার ওপর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি উবার ড্রাইভারদের জন্য এই পার্থক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ফুলটাইম উবার চালান, আবার কেউ নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য রাইডশেয়ার করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে শুধু অ্যাপে দেখানো দৈনিক আয় নয়, সপ্তাহ শেষে প্রকৃত কত অর্থ হাতে থাকছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন করে উবার চালানোর পরিকল্পনা থাকলে গাড়ি কেনা বা লিজ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শহরের নিয়ম, ইন্স্যুরেন্সের খরচ এবং সম্ভাব্য ট্রিপের চাহিদা যাচাই করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে উবার ড্রাইভারদের জন্য নির্দিষ্ট ট্রিপভিত্তিক ন্যূনতম পেমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে, আর লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাকটিভ টাইমভিত্তিক আয়ের নিশ্চয়তা কার্যকর। কিন্তু শুধু এই দুই নিয়মের ভিত্তিতে কোন শহরে উবার চালিয়ে বেশি লাভ হয়, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্রকৃত তুলনার জন্য একই সময়ের মোট আয়, অনলাইনে থাকার সময়, যাত্রী পরিবহনের সময় এবং গাড়ির সব খরচ বিবেচনা করতে হবে। ড্রাইভারদের জন্য শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো কত ডলার আয় হয়েছে, তার পাশাপাশি কত ডলার খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকছে।
মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাড়ির মালিকদের ১০০% পর্যন্ত কর মওকুফের সুযোগ, আবেদন শেষ ৬ নভেম্বর
কৃষ্ণাঙ্গদের গ্রেপ্তারের গোপন প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ
ফ্লোরিডায় ৩ বছরের খুদে ফুটবলারের একের পর এক গোল, বিরোধের জেরে মাঠে ডাকা হলো পুলিশ
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট পেতে নতুন আবাসন লটারির আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এতে মাসে সর্বনিম্ন ৭৩২ ডলারে এক শোবার ঘরের একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে মাত্র দুটি। এসব বাসায় আবেদন করতে পারবে এক থেকে তিন সদস্যের পরিবার, যাদের বার্ষিক আয় ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ৪৫ হাজার ৮১০ ডলারের মধ্যে। আবাসনগুলোর তথ্য নিউইয়র্ক সিটির ‘হাউজিং কানেক্ট’ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। মরিস হাইটস, ইউনিভার্সিটি হাইটস ও হান্টস পয়েন্ট এলাকায় চারটি ভবনে মোট ৩০টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই লটারি চলছে। ঠিকানাগুলো হলো ১৬৪৭ পফাম অ্যাভিনিউ, ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিট, ২২৭৫ লরিং প্লেস নর্থ এবং ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিট। বাসার ধরন ও পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ থেকে ২ হাজার ৩৯০ ডলার পর্যন্ত। এর মধ্যে এক শোবার ঘরের বাসার ভাড়া ৭৩২, ১ হাজার ৩৬৯ ও ২ হাজার ৫ ডলার; দুই শোবার ঘরের বাসার ভাড়া ১ হাজার ৬২৭ ও ২ হাজার ৩৯০ ডলার। তিন শোবার ঘরের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া মাসে ১ হাজার ৮৬৩ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের পাশাপাশি সম্পদের সীমাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্টভেদে সম্পদের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার ৮৮০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ ডলার। এক শোবার ঘরের বাসায় এক থেকে তিনজন, দুই শোবার ঘরের বাসায় দুই থেকে পাঁচজন এবং তিন শোবার ঘরের বাসায় তিন থেকে সাতজন থাকতে পারবেন। ফলে শুধু কম ভাড়া দেখেই আবেদন না করে নিজের পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয় ও সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসার শর্ত মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ভাড়ার সঙ্গে ঘর গরম রাখার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বিদ্যুতের বিল ভাড়াটিয়াকেই পরিশোধ করতে হবে। ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিটের ভবনে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, ১৬৪৭ পফাম অ্যাভিনিউ ও ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিটের ভবনে লিফট রয়েছে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক সিটির সরকারি NYC Housing Connect ওয়েবসাইটে গিয়ে আবাসনটির শর্ত, আয়ের যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ তারিখ দেখে আবেদন করতে পারবেন। শহরটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসন লটারিতে পরিবারের আকার ও আয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। আবেদন করার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তৃতীয় পক্ষের কাউকে টাকা দিয়ে আবেদন করানোর প্রয়োজন নেই। সূত্র: পিক্স১১, নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছরের কম বয়সীদের কয়েক ধরনের ক্যানসার বাড়ছে, কারণ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা
কাজের জন্য লাস ভেগাসে ছয় দিনের সফর, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ায় গ্রেপ্তার মা
চেহারায় সৌন্দর্য বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি খরচ, এতে অনুতপ্ত নন নিউ ইয়র্কের উদ্যোক্তা
যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমে কর্মরত যোগ্য নার্সদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর যৌথ উদ্যোগে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য নার্সিং হোমগুলোতে কর্মীসংকট কমানো, নার্স নিয়োগ বাড়ানো এবং অভিজ্ঞ নার্সদের পেশায় ধরে রাখা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী নার্সদের জন্য, নার্সিং হোমের সব কর্মীর জন্য নয়। নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচিতে যোগ্য নিবন্ধিত নার্স (আরএন) এবং লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা এবং ১০ হাজার ডলার ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী পুরো ৫০ হাজার ডলার পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, শিক্ষাঋণ এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের ওপর। অর্থ একবারে দেওয়া হবে না; যোগ্যতা বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ করার সময় তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে। এই সহায়তা পেতে হলে যোগ্য নার্সিং হোমে চাকরি করতে হবে এবং সেখানে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করার শর্তও রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু নার্সিং হোম পরিদর্শকের পদও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা পেতে হলে যোগ্য শিক্ষাঋণ থাকতে হবে। যাঁদের যোগ্য শিক্ষাঋণ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক স্নাতক হওয়ার মতো বিকল্প শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। নার্সিং হোমে সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএনএ) বা অন্যান্য সহায়ক পদে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিরা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের এই আর্থিক প্রণোদনার যোগ্য হবেন না। তবে সিএমএসের বৃহত্তর নার্সিং হোম কর্মীসংকট মোকাবিলার উদ্যোগে নার্সিং সহকারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নার্সিং পেশায় প্রবেশ করতে আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পৃথক সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই কর্মসূচির জন্য মোট ২৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিএমএস দিচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং অঙ্গরাজ্যগুলো দিচ্ছে আরও ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা এবং যেখানে নার্সের ঘাটতি বেশি, সেসব নার্সিং হোমে কর্মী নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যায় নার্সিং হোমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত নার্স না থাকলে বাসিন্দাদের নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগ্রহী নার্সরা সিএমএসের ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ কর্মসূচির সরকারি আবেদন পোর্টালে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর লাইসেন্স, চাকরির স্থান, কর্মঘণ্টা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। আবেদন শুরু করার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা ও তিন বছরের কর্ম-অঙ্গীকারের শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
ভিসার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনায় স্ত্রী-সন্তান, প্রতিদিন পরিবার থেকে দূরে মার্কিন বাবা
বাবাকে ছাড়া রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন ছয় সন্তান, অভিবাসন জটিলতায় অনিশ্চিত পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