খেলাধুলা

শাকিরার রেকর্ড ছাপিয়ে কানাডায় পারফর্ম করতে যাচ্ছেন নোরা ফাতেহি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৭:২৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসরে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির পারফরম্যান্স ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন তিনি।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার স্বাগতিক ম্যাচের আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে মঞ্চে উঠবেন নোরা ফাতেহি। তার সঙ্গে থাকবেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়।

 

নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ভিউ অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফিফার পূর্ববর্তী কিছু থিম সংয়ের ভিউ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন বলেও জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গানের ভিউয়ের তুলনায় শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮.২ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। সেই হিসেবে ‘সির সির’ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নোরা ফাতেহি। তিনি বলেন, এটি তার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি আরও বলেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি মরক্কান ও কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে একত্রিত করতে পেরেছেন। তার ভাষায়, এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে যুক্ত করার একটি প্রয়াস।

 

টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীর অংশগ্রহণ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরকে আরও বর্ণিল করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে মেক্সিকোর তিন শহরে বিতরণ হচ্ছে ৭০ লাখ কনডম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে আয়োজক তিন শহরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে ।   মেক্সিকোর তিনটি আয়োজক শহর হলো মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মনতেরে। এসব শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূল উদ্দেশ্য হলো মেগা ইভেন্টে ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ কমানো এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ফ্যান জোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক বুথ ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব স্থানে কনডমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হবে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু সামগ্রী বিতরণ নয়, সঠিক তথ্য ও সচেতনতা না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হয় না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।   বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন দেশে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিম্পিকে অ্যাথলেটদের জন্য নির্দিষ্ট ভিলেজ থাকায় সেখানে এ ধরনের বিতরণ সহজ হয়। তবে বিশ্বকাপে আলাদা প্লেয়ার ভিলেজ না থাকায় মেক্সিকোর এই উদ্যোগ মূলত দর্শক ও পর্যটকদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হবে।   এদিকে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো থেকে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের ঘোষণা এখনো আসেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৮:৩০
ছবি: সংগৃহীত

শাকিরার রেকর্ড ছাপিয়ে কানাডায় পারফর্ম করতে যাচ্ছেন নোরা ফাতেহি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজারো আসন ফাঁকা, টিকিটের দাম নিয়ে ফিফার নীতি প্রশ্নের মুখে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে টিকিটের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্বকাপে কোরিয়া-চেক ম্যাচে গ্যালারি ফাঁকা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের তিন দিন আগে ছিটকে গিয়ে অবসরে জাপানের অধিনায়ক এন্দো

নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার মাত্র তিন দিন আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। পায়ের গুরুতর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় দল থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। তবে কেবল বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়াই নয়, একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও চিরতরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। তার এই আকস্মিক বিদায়ের পর বিশ্বকাপ দলে তার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে সুযোগ পেয়েছেন জার্মান ক্লাব বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড শুতো মাচিনো।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় এন্দো বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় তিনি অত্যন্ত হতাশ। তবে তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে এমন এক সময় অবশ্যই আসবে যখন জাপান বিশ্বকাপ ট্রফি জিতবে। সেই বিশ্বাস ধরে রেখে আসন্ন উত্তর আমেরিকার এই টুর্নামেন্টেই যেন সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে, সে জন্য দেশের সাধারণ মানুষকে দলের প্রতি সমর্থন ও শক্তি একত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে জাতীয় দল থেকে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি লেখেন, এখন থেকে তিনি আরেকজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে গ্যালারিতে বসে জাপান দলকে আজীবন সমর্থন করে যাবেন।   এই মিডফিল্ডারের চোটের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সময় পায়ে গুরুতর আঘাত পান এন্দো। ওই মারাত্মক চোটের কারণে ক্লাব ফুটবলে তার পুরো মৌসুমই শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে তিনি জাতীয় দলে ফিরলেও মাঠের লড়াইয়ে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি। ওই ম্যাচের প্রথমার্ধের পর তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং মেক্সিকোতে জাপানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পেও তিনি চরম শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন।   পরবর্তীতে গত সোমবার জাপান দল যখন তাদের বিশ্বকাপ ঘাঁটি আমেরিকার ন্যাশভিলে পৌঁছায়, তখন অনুশীলনে যোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেকে শতভাগ ফিট প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন এন্দো। তবে এই দীর্ঘ লড়াই নিয়ে তার মনে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে দলকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছেন, যেখানে দাঁড়িয়ে এখন জাপান দল বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে; আর এই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারাটাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।   ২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ওয়াতারু এন্দো দেশের জার্সিতে দীর্ঘ এক দশকে মোট ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং চারটি গোল করেছেন। তিনি এর আগে ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে জাপানের অন্যতম মূল শক্তি হিসেবে মাঠে ছিলেন। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে পরাশক্তি জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জাপানের ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয়ের ম্যাচগুলোতে তিনি মাঝমাঠে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে শক্তিশালী গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১:৪৬
ছবি: সংগৃহীত

