ফুটবল

ছবি: সংগৃহীত
শাকিরার রেকর্ড ছাপিয়ে কানাডায় পারফর্ম করতে যাচ্ছেন নোরা ফাতেহি

কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসরে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির পারফরম্যান্স ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন তিনি।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার স্বাগতিক ম্যাচের আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে মঞ্চে উঠবেন নোরা ফাতেহি। তার সঙ্গে থাকবেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়।   নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ভিউ অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ফিফার পূর্ববর্তী কিছু থিম সংয়ের ভিউ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন বলেও জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গানের ভিউয়ের তুলনায় শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮.২ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। সেই হিসেবে ‘সির সির’ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।   এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নোরা ফাতেহি। তিনি বলেন, এটি তার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি আরও বলেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি মরক্কান ও কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে একত্রিত করতে পেরেছেন। তার ভাষায়, এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে যুক্ত করার একটি প্রয়াস।   টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীর অংশগ্রহণ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরকে আরও বর্ণিল করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৭:২৪
লিওনেল মেসি | ছবি: সংগৃহীত
আট বছরের দীর্ঘ আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফিতে মেসির চুমু

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে মঞ্চে গোল্ডেন বল হাতে নিয়ে যখন লিওনেল মেসি দাঁড়ালেন, তখন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ ছিল তাঁর দিকে। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে এই গোল্ডেন বল তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই নেওয়ার সাথে ২০২২ সালের এই প্রাপ্তির আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। পুরস্কারটি হাতে নিয়ে ঘোরার সময়ই তাঁর চোখ পড়ে সামনে রাখা ঝকঝকে সোনার বিশ্বকাপ ট্রফিটির দিকে, যা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু। আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফিটি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা থাকলেও সেই সংযম আর সইল না; মেসি ঝুঁকে পড়ে পরম মমতায় আলতো করে ট্রফিটিতে একটি এবং পরপর দুটি চুমু খেলেন।   মেসির এই দুটি চুমুর গভীরতা ও তীব্রতা বুঝতে হলে ফুটবলপ্রেমীদের ঠিক আট বছর পেছনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই কালরাত্রিতে ফিরে যেতে হবে। সেবার জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর শূন্য চোখে, ভাঙা হৃদয়ে পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোল্ডেন বল নিতে হয়েছিল মেসিকে, যার ঠিক সামনেই রাখা ছিল অধরা সেই বিশ্বকাপ ট্রফি। নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ী দল ছাড়া কেউ ট্রফি স্পর্শ করতে পারে না বলে মেসি সেবার শুধু অপলক চোখে তাকিয়েই ছিলেন, হাত বাড়ানোর অধিকার তাঁর ছিল না। সেই রাতের শূন্য চোখের মেসির ছবি আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে, যেখানে গোল্ডেন বলটি তাঁর কাছে কেবলই একটি মূল্যহীন ধাতব বস্তু মনে হয়েছিল।   আট বছর পর লুসাইলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রফিটির দিকে তাকানোর পর মেসির হয়তো সেই যন্ত্রণাদায়ক রাতের কথাই মনে পড়েছিল, যা তাঁর সংযমের বাঁধ ভেঙে দেয়। তাঁর আগে আর্জেন্টিনার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে আসা একুশ বছর বয়সী এঞ্জো ফার্নান্দেজ কিংবা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কেউই ট্রফিটি ছোঁয়ার সাহস করেননি। পুরো টুর্নামেন্টে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো মার্তিনেজ কিংবা তরুণ এঞ্জো হয়তো মনে মনে জানতেন, এই ট্রফির ওপর প্রথম স্পর্শের অধিকার কেবল তাঁরই, যার এক জীবনের সাধনা জড়িয়ে আছে এর সাথে। এরপর মেসি যখন এলেন, তখন আর কোনো নিয়ম বা সংযম কাজ করেনি, তিনি ট্রফিটি নিজের করে নিলেন।   আসলে এই দুটি চুমু শুধু একটা আবেগের মুহূর্ত নয়, এর পেছনে জড়িয়ে আছে রোজারিওর মাটি, বার্সেলোনার করিডোর, চারটি বিশ্বকাপের ভাঙা স্বপ্ন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর এবং পুনরায় ফিরে আসার এক মহাকাব্যিক গল্প। ১৯৮৭ সালে রোজারিওর পারানা নদীর পাড়ে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল জাদুকরের ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডেফিশিয়েন্সি ধরা পড়েছিল, যার চিকিৎসার খরচ জোগাতে আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব রাজি হয়নি। পরবর্তীতে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা একটি ন্যাপকিন পেপারে চুক্তির মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সেখানে বড় হতে হতে মেসি ফুটবল মাঠে যা ছুঁয়েছেন, তাই সোনায় পরিণত করেছেন। লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর একের পর এক ব্যালন ডি'অর জিতলেও দেশের জার্সিতে বারবার ট্র্যাজেডির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।   ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে নীল-সাদা জার্সি গায়ে দিলেই এক অদৃশ্য চাপ এসে ভর করত মেসির কাঁধে, শুনতে হতো দেশের হয়ে বড় মঞ্চে ব্যর্থতার অপবাদ। তবে ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে নাটক, ভয়, বিস্ময় আর স্নায়ুযুদ্ধের পেনাল্টি শুটআউট শেষে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। মেসি হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, চোখ ভিজে উঠল এবং দুই হাতে তুলে ধরলেন তাঁর সারাজীবনের আরাধ্য সেই সোনালি ট্রফি। বুয়েনোস আইরেস থেকে শুরু করে ঢাকার রাস্তা—যেখানেই নীল-সাদা পতাকা উড়েছে, সেখানেই রাতটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল, কারণ এই বিজয় ছিল প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন ও দীর্ঘ অপেক্ষার এক পরম পূর্ণতা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২২:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রেন চলাচল নিয়ে যাত্রীদের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম সময়ে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও একের পর এক ট্রেইল বাতিল হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যে স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে আসা হাজার হাজার ফুটবল ভক্তের চাপ এই ভঙ্গুর পরিবহন ব্যবস্থা কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের মনে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।   আঞ্চলিক ট্রেন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এনজে ট্রানজিটের নিয়মিত যাত্রীরা এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রেললাইনের ওপরের বৈদ্যুতিক তারের জটিলতার কারণে গত মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রীদের প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মার্কিন রেল কর্তৃপক্ষ অ্যামট্র্যাক নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউ জার্সি এবং নিউ ইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগে ঘটে যাওয়া একের পর এক বড় ধরনের যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সমস্যার এটি সর্বশেষ উদাহরণ, যা বিশ্বকাপের মতো বড় বৈশ্বিক আসরের প্রাক্কালে স্থানীয় প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।   