পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও তৃষ্ণা মেটাতে গুড়ের শরবত একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। গুড় একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি হওয়ায় এটি সাধারণ চিনির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। ইফতারে এই শরবত পান করলে সারাদিনের অবসাদ দূর হয়ে মন ও শরীর সতেজ হয়ে ওঠে।
গুড়ের শরবত তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। প্রথমে এক কাপ গুড় পরিমাণমতো পানিতে ২০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। গুড় সম্পূর্ণ গলে গেলে পানিটি ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর আলাদা পাত্রে তোকমা দানা ভিজিয়ে রাখতে হবে। একটি জগে গুড়ের পানির সঙ্গে ভেজানো তোকমা দানা এবং দুই-তিন টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর এই পানীয়।
শরবতটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে এতে পুদিনাপাতা এবং লেবুর টুকরো যোগ করা যেতে পারে। এছাড়া স্বাদে ভিন্নতা আনতে চাইলে সামান্য আদা গুঁড়ো ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পরিবেশন করা যায়। স্বাস্থ্য সচেতন রোজাদারদের জন্য ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই শরবতটি কৃত্রিম পানীয়র চমৎকার বিকল্প হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব জগতেই এবার মানুষের হারানো হাত কিংবা পা পুনরায় গজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একদল শক্তিশালী জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবদেহের অঙ্গ ও কোষ পুনরুত্পাদন বা রিঅ্যাক্টিভেশনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS)-এ প্রকাশিত এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ হারানো লাখ লাখ মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন হাড়, মাংসপেশি এবং টিস্যু গজানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগার একযোগে কাজ করেছে। মেক্সিকান অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার নিয়ে কাজ করা ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী জশ কারি জানান, অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুর—এই তিনটি ভিন্ন প্রকৃতির জীবের অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তুলনা করে দেখা গেছে যে, তাদের মধ্যে একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জেনেটিক প্রোগ্রাম কাজ করছে। এই যৌথ প্রকল্পের অন্য দুই প্রধান গবেষক হলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জন ডেভিড এ. ব্রাউন, যিনি ইঁদুরের আঙুল পুনরুত্পাদন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের কেনেথ ডি. পস, যার গবেষণার মূল বিষয় ছিল জেব্রাফিশের পাখনার পুনরুত্পাদন। প্রকৃতিতে অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার তার হারানো হাত-পা, লেজ, মেরুদণ্ডের টিস্যু এবং এমনকি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুনরায় গজিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, জেব্রাফিশ বারবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পাখনা মেরামতের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও কিডনি পুনর্গঠন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে ইঁদুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কারণ মানুষের মতো ইঁদুরেরও কিছু ক্ষেত্রে নখের অংশ অক্ষত থাকলে আঙুলের ডগা পুনরুত্পাদনের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৬' (SP6) এবং 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৮' (SP8) নামের দুটি বিশেষ জিন যখন সক্রিয় বা 'অন' হয়, তখন এই প্রাণীদের শরীরে অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা জেগে ওঠে। গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা জিন-সম্পাদনার আধুনিক প্রযুক্তি 'ক্রিসপার' (CRISPR) ব্যবহার করে অ্যাক্সোলটলের শরীর থেকে 'SP8' জিনটি অপসারণ করেন। এর ফলে প্রাণীটি তাৎক্ষণিকভাবে তার হাড় ও অঙ্গ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একইভাবে ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যায়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরিবর্তনের নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে এই জিনটি আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের হাড় গজানোর ক্ষমতা আবার পুনরুদ্ধার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হন, যাদের একটি বড় অংশই ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভোগেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অঙ্গহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীরে সরাসরি হাত-পা গজানোর ক্ষমতা না থাকলেও, এই গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শরীরের ভেতরেও প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন কোনো অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রোগ্রাম সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার অপেক্ষা রাখছে মাত্র।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে, আর বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এক নজরে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি: মোট মৃত্যু: ৯ জন (হাম নিশ্চিত: ১ জন, উপসর্গসহ: ৮ জন)। নতুন ভর্তি রোগী: ১১০৫ জন (সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে)। হাম শনাক্ত: ১৭৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে ওটমিল ও কাঠবাদাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রক্তে বিদ্যমান চর্বি মূলত দুই প্রকার—এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) এবং এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল)। এলডিএল ধমনীর দেয়ালে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচলে বাধা দেয়, যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, এইচডিএল ধমনী থেকে খারাপ কোলেস্টেরল অপসারণে সহায়তা করে শরীরকে সুস্থ রাখে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এলডিএল-এর মাত্রা কমিয়ে এইচডিএল বাড়ানো জরুরি। জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত একটি ঘরোয়া মিশ্রণ সেবনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই পদ্ধতিতে এক কাপ রান্না করা ওটমিলের সঙ্গে চারটি কাঠবাদাম মিশিয়ে প্রতিদিন সকালের নাস্তায় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওটমিলে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। অন্যদিকে কাঠবাদামে আঁশের পাশাপাশি রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই দুটি উপাদান রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং ধমনীর জটিলতা দূর করতে সরাসরি কাজ করে। নিয়মিত এই খাদ্যাভ্যাস কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে কেবল খাদ্যাভ্যাসই যথেষ্ট নয়; পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা আবশ্যক। ওটমিল ও কাঠবাদামের এই সহজ ঘরোয়া দাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর এই রুটিন অনুসরণ করলে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।