খলিলুর রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৭ এপ্রিল দিল্লি সফরে যাচ্ছেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করবেন। এই সফর ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) অংশগ্রহণের আগে অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর দিল্লি সফরের প্রথম ঘটনা।   ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র শুক্রবার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে, সফরের প্রথম দিনে খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে।   সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির থাকবেন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে এই বৈঠকগুলোর জন্য ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লাও অভিনন্দনবার্তা পৌঁছে দেন।   কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০ মার্চ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাৎই খলিলুর রহমানের সফরের পথ সুগম করেছে। এই সাক্ষাতের কয়েক দিনের মধ্যে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সাথে এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অবিচল সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।   বৈঠকে মহাসচিব নবগঠিত বাংলাদেশের নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতার তিনি উচ্চ প্রশংসা করেন।   আলোচনায় বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক তেল সংকটের কারণে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে পড়া চ্যালেঞ্জ এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর তরফে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।   বৈঠক শেষে উভয় পক্ষে নিশ্চিত করেছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে লড়বে বাংলাদেশ

দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সৌদি আরব সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।   শুক্রবার দিবাগত রাতে (২৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনুষ্ঠিত ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি এসব তথ্য জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওআইসিভুক্ত বিভিন্ন দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।   তিনি জানান, সফরকালে মালদ্বীপ, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয়েছে। এসব দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বজায় আছে।   এ সময় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেবে না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বৈদেশিক সফর কোন দেশে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের নতুন আইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ: খলিলুর রহমান

বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েল সরকারের নতুন ভূমি ক্রয় আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের নতুন রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তিনি জানান, ইসরায়েল সরকার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যেখানে ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকানা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে পশ্চিম তীরের এলাকা ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আল কুদস আল শরিফসহ ফিলিস্তিনি ভূমির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ইসরায়েল এই আইন এনেছে। এর ফলে ভূমি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই একমাত্র টেকসই সমাধান।   খলিলুর রহমান গাজা উপতাকায় অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য নিঃশর্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম ও ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ওআইসির সচিবালয়ে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওআইসি নেতাদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা

ফিলিস্তিনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ড. খলিলুর রহমান সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।   বৃহস্পতিবার সংস্থাটির সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের করণীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।   বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খরেইজি, তুরস্ক ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি। এই সময় বাংলাদেশের স্থায়ী নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমান্ত ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ সোচ্চার থাকবে।   ওআইসি নেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানান।   ড. খলিলুর রহমান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সম্ভাব্য সূচনা ও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তুরস্কের পক্ষ থেকে বহুক্ষেত্রীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ জানানো হয় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সৌদি আরব বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ তুলে ধরে “ভিশন ২০৩০”–এর আওতায় যৌথ কার্যক্রমের আগ্রহ প্রকাশ করে।   ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন খলিলুর রহমান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন খলিলুর রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। তিনি বুধবার ভোরে বিশেষ কূটনৈতিক মিশনে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থান করবেন।   এই সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো জেদ্দায় অবস্থিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সচিবালয়ে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়া। ওই বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বর্তমান বৈশ্বিক ও মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রথম বিদেশ সফর কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সফরের মাধ্যমে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেই অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ নিজেই তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।   সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, রোববার থেকে বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে, যেখানে সরকারের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।   ড. খলিলুর রহমান বলেন, সরকারের মূলমন্ত্র ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এর আওতায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সব ইস্যু সম্মানজনকভাবে সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে আগামী দিনে একটি গতিশীল ও কার্যকর বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক আলোচনা আরও জোরদার হবে বলেও তিনি জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
খলিলুর রহমান পেলেন দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ

নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। রোববার বিকেলে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।   সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে হাইকমিশনার জানিয়েছেন, ভারতের সরকার বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে জনমুখী সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং একটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা নতুন সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অগ্রগামী অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।   হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেছেন। ভারতের পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার তাঁরা প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি জোরদার