রেলওয়ের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় কেবল সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই পেন স্টেশনের ভেতরে একটি অ্যামট্র্যাক ওয়ার্ক ট্রেনের ইঞ্জিন বা বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির মধ্যকার পুরো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা মরিন হ্যাগানের মতো সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিশ্বকাপের সময় এই যাতায়াত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে এবং যারা খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য তিনি এখনই বেশ সমবেদনা বোধ করছেন।   পরিবহন ব্যবস্থার এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে অনেক অভিজ্ঞ নিত্যযাত্রী ফুটবল দর্শকদের ট্রেনের ওপর ভরসা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে অনেকেই বলছেন যে, যারা ট্রেনকে বিশ্বকাপের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ধরে রেখেছেন, তাদের বিকল্প ভাবা উচিত। খেলা মিস করতে না চাইলে দর্শকদের ট্রেন বাদ দিয়ে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে, বাসে চড়ে কিংবা প্রয়োজনে সাইকেল চালিয়ে হলেও স্টেডিয়ামে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা দরকার। কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচগুলোর দিন ট্রেন সময়মতো প্ল্যাটফর্মে আসবে কিংবা বগিতে জায়গা পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে এনজে ট্রানজিট দিতে পারছে না।   উদ্ভূত পরিস্থিতি সত্ত্বেও এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যাচ টিকিটধারীদের জন্য বিশেষ ট্রেন টিকিটের ব্যবস্থা করেছে, যার অধীনে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাওয়া-আসার একটি রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ ডলার। প্রতি ম্যাচের জন্য এমন ৪০ হাজার বিশেষ টিকিট এনজে ট্রানজিট অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভেরিফাইড ফুটবল টিকিটধারীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক থেকে পেন স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি মেটলাইফ এবং গার্ডেন স্টেট থেকে আসা যাত্রীরা সিকাকাস জংশনে সংযুক্ত হয়ে ম্যাডোল্যান্ডস লাইনের মাধ্যমে সরাসরি মূল ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারবেন। পাশাপাশি গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে একটি ডিজিটাল কনসিয়ার্জ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যা দর্শকদের রিয়েল-টাইম তথ্য ও আঞ্চলিক নানা কার্যক্রমের খোঁজ দেবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:২৭
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানি সমর্থকদের ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ, কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)। ফেডারেশনের দাবি, দুই দেশের তিক্ত কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এফএফআইআরআই জানায়, বিশ্বকাপ শুরুর তিন দিনেরও কম সময় আগে জাতীয় দলের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইরানি সমর্থকদের স্টেডিয়ামে উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইরানি ফুটবল সংস্থার মতে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচের মোট টিকিটের ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ফেডারেশনগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকে। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো পরে এসব টিকিট তাদের সমর্থকদের মধ্যে দাপ্তরিকভাবে বণ্টন করে।   ফেডারেশন জানায়, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য নির্ধারিত কোটা পাওয়ার পর তারা টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছিল। যেহেতু ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই অনেক সমর্থক এরই মধ্যে খেলা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন।   বিবৃতিতে বলা হয়, “আকস্মিকভাবে ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত সেই টিকিটগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের সমর্থকদের জন্য একটি টিকিটও সরবরাহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।”   এফএফআইআরআই যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ফিফা ও টুর্নামেন্ট আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার নীতি বজায় রেখে ইরানি সমর্থকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।   যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   এর আগে তেহরান অভিযোগ করেছিল, ভিসা জটিলতার কারণে তাদের প্রতিনিধি দলের প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্বকাপ আয়োজনেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতির কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসনে অনুশীলন ক্যাম্প করার কথা থাকলেও, পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানায় ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১:১২
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কীভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখবেন? ফ্রিতে দেখার উপায়ও আছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাড়ছে ব্যাপক উন্মাদনা। নিউইয়র্ক, আটলান্টা, ডালাস, মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতোমধ্যেই খেলা দেখার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে—আমেরিকায় বসে কীভাবে সহজে, কম খরচে কিংবা ফ্রিতে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে?   বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে বড় ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর হাতে থাকে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বড় সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান হলো ফক্স স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির টেলিভিশন চ্যানেল FOX এবং FS1-এ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয়। অনেক এলাকায় সাধারণ ডিজিটাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করেই স্থানীয় FOX চ্যানেল ফ্রিতে দেখা সম্ভব। ফলে যাদের বাসায় স্মার্ট অ্যান্টেনা বা ওভার-দ্য-এয়ার টিভি সুবিধা রয়েছে, তারা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই কিছু ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।   এছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি অনলাইন টিভি প্ল্যাটফর্ম নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত সময়ের ফ্রি ট্রায়াল সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ইউটিউব টিভি, ফুবো টিভি এবং হুলু লাইভ টিভি উল্লেখযোগ্য। এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই কয়েকদিন বিনামূল্যে খেলা দেখতে পারবেন। তবে ট্রায়াল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সাবস্ক্রিপশন বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ কেটে নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।   বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ আবার বাংলা ভাষায় খেলার আলোচনা, বিশ্লেষণ বা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রচার দেখতে আগ্রহী। সে কারণে অনেকেই টফি, টি স্পোর্টস লাইভ কিংবা সনি লিভের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তবে এসব সেবার কিছু কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি নাও পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নিজ দেশের সম্প্রচার দেখতে চেষ্টা করেন। যদিও প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কারণে এটি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   কম  খরচে পুরো বিশ্বকাপ উপভোগ করতে চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কিছু সেবা প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্লিং টিভি তুলনামূলক কম খরচে ক্রীড়া চ্যানেল দেখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ইউটিউব টিভি ও ফুবো টিভিতে উচ্চমানের সম্প্রচার, মোবাইল ও স্মার্ট টিভি সাপোর্ট এবং ম্যাচ রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ দর্শক মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি বা ট্যাব ব্যবহার করে খেলা দেখছেন। এজন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সহজেই লাইভ ম্যাচ উপভোগ করা যায়।   