যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।
বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।
অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।
৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।
ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।
তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ভারতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর যুক্তিতে ভারত সরকার ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের সেবা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভ। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুরভ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের কারণে ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা ফাঁসকারীদের থামাতে পারেনি, বরং তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে গেছে। দুরভ লিখেছেন, “কিছু ব্যবহারকারী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছে বলে টেলিগ্রাম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এতে কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অথচ যারা প্রকৃতপক্ষে ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। প্রশ্নফাঁসের কার্যক্রম অন্য অ্যাপে স্থানান্তরিত হয়েছে।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর সুপারিশে টেলিগ্রামের ওপর এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ স্টোর থেকে টেলিগ্রাম সরিয়ে দিয়েছে গুগল। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপলও। ফলে নতুন ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারছেন না। যাদের মোবাইলে টেলিগ্রাম আগে থেকেই ইনস্টল করা রয়েছে, তারাও বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন বলে জানা গেছে। এনটিএর মহাপরিচালক অভিষেক সিং বলেছেন, পুনঃপরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, “পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভারত সরকার শুধু টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি। দেশটিতে অ্যাপটির বার্তা সম্পাদনা (মেসেজ এডিট) করার সুবিধাও ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অতীতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে এই সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষার পর বার্তা সম্পাদনা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যেন প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়েছিল। এদিকে ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্রকে (আই৪সি) অনলাইনভিত্তিক পরীক্ষাজালিয়াতি দমনের প্রধান সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিহার, গুজরাট ও রাজস্থানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল, গ্রুপ ও বট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অতি কঠোর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক ডিজিটাল অধিকারকর্মী ও নীতিবিশেষজ্ঞ। জননীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইজিএপির অংশীদার ধ্রুব গর্গ বলেছেন, টেলিগ্রাম শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। ফলে পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক নিরীহ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সরকার পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া কি সবচেয়ে কম ক্ষতিকর ও কার্যকর সমাধান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।” ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, টেলিগ্রাম বন্ধ করা এবং বার্তা সম্পাদনার সুবিধা নিষ্ক্রিয় করা মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ প্রশ্নফাঁস বা গুজব ছড়ানোর মতো কার্যক্রম সহজেই অন্য মেসেজিং অ্যাপ কিংবা ব্যক্তিগত গ্রুপে স্থানান্তরিত হতে পারে। নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা সামনে রেখে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন ভারতে নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি কোটি কোটি মানুষের ডিজিটাল যোগাযোগের অধিকার ও সরকারের হস্তক্ষেপের সীমা কোথায় হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপান এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা ১৯৯৫ সালের পর দেশটির সবচেয়ে উচ্চ সুদের হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক নীতি স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হলো। এর আগে গত ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়, যা পরিচালনা পর্ষদের ৭–১ ভোটে অনুমোদিত হয়। একমাত্র ভিন্নমত দেন বোর্ড সদস্য তোইচিরো আসাদা, যিনি বর্তমান হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন। সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ইয়েনের দুর্বলতা উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল ইয়েন আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.৪৬ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন সামান্য শক্তিশালী হয়ে ১৬০.২২ পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ডও ৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২.৬১৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ব্যাংক অব জাপান জানিয়েছে, তারা প্রতি প্রান্তিকে ২০০ বিলিয়ন ইয়েন করে সরকারি বন্ড কেনা কমাবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বন্ড কেনা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকার ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি এখনো ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার দামে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। মে মাসে জাপানের উৎপাদক মূল্য সূচক ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেপি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান বাজার কৌশলবিদ তাই হুই বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও নীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে ইয়েনের ধারাবাহিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বারবার বাজারে হস্তক্ষেপ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন টোকিওভিত্তিক বিশ্লেষকরা। মনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ জেসপার কোল বলেন, নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল বাজারে হস্তক্ষেপ কার্যকর নয়। মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে জাপান সরকার ইতোমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করেছে। যদিও কর সংস্কার ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে ১.৪ শতাংশে নেমেছে, তা মূলত সাময়িক প্রভাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও ইয়েনের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প শুধু প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনেনি, দেশটির ভূপ্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক এক আকাশ জরিপে দেখা গেছে, এই কম্পনের ফলে উপকূলরেখা কয়েকশো মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে এবং সমুদ্রতলও উল্লেখযোগ্যভাবে ওপরে উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশো মানুষ। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের কাছে সারাঙ্গানি প্রদেশ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কয়েকশো কিলোমিটার দূরের ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজারের বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এই ভয়াবহ কম্পনের পর উপকূলীয় এলাকায় যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তাকে বিজ্ঞানীরা ‘কোস্টাল আপলিফট’ বা উপকূলীয় ভূমি উত্থান হিসেবে বর্ণনা করছেন। ফিভোলকসের প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ভূমি প্রায় ২ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে এসেছে এবং উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে সরে গেছে। সংস্থাটির মতে, ভূমিকম্পের সময় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কোটাবাটো খাতের তীব্র নড়াচড়া সারাঙ্গানি ও দাভাও অঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে সমুদ্রের নিচে থাকা অংশ হঠাৎ করেই ওপরে উঠে আসে। স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে, অনেক জায়গায় আগে পানির নিচে থাকা প্রবাল এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফিভোলকস প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত সমুদ্রতলে ছড়িয়ে রয়েছে প্রবাল, সি-গ্রাস, মৃত মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এছাড়া সারাঙ্গানির বারাঙ্গে বুরিয়াস ও গ্ল্যান পৌরসভার মাঝামাঝি এলাকায় উপকূলীয় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রায় দুই মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে একটি বাড়ি ধ্বংস করে এবং সমুদ্রে থাকা ছোট নৌকাগুলোকে ভাসিয়ে তীরে নিয়ে আসে। স্বাধীন বিশ্লেষণেও এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সত্যতা মিলেছে। জিওস্পেশিয়াল বিশ্লেষক সের্জিও অগাস্টো জারডিম ভলকমার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক মানচিত্রে ১৬ মে থেকে ১০ জুনের মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, “এটি এমন একটি ব্যাপক উত্থান, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।” ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে অসংখ্য ফল্ট লাইন ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর আগে ১৯৭৬ সালে কোটাবাটো খাতের নড়াচড়ার ফলেই মোরো উপসাগরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন সাগরীয় প্লেটের সীমান্ত বরাবর সিসমিক কার্যকলাপের কারণে অতীতে ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী সাতটি ভূমিকম্প এবং ৭ মাত্রার বেশি অন্তত ২৫০টি বড় কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এর সঙ্গে একাধিকবার সুনামির ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও প্রমাণ করল—ফিলিপাইনের উপকূলীয় অঞ্চল শুধু তাৎক্ষণিক দুর্যোগের ঝুঁকিতেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তনের মুখেও রয়েছে।