যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের আগে তা জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Shama Obaed Islam। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পুনরায় আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক বাণিজ্য ও অন্যান্য চুক্তি রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বেসরকারি খাত এসব চুক্তির প্রভাবে বেশি প্রভাবিত হয়। তাই প্রতিটি চুক্তি বাস্তবায়নের আগে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ আলোচনা করা হবে। গত বছরের এপ্রিলে Donald Trump প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। আগে থেকেই বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। পরে দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক বিষয়ে একটি চুক্তি হয়, যার ফলে শুল্কহার সামান্য কমে ১৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Khalilur Rahman। এদিকে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, চুক্তির আগে বিএনপি ও জামায়াতের সম্মতি ছিল। তবে জামায়াতে ইসলামীর আমির Shafiqur Rahman এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিরাপদে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-এর প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়েও কনস্যুলার পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি আশা করছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে কেবল ‘ভ্রান্ত’ নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত’ দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই প্রতিবেদনে ভারতের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা এই রিপোর্টটি দেখেছি। এটি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের পক্ষ থেকে এটি সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।" প্রতিবেদনে যা ছিল এবং ভারতের কড়া জবাব উল্লেখ্য যে, USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বরং কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারতের সমালোচনা করার আগে কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দেওয়া।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ কেবল ‘অযৌক্তিক’ নয়, বরং এটি ‘অনৈতিক’ এবং ‘পুরোপুরি বেআইনি’। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে ইরানকে শাস্তি দিতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান যে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ১৯ জন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সদস্য রাষ্ট্রগুলো অনুমোদন করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক চাপ এবং নিষেধাজ্ঞার নীতি এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সংকট নিরসনে এবং শান্তি বজায় রাখতে এবার সরাসরি মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, তেহরানের ওপর যেকোনো ধরনের নতুন সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াং ই সতর্ক করেছেন যে, বলপ্রয়োগ বা উস্কানিমূলক পদক্ষেপ কখনোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে না; বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে। চীনের মূল প্রস্তাব ও অবস্থান: সংলাপের আহ্বান: পরমাণু চুক্তির (JCPOA) কাঠামোতে ফিরে এসে সব পক্ষকে নিয়ে বহুপাক্ষিক আলোচনার দাবি জানিয়েছে চীন। উস্কানি বন্ধের হুঁশিয়ারি: নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে সামরিক মহড়া বা অর্থনৈতিক অবরোধ যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে বেইজিং মনে করে। মধ্যস্থতার ভূমিকা: সৌদি-ইরান সম্পর্কের বরফ গলাতে সফল হওয়া চীন এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেও দূতিয়ালির ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই শক্ত অবস্থান কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থেই চীন এই সংঘাত এড়াতে মরিয়া। তবে হোয়াইট হাউস চীনের এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে টেলিফোনে জরুরি আলাপচারিতা সেরেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যপ্রাচ্যসহ সামগ্রিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভূত সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে জোর দিয়েছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ এক বার্তায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুই মন্ত্রী সাম্প্রতিক নানা ইস্যু ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। চলমান উত্তেজনার মধ্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান প্রতিহত করতে ইরানের সামরিক বাহিনী সক্ষম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনা অভিযান নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন নয়। তিনি বলেন, “আমরা তাদের (মার্কিন স্থল বাহিনী) জন্য প্রস্তুত। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা তাদের প্রতিহত করতে পারব। যদি United States স্থল হামলা চালায়, তা তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সংঘাতে ইরান যুদ্ধবিরতি চাইছে না। তিনি উল্লেখ করেন, Israel–এর সঙ্গে আগের সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ এসেছিল প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেই। আরাগচির মতে, চলমান যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই একক বিজয় নেই। তবে ইরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। Iran কর্তৃপক্ষ বারবার তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কথা তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই চুক্তি কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় হয়নি বরং দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতেই তা সম্পাদিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সাথে কথা বলেছে এবং তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং, এটি অন্ধকারে করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।" চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি 'এন্ট্রি' ও 'এক্সিট' ক্লজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, চুক্তিটি এখনো কার্যকর (নোটিফিকেশন) হয়নি এবং সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি রিভিউ করার সুযোগ রাখে। এছাড়া মাত্র ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোলা রয়েছে। ড. রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ভাষা ও শর্তাবলি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির মতোই অভিন্ন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে কোনো বন্ধ ঘরে ঠেলে দিইনি।" বাণিজ্যিক সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আলোচনা শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর জুলাই মাসে এটি চূড়ান্ত হয়। বিশেষ করে আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি পোশাকে 'জিরো রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ' সুবিধা আদায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় বিজয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকারের 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সীমান্ত উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জেদ্দায় ওআইসি বৈঠক শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংকটে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেবে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। একই সঙ্গে দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিপুল সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি দেশের কূটনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সবসময় শান্তির পক্ষে এবং এই অস্থিরতা নিরসনে আলাপ-আলোচনাকেই একমাত্র পথ মনে করে। সফরকালে তিনি মালদ্বীপ, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আসন্ন জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় দেশগুলো পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আগের সরকারের শুরু করা কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ কথা জানান। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়াটি চলমান এবং আগের মতোই সক্রিয় থাকবে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়েও নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ওপর জোর দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসায় পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এবং সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মেরুদণ্ড সোজা করে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো বিশেষ দেশের প্রতি নতজানু না হয়ে শক্ত অবস্থানে থেকে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। এ সময় বিদেশগামী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের ভিসা সমস্যা দ্রুত সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে গত বছরের নভেম্বরে দুই দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগেও দুই দফা কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো হলেও ভারত থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। নতুন সরকার একই দাবি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেশিসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে আলোচনায় জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাই পাই করে আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। খলিলুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণ রক্ষা করেই সরকার বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতির আলোকে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হননি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগকারীদের উদ্দেশে আবার ভোট গণনার পরামর্শ দেন তিনি। উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়—এ মন্তব্য করে খলিলুর রহমান বলেন, বিএনপি আগে তার পদত্যাগ চাইলেও বর্তমান বাস্তবতায় পরিস্থিতি ভিন্ন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews