ইরান

ইরানের সীমান্ত শহরে গুলিতে নিহত বিপ্লবী গার্ডের দুই সদস্য
ইরানের সীমান্ত শহরে গুলিতে নিহত বিপ্লবী গার্ডের দুই সদস্য

ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী শহর পাভেহতে সশস্ত্র হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।   প্রতিবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা একটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে ওই দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।   তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠীর নাম নিশ্চিত করা হয়নি। ইরান সাধারণত এ ধরনের হামলার জন্য কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে থাকে।   পাভেহ শহরটি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় কুর্দি জনগোষ্ঠীর বসবাস এবং তাদের একটি অংশের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছে।   ইরান সরকার অভিযোগ করে আসছে, এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বিদেশি শক্তির সমর্থন পেয়ে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সহায়তার অভিযোগ তোলে তেহরান।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি “কাপুরুষোচিত সশস্ত্র হামলা”। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এ ধরনের হামলা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে চলে এসেছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন বাংলাদেশের স্পিকার

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশের স্পিকারকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান সফর করবেন।   ইরান কয়েক দিনব্যাপী আয়োজনে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাবে। আগামী ৪ জুলাই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি শুরু হবে। ওই দিন অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জানাজা। এরপর ৭ জুলাই রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ ৯ জুলাই আরেক দফা জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলার শুরুতেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি প্রাণ হারান। নিহতের আগে টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি বৈঠকের খবর প্রত্যাখ্যান করল ইরান

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক হওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা নাকচ করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো কারিগরি বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।   ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তবে কাতারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্পরিক হামলা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ নিরসনে মঙ্গলবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসতে পারেন।   প্রাথমিকভাবে এসব আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হওয়ার কথা থাকলেও, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি শান্ত করাই এখন আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, ইরান বৈঠকের অনুরোধ করেছে এবং সেটি পরদিন দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান এখনো ভিন্ন। ইরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তারা প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।   সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে কিছু অবরোধ প্রত্যাহার করে।   গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে যোগাযোগ সমন্বয়ের জন্য একটি ‘হটলাইন’ চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর মধ্যে এই হটলাইন চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে গত শনিবার পর্যন্ত সেটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি
ল্যাবরেটরিতে মানুষের কোষ দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করল ইরান

গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন বা স্নায়ুকোষ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করেছে ইরান। মানুষের মস্তিষ্কের মতোই নিজে নিজে নতুন তথ্য শিখতে সক্ষম এই নিউরাল নেটওয়ার্ক। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উদীয়মান 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' (ওআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক দৌড়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।   ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানান, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছে ইরান। শরীরের বাইরেও এই কোষগুলো মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মতোই সিন্যাপস তৈরি করতে পারছে এবং নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।   আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মূলত মানুষের মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি। ইরানের একটি নলেজ-বেজড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গেই ইরান সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে।   নতুন এই প্রযুক্তির দুটি যুগান্তকারী সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রসেসিং বা তথ্য বিশ্লেষণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় এর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার প্রায় ১০ লাখ গুণ কম। এই দুটি অনন্য সুবিধার কারণে সিলিকন চিপের বিকল্প হিসেবে কোষ-ভিত্তিক প্রসেসরের দিকে ঝুঁকে পড়া এখন বিশ্বব্যাপী প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বে 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' বা জৈবিক প্রক্রিয়াকরণ মূলত এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে চিপ তৈরি করা হয়। এটি মানুষের মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য রকমের কম শক্তি খরচ করার অসাধারণ প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে হুবহু অনুকরণ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের বিকল্প হিসেবে এই জৈবিক চিপের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে যেতে অবশ্য এখনো কিছুটা সময় লাগবে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলে ইরানি সাইবার হামলা তিনগুণ বৃদ্ধি
ইসরাইলে ইরানি সাইবার হামলা তিনগুণ বৃদ্ধি, সতর্ক অবস্থানে তেল আবিব

