চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি জাতীয় ফুটবল দল টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির ফুটবল অঙ্গনে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই ব্যর্থতার জেরে ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি সরাসরি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গাব্রিয়েল গ্রাভিনা-এর পদত্যাগ দাবি করেছেন। মঙ্গলবার রাতে প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ইতালি। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও মূল পর্বে উঠতে পারেনি দলটি। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ক্রীড়ামন্ত্রী আবোদি বলেন, ইতালিয়ান ফুটবলকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে শীর্ষ পর্যায় থেকেই পরিবর্তন আনতে হবে। তবে সমালোচনার মুখেও পদত্যাগে অনড় অবস্থানে রয়েছেন গাব্রিয়েল গ্রাভিনা। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেশাদার লিগ, খেলোয়াড় ও রেফারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। এদিকে মাঠের ব্যর্থতার ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়ও। রোমে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন-এর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গ্রাভিনার এক বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র ফুটবলের প্রতি যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং অন্যান্য খেলাকে ‘রাষ্ট্রীয় খেলা’ বলে খোঁচা দেন। এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রীড়ামন্ত্রী আবোদি। তিনি বলেন, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্য খেলাকে ছোট করা ঠিক নয়। ইতালির বিভিন্ন ক্রীড়াবিদও সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, টানা তিন বিশ্বকাপে ব্যর্থতা ইতালিয়ান ফুটবলের গভীর সংকটেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। উদ্ভূত রাজনৈতিক জটিলতা এবং নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন—ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রধান বলেন, “ইরান বিশ্বকাপে থাকছে। আমাদের কাছে অন্য কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই।” গ্রুপ পর্বে ইরানের অধিকাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও দুই দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তেহরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা ও জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে দেশটিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পরপরই ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোতে জাতীয় দলের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা বিশ্বকাপের আসরে ইরানের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। ফিফার এই অনড় অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয়, তেহরান তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নতুন ভিসা নীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। দ্য অ্যাথলেটিক-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি ‘পাইলট ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এর ফলে আলজেরিয়া এবং সেনেগালসহ পাঁচটি দেশের নাগরিক ও ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত জামানত বা ‘বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। বর্তমানে যে পাঁচটি দেশ এই কড়া নিয়মের মুখে পড়েছে তারা হলো:১. আলজেরিয়া ২. সেনেগাল ৩. আইভরি কোস্ট ৪. কেপ ভার্দে ৫. তিউনিসিয়া (আগামী ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর) যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মূলত যারা ট্যুরিস্ট বা বিজনেস (B-1/B-2) ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করেন, তারা যেন ভিসার মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতেই এই মোটা অঙ্কের জামানত চাওয়া হচ্ছে। তবে এই নীতিতে খেলোয়াড় বা অ্যাথলেটদের জন্য কোনো আলাদা ছাড় রাখা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিয়ম শুধুমাত্র সাধারণ দর্শকদের জন্য নয়, বরং অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। এর ফলে একটি দলের পুরো বহরের জন্য কয়েক লক্ষ ডলারের জামানত প্রয়োজন হবে। যদিও এই টাকা দেশ ত্যাগের পর ফেরত পাওয়া যাবে, তবুও বিশাল এই অঙ্কের যোগান দেওয়া অনেক ফুটবল ফেডারেশন ও সাধারণ ভক্তদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি চার সদস্যের পরিবার যদি প্রিয় দলকে সমর্থন করতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়, তবে তাদের শুধুমাত্র বন্ড বাবদই প্রায় ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা রাখতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তারা পর্দার আড়ালে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে অন্তত খেলোয়াড়, কোচ এবং অফিশিয়াল ডেলিগেশনের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়। তবে সমর্থকদের জন্য এই ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই তালিকার সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর ভিসা নীতি বিশ্বকাপের আমেজকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোর বড় সংখ্যক দর্শক এবার মাঠে উপস্থিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে যেখানে ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে এমন আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক, এবিসি নিউজ, রয়টার্স।
