ইরান

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
‘আন্দোলনের অগ্রসেনানী’, হিজবুল্লাহকে ভূয়সী প্রশংসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমের কাছে একটি বিশেষ কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন।  ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা কর্তৃক প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি উল্লেখ করেন যে, হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব বর্তমান সময়ে এই আন্দোলনের অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করছে। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর নেতারা "ইসলামি বিশ্বের চরম শত্রুদের" বিরুদ্ধে আপসহীন নীতি, অটল মনোবল এবং ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।  মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর এই অবস্থানকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে অভিহিত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার
হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসনে লন্ডনে বসছে বিশ্ব নেতাদের সম্মেলন

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপে নামছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ঘোষণা করেছেন, এই রুটে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারের নেতৃত্বে লন্ডনে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা যুক্তরাজ্যের নেই। বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।  তিনি বলেন, "জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় কমানোর একমাত্র উপায় হলো উত্তেজনা প্রশমন করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক নিশ্চিত করা।" এই সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সকল ধরনের কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পাইলটদের ঘাঁটিতে বিধ্বংসী হামলা ইরানের, একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণীয় এক আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জন মার্কিন পাইলট এবং ফাইটার জেট ক্রুদের আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।  তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনার ওপর তাদের অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী অভিযান। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানে একটি মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্রমাগত এই হামলার মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ব্যারাক ও ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি
ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ চেষ্টায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়: ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৩৩ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   মেয়র মামদানি বলেন, একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই টেকসই সমাধান আনতে পারে না। তিনি এই যুদ্ধকে ‘নিরর্থক’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।   তার মতে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের যুদ্ধনীতি অতীতেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এমন ব্যয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   তিনি উল্লেখ করেন, এই বিপুল অর্থ যদি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হতো, তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিক্ষাঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু যুদ্ধনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাতারে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একটি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি লক্ষ্যভেদ করে ট্যাঙ্কারটিতে আঘাত হানে।   মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি কাতারএনার্জি-এর ইজারা নেওয়া একটি তেলবাহী জাহাজে আঘাত করে।   হামলার পর ট্যাঙ্কারটির ২১ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর আগে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগে। তবে জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদে আছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবেশগত ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন এগোচ্ছিল, তা প্রায় অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার পতনের ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী অভিযান শেষ করবে বলে তিনি আশাবাদী। বক্তব্যে ট্রাম্প কেবল ইরান নয়, নিজের মিত্র দেশগুলোর প্রতিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে নিজেদের তেল সংগ্রহের দায়িত্ব এখন তাদেরই নিতে হবে; যুক্তরাষ্ট্র আর এ কাজে কাউকে পাহারাদার হিসেবে সাহায্য করবে না। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে এক বৈঠকের পর পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের এই ঝটিকা সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসতে যাচ্ছে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ইরানের যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন: ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।  দেশটির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল- আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে হয়তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও জড়িয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন কোনোভাবেই ইরানের যুদ্ধে পা বাড়াবে না। তিনি বলেন, “ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাজ্য হয়তো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমরা তা করব না।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কেবল ‘সুস্পষ্ট এবং শান্ত নেতৃত্ব’ দিতেই প্রস্তুত।  এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ অবসানের আভাস: বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, চাঙ্গা শেয়ারবাজার

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির বার্তার আভাসে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত এবং ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, বিপরীতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই মন্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।  আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১.৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ১০০ ডলারের নিচেও স্পর্শ করেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই-এর দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তেহরানও যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল। শান্তির এই সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবার এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক রেকর্ড ৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের নিক্কেই ৫.২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ২ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের প্রধান বাজার লন্ডন, প্যারিস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের সূচকগুলোও ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা এখনো কিছুটা সতর্ক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিঘ্নিত। স্পার্টা-র বাজার বিশ্লেষক নিল ক্রসবি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি মানেই দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নয়। অবকাঠামোগত ও কারিগরি কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি : রয়টার্স
নির্দিষ্ট শর্ত মানলে সংঘাত অবসানের সদিচ্ছা প্রকাশ করল ইরান

