২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।
এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।
স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনসে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন স্টেফানি রক নামের এক প্রতিশ্রুতিশীল তরুণী রিয়েল এস্টেট ব্রোকার। গত শুক্রবার সকাল ৯টার কিছু পর ওয়াটার মিল এলাকায় জগিং করার সময় একটি টয়োটা গাড়ি তাকে মারাত্মকভাবে ধাক্কা দেয়। সাউদাম্পটন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ২৯ বছর বয়সী এই তরুণীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির পরিচয়হীন চালক পুলিশকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তাকে সাউদাম্পটন হাসপাতালে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। স্টেফানি রক নিউইয়র্ক সিটির স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জোনস ল্যাং লাস্যাল (জেএলএল)-এ অ্যাসোসিয়েট ব্রোকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মূলত কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক অফিস স্পেস ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য রিয়েল ডিল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি ২০১৯ সালে ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান অ্যান্ড অর্গানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক পাসের আগেই তিনি শহরের ব্রুকফিল্ড প্রপার্টি পার্টনারসে মার্কেটিং ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং গ্র্যাজুয়েশনের পর থেকে পুরোপুরি কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেট পেশায় নিজেকে যুক্ত করেন। গত ২০২৪ সালের এপ্রিলে জেএলএল-এর নিউইয়র্ক সিটি অফিসে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রাখেন। কমার্শিয়াল অফিস স্পেস লিজিং এবং টেন্যান্ট রিপ্রেজেন্টেশনের দিকে তার বিশেষ মনোযোগ ছিল। ম্যানহাটনের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চুক্তিতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। যার মধ্যে বিউটি-টেক ইন্ডাস্ট্রির স্টার্টআপ 'গ্লসজিনিয়াস'-এর জন্য ৮৩৮ ব্রডওয়েতে পুরো এক তলার ইজারা নিশ্চিত করার মতো কাজ তাকে রিয়েল এস্টেট জগতে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সম্ভাবনাময় এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউইয়র্কে নিজের বাড়িতে বসবাসকারী অনেক বাড়ির মালিক প্রতি বছর স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্সে শত শত ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ পেতে পারেন। নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাড়ির মালিকদের এই সুবিধা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে কর্মসূচিটির কিছু নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে, বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, যারা সম্প্রতি বাড়ি কিনেছেন অথবা নিজের বাড়ির জন্য আগে কখনো স্টার সুবিধা নেননি, তারা যোগ্য হলে নিবন্ধন করতে পারেন। স্টার কী? স্টার-এর পূর্ণ অর্থ School Tax Relief Program। সহজ ভাষায়, নিউইয়র্কে নিজের মূল বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ির যোগ্য মালিকদের স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা কমাতে রাজ্য সরকারের দেওয়া একটি আর্থিক সুবিধা এটি। স্টার পুরো প্রপার্টি ট্যাক্স মওকুফ করে না। যোগ্য ব্যক্তিদের স্কুল ট্যাক্সের একটি অংশের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। নতুন আবেদনকারীরা সাধারণত স্টার ক্রেডিট পান, যা চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে। পুরোনো কিছু বাড়ির মালিক স্টার ছাড়ের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাক্স বিলে সুবিধা পান। কারা পাবেন? সাধারণ স্টার ক্রেডিটের জন্য বাড়িটি আবেদনকারীর মালিকানাধীন এবং তার মূল বাসস্থান হতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সম্মিলিত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লাখ ডলার। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য রয়েছে বর্ধিত স্টার সুবিধা। ২০২৬-২৭ স্কুল বছরের জন্য এ সুবিধার আয়সীমা ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ ডলার। ২০২৬ সাল থেকে বয়সের নিয়মও কিছুটা সহজ হয়েছে। একাধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন বাড়িতে অন্তত একজন মালিক ওই বাড়িতে বসবাস করলে এবং সংশ্লিষ্ট বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালে বয়সের শর্ত পূরণ হতে পারে। তবে আয়সহ অন্য সব যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে? স্টার সুবিধার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। বাড়ি কোন এলাকা ও স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এবং প্রপার্টির ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬-২৭ সালের জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির বাড়িতে সাধারণ স্টার ছাড়ে সর্বোচ্চ ২৬৯ ডলার এবং বর্ধিত স্টার ছাড়ে সর্বোচ্চ ৬৫৯ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে স্টার ক্রেডিটের প্রকৃত অঙ্ক আলাদা হতে পারে। আবেদন করবেন যেভাবে: নতুন বাড়ির মালিক অথবা যারা আগে কখনো স্টার সুবিধা নেননি, তারা নিউইয়র্ক স্টেট ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের অনলাইন সেবার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারেন। সেখানে বাড়ির মালিকদের জন্য নির্ধারিত পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়। একবার সফলভাবে নিবন্ধনের পর যোগ্যতা বজায় থাকলে সাধারণত প্রতি বছর নতুন করে আবেদন করতে হয় না। স্টার ক্রেডিট পাওয়া ব্যক্তিরা চাইলে অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন। যারা ইতোমধ্যে স্টার পাচ্ছেন, তারা ট্যাক্স বিল অথবা রাজ্য সরকারের বাড়ির মালিকদের অনলাইন পোর্টালে গিয়ে নিজেদের সুবিধার অবস্থা যাচাই করতে পারেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি বাড়ির মালিকদের মধ্যে যারা এখনো স্টার সুবিধার জন্য নিবন্ধন করেননি, তাদের নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন বাড়ির মালিক এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বছরে কয়েকশ ডলার ট্যাক্স সাশ্রয়ের সুযোগ করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা এবং শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস)। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বিপজ্জনক তাপমাত্রার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।সাম্প্রতিক ঝড় ও বন্যায় অ্যারিজোনা, টেক্সাস এবং উটাহে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতেও ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণাঞ্চল এবং গ্রেট লেকস অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক স্থানে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তারও বেশি অনুভূত হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে চার কোটিরও বেশি মানুষ চরম তাপমাত্রার সতর্কতার আওতায় রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, তীব্র গরমের পাশাপাশি বজ্রঝড় ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকা, নদীসংলগ্ন অঞ্চল এবং নগরাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।