সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর ক্রিকেটে ফেরা ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৫ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তাঁর ক্রিকেটে ফেরা এবং রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন সাকিব। পোস্টে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করতে চান—এই মুহূর্তে তাঁর পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশকে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতির গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চান না। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে—এমনটা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেন, লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে চান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌযান ডুবে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড। এ ছাড়া দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইতালির কোস্টগার্ড ও ইতালীয় এনজিও মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান-এর বরাতে গত রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। জীবিতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তারা একটি পর্যবেক্ষণ বিমান পাঠায়। সেই বিমানের ধারণ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উল্টে যাওয়া কাঠের নৌযানের তলদেশে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এনজিও সূত্রে জানা যায়, নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউরা উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এতে মোট ১০৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও পুরুষ সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ জোনে, বৌরি অয়েল ফিল্ডের উত্তর-পূর্বে ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও মরদেহগুলো ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসা-এ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান নিখোঁজদের প্রতি শোক প্রকাশ করে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসননীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ভূমধ্যসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনের মধ্যেও রপ্তানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে দেশটি মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এই সময়ে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, ফলে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। চীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ফলে তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলার রপ্তানি করে চতুর্থ এবং ভারত ৭২ কোটি ডলার রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য বেড়েছে, তবে ভারতের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক ক্রেতা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রবণতা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এদিকে পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস। সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা, আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এই ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা পরিদর্শন করেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের শয্যাপাশে সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা, আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য মন্ত্রী ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসককেও পৃথক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, “শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। কোনো শ্রমিকের জীবন যেন অবহেলার কারণে বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছি।”
লবঙ্গ কাবাব অ্যান্ড ক্যাফেতে নান-মাংসের স্বাদ নিতে নিতেই যেন বদলে গেল দেশের ফুটবলের দৃশ্যপট। ফিলাডেলফিয়ার একটি স্থানীয় খাবারের দোকানে বসে কুইন সুলিভান যখন নিজের নানীর কথা বলছিলেন, কেউ কি ভেবেছিল সেই গল্পের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের ঘরে আসবে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা? মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে সেই আইকনিক 'পানেনকা শট'। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল গ্যালারির হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। আর সেই ঐতিহাসিক গোলের নায়ক রোনান সুলিভান, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগেও জানতেন না যে তিনি একদিন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবেন। আমেরিকা থেকে বড় ভাই কুইন সুলিভানের চিৎকার— ‘চিপ ইট!’ যেন সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল রোনানের কানে। ফুটবল সুলিভান ভাইদের রক্তে। বাবা ব্রেন্ডান সুলিভান খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার লিগে, মা হেইকে ছিলেন ডিভশন ওয়ান ফুটবলের অধিনায়ক। এমনকি তাদের বড় ভাই কুইন এখন খেলছেন লিওনেল মেসির সাথে একই লিগে, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের (এমএলএস) তারকা তিনি। কিন্তু তাদের নাড়ির টান যে বাংলাদেশে! তাদের নানী সুলতানা আলম ছিলেন একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ঢাকা থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন পেনসিলভ্যানিয়ায়। একটি অনলাইন পেজ 'সেভ বাংলাদেশ ফুটবল' প্রথম সেই খাবারের ভিডিও থেকে সুলিভানদের বংশসূত্র আবিষ্কার করে। এরপর যোগাযোগ হয় বাফুফের সাথে। ফলশ্রুতিতে রোনান ও ডেকলান সুলিভান এখন বাংলাদেশের সম্পদ। গোলরক্ষক মাহিনের বীরত্ব আর রোনানের সেই শৈল্পিক ফিনিশিংয়ে আজ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট বাংলাদেশের মাথায়। সুলিভান ভাইদের এই গল্প কেবল ফুটবলের নয়, এ যেন শিকড় খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য উপাখ্যান।
ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে বিসিসিআই-এর কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ক্রিকেট নিয়ে আরও বাস্তবমুখী অবস্থানে ফিরতে চাইছে বিসিবি। বিসিসিআই-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: ১. স্থগিত সিরিজ ফেরানোর প্রস্তাব: গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি), যা বিসিসিআই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। বিসিবি এখন সেই সিরিজটি দ্রুত আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২. ভবিষ্যৎ সফর নিয়ে আলোচনা: আগামী বছর ভারতের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে চায় বিসিবি। ৩. এশিয়া কাপের নিরাপত্তা: আগামী বছর এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন বিসিবির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিসিবি বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও বিসিসিআই এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভারতীয় বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি তাদের সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে। সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত বিসিসিআই কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিল এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে হাইব্রিড মডেলের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এদিকে মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ তারিখ প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের সব ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে রোববার পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এটি জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য তিনি উপস্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রীর বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মরত থাকলেও শূন্য পদ রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জনের বিপরীতে শূন্য পদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মরত, কিন্তু শূন্য পদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মরত এবং শূন্য পদ ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত থাকলেও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন শ্রেণিতে থাকলেও তারা সরকারি বেতন স্কেল অনুসরণ করেন না। সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম শূন্য পদ পূরণের সময়সীমা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে পদগুলো পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এক সময়ের শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা-র বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করায় এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমকে জানান, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হলে কাজি আইনত সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন, বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশের আইনে বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলেন। এসব তথ্য বিবেচনায় তার বয়স আইনি সীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। সে হিসেবে, লুবাবার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ককে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই মেয়াদে কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার (১ এপ্রিল) দেশটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আগ্রহের কথা জানান দক্ষিণ কোরিয়ার গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী লিম সাং উ। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর হতে পারে, যা বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে সিউল মনে করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৌফিক ইসলাম শাতিল, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গত পাঁচ দশকে অবকাঠামো, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের নবনির্বাচিত সরকার সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ঢাকা। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় উভয় দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের লাঞ্ছনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ও পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাম্প কর্মীরা দিনরাত সেবা দিলেও বিভিন্ন স্থানে তারা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন, যা পাম্প পরিচালনার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ দফা প্রস্তাব: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে: ১. পাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেল সরবরাহ সমন্বয়। ৩. ক্রেতা বা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়ানো। ৪. পাম্পে সব ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন। ৫. পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ (পরীক্ষামূলক)। ৬. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ৭. ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৮. সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং অহেতুক দোষারোপ বন্ধ করা। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, যাতে পণ্যবাহী ও গণপরিবহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেওয়া ৪৭টি দেশ বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম খাতের সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেছে তারা। সোমবার (৩০ মার্চ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেনেভায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার ও অগ্রগতি নিয়ে নবম প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বর্তমান সরকারের গৃহীত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়েছে বলে জানানো হয়। আইএলওর ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি দেশ, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষ বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বানও জানায়। এর আগে ২০১৯ সালে আইএলও কনভেনশনের কিছু ধারা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন একটি মামলা করে। সেই প্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে একাধিক অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনা হয়। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তারা জানান, সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বক্তারা আরও জানান, শ্রম আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ আইএলওর ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া আইন সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক গ্রুপ—যেমন আরব গ্রুপ, উপসাগরীয় দেশসমূহ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—বাংলাদেশের শ্রম খাতে অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ জানায়। অধিবেশন শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী বছরের মার্চ মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: নিষিদ্ধের পরও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও নেতৃত্বে এখনো শেখ পরিবারের প্রভাব বজায় রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা নিয়মিত বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে দলের অবস্থান জানাচ্ছেন। তবে এখনো তাকে প্রকাশ্যে বা ভিডিও বার্তায় দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দল পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল হতে পারে। প্রথম আলো: টিকা সংকটে উদ্বেগ, হামে বাড়ছে শিশুমৃত্যু দেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়ছে, যা ‘ড্রপ-আউট’ হিসেবে পরিচিত। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা বেড়েছে। ফলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একসময় পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূলে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দ্য ডেইলি স্টার: হামের প্রাদুর্ভাবে বেড়েছে শিশুমৃত্যু, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় চলতি বছর অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ৪৬ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু চলতি মাসেই ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে এবং মার্চ মাসে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কালের কণ্ঠ: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোটিশ উত্থাপন করলে তাৎক্ষণিক আলোচনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কার্যসূচি আগে না নোটিশ আগে এই প্রশ্নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংসদ কক্ষে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ জানায়, নির্ধারিত কার্যসূচি শেষ না করে এ বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অবস্থানকে অপরিণত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। যুগান্তর: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ১৮ বাংলাদেশি, শোকে স্বজনরা লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ, দালালরা বড় নৌকায় ইতালি বা গ্রিসে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় যাত্রীদের তুলে দেয়। যাত্রাপথে ভুল রুটে গিয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করতে হওয়ায় খাবার ও পানির অভাবে তাদের মৃত্যু হয়। আজকের পত্রিকা: গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে না তোলায় মতবিরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পক্ষ বলছে, অধ্যাদেশটির উদ্দেশ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, তাই এটি নতুন করে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধী সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। নয়া দিগন্ত: নেপালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, বড় সংস্কার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দুই মাসের মধ্যে এসব সংগঠন অপসারণ করা হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিউ এইজ: দুর্নীতি মামলার জট বেড়ে ৮ হাজারের বেশি দেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার জট বেড়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৩৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০০৪ সালে কমিশন গঠনের পর থেকে জমে থাকা মামলার সঙ্গে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার নতুন মামলা যুক্ত হলেও নিষ্পত্তির হার কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে। দেশ রূপান্তর: ‘ওয়ান ইলেভেন’ সংশ্লিষ্ট ১১৩ জনের তালিকা প্রস্তুত ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন-এর সময় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ১১৩ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরতদের বিষয়ে তথ্য পেতে ইন্টারপোলের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। টাইমস অব বাংলাদেশ: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী নয় মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এখনো নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নির্ধারণে পুরনো গড় হিসাব ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পাচ্ছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাত্র দেড় বছর আগে সংঘটিত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন- যাকে অনেকেই ‘জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যা দেন তা ঘিরে জনমনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও এর পেছনের কারণগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক বৈষম্যই এই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বহু শিক্ষার্থী আহত, গ্রেপ্তার কিংবা আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০০৯ সালের পর থেকে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। তরুণ প্রজন্ম এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বড় হয়েছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য নিয়েও অসন্তোষ ছিল। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। অর্থনৈতিক দিক থেকেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জনঅসন্তোষকে আরও উসকে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। তবে এই আন্দোলনের মূল্যায়ন নিয়ে সমাজে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও তরুণ সমাজের সম্পর্ককে নতুনভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে রাজনৈতিক জবাবদিহি, জ্বালানি সংকট, মানবিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের চিত্র। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: ‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী সরকার, মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করছে এবং এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুগান্তর: ‘বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক: একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জবাবদিহির মুখে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের এক মাসের মাথায়ই বিএনপির একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে তাদের কাছে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্তত ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সরবরাহ ঘাটতি এবং তা মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়েও সড়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পররাষ্ট্র খাত নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মানবজমিন: ‘পুরনো পোশাকই ফিরছে পুলিশে’ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তন আনা পুলিশের পোশাক আবারও পরিবর্তনের পথে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত আয়রন গ্রে রঙের পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত অনেকেই নতুন পোশাকের রং ও মান নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর সদস্যদের মধ্যে জরিপ চালানো হয়। জরিপের ভিত্তিতে আবার আগের গাঢ় নীল রঙ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় হালকা সবুজ রঙের পোশাক ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমকাল: ‘ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যু’ উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১০ জন রয়েছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান এবং পাচারকারীরা মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেয়। নিহতদের মধ্যে দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। কালের কণ্ঠ: ‘রামেক হাসপাতালে আইসিইউ অব্যবস্থাপনা: ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু’ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ সংকটের কারণে ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই শিশুরা সবাই আইসিইউ শয্যার অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করলেও শয্যার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ শিশু সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম আলো: ‘ঋণখেলাপি ছিলেন, এখন সংসদে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার কথা না থাকলেও, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়ে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অনেকেই ঋণ সমস্যার সমাধান করে ফেলেন, যা আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নির্দেশ করে। নিউ এইজ: ‘পেট্রল পাম্পে ট্যাগ অফিসার, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন’ জ্বালানি তেল মজুত ঠেকাতে সরকার পেট্রল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ এবং ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশজুড়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ভুল চালানে ১০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি ৬৮ বিলিয়ন ডলার’ ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভুল চালান বা মিসইনভয়েসিংয়ের কারণে বাংলাদেশ প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ডলার এভাবে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে, যা মোট বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
উন্নত জীবনের সন্ধানে লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে আবারও মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হলেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অদূরে একটি রাবার বোট থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, মাঝসমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। উদ্ধারকৃতদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি জানায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টানা ছয় দিন উত্তাল সমুদ্রে খাদ্য ও পানীয়হীন অবস্থায় ভাসতে থাকায় চরম মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনাহারে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২২ জন যাত্রী। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জীবিতরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’ শুক্রবার গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে জরাজীর্ণ ওই নৌকাটি শনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা থামছেই না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা যদি একতাবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করা অসম্ভব নয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তৃতার শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সব জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে থাকা যেমন চলবে না, আবার অতীতের মধ্যে আটকে থাকলেও তা আমাদের ভবিষ্যতের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত এই গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হবে, তবে তা কখনও ইতিহাসের অবমূল্যায়ন করবে না। তরুণ প্রজন্মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা হঠাৎ করেই দেননি; দীর্ঘকালীন মানসিক প্রস্তুতির পর তিনি দেশকে স্বাধীনতার দিকে নেতৃত্ব দেন।” তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধই এর প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠিত করা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন—জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং দেশকে স্বনির্ভর করতে কাজ করছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক—সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো এবং চেষ্টা করবো সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করবেন। এই সফর ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) অংশগ্রহণের আগে অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর দিল্লি সফরের প্রথম ঘটনা। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র শুক্রবার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে, সফরের প্রথম দিনে খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে। সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির থাকবেন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে এই বৈঠকগুলোর জন্য ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লাও অভিনন্দনবার্তা পৌঁছে দেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০ মার্চ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাৎই খলিলুর রহমানের সফরের পথ সুগম করেছে। এই সাক্ষাতের কয়েক দিনের মধ্যে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়।
পাবলিক পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে নকল করে কোনো পরীক্ষা চলবে না এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে নকল প্রথা শুরু ও বন্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল। তাই নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতেও শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। একজন শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তা শিক্ষকের জন্য বড় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে। নকল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। শুধু পরীক্ষার সময় নয়, সার্বক্ষণিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নজরদারির মধ্যে আনার ওপরও জোর দেন। শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেরাই নকল সরবরাহে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম আর চলবে না এবং আগামীর পরীক্ষাগুলো হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews