কৃষিযন্ত্র চালানোর জন্য তেলপাম্পে গিয়ে চাহিদা মাফিক তেল পাচ্ছেন না পাবনার কৃষকরা। ফলে ডিজেল সংকটে বেশ বিপাকে পড়েছেন তারা। ফসল উৎপাদন, কাটাই, মাড়াই কাজে ভোগান্তি ও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তাদের। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এমনই ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে সমস্যার সমাধান না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে ফোন দেন। মন্ত্রীও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি কৃষকদের। ঈশ্বরদী উপজেলার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ময়েজ উদ্দিন ওরফে কুল ময়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি ফসল আবাদে বর্তমানে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। মাড়াই কাজে হারভেস্টার, জমি চাষ দিতে পাওয়ার ট্রিলার, সেচের জন্য শ্যালো মেশিন, এমনকি ওষুধ ছিটাতেও যন্ত্র চালিত স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি যন্ত্র চালাতেই প্রয়োজন ডিজেল। কিন্তু এই যন্ত্রগুলো তো বহন করে তেল পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যেকারণে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানে (ঢোপ) তেল নিয়ে যেতেন। বর্তমানে ক্যানে তেল দেয়ার নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ তাঁদের তেল দিচ্ছেন না। এতে উপজেলার শত শত কৃষক মহাবিপাকে পড়েছেন। ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘তেল সমস্যা সমাধানে কিছুদিন হলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের চিরকুট (স্লিপ) দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাতেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছেন না। ফলে গত রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে তাঁরা ৪০ থেকে ৪৫ জন কৃষক ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সমস্যা সমাধান না পেয়ে আমি বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিকে ফোন দিয়ে কথা বলি। পরে মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাকে কথা বলিয়ে দেই। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে সেখান থেকে ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েও বিষয়টি অবগত করি। তিনি বলেছিলেন কৃষি অফিসার তাকে চিঠি দিলে তিনি দেখবেন।’ তিনি বলেন. ‘আজ মঙ্গলবার আবার কৃষি অফিসে গিয়েছিলাম খোঁজ নিতে। কৃষি অফিসার বলেছেন, তিনি ইউএনও সাহেবকে চিঠি দিয়েছেন। ইউএনও সাহেব সেই চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবেন। জেলা প্রশাসক অনুমতি দেওয়ার পর নাকি তেল দেবে। কিন্তু ইউএনও সাহেব কবে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠাবেন, আর কবে সমস্যার সমাধান হবে বুঝতে পারছি না। আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমাধান হয়নি। কৃষক তেল পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে কতরকম কার্ড আছে। কিন্তু আমাদের কৃষকদের কোন তালিকা নেই, কার্ড নেই। যার কারণে আমাদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তেলের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। একটা কৃষি কার্ড থাকলে সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষকদের সমস্যার সমাধান হতো। দ্রুত তেল সংকট সমস্যার সমাধান না হলে ফসল ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’ ভুক্তভোগী কৃষক ঈশ্বরদী পৌর সদরের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ইস্তা মহল্লার বাসিন্দা আদম আলী বলেন, ‘আমার একটি হার্ভেস্টর, একটি ট্রাক্টর, ৩টি পাওয়ার টিলার, দুটি পাওয়ার স্প্রে ও একটি জমি চাষের আলাদা মেশিন আছে। এই ৮টি যন্ত্র ব্যবহার করতে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ লিটার তেল লাগে। কিন্তু এখন একদিন পর দুইদিন পর পর ৫০-৬০ লিটার তেল দেয়। সেটা দিয়ে একদিন চালানোই কঠিন। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।' আরেক কৃষক জাহিদুল ইসলাম ওরফে গাজর জাহিদ বলেন, 'তেল নিয়ে যেন তেলেসমাতি চলছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে মুনাফা লুট করছে। আর সাধারণ কৃষক আমরা আবাদের জন্য তেল পাচ্ছি না। আমাদের কৃষিযন্ত্র গুলো বসে থাকছে। আবাদ বা ফসল কাটা মাড়াই বন্ধ হয়ে আছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এভাবে চললে তো কৃষক বাঁচতে পারবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলে জানান তিনি।' এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘তিনি (ময়েজ উদ্দিন) কৃষিমন্ত্রীর কথা বলে একজনকে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফোনের ওপার থেকে সমস্যা সমাধান করতে বলেছেন। আমরা সমস্য সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। তেল পাম্পগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিছু কৃষক তেল পেয়েছেন। আশা করছি আগামীকাল বুধবার থেকে সবাই তেল পাবেন।’ ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘মূলত ঢোপে তেল নিতে গেলে মোটরসাইকেল চালকরা বঁধা দেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষি বিভাগকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাম্পমালিকদের সঙ্গেও কয়েকদফা বৈঠক করা হয়েছে। আশা করছি আর সমস্যা থাকবে না। পাবনা প্রতিনিধি।
দক্ষিণ লেবাননের আল-হানিয়া পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ হামলায় ৪ জন সিরীয় কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই ওই অঞ্চলে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। কোনো উস্কানি ছাড়াই হঠাৎ এই বিমান হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত এই উত্তেজনা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতের ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের ফলে আনুমানিক ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণভার থেকে কৃষকরা মুক্তি পাবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী করা এবং দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে, এই ঋণ মওকুফ গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসনের প্রবণতা কমাবে এবং গ্রামীণ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতের পাওনা এই উদ্যোগের আওতায় আসবে। বিশেষজ্ঞরা কৃষি খাতের এই পদক্ষেপকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
