ওসমান-হাদি

ওসমান হাদি
হাদি হত্যা রহস্যে নতুন অধ্যায়, ভারত থেকে ফিরছে আটক দুইজন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   গত ১২ ডিসেম্বরের এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ওসমান হাদি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরব হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে নির্মম এই হত্যাকাণ্ড।   ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সন্দেহ করা হচ্ছিল যে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্তরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় আত্মগোপনে ছিল।   এ বিষয়ে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে। বাংলাদেশ–ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এই গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত ছিল এবং এর মাধ্যমে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল কি না এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের অনেক প্রশ্নের উত্তর সামনে আসতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ফাতিমা তাসনিম জুমা। ফাইল ছবি
‘হাদির হত্যাকারীর সঙ্গে সেলফি’ যা বললেন জুমা

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ফাতিমা তাসনিম জুমাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে হাদি হত্যার মূল আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তাকে সেলফি তুলতে দেখা যায়।   রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর গ্রেফতার হওয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসু নেত্রী জুমা।   তিনি বলেন, যদি তার কোনো দোষ থাকে তাহলে প্রশাসনের কাছে তার অনুরোধ তাকে গ্রেফতার করা হোক। গ্রেফতারের পর তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে যদি কিছু পাওয়া যায়, তা যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়।   ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী আরও বলেন, কেউ যদি তাকে দোষী বানাতে বা ফাঁসাতে চায়, তবে শেষ পর্যন্ত সত্য গোপন থাকে না। তিনি বলেন, হয়তো তাকে গ্রেফতার করা হবে বা রিমান্ডে নেওয়া হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। তবে তার দাবি, এটি এখন শুরু হয়নি; ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার দিন থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   হাদি হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হলে অনেকেই ফেঁসে যাবেন এটাই তাদের ভয়ের জায়গা। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ মনে করে তাকে বা জাবেরকে ফাঁসিয়ে কিংবা ইনকিলাব মঞ্চকে চুপ করিয়ে হাদি হত্যার বিচার ধামাচাপা দেওয়া যাবে, তবে সেই আশা পূরণ হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আট লাখ মানুষ একটি মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছিল এবং সারা দেশের মানুষ তার কবর জিয়ারত করছে ও বিচার দাবি করছে।   এদিকে আলোচিত ছবিটি আসল না নকল তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমার স্ক্যানার। তাদের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ফাতিমা তাসনিম জুমার যে ছবিটি ছড়ানো হয়েছে তা আসল নয়; এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।   এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দাবিতে ছড়ানো পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দাবির পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করেও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এ দাবির সমর্থনে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ওসমান হাদী ও ফয়সাল করিম। ছবি: সংগৃহীত
ওসমান হাদী হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি ভারতে গ্রেফতার

ঢাকার পল্টনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা-সংলগ্ন বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   রোববার পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়ের খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের তথ্য পেয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।   গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মূল হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালিয়ে আসছিল। অবশেষে সীমান্তের ওপার থেকে দুই প্রধান আসামির গ্রেফতারের খবর সামনে এলো, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এই গ্রেফতারের পর এখন প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল এবং এই হামলার পেছনে আর কারা জড়িত ছিল।  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের হাইকমিশনারের কাছে প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার

শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। হাদির হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ ও নিহতের পরিবারের আন্দোলনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”   এর আগে একই দিনে বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির পরিবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তবে ইনকিলাব মঞ্চকে সহযোগিতায় বারবার সবাই হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তাই আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছি।”   প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা এবং ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হন হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও এক সপ্তাহ পর ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
শরিফ ওসমান হাদি
হাদির সন্তান ও ভাইকে খুন করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় জিডি‎

‎ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সন্তান ও হাদির ভাইকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ‎শনিবার (২৪ জানুয়ারী) রাতে শাহবাগ থানায় জিডি করেন ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি।   জিডির বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।   তিনি জানান, হাদির ভাই নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। আমরা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।   ‎জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি খুন হওয়ার পর থেকে আমি ও হাদির সন্তানকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছি। কারণ, যেহেতু হাদির খুনি চক্র গ্রেফতার হয়নি, সেহেতু হাদির খুনি চক্রে যে কোনো সময় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। যার কারণে আমি ও হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’   ‘‎এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে আমাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আমাকে হত্যা করতে বিভিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি ও শহীদ হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0