সান্তোসের হয়ে রোববার (১৫ মার্চ) করিন্থিয়াসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে মাঠে নামলেও নেইমার জুনিয়র তার চেনা রূপে খেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা তার পরিচিত ছন্দে চোখে পড়েননি। চলতি মাসে ব্রাজিল জাতীয় দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ সেই দলের ঘোষণার কথা ঘোষণা করবেন। তবে নিজে পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে ও বিশ্বকাপে খেলতে তাঁর প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। নেইমার বলেছেন, “আমি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে চাই এবং বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি এখন আর আমার হাতে নেই। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।” কার্লো আনচেলত্তি আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস ছাড়া কাউকেই বিশ্বকাপের জন্য দলভুক্ত করা হবে না। ইনজুরির কারণে নেইমার গত ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং সেই সময় গ্যালারিতে বসেই কোচের কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। করিন্থিয়াসের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেইমার ছিলেন নিষ্প্রভ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চোটের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি নেইমারের। ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে আসলেও মাঝেমধ্যে ছোটখাটো চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার হওয়ায় তার খেলার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে নেইমারের বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পরদিন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীর ট্রফি নিয়ে স্থানীয় একটি হনুমান মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যান। আর এই ঘটনাকেই ‘ভারতীয় দলের জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ও বর্তমান তৃণমূল সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ। বিতর্কের সূত্রপাত ও কীর্তি আজাদের কড়া সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কীর্তি আজাদ লিখেছেন, "শেম অন টিম ইন্ডিয়া। ১৯৮৩ সালে আমরা যখন কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, সেই দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের খেলোয়াড় ছিল। আমরা ট্রফি মাতৃভূমি ভারতে এনেছিলাম, কোনো মন্দিরে নয়।" তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকেও আক্রমণ করে বলেন, "দলটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে, জয় শাহের পরিবারের নয়। সিরাজ কেন মসজিদে বা সঞ্জু কেন চার্চে ট্রফি নিয়ে যাননি? এই ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়র, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়।" এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পডকাস্টে মুখ খুলেছেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, "এই ধরনের মন্তব্য আমাদের ছেলেদের সাফল্যের আনন্দকে ছোট করে দেয়। আমরা ট্রফি জিতেছি, উৎসব করছি—এটাই বড় কথা। এসব বিতর্ক দলের জন্য হিতকর নয়।" অন্যদিকে, ক্রিকেটার ঈশান কিষান সাংবাদিকদের জানান, মাঠের জয় নিয়ে প্রশ্ন করাই শ্রেয়, কে কী ব্যক্তিগত মন্তব্য করলেন তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই। কীর্তি আজাদের সুরেই কথা বলেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য তারিক আনোয়ার। তিনি মনে করেন, ট্রফি নিয়ে ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কোনো পরম্পরা নেই এবং এটি ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। তবে পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, "ভারতের পরিচয় সনাতনী সংস্কৃতির সঙ্গেই যুক্ত।" শিবসেনা নেতা কৃষ্ণা হেগড়ে এবং আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য হরভজন সিংও কীর্তি আজাদের সমালোচনা করেছেন। হরভজনের মতে, "খেলা আর রাজনীতিকে আলাদা রাখা উচিত। কে কোথায় আশীর্বাদ নিতে যাবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত আস্থার বিষয়।" প্রেক্ষাপট ও কীর্তি আজাদের পরিচয় কীর্তি আজাদ ভারতের হয়ে ৭টি টেস্ট ও ২৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ১৯৯১-৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই দিল্লি রঞ্জি ট্রফি জেতে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য থাকাকালীন এমএস ধোনি ও গৌতম গম্ভীরের মতো তারকারা সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার দায়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতিটি সদস্যকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করেছে। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানে হারার পরপরই টিম ম্যানেজমেন্ট এই কঠোর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে জানা গেছে। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সেমিফাইনাল তো দূরের কথা, সুপার এইট পর্বেও দলটি লড়াই করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্রুপ পর্বে যে তিনটি ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে, তার প্রতিটিই ছিল আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকে পাকিস্তান আর কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারায় পিসিবি এবার ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে তাদের মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, ভালো খেললে যেমন বোনাস দেওয়া হবে, তেমনি ব্যর্থতার জন্য গুনতে হবে জরিমানা। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল থাকা তিন ক্রিকেটার—সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান ও উসমান তারিক এই জরিমানার আওতামুক্ত থাকতে পারেন। সাহিবজাদা ফারহান আসরের সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান সংগ্রহ করে বিরাট কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়া ফখর জামান মাত্র ২ ম্যাচে ১০৯ রান এবং উসমান তারিক ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিপরীতে, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে। পিসিবির এই নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে খেলার কথা থাকলেও শুরুতে সেই ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে তারা ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, “বর্তমান পরিস্থিতি, ইতিবাচক অগ্রগতি এবং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে” ভারতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুমতি দেয়া হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। গত কয়েক দিন ধরে এই ম্যাচটি ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায়। সেই দিন সন্ধ্যায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা নিয়ে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর কিছুক্ষণ আগেই আইসিসি বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। ভারতে সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। তবে আইসিসি পরে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক শাস্তি আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ২০২৮–২০৩১ চক্রে বাংলাদেশকে একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পর বিসিবি এক বিবৃতিতে পিসিবিকে সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় এবং ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। মূলত বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং সংহতি জানাতেই পিসিবি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল, যা আইসিসি নাকচ করে দেয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আইসিসি এক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। এদিকে, পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা দেশটির জন্য এই ম্যাচটি ছিল আয়ের বড় উৎস। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইও অ্যাশলে ডি সিলভা জানিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং হোটেল বুকিংও সম্পন্ন। ম্যাচটি বাতিল হলে দেশটির পর্যটন খাত বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে। ২০০৯ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বন্ধুত্বের খাতিরে পাকিস্তানকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে লঙ্কান বোর্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা। তবে এবারের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে যদি এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়, তবে মাঠে নামার আগে পাকিস্তান সরকার থেকে সবুজ সংকেত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পাক অধিনায়ক সালমান আগা। বৃহস্পতিবার কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। আগার মতে, ভারতের বিপক্ষে খেলা বা না খেলা সম্পূর্ণরুপে তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলতে হয়, তবে আমরা পুনরায় সরকারের পরামর্শ নেব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।” সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান দল সম্মানের সঙ্গে মেনে নেবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এই অধিনায়ক। তিনি আশা করেন, আসন্ন ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের সমর্থকরা পাকিস্তানকে সমর্থন জোগাবেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। বিশ্ব ক্রিকেটের হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেট নিয়ে কোনো রাজনীতি সহ্য করা হবে না। সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এই কঠিন অবস্থানের কথা জানান। আইসিসি অবশ্য এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই বয়কটের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম এবং আর্থিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। লক্ষ লক্ষ ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আয়োজকরা, যার আঁচ লাগবে খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপরও। বর্তমানে এই সংকট কাটাতে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসেছে আইসিসি।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অনায়াসেই হারাল বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের বড় জয়ে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার সিক্স নিশ্চিত করল যুব টাইগাররা। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের হারারেতে তাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। ইকবাল হোসেন ইমন ও আল ফাহাদদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ৫১ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। ওপেনিং জুটিতে ৮৬ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। জাওয়াদ ৪৭ এবং রিফাত ৩০ রান করে বিদায় নিলেও দলকে পথ হারাতে দেননি অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। তৃতীয় উইকেটে কালাম সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে ১২৩ বলে ৮৮ রানের জুটি গড়েন আজিজুল। ৮২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৬৪ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে কালাম ৩০ এবং রিজান হোসেন ২০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এর আগে বোলিংয়ে নেমে শুরু থেকেই মার্কিন ব্যাটারদের চেপে ধরেন বাংলাদেশি পেসাররা। দলীয় ১ রানেই ওপেনার আমরিন্দার গিলকে ফিরিয়ে দেন ইকবাল হোসেন ইমন। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সাহিল গ্রাগ ৩৫, অধিনায়ক উতক্রাশ সিবস্তভ ৩৯ রান করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। তবে অদনিত ঝাম্ব একপ্রান্ত আগলে রেখে ৬৯ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে দুইশ-র কাছে নিয়ে যান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ইকবাল হোসেন ইমন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া আল ফাহাদ, শাহরিয়ার আহমেদ এবং রিজান হোসেন প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।
আমেরিকা বাংলা । স্পোর্টস ডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই, অথচ মাঠের খেলার বদলে এখন মাঠের বাইরের কূটনৈতিক লড়াই তুঙ্গে। ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ করেছে, তার প্রতি এবার সরাসরি সংহতি জানালো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কেবল সমর্থনই নয়, বাংলাদেশের দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পিসিবি মনে করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিটি উদ্বেগ অত্যন্ত যৌক্তিক এবং বৈধ। বোর্ড কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সংকটের যদি আইসিসি কোনো সম্মানজনক সমাধান না দিতে পারে, তবে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করবে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টকে একটি বিকল্প পরিকল্পনা বা 'প্ল্যান বি' তৈরি রাখতে বলা হয়েছে, যাতে বিশ্বকাপে অংশ না নিলে অন্য কোনো সিরিজের মাধ্যমে ব্যস্ততা বজায় রাখা যায়। পিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আয়োজক দেশ হওয়ার দোহাই দিয়ে কোনো দেশের ওপর অন্যায্য চাপ বা হুমকি প্রয়োগ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্ব আসর এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।