- প্রচ্ছদ
- Topic
অপরাধ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের স্টেটেন আইল্যান্ডে পার্সেল ডেলিভারি দিতে যাওয়া এক নারীকে বন্দুকের মুখে ধর্ষণের অভিযোগে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডঙ্গান হিলস এলাকায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া এই নির্মম যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গত সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী এবং অভিযুক্ত কিশোর একে অপরের সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পুলিশ সন্দেহভাজনের একটি স্কেচ প্রকাশ করে তাকে খুঁজছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে ডঙ্গান হিলস অ্যাভিনিউ এবং জেফারসন স্ট্রিট এলাকায় ওই নারী একটি পার্সেল ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মাস্ক এবং হুডি পরা ওই কিশোর তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত কিশোরের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং ওজন দুইশ পাউন্ডের কাছাকাছি হওয়ায় সে শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। আচমকা সে ওই নারীর মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করে এবং এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। জঘন্য এই অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই ওই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে ওই নারী ঘটনার সময় নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারি কোম্পানির হয়ে কাজ করছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত কিশোরের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হামলা, যৌন নিপীড়ন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, জোরপূর্বক স্পর্শ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোররাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরের ছু রি দিয়ে তাদের ওপর হা ম লা চালায়। গুরুতর আ হ ত হয়ে পরে ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃ ত্যু হয়। হা ম লায় তার স্ত্রীও গুরুতর আ হ ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছু রিকা ঘা তের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছু রিকা ঘা তের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃ ত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃ ত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হা ম লাকারী তাদের ওপর ছু রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হা ম লার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন। পুলিশ পরে হা ম লার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আ ট ক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ ত্যা, গুরুতর হা ম লা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লার সময় তার স্বামী হা ম লাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও স ন্দে হভাজন ব্যক্তির মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না। হা ম লার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি। আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিং স। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হা ম লার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
ভারতের গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টে অফিসে যাওয়ার পথে এক নারীর কাছ থেকে নতুন আইফোন ১৮ প্রো ছিনিয়ে নিয়েছে দুই মোটরসাইকেল আরোহী। ২২ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার আগে ছিনতাইকারীরা ওই নারীকে জিজ্ঞেস করে, এটি নতুন আইফোন কি না। তিনি হ্যাঁ বলার পরই তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। ঘটনাটি ঘটেছে বিসরখ থানার আওতাধীন এক মূর্তি গোলচত্বর এলাকায়। ভুক্তভোগী শুভি ভান্ডারি গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টের সেঞ্চুরিয়ান পার্ক সোসাইটির বাসিন্দা। সকালে ই-রিকশায় করে অফিসে যাওয়ার সময় ভাড়া পরিশোধের জন্য তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি বের করেন। এ সময় পেছন থেকে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে তার কাছে আসে। প্রথমে তারা শুভির কাছে একটি ঠিকানা জানতে চায়। এরপর তাদের নজর যায় তার হাতে থাকা নতুন ফোনটির দিকে। শুভির বর্ণনা অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা জানতে চায়, তার হাতে থাকা ফোনটি নতুন আইফোন কি না। তিনি হ্যাঁ বলার পর মুহূর্তের মধ্যেই তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুই ব্যক্তিই হেলমেট পরা থাকায় তাদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করছে। ঘটনার আরেকটি দিক হলো, আইফোন ১৮ প্রোটি শুভি মাত্র তিন দিন আগে কিনেছিলেন। তার স্বামী সাকেত গুপ্ত এ তথ্য জানিয়েছেন। ফোন কেনার পর স্বামীর সঙ্গে সেটির আনবক্সিংও করেছিলেন শুভি। নতুন ফোন কেনার আনন্দের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সেটি ছিনতাই হওয়ায় পরিবারটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। বিসরখ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবার গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টের ব্যস্ত সড়কগুলোতে সকালের সময় পুলিশের উপস্থিতি ও টহল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ওই সময়ে সড়কে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতি কম থাকায় এ ধরনের ছিনতাই নিয়ে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ ও উদ্বেগ। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর ভিত্তিতে এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পুলিশ এখন সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্তের চেষ্টা করছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ছিনতাই হওয়া আইফোন ১৮ প্রো উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
যুক্তরাজ্যে সন্তান অপরাধে জড়ালে তার মা-বাবার ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত যুব অপরাধবিচার সংস্কারের আওতায় কোনো অভিভাবক সন্তানের আচরণ নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্বাসনে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে ভাতা কমানো বা বন্ধ করা, জরিমানা এমনকি চরম ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে কারাদণ্ড স্বয়ংক্রিয় হবে না; বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাজ্যের যুব বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেক রিচার্ডস বলেছেন, সন্তানকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এর ভিত্তি হলো সরকারের ‘ইয়ুথ জাস্টিস হোয়াইট পেপার’, যা মে ২০২৬-এ প্রকাশ করা হয়। এতে শিশু অপরাধীদের জন্য আগে থেকেই সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’-এর মাধ্যমে আদালত কোনো অভিভাবককে সন্তানের আচরণ নিয়ে কাউন্সেলিং বা নির্দেশনামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। সেই আদেশ অমান্য করা ফৌজদারি অপরাধ এবং বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার এই ব্যবস্থায় আরও কার্যকর শাস্তির সুযোগ তৈরি করতে চায়। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাদের সন্তানকে পুনর্বাসনে যুক্ত করার ওপরও জোর দেওয়া হবে। নতুন ব্যবস্থায় ‘ইয়ুথ ইন্টারভেনশন কোর্ট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অপরাধের পেছনের কারণগুলো মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু বিশেষজ্ঞ এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, অভিভাবকদের জরিমানা বা ভাতা কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আরও আর্থিক চাপে পড়তে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’-এর ব্যবহার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—২০০৯-১০ সালে যেখানে এক হাজারের বেশি আদেশ দেওয়া হয়েছিল, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে মাত্র ৩৩টিতে দাঁড়ায়। সরকার এখন এই ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে যুব অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চায়। এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে অপরাধের জন্য দায়ী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১০ বছর। শিশুদের অপরাধের বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৪ করার দাবি থাকলেও যুব বিচারমন্ত্রী রিচার্ডস জানিয়েছেন, সরকার আপাতত এ পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত যুব বিচার সংস্কার, নতুন কোনো কার্যকর আইন নয়। সরকার অভিভাবকদের দায়িত্ব বাড়াতে চাইছে, আর সেই ব্যবস্থায় আদালতের নির্দেশ অমান্যের ক্ষেত্রে আর্থিক ও অন্যান্য শাস্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বয়স্ক বাসিন্দাকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে সোনার প্রতা রণা চালানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রে প্তার করেছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তদন্তকারীরা আগস্টে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। এক বয়স্ক বাসিন্দা সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে পুলিশকে জানান। ফোন করা ব্যক্তিরা নিজেদের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই বাসিন্দাকে তাঁর অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে বলা হয়। তদন্তকারীরা ওই বাসিন্দার সঙ্গে সমন্বয় করে ২৫ আগস্ট একটি পরিকল্পিত সোনা লেনদেনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় ক্যালিফোর্নিয়ার লাথ্রপের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিংকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ তাঁকে অনুসরণ করে পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালমার্টের ভেতরে থাকা ফেডএক্সের একটি শাখায় পৌঁছায়। সেখানে সোনা রাখা প্যাকেটগুলো পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় সুখবিন্দর সিংকে গ্রে প্তার করা হয়। গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে সুখবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চু রি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের একটি আটকাদেশও রয়েছে। সুখবিন্দর সিং গ্রে প্তার হওয়ার পরও কথিত প্রতা রণা চক্রের সদস্যরা ওই বয়স্ক বাসিন্দাকে ফোন করা অব্যাহত রাখে। পুলিশ জানায়, তারা কলার আইডি স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলো এমনভাবে দেখাত, যেন সেগুলো সরাসরি ফ্রেন্ডসউড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতা রকরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি ওই বাসিন্দার মামলার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দার পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়। এভাবে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে তাঁর কাছ থেকে আরও অর্থ ও সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আরও দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তাদের বিরুদ্ধে চক্রটির নেতৃত্ব দেওয়া, অর্থের জোগান দেওয়া এবং প্রতা রণা থেকে পাওয়া অর্থ পাচারে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা গ্যালভেস্টন কাউন্টি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডের বাসিন্দা ডামান প্রীত সিং এবং লস এঞ্জেলেসের বাসিন্দা মানদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রে প্তারি পরোয়ানা নেন। ডামান প্রীত সিংয়ের জা মিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ডলার এবং মানদীপ সিংয়ের জা মিন ৫০ লাখ ডলার। ৯ সেপ্টেম্বর ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্তকারীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফের অফিসের মেজর ক্রাইমস ইউনিটের সহায়তায় ডামান প্রীত সিংকে তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গ্রে প্তার করেন। একই সময়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই প্রতা রণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। পরদিন লস এঞ্জেলেসে মানদীপ সিংয়ের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ফুটহিল ডিভিশনের সহায়তায় তাঁকে তাঁর বাসা থেকে গ্রে প্তার করা হয়। দুইজনই বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। ফ্রেন্ডসউড পুলিশ জানিয়েছে, এটি তাদের তদন্ত করা সাম্প্রতিক বড় সোনা প্রতা রণার ঘটনাগুলোর একটি। এর আগে মার্চে একই ধরনের সংঘবদ্ধ সোনা প্রতা রণার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রে প্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় টেক্সাসজুড়ে বয়স্ক ভুক্তভোগীদের প্রায় ২৮ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই তদন্ত শুরু হয়েছিল ফ্রেন্ডসউডের ৮১ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে কেন্দ্র করে। তাঁকে প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার ডলার অর্থ ১৭৭টি এক আউন্সের কানাডিয়ান গোল্ড ম্যাপল লিফ কয়েনে রূপান্তর করতে রাজি করানো হয়েছিল। পরে ফ্রেন্ডসউডের গোয়েন্দারা সব ১৭৭টি কয়েন উদ্ধার করেন। একই তদন্তে হাম্বল, সাইপ্রেস, ক্লেবার্ন ও নিউ ব্রাউনফেলসের আরও কয়েকজন বয়স্ক বাসিন্দা একই ধরনের প্রতা রণার শিকার হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ প্রতা রণা চক্রগুলো একই ধরনের কৌশলে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করে আসছে। কখনো তারা ফেডারেল এজেন্ট, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংকের তদন্তকারী কিংবা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে জানায়, তাঁর ব্যাংক হিসাব বা অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থ নিরাপদ রাখা কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর কথা বলে তাঁকে সঞ্চিত অর্থ সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদে রূপান্তর করতে বলা হয়। পরে সেই সম্পদ সংগ্রহের জন্য একজন কুরিয়ার পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফ্রেন্ডসউড পুলিশের প্রধান জশ রজার্স বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং তারা যেখানেই থাকুক, তাদের শনাক্ত ও গ্রে প্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি ওই ভুক্তভোগীর দ্রুত পুলিশের কাছে বিষয়টি জানানোর প্রশংসা করেন। রজার্স বলেন, ভুক্তভোগী দ্রুত প্রতা রণার বিষয়টি পুলিশকে জানানোয় এবার সফলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনার পরিণতি এতটা ভালো হয় না বলেও সতর্ক করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের উচিত বয়স্ক স্বজনদের এ ধরনের প্রতা রণা সম্পর্কে সচেতন করা। কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তা অর্থ নিরাপদ রাখার কিংবা গ্রে প্তার এড়ানোর জন্য কাউকে সোনা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, গিফট কার্ড বা অন্য কোনো সম্পদ কিনতে বলবেন না। কেউ এমন প্রতা রণার শিকার হচ্ছেন বলে সন্দেহ হলে প্রতা রকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দ্রুত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রেন্ডসউড পুলিশ।
জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন। ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়। তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় কিশোর বয়সে যমজ বোনের সঙ্গে মিলে মাকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তাসমিয়াহ হোয়াইটহেড কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ৩০ বছরের সাজা হলেও প্রায় ১২ বছর পর গত ৫ আগস্ট প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাসমিয়াহ ও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ হোয়াইটহেড ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁদের মা জারমেকা ‘নিকি’ হোয়াইটহেডকে হত্যা করেন। রকডেল কাউন্টির বাড়িতে ওই ঘটনার সময় মাকে ৫০ থেকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনার পর দুই বোনকে ‘টুইস্টেড টুইনস’ নামে ডাকা শুরু হয়। তাসমিয়াহর বয়স এখন ৩৩ বছর। তিনি ‘টাস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতার ভিত্তিতে সাজা পান। সমঝোতার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলা স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়। তাঁকে ওই অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর সঙ্গে অপরাধের সময় ছুরি রাখার জন্য আরও পাঁচ বছর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর সাজা দাঁড়ায় ৩০ বছর। তাসমিয়াহ কারাগারে যাওয়ার আগে বিচারপূর্ব আটকসহ মোট ১৬ বছর সাজা ভোগ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য ছিলেন। তবে প্যারোল বোর্ড তাঁর মুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগে আরও প্রায় নয় বছর কারাগারে থাকতে হয়। ২০১০ সালের ওই ঘটনার সময় যমজ দুই বোনের বয়স ছিল