ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আজকের শিক্ষার আধুনিকায়ন ও রূপান্তর
শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে মৌলিক ও শক্তিশালী রূপান্তরকারী শক্তি। যুগে যুগে সভ্যতার বিকাশের পেছনে শিক্ষা যে বিশাল ভূমিকা রেখেছে, তা ইতিহাসের প্রতিটি স্তরেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আর সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদা আমাদেরকে বাধ্য করছে নতুন করে ভাবতে-কীভাবে আমরা আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করব। আজকের শিক্ষার্থীকে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে গড়ে তুললে সে বাস্তব জীবনের অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না।
কারণ বর্তমান বিশ্বে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও প্রজ্ঞার অভাবই বড় সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাই প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা শুধু তথ্য সরবরাহ করবে না, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও প্রয়োগ করার সক্ষমতা তৈরি করবে। এই প্রেক্ষাপটে “স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল” হতে পারে একটি সমন্বিত, মানবিক এবং ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাদর্শন, যা শিক্ষার্থীদের কেবল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলবে না, বরং তাদেরকে দক্ষ, চিন্তাশীল, নৈতিক, দৃঢ়চেতা এবং প্রযুক্তিসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এই মডেল এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করবে, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ একে অপরের সাথে সমন্বয়পূর্বক একজন মানুষকে পূর্ণতা দিবে।
এই মডেলের মূল ভিত্তি হবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- দক্ষতা (স্কিল), মানসিকতা (মাইন্ডসেট), মনোভাব (অ্যাটিচ্যূড), সহনশীলতা (রেজিলিয়েন্স) এবং প্রযুক্তি (টেকনোলজী)। এই পাঁচটি উপাদান একে অপরের পরিপূরক এবং সম্মিলিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার কাঠামো তৈরি করবে। প্রথমত দক্ষতা এমন একটি উপাদান যা একজন শিক্ষার্থীকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করবে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক জ্ঞাননির্ভর ছিল, যেখানে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই ছিল প্রধান লক্ষ্য।
কিন্তু বাস্তব জীবনে সফল হতে হলে শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না; সেই জ্ঞানকে প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার সক্ষমতাই একজন মানুষের প্রকৃত যোগ্যতা নির্ধারণ করে। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি কোনো সমস্যাকে ভেঙে বিশ্লেষণ করতে পারে, সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করতে পারে এবং যৌক্তিকভাবে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে সে যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবে। এজন্য শিক্ষার প্রতিটি স্তরে অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক কাজ, দলগত আলোচনা এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু উত্তর মুখস্থ করবে না, বরং উত্তর খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াটিই শিখবে, যা তাদের চিন্তাশক্তিকে বহুমাত্রিক করে তুলবে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কোডিং বা প্রোগ্রামিং দক্ষতা আধুনিক যুগে এক ধরনের ভাষায় পরিণত হয়েছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি কার্যকর মাধ্যম। এটি শুধু প্রযুক্তিবিদদের জন্য নয়; বরং সকল শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোডিং শেখার মাধ্যমে তারা লজিক্যাল চিন্তা, ধৈর্য এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অভ্যাস গড়ে তোলে। একটি ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করার মধ্য দিয়েও একজন শিক্ষার্থী শিখে নেয় কীভাবে একটি জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সমাধান করতে হয়। এর পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।
বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান যত গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা। একজন শিক্ষার্থী যদি তার ভাবনা স্পষ্ট, সুসংগঠিত এবং কার্যকরভাবে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে সে সহজেই অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে এবং তার চিন্তার মূল্যায়ন পাবে। তাই মৌখিক উপস্থাপনা, লিখিত প্রকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ এই তিনটি ক্ষেত্রেই দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে দলগত কাজের ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগ পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং যৌথভাবে সাফল্য অর্জনের পথ সুগম করে। এইভাবে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষিত নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত একজন সক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
স্মার্ট-৫.০ মডেলের দ্বিতীয় উপাদান মানসিকতা, যা শিক্ষার্থীর চিন্তার ধরনকে গঠন করবে এবং তার শেখার গভীরতা নির্ধারণ করবে। একটি সুস্থ ও ইতিবাচক মানসিকতা ছাড়া কোনো দক্ষতাই দীর্ঘস্থায়ী বা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে না, কারণ দক্ষতার সঠিক প্রয়োগ নির্ভর করে চিন্তার গুণগত মানের উপর। সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে মানুষ প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছে, যার সবই সত্য বা নির্ভরযোগ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা তথ্যের উৎস যাচাই করতে পারে, পক্ষপাতদুষ্টতা চিহ্নিত করতে পারে এবং যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।
শুধু তথ্য গ্রহণ নয়, বরং তথ্যের ভেতরের অর্থ ও প্রভাব অনুধাবন করার ক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। এর পাশাপাশি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা বিকাশমুখী মানসিকতা শিক্ষার্থীদেরকে শেখায় যে প্রতিভা জন্মগত কোনো স্থির বিষয় নয়, বরং এটি চর্চা, অধ্যবসায় এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিকশিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদেরকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহিত করে, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর করে তোলে। ফলে তারা ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে বরং সেটিকে উন্নতির সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে শেখে।
মনোভাব হলো এই মডেলের তৃতীয় উপাদান, যা একজন মানুষের চরিত্র, আচরণ এবং সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলবে। শিক্ষা যদি কেবল দক্ষতা ও জ্ঞান প্রদান করে, কিন্তু একজন মানুষকে মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তুলতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। নৈতিকতা একজন মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, যা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়বদ্ধতা এবং আত্মসম্মান-এই মূল্যবোধগুলো ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা শুধু নিজের স্বার্থে নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করতে শেখে।
