যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইস’রায়েল নতজানু না হলে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তবে মোজতবা খামেনি তা সরাসরি নাকচ করেছেন।   তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।”   ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেন। বৈঠকের স্থান ও খামেনির সরাসরি উপস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো গত সপ্তাহেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলো এখনও সরাসরি এগোয়নি, ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল দায়ী: ম্যাক্রোঁকে পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।   আলাপের সময় পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।   ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটির আবু মুসা ও খার্গ দ্বীপ বর্তমানে তীব্র হামলার মুখে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।   এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী।   পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। তবে দেশের জনগণের সমর্থন ও জাতীয় শক্তির ভিত্তিতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কোনো দ্বিধা করবে না।   তিনি আরও দাবি করেন, গাজা ও লেবাননে সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ।   এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   আলোচনায় দুই দেশের নাগরিকদের কনসুলার বিষয়, বিশেষ করে ইরান ও ফ্রান্সে আটক নাগরিকদের বিষয়েও কথা বলেন দুই নেতা।   সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশনের আয়োজনে পদযাত্রা। ইরানে হামলা বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড এবং ইরান ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা । ছবি: রয়টার্স
ইরানে হামলা বন্ধের দাবিতে লন্ডনে বিক্ষোভ, মার্কিন দূতাবাসের দিকে পদযাত্রা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজারো বিক্ষোভকারী মধ্য লন্ডন থেকে মার্কিন দূতাবাসের দিকে পদযাত্রা করেন এবং যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান।   শনিবার বিকেলে ওয়েস্টমিনস্টারের কাছে মিলব্যাংক এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। পরে ক্যাম্পেইন ফর নিউক্লিয়ার ডিসআর্মামেন্ট (সিএনডি), স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন, প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন, মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটেন, প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ইন ব্রিটেন এবং ফ্রেন্ডস অব আল-আকসা সংগঠনের নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু হয়।   বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল ইরান ও ফিলিস্তিনের পতাকা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ এবং ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’।   মার্কিন দূতাবাসের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও একইভাবে মানুষ প্রতিবাদ করেছিল, কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল।   বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু করা উচিত নয়। তারা যুক্তরাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দেশটিকে যেন আর কোনো সংঘাতে জড়িয়ে না ফেলা হয়।   বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী একাধিক বক্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুসরণ করেছে। ভবিষ্যতে পররাষ্ট্রনীতিতে সহযোগিতা, সমতা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।   পুলিশের এক কর্মকর্তার ধারণা, এ বিক্ষোভে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালে একটি প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরও তিনজনকে বিভিন্ন অভিযোগে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।   বিক্ষোভকারীরা মিছিলের সময় স্লোগান দেন ‘এখনই বোমা হামলা বন্ধ করো’ এবং ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আগামী ২৮ মার্চ মধ্য লন্ডনে আবারও একটি পদযাত্রা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ইরানের তেহরানে শুক্রবারের নামাজের আগে ফিলিস্তিনিপন্থী সমাবেশে একজন মুসলিম ধর্মগুরু ফিলিস্তিনি ও ইরানি পতাকা ধরে আছেন
ইরান কেন বন্ধুহীন?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে ইরান কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই ‘বন্ধুহীন’ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে?   সম্প্রতি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক চাপ ও কৌশলগত হিসাব নিকাশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ হন। প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, তখন ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। তবে আঞ্চলিক মিত্রদের মতে, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সেটিই ছিল ‘উপযুক্ত সময়’।   এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং দীর্ঘ ইতিহাসের অধিকারী দেশটি সংকটের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একা হয়ে পড়েছে—এমন ধারণা বিশ্লেষকদের মধ্যে জোরালো হয়েছে।   ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও চীনও সামরিক বা প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। তখনও এই দুই দেশ কেবল উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল।   টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ক্রমশ বিচ্ছিন্ন অবস্থানে চলে গেছে। তেহরান আশা করেছিল, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো অন্তত কূটনৈতিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সমর্থনও খুব একটা দেখা যায়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। নতুন শাসনব্যবস্থা পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর ফলে ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে।   ধর্মীয় মতপার্থক্যও অনেক আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি অধ্যুষিত হলেও ইরান মূলত শিয়া রাষ্ট্র। এই ধর্মীয় বিভাজন আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।   মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে ইরান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনকে তেহরান ‘প্রতিরোধ বলয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   এই কারণেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক দেশের কাছে ইরানের ভূমিকা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখলেও তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।   সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই সমর্থন মূলত কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।   অন্যদিকে রাজনৈতিক সাময়িকী পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সমর্থনেরও একটি সীমা রয়েছে। ইরান হামলার পর মস্কোর প্রতিক্রিয়া মূলত সহানুভূতি ও রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, গত চার দশকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ইরান ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এক ধরনের কৌশলগত বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পড়েছে।   একসময় পারস্য সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দেশটি এখন জটিল কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান সংকটে ইরানকে কার্যত ‘বন্ধুহীন’ বলেই মনে হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় আজ রোববার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।   পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত খামেনির মৃত্যু ইরানসহ বিশ্বের বহু মানুষের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিচার। তিনি বলেন, উন্নত গোয়েন্দা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করেছে, যাতে খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের পালানোর সুযোগ ছিল না।   ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য আর যুদ্ধ করতে চাইছে না এবং নিরাপত্তা বা ক্ষমা প্রার্থনা করছে। তিনি ইরানের জনগণকে দেশ পুনর্দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ।   তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে টানা বিমান হামলা চলবে।   উল্লেখ্য, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0