যারা পুরো ম্যাচ দেখার সময় পান না, তাদের জন্যও রয়েছে হাইলাইটস দেখার সুযোগ। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ শেষে গোল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মেও সংক্ষিপ্ত হাইলাইটস পাওয়া যায়।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক আয়োজনও বাড়ছে। বিভিন্ন শহরে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা একত্রে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন। অনেক রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারেও বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসেও বিশ্বকাপের আবহ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২৩:৩২
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় কিংবা জার্সি খুললে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্পনসরদের স্বার্থ রক্ষার্থে ফিফা, আইএফএবি এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) একগুচ্ছ কঠোর নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন ফাউলের শিকার না হয়েও ফাউলের ভান করা কিংবা পেনাল্টি পাওয়ার আশায় বক্সে ‘ডাইভ’ দিলে রেফারি খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাবেন। এছাড়া গোল করার পর আনন্দে গায়ের জার্সি খুললে, অতিরিক্ত সময় নষ্ট করলে বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দিলেও এই শাস্তি পেতে হবে।   রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আক্রমণাত্মক আচরণ করা, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ করলে হলুদ বা সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টের আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে ওই খেলোয়াড় নিষিদ্ধ থাকবেন এবং লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে গড়িমসি করলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। মাঠে নামার আগে আংটি, গলার চেইন, ঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অনুমতিক্রমে ফেস মাস্ক বা বিশেষ সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে ভেতরের গেঞ্জি বা মূল জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান প্রদর্শন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ডোপ টেস্টের ওপর কঠোর নজরদারি রাখবে ওয়াডা ও ফিফা। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো ম্যাচ শেষে, অনুশীলন সেশনে বা টিম হোটেলেও প্রতিনিধিরা আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের ডাকতে পারেন; এই টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে বা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ারে বড় নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। এছাড়া খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন বা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়ের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া এটি এড়ালে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। একই সঙ্গে অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফদের আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং যাতায়াতের জন্য শুধু ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ০:৩৪
ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ ইরানের, মেক্সিকোতে পৌঁছেছে জাতীয় দল

ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের জাতীয় ফুটবল দল মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর তেহরান অভিযোগ করেছে, দলটির যাতায়াত প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করছে ওয়াশিংটন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।   রোববার মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তিহুয়ানায় পৌঁছায় ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সীমান্তঘেঁষা এই শহরে অবস্থান করবে দলটি। এর আগে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়ে ইরান দল মেক্সিকোতেই অবস্থান করবে।   ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দলটিকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও প্রথম ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে প্রবেশের অনুমোদন দিয়েছে।   আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে তিনি বলেন, “আমরা জানি না যুক্তরাষ্ট্রের এই বাধা সৃষ্টির প্রবণতা আর কতদূর যাবে। তাদের আচরণ বিদ্বেষপূর্ণ এবং দলগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”   তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানের জাতীয় দল, খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।   তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা কোনোভাবেই এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেব না।”   ইরানের জন্য ফুটবল কেবল একটি জনপ্রিয় খেলা নয়, জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রতীক। সামাজিক, আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় দলকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সমর্থন দেখা যায়। ফলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বরাবরই দেশটির জন্য জাতীয় গর্বের বিষয়।   তবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রীড়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও গুরুত্ব পাচ্ছে।   ফিফার সূচি অনুযায়ী, ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ২১ জুন একই শহরে খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মুখোমুখি হবে মিশরের। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এসব ম্যাচ দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।   রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এবারই প্রথম এমন একটি আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে আয়োজক দেশ একটি যুদ্ধরত দেশের দলকে স্বাগতিক হিসেবে গ্রহণ করছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র জানান, দলটি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা ব্যবহার করবে। প্রথম ম্যাচের এক দিন আগে এবং পরবর্তী দুটি ম্যাচের আগে দুই দিন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে খেলোয়াড়রা।   মেহদি তাজ যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে “অত্যন্ত অদ্ভুত” উল্লেখ করে বলেন, একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তিনি আরও দাবি করেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ফুটবলের মাঠেও টেনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।   এদিকে ইরান দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি অভিযোগ করেছেন, দলের কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং একজন নির্বাহী পরিচালক এখনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি। তিনি বলেন, “এ ধরনের আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আমরা আশা করি পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।”   সমালোচনায় যোগ দিয়েছে তুরস্কে অবস্থিত ইরান দূতাবাসও। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয় চাপ ও মানসিক উদ্বেগ তৈরি করে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাভাবিক পরিবেশে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। দূতাবাসের ভাষ্য, “এটি খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:২৫
