ইরান

ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে
‘ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে’, খাবার সংকটে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নাবিকের স্ত্রীর ক্ষোভ

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তা গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, জাহাজটি সমুদ্রে যে সময় কাটিয়েছে, তা “যথেষ্ট দীর্ঘ নয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, শিগগিরই অন্য একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে।   শুক্রবার নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পের কাছে জাহাজটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি উদ্বেগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন বহনকারী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কয়েক মাস ধরে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।   রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ২৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা সমুদ্রে রয়েছে। কোনো বন্দরে না থেমে ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকার ঘটনাও আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই ডিপ্লয়মেন্ট নিয়ে নাবিকদের পরিবার এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে জাহাজের কয়েকজন সদস্যের গুরুতর মানসিক সংকটে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। একজন নাবিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই।   জাহাজের খাবার, পানি, স্যানিটেশন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ বলেছেন, দীর্ঘদিন বন্দরে ভিড়তে না পারায় ক্রুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনের বড় অংশকে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।   ট্রাম্পও একই অবস্থান নিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আব্রাহাম লিংকন “যথেষ্ট দীর্ঘ সময়” সেখানে ছিল না। নাবিকদের পরিবার উদ্বিগ্ন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার জানা মতে তারা উদ্বিগ্ন নয়। তিনি আরও জানান, জাহাজটি শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে এবং তার জায়গায় আরেকটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠানো হচ্ছে।   ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি ভিয়েতনামের দা নাং বন্দরে অবস্থান করেছিল।   আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান ডিপ্লয়মেন্ট শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে। প্রথমে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছিল। পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এটি আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অপারেশন এলাকায় মোতায়েন ছিল।   দীর্ঘ ডিপ্লয়মেন্টের পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য, খাবার, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। তারা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ফলে সামরিক সদস্যদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেটিও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।   ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরনের নিমিৎজ শ্রেণির এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে যুদ্ধবিমান পরিচালনার পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মাধ্যমে আকাশ ও সমুদ্রপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।   এখন ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর আব্রাহাম লিংকন কখন নিজ ঘাঁটি সান ডিয়েগোতে ফিরবে, সেটিই জাহাজে থাকা হাজারো নাবিক ও তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি সম্প্রতি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরান তত বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানকে আক্রমণের কথা ভাবলে তার জন্য কী ভয়াবহ 'মূল্য' চোকাতে হবে—বিশ্বকে সেই বার্তা দেওয়াও তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য।   সাক্ষাৎকারে নাকদি জানান, গত পাঁচ মাসের এই সংঘাতে ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তাদের মতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল। যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কারণ সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান এমন একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরাশক্তি তাদের আক্রমণ করার সাহস না পায়। সংঘাত দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেওয়ার এই কৌশলের মাধ্যমে তেহরান মূলত নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ রাখতে চাইছে।   যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করে নাকদি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরাসরি চরম বিপদের মুখে পড়বে। তবে ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর কোনো প্রয়োজন তাদের নেই; কারণ ইরানের মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন ও তাদের অটুট প্রতিরোধ ব্যবস্থা।   ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বিষয়েও প্রবল আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেন এই জ্যেষ্ঠ আইআরজিসি কমান্ডার। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তা যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। যুদ্ধ যদি আরও কয়েক বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরান রকেট ছুড়তে সক্ষম বলে তিনি উল্লেখ করেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক স্তরে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। উল্টো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পরস্পরবিরোধী দাবি অব্যাহত রয়েছে। এই সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও মারাত্মক অনিশ্চয়তা ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন
ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, প্রতিরক্ষার বদলে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলে জোর

