কুয়েতের শুয়াইখ ও মুবারক আল-কাবির—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুয়েতের সরকারি সূত্র জানায়, বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত মুবারক আল-কাবির বন্দরে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে বন্দরের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে একই দিনের সকালে কুয়েত সিটির নিকটবর্তী শুয়াইখ বন্দরে আলাদা আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানেও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুয়েতের এই দুই বন্দরে হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আফগানিস্তান সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন বেলুচিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চারটি সাধারণ ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে। এতে সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা এবং এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলারও কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে Russia। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংযম প্রদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান তালেবান—উভয় পক্ষই নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে। মস্কো বলছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পাসপোর্ট নবায়নও আটকে গেছে কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সাবেক সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার জেরে এখন তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতজুড়ে গণমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ভোট দিতে না পারা একজন দেশের নাগরিকের কাছে এর চেয়ে বেশি অপমানজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সবচেয়ে পবিত্র অধিকার।" তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হচ্ছে যেন আমাকে নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে, আমি নাগরিক কি না। নিজেকে একজন হাফ সিটিজেন মনে হচ্ছে।" কেরালায় জন্ম নেওয়া রাজাগোপাল রামদাস গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাস করছেন। কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়ে। পরে সেই যুক্তি দেখিয়েই তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট নবায়ন আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। যদিও তাঁর আগের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের বৈধ ভিসা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড বিবৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর জন্মরাজ্য কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ জোগাড় করতেই সময় কাটছে বলে জানান রাজাগোপাল রামদাস। এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পর তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। রাজাগোপাল রামদাস জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ভোট দেননি। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করতাম একজন সাংবাদিকের ভোট দেওয়া উচিত না। কারণ তাহলে তারা একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সমর্থন করতে বাধ্য।" তাঁর ভাষায়, "অনেক বছর পর আমি বুঝলাম আমার এটা ভুল হয়েছে। সাংবাদিকদেরও পক্ষ নেওয়া উচিত। ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। দুঃখ পেয়েছিলাম।" সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন যে এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। কিন্তু জুন মাসে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে। তিনি জানান, জুন মাসে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাঁর 'সন্দেহজনক' ভোটাধিকারের কারণ দেখিয়ে কলকাতা পুলিশ তাঁর নামে একটি 'অ্যাডভার্স' রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই কারণে আপাতত নতুন পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করেনি। করেছে কলকাতা পুলিশ। তারা আমার পুলিশি ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে 'নো অবজেকশন' দিতে নারাজ। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, যতক্ষণ আমার নাম ভোটার তালিকায় আবার যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।" তিনি জানান, কলকাতা পুলিশের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন কোন আইন বা সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকায় ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে উল্লেখ নেই। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ সহযোগিতা করলেও মূল প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর দেয়নি। পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগামী ১৭ জুলাই আবার উপস্থিত হতে বলেছে। তিনি বলেন, "একশোরও বেশি দিন আগে আমি বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিয়েছি। পাসপোর্ট অফিস সব নথি যাচাই করেছে। পরে পুলিশও অতিরিক্ত নথি চেয়েছিল। আমি সব দেখিয়েছি। এর বাইরে আমার কাছে নতুন কোনো নথি নেই।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলও হয়নি, আবার অনুমোদনও হয়নি। ফলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়েও আমি নিশ্চিত নই।" রাজাগোপাল রামদাসের জন্ম কেরালায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে 'অ্যাডভার্স রিপোর্ট' দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই রিপোর্টের কারণেই তাঁর পাসপোর্ট নবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। চিঠিতে রাজাগোপাল রামদাসকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কলকাতায় বসবাসকারী একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক উল্লেখ করে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার পর্যবেক্ষণে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। রাজাগোপাল রামদাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সম্রাট চৌধুরীর পাসপোর্টও সম্প্রতি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও তার কারণ স্পষ্ট নয়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে যাদের আবেদন বিচারাধীন এবং যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করেছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় বানান ভুলসহ ছোটখাটো ত্রুটির কারণে যেভাবে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন, একই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার দাবিতে ২৩টি বিরোধী দল যৌথভাবে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছে। রাজাগোপাল রামদাসের অভিযোগের বিষয়ে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, তাঁর ঠিকানায় বসবাসকারী একাধিক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, যাচাইয়ের জন্য ভোটার আইডি চাওয়া হতে পারে। তবে এটি পাসপোর্ট তদন্তের একমাত্র বা চূড়ান্ত নথি নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন রিপোর্ট পাঠানো হবে। গত বছরের অক্টোবরে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গসহ নয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য ছিল যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া। এসআইআরে প্রায় ৬০ লাখ ভোটার অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়েন। পরে নির্বাচন সামনে রেখে ২৭ লাখেরও বেশি 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। রাজাগোপাল রামদাস তাঁদেরই একজন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। তবে সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন। এসআইআরের পর অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক বিচারকদের নেতৃত্বে একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতেই সময় কাটছে রাজাগোপাল রামদাসের। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের জন্মসনদ খুঁজে পেয়েছেন। তবে সেখানে তাঁর মায়ের পদবিতে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার মায়ের নাম আসলে রাধা দেবী। কিন্তু জন্মসনদে লেখা আছে রাধা বাই। এই ভুল সংশোধনের জন্য এখন আমাকে মায়ের ম্যাট্রিকুলেশনের সনদ খুঁজে বের করতে হচ্ছে।" তিনি জানান, মায়ের স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বাবার প্রবীণ বন্ধুদের কাছ থেকেও তাঁর বাবার পুরোনো ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। রাজাগোপাল রামদাস বলেন, "একজন প্রাক্তন সাংবাদিক হিসেবে আমি ভাবতাম, সাধারণ মানুষের সমস্যার মুখোমুখি আমাকে কোনোদিন হতে হবে না। এখন বুঝেছি, সেটা আমার ভুল ধারণা ছিল। ভোট দিতে না পারার চেয়ে বেশি অপমানজনক কিছু হতে পারে না।"
ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৩০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরে গভীর মতবিরোধ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বও এ ইস্যুতে একক অবস্থান নিতে পারছে না। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব দলীয় সদস্যদের নিজ নিজ বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই বিল নিয়ে দলটির ভেতরে ঐক্যের অভাব রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্য বেনি থম্পসন দ্য হিল পত্রিকাকে জানিয়েছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ইসরায়েল ইস্যুতে এমন উত্তপ্ত ও নজিরবিহীন বিতর্ক তিনি আগে দেখেননি। বিষয়টি এখন কেবল পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রূপ নিয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইনপ্রণেতা রাশিদা তলাইব জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাবের ওপর ভোট হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং রিপাবলিকানদের বিরোধিতার কারণে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রগতিশীল অংশের নেতারা—বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ও রাশিদা তলাইব—এই বিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। তবে দলের মধ্যপন্থী অংশ এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগ মিকস জুইশ ইনসাইডারকে জানিয়েছেন, তিনি এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেবেন। তার ভাষ্য, ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। একই অবস্থান নিয়েছেন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিলটি পাস হলে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত সামরিক সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে এটি ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরের আদর্শিক বিভাজনকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।