একই সাথে সহমর্মিতা এমন একটি গুণ, যা মানুষকে অন্যের অবস্থান বুঝতে এবং তার অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হতে শেখায়। এটি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্রেণিকক্ষে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম, সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই গুণগুলো বিকশিত করা সম্ভব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে শেখে এবং ভিন্ন মত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
সহনশীলতা স্মার্ট-৫.০ মডেলের চতুর্থ উপাদান, যা একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতার মধ্যে স্থির থাকতে এবং এগিয়ে যেতে শক্তি জোগাবে। বাস্তব জীবন কখনোই পূর্বনির্ধারিত পথে চলে না; বরং এটি নানাবিধ বাধা, পরিবর্তন এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে পরিপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি সামান্য প্রতিবন্ধকতায় হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে তার পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে যায়। তাই তাকে মানসিকভাবে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে সে প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভয় না পেয়ে বরং তা মোকাবেলার সাহস অর্জন করে। প্রতিটি ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার অভ্যাস তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
অভিযোজন ক্ষমতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ বর্তমান বিশ্বে পরিবর্তনই একমাত্র স্থায়ী সত্য। প্রযুক্তির অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্রুত রূপান্তর শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিনিয়ত নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করছে। তাই তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা অজানা পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে পারে, নতুন দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী থাকে এবং পরিবর্তনকে সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে গ্রহণ করে। এই মানসিক দৃঢ়তা ও নমনীয়তার সমন্বয়ই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য সত্যিকার অর্থে প্রস্তুত করে তোলে।
প্রযুক্তি হলো স্মার্ট-৫.০ মডেলের পঞ্চম এবং শেষ উপাদান, যা পুরো মডেলকে একটি আধুনিক, কার্যকর এবং ভবিষ্যতমুখী কাঠামো প্রদান করবে। প্রযুক্তি আজ আর কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি শিক্ষা, কর্মজীবন এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ক্লাউড প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের শেখার ধরনকেই বদলে দিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ এখন শিক্ষার্থীরা কেবল বইয়ের উপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন রিসোর্স এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ টুলের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করছে।
প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় অবদান হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার নিজস্ব সক্ষমতা, আগ্রহ এবং শেখার গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগোতে পারে। এতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সহায়তা পায় এবং অগ্রসর শিক্ষার্থীরা আরও গভীরভাবে শেখার সুযোগ পায়। তবে প্রযুক্তির এই বিস্তৃত ব্যবহারের সাথে সাথে এর নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল সাক্ষরতা তাই শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা নয়; বরং এটি তথ্য যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের একটি সমন্বিত চর্চা।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহারই করে না, বরং তা বুঝে, মূল্যায়ন করে এবং সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে শেখে। স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল মূলত একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শিক্ষাকে একটি স্থির কাঠামো নয়, বরং একটি গতিশীল ও ক্রমবিবর্তনশীল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এখানে শিক্ষক আর একমুখী জ্ঞানপ্রদানকারী নন; বরং তিনি একজন সহায়ক, যিনি শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন করতে, অনুসন্ধান করতে এবং নিজের চিন্তার জগৎ তৈরি করতে উৎসাহিত করেন।
এই মডেলে শেখার প্রক্রিয়া একমুখী নয়, বরং দ্বিমুখী এবং পারস্পরিক, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই একে অপরের কাছ থেকে শেখে। শিক্ষার্থীরা এখানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, যারা নিজেদের শেখার দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করে এবং নতুন জ্ঞান অর্জনে কৌতূহলকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে শ্রেণিকক্ষের প্রচলিত ধারণাও পরিবর্তিত হয়। শেখা আর নির্দিষ্ট সময় বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে। ফলে শিক্ষা জীবনের সাথে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হয় এবং তা কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
এই মডেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত উদ্যোগ, যেখানে নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের প্রতিটি অংশীদারের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। প্রথমত, পাঠ্যক্রমকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে যাতে তা বাস্তবমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করে। শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক পাঠ্যসূচি নয়, বরং এমন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে, যাতে তারা নতুন শিক্ষাদর্শন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পদ্ধতির সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে।
একজন প্রশিক্ষিত ও সচেতন শিক্ষকই পারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মডেলের মূল্যবোধগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে। একই সাথে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য, যাতে শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমে আসে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়। ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইসের প্রাপ্যতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব মিলিয়ে, এই মডেলের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে একটি সমন্বিত, দূরদর্শী এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার উপর, যা শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে ভবিষ্যত উপযোগী করে তুলতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয়; এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়-শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে তা পরিচালিত হওয়া উচিত। এই মডেল শিক্ষাকে কেবল তথ্য অর্জনের প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে, বরং একজন মানুষের সামগ্রিক বিকাশের ধারাবাহিক যাত্রা হিসেবে বিবেচনা করে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তারা আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, যারা নিজের জীবনকে অর্থবহ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এই মডেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতের জটিল বাস্তবতায় তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
ভবিষ্যতের বিশ্ব হবে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবর্তনশীল, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান বা দক্ষতা দীর্ঘদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে না। তাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদেরকে আজীবন শেখার বা জীবনব্যাপী শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরিবর্তনের সাথে নিজেকে ক্রমাগত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করে।
স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল সেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তি একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি টেকসই শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলে। এটি শিক্ষার্থীদেরকে কেবল কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করে না; বরং তাদেরকে উদ্ভাবক, চিন্তাশীল এবং সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, যারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। অতএব, এখনই সময় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্মূল্যায়ন করার এবং তা সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার।
শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে এই মডেলের মূল দর্শন শিক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা আগামী প্রজন্মকে শুধু জ্ঞানী নয়, বরং প্রজ্ঞাবান, মানবিক এবং দূরদর্শী করে তুলবে। স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল সেই পথনির্দেশনা প্রদান করে, যার মাধ্যমে আমরা একটি আলোকিত, দক্ষ এবং নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।
মোঃ আবদুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), ঢাকা (প্রাবন্ধিক, লেখক ও গবেষক)
ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মতামত
View moreবাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম এর সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য, শাপলা চত্বরে নেতৃত্বদানকারী মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির বলেছেন যে, এই বাজেট বড় সময় উপযোগী বাজেট! বাজেট কোন উচ্চাভিলাষী নয়! সুষম বাজেট! দেশ এবং জনগণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার বাজেট! উক্ত বাজেটে মদ এবং তামাকের দাম বৃদ্ধি হওয়াতে জনগণ খুবই উপকৃত হয়েছে! মাদক এবং তামাকসেবীদের জন্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবং দাম নাগালের বাইরে থাকার কারণে ওরা কিনতে পারবেনা, দ্বিতীয় দেশ ও সমাজ থেকে আস্তে আস্তে করে রেপিজম, আইসোলিজম, এবং ভায়োলেন্সিজম দুরে হয়ে, কায়েম হবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। মাওলানা এম.এ করিম ইবনে মছব্বির যুগোপযোগী বাজেট পাঠ করার অর্থমন্ত্রী এবং দেশের সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান! বাজেটকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী আখ্যা দিলেন মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের প্রয়োজন এবং জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণীত একটি সময়োপযোগী, বাস্তবধর্মী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই বাজেট কোনো অবাস্তব বা উচ্চাভিলাষী বাজেট নয়। বরং দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে একটি সুষম ও দায়িত্বশীল বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।” তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। বর্তমান বাজেটে জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী।” মাওলানা করিম ইবনে মছব্বির মদ, তামাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তামাক ও মাদকদ্রব্য মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবার এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে। এর ফলে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয় হ্রাস পাবে। একটি সুস্থ, সচেতন ও নৈতিক সমাজ গঠনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। বাজেটে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় সরকার প্রশংসার দাবিদার।” মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির আশা প্রকাশ করেন যে, বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। পরিশেষে তিনি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এই যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থ উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং সরকারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের অব্যাহত উন্নয়ন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে
বাংলাদেশের নারীদের বলছি..
বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা এখন পারস্পরিক আস্থার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও বিআইআইএসএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ আশিক রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। আশিক রহমান বলেন, "চীন বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত বন্ধু। বৈশ্বিক রাজনীতিতে অনেক দেশের মধ্যে আধিপত্যবাদী মনোভাব থাকলেও, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সব সময় সমতা ও পারস্পরিক উপকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।" তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিবর্তনকে তিনটি পর্বে ভাগ করেন এবং ২০১৬ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল ও ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকারে চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ নিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার করে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে চীনের গৃহীত উদ্যোগ বিশ্বের জন্য একটি মডেল। এছাড়াও চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার সাথে পরিপূরক বলে তিনি মনে করেন। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের উদাহরণ টেনে এই গবেষক বলেন, চীন তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের নতুন সরকারও ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ নীতি বজায় রেখে চীনের সাথে এই গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্য গোপন করলে পাঁচগুণ জরিমানা: সংশোধন হচ্ছে তথ্য অধিকার আইন
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আজকের শিক্ষার আধুনিকায়ন ও রূপান্তর