ইরান তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামোতে ব্যাপক রদবদল আনছে এবং দেশের ভেতরে-বাইরে শত্রুদের বিরুদ্ধে 'আক্রমণাত্মক' ব্যবস্থা নিতে কট্টরপন্থীদের শীর্ষ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নতুন 'আক্রমণাত্মক নীতি' বাস্তবায়নের জন্য ছয়জন প্রবীণ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরান তাদের যুদ্ধপূর্ব রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে শত্রুর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।    ক্লিনগেনডাল ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাংকের হামিদরেজা আজিজি সিএনএন-কে বলেন, "আক্রমণাত্মক অভিযান, ঐক্যবদ্ধ কমান্ড এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া থেকে বোঝা যায় যে, ইরানের নেতৃত্ব তাদের ঐতিহ্যগত সতর্কতামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চাইছে।"   এই রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিয়োগ পেয়েছেন আইআরজিসি-র প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আহমাদ ওয়াহিদি। খামেনি তাকে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াহিদির ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং বিদেশে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং খামেনির যুদ্ধপন্থী অবস্থানের প্রধান রূপকার হিসেবে মনে করা হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় হস্তক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার সমর্থক হিসেবে ওয়াহিদির পরিচিতি রয়েছে। তার এই নিয়োগের ফলে ইরান আরও কট্টর অবস্থানে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ওয়াহিদি তার কাজে আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মহসিন রেজাইয়েরও সমর্থন পাবেন, যাকে সম্প্রতি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান করা হয়েছে। রেজাই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনারা বিপদে পড়বে। এদিকে, ওয়াহিদি ও রেজাইয়ের এই নিয়োগকে কট্টরপন্থার প্রতি তেহরানের চরম প্রতিশ্রুতির প্রমাণ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্স-এ তারা জানায়, "ইরানি শাসকগোষ্ঠী সন্ত্রাসের উপাসনা করে এবং এর কারিগরদের পুরস্কৃত করে সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসায়।"   অভ্যন্তরীণ বিষয়েও আরও কঠোর শাসনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খামেনি আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের নতুন প্রধান হিসেবে হোসেইন তায়েবকে নিয়োগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বাসিজ বাহিনীই এ বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, যেখানে অন্তত ৭,০০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়; যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। হোসেইন তায়েব এর আগেও বাসিজের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ২০১০ সালের বিক্ষোভে হত্যা ও গ্রেপ্তারের কারণে তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।   এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এল, যখন গত প্রায় ছয় মাস ধরে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বাবার (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) কম্পাউন্ডে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পরই তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। গত রোববার ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে তাকে সুস্থ দেখানোর চেষ্টা করলেও, ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি সংঘাতের আগের। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার'-এর মতে, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়ন। এর মাধ্যমে খামেনি ও তার মিত্ররা নিজেদের ক্ষমতা আরও সুসংহত করে যুদ্ধবিরতি চাইতে থাকা উদারপন্থীদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
Mohsen Rezaee Secretary of the Supreme National Security Council of Iran
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে, কে এই কট্টরপন্থী রেজাই?

প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার। ভোটের রাজনীতিতে সফল হতে পারেননি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কখনোই হারিয়ে যাননি মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া সেই প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা এবার দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যে তার এই উত্থানকে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।    রোববার (৯ আগস্ট) ৭১ বছর বয়সী রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিনিধিত্বও করবেন এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোয়।    রেজাইয়ের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হন তিনি। এরপর টানা ১৬ বছর, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়ই বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্বে ছিলেন রেজাই।    সেই যুদ্ধই তাকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তার নেতৃত্বের সময় আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেও বিস্তার লাভ করে।    ১৯৯৭ সালে সামরিক দায়িত্ব ছাড়ার পরও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে যাননি রেজাই। তাকে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি করা হয়। সংসদ ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ইরানের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পরিষদের।   পরে অর্থনীতি নিয়েও সক্রিয় হন রেজাই। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার থেকে ধীরে ধীরে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ভেতরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।    তবে জনগণের সরাসরি ভোটের পরীক্ষায় রেজাইয়ের সাফল্য নেই। ২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটের মাত্র দুই দিন আগে তিনি সরে দাঁড়ান। ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০১৩ সালে প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি।    অর্থাৎ ব্যালট বাক্স তাকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পৌঁছে দিতে পারেনি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তার প্রভাব কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।   সেই রেজাই এখন এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে ফিরলেন, যখন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা নিয়োগগুলোতে পুরোনো এবং কট্টরপন্থী বিপ্লবী গার্ড নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। আনুগত্য, অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এই মুহূর্তে তেহরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।    রেজাই নিজেও দায়িত্ব নেওয়ার পর কট্টর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, হুমকির মুখে ইরান তার ‘জাতীয় অধিকার’ থেকে পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তার এমন বক্তব্য নতুন দায়িত্বে তার অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।    রেজাইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কও পুরোনো। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। আর্জেন্টিনার তদন্তে ওই হামলার সঙ্গে রেজাইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। ইন্টারপোল ২০০৭ সালে তারসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেজাই ও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।    তার পুরোনো কিছু বক্তব্যও আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে রেজাই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন সেনাদের বন্দি করে তাদের মুক্তির বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করা সম্ভব। বক্তব্যটি সে সময়ও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল।   এখন যে কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন রেজাই, সেটি ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের কাজ করে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট, সামরিক নেতৃত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অধীন।   ফলে রেজাইয়ের নিয়োগ শুধু একজন প্রবীণ কর্মকর্তার নতুন পদ পাওয়া নয়। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এমন একজনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনল, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামরিক ইতিহাস অনেক বেশি শক্তিশালী।   ভোটে তিনি কখনো প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধের তরুণ কমান্ডার থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সেই মোহসেন রেজাই এখন আবার ইরানের যুদ্ধ, নিরাপত্তা ও কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোর একটির দায়িত্বে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান আপাতত নিরাপত্তা নীতিতে অভিজ্ঞ ও কট্টর পুরোনো নেতৃত্বের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে  ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!
ইরানের হুমকির ভয়ে লুকিয়ে বিমান ছেড়ে ক্যাটারিং ট্রাকে চেপে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ছাড়ার সময় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রথমে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়ছেন, তা গোপন রাখতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি বিভ্রান্তিমূলক পরিকল্পনা করেন।   পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রকাশ্যে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই তিনি বিমানে ওঠেন। কিন্তু পরে বিমানের অন্য পাশ দিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ একটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেই সামরিক বিমানটি ছিল এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ, যা আকারে ছোট হলেও প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহৃত বিমানের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীও ওই গোপন ফ্লাইটে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ওই বিমানে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রাখা হয়েছিল। ফলে বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ট্রাম্প ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    গোপন সামরিক বিমানে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিমূলক ফ্লাইটটি পৌঁছানোর প্রায় নয় মিনিট আগেই ট্রাম্পের প্রকৃত বিমান সেখানে অবতরণ করে। পরে তাঁকে আবার প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়। কীভাবে তাঁকে আবার ওই বিমানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প তুরস্কে যাওয়ার সময় কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বিমানটি নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিমানটিকেই পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।    হোয়াইট হাউস গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও নতুন কাতার-দেওয়া বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের এই গোপন অভিযান সামনে এলো। প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও অবস্থান গোপন রাখতে এমন জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় নিরাপত্তার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হুমকিতে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে ছিল ভিন্ন নাটক

ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ।   বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
U.S. Senator Chris Murphy
