দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের সব ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে রোববার পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত মুক্তিযোদ্ধার নাম অহিদুজ্জামান নাইম (৭২)। তিনি উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জমির মাপজোখ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের সঙ্গে অহিদুজ্জামান নাইমের সালিশ চলছিল। একপর্যায়ে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে রড দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, তুহিনের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে আগেও জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে স্থানীয়রা আহত মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানিয়েছেন, আহতের অবস্থা গুরুতর ও সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহত মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সালিশ থেকে বের হওয়ার পর তুহিন ও তার সহযোগীরা আমাকে ঘিরে ফেলেছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। অভিযুক্ত তুহিন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সার্চ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, সার্চ কমিটি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোর্শেদ হাসান। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী তারা: ১. ভিসি প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন, ২. প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবেন, ৩. বাছাইকৃত তিন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন। রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “এই কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
রাজধানী ঢাকায় কয়েকদিন ধরেই তেলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ যানজট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এটি কোনো জ্বালানি সংকট নয়। সমস্যার মূল কারণ হলো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালকদের বিশেষ করে পাঠাও ও উবার অসংগঠিত আচরণ। সাধারণ মোটরসাইকেল আরোহীদের অভিযোগ, এই চালকদের বিশৃঙ্খল অবস্থানের কারণে পাম্পে সেবা নেওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে মগবাজার, তেজগাঁও ও ধানমন্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক পর্যন্ত বাইকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। লাইনে থাকা বাইকের বড় অংশই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের। এক ভুক্তভোগী বাইকার বলেন, “আমরা যারা ব্যক্তিগত কাজে বের হই, আমাদের জন্য ৫ মিনিটের তেল নেওয়া এখন ঘণ্টার ব্যাপার হয়ে গেছে। পাঠাও চালকরা দলবেঁধে এসে পাম্প দখল করে রাখে, সারি মানে না এবং উচ্চস্বরে কথা-বতর্কে লিপ্ত থাকে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা পাম্পে ঢুকতেই ভয় পায়।” অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশৃঙ্খলার তিনটি মূল কারণ রয়েছে: গ্রুপ মুভমেন্ট: পরিচিত চালকরা দল বেঁধে পাম্পে আসে, যা দ্রুত জট তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান: তেল নেওয়ার পরও পাম্পের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে কলের অপেক্ষা করা। শৃঙ্খলার অভাব: সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়ার চেষ্টা ও পাম্প কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা। ভুক্তভোগী সাধারণ বাইকার এবং ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো প্রস্তাব করেছেন: আলাদা লেন ব্যবস্থা: রাইড শেয়ারিং চালক ও সাধারণ বাইকারদের জন্য পৃথক লেন। অ্যাপ কর্তৃপক্ষের তদারকি: চালকদের ট্রাফিক আইন ও সামাজিক শিষ্টাচারের বিষয়ে সচেতন করা। পাম্প কর্তৃপক্ষের কঠোরতা: নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পাম্প প্রাঙ্গণে অবস্থান নিষিদ্ধ। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকায় বাইকের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে বড় অংশই ভাড়া ভিত্তিক। চালকদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ না থাকলে শুধু ফুয়েল পাম্প নয়, পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। পাম্প মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, “পাঠাও চালকদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারা সংঘবদ্ধ থাকায় কর্মীরাও কিছু বলতে সাহস পান না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।” সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পাম্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং জনভোগান্তি কমাবে।