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাইবার অঙ্গনেও সংঘাত দ্রুত তীব্র হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জুন মাসে ইসরাইলের ওপর ইরানি সাইবার হামলার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   সোমবার (২৯ জুন) জার্মান সংবাদপত্র ডাই ভেল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক এক বছর পর, ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০-তে।   কারাদি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত কিছু সাইবার গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ ও সুসংগঠিত। যদিও ইসরাইল এ ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে, তবুও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই—এখানে হুমকি সবসময়ই সক্রিয় থাকে।   তার দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এসব সাইবার হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল ব্যবস্থা। বিশেষ করে আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলোর মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে কারাদি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত বড় ধরনের হামলাগুলো এখন পর্যন্ত সফলভাবে প্রতিহত করা গেছে। যদিও দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।   সাধারণত ইরান অন্য দেশের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে। তবে দেশটি প্রায়ই দাবি করে, তারা নিজেরাও নিয়মিত সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সাইবার হামলা, যেখানে সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অদৃশ্য যুদ্ধও আরও জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স
কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই অর্জনকে তিনি ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   সোমবার কোম শহর সফরে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে।   সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থীরাও নিহত হয়েছেন।   তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল অর্থনৈতিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের নীতি এবং এখনো বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরানের সব কার্যক্রম দেশের প্রয়োজন ও ঘোষিত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।   পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে।   তিনি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি
গবেষণাগারে মানব নিউরন দিয়ে পরীক্ষামূলক ‘কৃত্রিম মস্তিষ্ক’ তৈরি করল ইরান

গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে মানুষের মতো শেখার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি পরীক্ষামূলক ‘কৃত্রিম মস্তিষ্ক’ বা নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ সাফল্যের মাধ্যমে উদীয়মান ‘অর্গানয়েড ইন্টেলিজেন্স’ (OI) প্রযুক্তির বৈশ্বিক গবেষণায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো ইরান।   ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী দেশটির বার্তা সংস্থা মেহর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।   তার দাবি, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ (নিউরন) বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এখন ইরানের হাতে রয়েছে। এসব নিউরন গবেষণাগারে মানুষের মস্তিষ্কের মতো সিন্যাপস তৈরি করতে এবং নিজেদের মধ্যে এমন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, যা নতুন তথ্য বা কাজ শিখতে পারে।   আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মানব মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি হতে পারে। তার ভাষ্য, ইরানের একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে।   তিনি দাবি করেন, নতুন প্রযুক্তিটির দুটি বড় সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ গুণ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।   তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং সিলিকন চিপের সীমাবদ্ধতার কারণে কোষভিত্তিক প্রসেসর প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। এ পর্যায়ে এটি গবেষণা ও পরীক্ষামূলক উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেশীয়ভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   বিশ্বজুড়ে ‘অর্গানয়েড ইন্টেলিজেন্স’ বা জৈবিক কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। এ প্রযুক্তিতে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে এমন কম্পিউটেশনাল সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা মানুষের মস্তিষ্কের মতো সমান্তরালভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং তুলনামূলকভাবে অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে।   তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক যাচাই বা পিয়ার-রিভিউড গবেষণার তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাইবার হামলায় বিধ্বস্ত ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরানি সাইবার হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক বছরে এসব হামলার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   সোমবার (২৯ জুন) জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডাই ওয়েল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি।   তার দাবি, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টিতে পৌঁছেছে।   ইয়োসি কারাদি বলেন, “কিছু হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতেও কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি নেই।”   তিনি জানান, এসব হামলার মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।   ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জাতীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে চালানো সব সাইবার হামলা এখন পর্যন্ত প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে যেসব ছোট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছে হ্যাকাররা।   ইসরায়েলের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে: ইরানি গণমাধ্যম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মাশহাদই তার জন্মস্থান।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইরানের পুলিশ ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যৌথভাবে কাজ করছে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।   এদিকে, ইরাকের কারবালায় অবস্থিত একটি শিয়া ধর্মীয় মাজারে খামেনিকে স্মরণ করে পৃথক একটি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   মেহের নিউজের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার হামলায় তেহরানে সরকারি বাসভবনে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প পুরোপুরি ব্যর্থ: নিউজার্সির গভর্নর

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিকি শেরিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসলে কী অর্জন করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংঘাতের ব্যয়ও ক্রমাগত বেড়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করেছে এবং এর বাস্তব অর্জন কী।   মিকি শেরিলের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য সামনে এনেছে। কখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আবার কখনও সরকার পরিবর্তন কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে।   তার অভিযোগ, প্রশাসন ঘোষিত এসব লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   শেরিল আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাই ওই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।   ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ সংকট প্রশমনে ফের আলোচনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ সংকট প্রশমনে ফের আলোচনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, কাতারে বৈঠক মঙ্গলবার