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’: মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি।   এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তত দুর্বল হচ্ছে এবং ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তার মতে, এই সংঘাত দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন।   মারফি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।” যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে মার্কিন জনগণের ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।   যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ওপরও জোর দিয়েছেন মারফি। তার ভাষায়, আলোচনা থমকে থাকায় জলপথটি খুলে দেওয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ দিন দিন বাড়ছে।   এমনকি হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে একটি ‘খারাপ চুক্তিতেও’ সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই সিনেটর।   মারফি আরও বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করবেন তিনি। তবে সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে সমর্থন দেবেন।   তার বক্তব্যে মূল বার্তাটি স্পষ্ট—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তত বাড়বে। আর সেই সুযোগে ইরান কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ: মার্কিন কর্মকর্তা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে সরে আসাই সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট।   মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কেন্ট। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিল না এবং যুদ্ধের পক্ষে তিনি সমর্থন দিতে পারছেন না।    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হবে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এটিই ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে ভালো সুযোগ।   কেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন।    পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এমন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মকে পাঠানো এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা সমর্থনযোগ্য নয়।   তবে কেন্টের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। তার পদত্যাগের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন্টের নিরাপত্তা মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের নীতির পাশাপাশি এর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    কেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য মূলত যুদ্ধের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে দ্রুত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে তার অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি। ছবি: সংগৃহীত
যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ইরান: লারিজানি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই জলপথের ওপর বর্তমান নিয়ন্ত্রণ থেকে তেহরান কোনো অবস্থাতেই সরে আসবে না।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরানের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারণী সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের প্রধান আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি এবং ইরান এর পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্ত পূরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে।   ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ একটি "অপরিবর্তনযোগ্য বাস্তবতা"। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারবে না এবং বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের চেষ্টা হলে চলমান সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।   এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক শর্ত দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক চাপ বন্ধ, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং সাম্প্রতিক হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ আরও কয়েকটি দাবি। এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।   বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, উৎপাদন বাড়াতে কড়া নির্দেশ
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, উৎপাদন বাড়াতে কড়া নির্দেশ

ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের মজুদ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ফুরিয়ে আসছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সমরাস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের গতি ব্যাপকভাবে বাড়াতে দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে পেন্টাগন। গত শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা পেন্টাগনের এক গোপন মেমোর বরাতে এই উদ্বেগজনক চিত্রটি প্রকাশ্যে এসেছে।   উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ গত বুধবার শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের কাছে একটি কড়া নির্দেশনাসংবলিত চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে এবং আগামী ২১ দিনের মধ্যে দ্রুত সরবরাহের জন্য একটি আগ্রাসী পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।   মেমোতে ফেইনবার্গ কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর ধরে চলা দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন চক্র এখন আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মসূচি ও উৎপাদনের সময়সূচি এখন নাটকীয়ভাবে দ্রুত করার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতাও জরুরিভিত্তিতে বাড়াতে হবে।   সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরই মূলত এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কংগ্রেসে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট পাস না হওয়া পর্যন্ত এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বেশ কঠিন। এর মধ্যেই পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস একাধিক দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও গোলাবারুদ প্রতিনিয়ত তৈরি করা হচ্ছে।   এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে হোয়াইট হাউসে প্রথাগত প্রতিরক্ষা ঠিকাদার এবং সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপগুলোর নির্বাহীদের এক জরুরি বৈঠকে ডাকা হয়। সেখানে চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, বোয়িং, অ্যান্ডুরিল ও পালানটিরের মতো নামিদামি কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়, কংগ্রেসনাল রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে যেন তারা সরাসরি লবিং করেন।