কিশোরী। তাঁদের মা কিছুদিন আগে তাঁদের আবার নিজের সঙ্গে থাকতে দিয়েছিলেন। এর আগে দুই বোনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা অন্য জায়গায় ছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। ঘটনার দিন স্কুলে যেতে দেরি হওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে দুই বোনের ঝগড়া হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। দুই বোনের দাবি ছিল, তাঁদের মা রান্নার পাত্র দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা মাকে ধরে ফেলেন এবং মারামারি শুরু হয়। তাসমিয়াহ তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, প্রথমে তিনি একটি পাত্র দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে মাকে আঘাত করেন। জাসমিয়াহর ভাষ্য অনুযায়ী, মারামারির সময় তাঁদের মা তাঁর বুকে কামড় দিয়েছিলেন। এরপর তাসমিয়াহ ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মাকে গুরুতর আহত করার পর দুই বোন তাঁর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পানিভর্তি বাথটাবে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ধারণা করেছিল, বাথটাবে নেওয়ার সময়ও তাঁদের মা জীবিত ছিলেন। এরপর দুই বোন স্কুলে চলে যান। স্কুল থেকে ফিরে তাঁরা পুলিশকে ফোন করেন এবং প্রথমে নিজেদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। পুলিশও শুরুতে তাঁদের হত্যার শিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তদন্তকারীরা পরে তাঁদের শরীরে থাকা কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন নিয়ে সন্দেহ করেন। দুই বোন এসব চিহ্ন লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা গাড়িতে একটি গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। সেখানে দুই বোনকে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ এবং খুনের অস্ত্র না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর দুই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০১৪ সালে দুজনই সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ স্বীকার করে সাজা নেন। তাসমিয়াহ মুক্তি পেলেও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ এখনো কারাগারে রয়েছেন। একই ধরনের সমঝোতায় সাজা পাওয়া জাসমিয়াহ ২০২৮ সালের মে মাসের আগে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন না। তাসমিয়াহর মুক্তিতে তাঁদের দাদি লিন্ডা হোয়াইটহেড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, একজনকে ৩০ বছরের সাজা দিয়ে এত দ্রুত প্যারোলের সুযোগ দেওয়া হলে নিহত নিকি হোয়াইটহেডের ন্যায়বিচার কোথায়?
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বেলটাউন এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের পর এলিয়ট অ্যাভিনিউ ও বেল স্ট্রিট এলাকায় গুলির খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির কিছুক্ষণ আগে সেখানে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কী নিয়ে ওই সংঘর্ষ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা বা হামলার উদ্দেশ্যও জানায়নি। এর আগে রোববার ভোরে বেলটাউনের ডেনি ওয়ে ও ক্লে স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন পরে মারা যান। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুরুষ ও এক নারী পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে ওই ঘটনায় মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। একই এলাকায় এর আগে স্ট্রিট রেসিং হলেও পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থার্ড অ্যাভিনিউ ও ব্ল্যানচার্ড স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি গাড়িটিতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ভোরের দুটি গুলির ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতের শেষের কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনটি ঘটনায় মোট তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এগুলোকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তথ্য থাকলে পুলিশকে ২০৬-২৩৩-৫০০০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়ায় এক গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টার অভিযোগে সাগর শেখ (২৮) নামে এক অ্যাম্বুলেন্সচালককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানিয়েছে আরটিভি। সাগর শেখ লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা তেলপাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে। ঘটনার পর তাকে হেফাজতে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছেঁড়া গ্রামে সাদিয়া আক্তার লামিয়া নামে ওই গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। রাতে মরদেহ থানায় নেওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা চালক সাগর শেখ মরদেহটির সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেন। এ সময় নিহত নারীর মা সেখানে গিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। নিহতের মায়ের অভিযোগ, চালক মরদেহটির শরীরের কাপড় খুলে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি যেন বাইরে থেকে দেখা না যায়, সে জন্য অ্যাম্বুলেন্সের জানালা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাগর শেখকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: আরটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মর্মান্তিক এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চার শিশু ও তাদের মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার পর বাবা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (কেবিআই) এবং উইনফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র নিজেই পুলিশে ফোন করেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছেন এবং এরপর নিজের জীবনও শেষ করতে যাচ্ছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে সরে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং বিশেষায়িত সোয়াট (SWAT) দলের সহায়তা চান। সকাল প্রায় ১১টার দিকে সোয়াট সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ এবং তার চার সন্তান। তাদের পরিচয় হলো ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি-উইলিয়ামস। এছাড়া রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। উইনফিল্ড পুলিশের প্রধান রবি ডিলং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসের অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে মানুষকে ধমক দেওয়া বা চিৎকার করার মতো ঘটনার তথ্যও তাদের কাছে ছিল। তিনি আরও জানান, এর আগে ওই এলাকার আশপাশে গুলির শব্দ শোনার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গুলির উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডিলং বলেন, আগের অভিযোগগুলো এমন পর্যায়ের ছিল না, যাতে এত বড় একটি ট্র্যাজেডির আশঙ্কা করা যায়। তার ভাষায়, "২০ বছরের বেশি সময়ের চাকরি জীবনে এর কাছাকাছিও কোনো ঘটনার মুখোমুখি হইনি।" কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রতিবেশী, স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র পূর্বে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কানসাসের আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে শিশু নির্যাতনের চেষ্টাসহ একাধিক অপরাধে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ কারণে তার নাম রাজ্যের যৌন অপরাধীর নিবন্ধন তালিকাতেও ছিল। এই ঘটনা ঘটল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মিশিগানে আরেকটি ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর। সে ঘটনায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার পর আগুন লাগিয়ে দেন বলে তদন্তে উঠে আসে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, কানসাসের এই ঘটনাসহ চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। অপরাধবিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাকে 'ফ্যামিলি অ্যানাইহিলেশন' বা পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
বুকের দুধ খাওয়ানোর কয়েকদিন আগে মেথামফেটামিন (মেথ) সেবনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক তরুণী মা। পরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মা ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে এবং পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেসি লি কিটেলসন (২৩) গত ১৪ মার্চ উইসকনসিনের ট্রিমবেল এলাকার নিজ বাড়িতে জরুরি সেবার জন্য ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দেখতে পান, তিন সপ্তাহ বয়সী শিশুটির নাড়ির স্পন্দন নেই, সে শ্বাস নিচ্ছে না এবং তার শরীর নীলচে হয়ে গেছে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিটেলসন পুলিশকে জানান, তিনি গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে মেথ সেবন করেছিলেন। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন আগেও তিনি এই মাদক গ্রহণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিটেলসন তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনের পর কয়েকদিন দুধ বের করে ফেলে দিয়েছিলেন (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প), এরপর আবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, কিটেলসন গুগলে খোঁজ করেছিলেন, মেথামফেটামিন কতদিন পর্যন্ত বুকের দুধে থাকতে পারে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার সন্তান কীভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। এদিকে, কিটেলসনের সঙ্গী টেইলর জে ওলসন (২৬) পুলিশকে জানান, তিনিই দুজনের জন্য মেথামফেটামিন সংগ্রহ করেছিলেন। পিয়ার্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষ কিটেলসন ও ওলসনের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিতে তাদের কোনো আইনজীবীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস সোমবার আদালতে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এর আগে গত ২০ মার্চ তিনি একটি মৃতদেহের আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। তদন্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামে এক বৃদ্ধার খোঁজ নিতে একটি বাড়িতে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে ২০২২ সালের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার খোঁজখবর নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপসের সঙ্গে কথা বলে। মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার মা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে আছেন। তবে কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ফ্রিজারের ভেতরে সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের ওপর ফুল রাখা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভিয়া ফিলিপসের বয়স আশির কোঠায় ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তিনি ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ সময় গোপন রাখা এবং যথাযথভাবে দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির জনপ্রিয় সুপারশপ 'আল্টা বিউটি'-র ১৩টি শাখায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই অভিনব কায়দায় চুরির মাধ্যমে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের প্রসাধনী লোপাটের অভিযোগে দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'এজেডফ্যামিলি' এবং 'গ্রে নিউজ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই নারীর নাম ইভোন বুইত্রাগো-কাবরেরা এবং ইয়োরাইমা বুইত্রাগো-কাবরেরা। তারা মূলত কলম্বিয়ার নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, চলিত জুলাই মাসের শুরুর দিকে মাত্র তিন দিনে এই দুই বোন অ্যারিজোনার বিভিন্ন আল্টা বিউটি স্টোরে সাধারণ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন। এরপর বড় ব্যাগে প্রসাধনী পুরে কাউন্টারে কোনো মূল্য পরিশোধ না করেই সটকে পড়েন। ফিনিক্স পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে অ্যারিজোনা এবং ক্যালিফোর্নিয়া দুই অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে এই দুই বোনের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য চুরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। চুরির ঘটনার প্রাথমিক মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ আরও চার জায়গায় চুরির তথ্য উদ্ধার করে। কেবল কসমেটিকস শপ নয়, ল্যাকোস্টে, অ্যাডিডাস, পুমা এবং ক্রোকসের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শোরুমেও এই দুই নারী চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে দুই বোনকে অ্যারিজোনায় সংঘটিত চুরির ঘটনায় ৯টি সুসংগঠিত রিটেইল অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের জামিনের জন্য ৭৫ হাজার ডলারের নগদ বন্ড ধার্য করেছেন আদালত। অ্যারিজোনার আইন অনুযায়ী, এটি ক্লাস-৪ পর্যায়ের গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হিসেবে এক থেকে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কার্ল ডে লা গুয়েরা এই ধরনের অপরাধ প্রসঙ্গে বলেন, এই ধরনের শোরুমগুলোতে চুরির ঘটনা এত ঘনঘন ঘটে যে তা ঠেকানো খুচরা বিক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সেন্টারিং অন শ্যাডো ইকোনমিক্সের সিইও ও ফিনিক্স পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট ডেভিড লেক জানান, তামাক, অ্যালকোহল ও ওষুধের মতো প্রসাধনী সামগ্রী বাজারে দ্রুত ও চড়া দামে পুনর্বিক্রি করা যায় বলে অপরাধীরা এগুলোকে বেশি নিশানা বানায়। ডেভিড লেক আরও বলেন, সংগঠিত চুরির প্রভাব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। পণ্যের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পেরে অনেক সময় কর্মচারীরা চাকরি হারান এবং পুরো এলাকা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে অ্যারিজোনার মেরিকোপা কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিসে ৩৪৪টি সংগঠিত চুরির মামলা জমা পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন সহিংসতার সময় হত্যা করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালত তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পিপল ম্যাগাজিন, মেইগস কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস এবং কোর্ট টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওহাইওর রাটল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা স্যামুয়েল হকস্টেটলার ২০২৫ সালে ২৮ বছর বয়সী রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যুর ঘটনায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার বিচার ২৭ জুলাই জুরি বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি গুরুতর হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতনের সময় এমনভাবে তাকে চেপে ধরা হয়েছিল যে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। কোর্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন হকস্টেটলার ও কিনসিঙ্গার অন্য কয়েকজনের সঙ্গে একটি গ্রিনহাউস নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হকস্টেটলার আগে কয়েকবার কিনসিঙ্গারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে জানান, তদন্তে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার সময় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরদিন ১৩ মার্চ রোজানা কিনসিঙ্গারের মরদেহ তার ট্রেলারবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কর্মস্থলে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় পরিচিতজনেরা খোঁজ নিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। মামলার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল ঘটনার পর অভিযুক্তের আচরণ। প্রসিকিউটরদের দাবি, রোজানার মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম তার বাবাকে জানান। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। প্রসিকিউটর জেমস স্ট্যানলি আদালতে বলেন, রোজানার বাবা-মা ও ভাইবোন জানতেই পারেননি যে যাকে তারা ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং শোকের মুহূর্তে পাশে পেয়েছিলেন, তিনিই তাদের স্বজন হত্যার জন্য দায়ী। রায়ের পর আদালত স্যামুয়েল হকস্টেটলারকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে সহিংস অপরাধী এবং তৃতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে আদালতে অভিযুক্ত নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চান। তার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। এছাড়া মামলার শুরুতে আদালত তার দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকারের পথ তৈরি করে। আদালতে হকস্টেটলার বলেন, "আমি যা করেছি, তার জন্য আমি দুঃখিত। যদি অতীতে ফিরে গিয়ে অন্যভাবে জীবন গড়তে পারতাম। আমি কতটা অনুতপ্ত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পারিবারিক অস্থিরতার