কানসাস সিটিতে ভোররাতের গোলাগুলি ঘিরে উদ্বেগ । ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছেই গোলাগুলি, আহত অন্তত ৯ জন

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।   কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এলাকাটি ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্প সোয়োপ সকার ভিলেজ থেকে চার মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।   পুলিশের এক বিবৃতিতে ক্যাপ্টেন জেক বেকিনা জানান, আহতদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেটিও তদন্তাধীন রয়েছে।   পুলিশ জানায়, গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তারা একটি বড় জনসমাগম ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখে। সেখানে গুলিবিদ্ধ তিন নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তারা ব্যক্তিগত যানবাহনে করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে।   ঘটনার সময় ইংল্যান্ড জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা কানসাস সিটিতে ছিলেন না। তারা বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন এবং বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে দলের কেউ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হননি।   শনিবার গোলাগুলির সময় ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিল। ফ্লোরিডার টাম্পায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয় পায়। আগামী সপ্তাহে কোস্টারিকার বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর দলটি আবার কানসাস সিটিতে ফিরবে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বসবাসকারী কেট ফাউলার কানসাস সিটি স্টারকে জানান, শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ও তার স্বামী তাদের বাড়ির সামনের জানালায় গুলির চিহ্ন দেখতে পান। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেও একই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।   কেট ফাউলারের ভাষ্য, তাদের এলাকায় সপ্তাহে অন্তত একবার গুলির শব্দ শোনা অস্বাভাবিক নয়। তিনি বলেন, আশপাশের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে।   এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় কানসাস সিটির অন্য একটি এলাকাতেও আরেকটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএমবিসি নিউজ ৯-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।   বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানসাস সিটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক দলের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার কারণে ইংল্যান্ড ছাড়াও আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস তাদের প্রস্তুতি কেন্দ্র হিসেবে এই শহরকে বেছে নিয়েছে।   স্থানীয় পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দল বা বিশ্বকাপ আয়োজনের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক প্রথম ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এই গোলাগুলির ঘটনার খবর প্রকাশ করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কানসাস সিটি পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:৪
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল খেলোয়াড় নেইমার জুনিয়র | ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আগে বিদায়ের সময় জানালেন নেইমার জুনিয়র

ব্রাজিল জাতীয় দলে দীর্ঘ আড়াই বছর পর ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। নানা চোট-আঘাত ও অনিশ্চয়তার সময় পার করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সেলেসাওদের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন দেশটির সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপই হতে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় টুর্নামেন্ট।   কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেইমারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।   ফিফার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নেইমারের আগের তিনটি বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হলে সেই পোস্টের মন্তব্যে তিনি লেখেন, “The Last Dance”। তার এই মন্তব্যকে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকেরা।   ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের হয়ে খেলেন নেইমার। সেই আসরে সেমিফাইনালে উঠেছিল সেলেসাওরা। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও অংশ নেন তিনি। তবে দুটি আসরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।   ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। ফলে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান নেইমার।   বর্তমানে তিনি গ্রেড-২ কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এই চোটের কারণে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ৬-২ গোলের বড় জয় পেয়েছিল।   মিশরের বিপক্ষেও মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদী।   আনচেলত্তি জানিয়েছেন, কোচিং স্টাফের প্রত্যাশা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নেইমারকে শতভাগ ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচ কিংবা পরবর্তী ম্যাচে তিনি মাঠে ফিরতে পারেন বলেও আশা করা হচ্ছে।   ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বর্তমান স্কোয়াডে তিনি কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন না। যাদের দলে রাখা হয়েছে, তারাই পুরো টুর্নামেন্টে দলের অংশ থাকবেন।   বিশ্বকাপের মঞ্চে এ পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। এসব ম্যাচে তিনি ৮ গোল করেছেন এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন।   বিশ্বকাপে তার সর্বশেষ গোলটি আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ে করা সেই গোল ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে রদ্রিগো ও মার্কিনিওস পেনাল্টি মিস করলে বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ২৩:২৭
ছবি: সংগৃহীত
৫১ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষায় কঙ্গো, নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত ‘দ্য লেপার্ড’রা

দীর্ঘ ৫১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার পথে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপের প্লে-অফ টুর্নামেন্টের ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৭৪ সালের পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফেরার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে কঙ্গো ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়।   ৩১ মার্চ গুয়াদালাজারায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে জয় পাওয়ার পর দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কোচ সেবাস্টিয়ান দেশাব্রের অধীনে গড়ে ওঠা এই দলটি দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফিরতে যাচ্ছে। দলের তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন সেড্রিক বাকাম্বু, শঁসেল এমবেম্বা ও আর্থার মাসুয়াকু। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে গঠিত এই স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি শুরু করেছে কঙ্গো।   কোচ সেবাস্টিয়ান দেশাব্রে ২০২২ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। দুই লক্ষ্যেই সফল হয়ে তিনি আফ্রিকার ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০২৪ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে দলের অগ্রযাত্রা তাকে আরও প্রশংসিত করে।   