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পেন্টাগন কম খরচের গোলাবারুদ থেকে শুরু করে থাড (THAAD) ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বাড়াতে একাধিক কাঠামোগত চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। তবে সিএসআইএস (CSIS)-এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকোর মতে, এগুলো মূলত প্রাথমিক সম্মতি, এখনও চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, ফেইনবার্গের মেমোটি সম্পূর্ণ বাস্তব একটি নথি এবং উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে শিল্প নেতাদের সঙ্গে কাজ করা প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল। এই মেমোর তথ্যগুলো ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে। সেনাবাহিনীও ইতোমধ্যে ১৩০০টির বেশি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। সিএসআইএস-এর হিসাব অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুদ যুদ্ধপূর্ব ২,২০০টি থেকে কমে ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে। থাডের সংখ্যাও ৪৫২ থেকে কমে ২৭৮-এর নিচে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার প্যাট্রিয়ট ও থাডের উৎপাদন বাড়াতে নর্থরপ গ্রুম্যান ও লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে।   লকহিড মার্টিনকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাক-৩ উৎপাদন তিন গুণ বাড়াতে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বিশাল চুক্তিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্ডুরিল, ক্যাস্টেলিয়নসহ কয়েকটি ডিফেন্স টেক কোম্পানির সঙ্গেও কাঠামোগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধকালীন এই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উৎপাদনের জন্য শিল্পখাতের সঙ্গে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে; নিয়মকানুনের বেড়াজালে আটকে রেখে তাদের স্বাভাবিক গতিকে কোনোভাবেই শ্লথ করা যাবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে। ছবি: সংগৃহীত
আড়ালে থাকার পর প্রথমবার ভিডিওতে দেখা গেল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে

দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন।   দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো।   মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।   সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে অবিলম্বে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।   শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অ্যাডনকের একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়েছে। হামলায় কেউ হতাহত হননি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে জাহাজটির নাম, কী ধরনের পণ্য বহন করছিল কিংবা কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনার কঠোর নিন্দা জানায় সৌদি আরব। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরানকে অবিলম্বে এ ধরনের হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।   সৌদি আরব আরও বলেছে, ইরানের অব্যাহত হামলার ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার পরিণতির দায় তেহরানকেই বহন করতে হবে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতও হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। আমিরাতের অভিযোগ, ইরানের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তেহরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আবুধাবি।    অ্যাডনকের তথ্যমতে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের জাহাজগুলো অন্তত ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন এই হামলা এমন সময় ঘটল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে সর্বশেষ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা

সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইরানে উদ্ধার হওয়া ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। গত ৪ ও ৫ আগস্ট উদ্ধার হওয়া এই যন্ত্রাংশগুলো বিশ্লেষণ করে এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা ইরানের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রটির গাইডেন্স সিস্টেম এবং থার্মাল প্রটেকশন আর্কিটেকচার নিয়ে এতদিন যে অস্পষ্টতা ছিল, তা এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।   বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ কেড়েছে ধ্বংসাবশেষে পাওয়া একটি ফোর-এলিমেন্ট কন্ট্রোলড রিসেপশন প্যাটার্ন অ্যান্টেনা বা সিআরপিএ (CRPA)। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিং একটি অতি সাধারণ অথচ কার্যকর কৌশল হলেও, এই সিআরপিএ প্রযুক্তির কারণে তীব্র জ্যামিংয়ের মুখেও ‘খাইবার’ তার লক্ষ্যপথে অবিচল থাকতে পারে। সাধারণ অ্যান্টেনার বদলে এটি একাধিক দিক থেকে আসা সংকেতের শক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ফলে আকাশপথে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও স্যাটেলাইট নেভিগেশনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা একেবারেই কম।   ক্ষেপণাস্ত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বহুমুখী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অসামান্য সক্ষমতা। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস (GPS) বা রাশিয়ার গ্লোনাস (GLONASS)-এর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ইউরোপের গ্যালিলিও (Galileo) এবং চীনের বেইদু (Beidou) নেটওয়ার্কের সুবিধাও একযোগে কাজে লাগাতে পারে। এর মানে দাঁড়ায়, সংঘাতের সময় শত্রুপক্ষ যদি নির্দিষ্ট কোনো স্যাটেলাইট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেও দেয়, তবুও বিকল্প উপায়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এর সাথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS) যুক্ত থাকায় দীর্ঘপথে বিচ্যুতির হারও ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসে। রাতের বেলা বা বৈরী আবহাওয়ায় কমান্ড সেন্টার কিংবা রাডার স্টেশনের মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে আরও বেশি ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির টার্মিনাল ফেজ বা উড্ডয়নের শেষ ধাপ। দাবি করা হচ্ছে, খাইবার-এর ট্রাইকনিক ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MaRV) বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় প্রচণ্ড দ্রুতগতিতে নিজের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। হঠাৎ উচ্চতা বা দিক পরিবর্তনের এই অভাবনীয় সক্ষমতার কারণে প্যাট্রিয়ট, থাড কিংবা অ্যারো-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর পক্ষেও এর গতিপথ অনুমান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সব সময় কতটা নিখুঁতভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত উপসংহার টানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ।   