হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা সন্দেহ, নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে তরুণ দম্পতির মৃত্যু
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । নিউ ইয়র্কের কুইন্সে এক অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ ও তার ১৮ বছর বয়সী প্রেমিকার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে জ্যাকসন হাইটস এলাকার ৮৪তম স্ট্রিট ও ৩৪তম অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তর্ক-বিতর্কের শব্দ শোনা যায়। এরপর একাধিক গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের এক সদস্য ও পাশের বাসিন্দা ৯১১-এ ফোন করেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তরুণীকে মাথা, বুক ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত অবস্থায় পায়। তার প্রেমিকের মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়, এবং তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরুণটি প্রথমে তার প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করে, এরপর নিজেই আত্মহত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মেডিকেল এক্সামিনার ময়নাতদন্ত করবেন। এ ঘটনায় এর আগে ওই দম্পতির মধ্যে কোনো বিরোধের অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সিনেটর জেসিকা রামোস বলেন, গার্হস্থ্য সহিংসতা বাস্তব এবং অনেক সময় তা এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছে যায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের জন্য বাড়তি ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ি কেনার সময় বন্ধকী ঋণের কিস্তির হিসাব করলেও পরে রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তিকর ও বাড়ির বিমার মতো নিয়মিত খরচ বাজেটে বড় প্রভাব ফেলছে। জিলো ও থাম্বট্যাকের নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব খাতে একজন বাড়ির মালিকের বছরে গড়ে ১৬ হাজার ৫৬৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে। মাসিক হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৮০ ডলার, যা বন্ধকী ঋণের কিস্তির অতিরিক্ত। গত পাঁচ বছরে এই বাড়তি ব্যয় প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত এক বছরে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম, প্রায় ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাড়তি ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে। এ খাতে বছরে গড়ে ১১ হাজার ১৭১ ডলার খরচ হচ্ছে। বাড়ির বিমার প্রিমিয়ামে বার্ষিক ব্যয় ২ হাজার ২৬৬ ডলার এবং সম্পত্তিকর বাবদ দিতে হচ্ছে ৩ হাজার ১২৯ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার পরও নিয়মিত মেরামত, পরিচর্যা ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ আলাদা রাখতে হচ্ছে মালিকদের। জিলোর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কারা এনজি বলেন, অনেক পরিবার বাড়ি কেনার সময় সেটি পাওয়ার বিষয়টিতে বেশি মনোযোগ দেয়, কিন্তু সেখানে বসবাসের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের হিসাব কম করে। গত পাঁচ বছরে খরচের বিভিন্ন খাতে বৃদ্ধির হারও এক রকম নয়। বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে ৩২ শতাংশ এবং সম্পত্তিকর বেড়েছে ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে বিমার খরচ সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের বৃদ্ধির গতি কমেছে। ২০২২ সালে এ খাতে বার্ষিক ব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে নেমে এসেছে ১ শতাংশে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছে মাত্র ০.৩ শতাংশ। যদিও সাম্প্রতিক বৃদ্ধির গতি কমেছে, পাঁচ বছর আগের তুলনায় ব্যয়ের মাত্রা এখনো অনেক বেশি। অঙ্গরাজ্য ও শহরভেদে বাড়ির বিমার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি মহানগর এলাকার মধ্যে ১৯টিতে গত পাঁচ বছরে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ডালাসে এই বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ, ট্যাম্পায় ৭১ শতাংশ, ডেনভারে ৭০ শতাংশ এবং হিউস্টনে ৬৯ শতাংশ। শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো ও প্রবল বাতাসের মতো তীব্র আবহাওয়াজনিত ঘটনা এসব এলাকায় বিমার খরচ বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। মায়ামিতে বাড়ির বিমার বার্ষিক খরচ প্রায় ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, আর ছয়টি মহানগর এলাকায় এ খরচ বছরে ৩ হাজার ডলারের বেশি। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক এলাকায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। সিয়াটলে এ খাতে বছরে ১২ হাজার ৫৯৪ ডলার এবং বোস্টনে ১২ হাজার ৪৮৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে এক বছরের ব্যবধানে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়েছে ২৭ শতাংশ। দাবানলের পর পুনরুদ্ধারকাজ, বাড়িসংক্রান্ত সেবার চাহিদা বৃদ্ধি এবং শ্রমের উচ্চমূল্যকে এ বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সব ধরনের বাড়তি খরচ মিলিয়ে নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় বছরে ২৫ হাজার ১১১ ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সান ফ্রান্সিসকোতে এ ব্যয় ২৪ হাজার ৩৮৩ ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ২২ হাজার ৯১৫ ডলার। তুলনামূলক কম ব্যয়ের ফিনিক্সেও বছরে এ খাতে ১৪ হাজার ১৮৭ ডলার প্রয়োজন হচ্ছে। বিশ্লেষণটির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বাড়ি কেনার আগেই সম্ভাব্য সব ব্যয় হিসাব করার পরামর্শ দিয়েছেন। জিলোর কারা এনজির মতে, বাড়ি কেনার আগে নির্দিষ্ট সম্পত্তির বিমার খরচ জেনে নেওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। থাম্বট্যাকের বাড়ির প্রবণতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রা সিনক্লেয়ারও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সারা বছর ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা করলে বড় ধরনের মেরামতের খরচ এড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখা সহজ হতে পারে। বিশ্লেষণটি বলছে, বাড়ির প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণে শুধু ঋণের কিস্তি নয়, কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা প্রয়োজন। সূত্র: জিলো ও থাম্বট্যাকের যৌথ বিশ্লেষণ, ফক্স বিজনেস।
