শান্তিনগরের স্থায়ী বাসিন্দা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া গত সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে একটি ‘ব্যঙ্গাত্মক’ (Satire) স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নাগরিক জীবনের ভোগান্তি ছাড়িয়ে তার আক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিজের সংসদীয় আসন।
শবনম ফারিয়া তার স্ট্যাটাসে লেখেন:
“শান্তিনগরে ২৪/৭ জ্যাম এইটা নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নাই কিংবা আমার এলাকার কোনো এক মেয়ে জায়েদ খানের ছবি এমবুশ করা বালিশে ঘুমায় এইটা নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নাই। আমার কষ্ট একটাই শান্তিনগর ঢাকা-৮ আসনে পড়ে। আর আমি সেই আসনের ভোটার!”
ফারিয়ার এই স্ট্যাটাসে হাজার হাজার রিয়েকশন ও কমেন্ট পড়েছে। নেটিজেনরা ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী মারামারি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মজার সব রিপ্লাই দিয়েছেন:
পপকর্ন থিওরি: এক অনুসারী লিখেছেন, “আপনি তো ভাগ্যবান! ফ্রি-তে এলাকায় মারামারি দেখতে পারবেন। নির্বাচনের আগে কিছু ভুট্টা কিনে রাখুন, পপকর্ন বানিয়ে এনজয় করবেন।”
আব্বাস-নাসির ভাই প্রসঙ্গ: সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন বর্তমান রাজনৈতিক দ্বৈরথকে ইঙ্গিত করে স্যাটায়ার করেছেন।
শান্তিনগরে অশান্তি: একজন মন্তব্য করেন, “শান্তিনগরে আর শান্তি নাই।” যার জবাবে ফারিয়া পাল্টা প্রশ্ন করেন— “কবে ছিলো ভাই?”
ঢাকা-৮ আসনটি (মতিঝিল-পল্টন-শান্তিনগর) বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম ‘হটসিট’। বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতায় এই আসনের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে যে ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার চালাচ্ছেন, ফারিয়ার পোস্টে মূলত সেই পরিস্থিতির দিকেই একটি ‘মৃদু খোঁচা’ বা রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ দেখছেন নেটিজেনরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
এক সময়ের শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা-র বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করায় এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমকে জানান, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হলে কাজি আইনত সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন, বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশের আইনে বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলেন। এসব তথ্য বিবেচনায় তার বয়স আইনি সীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। সে হিসেবে, লুবাবার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ককে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই মেয়াদে কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
শোবিজ অঙ্গনে ফের ভাঙনের সুর। দীর্ঘদিনের প্রেম আর ঢাকঢোল পিটিয়ে করা বিয়ের আখ্যান এবার রূপ নিল বিচ্ছেদের করুণ পরিণতিতে। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও লেখক আবু সাইয়িদ রানার দুই বছরের সাজানো সংসার এখন ভাঙনের মুখে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্বামী রানার পরকীয়ার দিকে। ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি জমকালো আয়োজনে ঘর বেঁধেছিলেন এই তারকা দম্পতি। কিন্তু বিয়ের বছর দুয়েক পার হতেই সম্পর্কে ধরেছে ফাটল। জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই তারা আলাদা থাকছেন। শোবিজের অন্দরে জোর গুঞ্জন, নুসরাত তুবা নামে এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতাই এই টানাপোড়েনের মূল কারণ। রানা এবং তুবা একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে একসাথে কাজ করার সুবাদেই নাকি তাদের এই কথিত প্রেমের সূত্রপাত। মৌসুমী হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, যা রটেছে তা সত্যি। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় বর্তমানে বিস্তারিত কথা বলার অবস্থায় তিনি নেই। অন্যদিকে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে রানা নিজেই বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, নিজের দোষ ঢাকতেই রানা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সুরকার কুমার বিশ্বজিৎ বন্ধু ও সহকর্মী হানিফ সংকেত-এর অনন্য অর্জন উদযাপন করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে কুমার বিশ্বজিৎ হানিফকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “বন্ধু, তোর স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তিতে আমি অত্যন্ত খুশি। রইল অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা।” হানিফ সংকেত বহু বছর ধরে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র মাধ্যমে সমাজ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান উপস্থাপন ও বিনোদনমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমৃদ্ধ করে চলেছেন। তার এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবার তিনি ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ বা স্বাধীনতা পদক-এ ভূষিত হচ্ছেন। বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ দর্শক সামাজিক মাধ্যমে তার এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করছেন। ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন এবং দেশের সংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় ধরে অবদান রাখছেন। চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষিত তালিকায় মোট ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন। সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য এই তালিকায় হানিফ সংকেতের নাম থাকায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেছে। এ বিষয়ে হানিফ নিজেও সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “সুহৃদ, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করেছে। এটি আমার একার অর্জন নয়; যারা ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তাদেরও অবদান রয়েছে।”