বিশ্বকাপে কঙ্গোর গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী দলটি প্রথম ম্যাচে ১৭ জুন পর্তুগালের মুখোমুখি হবে হিউস্টন স্টেডিয়ামে। ২৩ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে। ২৭ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আটলান্টায়।   কঙ্গো ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। সে আসরে তারা ছিল মধ্য আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। মরক্কো ও জাম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় দলটি।   ১৯৭৪ বিশ্বকাপে কঙ্গো তিনটি ম্যাচ খেললেও কোনো জয় বা গোলের দেখা পায়নি। স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০, যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারে তারা। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে দলটি লড়াকু পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে।   দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কঙ্গো। দলে রয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা ফুটবলার। গোলরক্ষক, রক্ষণ, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ে তুলেছে দলটি।   বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গোল করার সুযোগও সামনে রয়েছে তাদের। অতীতের শূন্য গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন অধ্যায় লিখতে চায় ‘দ্য লেপার্ড’রা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৯:২০
সংগৃহীত
বিশ্বকাপে জায়গা না পেয়ে মা–বাবার বুকে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাও

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ছিল চোখে। কিন্তু চোটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এস্তেভাও উইলিয়ানের। সুযোগ না পেয়ে মা–বাবার বুকে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি—সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার।   সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় দলের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এস্তেভাও। কিন্তু মাংসপেশির গুরুতর চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে আসর থেকে। গত ১৮ মে বিশ্বকাপ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নেইমারের নাম ঘোষণাকে ঘিরে যেমন আলোচনার সৃষ্টি হয়, তেমনি এস্তেভাওয়ের দলে না থাকাটাও অনেকের নজর এড়ায়নি।   চোটের কারণে দলে জায়গা না পাওয়ার সেই মুহূর্তের অনুভূতি সম্পর্কে ইএসপিএনকে এস্তেভাও বলেন, বিশ্বকাপে খেলা তার জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। সুযোগ হারানোকে তিনি জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, সেই সময় তিনি মা–বাবার কোলে মাথা রেখে অনেকক্ষণ কেঁদেছিলেন।   তিনি আরও জানান, চোটের খবর জানার দিনটি ছিল মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন। চিকিৎসকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে পাওয়া ইঙ্গিত থেকেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। পরে পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হয় যে তার চতুর্থ ডিগ্রির মাংসপেশির চোট হয়েছে।   চলতি মৌসুমে ক্লাব পর্যায়ে চেলসির হয়ে ৩৬ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন এস্তেভাও। তবে পুরো মৌসুমটি তার জন্য খুব একটা সফল ছিল না। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রাখে এবং বিশ্বকাপের স্বপ্নও শেষ করে দেয়।   এদিকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে থাকা ব্রাজিল জাতীয় দল সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতে ভালো ফল করেছে। পানামাকে ৬–২ ব্যবধানে হারানোর পর তারা মিসরকেও ২–১ গোলে পরাজিত করেছে।   আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করবে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৬, ২০২৬ ১৭:৫৪
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বাংলাদেশের কাছে ২-১ গোলে হারের পর ফেসবুকে পোস্টে ‘চোর’ বলল সান মারিনো

ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সান মারিনো ফুটবলের একটি ফেসবুক পোস্ট। ওই পোস্টে বাংলাদেশকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।   ম্যাচ শেষে একটি ছবি পোস্ট করে সান মারিনো ফুটবল লিখেছে, “বাংলাদেশ আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামে একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল থেকে বঞ্চিত করেছে। চোর, অন্যান্য সব এশিয়ান দলের মতোই।”   অন্য একটি পোস্টে তারা আরও অভিযোগ করে বলে, “তারা কেবল একটি মাত্র ক্যামেরা বসিয়েছিল এবং সবচেয়ে বড় কথা, তারা ভিএআর (VAR)-এ গিয়ে সেটি দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি। আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামেই আমাদের সঙ্গে ডাকাতি করা হলো। তারা একেকজন চোর।”   অন্যদিকে মাঠের খেলায় স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা সান মারিনো ইউরোপের দল হওয়ায় জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসেবে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   এটি ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেললেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।   ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। দুটি গোলই আসে তার হেড থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তার হাতেই ছিল। প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামান। সামিত ও জায়ান নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি বাড়ে। একপর্যায়ে বাংলাদেশও একটি গোল থেকে বঞ্চিত হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।   ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান ডুলি। সাধারণত ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও এদিন তাকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়। জয়সূচক গোলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক পেয়ে বিশ্বনাথ ভলি করেন। সে সময় তপু বর্মণ মাটিতে পড়ে ছিলেন। উঠে দাঁড়ানোর সময় তার মাথায় বল লেগে জালে জড়িয়ে যায় এবং বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।   নির্ধারিত সময়ের পর চতুর্থ রেফারি চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। শেষ মুহূর্তে সান মারিনো গোলের চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। একবার বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফসকে বল গোললাইনের কাছে চলে গেলেও তা পুরোপুরি লাইন অতিক্রম করেনি। ফলে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শেষ দুই মিনিট নিরাপদে পার করে ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।   সান মারিনো ইতালির ভেতরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। ইতালিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রোম, ভেনিসসহ বিভিন্ন শহর থেকে ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। গ্যালারির বড় অংশজুড়েই ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও মাঠজুড়ে ছিল অনেকটা হোম ম্যাচের আবহ। তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম দিকে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সান মারিনো। প্রায় ১০ মিনিট পর বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নেয়।   ১৯ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বলে হেড করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।   তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৩তম মিনিটে তপু বর্মণের ভুলে সুযোগ পায় সান মারিনো। বেরাদি ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকা নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল স্পর্শ করলেও তা জালে জড়িয়ে যায়।   প্রথমার্ধেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বল পেয়ে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও শট পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন।   শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে তপু বর্মণের দ্বিতীয় গোলেই ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ৫, ২০২৬ ১৬:১৫