আড়াই বছরের গোলখরা কাটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়াকে জেতালেন হোয়াং

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে রাইডশেয়ার চালকদের ব্যাপক প্রস্তুতি

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন সেনেসি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার দলে পরিবর্তন, ডাক পেলেন মার্কোস সেনেসি

ছবি: সংগৃহীত
পেলের পরই গিলবার্তো মোরা, ভাঙলেন ৯৬ বছরের পুরোনো বিশ্বকাপ রেকর্ড

মাঠে নেমেছিলেন মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য। কিন্তু সেই কয়েক মিনিটই তাকে জায়গা করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে মেক্সিকোর নতুন ইতিহাস গড়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।   মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আসতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আলভারো ফিদালগোর পরিবর্তে মাঠে নামেন মোরা। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪০ দিন। এর মধ্য দিয়েই তিনি মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপে খেলা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়ে ফেলেন।   দীর্ঘ ৯৬ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা একটি রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এই তরুণ। এতদিন মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে খেলার কীর্তি ছিল মানুয়েল রোসাসের দখলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে ১৮ বছর ৮৭ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন রোসাস। প্রায় এক শতাব্দী ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড এখন অতীত।   শুধু মেক্সিকোর ইতিহাসেই নয়, বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকাতেও নিজের নাম লিখিয়েছেন মোরা। বর্তমানে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্থান পেয়েছেন।   এই তালিকায় তার ঠিক ওপরে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার Pelé। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে পেলের অভিষেক হয়েছিল ১৭ বছর ২৩৫ দিন বয়সে। অর্থাৎ মোরার চেয়ে মাত্র পাঁচ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি।   বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড এখনও ধরে রেখেছেন Norman Whiteside। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের হয়ে ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে মাঠে নেমে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন।   সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় আরও আছেন Samuel Eto'o, যিনি ১৭ বছর ৯৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। একই তালিকায় রয়েছেন নাইজেরিয়ার Femi Opabunmi এবং ক্যামেরুনের Salomon Olembe।   তবে বয়সভিত্তিক রেকর্ড গড়া মোরার জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। গত বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের সময়ও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর ২৫৭ দিন বয়সে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেই মেক্সিকোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।   ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মোরার উত্থান মেক্সিকান ফুটবলের জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বয়সভিত্তিক দলগুলো থেকে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে এলেও এত কম বয়সে বিশ্বকাপ মঞ্চে অভিষেকের সুযোগ পাওয়া বিরল ঘটনা।   বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে অভিষেকের মাধ্যমে গিলবার্তো মোরা শুধু একটি রেকর্ডই ভাঙেননি, ভবিষ্যতের জন্য নিজের সম্ভাবনারও শক্ত বার্তা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর পর মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি কতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেন।   ক্রীড়া বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, মেক্সিকোর এই তরুণ মিডফিল্ডার আগামী বছরগুলোতে দেশটির ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠতে পারেন। আর বিশ্বকাপে তার এই অভিষেক হয়তো ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ২১:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

তিন লাল কার্ডের নাটকীয় উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা মেক্সিকোর

কুইনোনাস I ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে মার্সেলোর ১২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর কুইনোনেস

আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে গাইছেন শাকিরা I এএফপি

মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে শাকিরার পারফরম্যান্সে শুরু হলো বিশ্বকাপ ২০২৬

0 Comments