মতো নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকা শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট। সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ওয়ালেটহাব যুক্তরাষ্ট্রের ১৮২টি শহরকে কাজের চাপ, আর্থিক চাপ, পারিবারিক চাপ এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত চাপ—এই চারটি প্রধান সূচকে ৩৯টি ভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে এ তালিকা তৈরি করেছে। বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়েছে বেকারত্বের হার, দারিদ্র্য, আয়, চাকরির নিরাপত্তা, শিশু পরিচর্যার ব্যয়, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ডেট্রয়েটে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে সহিংস অপরাধের হারও বেশি হওয়ায় শহরটির বাসিন্দারা বহুমাত্রিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এসব কারণেই ডেট্রয়েটকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মানসিক চাপে থাকা শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এবং তৃতীয় স্থানে ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড। বাল্টিমোরে উচ্চ ভাড়া ও সহিংস অপরাধ বড় চাপের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ক্লিভল্যান্ডে তুলনামূলক কম আয়, উচ্চ দারিদ্র্য এবং বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের হার বেশি হওয়ায় শহরটি শীর্ষ তিনে রয়েছে। শীর্ষ ১০-এর তালিকায় আরও রয়েছে গালফপোর্ট (মিসিসিপি), মেমফিস (টেনেসি), শ্রিভপোর্ট (লুইজিয়ানা), ফিলাডেলফিয়া (পেনসিলভানিয়া), টলেডো (ওহাইও), বার্মিংহাম (আলাবামা) এবং জ্যাকসন (মিসিসিপি)। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, মানুষ কোথায় বসবাস করছে, সেটিও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। যেসব শহরে অপরাধের হার বেশি, অর্থনীতি দুর্বল, জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং যানজট তীব্র, সেখানে বসবাসকারীদের মানসিক চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তাই কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়ের পাশাপাশি জীবনমান ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
স্কটল্যান্ডে তিন মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। অভিযোগ, তার অসতর্ক আচরণে হেয়ার ড্রায়ার থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ঘটনাটিকে 'কালপেবল হোমিসাইড' বা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে রায় দিয়েছে। স্কটল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতি এবং বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই নারীর নাম কোর্টনি গার্টশোর। তার তিন মাস বয়সী মেয়ে ডালিয়া-রোজ ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের পিটারহেডে মারা যায়। সম্প্রতি অ্যাবারডিনের আদালতে মামলার বিচার শেষে জুরি গার্টশোরকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচার চলাকালে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় গার্টশোর একটি হেয়ার ড্রায়ার চালু করেন। সেখান থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটির শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পরে গার্টশোর জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তিনি তার ঘুমন্ত শিশুকে অস্বাভাবিক বেগুনি বর্ণের অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডালিয়া-রোজকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার চলাকালে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জুরি রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে গার্টশোরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। স্কটল্যান্ড পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেমস ক্যালেন্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড়দের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত মর্মান্তিক, তবে একজন অভিভাবকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু আরও বেশি উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। আদালত জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্ট কোর্টনি গার্টশোরের সাজা ঘোষণা করা হবে। তখন আদালত মামলার সব দিক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবেন। ঘটনাটি স্কটল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং ঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক সাবেক ফেডারেল এজেন্টকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করার পর তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা জানিয়েছে, ইগান শহরের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী টিমোথি গ্রেগকে ৮৪ মাস বা সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ ছবি ও ভিডিও তৈরিতে এবং সেগুলো পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় গ্রেগ মিনেসোটায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এফবিআইয়ের একটি যৌথ টাস্কফোর্সেও দায়িত্ব পালন করতেন। মামলার রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে এবং অপরাধী যে পদেই থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইসিইর পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যাজ, পদ বা দায়িত্ব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। তার ভাষায়, এই মামলায় অভিযুক্তের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ ক্রিস্টোফার ডটসন বলেন, আদালতের এই রায় ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের জন্য অন্তত কিছুটা ন্যায়বিচারের অনুভূতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তারা আশা করছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্রেগ সরকারি দাপ্তরিক ই-মেইল ব্যবহার করে একটি হোটেল কক্ষ সংরক্ষণ করেছিলেন, যেখানে তার সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানান, টুইন সিটিজ এলাকায় একটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল গ্রেগের। তবে সেই অভিযানে যোগ দেওয়ার আগের দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর মিনেসোটা, আদালতের নথি এবং এফবিআই ও আইসিইর বিবৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ভার্জিনিয়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেস (২৭) ভার্জিনিয়ার গ্লেন অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ওকল্যান্ড কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে চারটি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর চারটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন। প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১ জুলাই মিশিগানের স্প্রিংফিল্ড টাউনশিপে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কের ইস্ট হলি রোডের কাছে দক্ষিণমুখী লেনে একটি ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন পেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘণ্টায় ৯০ মাইলেরও বেশি গতিতে এক লেন থেকে আরেক লেনে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মিশিগান স্টেট পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। এ দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন জাকেরিয়া শ্যারন ডডসন (২৩), টিরি পাওয়েল (২৪) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান নালানি পাওয়েল (৩) ও কার্টার পাওয়েল (২)। প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "জাকেরিয়া, টিরি, নালানি ও কার্টারের মৃত্যু কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না। অভিযুক্তের অভিযোগ অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।" ঘটনার পর নিহত পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, "আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা টিরি, জাকেরিয়া, নালানি এবং কার্টারের অকল্পনীয় মৃত্যুতে শোকাহত।" সেখানে টিরিকে একজন স্নেহশীল বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। অন্যদিকে জাকেরিয়াকে একজন যত্নশীল ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও মমতায় বড় করে তুলছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ওই তহবিলে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার। মিশিগানের আইন অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে। সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, ফক্স ৫, ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়
কানাডার টরন্টো শহরের জনপ্রিয় ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ (Salsa on St. Clair) স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ ‘অ্যাকটিভ শুটার’ সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারী বা হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। টরন্টো পুলিশ জানায়, শহরের মিডটাউনের সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় বার্ষিক লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে জানানো হয়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য বা এটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই দুই দিনের আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে জড়ো হন। সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই উৎসবে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুরো শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পিএইচডি অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সামনে এসেছে নিহত ভিক্টোরিয়া ক্যাসলের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট, যেখানে বোনের বিয়ের দিন তিনি অভিযুক্ত জোসেফ হর্নারকে "পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ মানুষ" বলে উল্লেখ করেছিলেন। ভিক্টোরিয়ার সেই ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল, "আমার বোন, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, আমার বিশৃঙ্খলার সঙ্গী, আজ পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ একজন মানুষকে বিয়ে করল। আমি তোমাদের দুজনকে চিরকাল ভালোবাসব।" কিন্তু সেই পোস্টের প্রায় তিন বছর পর ২৭ বছর বয়সী জোসেফ হর্নারের বিরুদ্ধে ভিক্টোরিয়াকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, গত ২৯ জুন নিউইয়র্কের নর্থ মাসাপেকুয়ায় একই বহুতল ভবনের পৃথক ইউনিটে বসবাস করতেন তারা। ভবনের ওপরের তলায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন হর্নার এবং নিচতলায় থাকতেন ভিক্টোরিয়া। ঘটনার সময় হর্নারের স্ত্রী একটি ব্যাচেলোরেট অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিক্টোরিয়ার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন হর্নার। ঘটনার দিন তিনি একটি পিয়ানো সরাতে সাহায্যের কথা বলে ভিক্টোরিয়াকে নিজের কাছে ডেকে নেন। পরে পেছন থেকে তার ওপর হামলা চালিয়ে গলায় চাপ দিয়ে অচেতন করে ফেলেন। এরপর তার পোশাক খুলে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিক্টোরিয়া ক্যাসল নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর হর্নার নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।