ছবিঃ সান মারিনো বনাম বাংলাদেশ
তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দলের জয়ের মূল নায়ক ছিলেন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তার পা থেকে আসা দুর্দান্ত দুটি গোলেই নতুন জার্মান কোচ থমাস ডুলির অভিষেক রাঙিয়েছে বাংলাদেশ।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ দল। ১৭ মিনিটেই অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ ব্লক করে দিলেও, কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের মাপা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ।   পিছিয়ে পড়ার পর স্বাগতিকরা আক্রমণের ধার বাড়ালে ৩১ মিনিটে বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল শোধ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।   বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই দারুণ ফুটবল মস্তিষ্কের পরিচয় দিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। শুরুতে বেঞ্চে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে ব্যাপক রদবদল আনেন তিনি। জামাল ভূঁইয়া ও মোরছালিনকে উঠিয়ে তরুণ স্কোয়াডকে মাঠে নামানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধে চমৎকার পাসিং ফুটবলের পসরা সাজায় ডুলির শিষ্যরা। ৪৮ মিনিটে হামজার দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে সোহেল রানা এবং ৫৩ মিনিটে সাদের ক্রসে ফাহিম গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।   অন্যদিকে, ৬১ মিনিটে সান মারিনোর কাপিচ্ছিয়োনির একটি ভয়ংকর ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা।   ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ফের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন সেই তপু বর্মণ। ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হামজার নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট জটলায় বিশ্বনাথ ঘোষের সাইড ভলিতে মাথা ছুঁইয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার। শেষ মুহূর্তে এমন রোমাঞ্চকর গোলের পর বিজয়ের আনন্দে জার্সি খুলে বুনো উদযাপনে মেতে ওঠেন তপু।   গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাঁধভাঙা উল্লাসের মধ্য দিয়ে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লিড ধরে রেখে ইউরোপের মাটিতে এক স্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ৫, ২০২৬ ১৫:৫৭
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে সবচেয়ে প্রবীণ ও কনিষ্ঠ ফুটবলার কে, জানেন?

আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের বয়সের নানা রেকর্ড। একদিকে ৪০ পেরিয়েও মাঠ মাতাতে প্রস্তুত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।   বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনের বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। ফলে তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন।    তবে গোলরক্ষকদের বাইরে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন।   রোনালদো এবার রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। একই কীর্তি গড়তে পারেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াও।   অন্যদিকে, এবারের আসরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফুটবলার হচ্ছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন বেলজিয়ামের মাইক পেন্ডার্স। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ২০ বছর ৩১৫ দিন। অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হবেন কানাডার আলফনসো ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিন তাঁর বয়স হবে ২৫ বছর ২২১ দিন।   খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের মধ্যেও বয়সের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট হবেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ কোচ। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৭৮ বছর ২৫৭ দিন।   অন্যদিকে, জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান থাকবেন সবচেয়ে কম বয়সী কোচদের তালিকার শীর্ষে। বিশ্বকাপ শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর ৩২৩ দিন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১, ২০২৬ ২২:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ ফুটবল উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৪ হাজার দর্শক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে।   এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।   এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।   আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ১৯:৩৯
২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজয়ের পর ব্রাজিল দলের হতাশা । ছবি: ফিফা আর্কাইভ
ব্রাজিলের ইতিহাসভাঙা পরাজয়, আর্জেন্টিনার বিদায় ও প্রেস অফিসারের লাল কার্ডে রঙিন ইতিহাস

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০তম আসরকে ঘিরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাধিক অপ্রত্যাশিত ও আলোচিত ঘটনা ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। ১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ মহাযাত্রার ধারাবাহিকতায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই টুর্নামেন্টে ফুটবল ইতিহাসের নানা স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়। পেলে, গারিঞ্চা, দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের ফুটবল-ঐতিহ্যের ধারায় ২০১৪ বিশ্বকাপ যোগ করে নতুন এক অধ্যায়।   এই আসরে সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল স্বাগতিক ব্রাজিলের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার। এর মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু ফাইনাল থেকেই ছিটকে যায়নি, নিজেদের মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদও গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ শিরোপা জয় করে।   এই টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় মাইলফলক স্থাপিত হয়, জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে দেন।   আর্জেন্টিনার ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দলকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। এই ফলাফলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।   ২০১৪ বিশ্বকাপে ফিফা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। প্রথমটি ছিল ভ্যানিশিং স্প্রে, যার মাধ্যমে ফ্রি কিকের সময় রক্ষণভাগের দেয়ালের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো। দ্বিতীয়টি ছিল গোললাইন প্রযুক্তি, যেটি ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত করত বল সম্পূর্ণভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না।   বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে ব্রাজিল বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় পর্যন্ত ৩৫টি প্রকল্প অসমাপ্ত ছিল। কিছু কাজ বিলম্বিত হয়, কিছু কাজ বন্ধ থাকে এবং কিছু শুরুই হয়নি। নাটালের এস্তাদিও দাস দুনাস স্টেডিয়াম প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফায়ার ব্রিগেডের নিরাপত্তা অনুমোদন পায়।   প্রস্তুতিপর্বে দুর্ঘটনাও ঘটে। বেলো হরিজন্তেতে একটি ওভারপাস ধসে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় ফিফার তৎকালীন মহাসচিব জেরোম ভালকে ব্রাজিলের কাজের গতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে তিনি ফিফা থেকে বহিষ্কৃত হন।   