ইরান জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ করার জন্য তাদের সদিচ্ছা রয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপে এই মন্তব্য করেন ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র সংবাদ প্রতিবেদক জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, খবর প্রকাশের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   তবে অনেক বিশ্লেষক ইরানের এই সদিচ্ছাকে পুরোপুরি আশার আলো হিসেবে দেখছেন না। জন সাডওয়ার্থ বলেন, যুদ্ধ বন্ধের ‘সদিচ্ছার’ সঙ্গে কঠোর শর্তও জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না এ ধরনের নিশ্চয়তা ইরান চাচ্ছে।   এর আগে গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানও একই ধরনের আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছিল।   একই সময়ে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন হুমকি জারি করেছে। তারা পাল্টা আঘাতের পরিধি সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে।   এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে, যেখানে ইরানের সদিচ্ছা ও শর্তের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে মুহুর্মুহু হামলা: গুরুতর আহত অন্তত ২৫

আজ সকালে ইসরায়েলের অন্তত ২০টি স্থানে অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থানগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বেনি ব্রাক এলাকায় হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী এক বালক এবং ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  হামলার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী
হরমুজ প্রণালীতে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের ৬ জাহাজ মুক্ত

দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ।  বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী। রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা ও তেহরান জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেও যুদ্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ইরানের অসন্তোষের কথা লুকাননি।  তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ইরানের ভাই। দুর্দিনে এক ভাই আরেক ভাইয়ের পাশে দাঁড়াবে—এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আমরা নিন্দারও প্রত্যাশা করি।" তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন। জলিল রহীমি জাহানাবাদী আমেরিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের উসকানিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার সময়েই এই আগ্রাসন শুরু করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, "আমেরিকা এখন পালানোর পথ খুঁজছে।"  সাধারণ জনগণের ওপর হামলা, স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বোমা বর্ষণকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মসজিদ কি উগ্রবাদের আখড়া? শিশুরা কি তাদের জন্য হুমকি ছিল?" ইরানি রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, তারা কোনো প্রতিবেশী দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছেন না, বরং আমেরিকান ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ইরানের প্রযুক্তি বা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়ে এখন পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছে, যাতে ইরান মোটেও ভীত নয়।  জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "জাতিসংঘ এখন শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিপদে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা বৃথা।"

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান ইস্যুতে ইউরোপের অনীহা—যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে মিলছে না প্রত্যাশিত সাড়া

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর কাছে একাধিক সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা চেয়েছেন।   এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রভাব আরও জোরদার করা।   তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই সীমিত। বেশিরভাগ দেশই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশগ্রহণ বা সমর্থন দিতে অনীহা দেখিয়েছে। তারা সীমিত প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে রাজি থাকলেও, সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন কোনো পদক্ষেপে যুক্ত হতে চায় না। বরং ইউরোপের পক্ষ থেকে বারবার পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—যা ইউরোপীয় দেশগুলো এড়াতে চায়। পাশাপাশি, অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতও সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে তারা কৌশলগতভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।   এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের কিছু অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ এখন অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী এবং সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হচ্ছে না। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
ইরান সংঘাতের খরচ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বাজেট প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য প্রায় দুইশ’ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা, এবং অর্থ জোগাড়ের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়টি রিপাবলিকানরা বিবেচনা করছে।   প্রতিবেদনগুলো জানাচ্ছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটি ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে বিষয়টি সহজ নয়। নির্বাচনের বছর স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে ব্যয় কমানো রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে যে, বিদেশে সামরিক ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।   রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, সরাসরি সুবিধা কমানো নয়। তারা মূলত জালিয়াতি ও অপচয় বন্ধ করে খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অপব্যবহার শনাক্ত করে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব, এমনটাই তাদের যুক্তি।   বাজেট কমিটির নেতৃত্বে থাকা এক নেতা স্বাস্থ্য খাতে পূর্বের কিছু প্রস্তাব আবার সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কিছু অতিরিক্ত অর্থপ্রদান কমানোর পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এতে সরকারের কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও অনেক মানুষের স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা কমে যেতে পারে।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তবে এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।   এই বাজেট পাস করানোর জন্য রিপাবলিকানরা বিশেষ একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, যাতে বিরোধীদের প্রতিরোধ কমানো যায়। তবে তাদের নিজের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী নেতারা নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত।   অন্যদিকে দেশীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট চাপ দিচ্ছেন। তবে বর্তমান নেতৃত্ব বিমা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থার ব্যয় কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য সমান মূল্য নির্ধারণ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো। কিছু অঞ্চলে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সুবিধা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।   বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তারা বলছে, বিদেশে সামরিক ব্যয়ের জন্য দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কমানো হচ্ছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে জরুরি ভাষণ দেবেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট জানিয়েছেন, বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে তিনি এই ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভাষণটি সম্প্রচারিত হবে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেভেট উল্লেখ করেন, ইরান ইস্যুতে সর্বশেষ পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতেই এই ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে।   এর আগে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। যদিও শুরুতে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সময় গড়ালেও সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।   সংঘাতের শুরুর দিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জানা গেছে, কেবল মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করাকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ব্যালকনিতে নতুন নির্বাচিত পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান, ৮ মে ২০২৫। ছবি: এপি
পোপ লিও চতুর্দশ ট্রাম্পকে আহ্বান: ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে সরে আসুন

ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।   রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।”   তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।   সূত্র: আল–জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে চায় ভবিষ্যতের হামলার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা

ইরান চলমান সংঘাতের অবসানে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়া নিশ্চিত করতে চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা-র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, “সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রয়েছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার জন্য অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা থাকতে হবে।”   ইরান দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তাদের জন্য প্রধান শর্ত।   ইরানের যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে ৩.৬ শতাংশ উত্থান দেখিয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও দেশেই অবস্থান করছেন

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না।   রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।”   তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।   এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
বি-৫২ বোমারু বিমান
ইরানে এই প্রথম বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দেশটির ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে বি-৫২ বোমারু বিমানের মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু’র বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, আকাশপথে নিজেদের আধিপত্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জেনারেল কেইন বলেন, “আমরা সফলভাবে প্রথম ওভারল্যান্ড (স্থলভাগের ওপর দিয়ে) বি-৫২ মিশন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে শত্রুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছি।” মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন আরও জানান, গত ৩০ দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।  তিনি দাবি করেন, ইরানের শক্তি খর্ব করতে এবং দেশটির সীমান্ত ছাড়িয়ে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন যৌথ বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানি নৌবাহিনীর ১৫০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, তবে সেগুলো প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।  এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা নয়, কেবল বার্তা বিনিময় হচ্ছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যাকে কোনোভাবেই 'কূটনৈতিক সংলাপ' বলা যায় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এই সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে তেহরানের যথেষ্ট আপত্তি ও সংশয় রয়েছে। ইরানের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই পরোক্ষ যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ইরান একে কেবল 'বার্তা বিনিময়' বলে অভিহিত করছে, তবুও নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ সচল রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ট্রাম্পের সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ: নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনড় ফ্রান্স

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে এলিসি প্যালেস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, "প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্স তার অবস্থানে অনড় রয়েছে, এখানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।" ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া দেখালো প্যারিস।  ওই পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ফ্রান্স "একদমই সাহায্য করছে না" এবং সামরিক সরঞ্জামবাহী মার্কিন বিমানগুলোকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যে তারা স্তম্ভিত। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এমন টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে ইরান? যা জানালেন ফিফা সভাপতি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো।  উদ্ভূত রাজনৈতিক জটিলতা এবং নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন—ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রধান বলেন, “ইরান বিশ্বকাপে থাকছে। আমাদের কাছে অন্য কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই।” গ্রুপ পর্বে ইরানের অধিকাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও দুই দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তেহরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা ও জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে দেশটিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পরপরই ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোতে জাতীয় দলের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা বিশ্বকাপের আসরে ইরানের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। ফিফার এই অনড় অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয়, তেহরান তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0