আমেরিকা

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: মে ১৫, ২০২৬ ২২:৪৯
বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি
বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে।

 

তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

 

পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

 

বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।

 

উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে।

 

এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি।

 

রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে:

 

ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ।

 

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে।

 

তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা।

 

অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে।

 

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাজেট অনুমোদন, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড-ভাঙ্গা উদ্বোধনী বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। শহরটির পূর্ববর্তী আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়রের নিজেরই দেওয়া ভয়াবহ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সিটি কাউন্সিলে এই বাজেট প্রস্তাবটি ভোটের জন্য ওঠে। তবে শেষ মুহূর্তের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এই ব্যয়ের চুক্তিটি বামপন্থি ও মধ্যপন্থি—উভয় পক্ষের রাজনীতিকদেরই হতাশ করেছে।   গত বছরের প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এবারের বাজেট প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দৃশ্যত বড় ধরনের কোনো ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেই। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই মেয়র বাজেটকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে দাবি করলেও, সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন জানিয়েছেন, মূলত ৬.১ বিলিয়ন ডলারের এককালীন কৌশল এবং স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবহার করেই সাময়িকভাবে এই ভারসাম্য আনা হয়েছে। লেভিনের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শহরটি আপাতত একটি কঠিন বছর পার করতে পারলেও ভবিষ্যতের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর কোনো সমাধান এতে নেই। সিটি কম্পট্রোলার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বাজেটে শহরটিকে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতির মুখে পড়তে হবে।   ২০২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত এই বাজেটে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) জন্য ৬.৬ বিলিয়ন, শিক্ষা বিভাগে ৩৮ বিলিয়ন, গৃহহীন সেবা বিভাগে ৪.২ বিলিয়ন এবং স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিচ্ছন্নতা বিভাগে ২.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ রিজার্ভ ফান্ডে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। সিটিজেনস বাজেট কমিশনের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেইনের মতে, এই পরিকল্পনা শহরের বিশাল কাঠামোগত বাজেট সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি হাউজিং ভাউচার প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং এনওয়াইপিডিতে ৫৮০ জন নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের বিষয়ে মেয়রের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার কারণে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।   গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মেয়র মামদানি শহরের আর্থিক সংকটের জন্য তার পূর্বসূরি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসকে দায়ী করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ১২ বিলিয়ন ডলার ঘাটতির কথা বললেও পরে তা ৫.৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন। এই ঘাটতি পূরণে ধনীদের ওপর কর আরোপ বা সম্পত্তি কর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। নতুন কর আরোপে খুব একটা সফল না হলেও বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের মাধ্যমে বছরে ৩৪০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার পথ তৈরি হয়েছে। এছাড়া গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট পেতে সফল হয়েছেন মামদানি, যা বড় ধরনের ব্যয়কে আপাতত বিলম্বিত করেছে। তবে এসব দৃশ্যমান সাফল্যও তার প্রগতিশীল মিত্রদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৯:৩৪
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ১২ ফুট কুমিরের সঙ্গে লড়েও প্রেমিকাকে বাঁচাতে পারলেন না প্রেমিক, প্রাণ গেল তরুণীর

১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা I ছবি: সংগৃহীত

১২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার, ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

‘বর্ষসেরা অভিভাবক’ খেতাব পাওয়া আলাস্কার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের ৪৭ অভিযোগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রাক্তন প্রেমিকাকে পথে বসানোর অভিযোগে আদালতে নিউইয়র্কের সেলিব্রিটি জুয়েলার

হলিউড সিনেমা ‘আনকাট জেমস’-এ অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া নিউইয়র্কের ডায়মন্ড ডিস্ট্রিক্টের প্রখ্যাত জুয়েলার মাকসুদ আগাদজানির বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রেমিকাকে চরম হেনস্থা ও তার জীবন ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। ৩৮ বছর বয়সী এই ধনকুবের ট্র্যাক্সএনওয়াইসি (TraxNYC)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। স্নুপ ডগ, কার্ডি বি থেকে শুরু করে মিস্টার বিস্টের মতো তারকারা তার ক্লায়েন্ট। সম্প্রতি ২৭ বছর বয়সী মেলিসা কুল্লা নামের তার এক প্রাক্তন কর্মী ও প্রেমিকা ফেডারেল আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার দুই বছর পর মাকসুদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মেলিসার ওপর এই অমানবিক মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, মাকসুদ তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে অসংখ্য অকথ্য ও হুমকিমূলক টেক্সট মেসেজ পাঠান। এমনকি মেলিসার আলবেনিয়ান বংশপরিচয় নিয়ে কটূক্তি করে তাকে বারবার 'আলবেনিয়ান মাঙ্কি' এবং 'স্টুপিড মাঙ্কি-ব্রেইনড' বলে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাকসুদ পুনরায় তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মেলিসা যখন কমেডিয়ান পিট ডেভিডসনের মতো পুরুষ সেলিব্রিটি ক্লায়েন্টদের সাথে পেশাগত কারণে কথা বলতেন, তখন মাকসুদ ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে অকারণে অপদস্থ করতেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর মাকসুদ হঠাৎ বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেলিসা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, আর এরপর থেকেই শুরু হয় এই ভয়ংকর মানসিক নির্যাতন।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, গালিগালাজ ও মানসিক চাপের কারণে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মেলিসা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাতেও মাকসুদের প্রতিহিংসা থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাখ লাখ অনুসারীকে ব্যবহার করে তিনি মেলিসাকে ডায়মন্ড ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুরোপুরি বয়কট করার ব্যবস্থা করেন। যেসব ব্যবসায়ী মেলিসার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছেন, তাদেরও প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি। মাকসুদ ইনস্টাগ্রামে তার ৪১ লাখ ফলোয়ারের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দিয়ে মেলিসার চরিত্র নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তাকে পথে বসানোর প্রকাশ্য হুমকি দেন।   পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে মেলিসা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং আদালতের কাছ থেকে একটি সুরক্ষা আদেশ (অর্ডার অব প্রটেকশন) লাভ করেন। কিন্তু মাকসুদ আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে মেলিসার রুমমেটকেও হেনস্থা করেন। এমনকি 'মিকি বি' নামের তৃতীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেলিসার অত্যন্ত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত তথ্য ইউটিউবে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। মেলিসার আইনজীবী মিশেল কাইওলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও যত ফলোয়ার বা প্রভাবই থাকুক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ক্রমাগত এমন ভয়ংকর হুমকির কারণে মেলিসা বর্তমানে গভীর বিষণ্নতা ও আত্মঘাতী চিন্তায় ভুগছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৭:২২
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় হিংস্র কুকুরের আক্রমণে প্রাণ গেল অটিজমে আক্রান্ত ৫ বছরের শিশুর