বিশ্বকাপের মোট ব্যয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা তখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এ ব্যয়কে কেন্দ্র করে ব্রাজিলজুড়ে দুর্নীতি ও জনসেবায় অর্থের ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভও হয়।   ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবার দুই দেশের হয়ে মুখোমুখি হওয়া দুই ভাই কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং এবং জেরোম বোয়াটেং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই গ্রুপে মুখোমুখি হন। ঘানা ও জার্মানির এই ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়।   ২১ জুন কাস্তেলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই ভাই প্রথমার্ধ পর্যন্ত একসঙ্গে মাঠে ছিলেন। বিরতিতে জেরোম বোয়াটেংকে বদলি করা হয়। ম্যাচ শেষে জার্মানি গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে, অন্যদিকে ঘানা গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নেয়।   ইতালি ও উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘটে বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের শেষ দিকে জর্জিও কিয়েল্লিনির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে।   রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় খেলা চালু থাকে এবং কিছুক্ষণ পর ডিয়েগো গডিনের গোলে উরুগুয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়, ইতালি বাদ পড়ে।   পরে ভিডিও বিশ্লেষণে ফিফা সুয়ারেজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো কামড় সংক্রান্ত শাস্তি।   ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশে তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য তৈরি হয়। সুইডেনের একটি দোকানে তার দাঁতের আদলে বোতল ওপেনার এবং একটি সেক্স টয় শপে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য বাজারে আনার ঘটনাও আলোচিত হয়। বেটিং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর বাজি ধরার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ১৬৭ জন ব্যক্তি অংশ নেয় এবং বিজয়ীরা ১৭৫ গুণ লাভ পান।   ২০১৪ বিশ্বকাপে বিরল এক ঘটনা ঘটে ব্রাজিল ও চিলির ম্যাচে। সাধারণত খেলোয়াড় বা কোচ লাল কার্ড পেলেও এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেস অফিসার রদ্রিগো পাইভা। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে ব্রাজিলের ফ্রেড ও চিলির গ্যারি মেদেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন পাইভা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক চিলিয়ান খেলোয়াড়কে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।   ইংলিশ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। পরবর্তীতে ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করে এবং জরিমানা আরোপ করে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।   ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে ফাইনালের টিকিট কিনেও ম্যাচে যেতে পারেননি জোয়েদির বেলমন্তে, কারণ তিনি অসুস্থ মায়ের পাশে ছিলেন। সেই টিকিট তিনি ৬৪ বছর ধরে সংরক্ষণ করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে তিনি সেই ঐতিহাসিক টিকিট ফিফাকে দান করার প্রস্তাব দেন এবং বিনিময়ে দুটি ফাইনাল টিকিট পান। তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সেই দুইটি টিকিট হারিয়ে ফেলেন।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৮:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
ইউটিউবে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

ভারত ও বাংলাদেশে আগামী ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে যখন শঙ্কা চলছে, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিনিয়োগ করা একটি ইউটিউব চ্যানেল টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সবগুলোই বিনামূল্যে দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে. তবে এই দারুণ সুবিধাটি শুধুমাত্র ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তরাই উপভোগ করতে পারবেন. সম্প্রতি সৌদি প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন আল নাসরের ফুটবলার রোনালদো ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া কোম্পানি ‘লাইভমোড’-এ বিনিয়োগ করেছেন এবং এই কোম্পানির অংশীদারত্বে থাকা ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘কেজটিভি’ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে।   ব্রাজিলিয়ান ইউটিউবার ও স্ট্রিমার কাসিমিরো মিগুয়েল লাইভমোড-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব করে ২০২২ সালে কেজটিভি চালু করেন, যা পূর্বেও বিশ্বকাপসহ অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্ট কাভার করেছে. আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কেজটিভি ব্রাজিলের নাগরিকদের ফোরকে (4K) রেজোলিউশনে ম্যাচ স্ট্রিম করার পাশাপাশি তরুণ ভক্তদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনের পরিকল্পনা করেছে।   ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভারত বা বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা এই ইউটিউব কিংবা টুইচ চ্যানেল খুললেও সরাসরি সম্প্রচারকৃত ম্যাচগুলো দেখতে পারবেন না, কারণ লাইভমোড কেবল ব্রাজিলিয়ান অঞ্চলের জন্যই ডিজিটাল স্বত্ব কিনেছে. তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভক্তদের জন্য সুখবর হলো— আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না এলেও জানা গেছে, ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো সম্প্রচারের দৌড়ে এগিয়ে আছে ‘জি’. তারা মূলত নিজেদের স্পোর্টস চ্যানেল এবং ‘জিফাইভ’ অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচগুলো সম্প্রচার করতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৯, ২০২৬ ২৩:১৭
ছবিঃ সংগৃহীত
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, দলে জায়গা হয়নি দুই আলোচিত তারকার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রত্যাশামতোই দলকে নেতৃত্ব দেবেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে জায়গা দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট।   কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি এনে দিয়েছিলেন মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সেটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালেও তিনি থাকছেন দলের মূল কাণ্ডারি হয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুবাদে উত্তর আমেরিকার পরিবেশ মেসির জন্য বেশ পরিচিত। নিজের চেনা আঙিনায় শিরোপা ধরে রাখার এই লড়াইয়ে মেসি কতটা জ্বলে ওঠেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার কাঁধে ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত। মেসির পাশে দিবু মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজরা মিলে আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের দল ঘোষণার পর কিছু চমক বা হতাশা থাকেই। স্কালোনির এই ২৬ জনের স্কোয়াডও তার ব্যতিক্রম নয়। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন চেনা মুখের বাদ পড়াটা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকলেও অভিজ্ঞদের ভিড়ে আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি সম্ভবত মার্কোস আকুনিয়ার বাদ পড়া। কাতার ২০২২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং লেফট-ব্যাক পজিশনে দারুণ খেলা এই ডিফেন্ডারকে এবার স্কোয়াডে রাখেননি স্কালোনি। মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতে এবং দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতেই আকুনিয়াকে বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কোচকে। স্কালোনির এই স্কোয়াডে কাতার বিশ্বকাপের মূল কাঠামোটি সযত্নে ধরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গোলবার সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে যথারীতি এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্টিনেজের বিশ্বস্ত হাতে। অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা গোলরক্ষক যে বড় মঞ্চের খেলোয়াড়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। রক্ষণভাগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে নিয়ে গড়া হয়েছে দুর্ভেদ্য দেয়াল।   