সরকার টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি উদ্যোগের আদলে দেশের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে শুরুতেই এটি সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে না; প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) চালু করা হবে। সফলতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা। মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক কার্ড চালুর বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের জন্য এ কার্ড চালু করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাইলট কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। কবে থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়, কারণ বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এই স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা সরাসরি পেতে পারবেন। মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়ম যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে, ফলে তারা সহজে সেবা পাবেন এবং সরকারও তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার বিষয়ে সরাসরি অবগত হতে পারবে।
বরিশালে বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে লাভের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় কেউ কেউ আবাদ কমিয়েছেন, আবার কেউ চাষই বন্ধ রেখেছেন। রোববার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের চিনিবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. সেলিম এ বছর ২৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তিনি জানান, খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তাঁর এলাকার অনেক কৃষক আবাদ কমিয়েছেন। সেচ, সার ও ওষুধের বাড়তি দামের কারণে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে ইউরিয়া ও ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের চাহিদা বেশি থাকে। এসব সার সংগ্রহ করতে হয় ডিলার বা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। বড় আকারে চাষ করা কয়েকজন কৃষক জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকায়। একই ওজনের ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকায়। এতে প্রতি কেজি ইউরিয়ার দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৯ টাকা এবং ডিএপির ২৫ টাকা। অথচ সরকার ইউরিয়ার মূল্য কেজিপ্রতি ২৭ টাকা এবং ডিএপির ২১ টাকা নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় বাজার থেকে কিনলে দাম আরও বেশি পড়ছে বলে অভিযোগ। আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ও উজিরপুরের ধামুরা এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি যোগ করলে লাভের মুখ দেখা কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করছেন বলেই এখনো চাষ ছাড়তে পারছেন না। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২ লাখ ৫ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় চাষ হয়েছে ৬২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে দেখা যায়, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চারা রোপণ প্রায় শেষ। কোথাও কোথাও এখনো রোপণের কাজ চলছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করলেও লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বরিশাল সদরের করমজা এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন সাত একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ ধান উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্প থেকে সরাসরি ডিজেল না পেয়ে বাইরে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কখনো মাপেও কম দেওয়া হয়। সারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা—ডিলাররা সরবরাহ সংকটের কথা জানিয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। পাশাপাশি কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, করমজা এলাকার কৃষক আবদুল বারেক জানান, তিনি বোরো চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর মতোই চাষ করছেন। তাঁর মতে, শ্রমিক মজুরি ও উপকরণের দাম বাড়লেও ফলন তুলনামূলক কম। ডিএপি ও ইউরিয়ার বস্তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (সার ও বীজ) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও ডিএপি সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি সরদার পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজে সহায়তা করে। সম্প্রতি সার কিনতে গিয়ে বাড়তি দাম দিতে হয়েছে বলে জানায় সে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা চাওয়ায় বাড়ি থেকে অতিরিক্ত অর্থ এনে সার কিনতে হয়েছে।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বর্নি গ্রামে এক ভূমিহীন কৃষকের লিজ নেওয়া আড়াই বিঘা জমির শসাক্ষেত রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহর আলী। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহর আলী অন্যের জমি লিজ নিয়ে শসা আবাদ করেছিলেন। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠছিল এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পুরো ক্ষেতের গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহর আলী বলেন, অত্যন্ত কষ্ট করে লিজ নিয়ে আবাদ করেছিলেন তিনি। ফল ধরার সময়েই সব গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রনী খাতুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মোহর আলী একজন ভূমিহীন কৃষক। নিজের বসতভিটা ছাড়া তার আর কোনো জমি নেই এবং তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।