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম পরিচিতিমূলক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।   শপথ গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো মন্ত্রণালয়ে অফিস করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে তাঁরা সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্র কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, জাতীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।   বৈঠকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর শাসনামলের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে প্রবাসীদের প্রতি জনবান্ধব ও সেবামুখী মনোভাব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই ঐতিহ্যগত নীতি থেকে সরে আসা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে এক কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীই দিতে পারবেন।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখানকার সকল কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই কাজ এগিয়ে নিতে চাই।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ আমাদের প্রথম দিন। বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা দেখবে।   গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। আমরা মেরুদণ্ড সোজা করে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।   বিভিন্ন দেশের ভিসা বন্ধের বিষয়ে তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। গঙ্গার পানিচুক্তি কিংবা গাজায় সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দ্বিতীয় দিন চলছে। সময়মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব দেশের সঙ্গেই আমাদের বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানে আমরা এগোব। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, ফাইল ফটো
খলিলুর রহমানকে ঘিরে বিস্ময় ও বিতর্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপির মন্ত্রিসভা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত এই নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করায় খোদ বিএনপির অভ্যন্তরেই সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চরম বিস্ময়।   দলের ভেতরেই অস্বস্তি ও বিব্রতবোধ বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খলিলুর রহমানের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি তাঁদের জন্য চরম বিব্রতকর। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস চলাকালীন বিভিন্ন ইস্যুতে খলিলুর রহমানের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এমনকি গত বছরের মে মাসে রোহিঙ্গা সংকট ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ক তাঁর কিছু মন্তব্যের পর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। নাগরিকত্ব ইস্যু ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তিতে তাঁর ভূমিকা নিয়েও রাজপথে সোচ্চার ছিল দলটি। অথচ আজ তাঁকেই আলিঙ্গন করে নিল নবগঠিত রাজনৈতিক সরকার।   কেন এই আকস্মিক পদায়ন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ থাকতে পারে:   ১. লন্ডন সংযোগ: গুঞ্জন রয়েছে, গত বছরের জুন মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় সেখানে নির্বাসিত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে খলিলুর রহমানের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পুরনো সুসম্পর্ক রয়েছে। ২. ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য: বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সাথে ভারসাম্য রক্ষায় একজন দক্ষ ও পেশাদার কূটনীতিকের প্রয়োজন ছিল। খলিলুর রহমানের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে সেই প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি নেতৃত্ব। ৩. বিদেশি প্রভাবের গুঞ্জন: সাবেক কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওয়াশিংটনের কোনো প্রচ্ছন্ন পরামর্শ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।   নাগরিকত্ব ও ‘স্বার্থের সংঘাত’ ইস্যু খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন তিনি কেবল বাংলাদেশি পাসপোর্টের অধিকারী, তবে দুই দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবাদে তাঁর গ্রিনকার্ড ও বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকরা যখন তাঁকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, "আমি তো জোর করে আসিনি। ধারণা সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়।"   আগামীর চ্যালেঞ্জ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই ড. খলিলুর রহমান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর অধীনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কি সত্যিই সার্বভৌম থাকবে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের দিকে ঝুঁকে পড়বে—তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।   বিএনপির তৃণমূল ও মিত্র দলগুলোর মাঝে এই নিয়োগ নিয়ে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তা সামাল দিয়ে খলিলুর রহমান কতটুকু সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জিয়াউর রহমানের ফরেন পলিসিতে ফেরত যাচ্ছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকারের মূলমন্ত্র হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না।   বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   জাতীয় স্বার্থই আমাদের ‘রেডলাইন’ খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার একটি কথা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে দেশের সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তবে মনে রাখবেন, জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ আমাদের জন্য ‘রেডলাইন’। আমরা আমাদের প্রতিটি পাওনা পই পই করে বুঝে নেব।”   জিয়াউর রহমানের নীতিতে প্রত্যাবর্তন শহীদ রাষ্ট্রপতির আমলের কূটনৈতিক সাফল্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সদস্যপদ পাওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় আমরা জাপানের মতো শক্তিশালী দেশকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়েছিলাম। এছাড়া সার্ক গঠন এবং আল-কুদস কমিটিতে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। বাংলাদেশ তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখতে পারেনি এতদিন, আমরা সেই গৌরবময় অবস্থানেই দেশকে ফিরিয়ে নিতে চাই।”   রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক রাজনীতি রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর তাঁর যে বিশেষ নজর ছিল, তা এখন আরও বাড়বে। তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এই সমস্যার একটি টেকসই ও দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।”   ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমালোচনার জবাব নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সমালোচনা এবং তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন খলিলুর রহমান। নির্বাচনে ‘রেফারি’র ভূমিকা পালন করে এখন সরকারের অংশ হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, “অনেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছেন। তার মানে তো গণনা নিয়ে প্রশ্ন! আমার উত্তর খুব সহজ—সন্দেহ থাকলে গুনে নিন আরেকবার। গুনতে তো কোনো বাধা নেই।” নির্বাচনে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন।   গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভুল তথ্য আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। আপনারা গুজবের কারখানা না হয়ে সত্যের বাহক হোন। আমাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে, আর সেই বার্তার যোগসূত্র হলেন আপনারা।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আলোচনায় জাতীয় স্বার্থ পাই পাই করে আদায়ের ঘোষণা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের

প্রতিবেশিসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে আলোচনায় জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাই পাই করে আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।   খলিলুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণ রক্ষা করেই সরকার বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতির আলোকে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হবে।   অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হননি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগকারীদের উদ্দেশে আবার ভোট গণনার পরামর্শ দেন তিনি।   উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়—এ মন্তব্য করে খলিলুর রহমান বলেন, বিএনপি আগে তার পদত্যাগ চাইলেও বর্তমান বাস্তবতায় পরিস্থিতি ভিন্ন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0