অন্যদিকে, স্কালোনির দর্শনের একটি বড় দিক হলো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে দলকে গতিশীল রাখার দায়িত্ব থাকবে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাঁধে। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতিশীল নন, বরং তারা নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছেন। এই প্লেমেকারদের সাথে রিয়াল বেটিসের জিওভানি লো সেলসো এবং বায়ার লেভারকুজেনের এক্সেকিয়েল পালাসিওসের উপস্থিতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে।   আক্রমণভাগে মেসির সাথে জুটি বাঁধবেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। এই পরীক্ষিত ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজের মতো তরুণ রক্ত দলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ—সবকিছুই তিনি জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চাপ যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ফুটবলের ইতিহাসে কেবল ইতালি ও ব্রাজিল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। সেই বিরল রেকর্ডের ভাগিদার হতে হলে স্কালোনিকে তার ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস আবারও দেখাতে হবে। স্কালোনি বরাবরই দলগত ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এই ২৬ জনকে বাছাই করার ক্ষেত্রেও তিনি খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস এবং দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র্যের কোনো বিকল্প নেই। স্কালোনির বাছাই করা এই স্কোয়াড সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা প্রস্তুত, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে কাগজ-কলমে আর্জেন্টিনা যে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।   একনজরে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা) হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই) হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই) নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ) গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট) লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার) নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা) ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই) নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স) রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি) ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ) জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস) এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন) অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল) এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)   ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি) হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো পাজ (কোমো) হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস) লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: মে ২৮, ২০২৬ ২৩:৪২
ছবি: সংগৃহীত
মাঠে নামার আগেই আলোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মার্ট বল ‘ট্রাইওন্ডা’

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। তবে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি শুধু খেলার উপকরণ নয়, বরং প্রযুক্তির এক অনন্য বিস্ময়।   তিন আয়োজক দেশের নামের সমন্বয়ে বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ডিজাইন তৈরিতেও রাখা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং—নীল, লাল ও সবুজ। তবে বলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নিখুঁত রেফারিং ও অফসাইডের সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ডিপ-সিম’ প্রযুক্তি এবং একটি ১৪ গ্রাম ওজনের ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ।   এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনো খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না—তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা যাবে। এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, বাউন্স বা গতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে।   এই স্মার্ট বলটির আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও এই বলের সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ২৩:৫
পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | ছবি: সংগৃহীত
আয়ের দিক থেকে ফোর্বসের শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ফোর্বসের জরিপে আয়ের দিক থেকে ফুটবল জগতের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা টানা চতুর্থ এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফোর্বসের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যাথলেট নির্বাচিত হয়েছেন।   গত ১২ মাসে কর এবং এজেন্ট ফি বাদে রোনালদোর আনুমানিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে। এর মধ্যে সৌদির ক্লাব আল নাসরের খেলার চুক্তি থেকে তিনি পেয়েছেন ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাকি ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এসেছে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাত থেকে।   ফোর্বসের আয়ের তালিকায় ষষ্ঠবার শীর্ষে উঠে রোনালদো এখন বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের পাশে স্থান করে নিয়েছেন। এই তালিকায় রেকর্ড ১১ বার শীর্ষে থেকে তার ওপরে আছেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডস।   ৩০ কোটি ডলার আয়ের মাধ্যমে রোনালদো মুষ্টিযোদ্ধা ফ্লয়েড মেওয়েদার জুনিয়রের ২০১৫ সালের আয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। ১৯৯০ সালে ফোর্বস অ্যাথলেটদের আয়ের তালিকা প্রকাশ শুরুর পর এটি এক বছরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আয়ের অনন্য রেকর্ড।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২২:৪২
চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার প্রস্তুতিতে নেইমার | ছবি: সংগৃহীত
নেইমারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা কাটল, বিশ্বকাপের আগে চোট গুরুতর নয়

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানা গেছে।   বিশ্বকাপের দলে নেইমারের নাম ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই চোটের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।   দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক চোটে ভোগার কারণে নেইমারকে নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে। অতীতেও বড় ধরনের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।   এমন পরিস্থিতিতে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিল জানায়, বর্তমান চোট গুরুতর নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।   দলীয় মেডিকেল স্টাফও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে আর কোনো ম্যাচে না খেলার বিষয়েও ভাবছেন নেইমার বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ২৩:৩৩
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলে দ্রুত মিলবে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0