যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামরিক ড্রোনে ব্যবহৃত হতে পারে এমন প্রযুক্তি ইরানে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের এক ইরানি-জন্ম প্রকৌশলীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। সোমবার বোস্টনের ফেডারেল আদালতে ৪৩ বছর বয়সী মাহদি সাদেগিকে তিনটি অভিযোগে দোষী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানে প্রযুক্তি রপ্তানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মার্কিন জেলা বিচারক ইন্দিরা তলওয়ানি আগামী ১৩ অক্টোবর সাদেগির সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের আগে সাদেগি ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানালগ ডিভাইসেসে কর্মরত ছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি প্রতিষ্ঠানটির সেন্সরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ইরানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সানআত দানেশ রাহপোইয়ান আফলাক কোম্পানি (এসডিআরএ)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের সামরিক ড্রোনে ব্যবহৃত ন্যাভিগেশন সিস্টেম তৈরি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিরা আরও দাবি করেন, সাদেগির পরামর্শে অ্যানালগ ডিভাইসেস একটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন ইরানি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবেদিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি গোপনে ইরানে পাঠানো হতো। অন্যদিকে, সাদেগির আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে সব ব্যবসায়িক লেনদেন বৈধ ও স্বচ্ছ ছিল। তাদের দাবি, সুইস কোম্পানিটি প্রকৃত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছিল, প্রসিকিউটরদের দাবি অনুযায়ী এটি কোনো ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান নয়। তারা আরও বলেন, সাদেগির নিজের গড়ে তোলা কর্মজীবন ও যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে আইন ভাঙার কোনো কারণ ছিল না। এই মামলায় সহঅভিযুক্ত আবেদিনিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ইতালিতে গ্রেপ্তার করা হলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। একই সময়ে ইরানে আটক এক ইতালীয় সাংবাদিকও মুক্তি পান। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রসঙ্গত, আবেদিনির প্রতিষ্ঠানের তৈরি ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ইরানের সামরিক ড্রোনে ব্যবহৃত হতো বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ। তবে সাদেগির বিরুদ্ধে চলা মামলাটি সরাসরি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। বিচারক জুরিদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ওই হামলার তথ্য বিচার চলাকালে উপস্থাপনের অনুমতি দেননি। মামলাটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সংবেদনশীল প্রযুক্তি রপ্তানি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সময় উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মাজিদ ইবনে রেজা। শনিবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। পরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা তার বক্তব্য প্রকাশ করে। রেজার দাবি, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগই সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত উন্নত সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিল। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সহায়তা দিয়েছিল। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে রেজার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দাবি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে ড্রোনটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের নিখুঁত আঘাতে সেটি ভূপাতিত করা হয়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক আকাশ তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মহবি যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের উড্ডয়নকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। তার ভাষ্য, “মার্কিন বাহিনীর আকাশ আগ্রাসনের কারণেই ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় ইরানি বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। এর আগেও ইরান একাধিকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যদিও এসব ঘটনার সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন থেকে গেছে। সর্বশেষ এই ঘটনাটি দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আফগানিস্তান সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন বেলুচিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চারটি সাধারণ ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে। এতে সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা এবং এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলারও কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে Russia। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংযম প্রদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান তালেবান—উভয় পক্ষই নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে। মস্কো বলছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত ট্যাংক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ধারক অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে ড্রোন। এই বাস্তবতায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি পরিকল্পনা করেছে, তাদের প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলা হবে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এক ঘোষণায় জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই সহজভাবে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—ড্রোন এখন শুধু সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের কৌশল যুদ্ধের প্রচলিত ধারণাকেই পাল্টে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিকল্পনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। শুধু ড্রোন ব্যবহার নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ড্রোন তৈরির দিকেও জোর দিচ্ছে সিউল। এর অংশ হিসেবে ‘কে-লুকাস’ নামের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন দ্রুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন মডেল থেকে, যার নকশা আবার ইরানের বহুল আলোচিত আত্মঘাতী ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ড্রোনের পাশাপাশি প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা যায়। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে, কিন্তু কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল থেকে তারা সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা সাধারণ অবস্থায় অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এদিকে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের নেতা কিম জং-উন সম্প্রতি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা তদারক করেছেন। সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ড্রোন-কেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকার আকাশে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ডালাস এফবিআই ইতিমধ্যে ডজন ডজন অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে পাইলট ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খেলা চলাকালীন এবং এর আগে-পরে স্টেডিয়ামের আশপাশের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডালাস এফবিআইয়ের বিশেষ কর্মকর্তা আর. জোসেফ রথ্রক জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ডালাস স্টেডিয়াম এবং ফেয়ার পার্কের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছেন। তিনি জানান, বেশিরভাগ ড্রোন চালকই জানেন না যে খেলা উপলক্ষে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা (TFR) জারি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডালাস স্টেডিয়ামের চারপাশের ৩ নটিক্যাল মাইল এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট। এফবিআই জানিয়েছে, আকাশে কোনো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেটিকে প্রাথমিকভাবে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে লুইস মাউরিসিও ফ্লোরেস অর্ডনিজ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক হন্ডুরান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গত ১৪ জুন জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ঠিক আগে ডালাস স্টেডিয়ামের प्रतिबंधित আকাশসীমায় একটি অবনিবন্ধিত ড্রোন ওড়াচ্ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। স্থানীয় পেশাদার ড্রোন চালক এবং 'দ্য ডালাস ড্রোন গাই' নামে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী সেথ ব্রুকস অন্য চালকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শখের বশে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়াতে হলেও মার্কিন বিমান প্রশাসন (FAA)-এর লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রোন ওড়ানো লুকিয়ে করা অসম্ভব, কারণ ড্রোন চালু করলেই তার উচ্চতা, ব্যাটারির তথ্য এবং রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ইমেল আকাশে ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই ট্র্যাক করা যায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ালে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সরকার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে কোনো অবৈধ ড্রোন ওড়াতে দেখলে অবিলম্বে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তের কাছে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে উন্নত ড্রোন তৈরি ও পরিচালনা করত, যার পেছনে ইরান-এর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছিল। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌন গ্রামে একটি সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পায় আইডিএফ। ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করে সেনারা পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা খুঁজে পায়। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকশ মিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গের গভীরে, প্রায় ২৯ মিটার নিচে অবস্থিত অস্ত্রভান্ডারটি বিস্ফোরণরোধী বিশেষ ইস্পাতের দরজায় সুরক্ষিত ছিল। ভেতরে ড্রোন তৈরির উপযোগী একাধিক কক্ষ, সংরক্ষণাগার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত এক দশকে ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়। চোরাইপথে আনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেখানে ড্রোন তৈরি করা হতো এবং সেগুলো দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ছিল। অভিযান চালিয়ে ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০টি ড্রোন এবং প্রায় আট টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। পাশাপাশি পাহাড়ের দক্ষিণাংশে ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ লঞ্চিং পয়েন্টও শনাক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা ড্রোনগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সেই সক্ষমতা অনেকটাই নষ্ট করা গেছে। সম্প্রতি আইডিএফ ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে পুরো এলাকা পরিদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা ইরান-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ইরানি ড্রোন’। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বিস্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি—সবখানেই এখন ইরানের তৈরি ড্রোনের জয়জয়কার। খেলনা থেকে মারণাস্ত্র: এক সংগ্রামের ইতিহাস: ইরানের এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনী খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী মিলে প্রথম ড্রোনের পরিকল্পনা করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের প্রথম তৈরি ড্রোনটির জ্বালানি ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল মেডিকেল আইভি ব্যাগ (IV Bag), আর পাখা ছিল হাতে তৈরি। যুদ্ধের ব্যাকরণ পরিবর্তন: ইরানি সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—কম খরচে শত্রুর দামী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করা। যেখানে একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার, সেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তখন সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয় করতে হয় কয়েকশ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপই ইরানকে ড্রোন যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে ইরানি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উপস্থিতি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়েছিল। আজ ইরান এমন সব ড্রোন তৈরি করছে যা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ চার দশকের ধৈর্য আর উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল হিসেবে ইরান আজ ড্রোন প্রযুক্তিতে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মার্কিন কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সেন্টারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের যে এলাকায় এই ড্রোন হামলা হয়েছে সেখানে ইরাকি সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টার ও কূটনৈতিক দফতর অবস্থিত। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরণের ড্রোন হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বাগদাদ বিমানবন্দরের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই হামলা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুলি করে নামানো একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন উড়োজাহন (ড্রোন) সনাক্ত করে তা ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ এল-রিফা’আ এলাকার একটি খামারে পড়ে ঘটনাস্থলে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি সেবা দল ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী (রয়্যাল নেভি) জানিয়েছে, ইরান ও পশ্চিমের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে যে, রণকৌশল হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন পয়েন্টে মাইন পেতেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের মোতায়েন করা এই বিশেষ ড্রোনগুলো পানির নিচে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাইন শনাক্ত করতে সক্ষম। এগুলো সরাসরি যুদ্ধজাহাজ থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং মাইন পাওয়া গেলে তা নিরাপদে বিস্ফোরণ বা অপসারণ করবে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই পথটি মাইনমুক্ত রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তেহরানের পক্ষ থেকে জলপথে টোল আদায়ের ঘোষণার পর এই মাইন পাতার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ইরানের নৌ-আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। যদিও তেহরান দাবি করেছে যে তারা কেবল নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একে ‘নৌ-সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে ব্রিটিশ ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আন্ডারওয়াটার ড্রোন মোতায়েন করার ফলে ওই অঞ্চলে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
কুয়েতের শুয়াইখ ও মুবারক আল-কাবির—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুয়েতের সরকারি সূত্র জানায়, বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত মুবারক আল-কাবির বন্দরে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে বন্দরের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে একই দিনের সকালে কুয়েত সিটির নিকটবর্তী শুয়াইখ বন্দরে আলাদা আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানেও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুয়েতের এই দুই বন্দরে হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর অদূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এতে থাকা ২৭ জন নাবিক। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘আলতুরা’ নামক জাহাজটি যখন বসফরাস প্রণালী থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করেই মূলত হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই তুর্কি কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ করা। তুরস্কের জলসীমার ঠিক বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রে শক্তিশালী ড্রোন হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানপন্থী একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী। প্রায় এক মিনিট দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে আসা একটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন রাডার সিস্টেমে আঘাত হানছে এবং সাথে সাথে সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে। সিএনএন-এর ভৌগোলিক বিশ্লেষণে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও হামলার শিকার ওই নির্দিষ্ট স্থানে রাডার সিস্টেমের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, আরেকটি ড্রোন একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে, তবে সেটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়। ভিডিওটিতে গত ২৩ মার্চের তারিখ উল্লেখ থাকলেও এর সঠিক সময় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।