এদিকে, উদ্ধার হওয়া অ্যান্টেনার নকশার সঙ্গে চীনের একটি বাণিজ্যিক মাল্টি-জিএনএসএস অ্যান্টি-জ্যামিং সিস্টেমের দৃশ্যত মিল পাওয়া গেছে। তবে একে সরাসরি চীনের কোনো সামরিক সহায়তা হিসেবে দেখতে রাজি নন অধিকাংশ বিশ্লেষক। তাদের মতে, তেহরান সম্ভবত বেসামরিক বা বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তীতে নিজস্ব দক্ষতায় রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সরঞ্জামে তা সফলভাবে যুক্ত করেছে। এই ধ্বংসাবশেষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সমরাস্ত্রকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যকেই প্রভাবিত করবে না, বরং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের হিসাব-নিকাশেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
Iran, Oman deal ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। তবে এটি প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার চুক্তি নয় বলে স্পষ্ট করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এবং দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।   আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় এমন একটি নতুন কাঠামো নিয়ে কাজ হচ্ছে, যার আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের জলসীমা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং ওমানের জলসীমা দিয়ে বের হবে। তেহরানের দাবি, এটি গত ৬০ বছরের প্রচলিত নৌচলাচল ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।   তবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের প্রথম সচিব বেহনাম সাঈদি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলমান আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে নয়; বরং জাহাজ চলাচলের রুট ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ না করা, ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না করা, অঞ্চল থেকে সেনা না সরানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রশ্নই আসে না।   সাঈদির ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি কৌশলগত সম্পদ এবং প্রতিরোধের কার্যকর হাতিয়ার। বর্তমান আলোচনা যেন প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আলোচনা হিসেবে কেউ ভুলভাবে না বোঝে।”   তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে, সামরিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে না এবং নির্ধারিত বিধি মেনে সার্ভিস ফি পরিশোধ করতে হবে। ওমান ইরানের শর্ত মেনে নিলে চুক্তি হতে পারে বলেও জানান তিনি।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি মিল রেখে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।   বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এ জলপথের নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর এ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও নাকচ করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধের চাপ, দ্রুত কমছে অস্ত্রের মজুত, ট্রাম্প-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর  বৈঠক নিয়ে তোলপাড়
ইরান যুদ্ধের চাপ, দ্রুত কমছে অস্ত্রের মজুত, ট্রাম্প-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে তোলপাড়

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তর এ ধরনের দ্বন্দ্বের খবর অস্বীকার করেছে।    ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প জানতে পারেন যে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত কমে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে তীব্র আলোচনা হয়।   প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রের সীমিত মজুতই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আরও বড় সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের ভেতরে অস্ত্র সরবরাহ ও বাজেট নিয়ে জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।    তবে হোয়াইট হাউস এই খবরকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও অতীতে একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং মজুত সংকটের অভিযোগকে তিনি "মিডিয়ার তৈরি গল্প" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কিছু অস্ত্র ক্রয়ের বাজেট থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে হয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ জরুরি হয়ে পড়েছে।    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, টমাহক ক্রুজ মিসাইল, প্যাট্রিয়ট এবং থাডের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে চলমান সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার জন্য "শেষ সুযোগ" দেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে সামরিক প্রস্তুতি, অস্ত্রের মজুত এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ—এই তিনটি বিষয়ই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন পেন্টাগনের মজুত থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ থাড (THAAD) এবং প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট (Patriot) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিঃশেষ হয়ে গেছে। জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক অধিনায়করা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের দূরপাল্লার ও আকাশ প্রতিরক্ষা মারণাস্ত্রের সরবরাহ এখন 'বিপজ্জনকভাবে সর্বনিম্ন' পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নথির ওপর ভিত্তি করে উঠে আসা এই সংকটময় তথ্য ইতিপূর্বে কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি।   অস্ত্রের এই তীব্র ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের উদ্বেগের কারণে ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়ে রেখেছিলেন।   কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের সাথে আলোচনা করে আশঙ্কার কথা জানায় যে, ওয়াশিংটনের কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে ইরান যদি তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালায়, তবে পর্যাপ্ত মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অভাবে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। মিত্রদের এই কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক বাহিনীর সতর্কবার্তার পরই ট্রাম্প সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।   সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় ২,২০০টি আধুনিক প্যাট্রিয়ট এবং ৪৫২টি থাড মিসাইল ছিল। তবে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'সহ সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মার্কিন বাহিনী তাদের এটাকমস (ATACMS) এবং তোমাহক (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করছেন যে, প্রেসিডেন্টের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা রয়েছে। তবে একই সাথে তারা অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।   সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, থাড কিংবা প্যাট্রিয়টের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত তৈরি করা সম্ভব নয়। বর্তমানে পেন্টাগন মাসে মাত্র ১৫টি তোমাহক এবং ২০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল নতুন করে হাতে পাচ্ছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিএসআইএস সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় থাড ক্ষেপণাস্ত্রের পূর্ণ মজুত ফিরিয়ে নিতে আমেরিকার অন্তত ৩ বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে। পেন্টাগনের এই বিশাল অস্ত্রঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চীন, রাশিয়া কিংবা উত্তর কোরিয়ার মতো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করেই ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও
ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করেই ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও

ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং নিরস্ত্রীকরণই হচ্ছে ওয়াশিংটনের কাঙ্ক্ষিত সেই চূড়ান্ত চুক্তি বা লক্ষ্য।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং এর ভেতর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত আছে। তবে এই জলপথটি ব্যবহার করে কীভাবে আরও বেশি সংখ্যক জাহাজ সম্পূর্ণ নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে অতিক্রম করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন একটি নতুন ও কার্যকর চুক্তি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   মার্কো রুবিও আরও জানান, স্বল্প মেয়াদে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান ও ওমানের সাথে আলোচনা এবং দরকষাকষিতে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা বিষয়ক এই স্বল্পমেয়াদী আলোচনাগুলোই পরবর্তীতে একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করবে। আর সেই দীর্ঘমেয়াদী আলোচনারই মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা
ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং চলমান সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।    ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং সংকট নিরসনের সুযোগ এখনও রয়েছে। তিনি এটিকে তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলেও উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই এবং কোনো ইরানি প্রতিনিধি এ উদ্দেশ্যে বিদেশে যাননি। তার দাবি, ওমানের সঙ্গে কেবল নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।    এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ঘটনাটি ওমান উপকূলের কাছে ঘটেছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।    বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান
ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান

৪ আগস্ট ২০২৬, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মহসেন রেজাই।    সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং উত্তেজনা কমানোর বার্তা পাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।    গত জুলাইয়ের শেষ দিকে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন। ইরান ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়। এ ঘটনার জেরে তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানায়।    অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে ব্যাখ্যা দেন এবং পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে আহ্বান জানান। ইরানও আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উত্থাপন করে।    তবে ইরানের দাবি করা হামলার পরিকল্পনা এবং তা বাতিলের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি এখনো মূলত ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই জানা যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের একটি বাড়িতে ৯০০ কেজির বোমা ফেলল মার্কিন বাহিনী
ইরানের একটি বাড়িতে ৯০০ কেজির বোমা ফেলল মার্কিন বাহিনী, একই পরিবারের তিনজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক ইরান অভিযানে একটি বেসামরিক বাড়িতে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা আঘাত হেনেছে বলে প্রকাশিত ভিডিও ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হন। ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করে না।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পরিবারের বাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও, স্যাটেলাইট ছবি এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ২ হাজার পাউন্ডের শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু এলাকায় কোনো সুস্পষ্ট সামরিক স্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   হামলার বিষয়ে সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। সংস্থাটির দাবি, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।    অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, হামলাটি একটি সাধারণ পারিবারিক বাসভবনে চালানো হয়েছে এবং এতে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে হামলার লক্ষ্য নির্বাচন ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০