নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সংবিধান-প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা বাতিলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে 'ট্রাম্প বনাম বারবারা' মামলার শুনানি ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন তার এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ করেছে। যদি আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের নয়, বরং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়বে—যা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ১৪১৬০ স্বাক্ষর করেন, যার নাম 'আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করা'। এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসা, শিক্ষাভিসাধারী, ডিএসিএ সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, শুধুমাত্র নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানরাই 'যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন'; অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসীদের সন্তানরা নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সংবিধানের সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন না।
এই পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হওয়ার আগের সময়ের সঙ্গে। ১৮৫৭ সালের 'ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে কৃষ্ণাঙ্গরা নাগরিক নয়। পরবর্তীতে ১৮৬৬ সালের সিনেট বিতর্ক এবং ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক' মামলার রায়ে নিশ্চিত করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল মানুষই নাগরিক। ট্রাম্পের বর্তমান প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এক ধরনের শ্রেণিভেদ তৈরি হতে পারে, যেখানে নাগরিকত্ব জন্মস্থানের বদলে বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে 'আপনার কাগজপত্র দেখান' ধরনের পরিস্থিতি এবং জাতিগত প্রোফাইলিং বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। মিনেসোটা ও ফ্লোরিডায় বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভুলবশত আটক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ১ এপ্রিল সেসিলিয়া ওয়াং সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তিনি এবং তার সংগঠন সংবিধান রক্ষার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন যুগের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো কিশোর-কিশোরী প্রথমবারের মতো চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। কর্মসূচিটি তরুণদের আয়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলে দিচ্ছে। দেশজুড়ে কিশোরদের জন্য গ্রীষ্মকালীন চাকরির সুযোগ কমে আসার আশঙ্কার মধ্যেই এই উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সপ্তাহে কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপর তারা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করবে। অংশগ্রহণকারীদের একজন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কেডেন ম্যালোন, যিনি জীবনের প্রথম চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে এবং মায়ের পাশে দাঁড়াতেই তিনি কাজ করতে চান। কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আটলান্টার সল্টবক্সে অবস্থিত স্লাশি বক্স এটিএল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্যান্ডি মুর জানান, তরুণদের বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ শেখার সুযোগ করে দিতেই তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। এখানে শিক্ষার্থীরা গ্রাহকসেবা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। আটলান্টা সিটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার তরুণ চাকরির সুযোগ পেয়েছিল। নিবন্ধন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ১ হাজার ৬০০-এর বেশি যোগ্য আবেদনকারীর জন্য চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্লাশি বক্স এটিএলে কর্মরত শিক্ষার্থীরা চার সপ্তাহের কর্মসূচিতে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করে ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। স্যান্ডি মুর জানান, কর্মদক্ষতা ভালো হলে ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। কেডেন ম্যালোনের মতো অনেক তরুণের কাছে এই কর্মসূচি শুধু আয়ের সুযোগ নয়, বরং কর্মজীবনে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাদের আশা, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ওপর দিয়ে রাতারাতি একটি তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রঝড় বয়ে গেছে। এই আকস্মিক ঝড়ে ঘণ্টায় ৮০ মাইলেরও বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়, যার ফলে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় আজ বুধবার খুব ভোরে সেন্ট পলের ক্যাথেড্রাল হিল এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল, যেখানে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর বিশাল গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রথম ধাপটি মূলত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ডাকোটা এবং নেব্রাস্কা অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি একটি শক্তিশালী ঝড়ের লাইনে রূপান্তরিত হয়ে বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে টুইন সিটিস বা মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল এলাকায় আঘাত হানে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম মিনেসোটার মারিয়েটা শহরের কাছে একটি আবহাওয়া স্টেশনে রাত ১টার পরপরই সর্বোচ্চ ৮৩ মাইল বেগে ঝড়ের গতি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ম্যাডিসন এলাকায় ৭৮ মাইল এবং গ্লেনউডে ৭৪ মাইল বেগে তীব্র বাতাস বয়ে যায়। উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণে গ্র্যান্ট কাউন্টির হফম্যান শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরের পার্কগুলোতে প্রবেশ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে পার্কের বহু গাছ উপড়ে গেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ঝড়ের প্রভাবে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত মিনেসোটার বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে রিপোর্ট করেছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয় সামাল দিতে স্থানীয় পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, লাইন মেরামতের জন্য তাদের প্রায় ২৭৫টি জরুরি কর্মী দল বর্তমানে মাঠে কাজ করছে এবং দুপুরের পর আরও অতিরিক্ত দল তাদের সাথে যোগ দেবে। তারা সর্বসাধারণকে মাটিতে পড়ে থাকা বা ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো তারকে সচল ও বিপজ্জনক মনে করার আহ্বান জানিয়েছে। একটি কোল্ড ফ্রন্টের সাথে অঞ্চলের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষের ফলেই মূলত এই তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নীরজ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। পাশাপাশি অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করা হয়ে থাকলে আইনের আওতায় সেই নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে এখনো তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও আইটি খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তবে অতীতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে জালিয়াতি, ভুয়া চাকরির অফার এবং ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসসহ একাধিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।