ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফার্স নিউজ জানায়, খামেনির স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে যে খবরগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এখনো জীবিত রয়েছেন। এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তাঁর স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। তবে ফার্স নিউজের দাবি, এসব তথ্য সঠিক নয় এবং মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন। তিনি সাধারণত জনসম্মুখে খুব কমই উপস্থিত হন এবং ইরানের শাসক পরিবারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জীবনযাপনকারী সদস্যদের একজন হিসেবে পরিচিত। এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার দেওয়া তাঁর প্রথম বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ না করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে হওয়া হামলায় আলী খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুত্রবধূ, জামাতা, মেয়ে ও নাতি–নাতনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম জনসম্মুখের ভাষণে মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধে নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। ১০ দিন পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নতুন নেতা পেয়েছে। দেশটির পণ্ডিতদের পরিষদ খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন কাণ্ডারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ ঘোষণার পর ইরানের সরকার, প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন নেতাকে আলাদাভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন বিভিন্ন বাহিনী ও বিভাগের কর্মকর্তারা। সাধারণ নাগরিকরাও তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির কারণে সরাসরি নতুন নেতার সঙ্গে দেখা করতে না পারলেও আজ সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানী তেহরানে জড়ো হয়ে মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইরানিরা। নিহত আলী খামেনি ও নতুন নেতার ছবি হাতে মিছিলে অংশ নেন তারা এবং শাসকদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। ওই হামলায় তার স্ত্রী, মেয়ে, নাতনিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে আলী খামেনির স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই হামলায় বেঁচে যান মোজতবা খামেনি। সূত্র: আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু তেহরানের রাজনৈতিক পরিসরে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। এ অবস্থায় নতুন নেতা কে হবেন তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, এবং এতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে উঠে এসেছে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন। গত শনিবার তেহরানে খামেনির বাসভবনে হামলার সময় তার মা, স্ত্রী ও বোন নিহত হন, কিন্তু মোজতবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় বেঁচে যান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তার বেঁচে থাকা ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলে নতুন মোড় আনতে পারে। মোজতবা খামেনি কখনও সরাসরি নির্বাচনে লড়েননি, তবে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে দীর্ঘ বছর ধরে তার প্রভাব বিস্তৃত। বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ক্ষমতায় এলে ইরানের প্রশাসনে কট্টরপন্থী নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হবে এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনার পথ সীমিত হতে পারে। মোজতবা বরাবরই জনসমক্ষে উপস্থিত হন না, তার এই গোপনধর্মী ছক বিশ্লেষকদের কাছে রহস্যময়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার ক্ষমতায় আসা একটি ধর্মীয় রাজবংশের সম্ভাবনা উস্কে দিতে পারে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যও গড়ে তুলেছেন। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা থাকা জরুরি, কিন্তু মোজতবা বর্তমানে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’। তবে তার বাবার সময়ও একই ধারা অনুসরণ করে আইনি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং চলমান যুদ্ধে নতুন নেতা ঘোষণার সময়সূচি স্পষ্ট নয়। তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম চূড়ান্ত করতে হবে ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-কে। তবে সাম্প্রতিক বোমা হামলার কারণে পুরো প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় ইরানের শাসনব্যবস্থা ব্যতিক্রমধর্মী। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে একজন ধর্মীয় নেতার হাতে ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতার কাছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পদে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইসলামি বিপ্লব থেকে উত্থান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লব-পরবর্তী ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ সৃষ্টি হয়। ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি তরুণ বয়সেই খোমেনির অনুসারী হন। শাহবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁর ডান হাত আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। বিপ্লবের পর তিনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন, পরে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংগঠনে ভূমিকা রাখেন। একই বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। কীভাবে হলেন সর্বোচ্চ নেতা ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ Assembly of Experts খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও সে সময় তিনি সংবিধানে নির্ধারিত ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ মর্যাদায় ছিলেন না। পরবর্তীতে সংবিধানে সংশোধন এনে শর্ত শিথিল করা হয় এবং তাঁকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা হয়, তবে সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ নেতার হাতেই থাকে। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ। বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, সামরিক নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে তাঁর অনুমোদন অপরিহার্য। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বৈদেশিক নীতি সবক্ষেত্রেই তাঁর চূড়ান্ত মতামত কার্যকর হয়। তাঁর শাসনামলে মোহাম্মদ খাতামি, মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, হাসান রুহানি, এব্রাহিম রাইসি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ একাধিক প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকেই নীতিগত ভিন্নমত পোষণ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামো অক্ষুণ্ণ থেকেছে। ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচন, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসা, ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরে ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিতের ঘটনা এসব বড় সংকটে খামেনির নেতৃত্ব ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইসরায়েলবিরোধী কড়া অবস্থান এবং পশ্চিমা বিশ্ববিরোধী বক্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। সদস্যদের প্রার্থীতা যাচাই করে Guardian Council, যার ওপরও সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। নির্বাচিত হলে সর্বোচ্চ নেতা আজীবন দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ৮৬ বছর বয়সী খামেনির স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে জল্পনা চলমান। তিনি মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে উত্তরসূরি কে হবেন, তা নির্ধারণ করবে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এমনই সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে আলী খামেনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর উত্থান, ক্ষমতার বিস্তার এবং দীর্ঘ শাসনকাল ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।