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ নিরসনে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর ঝুঁকির মুখে পড়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা টিকিয়ে রাখতেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং এর আগে হওয়া সমঝোতার বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।   গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা ছিল ওই চুক্তির প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।   এর আগে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের মধ্যে বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করে।   তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।   পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কড়া বার্তা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সংযত থাকা কঠিন হয়ে যাবে।   এর পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল আগের মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া।   তবে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ওই হামলায় তাদের কোনো সেনা সদস্য হতাহত হয়নি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও ঘটেনি। অন্যদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। বাহরাইনের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটায় দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।   এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে লেবাননেও পড়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দেশটিতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে ইরান বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করা জরুরি।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আলোচনায় অগ্রগতি হলে চলমান উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বাহরাইনকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের, ‘উসকানি এলে জবাব হবে আরও শক্তিশালী’
বাহরাইনকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের, ‘উসকানি এলে জবাব হবে আরও শক্তিশালী’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনকে লক্ষ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের উসকানি বা চাপ সৃষ্টি করা হলে তার জবাব আরও শক্তি ও কঠোরতার সঙ্গে দেওয়া হবে।   রোববার (২৮ জুন) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাবশালী উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বাহরাইন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, নিজেদের সীমাবদ্ধতা মেনে চলা উচিত এবং এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাহরাইনের শাসকগোষ্ঠী যেন ইরানকে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে।   এর আগে, নিজের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত শুক্রবার ও শনিবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে।   তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বাহরাইনের রাজধানী মানামা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-বাহরাইন সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাহরাইনে উল্লেখযোগ্য শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং তাদের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে দেশটির সরকারের উদ্বেগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগের অভিযোগে বাহরাইনে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।   মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘পারমাণবিক বোমা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ নেই’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ দাবি করেছে, বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাস এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সামরিক হুমকি মোকাবিলায় পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন ছাড়া তেহরানের সামনে কার্যত আর কোনো বিকল্প নেই।   রোববার প্রকাশিত এক মন্তব্যধর্মী নিবন্ধে ফার্স নিউজ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারণে ইরানের জন্য কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, কেবল পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমেই ইরান ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকি নিরুৎসাহিত করতে পারবে।   নিবন্ধে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হলে আগে প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল কৌশলগত পরিবেশ। আর সেই পরিবেশ তৈরি করতে ইরানের জন্য পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি বলে দাবি করা হয়েছে।   ফার্স নিউজের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন সক্ষমতা অর্জনের পরই ইরান শক্তিশালী অবস্থান থেকে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে পারবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সংঘাত সৃষ্টি হলেও তার বিস্তার সীমিত রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।   তবে এটি ফার্স নিউজের একটি মন্তব্যধর্মী নিবন্ধ, যা ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা নয়। এখন পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ), ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা এবং আইএইএর তদারকি পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উদ্যোগ চললেও তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ফার্স নিউজের এই অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে এটি দেশটির সরকারি নীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি
খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি, ৪ জুলাই শুরু তেহরানে

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের ধারণা, এ শোকযাত্রায় অংশ নিতে পারেন দুই কোটিরও বেশি মানুষ। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।   বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির শেষযাত্রা শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন ধাপ শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।   সরকারি সূত্র বলছে, পুরো আয়োজনটি নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইরাকের পবিত্র শহর কারবালাতেও খামেনির স্মরণে একটি শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ আয়োজন এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সরকারি প্রাসাদে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। ঘটনার পরপরই তার শেষযাত্রার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা স্থগিত রাখা হয় বলে সে সময় ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।   খামেনির মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রায় সবাই উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তাই তার শেষযাত্রা ঘিরে এমন বড় পরিসরের জনসমাগম এবং আয়োজন স্বাভাবিকভাবেই ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
৩০ দিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকার ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা: ৩০ দিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকার ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরপর দুই দিন ধরে জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর রাতভর সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ৩০ দিন গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।   রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি ইরাকি পক্ষকে অবহিত করেছেন।   আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক মাস হরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে নৌপথে থাকা সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রণালির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ইরানের, অন্য কোনো দেশের এতে সংশ্লিষ্টতার সুযোগ নেই।   তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিষয়টি পরিষ্কারভাবে নির্ধারিত রয়েছে। ফলে কোনো দেশ বা পক্ষ একতরফা হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করতে বিলম্ব হতে পারে।   এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের ওপরই বর্তায়। ফলে ভবিষ্যতে কোনো জাহাজ নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার মতো কোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষ যদি নতুন করে আগ্রাসন চালায়, তবে তার ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থি এবং এতে চলমান সব কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও তাতে স্পষ্ট কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের পাঁচটি উপকূলীয় অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে এমন উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান হামলা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানের

ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তার অভিযোগ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কংগ্রেসে পাস হওয়া যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   রো খান্না বলেন, ‘ট্রাম্পকে এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় তাকে থামাতে প্রয়োজন হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।’ এর আগে গত ৩ জুন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে একই ধরনের একটি বিল পাস হয়। পরে মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।   ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা বা নির্দিষ্ট অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।   ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ফাইল ছবি: রয়টার্স
সমঝোতার পরও স্বস্তি নেই, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান। তার দাবি, ওয়াশিংটন নিজের স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে নতুন শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান আহমাদিয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘ডোমিনো এফেক্ট’-এর সূচনা করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ককে চরম উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাবে।   তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি আমরা একটি চরম উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ, এটি স্পষ্ট যে ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব দেবে।’ চলমান সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ তুলে আহমাদিয়ান বলেন, স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, প্রথম ৬০ দিন ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। এরপর ইরান ও ওমান যৌথভাবে এ দায়িত্ব পালন করবে।   তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই সমঝোতা স্মারকের শর্ত উপেক্ষা করে নতুন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে। আহমাদিয়ান বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। অথচ একই সময়ে তারা ইরানকে চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে বাধ্য করছে।’   তিনি আরও দাবি করেন, লেবানন ইস্যুতেও নতুন একটি কাঠামোগত চুক্তির মধ্যস্থতার সময় যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিল। ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই অধ্যাপক বলেন, তেহরান চায় প্রণালিটি দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করুক। যে জাহাজগুলো আগে থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে না, সেগুলোকে সামরিক জাহাজ বা সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।   তার ভাষায়, ইরান নিজের জলসীমায় এমন কোনো কার্যক্রম চায় না, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আহমাদিয়ান বলেন, ‘নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি ইরানের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া এবং প্রথম দুই মাস কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের অবস্থানের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে।   তাই আমি মনে করি না যে ইরান এই অবস্থান থেকে সরে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ আরও জোরদার করবে।’

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৮ ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের দাবি আইআরজিসির
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৮ ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের দাবি আইআরজিসির

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।   এর আগে একই দিনে ইরানের সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তেহরান। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির নৌবাহিনীর একটি ‘অনুপ্রবেশকারী জাহাজের’ বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়।   আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বলেছে, ওয়াশিংটনের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও চুক্তি লঙ্ঘনের ইতিহাস’ রয়েছে। তারা আরও দাবি করে, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর তদারকির দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো নৌযান নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব ‘অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত
‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, হামলার পরেই ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকা ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।   হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে সামরিকভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।   এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত করেনি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার কিকু ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে ২০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। হামলায় কোনো নাবিক আহত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা, সেন্টকম, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয় দিন ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, উত্তেজনা চরমে

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।   সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রাম এবং কেশম দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের দিনও একই এলাকায় মার্কিন হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।   মার্কিন প্রশাসনের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার কিকু ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে ২০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো নাবিক আহত হননি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি সমঝোতার শর্ত না মানে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন।   অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন হামলাই চলমান উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। দুই দেশই একে অপরকে সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।   গত ১৭ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই প্রচেষ্টা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সামরিক স্থাপনায় মুহুর্মুহু মার্কিন হামলা l ছবি: সংগৃহীত
তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ইরানের সামরিক স্থাপনায় মুহুর্মুহু মার্কিন হামলা

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।   মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব দিতেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় ইরান।   এই ঘটনার পরপরই মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, ড্রোন সংরক্ষণের গুদাম এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা পরিচালনা করে।   তবে ইরানের ঠিক কোন কোন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে, সেন্টকমের ওই বিবৃতিতে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০