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ংকর ‘বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জের’ বলি ১৫ বছরের কিশোরী, শোকস্তব্ধ বাবা

সন্তানদের তালাবদ্ধ ঘরে ফেলে হোটেলে মদ ও মাদকের নেশায় বুঁদ ছিলেন মায়েরা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের অবহেলায় অন্য শিশুদের নির্যাতনের শিকার হয়ে কোমায় দুই মাসের নবজাতক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্ট শিশুদের খাবারের টাকা চুরি করে বেন্টলি-প্রাসাদ কিনলেন প্রতারক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা ও খাবারের টাকা চুরি করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডুকা লুইস একপেনিয়ং নামের ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি 'মেডিকেইড' প্রোগ্রামের আওতায় শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা দামি স্পেশাল ফর্মুলা না দিয়ে সস্তা মানের পিডিয়াশিওর (PediaSure) সরবরাহ করতেন। এরপর সরকারের কাছে দামি ফর্মুলার বিল জমা দিয়ে মাঝখানের বিপুল পরিমাণ পার্থক্য নিজের পকেটে পুরতেন। এভাবেই তিনি সরকারের প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস।   আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, লুইস ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্রুকলিনভিত্তিক তার কোম্পানি 'ডিউক মেডিকেল এলএলসি'-এর মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। চিকিৎসকরা যখন অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য বিশেষ ও দামি ফর্মুলার নির্দেশ দিতেন, তখন লুইসের কোম্পানি সেই শিশুদের হাতে সস্তা মানের ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্য ধরিয়ে দিত। এমনকি অনেক সময় তারা শিশুদের কোনো খাবারই সরবরাহ করত না। অথচ কাগজে-কলমে সরকারের কাছে চড়া মূল্যের বিল ঠিকই আদায় করে নেওয়া হতো। এর ফলে বহু দরিদ্র পরিবারের শিশু তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।   অমানবিক এই প্রতারণার টাকায় লুইস গড়ে তুলেছিলেন এক রাজকীয় জীবন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের অভিজাত হিউলেট এলাকায় ১.৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনেন। এছাড়া ৭০ হাজার ডলারের একটি কালো বেন্টলি, ৬৭ হাজার ডলারের রেঞ্জ রোভারসহ আরও নানা শৌখিন জিনিস কেনেন তিনি। এমনকি বাড়ির সামনে মার্বেল পাথরের ফোয়ারা, আউটডোর কিচেন এবং নিজের নামের আদ্যক্ষর লেখা একটি বিশাল লাল রঙের বাস্কেটবল কোর্টও তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের প্রেমিকার জন্য ৩৩ হাজার ডলারের একটি মার্সিডিজ গাড়িও কেনেন তিনি, অথচ সেই প্রেমিকা নিজেও সরকারি মেডিকেইড সুবিধার তালিকাভুক্ত ছিলেন।   অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে এই জালিয়াতিকে 'হৃদয়হীন প্রতারণা' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তার অফিস এই ঘৃণ্য চক্রটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে। যখন লুইস প্রতারণার টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কিনছিলেন, তখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করছিল। লুইসের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসিনি (বড় অঙ্কের চুরি) এবং স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া ২.৬ মিলিয়ন ডলারসহ মোট প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে প্রসিকিউটররা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৫:৪৭
টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের মামলা খারিজের আবেদন নাকচ I ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা, বিবাদীদের খারিজের আবেদন নাকচ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

পপকর্ন গলায় আটকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল ১৮ মাসের শিশু, মা তখন বাথরুমে মদ্যপানে মগ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কুইন্সের একটি পাবলিক স্কুল I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধ স্কুলে তীব্র দুর্গন্ধ, খোঁজ নিতেই মিলল মানুষের মৃতদেহ

0 Comments