৯০ শিক্ষার্থীর অনুমোদন, পড়ছে ৩১৩ জন, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন চায় নিউ জার্সিয়ার ইসলামি স্কুল
নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে হ্যালোইন ক্যান্ডি বিক্রি, পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে যাজক ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতার হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলা ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে অন্তত ৮০ কোটি ডলারের সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের আইনজীবী পল মোনেস। চুক্তির কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত না হলেও এটি সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার মুঠোফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনজীবী মোনেস জানান, সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে আর অল্প কিছু বিষয় বাকি রয়েছে। তাঁর মতে, ভুক্তভোগীদের অনেকের বয়স এখন ৬০, ৭০ এমনকি ৮০ বছরের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা এসব মানুষের জন্য সমঝোতাটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নিপীড়নের মানসিক ক্ষত পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি। নিউইয়র্কে ক্যাথলিক যাজকদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৬ সালে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত ষাট, সত্তর ও আশির দশকে সংঘটিত বলে দাবি করা নিপীড়নের ঘটনায় তামাদি আইনের সময়সীমা শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ‘চাইল্ড ভিকটিমস অ্যাক্ট’ পাস হয়। এই আইনের ফলে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও শর্তের মধ্যে ভুক্তভোগীরা পুরোনো যৌন নিপীড়নের অভিযোগেও দেওয়ানি মামলা করার সুযোগ পান। এর পর চার্চসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হয়। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় বলে আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি সম্পদ বিক্রি ও ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়। তবে নতুন সমঝোতার অঙ্ক অন্তত ৮০ কোটি ডলারে পৌঁছালে তা আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক বড় আর্থিক দায় তৈরি করবে। একই ধরনের অভিযোগের জেরে নিউ অরলিন্সের ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছিল। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ভুক্তভোগীরা দুটি পদ্ধতির একটিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। প্রথম পদ্ধতিতে প্রত্যেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে নিতে পারবেন। অন্য পদ্ধতিতে তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর একটি নির্ধারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রত্যেকের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ঠিক করা হবে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে এই শর্তগুলো কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। নিউইয়র্কের আর্চবিশপ রোনাল্ড এ হিকস যাজকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের জন্য কিছুটা নিরাময় ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে নিউইয়র্কে সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। শিকাগোর আর্চডায়োসিসের বিরুদ্ধে এ মাসে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বাল্টিমোরেও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আইনজীবী মোনেস জানিয়েছেন, তিনি নিউইয়র্কের বাইরেও বাফেলো, সান ডিয়েগো ও সান ফ্রান্সিসকোর আর্চডায়োসিসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নিউইয়র্কের প্রস্তাবিত সমঝোতা চূড়ান্ত হলে তা দীর্ঘদিন ধরে বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকা অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত অঙ্ক ও অর্থ প্রদানের শর্তগুলো পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি সাংবিধানিক অধিকার নয়, আদালতের রায়
নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১ হাজার ৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারির আবেদন
পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিশুকে রক্ষা করলেন যুবক
বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বিল গেটসের সম্পদের মাত্র ১ শতাংশ পাবেন তাঁর তিন সন্তান। মাইক্রোসফটের এই সহপ্রতিষ্ঠাতার বর্তমান সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১১৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে সন্তানদের জন্য রাখা সম্পদের পরিমাণও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। তবে সন্তানদের বিপুল উত্তরাধিকার না দেওয়ার পেছনে তাঁর যুক্তি, এতে তাদের প্রকৃত উপকার হবে না। বরং নিজের যোগ্যতায় সফল হওয়ার সুযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর উদ্যোক্তা ও পডকাস্ট উপস্থাপক রাজ শামানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গেটস তাঁর উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, সন্তানদের ভালো পরিবেশে বড় করা হয়েছে এবং উন্নত শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবারের মোট সম্পদের তুলনায় তারা পাবে ১ শতাংশেরও কম। কারণ, তাঁর বিবেচনায় পুরো সম্পদ বা এর বড় অংশ সন্তানদের দিয়ে যাওয়া তাদের জন্য উপকারী সিদ্ধান্ত হবে না। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চান তাঁর সন্তানরা নিজেদের উপার্জন ও সাফল্যের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করুক। বাবার বিপুল সম্পদ যেন তাদের নিজস্ব অর্জনকে আড়াল করে না দেয়, সেটিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, পরিবারের সম্পদ তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া উচিত নয়। গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে তাঁর তিন সন্তান—জেনিফার, রোরি ও ফোবি। তাঁদের মধ্যে ১১৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ১ শতাংশ সমানভাবে ভাগ করা হলে প্রত্যেকে প্রায় ৩৮৩ মিলিয়ন ডলার পেতে পারেন। তবে এটি মোট সম্পদের ১ শতাংশ সমানভাবে ভাগ করার ভিত্তিতে করা একটি হিসাব; প্রত্যেকে ঠিক কত অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। সন্তানদের জন্য সম্পদের সীমিত অংশ রাখার পরিকল্পনা গেটসের দীর্ঘদিনের দাতব্য উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০০ সালে তিনি ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস মিলে গঠন করেন গেটস ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কাজ করা হয়। ২০২২ সালে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে গেটস বলেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি তাঁর প্রায় পুরো সম্পদই ফাউন্ডেশনে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে একসময় বিশ্বের ধনীদের তালিকা থেকেও তিনি সরে যাবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজের সম্পদ এমন কাজে ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর দায়িত্ব, যা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং জীবনমান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বিপুল সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার অধিকারী অন্যদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। গেটস একা নন। মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস, ওয়ারেন বাফেট, মাইকেল ব্লুমবার্গ ও মার্ক জাকারবার্গের মতো আরও কয়েকজন ধনী ব্যক্তি তাঁদের সম্পদের বড় অংশ দাতব্য কাজে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে গেটসের মতো বিপুল সম্পদের মালিকদের ক্ষেত্রে দাতব্য কাজে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার পরও পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্পদ অবশিষ্ট থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে উত্তরাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে অবশ্য বড় ব্যবধান রয়েছে। এমপাওয়ারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ পরিবার উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পদ রেখে যেতে চায়। কিন্তু ৩৪ শতাংশ পরিবার জানে না, বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে কি না। ২০২৫ সালের চয়েস মিউচুয়ালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক উত্তরাধিকার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন অথবা ইতিমধ্যে পেয়েছেন। উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁরা গড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫০ ডলার পাওয়ার হিসাব করছেন। কিন্তু রিচমন্ডের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চলতি বছরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তরাধিকার পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর মধ্যম পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। গড় পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ ডলার। ধনী পরিবারের বড় অঙ্কের সম্পদ হস্তান্তরের কারণে গড় পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। নর্থওয়েস্টার্ন মিউচুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অধিকাংশ উত্তরাধিকার—৬৬ শতাংশ—সন্তান বা নাতি-নাতনিদের কাছে গেছে। এ ছাড়া ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী এবং ৩২ শতাংশ ক্ষেত্রে দাতব্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উত্তরাধিকার পেয়েছে। একটি সম্ভাব্য ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা চললেও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এর বড় অংশ ধনী পরিবারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ঋণ, বাড়ির বন্ধকী কিস্তি ও চিকিৎসার ব্যয়ের কারণে অনেক সাধারণ পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে দেওয়ার মতো সম্পদ তুলনামূলক কম থাকতে পারে। গেটসের মতে, উত্তরাধিকার নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে আগেভাগেই নিজের অর্থনৈতিক দর্শন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে কে কতটা সম্পদ পাবে, তা নিয়ে ভুল প্রত্যাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সম্পদ পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও একই ধরনের। পরিবারের আর্থিক অবস্থা, অর্থ ব্যবহারের মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিবেচনা করে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা উচিত। উত্তরাধিকার এককালীন অর্থ, বিনিয়োগ হিসাব, ট্রাস্ট কিংবা নির্দিষ্ট সময় পরপর অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে বণ্টন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজন, আর্থিক অভ্যাস ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি করসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে উত্তরাধিকার হিসেবে কম অর্থ পাওয়া মানেই তা মূল্যহীন নয়। আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করা কয়েক হাজার ডলারও দীর্ঘ সময়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাই পরিবারের জন্য কত সম্পদ রেখে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি করা এবং জীবিত অবস্থায় নিজের আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় ৪০ বছরের সম্পর্কের ইতি, পেপসি ছেড়ে কোকাকোলার সঙ্গে চুক্তি করছে কেএফসি
সরকারি কর্মীদের শিক্ষাঋণ মওকুফে বিতর্কিত নিয়ম বাতিলের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াল ট্রাম্প প্রশাসন