- প্রচ্ছদ
- Topic
ইরান
চীনের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ পাঠানোর ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক ইরানি নাগরিককে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। রেজা দিনদার, যিনি রেন্দা দিনদার নামেও পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর এই সাজা পেয়েছেন। ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার ফেডারেল আদালতে ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারক রিকার্ডো এস. মার্টিনেজ এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের নথি ও মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনদারকে ১০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর আরও তিন বছর তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তিনি একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশে পণ্য রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচারের দুটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, তবে অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের সামনে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। মামলার সূত্রপাত ২০১১ ও ২০১২ সালের একটি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দিনদার ও তার সহযোগীরা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনটি সামরিক সোনার ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলেন, এসব সরঞ্জাম চীনের একটি কোম্পানি ব্যবহার করবে। কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনা ছিল চীনের মাধ্যমে যন্ত্রাংশগুলো ইরানে পাঠানো। দিনদার ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের শিয়ান শহরে নিউ পোর্ট সোর্সিং সলিউশন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত গন্তব্য গোপন করা হয়েছিল। মার্কিন সরবরাহকারীকে চীনকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে জানানো হলেও পণ্যগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটররা জানান। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে পণ্য, প্রযুক্তি বা সেবা রপ্তানি কিংবা পুনরায় রপ্তানি করা নিষিদ্ধ। এমনকি তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানে বা জানার যথেষ্ট কারণ থাকে যে পণ্যটি শেষ পর্যন্ত ইরানে যাবে। এই মামলায় চীনকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলায় দিনদারের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৪ সালের আগস্টে। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতের বাইরে ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পানামা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সাজার শুনানিতে বিচারক মার্টিনেজ উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনা এক দশকেরও বেশি আগে ঘটেছিল এবং দিনদার পানামার কারাগারে উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন। এই বিষয়টিও সাজা নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা ১৮ মাসের কারাদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের লঙ্ঘন ঠেকাতে শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করা প্রয়োজন। মামলাটি তদন্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগকারী দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। দিনদারকে গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর পানামা সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগও এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মামলাটি দেখিয়েছে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হতে পারে, যদি পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ হয়। বিশেষ করে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সংবেদনশীল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসব নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দিনদারের সাজা সেই দীর্ঘদিনের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এসেছে। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ (U.S. Department of Justice), ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন
ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব না পরে গান গাওয়ার অভিযোগে গায়িকা পারাস্তো আহমাদির ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির একটি আপিল আদালত। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত কোনো শুনানি ছাড়াই আপিল খারিজ করে আগের সাজা বহাল রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে হাতাকাটা পোশাক পরে গান গাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ২৯ বছর বয়সী পারাস্তো আহমাদি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সংগীতানুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেন। অনুষ্ঠানে তিনি মাথায় হিজাব পরেননি এবং হাতাকাটা পোশাক পরেছিলেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ তা দেখেন। এরপর ইরানের বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে দেশটির আইন ও সাংস্কৃতিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়। দেশটিতে নারীদের প্রকাশ্যে গান পরিবেশনের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে এবং তাদের হিজাব ও শালীন পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে কোম শহরের একটি ফৌজদারি আদালত আহমাদি ও তার ব্যান্ড এবং অনুষ্ঠান নির্মাণ দলের আরও আট সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, তারা প্রকাশ্যে অশালীন ও অনৈতিক উপাদান প্রচারের মাধ্যমে ‘জনসাধারণের শালীনতায় আঘাত’ করেছেন। মামলায় আহমাদিসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দুই বছরের জন্য দৃশ্যশ্রাব্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আহমাদির আইনজীবীরা আপিল করে বলেন, ওই সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করাই কোনো অপরাধ ছিল না। তাদের একজন বিবিসিকে জানান, একই অভিযোগে জরিমানা বা তুলনামূলক কম শাস্তির সুযোগ থাকলেও নিম্ন আদালত কঠোরতম শাস্তিগুলোর একটি দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল আদালতের শুনানি করার সুযোগ থাকলেও আদালত কোনো শুনানি করেনি এবং আগের রায় বহাল রেখেছে। আইনজীবীদের ধারণা, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানোর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এই রায়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। প্রাথমিক রায়ের খবর প্রকাশের পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নির্বাসিত ইরানি গায়িকা গুগুশ ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমাদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নারীদের নিজেদের জীবন ও পোশাক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার কথা বলেন। সংগীতশিল্পী হোসেইন আলিজাদেহও আহমাদির পরিবর্তে নিজে ৭০ বেত্রাঘাতের শাস্তি নিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছিলেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সাজার সমালোচনা করে বেত্রাঘাতকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানে নারীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি নতুন নয়। দেশটির আইনে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো নারী ও কিশোরীদের চুল হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখতে এবং শরীরের গঠন আড়াল করে এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরতে বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশটির অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিজাব ঠিকভাবে না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের আটক করা ২২ বছর বয়সী কুর্দি-ইরানি তরুণী আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২২ সালের ওই বিক্ষোভে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলেন বা মাথার কাপড় বাতাসে উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও ইরানের বিভিন্ন শহরে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, সতর্কবার্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে এর আগেও বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুর্দি-ইরানি অধিকারকর্মী রোয়া হেশমতিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া একটি ছবি প্রকাশের ঘটনায় ‘জননৈতিকতা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে ৭৪ বার বেত্রাঘাত করা হয় বলে কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছিল। হেশমতি পরে জানান, তেহরানের একটি প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক নারী কর্মকর্তা জোর করে তার মাথায় স্কার্ফ পরিয়ে দেন এবং পরে একজন পুরুষ কর্মকর্তা তাকে বেত্রাঘাত করেন। পারাস্তো আহমাদির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানে নারীদের পোশাক ও প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতিক ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য গোলামালি হাদ্দাদ-আদেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হিজাববিষয়ক বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আপাতত আগের মতো মনোযোগ দিতে পারছে না। তবে দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। আহমাদির বিরুদ্ধে রায়ের ফলে ইরানে নারী শিল্পীদের প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালতে কোনো শুনানি না করেই আগের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এখন ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হবে কি না এবং মামলাটির বিরুদ্ধে আরও কোনো আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক জাহাজে ইরানের ছোড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে ওই জাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর আহতদের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থতা এবং মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের কয়েকজন মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতের মতো উপসর্গ অনুভব করেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আটজনই আবার দায়িত্বে ফিরে যান। ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেরিনরা ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা জাহাজটির মালিকানা বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে শুধু একটি সামুদ্রিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ওই জাহাজে থাকা মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি আরও জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে সে সময় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে আহত আট মেরিনের তথ্য যুক্ত করা হয়। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, এই আটজনকে যুক্ত করার পর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬১ জনে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ২৯ জন মার্কিন নৌসদস্যের তথ্য যোগ হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৩৭ জন বেড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে অনেক সময় বিলম্ব হতে পারে। কোনো আঘাতের উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় এবং তথ্যভান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এমন বিলম্ব হয়। প্রকাশ্য ডিসিএএস তথ্যভান্ডারে ওই আট মেরিন কোথায়, কখন এবং কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। হরমুজ প্রণালি সামরিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। জুলাইয়ে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানি হামলার পরও প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে। সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত আট মেরিন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না এবং হামলার পর দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংঘাতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: এনবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর। ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে। এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযানে যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, ইরানের বিমান সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা ফল দিতে শুরু করেছে। বেসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। উড়োজাহাজ চলাচলে এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেও নতুন বাধা এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইরানের ব্যাংক মেল্লির শাখাগুলোর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অর্থ লেনদেন বন্ধ করেছে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযান শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বরে ইরানের বিমান খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। বেসেন্টের সর্বশেষ বক্তব্য সেই অভিযানের অগ্রগতির বিষয়ে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন। তবে আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লিখিত দেশগুলোর সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ইরানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করেছে, এমন দাবি পাওয়া তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। প্রকাশিত তথ্য নির্দিষ্ট ব্যাংক ও লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধের কথাই জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় ইরান, তবে হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের মুখে কোনো সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে আলোচনার আগ্রহের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আস্থার সংকটও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পেজেশকিয়ান এর আগে অভিযোগ করেছেন, আলোচনা চলার সময়ও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে তাঁর দাবি। এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ স্পষ্ট করতে হবে বলে তিনি জানান। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে সংলাপের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সরাসরি আলোচনার ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ছবিতে প্রণালিটির ওপর ‘NEW U.S. Territory’ লেখা ছিল। পরে হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করা হয়। এর জবাবে ‘Iran in Hyderabad’ নামে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে আলাদা করে দেখানো হয়। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। পোস্টটির ভাষা ও সময় বিবেচনায় এটি ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত মানচিত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল; ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবি হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি। এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ১৮ আগস্ট তিনি ওই বক্তব্যের পরই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা ঘটে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয়ী এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার মার্কিন বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা’ পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। আরাঘচির ভাষায়, সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের শর্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি সাত দিনের একটি ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দেওয়ার পর সময় গণনা শুরু হবে; প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো কয়েক দিনের মধ্যে নেওয়ার পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নে তেহরান নমনীয় হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তি মেনে নেবে না। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পরও তেহরান বলছে, তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। সাত দিনের এই প্রস্তাবের পেছনে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোও রয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি; যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগের সমঝোতাতেই ছিল। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাতে পারেনি এবং পরে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিষয় নয়। প্রায় সাত মাসের সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিকল্প রেড সি রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে ইরানকে আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ফলে একদিকে ইরানের সাত দিনের দ্রুত সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য—দুই পক্ষের সময়সীমা ও শর্তে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সাত দিনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছুক। তাঁর প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আরও অনুকূল শর্তে আলোচনায় আনতে চায়। ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের বা কতটা মাত্রার হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প জাতিসংঘে দাবি করেছেন, তাঁর ইরান নীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান নিয়ে তাঁর অবস্থান একই রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার কাঠামোর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তেহরানের অবস্থানের মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার মতো বিষয় রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবস্থায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হবে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ, মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ৫০-৪৯ ভোটে প্রস্তাবটি আটকে যায়। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, কেন্টাকির র্যান্ড পল এবং নর্থ ক্যারোলাইনার থম টিলিস। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাঞ্জেলা আলসোব্রুকস ভোট দেননি। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। এতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সরকার বা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে। সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ বা দখলদারির জন্য ব্যবহৃত বাহিনীও এর আওতায় থাকত। ভোটটি মূলত দলীয় বিভাজনের মধ্যেই হয়েছে। অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন এবং প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সমর্থন দেন। তবে চার রিপাবলিকানের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে থম টিলিস এবার প্রথমবারের মতো এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একই ধরনের ভোটে তিনি এই অবস্থান নেননি। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের মেয়াদ ও এটি শেষ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক মাসে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে একাধিকবার ওয়ার পাওয়ার্স প্রস্তাব আনা হয়েছে। জুনে সিনেট একটি হাউস-পাসড সমান্তরাল প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে চার রিপাবলিকান—সুসান কলিন্স, বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাউস্কি ও র্যান্ড পল—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ভোটে অবশ্য ক্যাসিডি প্রস্তাবটির পক্ষে ছিলেন না, আর নতুন করে সমর্থন দেন টিলিস। ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যে কারা ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভূমিকা বাড়াতে চান, সেই সমীকরণেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চ মূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কিছু রিপাবলিকানও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বৃহস্পতিবারের ভোটে রিপাবলিকানদের বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষেই ছিলেন। সিনেটের ভোটটি এমন দিনেই হয়েছে, যেদিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ, এবিসি নিউজ
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরাজিত হবে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ইসরায়েলের সামনে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। নেতানিয়াহু তার ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন কাজ হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল তার জন্য সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তার ভাষ্য, হামলা না করলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠত। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ইরানের বর্তমান সরকার নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন সময়ের ব্যাপার। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, একদিন তারা মুক্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তি ক্ষমতাসীনদের ওপর জয়ী হবে। তবে ইরানের সরকার কবে বা কীভাবে পরিবর্তিত হবে—এটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পূর্বাভাস, প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘটনা নয়। ভাষণের একপর্যায়ে একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট রিসিভার তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। ইরানের জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের জন্য সেটি রেখে যাওয়ার কথাও বলেন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের চলমান সংঘাতকে একাধিক ফ্রন্টের যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরেন। ইরান ছাড়াও হামাস, হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব লড়াইয়ে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। তবে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বহু প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কয়েক ডজন প্রতিনিধি তার বক্তব্যের শুরুতেই হল ত্যাগ করেন। নেতানিয়াহু তাদের সমালোচনা করে ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও ভাষণে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসরায়েল হামাসকে লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন। অন্যদিকে গাজার বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের এবং তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না। জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর মূল বার্তা ছিল—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান থেকে ইসরায়েল সরে আসবে না এবং শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার লক্ষ্যেই অভিযান চালিয়ে যাবে। তবে তার ভাষণে ইরানের ভবিষ্যৎ, দেশটির সরকারের পতন এবং যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো নেতানিয়াহুর নিজস্ব দাবি ও পূর্বাভাস। সূত্র: জাতিসংঘ, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চায় তেহরান। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা হুমকি দিয়ে ইরানকে নত করা যাবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করছে এবং আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের জবাবও আসে পেজেশকিয়ানের ভাষণে। ট্রাম্প জাতিসংঘে ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও চাপ ইরানের প্রতিরোধ আরও শক্ত করবে। তিনি ট্রাম্পের নীতিকে ‘বুলিং মেন্টালিটি’ বা চাপ প্রয়োগের মানসিকতা হিসেবে সমালোচনা করেন। তবে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য, ইরান কূটনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাতের অবসানে আলোচনা হতে পারে। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে, হুমকি বা চাপের মাধ্যমে নয়। ভাষণে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সবাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে সুবিধা নেবে, অথচ ইরান সেখানে নিজস্ব নৌপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবে না—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, সেখানে শত্রুভাবাপন্ন নৌবহরের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে না। এদিকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরু হওয়ার সময় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষণটি আসে ট্রাম্পের এক দিন পরের বক্তব্যের জবাবে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে তাই একদিকে ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ছিল কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত শেষ করার বার্তা। অর্থাৎ তেহরান আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়, তবে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না—জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এই দুই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গাজা ও ইরানে নিহত বেসামরিক মানুষের ছবি তুলে ধরেছেন। বুধবারের ভাষণে তিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। ভাষণে পেজেশকিয়ান গাজার বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ গুরুতর সংকটে রয়েছে। গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে তিনি যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন, সেটি তাঁর বক্তব্যে দেওয়া হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে গাজার মানবিক পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা উঠে এসেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ২২ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধের ফলে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পৌঁছাচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশের আহ্বান জানান। পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে ইরানের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিশু ছিল। এই সংখ্যা ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব। জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের পেছনে আরও বড় একটি কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের খবরও এসেছে। ফলে পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফর শুধু গাজা ইস্যু নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানও ভিন্ন। ইসরায়েল বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে হামাসকে বেসামরিক এলাকায় সামরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য দায়ী করে ইসরায়েলের যে অভিযোগ, তা হামাস অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা, ইরান, ইউক্রেনসহ একাধিক যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনা চলছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য সেই আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির সম্ভাবনাও নিউইয়র্কে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে। মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে। মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে। ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি। তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না। এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে। এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণের এই আয়োজনে আজকের সবচেয়ে আলোচিত বক্তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য—“আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।” ট্রাম্প এমন এক সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চে উঠছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বজায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করছে। গত বছরের জাতিসংঘ ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এবার তাঁর ভাষণের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িত এবং সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সমাধান এখনও সামনে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নিউইয়র্কে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শুধু যুদ্ধ থামানোর প্রশ্নেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আজকের কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা। বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পথ এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে এপি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আলোচনার অভিজ্ঞতার কারণে তেহরানে নতুন সংলাপ নিয়ে অবিশ্বাস রয়েছে। ফলে একই সময়ে নিউইয়র্কে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলেও সরাসরি আলোচনায় বড় অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। শুধু ইরান নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এপি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামাজিক প্রভাব এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জলবায়ুসহ একাধিক বৈশ্বিক বিষয় আলোচনায় রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান বিশেষভাবে নজরে থাকবে। তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কমিয়েছে এবং ট্রাম্প অতীতে সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বদলাতে হবে। ভাষণের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও নিউইয়র্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা—সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের সামনে রয়েছে। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে। বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক। অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণ সুবিধা বা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ইরানি বিমান বিদেশি বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওই দিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বা ওএফএসি মোট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এর মধ্যে ইরানের বাকি ২৭টি এয়ারলাইনও ছিল। ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এয়ারলাইন ইরানের বিমান চলাচল খাতের মাধ্যমে অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করেছে। এগুলো মার্কিন সরকারের অভিযোগ। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ২৭টি এয়ারলাইনের মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, ইরান আসেমান এয়ারলাইনস, কেশম এয়ার, কিশ এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও মাহান এয়ার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি বিভাগের ৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন হুঁশিয়ারির মূল লক্ষ্য ইরানি বিমানগুলো নয়, বরং তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এবং টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ইরানি এয়ারলাইনকে সেবা দেওয়া চালিয়ে গেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শুধু উড়োজাহাজ ও ক্রু যথেষ্ট নয়; বিমানবন্দরে অবতরণ, জ্বালানি নেওয়া, যাত্রীসেবা এবং টিকিট বিক্রির মতো বিভিন্ন সেবা প্রয়োজন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি বিমানকে এসব সেবা না দিলে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি সব ইরানি উড়োজাহাজকে শারীরিকভাবে আকাশে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মূল চাপটি তৈরি করা হচ্ছে বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের ওপর। ফলে বাস্তবে কতগুলো ফ্লাইট বন্ধ হবে বা কোন কোন রুটে প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে বিদেশি বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করে তার ওপর। ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর অংশ। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তেল বাণিজ্য, আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানি এয়ারলাইন মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম নিয়েও চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর তুরস্ক ও ওমান মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরানি বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সোর্স: রয়টার্স; যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ; আল জাজিরা; দ্য ন্যাশনাল
ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তবে ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ফোনালাপ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এরই মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কয়েকটি কৌশলগত এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা এখন তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলকে দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। সংঘাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে সৌদি আরবও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্ব থেকেও ওয়াশিংটনের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বাব আল-মানদাব প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জলপথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নতুন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকেও কঠিন করে তুলছে। এখন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে হুতিদের পরবর্তী সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তায় যাবে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ফোনালাপে ইয়েমেনকে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে। সোর্স: রয়টার্স; ইন্ডিয়া টুডে
ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৩৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। রয়টার্সের হিসাবে, দুটিই ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। এই সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে আংশিক পুনরুদ্ধারও বাজারে চাপ কমিয়েছে। ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পাঠাচ্ছে। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তেলের বাজার এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও সরবরাহে নতুন কোনো বড় বিঘ্ন ঘটলে বাজার আবার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। পরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির মধ্যে দাম আবার নিচে নামে। তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহের চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে সাময়িক পতনের পরও তেলের দামে আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ২২ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বাজারচিত্রে আবার কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রাথমিক বাজার আপডেট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্টের নভেম্বর চুক্তি শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে এবং মেয়াদ শেষের পথে থাকা ডব্লিউটিআই অক্টোবর চুক্তি প্রায় ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছিল। বেশি সক্রিয় নভেম্বর ডব্লিউটিআই চুক্তিও সামান্য বেড়ে ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে ছিল। অর্থাৎ আগের দিনের বড় পতনের পর বাজারে সাময়িক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের নজর এখন থাকবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্ভাব্য বৈঠক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো হামলা বা সরবরাহ বিঘ্নের দিকে। এসব বিষয়ের যেকোনো একটিতে বড় পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে। সোর্স: বিজনেস ইনসাইডার; রয়টার্স
বিদেশি হামলার সম্ভাবনা ও চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান। এ উদ্দেশ্যে তেহরানে সরকার-সমর্থিত একটি বড় সমাবেশ ও সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে নারী, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘জানফাদায়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’ নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সংকটের সময় দেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সমাবেশে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের পাশাপাশি নাগরিকদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তেহরানের বিভিন্ন সড়কে এ কর্মসূচিকে ঘিরে বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে। এসব ব্যানারে রকেটচালিত গ্রেনেড, স্নাইপার রাইফেল ও অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও লেখা ছিল, এসব অস্ত্র কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে মানুষকে জানতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শুক্রবারের মহড়ায় অস্ত্র হাতে নারী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্ধারকাজ, জরুরি সেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তবে কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় সাধারণ নাগরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করাই এর একটি লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এর পেছনে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বাসিজের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। এটি আইআরজিসির অধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী, যাকে বিভিন্ন সময় সামাজিক, নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী জনবল তৈরি হতে পারে। সমাবেশে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিই সামনে আসেনি, জাতীয় ঐক্যের বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারি সমর্থকেরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান এমন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ বা সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে জাতীয় প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। তেহরানের আইআরজিসি কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করেছেন এবং শিগগিরই এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে। প্রশিক্ষণে অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের অর্থনৈতিক চাপ, অতীতের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা কর্মসূচি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এসব কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে এ ধরনের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি শুধু সামরিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, বরং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সোমবার তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই তার এই নিউইয়র্ক সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বিমানবন্দরে আরাঘচিকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দারজি। নিউইয়র্কে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিউইয়র্কে আসার আগে আরাঘচি কাতারের রাজধানী দোহায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক কূটনীতিতে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই বৈঠকও নজর কেড়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। আরাঘচির নিউইয়র্ক সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা দিয়েছে। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল ও কিছু কেনাকাটার ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। আরাঘচির নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো বৈঠক বা আলোচনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।