১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন অনন্যা চন্দ জেসি। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেক হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
অনন্যা মিশিগানপ্রবাসী বিশ্বেশ্বর চন্দ ও শেলী শীল দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা। তার এই সাফল্যের খবরে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনন্যা জানান, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রি-মেড’ বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই অর্জন তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনন্যা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান।
শিক্ষাজীবনে অনন্যা একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘ন্যাশনাল অনার সোসাইটি’র সভাপতি এবং ‘অ্যাকাডেমিক গেমস’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি মিশিগান মেডিসিনের অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিচ বোর্ড এবং ‘ওমেন অব বাংলাটাউন ইউথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
মেধার স্বীকৃতি হিসেবে অনন্যা ‘পালাজো স্ট্রজি’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারের আওতায় ইতালিতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তবে সব সুযোগের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও মেন্টরদের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বলেন, তাদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনন্যার বার্তা, “কখনো নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে না। মনে রাখবে, সাময়িক ব্যর্থতাও ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বোন ইমান আবদেলহাদির অতীতের কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য ও আইনি বিতর্ককে সামনে এনে রিপাবলিকানরা এখন আব্দুল এল-সায়েদকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনের আগে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ইমান আবদেলহাদি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একজন অধ্যাপক ও লেখক। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে তার কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টকে সমালোচকেরা হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ইমানের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং এর সঙ্গে তার ভাইয়ের নির্বাচনী অবস্থানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আলাদা বিষয়। ইমানের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে আইসিই-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনার বাইরে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি এক ইলিনয় স্টেট পুলিশ ট্রুপারের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে থুতু নিক্ষেপ করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ওপর গুরুতর হামলার দুটি অভিযোগ এবং পুলিশকে বাধা দেওয়া বা প্রতিরোধের দুটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইমানের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিয়ে করা কিছু পুরোনো মন্তব্যও নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবস ও থ্যাংকসগিভিং নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানপন্থী মহলে আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরালো হয়েছে। তবে আব্দুলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন বলছে, পরিবারের সদস্যের রাজনৈতিক মতামতের জন্য একজন প্রার্থীকে দায়ী করা যায় না। ক্যাম্পেইনের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ে মতভেদ থাকাও স্বাভাবিক। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালটে রয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ এবং ভোটারদের বিবেচনা করা উচিত তার নিজের জনসেবার রেকর্ড ও মিশিগানের মানুষের জীবনকে আরও ভালো ও সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনা। আব্দুল এল-সায়েদ চলতি আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে দলের সিনেট প্রার্থী হন। এখন নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানকে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই আসনের ফলাফল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাইমারিতে জয়ের পর থেকেই আব্দুলকে ঘিরে রিপাবলিকানদের প্রচার আরও তীব্র হয়েছে। তার বোনের বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে সেই রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে আব্দুলের ক্যাম্পেইন জোর দিচ্ছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মিশিগানের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার ওপর। এখন পর্যন্ত আব্দুল এল-সায়েদ তার বোনের আলোচিত মন্তব্যগুলোর প্রতিটির বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত অবস্থান নেননি। তবে তার ক্যাম্পেইন স্পষ্ট করেছে, ইমান আবদেলহাদির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামতকে আব্দুলের নির্বাচনী অবস্থানের সঙ্গে এক করে দেখার বিষয়টি তারা গ্রহণ করছে না।
শিকাগোর হাইড পার্কে বন্দুকধারীদের হাতে এক ব্যক্তির সম্পদ ছিনতাই, তদন্তে নেমেছে পুলিশ
অ্যাক্রনে ১৫ বছরের কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
হিউস্টনে গাড়িতে গুলি চালিয়ে তিনজনকে আহত, পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজনও আহত হাসপাতালে ভর্তি
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের জন্য আবাসন ব্যয়ের নতুন চাপ হিসেবে সামনে এসেছে বাড়ির বীমার ক্রমবর্ধমান খরচ। রিয়েলটর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির ১৫টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির বীমার মাসিক খরচ সম্পত্তি করের মাসিক ব্যয়ের চেয়েও বেশি। ফলে বাড়ির মালিকদের জন্য শুধু বন্ধকী ঋণের কিস্তিই নয়, বীমা ও করও বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠছে। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাধারণ বাড়ির মালিক মাসে গড়ে প্রায় ৩১১ ডলার সম্পত্তি কর দেন। বিপরীতে বাড়ির বীমায় গড়ে খরচ হয় প্রায় ২০০ ডলার। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, নির্মাণ ব্যয় এবং বীমা দাবির চাপের কারণে বাড়ির বীমার খরচ দ্রুত বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে নেব্রাস্কা। সেখানে একজন বাড়ির মালিকের মাসিক বীমা ব্যয় গড়ে প্রায় ৪১৩ ডলার, যা একটি পরিবারের মোট মাসিক আবাসন ব্যয়ের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ওকলাহোমায় মাসিক বীমা ব্যয় প্রায় ২৭৮ ডলার এবং এটি মোট আবাসন ব্যয়ের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। টেক্সাসেও বাড়ির মালিকদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে মাসিক বাড়ির বীমা খরচ গড়ে প্রায় ৩৩১ ডলার, যা মোট মাসিক আবাসন ব্যয়ের প্রায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অঙ্গরাজ্যটির অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে বীমার এই ব্যয় বাড়ি মালিকানার সামগ্রিক খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় মাসিক বীমা খরচ প্রায় ২৫৯ ডলার, যা মোট আবাসন ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আরকানসাসে মাসিক ব্যয় প্রায় ২০০ ডলার এবং মোট আবাসন ব্যয়ের ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। এসব পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কিছু এলাকায় বীমা এখন বাড়ির মালিকদের নিয়মিত আবাসন ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করছে। কেন বাড়ছে বীমার খরচ? প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ের মতো দুর্যোগে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বীমা দাবির পরিমাণও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বীমার আওতায় মেরামত করতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে বাড়ির বীমার খরচ বৃদ্ধি এবং বীমা পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। টেক্সাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ির বীমার প্রিমিয়াম ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরেই বীমা প্রিমিয়াম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আয় বৃদ্ধির হার ছিল আনুমানিক ৩ শতাংশ। বীমার প্রিমিয়াম বাড়লে এর প্রভাব শুধু আলাদা একটি বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যেসব বাড়ির মালিকের বন্ধকী ঋণের সঙ্গে কর ও বীমার অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের মাসিক মোট অর্থপ্রদানও বেড়ে যেতে পারে। ফলে একই বাড়িতে বসবাস করলেও বীমার খরচ বাড়ার কারণে পরিবারের মাসিক আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। একজন ক্রেতা বাড়ির মূল্য ও বন্ধকী ঋণের সুদ বিবেচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বীমা প্রিমিয়াম, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও হিসাব করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় কম দামের বাড়িও উচ্চ বীমা ব্যয়ের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বাড়ির মালিকের সামনে বীমা কোম্পানি পরিবর্তন বা নতুন পলিসি খোঁজার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বীমা কোম্পানিগুলো বেশি প্রিমিয়াম নিতে পারে, কভারেজের শর্ত কঠোর করতে পারে অথবা নির্দিষ্ট ঝুঁকির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে পারে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এখন শুধু বাড়ির দাম ও বন্ধকী সুদ নয়, বাড়ির বীমার খরচও বড় অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি করের চেয়েও বেশি বীমা ব্যয় হওয়া সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ
শিকাগোতে ভয়াবহ ঝড়ের ক্ষত শুকানোর আগেই ফের তাণ্ডবের শঙ্কা, বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অভিবাসন ধরপাকড়, স্বেচ্ছায় ফিরলে ২,৬০০ ডলারের সুযোগও চালু
নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে শাবাতের প্রার্থনা চলাকালে সেন্ট্রাল সিনাগগে ঢুকে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় তাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ৪৬ বছর বয়সী ল্যারি মন্টেস, যিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দা। তিনি লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের সেন্ট্রাল সিনাগগে শাবাতের প্রার্থনা চলার সময় প্রবেশ করে অনুষ্ঠান ব্যাহত করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সিনাগগ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মন্টেস ৬৩ বছর বয়সী এক নারী উপাসককে আঘাত করেন। পরে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মীকে মাথা দিয়ে আঘাত ও থুতু দেওয়ার পাশাপাশি উপাসনালয়ের কিছু সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত এক নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তাই তাকে আটক করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের কেউ গুরুতর আহত হননি এবং ঘটনাস্থলেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। মন্টেসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে দুটি হামলার অভিযোগ এবং একটি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই সিনাগগ বা সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো অতিরিক্ত হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শহরের প্রতিটি মানুষ যেন ভয় ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছে মার্কিন ভ্রমণ—কোথায় যাচ্ছেন তারা?
জ্বালানির দাম বাড়লেও ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প, ইরানকে ঠেকানোর মূল্য হিসেবে দেখছেন